বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯৫ / ১৭৪ · ৯,৪০১৯,৫০০ / ১৭,৪৩৭

৯,৪০১.
উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জে. সি. মার্শম্যান
  2. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. জেমস অগাস্টাস হিকি
  4. আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক
সঠিক উত্তর:
জেমস অগাস্টাস হিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেমস অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন- জেমস অগাস্টাস হিকি। 
-----------------------------------------------
• বেঙ্গল গেজেট:
- ভারত তথা উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র হলো বেঙ্গল গেজেট (বা হিকি'স বেঙ্গল গেজেট)।
- এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও মালিক ছিলেন আইরিশ ব্যক্তি জেমস অগাস্টাস হিকি।
- পত্রিকাটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হতো।
- এটি ‘ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভারটাইজার’ নামেও পরিচিত ছিল।
- হিকি তার সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশের ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দেওয়ার ব্রত নিয়েছিলেন।
- যদিও এটি মাত্র দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল, তবুও বেঙ্গল গেজেট ভারতের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
• শ্রীরামপুর মিশন থেকে জে. সি. মার্শম্যান সমাচার দর্পন প্রকাশ করতেন।
• ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য বাঙ্গাল গেজেট পরিচালনা করতেন।
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা আজাদী চট্টগ্রাম থেকে ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৯,৪০২.
'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানোএল দা আসসাম্পসাঁউ
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. ঘ) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ- এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ (১৭৭৮)। গ্রন্থটির রচয়িতা ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ও সম্পূর্ণ ব্যাকরণ গ্রন্থ। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজি ভাষায় রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪০৩.
প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. তেল-নুন-লকড়ি
  2. আহুতি
  3. বীরবলের হালখাতা
  4. রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
আহুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহুতি
ব্যাখ্যা
• ‘আহুতি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• প্রমথ চৌধুরী:
-  ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্য চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- ছদ্মনাম: বীরবল।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
তেল-নুন-লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা, ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০৪.
জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন কোন কবি?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
আধুনিক কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশ অন্যতম।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে বলেছেন ‘চিত্ররূপময়’।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।
- এছাড়া তাঁকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি বলা হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪০৫.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কুলীন কুলসর্ব্বস্ব
  3. কীর্তিবিলাস
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

​• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• ​তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

​অন্যদিকে,
​• রামনারায়ণ তর্করত্ম রচিত নাটক: কুলীন কুলসর্ব্বস্ব।
• তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক: ভদ্রার্জুন।
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক: কীর্তিবিলাস।

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

৯,৪০৬.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  2. লাশ আমরা রাখব কোথায়
  3. আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. বাতাসে লাশের গন্ধ
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
ব্যাখ্যা
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি  প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'। 

------------
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি।
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি-
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিলো
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

-------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' ও 'লাশ আমরা রাখব কোথায়' শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস -
  1. বিনুর বই
  2. প্রকৃতির পরিহাস
  3. অপসরণ
  4. জীবনশিল্পী
সঠিক উত্তর:
অপসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপসরণ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - অপসরণ।

• অপসরণ:
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস 'অপসরণ'।
- উপন্যাসটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভারতবর্ষ থেকে ইউরোপ পর্যন্ত প্রসারিত পটভূমিতে রচিত এপিকধর্মী এই উপন্যাস ছয়টি তত্ত্বপ্রধান ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তবে কিছুটা কৃত্রিম।
---------------------  
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০৮.
নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি কোনটি?
  1. রূপকথা
  2. হিন্দোল
  3. রূপজালাল
  4. রূপ লহরী
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
ব্যাখ্যা

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর ’রূপজালাল’ (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪০৯.
'মিলনরাত্রি' - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারি দেবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণকুমারি দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণকুমারি দেবী
ব্যাখ্যা
'মিলনরাত্রি' - উপন্যাসের রচয়িতা - স্বর্ণকুমারি দেবী।

• স্বর্ণকুমারি দেবী  ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট কলকাতার জোড়াসাঁকো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো:
উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ
- মেবার রাজ
- মালতী
- বিদ্রোহ
- স্বপ্নবাণী
- মিলনরাত্রি

নাটক:
- বসন্ত উৎসব
- বিবাহ উৎসহ
- দেব কৌতুক

কাব্য:
- গাথা
- কবিতা ও গান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিসর্জন' নাটকে কোন চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. অপু
  2. রঘুপতি
  3. ইন্দ্রকুমার
  4. রাজেন্দ্রলাল
সঠিক উত্তর:
রঘুপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঘুপতি
ব্যাখ্যা
• 'বিসর্জন' নাটক:
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৪১১.
‘গুণরাজ খান’ উপাধি কে পেয়েছিলেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. বিদ্যাপতি
  3. মালাধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু ও তাঁর উপাধি: গুণরাজ খান।
মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই উপাধি কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাব্যরচনার সময় দুইজন গৌড়েশ্বর ছিলেন:

এরা হলেন - 
• রুকনুদ্দিন বরবক শাহ – কাব্য রচনার প্রথম পর্যায় গৌড়েশ্বর।
• শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – কাব্য রচনার শেষ পর্যায় গৌড়েশ্বর।

তবে কবির নিজ কাব্য থেকেই পাওয়া যায় এই উক্তি-
“গুণ নাই, অধম মুই, নাহি কোন জ্ঞান।
 গৌড়েশ্বর দিল নাম গুণরাজ খান।”

এই পদ থেকেই ধারণা করা হয়, মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন রুকনুদ্দিন বরবক শাহ।

উল্লেখ্য:
মালাধর বসু ছিলেন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি সংস্কৃতপটু, হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মুসলিম শাসকের কাছ থেকে এই সম্মান লাভ করেন, যা তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় সহনশীলতার নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৪১২.
'ছড়ানো এই জীবন' স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
- 'ছড়ানো এই জীবন' স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটির রচয়িতা - বিষ্ণু দে। 

বিষ্ণু দে: 
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। 
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাহিত্যকর্ম: 
- উর্বশী ও আর্টেমিস, 
- চোরাবালি, 
- সাত ভাই চম্পা, 
- রুচি ও প্রগতি, 
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ, 
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, 
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, 
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত, 
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা, 
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা, 
- In the Sun and the Rain, 
- উত্তরে থাকো মৌন, 
- সেকাল থেকে একাল, 
- আমার হূদয়ে বাঁচো ইত্যাদি। 

স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ: 
- ছড়ানো এই জীবন। 

সম্পাদিত গ্রন্থ: 
- এ কালের কবিতা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৯,৪১৩.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্ব শুরু হয় কত শতকে?
  1. ১৮
  2. ১৭
  3. ১৯
  4. ২০
সঠিক উত্তর:
১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্ব শুরু হয় ১৯ শতকে

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে -
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
• মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
অর্থাৎ আধুনিক পর্ব শুরু হয় ১৯ শতকে

- দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ-সম্পর্কিত অভিমত উল্লিখিত যুগবিভাগকে সমর্থন করে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মধ্য ও আধুনিক যুগের এই সময় মেনে নিলেও, তাঁর মতে, প্রাচীন যুগের সময়সীমা - ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।

• যুগের এই তিনটি ভাগের মধ্যে আবার ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলে।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪১৪.
“নদী ও নারী” কোন ইংরেজি উপন্যাসের বাংলা রূপান্তর? 
  1. The River and Women
  2. Men and River
  3. Rivers and Women
  4. Men and Rivers
সঠিক উত্তর:
Men and Rivers
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Men and Rivers
ব্যাখ্যা

• “নদী ও নারী” হুমায়ুন কবিরের 'Men and Rivers' নামক ইংরেজি উপন্যাসের বাংলা রূপান্তর।

• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- এটি তাঁর ইংরেজি উপন্যাস “Men and Rivers”-এর বাংলা রূপান্তর, যা ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে। 

• তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।

উৎস:
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৪১৫.
শামসুর রাহমান রচিত কোন কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর?
  1. ক) তুমি বলেছিলে
  2. খ) টানাপোড়েন
  3. গ) ভালোবাসা তুমি
  4. ঘ) আসাদের শার্ট
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি বলেছিলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি বলেছিলে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত 'তুমি বলেছিলে' কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর।  

• ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতার ভাবার্থ: 
- ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতায় বর্বর হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিঃসংকোচে।
- নয়াবাজার, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মন্দির, মানচিত্র, পুরনো দলিল ইত্যাদি ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
- একে-একে তারা সব ধ্বংস করেছে। ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই দিকবিদিক।
- বনপোড়া হরিণী যেমন বন থেকে পালায়, তেমনি নবজাতককে বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী শহর ছেড়ে পালাচ্ছে।

তুমি বলেছিলে – কবিতা
শামসুর রাহমান
----------------
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।
পুড়ছে দোকান-পাট, কাঠ,
লোহা-লক্কড়ের স্তূপ, মসজিদ এবং মন্দির।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।

বিষম পুড়ছে চতুর্দিকে ঘর-বাড়ি।
পুড়ছে টিয়ের খাঁচা, রবীন্দ্র রচনাবলি, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার,
মানচিত্র, পুরনো দলিল।
মৌচাকে আগুন দিলে যেমন সশব্দে
সাধের আশ্রয় ত্যাগী হয়
মৌমাছির ঝাঁক,
তেমনি সবাই
পালাচ্ছে শহর ছেড়ে দিগ্বিদিক। নবজাতককে
বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী
বনপোড়া হরিণীর মত যাচ্ছে ছুটে।
অদূরে গুলির শব্দ, রাস্তা চষে জঙ্গী জীপ। আর্ত
শব্দ সবখানে। আমাদের দু’জনের
মুখে খরতাপ। আলিঙ্গনে থরো থরো
তুমি বলেছিলে,
’আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে, আমাকে বাঁচাও,
আমাকে লুকিয়ে ফেলো চোখের পাতায়
বুকের অতলে কিংবা একান্ত পাঁজরে
আমাকে নিমেষে শুষে নাও
চুম্বনে চুম্বনে।’

উল্লেখ্য, 
শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’। 

উৎস: কালি ও কলম (মাসিক পত্রিকা)। তুমি বলেছিলে – কবিতা, শামসুর রাহমান। 
৯,৪১৬.
কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু দিবস-
  1. ক) ২৭ আগস্ট
  2. খ) ২৯ আগস্ট
  3. গ) ২৩ আগস্ট
  4. ঘ) ২৫ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯ আগস্ট
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৪ মে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৪১৭.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক হচ্ছে-
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) হাতহদাই
  3. গ) দ্যাশের মানুষ
  4. ঘ) খাট্টা তামাশা
সঠিক উত্তর:
খ) হাতহদাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতহদাই
ব্যাখ্যা
'হাতহদাই' হলো সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, বাসন, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪১৮.
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালের ২৮ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৯৭৬ সালের ২৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি 

কাজী নজরুল  ইসলাম, (১৮৯৯-১৯৭৬):

- কাজী নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাজারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।  
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪১৯.
'তিলোত্তমা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র?
  1. আনন্দমঠ 
  2. রাজসিংহ
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- "দুর্গেশনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসও। ১৮৬৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়।

- ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে কর হয় না।

- কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা। উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'আনন্দমঠ' এর প্রধান চরিত্ররা হলেন: মহেন্দ্র, কল্যাণী, সত্যানন্দ, জীবনানন্দ এবং ভবানন্দ। 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'রাজসিংহ' এর প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রাজসিংহ, ঔরঙ্গজেব, এবং বিধাতাপুরুষ (বা বঙ্কিম)।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' এর প্রধান চরিত্রগুলো হলো: কপালকুণ্ডলা (মৃন্ময়ী), নবকুমার, কাপালিক এবং মতিবিবি (পদ্মাবতী)।

---------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসসমূহ হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪২০.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে / মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই"—এই অমর পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সোনার তরী
  2. কড়ি ও কোমল
  3. মানসী
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

'কড়ি ও কোমল':
- 'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।

এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ- 
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কড়ি ও কোমল'।

৯,৪২১.
আবদুল্লাহ উপন্যাসে মূলত কোন বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ব্রিটিশ শাসনের নৃশংসতা
  2. গ্রামীণ মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও বিভেদ
  3. কৃষক বিদ্রোহ
  4. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও বিভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও বিভেদ
ব্যাখ্যা

• কাজী ইমদাদুল হকের 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের 'তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র' অঙ্কিত হয়েছে।

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷

- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

----------------------------
• কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী (প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থটি প্রমথ চৌধুরীকে উৎসর্গ করেন?
  1. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  2. চোখের বালি
  3. নৌকাডুবি
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রমথ চৌধুরীকে উৎসর্গ করেন।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস।
৯,৪২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. সাধনা
  3. ক ও খ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন-
- সাধনা (১৮৯৪),
- ভারতী (১৮৯৮),
- বঙ্গদর্শন (১৯০১),
- তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)। 
------------------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকাসমূহ:
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

• 'সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

• ‘ভারতী' পত্রিকা :
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

• 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা:
- 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিল। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মসমাজের মাহাত্ম প্রচার‌ করা।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

৯,৪২৪.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ?
  1. বাংলার মাটি বাংলার জল
  2. তবক দেওয়া পান
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. রৌদ্র প্রতিধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
ব্যাখ্যা
• ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উল্লেখ্য
• 'বাংলার মাটি বাংলার জল' নামে সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য রয়েছে।
• 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' নামে সনেটটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• রফিক আজাদের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’।

----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪২৫.
কাজী ইমদাদুল হকের শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আঁখিজল
  2. খ) নবীকাহিনী
  3. গ) প্রবন্ধমালা
  4. ঘ) আবদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) নবীকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবীকাহিনী
ব্যাখ্যা
- কাজী ইমদাদুল হক একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’।
- উপন্যাস- ‘আবদুল্লাহ’ (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনােয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্ত, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, আশরাফ-আতরাফ বৈষম্য, হীন স্বার্থপরতা সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

কাব্য- আঁখিজল (১৯০০), লতিকা।
প্রবন্ধ- প্রবন্ধমালা (১৯১৮)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- নবীকাহিনী (১৯১৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪২৬.
‘অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সত্যের সেন
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. সমরেশ বসু
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যের সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যের সেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাস:
• বাইবেলের ‘বুক অব দ্য প্রফেট: যেরেমিয়া খণ্ড' অবলম্বনে অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭) রচিত।
• বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেনই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনিকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা করেন। তবে এটা কোন ধর্মকথার প্রলম্বিত রূপ নয়।
• বাইবেলের কাহিনিকে আশ্রয় করে রাজতন্ত্র ও পুরোহিততন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সেই দ্বন্দ্বে মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ রূপায়ণে সত্যেন সেন সফল।
• উপন্যাসে যেরেমিয়া, রাজা যিহোয়াকিম, নেবুকাডনাজার প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ আছে। জীবনের প্রবহমাণ ধারা রূপ দিতে গিয়ে মহাকাব্যিক ভাষারীতি ও অলঙ্কার গৃহীত হয়েছে এই উপন্যাসে।

==========
• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো: 
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪২৭.
'স্মৃতির শহর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
কালের ধুলোয় লেখা ও স্মৃতির শহর শামসুর রাহমান রচিত আত্মকাহিনী।
অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায় - ইত্যাদি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস।
এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি - তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪২৮.
গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রথম ব্যাকরণ (গৌড়ীয় ব্যাকরণ) গ্রন্থ রচনা করেন ।
এটি কোন বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ ।

রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ
- বেদান্তসার
- পথ্য প্রদান
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৯,৪২৯.
চলিত রীতিতে রচিত প্রথম গদ্য-
  1. নীল লোহিত
  2. বীরবলের হালখাতা
  3. তেল নুন লকড়ি
  4. রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
বীরবলের হালখাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী :
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- চলিত রীতিতে তার রচিত প্রথম গদ্য - বীরবলের হালখাতা ।
- ১৯১৪ সালে তার সম্পাদিত মাসিক সবুজপত্র পত্রিকা প্রকাশ পায়।
- ১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

•তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি
- নানাকথা,
- বীরবলের হালখাতা ,
- আমাদের শিক্ষা,
- দুই ইয়ারির কথা ,
- রায়তের কথা,

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ :
- চার ইয়ারি কথা ,
- আহুতি,
- ঘোষালের ত্রিকথা,
- নীল লোহিত ,
- অনুকথা সপ্তক,
- সেকালের গল্প,
- ট্র্যাজেডির সূত্রপাত,
- গল্পসংগ্রহ,.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো।
৯,৪৩০.
'মনােরমা’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র: 
- মনোরমা,
- পশুপতি,
- হেমচন্দ্র ও
- মৃণালিনী।

অন্যদিকে,
• রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে। 
• দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা। 
• বিষবৃক্ষ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন। 
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন। 
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে। 
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল, 
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৩১.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' নাটককে 'আঙ্কল টমস কেবিন' এর সঙ্গে তুলনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৩২.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. রেইনকোর্ট
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস এটি।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: 
​- ড. খালেক, 
​- ড. মালেক, 
​- ছাবেদ আলী,
​- হাসমত, 
​- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
- নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১)- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস। 
- রেইনকোর্ট- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৩৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি যশোর জেলার
  1. ক) মনিরামপুর
  2. খ) চৌগাছা
  3. গ) কেশবপুর
  4. ঘ) অভয়নগর
সঠিক উত্তর:
গ) কেশবপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেশবপুর
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার আলোকবর্তিকা মাইকেল ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি শনিবার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ী গ্রামে এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য 
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী 

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা 
- পদ্মাবতী 
- কৃষ্ণকুমারী 

- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা 
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৪৩৪.
আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তানিয়া
  2. খ) গো হাকিম
  3. গ) সূর্য তুমি সাথী
  4. ঘ) গাভী বিত্তান্ত
সঠিক উত্তর:
খ) গো হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গো হাকিম
ব্যাখ্যা
'গো হাকিম' আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর অপর একটি শিশুতোষ গ্রন্থ - দোলা আমার কনক চাঁপা।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

তানিয়া - অনুবাদ গ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৩৫.
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মানুষ
  2. কবর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
মানুষ' নাটক:
• 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
• মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
• 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
• ‘দণ্ডকারণ্য’ পৌরাণিক আবহে রচিত নাটক।
• ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ শেক্সপিয়রের গ্রন্থের অনুবাদকৃত একটি কমেডি নাটক।

-------------------------
• মুনীর চৌধুরী:

- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৩৬.
"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাস:
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। এবং বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামাঞ্চল।
- এতে দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুবের নামে একজন মাঝি, কপিলা,মালা ও হোসেন মিয়া এবং তাদের জীবন সংগ্রাম।
- ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৩৭.
'চাঁদের অমাবস্যা' কোন জাতীয় উপন্যাস?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) রোমান্টিক
  4. ঘ) মনস্তাত্বিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনস্তাত্বিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনস্তাত্বিক
ব্যাখ্যা
চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন |
- এটি একটি মনস্তাত্বিক উপন্যাস |
  
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

তাঁর লিখিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু (১৯৪৮)
- কাঁদো নদী কাঁদো
- The Ugly Asian

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৩৮.
“চাচা কাহিনীর” লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

ভ্রমণ কাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে
- জলে ডাঙ্গায়

রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৪৩৯.
'সিরাজাম মুনীরা'- কোন ভাষায় রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা
ব্যাখ্যা
- 'সিরাজাম মুনীরা'- বাংলা ভাষায় রচিত।

• ফররুখ আহমদ:

- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৪০.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক্রান্তি
  2. শিখা
  3. সওগাত
  4. মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা পত্রিকার মুখবাণী ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।
- কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি ;
- সে পথ লক্ষ্য করে;
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস; 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪১.
'শিখা' পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৪২.
'মসনদের মোহ' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আকবর উদ্দীন
  2. খ) ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) শাহাদাৎ হোসেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাহাদাৎ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাহাদাৎ হোসেন
ব্যাখ্যা

শাহাদাৎ হোসেন (১৮৯৩-১৯৫৩) সাংবাদিক, সাহিত্যিক। পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার পন্ডিতপোল গ্রামে তাঁর জন্ম।
তিনি কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন। তবে সাহিত্যের অন্য মাধ্যমেও তাঁর সহজ বিচরণ ছিল।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যঃ মৃদঙ্গ (১৯২৮), কল্পলেখা (১৯২৯), রূপচ্ছন্দা (১৯৫০);
উপন্যাস ও নাটকঃ সরফরাজ খাঁ (১৯১৯), হিরণলেখা (১৯২০), পারের পথ (১৯২০), স্বামীর ভুল (১৯২১), সোনার কাঁকন (১৯২৩), যুগের আলো (১৯২৪), রিক্তা (১৯২৭), পথের দেখা (১৯২৯), কাঁটাফুল (১৯৩০), আনারকলি (১৯৪৫), মসনদের মোহ (১৯৪৬);
গল্পঃ রূপায়ণ (১৯৩৩) এবং শিশুসাহিত্য ছেলেদের গল্প (১৯২৪), মোহন ভোগ (১৯২৪) ইত্যাদি।
এসব রচনায় তিনি মুসলমানদের ঐতিহ্য ও গৌরবময় কাহিনী তুলে ধরেন।
পঞ্চাশের দশকে রূপচ্ছন্দা ও মসনদের মোহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ বাংলা বিষয়ের পাঠ্যভুক্ত ছিল।
বসিরহাট বাণী সঙ্ঘ তাঁকে ‘কবিকুল শিরোমণি’ ও ‘পূর্ণেন্দু’ উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৫৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৪৩.
রফিক আজাদের ডাক নাম কী ছিল?
  1. বাচ্চু
  2. আজাদ
  3. জীবন
  4. সেলিম
সঠিক উত্তর:
জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪৪.
'অনন্ত প্রেম' কবিতাটি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. অনন্ত প্রেম
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

• উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
------------------------------- 
অনন্ত প্রেম- কবিতা, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪৫.
'কল্লোল' কোন শতকের পত্রিকা?
  1. আঠারো 
  2. উনিশ 
  3. বিশ 
  4. একুশ
সঠিক উত্তর:
বিশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ 
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল' পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। সুতরাং এটি বিশ শতকের পত্রিকা। 

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৪৬.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রাত্রির চাঁদ।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- ডানপিটে শওকত।
• 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি' তাঁর রচিত কালজয়ী গান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৪৪৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন দশকের কবি ছিলেন?
  1. বিশের দশক
  2. তিরিশের দশক
  3. চল্লিশের দশক
  4. আশির দশক
সঠিক উত্তর:
তিরিশের দশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরিশের দশক
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।

উল্লেখ্য,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৪৮.
"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র তৈরি করেন কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. তপন সিনহা
  3. গৌতম ঘোষ
  4. ঋতুপর্ণ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
গৌতম ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌতম ঘোষ
ব্যাখ্যা

"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাস:
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। এবং বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামাঞ্চল।
- এতে দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুবের নামে একজন মাঝি, কপিলা,মালা ও হোসেন মিয়া এবং তাদের জীবন সংগ্রাম।
- ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৪৯.
কবি নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক পত্রিকাটি কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক 'মোসলেম ভারত' প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- 'মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, শাত-ইল-আরব, বিদ্রোহী, বাঁধন হারা ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫০.
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কাল নিরবধি 
  2. খ) আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  3. গ) বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
  4. ঘ) হারানো অর্কিড
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারানো অর্কিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারানো অর্কিড
ব্যাখ্যা
লেখক আনিসুজ্জামান  এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। 
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে 
- কাল নিরবধি 

- 'হারানো অর্কিড' অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৯,৪৫১.
"উত্তরাধিকার" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

- শহীদ কাদরী স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একজন আধুনিক কবি।
বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকারে।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- উত্তরাধিকার (প্রথম),
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৪৫২.
'জাহাঙ্গীর' চরিত্রটি যে উপন্যাসের-
  1. ক) সমুদ্রের স্বাদ
  2. খ) কুহেলিকা
  3. গ) আরেক ফাল্গুন
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
খ) কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম উপন্যাস - বাঁধন-হারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।
কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যানের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৪৫৩.
'নুরুল হুদা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. খোঁয়ারি
  2. রেইনকোট
  3. দোজখের ওম
  4. দুধেভাতে উৎপাত
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
ব্যাখ্যা

• 'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম-তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ- খোঁয়ারি (১৯৮২), দুধেভাতে উৎপাত (১৯৮৫) ও দোজখের ওম (১৯৮৯)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৫৪.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে? - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'উটপাখি' কবিতা:
- কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখি' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-  'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), 
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৫৫.
'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কোন ধরণের রচনা? 
  1. নাটক
  2. অনুবাদকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
অনুবাদকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদকাব্য
ব্যাখ্যা

• 'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদকাব্য। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি ও ছান্দসিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি ব্যবহার করে নতুন ছন্দ সৃষ্টিই তাঁর কবিপ্রতিভার মূল কীর্তি।
- এজন্য তাঁকে সাধারণভাবে 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দের রাজা' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তাঁর ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ছন্দ-সরস্বতী প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুতে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যেন-প্রয়াণ কবিতা রচনা করেন।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থসলিল,
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম। 

৯,৪৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে কোন উপাধিটি পেয়েছিলেন, যা পরে তিনি ত্যাগ করেন?
  1. ব্যারন
  2. নাইটহুড
  3. লর্ড
  4. বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
নাইটহুড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইটহুড
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ সরকার ৩রা জুন, ১৯১৫ সালে তাঁকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন।
- পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের (১৩/৪/১৯১৯) প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের এপ্রিলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'নাইটহুড' উপাধি ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ। 
- তিনি মাত্র আট বছর বয়সে 'হিন্দুমেলার উপহার' নামক নিজের প্রথম কবিতা লিখেন।
- তাঁর মোট ৫৬ টি কাব্যগ্রন্থ, ৪টি গীতিপুস্তক, ১১৯ টি ছোটগল্প, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, ২৯টি নাটক, ১৯টি কাব্যনাট্য,২২৩২টি গান ও ২ হাজারের বেশি চিত্রাবলি রয়েছে,
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫৭.
বাংলা সাহিত্য সার্থক মহাকাব্যের রচয়িতা
  1. নবীনচন্দ্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাকাব্যের ধারার সূত্রপাত করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত মেঘনাদবধ কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের প্রকাশ ঘটে।
• বাংলা সাহিত্যের তা প্রথম ও শ্রেষ্ট মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃতি  পায়।
• মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণের কাহীনির উপর অবলম্বন করে তৈরি হয়েছে।
=========================
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য মহাকাব্য গুলো হলো:
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা।

কবিতা:

শর্মিষ্ঠা,
পদ্মাবতী,
মায়াকানন,
কৃষঙ্কুমারী ইত্যাদি

প্রহসন:

একেই কি বলে সভ্যতা,
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫৮.
'আলালী রীতি'র প্রবর্তক কে?
  1. ক) বীরবল
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'আলালী রীতি'র প্রবর্তক প্যারীচাঁদ মিত্র
- টেকচাঁদ ঠাকুর তাঁর ছদ্মনাম।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহূত কথ্য ভাষা আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
- আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০), কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫৯.
কাজী নজরুল ইসলামের কয়টি প্রবন্ধগ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের ১টি প্রবন্ধগ্রন্থ(যুগবাণী) নিষিদ্ধ হয়েছিল।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি। এগুলো হলো-
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬০.
'জ্যাঠামশায় ওবং শ্রীবিলাস' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. শেষের কবিতা​
  2. চতুরঙ্গ
  3. ঘরে বাইরে
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস - চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ। 
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। 
-  ‘সবুজপত্র’র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন।
- বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল । 
- গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে— জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস। “এই বইখানির নাম চতুরঙ্গ। ‘জ্যাঠামশায়’, ‘শচীশ’, ‘দামিনী’ ও ‘শ্রীবিলাস’ ইহার চারি অংশ।” 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়
- শচীশ, 
- দামিনী, 
- শ্রীবিলাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং চতুরঙ্গ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৯,৪৬১.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৪ সালে 
  2. ১৯৪৮ সালে 
  3. ১৯৫৯ সালে 
  4. ১৯৫৩ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে 
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• উপন্যাসে রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'লালসালু' উপন্যাস।

৯,৪৬২.
বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক কোনটি?
  1. অভিনয়, অভিনয় নয়
  2. তপস্বী ও তরঙ্গিনী
  3. রেখাচিত্র
  4. তিথিডোর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিনী
ব্যাখ্যা

• তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- একদা তুমি প্রিয়ে,
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৬৩.
কোন কবি পঞ্চপাণ্ডবের একজন নন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত পঞ্চপান্ডবদের মধ্যে পড়েন না।

• বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব:

- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের ৫ জন বিখ্যাত কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।

• পঞ্চপাণ্ডব লেখকগণ
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:

- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৬৪.
'কাঞ্চনগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাঞ্চনগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- জায়জঙ্গল, দুই মহল, আলমনগরের উপকথা, কাশবনের কন্যা, নবান্ন, জায়জঙ্গল, সমুদ্রবাসর ও কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪৬৫.
'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধ কার রচনা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬৬.
'শবনম' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'শবনম' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬৭.
‘ভেড়াকান্ত' চরিত্রটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন আত্মজীবনীমূলক রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. আমার জীবনী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. কুলসুম জীবনী
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা
♦ গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

⇒ মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬৮.
'নীল-দর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. পাদ্রি জেমস লং
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

'নীল-দর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৬৯.
'ধূমকেতু' পত্রিকাটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৭০.
"আমার পূর্ব বাংলা" কবিতাটির লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা - ‘আমার পূর্ব বাংলা'।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতার অংশবিশেষ;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭১.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন এর কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গাথাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রূপককাব্য
সঠিক উত্তর:
গাথাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাথাকাব্য
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭২.
‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  4. আল মাহমুদ 
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• ‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাস:
- আবুল মনসুর আহমদের ‘জীবনক্ষুধা’ রচনার দিক থেকে প্রথম হলেও প্রকাশের দিক থেকে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস।
- হালিম চরিত্রের মাধ্যমে লেখক এ উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং উচ্চাশার স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- উচ্চবিত্ত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এক তরুণের আদর্শচ্যুতির বর্ণনার পাশাপাশি একটা সময়ের বাঙালি মুসলমান সমাজের ধারাবাহিক গল্প এখানে বর্ণিত হয়েছে।

------------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত: আত্মকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং প্রথম আলো রিপোর্টস। 

৯,৪৭৩.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'সুবচনী'?
  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুবচনী।

অন্যদিকে,
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৭৪.
মামুনুর রশীদ রচিত নাটক - 
  1. ওরা কদম আলী
  2. চারদিকে যুদ্ধ
  3. এখনো ক্রীতদাস
  4. কোকিলারা
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা

'ওরা কদম আলী' নাটক:
- প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত নাটক ওরা কদম আলী। ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক।
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে,
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক - চারদিকে যুদ্ধ, এখনো ক্রীতদাস, কোকিলারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৭৫.
'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1.  হুমায়ুন আজাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
 হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সহযোগিতাকারী একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপর ভিত্তি করে এটি রচিত।
- উপন্যাসটি প্রথম ২০০৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এর ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

-----------------
• হুমায়ুন আজাদ:

- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।
- তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, 
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি। 

কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি

উৎস: ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৪৭৬.
বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে কোন পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম?
  1. সবুজপত্র
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. পরিচয় 
  4. কল্লোল 
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৯,৪৭৭.
"একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী" কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) ক্রন্দসী
  3. গ) শাশ্বতী
  4. ঘ) তন্বী
সঠিক উত্তর:
গ) শাশ্বতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাশ্বতী
ব্যাখ্যা
‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ
- তন্বী (১৯৩০), 
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), 
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০), 
- দশমী (১৯৫৬);
- প্রতিদিন (১৯৫৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৭৮.
সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. শওকত আলী
  2. সেলিনা হােসেন
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লেখিত লেখক-সাহিত্যিকদের মধ্যে -
• শওকত আলী:
- জন্ম - ১৯৩৬ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৬৮ সালে (৩২ বছর বয়সে)।

• সেলিনা হােসেন:
- জন্ম - ১৯৪৭ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৮০ সালে (৩৩ বছর বয়সে)।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- জন্ম - ১৯৪৩ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৮২ সালে (৩৯ বছর বয়সে)।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- জন্ম - ১৯৩৫ সালে।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ - ১৯৬৬ সালে (৩১ বছর বয়সে)।

সুতরাং, সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৯,৪৭৯.
'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) স্বাধীন বাংলার গ্রামীণ জীবন
  4. ঘ) দেশ ভাগ
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন' একটি নাটক।
- 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু পঞ্চাশের মন্বন্তর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু:
- নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৮০.
‘যদু মুখুজ্জে’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  2. আরণ্যক
  3. পথের পাঁচালী
  4. অনুবর্তন
সঠিক উত্তর:
অনুবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবর্তন
ব্যাখ্যা
⇒ 'অনুবর্তন' উপন্যাস:
- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে- যদু মুখুজ্জে।
- এখানে গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হচ্ছে - ক্ষেত্র বাবু, নারান বাবু, ছাত্র চুনি।
- এর মধ্যে যদু মুখুজ্জে নিজে ভালো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি অবিচার করে, ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে, আবার নিজের পাপের জন্য ভগবানের কাছে ক্ষমাও চান। শেষে তার ট্র্যাজিক মৃত্যু ঘটে। বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ চরিত্র এই যদু মুখুজ্জে।

==============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অনুবর্তন' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৮১.
“কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো” - উক্তিটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• “কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো” - বাক্যদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “যোগাযোগ” উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৮২.
'বেণু ও বীণা' কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ছন্দের রাজা' ও 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগুলো:  
- সবিতা 
- সন্ধিক্ষণ 
- বেণু ও বীণা 
- কাব্য সঞ্চয়ন  
- কুহ ও কেকা 
- অভ্র-আবীর 
- হসন্তিকা 
- বেলা শেষের গান 
- বিদায় আরতি 

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু
- মণি মঞ্জুষা

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৯,৪৮৩.
'পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকা সম্পাদনা করেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪৮৪.
মহাভারত অনুবাদ করেন-
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) গিরিশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহের সবচেয়ে বড় কীর্তি হল তাঁর সম্পাদনায় আঠারো পর্ব মহাভারত গদ্য আকারে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে যা এখনও ব্যাপকভাবে পঠিত এবং প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদটি ১৮৫৮ থেকে ১৮৬৬ এর ভিতরে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি তাঁর রচিত মহাভারত অনুবাদটি মহারানী ভিক্টোরিয়া কে উৎসর্গ করেছিলেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪৮৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অরণ্যবহ্নি’ উপন্যাসটি কোন পেক্ষাপটে রচিত?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. জেলে জীবন
  4. চর কেন্দ্রিক বিবাদ
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'কালিন্দী’ - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৮৬.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু'হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৮৭.
কোন কবিতা রচনার কারণে নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল?
  1. বিদ্রোহী
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  4. অগ্রপথিক
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল।

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৮৮.
‘নিঃশেষে নিশাচর, গ্রাসে মহাবিশ্বে; ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।’ - কবিতাংশটি কোন কবির লেখা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘খেয়া পারের তরণী’ কবিতার অংশ।

খেয়া-পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম
যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

-------------------
•'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ। 
৯,৪৮৯.
'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'জীবনানন্দ দাশ'

জীবনানন্দ দাশ 
- জীবনানন্দ দাস ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়।
- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৯০.
বাংলার প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) তত্ত্ববোধিনী
  2. খ) বিবিধার্থ সংগ্রহ
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
খ) বিবিধার্থ সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিবিধার্থ সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• বাংলার প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা বিবিধার্থ সংগ্রহ। 
- ১৮৫১ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। 
- এতে বিবিধ গবেষণামূলক আলোচনা স্থান পেয়েছে। 

• তত্ত্বোবধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে। 
- মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক। 

• 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৯১.
কোনটি মুহম্মদ এনামুল হকের রচনা?
  1. ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
  3. মনীষা মঞ্জুষা
  4. বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
সঠিক উত্তর:
মনীষা মঞ্জুষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনীষা মঞ্জুষা
ব্যাখ্যা
• ‘মনীষা মঞ্জুষা’ ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত সাহিত্য বিষয়ক একটি প্রবন্ধ।

অন্যদিকে,
• 'ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন সুকুমার সেন।
• ‘আধুনিক ভাষাতত্ত্ব’ ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ রচিত ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ।
• আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------------------
• মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তিনি অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বখৎপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এনামুল হক জন্মগ্রহণ করেন।
- এনামুল হকের সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য হলো সত্যানুসন্ধান ও গবেষণা। 
- তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন।
- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চেতনা জাগরণই তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল প্রেরণা। সাহিত্যের ইতিহাস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য (গবেষণামূলক, আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত),
- বঙ্গে সূফীপ্রভাব (গবেষণামূলক), 
- বাঙলা ভাষার সংস্কার (ভাষাতত্ত্বমূলক),
- মুসলিম বাঙলা সাহিত্য (গবেষণামূলক) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘মনীষা মঞ্জুষা’ গ্রন্থ।
৯,৪৯২.
বাংলা ভাষায় প্রথম আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন -
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে রচনা করেন নীল দর্পণ নাটক।
- এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাথমিক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক নাটক।

- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৭২-৭৩ সালে রচনা করেন জমিদার দর্পণ নাটক, এই নাটক রচনায় দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের প্রভাব রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মুনির চৌধুরী উক্ত দুজনের আরো পরে নাটক রচনা করেন।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় দীন বন্ধু মিত্রই প্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন।
৯,৪৯৩.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২১
  2. খ) ১৯২২
  3. গ) ১৯২৩
  4. ঘ) ১৯২৪
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২২
ব্যাখ্যা
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলাম এর একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে তাঁর খ্যাতি ও গুরুত্ব অনেক।
- তাঁর সর্বস্বপণ ছিল দেশপ্রেম ও শোষণবিরোধিতা।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা (১৯২২ সালে প্রকাশিত)।
- বিষের বাঁশি।
- দোলনচাঁপা।
- ভাঙার গান।
- সাম্যবাদী।
- সর্বহারা।
- ফণি-মনসা।
- জিঞ্জির।
- সন্ধ্যা।
- প্রলয় শিখা।
- মরু ভাস্কর।
- নতুন চাঁদ।
- চক্রবাক।
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের বই:
- বুলবুল, চোখের চাতক, চন্দ্রবিন্দু, সুরসাকী, জুলফিকার, বনগীতি, গুলবাগিচা, গানের মালা ও গীতি শতদল ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৯৪.
‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ ইতিহাসমূলক গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য:
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

-------------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৯৫.
বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. সধবার একাদশী
  2. কমলে কামিনী
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- নীলদর্পণ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।

- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

--------------------
 তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক ও প্রহসন হলো:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

[সধবার একাদশী ও লীলাবতী উচ্চাঙ্গের সামাজিক নাটক। বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।]

• দীনবন্ধুর দুখানি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২) ও সুরধুনী কাব্য (২ ভাগ ১৮৭১, ১৮৭৬)। সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা। এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৯৬.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. পৃথক পালঙ্ক
  2. রাজা যায় রাজা আসে
  3. ওরা কয়েকজন
  4. যে তুমি হরণ করো
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ওরা কয়েকজন।

আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া।
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৯৭.
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ১০ টি 
  2. ১১ টি 
  3. ১২ টি 
  4. ৯ টি 
সঠিক উত্তর:
১২ টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ টি 
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। 

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. চিত্রা
  3. মানসী
  4. খাপছাড়া
সঠিক উত্তর:
খাপছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাপছাড়া
ব্যাখ্যা
• খাপছাড়া:
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- মহুয়া,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৯৯.
'দু রঙা প্রজাপতি'- রচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১)
- সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ছোটোবেলায় পিতামাতাকে হারিয়ে অদ্বৈতের জীবন চরম দারিদ্রে্যর মধ্যে অতিবাহিত হয়।

• স্কুলে ছাত্র থাকা অবস্থায়ই অদ্বৈত লিখতে শুরু করেন। তাঁর গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ এ সময় থেকেই সুধীসমাজের প্রশংসা অর্জন করে।
- চল্লিশের দশকে  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,  বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ সম্পাদিত ‘এক পয়সায় একটি’ শীর্ষক ধারাবাহিকে লিখে তিনি পাঠকসমাজে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। - তাঁর একমাত্র উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম মাসিক মোহাম্মদীতে প্রথম ধারাবাহিকভাবে (১৯৪৫-৪৭) প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের জন্যই তিনি সাহিত্যজগতে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। এতে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিতাস নদীর তীরবর্তী জেলেদের - সংগ্রামী জীবনের কথা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।
এ ছাড়াও,
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।

 • তিনি অনেক শিশুপাঠ্য কবিতাও রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫০০.
'শীতের অরণ্য' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. হুমায়ুন কবির
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'শীতের অরণ্য' গল্পের রচয়িতা - হাসান আজিজুল হক।

• হাসান আজিজুল হক:

- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।