বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কম্পিউটারের প্রকারভেদ

মোট প্রশ্ন৩৯৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কম্পিউটারের প্রকারভেদ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৯৭

১০১.
বিভিন্ন অফিস আদালতে কোন ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) সুপার কম্পিউটার।
  2. খ) হাইব্রিড কম্পিউটার।
  3. গ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার।
  4. ঘ) মিনি কম্পিউটার।
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অফিস আদালতে, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

- মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe computer) হচ্ছে এমন একটি বড় কম্পিউটার যার সাথে টার্মিনাল যুক্ত করে একসাথে অনেক মানুষ কাজ করতে পারে। - বৃহদাকার মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সঙ্গে সহস্রাধিক ডাম্ব টার্মিনাল (Dumb Terminal) ব্যবহার করা হয়।
- এ কম্পিউটারে একাধিক প্রক্রিয়াকরণ অংশ থাকে।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারগুলোর শব্দদৈর্ঘ্য ৩২ থেকে ১৩২ বিট পর্যন্ত।
- বড় বড় প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে।
- ব্যাংক, বীমা, অর্থ লেনদেন প্রতিষ্ঠান এবং বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতার পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের জন্য মেইনফ্রেম কম্পিউটারের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

যেমন- IBM-4300, Cyber- 170 ইত্যাদি।

সূত্র: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)। 

১০২.
নিচের কোন কাজের জন্য কম্পিউটার বেশি সুবিধাজনক?
  1. ক) পুনরাবৃত্তিমূলক 
  2. খ) গাণিতিক
  3. গ) হিসাব রক্ষক 
  4. ঘ) প্রতিবেদন প্রণয়ন 
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বেশি সুবিধাজনক ।  
১০৩.
কোনটি মাইক্রো কম্পিউটারের অন্তর্গত নয়?
  1. মিনি কম্পিউটার
  2. ট্যাবলেট
  3. ডেস্কটপ পিসি
  4. ল্যাপটপ
ব্যাখ্যা
• 'মিনি কম্পিউটার' মাইক্রো কম্পিউটারের অন্তর্গত নয়।

• মিনি কম্পিউটার:
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট আকারের কিন্তু পার্সোনাল কম্পিউটারের চেয়ে বড় আকারের কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বা মধ্যম সারির কম্পিউটার বা মিডরেঞ্জ কম্পিউটার বলা হয় ৷
- মেইনফ্রেম এবং মিনি কম্পিউটারে একই ধরনের কাজ করা যায়।
- মিনি কম্পিউটার আকারে ছোট এবং কাজের ক্ষমতাও কম।

• মাইক্রো কম্পিউটার:
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে আকারে ছোট এবং সস্তা কম্পিউটার হচ্ছে মাইক্রোকম্পিউটার।
- মাইক্রো এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র।
- ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে সকল কম্পিউটার গঠিত হয় সেসব কম্পিউটারকে বলা হয় মাইক্রোকম্পিউটার।

• মাইক্রো কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:
১. পামটপ কম্পিউটার (Palmtop Computer) বা পিডিএ (PDA),
২. ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer),
৩. নোটবুক কম্পিউটার (Notebook Computer) এবং
৪. ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer) ইত্যাদি।
- এ ছাড়াও ট্যাবলেট পিসি (Tablet PC), ফ্যাবলেট (Phablet), স্মার্টফোন (Smartphone) ইত্যাদিও মাইক্রোকম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
হাইব্রিড কম্পিউটারের অ্যানালগ অংশ ব্যবহৃত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) ডেটা প্রসেস
  2. খ) ডেটা ইনপুট
  3. গ) ডেটা আউটপুট
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer):
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে। 
- মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয় হাইব্রিড কম্পিউটার। এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৫.
‘CYBER 170’ কোন ধরনের কম্পিউটার?
  1. ক) সুপার কম্পিউটার
  2. খ) মাইক্রো কম্পিউটার
  3. গ) মিনি কম্পিউটার
  4. ঘ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
মেইনফ্রেম কম্পিউটার: সুপার কম্পিউটারের চেয়ে তুলনামূলক কম শক্তিশালী কম্পিউটার হলো মেইনফ্রেম কম্পিউটার। 
- অফিস-আদালত, বড় বড় শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ও জটিল তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। 
- উদাহরণ: IBM 4300, UNIVAC 1100, CYBER 170 ইত্যাদি।

সূত্র: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)
১০৬.
নিম্নের কোনটি মিনি কম্পিউটারের উদাহরণ?
  1. IBM Pentium
  2. NOVA 3
  3. IBM 486
  4. CYBER 205
ব্যাখ্যা
NOVA 3 হচ্ছে একটি মিনি কম্পিউটার।

• আকার ও ক্ষমতা বিচারে কম্পিউটারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer),
২। বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer),
৩। ছোট কম্পিউটার (Mini Computer),
8। ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer).

• বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- সুপার কম্পিউটারের তুলনায় ছোট, কিন্তু মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।
- অনেক ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র সংযুক্ত করা যায়।
- বৃহৎ মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ শক্তি।
- বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার আছে।
- উদাহরণ: IBM 4341, NCR N8370, IBM Amdah 1580, ইত্যাদি।

• অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer):
- পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার।
- বিশাল মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা রয়েছে।
- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অনেক যন্ত্রাংশ থাকার কারণে মূল্য অনেক বেশি।
- যে সকল ক্ষেত্রে খুব জটিল ও সুক্ষ গাণিতিক হিসাব প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রশাসনিক কাজ-কর্ম এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: CRAY-1, CYBER 205, ইত্যাদি।

• ছোট কম্পিউটার (Mini Computer):
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের তুলনায় আকারে ছোট এবং কম ক্ষমতাসম্পন্ন।
- সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত।
- উদাহরণ: NOVA 3. PDP 11, IBM-AS/400, ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer):
- আকার, ক্ষমতা ও মূল্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে ছোট।
- একীভূত বর্তনীর মাধ্যমে তৈরি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়।
- স্মৃতি এবং ইনপুট-আউটপুট সংযোগ করে পিসি (Personal Computer) তৈরি হয়।
- অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত ব্যবহার ও চিত্তবিনোদনে এই কম্পিউটারের প্রচলন দিন দিন বেড়ে চলেছে।
- উদাহরণ: IBM 486, IBM Pentium, ইত্যাদি।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
80186 মাইক্রোপ্রসেসর সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. এটি একটি ৮-বিট প্রসেসর।
  2. এটি একটি ১৬-বিট প্রসেসর।
  3. এটি একটি ৩২-বিট প্রসেসর।
  4. এটি একটি ৬৪-বিট প্রসেসর।
ব্যাখ্যা
• 80186 মাইক্রোপ্রসেসর:
- 80186 মাইক্রোপ্রসেসর হল একটি 16-বিট মাইক্রোপ্রসেসর যা ইন্টেল কোম্পানি দ্বারা ডিজাইন এবং নির্মিত হয়।
- এটি ইন্টেলের 8086 মাইক্রোপ্রসেসরের উন্নত সংস্করণ হিসেবে পরিচিত, তবে কিছু অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যেমন অন্তর্নির্মিত পেরিফেরাল (যেমন টাইমার, ডিরেক্ট ম্যামরি অ্যাক্সেস - DMA) এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- প্রসেসর আর্কিটেকচার: 80186 16-বিট আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর ফলে এটি 16-বিট ইনস্ট্রাকশন এবং ডেটা প্রসেস করতে সক্ষম।
- 80186 মাইক্রোপ্রসেসরটি একটি শক্তিশালী এবং দক্ষ প্রসেসর ছিল, তবে এটি কম্পিউটার এবং ডেটা প্রসেসিংয়ের মূলধারায় বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয়নি।
- তবে, এটি শিল্প এবং এমবেডেড সিস্টেমে বিশেষভাবে ব্যবহারিত হয়েছে।

• মাইক্রোপ্রসেসর:
- কম্পিউটারের কার্যব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য কম্পিউটারের যে অংশটি বা হার্ডওয়্যারটি সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে, তাকে মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রসেসর হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের ভিএলএসআই (VLSI-Very Large Scale Integration) চিপ।
- একটি একক ভিএলএসআই সিলিকন চিপের মধ্যে এক মিলিয়নেরও অধিক ডায়োড, ট্রানজিস্টর, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একীভূত থাকে।
- মাইক্রোপ্রসেসর কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
- মাইক্রোপ্রসেসরকেই মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়।
- বিটের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মাইক্রোপ্রসেসরের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন: 4 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 16 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 32 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 64 বিট মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি।
- যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল কর্পোরেশন ১৯৭১ সালে প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে।
- এটি ছিলো Intel 4004 নামের 4 বিট মাইক্রোপ্রসেসর।

• ৪ বিট বিশিষ্ট মাইক্রোপ্রসেসর: ৪০০৪, ৪০৪০।
• ৮ বিট বিশিষ্ট মাইক্রোপ্রসেসর: ৮০০৮, ৮০৮০।
• ১৬ বিট বিশিষ্ট মাইক্রোপ্রসেসর: ৮০৮৬, ৮০৮৮, ৮০১৮৬।
• ৬৪ বিট বিশিষ্ট মাইক্রোপ্রসেসর: Intel Core i3, Core i5, Core i7, Intel Itanium.

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৮.
এমবেডেড সিস্টেমে সাধারণত কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়?
  1. DOS 6.0
  2. Linux (RTOS)
  3. macOS
  4. Windows 11
ব্যাখ্যা

• এমবেডেড সিস্টেমে সাধারণত Linux (Embedded/RTOS) ব্যবহার করা হয়। এমবেডেড সিস্টেম হলো একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য ডিজাইন করা কম্পিউটার সিস্টেম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে। এই ধরনের সিস্টেমে সম্পূর্ণ ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম যেমন Windows 11 বা macOS ব্যবহার করা অকার্যকর ও ভারী হয়ে যায়। DOS 6.0 অনেক পুরনো এবং সীমিত ফিচারের কারণে আধুনিক এমবেডেড ডিভাইসে কার্যকর নয়। অন্যদিকে, Linux ভিত্তিক এমবেডেড বা রিয়েল-টাইম অপারেটিং সিস্টেম (RTOS) হালকা, স্থিতিশীল এবং বিভিন্ন হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্মে অভিযোজিত করা যায়। এছাড়া RTOS নির্ভুল সময়ে কাজ সম্পাদনের সুবিধা দেয়, যা সেন্সর বা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এমবেডেড সিস্টেমে Linux বা RTOS সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার:
- এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা একটি বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশবিশেষ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হলো মাইক্রোপ্রসেসর, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত মেমরি বা রম এবং ইনপুট/আউটপুট সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার কম্পিউটার।
- এম্বেডেড সিস্টেমে সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম থাকে।
- আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রলার এর ব্যবহার হয়।
- এতে মনিটর কিংবা অন্যান্য হার্ডওয়্যার থাকে না।
- এটি কেবল সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া কতিপয় কাজই সেল ফোন, এসি, প্রিন্টার, থার্মোস্ট্যাট, ভিডিও গেমস্ করে থাকে।
- ATM, ওয়াশিং মেশিন প্রভৃতিতে এমবেডেড সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
- বিশ্বের প্রথম এমবেডেড কম্পিউটার হলো The Apollo Guidance Computer.

উৎস: ব্রিটানিকা।

১০৯.
সম্প্রতি জাপানে চালু হওয়া বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারের নাম কি?
  1. Reimei
  2. El Captain
  3. Tong Tong
  4. Al-Munther
ব্যাখ্যা

• বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার – Reimei:
- সম্প্রতি জাপানে বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার চালু করা হয়েছে যার নাম Reimei
- এটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং ক্লাসিক্যাল সুপারকম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি একটি হাইব্রিড সিস্টেম।
- জাপানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান RIKEN এই সুপারকম্পিউটারটি উন্নয়ন করেছে।
- এটি বিখ্যাত সুপারকম্পিউটার Fugaku-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি, এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এই কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- তাই জাপানে চালু হওয়া বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারের নাম Reimei

• El Capitan:
- El Capitan হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটার।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Lawrence Livermore National Laboratory-এ তৈরি করা হয়েছে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো পারমাণবিক গবেষণা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত জটিল গণনা সম্পন্ন করা।
- এটি একটি এক্সাস্কেল (Exascale) সুপারকম্পিউটার হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।
- তবে এটি হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপারকম্পিউটার নয় এবং জাপানে চালু হয়নি।

• Tong Tong:
- Tong Tong চীনের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ডিজিটাল শিশু সিস্টেম।
- এটি মানুষের শিশুর মতো আচরণ অনুকরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- গবেষণার উদ্দেশ্যে এর মাধ্যমে AI-এর সামাজিক আচরণ ও শেখার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
- এটি সুপারকম্পিউটার বা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
- তাই এটি জাপানের হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপারকম্পিউটারের নাম নয়।

• Al-Munther:
- Al-Munther নামটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রযুক্তি বা সামরিক প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত।
- এটি কোনো কোয়ান্টাম সুপারকম্পিউটার প্রকল্প নয়।
- জাপানে চালু হওয়া হাইব্রিড কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবস্থার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
- তাই এটি সঠিক উত্তর নয়।

সুতরাং, সম্প্রতি জাপানে চালু হওয়া বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারের নাম হলো Reimei
সঠিক উত্তর: ক) Reimei

সূত্র: livescience. [link]

১১০.
নভোযান নিয়ন্ত্রণে কোন ধরনের কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সুপার কম্পিউটার
  2. খ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. গ) হাইব্রিড কম্পিউটার
  4. ঘ) মাইক্রো কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
হাইব্রিড কম্পিউটার নভোযান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। 

হাইব্রিড কম্পিউটার হল এমন কম্পিউটার যা এনালগ এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। এর ডিজিটাল উপাদানটি সাধারণত নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে কাজ করে এবং যৌক্তিক ও সংখ্যাসূচক ক্রিয়াকলাপের ফলাফল প্রদান করে। অ্যানালগ উপাদানটি প্রায়শই পার্থক্যমূলক সমীকরণ এবং অন্যান্য গাণিতিক জটিল সমীকরণগুলোর সমাধানে কাজ করে।

হাইব্রিড কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. অ্যানালগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে মিশ্র প্রযুক্তিতে তৈরি।
২. ইনপুট অ্যানালগ প্রকৃতির এবং আউটপুট ডিজিটাল পদ্ধতির।
৩. বিশেষ বিশেষ কাজে ব্যবহার করা হয়।
৪. গঠন জটিল প্রকৃতির।
৫. তুলনামূলকভাবে দাম বেশি।

হাইব্রিড কম্পিউটারের ব্যবহার- 
১. পেট্রোল পাম্পে জ্বালানীর পরিমানকে মুদ্রার হারে রূপান্তর করতে।
২. রোগীর হার্টবিট পরিমাপে
৩. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে
৪. শিল্প প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে।
৫. প্রতিরক্ষা খাতে।  
৬. এয়ারলাইন্স সেক্টরে চাপ, তাপ, গতি ইত্যাদির ফলাফল প্রকাশ করতে।
৭. জাহাজে দিক নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণে। 
৮. সিমেন্ট প্ল্যান্ট। 
৯. গ্যাস পাম্প স্টেশনে। 
১০. রাডার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে। 
১১. বৈজ্ঞানিক গণনায় 
১২. আবহাওয়া সিস্টেম গণনায় 
১৩. পারমাণবিক চুল্লি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণে।  

সূত্র: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)। 
১১১.
What is the software used in embedded systems generally called?
  1. Shareware
  2. Cloud-native application
  3. Firmware
  4. Application Software
ব্যাখ্যা

• এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহৃত সফটওয়্যারকে ফার্মওয়্যার (Firmware) বলা হয়। 
- ফার্মওয়্যার হলো এক ধরনের বিশেষায়িত সফটওয়্যার যা হার্ডওয়্যার ডিভাইসের ROM (Read-Only Memory) বা Flash Memory-তে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং ডিভাইসের মৌলিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাউটার, স্মার্টফোন ইত্যাদি ডিভাইসে ফার্মওয়্যার ব্যবহৃত হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার:
- এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম (ROM) নিয়ে গঠিত।
- আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার করা হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:
- গাড়ি,
- সেলফোন ও স্মার্টফোন,
- প্রিন্টার,
- মাইক্রোওয়েভ,
- ওয়াশিং মেশিন,
- এয়ার কন্ডিশন(এসি),
- ঘড়ি,
- থার্মোস্ট্যাট,
- ভিডিও গেমস্,
- ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং,
- ATM,
- সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. Auburn University Samuel Ginn College of Engineering [link]

১১২.
Embedded Computer এ কোনটি নাও থাকতে পারে?
  1. ক) মাইক্রোপ্রসেসর
  2. খ) মনিটর
  3. গ) মেমরি
  4. ঘ) ইনপুট/আউটপুট সিস্টেম
ব্যাখ্যা
এমবেডেড কম্পিউটার হলো মাইক্রোপ্রসেসর, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত মেমরি বা রম এবং ইনপুট/আউটপুট সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার কম্পিউটার। এতে মনিটর কিংবা অন্যান্য হার্ডওয়্যার থাকে না। এটি কেবলে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া কতিপয় কাজই করে।
সূত্রঃ কম্পিউটারহোপ ওয়েবসাইট
১১৩.
MARK-1 কম্পিউটারটি যৌথভাবে কোন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি আবিষ্কার করেন?
  1. IBM ও Blaise Pascal
  2. IBM ও Howard Aiken
  3. Apple ও Howard Aiken
  4. Microsoft ও John Napier
ব্যাখ্যা

• মার্ক-১ (Mark-I):
- ১৯৪৪ সালে ড. হাওয়ার্ড এইচ আইকেন মার্ক-১ (Mark-I) নামের পৃথিবীর প্রথম ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি করেন। মার্ক-১ ছিল হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় ও আইবিএম কোম্পানির যৌথ উদ্যোগের একটি ফসল।

মার্ক-১ (Mark-1)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মার্ক-১ দৈর্ঘ্য ছিল ৫১ ফুট এবং প্রন্থ ছিল ৮ ফুট।
২. ওজন ছিল প্রায় ৫ টন।
৩. সাত লক্ষেরও অধিক যন্ত্র সংযোগের জন্য প্রায় ৫০০ মাইল লম্বা তার ব্যবহার করা হয়েছিল।
৪. গিয়ার ও চাকার পরিবর্তে চৌম্বক রিলে ব্যবহৃত হয়।
৫. মার্ক-১-এর সাহায্যে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং ত্রিকোণমিতিক ফাংশন ছাড়াও অনেক জটিল গাণিতিক কাজ করা যেত।
৬. মার্ক-১ দ্বারা দু'টি সংখ্যার যোগ ও গুণ করতে যথাক্রমে ০.৩ ও ৪.৫ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হতো।
মার্ক-১ কম্পিউটারটি ১৫ বছর চালু ছিল। প্রদর্শনের জন্য এটি বর্তমানে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৪.
The term PC means-
  1. Private Computer
  2. Prime Computer
  3. Personal Computer
  4. Professional Computer
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer): 
- পূর্বে কম্পিউটার তৈরি করতে অসংখ্য ট্রানজিস্টর, রেজিষ্ট্যান্স, ডায়োড ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো। 
- কিন্ত ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে ইনটেল নামক একটি প্রতিষ্ঠান ইনটেল-৪০০৪ (Intel 4004) নামক প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর বা ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকারক (Microprocessor) তৈরি করে। 
- এই ক্ষুদ্রাকৃতি মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি ক্ষুদ্রাকারের কম্পিউটারকে মাইক্রোকম্পিউটার নামে অভিহিত করা হয়। 
- ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকারকের সাথে স্মৃতি অংশ এবং ইনপুট-আউটপুট অংশের সংযোগ সাধন করা হয়। 
- এই কম্পিউটার সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায় এবং একজন ব্যবহারকারী একাই একটি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। 
- এজন্য এই কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) বা সংক্ষেপে পিসি (PC) বলা হয়। 
- IBM 486, IBM Pentium প্রভৃতি মাইক্রোকম্পিউটারের উদাহরণ। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
Personal computers are also known as -
  1. Microcomputers
  2. Mainframes
  3. Supercomputers
  4. Minicomputers
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) Microcomputers। 

ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer):
- মাইক্রোকম্পিউটার হলো একটি ছোট ডিজিটাল কম্পিউটার, যার কেন্দ্রীয় প্রসেসিং ইউনিট (CPU) হিসেবে একটি মাইক্রোপ্রসেসর থাকে।
- মাইক্রোকম্পিউটার শব্দটি প্রায়শই ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জন্য ব্যবহৃত হতো, বিশেষ করে সেই কম্পিউটারগুলোর ক্ষেত্রে যার CPU একটি একক ইন্টিগ্রেটেড সেমিকন্ডাক্টর চিপে থাকে।
- আকার, কার্যক্ষমতা এবং খরচের দিক থেকে এটি সবচেয়ে ছোট কম্পিউটার।
- মাইক্রোপ্রসেসরের মাধ্যমে একীভূত সার্কিট ব্যবহার করা হয়।
- এটি স্মৃতি এবং ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) হিসেবে কাজ করে।
- অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি বিনোদনের জন্য এই ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার ক্রমবর্ধমান।
- উদাহরণ: IBM 486, IBM Pentium ইত্যাদি।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৬.
কোনটি আকার, আয়তন ও কার্যকারিতা অনুসারে কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ নয়?
  1. ক) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  2. খ) মাইক্রো কম্পিউটার
  3. গ) মেক্সফ্রেম কম্পিউটার
  4. ঘ) সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
• আকার, আয়তন ও কার্যকারিতা অনুসারে কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ:
- আকার, আয়তন, কাজ করার ক্ষমতা, স্মৃতি ও কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে বা ডিজিটাল কম্পিউটারকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. সুপার কম্পিউটার (Super Computer),
২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer),
৩. মিনি কম্পিউটার (Minicomputer) এবং 
৪. মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer)। 

• সুপার কম্পিউটার (Super Computer): 
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমোরি এবং বিপুল পরিমাণ প্রক্রিয়াকরণ কাজের ক্ষমতা থাকে। 

• মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- মাইক্রো ও মিনি কম্পিউটার অপেক্ষা মেইনফ্রেম কম্পিউটার আকৃতিতে বড় কিন্তু সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যার সঙ্গে অনেক ছোট ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে। 

• মাইক্রোকম্পিউটার (Micro Computer):
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে আকারে ছোট এবং সস্তা কম্পিউটার হচ্ছে মাইক্রোকম্পিউটার।
- ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে সকল কম্পিউটার গঠিত হয় সেসব কম্পিউটারকে বলা হয় মাইক্রোকম্পিউটার। 

• মিনি কম্পিউটার (Mini Computer):
- সাধারণত মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট আকারের কিন্তু মাইক্রোকম্পিউটারের চেয়ে কিছুটা বড় আকারের কম্পিউটারকে বলা হয় মিনি কম্পিউটার।
- এ ধরনের কম্পিউটারের গতি, মেমোরি এবং কাজ করার ক্ষমতা মাইক্রোকম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি। 

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান প্রযুক্তিকে কী বলা হয়?
  1. ক) ইন্টারকম
  2. খ) ইন্টারনেট
  3. গ) ই-মেইল
  4. ঘ) ইন্টারস্পিড
ব্যাখ্যা
কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান প্রযুক্তিকে ইন্টারনেট বলে।

ইন্টারনেট এর ব্যবহার- 
১. দ্রুত ফাইল বা তথ্যের আদান প্রদান করা ।
২. তথ্য সংরক্ষণ করা।
৩. ই-কমার্স ব্যবহার করা।
৪. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা।
৫. ঘরে বসে ক্রয়-বিক্রয় করা।
৬. ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বুলেটিন বোর্ড গঠন করা যায়।
৭. মেসেজ বা ই-মেইল আদান প্রদান করা ইত্যাদি।

সূত্র: ৭৩ পৃষ্ঠা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৮.
নিম্নের কোনটি মাইক্রো কম্পিউটারের উদাহরণ?
  1. IBM System/360
  2. Cray-1
  3. Apple Macintosh
  4. IBM z15
ব্যাখ্যা

◉ Apple Macintosh → এটি একটি Microcomputer (১৯৮৪ সালে প্রকাশিত প্রথম গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস সমৃদ্ধ পার্সোনাল কম্পিউটার), ব্যক্তিগত ও অফিস ব্যবহারের জন্য তৈরি।

মাইক্রো কম্পিউটার:
- মাইক্রো (micro) শব্দটির অর্থ হল ক্ষুদ্র।
- মূলত মাইক্রো কম্পিউটার বলতে কম্পিউটারের ছোট বা ক্ষুদ্রাকৃতির কম্পিউটারগুলোকেই বোঝায়।
- এই কম্পিউটারগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রো প্রসেসর চিপ দিয়ে তৈরি বলে একে মাইক্রো কম্পিউটার বলা হয়।
- একটি প্রধান মাইক্রো প্রসেসর, প্রধান মেমোরি, সহায়ক মেমোরি, এবং ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে একটি মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয়।
- মাইক্রো কম্পিউটারগুলো সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যক্তিগত ব্যবহার, খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মাইক্রো কম্পিউটারের কিছু উদাহরণ হল IBM PC, APPLE POWER ইত্যাদি।

মাইক্রো কম্পিউটারকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-
১. ডেক্সটপ কম্পিউটার,
২. ল্যাপটপ কম্পিউটার,
৩. পামটপ কম্পিউটার এবং
৪. নোটবুক কম্পিউটার।

অন্যান্য অপশনসমূহ,  
IBM System/360 → এটি একটি Mainframe computer (১৯৬৪ সালে প্রকাশিত), বড় প্রতিষ্ঠানের ডেটা প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহৃত।
Cray-1 → এটি একটি Supercomputer (১৯৭৬ সালে প্রকাশিত), জটিল বৈজ্ঞানিক গণনার জন্য তৈরি।
IBM z15 → এটি আধুনিক Mainframe computer (২০১৯ সালে প্রকাশিত)।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

১১৯.
নিচের কোনটি আকার, আকৃতি, দক্ষতা, ক্ষমতা ও কার্যকারিতা প্রভৃতির ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারের ভাগ নয়?
  1. ক) অতিবৃহৎ কম্পিউটার
  2. খ) ছোট কম্পিউটার
  3. গ) ক্ষুদ্র কম্পিউটার
  4. ঘ) হাইব্রিড কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

আকার, আকৃতি, দক্ষতা, ক্ষমতা ও কার্যকারিতা প্রভৃতির ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো-
১। অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer)
২। বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer)
৩। ছোট কম্পিউটার (Mini Computer)
৪। ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer)

১২০.
সুপার মাইক্রোকম্পিউটার কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সার্ভার
  2. খ) ডোমেইন
  3. গ) হোস্ট
  4. ঘ) ওয়ার্কস্টেশন
ব্যাখ্যা
মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।
যেমন- সুপার মাইক্রো, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক ইত্যাদি।
সুপার মাইক্রোকম্পিউটার সবচেয়ে শক্তিশালী মাইক্রোকম্পিউটার। এটি ওয়ার্কস্টেশন নামে পরিচিত। ওয়ার্কস্টেশন মাইক্রোকম্পিউটার ও মিনি কম্পিউটারের মাঝে একটি সেতু বন্ধন স্বরূপ।
[উৎসঃ কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)]
১২১.
কমপ্যাক্ট ডিস্কে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. লেজার
  2. মেকানিক্যাল
  3. ম্যাগনেটিক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- সিডি-রমে ডিজিটাল ডাটা রিড করার জন্য লেজার বিম প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। 
- বর্তমান সময়ে কম্পিউটারে সম্পাদিত ডেটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত মেমরির নাম সিডি-রম (CD-Rom - Compact Disk Read Only Memory )। 
- সাধারণত সিডির ধারণক্ষমতা 650 মেগাবাইট থেকে 750 মেগাবাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত এক সাইডে তথ্য সংরক্ষিত থাকে। 
- বিপুল পরিমাণ ধারণক্ষমতা এবং দামে সস্তা হওয়ার কারণে সিডিতে অডিও, ভিডিও, সফটওয়্যার, বড় ধরনের ডেটা ইত্যাদি সংরক্ষণে খুবই জনপ্রিয়। 
- সিডিতে সংরক্ষিত তথ্য বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে।

উৎস :
১. ব্রিটানিকা।
২. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
প্রথম এনালগ কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) John Napier
  2. খ) Charles Babbage
  3. গ) Ada Lovelace
  4. ঘ) Howard H. Aiken
ব্যাখ্যা

চার্লস ব্যবেজ একজন ইংরেজ গণিতবিদ ১৮০ সালে প্রথম এনালগ কম্পিউটার আবিষ্কার করেন।

- ব্যাবেজ ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ, মৌলিক ও উদ্ভাবনী চিন্তাবিদ। তবে কম্পিউটারের জনক হিসাবে তিনি সমধিক পরিচিত।
- ১৮২০ এর দশকে ব্যাবেজ তার ‘ডিফারেন্স ইঞ্জিন’ নিয়ে কাজ করা শুরু করেন।
- এটি ছিল এমন একটি যন্ত্র, যা গাণিতিক গণনা করতে পারে।
- শুরুতে ইঞ্জিনটির ছয় চাকার একটি মডেল নির্মাণ করা হয় এবং প্রদর্শনীর জন্য জনসম্মুখে রাখা হয়। এরপর তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন-২ এর জন্য একটি বড় ও উন্নত মেশিন তৈরির পরিকল্পনা করেন।
- পাশাপাশি জটিল বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিন নামে আরও একটি উদ্ভাবন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। যার কাজ ছিল পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করে যে কোনো গাণিতিক গণনা সম্পাদন করা।

সূত্র: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)। 

১২৩.
বর্তমানে মাউস ও কি-বোর্ড কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করতে সবচেয়ে বেশি কোন পোর্ট ব্যবহৃত হয়?
  1. USB পোর্ট
  2. IMAP পোর্ট
  3. RS-232 পোর্ট
  4. PN/2 পোর্ট
ব্যাখ্যা
• পোর্ট:
- কম্পিউটারের পোর্ট হলো এক ধরনের পয়েন্ট বা সংযোগমুখ।
- কম্পিউটারের সিস্টেম ইউনিটের মাদারবোর্ডের সাথে বিভিন্ন ধরনের ইনপুট, আউটপুট কিংবা কমিউনিকেশন হার্ডওয়‍্যার সংযুক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সংযোগ পয়েন্ট থাকে।
- এ ধরনের সংযোগ পয়েন্টকে বলা হয় পোর্ট। কম্পিউটারে বিভিন্ন পোর্ট ব্যবহৃত হয়। যেমন-

• সিরিয়াল পোর্ট (Serial Port):
- RS-232 বা সিরিয়াল পোর্টের মাধ্যমে ডেটা পর্যায়ক্রমে এক বিট করে স্থানান্তরিত হয়।
- সাধারণত সিস্টেম ইউনিট থেকে দূরবর্তী ডিভাইসসমূহ সংযোগের জন্য এ ধরনের পোর্ট ব্যবহৃত হয়।
- মডেম, মাউস, কি- বোর্ড ইত্যাদি হার্ডওয়‍্যার এ ধরনের পোর্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

• প্যারালাল পোর্ট (Parallel Port):
- প্যারালাল পোর্টের মাধ্যমে একসঙ্গে একাধিক বিট স্থানান্তরিত হয়।
- সাধারণত প্যারালাল পোর্ট ২৫ পিনবিশিষ্ট হয়।
- এ ধরনের পোর্টে তথ্য সমান্তরালভাবে আদান-প্রদান করা হয়।
- প্রিন্টার, স্ক্যানার, অপটিক্যাল ড্রাইভ ইত্যাদি ডিভাইস এ ধরনের পোর্টে যুক্ত করা যায়।

• পিএসটু পোর্ট (PS/2):
- সাধারণত PS/2 পোর্টে কি-বোর্ড ও মাউস পোর্ট সংযুক্ত করা হয়।
- পোর্ট ৬ পিনবিশিষ্ট হয়।
- পূর্বে মাউস ও কি-বোর্ড PS/2 পোর্টে সংযুক্ত হতো। 
- বর্তমানে ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে মাউস ও কি-বোর্ড সংযুক্ত করা যায়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় সার্কিট বোর্ড কোনটি?
  1. মাদারবোর্ড
  2. সিপিইউ
  3. হার্ডডিস্ক
  4. ফ্লোপি ডিস্ক
ব্যাখ্যা
• মাদারবোর্ড:
- মাদারবোর্ডই হচ্ছে একটি কম্পিউটারের মূল অংশ, যা সিস্টেম ইউনিটের অভ্যন্তরে সংযুক্ত থাকে।
- সাধারণত কম্পিউটারের সমস্ত যন্ত্রাংশের সংযোগ স্থানকে বলা হয় মাদারবোর্ড।
- এটি সিস্টেম বোর্ড বা মেইনবোর্ড হিসেবেও পরিচিত।
- কম্পিউটারের ব্রেইন হিসেবে পরিচিত প্রসেসর মাদারবোর্ডের মধ্যেই থাকে।
- মাদারবোর্ডের মধ্যে কম্পিউটারের বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, হার্ড ডিস্কড্রাইভ, ফ্লোপি ডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ ইত্যাদি লাগানোর ব্যবস্থা থাকে।
- কম্পিউটারে যেকোনো যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হোক না কেন প্রতিটি তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদারবোর্ডের সাথে সংযোজিত।
- মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় সার্কিট বোর্ড।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
কম্পিউটারের মূল মেমোরি তৈরি হয় কী দিয়ে?
  1. ক) এলুমিনিয়াম
  2. খ) প্লাস্টিক
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কম্পিউটারের মূল মেমোরি তৈরি হয় সিলিকন দিয়ে।
১২৬.
কোনটি কোয়ান্টাম গেট হিসেবে পরিচিত?
  1. AND gate
  2. OR gate
  3. Hadamard gate
  4. XOR gate
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য যে গেটগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে কোয়ান্টাম গেট বলা হয়। ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারে AND, OR বা XOR গেট ব্যবহৃত হলেও এগুলো কেবলমাত্র নির্দিষ্ট বিট অপারেশন করে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারে Hadamard gate হলো একটি বিশেষ কোয়ান্টাম গেট, যা কিউবিটকে সুপারপজিশনে নিয়ে যায় এবং একই সাথে ০ ও ১ অবস্থার সম্ভাবনা তৈরি করে। এর ফলে কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম শক্তিশালী হয় এবং সমান্তরালভাবে গণনা করা সম্ভব হয়। তাই প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে Hadamard gate-ই কোয়ান্টাম গেট হিসেবে পরিচিত।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটার:
- এটি এমন একটি কম্পিউটার যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের গুণাবলী (যেমন: সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গলমেন্ট) ব্যবহার করে জটিল গণনা করে।
- প্রচলিত ডিজিটাল কম্পিউটারের চেয়ে অনেক দ্রুত ও শক্তিশালী হতে পারে।
- রিচার্ড ফেইনম্যান প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ধারণা দেন।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে কিউবিট (Quantum Bit), যা একসাথে 0 এবং 1 হতে পারে – একে বলে Superposition।
- একটি কিউবিট একই সাথে অনেকগুলো সম্ভাব্য অবস্থায় থাকতে পারে। এটি একাধিক গাণিতিক সমস্যার সমাধান একই সাথে করতে সাহায্য করে।
- ডেভিড ডয়চ (১৯৮৫): কোয়ান্টাম লজিক গেটের ধারণা দেন।
- পিটার শোর (১৯৯৪): কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম উদ্ভাবন করেন যা বড় সংখ্যা অল্প সময়ে ভেঙে ফেলতে পারে।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ৩টি মূল পদ্ধতি:
- NMR (Nuclear Magnetic Resonance): নিউক্লিয়াস স্পিন ব্যবহার করে।
- Ion Trap: আয়নকে ট্র্যাপ করে এবং লেজার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- Quantum Dots: অতি ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী অঞ্চলে ইলেকট্রনের স্পিন ব্যবহৃত হয়।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটিং:
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গাণিতিক সমস্যাগুলির সমাধানে একটি বিপ্লবী ধারণা।
- এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোয়ান্টাম বিট (Qubit) একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে, এবং তার ফলে এটি নির্দিষ্ট কাজগুলো খুব দ্রুত এবং দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।

- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য যে অ্যালগরিদমগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সাধারণত ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের তুলনায় কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের মধ্যে একটি হল Shor’s Algorithm, যা বড় সংখ্যার গুণফল বের করা (Integer Factorization) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।

Shor's Algorithm:
- Shor's Algorithm কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি প্রধান অ্যালগরিদম যা বড় সংখ্যাকে দ্রুত গুণফলে বিভক্ত (factorization) করতে পারে।
- এটা বিন্যাসযোগ্য সংখ্যা গুণফল (large number factorization) বের করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর মাধ্যমে আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফি সিস্টেম যেমন RSA সিকিউরিটি ভেঙে ফেলতে পারে।
- Shor’s Algorithm একটি কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে গাণিতিক সমস্যাগুলি অনেক দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম, যেখানে সাধারণ কম্পিউটারে এসব সমস্যা সমাধান করতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগতে পারে।

- Grover's algorithm - কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যালগরিদমের আরেকটি উদাহরণ।

উৎস:
1) ব্রিটানিকা।
2) IBM [link]
3) sciencedirect [link]

১২৭.
নিচের কোনটি সুপার কম্পিউটার?
  1. CYBER-170
  2. CYBER-205
  3. PDP 11
  4. NCR S/9290
ব্যাখ্যা
CYBER-205 হচ্ছে একটি সুপার কম্পিউটার।

NCR S/9290 এবং PDP 11 এই দুইটি মিনি কম্পিউটার।
CYBER-170 একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার।

১. মিনি কম্পিউটার:
- মিনি কম্পিউটার হলো এমন একটি কম্পিউটার, যার কাজের গতি ও ক্ষমতা  তুলনামূলক কম ।
- এগুলো সাধারণত ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। 
- উদাহরণ হলো: IBM S/34, IBM S/36, PDP 11, NCR S/9290 ইত্যাদি।

২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার:
- সাধারণত সুপার কম্পিউটারের চেয়ে কম শক্তিশালী।
- এ ধরনের কম্পিউটার বড় বড় অফিস, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ও গবেষণা কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার একসাথে অনেক ব্যবহারকারীর কাজ করতে পারে এবং জটিল ও বিশাল তথ্য সহজে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। 
- উদাহরণ: IBM 4300, UNIVAC 1100, CYBER 170.

৩. সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং দ্রুতগতির কম্পিউটার।
- এই ধরনের কম্পিউটার সাধারণত গবেষণাগার, আবহাওয়া বিশ্লেষণ, সামরিক গবেষণা, পরমাণু পরীক্ষা ইত্যাদির মতো কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের বিসিসি-তে একটি সুপার কম্পিউটার রয়েছে। 
- উদাহরণ: CYBER-205 (যুক্তরাষ্ট্র), SuperSXII (জাপান)।

৪. হাইব্রিড কম্পিউটার:
- হাইব্রিড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষ ধরণের কম্পিউটার, যা ডিজিটাল এবং অ্যানালগ কম্পিউটারের সংমিশ্রণে তৈরি।
- এটি অ্যানালগ অংশের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ডিজিটাল অংশের মাধ্যমে সেই তথ্য প্রক্রিয়া করে ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার সাধারণত হাসপাতাল, নভোযান, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, ভোকেশনাল।
১২৮.
‘CYBER 170’ কোন ধরনের কম্পিউটারের উদাহরণ?
  1. ক) মিনি কম্পিউটারে
  2. খ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. গ) মাইক্রো কম্পিউটার
  4. ঘ) সুপার কম্পিউটারে
ব্যাখ্যা
মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
সুপার কম্পিউটারের চেয়ে তুলনামূলক কম শক্তিশালী কম্পিউটার হলাে মেইনফ্রেম কম্পিউটার। অফিস-আদালত, বড় বড় শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ও জটিল তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: IBM 4300, UNIVAC 1100, CYBER 170 ইত্যাদি।
উৎসঃ কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১২৯.
হাসপাতালের আইসিইউ (ICU)-তে রোগীর রক্তচাপ বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া মাপার জন্য কোন কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়?
  1. অ্যানালগ কম্পিউটার
  2. ডিজিটাল কম্পিউটার
  3. হাইব্রিড কম্পিউটার
  4. সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গঠন ও কাজের প্রকৃতির অনুসারে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:
গঠন ও কাজের প্রকৃতি অনুসারে কম্পিউটারকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer)
২। ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer) ও
৩। হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)

অ্যানালগ কম্পিউটার:
- যে সকল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে ইনপুট গ্রহণ করে প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদিত করে, সেসব কম্পিউটারকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটারে বর্ণ বা অংকের পরিবর্তে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বা অ্যানালগ বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের পর প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণত মিটার, ওসিলোসকোপ ইত্যাদিতে প্রদর্শিত হয়।
- মোটরগাড়ির স্পিডোমিটার, স্লাইড রুল, অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদি অ্যানালগ কম্পিউটারের উদাহরণ।
- সাধারণত চাপ, তাপ, তরল পদার্থের প্রবাহ ইত্যাদির উঠা-নামা বা হ্রাস-বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- এছাড়া গাড়ি, উড়োজাহাজ, মহাকাশ যান ইত্যাদির গতিবেগ, বায়ু, তরল ও কঠিন পদার্থের চাপ এবং কোনো বিশেষ স্থানের বা কক্ষের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
- অ্যানালগ কম্পিউটারের ফলাফলের সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে কম।

ডিজিটাল কম্পিউটার:
- যে সকল কম্পিউটার বাইনারি পদ্ধতিতে অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রিয়া সম্পন্ন করে, সেসব কম্পিউটারকে ডিজিটাল, কম্পিউটার বলা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য ডিজিটাল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সিগন্যালের পরিবর্তে ডিজিট (0/1) ব্যবহার করে।
- ডিজিটাল কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের পর প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণত মনিটরে প্রদর্শিত হয়।
- ডিজিটাল কম্পিউটারের গতি ও কার্যকারিতা অ্যানালগ কম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি ও ভালো।
- আবার ডিজিটাল কম্পিউটারের ফলাফলের সূক্ষ্মতা অ্যানালগ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি।
- বর্তমান বাজারে প্রচলিত প্রায় সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল পদ্ধতির কম্পিউটার।
- মাইক্রোকম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার, সুপার কম্পিউটার হচ্ছে ডিজিটাল কম্পিউটারের উদাহরণ।
- আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- গবেষণামূলক কাজ থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, ব্যাংক, বিমা, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান, লেখালেখি, বিনোদন- এমনকি ব্যক্তিগত কাজেও ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাইব্রিড কম্পিউটার:
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়।
- একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি।
- তাই কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়; যেমন- মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩০.
ডিজিটাল কম্পিউটারের প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. ম্যাক্সফ্রেইম কম্পিউটার
  3. মাইক্রো কম্পিউটার
  4. মিনি কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
♦ কম্পিউটারে প্রকারভেদ:
•  কম্পিউটার প্রধানত ৩ প্রকার। যথা- 
১) এনালগ কম্পিউটার,
২) ডিজিটাল কম্পিউটার ও
৩) হাইব্রিড কম্পিউটার।

• ডিজিটাল কম্পিউটার ৪ ধরনের। যথা- 
১) সুপার কম্পিউটার,
২) মেইনফ্রেম কম্পিউটার,
৩) মিনি কম্পিউটার ও
৪) মাইক্রো কম্পিউটার।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
নিচের কোনটি কম্পিউটারের আকার অনুসারে শ্রেণিবিভাগের অংশ নয়?
  1. মাইক্রোকম্পিউটার
  2. মিনি কম্পিউটার
  3. ডিজিটাল কম্পিউটার
  4. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

◉ ডিজিটাল কম্পিউটার হলো কম্পিউটারের ধরন বা কার্যপ্রণালী অনুসারে শ্রেণিবিভাগ, যা বাইনারি সিস্টেম (0 এবং 1) ব্যবহার করে ডেটা প্রসেস করে। এটি আকার বা ক্ষমতা অনুসারে শ্রেণিবিভাগ নয়।

আকার, আয়তন ও কার্যকারিতা অনুসারে কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ:
- আকার, আয়তন, কাজ করার ক্ষমতা, স্মৃতি ও কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে বা ডিজিটাল কম্পিউটারকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:

• সুপার কম্পিউটার (Super Computer):
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমোরি এবং বিপুল পরিমাণ প্রক্রিয়াকরণ কাজের ক্ষমতা থাকে।

• মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- মাইক্রো ও মিনি কম্পিউটার অপেক্ষা মেইনফ্রেম কম্পিউটার আকৃতিতে বড় কিন্তু সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যার সঙ্গে অনেক ছোট ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।

• মাইক্রোকম্পিউটার (Micro Computer):
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে আকারে ছোট এবং সস্তা কম্পিউটার হচ্ছে মাইক্রোকম্পিউটার।
- ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে সকল কম্পিউটার গঠিত হয় সেসব কম্পিউটারকে বলা হয় মাইক্রোকম্পিউটার।

• মিনি কম্পিউটার (Mini Computer):
- সাধারণত মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট আকারের কিন্তু মাইক্রোকম্পিউটারের চেয়ে কিছুটা বড় আকারের কম্পিউটারকে বলা হয় মিনি কম্পিউটার।
- এ ধরনের কম্পিউটারের গতি, মেমোরি এবং কাজ করার ক্ষমতা মাইক্রোকম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩২.
নিম্নের কোনটি Super Computer এর উদাহরণ?
  1. IBM 486
  2. NOVA 3
  3. IBM 4341
  4. CRAY-1
ব্যাখ্যা
CRAY-1 হচ্ছে একটি Super Computer। 

• আকার ও ক্ষমতা বিচারে কম্পিউটারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer),
২। বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer),
৩। ছোট কম্পিউটার (Mini Computer),
8। ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer).

• বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- সুপার কম্পিউটারের তুলনায় ছোট, কিন্তু মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।
- অনেক ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র সংযুক্ত করা যায়।
- বৃহৎ মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ শক্তি।
- বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার আছে।
- উদাহরণ: IBM 4341, NCR N8370, IBM Amdah 1580, ইত্যাদি।

• অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer):
- পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার।
- বিশাল মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা রয়েছে।
- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অনেক যন্ত্রাংশ থাকার কারণে মূল্য অনেক বেশি।
- যে সকল ক্ষেত্রে খুব জটিল ও সুক্ষ গাণিতিক হিসাব প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রশাসনিক কাজ-কর্ম এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: CRAY-1, CYBER 205, ইত্যাদি।

• ছোট কম্পিউটার (Mini Computer):
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের তুলনায় আকারে ছোট এবং কম ক্ষমতাসম্পন্ন।
- সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত।
- উদাহরণ: NOVA 3, PDP 11, IBM-AS/400, ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer):
- আকার, ক্ষমতা ও মূল্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে ছোট।
- একীভূত বর্তনীর মাধ্যমে তৈরি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়।
- স্মৃতি এবং ইনপুট-আউটপুট সংযোগ করে পিসি (Personal Computer) তৈরি হয়।
- অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত ব্যবহার ও চিত্তবিনোদনে এই কম্পিউটারের প্রচলন দিন দিন বেড়ে চলেছে।
- উদাহরণ: IBM 486, IBM Pentium, ইত্যাদি।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয় কোনটিকে?
  1. মাইক্রোপ্রসেসর
  2. হার্ড ডিস্ক
  3. মনিটর
  4. অপারেটিং সিস্টেম
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোপ্রসেসরকে মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়।

• মাইক্রোপ্রসেসর:
- মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের VLSI(Very large Scale Integration) চিপ।
- একটি একক ভিএলএসআই সিলিকন চিপের মধ্যে এক মিলিয়নেরও অধিক ডায়োড, ট্রানজিস্টর, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একীভূত থাকে।
- মাইক্রোপ্রসেসরকে মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়।

• মাইক্রোপ্রসেসর প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা-
১. নিয়ন্ত্রণ অংশ(Control Unit),
২. গাণিতিক যুক্তি অংশ(Arithmetic Logic Unit) এবং
৩. রেজিস্টার সমূহ(Register Set)

উৎস: মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
কোনটি হাইব্রিড কম্পিউটারের উদাহরণ?
  1. পার্সোনাল কম্পিউটার
  2. ইসিজি মেশিন
  3. স্মার্টফোন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

◉ ECG মেশিন হাইব্রিড কম্পিউটারের একটি উদাহরণ, কারণ এটি হার্টের ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যাল (অ্যানালগ ডেটা) সংগ্রহ করে এবং তা ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করে বিশ্লেষণ করে।

হাইব্রিড কম্পিউটার:
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়।
- একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি। তাই কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়; যেমন- মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃত্যন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
প্রথম মেকানিক্যাল কম্পিউটার কে তৈরি করেন?
  1. ক) Charles Babbage
  2. খ) Howard H. Aiken
  3. গ) Lady Ada Byron
  4. ঘ) Hermam Hollerith
ব্যাখ্যা

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির Howard H. Aiken, একটি মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি করেন।

- ড. হাওয়ার্ড এইচ আইকেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ছিলেন।
- হাওয়ার্ড আইকেন কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি অটোমেটিক সিক্যুয়েন্স কন্ট্রোল ক্যালকুলেটর (Automatic Sequence Control Calculator) বা ASCC নামে একটি ইলেকট্রোমেকানিক্যাল যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন।

সূত্র: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)

১৩৬.
PDA-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Personal Digital Access
  2. Private Digital Assistant
  3. Personal Digital Assistant
  4. Portable Digital Assistant
ব্যাখ্যা

• PDA-এর পূর্ণরূপ হলো Personal Digital Assistant.

পামটপ কম্পিউটার:
- PDA-এর পুরোনাম হলো Personal Digital Assistant. 
- ১৯৯৩ সালে ইলেকট্রনিক নির্মাতারা পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিটেন্ট তৈরি করেন।
- পিডিএ এর প্রাথমিক ভার্সন ছিল অ্যাপলের 'নিউটন'।
- এ ধরনের কম্পিউটার ক্ষুদ্রাকৃতির এবং দেখতে অনেকটা ক্যালকুলেটরের ন্যায়, যা হাতের তালুর মধ্যে রেখে ব্যবহার করা যায়, এমনকি পকেটে রেখে সহজে বহন করা যায়।
- এটি হেল্ড বা পকেট কম্পিউটার নামেও পরিচিত।
- অন্য মাইক্রোকম্পিউটারগুলোর তুলনায় এটি সবচেয়ে ছোট এবং কম কর্মক্ষম কম্পিউটার।
- এ ধরনের কম্পিউটারগুলোতে কোনো প্রকার ডিস্ক ড্রাইভ থাকে না।
- সাধারণত টাচ স্ক্রিন ও ডিজিটাল পেনের সাহায্যে এ জাতীয় কম্পিউটারগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
- স্প্রেডশিটের ছোট আকারের কাজ, লেখালেখি, প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বর, তারিখ, এজেন্ডা তৈরি করে রাখা ইত্যাদি কাজে এ ধরনের কম্পিউটারগুলো মূলত ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৭.
নিচের কোনটি সহায়ক স্মৃতি?
  1. ক) RAM
  2. খ) ROM
  3. গ) হার্ডডিস্ক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কম্পিউটারের প্রধান স্মৃতিতে প্রক্রিয়াকরণকৃত তথ্য সহায়ক স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ফ্লপি ডিস্ক, হার্ড ডিস্ক, সিডি, চৌম্বক ফিতা, চৌম্বক ড্রাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সহায়ক স্মৃতি। সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড বই।
১৩৮.
একটি অ্যানালগ কম্পিউটার কী ধরনের ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে?
  1. আলফানিউমেরিক ডেটা
  2. বাইনারি-কোডেড দশমিক
  3. ধারাবাহিক ডেটা
  4. ডিজিটাল ডেটা (০ এবং ১)
ব্যাখ্যা

• একটি অ্যানালগ কম্পিউটার মূলত ধারাবাহিক ডেটা (continuous data) প্রক্রিয়াকরণ করে। এটি ডিজিটাল কম্পিউটারের মতো ০ এবং ১-এর ভিত্তিতে কাজ করে না। অ্যানালগ কম্পিউটার ফিজিক্যাল বা বাস্তব-জগতের পরিবর্তনশীল মান যেমন তাপমাত্রা, চাপ, ভোল্টেজ, বা গতির মতো ধ্রুবক পরিবর্তনশীল ডেটা ব্যবহার করে গণনা ও সমাধান করে। এটি সাধারণত বৈজ্ঞানিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং সমস্যায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে মানগুলি সারা সময় পরিবর্তিত হয় এবং সেগুলিকে নির্ভুলভাবে মাপা প্রয়োজন। ফলে, অ্যানালগ কম্পিউটার সংখ্যা বা ডিজিটাল ফরম্যাটের ডেটার পরিবর্তে ধারাবাহিক মানের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।

- উত্তর: গ) ধারাবাহিক ডেটা।
 
 • গাণিতিক ভিত্তিতে কম্পিউটারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer),
২। ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer),
৩। হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)।

• এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer):
- এনালগ কম্পিউটার ক্রম পরিবর্তনশীল বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ করে।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল সাধারণত প্রদশর্নের কাঁটা (Indicator) দিয়ে দেখানো হয় বা প্লটারের (Plotter) সাহায্যে কাগজে অঙ্কন করা হয়।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণে এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার হয়ে থাকে।

• ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer):
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো বাইনারী ডিজিট (০ এবং ১)।
- এ কম্পিউটারের যাবতীয় গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ বাইনারী ডিজিট এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল লিখিত আকারে দেয়া হয়।
- ইনপুট ও আউটপুট অংশ আমাদের বোধগম্যতার জন্য বর্ণ, অক্ষর ও অংক দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- এ কম্পিউটারের গতি বেশ দ্রুত ও নির্ভরশীলতা বেশি। উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য এতে বৃহৎ মেমোরি থাকে। আজকাল আমাদের ব্যবহৃত সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার।

• হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer):
- এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি হয় সংকর বা হাইব্রিড কম্পিউটার।
- অনেক বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানের জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৯.
কাজের ক্ষমতা ও আকারের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটার কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
কাজের ক্ষমতা ও আকারের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
ডিজিটাল কম্পিউটার: 
- Digit শব্দ থেকে Digital শব্দের উৎপত্তি। 
- ডিজিটাল কম্পিউটার 0 ও 1 প্রতীক দুটি দিয়ে সব ধরনের কাজের প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করে। 

ডিজিটাল কম্পিউটারের প্রকারভেদ: 
- সুপার কম্পিউটার
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার
- মিনি কম্পিউটার
- মাইক্রোকম্পিউটার

সোর্স: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি - ১, এসএসসি ও দাখিল ( ভোকেশনাল) 
১৪০.
হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য কোন ধরণের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়?
  1. হাইব্রিড কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. এনালগ কম্পিউটার
  4. ডিজিটাল কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
• হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। হাইব্রিড কম্পিউটার হলো এমন একটি কম্পিউটার যা এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। হৃদযন্ত্রের সিগন্যাল যেমন ইসিজি (ECG) ইত্যাদি এনালগ সিগন্যালের আকারে আসে, যা এনালগ কম্পিউটার দ্বারা গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করা হয়। পরে এই তথ্য ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তরিত হয়ে ডিজিটাল কম্পিউটারে প্রক্রিয়া করা হয়। তাই, হার্ট মনিটরিং-এর মতো মেডিকেল অ্যাপ্লিকেশনে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম।

• হাইব্রিড কম্পিউটার:
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়। একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি। তাই কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়; যেমন- মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ল্যাপটপ কোনটি?
  1. টেশিস
  2. যমুনা
  3. বিজয়
  4. দোয়েল
ব্যাখ্যা
• ল্যাপটপ: 
- বাংলাদেশে তৈরি প্রথম ল্যাপটপ দোয়েল। 
- দোয়েল ল্যাপটপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেশিস। 
- একটি ল্যাপটপ বা একটি নোটবুক হল বহনযোগ্য ব্যক্তিগত কম্পিউটার যা ভ্রমণ উপযোগী। 
- ল্যাপটপ এবং নোটবুক উভয়কে পূর্বে ভিন্ন ধরা হত কিন্তু বর্তমানে একই হিসেবেই ধরা হয়। 
- Lap মানে হল ‘কোল'। কোলের উপর রেখে যে কম্পিউটার ব্যবহার করা যায় বা হয় তাকে Laptop বলে। 
- ১৯৮১ সালে এপসন কোম্পানি প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রবর্তন করে। 

উৎস:
১. মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
২. dw.com
১৪২.
কোন কোম্পানির হাতে পার্সোনাল কম্পিউটারের নানান পর্যায় বিকশিত হয়েছে?
  1. ক) মাইক্রোসফট
  2. খ) অ্যাপল
  3. গ) আইবিএম
  4. ঘ) মাইক্রোসফট ও অ্যাপল
ব্যাখ্যা

মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের ফলে পার্সোনাল কম্পিউটারের পথ সুগম হয়।
১৯৭৫ সালে এডওয়ার্ড রবার্টস ‘Altair-8800’ কম্পিউটার উপস্থাপন করেন এবং এর নামকরণ করেন পার্সোনাল কম্পিউটার।
এ টিকে বিশ্বের প্রথম পার্সোনার কম্পিউটার বা মাইক্রো কম্পিউটার ধরা হয়। এতে Intel-8080 মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তীতে,
অ্যাপল কোম্পানি মাইক্রো/পার্সোনাল কম্পিউটার এর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অ্যাপল ১৯৮৪ সালে প্রথম অ্যাপল ম্যাকিনটোশ বাজারজাত করে যা তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে ব্যবসা সফল পার্সোনাল কম্পিউটার।

তথ্যসূত্র: americanhistory.si.edu এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা- ৫।

১৪৩.
অ্যানালগ এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে কী ধরনের কম্পিউটার গঠিত হয়?
  1. হাইব্রিড কম্পিউটার
  2. মিনি কম্পিউটার
  3. মাইক্রো কম্পিউটার
  4. সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত হয়- হাইব্রিড কম্পিউটার।

হাইব্রিড কম্পিউটার:
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে।
- হাইব্রিড কম্পিউটারকে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি হওয়ায় কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন - মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্রি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৪.
১৯৮১ সালে কোন কোম্পানি প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রবর্তন করে?
  1. IBM
  2. Epson
  3. Apple
  4. Microsoft
ব্যাখ্যা
• ল্যাপটপ কম্পিউটার:
- ল্যাপটপ কম্পিউটার আকারে ছোট, ওজনে হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার।
- ১৯৮১ সালে Epson কোম্পানি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ল্যাপটপ কম্পিউটার বাজারে আনে।
- এটি এসি বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি উভয়ের সাহায্যে পরিচালিত হতে পারে, যা এটি বহনযোগ্য করে তোলে।
- ল্যাপটপ কম্পিউটার ডেস্কটপের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
- মাউসের পরিবর্তে টাচপ্যাড বা ট্র্যাকপয়েন্ট ব্যবহার করা হয়, যা সহজে কার্সর নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
- প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাপটপের সাথে মনিটর, মাউস, কী-বোর্ড, প্রিন্টার ইত্যাদি ডিভাইস সংযুক্ত করা যায়।
- বাংলাদেশে তৈরি প্রথম ল্যাপটপ "দোয়েল" (DOEL), যা টেলিফোন শিল্প সংস্থা লিমিটেড (TSS) তৈরি করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৪৫.
The main technology used in third-generation computers is -
  1. Vacuum tubes
  2. Transistors
  3. Integrated Circuits
  4. Microprocessors
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) Integrated Circuits

• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫-১৯৭১):
- একীভূত বর্তনী (IC-Integrated Circuit) এর ব্যবহার।
- মিনি কম্পিউটার আবির্ভাব।
- উন্নত নির্ভরযোগ্যতা।
- উচ্চ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা।
- উচ্চতর প্রোগ্রামিং ভাষার ব্যবহার।
- ন্যানো সেকেন্ডে কাজ সম্পাদন।
- যেমন: IBM 360.

• কম্পিউটারের পাঁচটি প্রজন্ম বা জেনারেশন:
- প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪২ - ১৯৫৯),
- দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯ - ১৯৬৫),
- তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫ - ১৯৭১),
- চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১ - বর্তমান),
- পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৮২ - বর্তমান)।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৬.
সিস্টেম বাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ডেটা বাস
  2. অ্যাড্রেস বাস
  3. এক্সপানশন বাস
  4. কন্ট্রোল বাস
ব্যাখ্যা
• কম্পিউটার বাসের প্রকারভেদ:
- কম্পিউটার বাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। সিস্টেম বাস (System Bus) বা প্রধান বাস ও
২। এক্সপানশন বাস (Expansion Bus) বা সম্প্রসারিত বাস

• সিস্টেম বাস:
- যে সমস্ত বাস মাদারবোর্ড ও সিপিইউ বা মাইক্রোপ্রসেসরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থেকে মেমরি, ইনপুট-আউটপুটসহ অন্যান্য ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তথ্য আদান-প্রদান করে তাদেরকে সিস্টেম বাস বলে।
- সিস্টেম বাসকে ইন্টারনাল বাসও বলা হয়।
- সিস্টেম বাসকে ব্যবহারিক দিক থেকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। ডেটা বাস (Data Bus)
২। অ্যাড্রেস বাস (Address Bus)
৩। কন্ট্রোল বাস (Control Bus)

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে "Hadamard gate" (H) - এর প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. একটি কিউবিট রিসেট করা
  2. দুটি কিউবিটকে এনট্যাঙ্গল করা
  3. একটি কিউবিট পরিমাপ করা
  4. সুপারপজিশন তৈরি করা
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে Hadamard gate (H)-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো একটি কিউবিটকে সুপারপজিশন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, অর্থাৎ সঠিক উত্তর হলো ঘ) সুপারপজিশন তৈরি করা। সাধারণভাবে একটি কিউবিট যদি |0⟩ বা |1⟩ অবস্থায় থাকে, Hadamard gate প্রয়োগ করলে সেটি একই সঙ্গে |0⟩ এবং |1⟩ অবস্থার সমান সম্ভাবনাময় সংমিশ্রণে রূপান্তরিত হয়। এই সুপারপজিশন কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের ভিত্তি, কারণ এর মাধ্যমে একসাথে বহু সম্ভাব্য হিসাব করা যায়। Shor বা Grover-এর মতো অ্যালগরিদমে Hadamard gate গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটার:
- এটি এমন একটি কম্পিউটার যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের গুণাবলী (যেমন: সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গলমেন্ট) ব্যবহার করে জটিল গণনা করে।
- প্রচলিত ডিজিটাল কম্পিউটারের চেয়ে অনেক দ্রুত ও শক্তিশালী হতে পারে।
- রিচার্ড ফেইনম্যান প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ধারণা দেন।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে কিউবিট (Quantum Bit), যা একসাথে 0 এবং 1 হতে পারে – একে বলে Superposition।
- একটি কিউবিট একই সাথে অনেকগুলো সম্ভাব্য অবস্থায় থাকতে পারে। এটি একাধিক গাণিতিক সমস্যার সমাধান একই সাথে করতে সাহায্য করে।
- ডেভিড ডয়চ (১৯৮৫): কোয়ান্টাম লজিক গেটের ধারণা দেন।
- পিটার শোর (১৯৯৪): কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম উদ্ভাবন করেন যা বড় সংখ্যা অল্প সময়ে ভেঙে ফেলতে পারে।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ৩টি মূল পদ্ধতি:
- NMR (Nuclear Magnetic Resonance): নিউক্লিয়াস স্পিন ব্যবহার করে।
- Ion Trap: আয়নকে ট্র্যাপ করে এবং লেজার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- Quantum Dots: অতি ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী অঞ্চলে ইলেকট্রনের স্পিন ব্যবহৃত হয়।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটিং:
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গাণিতিক সমস্যাগুলির সমাধানে একটি বিপ্লবী ধারণা।
- এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোয়ান্টাম বিট (Qubit) একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে, এবং তার ফলে এটি নির্দিষ্ট কাজগুলো খুব দ্রুত এবং দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।

- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য যে অ্যালগরিদমগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সাধারণত ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের তুলনায় কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের মধ্যে একটি হল Shor’s Algorithm, যা বড় সংখ্যার গুণফল বের করা (Integer Factorization) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।

Shor's Algorithm:
- Shor's Algorithm কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি প্রধান অ্যালগরিদম যা বড় সংখ্যাকে দ্রুত গুণফলে বিভক্ত (factorization) করতে পারে।
- এটা বিন্যাসযোগ্য সংখ্যা গুণফল (large number factorization) বের করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর মাধ্যমে আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফি সিস্টেম যেমন RSA সিকিউরিটি ভেঙে ফেলতে পারে।
- Shor’s Algorithm একটি কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে গাণিতিক সমস্যাগুলি অনেক দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম, যেখানে সাধারণ কম্পিউটারে এসব সমস্যা সমাধান করতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগতে পারে।

- Grover's algorithm - কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যালগরিদমের আরেকটি উদাহরণ।

উৎস:
1) ব্রিটানিকা।
2) IBM [link]
3) sciencedirect [link]

১৪৮.
MFLOPS এককে নিম্নের কোন কম্পিউটারের প্রসেসরের গতি পরিমাপ করা হয়?
  1. মাইক্রোকম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. সুপার কম্পিউটার
  4. মিনি কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
- সাধারণত মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারের প্রসেসরের গতি পরিমাপ করা হয় MHz বা GHz এ।
- কিন্তু মিনি ও মেইনফ্রেম কম্পিউটারের প্রসেসরের গতি পরিমাপ করা হয় MIPS (Millions of Instructions per Second) বা BIPS (Billions of Instructions per Second) এ।
- আবার সুপার কম্পিউটারের প্রসেসরের গতি পরিমাপ করা হয় MFLOPS (Millions of Floating Point Operations per Second), GFLOPS (Giga of Floating Point Operations per Second), TFLOPS (Tera of Floating Point Operations per Second) ইত্যাদিতে।

সূত্রঃ মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৪৯.
PDP-8 হলো একটি
  1. ক) সুপার কম্পিউটার
  2. খ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. গ) পার্সোনার কম্পিউটার
  4. ঘ) মিনি কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
PDP-8 হলো ট্রানজিস্টর ভিত্তিক প্রথম মিনি কম্পিউটার। এটি ১২ বিটের। ১৯৬৫ সালে ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশন এই কম্পিউটারটি তৈরি করে। এটি ১৯৭৩ সালের দিকে সর্বাধিক বিক্রিত কম্পিউটারগুলোর একটি।
(সূত্র: PDP-8 ডটনেট)
১৫০.
Which type of computer processes continuously changing electrical signals?
  1. Digital Computer
  2. Hybrid Computer
  3. Mainframe Computer
  4. Analog Computer 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) Analog Computer 

• এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer)
- এনালগ কম্পিউটার ক্রম পরিবর্তনশীল বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ করে।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল সাধারণত প্রদশর্নের কাঁটা (Indicator) দিয়ে দেখানো হয় বা প্লটারের (Plotter) সাহায্যে কাগজে অঙ্কন করা হয়।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণে এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার হয়ে থাকে।

• গাণিতিক ভিত্তিতে কম্পিউটারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer),
২। ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer),
৩। হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)।

• ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো বাইনারী ডিজিট (০ এবং ১)।
- এ কম্পিউটারের যাবতীয় গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ বাইনারী ডিজিট এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল লিখিত আকারে দেয়া হয়।
- ইনপুট ও আউটপুট অংশ আমাদের বোধগম্যতার জন্য বর্ণ, অক্ষর ও অংক দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- এ কম্পিউটারের গতি বেশ দ্রুত ও নির্ভরশীলতা বেশি। উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য এতে বৃহৎ মেমোরি থাকে। আজকাল আমাদের ব্যবহৃত সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার।

• হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer):
- এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি হয় সংকর বা হাইব্রিড কম্পিউটার।
- অনেক বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানের জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

• বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- সুপার কম্পিউটারের তুলনায় ছোট, কিন্তু মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।
- অনেক ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র সংযুক্ত করা যায়।
- বৃহৎ মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ শক্তি।
- বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার আছে।
- উদাহরণ: IBM 4341, NCR N8370, IBM Amdah 1580, ইত্যাদি।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫১.
একটি অ্যানালগ কম্পিউটারে পটেনশিওমিটারের ভূমিকা কী?
  1. সিগন্যাল বৃদ্ধি করা
  2. বাইনারি ডেটা সংরক্ষণ করা
  3. ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যাল হিসেবে রূপান্তর করা
  4. ভোল্টেজ বা কারেন্ট সমন্বয় করে নির্দিষ্ট মান সেট করা
ব্যাখ্যা
• অ্যানালগ কম্পিউটারে পটেনশিওমিটার মূলত ভোল্টেজ বা কারেন্ট সমন্বয় করে নির্দিষ্ট মান সেট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্টর যা ব্যবহারকারীর ইচ্ছামতো প্রবাহমান কারেন্ট বা ভোল্টেজের মান নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পটেনশিওমিটার ঘুরিয়ে ভোল্টেজের আউটপুট পরিবর্তন করা যায়, যা কম্পিউটারের বিভিন্ন অপারেশনে নির্দিষ্ট মান ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, অ্যানালগ কম্পিউটারে পটেনশিওমিটার ভোল্টেজ বা কারেন্ট সমন্বয় করে নির্দিষ্ট মান সেট করার কাজে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো (ঘ)।

• অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer):
- যে সকল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে ইনপুট গ্রহণ করে প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদিত করে, সেসব কম্পিউটারকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটারে বর্ণ বা অংকের পরিবর্তে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বা অ্যানালগ বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের পর প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণত মিটার, ওসিলোসকোপ ইত্যাদিতে প্রদর্শিত হয়।

• অ্যানালগ কম্পিউটারের উদাহরণ:
 - মোটরগাড়ির স্পিডোমিটার,
- স্লাইড রুল,
- অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
কোন কম্পিউটার বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধানে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. ডিজিটাল কম্পিউটার
  2. এনালগ কম্পিউটার
  3. হাইব্রিড কম্পিউটার
  4. মাইক্রো কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
হাইব্রিড কম্পিউটার বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধানে বেশি ব্যবহৃত হয়।

• হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)
- এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি হয় সংকর বা হাইব্রিড কম্পিউটার।
- অনেক বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানের জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

• গাণিতিক ভিত্তিতে কম্পিউটারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer),
২। ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer),
৩। হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)।

• এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer)
- এনালগ কম্পিউটার ক্রম পরিবর্তনশীল বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ করে।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল সাধারণত প্রদশর্নের কাঁটা (Indicator) দিয়ে দেখানো হয় বা প্লটারের (Plotter) সাহায্যে কাগজে অঙ্কন করা হয়।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণে এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার হয়ে থাকে।

• ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো বাইনারী ডিজিট (০ এবং ১)।
- এ কম্পিউটারের যাবতীয় গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ বাইনারী ডিজিট এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল লিখিত আকারে দেয়া হয়।
- ইনপুট ও আউটপুট অংশ আমাদের বোধগম্যতার জন্য বর্ণ, অক্ষর ও অংক দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- এ কম্পিউটারের গতি বেশ দ্রুত ও নির্ভরশীলতা বেশি। উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য এতে বৃহৎ মেমোরি থাকে। আজকাল আমাদের ব্যবহৃত সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
এমবেডেড সিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. উচ্চ মেমরি ক্ষমতা
  2. রিয়েল-টাইম অপারেশন
  3. উচ্চগতির গ্রাফিক্স প্রসেসিং
  4. পিসির মতো মাল্টিটাস্ক করার সক্ষমতা
ব্যাখ্যা

• এমবেডেড সিস্টেমের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো রিয়েল-টাইম অপারেশন। এমবেডেড সিস্টেম সাধারণত নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিজাইন করা হয় এবং এটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম হতে হয়। 

• এমবেডেড কম্পিউটার:
এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম (ROM) নিয়ে গঠিত। আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার করা হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:
- গাড়ি,
- সেলফোন ও স্মার্টফোন,
- প্রিন্টার,
- মাইক্রোওয়েভ,
- ওয়াশিং মেশিন,
- এয়ার কন্ডিশন(এসি),
- ঘড়ি,
- থার্মোস্ট্যাট,
- ভিডিও গেমস্,
- ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং,
- ATM,
- সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি।

উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
কাজের ধরন ও ব্যবহারের প্রয়োগক্ষেত্র অনুসারে কম্পিউটারকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
• কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:
- কাজের ধরন ও ব্যবহারের প্রয়োগক্ষেত্র অনুসারে কম্পিউটারকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। সাধারণ ব্যবহারের কম্পিউটার (Genereal Purpose Computer) ও
২। বিশেষ ব্যবহারের কম্পিউটার (Special Purpose Computer)।

উৎস: মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৫.
কোন উপাদানটি সাধারণত একটি IoT সিস্টেমের অংশ নয়?
  1. মাইক্রোকন্ট্রোলার
  2. অ্যাকচুয়েটর
  3. টাইপরাইটার
  4. সেন্সর
ব্যাখ্যা

• একটি IoT (ইন্টারনেট অফ থিংস) সিস্টেম সাধারণত এমন ডিভাইস নিয়ে তৈরি যা তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে। এতে মাইক্রোকন্ট্রোলার থাকে যা ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেন্সর থাকে যা পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, এবং অ্যাকচুয়েটর থাকে যা কোন কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে বাস্তব জগতে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে টাইপরাইটার একটি ঐতিহাসিক লেখার যন্ত্র, যা তথ্য সংগ্রহ বা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযোগের কাজ করে না। সুতরাং, IoT সিস্টেমের অংশ হিসেবে এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয় না। তাই, অপশন গুলোর মধ্যে টাইপরাইটার সাধারণ IoT উপাদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইন্টারনেট অফ থিংস (Internal of things - IOT):
- ইন্টারনেট অফ থিংস (IOT) হলো পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এমন একটি সনাক্তকারী কম্পিউটিং ডিভাইস, যা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের বা মানুষের সাথে কম্পিউটারের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে সাহায্য করে।
- একাধিক প্রযুক্তি যেমন মেশিন লার্নিং, কমোডিটি সেন্সর, এমবেডেড সিস্টেম এবং রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিকস, একত্রিত করার কারণে ইন্টারনেট অফ থিংস বাস্তবায়িত হয়েছে।

IoT ডিভাইসের বৈশিষ্ট্য:
- কম শক্তি ব্যবহার করে কাজ করে, 
- ছোট আকারের কম্পিউটার চিপ ব্যবহার করে, 
- নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়, 
- সেন্সর, একচুয়েটর এবং ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

উৎস:
১। Computer Applications in Business, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। আইবিএম ওয়েবসাইট। 

১৫৬.
টেবুলেটিং মেশিন কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. মুদ্রণ কাজ করা
  2. তথ্য সংরক্ষণ ও গণনা
  3. লেকট্রনিক মেইল প্রেরণ
  4. ডিজিটাল ছবি গ্রহণ
ব্যাখ্যা

টেবুলেটিং মেশিন তথ্য সংরক্ষণ ও গণনার কাজে ব্যবহৃত হয়। 

• সেন্সাস বা টেবুলেটিং মেশিন (Tabulating Machine):
- ১৮৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড. হারম্যান হলিরিখ (Dr. Herman Hollerith) নামের একজন পরিসংখ্যানবিদ সেন্সাস মেশিন বা টেবুলেটিং মেশিন নামে একটি গণনা যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রে তিনি পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করে ১৮৯০ সালের শুমারি মাত্র তিন বছরে শেষ করেন। সেন্সাস মেশিন ব্যবহার করে অনেক দিন পর্যন্ত ডেটা সংরক্ষণ করা যেত।
- ড. হলিরিথ ১৮৯৬ সালে 'টেবুলেটিং মেশিন কোম্পানি' নাম দিয়ে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেন।
- পরবর্তীতে তাঁর কোম্পানি আরো কয়েকটা কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হয়ে IBM (International
Business Machine) কোম্পানি গঠন করে।
- টেবুলেটিং মেশিন উদ্ভাবিত হওয়ার পর হতেই ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল টেকনিক ব্যবহার করে কম্পিউটার তৈরির যুগ শুরু হয়।

উৎসঃ মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

১৫৭.
সুপার কম্পিউটারের চেয়ে মেইনফ্রেম কম্পিউটার-
  1. ক) দ্রুতগতিসম্পন্ন
  2. খ) আকৃতিতে বড়
  3. গ) আকৃতিতে ছোট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- মাইক্রো ও মিনি কম্পিউটার অপেক্ষা মেইনফ্রেম কম্পিউটার আকৃতিতে বড় কিন্তু সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যার সঙ্গে অনেক ছোট ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে এক বা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রসেসর থাকে বিধায় অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন, তথ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি।
- এ ধরনের কম্পিউটারে অনেক বড় বড় এবং জটিল ও সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে।
- UNIVAC 1100, NCR 8000, IBM 4300 ইত্যাদি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৮.
নোটবুক কম্পিউটার এক ধরনের -
  1. মিনি কম্পিউটার
  2. সুপার কম্পিউটার
  3. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  4. মাইক্রো কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• নোটবুক কম্পিউটার এক ধরনের মাইক্রো কম্পিউটার।

• মাইক্রো কম্পিউটার:
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে আকারে ছোট এবং সস্তা কম্পিউটার হলো মাইক্রোকম্পিউটার।
- মাইক্রোর সাধারণ অর্থ হলো ক্ষুদ্র। তাই ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে সব কম্পিউটার তৈরি হয়, সেগুলোকে বলা হয় মাইক্রোকম্পিউটার।
- এ ধরনের কম্পিউটার সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর, প্রধান মেমোরি, সহায়ক মেমোরি এবং ইনপুট-আউটপুট হার্ডওয়্যার নিয়ে গঠিত।
- একজন ব্যবহারকারী একাই একটি মাইক্রোকম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন বলে এ ধরনের কম্পিউটারকে ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল কম্পিউটারও বলা হয়।
-দামে সস্তা, আকারে ছোট, সহজে বহনযোগ্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হওয়ায় কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। 
- IBM PC, Apple Macintosh, TRS80, HP 85, IBM Pentium, Power PC ইত্যাদি মাইক্রোকম্পিউটারের উদাহরণ।

• মাইক্রো কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:
- ১. পামটপ কম্পিউটার,
- ২. ল্যাপটপ কম্পিউটার,
- ৩. নোটবুক কম্পিউটার,
- ৪. ডেস্কটপ কম্পিউটার

উৎসঃ মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

১৫৯.
সুপারকম্পিউটার প্রধানত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. অফিসের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি 
  2. গেম খেলা
  3. ভিডিও এডিটিং
  4. আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বৈজ্ঞানিক সিমুলেশন
ব্যাখ্যা

• সুপারকম্পিউটার হলো অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটার, যা জটিল ও বিশাল ডেটা দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। এগুলো সাধারণ কাজ যেমন অফিসের উৎপাদনশীলতা, গেম খেলা বা ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় না, কারণ এই ধরনের কাজ সাধারণ কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন দিয়েই সহজে সম্পন্ন করা যায়। সুপারকম্পিউটারের মূল ব্যবহার হলো আবহাওয়া পূর্বাভাস, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সিমুলেশন, যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের মডেল তৈরি, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা কিংবা জটিল চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশ্লেষণ। এতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়, যা বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটারে একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।
- এই ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমরি এবং উচ্চ ক্ষমতার প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা থাকে।
- সুপার কম্পিউটারে একাধিক প্রসেসর একযোগভাবে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক এবং প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সুপার কম্পিউটারগুলি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পরমাণু চুল্লির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ হিসেবে রয়েছে ইন্টেল কর্পোরেশনের প্যারাগন, জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানির Super SX II, CRAY-I, CRAY-XMP, CYBER 205, ETA-D2P ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
পামটপ কম্পিউটার বা পিডিএ (PDA) এর পূর্নরূপ কী?
  1. Personal Digital Assistant
  2. Programmable Data Analyzer
  3. Pushdown Automaton
  4. Portable Data Analyzer
ব্যাখ্যা

◉ পামটপ কম্পিউটার বা পিডিএ (PDA) হলো একটি ছোট এবং বহনযোগ্য ডিভাইস, যা মূলত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং কম্পিউটিং কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।
পিডিএ-এর পূর্ণরূপ হলো পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (Personal Digital Assistant)।

পামটপ কম্পিউটার বা পিডিএ:
- PDA এর পুরোনাম হলো Personal Digital Assistant.
- ১৯৯৩ সালে ইলেকট্রনিক নির্মাতারা পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিটেন্ট তৈরি করেন।
- পিডিএ এর প্রাথমিক ভার্সন ছিল অ্যাপলের 'নিউটন'।
- এ ধরনের কম্পিউটার ক্ষুদ্রাকৃতির এবং দেখতে অনেকটা ক্যালকুলেটরের ন্যায়, এটি হেল্ড বা পকেট কম্পিউটার নামেও পরিচিত।
- সাধারণত টাচ স্ক্রিন ও ডিজিটাল পেনের সাহায্যে এ জাতীয় কম্পিউটারগুলো নিয়ন্ত্রন করা হয়।
- স্প্রেডশিটের ছোট আকারের কাজ, লেখালেখি, প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বর, তারিখ, এজেন্ডা তৈরি করে রাখা ইত্যাদি কাজে এ ধরনের কম্পিউটারগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১.
তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে একটি গাণিতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কত সময় লাগতো?
  1. ১০০ ন্যানো সেকেন্ড
  2. ৫ ন্যানো সেকেন্ড
  3. ১০০০ ন্যানো সেকেন্ড
  4. ১ ন্যানো সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• কম্পিউটারের তৃতীয় প্রজন্ম:
- তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাপ্তিকাল ১৯৬৫ হতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত।
- ১৯৫৮ সালে Robert Noyce এবং Jack Kilby, IC (Integrated Circuit) আবিষ্কার করে ইলেকট্রনিক জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন।
- তৃতীয় প্রজনোর কম্পিউটারগুলো IC ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কম্পিউটারের আকার আরো ছোট হয়ে আসে, দাম কমে যায়, বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়, কাজের গতি ও নির্ভরশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায়। একই সাথে কম্পিউটারের মেমরিব্যবস্থারও উন্নতি ঘটে।
- দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকেই কম্পিউটারের সাথে ভিডিও ডিসপ্লে ইউনিট (যেমন-মনিটর), উচ্চগতির লাইন প্রিন্টারসহ অন্যান্য পেরিফেরাস ডিভাইসের ব্যবহার শুরু হয়।
- এ প্রজন্মে কম্পিউটারে একটি গাণিতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৫ ন্যানো সেকেন্ড সময় লাগত।
- IBM 360, 370, PDP 8, PDP II ইত্যাদি তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার। 

উৎস: মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
নিচের কোনটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার?
  1. UNIVAC 1100
  2. CYBER-205
  3. IBM S/34
  4. Apple Macintoch
ব্যাখ্যা

UNIVAC 1100 মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ।

• মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- মাইক্রো ও মিনি কম্পিউটার অপেক্ষা মেইনফ্রেম কম্পিউটার আকৃতিতে বড় কিন্তু সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যার সঙ্গে অনেক ছোট ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে এক বা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রসেসর থাকে বিধায় অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন, তথ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি।
- এ ধরনের কম্পিউটারে অনেক বড় বড় এবং জটিল ও সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে।
- UNIVAC 1100, NCR 8000, IBM 4300 ইত্যাদি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
CYBER 205 - সুপার কম্পিউটার,
IBM S/34 - মিনি কম্পিউটার,
Apple Macintoch - মাইক্রোকম্পিউটার।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
মাইক্রো কম্পিউটারের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. ল্যাপটপ কম্পিউটার
  2. ট্যাবলেট পিসি
  3. মিনি কম্পিউটার
  4. ডেস্কটপ কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
- মাইক্রো কম্পিউটারের অন্তর্গত নয়- মিনি কম্পিউটার। 

মাইক্রো কম্পিউটার: 
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে আকারে ছোট এবং সস্তা কম্পিউটার হচ্ছে মাইক্রোকম্পিউটার। 
- মাইক্রো এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র। 
- ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে সকল কম্পিউটার গঠিত হয় সেসব কম্পিউটারকে বলা হয় মাইক্রোকম্পিউটার । 

মাইক্রো কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ: 
১। পামটপ কম্পিউটার (Palmtop Computer) বা পিডিএ (PDA), 
২। ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer), 
৩। নোটবুক কম্পিউটার (Notebook Computer) এবং 
৪। ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer) ইত্যাদি। 
- এছাড়া ট্যাবলেট পিসি (Tablet PC), ফ্যাবলেট (Phablet), স্মার্টফোন (Smartphone) ইত্যাদিও মাইক্রোকম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত।

মিনি কম্পিউটার: 
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট আকারের কিন্তু পার্সোনাল কম্পিউটারের চেয়ে বড় আকারের কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বা মধ্যম সারির কম্পিউটার বা মিডরেঞ্জ কম্পিউটার বলা হয় ৷ 
- মেইনফ্রেম এবং মিনি কম্পিউটারে একই ধরনের কাজ করা যায়। 
- মিনি কম্পিউটার আকারে ছোট এবং কাজের ক্ষমতাও কম। 

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
কোনটি মিডরেঞ্জ কম্পিউটার?
  1. ক) মিনি কম্পিউটার
  2. খ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. গ) সুপার কম্পিউটার
  4. ঘ) মাইক্রো কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
মিনি কম্পিউটার:
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট আকারের কিন্তু পার্সোনাল কম্পিউটারের চেয়ে বড় আকারের কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বা মধ্যম সারির কম্পিউটার বা মিডরেঞ্জ কম্পিউটার বলা হয়।

মেইনফ্রেম কম্পিউটার,
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যার সঙ্গে অনেক ছোট ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।

সুপার কম্পিউটার,
- এই ধরনের কম্পিউটার আকার ও আকৃতিতে বেশ বড় এবং একই সংগে অসংখ্য কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে।

মাইক্রো কম্পিউটার,
- মাইক্রো (micro) শব্দটির অর্থ হল ক্ষুদ্র। মূলত মাইক্রো কম্পিউটার বলতে কম্পিউটারের ছোট বা ক্ষুদ্রাকৃতির কম্পিউটারগুলোকেই বোঝায়।
- এই কম্পিউটারগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রো প্রসেসর চিপ দিয়ে তৈরি বলে একে মাইক্রো কম্পিউটার বলা হয়।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৫.
CYBER-205 ও Super SX II কোন ধরণের কম্পিউটার?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. বিশেষ কম্পিউটার
  3. মাইক্রো কম্পিউটার
  4. পার্সোনাল কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
• সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমরি এবং বিপুল পরিমাণ প্রক্রিয়াকরণ কাজের ক্ষমতা থাকে।
- এ ধরনের কম্পিউটারগুলোতে কয়েকটি প্রসেসর একই সঙ্গে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পারমাণবিক চুল্লির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে কম্পিউটার কাউন্সিলে একটি সুপার কম্পিউটার আছে।
- ইন্টেল কর্পোরেশনের প্যারাগন, জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানির Super SX II, CRAY-I, CRAY-XMP, CYBER-205, ETA-D2P ইত্যাদি সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা,  এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
এমবেডেড কম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটার থেকে কী কারণে ভিন্ন?
  1. নির্দিষ্ট কাজের জন্য ডিজাইন করা
  2. ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে না
  3. আকারে বড় ও ব্যয়বহুল 
  4. অপারেটিং সিস্টেম নেই
ব্যাখ্যা

• এমবেডেড কম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটার থেকে প্রধানত নির্দিষ্ট কাজের জন্য ডিজাইন করা। এটি কোনো সাধারণ উদ্দেশ্যের কম্পিউটারের মতো বহুমুখী কাজ করতে পারে না, বরং বিশেষ কোনো যন্ত্র বা সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ এবং কাজ পরিচালনার জন্য তৈরি। উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, washing machine বা কারের এয়ারব্যাগ নিয়ন্ত্রণে এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহার হয়। এগুলো ছোট, কম শক্তি ব্যবহার করে এবং প্রায়ই কোনো পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কাজ করে। এমবেডেড কম্পিউটার আকারে ছোট এবং ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম। তাই এটি সাধারণ কম্পিউটারের মতো সব কাজ করতে না পারলেও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অত্যন্ত দক্ষ।

- উত্তর: ক) নির্দিষ্ট কাজের জন্য ডিজাইন করা।
 
এমবেডেড কম্পিউটার:
- এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা একটি বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশবিশেষ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হলো মাইক্রোপ্রসেসর, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত মেমরি বা রম এবং ইনপুট/আউটপুট সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার কম্পিউটার।
- এমবেডেড সিস্টেমে সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম থাকে।
- আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রো কন্ট্রোলার এর ব্যবহার হয়।
- এতে মনিটর কিংবা অন্যান্য হার্ডওয়্যার থাকে না।
- সেল ফোন, এসি, প্রিন্টার, থার্মোস্ট্যাট, ভিডিও গেমস্, ATM, ওয়াশিং মেশিন, স্মার্ট ওয়াচ প্রভৃতিতে এমবেডেড সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
- এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহৃত জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ হচ্ছে— C, C++, Python, Java, Assembly. 

উৎস: 
১। Indian Institute of Embedded Systems. 
২। Maven Silicon ওয়েবসাইট। 

১৬৭.
EDVAC stands for ______.
  1. ক) Electronic Discrete Variable Automated Calculator
  2. খ) Electronic Discrete Variable Automatic Computer
  3. গ) Electronic Data Variable Automatic Calculator
  4. ঘ) Electronic Data Variable Automatic Computer
ব্যাখ্যা
EDVAC - Electronic Discrete Variable Automatic Computer.
Source: Britannica
১৬৮.
What is the basis of a digital computer?
  1. Decimal numbers
  2. Binary digits
  3. Analog signals
  4. Hexadecimal numbers
ব্যাখ্যা
Binary digits is the basis of a digital computer.

• ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো বাইনারী ডিজিট (০ এবং ১)।
- এ কম্পিউটারের যাবতীয় গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ বাইনারী ডিজিট এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল লিখিত আকারে দেয়া হয়।
- ইনপুট ও আউটপুট অংশ আমাদের বোধগম্যতার জন্য বর্ণ, অক্ষর ও অংক দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- এ কম্পিউটারের গতি বেশ দ্রুত ও নির্ভরশীলতা বেশি। উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য এতে বৃহৎ মেমোরি থাকে।
- আজকাল আমাদের ব্যবহৃত সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
মাইক্রো কম্পিউটাররের অপর নাম-
  1. স্মার্টফোন
  2. পার্সোনাল কম্পিউটার
  3. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  4. সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
মাইক্রো কম্পিউটাররের অপর নাম পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) বা পিসি (PC)।

আকার ও ক্ষমতা বিচারে কম্পিউটারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer),
২। বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer),
৩। ছোট কম্পিউটার (Mini Computer),
81 ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer).

• অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer):
- পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার।
- বিশাল মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা রয়েছে।
- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অনেক যন্ত্রাংশ থাকার কারণে মূল্য অনেক বেশি।
- যে সকল ক্ষেত্রে খুব জটিল ও সুক্ষ গাণিতিক হিসাব প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রশাসনিক কাজ-কর্ম এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: CRAY-1, CYBER 205 ইত্যাদি।

• বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- সুপার কম্পিউটারের তুলনায় ছোট, কিন্তু মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।
- অনেক ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র সংযুক্ত করা যায়।
- বৃহৎ মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ শক্তি।
- বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার আছে।
- উদাহরণ: IBM 4341, NCR N8370, IBM Amdah 1580 ইত্যাদি।

• ছোট কম্পিউটার (Mini Computer):
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের তুলনায় আকারে ছোট এবং কম ক্ষমতাসম্পন্ন।
- সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত।
- উদাহরণ: NOVA 3. PDP 11, IBM-AS/400 ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer):
- আকার, ক্ষমতা ও মূল্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে ছোট।
- একীভূত বর্তনীর মাধ্যমে তৈরি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়।
- স্মৃতি এবং ইনপুট-আউটপুট সংযোগ করে পিসি (Personal Computer) তৈরি হয়।
- অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত ব্যবহার ও চিত্তবিনোদনে এই কম্পিউটারের প্রচলন দিন দিন বেড়ে চলেছে।
- উদাহরণ: IBM 486. IBM Pentium ইত্যাদি।

ক্ষুদ্র বা মাইক্রো কম্পিউটারের জগতে সর্বাধুনিক সংযোজন হচ্ছে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ কম্পিউটার, নোটবুক কম্পিউটার।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং মহাকাশ গবেষণার কাজে কোন কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়?
  1. মাইক্রোকম্পিউটার
  2. মিনি কম্পিউটার
  3. সুপার কম্পিউটার
  4. মেইনফ্রেম কম্পিউটার 
ব্যাখ্যা
• আকার, আয়তন, কাজ করার ক্ষমতা, স্মৃতি ও কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে বা ডিজিটাল কম্পিউটারকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা -
১. সুপার কম্পিউটার 
২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার 
৩. মিনি কম্পিউটার
৪. মাইক্রোকম্পিউটার

• সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারগুলোতে কয়েকটি প্রসেসর একই সঙ্গে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পারমাণবিক চুল্লির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে কম্পিউটার কাউন্সিলে একটি সুপার কম্পিউটার আছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
কোনটি এমবেডেড সিস্টেমের উদাহরণ?
  1. গেমিং ল্যাপটপ
  2. ওয়েব সার্ভার
  3. ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার
  4. ডেস্কটপ কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

•এমবেডেড সিস্টেম হলো একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পন্ন কম্পিউটার সিস্টেম যা নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়। এটি সাধারণত বড় কম্পিউটার বা সার্ভারের মতো বহুমুখী নয়, বরং নির্দিষ্ট ফাংশন সম্পাদনে সীমাবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, একটি ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার এমবেডেড সিস্টেমের নিখুঁত উদাহরণ। এটি শুধুমাত্র ওয়াশিং মেশিনের প্রোগ্রামিং এবং নিয়ন্ত্রণের কাজ করে, যেমন জল ভর্তি, ঘূর্ণন, ধোয়া ও পানি নিষ্কাশন। অন্যদিকে, গেমিং ল্যাপটপ, ওয়েব সার্ভার বা ডেস্কটপ কম্পিউটার সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পন্ন কম্পিউটার যা বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম, তাই এগুলো এমবেডেড সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং, গ) ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার হলো এমবেডেড সিস্টেমের উদাহরণ।

• এমবেডেড কম্পিউটার:
এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম (ROM) নিয়ে গঠিত। আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার করা হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:
- গাড়ি,
- সেলফোন ও স্মার্টফোন,
- প্রিন্টার,
- মাইক্রোওয়েভ,
- ওয়াশিং মেশিন,
- এয়ার কন্ডিশন(এসি),
- ঘড়ি,
- থার্মোস্ট্যাট,
- ভিডিও গেমস্,
- ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং,
- ATM,
- সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭২.
নিচের কোনটি সিস্টেম বাসের প্রকারভেদ নয়?
  1. কন্ট্রোল বাস
  2. অ্যাড্রেস বাস
  3. পাওয়ার বাস
  4. ডেটা বাস
ব্যাখ্যা
• সিস্টেম বাস:
- যে সমস্ত বাস মাদারবোর্ড ও সিপিইউ বা মাইক্রোপ্রসেসরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থেকে মেমরি, ইনপুট-আউটপুটসহ অন্যান্য ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তথ্য আদান-প্রদান করে তাদেরকে সিস্টেম বাস বলে।
- সিস্টেম বাসকে ইন্টারনাল বাসও বলা হয়।
- সিস্টেম বাসকে ব্যবহারিক দিক থেকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা -
১. ডেটা বাস,
২. অ্যাড্রেস বাস এবং
৩. কন্ট্রোল বাস।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৩.
PDA বলতে কী বোঝায়?
  1. Personal Digital Assistant
  2. Portable Data Analyzer
  3. Public Digital Access
  4. Programmed Device Architecture
ব্যাখ্যা

◉ PDA (Personal Digital Assistant) হল একটি হ্যান্ডহেল্ড ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা ১৯৯০-২০০০ দশকে ব্যক্তিগত ও পেশাদার কাজের জন্য ব্যবহৃত হতো। 

মাইক্রো কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:
মানুষের ব্যবহারিক সুবিধার প্রতি লক্ষ রেখে বিভিন্ন আকৃতির মাইক্রোকম্পিউটার বাজারে এসেছে। যেমন-

১। পামটপ কম্পিউটার (Palmtop Computer) বা পিডিএ (PDA).
২। ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer).
৩। নোটবুক কম্পিউটার (Notebook Computer).
৪। ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer); ইত্যাদি।
এছাড়া ট্যাবলেট পিসি (Tablet PC), ফ্যাবলেট (Phablet), স্মার্টফোন (Smartphone) ইত্যাদিও মাইক্রোকম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত।

PDA:
- PDA-এর পূর্ণরূপ Personal Digital Assistant.
- ১৯৯৩ সালে ইলেকট্রনিক নির্মাতারা পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্টেন্ট তৈরি করেন।
- পিডিএ এর প্রাথমিক ভার্সন ছিল অ্যাপলের নিউটন।
- এ ধরনের কম্পিউটার ক্ষুদ্রাকৃতির এবং দেখতে অনেকটা ক্যালকুলেটরের ন্যায়, যা হাতের তালুর মধ্যে রেখে ব্যবহার করা যায়, এমনকি পকেটে রেখে সহজে বহন করা যায় ।
- PDA হেল্ড বা পকেট কম্পিউটার নামেও পরিচিত।

উৎস:
১) মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি নবম দশম শ্রেণি (ভোকেশনাল); মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

১৭৪.
নিচের কোনটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ?
  1. ENIAC
  2. Raspberry Pi
  3. Dell Inspiron
  4. IBM 4300
ব্যাখ্যা

• IBM 4300 হলো মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ।

• মেইনফ্রেম কম্পিউটার:
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার এমন একটি কম্পিউটার, যার সঙ্গে অনেকগুলো ছোট কম্পিউটার সংযুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারীর কাজ করা যায়। এ ধরনের কম্পিউটারে এক বা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রসেসর থাকে, ফলে এটি খুব দ্রুত এবং তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা অনেক বেশি।
- মাইক্রো এবং মিনি কম্পিউটারের তুলনায় মেইনফ্রেম কম্পিউটার আকারে বড়, কিন্তু সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট।
- উন্নয়ন ব্যুরো, ব্যাংক, বিমা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রচুর তথ্য আদান-প্রদান, সংরক্ষণ এবং জটিল ও সূক্ষ্ম তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণ, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের জন্য মেইনফ্রেম কম্পিউটারের প্রয়োজন হয়।
- UNIVAC 1100, NCR 8000, IBM 4300 ইত্যাদি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ।
- IBM-এর তৈরি 213 বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী মেইনফ্রেম কম্পিউটার। এটি প্রতিদিন ২৫০ শতাংশ তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

উৎসঃ মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

১৭৫.
তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অপারেটিং সিস্টেম ব্যবস্থার উন্নয়ন
  2. সহজে স্থানান্তরযোগ্য
  3. RAM, ROM এর ব্যবহার শুরু
  4. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয় চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারে।

• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার:
- তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাপ্তিকাল ১৯৬৫ হতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত।
- IBM 360, 370, PDP 8, PDP II ইত্যাদি তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার।
- এ প্রজন্মে কম্পিউটারে একটি গাণিতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৫ ন্যানো সেকেন্ড সময় লাগত।
- ১৯৫৮ সালে রবার্ট নইসি এবং জ্যাক কিলবি IC (Integrated Circuit) আবিষ্কার করেন।

• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
- IC এর ব্যবহার।
- অর্ধপরিবাহী স্মৃতির উদ্ভব ও বিকাশ (RAM, ROM এর ব্যবহার শুরু)।
- আকৃতি ছোট, কম দাম এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি।
- মুদ্রণের জন্য লাইন প্রিন্টারের ব্যবহার।
- আউটপুট হিসেবে মনিটরের ব্যবহার।
- অপারেটিং সিস্টেম ব্যবস্থার উন্নয়ন।
- সহজে স্থানান্তরযোগ্য।
- রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম, মাল্টিপ্রোগ্রামিং পদ্ধতি, টাইম শেয়ারিং, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার।
- যান্ত্রিক গোলযোগ কম বলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম ইত্যাদি।
- উচ্চতর ভাষার ব্যাপক ব্যবহার।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্রি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
'PDP-11' কোন ধরনের কম্পিউটার?
  1. ক) সুপার কম্পিউটার
  2. খ) মিনি কম্পিউটার
  3. গ) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  4. ঘ) মাইক্রো কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
মিনি কম্পিউটার
- সাধারণত মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট আকারের কিন্তু মাইক্রোকম্পিউটারের চেয়ে কিছুটা বড় আকারের কম্পিউটারকে বলা হয় মিনি কম্পিউটার। 
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে মিনি কম্পিউটারের কাজের ক্ষমতা ও কাজের গতি অপেক্ষাকৃত কম।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার ও মিনি কম্পিউটারের মধ্যে কাজের ধরন ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই।
- এ ধরনের কম্পিউটারের গতি, মেমরি এবং কাজ করার ক্ষমতা মাইক্রোকম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি। 
- উদাহরণ: IBM S/34, IBM S/36, PDP-11, NCR S/9290 ইত্যাদি।

সূত্র: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
এমবেডেড কম্পিউটার প্রথম কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ২য় বিশ্বযুদ্ধে
  2. খ) মঙ্গল গ্রহ অভিযানে
  3. গ) অন্তঃসাগরীয় অভিযানে
  4. ঘ) চন্দ্র অভিযানে
ব্যাখ্যা

এমবেডেড কম্পিউটার ১ম ব্যবহৃত হয় এপোলো-৭ ও এপোলো ১১ এর লুনার মডিউলে।

The Apollo Guidance Computer (AGC) is a digital computer produced for the Apollo program that was installed on board each Apollo command module (CM) and Apollo Lunar Module (LM). The AGC provided computation and electronic interfaces for guidance, navigation, and control of the spacecraft.

- NASA.gov

১৭৮.
সুপার কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অতি উচ্চ গতি ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা
  2. বিশাল মেমরি ও স্টোরেজ ক্ষমতা
  3. মহাকাশ গবেষণা, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার
  4. সহজে বহনযোগ্য ও সাশ্রয়ী
ব্যাখ্যা

সুপার কম্পিউটার আকারে অনেক বড় ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

সুপার কম্পিউটার (Super Computer):
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমোরি এবং বিপুল পরিমাণ প্রক্রিয়াকরণ কাজের ক্ষমতা থাকে।
- আবার এ ধরনের কম্পিউটারগুলোতে কয়েকটি প্রসেসর একই সঙ্গে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পারমাণবিক চুল্লির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
- ইন্টেল কর্পোরেশনের প্যারাগন, জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানির Super SX II, CRAY-I, CRAY - XMP, CYBER 205, ETA-D2P ইত্যাদি সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ।
- যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত সামিট (Summit) অন্যতম একটি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার। এই কম্পিউটারে ৯,২১৬টি ২২ কোরের IBM মাইক্রোপ্রসেসর আছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

১৭৯.
ENIAC-কে কীভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছিল?
  1. কেবল পাঞ্চ কার্ড দিয়ে
  2. আধুনিক কম্পিউটারের মতো সঞ্চিত প্রোগ্রাম ব্যবহার করে
  3. ম্যানুয়ালি তার বদলানো ও সুইচ ঘোরানোর মাধ্যমে
  4. ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Computer) প্রোগ্রাম করার পদ্ধতি আধুনিক কম্পিউটারের মতো ছিল না। এটি মূলত একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যেখানে প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সরাসরি যন্ত্রটির সার্কিট পরিবর্তন করতে হতো। অর্থাৎ, প্রতিটি গণনার জন্য তার অবস্থান, রাউটিং এবং লজিকাল অপারেশন ম্যানুয়ালি সুইচ ও তার বদলানোর মাধ্যমে সেট করা হতো। পাঞ্চ কার্ড বা ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করা হতো না। এটি সঞ্চিত প্রোগ্রামের ধারণা অনুসরণ করত না, বরং প্রতিটি নতুন কাজের জন্য তার ভেতরের তার, রিলে ও সুইচ পুনরায় সংযোগ করতে হতো। তাই ENIAC-কে প্রোগ্রাম করা হতো ম্যানুয়ালি তার বদলানো ও সুইচ ঘোরানোর মাধ্যমে।

• ENIAC:
- ENIAC-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic Numerical Integrator And Computer
- ১৯৪৬ সালে ড. জন মউসলি এবং তার ছাত্র প্রেসপার একার্ট যৌথভাবে ENIAC (Electronic Numerical Integrator And Calculator) নামক কম্পিউটারটি তৈরি করেছিলেন।
- ENIAC ছিল প্রথম প্রজন্মের ডিজিটাল কম্পিউটার।
- ENIAC কম্পিউটারের প্রোগ্রামের জন্য তারযুক্ত প্লাগবোর্ড ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত হয়-
  1. হাইব্রিড কম্পিউটার
  2. সংকর কম্পিউটার
  3. কোয়ান্টাম কম্পিউটার
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
♦ হাইব্রিড কম্পিউটার:
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে।
- হাইব্রিড কম্পিউটারকে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি হওয়ায় কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন - মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্রি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
নিচের কোনটি হাইব্রিড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের উদাহরণ?
  1. ক্যালকুলেটর
  2. স্মার্টফোন
  3. আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
  4. ডিজিটাল ঘড়ি
ব্যাখ্যা

• হাইব্রিড কম্পিউটার হলো এমন একটি কম্পিউটার যা ডিজিটাল এবং অ্যানালগ দু’ ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। এটি এমন কাজের জন্য ব্যবহার হয় যেখানে সংবেদনশীল এবং পরিমাণগত (analog) ডেটা সঙ্গে জটিল হিসাব (digital) একসাথে প্রয়োজন। প্রশ্নে দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে, ক্যালকুলেটর, স্মার্টফোন, এবং ডিজিটাল ঘড়ি মূলত ডিজিটাল কম্পিউটার, কারণ এগুলো শুধুমাত্র সংখ্যাগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। তবে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একটি হাইব্রিড কম্পিউটারের উদাহরণ, কারণ এটি তাপমাত্রা, চাপ, বাতাসের গতি ইত্যাদির মতো অ্যানালগ সিগন্যাল সংগ্রহ করে, এবং তারপর সেই তথ্যকে ডিজিটাল আকারে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করে। তাই আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা হাইব্রিড কম্পিউটারের সঠিক উদাহরণ।

​• হাইব্রিড কম্পিউটার:
- এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার তৈরি হয়, তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে।
- এটি এমন একটি সিস্টেম যা অ্যানালগ কম্পিউটার (যেমন সিগন্যাল প্রসেসিং, অবিচ্ছিন্ন ডেটা প্রক্রিয়াকরণ) এবং ডিজিটাল কম্পিউটার (যেমন লজিক্যাল অপারেশন, ডেটা স্টোরেজ)-এর সক্ষমতাকে একত্রিত করে।
- এটি বিশেষভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইঞ্জিনিয়ারিং সিমুলেশন এবং রিয়েল-টাইম কন্ট্রোল সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।
- একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।

• হাইব্রিড কম্পিউটারের ব্যবহারসমূহ:
১। মিসাইল, সমরাস্ত্র ক্ষেত্রে।
২। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান তৈরিতে।
৩। রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
৪। হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃত্যন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
নিচের কোনটি সিঙ্গেল ইউজার কম্পিউটার?
  1. মিনি কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. ওয়ার্কস্টেশন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

পার্সোনাল কম্পিউটার (PC): সিঙ্গেল ইউজার কম্পিউটার যার মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা মধ্যমানের।

ওয়ার্কস্টেশন: এটিও সিঙ্গেল ইউজার কম্পিউটার তবে এর মাইক্রোপ্রসেসর পার্সোনাল কম্পিউটারের তুলনায় শক্তিশালী।

মিনি কম্পিউটার: এটি একটি মাল্টি ইউজার কম্পিউটার সিস্টেম যা শত শত ইউজার সাপোর্ট করতে পারে।

মেইনফ্রেম কম্পিউটার: এটিও মাল্টি ইউজার কম্পিউটার তবে এর সফটওয়্যার টেকনোলজি মিনি কম্পিউটার থেকে ভিন্ন।

সুপার কম্পিউটার: বর্তমান বিশ্বে সবথেকে শক্তিশালী কম্পিউটার যা অনেকগুলো মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে তৈরি এবং একসাথে লক্ষ লক্ষ ইন্সট্রাকশন এক্সিকিউট করতে পারে।

১৮৩.
কোন কম্পিউটারের মেমোরি ও প্রসেসিং ক্ষমতা সর্বোচ্চ?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মাইক্রো কম্পিউটার
  3. ট্যাবলেট কম্পিউটার
  4. মিনি কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
• কম্পিউটার প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার বিভিন্ন ক্ষমতার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে সুপার কম্পিউটার হলো সবচেয়ে শক্তিশালী, যা অত্যন্ত উচ্চ মেমোরি এবং প্রসেসিং ক্ষমতা রাখে। এই ধরনের কম্পিউটার জটিল বৈজ্ঞানিক হিসাব, আবহাওয়া পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা ও অণু গবেষণার মতো বড় বড় ডেটা প্রসেস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মাইক্রো কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার বা ট্যাবলেট কম্পিউটার তুলনামূলকভাবে কম ক্ষমতার হয় এবং সাধারণ অফিস, শিক্ষা বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। তাই মেমোরি ও প্রসেসিং ক্ষমতা সর্বোচ্চ হলো সুপার কম্পিউটার।

• অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer):
- পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার।
- বিশাল মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা রয়েছে।
- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অনেক যন্ত্রাংশ থাকার কারণে মূল্য অনেক বেশি।
- যে সকল ক্ষেত্রে খুব জটিল ও সুক্ষ গাণিতিক হিসাব প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রশাসনিক কাজ-কর্ম এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: CRAY-1, CYBER 205 ইত্যাদি।

আকার ও ক্ষমতা বিচারে কম্পিউটারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer),
২। বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer),
৩। ছোট কম্পিউটার (Mini Computer),
8। ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer).

• বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- সুপার কম্পিউটারের তুলনায় ছোট, কিন্তু মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।
- অনেক ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র সংযুক্ত করা যায়।
- বৃহৎ মেমোরি ও প্রক্রিয়াকরণ শক্তি।
- বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার আছে।
- উদাহরণ: IBM 4341, NCR N8370, IBM Amdah 1580 ইত্যাদি।

• ছোট কম্পিউটার (Mini Computer):
- মেইনফ্রেম কম্পিউটারের তুলনায় আকারে ছোট এবং কম ক্ষমতাসম্পন্ন।
- সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত।
- উদাহরণ: NOVA 3. PDP 11, IBM-AS/400 ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer):
- আকার, ক্ষমতা ও মূল্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে ছোট।
- একীভূত বর্তনীর মাধ্যমে তৈরি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়।
- স্মৃতি এবং ইনপুট-আউটপুট সংযোগ করে পিসি (Personal Computer) তৈরি হয়।
- অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত ব্যবহার ও চিত্তবিনোদনে এই কম্পিউটারের প্রচলন দিন দিন বেড়ে চলেছে।
- উদাহরণ: IBM 486. IBM Pentium ইত্যাদি।

- ক্ষুদ্র বা মাইক্রো কম্পিউটারের জগতে সর্বাধুনিক সংযোজন হচ্ছে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ কম্পিউটার, নোটবুক কম্পিউটার।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
কয়েকটি ডেস্কটপ কম্পিউটার দিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হলে প্রধান কম্পিউটারটিকে বলে-
  1. ক) সার্ভার
  2. খ) ডােমেইন
  3. গ) ওয়ার্কস্টেশন
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
যদি কয়েকটি ডেস্কটপ কম্পিউটার দিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তবে প্রধান কম্পিউটারটিকে সার্ভার বা ডােমেইন বলে এবং অন্যগুলিকে ওয়ার্কস্টেশন বলে।
[উৎসঃ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ১, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভোকেশনাল, ২০২১ সংস্করণ)]
১৮৫.
কত সালে ফ্লপি ডিস্কের প্রচলন শুরু হয়?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৭০
  3. গ) ১৯৬২
  4. ঘ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালে ফ্লপি ডিস্কের প্রচলন শুরু হয়। এটি ডিস্কেট নামেও পরিচিত। ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী ফ্লপি ডিস্ক দুই ধরনের। সাধারণ ফ্লপি ডিস্কের ধারণ ক্ষমতা ৭২০ হতে ৮০০ কিলোবাইট পর্যন্ত এবং হাই ডেনসিটি ফ্লপি ডিস্কের ধারণ ক্ষমতা ১.২ হতে ১.৪ মেগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে। সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড বই।
১৮৬.
পামটপ বলতে কী বোঝায়?
  1. কম্পিউটার ভাইরাস
  2. স্মার্টফোন
  3. ছোট কম্পিউটার
  4. প্রিন্টার
ব্যাখ্যা

• পামটপ বলতে বোঝায় ছোট আকারের কম্পিউটার। এটি মূলত একটি হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস যা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো কাজ করতে পারে, কিন্তু বহন করা সহজ। পামটপে সাধারণত ছোট পর্দা, কীপ্যাড বা টাচস্ক্রিন থাকে, এবং এটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়। ইমেল চেক করা, নোট নেওয়া, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা, ছোট ধরনের অফিসের কাজ করা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায়। পামটপকে অনেক সময় “পকেট কম্পিউটার” হিসেবেও বলা হয়। এটি স্মার্টফোনের চেয়ে কিছুটা বড় এবং সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে ছোট, তাই ব্যবহারকারী সহজেই এটি সঙ্গে নিয়ে যেতেই পারে। সুতরাং সঠিক উত্তর হবে গ) ছোট কম্পিউটার।

​• পামটপ :
​- পামটপ হলো এক ধরনের মাইক্রো কম্পিউটার।
- মাইক্রো কম্পিউটার হচ্ছে একটি ছোট কম্পিউটার যা পার্সোনাল কম্পিউটার হিসাবেও পরিচিত।
- এই ধরনের কম্পিউটারগুলোতে মাইক্রো প্রসেসরের সাথে সিপিইউ, মেমোরি ও ইনপুট আউটপুট ব্যবহৃত হয়।
- অধিকাংশ হার্ডওয়্যারের উপাদানগুলো একটি মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে।

- বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের মাইক্রো কম্পিউটার রয়েছে। যেমন:
১. ডেস্কটপ মাইক্রো কম্পিউটার,
২. নোটবুক বা ল্যাপটপ মাইক্রো কম্পিউটার,
৩. ট্যাবলেট মাইক্রো কম্পিউটার,
৪. পামটপ মাইক্রো কম্পিউটার।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

১৮৭.
নিচের কোনটি CPU-এর 'L1 Cache'-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য?
  1. এটি সরাসরি প্রসেসর কোরের ভেতর থাকে
  2. এটি ডাইনামিক র‍্যাম (DRAM) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি
  3. এটি র‍্যাম অপেক্ষা অধিক এক্সেস টাইম সম্পন্ন
  4. সেকেন্ডারি মেমোরি এবং র‍্যামের মধ্যে বাফার হিসেবে কাজ করে
ব্যাখ্যা

• L1 ক্যাশ বা লেভেল ১ ক্যাশ হলো কম্পিউটারের দ্রুততম মেমোরি যা প্রসেসর চিপের (Die) একদম ভেতরে বা কোরের খুব কাছে অবস্থিত। এটি প্রসেসরকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ডেটা সরবরাহ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।• 

• Cache Memory:
- Cache Memory হলো একটি অত্যন্ত দ্রুতগতির বিশেষ ধরণের স্মৃতি, যা CPU বা প্রসেসরের খুব কাছে অবস্থান করে।
- এটি প্রধানত সেই ডেটা ও নির্দেশনা সংরক্ষণ করে, যেগুলো প্রসেসর বারবার ব্যবহার করে বা অতি দ্রুত অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হয়।

• Cache Memory কেন প্রয়োজনতা:
- প্রসেসরের কাজের গতি অনেক বেশি, কিন্তু RAM বা Main Memory তুলনামূলক ধীর।
- প্রসেসর যখন RAM থেকে ডেটা আনতে চায়, তখন সময় বেশি লাগে। এই ব্যবধান কমাতে Cache Memory ব্যবহার করা হয়।
- Cache Memory প্রসেসর ও মূল স্মৃতির মধ্যে একটি উচ্চ গতির সেতু (Buffer Layer) হিসেবে কাজ করে। ফলে প্রয়োজনীয় ডেটা প্রসেসর খুব দ্রুত পায় এবং সিস্টেমের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

• Cache Memory ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও সুবিধা:
- প্রসেসর অপেক্ষার সময় কমানো: RAM থেকে ডেটা আনতে যে বিলম্ব হয়, Cache সেই বিলম্ব দূর করে।
- গতি বৃদ্ধি: Cache থেকে ডেটা অ্যাক্সেস করা RAM-এর তুলনায় অনেক দ্রুত, ফলে CPU-এর কার্যক্ষমতা বাড়ে।
- প্রায়শই ব্যবহৃত ডেটা সংরক্ষণ: CPU যে নির্দেশ বা ডেটা বারবার ব্যবহার করে, তা Cache Memory-তে রাখা হয়।
- Latency কমানো: ডেটা অ্যাক্সেসের সময় কমে, যা সিস্টেমের Response Time উন্নত করে।
 
• Cache Memory এর স্তরসমূহ (L1, L2, L3):
- L1 Cache: সবচেয়ে ছোট কিন্তু সবচেয়ে দ্রুত, সরাসরি CPU কোরের সাথে সংযুক্ত।
- L2 Cache: L1-এর তুলনায় বড়, গতি কিছুটা কম, কিন্তু এখনো RAM এর চেয়ে দ্রুত।
- L3 Cache: বহু কোরের জন্য শেয়ারড, বড় এবং অপেক্ষাকৃত ধীর কিন্তু RAM এর চেয়ে দ্রুত।
- এই স্তরগুলো মিলে CPU-এর প্রয়োজনীয় ডেটা দ্রুত পৌঁছে দেয়।

উৎস: 
- মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্রিটানিকা।

১৮৮.
এম্বেডেড সিস্টেমে স্থায়ী তথ্য সংরক্ষণের জন্য সাধারণত কোন ধরনের মেমোরি ব্যবহার করা হয়?
  1. রম
  2. র‍্যাম
  3. ক্যাশ মেমোরি
  4. রেজিস্টার মেমোরি
ব্যাখ্যা

​• এম্বেডেড সিস্টেমে স্থায়ী তথ্য সংরক্ষণের জন্য সাধারণত রম (ROM) ব্যবহার করা হয়। ROM হল রিড-অনলি মেমোরি, যা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এতে সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বা ফার্মওয়্যার সংরক্ষণ করা হয়, যা সিস্টেম চালু হওয়ার সময় সরাসরি পড়া যায়। অন্যদিকে র‌্যাম (RAM) অস্থায়ী মেমোরি, যা শুধুমাত্র চলমান প্রোগ্রামের ডেটা ধারণ করে এবং বিদ্যুৎ বন্ধ হলে তথ্য মুছে যায়। ক্যাশ মেমোরি এবং রেজিস্টার মেমোরি দ্রুত তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য নয়। তাই স্থায়ী তথ্য সংরক্ষণের জন্য ROM হলো সবচেয়ে উপযুক্ত।

উত্তর: ক) রম। 

• এমবেডেড কম্পিউটার:
- এম্বেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা একটি বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশবিশেষ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হলো মাইক্রোপ্রসেসর, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত মেমরি বা রম এবং ইনপুট/আউটপুট সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার কম্পিউটার।
- এম্বেডেড সিস্টেমে সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম থাকে।
- আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলার এর ব্যবহার হয়।
- এতে মনিটর কিংবা অন্যান্য হার্ডওয়্যার থাকে না।
- সেল ফোন, এসি, প্রিন্টার, থার্মোস্ট্যাট, ভিডিও গেমস্, ATM, ওয়াশিং মেশিন প্রভৃতিতে এমবেডেড সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
- LED লাইটে এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয় না।

​উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৯.
নিচের কোনটি এনালগ কম্পিউটারের কাজের একটি উদাহরণ?
  1. জটিল গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করা
  2. ভোল্টেজের ওঠানামা পরিমাপ করা
  3. ডাটাবেস তৈরি করা
  4. ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা
ব্যাখ্যা

• এনালগ কম্পিউটার:
- এনালগ কম্পিউটার হলো এমন এক ধরনের গণনাকারী যন্ত্র যা অবিচ্ছিন্ন ভৌত রাশি (যেমন- চাপ, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ, বা গতির) পরিবর্তনের মাধ্যমে সরাসরি ডেটা পরিমাপ ও সমাধান করে।
- এগুলি সাধারণত বৈজ্ঞানিক ও শিল্পক্ষেত্রে, যেমন- রকেট বা ইঞ্জিনের গতি বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হতো।
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মতো এটি সংখ্যা ব্যবহার করে না, বরং দ্রুত Simulation বা মডেলিংয়ের জন্য পরিচিত।

• এনালগ কম্পিউটারের মূল বৈশিষ্ট্য:
কার্যপদ্ধতি: এটি বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ বা যান্ত্রিক মুভমেন্ট ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করে।

উদাহরণ: স্লাইড রুল, স্পিডোমিটার, থার্মোমিটার, এবং পুরনো দিনের ডিফারেনশিয়াল অ্যানালাইজার।

সুবিধা: নিরবিচ্ছিন্ন ডেটা সরাসরি প্রক্রিয়া করে বলে দ্রুত ফলাফল প্রদান করতে পারে।

অসুবিধা: ডিজিটাল কম্পিউটারের তুলনায় কম নিখুঁত (precision কম) এবং এদের মেমোরি ক্ষমতা নেই।

বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে দ্রুততর ও নির্ভুল ডিজিটাল কম্পিউটারের কারণে এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার কমে গেছে, তবে কিছু বিশেষ শিল্পক্ষেত্রে এখনো ব্যবহৃত হয়

উৎস: Britannica [Link]

১৯০.
মাইক্রো (micro) শব্দটির অর্থ কী?
  1. বড়
  2. মাঝারি
  3. ক্ষুদ্র
  4. দ্রুত
ব্যাখ্যা
• মাইক্রো কম্পিউটার:
- মাইক্রো (micro) শব্দটির অর্থ হলো ক্ষুদ্র।
- মাইক্রো কম্পিউটার বলতে কম্পিউটারের ছোট বা ক্ষুদ্রাকৃতির কম্পিউটারগুলোকেই বোঝায়।
- এই কম্পিউটারগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রো প্রসেসর চিপ দিয়ে তৈরি বলে একে মাইক্রো কম্পিউটার বলা হয়।
- একটি প্রধান মাইক্রো প্রসেসর, প্রধান মেমোরি, সহায়ক মেমোরি, এবং ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে একটি মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয়।
- মাইক্রো কম্পিউটারগুলো সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যক্তিগত ব্যবহার, খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মাইক্রো কম্পিউটারের কিছু উদাহরণ হল IBM PC, APPLE POWER ইত্যাদি।
- মাইক্রো কম্পিউটারকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ডেক্সটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ কম্পিউটার, পামটপ কম্পিউটার এবং নোটবুক কম্পিউটার।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।
১৯১.
কাজ করার প্রক্রিয়া অনুযায়ী কম্পিউটারকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ৫ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ২ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
• কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ:
- কাজ করার প্রক্রিয়া অনুযায়ী কম্পিউটারকে সাধারণত তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা
১. এনালগ কম্পিউটার,
২. ডিজিটাল কম্পিউটার ও
৩. হাইব্রিড কম্পিউটার।

- আকার, আকৃতি, দক্ষতা, ক্ষমতা ও কার্যকারিতা প্রভৃতির ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা
১. অতিবৃহৎ কম্পিউটার (Super Computer), 
২. বৃহৎ কম্পিউটার (Mainframe Computer), 
৩. ছােট কম্পিউটার (Mini Computer) ও
৪. ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer)।
- মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যথা: সুপার মাইক্রো, ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, নােটবুক ইত্যাদি।

উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
ডিজিটাল কম্পিউটার কয় ধরনের?
ব্যাখ্যা
কম্পিউটারে প্রকারভেদ:
কম্পিউটার প্রধানত ৩ প্রকার। যথা-
১) এনালগ কম্পিউটার,
২) ডিজিটাল কম্পিউটার ও
৩) হাইব্রিড কম্পিউটার।

ডিজিটাল কম্পিউটার ৪ ধরনের। যথা-
১) সুপার কম্পিউটার,
২) মেইনফ্রেম কম্পিউটার,
৩) মিনি কম্পিউটার ও
৪) মাইক্রো কম্পিউটার।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
কাশ্মীর ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় দুই দেশই পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
এ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার 
  3. মাইক্রোকম্পিউটার
  4. মিনি কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

⚪ সুপার কম্পিউটারগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দ্রুতগতির কম্পিউটার যা জটিল গাণিতিক গণনা, সিমুলেশন, এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, টার্গেটিং সিস্টেম এবং ট্র্যাকিংয়ের মতো কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়, কারণ এতে অতি দ্রুত এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজন।

⚪ সুপার কম্পিউটার কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

১. রিয়েল-টাইম ডেটা প্রসেসিং:
- ক্ষেপণাস্ত্র যখন উৎক্ষেপণ করা হয়, তখন এটি নিজ অবস্থান, গতি, লক্ষ্যবস্তুর গতি ইত্যাদি অনেক সেন্সরের তথ্য পাঠায়। সুপার কম্পিউটার এই সব তথ্য খুব দ্রুত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় - কোথায় গেলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।

২. টার্গেটিং এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম:
- লক্ষ্যবস্তু চলমান থাকলে (যেমন যুদ্ধবিমান), সুপার কম্পিউটার তা ট্র্যাক করে ও হিসাব করে কোথায় ক্ষেপণাস্ত্রটি যেতে হবে। এটি করার জন্য জটিল অ্যালগরিদম ও তীব্র গতির গণনার প্রয়োজন হয়।

৩. সিমুলেশন ও পরীক্ষা:- 
সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা আগে থেকেই ভার্চুয়াল সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে যুদ্ধের আগেই বোঝা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি কেমন কাজ করবে।

৪. প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Missile Defense):
- বিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র এলে সেটি শনাক্ত করা ও ধ্বংস করার জন্যও সুপার কম্পিউটার ব্যবহার হয়। এটি ক্ষণিকের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়—কোন ক্ষেপণাস্ত্র পাঠালে সেটি প্রতিহত করা যাবে।

সংক্ষেপে বলা যায় - ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে দ্রুত, নির্ভুল ও বিশ্লেষণাত্মক সিদ্ধান্ত নিতে সুপার কম্পিউটার অপরিহার্য।

⚪ আকার, আয়তন, কাজ করার ক্ষমতা, স্মৃতি ও কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে বা ডিজিটাল কম্পিউটারকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা -
১. সুপার কম্পিউটার 
২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার 
৩. মিনি কম্পিউটার
৪. মাইক্রোকম্পিউটার

⚪ সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারগুলোতে কয়েকটি প্রসেসর একই সঙ্গে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পারমাণবিক চুল্লির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে কম্পিউটার কাউন্সিলে একটি সুপার কম্পিউটার আছে।

উৎস:
১) IEEE [লিংক]
২) মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করেছিল কোন প্রতিষ্ঠান এবং কত সালে?
  1. IBM, 1969
  2. Microsoft, 1970
  3. Intel, 1971
  4. Apple, 1973
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্র কম্পিউটার (Micro Computer):
- পূর্বে কম্পিউটার তৈরি করতে অসংখ্য ট্রানজিস্ট্রর, রেজিষ্ট্যান্স, ডায়োড ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো।
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে ইনটেল নামক একটি প্রতিষ্ঠান ইনটেল-৪০০৪ (Intel 4004) নামক প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর বা ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকারক (Microprocessor) তৈরি করে।
- এই ক্ষুদ্রাকৃতি মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি ক্ষুদ্রকারের কম্পিউটারকে মাইক্রোকম্পিউটার নামে অভিহিত করা হয়।
- ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকারকের সাথে স্মৃতি অংশ এবং ইনপুট-আউটপুট অংশের সংযোগ সাধন করা হয়।
- এই কম্পিউটার সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায় এবং একজন ব্যবহারকারী একাই একটি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন।
- এজন্য এই কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) বা সংক্ষেপে পিসি (PC) বলা হয়।
- IBM 486, IBM Pentium প্রভৃতি মাইক্রোকম্পিউটারের উদাহরণ।

উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৫.
ডেস্কটপ হলো -
  1. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  2. মাইক্রো কম্পিউটার
  3. মিনি কম্পিউটার
  4. সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
• মাইক্রো কম্পিউটার: 
- মাইক্রো এর সাধারণ অর্থ ক্ষুদ্র। 
- ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে কম্পিউটার গঠিত হয় তাকে মাইক্রো কম্পিউটার বলে। 
- মাইক্রো কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা সংক্ষেপে PC বলা হয়। 
- মানুষের ব্যবহারিক সুবিধার প্রতি লক্ষ রেখে বিভিন্ন রকমের মাইক্রো কম্পিউটার বাজারে এসেছে।
যেমন -
১. পামটপ কম্পিউটার, 
২. ল্যাপটপ কম্পিউটার, 
৩. নোটবুক কম্পিউটার, 
৪. ডেস্কটপ কম্পিউটার। 
- Tablet PC, Phablet, Smartphone ইত্যাদি ও মাইক্রোকম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত। 
-  ১৯৮১ সালে IBM কোম্পানি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রথম মাইক্রোকম্পিউটার তৈরি করে। 
- অতিমাত্রায় তাপমাত্রা ওঠানামা করলে মাইক্রোকম্পিউটারের কিছু সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায়। তাই কম্পিউটার সূর্যালোক, উত্তপ্ত বা খুব বেশি ঠান্ডা স্থানে রাখা বিপদজনক। 
- সক্রিয় একটি মাইক্রোকম্পিউটারের জন্য আদর্শ রুম টেম্পারেচার ৬০ থেকে ৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইট, এবং বন্ধ থাকা অবস্থায় ৫০ থেকে ১১০ ডিগ্রী ফারেনহাইট।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৬.
কম্পিউটারের কোন মেমোরি কখনো স্মৃতিভ্রংশ হয় না?
  1. ক) ROM
  2. খ) RAM
  3. গ) CD-ROM
  4. ঘ) Processor
ব্যাখ্যা
ROM- abbreviation for read only memory: a type of computer memory that holds information that can be used but not changed or added to; Basically it refers to permanency of the memory. Source: Cambridge Dictionary
১৯৭.
Quantum Computer এর কাজের নীতি কী?
  1. Binary systems
  2. Qubits
  3. Analog signal
  4. Distributed Operating System
ব্যাখ্যা

◉ কোয়ান্টাম বিট বা কুবিট (Qubit) হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর মৌলিক একক, যা ক্লাসিক্যাল বিটের তুলনায় আরও শক্তিশালী কারণ এটি শুধুমাত্র 0 বা 1 নয়, বরং একই সাথে 0 এবং 1 উভয় অবস্থায় থাকতে পারে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে সুপারপজিশন (Superposition) বলা হয়।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং:
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গাণিতিক সমস্যাগুলির সমাধানে একটি বিপ্লবী ধারণা।
- এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোয়ান্টাম বিট (Qubit) একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে, এবং তার ফলে এটি নির্দিষ্ট কাজগুলো খুব দ্রুত এবং দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য যে অ্যালগরিদমগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সাধারণত ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের তুলনায় কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের মধ্যে একটি হল Shor’s Algorithm, যা বড় সংখ্যার গুণফল বের করা (Integer Factorization) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১৯৮.
IBM-4331 কী ধরণের কম্পিউটার?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. মিনি কম্পিউটার
  4. মাইক্রো কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
- আইবিএম ৪৩৩১ (IBM-4331) কম্পিউটারটি তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার। ১৯৭৯ সালে আইবিএম প্রথম কম্পিউটারটি জন সম্মুখে উপস্থাপন করে।
- ইহা একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার। 
- ১৯৮৬ সালে বুয়েটের কম্পিউটার সেন্টার তৃতীয় প্রজন্মের এই কম্পিউটারটি সংগ্রহ করে।
- বিভিন্ন সময়ে এটিতে নানা সংযোজন বিয়োজন ঘটে। এই সিস্টেমের অপারেটিং সিস্টেম ছিল VM/CMS ।
- এই সিস্টেমে একসংগে প্রায় শতাধিক ব্যাক্তির কাজ করার সুযোগ ছিল তবে এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০টি টারমিনাল লাগানো হয়েছিল অর্থাৎ ৩২ জন ব্যবহারকারী এক সঙ্গে এই কম্পিউটারে কাজ করার সুযোগ পেত। 

তথ্যসূত্র: আইবিএম ওয়েবসাইট ও জাতীয় বিজ্ঞান যাদুঘরের ওয়েবসাইট।
১৯৯.
এম্বেডেড কম্পিউটার সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার হয়
  2. মনিটর থাকে
  3. ওয়াশিং মেশিনে ব্যবহৃত হয়
  4. সবগুলোই সত্য
ব্যাখ্যা
• এম্বেডেড কম্পিউটার:
- এম্বেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা একটি বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশবিশেষ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হলো মাইক্রোপ্রসেসর, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত মেমরি বা রম এবং ইনপুট/আউটপুট সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার কম্পিউটার।
- এম্বেডেড সিস্টেমে সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম থাকে।
- আধুনিক এম্বেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার হয়।
- এতে মনিটর থাকে না।
- এটি শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া কাজই করে।
- সেল ফোন, এসি, প্রিন্টার, থার্মোস্ট্যাট, ভিডিও গেমস্, ATM, ওয়াশিং মেশিন প্রভৃতিতে এমবেডেড সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।

উৎস: computerhope.com
২০০.
What is the main basis of digital computers?
  1. Optical fiber
  2. Electric pulses
  3. Binary digits
  4. Analog voltage
ব্যাখ্যা
ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো বাইনারী ডিজিট (০ এবং ১)।

• গাণিতিক ভিত্তিতে কম্পিউটারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer),
২। ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer),
৩। হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)।

• ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো বাইনারী ডিজিট (০ এবং ১)।
- এ কম্পিউটারের যাবতীয় গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ বাইনারী ডিজিট এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল লিখিত আকারে দেয়া হয়।
- ইনপুট ও আউটপুট অংশ আমাদের বোধগম্যতার জন্য বর্ণ, অক্ষর ও অংক দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- এ কম্পিউটারের গতি বেশ দ্রুত ও নির্ভরশীলতা বেশি। উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য এতে বৃহৎ মেমোরি থাকে।
- আজকাল আমাদের ব্যবহৃত সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।