বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা / ২৮ · ১০০ / ২,৭৬৪

.
বৈষ্ণব পদাবলি কাব্যের রস কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৭টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. ময়ূর ভট্ট
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা - 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল,
২. বিদ্যাসুন্দর,
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বাংলাদেশ এসিয়াটিক সোসাইটি
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) বিশ্বভারতী
সঠিক উত্তর:
খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খণ্ডে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি -
  1. ছড়া
  2. গান 
  3. কাব্য 
  4. ধাঁধা
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

.
'নদের চাঁদ ও হুমরা বেদে' চরিত্র দুটি মৈমনসিংহ গীতিকার কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রূপবতী
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- এটি ময়মনসিংহ গীতিকার অন্যতম পালা।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মনসামঙ্গল কাব্যের বিদ্রোহী চরিত্র কোনটি?
  1. সনকা
  2. চাঁদ সওদাগর
  3. ধনপতি সওদাগর
  4. লখিন্দর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্য:
সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর। 

• মনসামঙ্গলের কাহিনির মাধ্যমে চাঁদ সদাগরের চরিত্রটি গতানুগতিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। নিগৃহীত মানবতার জীবনবাণী রূপে মঙ্গলকাব্যের যে বৈশিষ্ট্য তা এই চরিত্রে রথার্থই প্রতিফলিত হয়েছে। মানবিকতার পরাভব ও আত্মগ্লানিতে পূর্ণ সে যুগে চাঁদ সুজার্গর শক্তিমান বিদ্রোহী হিসেবে অনন্য পরিচয় দান করেছেন। নিগৃহীত জাতির মর্মগত বঞ্চনা, আর্তনাদ ও বিক্ষোভ চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহী স্বভাবের মাধ্যমে রূপ লাভ করেছে।

• বেহুলা চরিত্রের মধ্যে বাঙালি নারীত্বের যে প্রতিচ্ছবি আঁকা হয়েছে, তা কেবল ত্যাগ-তিতিক্ষায় সমুজ্জ্বলই নয়, অতন্ত্র আত্মবিশ্বাস ও অমিত বীর্যে ভাস্বর। বেহুলার নারীশক্তি চাঁদ সদাগরের পৌরুষের সমগোত্রীয় বিদ্রোহী। যে আত্মশক্তির প্রাচুর্যে চাঁদ সদাগর বারবার ব্যর্থতার পরেও ভেঙে পড়েন নি, ক্ষুব্ধ আক্রোশে কেবল উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন, সেই মানবী শক্তির সার্থক পরিণামরূপে দেবপুরী-প্রত্যাগতা বেহুলার আবির্ভাব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অংশ?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

• ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি -
১. রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
২. লাউসেনের কাহিনি।
- এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি আলাওল রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. রাগতালনামা
  2. সিকান্দরনামা
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
আলাওল: 
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অভিজাত পরিবারের সন্তান হিসেবে আলাওল বাল্যকালে বাংলা, সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন।

আলাওল রচিত গ্রন্থ: 
- সিকান্দরনামা, 
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- রাগতালনামা।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মাপুরাণ' গ্রন্থের রচয়িতা - বিজয় গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি বাংলা গীতিকার অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. নাথ গীতিকা
  2. বৈষ্ণব গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব গীতিকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গীতিকা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা প্রচলিত রয়েছে।
যথা:
- নাথ গীতিকা,
- মৈমনসিংহ গীতিকা,
- পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

• বৈষ্ণব গীতিকা- বাংলা গীতিকার অন্তর্ভূক্ত নয়। 
-------------------------
• 'গীতিকা: 
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা  আখ্যানধর্মী  লোকসাহিত্য।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়। এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভান্ডার।
- বাংলা ‘গীতিকা’ ও ইংরেজি ব্যালাড শব্দদুটি প্রায় সমধর্মী।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি।
-  এগুলো প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'ময়মনসিংহ গীতিকায়'।
-------------- 
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
-ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) দুররে মজলিশ 
  2. খ) সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল
  3. গ) সিকান্দারনামা
  4. ঘ) রাগতালনামা
সঠিক উত্তর:
ক) দুররে মজলিশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুররে মজলিশ 
ব্যাখ্যা
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি। 
-আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য 'নূরনামা' 
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়। 
কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা 
- নূরনামা 
- দুররে মজলিশ 
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক 
- হানি-ফার লড়াই 
অন্যদিকে, 
আলাওল রচিত গ্রন্থ:
- সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল 
- সিকান্দারনামা 
 -রাগতালনামা 
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
 
১১.
সাহিত্য রচনা না করেও কার নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) আলাওল
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীচৈতন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যেদেব বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে।  
- শ্রীচৈতন্যের প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। 
- শ্রীচৈতন্যের ডাকনাম নিমাই।  
- শ্রীচৈতন্যেদেবের  জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলা জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।  
- শ্রীচৈতন্যেদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
'রাজা মানিকচন্দ্রের গান' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. বাউল সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
⇒ নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. মনসা মঙ্গল
  2. মনসাবিজয়
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা

• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ:
মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
কবি বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়।

-------------------
• মনসামঙ্গল:
মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
কবিগানের আদি কবিয়াল কে?
  1. নিতাই বৈরাগী
  2. গোঁজলা গুঁই
  3. হরু ঠাকুর
  4. এন্টনি ফিরিঙ্গি
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা গুঁই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা গুঁই
ব্যাখ্যা

• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে 'দুঃখের কবি' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড় চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কোন গ্রন্থকে 'dog sanskrit' বলে আখ্যায়িত করেছেন? 
  1. রামায়ণ 
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. শূন্যপুরাণ
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
সেক শুভোদয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৭.
নবদ্বীপের রাজা রামপ্রসাদ সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কবিগুঞ্জন
  2. কবিরঞ্জন
  3. কবিকঙ্কণ
  4. দুঃখের কবি
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন কভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

তাঁর বিখ্যাত গান-
'মন রে কৃষি কাজ জানো না', 'ডুব দেরে মন কালী বলে', 'মা আমায় ঘুরাবি কত' ইত্যাদি।

অনদিকে, 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) চৈতন্যমঙ্গল
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। 
- এর রচয়িতা মালাধর বসু।  
- শ্রীকৃষ্ণবিজয়  একটি আখ্যানকাব্য।
- এটি সংস্কৃত ভাগবতের দশম ও একাদশ অধ্যায় অনুসরণে রচিত।
- ভাগবতে হিন্দুধর্মের তত্ত্বকথা ও শ্রীকৃষ্ণের জীবনবৃত্তান্ত আছে; শ্রীকৃষ্ণবিজয়েও কৃষ্ণের জন্ম থেকে মহাপ্রয়াণ পর্যন্ত জীবনবৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে।
- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসারে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 

- কৃত্তিবাসের রামায়ণ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিকা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

• যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল।
 
একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মহুয়া
  3. চন্দ্রাবতী
  4. রূপবতী
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
'বড়াই' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) সারদামঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থে কয়টি পালা ও গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি 
  2. ১৩টি 
  3. ১১টি 
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি পালা ও গীতিকা স্থান পেয়েছে। 

যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪.
মুসলমান কবিদের মধ্যে পদাবলি রচনা করেছেন-
  1. শেখ কবির
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ্
  3. সৈয়দ আইনুদ্দিন
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
• পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবি:
পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবিগণের বিশিষ্ট অবদান রয়েছে। একদল মুসলিম কবি উৎকৃষ্ট শ্রেণির বৈষ্ণবপদ রচনা করে বিচিত্র কাব্যপ্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন।

- ড. আহমদ শরীফের মতে, 'তাদের কেউ কেউ করেছেন নেশার ঝোঁকে আর কেউ কেউ করেছেন পেশা হিসাবে।'
- মুসলমান পদকর্তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয় নি। যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য 'বাংলার বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি' গ্রন্থে শতাধিক মুসলমান কবির নামোল্লেখ করেছেন।
- মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে প্রথম কবি হিসাবে 'শেখ কবির'কে বিবেচনা করা হয়।
- অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ্, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান, নওয়াজিস প্রমুখ।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
২৫.
ময়ূর ভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিত, সীতারাম দাস প্রমুখ কবিদের সৃষ্টি কোন কাব্য?
  1. অন্নদা মঙ্গল
  2. মনসা মঙ্গল
  3. চণ্ডী মঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন রূপরাম চক্রবর্তী, সতীরাম দাস, শ্যাম পণ্ডিত, সহদেব চক্রবর্তী, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, গোবিন্দরাম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬.
দেবমাহাত্ম্যমূলক বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়। এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হতো, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।

• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন। 
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।  

• মহাভারত: 
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস। মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৭.
বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. রাম-সীতার বনবাস
  2. রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
  3. শিব-পার্বতীর লীলা
  4. দুর্গা-মহিষাসুরের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল।
- পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণব সমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত। 
- বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন।
- রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্যবিরহ ও নিত্যমিলনের অপরূপ আধ্যাত্মিক লীলা কীর্তিত হয়েছে। বৈষ্ণবদের উপাস্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ । তাঁর আনন্দময় আনন্দময় তথা তথা প্রেমময় প্রকাশ ঘটেছে রাধার মাধ্যমে। রাধা মানবী নয়, শ্রীকৃষ্ণরূপ পূর্ণ ভগবৎ-তত্ত্বের। ভগবৎ-তত্ত্বের অংশ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৮.
মধ্যযুগের শেষ কবি বলা হয়-
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯.
‘শনিবারের চিঠি’ কি ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. ক) তথ্য সমৃদ্ধ
  2. খ) হাস্যরসাত্নক
  3. গ) নীতিকথা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
ব্যাখ্যা
‘শনিবারের চিঠি পত্রিকা’ এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

শনিবারের চিঠি পত্রিকা
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা  হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন:
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- অশোক চট্টোপাধ্যায়
- সুবিমল রায়
- মোহিতলাল মজুমদার
- সজনীকান্ত দাস
- যোগানন্দ দাস
- নীরদ চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০.
মধ্যযুগের মহিলাকবি চন্দ্রাবতী'র পিতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ কানাই
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তাঁর পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোন অঞ্চলের পালা?
  1. ক) নেত্রকোণা
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) লক্ষ্মীপুর
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খ-ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৩২.
মনসামঙ্গল কাব্যকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. চণ্ডিকামঙ্গল 
  2. সূর্যমঙ্গল 
  3. গৌরীমঙ্গল
  4. কেতকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল হলো সেই কাব্যগুলো যা মূলত সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা।
- তাই মনসামঙ্গলের অন্য নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গল কাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা হিসেবে পরিচিত।
- এর কাহিনি পূর্ববঙ্গের বনজঙ্গল, নদী, খাল ও বিলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।

- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন।
- এখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।

- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। 
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

৩৩.
‘কাজলরেখা’ কোন গীতিকার অন্তর্ভুক্ত রচনা?
  1. চট্টগ্রাম গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথ গীতিকা
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩. বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
বাংলা সাহিত্যে “অন্ধকার যুগ” নামে পরিচিত সময়কাল কত বছর ধরে বিস্তৃত?
  1. ১০০ বছর
  2. ১৫০ বছর
  3. ২০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- 'শূণ্যপূরাণ,
- সেক শুভদয়ার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৫.
বিদ্যাপতির ব্রজবুলিতে রচিত শ্রেষ্ঠ কীর্তি কোনটি?
  1. ব্রজকিশোর
  2. রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ
  3. ব্রজলীলা
  4. গীতগোবিন্দ
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬.
‘কলিমা জালাল’ কার রচনা?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. শ্রীহর্ষ
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৩৭.
ধর্মমঙ্গল কাব্যে কোন কাহিনির কথা উল্লেখ আছে?
  1. রামায়ণ কাহিনি
  2. কৃষ্ণলীলার কথা
  3. লাউসেনের কাহিনি
  4. সীতার বনবাস কাহিনি
সঠিক উত্তর:
লাউসেনের কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউসেনের কাহিনি
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যে লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ আছে।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
'গঙ্গাবাক্যাবলী' গ্রন্থ রচনা করেন -
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) আলাওল
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৩৯.
কোন মঙ্গলকাব্যে মুঘল সম্রাট আকবরের এক সেনাপতির চরিত্র বর্ণিত আছে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে মানসিংহ এবং ভবানন্দ প্রধান চরিত্র হিসেবে উল্লিখিত। এই দুটি চরিত্র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত।
যেমন- 
মানসিংহ: ঐতিহাসিকভাবে, মানসিংহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি, যিনি বাংলায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ডে তাঁর কাহিনি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মিশে বর্ণিত হয়েছে।
ভবানন্দ: ভবানন্দ মজুমদার বর্ধমানের ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি চরিত্র, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা কাল্পনিকভাবে
উপস্থাপিত হলেও ঐতিহাসিক ভিত্তি রাখে।

আবার
অন্নদামঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডে মানসিংহের বাংলায় আগমন এবং রাজা প্রতাপাদিত্যকে দমন করার প্রেক্ষাপটে ভবানন্দের কাছে বর্ধমানের রাজা বীরসিংহের কাহিনি বর্ণিত হয়, যা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারণে, অন্নদামঙ্গল কাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি সুস্পষ্ট।
-------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

------------------

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(ক) মনসামঙ্গল: এই কাব্যে দেবী মনসার পূজা এবং চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত, যা মূলত পৌরাণিক ও কাল্পনিক। এতে স্পষ্ট ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ নেই।

(খ) চণ্ডীমঙ্গল: এই কাব্যে দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি বর্ণিত, যা পৌরাণিক ও লোককথা-নির্ভর। ঐতিহাসিক চরিত্র এতে উল্লেখযোগ্য নয়।

(ঘ) ধর্মমঙ্গল: ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে। ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪০.
মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘মৈথিল কোকিল‘ বলা হয়?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।  তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪১.
'দুঃখবর্ণনার কবি' বলা হয় কাকে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. জ্ঞানদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'দুঃখবর্ণনার কবি' হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরধে তিনি এই কাব্য লেখেন। 
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেন। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনিই প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন। জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।
• মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 

• জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম। এজন্য তিনি মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২.
পৌরাণিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয় কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডিকামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. গৌরীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।
 
• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।
 
• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৩.
পদাবলির 'গৌরচন্দ্রিকা' পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. রামপ্রাসাদ সেন
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. লোচন দাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• গৌরচন্দ্রিকা:
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - গোবিন্দ দাস।

অন্যদিকে,
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - রামপ্রাসাদ সেন।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-মঙ্গল' এর রচয়িতা- লোচন দাস।

--------------------
• গোবিন্দ দাস:
- তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকটবর্তী তেলিয়াবুধুরি গ্রামে, অনুমানিক ১৫৩৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' খ্যাত। কবি বল্লভদাস  অভিধা দিয়েছিলেন - গোবিন্দের কবিত্বগুণ, গোবিন্দ দ্বিতীয় বিদ্যাপতি।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির  ভাবশিষ্য বলা হয়।  
- গোবিন্দদাসকে শ্রীজীব গোস্বামী 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- আনুমানিক ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
কোন বৈষ্ণব কবি বাংলায় বৈষ্ণবকবিতা রচনা করেছেন?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) ক + গ
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস৷ তাদের মধ্যে বিদ্যাপতি এবং গোবিন্দদাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। আর চণ্ডীদাস এবং জ্ঞানদাস লিখেছেন খাঁটি বাংলায়।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৪৫.
কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিলো- 
  1. রায়বাহাদুর 
  2. কবিকণ্ঠহার 
  3. রাজা
  4. রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল - রায়গুণাকর। 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬.
বৈষ্ণব সাহিত্যধারা কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
সঠিক উত্তর:
তিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন 
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব সাহিত্য  বৈষ্ণব ধর্ম ও দর্শনকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগে রচিত একটি কাব্যধারা। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর মূল উপজীব্য। বারো শতকে সংস্কৃতে রচিত জয়দেবের  গীতগোবিন্দম্ এ ধারার প্রথম  কাব্য। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
মহাভারত কয় পর্বে রচিত?
  1. ক) ১৭ পর্বে
  2. খ) ১৮ পর্বে
  3. গ) ১৯ পর্বে
  4. ঘ) ২২ পর্বে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮ পর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮ পর্বে
ব্যাখ্যা
সপ্তদশ শতকে কাশীরাম দাস পদ্যে মহাভারত রচনা করেন, যা বাঙালিদের নিকট সর্বাধিক জনপ্রিয়। কাশীরাম দাসের মহাভারত আঠারো পর্ব এবং একশত পর্বাধ্যায়ে বিভক্ত।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৪৮.
'পদ্মাবতী' কাব্যটি কোন কবির কাব্যানুবাদ?
  1. ক) মালিক মুহম্মদ জায়সী
  2. খ) নিজামী গঞ্জভী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ক) মালিক মুহম্মদ জায়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মালিক মুহম্মদ জায়সী
ব্যাখ্যা
মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগন ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যানুবাদ। 

উল্লেখ্য, ‘পদ্মাবতী’ নাটকের রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৪৯.
'রেখাচিত্র' আত্মজীবনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবুল মনসুর
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
রেখাচিত্র, লেখকের রোজনামচা, দুর্দিনের দিনলিপি আবুল ফজলের আত্মজীবনী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি।
তাঁর রচিত প্রবন্ধ- শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি, বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি।
মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫০.
কোন সুলতানের রাজত্বকালে শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ 
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ 
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
--------------
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
• ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
• গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
• বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫১.
মধ্যযুগের সাহিত্যেধারার কত বছরকে তামস যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. একশ
  2. দুইশ
  3. দেড়শ
  4. আড়াইশ
সঠিক উত্তর:
দেড়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেড়শ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সময় মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

• বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সূত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

উল্লেখ্য, 
• ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত একশ বছরের সময়কে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা কে?
  1. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. আলাওল
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী':
- সতের শতকের কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়কাল কত?
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রি.
  2. ৯৫০-১২৫০ খ্রি.
  3. ৯৫০-১২০০ খ্রি.
  4. ১২০১-১৮০০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
৯৫০-১২০০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০-১২০০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: 
- গবেষকগণ সময়ের প্রবণতা ও সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। একেই সাহিত্যের যুগবিভাগ বলে।

• বাংলার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ এরকম:
- প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০ খ্রি.,
- মধ্যযুগ ১২০১- ১৮০০ খ্রি.;
- আধুনিক যুগ ১৮০০ খ্রি.- বর্তমান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বভাব কবি-
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) মুকন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে স্বভাব কবি গোবিন্দচন্দ্র দাস। বিদ্যাপতির মত ব্রজবুলি ভাষায় অলঙ্কার সমৃদ্ধ পদ রচনা করায় তাকে 'বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য' বলা হয়ে থাকে। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫৫.
'অন্নদামঙ্গল কাব্য' কে রচনা করেছেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কানাহরি দত্ত
  4. বিজয়গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

• অন্নদামঙ্গল:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক কে ছিলেন?
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
  4. ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

দে, চন্দ্রকুমার (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭.
‘আফৎনামা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. মুহম্মদ খান
  3. রাধারমণ গোপ
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যে কতটি পদ রয়েছে?
  1. ৪১৫
  2. ৪১৮
  3. ৪২৩
  4. ৪২৮
সঠিক উত্তর:
৪১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪১৮
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- এটি বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এক ধরনের গীতি-আলেখ্য। 
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- খন্ডগুলি: জন্ম খন্ড, তাম্বূল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড (রাধাবিরহ)।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতন্ডা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
রোসাঙ্গ রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন-
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. দৌলত কাজী
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী:
- আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

• আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপোষকতায় আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য 'পদ্মাবতী' ও 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০.
মধ্যযুগে কোন শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়?
  1. চৌদ্দ
  2. পনের
  3. ষোল
  4. সতের
সঠিক উত্তর:
পনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনের
ব্যাখ্যা
অনুবাদ সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমগ্র সৃষ্টিকে অনুবাদ ও মৌলিক এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা চলে।
- অনুবাদ শাখা মধ্যযুগের ব্যাপক পরিসর জুড়ে আছে।
- পনের শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়।
- অনুবাদ শাখার মধ্যে এক শ্রেণির সাহিত্য সংস্কৃত থেকে অনূদিত যেমন রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
- অনুবাদজাতীয় সাহিত্যসৃষ্টি হিসেবে মুসলমান কবিগণের প্রণয়োপাখ্যান কাব্যের কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। 
- পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ ধারার সূত্রপাত করেন।
- মুসলমান কবি রচিত প্রণয়োপাখ্যান কাব্যগুলো ফারসি হিন্দি প্রভৃতি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
- মুসলমান কবিগণের কেউ কেউ নিজস্ব ধর্মীয় সাহিত্য রচনা করেছিলেন। সেগুলো আরবি ফারসি থেকে অনূদিত।
- এ সব কাব্য রচনাকালে কবিরা মূলের প্রতি যে গভীর আনুগত্য দেখিয়েছেন তা নয়, বরং তাঁরা মৌলিক রচনার বৈশিষ্ট্য এগুলোর মধ্যে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬১.
কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. আসাউদ্দীন
  2. নেজাম শাহ সুর
  3. মোবারক খান
  4. হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
আসাউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাউদ্দীন
ব্যাখ্যা

 দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২.
মনসামঙ্গলের আদিকবি -
  1. ময়ূর ভট্ট
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কানা হরিদত্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গলের  আদি কবি-  কানা হরিদত্ত। 

• কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

 • মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৩.
দশারথি রায় কোন ধারার কবি?
  1. ক) কবিগান
  2. খ) টপ্পাগান
  3. গ) পাঁচালী গান
  4. ঘ) পুঁথিসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) পাঁচালী গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাঁচালী গান
ব্যাখ্যা
কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল এবং এই ধারায় দশারথি রায় শক্তিশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। 
- 'দাশু রায়' নামে তিনি খ্যাত ছিলেন। 
- তিনি নিজেই পাঁচালী দল বেঁধে গান গাইতেন। 
- তাঁর পাঁচালী-পালা ১০ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৬৪.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. জাহ্নবী দেবী
  3. অদ্বৈত আচা
  4. নিত্যানন্দ প্রভু
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৬৫.
বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচিত হয়-
  1. ক) ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র  সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়। 

⇒ মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর  পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
কবি গােবিন্দদাস কার ভাবশিষ্য ছিলেন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. শ্রীচৈতনাদেব
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি ছিলেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• বিদ্যাপতির মতো ব্রজবুলি ভাষায় অলঙ্কার সমৃদ্ধ পদ রচনা করায় তাকে 'বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য' বলা হয়ে থাকে।

গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।

উল্লেখ্য, 
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন এবং 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
গঠনগত দিক থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কী ধরনের রচনা?
  1. চম্পুকাব্য
  2. গানের সংকলন
  3. নাট্যগীতি
  4. রূপক কবিতা
সঠিক উত্তর:
নাট্যগীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যগীতি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থের গঠন:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত একটি যাত্রার পালা ছিল বলে মনে করা হয়। কাব্যটি সংস্কৃত গীতগোবিন্দের অনুরূপ গীতি এবং সংলাপবহুল নাট্যলক্ষণাক্রান্ত রচনা বলে তা নাট্যগীতিকাব্য হিসেবেও আখ্যাত হয়েছে। এ কাব্যে নাট্যরসাশ্রয়ী ঘটনা ও সংলাপ থাকলেও তা বর্ণনামূলক কাব্যের মর্যাদার অধিকারী। কোথাও কবি নিজে কাহিনির মধ্যে উপস্থিত থেকে সংলাপের সঙ্গে বর্ণনা যোগ করেছেন, আবার কোথাও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গীতিসংলাপমূলক এই আখ্যানকাব্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান।

--------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৬৮.
গোরক্ষবিজয় সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবদুল করিম
  2. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  3. আলি আহমদ
  4. নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল করিম
ব্যাখ্যা

• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
-  নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
-  আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।
 - এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।
 -  গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পন্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়। তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯.
মঙ্গল কাব্যে কোন দেবীর কাহিনী আছে?
  1. ক) লক্ষীন্দর দেবী
  2. খ) পদ্মাবতী দেবী
  3. গ) মনসা দেবী
  4. ঘ) বেহুলা ও চাঁদসুন্দর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসা দেবী
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭০.
আলাওলের হপ্তপয়কর কোন ভাষার কাব্যের অনুবাদ?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. হিন্দি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
'হপ্তপয়কর' কাব্য:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।
- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি / ফারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১.
বাংলা সাহিত্যে 'অন্ধকার যুগ' কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল?
  1. ১০০১-১২০০ সাল
  2. ১২০১-১৩৫০ সাল
  3. ১৩৫১-১৫০০ সাল
  4. ১৫০১-১৮০০ সাল
সঠিক উত্তর:
১২০১-১৩৫০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০১-১৩৫০ সাল
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া।)
- সেগুলো মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- ১২০১ খ্রী : বাঙ্গালা দেশে তুর্কি আক্রমণ হয়। সমস্ত বাঙ্গালা অধিকার করিতে প্রায় ১০০ বৎসর লাগে। শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপিত হইতে আরও প্রায় ৫০ বৎসর কেটে  যায়।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এই ১২০০ হইতে ১৩৫০ খ্রী : পর্যন্ত বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাসে এক শূন্য স্থান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।

৭২.
মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ছিলেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২-১৭৬০) বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার ও মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।

ফরাসি কোম্পানির দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ভারতচন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন। মহারাজা তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

কবি প্রায়ই তাঁকে কবিতা শুনিয়ে আনন্দ দিতেন। মহারাজা তাঁর কবি প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে সতের শতকের কবি মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের অনুকরণে অন্নদামঙ্গল রচনার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কাব্য। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এ কাব্য রচনা পড়ে খুশি হন এবং এতে বিদ্যা ও সুন্দরের কাহিনি সংযোজনের নির্দেশ দেন। কবি তাঁর এ নির্দেশ মেনে নেন এবং কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনিও এতে সংযোজন করেন।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন এবং জমি দান করে মুলাজোরে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ভারতচন্দ্র সেখানে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরীক্ষিত, রামতনু এবং ভগবান নামে তিন পুত্র রেখে যান।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগ সন্ধিক্ষণের কবি।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের কবি। 
• আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৭৩.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। 

• রামনিধি গুপ্ত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে গীতরত্ন (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪.
‘লায়লী মজনু' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• ‘লায়লী মজনু' কাব্য:
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- ‘লায়লী মজনু’ কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত। 
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান। 
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী মজনু ও
• ইমাম বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৫.
'ষড়গোস্বামী' বলতে কী বুঝায়?
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের ছয়জন শিষ্য
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ছয়জন রচয়িতা
  3. রামায়ণের ছয়জন ঋষি
  4. মহাভারতের ছয়জন শ্রেষ্ঠ কবি
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেবের ছয়জন শিষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেবের ছয়জন শিষ্য
ব্যাখ্যা
• ষড়গোস্বামী:
- শ্রীচৈতন্যদেবের প্রত্যক্ষ শিষ্য এবং পরম ভক্তদের মধ্যে ছয়জনকে ষড়গোস্বামী বলা হয়।
- এঁরা হলেন: রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী, রঘুনাথ দাস গোস্বামী, গোপাল ভট্ট গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী ও জীব গোস্বামী।
- শ্রীচৈতন্যের নির্দেশে তাঁরা বৃন্দাবনে বসবাস করে চৈতন্যপ্রেমের ফেনিলতাকে একটি পরিকাঠামোয় ও কিছু অনুশাসন সমন্বিত ধর্মমতে রূপ দেন।
- যেহেতু তাঁরা বৃন্দাবনে বাস করতেন, সেহেতু তাঁদের বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামীও বলা হয়।
- কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' গ্রন্থে ছয় গোঁসাই বা 'ষড়গোস্বামী কথাটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে 'শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ। / শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথঃ/এই ছয় গোসাঞির করি চরণ বন্দন।
- যাহা হৈতে বিঘ্ন নাশ অভীষ্ট পূরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬.
মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. শূন্যপুরাণ
  3. রামায়ণ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
•  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির - গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭.
খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) বৈষ্ণব পদাবলী
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ুচণ্ডীদাস নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য। এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোন লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়ের গােয়ালঘর থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুথিটি মুদ্রিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলাে হলাে রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
মােট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮.
"গুলে বকাওলী" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. বৈষ্ণব সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর
প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৯.
কোন যুগকে 'তামস যুগ' বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

৮০.
‘গোরক্ষবিজয়' - কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ক) বৈষ্ণব পদাবলী
  2. খ) কবিগান
  3. গ) মঙ্গলকাব্য
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাথ সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
- 'গোরক্ষবিজয়' নাথধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য।
- যোগিশ্রেষ্ঠ গোরক্ষনাথের জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার কথা এতে বিবৃত হয়েছে।
- উজ্জ্বল চারিত্রিক আদর্শের জন্য গোরক্ষনাথ নাথসিদ্ধাদের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠেন এবং সর্বত্র ভক্তি ও সমাদর লাভ করেন।
- গোরক্ষবিজয়ের প্রথম রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া 
৮১.
'চন্দ্রাবতী' কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. দৌলত কাজী
  3. বিদ্যাপতি
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কত শতকের রচনা?
  1. ১২শ শতক
  2. ১৩শ শতক
  3. ১৬শ শতক
  4. ১৪শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৪শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪শ শতক
ব্যাখ্যা
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন":
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।

- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

- পুথিটির মাঝখানের এবং শেষের কয়েকটি পত্র না থাকায় এর নাম জানা যায়নি। তাই এর বিষয়বস্ত্ত কৃষ্ণলীলাবিষয়ক বলে নাম রাখা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) এই নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুথিটি মুদ্রিত হলে গবেষক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয় এবং বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। পুথিটি থেকে বাংলা লিপির বিবর্তন সম্পর্কেও অনেক ধারণা পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. কাফন চোরা
সঠিক উত্তর:
কাফন চোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাফন চোরা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা।
• অপরদিকে, পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যান গুলো হলোঃ
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪.
দৌলত কাজী কোন কাব্য অবলম্বনে 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' রচনা করেন?
  1. উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের 'শিকওয়া'
  2. হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
  3. ফারসি কবি জামীর 'লায়লী ওয়া-মজনুন'
  4. আরবি উপাখ্যান 'আলিফ লায়লা'
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
কবিগানের প্রথম কবি কে?
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. গোঁজলা পুট
  3. ভবানী
  4. হরু ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা পুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা পুট
ব্যাখ্যা
• কবিগানের আদি কবিয়াল : 'গোঁজলা পুট (গুই)'। 

• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮৬.
মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি যথা :
- মনসামঙ্গল
- চন্ডীমঙ্গল
- ধর্ম মঙ্গল

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্য ৫টি অংশ থাকে যথা : 
- বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড এবং
- শ্রুতিফল

- মঙ্গল কাব্যের প্রধান দেবতার হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী, ও ধর্মঠাকুর।
- এই কাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭.
কোন কবি 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত?
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ মাধব
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত - বিদ্যাপতি।

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৮.
পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলাকবি যিনি রামায়ণ রচনা করেন তিনি হলেন-
  1. ক) কুক্কুরীপা
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) ইন্দ্রবতী
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজবংশী বা বংশদাস এর বিদুষীকন্যা । চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলাকবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। তাঁর রচিত রামায়ণের রচনাকাল কত ছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় নি। তবে তার পিতা সপ্তদশ শতাব্দীর লােক ছিলেন। তাই, ধারণা করা হয় তার রামায়ণ সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮৯.
‘কাজলরেখা’ কী জাতীয় রচনা?
  1. পালা
  2. রূপকথা
  3. ছড়া
  4. উপকথা
সঠিক উত্তর:
রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপকথা
ব্যাখ্যা
• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

• রূপকথা:
- অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়।
- এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে।
- ভৌগলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না।
- নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে।
- বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পালা:
- পালাগান কাহিনিমূলক লোকগীতি।
- পাঁচালি ছন্দে রচিত দেবতার কথা বা ধর্মসঙ্গীতও পালা নামে পরিচিত।
- মঙ্গলকাব্যে দিনে পরিবেশিত কাহিনী দিবাপালা এবং রাতে পরিবেশিত কাহিনী নিশাপালা নামে অভিহিত।
- পালার অন্য নাম ‘পাট’, যেমন ধোবার পাট।
- পালাগান প্রধানত পৌরাণিক ও লৌকিক আখ্যানভাগ নিয়ে রচিত। 
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পৌরাণিক পালাকীর্তন হচ্ছে: মান, মাথুর, নৌকাবিলাস, কালীয়দমন, নিমাইসন্ন্যাস প্রভৃতি।
- চন্দ্রাবতী, মহুয়া, মলুয়া, কমলা, দেওয়ান মদিনা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, দস্যু কেনারামের পালা, ভেলুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য লৌকিক আখ্যানমূলক পালাগান।

• প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি।
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি এবং নীতি ও উপদেশ বিতরণ এর লক্ষ্য।
- জীবনের বিচিত্র পরিসরে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য অবয়বে প্রবাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

• উপকথা:
- পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি। 
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে।
- অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
৯০.
'জঙ্গনামা' কাব্যের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রেম
  2. শোক
  3. যুদ্ধ
  4. সামাজিক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১.
'হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী' পদটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. ঢেণ্ডণপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য গুলো হলঃ
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯২.
নাথ সাহিত্যের জনক কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) শেখ গরীবুল্লাহ
  3. গ) শ্যামদাস সেন
  4. ঘ) ভীমসেন
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৯৩.
নিচের কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. গোবিন্দমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
ব্যাখ্যা
গোবিন্দমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়।
- বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোনো যোগসূত্র নেই।
- প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

• লৌকিক শ্রেণি মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শিবায়ন বা শিবমঙ্গল,
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর),
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সারদামঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
৯৪.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. ছত্র খণ্ড
  2. বংশী খণ্ড
  3. বাণ খণ্ড
  4. জন্ম খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জন্ম খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম খণ্ড
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি -
১. কৃষ্ণ ( পরমাত্মা),
২. রাধা ( জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯৫.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯০৬ সালে
  4. ১৯১০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. রাজা-রাজবংশের গৌরবগান
  2. সমাজ ও জীবনের প্রতিফলন
  3. আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য
  4. যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ
সঠিক উত্তর:
আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য। 

• মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক – অর্থাৎ গল্প বা আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য।
- মূল কাহিনির সঙ্গে দেব-দেবীর লীলা, ধর্মতত্ত্ব, বর্ণনা ইত্যাদি যুক্ত হয়ে কাব্যগুলো বিপুল আয়তনে পরিণত হয়েছে।
- লৌকিক ও পৌরাণিক আদর্শের মিশ্রণ মঙ্গলকাব্যের বড় বৈশিষ্ট্য।
- এই কাব্যে লৌকিক দেবতা, ধর্মবিশ্বাস, ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মচিন্তার একধরনের সমন্বয় রয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য হলো আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য, যা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭.
গদ্যপদ্যে মিশ্রিত কাব্য কোনটি?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. সেক শুভোদয়া
  3. চৈতন্যভাগবত
  4. মহাভারত 
সঠিক উত্তর:
সেক শুভোদয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে, 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ুচণ্ডীদাস নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য। 
- বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত' (১৫৪৬-১৫৫০) বাংলায় রচিত পথম চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য।
- মহাভারত হলো সংস্কৃত ভাষায় লিখিত প্রাচীন ভারতের দুটি মহাকাব্যের অন্যতম বৃহৎ মহাকাব্য। মহর্ষি বেদব্যাস মহাকাব্যটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৮.
কোন কাব্যের কবিদের ‘বাইশা’ বলা হয়?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গীতগোবিন্দ
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাইশা:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম। মনসামঙ্গলের এই কাহিনী মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
হলায়ূধ মিশ্র রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূণ্যপূরাণ
  3. নিরঞ্জনের রুম্মা
  4. কলিমা জালাল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সেক শুভোদয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে।
- তাই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

-----------------
• অন্ধকার যুগ:

- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন হলো-
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা',
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়া'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১০০.
রামায়ণের মূল গ্রন্থটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. হিন্দি
  2. বাংলা
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• 'রামায়ণ':
- রামায়ণের মূল গ্রন্থটি বাল্মীকি' রচিত। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।