বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা / ২৮ · ৫০১৬০০ / ২,৭৬৪

৫০১.
শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় কোন সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) পালাগান
  3. গ) কবিগান
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- গাথা-কাহিনীগুলি অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা; পূর্বধারার সঙ্গে এগুলির কালিক ব্যবধান অন্তত দুশতকের। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো  গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী। 
- এছাড়া শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় এ ধারার সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০২.
ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. জঙ্গনামা
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

অন্যদিকে,
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য।
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

লোক সাহিত্য:
মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫০৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. জন্মখণ্ড
  2. মিলন খণ্ড
  3. বিরহ খণ্ড
  4. ভারখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়- মিলন খণ্ড।  

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

এগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫০৪.
দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মহাস্থবির
  2. আসাউদ্দীন
  3. শাহ সুর
  4. জালালউদ্দিন
ব্যাখ্যা
দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- তাঁর প্রকৃত নাম - আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫০৫.
বিজয়গুপ্ত কোন মঙ্গলকাব্য ধারার কবি
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত - পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।

• সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।

• আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৬.
‘নদের চাঁদ’ কোন পালার অন্তর্গত চরিত্র?
  1. মলুয়া
  2. চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র
  3. মহুয়া
  4. দস্যু কেনারাম
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
• 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৭.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়দেব
  3. চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
-বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার। যথা: ১. জীবনীকাব্য, ২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও ৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. পাটানী
  2. বড়াই 
  3. ভাঁড়ুদত্ত 
  4. রাম
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি/বড়াই।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী। 
• 'ভাঁড়ুদত্ত' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 
• 'রামায়ণ' কাব্যের চরিত্র রাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫০৯.
'নদের চাঁদ' ও 'হুমরা বেদে' চরিত্রগুলো কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কমলা
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১০.
ইউসুফ জুলেখা নিয়ে লেখেন নি নিচের কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আব্দুল হাকিম
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ইউসুফ জোলেখা শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাব্য যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। এছাড়াও ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ পদ্মাবতী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫১১.
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) মালাধর বসু
  3. গ) শ্রীকর নন্দী
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত: 
⇒ বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত।
- পরাগল খাঁ মহাভারতের কৌতূহলোদ্দীপক যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন।
- মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল।
- পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।

• তাছাড়া:  
- কৃত্তিবাস ওঝা অনুবাদ করেছেন- রামায়ণ। 
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানি মহাভারত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৫১২.
বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূণ্যপুরাণ
  3. গীতগোবিন্দম্
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
•  অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। 'নিরঞ্জনের রুম্মা' শূণ্যপূরাণ গ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা। রামাই পণ্ডিত রচিত 'কলিমা জালাল' গ্রন্থ। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য। 

অন্যদিকে, 
• রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৫১৩.
বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. ক) মারাঠি
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) মৈথিলি
  4. ঘ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা
মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
- বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল'অভিনব জয়দেব নামে খ্যাত ছিলেন।

বিদ্যাপতি রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে -
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৫১৪.
দ্রৌপদী কে?
  1. রামায়ণে সীতার সহচরী
  2. মহাভারতে দুর্যোধনের স্ত্রী
  3. রামায়ণে লক্ষ্মণের প্রণয়প্রার্থী নারী
  4. মহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের একক স্ত্রী
ব্যাখ্যা
• দ্রৌপদী হচ্ছে মহাভারতের (যুধিষ্ঠিরাদি পঞ্চভাই) পঞ্চ-পাণ্ডবদের একক স্ত্রী।

• মহাভারত:

- মহাভারত কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- চন্দ্রবংশীয় কুরু-পাণ্ডবদের ভ্রাতৃবিদ্বেষ ও যুদ্ধ এর মূল উপজীব্য।
- ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ররা (দুর্যোধনাদি শতভাই) প্রপিতামহ কুরুর নামানুসারে কুরু বা কৌরব এবং পান্ডুর পুত্ররা (যুধিষ্ঠিরাদি পঞ্চভাই) পিতার নামানুসারে পাণ্ডব নামে পরিচিত।
- কুরুপক্ষের ও পাণ্ডবপক্ষের কুরুক্ষেত্র নামক স্থানে, এঁদের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

• ভারতের প্রায় সকল প্রাদেশিক ভাষায় মহাভারতের অনুবাদ হয়েছে। বাংলা ভাষায়ও হয়েছে, তবে বাংলা মহাভারত রচয়িতার নিজস্ব জীবনবোধ ও সমাজচেতনা এবং রচনাশৈলীর স্বাতন্ত্র্যের কারণে তা মৌলিক কাব্যের মর্যাদা লাভ করেছে।

• বাংলা মহাভারতের রচয়িতা একাধিক। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কবি নিজের মতো করে মহাভারত রচনা করেছেন। কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত কবীন্দ্র মহাভারত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাভারত।

• সপ্তদশ শতকে কাশীরাম দাস পদ্যে মহাভারত রচনা করেন, যা বাঙালিদের নিকট সর্বাধিক জনপ্রিয়। কাশীদাসী মহাভারত আঠারো পর্ব এবং একশত পর্বাধ্যায়ে বিভক্ত।

- এই গ্রন্থের বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। যথা-
• আদিপর্বে বংশ বিবরণ,
• জতুগৃহদাহ,
• পঞ্চপাণ্ডবদের সঙ্গে দ্রৌপদীর বিবাহ;
• সভাপর্বে যুধিষ্ঠিরের দ্যূতক্রীড়া ও পরাজয়বরণ;
• বনপর্বে পাণ্ডবদের বনগমন;
• বিরাটপর্বে বিরাটের গৃহে পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাস;
• উদ্যোগপর্বে যুদ্ধের জন্য প্রস্ত্ততি প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১৫.
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের?
  1.  মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- করিতে বাঘের দুধ মিলে।
- বড়র পিরীতি বালির বাধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণকে চাঁদ।
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫১৬.
তুর্কি বিজয়ের ফলে বাংলা সাহিত্যে কোন যুগের আবির্ভাব ঘটে?
  1. ক) অবক্ষয় যুগ
  2. খ) অন্ধকার যুগ
  3. গ) চৈতন্য যুগ
  4. ঘ) আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ - ১৮০০ সাল পর্যন্ত মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। 
- এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সুত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রকৃত কারণ অজ্ঞাত হলেও এটাই বর্তমানে সর্বজন স্বীকৃত মত।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫১৭.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত মোট গীতিকা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ২৩টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত মোট গীতিকা ১০টি । যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫১৮.
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৯.
পৌরাণিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. চণ্ডিকামঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫২০.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র 'ধনপতি'?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র 'ধনপতি'।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২১.
'দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায়' পদটির রচয়িতা-
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) সরহপা
  3. গ) ঢেণ্ডণপা
  4. ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬ টি।
- এগুলো হলোঃ
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
• আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।

৫২২.
মণীন্দ্রমোহন বসু মধ্যযুগের কোন গ্রন্থের পুথি বঙ্গানুবাদসহ 'কায়স্থ' পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  3. শূন্যপুরাণ
  4. গীতগোবিন্দম্
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

অন্যদিকে, 
----------------
• 'শূন্যপুরাণ':

- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি। 
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
-এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'গীতগোবিন্দম্':
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৫২৩.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫২৪.
শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম কী?
  1. নিমাই
  2. কানাই
  3. বিশ্বম্ভর মিশ্র
  4. কানু
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৫.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• মহাভারত' কাব্য:
- ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- কাশীরাম দাসের অনুবাদকৃত মহাভারতের নাম ‘ভারত পাঁচালী'। এটির রচনাকাল সম্বন্ধে যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি মনে করেন ১৬০২-০৪ খ্রিষ্টাব্দের।
- তিনি গ্রন্থ রচনা শেষ করে যেতে পারেন নি। মহাভারতের আদি, সভা, বন ও বিরাট পর্ব রচনার পর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কথিত আছে কবির অসমাপ্ত কাব্য সমাপ্ত করেন কবির পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র ও শিষ্য স্থানীয় অনেকে।

অন্যদিকে,
- মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় ‘ছুটিখানি মহাভারত’।
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৬.
'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা-
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

উল্লেখ্য,
• চন্দ্রাবতী নামে ময়মনসিংহ গীতিকার একজন মহিলা কবি রয়েছেন যিনি প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। 

• আরও উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে। এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।

• এছাড়াও, ১৯৩২ সালে দীনেশচন্দ্র সেন চন্দ্রাবতীর রামায়ণ প্রকাশ করেন। পূর্ববঙ্গ-গীতিকার চতুর্থ খণ্ডের ২য় ভাগে এ রামায়ণ স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫২৭.
কালকেতু উপাখ্যানের কবি কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• কালকেতু উপাখ্যান মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর "চণ্ডীমঙ্গল" কাব্যের একটি অংশ।

• চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• ‘কালকেতু উপাখ্যানে’ ফুল্লরার উদ্দেশ্যে কালকেতু বলেছে:
শাশুড়ি ননদি নাহি নাহি তোর সতা।
কার সঙ্গে দ্বন্দ্ব করি চক্ষু কৈলি রাতা।।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; (‘কালকেতু উপাখ্যান’: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী)।

৫২৮.
শেখ ইজ্জতুল্লাহ্‌র 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থের কাব্যে রূপ দিয়েছিলেন কে?
  1. মুহম্মদ কবির
  2. আবদুল হাকিম 
  3. মুহাম্মদ মুকীম 
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা

• 'গুলে বকাওলী':
- শেখ ইজ্জতুল্লাহ্ নামে জনৈক বাঙালি লেখক ১৭২২ সালে ফারসি ভাষায় 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এ গ্রন্থটি হিন্দি থেকে ভাষান্তরিত।

- গদ্যে রচিত এ গ্রন্থের কাহিনি নওয়াজিস খান কাব্যে রূপ দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ঘটনা রূপায়ণের বৈশিষ্ট্য বিচার করলে নওয়াজিস খানকে মনে হয় ইজ্জতুল্লাহ্‌র অনুসারী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে কবি নওয়াজিস খান কাব্যটি ফারসি থেকে অনুবাদ করেছিলেন। কাব্যের কাহিনি প্রেমমূলক।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ-
শর্কিস্তানের রাজপুত্র তাজুলমুলুক পিতার অন্ধত্ব দূর করার জন্য পরীরাজকন্যা বকাওলীর উদ্যানের বকাওলী ফুলের সন্ধানে যায় । বহু দুঃখকষ্ট ও বাধাবিপত্তির শেষে ফুল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সেখানে রাজকন্যা বকাওলীর নিদ্রিতাবস্থায় তাজুলমুলুক অঙ্গুরীয় বিনিময় করে এবং প্রেমপত্র লিখে রেখে দেশে ফিরে আসে। বকাওলী তাজুলের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে তার অনুসন্ধানে বহির্গত হয় এবং বহু দুঃখ অতিক্রমের পর তার সঙ্গে মিলনে সক্ষম হয়। এই মূলকাহিনির সঙ্গে আরও উপকাহিনির সংযোজন ঘটেছে। কাহিনিটি অলৌকিকতায় পরিপূর্ণ বলে তাতে রোমান্সের বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৫২৯.
আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন না কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) মাগন ঠাকুর
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
আরাকানে বাংলা সাহিত্য  মধ্যযুগের অন্তিম পর্বে বঙ্গদেশের সীমান্তবর্তী স্বাধীন ও অর্ধস্বাধীন রাজাদের রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য চর্চা হয়।  - আরাকানি রাজগণ বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিদ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
- তাই বাংলা ভাষা ও সাহিত্য উল্লেখযোগ্যভাবে তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। 
- আরাকান রাজসভার উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাঁরা কাব্যচর্চা করেন তাঁদের মধ্যে  দৌলত কাজী (আনু. ১৬০০-১৬৩৮) প্রাচীনতম। 
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে আলাওল সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তাঁর মতো বহুগ্রন্থ প্রণেতা ও পন্ডিত কবি মধ্যযুগে বিরল। তিনি আরাকানের প্রধানমন্ত্রী কোরেশী মাগন ঠাকুরের (আনু. ১৬০০-১৬৬০) আশ্রয়ে থেকে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- আরাকানের অন্যান্য কবি হচ্ছেন:
- মরদন (আনু. ১৬০০-১৬৪৫),
- মাগন ঠাকুর প্রমুখ। 
- শমশের আলী
- আবদুল করীম খোন্দকার

বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০)  বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
-  বংশপরম্পরায় তাঁরা মিথিলার রাজপরিবারে উচ্চপদে চাকরি করতেন।
- বিদ্যাপতি নিজেও মিথিলারাজ দেবসিংহ ও শিবসিংহের সভাসদ ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫৩০.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. গৌড়
  3. আরাকান
  4. কৃষ্ণনগর
ব্যাখ্যা
কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩১.
বিদ্যাপতি - কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. নবদ্বীপের
  2. কৃষ্ণনগরের
  3. রোসাঙ্গ
  4. মিথিলার
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫৩২.
মধ্যযুগের (১৫শ শতকের) বাংলা সাহিত্যের কবি -
  1. আলাওল
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
•  শেখ ফয়জুল্লাহ: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে। বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।

• আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি সতেরো শতেকের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৩৩.
‘শূন্যপুরাণ’ কোন যুগের সাহিত্য?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. উত্তর আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৪.
"গুলে বকাওলী" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ মুকিম
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. সাবিরিদ খান
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'গুলে বকাওলী' কাব্য:
- 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি ইজ্জততুললাহ রচিত "তাজুউলমুলক গুল-ই- বকা-গুলি" এর অনুবাদ গ্রন্থ।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
- এছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি মুহম্মদ মুকিম তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম দেন 'গুলে বকাওলী'।
- এই গ্রন্থে তিনি তাঁর সমসাময়িক মুসলিম কবিদের নাম উল্লেখ করে মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ নিয়ে আলোকপাত করেন
- তারপরও নওয়াজিস খান খন্দকার বিরচিত 'গুলে বকাওলী'র রচনাকাল নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
- তবে কাব্যটি যে সতের শতকের রচনা এ ব্যাপারে পণ্ডিতেরা মত দিয়েছেন।
- চট্টগ্রামের জমিদার বংশীয় বৈদ্যনাথ রায়ের আদেশে কবি এই কাব্য লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৫.
‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্য রচনা করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৬.
‘চৈতন্য- মঙ্গল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ক) জয়দেব
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) কৃষ্ণদাস
  4. ঘ) লোচন দাস
ব্যাখ্যা

'চৈতন্য-মঙ্গল' গ্রন্থটি লোচন দাসের রচনা। এটি বাংলা ভাষায় রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।
এছাড়া বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত, 'চৈতন্য- ভাগবত'।
সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী কৃষ্ণদাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৩৭.
'কীর্তিলতা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন। তবে -
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৫৩৮.
'বড়াই' চরিত্রটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কী হিসেবে পরিচিত?
  1. পরমাত্মা
  2. জীবাত্মা
  3. দূতী
  4. খলচরিত্র
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। 
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি -
১. কৃষ্ণ ( পরমাত্মা),
২. রাধা ( জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৩৯.
'নূরজামাল' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) মুহম্মদ খান
  3. গ) আফজল আলী
  4. ঘ) হাজি মুহম্মদ
ব্যাখ্যা

- কবি হাজি মুহম্মদের কাব্য নূরজামাল।
- আফজল আলীর কাব্য নসিহৎনামা।
- মুহম্মদ খানের কাব্য হানিফার লড়াই, মুকতাল হোসেন।
- আব্দুল হাকিমের কাব্য নূরনামা, কারবালা, শহরনামা, ইউসুফ জুলেখা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৫৪০.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার রচয়িতা কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. দ্বিজ কানাই
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানা মদিনা’ পালার লেখক - মনসুর বয়াতি।

• 'দেওয়ানা মদিনা':
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল;
- দুলাল;
- মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪১.
'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কোন গ্রন্থের অংশ?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. গীতগোবিন্দ
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪২.
গদ্যপদ্যে মিশ্রিত একপ্রকারের চম্পুকাব্য হচ্ছে -
  1. শূন্যপুরাণ
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৩.
চৈতন্য যুগের ব্যাপ্তিকাল ছিল?
  1. ১২০১-১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৬০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৫০১-১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের ব্যাপ্তিকাল ছিলো ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
১) ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ,
২) ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ,
৩) ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।
- এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৪.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে কোন কাব্যটি রচনা করেন?
  1. কেতকামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

অন্যদিকে,
- ধর্মমঙ্গল ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৫.
কোনটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ নয়?
  1. ক) শ্রুতিফল
  2. খ) মর্ত্যখন্ড
  3. গ) আত্মপরিচয়
  4. ঘ) বর্ণনাখন্ড
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ -
- বন্দনা,
- আত্নপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড এবং
- শ্রুতিফল।

• বর্ণনাখণ্ড নামে কোন খণ্ড নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৬.
মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশের মধ্যে কোনটি দেবতার মহিমা ও কার্য বর্ণনা করে?
  1. স্বর্গ খণ্ড
  2. বন্দনা
  3. আত্মপরিচয়
  4. মর্ত্যখণ্ড
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশের মধ্যে দেবখণ্ড বা স্বর্গ খণ্ড অংশে মূলত স্বর্গীয় দেবতাদের মহিমা, কার্য, পৌরাণিক ও লৌকিক দেবতার পারস্পরিক সম্পর্ক, দেবতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্বর্গীয় পটভূমিতে তাদের দ্বন্দ্ব ও চক্রান্ত বর্ণিত হয়। এখানে দেবতার পৃথিবীতে পূজা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে।
-------------------------- 
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি আখ্যানধর্মী কাব্য।
- এই কাব্যের মূল সাধারণত দেব-দেবী ও তাদের আখ্যানভাগ।
- এই যুগের কবিরা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কাব্য রচনা শুরু করতেন এবং প্রায়শই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে কাহিনি শুরু হত।
- মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে নায়করা সাধারণত স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষ রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাদের স্ত্রীও একইভাবে জন্ম নেন।
- মর্ত্যে তারা মানুষের মতো আচরণ করেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দেবীর পূজা প্রচারের পরে শাপমুক্ত হয়ে আবার স্বর্গে ফিরে যান।

- মঙ্গলকাব্য সমাজ ও ধর্মের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
- এতে দেখা যায় দুঃখের কাহিনি, বারমাসী গান, চৌতিশা, নারীর পতি নিন্দা, রন্ধনশিল্প ইত্যাদির বর্ণনা।
- কাব্যটি ছন্দপয়ার ও ত্রিপদী আকারের হয়, যা মূলত পাঁচালি ধরনের এবং মঞ্চে উপস্থাপন করা হত।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত পাঁচটি অংশ থাকে:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড, এবং
- শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
- প্রথম হলো লৌকিক ধারা, যা খাঁটি মঙ্গলকাব্য হিসাবে পরিচিত। 
- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর),
- সারদামঙ্গল,
- শিবমঙ্গল,
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল।

- দ্বিতীয় হলো পৌরাণিক ধারা, যা বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক।
- এর মধ্যে রয়েছে- 
- অন্নদামঙ্গল,
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা হলো তিনটি—
- মনসামঙ্গল, যা তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- এবং তুলনামূলকভাবে আধুনিক- অন্নদামঙ্গল। 
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'বন্দনা অংশ'- বিভিন্ন দেব-দেবী, গুরু এবং সম্মানীয় ব্যক্তিদের স্তুতি বা অর্চনাকে কেন্দ্র করে রচিত।

- ‘আত্মপরিচয়’ অংশে কবি নিজের পরিচয়, ভৌগোলিক অবস্থান, বংশপরিচয়, এবং স্বপ্নাদেশ বা দৈবনির্দেশে গ্রন্থ রচনার কারণ বর্ণনা করেন।

- মঙ্গলকাব্যের ‘মর্ত্যখণ্ড’ (বা নরখণ্ড/মানুষের কাহিনী) অংশটি মূলত লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং মর্ত্যলোকে তাঁদের পূজা প্রতিষ্ঠা করার কাহিনী নিয়ে রচিত। এই অংশে বর্ণিত হয় কিভাবে লৌকিক দেব-দেবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করে পূজা আদায় করেন।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৭.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
  1. ক) নেপালের রাজ দরবার থেকে
  2. খ) গোয়ালঘর থেকে
  3. গ) পাঠশালা থেকে
  4. ঘ) মন্দির থেকে
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে এর পুঁথি
আবিষ্কার করেন।
- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুঁথিটি মুদ্রিত হয়। - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো
- রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই। - রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু ।
- এটি মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তল হোসেন
  2. কলিমা জালাল
  3. গুলে বকাওলী
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
• সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৫৪৯.
‘রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. খ) বলরাম দাস
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
‘রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ - পঙক্তিটির রচয়িতা জ্ঞানদাস।
জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘মাথুর’ ও ‘মুরলীশিক্ষা’।
জ্ঞানদাস চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৫৫০.
টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. শ্যামা সংগীত
  2. গীতরত্ন
  3. গীতিকল্লোল
  4. রাগতরঙ্গিণী
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

টপ্পা সঙ্গীত:

- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫১.
বাউল মতের উদ্ভব হয় কত শতাব্দীতে?
  1. ক) সপ্তদশ
  2. খ) অষ্টাদশ
  3. গ) ঊনবিংশ
  4. ঘ) বিংশ
ব্যাখ্যা
বাউল মতের উদ্ভব সপ্তদশ শতাব্দীতে।
বাউল মত জনপ্রিয় হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৫৫২.
মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫৩.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি-
  1. ময়ূর ভট্ট
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উল্লেখ্য,
• ধর্মমঙ্গলের আদি কবি- 'ময়ূর ভট্ট'।
• চন্ডীমঙ্গলের আদি কবি-  মানিক দত্ত।
• ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি-  ঘনরাম চক্রবর্তী।

এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৪.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায় 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. শুকুর মাহমুদ
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা
• শুকুর মাহমুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসে বৌদ্ধ, নাথ ও সুফি ভাবধারার মিলনে এক মিশ্র তত্ত্বজ্ঞানের কথা বর্ণিত হয়েছে। 

শুকুর মাহমুদ:
- শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৫.
"মধুমালতী কাব্য" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৬.
'মীনচেতন' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথসাহিত্য
  2. লোকসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫৭.
'আমীর হামজা' কাব্য রচনা করেন কে? 
  1. আলাওল
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. রেজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• ’আমীর হামজা’ ফকির গরীবুল্লাহ রচিত জঙ্গানামা শ্রেণির কাব্য।

---------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়। 

• সেগুলি হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।
[কিন্তু এ কাব্যগুলি বটতলার পুথি প্রকাশকদের দ্বারা নানা ব্যক্তির নামে প্রকাশিত হয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫৮.
কোন প্রখ্যাত পণ্ডিত ইংরেজিতে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ক) ব্রাসি হালহেড
  2. খ) পি আচার্য
  3. গ) পি জে হার্টজ
  4. ঘ) ডব্লিউ প্রেস
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পুর্জগিজ vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন, কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়। এই বইয়ের নাম ছিল A Grammar of the Bengal Language (1778)।
- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন রাজা রামমোহন রায়। এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ (নতুন)
৫৫৯.
আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন-
  1. দৌলত কাজী
  2. আলাওল
  3. আবদুল করিম খন্দকার
  4. সবাই 
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি - দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৫৬০.
নিচের কোন জন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খাঁ 
  2. সাবিরিদ খাঁ 
  3. সৈয়দ সুলতান 
  4. সৈয়দ নূরুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ নুরুদ্দিন মধ্যযুগের ইসলাম ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন; তিনি যুদ্ধকাব্য রচনা করেননি।

----------------
• ‘জঙ্গনামা’:

- জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

প্রশ্নে উল্লিখিত কবিদের মধ্যে-
১. দৌলত উজির বাহরাম খান - কারবালার কাহিনি নিয়ে ‘জঙ্গনাম বা মক্তুল হোসেন’ নামে জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য রচনা করেছেন। 
২. সাবিরিদ খাঁ - জঙ্গনামা জাতীয় যুদ্ধকাব্য বিষয়ক গ্রন্থ ‘হানিফা- কয়রাপরী’ রচনা করেছেন। 
৩. সৈয়দ সুলতান - ‘জয়কুম রাজার লড়াই’ নামে যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য রচনা করেছেন। 

অন্যদিকে,
--------------
• সৈয়দ নুরুদ্দিন:
- সৈয়দ নুরুদ্দিন - মধ্যযুগের ইসলাম ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন; তিনি যুদ্ধকাব্য রচনা করেননি।
- সৈয়দ নুরুদ্দিন মধ্যযুগীয় ধর্মসাহিত্যের কবি। চট্টগ্রামের মির্জাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষ সৈয়দ হাসান ষোলো শতকে গৌড় থেকে চট্টগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।

নুরুদ্দিন মোট চারখানা কাব্য রচনা করেন:
• দাকায়েকুল হেকায়েক: ইমাম গাজ্জালির একই নামের বিশাল আরবি শাস্ত্রকাব্যের ভাবানুবাদ। এতে মৃত্যু, আজরাইল, রুহ, গোর-আজাব, ইস্রাফিল, কাফন, সাদকা ইত্যাদি সম্পর্কিত ২২টি ‘বাব’ বা অধ্যায় আছে।

• রাহাতুল কুলব বা কেয়ামতনামা: কুরআন, হাদীস ও তাফসির থেকে বিষয় নিয়ে রচিত গ্রন্থ।

• বুরহানুল আরেফিন: হিতোপদেশ সুফিতত্ত্বের কাব্য।

• মুসার সওয়াল: প্রশ্নোত্তরমূলক ক্ষুদ্র কাব্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৬১.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. রাধামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

রাধামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয়। 

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক, সমাজচিত্রভিত্তিক এই কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, ১৫ম থেকে ১৮শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

প্রধান শাখা ৩টি:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- ধর্মমঙ্গল।

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
অন্ধকার যুগের অপর নাম-
  1. তমাস যুগ
  2. অবক্ষয় যুগ
  3. তামস যুগ
  4. সংমিশ্রণ যুগ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।
- এ সময়ে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক নিদর্শন পাওয়া না গেলেও অন্যান্য ভাষায় সাহিত্যসৃষ্টির নিদর্শন বর্তমান থাকাতে অন্ধকার যুগের অপবাদের অসারতা প্রমাণিত হয়।
- এ সময়ের প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা 'নিরম্মনের রুম্মা', ডাক ও খনার বচন, হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার' অন্তর্গত পীর মাহাত্মজ্ঞাপক বাংলা 'আর্যা' অথবা 'ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়েতে' নির্দেশক বাংলা গান প্রভৃতি এ সময়ের সাহিত্য সৃষ্টির নমুনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য। রাহুল সংকৃত্যায়ন এই সময়ে কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৩.
'গীতরত্ন' কোন ধরনের গানের সংকলন?
  1. মর্সিয়া 
  2. মুর্শিদি 
  3. টপ্পা
  4. ঠুমরী
ব্যাখ্যা

• রামনিধি গুপ্ত:
- রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৪.
'চৈতন্য-মঙ্গল' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) লোচনদাস
  2. খ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. গ) বৃন্দাবন দাস
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বাঙালীর জীবনে যেমন, বাঙলা সাহিত্যও তেমনই চৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম। তার জীবনী নিয়েই প্রথম বাংলা সাহিত্যে জীবনী সাহিত্য রচিত হয়।
- চেতন্যদেবের মৃত্যুর পর তার দুটি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয় সংস্কৃত ভাষায়।

• বাংলা ভাষায় প্রথম চৈতন্যদেবের যে জীবনী-লেখা হয়, তার নাম চৈতন্যভাগবত।
- যিনি লেখেন, তার নাম - বৃন্দাবন দাস।
- এটি লেখা হয়েছিল চৈতন্যদেবের মৃত্যুর পনেরো বছরের মধ্যে।
- বৃন্দাবন দাসকে এ লেখায় উৎসাহ দিয়েছিলেন নিত্যানন্দ প্রভু।

• চৈতন্য দেবকে নিয়ে পরে যে গ্রন্থটি রচিত হয় সেটির নাম - চৈতন্যমঙ্গল।
- লেখক - লোচনদাস।
- এটি চৈতন্যভাগবতের চেয়ে ছোট।

• চৈতন্যদেবের জীবনী হিসেবে সবচেয়ে বিখ্যাত যে গ্রন্থটি, তার নাম - চৈতন্যচরিতামৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
- এ বইটিতে চৈতন্যদেবের জীবনী বর্ণনার সাথে সাথে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার দর্শন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৫.
'পদাবলী' শব্দটি কোন ধরনের সাহিত্য রূপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. বিবরণধর্মী প্রবন্ধ
  2. ছন্দবদ্ধ ও গীতিপ্রধান রচনা
  3. কল্পকাহিনি
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• পদাবলী (বিশেষ্য পদ):
অর্থ: বৈষ্ণব ও শাক্ত গীতিকবিতা।

• পদাবলী:
পদাবলী একটি সামগ্রিক গীতি শাখা যা লোকসাহিত্য, ধর্মীয় কাব্য এবং মানবিক অনুভূতিকে সমন্বিত করে।
গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা ‘পদ’ নামে অভিহিত। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলী বা গীতিকাব্যের ধারা।

• বৈষ্ণব পদাবলী:
বৈষ্ণব পদাবলী পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এতে শ্রীকৃষ্ণ, গোপী প্রেম, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তির প্রেম প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
পদাবলী একটি বৃহত্তর শব্দ, যা বিভিন্ন ধরনের গান বা গীতিকাব্যকে নির্দেশ করে, সেখানে বৈষ্ণব পদাবলী বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবিত গীতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, পদ বা পদাবলী পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬৬.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি?
  1. বিদ্যাসুন্দর
  2. মনসামঙ্গল
  3. পদ্মাবতী
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৭.
'পদ্মাপুরাণ' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অনদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৮.
শিবায়নের শ্রেষ্ঠ কাহিনির রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ মাধব
  2. দ্বিজ রতিদেব
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. রামেশ্বর চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য বাংলার নিজস্ব উপাদানে রচিত লৌকিক দেবমাহাত্ম্যমূলক কাহিনীকাব্য। পাঁচালি কিংবা পালার আকারে চৈতন্যপূর্ব যুগেই এগুলি রচিত হয়।
- এই কাব্যগুলি থেকে বাংলাদেশের তৎকালীন ধর্ম, রাষ্ট্র, সমাজ, কৃষি, বাণিজ্য, অর্থনীতি প্রভৃতি সম্বন্ধে অনেক তথ্য জানা যায়।
- কৃষিভিত্তিক সমাজজীবনে বৈদিক দেবতা রুদ্র, শিবের রূপ ধারণ করে; শিব বাঙালি হিন্দুর জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই বাঙালির সুখ-দুঃখ ভরা সংসারের কথা স্থান পেয়েছে শিবমঙ্গলে।
• এ ধারার প্রথম কাব্য দ্বিজ রতিদেবের 'মৃগলুব্ধ' (১৬৭৪) পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের পটিয়ায়।
• শিবায়নের শ্রেষ্ঠ কাহিনির রচয়িতা রামেশ্বর চক্রবর্তী (১৭১০-১১)।
- এগুলি ছাড়া শীতলামঙ্গল (কৃষ্ণরাম দাস) ও ষষ্ঠীমঙ্গল নামে দুটি মঙ্গলকাব্যের কথাও জানা যায়।
- ব্যাঘ্রদেবতা দক্ষিণরায়ের কথা নিয়ে রচিত শেষোক্ত কাব্যটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
• এ কাব্যে সমাজধর্মের সমন্বয় প্রয়াসে নিম্নশ্রেণীর হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের কথা আছে।
- ফলে দক্ষিণরায়ের সঙ্গে মুসলমান পীর বড় খাঁ গাজীর পূজাও এতে স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৬৯.
‘শেষ বড় কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. কোরেশী মাগনঠাকুর
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৫৭০.
‘আমি কি দুঃখেরে ডরাই'- কার উক্তি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. লালন শাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'

- বিখ্যাত গান
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৫৭১.
বাংলা সাহিত্যে "১২০১ থেকে ১৩৫০" সাল সম্পর্কে কোন উক্তিটি যথার্থ নয়?
  1. হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' এ যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
  2. অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত।
  3. 'জঙ্গনামা' কাব্য এ যুগের লিখিত নিদর্শন।
  4. এ যুগে প্রাকৃত ভাষার কাব্য নিদর্শন পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়। 
- এ সময় যে সাহিত্য কর্ম পাওয়া গেছে তা মূলত সংস্কৃত।
- এ যুগে প্রাকৃত ভাষার কাব্য নিদর্শন পাওয়া যায়।
- বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন- শূণ্যপুরাণ।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া'।

অন্যদিকে,
• 'জঙ্গনামা' মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৭২.
বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কে তামস যুগ বলে অভিহিত করা হয়?
  1. ১১৫০ - ১৩০০ খ্রি.
  2. ১২৫০ - ১৩৫০ খ্রি.
  3. ১১৫০ - ১৩৫০ খ্রি.
  4. ১২০০ - ১৩৫০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৫৭৩.
নিচের কোন সাহিত্যে প্রাচীন হিন্দু ও আগত মুসলিম সংস্কৃতির চমৎকার মিথষ্ক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) নাথসাহিত্য
  2. খ) শায়ের
  3. গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ঘ) মার্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

- মৈমনসিংহ-গীতিকায় প্রাচীন হিন্দু ও আগত মুসলিম (পারসি/উর্দু) সংস্কৃতির চমৎকার মিথস্ক্রিয়া লক্ষ করা যায়।
-  এই পালাগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িক কোনো সংঘাতের পরিচয় নেই। বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন এগুলো। 
-  এর ভালো চরিত্রগুলো এবং মন্দ চরিত্রগুলো সম্প্রদায় নিরপেক্ষভাবে এসেছে। 
- এর ভাষা সহজ-সরল, কথ্য শব্দ ও রীতি অনুসারী।
- গ্রামের মানুষের প্রাণের ভাষায় মনের কথা ‘মৈমনসিংহ গীতিকা'য় ফুটে উঠেছে। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৭৪.
‘গীতগোবিন্দম্’ - কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
গীতগোবিন্দম্:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭৫.
‘ময়নামতির গান’- কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ক) মর্সিয়া সাহিত্য
  2. খ) জীবনী সাহিত্য
  3. গ) নাথ সাহিত্য
  4. ঘ) লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মীননাথের প্রতিষ্ঠিত নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।
- নাথ সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - শেখ ফয়জুল্লাহ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
• গোরক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
• গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।
• মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
• ময়নামতির গান - ভবানী দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৬.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৭.
'হিতোপদেশ' লিখেছেন কে?
  1. ক) তারিণীচরণ
  2. খ) রাজীবলোচণ
  3. গ) চণ্ডীচরণ
  4. ঘ) রামকিশোর
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক তারিণীচরণ লিখেছিলেন এশপের কাহিনী (১৮০৩),
চণ্ডীচরণ লিখেছিলেন তোতা ইতিহাস (১৮০৫),
রাজীবলোচণ লিখেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫),
রামকিশোর লিখেছিলেন হিতোপদেশ (১৮০৮)।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৫৭৮.
'নয়ানচাঁদ ঘোষ' রচিত পালা নিচের কোনটি?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) দস্যু কেনারাম
ব্যাখ্যা

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা এবং এদের রচয়িতাঃ
মহুয়া পালা রচনা করেন দ্বিজ কানাই
চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র রচনা করেন নয়ানচাঁদ ঘোষ
দস্যু কেনারাম, রামায়ণ পালা রচনা করেন চন্দ্রাবতী
বিদ্যাসুন্দর রচনা করেন কবিকঙ্ক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫৭৯.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' উক্তিটি কার?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।<b
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৮০.
ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা কৃষ্ণনাথ
  2. রাজা কীর্তিচন্দ্র রায়
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি। 
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।  রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন। 
- তিনি ১৭৬০ সালে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৫৮১.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'। 
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা: 
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮২.
কার নির্দেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর 'মহাভারত' অনুবাদ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. আলাওল
  3. পরাগল খাঁ
  4. ছুটি খাঁ
ব্যাখ্যা

পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় 'পরাগল খাঁ' মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৮৩.
নিচের কোনটি আলাওল রচিত নীতিকাব্য? 
  1. পদ্মাবতী
  2. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
  3. সিকান্দরনামা
  4. তোহফা 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলাওল:
- কবি সৈয়দ আলাওল মধ্যযুগের একজন কিংবদন্তি মুসলিম কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা।
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মুসলিম কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। 
- তাঁর পাণ্ডিত্য ও সাহিত্যকর্ম শতাব্দী ধরে পাঠক ও গবেষককে মুগ্ধ করেছে।
- তিনি বহুভাষাবিদ ও পণ্ডিত ছিলেন।
- যোগশাস্ত্র, আরবি, ফারসি, মৈথিলী, প্রাকৃতপৈঙ্গল, ব্রজবুলি, বাংলা ও সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
- অনুবাদ ও নীতিকাব্যচর্চায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

- আলাওল প্রায় ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন্মস্থান নিয়ে কিছু মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ পণ্ডিত ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জামালপুর গ্রাম উল্লেখ করেন।
- আবার কিছু পণ্ডিতের মতে তাঁর জন্মস্থান চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে।
- তিনি আরাকান রাজসভার রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য পদ্মাবতী, যা হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- 
- ‘পদ্মাবতী’,
- ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’,
- ‘সপ্তপয়কর’, 
- ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’,
- ‘সিকান্দরনামা’,
- ‘তোহফা’ (নীতিকাব্য),
- ‘রাগতালনামা’ (সঙ্গীতবিষয়ক)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া

৫৮৪.
বৈষ্ণব পদাবলিতে 'শৃঙ্গার রস'কে কী নামে ডাকা হয়?
  1. মধুররস
  2. সখ্যরস
  3. দাস্যরস
  4. শান্তরস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• মধুর রস’কে শৃঙ্গার রসও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
৫৮৫.
কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র?
  1. ভাঁড়ুদত্ত
  2. সনকা
  3. ধনপতি
  4. ফুল্লরা
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর।

অন্যদিকে,
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: - কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৬.
কার আদেশে কবি আলাওল ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  3. কেরশী মাগন ঠাকুর
  4. মালিক মুহম্মদ জায়সী
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮৭.
কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের চরিত্র?
  1. বড়ায়ি
  2. কৃষ্ণ
  3. রাধা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫৮৮.
বাংলা সাহিত্যে 'কড়চা' হিসেবে অভিহিত কার জীবনীগ্রন্থ?
  1. ক) শ্রীচৈতন্যদেবের
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণের
  3. গ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের
  4. ঘ) মনসাদেবীর
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে। 
- যেমন- 
- মুরারি গুপ্তের কড়চা।
- স্বরূপ দামোদরের কড়চা।
- গোবিন্দ দাসের কড়চা প্রভৃতি। 

- কড়চাকে দিনপঞ্জি বা রোজনামচা হিসেবে বিবেচনা করা চলে। 
- এতে লেখক নিজের জীবনের ঘটনা বা তাঁর দেখা শোনার ঘটনার বিবরণ প্রতিদিন লিখে রাখতেন।
- পরবর্তী কালে কোন রচনার উপকরণ হিসেবে তা ব্যবহৃত হত। 
- তবে চৈতন্য জীবনীকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করাতে তা ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫৮৯.
‘বণিক ধনপতির কাহিনি’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. সারদামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে: প্রথম খণ্ডে- ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

১. প্রথম উপাখ্যান: একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।

২. দ্বিতীয় উপাখ্যান: এই উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর এবং তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯০.
আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন কোনটি?
  1. বিদ্যাসুন্দর 
  2. গীতগোবিন্দম্
  3. গবিন্দোমঙ্গল 
  4. শ্রীকৃষ্ণবিজয় 
ব্যাখ্যা

• গীতগোবিন্দম্:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

অন্যদিকে, 
• 'বিদ্যাসুন্দর' দ্বিজ শ্রীধর ও সাবিরিদ খানের অনুবাদ কৃত প্রেমাখ্যান। 
• মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর অনুবাদ কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
• অভিরাম দত্ত ও কবি শেখরের ভাগবত পুরাণের অনুবাদ গ্রন্থ 'গোবিন্দমঙ্গল'। 

-----------------
• জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৯১.
"শুকপাখি" - কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. কাজলরেখা
  3. কমলা
  4. রূপবতী
ব্যাখ্যা

কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯২.
ফারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) নবী বংশ
  2. খ) মরু ভাষ্কর
  3. গ) জ্ঞানপ্রদীপ
  4. ঘ) মোস্তফা চরিত
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮) এর সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত। 
- গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত। 
- এটি হযরত মুহম্মদের জীবনী কাব্য। 
- এর দ্বিতীয় খন্ডের নাম 'রাসুল চরিত' 

- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা ও
- জয়কুম রাজার লড়াই  । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৩.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থের গল্প প্রথম কোন রাজার রাজসভায় উপস্থাপন করা হয়?
  1. সামন্ত সেনের
  2. বিজয় সেনের
  3. লক্ষ্মণ সেনের 
  4. বল্লাল সেনের
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।

- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনে সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।

- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৪.
বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস ওঝা কোন ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেছিলেন?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  2. মুক্তক ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি। তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খন্ডে মুদ্রিত হয়।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।
- গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৫.
দ্বিজ বংশীদাস রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) অভয়ামঙ্গল
  4. ঘ) চন্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। 
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কোন খণ্ডে শরৎকালের উল্লেখ আছে?
  1. ছত্র খণ্ড
  2. দান খণ্ড
  3. নৌকা খণ্ড
  4. ভার খণ্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

ভার খণ্ড:
- শরৎকালে শুকনো পথঘাটে হেঁটেই মথুরাতে গিয়ে দুধ-দই বিক্রি করা যায়।
- কিন্তু রাধা আর বাড়ির বাইরে আসে না। 
- রাধা অদর্শনে কৃষ্ণ কাতর।
- সে বড়ায়িকে দিয়ে রাধার শাশুড়িকে বোঝায়, ঘরে বসে থেকে কি হবে, রাধা দুধ-দই বেচে কটি পয়সা তো আনতে পারে।
- শাশুড়ির নির্দেশে রাধা বাইরে বের হয়।
- কিন্তু প্রচণ্ড রোদে কোমল শরীরে দুধ-দই বহন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- এ সময় কৃষ্ণ ছদ্মবেশে মজুরি করতে আসে। পরে ভার বহন অর্থাৎ মজুরির বদলে রাধার আলিঙ্গন কামনা করে।
- রাধা এই চতুরতা বুঝতে পারে।
- সেও কাজ আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যে আশ্বাস দেয়।
- কৃষ্ণ আশায় আশায় রাধার পিছু পিছু ভার নিয়ে মথুরা পর্যন্ত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৭.
‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. দৌতল কাজী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং 
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯৮.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'- উক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৯.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখন্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. রাধাবিরহ
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
১. জন্ম খণ্ড,
২. তাম্বুল খণ্ড,
৩. দান খণ্ড,
৪. নৌকা খণ্ড,
৫. ভার খণ্ড,
৬. ছত্র খণ্ড,
৭. বৃন্দাবন খণ্ড,
৮. কালিয়দমন খণ্ড,
৯. যমুনা খণ্ড,
১০. হার খণ্ড,
১১. বাণ খণ্ড,
১২. বংশী খণ্ড ও
১৩. বিরহ খণ্ড।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি -
১. কৃষ্ণ ( পরমাত্মা),
২. রাধা ( জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬০০.
নিচের কোনটি রূপক উপন্যাস নয়?
  1. ক) ক্রীতদাসের হাসি
  2. খ) রাজা উপাখ্যান
  3. গ) পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- ক্রীতদাসের হাসি, রাজা উপাখ্যান, পতঙ্গ পিঞ্জর শওকত উসমানের রূপক উপস্যাস হলেও ‘চাঁদের অমবস্যা’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর