বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

মোট প্রশ্ন১,১২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

PrepBank · পাতা / ১২ · ১০০ / ১,১২৭

.
তিব্বতের আংশিক ভূখণ্ডে ব্রহ্মপুত্র নদকে কী নামে ডাকা হয়?
  1. সিন্ধু
  2. সালউইন
  3. ইয়ারলুং সাংপো
  4. মেকং 
ব্যাখ্যা

• ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট উৎপন্ন হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ শুরু হয় তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে।
- এখানে মানস সরোবর হ্রদের কাছাকাছি একটি ছোট হিমবাহ (বরফের অংশ) রয়েছে। 
- সেই হিমবাহকে আংসি হিমবাহ বলা হয়।
- আবার এই হিমবাহকে চেমায়ুংডুং হিমবাহ নামেও ডাকা হয়।
- নদীর মূল উৎস এই হিমবাহ থেকে পানি গলে বের হয়ে প্রবাহ শুরু করে।
- উৎপত্তিস্থলে নদীটি ইয়ারলুং সাংপো নামে প্রবাহিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৯০০ কিলোমিটার।
- তিব্বতের উচ্চভূমি অতিক্রম করার পর এটি ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- পরে এটি ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনা। 

উৎস: 
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী -
  1. পদ্মা নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. যমুনা নদী
  4. কর্ণফুলী নদী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী। 
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে ।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
'Line of Control' যে দু'টি দেশের সীমান্তে অবস্থিত-
  1. ক) ভারত - বাংলাদেশ
  2. খ) ভারত - পাকিস্তান
  3. গ) উত্তর কোরিয়া - দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ঘ) পাকিস্তান - আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সীমারেখা:
 
- লাইন অব কন্ট্রোল : পাকিস্তান ও ভারত
- LAC (Line of Actual Control) : চীন ও ভারত
- গ্রিন লাইন : ইসরাইল ও জর্ডান/ফিলিস্তিন
- ব্লু লাইন : ইসরাইল ও লেবানন।

(সূত্র: ব্রিটানিকা)
.
কোন নদীতে জোয়ার ভাটা হয় না?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) গোমতী
ব্যাখ্যা

যেসব নদী সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত নয়, সেসব নদীতে জোয়ার-ভাটা হয় না। সমুদ্রের পানি পূর্ণিমায় চাঁদের আকর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠে তার সংযুক্ত নদীতে পানি প্রবাহিত করে। ফলে নদীতে নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।
 - কুমিল্লার গোমতী নদীতে জোয়ার-ভাটা নেই। 
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো

.
যমুনা নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. বোয়ালখালী
  2. পুবর্ভবা
  3. হালদা
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna):
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
কোন জলরাশির চারদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত থাকে?
  1. নদী
  2. সাগর
  3. হ্রদ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
• আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
১। মহাসাগর (Ocean),
২। সাগর (Sea),
৩। উপসাগর (Bay),
৪। হ্রদ (Lake)।

মহাসাগর (Ocean):
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে।
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- যথা:
১/ প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean),
২/ আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean),
৩/ ভারত মহাসাগর (Indian Ocean),
৪/ উত্তর মহাসাগর (North Ocean),
৫/ দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 

সাগর (Sea):
- সাগর হচ্ছে মহাদেশের উপকূলভাগে মহাসাগরের প্রান্তে অবস্থিত জলভাগ, যা প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি দ্বারা মহাসাগর থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
- সংক্ষেপে মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তন বিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে।
- যেমন- জাপান সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, লোহিত সাগর, ভূ-মধ্যসাগর।

উপসাগর (Bay):
- শুধুমাত্র একদিকে জল এবং বাকী তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত জলরাশিকে উপসাগর (Bay) বলে। যেমন:
- যেমন- মেক্সিকো উপসাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর ইত্যাদি।

হ্রদ (Lake):
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে।
- যেমন- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বরেন্দ্রভূমির ছোট বিনুনী আকৃতির নদীগুলো কি নামে পরিচিত?
  1. ক) লোয়ার
  2. খ) সোপান
  3. গ) খাড়ি
  4. ঘ) অনুচ্চ শৈলশিরা
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি: দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত।
এর আয়তন ৯,২৮৮ বর্গকিলোমিটার বা ৩৬,০০বর্গমাইল। বরেন্দ্রভূমি প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু।
সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলটি পুনর্ভবা, আত্রাই ও যমুনা নদী দ্বারা চারটি অংশে বিভক্ত। মাটির রং লালচে হলুদ। বরেন্দ্রভূমির ছোট বিনুনী আকৃতির নদীগুলো খাড়ি নামে পরিচিত। 

সুত্র: ভুগোল ও পরিবেশ (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
.
বাংলাদেশে মোট কয়টি আন্তঃসীমান্ত নদী প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ৪৭টি
  2. ৫৭টি
  3. ৬৭টি
  4. ৭৭টি
ব্যাখ্যা

আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers):
​​- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে।
​- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে।
​- বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে।
​- আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি নদী ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
​-​ ৫৪ টির মধ্যে ৫১টি নদী বস্তুতঃপক্ষে তিনটি বৃহৎ নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকাভুক্ত।
​- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি।

​উৎস: যৌথ নদী কমিশন। [Link​]

.
শীতলক্ষ্যা নদী কোন নদীর শাখানদী?
  1. পদ্মা 
  2. মেঘনা 
  3. তিস্তা
  4. ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

⇒ ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য
- কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে স্রোতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে।

অন্যদিকে, 
- পদ্মা নদীর শাখা নদী: মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১০.
বঙ্গোপসাগরের মোট আয়তন কত?
  1. প্রায় ১,০০০,০০০ বর্গকিলোমিটার
  2. প্রায় ১,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার
  3. প্রায় ২,১৭০,০০০ বর্গকিলোমিটার
  4. প্রায় ৩,০০০,০০০ বর্গকিলোমিটার
ব্যাখ্যা

বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal):
- অবস্থান: দক্ষিণ এশিয়া, ভারত মহাসাগরের উত্তরে। 
- সংলগ্ন দেশসমূহ: ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা। 
- উত্তরে সংযুক্ত: বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে বাংলাদেশের উপকূল।
- পশ্চিমে সংযুক্ত: ভারতের পূর্ব উপকূল। 
- দক্ষিণে সংযুক্ত: আন্দামান সমুদ্র ও ভারত মহাসাগর।
- মোট আয়তন: প্রায় ২,১৭০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা: প্রায় ২,৬০০ মিটার।
- সর্বোচ্চ গভীরতা: প্রায় ৪,৬৭০ মিটার।
- নদী যোগদানকারী: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, ইন্দাস, কাবিনী, মালয়াল নদী প্রভৃতি।
- বিশেষত্ব: বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের জন্য পরিচিত; মাছ ও খনিজ সম্পদের জন্য সমৃদ্ধ।
- প্রধান বন্দর: চট্টগ্রাম (বাংলাদেশ), কলকাতা ও বিশাখাপত্তনম (ভারত), চেন্নাই (ভারত), সিটওয়েট (মিয়ানমার)।

উৎস: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

১১.
'লিপুলেখ' নিয়ে কোন দুইটি দেশের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ চলমান?
  1. ক) চীন-ভারত
  2. খ) চীন-মিয়ানমার
  3. গ) ভারত-নেপাল
  4. ঘ) মিয়ানমার-ভারত
ব্যাখ্যা
১৮১৪ শুরু থেকে হয়ে  ১৮১৬ সালে পর্যন্ত ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 
যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হিসেবে ১৮১৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত এবং নেপালের মধ্যে সুগাউলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে ভারত-নেপালের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ দেখা দেয়। 
ভারত-নেপালের বিরোধের কেন্দ্রে থাকা ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে কালাপানি, লিপুলেখ এবং সুস্তা অন্যতম। 

লিপুলেখ হলো হিমালয়ের একটি গিরিপথ। ইহা ভারতের উত্তরাখন্ড, চীনের তিব্বত এবং নেপালের সীমানায় গিয়ে মিশেছে। 

২০২০ সালে নেপালের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র এবং নতুন জাতীয় প্রতীক নির্ধারণে দেশের সংবিধান সংশোধনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয় নেপালের পার্লামেন্ট। নতুন এই মানচিত্র ও প্রতীকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধাউরাকে নেপালের ভূখণ্ড হিসাবে প্রদর্শিত হবে।

সূত্র: ব্রিটানিকা, বিবিসি। 
১২.
কোন নদীর তীরে 'সারদা পুলিশ একাডেমি' অবস্থিত?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) শীতলক্ষ্যা
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) বালেশ্বর
ব্যাখ্যা
•নদীর তীরবর্তী স্থান/শহর:
- সারদা - পদ্মা,
- নারায়ণগঞ্জ - শীতলক্ষ্যা,
- বরিশাল - কীর্তনখোলা,
- ঢাকা - বুড়িগঙ্গা।
- কক্সবাজার - নাফ,
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া - তিতাস,
- চাঁদপুর - মেঘনা,
- বান্দরবান - শংখ।
- মাদারীপুর - আরিয়াল খাঁ,
- পিরোজপুর - বালেশ্বর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
নিম্নের কোনটি যমুনার উপনদী নয়?
  1. ধরলা
  2. করতোয়া
  3. আত্রাই
  4. কপোতাক্ষ
ব্যাখ্যা

• যমুনা নদী:
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি শাখা নদী।
- ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে একটি সরু খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা পরবর্তীতে যমুনা নদী নামে পরিচিত হয়।
- নদীটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়।
- এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নদী নামে প্রবাহিত হয়।

» শাখা নদী
- যমুনার প্রধান শাখা নদী হলো:
• ধলেশ্বরী নদী,
• ধলেশ্বরীর শাখা নদী হলো বুড়িগঙ্গা নদী।

» উপনদী
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• ধরলা
• তিস্তা
• করতোয়া
• আত্রাই
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৪.
ওডেসা সমুদ্রবন্দর কোন সাগরের অববাহিকায় অবস্থিত?
  1. মর্মর
  2. ভূমধ্য
  3. আজিয়ান
  4. কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
ওডেসা সমুদ্রবন্দর:
- ওডেসা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচীন বন্দরগুলোর একটি।
- এটি ইউক্রেনে অবস্থিত। 
- দেশটির বৃহত্তম বন্দর হওয়ার পাশাপাশি এটি কৃষ্ণ সাগর অববাহিকারও অন্যতম বৃহৎ বন্দর।
- মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটির অংশ হিসেবে রেল সংযোগ রয়েছে এই বন্দরের সঙ্গে, যার মাধ্যমে রপ্তানিমুখী পণ্য বন্দরে পৌঁছানো ও আমদানীকৃত পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত দেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর সুব্যবস্থা রয়েছে।
- ১০৯ একর জায়গার ওপর অবস্থিত ওডেসা বন্দর বেশ প্রাচীন একটি বন্দর। 
- ওডেসা বন্দরের অবস্থান ওডেসা উপসাগরের পশ্চিম উপকূলে।
- ওডেসা বন্দরের মালিক ইউক্রেনিয়ান সি পোর্টস অথরিটি।
- ওডেসা মেরিন ট্রেড পোর্ট বন্দরটি পরিচালনা করে।
- ওডেসা বন্দরের প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল হলো কনটেইনার টার্মিনাল ওডেসা (সিটিও)।
- ইউক্রেনের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল এটি। 
- কৃষ্ণ সাগর অববাহিকার সবচেয়ে বড় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটি এই ওডেসা বন্দরেই অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইরানের সমুদ্রবন্দরের নাম আব্বাস।

উৎস: Britannica
১৫.
সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল কোথায়?
  1. ক) রাজবাড়ী
  2. খ) ভৈরববাজার
  3. গ) চিলমারি
  4. ঘ) আজমিরিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল (মেঘনা) : আজমিরিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
- পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল : গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
- - পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল : ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)
- পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল : চাঁদপুর
- ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল : চিলমারি (কুড়িগ্রাম)।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১৬.
নিচের কোনটি মেঘনার শাখা নদী?
  1. গোমতী
  2. বাউলাই
  3. মনু
  4. ডাকাতিয়া
ব্যাখ্যা
→ ডাকাতিয়া,  মেঘনার শাখা নদী।

• মেঘনা (Meghna):

- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে;
- বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- একটি উত্তর সিলেট থেকে সুরমা নামে;
- এবং অন্যটি দক্ষিণ সিলেট থেকে কুশিয়ারা নামে।
- হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা এবং কালনী নদীর মিলিত স্রোত কালনী নামে।
- পরে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়েছে।
- চাঁদপুরের পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

→ মেঘনার উপনদীসমূহ:
- মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।

→ শাখা নদী:
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
হাজার হ্রদের দেশ কোনটি?
  1. ক) নরওয়ে
  2. খ) ফিনল্যান্ড
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
হাজার হ্রদের দেশ - ফিনল্যান্ড।
সূর্যোদয়ের দেশ – জাপান
হাজার দ্বীপের দেশ - ইন্দোনেশিয়া
ম্যাপল পাতার দেশ – কানাডা।

(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১৮.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে ক্ষয়সাধন বেশি হয়?
  1. মধ্যগতি
  2. ধীরগতি
  3. উর্ধ্বগতি
  4. নিম্নগতি
ব্যাখ্যা
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৯.
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. প্রায় ৫০ মাইল
  2. ১০০ মাইল
  3. প্রায় ৭৫ মাইল 
  4. ১২০ মাইল
ব্যাখ্যা

• কক্সবাজার: 
- কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত।
-  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম  সমুদ্র সৈকত।
- এই সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল)।
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম ছিল পালংকি।
- এর আগে এটিকে প্যানোয়া নামেও ডাকা হতো, যার অর্থ হলুদ ফুল।
- পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হিরাম কক্সের নামে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় কক্সসাহেবের বাজার।
- এরপর থেকে ধীরে ধীরে এটি কক্সবাজার নামে পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২০.
টাঙ্গুয়ার হাওর স্থানীয় লোকজনের কাছে কোন নামে পরিচিত?
  1. ছয়কুড়ি কান্দার নয়কুড়ি বিল
  2. সাতকুড়ি বিলের আটকুড়ি হাওর
  3. দশকুড়ি হাওরের পাঁচকুড়ি বিল
  4. নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল
ব্যাখ্যা

টাঙ্গুয়ার হাওর:
- সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর স্থানীয় লোকজনের কাছে 'নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল' নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর টাঙ্গুয়ার হাওর।
- টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলাধীন ১০টি মৌজা নিয়ে বিস্তৃত একটি হাওর।
- এ হাওরটিতে ছোটবড় ১২০টি বিল রয়েছে।
- ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিমি, এর মধ্যে ২৮০২.৩৬ হেক্টর জলাভূমি রয়েছে।
- প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
- এখানে ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ পাওয়া যায়।
- টাঙ্গুয়ার হাওরে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৫০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

২১.
In which continent is the Nile River located?
  1. ক) North America
  2. খ) Asia
  3. গ) Africa
  4. ঘ) Europe
ব্যাখ্যা
নীল নদ:

- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদ/নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত.
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
২২.
কত ডিগ্রি অক্ষরেখা উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া কে পৃথক করেছে?
  1. ১৭° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৪° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- ৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা : উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
অন্যদিকে,
- ১৭° উত্তর অক্ষরেখা : উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
- ২৪° উত্তর অক্ষরেখা : পাকিস্তান ও ভারত
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা : যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে পৃথক করেছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২৩.
কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশী নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ঢাকা
  2. চট্রগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
নদ-নদী ও বাংলাদেশ
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে জালের মত ছড়িয়ে আছে ১০০৮ টি নদী। 
- এই দেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রবাহকে মানবদেহের প্রাণস্বরূপ রক্ত সংবহনতন্ত্রের সাথে তুলনা করা যায়।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।

- সবচেয়ে বেশী নদী প্রবাহিত হচ্ছে - ঢাকা বিভাগে।
- এই বিভাগে নদীর সংখ্যা - ২২২ টি।
- সবচেয়ে বেশী নদী প্রবাহিত হচ্ছে - সুনামগঞ্জ জেলায়(৯৭টি)।

- সবচেয়ে বেশী জেলায় প্রবাহিত হচ্ছে - পদ্মা (১২টি)।
- সবচেয়ে বেশী উপজেলায় প্রবাহিত হচ্ছে - মেঘনা (৩৬টি)।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের নদ এবং নদী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। লিংক
২৪.
সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম কী? 
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. তিস্তা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

• সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা - ১২টি।

• সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা - ৩৬টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম - ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা - ২২২টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম - সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা - ৯৭টি।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

২৫.
জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের নাম কী?
  1. গ্রেট বেরিয়ার রিফ
  2. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  3. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  4. দিয়াগো গার্সিয়া
ব্যাখ্যা
• কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির।
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে। 
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা হওয়া শান্তিচুক্তিতেও স্বাক্ষর করেনি।

উৎস: Britannica.
২৬.
আমাজন নদী কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
  1. আল্পস পর্বতমালা
  2. তিব্বতের মালভূমি
  3. আন্দিজ পর্বতমালা
  4. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২৭.
মেঘনা নদী কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে?
  1. নীলফামারী জেলা
  2. রাজশাহী জেলা
  3. কুড়িগ্রাম জেলা
  4. সিলেট জেলা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী। 
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে ।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- শাখানদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৮.
সুয়েজখাল কোন দুটি মহাদেশকে বিভক্ত করেছে?
  1. এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া
  2. আমেরিকা ও আফ্রিকা
  3. ইউরোপ ও আমেরিকা
  4. এশিয়া ও আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল: 
- সুয়েজ খালের অবস্থান সিনাই উপদ্বীপ, মিশর। 
- সুয়েজ খাল খনন শুরু হয় ১৮৫৯ সালে। 
- সুয়েজ খাল আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়েছে ১৮৬৯ সালে। 
- সুয়েজ খালের দৈর্ঘ্য ১৯৩ কি.মি। 
- সুয়েজ খাল মিশর জাতীয়করণ করে ১৯৫৬ সালের জুলাই মাসে। 
- সুয়েজ খাল সংযুক্ত করেছে - ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে। 
- সুয়েজ খাল পৃথক করেছে - এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৯.
নীল নদের উৎপত্তিস্থল নিচের কোনটি?
  1. আলবার্ট হ্রদ
  2. বৈকাল হ্রদ
  3. লেক ভিক্টোরিয়া
  4. ব্লেড লেক
ব্যাখ্যা

নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য: ৬৬৫০ কি.মি।
- উৎপত্তিস্থল: লেক ভিক্টোরিয়া।
- পতিত হয়: ভূ-মধ্যসাগর।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত:
• সাদা নীল এবং
• নীল নীল।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com

৩০.
১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে কোন নদীর সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. সুরমা
  3. যমুনা
  4. ইছামতি
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna): 
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী। 
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩১.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. পারস্য সাগর
  3. দক্ষিণ চীন সাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে। 
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- এর প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়ে আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩২.
বাংলাদেশের কোন সমুদ্র সৈকতকে ‘সাগরকন্যা’ বলা হয়?
  1. কক্সবাজার
  2. পতেঙ্গা
  3. কুয়াকাটা
  4. সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:

- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে  সাগর কন্যা বলা হয়। 
- অবস্থান: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত। 
- ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।
- কুয়াকাটা সাগর-সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় ৩ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের এটাই একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই ভাল দেখা যায়। 
- কুয়াকাটা সৈকতের পাশেই বিশাল নারকেল বাগান এবং গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে।
- কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া ।
৩৩.
ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখানদী কোনগুলো?
  1. ধরলা ও তিস্তা
  2. বংশী ও শীতলক্ষ্যা
  3. গড়াই ও ভৈরব
  4. তিতাস ও গোমতী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য,
ক) ধরলা ও তিস্তা- ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
গ) গড়াই ও ভৈরব- পদ্মা নদীর শাখানদী।
ঘ) তিতাস ও গোমতী- মেঘনা নদীর উপনদী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম নদী নিচের কোনটি?
  1. হোয়াং হো
  2. ইয়াংসিকিয়াং
  3. মেকং
  4. লেনা
ব্যাখ্যা

ইয়াংসিকিয়াং:
- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৩৫.
যমুনা নদীর পূর্বনাম কী?
  1. লোহিত্য
  2. দোলাই
  3. জোনাই
  4. কীর্তিনাশা
ব্যাখ্যা
 বিভিন্ন নদীর পূর্বনাম:
- যমুনা - জোনাই নদী,
- পদ্মা - কীর্তিনাশা,
- ব্রহ্মপুত্র - লোহিত্য,
- বুড়িগঙ্গা - দোলাই নদী (দোলাই খাল)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
বাংলাদেশের মোট নদীর দৈর্ঘ্য কতটুকু?
  1. ক) ৭০০ কিমি
  2. খ) ৬২৫৫ কিমি
  3. গ) ২১,২৫৫ কিমি
  4. ঘ) ২২,১৫৫ কিমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা প্রায় ৭০০। উপনদী, শাখানদী সহ বাংলাদেশের মোট নদীর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২২,১৫৫ কিলোমিটার৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী
৩৭.
মহাকালী নদী কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. ক) মিয়ানমার ও বাংলাদেশ
  2. খ) পাকিস্তান ও ভারত
  3. গ) ভারত ও নেপাল
  4. ঘ) বাংলাদেশ ও ভারত
ব্যাখ্যা
• সীমান্তবর্তী স্থান:
- মহাকালী নদী ভারত ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি দুটি দেশের মাঝে সীমানা হিসেবে চিহ্নিত।
- ভারতের দাবি, মহাকালী নদীর উৎপত্তি হয়েছে লিপুলেখ থেকে।
- এর বিপরীতে নেপাল বলছে, ভারত যে নদীকে মহাকালী নদীর উৎস বলছে, সেটি আসলে ওই নদীরই একটি উপনদী।
- তাই নেপাল লিপুলেখ গিরিপথকে নিজেদের দাবি করে আসছে।
- ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত নদীটির উৎপত্তিস্থল নিয়ে নেপালের সাথে ভারতের দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে।

উৎস: আনন্দবাজার এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৮.
‘পুয়ের্তোরিকো ট্রেঞ্চ’ এর অবস্থান কোথায়?
  1. ভারত মহাসাগরে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. উত্তর মহাসাগরে
  4. আটলান্টিক মহাসাগরে
ব্যাখ্যা
⇒ পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ হচ্ছে - আটলান্টিক মহাসাগর এবং ক্যারিবিয়ান সাগরের গভীরতম অংশ।

আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর মোট আয়তনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগর।
- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এই মহাসাগরের মোট আয়তন ১০৬.৪৬ মিলিয়ন (১০৬,৪৬০,০০০) বর্গকিলোমিটার।
- এর গড় গভীরতা ১০ হাজার ৯২৫ ফুট।

- এর পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ এবং পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ।
- উত্তর দিকে ‘উত্তর মহাসাগর’ এবং দক্ষিণে ‘দক্ষিণ মহাসাগর’।
- রহস্যঘেরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি সৈকত, পুয়ের্তো রিকো দ্বীপ ও বারমুডা দ্বীপের মাঝামাঝি অংশ) এই মহাসাগরেই।
- পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ আটলান্টিক মহাসাগর এবং ক্যারিবিয়ান সাগরকে পৃথক করেছে।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।
৩৯.
ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বতের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) ইউক্রেন
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত জার্মানিতে অবস্থিত।
- উৎপত্তিগত ভাবে ব্ল্যাক ফরেস্ট চ্যুতি-স্তূপ জাতীয় পর্বত।
- এই পর্বত থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৪০.
বিশ্বের গভীরতম হ্রদের নাম কী?
  1. বৈকাল
  2. লেক সুপিরিয়র
  3. কাম্পিয়ান
  4. চিলকা
ব্যাখ্যা
বৈকাল: 
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন আর গভীরতম সুপেয় পানির হ্রদ বৈকাল।
- আয়তনের দিক থেকেও এটি বৃহত্তম।
- এর আয়তন প্রায় ১২,২০০ বর্গমাইল (৩১,৫০০ বর্গকিলোমিটার)। 
- আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ, যেখানে পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মিঠা পানি রয়েছে। 
- এই হ্রদের অবস্থান রাশিয়ার সাইবেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায়।
- প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি এই বৈকাল হ্রদকে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয় ইউনেস্কো।
- রুশদের কাছে বৈকাল ‘সাইবেরিয়ার মুক্তা’ নামে পরিচিত। পৃথিবীর ১৯ ভাগ বিশুদ্ধ পানি এই হ্রদে রয়েছে।
- বৈকালে পানি রয়েছে ২৩ হাজার কিউবিক কিলোমিটার, যা যুক্তরাষ্ট্রের সব কটি বড় হ্রদের মোট পানির চেয়ে বেশি।

উৎস: Britannica.
প্রথম আলো
৪১.
কোন সালের ভূমিকম্পের ফলে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ১৭৮৬ সালে
  2. খ) ১৭৮৭ সালে
  3. গ) ১৭৮৮ সালে
  4. ঘ) ১৭৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
যমুনা নদী (Jamuna): 
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী। 
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪২.
আরব সাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যস্থিত প্রণালীর নাম -
  1. জিব্রাল্টা
  2. হরমুজ
  3. বাব-এল মান্দেব
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
বাব এল মান্দেব প্রণালী (Bab el-Mandeb Strait):
- বাব এল মান্দেব লোহিত সাগরে অবস্থিত একটি প্রণালী।
প্রণালীটি -
- পৃথক করে -- এশিয়া (ইয়েমেন) - আফ্রিকা (জিবুতি ও ইরিত্রিয়া)
- সংযুক্ত করে -- এডেন সাগর (আরব সাগর) ও লোহিত সাগর।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
৪৩.
সম্প্রতি, হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হয় কবে?  
  1.  ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১৫ অক্টোবর, ২০২৫
  4. ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্যাখ্যা

- হালদা নদীকে নতুন করে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করেছে সরকার। 
- দেশে স্বাদুপানির মৎস্য খাতে অনন্য অবদান রাখা চট্টগ্রামের এ নদীটিকে দ্বিতীয়বারের মতো হেরিটেজ ঘোষণা করে ৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

• মৎস্য হেরিটেজ:
- গেজেট অনুযায়ী হালদা থেকে কোনো প্রকার মাছ ও জলজ প্রাণী ধরা বা শিকার করা যাবে না।

- একইসঙ্গে এ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৭টি খালে ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে মাছের নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে।

- ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার গেজেট অনুযায়ী হালদা নদীর প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কার্যকলাপ রহিত করা ছাড়াও ভূমি ও পানির বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয় এমন কাজ করা যাবে না।
- মাছ, ডলফিন ও জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কাজ, নদীর চারপাশে বসতবাড়ি, শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন, নদীর বাঁক কেটে সোজা করাসহ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৭টি খালে প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-জুলাই) মৎস্য আহরণ করা যাবে না।

তথ্যসূত্র: বনিক বার্তা।

৪৪.
নিম্নের কোন দেশ কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত নয়?
  1. বুলগেরিয়া
  2. গ্রীস
  3. ইউক্রেন
  4. জর্জিয়া
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণ সাগর একটি প্রাকৃতিক অভ্যন্তরীণ জলের অববাহিকা যা ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
ছয়টি দেশ কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত :
- বুলগেরিয়া,
- জর্জিয়া,
- রোমানিয়া,
- রাশিয়া,
- তুরস্ক এবং
- ইউক্রেন।

অন্যদিকে, গ্রীস এজিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত।

উৎস: www.bsnn.org
৪৫.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের খরস্রোতা নদী?
  1. গোমতী নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. যমুনা নদী
  4. কর্ণফুলী নদী
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী।
- এটি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে শুরু হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরচট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত।
- এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- এটি বাংলাদেশের অন্যতম খরস্রোতা নদী। 
- প্রধান উপনদী হলো কাসালং, হালদা, বোয়ালখালী।
- কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। 

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬.
মহাসাগরের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৪৭.
কোন নদী বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে ভারতে গিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. আত্রাই
  2. পুনর্ভবা
  3. ট্যাঙ্গন
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী
- বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী - ৫৭টি।
- বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদী - ৫৪টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী - ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)।

- বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে ভারতে গিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে - ৩টি নদী।
- এগুলো হল - আত্রাই, পুনর্ভবা এবং ট্যাঙ্গন।
- বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশকারী নদী - ১টি (কুলিখ)।

তথ্যসূত্র - পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪৮.
হিন্ডেনবার্গ লাইন কী?
  1. ক) আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত রেখা
  2. খ) জার্মানি-পোল্যান্ডের সীমান্তরেখা
  3. গ) ভারত ও তিব্বতের সীমান্ত রেখা
  4. ঘ) জার্মানির ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যুহ
ব্যাখ্যা
হিন্ডেনবার্গ লাইন (Hindenburg Line):
অবস্থানঃ জার্মানি - ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, উত্তর পূর্ব ফ্রান্স সীমান্ত)।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬-১৭ সালে জার্মানি কর্তৃক এর পশ্চিম ফ্রন্টে নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যূহ। ১৯১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণে এর পতন হয়।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা লাইনঃ
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
- ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৪৯.
সাঙ্গু নদীর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১২০ কি.মি.
  2. ২৯৪ কি.মি.
  3. ৩২০ কি.মি.
  4. ৩২৪ কি.মি.
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু-ফেনী, নাফ, মাতামুহুরী:
- সাঙ্গু নদী উত্তর আরাকান পাহাড় থেকে নির্গত হয়ে বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এটি ২৯৪ কি.মি. দীর্ঘ।
- পার্বত্য ত্রিপুরায় উৎপত্তি হয়ে ফেনী জেলায় প্রবেশ করেছে ফেনী নদী।
- সন্দ্বীপের উত্তরে ফেনী নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ মিয়ানমারের সীমান্তে নাফ নদী অবস্থিত।
- এর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কি. মি। 
- এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- লামার মাইভার পর্বতে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- নদীটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার পশ্চিম পাশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কি.মি.।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বাংলাদেশের নদ-নদী সংজ্ঞা ও সংখ্যা অনুসারে, সাঙ্গু নদী ২৯৪ কি.মি. দীর্ঘ। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০.
ওডেসা কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) গ্রিস
  2. খ) ইতালি
  3. গ) স্পেন
  4. ঘ) ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
ওডেসা হলো কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ইউক্রেনের প্রধান সমুদ্রবন্দর।
ওডেসা ব্যতীত ইউক্রেনের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরের মধ্যে মারিয়োপোল, অলিভিয়া, পিভডেনি, মাইকোলেভ অন্যতম।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৫১.
ফিনল্যান্ড ও রাশিয়াকে পৃথককারী সীমারেখার নাম কী?
  1. ম্যাকনামারা লাইন
  2. ম্যানারহেইম লাইন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. ওডারনিস লাইন
ব্যাখ্যা
- ম্যানারহেইম লাইন : ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া।
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- ডুরান্ড লাইন হলো পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমারেখা।
- ম্যাকনামারা লাইন : উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৫২.
মেঘনা নদী কোথায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়?
  1. ভৈরববাজারে
  2. আজমিরীগঞ্জে
  3. চাঁদপুরে
  4. গোয়ালন্দে
ব্যাখ্যা

মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
iv) বাংলাপিডিয়া।

৫৩.
সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম কী?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. ইছামতি
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
⇒ সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা: ১২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা: ৩৬টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম: ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা: ২২২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম: সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা: ৯৭টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৫৪.
কোন নদীটি বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় সমাপ্ত হয়েছে?
  1. গোমতী নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. হালদা নদী
  4. সুরমা নদী
ব্যাখ্যা
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের জলসীমায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হালদা নদী।
- হালদা নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

সূত্র: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৫৫.
আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম তীরে কোনটি অবস্থিত?
  1. এশিয়া
  2. ইউরোপ
  3. আমেরিকা
  4. আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- এর পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা এবং পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আয়তন ৮১,৭৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট  এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৬.
আল্পস পর্বতমালা কোথায় অবস্থিত?
  1. পশ্চিম ইউরোপে
  2. পূর্ব ইউরোপে
  3. দক্ষিণ ইউরোপে
  4. দক্ষিণ আমেরিকায়
ব্যাখ্যা

• আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
বাটনাতলী পর্বতশৃঙ্গ থেকে কোন নদীর উৎপত্তিস্থল?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) হালদা
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা
• নদীর উৎপত্তি ও গতিপথঃ
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- সুউচ্চ পর্বত শ্রেণীমালা উত্তরে রেখে হালদা নদী এর পর দক্ষিণ-পশ্চিমে বরাবর প্রবাহিত হয়ে আবার দক্ষিণ গতিপথে এর মূল অববাহিকা গঠনকারী ফটিকছড়ির বিবিরহাট, নাজিরহাট, সাত্তারঘাট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাটহাজারী, রাউজান, এবং চট্টগ্রাম শহরের চাঁদগাও থানা দিয়ে অতিক্রম করে গেছে। কালুরঘাটের কাছে এটি কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিমি, যার মধ্যে নাজিরহাট পর্যন্ত ২৯ কিমি সারা বছরই বড় নৌকা পরিবহণের উপযোগী, আর ছোট নৌকাগুলো আরও ২০ থেকে ২৫ কিমি অভ্যন্তরে অর্থাৎ নারায়ণহাট পর্যন্ত চলাচল করতে পারে। কাঠ, বাঁশ, ছন ইত্যাদি বনজ সম্পদ রামগড়ের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই নদী দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে আসা হয় এবং - চট্টগ্রাম শহরের পণ্যসামগ্রীর অধিকাংশই হালদা নদীপথে বড় মালবাহী নৌকার মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়।

• নদীর নামকরণঃ
- হালদা নদীর উৎপত্তি স্থল মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের পাহাড়ী গ্রাম সালদা।
- সালদার পাহাড়ী র্ঝণা থেকে নেমে আসা ছড়া সালদা থেকে হালদা নামকরণ হয়।
- সালদা নামে বাংলাদেশে আরো একটি নদী আছে যেটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে উৎপন্ন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হাটহাজারী উপজেলা ওয়েবসাইট।
৫৮.
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে নিম্নের কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. হালদা
  2. যমুনা
  3. কর্ণফুলী
  4. মহানন্দা
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রবেশের পর রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদী বঙ্গোপসাগরের পতিত হয়েছে।
- নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২০ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।
- হালদা, কাসালং প্রভৃতি কর্ণফুলীর উপনদী।

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
পদ্মা নদী: হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
মেঘনা নদী: আসামের লুসাই পাহাড়।
যমুনা নদী: ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
করতোয়া: সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
সাঙ্গু নদী: মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
হালদা নদী: খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
মহানন্দা নদী: মহালড্রীম, দার্জিলিং।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে?
  1. ক) কালা পাহাড়ে
  2. খ) ময়নামতি পাহাড়ে
  3. গ) চন্দ্রনাথের পাহাড়ে
  4. ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কুলাউড়া পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে। এটি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
৬০.
পানামা খাল কোন দুইটি মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  2. উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকা
  3. দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ
  4. এশিয়া ও ইউরোপ
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- অবস্থিত: পানামা প্রজাতন্ত্র, বুক চিরে কৃত্রিম খাল।
- খনন শুরু: ১৯০৪, সমাপ্ত: ১৯১৪।
- দৈর্ঘ্য: ৬৫ কিমি (গভীর জলভাগ থেকে ৮২ কিমি)।
- প্রস্থ: ৩০-৯০ মিটার।
- গভীরতা: ৪৬-৮৫ ফুট, স্থানভেদে পরিবর্তিত।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- পানামা খাল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজের পথ প্রায় ১৫,০০০ কিমি হ্রাস করেছে।

 উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬১.
ধলেশ্বরীর শাখা নদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. বুড়িগঙ্গা
  3. করতোয়া
  4. আত্রাই
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা :
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
- এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী
- এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
- করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬২.
গঙ্গা নদীর উৎপত্তি কোন দেশে?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. নেপাল
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়োগ নামক স্থানে ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদী মিলিত হয়ে গঙ্গা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। হিন্দু ধর্মে ভাগীরথী নদীকে গঙ্গার মূলধারা বিবেচনা করা হয়। ভাগীরথী নদী ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অলকানদীর উৎপত্তিও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে।

গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে উৎপত্তি হয়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে

বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে এটি গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়ে পদ্মা নামধারণ করেছে।

পদ্মা নদী চাঁদপুরের নিকট মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। গঙ্গা নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২,৬০০ কিলোমিটার।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬৩.
কোন নদী উৎপত্তি হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে?
  1. পদ্মা
  2. কর্ণফুলী
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
- এরপর প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অতঃপর ব্রহ্মপুত্র কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান শাখানদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৬৪.
ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. তিস্তা
  3. বংশী
  4. ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র: 
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। 
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য যে, 
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়। যা যমুনা নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান উপনদী।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি কোথায়?
  1. মণিপুর
  2. উত্তর প্রদেশ
  3. আসাম
  4. তিব্বত
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের হিমালয়ের কৈলাশ শৃঙ্গের নিকট মানস সরোবর হ্রদ থেকে উৎপত্তি লাভ করে তীব্বত (চীন) ও ভারত উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ভারতে এটি দিহাঙ নামে পরিচিত।
- ব্রহ্মপুত্র নদের মোট দৈর্ঘ্য ২,৮৫০ কিলোমিটার।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ভৈরববাজারের নিকট মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। তবে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এটির প্রধান শাখা যমুনা নামে প্রবাহিত যা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মায় মিলিত হয়েছে।
- ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬৬.
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. মেঘনা
  2. ব্রক্ষপুত্র
  3. পদ্মা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

• বৃহত্তম নদী বলতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইটে  কিছু নেই। প্রচলিত উত্তর হিসেবে মেঘনা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইট অনুযায়ী বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।

মেঘনা নদী:
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- শাখানদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম পদ্মা।
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর দৈর্ঘ্য ৩৪১ কি.মি.
- নদীটি রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগ দিয়ে প্রবাহিত।
- নদীটির উৎসমুখ: ভারত (শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
- নদীটির পতনমুখ: মেঘনা (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর)।
- বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদীর নাম ইছামতি (৩৩৪ কি.মি.)।
- বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদীর নাম সাঙ্গু/শঙ্খ (২৯৪ কি.মি.)।

উৎস: বাংলাদেশের নদ-নদী সংজ্ঞা ও সংখ্যা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

৬৭.
The deepest river in the world is-
  1. ক) The Amazon
  2. খ) The Yangtze
  3. গ) The ississippl-Missouri
  4. ঘ) The Nile
ব্যাখ্যা
বিশ্বের গভীরতম নদী হলো কঙ্গো (Congo ) নদী। 
বিশ্বের ২য় শীর্ষ গভীরতম নদী হলো Yangtze নদী। 
 
অপশনে, Yangtze নদী থাকায় একে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।  
 
বিশ্বের গভীরতম নদীর তালিকা :
1. Congo  
2. Yangzte    
3. Danube   
4  Zambezi    
5  Amazon
 
উৎস : ওয়ার্ল্ড এটলাস 
৬৮.
ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী সামুদ্রিক প্রণালী কোনটি?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
পক প্রণালী:

- পক প্রণালী ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী।
- এটি বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮৫ মাইল দীর্ঘ ।
-এই প্রণালীটি ৪০-৮৫ মাইল প্রশস্ত।
- জাফনা বন্দর, উত্তর শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক কেন্দ্র, এই প্রণালীতে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের নামে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬৯.
বৈকাল হ্রদ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. কানাডা
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
বৈকাল হ্রদ:
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে।
- বৈকাল হ্রদ অবস্থিত - রাশিয়া।
এছাড়াও -
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ অবস্থিত - আফ্রিকায়।
- সুপিরিয়র হ্রদ অবস্থিত - যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
ব্রহ্মপুত্র কোথায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) ভুরুঙ্গামারী
  3. গ) নীলফামারী
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র নদ:

- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরপূর্ব দিক এবং আসামের (ভারত) ভবানীপুরের পূর্ব দিক দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- প্রথমে দক্ষিণ দিকে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণপূর্ব দিকে মোড় নিয়ে মধুপুর গড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরব বাজারের কাছে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিতভাবে ব্রহ্মপুত্র নদ বঙ্গীয় বদ্বীপ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের প্রধান নদনদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা সর্বাধিক শক্তিশালী। - গঙ্গা নদীর তুলনায় ক্ষুদ্রতর নিষ্কাশন অববাহিকা থাকা সত্ত্বেও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার রয়েছে অধিকতর নতিমাত্রা, অধিকতর প্রবাহ এবং গঙ্গার তুলনায় এটি অধিকতর পলি বহন ও ধারণ করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭১.
The country with highest population density is:
  1. ক) China
  2. খ) Japan
  3. গ) Monaco
  4. ঘ) Bangladesh
  5. ঙ) India
ব্যাখ্যা
ঘনবসতিপূর্ণ দেশ:

- বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ মোনাকো।
- অপশনে মেকাও না থাকায় সঠিক উত্তর হবে- মোনাকো।
- দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাসকারী লোকসংখ্যা ১৮,১৪৯ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - গ্রীন্ডল্যান্ডে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ১০ দেশ: মেকাও, মোনাকো, সিঙ্গাপুর, হংকং, জিব্রাল্টার, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মাল্টা, বাংলাদেশ, সিন্ট মার্টেন।

এছাড়াও,
- চীনের সীমানার ভেতরে স্বায়ত্ত্বশাসিত একটি এলাকা ম্যাকাও৷ ১৯ বছর আগে চীনের কাছে এই পর্তুগিজ উপনিবেশটি হস্তান্তরিত হয়। এর আয়তন ১১ দশমিক ৮ বর্গমাইল৷ এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২ হাজার ৪’শ ৭৭ জন ৷ মাকাও-এর অসংখ্য ক্যাসিনো আকর্ষণ করে ট্যুরিস্টদের৷ এটিকে এশিয়া মহাদেশের ’লাস ভেগাস’ ও বলা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট ২০২৩ এবং বিজনেস ইনসাইডার পত্রিকা রিপোর্ট।
৭২.
ব্রহ্মপুত্র নদ মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে কোথায়?
  1. চাঁদপুর
  2. গোয়ালন্দ
  3. ভৈরব বাজার
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭৩.
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা নদীর একমাত্র উপনদী কোনটি?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) আত্রাই
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) ধরলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা নদীর সমগ্র প্রবাহপথই 'পদ্মা' নামে বহুল পরিচিত, যদিও তা সঠিক নয়। বাংলাদেশে এর উপনদী কেবল একটি যা মহানন্দা নামে পরিচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭৪.
দুটি প্রাচীন নদীর নাম-
  1. সুরমা, কর্ণফুলী
  2. রেবা, বেত্রবতী
  3. বুড়িগঙ্গা, মহানন্দা
  4. পদ্মা, মেঘনা
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লেখিত নদীগুলোর মধ্যে রেবা ও বেত্রবতী নদী সবচেয়ে প্রাচীন।

রেবা নদী:
- রেবা নদী মূলত নর্মদা নদীর আরেকটি নাম।
- নর্মদা নদী , মধ্য ভারতের নদী যা সবসময় আরব সাগর এবং গঙ্গা (গঙ্গা) নদী উপত্যকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
- দ্বিতীয় শতাব্দীর গ্রীক ভূগোলবিদ টলেমি নদীটিকে নামদে নামে অভিহিত করেছিলেন।
- এই নদী ভারতের অন্যতম পবিত্র এবং প্রাচীন নদী, যা মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পতিত হয়েছে।

বেত্রবতী নদী:
- বেত্রবতী নদী হল বেতওয়া নদীর আরেকটি নাম। বেতওয়া নদী মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর উল্লেখ মহাকাব্য মহাভারত এবং অন্যান্য প্রাচীন সাহিত্যে পাওয়া যায়, যা এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৭৫.
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. ক) যুদ্ধ
  2. খ) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  3. গ) নদীভাঙন
  4. ঘ) মরুকরণ
ব্যাখ্যা
মানুষের সৃষ্ট কারণে বা মানুষের অবহেলা, ভুলভ্রান্তি বা অভিপ্রায় থেকে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয় তাই মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। যেমনঃ যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭৬.
কোন আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমার মীমাংসা হয়?
  1. ক) আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
  2. খ) বিশেষ সালিশি আদালত
  3. গ) সমুদ্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল
  4. ঘ) স্থায়ী সালিশি আদালত
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ বনাম ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলা হয় নেদারল্যান্ডস এ অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে (Permanent Court of Arbitration-PCA)।
- এই সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায় হয় ২০১৪ সালের ৮ জুলাই।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ ছিল ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার।
- এই মামলার রায়ে বাংলাদেশ পায় ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার।

৭৭.
‘কাস্পিয়ান সাগর’ কয়টি দেশের সীমান্তে স্পর্শ করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।
-  এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কিরগিজস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাজাখস্তান, পশ্চিমে আজারবাইজান, দক্ষিণে ইরান এবং দক্ষিণ-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান ঘিরে আছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭৮.
ইউফ্রেটিস নদীর অপর নাম কী?
  1. ফোরাত
  2. টাইগ্রিস
  3. বিতাস্তা
  4. দজলা
ব্যাখ্যা
ইউফ্রেটিস নদী:
- ইউফ্রেটিস নদী দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘতম নদী। 
- এর আরেক নাম ফোরাত।
- এর উৎপত্তি তুরস্কতে হয়ে ইরাক ও সিরিয়ার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দজলা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- তারপর শাত ইল আরব নামে পরিচিত পারস্য উপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নদীর তীরঘেঁষা প্রধান শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার রাক্কা ও দাইর আজ জর, ইরাকের রামাদি। 

উল্লেখ্য,
- এই নদী দুটির (ইউফ্রেটিস নদী ও টাইগ্রিস নদী) অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- প্রাচীন সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয় এবং আসিরীয় সভ্যতাগুলোও এখানে বিকাশ লাভ করেছে।

উৎস: Britannica.
৭৯.
নিচের কোনটি পদ্মা নদীর উপর নির্মিত সেতু?
  1. লালন শাহ সেতু
  2. হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
  3. পদ্মা সেতু
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
লালন শাহ সেতু:  
- লালন শাহ সেতু ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অদূরে পদ্মা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়।
- সেতুটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৩ সালে।
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১.৮ কিমি এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ: 
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু।
- ২৪ হাজার ৪০০ শ্রমিক-কর্মচারীর পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই ব্রিজ।
- পাবনা জেলার পাকশী রেলস্টেশনের দক্ষিণে পদ্মা নদীর ওপর এই সেতু অবস্থিত।
- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে এই সেতুর নামকরণ করা হয়।
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। ব্রিজের ওপর দুটি ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে।

পদ্মা সেতু:  
- পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সেতু।
- এই সেতু দিয়ে যুগপৎভাবে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল করে।
- এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটে।
- পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
- দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতু নির্মিত হয়েছে কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে যার ওপর দিয়ে যানবাহন আর নিচে দিয়ে ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮০.
পৃথিবী পৃষ্ঠের শতকরা কতভাগ জলরাশি দখল করে আছে?
  1. ৭১ ভাগ
  2. ৭২ ভাগ
  3. ২৯ ভাগ
  4. ৬০ ভাগ
ব্যাখ্যা
•পানির উৎস ও বন্টন:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের মোট আয়তন প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ১৯৭ মিলিয়ন বর্গমাইল।
- এর মধ্যে  ৭১% জলভাগ।
- এবং ২৯% স্থলভাগ।
- আবার পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে।
- অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে ।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পানি একই অবস্থায় না থেকে তিনটি বিশেষ অবস্থায় রয়েছে।
- পানির তিনটি অবস্থা হলো-কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল।
- পানি বায়ুমন্ডলে রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে এবং ভূ-পৃষ্ঠে রয়েছে কঠিন ও তরল অবস্থায়।

• পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর রয়েছে-
১. প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean);
২. আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean);
৩. ভারত মহাসাগর (Indian Ocean);
৪. দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean);
৫. উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean)।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
গোয়াদার কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) ইরান
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) মরক্কো
  4. ঘ) সিরিয়া
ব্যাখ্যা
- গোয়াদার, করাচি : পাকিস্তানের সমুদ্রবন্দর
- চাবাহার, বন্দর আব্বাস, আবাদান : ইরানের সমুদ্রবন্দর
- তাঞ্জিবার ও কাসাব্লাংকা : মরক্কোর সমুদ্রবন্দর
- লাতাকিয়া : সিরিয়ার সমুদ্রবন্দর।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৮২.
নিচের কোনটি প্রবাল দ্বীপ?
  1. ক) সোনাদিয়া
  2. খ) সেন্ট মার্টিন
  3. গ) কুতুবদিয়া
  4. ঘ) মহেশখালি
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
৮৩.
পদ্মা নদী কোন জেলায় মেঘনার সাথে মিলিত হয়?
  1. চাঁদপুর
  2. শরিয়তপুর
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. মাদারিপুর
ব্যাখ্যা
পদ্মা-মেঘনা মিলনস্থল
- পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ - ৩৪১ কিলোমিটার।
-  হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে এই নদী গঙ্গা নামে ভারতে প্রবাহিত হয়।
- গঙ্গা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করে পদ্মা নামে পরিচিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে।
- পদ্মা চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে  কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৪৪ কিমি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নির্দেশ করে ।

- রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মা-যমুনা মিলিত হয়ে পদ্মা নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়।
- এই প্রবাহ শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ এর নিকট এসে মেঘনা নদীতে মিশে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
- পদ্মা-মেঘনা মোহনার পদ্মা অংশ শরিয়তপুর এবং মেঘনা অংশ চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত।
- তাই বলা যায়, পদ্মা শরিয়তপুরে এসে মেঘনায় মিশেছে আর মেঘনা চাঁদপুরে এসে পদ্মায় মিলেছে।

- কীর্তিনাশা পদ্মার আরেক নাম।
- মধুমতি, ভৈরব, কপোতাক্ষ , ইছামতি, কালিগঙ্গা ইত্যাদি পদ্মার শাখা নদ ও নদী।

উল্লেখ্য, 
- দিন দিন পদ্মা ছোট হয়ে আসছে। একই সাথে দূষিতও হচ্ছে।
- এদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যহত রাখতে পদ্মা নদী সহ সকল জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণে সকলের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আবশ্যক।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি), 
২. বাংলাদেশের নদ এবং নদী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। লিংক
৮৪.
হর্ন অন্তরীপ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) চিলি
  3. গ) পর্তুগাল
  4. ঘ) সোমালিয়া
ব্যাখ্যা
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- উত্তমাশা অন্তরীপ : দক্ষিণ আফ্রিকা
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড
- গার্দাফুই অন্তরীপ : সোমালিয়া
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত
- ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন।
(সূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৮৫.
ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত থেকে কোন নদী উৎপত্তি লাভ করে?
  1. নীলনদ
  2. দানিয়ুব নদী
  3. ওডার নদী
  4. ভলগা নদী
ব্যাখ্যা
ব্ল‍্যাক ফরেস্ট:
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত জার্মানিতে অবস্থিত।
- জার্মানির দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি বনভূমি 'ব্ল্যাক ফরেস্ট।
- এটি পশ্চিম এবং দক্ষিণে রাইন উপত্যকা দ্বারা আবদ্ধ।
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি ঘটেছে।
- দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী (২,৮৫০ কি.মি.)।
- ইউরোপের দশটি দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দানিয়ুব নদী কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ভলগা নদীর উৎপত্তিস্থল রাশিয়ার ভলদাই পাহাড়।
- ওডার নদীর উৎপত্তিস্থল চেক প্রজাতন্ত্রের রুক্ষ পাহাড়ে উৎপন্ন হয়।
- নীলনদ উৎপত্তি লাভ করে ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে। 

উৎস: Worldatlas ও ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬.
শান্ত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বুধগ্রহে
  2. খ) বুধগ্রহে
  3. গ) চাঁদে
  4. ঘ) শনিগ্রহে
ব্যাখ্যা
- শান্ত সাগর (Sea of Tranquility) চাঁদে অবস্থিত। 
- Sea of Tranquility এর অপর নাম Mare Tranquillitatis. 
- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
 
উৎস: নাসা ওয়েবসাইট
৮৭.
গ্রীণল্যান্ড সম্পর্কিত কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. ক) বিশেষ গুপ্ত সংগঠন
  2. খ) এটি একটি ফ্যান্টাসি পার্ক
  3. গ) বাংলাদেশের চেয়েও সবুজ শ্যামল দেশ
  4. ঘ) ডেনমার্কের অধিনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল
ব্যাখ্যা
গ্রীণল্যান্ড পৃথিবী সবচেয়ে বড় আইল্যান্ড বা দ্বীপ যা কিংডম অব ডেনমার্কের অধিনে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল৷
source: Britannica
৮৮.
বাংলাদেশে ঢোকার পর গঙ্গা নদী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার সাথে নিম্নোক্ত একটা জায়গায় মেশে-
  1. গোয়ালন্দ
  2. বাহাদুরাবাদ
  3. ভৈরববাজার
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা (Padma) নদী:
বাংলাদেশের প্রধান নদী পদ্মা। এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

- পদ্মা নদী রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে।

- অত:পর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

• পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে-
- কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।

• পদ্মার উপনদীগুলোর মধ্যে — মহানন্দা প্রধান।

• আর মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে — পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন,  পাগলা প্রভৃতি। 

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল (১ম পত্র), নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ চীন সাগর
  2. খ) জাপান সাগর
  3. গ) পূর্ব চীন সাগর
  4. ঘ) পীত সাগর
ব্যাখ্যা
- সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত।
- দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- দ্বীপাঞ্চলটির চীনা নাম দিয়াউ দ্বীপ।
- পাঁচটি ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের আয়তন ১,৭০০ একর।
(সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট)
৯০.
বরিশাল শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কীর্তনখোলা
  2. মধুমতী
  3. আড়িয়াল খাঁ
  4. পদ্মা
ব্যাখ্যা
• বরিশাল জেলা:
- বরিশাল জেলা কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত।
- বরিশাল জেলাকে বাংলার শস্যভান্ডার বলা হয়।
- এ শহরের পুরাতন নাম চন্দ্রদ্বীপ।
- এই বরিশাল নগরীতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী ও খাল।
- এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ অনেকাংশেই নির্ভরশীল ছিল এইসব নদী ও খালের উপর।
- ধান- নদী -খাল এই তিনে বরিশাল' খ্যাত বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ রাজ্য প্রতিষ্ঠার পূর্বে এ অঞ্চল ‘বাকলা' নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯১.
'গ্রেট বেরিয়ার রিফ' নামের প্রবাল প্রাচীরটি কোন মহাদেশের তীর ঘেঁষে উত্থিত হয়েছে?
  1. এশিয়া
  2. আফ্রিকা
  3. ইউরোপ
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কুইন্সল্যান্ডের কোরাল সাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত।
- অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতটে গড়ে ওঠা এই প্রবাল প্রাচীরটি প্রায় ৩৪,৪৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার স্থান জুড়ে অবস্থিত।
- অর্থাৎ 'গ্রেট বেরিয়ার রিফ' নামের প্রবাল প্রাচীরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের তীর ঘেঁষে উত্থিত হয়েছে।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। লিঙ্ক
৯২.
নায়াগ্রা জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো
  3. গ) কানাডা-অষ্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
নায়াগ্রা জলপ্রপাত:

- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় অবস্থিত।
- উত্তর-পূর্ব - নায়াগ্রা জলপ্রপাত, উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পাশের সবচেয়ে বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্টারিও, কানাডা এবং নিউইয়র্ক রাজ্যের সীমান্তে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৯৩.
'হিন্ডেনবার্গ লাইন' কোন নিচের কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. জার্মানি ও বেলজিয়াম
  2. আফগানিস্তান ও ভারত
  3. জার্মান ও পােল্যান্ড
  4. উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
হিন্ডেনবার্গ লাইন (Hindenburg Line):
অবস্থানঃ জার্মানি - ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, উত্তর পূর্ব ফ্রান্স সীমান্ত)।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬-১৭ সালে জার্মানি কর্তৃক এর পশ্চিম ফ্রন্টে নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যূহ। ১৯১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণে এর পতন হয়।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা লাইনঃ
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
- ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৯৪.
The Nord Stream-2 pipeline is located under -
  1. ক) Caspian Sea
  2. খ) Baltic Sea
  3. গ) Red Sea
  4. ঘ) Mediterranean Sea
ব্যাখ্যা
নর্ড স্ট্রিম-২:
- নর্ড স্ট্রিম-২ হলো বাল্টিক সাগরের মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত ১২৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ (৭৬৭ মাইল) প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন।
- নর্ড স্ট্রিম-১ এর অনুরূপ রুট অনুসরণ করে ২০১১ সালে পাইপলাইনের নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
- ২০১৫ সালে চালু হওয়া নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইনটি বাল্টিক সাগরের মাধ্যমে সরাসরি রাশিয়া এবং জার্মানির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বিলম্বের কারণে নির্মাণে বেশ কয়েক বছর লেগেছে। 
- নর্ড স্ট্রিম-২ এর  অল্প কিছু জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।
- পাইপলাইনের মালিক গাজপ্রম।
- এটি একটি রাশিয়ান রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি।
- গ্যাস আমদানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এটি প্রয়োজন।
- জার্মানির জ্বালানি খাত পাইপলাইনটিকে একটি কার্যকর বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসেবেও দেখে।

উৎস: The Nord Stream 2 pipeline - European Parliament, europa.eu.
৯৫.
ভিক্টোরিয়া হ্রদ কোন নদীর উৎসস্থল?
  1. নীলনদ
  2. দানিয়ুব
  3. টাইগ্রিস
  4. আমাজান
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- "নীল" নামটি গ্রিক শব্দ "নিলোস" থেকে এসেছে, যার অর্থ উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- নীল নদ আফ্রিকায় অবস্থিত এবং এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬,৬৫০ কিলোমিটার।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ নীল নদের প্রধান উৎস।
- নীল নদ বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে মিশে যায়।
- এটি ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৯৬.
'লেক জেনেভা' কোন দুইটি দেশে অবস্থিত?
  1. সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া
  2. সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স
  3. সুইজারল্যান্ড ও ইতালি
  4. সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি
ব্যাখ্যা
লেক জেনেভা:
- লেক জেনেভা এর আরেক নাম লেক লেমান।
- এটি দুইটি দেশে অবস্থিত।
- দেশগুলো হলো সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স।
- এর আয়তন ৫৮১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি আল্পস পর্বতমালার উত্তর দিকে একটি গভীর হ্রদ।

উৎস: Britannica.
৯৭.
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে কয়টি লেক বুঝানো হয়?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
গ্রেট লেকস (Great Lakes):
- গ্রেট লেক উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সেন্ট লরেন্স নদীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- গ্রেট লেকের আয়তন প্রায় ৯৪,২৫০ বর্গ মাইল (২৪৪,১০৬ বর্গ কিলোমিটার)।
- এটি কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানায় বিস্তৃত।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে ৫টি লেক বুঝানো হয়।
- ৫টি লেক বা হ্রদ হলো: সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, এরি এবং অন্টারিও।

উৎস: Britannica.
৯৮.
লোহিত সাগরের তীরবর্তী দেশ কোনটি?
  1. ইরান 
  2. ইরিত্রিয়া 
  3. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  4. কুয়েত
ব্যাখ্যা

- লোহিত সাগরের তীরবর্তী দেশ ইরিত্রিয়া।

• লোহিত সাগর (Red Sea):

- ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- যা আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি সুয়েজ প্রণালী ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত।

• অবস্থান ও সীমান্তবর্তী দেশসমূহ:
- উত্তর সীমা: সিনাই উপদ্বীপ, সুয়েজ উপসাগর ও আকাবা উপসাগর;
- দক্ষিণ সীমা: বাব এল-মানদেব প্রণালী, যা গালফ অব অ্যাডেনের সাথে সংযুক্ত;
- লোহিত সাগরের তীরবর্তী ৬টি দেশ;
- পূর্ব তীর: সৌদি আরব ও ইয়েমেন;
- পশ্চিম তীর: মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি।

উল্লেখ্য,
- লোহিত সাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত আকাবা উপসাগর (Gulf of Aqaba) এবং সুয়েজ উপসাগর (Gulf of Suez) এর কারণে ইসরায়েল এবং জর্ডানও তীরবর্তী হিসেবে গণ্য হয়। তবে সরাসরি সংযুক্ত নেই লোহিত সাগরের সাথে।

উৎস: Britannica.

৯৯.
নীলনদ কয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ৯টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

• নীল নদ:
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica. [link] 

১০০.
গোমতী, তিতাস কোন নদীর উপনদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন,
ii) ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
iii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি,
iv) বাংলাপিডিয়া।