• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প অতসী মামী।
----------------
• ‘অতসী মামী’ গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প ‘অতসী মামী’।
- গল্পটি ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে খ্যাতনামা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা এই গল্পটি প্রকাশের পরই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিতি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে গল্পটি ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- গল্পটির মূলভাব হলো- জীবনের কঠোর বাস্তবতার ভেতরেও মানবিক সম্পর্কের গভীর টান, বিচ্ছেদের বেদনা এবং আত্মিক অনুভবের প্রকাশ। এখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসার অনুরণন এবং রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানসিক ও আত্মিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, হারিয়ে পাওয়ার আনন্দ–বেদনা—এসবই গল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর জীবনদর্শন ও বাস্তবধর্মী সাহিত্যশৈলীর স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
---------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর পারিবারিক ডাকনাম।
- তাঁর পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করে জীবনের শেষদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- পিতার চাকরির কারণে তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়—দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরে।
- শেষ পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রয়েড, ইয়ুং ও অ্যাডলারের মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় মার্কসবাদের প্রভাব গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।
• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- অতসী মামী
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।
উৎস:
‘অতসী মামী’ গল্প;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।