বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১০ / ২৮ · ৯০১১,০০০ / ২,৭৬৪

৯০১.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি হচ্ছেন - 
  1. গোবিন্দদাস
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

অন্যদিকে,
বৈষ্ণব পদাবলির কবি - গোবিন্দদাস, বিদ্যাপতি।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর - মঙ্গলকাব্যের কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০২.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বীরাঙ্গনা
  3. বাঁধনহারা
  4. তিলোত্তমা সম্ভব
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

 - বাংলা সাহিত্যে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য।
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন।

অন্যদিকে,
- বাঁধনহারা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

• বীরাঙ্গনা পত্রকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের 'হেরোইদাইদ্‌স' কাব্যের অনুসরণে এটি রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র রয়েছে।
- কাব্যে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে।
- কাব্যটিতে নারী চরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতার নাম জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৩.
'বাইশা' কোন কাব্যের কবিদের বলা হয়? 
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

'বাইশা' মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের বলা হয়। 

বাইশা:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় 'বাইশা'।
- 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা 'বাইশ কবির মনসামঙ্গল' বলে।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- মনসামঙ্গলের এই কাহিনী মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯০৪.
'মাণিক রাজার গান'' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. পুর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথগীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. উত্তরবঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
নাথগীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথগীতিকা
ব্যাখ্যা

• নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি ঐতিহাসিক রচনা।
 - ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন-এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
 - নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্যাস' 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯০৫.
ময়মনসিংহ গীতিকার পালা ‘দেওয়ানা মদিনা’ এর লেখক কে?
  1. নয়ানচাঁদ
  2. মনসুর বয়াতি
  3. কবিকঙ্ক
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
‘দেওয়ানা মদিনা’ হলো মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালাগুলোর একটি।
এর রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৯০৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯০৭.
বাংলা ভাষার প্রথম ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) প্যারিচাঁদ মিত্র
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) প্রভাত কৃমার মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) প্যারিচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্যারিচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল উপনাসের রচয়িতা প্যারিচাঁদ মিত্র। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে উপন্যাস রচনা করেন।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯০৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কতটি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
• বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
• ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে প্রকাশিত হয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

• খণ্ডগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও
- বিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৯.
জয়দেব কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. বিজয় সেন
  2. ধর্মপাল
  3. বল্লাল সেন
  4. লক্ষ্মণ সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম কবি।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। 
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্‌' রচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।
৯১০.
"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. চণ্ডীদাস
  3. সৈয়দ আলাওল
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলাওল
ব্যাখ্যা
• পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ:
• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভুক্ত একটি কাব্য।
• তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায় (মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
• প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী) কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

পদ্মাবতীর রূপবর্ণনার কিছু অংশ হলো:

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯১১.
উপকথার মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. রাজকাহিনি প্রচার
  2. নীতিপ্রচার ও কৌতুক সৃষ্টি
  3. পৌরাণিক আখ্যান পরিবেশন
  4. দেবতার বন্দনা
সঠিক উত্তর:
নীতিপ্রচার ও কৌতুক সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিপ্রচার ও কৌতুক সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

• উপকথা:
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।

• উপকথার বৈশিষ্ট্য:
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি।
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯১২.
বাংলা সাহিত্যের কোন কাব্যটি গদ্য ও পদ্যের সংমিশ্রণে রচিত?
  1. শূণ্যপুরাণ
  2. পদ্মপুরাণ
  3. চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. গীতগোবিন্দম্
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

• 'শূণ্যপুরাণ':
- শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, 
• 'পদ্মপুরাণ' হিন্দু পুরাণ শাস্ত্রের অন্তর্গত আঠারোটি মহাপুরাণের অন্যতম। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বিজয় গুপ্ত 'পদ্মাপুরাণ' নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

• রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯১৩.
মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা কে ছিলেন?
  1. শাহবাজ খান
  2. সুধর্মা
  3. আশরাফ খান
  4. থিরি থু ধম্মার
সঠিক উত্তর:
সুধর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধর্মা
ব্যাখ্যা

আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা ছিলেন রাজা সুধর্মা।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);

নীতিকাব্য
- তোহফা (১৬৬৪)
সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।
- 'পদ্মাবতী' কাব্যটি মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত, 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' সাধনকৃত 'মৈনাসত', 'সপ্তপয়কর' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর', 'তোহফা' ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল এবং সিকান্দরনামা নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯১৪.
'নবীবংশ' কার রচনা?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৫.
‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' নামক মুদ্রিত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হেনরী লুই
  2. দোম অ্যান্তোনিও
  3. উইলিয়াম কেরী
  4. মনোএল দ্য আসুম্পসাঁও
সঠিক উত্তর:
দোম অ্যান্তোনিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম অ্যান্তোনিও
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ:
- বাঙালি খ্রিষ্টান দোম অ্যান্তোনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' (১৭৩৫) একটি ধর্মীয় বিতর্কমূলক গ্রন্থ।
- এক ব্রাহ্মণ ও রোমান ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মালোচনা ও হিন্দু ধর্মের অসারত্ব প্রমাণ এই গ্রন্থটির ধরন এই কথোপকথন জাতীয় রচনার মূল
বিষয়। এই পাণ্ডুলিপি বর্তমানে পর্তুগালে এভোরা শহরের জাতীয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত।
- এই ও গ্রন্থটি মনোএল দ্য আসুম্পসাঁও নামক এক পর্তুগিজ পাদ্রি কর্তৃক পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত হয়।

দোম আন্তোনিও:
- বাংলা গদ্যরীতির প্রথম লেখক ও বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচারক।
- আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন যশোর-ফরিদপুর অঞ্চলের ভূষণা রাজ্যের রাজ পরিবারের সদস্য।
- আন্তোনিও 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক' সম্বাদ নামে ১২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাধু গদ্যরীতির আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ সেনের সম্পাদনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯১৬.
বিদ্যাপতির গীতিকবিতাগুলি কোন ধর্মীয় ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. শৈব
  2. বৌদ্ধ
  3. বৈষ্ণব
  4. তান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।

- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।

- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯১৭.
'ব্রজবুলি' ভাষা হলো-
  1. মিথিলার স্থানীয় ভাষা
  2. কৃত্রিম ভাষা
  3. কৃত্রিম কাব্যভাষা
  4. ব্রজভাষা
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম কাব্যভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম কাব্যভাষা
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি হলো — একটি কৃত্রিম কবিভাষা, যা বাংলা, মৈথিলী ও সংস্কৃত ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছিল মূলত ভক্তিমূলক কবিতা রচনার জন্য।

• ব্রজবুলি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৮.
বৃন্দাবন দাস রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিত্রামৃত
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য-মঙ্গল
  4. শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনী সাহিত্য:
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

• সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।
• বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'।
• মুরারিগুপ্ত রচিত চৈতন্যজীবনী শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৯.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন?
  1. মহাকাব্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণবকাব্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৯২০.
'সদুপাধ্যায়' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. গোবিন্দদাস 
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি 
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি  বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। 
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন। 
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার,
পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি ।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২১.
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর। প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) লোচনদাস
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।' - উক্তিটির রচয়িতা হলেন জ্ঞানদাস
 
• জ্ঞানদাস:
- তিনি বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন।
- তাঁর লেখার ভাষা সহজ, সরল, অলঙ্কারবর্জিত, কিন্তু প্রবল আবেগে পরিপূর্ণ।
- তাঁর রচিত দুটি বৈষ্ণব গীতিকাব্য 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা।
• জ্ঞানদাস চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
- "সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।"
- 'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।'
- 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।'

উৎস: 
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) মায়ানমার
  4. ঘ) ভারত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের প্রথম কাব্য বা নিদর্শন।
- এটি বাংলা ভাষায় কোনো লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ। 
- বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। 
- লোকসমাজে প্রচলিত রাধা-কৃষ্ণ প্রেম সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কাব্যটি রচনা করা হয়েছে। 
- এটি আবিষ্কৃত হয়: ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- প্রকাশকাল: ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। 
- পশ্চিমবঙ্গে বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করা হয়।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৯২৩.
অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন কোনটি?
  1. পরাগলী মহাভারত
  2. শূণ্যপুরাণ
  3. রাগতালনামা
  4. সত্যপীরের পাঁচালি
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৪.
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. পদ্মাবতী
  3. রামায়ণ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২৫.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথিতে মোট কতটি সংস্কৃত শ্লোক রয়েছে?
  1. ৪০৯টি 
  2. ৪১৮ টি
  3. ১৬১ টি 
  4. ৪০৭ টি 
সঠিক উত্তর:
১৬১ টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১ টি 
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান আখ্যানকাব্য।
- এটি প্রাক-চৈতন্য যুগের (চতুর্দশ–পঞ্চদশ শতাব্দী) শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য।
- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে কাব্যের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- কাব্যটি মূলত রাধা–কৃষ্ণের প্রেম, বিরহ এবং লীলাকাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত, যার প্রধান চরিত্র হলো কৃষ্ণ, রাধা এবং বড়ায়ি।

- কাব্যের মোট পদসংখ্যা ৪১৮টি, যার মধ্যে সংস্কৃত শ্লোকের সংখ্যা ১৬১টি।
- পুঁথিটি ২২৬টি পাতা নিয়ে তৈরি, যা মিলিয়ে ৪৫২টি পৃষ্ঠা হয়েছে।
- তবে পুঁথির মাঝের ৪৫টি পৃষ্ঠা বিলুপ্ত থাকায় প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা বর্তমানে ৪০৭টি।
- পুঁথিটি লেখা হয়েছে ৩ জন লিপিকরের হাতে, অর্থাৎ তিনটি ভিন্ন হাতের লেখা রয়েছে।
- এছাড়াও, কাব্যের কবির ভণিতার সংখ্যা ৪০৯টি, যা গ্রন্থের স্বাতন্ত্র্য ও বিশদ পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৯২৬.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যে মোট কতটি খণ্ড আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
সঠিক উত্তর:
১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ১৩

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:
- বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা হলেন বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের একটি গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে প্রকাশিত হয়।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

১৩টি খণ্ড হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড,
- বিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯২৭.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র নয় কোনটি?
  1. মানসিংহ
  2. ভবানন্দ
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. রামচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র
ব্যাখ্যা

রামচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র নয়। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯২৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. বিরহখণ্ড
সঠিক উত্তর:
জন্মখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্মখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি গীতি-আলেখ্য কাব্য, অর্থাৎ কাব্যটি মূলত গান ও কবিতার মাধ্যমে তৈরি, যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা মূল বিষয়।
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ধারায় চর্যাপদের পরে এই কাব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রতিটি খণ্ড আলাদা আলাদা গল্প বা বিষয় উপস্থাপন করে।
- খণ্ডগুলোর নাম হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড,
- বিরহখণ্ড।
--------------------------------------
জন্মখণ্ড:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ড হলো জন্মখণ্ড, যেখানে ঈশ্বরের ইচ্ছায় কৃষ্ণ ও রাধা মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণ জন্ম নেন পাপী রাজা কংসকে বধ করার উদ্দেশ্যে, দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণের নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়ায় বাসুদেব কৃষ্ণকে গোপনে বৃন্দাবনের নন্দগোপের ঘরে নিয়ে যান।সেখানে, লক্ষ্মী অবতার রাধা জন্ম নেন সাগর গোয়ালার স্ত্রী পদ্মার গর্ভে। দৈব নির্দেশে রাধা বালিকা অবস্থায় নপুংসক অভিমন্যু বা আয়ান গোপের সঙ্গে বিয়ে করেন। আয়ান গোচারণ করতে গেলে বৃদ্ধা পিসি বড়ায়ি রাধার দেখাশোনা করেন। এই খণ্ডে মূলত কৃষ্ণ ও রাধার জন্ম, শৈশবকাল এবং তাদের গোপন প্রতিপালনের কাহিনী সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কাব্যটির পরবর্তী গল্পের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯২৯.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন গ্রন্থের অংশ?
  1. পদ্মাবতী
  2. শূন্যপুরাণ
  3. গীতগোবিন্দ
  4. শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ শূন্যপুরাণ গ্রন্থের অংশ।

• নিরঞ্জনের উষ্মা
- নিরঞ্জনের উষ্মা 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন, পণ্ডিত যোগেশ চন্দ্র রায়, ড. সুকুমার সেন প্রমুখ ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে কোনো এক সময় শূন্যপুরাণ রচিত হয় বলে মনে করেন।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিরঞ্জনের উষ্মা' সম্পর্কে ভূদেব চৌধুরীর অভিমত, এই অংশটুকু 'তুর্কি আক্রমণের পরবর্তী কালের রচনা।'
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অনাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর 'যবন' মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং অত্যাচার-অবজ্ঞার প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
- সহদেব চক্রবর্তীর 'নিলপুরাণে'ও (১৭৩৫) এই কাহিনি অন্তর্ভুক্ত থাকায় সুকুমার সেনের অভিমত হলো যে, শূন্যপুরাণ অন্তর্ভুক্ত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' প্রকৃতপক্ষে সহদেব চক্রবর্তীর রচনা।
- কেননা, 'শূন্যপুরাণে' কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ ঘটেছে। এসব মতান্তরের কারণে নিরঞ্জনের উষ্মার রচনাকাল সুনিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট করে বলার উপায় নেই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
৯৩০.
'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ সমূহঃ
- অন্য ঘরে অন্য স্বর
- খোঁয়ারি
- দুধেভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল

এর মধ্যে ''দুধেভাতে উৎপাত'' গ্রন্থটিতে চারটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- মিলির হাতে স্টেনগান
- দুধভাতে উৎপাত
- পায়ের নিচে জল
- দখল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩১.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ 'শূন্যপুরাণ' কবে প্রকাশ করেন?
  1. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৪ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৪ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• ১৩১৪ বঙ্গাব্দে -'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

• 'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা। কোনটিই বাংলা ভাষায় রচিত নয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩২.
'বড়র পীরতি বালির বাঁধ 
ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ' - প্রবচনটি কোন মঙ্গলকাব্যে পাওয়া যায়?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।

এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী। ইত্যাদি 

এসব গভীরতম ভাবদ্যোতক প্রবচনের মত পদে ভাষার উপর কবির যে অধিকার তা তুলনারহিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯৩৩.
মালাধর বসু কে গুণরাজ খান উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক)
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক  কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায়  রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন।
- সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩৪.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. শ্রীচৈতন্য
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৫.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মহিলা কবি কে?
  1. রহিমুন্নেসা
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. নুরুন্নেসা
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
ব্যাখ্যা

• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা — কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) - প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।

• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৩৬.
পৌরাণিকধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৩৭.
বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
  3. গ) শেখ শুভোদয়া
  4. ঘ) নরোত্তম দাসের দেহ কড়চা
সঠিক উত্তর:
খ) কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের কিছু দলিলে বাংলা গদ্যের আদিরূপ পাওয়া যায় এবং কিছু চিঠিতেও রয়েছে তার ছোঁয়া।
এরকম একটি চিঠি হচ্ছে - কুচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের। তিনি এ-মূল্যবান চিঠিটি লিখেছিলেন - অহোমরাজ স্বর্গদেবকে; ১৫৫৫ অব্দে।
চর্যাপদ - বাংলা সাহিত্যেরই আদি নিদর্শন। এটি কাব্যের নিদর্শন।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৯৩৮.
বাংলায় টপ্পার প্রচলন হয় কত শতকে?
  1. সপ্তদশ শতকে
  2. অষ্টাদশ শতকে
  3. ঊবিংশ শতকে
  4. বিংশ শতকে
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতকে
ব্যাখ্যা
 টপ্পা:
- বাংলায় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে টপ্পার প্রচলন।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সংগীতজ্ঞ সুললিত, অপূর্ব টপ্পা রচনা করে গেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাধামোহন সেন, কালিকা মির্জা, শ্রীধর কথক, দাশরথী রায় বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কি ধরনের চরিত্র?
  1. শ্রী রাধার ননদিনী
  2. শ্রী রাধার শাশুড়ি
  3. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
  4. জনৈক গোপবালা
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
ব্যাখ্যা
• ‘বড়ায়ি’ চরিত্রটি ছিল রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী।

-------------------------
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। 

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪০.
কোন লেখক লোকসাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন - 'ছড়া'।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৪১.
‘মুরারী শীল’ কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) কালিকামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলকাব্য-এর প্রথম অংশের নায়ক কালকেতু, নায়িকা কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা৷
এ কাব্যের অন্যান্য চরিত্র - মুরারী শীল, ভাঁড়ুদত্ত, কলিঙ্গের রাজা৷
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
৯৪২.
'শূন্যপুরাণ' কোন ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ?
  1. পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক
  2. বৌদ্ধ ধর্মীয়
  3. খ্রিষ্ট ধর্মীয়
  4. বৈষ্ণব ধর্মীয়
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  'প্রাকৃতপেঙ্গল' গ্রন্থ।

৯৪৩.
শ্রীজীব গোস্বামী বৈষ্ণব পদাবলীর কোন কবি কে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন?
  1. বিদ্যপতি 
  2. গোবিন্দদাস
  3. চণ্ডীদাস 
  4. জয়দেব 
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৪৪.
বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. পদ্মাবতী
  3. ইউসুফ-জুলেখা
  4. লাইলি-মজনু
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’।

• পদ্মাবতী:

- পদ্মাবতী সৈয়দ আলাওল রচিত একটি অনন্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, যা রচিত হয় আনুমানিক ১৬৪৮–১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- আলাওল তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের মূল কাহিনি গ্রহণ করেন  মুহম্মদ জায়সী-এর রচিত হিন্দি “পদ্মাবৎ” মহাকাব্য থেকে।
- কাব্যটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চিতোর রাজা রতনসেন ও সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমঘটনা ঘিরে।
- চিতোরের রাজা রতনসেনের সঙ্গে পদ্মাবতীর প্রেমের কথা জানতে পেরে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে চিতোর আক্রমণ করেন - এটাই কাব্যের মূল সংঘাত।
----------------------------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- নওয়াজিস খান,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর।
------------------------------------------
অন্যদিকে,
• মধুমালতী’ (১৫৮৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রসিদ্ধ প্রণয়কাব্য, যার রচয়িতা কবি মুহম্মদ কবির।
- এই কাব্যে রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাময় প্রেমকাহিনি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নানা বাধা অতিক্রম করে তাদের প্রেমের সাফল্য ও সুখী দাম্পত্য জীবনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- কাব্যটি মূলত হিন্দি কবি মনঝনের রচিত ‘মধু মালতী’ বা ‘মৈনাসত’ কাব্যের অনুসরণে রচিত।

• ‘ইউসুফ-জুলেখা’ পনেরো শতকে রচিত একটি বাংলা রোমান্টিক কাব্য, যার রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- 'ইউসুফ জুলেখা’ গ্রন্থে নবী ইউসুফ (আ.) ও জুলেখার প্রেম, বিচ্ছেদ এবং আধ্যাত্মিক রূপান্তরের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- শাহ মুহম্মদ সগীর কোরআন ও ধর্মগ্রন্থ অবলম্বনে এই কাহিনিকে বাংলা ভাষায় মানবিক ও রোমান্টিক কাব্যরূপ দিয়েছেন।

• মধ্যযুগের ‘লাইলি মজনু’ একটি করুণ প্রেমকাহিনিভিত্তিক কাব্য, যেখানে কায়েস (মজনু) ও লাইলির নিঃশর্ত ভালোবাসা, সামাজিক বাধা ও করুণ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
- আরবীয় লোকগাথা থেকে উদ্ভূত এই কাব্যটি দৌলত উজির বাহরাম খান বাংলায় রচনা করেন।
-------------------------------------
সৈয়দ আলাওল: 
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি।
- আলাওল ছিলেন বহুভাষাবিদ; তিনি আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা এবং ব্রজবুলিতে পারদর্শী ছিলেন।
- তিনি আরাকানের দরবারে অমাত্য ও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের 'বার্ড' বলা হয়। 
- তিনি রোমান্টিক ধারার বাংলা সাহিত্যের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত;
- কারণ ধর্মীয় কাহিনীর বাইরে গিয়ে তিনি ফারসি ও হিন্দি সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত কাহিনী নিয়ে প্রেমময় উপাখ্যান রচনা করেছেন।
- প্রধান কাব্য ‘পদ্মাবতী’-র পাশাপাশি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
• ‘তোহফা’,
• সপ্তপয়কর,
• সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল,
• সিকান্দারনামা,
• ‘সাপচন্দ’,
• ‘সতীময়না ও
• লোরচন্দ্রানী’ প্রভৃতি ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৯৪৫.
চণ্ডীমঙ্গলকাব্যের কবি হলেন-
  1. ক) বিজয়গুপ্ত
  2. খ) মুকুন্দরাম
  3. গ) বংশীদাস
  4. ঘ) হরিদত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) মুকুন্দরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুকুন্দরাম
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে চণ্ডীমঙ্গল, আর মনসামঙ্গল৷
চণ্ডীমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি দুজন হলেন কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী এবং রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র।
মনসামঙ্গলের দুজন সেরা কবি হলেন বিজয়গুপ্ত এবং বংশীদাস৷ মনসামঙ্গল আরো রচনা করেছেন বিপ্রদাস, হরিদত্ত এবং আরো অনেকে৷
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৯৪৬.
'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'-পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. আলাওল 
  3. আবদুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র রায় 
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

------------------------
• আবদুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে  আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।

আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
• ইউসুফ জোলেখা,
• নূরনামা,
• দুররে মজলিশ,
• লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
• হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৪৭.
বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সুত্রপাত কোন রচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বলা যায়?
  1. ক) লাইলি মজনু
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) ইউসুফ জোলেখা
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
গ) ইউসুফ জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউসুফ জোলেখা
ব্যাখ্যা
কবি শাহ মুহাম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনার মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার শুরু হয়েছিল। এজন্য তাঁকে এই ধারার প্রথম কবি বলা চলে। সুত্রঃ ওয়াকিল আহমেদের ‘বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’।
৯৪৮.
নাথসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ক) মানিকচন্দ্রের গান
  2. খ) ময়নামতীর গান
  3. গ) গোপীচন্দ্রের গান
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- গাথা-কাহিনীগুলি অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা; পূর্বধারার সঙ্গে এগুলির কালিক ব্যবধান অন্তত দুশতকের। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো  গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী। 
- এছাড়া শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় এ ধারার সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪৯.
কবিগান রচয়িতাদের জীবনী সংগ্রহ করেছিলেন-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- কবিগান রচয়িতাদের জীবনী সংগ্রহ করেছিলেন কবি ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯)।
- তিনি ছিলেন যুগসন্ধির কবি।
- তিনি উনিশশতকের প্রথম ভাগের একমাত্র কবি।
- তিনি নিজে এক সময় ছিলেন কবিয়ালদের দলে।

- কবিয়ালদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন কবি ছিলেন গোজলা গুই।
- কয়েকজন বিখ্যাত কবিওয়ালার নাম: রাম বসু, রাসু, নৃসিংহ, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হরু ঠাকুর, নিধুবাবু, কেষ্টা মুচি, ভবানী, রামানন্দ নন্দী প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯৫০.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. জাহ্নবী দেবী
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. কবিকঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৯৫১.
খনার বচনের প্রাধান্য পেয়েছে-
  1. ক) জ্যোতিষ ক্ষেত্র তত্ত্ব
  2. খ) মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা
  3. গ) কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
ব্যাখ্যা
খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা। আর ডাকের বচনে প্রাধান্য পেয়েছে জ্যোতিষ ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৯৫২.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে মোট কয়টি অংশ থাকে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৩.
‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যটি কোন সুলতানের রাজত্বকালে রচিত হয়েছিল?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. আলাউদ্দিন খিলজি
  3. আলাউদ্দিন ইলিয়াস শাহ্‌
  4. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯৫৪.
'বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম' নিচের কোন গ্রন্থের প্রাপ্তিস্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্য?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. রামায়ণ
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড় চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি - কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৫৫.
সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য কোনটি?
  1. গোপীচন্দ্র নাটক
  2. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  3. গোরক্ষনাথের কাহিনি
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
• সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
 ১. মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর 'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৬.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

গোবিন্দচন্দ্র দাস, (১৮৫৫-১৯১৮) ছিলেন একজন স্বভাবকবি। 
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু, তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৭.
‘ময়নাবতী’ নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।
• এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো: ময়নাবতী, চন্দ্রানী ও লোর।

⇒ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর ও রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৮.
পদাবলির আদিকবি জয়দেবের 'বৈষ্ণব পদাবলি' কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. অহমিয়া
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উল্লেখ্য,
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম; লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ।

৯৫৯.
কোনটি মর্সিয়া সাহিত্য?
  1. ক) মধুমালতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) লায়লী-মজনু
  4. ঘ) জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জঙ্গনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- অতএব জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্যের মধ্যে বিষয়গত মিল থাকলেও আঙ্গিক ও রসগত পার্থক্য আছে।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৬০.
পৃথিবীতে কয়টি জাত মহাকাব্য আছে?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মহাকাব্য:
- মহাকাব্য’র ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Epic'.
- গ্রিক শব্দ 'Epices' বা 'Epos' থেকে 'Epic' শব্দটি এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে দীর্ঘ বীরগাঁথা।
- মহাকাব্যে বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনী থাকে, যে ভাষাতেই লেখা হোক, তা বিষয় ও ভাষায় মহত্বের ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ।
- পৃথিবীতে মোট চারটি জাত মহাকাব্য রয়েছে।

জাত মহাকাব্য:
- রামায়ণ,
- মহাভারত,
- ইলিয়াড,
- ওডিসি।

- রামায়ণ: মহাকবি বাল্মীকি রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য।
- মহাভারত: মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য।
- ইলিয়াড: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।
- ওডিসি: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৯৬১.
"বিপ্রদাস পিপিলাই" - কোন ধারার কবি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্য ধারার কবি:
- কানাহরি দত্ত,
- নারায়ণদেব,
- বিজয়গুপ্ত,
- বিপ্রদাস পিপিলাই,
- দ্বিজ বংশীদাস,
- কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।

• চণ্ডীমঙ্গল ধারার কয়েকজন কবি:
- মানিকদত্ত,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী,
- দ্বিজ মাধব,
- দ্বিজরাম দেব,
- মুক্তরাম সেন প্রমুখ।

• ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার কবি:
- ময়ূর ভট্ট,
- আদিরূপরাম,
- খেলারাম চক্রবর্তী,
- শ্যাম পণ্ডিত,
- ঘনরাম চক্রবর্তী,
- নরসিংহ বসু।

• 'অন্নদামঙ্গল’ ধারার কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯৬২.
ইউসুফ-জোলেখা একটি-
  1. ক) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
  2. খ) কাহিনি কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) জীবনীকাব্য
  4. ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) কাহিনি কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাহিনি কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ; লিখেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন। 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯৬৩.
নিচের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেওয়ানা ভাবনা
  2. কমলা
  3. মলুয়া
  4. ভেলুয়া
সঠিক উত্তর:
ভেলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৪.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়নন্দী
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
জয়নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নন্দী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবি নয় - জয়নন্দী।
- তিনি প্রাচীন যুগের কবি। 
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 

• চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

• চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন : লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।
------------------------- 
• বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
-------------------- 
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন:
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- এন্টনি ফিরিঙ্গি, 
- উইলিয়াম জোনস,
- কবি কঙ্ক,
- কানাহরি দত্ত,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- কৃত্তিবাস ওঝা,
- গোবিন্দদাস,
- চণ্ডীদাস,
- চন্দ্রাবতী,
- জ্ঞানদাস,
- দৌলত উজির বাহরাম খান,
- দৌলত কাজী,
- দ্বিজ বংশীদাস,
- বড়ু চণ্ডীদাস,
- বিজয় গুপ্ত,
- বিদ্যাপতি,
- ভারতচন্দ্র রায়,
- মানিক দত্ত,
- মালাধর বসু/গুণরাজ খান,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী,
- রামনিধি গুপ্ত,
- রামপ্রসাদ সেন,
- শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ,
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৫.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) পদাবলী
  4. ঘ) সপ্তপয়কর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯৬৬.
'বাইশা' বলা হয় কোন মঙ্গলকাব্যের কবিদের কে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল 
  2. মনসামঙ্গল 
  3. অনদামঙ্গল 
  4. ধর্মমঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬৭.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. ধনপতি সওদাগর
  2. চাঁদ সওদাগর
  3. ফুল্লরা
  4. লহনা
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- চাঁদ সওদাগর;
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

অন্যদিকে, 
• ধনপতি সওদাগর, ফুল্লরা ও লহনা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৬৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) দেবন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) বসন্তরঞ্জন রায়
  4. ঘ) রাখালদাস বঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) বসন্তরঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া গ্রামে এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে পুথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।

বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত দেবন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়্যের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল। ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯৬৯.
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে কী বলে?
  1. ক) গদ্য কবিতা
  2. খ) চম্পুকাব্য
  3. গ) পুঁথি
  4. ঘ) লৌকিক কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) চম্পুকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চম্পুকাব্য
ব্যাখ্যা
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।

[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৯৭০.
মালাধর বসু তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য কার কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  2. আলাউদ্দীন ফিরোজ শাহ
  3. শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
  4. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'
- এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭১.
বাংলা কবিগান রচয়িতা এন্টনি ফিরিঙ্গি জাতিতে কী ছিলেন?
  1. ব্রিটিশ
  2. পর্তুগিজ
  3. স্প্যানিশ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন।
- তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭২.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

⇒ কবি এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন :
এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি॥
দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া॥

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯৭৩.
নিচের কোন কবির রচনায় শাহ সুজার আরাকান যাত্রার উল্লেখ রয়েছে?
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. আলাওল
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• আলাওল রচিত - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আরবি আলেফ-লায়লা ওয়া লায়লা গ্রন্থ।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনী অনুলিখিত হয়েছে।

• ‘আরাকান রাজসভায়’ রচিত অনেক বাংলা কাব্যেই সুজার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
মহাকবি আলাওলের ‘সয়ফলমুলুক বদিউজ্জামাল’-এর দ্বিতীয় ভূমিকায় এসেছে সুজা প্রসঙ্গ, ‘তার পাছে সাহ সুজা নৃপ-কুলেশ্বর/ দৈব পরিপাকে আইল রোসাঙ্গ শহর/...যতেক মোছলমান তার সঙ্গে ছিল/ নৃপতির শাস্তি পাইআ সর্ব্ব লোক মৈল’।

শাহ সুজা:
- শাহ সুজার নিযুক্তির সময় ঢাকা সুবাহ-বাংলার রাজধানী ছিল।
- শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) সুবাহ-বাংলার মুগল ভাইসরয়।
- তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দ্বিতীয় পুত্র। ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন তাঁর জন্ম হয়।
- ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ঊড়িষ্যা প্রদেশের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়।
- ঢাকার প্রাচীন মুগল দালানগুলি তাঁর সময়েই নির্মিত হয়। দালানগুলি হলো বড় কাটরা, ঈদগাহ, হোসেনী দালান এবং চুড়িহাট্টা মসজিদ,বুড়িগঙ্গার তীরে বড় কাটরা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;  প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৪.
'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম কী 
  1. কারবালার পালা 
  2. হাসান-হোসেনের পালা 
  3. আলাল-দুলালের পালা
  4. আলালের পালা 
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।

এগুলো হলো- 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭৫.
‘আমার সন্তান’ কাবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) দেবমঙ্গল কাব্য
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. গ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ঘ) মনসামঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা
• ‘আমার সন্তান’ কবিতাটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।

'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তি 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - কথাটি  ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর(১৭১২-১৭৬০):
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৬.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় কাকে?
  1. মহম্মদ খান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ্
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. দৌলত উজির বাহরাম খা
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।
- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।
- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তার রচিত কাব্য জয়নবের চৌতিশা। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি ফকির গরীবুল্লাহ্।

- মর্সিয়া সাহিত্যের অন্যান্য কবিদের মধ্যে-  দৌলত উজির বাহরাম খান, হায়াত মামুদ, মহম্মদ খান, নীর মোশারা হোসেন, কাইকোবাদ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৭৭.
বিখ্যাত লোকগীতি 'হারামণি'- সম্পাদনা করেছেন কে?
  1. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. দীনেশ চন্দ্র সেন
  3. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. ড. মযহারুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
ব্যাখ্যা

লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’: 
- মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'। 
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। 
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন  বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯৭৮.
‘আলাল-দুলালের পালা’ হিসেবে পরিচিত কোন পালা?
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. কমলা
  3. দেওয়ান ভাবনা
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানা মদিনা':
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল দুলাল,  মদিনা, সোনার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৯.
লৌকিক ধারার প্রথম কবি কে?
  1. ক) কোরেশী মাগন
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) আলাওল
সঠিক উত্তর:
গ) দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী তিনি লৌকিক ধারার প্রথম কবি।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন। 
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮০.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কয়টি  গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১৩টি
  3. ২৩টি
  4. ২৬টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮১.
'ইউসুফ জুলেখা' মর্সিয়া সাহিত্যের লেখক কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) দৌলতখাঁ
  3. গ) আব্দুল হাকিম
  4. ঘ) আব্দুল করিম
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি। 
-আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য 'নূরনামা' 
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়। 
কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা 
- নূরনামা 
- দুররে মজলিশ 
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক 
- হানি-ফার লড়াই 
অন্যদিকে, 
আলাওল রচিত গ্রন্থ:
- সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল 
- সিকান্দারনামা 
 -রাগতালনামা 
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]

৯৮২.
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন-
  1. ভবানী কুমার
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  4. চন্দ্রকুমার চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- এটি ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮৩.
মর্সিয়া কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. পালাগান
  2. প্রেমকাব্য
  3. শোককাব্য
  4. পল্লী গীতি
  5. ক ও ঘ
সঠিক উত্তর:
শোককাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোককাব্য
ব্যাখ্যা
• কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।

-------------------
• মর্সিয়া কাব্য:

- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।

- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়। ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তার রচিত কাব্য জয়নবের চৌতিশা। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি - ফকির গরীবুল্লাহ্।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৮৪.
জঙ্গনামার জনক কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সাবিরিদ খান
  4. ঘ) জৈনুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
খ) ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফারসি কাব্য অবলম্বনে ফকির গরীবুল্লাহ সর্বপ্রথম জঙ্গনামা রচনা করেন। 
জঙ্গনামার জনক ফকির গরীবুল্লাহ। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৯৮৫.
বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম কী?
  1. চৈতন্যজীবনী
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. চৈতন্য মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা

শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল 'বৈষ্ণব সাহিত্য'। তার কল্যাণেই বাঙালির স্বজাত্যবোধ ও নিজসংস্কৃতি রক্ষিত হয়৷
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা:
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
- পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮৬.
‘মৈথিল কোকিল’ বলতে কাকে বোঝায়?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮৭.
ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি কে?
  1. খেলারাম চক্রবর্তী
  2. ময়ূরভট্ট
  3. গোবিন্দরাম
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ময়ূরভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়ূরভট্ট
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
• ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
• প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব চক্রবর্তী, খেলারাম চক্রবর্তী, নরসিংহ বাবু, হৃদয়রাম সাউ, গোবিন্দরাম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮৮.
'ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর। ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।। - কোন কাব্যের পঙক্তি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. লাইলী-মজনু
  3. মধুমালতী
  4. ইউসুফ-জোলেখা
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম  ইউসুফ-জোলেখা।

ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।
এহেন নির্জন পুরী বিরল সম্ভোগ।
পরিহরি লজ্জা ভীতি কর উপভোগ৷৷
না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তোমার ইচ্ছা আমার মরণ।।
('জোলেখার প্রেম নিবেদন' অংশ থেকে)

ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- সগীর বাইবেল পড়েন নি।
- তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
যেমন-
- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ।
- তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
৯৮৯.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করেন?
  1. পদ্মাবতী
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. অভয়ামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯০.
মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয় কোন কাব্যকে?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যকে মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়। এ কাব্যগুলোতে কবিরা অনেক বড়ো বড়ো কাহিনী বলেছেন। তবে এ-কাহিনী আমাদের মতো মানুষের কাহিনী নয়, এগুলো দেবতাদের কাহিনী। 
একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা :
- বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখণ্ড
- মর্ত্যখণ্ড
- শ্রুতিফল

মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩ টি।
যথা :
- মনসামঙ্গল
- চণ্ডীমঙ্গল
- অন্নদামঙ্গল

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।]
৯৯১.
'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি কোন সাহিত্যিকের?
  1. জয়দেব
  2. বিদ্যাপতি
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. কৃষ্ণদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলা রাজসভার মহাকবি।
- ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতি।
- রাজা শিবসিংহ রায় তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, 'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি দেন।



উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯২.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন নয়?
  1. জঙ্গনামা
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. শূন্যপুরাণ
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
জঙ্গনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
- চর্যাপদের পরে প্রবাদ, বচন, ছড়া, ডাক ও খনার বচন ইত্যাদি কিছু কিছু কাব্যনিদর্শন থাকলেও চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো রচনা পাওয়া যায় না।
- তাই এ সময়টাকে (১২০১-১৩৫০) কেউ কেউ ‘অন্ধকার যুগ’ বলে অভিহিত করেন।
- প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল পরিবর্তনের যুগ; ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এবং মুসলিম শাসকদের ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তখন এক নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছিল।
- এ যুগের প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৩শ-১৪শ শতকের রামাই পন্ডিতের গাথাজাতীয় রচনা - শূন্যপুরাণ
- এতে বৌদ্ধদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার, মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ ইত্যাদি ঘটনার বর্ণনাসম্বলিত ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ শীর্ষক একটি কবিতা আছে।
- এছাড়া আছে অপভ্রংশ ভাষায় রচিত প্রাকৃতপৈঙ্গল নামক একটি গীতিকবিতার সংকলন, যার ছন্দ ও ভাষা প্রাকৃত বা আদি পর্যায়ের বাংলা।

'জঙ্গনামা' কাব্য:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯৩.
'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম কী?
  1. ক) জ্ঞানপ্রদীপ
  2. খ) রসুল চরিত
  3. গ) জ্ঞানচৌতিশা
  4. ঘ) সত্যপীরের পুথি
সঠিক উত্তর:
খ) রসুল চরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রসুল চরিত
ব্যাখ্যা
- 'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম- রসুল চরিত। 

সৈয়দ সুলতান
- সৈয়দ সুলতান ১৫৫০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি। 
- তিনি পীর সৈয়দ হাসানের ভক্ত ছিলেন। 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটি রচনার জন্য বিখ্যাত হয়েছেন। 
- 'নবীবংশ' কাব্যটি পারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া কাব্যের অনুসরণে রচিত হয়। 
- এটি ১৫৮৪ সালে রচনা করেন যা হযরত মুহম্মদের জীবনীকাব্য নিয়ে রচিত।
- মধ্যযুগে রচিত  হযরত মুহম্মদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে 'রসুল চরিত'ই শ্রেষ্ঠ কাব্য। 
- জ্ঞানপ্রদীপ ও জ্ঞানচৌতিশা তার রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯৯৪.
কাশীরাম দাস রচিত মহাভারতের নাম কী?
  1. ক) ভারত পাঁচালী
  2. খ) বিজয়পাণ্ডবকথা
  3. গ) পরাগলী মহাভারত
  4. ঘ) ভারতমাতা
সঠিক উত্তর:
ক) ভারত পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভারত পাঁচালী
ব্যাখ্যা

'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী'।
মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
মহাভারত' এর মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৯৫.
মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. বৈষ্ণব পদাবলী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৯৬.
'শাহনামা' -এর লেখক কে?
  1. ক) কবি ফেরদৌসী
  2. খ) মওলানা রুমী
  3. গ) কবি নিজামী
  4. ঘ) কবি জামি
সঠিক উত্তর:
ক) কবি ফেরদৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবি ফেরদৌসী
ব্যাখ্যা
‘শাহনামা (''Book of Kings'')’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি - ফেরদৌসী (Ferdowsī)।
- এটি ফারসি ভাষায় রচিত হয়েছে।
- এই মহাকাব্যটি পারস্যের বা ইরানের অন্যতম প্রসিদ্ধ সাহিত্য।

উৎস: ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া।
৯৯৭.
‘মুক্তল হোসেন’ মর্সিয়া সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মুহম্মদ খান
  4. নওয়াজিস খান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘জয়নবের চৌতিশা’ (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৮.
''হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে।'' পংক্তিটি কার?‌
  1. ক) গোবিন্দদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) ভারতচন্দ্র
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

- বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস ও জ্ঞানদাস।
- তাঁদের মধ্যে বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায় আর চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস লিখেছেন খাঁটি বাংলা ভাষায়।
- জ্ঞানদাসের একটি কবিতার পংক্তিঃ
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন মোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে।।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৯৯৯.
কে বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) শুকুর মহাম্মদ
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) সাবিরিদ খান।
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণবসাহিত্যে মুসলমান পদকর্তার সঠিক সংখ্যা নির্ণীত হয় নি। 
- যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য 'বাংলায় বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি' গ্রন্থে অর্ধশতাধিক মুসলমান পদকর্তার নাম উল্লেখ করেন। 
- মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে প্রথম কবি ছিলেন সম্ভবত শেখ কবির। 
- অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান নওজিস প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,০০০.
মধ্যযুগের নাগরিক কবি কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) মানিক দত্ত
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঘ) দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
মধ্যযুগের শেষ কবি। 
ভারতচন্দ্র অষ্টাদশ শতকের কবি।

উৎস: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।