বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯২ / ১৭৪ · ৯,১০১৯,২০০ / ১৭,৪৩৭

৯,১০১.
'কমলাকান্তের দপ্তর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. ছোট গল্প
  4. ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'কমলাকান্তের দপ্তর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের- প্রবন্ধ।

• কমলাকান্তের দপ্তর:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্তের দপ্তর"।
- এটি নকশা জাতীয় রম্য রচনা।
- এর তিনটি অংশ - ১. কমলাকান্তের দপ্তর, ২. কমলাকান্ত পত্র ও ৩. কমলাকান্তের জবানবন্দি।
- "কমলাকান্তের দপ্তর" বঙ্কিমচন্দ্রের একটি রম্যরচনার সংগ্রহ, যেখানে তিনি সমাজের নানা দিক ও ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন।
- এই গ্রন্থে কমলাকান্ত নামের একজন চরিত্র মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি ও বিচিত্র স্বভাবের মানুষদের নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' ইংরেজ সাহিত্যিক ও সমালোচক ডি-কুইনসির Confession of an English Opium Eater-এর প্রেরণায় রচিত।
- 'কমলাকান্তের দপ্তর' (১৮৭৫) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিভিন্ন মেজাজের লঘু ঢঙে লেখা ব্যক্তিগত প্রবন্ধ।
- কমলাকান্ত নামক এক চরিত্রের জবানিতে প্রবন্ধগুলি লিখিত।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- কমলাকান্তের দপ্তর, 
- লোকরহস্য,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- কৃষ্ণচরিত্র
- সাম্য,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১০২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন যুগের লেখক?
  1. ঊনবিংশ শতাব্দী
  2. কুড়ি শতাব্দী
  3. বিশ শতাব্দী
  4. অষ্টাদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনিশ শতকের (ঊনবিংশ শতাব্দী) লেখক ছিলেন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁকে আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক ও সাহিত্যসম্রাট হিসেবে গণ্য করা হয়। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজমোহনস ওয়াইফ, যা ইংরেজি ভাষায় রচিত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫)।
- দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬)।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম।

রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ। 

রচিত প্রবন্ধসমূহ
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,১০৩.
কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'চর্যাপদ' কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯০৭ সালে
  2. খ) ১৯১৬ সালে
  3. গ) ১৯০৯ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন।  
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত  চর্যাপদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদনা করেন।  

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
 
৯,১০৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত সাহিত্যপত্র কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. দৈনিক আজাদ
  3. দৈনিক সোলতান
  4. দৈনিক সমকাল
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা

• 'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে, 
-------------------
• দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফর শামসুদ্দীনর  কর্মজীবন শুরু হয়।

• দৈনিক আজাদ বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ-শাসিত ভারতে প্রবর্তিত একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা ছিল। এটি ১৯৩৬ সালে চালু হয়ে ১৯৯০ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। আজাদ ঢাকার প্রথম দৈনিক পত্রিকা ছিল। পত্রিকাটি বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ।

• দৈনিক সমকাল বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা। এটি ২০০৫ সালের ৩১ মে থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। পত্রিকাটির প্রকাশক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯,১০৫.
প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. ভদ্রার্জুন
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,১০৬.
কত সালে কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল' মঞ্চস্থ হয়?
  1.  ১৭৮৫ সালে
  2.  ১৭৯৫ সালে
  3.  ১৭৯৭ সালে
  4.  ১৭৯১ সালে
সঠিক উত্তর:
 ১৭৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

• নাটকের উৎপত্তি:
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক “কাল্পনিক সংবদল'।
- এটি কোন মৌলিক নাটক নয়, অনুবাদ নাটক। রুশদেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ্‌ লেবেদেফ ইংরেজি নাটক "দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে লেখেন “কাল্পনিক সংবদল'।
- এ সময় লেবেদেফ “লাভ ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর' নামে আরও একটি কৌতুক নাটক অনুবাদ করেন। এ নাটকটিও কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। নাটকদ্বয় বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেদেফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। 
- ১৭৯৫ সালে রুশীয় যুবক লেবেদেফের এই সাহসী উদ্যমের পর ধীরে ধীরে বাংলা নাটক বিকশিত হতে আরম্ভ করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১০৭.
'অবরোধবাসিনী' বেগম রোকেয়া রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গদ্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. গল্প
সঠিক উত্তর:
গদ্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গদ্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১০৮.
ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৩৪-১৮৮৩
  2. ১৮৩৬-১৮৮৯
  3. ১৮৩৮-১৮৯৪
  4. ১৮৩৯-১৮৯৫
সঠিক উত্তর:
১৮৩৮-১৮৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৮-১৮৯৪
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১০৯.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অন্য এক আলিঙ্গন
  2. আনন্দের মৃত্যু
  3. আমি জন্মগ্রহণ করিনি
  4. একদা এক রাজ্যে
সঠিক উত্তর:
অন্য এক আলিঙ্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য এক আলিঙ্গন
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিঙ্গন,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১১০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা?
  1. একগ্লাস অন্ধকার
  2. কালোঘোড়া
  3. বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাতাসে লাশের গন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসে লাশের গন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' রচিত 'বাতাসে লাশের গন্ধ' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
- ইমদাদুল হক মিলন রচিত 'কালোঘোড়া' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- গল্প,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ ও
- একগ্লাস অন্ধকার উলে­খযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১১১.
চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে কে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ?
  1. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,১১২.
গাড়ি চলে না, চলে না, নারে........গানের গীতিকার কে?
  1. সঞ্জীব চৌধুরী
  2. বাপ্পা মজুমদার
  3. শাহ্‌ আবদুল করিম
  4. দাশরথি রায়
সঠিক উত্তর:
শাহ্‌ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ্‌ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
• শাহ্‌ আবদুল করিম:
- লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
- তাঁর জীবনের প্রথমপর্বে সঙ্গীতের দীক্ষা ঘটেছিল বাংলা ভাবসাধক ও বাউল পরিমন্ডলে।
- প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন। কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন।
- সঙ্গীতজীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী। 
-  কৈশোরকাল থেকেই গণসঙ্গীতের প্রতি শাহ আবদুল করিমের আকর্ষণ ছিল। সম্ভবত জীবনের বাস্তবতা তাঁকে গণসঙ্গীত রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।

তাঁর কিছু বিখ্যাত সঙ্গীতের পঙ্‌ক্তি এ রকম:
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া।
- গাড়ি চলে না, চলে না, নারে।
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে।
- গান গাই আমার মনরে বুঝাই।
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু।
- বসন্ত বাতাসে সইগো, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,১১৩.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীনের উপন্যাস নয়?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. গ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন: 
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দৈনিক  সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
- উপন্যাস:
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
→ পদ্মা মেঘনা যমুনা, 
→ সংকর সংকীর্তন, 
→ দেয়াল। 

⇒ বিঃদ্রঃ 'পদ্মার পলিদ্বীপ 'আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস। 

- গল্পগ্রন্থ:
→ জীবন, 
→ রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
→ ল্যাংড়ী। 

- প্রবন্ধ:
→ চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য, 
→ Sociology of Bengal Politics, 
→ সোচ্চার উচ্চারণ।

এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন।
- শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ।

- সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), সমকাল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক (১৯৮৩), শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহ স্মৃতিপদক (১৯৮৬), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) এবং মৃত্যুর পর ফিলিপস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।
- ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,১১৪.
'আস্তিকতা হোক আর নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও যুক্তি দিয়ে বিচার করা' বক্তব্যটি নিচের কোনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ক) ইয়ংবেঙ্গল
  2. খ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
ক) ইয়ংবেঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইয়ংবেঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ইয়ংবেঙ্গল বলতে বোঝায় ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক।
• এর প্রবর্তক ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
• ইয়ংবেঙ্গল আত্মপ্রকাশ করে ১৮৩১ সালে।

• ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী ও হিন্দু কলেজ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ডিরোজিওর শিষ্যরাই ইয়ংবেঙ্গল নামে পরিচিত,ইয়ংবেঙ্গলরা মূলত ইংরেজ ভাবধারাপুষ্ট বাঙালী যুবক।
- ইয়ংবেঙ্গলের আদর্শ - আস্তিকতা হোক আর নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও যুক্তি দিয়ে বিচার করা।
- তারা সাহিত্যে যুক্তিশীলতা ও মানবিকতাকে বড় করে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ডিরোজিওর প্রধান গ্রন্থ – ‘The Fakeer of Jungkeera’ হিন্দু কলেজের মেধাবী ছাত্র ও সাহিত্যিকরা হলেন – প্যারীচাদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র, কালিপ্রসাদ ঘোষ, হরচন্দ্র ঘোষ, মাধবচন্দ্র মল্লিক, রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ।

সূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর )
৯,১১৫.
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের কোন সঙ্গীতের রচয়িতা?
  1. জাতীয় সঙ্গীত
  2. বিদ্রোহের গান
  3. ভাষা আন্দোলন গাথা
  4. রণসঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
রণসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা। রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতার মূল ২১ চরণ গৃহীত হয়।
- রণসঙ্গীতটি 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- রণসঙ্গীতটি কবি নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১১৬.
"পথের পাঁচালী" উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. সন্দীপ
  2. আদিত্য
  3. অপু
  4. শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
অপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপু
ব্যাখ্যা

• "পথের পাঁচালী" উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, কলকাতা থেকে।

- এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত, মানুষের জীবন। এর প্রধান অংশই হলো একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়। প্রত্যেকটি আপাততুচ্ছ বিষয় ও ঘটনা নিয়ে আসে রহস্য ও সৌন্দর্যের আভাস, সবই মূল্যবান ও আনন্দময়।

- এর তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক — অপু। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'অপরাজিত' (১৯৩১)। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

'পথের পাঁচালী'র উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেশ, বিমলা, সন্দীপ, চন্দ্রনাথ, মেজরাণী। 
• রবীন্দ্রনাথের 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র- আদিত্য, নীরজা, সরলা। 
• রবীন্দ্রনাথের 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র- শর্মিলা, উর্মিমালা, শশাঙ্ক। 

উৎস: "পথের পাঁচালী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,১১৭.
'চাচা কাহিনি' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'চাচা-কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১১৮.
নিচের কোনটি আবু ইসহাকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. খ) জাল
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) হারেম
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারেম
ব্যাখ্যা
হারেম আবু ইসহাক রচিত একটি গল্প। বাকিগুলো তাঁর রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প- মহাপতঙ্গ। জোঁক তাঁর একটি ছোটগল্প। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,১১৯.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম গল্পসংগ্রহ? 
  1. ইতিহাসমালা
  2. হিতোপদেশ
  3. পঞ্চতন্ত্র
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা' গ্রন্থ:
- প্রায় দেড়'শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য।

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
--------------------
- হিতোপদেশ', ‘পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি- খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৯,১২০.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য?
  1. ক) একদা এক রাজ্যে
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. গ) হৃৎকলমের টানে
  4. ঘ) প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান
সঠিক উত্তর:
খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য
- সৈয়দ শামসুল হক এটি রচনা করেন।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পীর সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১২১.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত কোন গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. গুলদাস্তা
  2. জীবনের শিল্প
  3. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. ভবিষ্যতের বাঙালি
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যতের বাঙালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি:
- এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইতে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে
- এই বইটির জন্য তিনি বিখ্যাত হন। 

এস ওয়াজেদ আলি:  
- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯১৯ সালে 'Bulletin of the Indian Rationalistic Society' নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'গুলদাস্তা' (১৯২৭)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালি (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১২২.
"কী চাহ শঙ্খচিল" মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত কী ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ গবেষণা
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটক:
- "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটকের রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনা মূর্তি নির্মাণ করেছেন।আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ। রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান লালনকে নিয়ে সন্দেহ। 

উৎস: "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ
৯,১২৩.
বিশ শতকের পত্রিকা- 
  1. প্রবাসী
  2. নবনূর
  3. বাসনা
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'বাসনা' পত্রিকা ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ ফজলল করিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• তিনটি পত্রিকাই বিশ শতকে (১৯০১-২০০০) প্রকাশিত হয়েছিল,

তাই সঠিক উত্তর - ঘ) সবগুলোই ।

 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,১২৪.
সেলিম আল দীনের রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) এবার ধরা দাও
  2. খ) চারিদিকে যুদ্ধ
  3. গ) কেরামত মঙ্গল
  4. ঘ) এখানে নোঙর
সঠিক উত্তর:
গ) কেরামত মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেরামত মঙ্গল
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।

- 'সারদামঙ্গল' বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। এটি মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,১২৫.
নিচের কোন গ্রন্থটি এস ওয়াজেদ আলীর একটি ভ্রমণ কাহিনী?
  1. মাশুকের দরবার
  2. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  3. গ্রানাডার শেষ বীর
  4. মোটর যোগে রাঁচী সফর
সঠিক উত্তর:
মোটর যোগে রাঁচী সফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটর যোগে রাঁচী সফর
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলী: প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

গল্প:
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
৯,১২৬.
শওকত ওসমানের জন্ম কোথায়?
  1. ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে
  2. রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায়
  3. হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে
  4. কলকাতা শহরে
সঠিক উত্তর:
হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১২৭.
"বর্ষাযাপন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. মানসী
  2. চিত্রা
  3. সোনার তরী
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা
"বর্ষাযাপন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।

• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন। সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙ্‌ক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১২৮.
“অচলা” শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
গ) গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গৃহদাহ উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- মহিম ও সুরেশ এই দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ-বিকর্ষণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় উপকরণ।
- উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃনালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।

চরিত্রসমূহঃ
তিনটি প্রধান চরিত্র-
- অচলা,
- মহিম ও
- সুরেশ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

 
৯,১২৯.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. কায়কোবাদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৩০.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি - বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ১৯৫৬ 'সাহিত্য পত্রিকার'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' (১৯৬৪) রচনার জন্য স্মরণীয়।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ৩রা জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি, 
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৩১.
'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. সমর সেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা

• সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলোঃ
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।
- তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ- বাবু বৃত্তান্ত (আত্মজীবনী)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,১৩২.
কোন পত্রিকাকে কেন্দ্র বাংলা গদ্যে চলিত রীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. কল্লোল
  3. সবুজপত্র
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৩৩.
'এই খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ কুলাল না এ জীবনে।
হায়, জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভুবনে?' - সংলাপটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) পঞ্চগ্রাম
  2. খ) কবি
  3. গ) অরণ্যবহ্নি
  4. ঘ) ফেরা
সঠিক উত্তর:
খ) কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১ম প্রকাশিত উপন্যাস)
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ-
'এই খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ কুলাল না এ জীবনে।
হায়, জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভুবনে?'

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,১৩৪.
রফিক আজাদের ডাক নাম কী ছিল?
  1. বাচ্চু
  2. আজাদ
  3. জীবন
  4. রফিক
সঠিক উত্তর:
জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৩৫.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিকবিতা কোনটি?
  1. চৈতালি
  2. গীতিমাল্য
  3. বাসন্তিকা
  4. খেয়া
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিকবিতা- বাসন্তিকা।

• ‘বাসন্তিকা’ গীতিকবিতার প্রথম চারটি পঙ্‌ক্তি হলো:
এই কথাটি মনে রেখো
তোমাদের এই হাসি খেলায়
আমি এ গান গেয়েছিলাম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বনফুল।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- গীতিমাল্য,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- চৈতালি,
- খেয়া,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৩৬.
‘কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম' পত্রিকা:
- কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক ‘কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- যে চেতনা ও সাহিত্যবোধ থেকে ‘কল্লোল' প্রকাশিত হয়েছিল, ‘কালিকলম’ও একই বোধ সম্পন্ন পত্রিকা ছিল। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু হতে পারেনি। 'কল্লোল' ও ‘কালিকলমে'র লেখককুল ছিল মূলত একই।

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তিনি জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৩৭.
"ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।" - প্রবাদপ্রতিম বাক্যটি কোন উপন্যাসের?
  1. ঘরে-বাইরে 
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. শেষের কবিতা
  4. যোগাযোগ 
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - 
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯,১৩৮.
‘ভাবের ঘরে চুরি করিও না’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘ভাবের ঘরে চুরি করিও না’- উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধ:
- ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলামের ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত একটি প্রবন্ধ।
- এই প্রবন্ধের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।
- এই প্রবন্ধে লেখকের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- ‘ভাবের ঘরে চুরি করিও না।’
এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক ‘অতি ভাব গ্রহণ করে প্রকৃত কাজ থেকে পিছিয়ে না-পড়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন।

---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৩৯.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের সর্বশেষে কবিতার নাম কী?
  1. দরিয়ার শেষরাত্রি
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. পাঞ্জেরী
  4. সিন্দাবাদ
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরী, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৪০.
'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' প্রবন্ধ-গবেষণাটি কার?
  1. আহমদ শরীফ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. রিজিয়া রহমান
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৪১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. আঙুর
  2. সুধাকর
  3. কোহিনুর
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
আঙুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঙুর
ব্যাখ্যা

• আঙুর পত্রিকা:
- সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯২০ সালে।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ।
- অমিয় শতক।
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী।
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- ইকবাল
- আমাদের সমস্যা।
- বাংলা আদব কি তারিখ।
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- আঙুর।
- দি পীস।
- বঙ্গভূমিক।
- তকবীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,১৪২.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) দুধভাতে উৎপাত
সঠিক উত্তর:
গ) চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।
খোয়াবনামা - তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,১৪৩.
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”
কোন কাব্য থেকে গৃহীত?
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) অভিযান
সঠিক উত্তর:
খ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
“ছাড়পত্র” (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর ৩ মাস পর প্রকাশিত হয়। প্রশ্নে উল্লেখিত লাইনগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। সুকান্তের অন্যান্য কবিতার বইঃ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি। পঞ্চাশের মণ্বন্তর নিয়ে লেখা তার সাহিত্য সংকলন - আকাল। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,১৪৪.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ঝিলিমিলি
  4. ব্যাথার দান
সঠিক উত্তর:
ব্যাথার দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাথার দান
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
ব্যাথার দান (প্রথম গল্পগ্রন্থ),  
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৪৫.
"বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?” - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কামিনী রায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

"বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?” - পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অন্তর্গত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসুদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
মধুসুদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,১৪৬.
'কে কথা কয়' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'কে কথা কয়' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের 'কে কথা কয়' উপন্যাসে মতিন ও কমল নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
- উপন্যাসে শিশু কমলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে চাকরি পাওয়া মতিন কমলের সঙ্গে কাহিনিসূত্রে একটি বৃহৎবৃত্তে অধিভুক্ত হয়।
- উপন্যাসের শেষে কমল সত্যান্বেষণে ব্যস্ত আর মতিন সত্যের জন্য প্রাণ দান করে।

-------------
• হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- নন্দিত নরকে,
- নির্বাসন
- বাদশা নামদার প্রভৃতি উপন্যাস। 

উৎস: 'কে কথা কয়' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৪৭.
মেঘমল্লার গ্রন্থের রচয়িত হলেন –
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)।

তার রচিত ছােটগল্পগ্রন্থগুলাের নাম:
- মেঘমল্লার (১৯৩১),
- মৌরীফুল (১৯৩২),
- যাত্রাবদল (১৯৩৪),
- কিন্নরদল (১৯৩৮)।

মেঘমল্লার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্পগ্রন্থ। বইটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,১৪৮.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯)প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৪৯.
'হৃৎকলমের টানে' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ:
- কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিবিশ্বের এক অনুপম নিদর্শন 'হৃৎকলমের টানে'; তাঁর সাহিত্যকলামের সংকলন। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে 'সংবাদ' এর সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় যাত্রা শুরু করেছিলো সৈয়দ শামসুল হকের কলাম 'হৃৎকলমের টানে'। সাহিত্যের সূত্রে এসেছে সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমাজ-স্বদেশ ও বিশ্বভাবনা। জগৎ ও জীবনকে তাঁর দৃষ্টির নিজস্বতায় যেভাবে উপলব্ধি করেছিলেন তারই শিল্পভাষ্য ধরা রইল এইসব খণ্ড রচনায়।

- ধারাবাহিক সেই কলাম থেমে গেছে কালের স্রোতে, জীবনাবসান ঘটেছে সৈয়দ হকের। সংকলন হিসেবে প্রকাশিত কলাম 'হৃৎকলমের টানে' প্রবন্ধ হিসেবে নতুন করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশের পরপরই এই বইভুক্ত লেখাগুলাে যেমন আলােড়ন তুলেছিল তেমনি আজও পাঠক এইসব লেখায় খুঁজে পান সৈয়দ শামসুল হকের জগৎ ও জীবনদর্শনের সারবত্তা। বাংলা মননশীল সাহিত্যের ধারাও এই রচনা-সিরিজ যােগ করেছে নতুন মাত্রা।

- সৈয়দ শামসুল হকের রচনার এক পুরােধা প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স নতুন কলেবরে, অখণ্ড অবয়বে প্রকাশ করছে হৃৎকলমের টানে। পাঠক নিশ্চয়ই বইটি পড়তে পড়তে নতুন করে আবিষ্কার করবেন সৈয়দ শামসুল হককে।

-------------
• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৫০.
'গালিভারের সফরনামা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. অন্নদাশংকর রায়
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা:
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,১৫১.
'গোপীচন্দ্রের গান' প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৭৮
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ১৯২২
  4. ঘ) ১৯৩৭
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২২
ব্যাখ্যা
১৮৭৮ সালে ভাষাবিজ্ঞানী জর্জ গ্রিয়ারসন রংপুরের কৃষকদের কাছ থেকে 'ময়নামতি গোপীচন্দ্রের পুঁথি' সংগ্রহ করে 'মানিক চন্দ্র রাজার গান' নামে প্রকাশ করেন যা পরবর্তীতে ১৯২২ সালে 'কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়' থেকে 'গোপীচন্দ্রের গান' নামে প্রকাশিত হয়। শুকুর মহম্মদ রচিত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' নাথ গীতিকা। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।
৯,১৫২.
'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সত্যেন সেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ: 
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'। 
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। 
- দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়। 
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির
ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়),
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৯,১৫৩.
‘কখনো আসে নি’ - চলচ্চিত্রটি পরিচালিনা করেন কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. তারেক মাসুদ
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’। তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ, বাংলাপিডিয়া।

৯,১৫৪.
‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. আহসান হাবীব
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• ‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস ‘রানিখালের সাঁকো’।
উপন্যাসটি চিরায়ত কিশোর সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে কয়েক প্রজন্মের পাঠপ্রিয়তার কারণেই।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
-  ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৫৫.
'প্ৰদীপ নিবিয়া গেল।'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী 
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. চন্দ্রশেখর
  4. বিষবৃক্ষ 
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।'
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্ৰদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,১৫৬.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ ই জানুয়ারি ১১ দফা দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
গণ-আন্দোলনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে হওয়ায় ঢাকাবাসী আসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আসাদগেট।
প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি আসাদ দিবস পালিত হয়।

৯,১৫৭.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ):
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

--------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৫৮.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কোন সংগঠনের মুখপত্র ছিল?
  1. ভারতসভা
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. ব্রাহ্মসমাজ
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মসমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মসমাজ
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,১৫৯.
"কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর!" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় 
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার 
  4. শেখ ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা

• কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর!
- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - শেখ ফজলল করিম।

• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।

৯,১৬০.
মীর মশাররফ হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৪৭ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

 • মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,১৬১.
নিচের কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. চিঠি
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
কেউ কিছু বলতে পারে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেউ কিছু বলতে পারে না
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কেউ কিছু বলতে পারে না' জর্জ বার্নার্ড শ এর 'You never can tell'-এর বাংলা অনুবাদ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:

- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৬২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. রেইনকোট
  2. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  3. বর্ণচোরা
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
সাড়ে তিন হাত ভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে তিন হাত ভূমি
ব্যাখ্যা
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস:
- একটি কবরের আয়তন কত? এই প্রশ্নের উত্তর, 'সাড়ে তিন হাত ভূমি'। জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে, সময়টা বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বোনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে। এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি। এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তি নাটক- বর্ণচোরা, বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

উৎস: 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,১৬৩.
জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি'
দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার
ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার বড়ুয়া
  2. কায়কোবাদ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ফুলের ফসল
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি'
দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার
ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী!

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৬৪.
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রথম প্রকাশ সাল কত?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯১৪
  3. ১৯১১
  4. ১৯২১
সঠিক উত্তর:
১৯১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা: 
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।  
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।
- তিনি 'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
--------------------  
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,১৬৫.
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ না কোনটি?
  1. ক) হরগজ
  2. খ) মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী
  3. গ) বাসন
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হলো মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী, হরগজ, বাসন, হাতহদাই। বহুব্রীহি লিখেন হুমায়ূন আহমেদ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - মোহসীনা নাজিলা
৯,১৬৬.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান 'সংকলন করেছেন?
  1. ক) অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. খ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) জগন্নাথ চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান যথাশব্দ।
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
৯,১৬৭.
'হিংটিং ছট' রম্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৬৮.
নিচের কোন আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়?
  1. কোকিলারা
  2. এখন দুঃসময়
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• 'ওরা কদম আলী 'মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।

- বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তাঁর রচিত প্রথম নাটক- 'শপথ'।

আব্দুল্লাহ আল মামুন এর  বিখ্যাত কয়েকটি নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে
- কোকিলারা,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।
-------------------------------------------------------------------------
লাইভ পরীক্ষায় প্রশ্নে ভুল ছিলো। প্রশ্নে 'নাটক' এর পরিবর্তে 'উপন্যাস' লিখা হয়েছিলো।
প্রশ্নটি হওয়ার কথা "নিচের কোনটি আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়?"
প্রশ্নটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৬৯.
বাংলা সাহিত্যে কত বছর সময়কালকে 'যুগসন্ধিকাল' হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ৭০ বছর
  2. ১০০ বছর
  3. ১২০ বছর
  4. ১৫০ বছর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১০০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ বছর
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে যুগসন্ধিকাল বলে। এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
-  মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে-মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে। এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না। তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি। তাই যুগসন্ধির বৈশিষ্ট্য এই সময়ের সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যেই বিরাজমান ছিল। এই সময়েই ঈশ্বর গুপ্তের কবিপ্রতিভার বিকাশ।

• সুতরাং (১৭৬০-১৮৬০) খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই ১০০ বছররের সময়কে যুগসন্ধিকাল বলে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং লাল নীল দীপাবলি।
৯,১৭০.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'মৃণালিনী' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৭১.
পৃথিবীতে কয়টি জাত মহাকাব্য আছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য ৪টি।

• জাত মহাকাব্য:
- রামায়ণ।
- মহাভারত।
- ইলিয়াড।
- ওডিসি।

- রামায়ণ: মহাকবি বাল্মীকি রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 
- মহাভারত: মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 
- ইলিয়াড: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য। 
- ওডিসি: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৭২.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।''- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
মোস্তফা, গোলাম:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
 
৯,১৭৩.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২৯ সালে
  2. ১৮৩৪ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৭৪.
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) নববসন্ত
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) মুসলিম কালচার
  4. ঘ) সত্যের সন্ধানে
সঠিক উত্তর:
গ) মুসলিম কালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুসলিম কালচার
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ ‘মুসলিম কালচার'। ‘ কালের কলস’ আল মাহমুদ এর কাব্যগ্রন্থ। ‘ সত্যের সন্ধানে’ এর লেখক আরজ আলী মাতুব্বর। ‘নববসন্ত’ হলো আবুল হোসেনের কাব্যগ্রন্থ।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,১৭৫.
বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক কে?
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. সেলিম আল দীন
  3. সাঈদ আহমদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক : সাঈদ আহমদ। 

• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উল্লেখ্য, 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে সাঈদ আহমদ রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
• বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৭৬.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2. খাইখাই
  3. আবোল-তাবোল
  4. এলাটিং বেলাটিং
সঠিক উত্তর:
এলাটিং বেলাটিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাটিং বেলাটিং
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য ‘এলাটিং বেলাটিং’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৭৭.
"কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না" - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. রাজসিংহ
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস।
৯,১৭৮.
'সাহিত্যপত্র' পত্রিকাটির সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৭৯.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন উমর রচিত একটি প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।  

বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ছিলেন একাধারে বাংলাদেশি মার্কসবাদী লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক সক্রিয়তাবাদী, ইতিহাসবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। 
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থ।

৯,১৮০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক কোন পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বাঙ্গাল গেজেট​
  3. বঙ্গদর্শন
  4. দিগ্‌দর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৮১.
‘স্মৃতিপিপীলিকাত তাই পুঞ্জিত করে
আমার রন্ধ্রে মৃত মাধুরীর ফণা :
সে ভুলে ভুলুক, কোটি মন্বন্তরে
আমি ভুলিব না, আমি কভু ভুলিব না।’
চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত কবিতার লাইনগুলো সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘অর্কেস্ট্রা’ কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতার শেষ চরণ।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্য - তন্বী (১৯৩০), অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫০), দশমী (১৯৫৬);
গদ্যগ্রন্থ - স্বগত (১৯৩৮), কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)। এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্র কাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- - আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় ত্রৈমাসিক পরিচয় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই পত্রিকা সম্পাদনা করে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,১৮২.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নিচের কোনটি?
  1. ক) কুহেলিকা
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) তোহফা
  4. ঘ) মাল্যবান
সঠিক উত্তর:
ক) কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' হলো একটি উপন্যাস।

কুহেলিকা
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। 
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে।
-  নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে : ‘ইহারা মায়াবিনীর জাত।
- ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে।
- ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৯,১৮৩.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. বিন্দু বিসর্গ
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দু বিসর্গ' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনী
- গ্রন্থটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ‘বিন্দু বিসর্গ’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৮৪.
'বন্দে মাতরম্' গানটি ধ্বনিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে? 
  1. গোরা 
  2. পথের দাবী 
  3. আনন্দমঠ
  4. ঘরে বাইরে 
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• 'বন্দে মাতরম্' গানটি ধ্বনিত হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে। 

‘বন্দে মাতরম্’ গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসে (১৮৮২) প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি উপন্যাসের একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। গানটি ১৮৭০-এর দশকে রচিত হয় এবং আনন্দমঠে সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের মুখে গীত হয়, যারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। এটি মাতৃভূমির প্রতি ভক্তি ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণাদায়ক সঙ্গীত হয়ে ওঠে। গানটির প্রথম দুটি স্তবক ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয় (১৯৫০)।

---------------------
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।

- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কানো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,১৮৫.
‘সূর্যগ্রহণ’ জহির রায়হান রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. চলচ্চিত্র
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘সূর্যগ্রহণ’ জহির রায়হান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়।

---------------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর পরিচালিত অন্য ছবিগুলো হলো:
- সঙ্গম,
- কাঁচের দেয়াল,
- আনোয়ারা,
- বেহুলা,

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৮৬.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসন
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালােচনা করা হয়েছে। 
- মধ্যপ্রাচ্যের কাহিনির আধারে এই উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো এ প্রসঙ্গে মিলে যায়। 
যেমন, বাদশা হারুন হলেন আইয়ুব খান, বেগম জুবাইদা হলেন পাকিস্তানের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ; তাতারী হলেন পাকিস্তানের সাধারণ জনতা; মেহেরজান হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যা তুর্কি থেকে বার বার হাতবদল হয়েছে। 
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৮৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের ঘর' নাটকটি কোন গল্পের নাট্যরুপ?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ছুটি 
  3. একটা আষাঢ়ে গল্প 
  4. ক্ষুধিত পাষাণ 
সঠিক উত্তর:
একটা আষাঢ়ে গল্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা আষাঢ়ে গল্প 
ব্যাখ্যা

• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘একটা আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
• পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
• বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
• খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,১৮৮.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
ক) রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫): কবি ও সাংবাদিক।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
তাছাড়া ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
উপন্যাস- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।
উৎসঃবাংলাপিডিয়া
৯,১৮৯.
মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কিনারি জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা।

ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৯০.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদের কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,১৯১.
‘ক্ষুধা প্রেম আগুন'  আব্দুল মান্নান সৈয়দ এর কোন ধরেনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- আবদুল মান্নান সৈয়দের জন্ম অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিম বঙ্গে জালালপুর নামক গ্রামে ১৯৪৩ সালে।

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,অ-তে অজগর (১৯৮২),কলকাতা (১৯৮০),ক্ষুধা প্রেম আগুন'(১৯৯৪)
• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩),মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী
• প্রবন্ধ:
বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা,দশ দিগণ্তের দ্রষ্টা,নির্বাচিত প্রবন্ধ,করতলে মহাদেশ,আমার বিশ্বাস।

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
৯,১৯২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যটি ইতালির কবি ওভিদের Heroides কাব্যের আদর্শানুসারে লিখিত?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা: 
- ‘বীরাঙ্গনা' ইতালির কবি ওভিদের Heroides কাব্যের আদর্শানুসারে লিখিত পত্রকাব্য।
- যীশু খ্রিস্টের জন্মের অব্যবহিত পরে রচিত ওভিদের কবিতাগুলোর মূল বিষয়বস্তু প্রেম হলেও উপকরণ ছিল পুরাণের।
- মধুসূদনের এই কাব্যেও তাই। 
- ওভিদের কাব্যের পত্রসংখ্যা ছিল একুশ।
- মধুসূদন এগারটি পত্র পূর্ণ করেছিলেন। 
- ওভিদের কাব্যের নায়িকারা তাদের পতি প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে প্রধানত প্রেম-উদ্বোধিত চিত্তে পত্ররচনা করেছে।
- মধুসূদন এদেশের পৌরাণিক নারীচরিত্র উপজীব্য করে পত্ররচনা করেছেন।
----------------------------- 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:
→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৯,১৯৩.
কোন নাট্যকারের নাটকে দ্বৈতাদ্বৈতবাদ  শিল্পতত্ত্ব অনুসৃত হয়েছে? 
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন 
  2. মামুনুর রশিদ 
  3. সেলিম আল দীন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীনের নাটকে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পতত্ত্ব অনুসৃত হয়েছে।
----------------------------------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তাকে নাট্যাচার্য  উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিলো।

- জীবদ্দশায় সেলিম আল দীন তার বিভিন্ন রচনায় প্রকাশ করেছেন যে, শিল্পদর্শনে তিনি দ্বৈতাদ্বৈতবাদী ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমা শিল্পের সমস্ত বিভাজনকে বাঙালির সহস্রবছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন শিল্পরীতি প্রতিষ্ঠা করেন, যাকে তিনি ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

- সেলিম আল দিন শুধুমাত্র নাটক রচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না।
- তিনি নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করে বাঙালি নাটকের সহস্র বছরের ইতিহাস এবং তার স্পষ্ট কাঠামো উন্মোচনে সক্ষম হন।
- তিনি ১৯৯৬ সালে মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য রচনা করেছেন।
- এছাড়া, নাট্য গবেষণা পত্রিকা Theater Studies-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নাট্যশিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ। 

- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।
• তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
- গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  

 তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
- কাব্যগ্রন্থ- কবি ও তিমি।
- উপন্যাস- অমৃত উপাখ্যান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,১৯৪.
'ভ্রমর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. বিমল মিত্র
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• 'কালকূট' ও 'ভ্রমর' সমরেশ বসুর ছদ্মনাম।

অন্যদিকে, 
• 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম ছিল- জাবালি। 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,১৯৫.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ-গবেষণা
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
•"এক পথ দুই বাঁক" নীলিমা ইব্রাহীম রচিত বিখ্যাত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৮ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 

---------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,১৯৬.
‘কাদম্বিনী’ - কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. দেনাপাওনা
  3. জীবিত ও মৃত
  4. নষ্টনীড়
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' গল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৯,১৯৭.
'নরকে লাল গোলাপ'-মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদ্দিন আহমদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক — 'নরকে লাল গোলাপ' ।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি বিখ্যাত নাটক:
-  "নিঃশব্দ যাত্রা" ও "নরকে লাল গোলাপ"। 

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  
 
কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 
 
গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১৯৮.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিসর্গ সন্দর্শন
  2. মাটির দেয়াল
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. বন্ধু-বিয়োগ
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - বন্ধু-বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিণী, নিসর্গ সন্দর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,১৯৯.
বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা 'কীর্তিবিলাস' এর লেখক কে?
  1. তারাচরণ শিকদার
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. হরচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা 'কীর্তিবিলাস' এর লেখক - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত

কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,২০০.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. চন্দ্রশেখর
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা':
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- উপন্যাসের চরিত্র: নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, কাপালিক।

• গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
- পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ,
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
- পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ? - বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:

- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।