বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯০ / ১৭৪ · ৮,৯০১৯,০০০ / ১৭,৪৩৭

৮,৯০১.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল তাঁর রচিত অন্যান্য রম্যরচনা। চাচা কাহিনী, টুনি মেম তাঁর রচিত ছোটগল্প এবং অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৯০২.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মানুষ
  2. চিঠি
  3. চাকা
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
চাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকা
ব্যাখ্যা

• 'চাকা' নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক 'চাকা'।
- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।
- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে, 
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

--------------------------
• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।

- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।

- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সং

সেলিম আল দীন রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো-
- ঘুম নেই,
- সর্প বিষয়ক গল্প,
- মুনতাসির'
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- ধাবমান'সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- পুত্র,
- জুলান,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চাকা' নাটক।

৮,৯০৩.
‘নেমেসিস’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. তুর্কি আক্রমণ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৯০৪.
চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন -
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
জোশুয়া মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৬০ সালের ২০ এপ্রিল ওয়েস্টবেরিলি, উইলট শায়ার লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৭৯১ সালে তিনি যাজকতায় দীক্ষিত হন।
- ১৭৯৯ সালে তিনি মিশনারির কাজে ভারতের শ্রীরামপুরে আসেন। যোগদান করেন উইলিয়াম কেরির সাথে।
- তিনি উইলিয়াম কেরির সহযোগিতায় সংস্কৃত 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
- তিনি চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন
- তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন -
→ সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ,
→ দিগদর্শন,
→ ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া।
- তিনি ১৮৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯০৫.
"এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।" - এ লাইনগুলোর কোন কাব্যের?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. অভিযান
  4. গীতিগুচ্ছ
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• 'ছাড়পত্র' কাব্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের অনেক কবিতা বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- এ কাব্যের 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার' - পঙক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯০৬.
নদীয়া সাহিত্য সভা আবদুল করিমকে কোন উপাধিতে সম্মানিত করেন?
  1. সাহিত্য রত্ন
  2. সাহিত্যসাগর
  3. সাহিত্য সম্রাট
  4. সাহিত্য বিশারদ
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসাগর
ব্যাখ্যা

• আবদুল করিম চট্টল ধর্মমণ্ডলী কর্তৃক 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত হন। এবং নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন।

উল্লেখ্য, 
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি সাহিত্য- বিশারদ।

অন্যদিকে,
- 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্য রত্ন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
'কাজেম আল কোরেশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি কাব্যভূষণ।
উল্লেখ্য,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯০৭.
‘হাসনাহেনা’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, হাসনাহেনা, খোশরোজ, সাহারা, গুলিস্তান, বনি আদম, কাব্য কাহিনী, বুলবুলিস্তান ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ- রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৯০৮.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের আখ্যানকেন্দ্র কোথায়?
  1. ক) বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) পুলিশ লাইনস
  3. গ) সাভার
  4. ঘ) গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত উপন্যাসের আখ্যানকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উৎসঃ প্রথম আলো
৮,৯০৯.
'আগুনপাখি' উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আহসান হাবীব 
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আগুনপাখি' উপন্যাস:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়। এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯১০.
কল্লোল যুগের কবি ছিলেন না কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
• যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
• কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
• মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।

• কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তারা হলেন- 
- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- বুদ্ধদেব বসু,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- জীবনানন্দ দাশ,
- বিষ্ণু দে।

এই পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে একসাথে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব। এ পঞ্চপাণ্ডবই ছিলেন মূলত কল্লোল যুগের কাণ্ডারি।

• তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, সঞ্জয় ভট্টাচর্য, অবনীনাথ রায় প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধিক্ষণের কবি, অবক্ষয় যুগের  (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'খাঁটি বাঙালি' কবি বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯১১.
'সুরেশ, মহিম, অচলা' কোন উপন্যাসের চরিত্র ?
  1. দত্তা
  2. পথের দাবী
  3. গৃহদাহ
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
• 'সুরেশ, মহিম, অচলা' - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র। 

• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:

- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ - বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে। 
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।
--------------------------- 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।
--------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র- ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র - রমা, রমেশ, বললাম, বেণী।
'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৮,৯১২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ১১৭৬ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
  2. ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
  3. ১৩৫৪ বঙ্গাব্দের দেশভাগ
  4. ১৩৮১ বঙ্গাব্দের কৃষক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষের পটভূমিকায় রচিত।

অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯১৩.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) ময়নামতির চর
  2. খ) বায়ান্ন গলির এক গলি
  3. গ) সোনাঝরা দিন
  4. ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বকুলপুরের স্বাধীনতা, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, কী চাহ শঙ্খচিল, হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার নাটক গুলোর রচয়িতা মমতাজ উদ্দিন আহমদ।
এ গোল্ডেন এজ বা সোনাঝরা দিন, দ্য গুড মুসলিম, দ্য বোনস অব গ্রেস ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা তাহমিনা আনম।
বায়ান্ন গলির এক গলি, ফেরারী সূর্য, অনন্ত অন্বেষা, মেঘের পর মেঘ ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন এবং
ময়নামতির চর, অনুরাগ, পদ্মা নদীর চর, মধুমতির চর, ধরিত্রী কাব্যের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৯১৪.
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় কোন উপন্যাসের জন্য মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. ক) দেবযান
  2. খ) ইছামতী
  3. গ) পথের পাঁচালি
  4. ঘ) অপরাজিত
সঠিক উত্তর:
খ) ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইছামতী
ব্যাখ্যা
ইছামতী উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন।

- বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত ‘ইছামতী’ উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আছে এ উপন্যাসে।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো :
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- পথের পাঁচালি,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- অশনি সংকেত ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯১৫.
‘দ্রোপদীর শাড়ি’ কোন কবির কাব্য?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লা জন্মগ্রহণ করেন ।
- ''প্রগতি'' ও ''কবিতা'' নামে তিনি দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

বুদ্ধদেব বসুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী
দ্রোপদীর শাড়ি ইত্যাদি

উপন্যাস:
- তিথিডোর
- সানন্দা

বুদ্ধদেব বসুর রচিত “হঠাৎ আলোর ঝলকানি” একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯১৬.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত ঐতিহাসিক নাটক কোনটি? 
  1. রাবণবধ
  2. সীতার বনবাস
  3. হীরার ফুল
  4. সিরাজদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
সিরাজদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- 'সিরাজদ্দৌলা' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- নাটকটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরিশচন্দ্র 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।

---------------
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটকসমূহ হলো-
• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতার বিদ্রোহ,
- লক্ষণ বর্জন,
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন, 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, 
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯১৭.
'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সমরেশ বসু
  2. হরপ্রসাদ রায়
  3. রশীদ করীম
  4. সমর সেন
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সমর সেন।

সমর সেন:

- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯১৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
সঠিক উত্তর:
দ্য ক্যাপটিভ লেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য ক্যাপটিভ লেডি
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
​- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯১৯.
’লাবণ্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. চোখের বালি
  2. শেষের কবিতা
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

’লাবণ্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়িকা ।

• শেষের কবিতা: 

- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯২০.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
 -ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
 -ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯২১.
"শশী, কুসুম" - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
পুতুলনাচের ইতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুলনাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

• পুতুলনাচের ইতিকথা:
- উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: 'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।' 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।
- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় পুতুল বলতে এই মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে, যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
-  তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প 'অতসী মামী' (১৯২৮) প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
- সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী।
- 'পদ্মানদীর মাঝি' ও 'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।
- তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মারা যান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো: 
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য, 
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯২২.
লেখক আবুল হুসেন কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন ?  
  1. ক) পরিচয়
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
গ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিখা
ব্যাখ্যা
- আবুল হুসেন (১৮৯৬ - ১৫ অক্টোবর ১৯৩৮)ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় লেখক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক।
- বাংলার মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে আবুল হুসেন লেখালেখি করেছেন। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
 - ১৯২৬ সালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠিত হয়। তিনি এতে অংশ নিয়েছিলেন।
 - সংগঠনের মুখপত্ররূপে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার সম্পাদনায় তিনি জড়িত ছিলেন।


উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী (লেখক হুমায়ুন আজাদ)
৮,৯২৩.
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. মানসী
  3. শেষলেখা
  4. ক্ষণিকা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• “তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - পঙ্‌ক্তিটি'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতার অংশবিশেষ।

• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি।

• উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

• কবিতাটির অংশবিশেষ:
অনন্ত প্রেম
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২. ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা।
৮,৯২৪.
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) পলাশীর যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটির মূল উপজীব্য হলো পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। রক্তাক্ত প্রান্তর এর মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধে নর-নারীর প্রেম। কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ থেকে এর কাহিনী নেয়া হয়েছে। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৮,৯২৫.
নিচের কোনটি শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. ক) অভিযাত্রিক
  2. খ) ইতল বিতল
  3. গ) মায়াকাজল
  4. ঘ) মোর জাদুদের সমাধি পরে
সঠিক উত্তর:
খ) ইতল বিতল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইতল বিতল
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল। 
তাঁর অপর শিশুতোষ গ্রন্থ- নওল কিশোরের দরবারে।

কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৯১),
- মন ও জীবন (১৯৫৭),
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪),
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯২৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুলের রচনা?
  1. ক) লোক লোকান্তর
  2. খ) ব্যাথার দান
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) জেগে আছি
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাথার দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাথার দান
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
• প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
• গল্প-
- ‘হেনা’,
- ‘ব্যথার দান’,
- ‘মেহের নেগার’,
- ‘ঘুমের ঘোরে’;
- কবিতা ‘আশায়’,
- ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯২৭.
'সহরতলী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আহসান হাবীব
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সহরতলী' উপন্যাস:
- 'সহরতলী' (১৯৪১ সালে) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের জীবনের কাহিনি ও সেইসঙ্গে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশের উপন্যাস, মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও
কপটতা, ঈর্ষা ও ইন্দ্রিয়ালুতার রূপায়ণ এখানে আছে।
- 'যশোদা' চরিত্রটির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্ভ্রম বাংলাসাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে স্বীকৃত।

--------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস হলো-
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- সহরবাসের ইতিকথা,
- সহরতলী,
- সার্বজনীন,
- অহিংসা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯২৮.
'গৃহদাহ' উপন্যাসের নায়িকার নাম কী?
  1. ললিতা
  2. অচলা
  3. কিরণ্ময়ী
  4. রাজলক্ষ্মী
সঠিক উত্তর:
অচলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচলা
ব্যাখ্যা

গৃহদাহ:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
শ্রীকান্ত উপন্যাসের চরিত্র - রাজলক্ষ্মী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৯২৯.
‘দুঃখবাদী’ কবি বলা হয় কাকে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. ঘ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
• রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
•  দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী কবি, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
• প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা এবং
- কবিতা-সংকলন অনুপূর্বা।
[প্রথম তিনখানি কাব্যের নামকরণে অগ্নি, রুদ্র ও মরুর দহন এবং শেষের তিনটির নামকরণে রাত্রির অন্ধকারের প্রতীক-দ্যোতনা প্রকাশ পেয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. অগ্নি-গিরি
  2. দুরন্ত পথিক
  3. সাঁঝের তারা
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প -ক্ষুধিত পাষাণ।

'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থ:

- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হল- প্রেম। এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো: বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী, মেহের নেগার, সাঁঝের তারা, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামী হারা, দুরন্ত পথিক

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ - শিউলিমালা।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো: পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৩১.
মুসলিম নারী জাগরণের কবি কে?
  1. ক) বেগম রোকেয়া
  2. খ) ফয়জুন্নেসা
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
ক) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং মুসলিম নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার বেগম রোকেয়া।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
-  সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও ভাইদের সহায়তায় তিনি বাড়িতে পড়াশোনার সুযোগ লাভ করেন। 
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। 
- উদার ও মুক্তমনের অধিকারী স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হন এবং ক্রমশ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাতও ঘটে স্বামীর অনুপ্রেরণায়।
- তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- রোকেয়ার সমগ্র সাহিত্যকর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজের কুসংস্কার ও অবরোধ প্রথার কূফল, নারীশিক্ষার পক্ষে তাঁর নিজস্ব মতামত, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা এবং নারীর অধিকার ও নারী জাগরণ সম্পর্কে তাঁর প্রাগ্রসর ধ্যানধারণা। বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
- বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়৷
- আর নারী জাগরণের কবি - শামসুন্নাহার মাহমুদ।
এখানে অপশন বিবেচনায় বেগম রোকেয়াকে সঠিক উত্তর ধরা হয়েছে।

৮,৯৩২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতায় রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো:
♣ গল্প:
• সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
• নামহীন গোত্রহীন, 
• পাতালে হাসপাতালে, 
• জীবন ঘষে আগুন। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা অপরূপ শিল্পরূপ লাভ করেছে তাঁর ‘নামহীন গোত্রহীন’ গ্রন্থে।

♣ উপন্যাস:
• বৃত্তয়ায়ন,
• আগুনপাখি,
• সাবিত্রী উপাখ্যান,
• শিউলি।

♣ প্রবন্ধ:
• কথাসাহিত্যের কথকতা,
• অপ্রকাশের ভার,
• কথা লেখা কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩৩.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. সূর্যাস্তের পর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
⇒ আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

===============
⇒ নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ:
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি (২ খণ্ড ১৯৯৬-৯৭)।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩৪.
‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল বরকত
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৩৫.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবৎ' সম্পাদনা করেন কে?
  1. জেমস লং
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক। ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৩৬.
'কালের যাত্রা' নাটকটির লেখক -
  1. নুরুল মোমেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'কালের যাত্রা' নাটকটির লেখক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
----------------
• 'কালের যাত্রা' নাটক: 
- নাটকটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের যাত্রা’ নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন। 
- রথযাত্রা, রথের রশি, কবির দীক্ষা নামে কয়েকটি দৃশ্যে নাটকটি রচিত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মীকি প্রতিভা ,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩৭.
‘যুবনাশ্ব’ ছদ্মনামে কোন সাহিত্যিক সাহিত্যকর্ম রচনা করতেন?
  1. ক) সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) মণীশ ঘটক
  4. ঘ) বিমল মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম যুবনাশ্ব। 

• অন্যদিকে: 
- চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন সতীনাথ ভাদুড়ী।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'। 
- বিমল মিত্র জাবালি ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৩৮.
'স্বদেশ অন্বেষা' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ইব্রাহীম খাঁ
  2. আহমদ শরীফ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা - স্বদেশ অন্বেষা

• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩৯.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এই বিখ্যাত উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এই বিখ্যাত উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের।

• কপালকুণ্ডলা:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।
- এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

• প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- কমলাকান্ত,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৪০.
'মুহূর্তের কবিতা' সনেট সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. ফররুখ আহমদে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদে
ব্যাখ্যা

• মুহূর্তের কবিতা:
- ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৪১.
'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৪২.
''আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'' কবিতায় কবির পূর্ব পুরুষের করতলে কীসের সৌরভ ছিলো?
  1. রক্তজবার
  2. শ্বাপদের
  3. পলিমাটির
  4. শস্যদানার
সঠিক উত্তর:
পলিমাটির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিমাটির
ব্যাখ্যা
• ''আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'' কবিতায় কবির পূর্ব পুরুষের করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিলো। 
-------------------
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা,
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
--------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

 • 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা - 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৪৩.
‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস:
- ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে। 
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৪৪.
অমিয় চক্রবর্তীর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) একমুঠো
  2. খ) অনিঃশেষ
  3. গ) মাটির দেয়াল
  4. ঘ) কবিতাবলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
 অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম। 
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১), 
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬), 
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বংলাপিডিয়া।
৮,৯৪৫.
'হেমচন্দ্র’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৪৬.
'কথা দিয়েছিলাম তোমাকে' কবিতাটি কার?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
'কথা দিয়েছিলাম তোমাকে' হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে' কাব্যের অন্তর্গত।
কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে ।
কাব্যটির উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি কবিতা,
- তরুণী সন্তু,
- যে তুমি ফোটাও ফুল,
- যদি একবার তাকাও,
- পর্বত
- শিশু ও যুবতী ইত্যাদি।
এই কাব্যে হুমায়ুন আজাদ মানুষের অমরত্বের সন্ধান করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৪৭.
'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন ওমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৯৪৮.
পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্প নাম-
  1. শাস্তি
  2. চোখের বালি
  3. দেনাপাওনা
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
• পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্পের নাম- 'দেনাপাওনা'।
 
• 'দেনাপাওনা উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে। 
- ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন।
- যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ।
 
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৪৯.
তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে কোন মহাকাব্যে?
  1. শাহনামা
  2. মহাশ্মশান
  3. বৃত্রসংহার
  4. মেঘনাদবধ
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• মহাকবি কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য- বৃত্রসংহার।
• ‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৯৫০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্যের সর্বত্র যে বিষাদ গভীর অতীতচারিতা, পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগ, কাব্যদেহে প্রসাধনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি আসক্তি নিরাসক্তির দ্বন্দ্ব, 'পরিশেষ' কাব্যেও তা ফুটে উঠেছে।
- রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'পরিশেষ' গ্রন্থটি অতুলপ্রসাদ সেনকে উৎসর্গ করেন। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৫১.
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ কী ধরনের উপন্যাস?
  1. দেশভাগ নিয়ে রচিত
  2. প্রতিবাদমূলক
  3. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
ব্যাখ্যা

‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------------------------
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’:
- সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরে।
- উপন্যাসে একটি মায়ের দেশপ্রেম এবং সন্তানের জন্য ত্যাগের গল্প বলা হয়েছে;
- যেখানে মা তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একমাত্র সন্তানকে উৎসর্গ করেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। 
-------------------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৮,৯৫২.
জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম কী ছিল?
  1. জীবন
  2. মিলু
  3. কমল
  4. আনন্দ
সঠিক উত্তর:
মিলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলু
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল — মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।
৮,৯৫৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) ফেরারী সূর্য
  3. গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. ঘ) নীল দংশন
সঠিক উত্তর:
গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘নীল দংশন’।
- 'ফেরারী সূর্য' রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা। 

অন্যদিকে,
‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ হচ্ছে সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা আন্দোলন বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৯৫৪.
'সধবার একাদশী' প্রহসনটির রচয়িতা -
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র: 
- নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র  ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৫৫.
'রাজলক্ষ্মী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. শ্রীকান্ত
  3. বিরাজবৌ
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- ইন্দ্রনাথ,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদিদি।

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস বিরাজবৌ। এই উপন্যাসের চরিত্র নীলাম্বর ও পীতাম্বর দুই ভাই।
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৫৬.
প্রথম বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) দিগদর্শন
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) প্রভাকর
  4. ঘ) সংবাদ
সঠিক উত্তর:
ক) দিগদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো 'দিগদর্শন'
- 'দিগদর্শন‌' ছিলো মাসিক পত্রিকা। 
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সমাচার দর্পণ’ সাময়িকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৫৭.
“এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতেই ফুরালো”- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উক্তিটি কার সম্পর্কে বলেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন— “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতেই ফুরালো।”

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন-  “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতে ফুরালো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অসামান্য প্রতিভা মূলত ব্যঙ্গ-রসাত্মক ও অপ্রধান বিষয়নির্ভর রচনাতেই নষ্ট হয়েছে, যা সাহিত্যকে গভীরতা বা স্থায়ী মূল্য দিতে পারেনি। 
- তিনি গুপ্তের ছড়া ও বিদ্রূপাত্মক কবিতাকে “ইয়ার্কি” হিসেবে দেখতেন এবং 
- মনে করতেন, এ ধরনের প্রতিভাসম্পন্ন কবির উচিত ছিল বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চমানের সৃষ্টিকর্ম রেখে যাওয়া।
-----------------------------
উল্লেখ্য,
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট। তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রভাকর’- এর সম্পাদক ও প্রকাশক।
-তাঁর কবিতায় সমাজচিত্র, বিদ্রূপ ও ঐতিহ্যবোধ মিলেমিশে এক অনন্য ধারা সৃষ্টি করে, যা আধুনিক কাব্যের দিকে রূপান্তরে ভূমিকা রাখে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী – হুমায়ুন আজাদ। 

৮,৯৫৮.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্প কোনটি?
  1. অভিযাত্রিক
  2. সৈনিক বধূ
  3. সাঁঝের মায়া
  4. মায়া কাজল
সঠিক উত্তর:
সৈনিক বধূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈনিক বধূ
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে ১৯১১ সালের ২০ জুন মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- ১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন তাঁর প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’, যা বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- সুফিয়া কামাল একালে আমাদের কাল নামে একটি আত্মজীবনী রচনা করেছেন।
- ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৫৯.
স্টেটসম্যান পত্রিকা ও প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গে নিচের কার সম্পৃক্ততা ছিল?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন।
- এছাড়া প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৬০.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কোন স্থানে মুদ্রিত হয়েছে?
  1. রোমে
  2. ভাওয়ালে
  3. লিসবনে
  4. কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
লিসবনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিসবনে
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন শহরের রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি  বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদরি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৯৬১.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) সত্যজিৎ রায়
  3. গ) দুলাল দত্ত
  4. ঘ) পশ্চিমবঙ্গ সরকার
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যজিৎ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন - সত্যজিৎ রায়।

• পথের পাঁচালী   বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। প্রথমে এটি মাসিক বিচিত্রা পত্রিকায় (আষাঢ় ১৩৩৫-আশ্বিন ১৩৩৬) ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয়; পরে ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর এবং সর্বজয়া উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। অপু চরিত্রে লেখকের ব্যক্তিচরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে। লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অপু ও দুর্গাকে প্রকৃতির স্বভাবসম্পন্ন করে চিত্রিত করা হয়েছে। অপু চরিত্রের ক্রমবিকাশের ধারায় পরবর্তীকালে বিভূতিভূষণের অপরাজিত (১৯৩১) উপন্যাস রচিত হয়। অস্কার বিজয়ী পরিচালক  সত্যজিৎ রায় উভয় গ্রন্থ অবলম্বনে পৃথক দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

• দুলাল দত্ত ছিলেন সম্পাদক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ছবির প্রযোজক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- সৌমিত্র শেখর

৮,৯৬২.
‘তারার দেশের হাতছানি'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মতী
  3. গ) আবদুল হাই
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মতী শরফুদ্দূন (১৯০৩-১৯৯৮) রচিত গ্রন্থ হলো এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৮,৯৬৩.
‘The Zamindar and Royats’ প্রবন্ধটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. বঙ্গভঙ্গের
  2. নীলকরদের অত্যাচারের
  3. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের
  4. পঞ্চাশের মন্বন্তরের
সঠিক উত্তর:
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের
ব্যাখ্যা
• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

-------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- আামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৮,৯৬৪.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. চরিত্রহীন
  3. দেবদাস
  4. শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

৮,৯৬৫.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- রবীন্দ্র কাব্য ধারার গীতিকবিতা রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলোঃ
• মায়া কাজল,
• শান্তি ও প্রার্থনা,
• মন ও জীবন,
• উদাত্ত পৃথিবী,
• অভিযাত্রিক,
• মোর জাদুদের সমাধি পরে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৯৬৬.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যটির রচয়িতা কে ?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
ক) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা; যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যে অনেকগুলি প্রণয়বৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে। Source: Banglapedia
৮,৯৬৭.
‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ’প্রভাতসংগীত’ কাব্যগ্রন্থ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসংগীত কাব্যটির প্রকাশ পায় ১৮৮৩ সালে।
এ কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা হচ্ছে: ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’।
একদিন সূর্যোদয়ের মুহূর্তে আকস্মিকভাবেই তাঁর মধ্যে জেগে ওঠে এক দিব্য প্রেরণা, যার ফলে জগৎ, প্রকৃতি ও মানুষ- সবকিছু তাঁর চোখে এক বিশ্বব্যাপী আনন্দ ধারায় প্লাবিত বলে মনে হয়।
এই অলৌকিক অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’।
-------------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৬৮.
''প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে'' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সমর সেন
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অক্টোপাস,
- অদ্ভূত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায় ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৯৬৯.
‘অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী।’- কোন সাহিত্যের অংশ?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

'অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী'- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের অংশ।

রক্তাক্ত প্রান্তর মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৯৭০.
‘পশুপতি ও মনোরমা’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ হলো:
- হেমচন্দ্র,
- মৃণালিনী,
- পশুপতি,
- মনোরমা।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা,
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।
- ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৭১.
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় কোথায়?
  1. ঢাকায়
  2. রংপুরে
  3. ময়মনসিংহে
  4. কুষ্টিয়ায়
সঠিক উত্তর:
রংপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুরে
ব্যাখ্যা
• মুদ্রণ শিল্প:
মুদ্রণ শিল্প প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ। প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়। এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন।
- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা ''বার্তাবহ যন্ত্র'' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৭২.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?' কবিতাংশটি কার?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) জসীমউদদীন
সঠিক উত্তর:
গ) কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে।
• তাঁর রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।
• 'কবিতার কথা' নামে জীবনানন্দ দাশের একটি প্রবন্ধ।
কবিঃ কুসুমকুমারী দাশ
কবিতাঃ আদর্শ ছেলে
আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৯৭৩.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৭৪.
‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’- কার লেখা?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৭৫.
‘সাহিত্য সম্রাট’ নামে খ্যাত কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাদ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশ যুগ এ পর্বের শ্রেষ্ঠ লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)। তিনি বাংলা গদ্যকে সর্বপ্রকার ভাব প্রকাশের উপযোগী করে তোলেন।
• বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি জীবনে অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভাগুণে পন্ডিতি ও আলালি-হুতোমি রীতির মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে সরল ও সরস গদ্যের সৃষ্টি করেন।
• “বঙ্গদর্শন”  (১৮৭২) নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেন। সাহিত্য-সমালোচনা, ঐতিহাসিক গবেষণা, ধর্ম ও দার্শনিক আলোচনা, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সাহিত্য, ব্যঙ্গ-সাহিত্য এর সবই তিনি প্রবর্তন করেন।
• বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভাবলে যে সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাঁরাই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবৎ বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য করেন। বাংলায় তুলনামূলক সাহিত্যসমালোচনারও তিনিই পথিকৃৎ।
তবে তাঁর প্রধান পরিচয় ঔপন্যাসিক হিসেবে এবং এজন্য তিনি ‘সাহিত্যসম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুন্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৭৬.
‘ঊর্ধ্বশির যদি তুমি কুল মনে ধনে; করিওনা ঘৃণা তব নীচ শির জনে!’ - পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

 ‘ঊর্ধ্বশির যদি তুমি কুল মনে ধনে; করিওনা ঘৃণা তব নীচ শির জনে!’পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রসাল ও স্বর্ণলতিকা কবিতার অন্তর্গত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

রসাল ও স্বর্ণলতিকা
– মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রসাল কহিল উচ্চে স্বর্ণলতিকারে;-
শুন মোর কথা, ধনি, নিন্দ বিধাতারে।
নিদারুণ তিনি অতি;
নাহি দয়া তব প্রতি;
তেঁই ক্ষুদ্র-কায়া করি সৃজিলা তোমারে।
-----------------------
মহাঘাতে মড়মড়ি
রসাল ভূতলে পড়ি
হায়, বায়ুবলে
হারাইল আয়ু-সহ দর্প বনস্থলে!
ঊর্ধ্বশির যদি তুমি কুল মান ধনে;
করিও না ঘৃণা তবু নিচ-শির জনে।

উৎস: রসাল ও স্বর্ণলতিকা– মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৯৭৭.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক রচনা?
  1. অসমাপিকা
  2. বিনুর বই
  3. পথে প্রবাসে
  4. যার যেথা দেশ
সঠিক উত্তর:
বিনুর বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনুর বই
ব্যাখ্যা
⇒ বিনুর বই:
• অন্নদাশঙ্করের বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি বিনুর বই-এর প্রথম পর্ব রচনা করেন।
• পরস্পরসংলগ্ন অধ্যায় পরম্পরায় মাত্র তিন মাসেই সে লেখা সম্পন্ন হয়।
• দ্বিতীয় পর্বের লেখা শুরু হয় ছিয়াশি বছর বয়সে। যখন শেষ হয় তখন তাঁর বয়স উননব্বই। পরিচ্ছেদগুলি দীর্ঘায়িত।
• জীবনসায়াহ্নের সে রচনা অনেকটাই যেন তাঁর বর্ণময় জীবন ও যাপনের 'Summing up'।
• বিনুর বই জীবনশিল্পী অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা।
উভয় পর্বেই অন্নদাশঙ্কর রচনা করে চলেন তাঁর মনের, মননের এক আত্মস্বীকারোক্তিমূলক জীবনকাহিনি। অসামান্য এই কাহিনি একদিকে যেমন আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয় তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্ব ও বাঁকবদলের সঙ্গে, তেমনই আমরা জানতে পারি মনস্বী এই লেখকের জীবনদর্শন সম্পর্কেও।
• তাই বিনুর উপলব্ধি আসলে অন্নদাশঙ্করেরই উপলব্ধি। তিনি বলেছেন: 'মানুষকে লেবেল দিয়ে শনাক্ত করা যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে তার স্বরূপ জানতে পারা যায়।'

===========
⇒ অন্নদাশঙ্কর রায়:
 
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

⇒ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।
 
⇒ তাঁর উলে­খযোগ্যে উপন্যাস:
• অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
• কঙ্কাবতী,
• যার যেথা দেশ,
• দুঃখমোচন,
• মর্তের স্বর্গ।

⇒ তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা ইত্যাদি।  

উৎস: ‘বিনুর বই’  অন্নদাশঙ্কর রায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৭৮.
রবীন্দ্রনাথের 'শান্তিনিকেতন' কত সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়?
  1. ক) ১৯২১
  2. খ) ১৯০১
  3. গ) ১৯১১
  4. ঘ) ১৯২২
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯২১
ব্যাখ্যা
শান্তিনিকেতন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের নিকট একটি আশ্রম। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ সালে এ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন নামে নতুন উদ্যমে এটি পরিচালনা করেন। এটি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী' বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৯৭৯.
‘পদ্মরাগ’– গ্রন্থটি কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. ক) কবি সুফিয়া কামাল
  2. খ) রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) সেলিনা হােসেন
সঠিক উত্তর:
খ) রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সৃজনশীল রচনার মধ্যে অন্যতম সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৮০.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকোড়ে' - এই বাক্যের স্রষ্টা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকোড়ে' - এই বাক্যের স্রষ্টা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• পালামৌ - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনী।

‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা। ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’-এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য । সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।

- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৮১.
‘হ-য-ব-র-ল’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, ইত্যাদি।
তাছাড়া 'হ-য-ব-র-ল' নামে সুকুমার রায় রচিত একটি রম্যরচনা রয়েছে।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৯৮২.
'শেষের কবিতা' গ্রন্থটি কোন শ্রেণির রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. গীতিকাব্য
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৯৮৩.
গ্রন্থাকারে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কখন প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭
  2. ১৪৫০
  3. ১৯১৬
  4. ১৯৩৮
সঠিক উত্তর:
১৯১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে স্বীকৃত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকাব্য'।
১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধার করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথিটি।
১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৯৮৪.
’সৈনিক বধূ’ গল্পের রচিতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
’সৈনিক বধূ’ গল্পের রচিতা, সুফিয়া কামাল।

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প- সৈনিক বধূ।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৮৫.
'প্রবাসের দিনগুলি' বিখ্যাত গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. কামিনী রায়
  3. সেলিনা হোসেন 
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

'প্রবাসের দিনলিপি' গ্রন্থটি রচনা করেছেন জাহানারা ইমাম।
- এই গ্রন্থটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• জাহানারা ইমাম:

- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৮৬.
"জাহিদুল কবির খোকা" - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্র করে রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস -
  1. জীবন আমার বোন
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৮৭.
"বং বঙ্গ বাঙ্গালা বাংলাদেশ" - গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. রিজিয়া রহমান
  2. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  3. আহমদ শরীফ
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

• "বং বঙ্গ বাঙ্গালা বাংলাদেশ" গ্রন্থটি বিশিষ্ট আইনবিদ, লেখক ও ভাষাবিদ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান রচনা করেছেন।
- গ্রন্থটি - ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সম্পর্কে তথ্য:
জন্ম: ৩ ডিসেম্বর ১৯২৮।
মৃত্যু: ১১ জানুয়ারি ২০১৪।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।
- ভাষা, সাহিত্য ও আইনশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।
- ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি পদে অভিষিক্ত হন।
- তিনি একুশে পদক (১৯৯৮) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০০৯) পেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; প্রথম আলো আর্কাইভ।

৮,৯৮৮.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৯৮৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে ‘অণুবিশ্ব’ বলা হয়?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) গীতাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
ক) মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানসী
ব্যাখ্যা
এটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। এ কাব্যেই রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেন। গাজীপুর জেলায় বসে লিখেছেন। 

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৮,৯৯০.
কালীপ্রসন্ন সিংহ এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. পরশুরাম
  2. লীলাময় রায়
  3. কালকূট
  4. হুতোম পেঁচা
সঠিক উত্তর:
হুতোম পেঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুতোম পেঁচা
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম — হুতোম পেঁচা।

• অন্যদিকে,:
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'। 

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।

- তিনি "হুতোম প্যাঁচার নকশা” (১৮৬২) ও "সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ" (১৮৬৬) এই দুটি গ্রন্থের জন্য অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ।

৮,৯৯১.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. রংপুর
  3. নীলফামারী
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- সুলতানার স্বপ্ন,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৯২.
'মামা গো!' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আসাদ চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা


সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম। কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন। তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: আবোল-তাবোল (১৯২৩), হ-য-ব-র-ল (১৯২৪), পাগলা দাশু (১৯৪০), বহুরূপী (১৯৪৪), খাইখাই (১৯৫০), অবাক জলপান, শব্দকল্পদ্রুম, ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৯৩.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' কার রচনা ?
  1. সুকুমার সেন
  2. আশুতোষ চৌধুরী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ যা দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন ১৮৯৬ সালে।

- কিশোর বয়স থেকে দীনেশচন্দ্র সেন সাহিত্য-অনুরাগী ছিলেন। কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ কুমার ভূপেন্দ্রসিংহ (১৮৯০)। এটি একটি আখ্যান কাব্য।

- কুমিল্লায় অবস্থানকালে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুথি সংগ্রহ করেন। ব্যাপক শ্রমসাধ্য এ কাজে তিনি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময়ের গবেষণায় কুমিল্লা থেকে ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বঙ্গভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক একটি আকরগ্রন্থ।

- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর এটি একটি সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাগ্রন্থ যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালের পন্ডিতদের প্রশংসা লাভ করে। এ অসাধারণ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে পথিকৃৎ-এর সম্মান ও পান্ডিত্যের স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৯৪.
'পথে প্রবাসে' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৯৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) প্রথম পার্থ
  3. গ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাপৃথিবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ - মহাপৃথিবী।

জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ- 
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৯৬.
"অক্টোপাস" উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. মুনির চৌধুরী
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৯৭.
'হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন, পর ধন লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি' এ কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত কবিতাটি মাইকেল মুধুসূদন দত্তের ' কবি-মাতৃভাষা' কবিতার অংশ।
তিনি ইউরোপে প্রবাসকালে মাতৃভূমির স্মৃতি-উদ্ভাসিত মনে বাল্যস্মৃতি, হিন্দুদের পূজাউৎসব, পূবর্তন কবিদের স্মৃতিতপর্ণ ইত্যাদি বহুবিধ বৈশিষ্ট্য নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। ফলে এসব কবিতায় তার মানসিক অবস্থার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮,৯৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটক বৌ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস অবলম্বনে লেখা?
  1. ডাকঘর
  2. রক্তকরবী
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• প্রায়শ্চিত্ত নাটক (১৯০৯) :
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।
 - 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। 
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগীর আবির্ভাব।
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় ধনঞ্জয় বৈরাগীর চরিত্রের মাধ্যমে।। 
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় ।

• রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য নাটকসমূহ:
• গীতিনাট্য:
- বসন্ত (১৯২৩): নজরুলকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
- কালমৃগয়া (১৮৮২)

• কাব্যনাট্য:
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- মায়ার খেলা,
- বিদায় অভিশাপ।

• রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব, 
- রাজা,
- ডাকঘর,  
- অচলায়তন,  
- ফাল্গুনী,  
- গুরু (১৯১৮): এটি অচলায়তনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অরূপরতন,  
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা,  
- তাসের দেশ।

• প্রহসন:
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- চিরকুমারসভা,
- গোড়ায় গলদ, 
- হাস্যকৌতুক,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৯৯৯.
শামসুর রহমানের রচনা কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. খ) কয়েকটি কবিতা
  3. গ) নিরালোকে দিব্যরথ
  4. ঘ) উত্তরাধিকার
  5. ঙ) পদাতিক
সঠিক উত্তর:
গ) নিরালোকে দিব্যরথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিরালোকে দিব্যরথ
ব্যাখ্যা
নিরালোকে দিব্যরথ কাব্য কবি শামসুর রহমানের। এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, কয়েকটি কবিতা, উত্তরাধিকার ও পদাতিক গ্রন্থসমুহ যথাক্রমে সেলিনা হোসেন, সত্যেন সেন, শহীদ কাদরি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় রচিত।(সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা)
৯,০০০.
‘কল্যাণী’ নিচের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. অনধিকার প্রবেশ
  3. অপরিচিতা
  4. মণিহারা
সঠিক উত্তর:
অপরিচিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
⇒ “অপরিচিতা” ছোটগল্প:
“অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্রবীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে-বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক। “অপরিচিতা” উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধসংলগ্ন সময়ের সেই বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তারই বিয়ে উপলক্ষ্যে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননাকালে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা-সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্ত।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।