বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৭১ / ১৭৪ · ৭,০০১৭,১০০ / ১৭,৪৩৭

৭,০০১.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত -
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
"মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" - ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্যম কবিতা।

• দাউদ হায়দার:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত লেখক।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০০২.
পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা রয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. সংকর সংকীর্তন
  2. প্রপঞ্চ
  3. দেয়াল
  4. জীবন
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা

• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর 'দেয়াল' (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির বিবোমিশাকর নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে।

------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো-
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।
[আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।]

উল্লেখ্য, 
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস রয়েছে'দেয়াল' (২০১২) নামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

৭,০০৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
খ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সাহিত্যকর্ম:
গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কবর - মুনির চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - সৈয়দ শামসুল হকের লেখা মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্যনাটক।
ওরা কদম আলী - মামুনুর রশীদ রচিত একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০০৪.
'নয়া সড়ক' কোন ধরনের সাহিত্যপত্র ছিল?
  1. মাসিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. বার্ষিক
  4. দৈনিক
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
ব্যাখ্যা
• "নয়া সড়ক" পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমির 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০০৫.
আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই - গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর - মাসিক “সমকাল” পত্রিকা সম্পাদনা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার রচিত বিখ্যাত্র গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই। তার রচিত বিখ্যাত নাটক - শকুন্ত উপাখ্যান, সিরাজউদৌলা, মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০০৬.
‘নির্মাল্য’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

অন্যদিকে,
⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০০৭.
“বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত” গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. গোপাল হালদার
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন - ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
তার গ্রন্থের নাম - 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত'। এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটি পাঁচটি খন্ডে রচিত। তার বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কিত আরো কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - নামে আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে।
গ্রন্থটির যৌথ রচয়িতা - মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা।
গোপাল হালদার রচিত গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খন্ড)।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,০০৮.
‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে কায়কোবাদ। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে খ্যাত কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচনা করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য হলো ‘মহাশ্মশান’, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কায়কোবাদের সাহিত্যিক প্রতিভা অতি অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহবিলাপ’ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহবিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০০৯.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

চাঁদের অমাবস্যা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০১০.
'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র নিচের কোনটি?
  1. ক) অনুপমা
  2. খ) মনােরমা
  3. গ) নিরুপমা
  4. ঘ) বিনোদিনী
সঠিক উত্তর:
খ) মনােরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনােরমা
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

» তাঁর রচিত অন্যতম উপন্যাস - মৃণালিনী।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ এবং তুর্কি আক্রমণের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় ও দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনী এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র - মৃণালিনী এবং পশুপতি - মনোরমার প্রেমকাহিনী এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৭,০১১.
মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য -
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ 
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- পত্রিকাটির লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়। এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর পত্রিকাটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। তিনি ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি
- মোঃ জিল্লুর রহমান এমপি ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা।

জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যগণ:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

- ইবনে গোলাম সামাদ,
- মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী,
- আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী,
- মোঃ সলিমুল্লাহ,
- আসাদ চৌধুরী,
- আবুল মঞ্জুর,
- মোহাম্মদ খালেদ,
- অনু ইসলাম।

- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
 
৭,০১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. জাপান যাত্রী
  4. পারস্য যাত্রী
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয়- ইউরোপের চিঠি। 

• 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০১৩.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,০১৪.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. লীলাময় রায়
  2. হুতোম পেঁচা
  3. পরশুরাম
  4. অপরাজিতা দেবী
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং  ছড়াকার।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ রাখী (১৯৩২)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস অসমাপিকা (১৯৩০)।
- ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করেন।
 - বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত 'বঙ্গবন্ধু' কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায়

অন্যদিকে, 
- হুতোম পেঁচা - কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- পরশুরাম - রাজশেখর বসু।
- অপরাজিতা দেবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০১৫.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আপেল মাহমুদ
  3. গাজী আনোয়ার
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আলতাফ মাহমুদ:
- আলতাফ মাহমুদ একাধারে একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংস্কৃতিকর্মী, চিত্রশিল্পী, ভাষাসৈনিক ও স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ হলেও পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদের সুরটিই গৃহীত হয়।
- এই সুরটি ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’তে ব্যবহার করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁর বাসায় গোপন ক্যাম্প স্থাপন করেন।
- বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে আলতাফ মাহমুদকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
৭,০১৬.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন  
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে,
• 'চাষার দুক্ষু' নামক প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত।

----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'চাষাভুষার কাব্য'।

৭,০১৭.
শেক্সপিয়রের ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. হরচন্দ্র ঘোষ
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ 
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
হরচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

• শেক্সপিয়রের ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’ নাটকটির রচয়িতা - হরচন্দ্র ঘোষ।

--------------
• হরচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন নাট্যকার, অনুবাদক।
- একবার বেকনের প্রবন্ধ ‘ট্রুথ’-এর বাংলা অনুবাদ করার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের আদিপর্বের নাট্যকার এবং শেক্সপীয়রের নাটকের প্রথম অনুবাদক।
- তাঁর পুরাণ অবলম্বনে রচিত কৌরববিয়োগ (১৮৫৮) একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক নাটক।
 ১৮৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর হুগলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।

• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস (১৮৫৩)- শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখ- চিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪)- দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; গবেষণা প্রবন্ধ- University of North Bengal।

৭,০১৮.
গ্রিস ট্রাজেডি 'ইডিপাস' বাংলায় কে অনুবাদ করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কবির চৌধুরী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. লিলি চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'ইডিপাস' বাংলা অনুবাদ:
- বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় রচনা করেন 'ইডিপাস' নাটক। গ্রিক ট্র্যাজেডি নাটক ইডিপাস বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- তিনি ই এফ ওয়াল্টিং এর ইংরেজি অনুবাদ অনুসরণ করে ইডিপাস নাটকটি বাংলায় ভাষান্তর করেন, যা বাঙালি পাঠকের কাছে গ্রিক ট্র্যাজেডির রূপ তুলে ধরে।  

--------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ, 
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০১৯.
বিখ্যাত 'নবকুমার' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় একটি চরিত্র: নবকুমার।

অন্যদিকে,
- দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জগতসিংহ, ওসমান,আয়েশা তিলত্তমা।
- 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবলিনীর ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,০২০.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'অনল প্রবাহ' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা,  আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০২১.
'তপস্বী ও তরঙ্গিনী' বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।

• বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা-প্রগতি (১৯২৭-১৯), কবিতা (১৩৪২-৪৭)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০২২.
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শহীদ কাদরী।

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০২৩.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা

ওয়ারিশ:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,০২৪.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ নয়?
  1. পূর্বাভাস
  2. ঘুম নেই
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা

জননী সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ নয়। এটি শওকত ওসমানের একটি উপন্যাস। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে বিশ্বের মানুষ এবং শোষিত মানুষের জীবনযাত্রা, যন্ত্রণা, বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০২৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. খ) জলাঙ্গী
  3. গ) কাঞ্চনগ্রাম
  4. ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
জাহান্নাম হইতে বিদায় ও জলাঙ্গী শওকত ওসমান রচিত এবং কাঞ্চনগ্রাম শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উৎসঃ LiveMCQ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
৭,০২৬.
'দিলরুবা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তাঁর নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন। উৎসঃ বাংলাপিডায়া।
৭,০২৭.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শহীদুল্লা কায়সার 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার 
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়। 

----------------
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০২৮.
মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্য প্রকাশিত হয়?
  1. প্রাণ
  2. কবি-কাহিনি
  3. বনফুল
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।
- রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ,৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্পও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয়।

> প্রথম প্রকাশিত কবিতা: 'হিন্দুমেলার উপহার' (১৮৭৪)
> প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: 'কবি-কাহিনি' (১৮৭৮)
> প্রথম নাটক: 'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১)
> প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)
> প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প: 'ভিখারিনী' (১৮৭৪)
> প্রথম প্রবন্ধ: 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩) 
>  শেষ উপন্যাস: 'চার অধ্যায়'
> সর্বশেষ প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২২ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
৭,০২৯.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সাহিত্য
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শিখা
সঠিক উত্তর:
খ) নবশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবশক্তি
ব্যাখ্যা
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৩০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) তরঙ্গভঙ্গ
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ: 
- উপন্যাসে কোপন নদীর তীরবর্তী চাঁদপাড়া গ্রামের জনৈক যুবক শিক্ষিত আরেফ আলী শীতের এক উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল প্রকৃতির প্রয়ােজনে। প্রয়ােজন মিটিয়ে ঘরে ফিরে না গিয়ে সে। চন্দ্রলােকিত রজনীর রূপরাশিতে মােহাবিষ্ট হয়। হঠাৎ ছায়া শরীরের আকর্ষণে সে গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়ে।
- বাঁশঝাড়ে নিহত এক রমণীর লাশ দেখে সে ঘটনাটি আরেফ আলীর মনােলােকে আলােড়ন তােলে।
- প্রকৃত ব্যাপরটি ছিল আরেফ আলী গ্রামের যে বড়বাড়িতে আশ্রিত গৃহশিক্ষক সেই বড়বাড়িরই অন্যতম কর্তাপুরুষ কাদের আলী নিম্ন শ্রেণির এক রমণীকে সম্ভোগের উদ্দেশ্যে বাঁশঝাড়ে যায়; আরেফ সেই কাদেরকেই অনুসরণ করেছিল। আরফের পদশব্দে ভয় পেয়ে কাদের রমণীটিকে গলাটিপে হত্যা করে।
- উপন্যাসের সিংহভাগ ব্যয়িত হয়েছে আরেফ আলীর মনে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বর্ণনায়। শেষ পর্যন্তই ঘটনাটি সে প্রথমে দাদাসাহেবকে এবং পরে পুলিশকে জানায়।
-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩১.
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই বিখ্যাত চরণ দু'টির রচনা করেন কোন কবির মা?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই বিখ্যাত চরণ দু'টির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ। 
- তিনি বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা। 

• কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম - পৌরাণিক আখ্যায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৩২.
'ঘুম কাতুরে ঈশ্বর' কার রচিত গল্প?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন: 
- তিনি একজন কথাশিল্পী। তিনি ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২১টি উপন্যাস, ৭টি গল্পগ্রন্থ ও ৪টি প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। সমকালীন রাজনৈতিক সংকট ও দ্বন্দ্বের উৎস ও প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে সেলিনা হোসেন এর বই সমূহ-তে।
- সেলিনা হোসেন এর বই সমগ্র অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশসহ একাধিক ভাষায়। প্রবীণ এ লেখিকা ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
 উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, 
- জলোচ্ছা,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসত ইত্যাদি।

• 'ঘুম কাতুরে ঈশ্বর' তার একটি গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৩৩.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন?
  1. আজিজননেহার
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. ক এবং খ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭–১৯১১):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে তিনি গদ্যশিল্পে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন।

জীবনপরিচয়:
জন্ম: ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর — কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
কর্মজীবন শুরু: ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-য় মফঃস্বল সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক — ‘কাঙাল হরিনাথ’।
সম্পাদনা করেছেন: আজিজননেহার ও হিতকরী নামের পত্রিকা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৩৪.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন -
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩৫.
মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র কোনটি?
  1. ক) রাধা
  2. খ) বেহুলা
  3. গ) ফুল্লরা
  4. ঘ) মালিনী
সঠিক উত্তর:
খ) বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেহুলা
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের সংগ্রামী, ব্যক্তিত্ববান চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র বেহুলা

⇒ মনসামঙ্গল:

• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০৩৬.
জহির রায়হান ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পটি কোন প্রেক্ষাপটে লিখছেন?
  1. ভাষা আন্দোলনের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. উনসত্তরের অভ্যুত্থানের
  4. দেশভাগের
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের
ব্যাখ্যা
•‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্প:
রচয়িতা: জহির রায়হান।
প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধ।

• ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পের অংশবিশেষ:
রাইফেলটা কাঁধে তুলে নিয়ে ছোট্ট টিলারটার ওপরে এসে দাঁড়াই। সামনে তাকাই। বিরাট আকাশ। একটা লাউয়ের মাচা। কচি লাউ ঝুলছে। বাতাসে মৃদু দুলছে। কয়েকটা ধানক্ষেত। দুটো তালগাছ। দূরে আর একটা গ্রাম। খবর এসেছে ওখানে ঘাঁটি পেতেছে ওরা। একদিন যারা আমাদের অংশ ছিল। একসঙ্গে থেকেছি। শুয়েছি। খেয়েছি। ঘুমিয়েছি। এক টেবিলে বসে গল্প করেছি। প্রয়োজনবোধে ঝগড়া করেছি। ভালোবেসেছি। আজ তাদের দেখলে শরীরের রক্ত গরম হয়ে যায়। চোখ জ্বালা করে ওঠে। হাত নিশপিশ করে। পাগলের মতো গুলি ছুড়ি। মারার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠি। একজনকে মারতে পারলে উল্লাসে ফেটে পড়ি। ঘৃণার থুতু ছিটোই মৃতদেহের মুখে।

উৎস: ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্প - জহির রায়হান।
৭,০৩৭.
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শহীদ কাদরী
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ, 
- রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩৮.
রহিম বলল, "করিম, আমি তোমার কাছে আসছি।”- উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. রহিম করিমকে ডেকে বলল আমি তোমার কাছে আসছি।
  2. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে আমি তোমার কাছে আসছি।
  3. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
  4. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে আমি তোমার কাছে কাছে যাচ্ছি।
সঠিক উত্তর:
রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশের ক্রিয়াপদও কখনো কখনো অর্থসঙ্গতির জন্য পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত হয়।
যেমন:
•  প্রত্যক্ষ: রহিম বলল, "করিম, আমি তোমার কাছে আসছি।”
•  পরোক্ষ: রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।

এরূপ কিছু নিয়ম-
• আশ্রিত খণ্ডবাক্যের ক্রিয়ার কাল পরোক্ষ উক্তিতে সব সময় মূল বাক্যাংশের ক্রিয়ার কালের ওপর নির্ভর করে না।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ: ছেলে লিখেছিল, "শহরে খুব গরম পড়েছে।"
• পরোক্ষ: ছেলে লিখেছিল যে, শহরে খুব গরম পড়েছিল। অথবা, ছেলে লিখেছিল শহরে খুব গরম পড়েছে।

• প্রত্যক্ষ: করিম বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।”
• পরোক্ষ : করিম বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছে।

• প্রত্যক্ষ: মনসুর বলল, "আমি ঢাকা যাব।”
• পরোক্ষ: মনসুর বলল যে, সে ঢাকা যাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,০৩৯.
জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয়-
  1. নাট্যকার হিসেবে
  2. কবি হিসেবে
  3. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
  4. ঔপন্যাসিক হিসেবে
সঠিক উত্তর:
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
-বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৪০.
'সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন সেন
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শামসুর রাহামান
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন কথাশিল্পী। ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভকরেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• শামসুর রাহমান বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে নানা ছদ্মনাম নিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে: সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, মৈনাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৪১.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. প্রবাসী
  2. হিতকর
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৪২.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. যশোর
  3. ফরিদপুর
  4. ঝালকাঠি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

• জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৪৩.
“একটি কালো মেয়ের কথা” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' :
-'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে : '... এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ’একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাস ।
৭,০৪৪.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মাটির দেয়াল
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) খসড়া
  4. ঘ) উপহার
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ
- অমরাবতী 
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বংলাপিডিয়া।
৭,০৪৫.
নিম্নের কোনটি নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্যের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ক) রৈবতক
  2. খ) অবকাশরঞ্জনী
  3. গ) প্রভাস
  4. ঘ) কুরুক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
খ) অবকাশরঞ্জনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অবকাশরঞ্জনী
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেনের(১৮৪৭-১৯০৯) ত্রয়ীকাব্য - 
- রৈবতক (১৮৮৭)
- কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)
- প্রভাস (১৮৯৬)

- এই তিনটি কাব্যের কাহিনি একই সুতোয় বাঁধা। 
- এই তিন কাব্যের নায়ক ই শ্রীকৃষ্ণ।
- রৈবতক- এ কৃষ্ণের আদি, কুরুক্ষেত্র-এ তাঁর মধ্য, প্রভাস-এ কৃষ্ণের আন্তর্লীলা বর্ণিত হয়েছে। 
- এই কাব্য ত্রয় মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত। 

উল্লেখ, অবকাশরঞ্জনী নবীনচন্দ্র সেনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৪৬.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হবিগঞ্জ  
  2. কিশোরগঞ্জ  
  3. রংপুর 
  4. মানিকগঞ্জ 
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭,০৪৭.
'সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয় কোনটি?
  1. সিন্দবাদ
  2. হাবেদা মরুরকাহিনী
  3. পাঞ্জেরি
  4. দরিয়ার শেষ রাত্রি
সঠিক উত্তর:
হাবেদা মরুরকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাবেদা মরুরকাহিনী
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

এই কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- সিন্দবাদ, পাঞ্জেরি, তুফান, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
হাবেদা মরুরকাহিনী- ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয়।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৪৮.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থটি কোন কবি রচনা করেছেন?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আল মাহমুদ
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।

- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ২৩টি কবিতা রয়েছে।
- কবিতাগুলোতে আছে স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ে দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তাঁর ডাক নাম বাচ্চু।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
-  প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৪৯.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থটি একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাট্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

• 'যুগবাণী':

- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫০.
"প্রভাতচিন্তা" কার রচিত গ্রন্থ?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. শিবনাথ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা

'প্রভাত চিন্তা' নামক গ্রন্থটি লিখেছেন কালীপ্রসন্ন ঘোষ। এটি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ গদ্য রচনা, যা ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।  

---------------------
• কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।
- এ ছাড়া সঙ্গীতমঞ্জরী (১৮৭২) নামে একখানা আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং কোমল কবিতা (১৮৮৮) নামে একখানা শিশুপাঠ্য গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭),
- নিভূত-চিন্তা (১৮৮৩),
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও
- নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ভ্রাস্তিবিনোদ (১৮৮১),
- প্রমোদলহরী (১৮৯৫),
- ভক্তির জয় (১৮৯৫),
- মা না মহাশক্তি (১৯০৫),
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা (১৯০৫),
- ছায়াদর্শন (১৯০৫) প্রভৃতি

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭,০৫১.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২৩ সালে 
  2. ১৮৩৩ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা

গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,০৫২.
মাইকেল মদুসূদন দত্তের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫৩.
বেগম রোকেয়া রচিত রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) সওগাত
  2. খ) রূপজালাল
  3. গ) পিপাসা
  4. ঘ) Sultana’s Dream
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
ব্যাখ্যা
গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস 'রূপজালাল' গ্রন্থটি নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি। 

নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়। 

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর 
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫৪.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশরঞ্জন দাশ
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৫৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্য সাহিত্যে কী প্রবর্তন করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. পায়রাবৃত্ত ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,০৫৬.
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) মৌলিক মুখোশ
  2. খ) মানুষের মানচিত্র
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) দূরে আছো দূরে
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫৭.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য।

-----------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. জাভা যাত্রীর পত্র
  2. জাপান যাত্রী
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. রাশিয়ার চিঠি
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি:
• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): 
- প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৫৯.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য জহির রায়হান কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
  2. আদমজী পুরস্কার
  3. একুশে পদক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আদমজী পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদমজী পুরস্কার
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক। তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ 'সূর্যগ্রহণ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা দ্য উইকলি এক্সপ্রেস প্রকাশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম। এ ছাড়া তিনি কতিপয় সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৬০.
'কবর' নাটকটি প্রথম মঞ্চায়ন হয় কোথায়?
  1. ঢাকা থিয়েটারে
  2. বাংলা একাডেমীতে
  3. শহীদ মিনারে
  4. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
ব্যাখ্যা

• কবর নাটক:
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি স্মরণীয় নাম।
- কারাগারের ভেতরে বসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই নাটকটি যেভাবে লেখা এবং মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
- 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
- রাতে কারাগারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হলে লণ্ঠনের আলোয় সেই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ঢাকা কারাগারে।
- তখন কারাগারে থাকা কমিউনিস্ট নেতা রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে ভাষা আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি ‘কবর’ নাটক লেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কারাবন্দী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মুনীর চৌধুরী লেখা শেষ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আর জেলখানায় অভিনীত হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি।
- পরবর্তীতে এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশে মঞ্চায়িত হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় নাটকে পরিণত হয়েছে।

তাঁর রচিত আরও কয়েকটি নাটক- 
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দণ্ডকারণ্য
- রূপার কৌটা
- মুখরা রমণী বশীকরণ
- কেউ কিছু বলতে পারে না।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৬১.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) দেশে বিদেশে
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
খ) পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পালামৌ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'। 

- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম 
- লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন। 
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণ কাহিনি প্রকাশ হয়। 

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য- 
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৬২.
জসীমউদ্‌দীনের 'কবর' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
  2. ধুমকেতু
  3. কল্লোল
  4. কালি ও কলম
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা
'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

----------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৬৩.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অংশ?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গল কাব্য।
- এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি ছিলেন মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৬৪.
বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌
• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ সলীল,
- তীর্থ রেণু,
- ফুলের ফসল,
- মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,০৬৫.
‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  5. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সাহিত্য (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর (১৯৩৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৬৬.
‘ভ্রমণকারী বন্ধু’ কোন লেখকের ছদ্ম নাম?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অমীয় চক্রবর্তী
  3. গ) বন্ধুদেব বসু
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়  ‘লীলাময় রায় ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০৬৭.
‘আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
হুমায়ুন আজাদ রচিত আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে কবি মানুষের অমরত্বের সন্ধান করেছেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,০৬৮.
’বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
ব্যাখ্যা

• ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০৬৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম গ্রন্থ?
  1. চার অধ্যায়
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. বিবিধ প্রসঙ্গ
  4. জাভা যাত্রার পথ
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয় ৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৩।
৭,০৭০.
‘অশনি সংকেত’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘অশনি সংকেত’: 
- উপন্যাসের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষম ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,০৭১.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) নয়নচারা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নয়নচারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নয়নচারা
ব্যাখ্যা
লালসালু, কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস এবং নয়নচারা, দুই তীর, গল্পসমগ্র তাঁর রচিত ছোটগল্প।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,০৭২.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'চিত্তনামা' কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্মরণে রচিত?
  1. ক) ক্ষুদিরাম বসু
  2. খ) সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. ঘ) মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য, 
চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ) 

চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে (১৩৩২ বঙ্গাব্দে)
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালিন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থ বের করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৭৩.
'স্বদেশ ও সাহিত্য' - প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- স্বদেশ ও সাহিত্য

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০৭৪.
'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি-
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- তুলনাহীনা,
- শহর-ইয়ার।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৭৫.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস?
  1. কালান্তর
  2. শেষ লেখা
  3. মালঞ্চ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

 • 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - উপন্যাস।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
 কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন
- 'শেষ লেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস:
- করুণা (অসমাপ্ত, ১৮৭৭), 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- গোরা, 
- ঘরে বাইরে, 
- চতুরঙ্গ, 
- যোগাযোগ, 
- শেষের কবিতা, 
- দুই বোন, 
- মালঞ্চ, 
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৭৬.
'আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি আজ অর্থের ওপরই পড়ে রয়েছে।' - উক্তিটি কার?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি আজ অর্থের ওপরই পড়ে রয়েছে।' - উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর
- উক্তিটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের অন্তর্গত।
- 'বই পড়া' প্রবন্ধটি 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; প্রবন্ধ সংগ্রহ, প্রমথ চৌধুরী।
৭,০৭৭.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা - আহমদ ছফা
 
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৭৮.
আবুল হাসান রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. এখানে এখন
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওরা কয়েকজন
  4. গণনায়ক
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের  মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য-  ওরা কয়েকজন। 

অন্যদিকে, 
সৈয়দ শামসুল হকের  কাব্যনাট্যসমূহ হচ্ছে-  পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬), গণনায়ক (১৯৭৬), এখানে এখন (১৯৮৮)। 

-------------------
• আবুল হাসান:

- আবুল হাসান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া, আর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।

- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তাবিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদ-এ (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম হন।

---------------------
তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪) ও
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।

মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য-
- ওরা কয়েকজন ও
- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,০৭৯.
বুদ্ধদেব বসু রচিত ‘কঙ্কাবতি’ কাব্যগ্রন্থের পটভুমি ছিলো-
  1. ক) প্রেম
  2. খ) যুদ্ধ
  3. গ) সামাজিক কুসংস্কার
  4. ঘ) দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেম
ব্যাখ্যা
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম। সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৮০.
'কপোতক্ষ নদ' কোন জাতীয় কবিতা? 
  1. সনেট 
  2. গদ্য কবিতা 
  3. গীতি কবিতা 
  4. কাব্য নাট্য 
সঠিক উত্তর:
সনেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট 
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' সনেট জাতীয় রচনা। 

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা,
- এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

কপোতাক্ষ নদ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০৮১.
’এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো,
মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো।’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রহমান
  3. মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

’এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো, 
মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো।’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক জসীম উদ্‌দীন।
- পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীন রচিত রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রাখালী:

- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সীকাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৮২.
'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থটি কোন ছদ্মনামে পত্রিকায় ছাপা হতো?
  1. অকপটচন্দ্র ভাস্কর
  2. নবীনকিশোর শর্মণঃ
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. লেখক ভূতনাথ বাবু
সঠিক উত্তর:
লেখক ভূতনাথ বাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখক ভূতনাথ বাবু
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতী মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৮৩.
নিচের কোনটি মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য?
  1. উদ্বোধন
  2. স্পেন বিজয় কাব্য
  3. অনল প্রবাহ
  4. উচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস: রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম।
• প্রবন্ধ: স্বজাতি প্রেম, তুর্কি নারী জীবন, স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।
• কাব্যগ্রন্থ: অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।
• ভ্রমণকাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৮৪.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৮৫.
'আমার স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বণ্টন' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. সমর সেন
  3. সুকুমার রায়
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
•'আমার স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বণ্টন' উক্তিটির রচয়িতা সমর সেন ।
• সমর সেন:

- সমর সেন নাগরিক কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- 'বাবু বৃত্তান্ত' সমর সেন রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ ।

অন্যদিকে,
- "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন" আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যের চরণ।
- "ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো" রফিক আজাদ এর 'ভাত দে' কবিতার বিখ্যাত চরণ।
- "বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে" সুকুমার রায় এর 'জীবনের হিসাব' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৭,০৮৬.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি? 
  1. সাম্য
  2. দৃষ্টিকোণ
  3. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিকোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিকোণ
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন: 'দৃষ্টিকোণ'। 

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে  ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও  অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।
 
আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি। 

অন্য অপশনে,
• 'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ কালান্তর।
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৮৭.
'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের নায়িকার নাম কি?
  1. ক) মালা
  2. খ) যুগী
  3. গ) কপিলা
  4. ঘ) ময়না
সঠিক উত্তর:
গ) কপিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কপিলা
ব্যাখ্যা
যৌনাকাঙ্খার সঙ্গে উদরপূর্তি সমস্যা ভিত্তিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে। উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া, ধনঞ্জয়, শীতলবাবু। উপন্যাসে শীতল বাবুর স্ত্রীর নাম যুগী। মালা এ উপন্যাসের নায়ক চরত্র কুবেরের স্ত্রী। কপিলা এ উপন্যাসের নায়িকা, মালার বোন এবং শ্যামাদাসের স্ত্রী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৭,০৮৮.
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - এটি কার উক্তি?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ থেকে 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৮৯.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় -
  1. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে।

• আধুনিক যুগের সাহিত্য:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
- এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যানকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র-সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।
- আধুনিক যুগের সাহিত্যকীর্তির বিস্তৃতির কারণে এ যুগের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয় প্রদান প্রায় অসম্ভব।
- উপন্যাস, ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং আধুনিক রীতির কবিতা ও নাটকের সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ভাণ্ডার।
- মহাকাব্যের ধারায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, উপন্যাসের ধারায় বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র থেকে হাল আমলের সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, কবিতায় নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ থেকে শামসুর রাহমান, জয় গোস্বামী, নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে বিজন ভট্টাচার্য, সেলিম আলদীন প্রমুখ অসংখ্য রচনাকারের নামই উল্লেখ করা যায়।
- সর্বযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দনাথও তো এই আধুনিক যুগেরই ফসল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,০৯০.
’আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে, অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. উপহার
  2. অনন্ত প্রেম
  3. ব্যক্ত প্রেম
  4. শেষ উপহার
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
ব্যাখ্যা

•’আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে, অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ’অনন্ত প্রেম’ কবিতার অংশ।
- অনন্ত প্রেম কবিতাটি মানসী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-----------------------------------------
"মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে "রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন"।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।"

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৯১.
'ভারতী' পত্রিকা কে সম্পাদনা করতেন?
  1. নিরুপমা দেবী
  2. কামিনী রায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. মানকুমারী বসু
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন।

উল্লেখ্য,
- কিশোর পত্রিকা "বালক" [১৮৮৫] স্বর্ণকুমারী দেবীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,০৯২.
'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. লালসালু 
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। 
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?' উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।
এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষি পাঠ,
- গীতাঙ্কু,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
-ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত,
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা,
- বামাতোষিণী।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৯৩.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. রশীদ করিম
  2. জহির রায়হান
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হাসান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হানের রচিত একটি উপন্যাস।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. কৃষ্ণচরিত্র
  2. কৃষ্ণপক্ষ
  3. বিবিধ সমালোচনা
  4. লোকরহস্য
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণপক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণপক্ষ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ নয় - কৃষ্ণপক্ষ
- এটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯৫.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম-
  1. রাকিবুল হাসান
  2. ইকবাল মজুমদার
  3. রায়হান ইকবাল
  4. জাহেদুল করিম
সঠিক উত্তর:
জাহেদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহেদুল করিম
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন :
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিম।

• মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস :
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর 
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী,

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৯৬.
'মায়া মালঞ্চ' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'মায়া-মালঞ্চ' নাটক:
- 'মায়া-মালঞ্চ' বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।
- এটি লেখকের 'কালো হাওয়া' উপন্যাস অবলম্বনে তিন অঙ্কে সমাপ্ত নাটক।
- কবিতাভবন ২০২. রাসবিহারী এভিনিউ থেকে বুদ্ধদেব বসু কর্তৃক প্রকাশিত হয় মায়া-মালঞ্চ। 
- নাটকটি প্রথম প্রকশিন হয় (১৯ ফাল্গুন ১৩৫০) ৩ মার্চ ১৯৪৪ সালে। 

-------------
• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৯৭.
'শশী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শহরতলী
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. পুতুল নাচের ইতিকথা
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

•'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।
- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৯৮.
'সুড়ঙ্গ' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
- 'সুড়ঙ্গ' হচ্ছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক।

• সুড়ঙ্গ (নাটক):
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এই নাটকে মানুষের চেতনার লোভ, লালসা, ঘৃণা ও ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন।
- নাটকে ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে।
- রাবেয়ার এমন মনোবৃত্তি বিয়ের জন্যে নয়। 
- রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তাঁর চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। এভাবে কাহিনি বিস্তার করে নাটকটিতে।
- মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ - রূপকটি এখানেই।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯৯.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রফিক আজাদের 
  2. হাসান হাফিজুর রহমানের
  3. হুমায়ুন কবিরের 
  4. হাসান আজিজুল হকের 
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমানের
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র:
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়সীমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সারা বিশ্বে যা কিছু ঘটেছে তার তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ এবং সেসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনা ও মুদ্রণের দায়িত্ব অর্পিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের ওপর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারী থেকে (পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশঙ্কা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। আর সে প্রকল্পের ফসলই "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র"।

- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খণ্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও সম্পাদকবৃন্দের আক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই দলিলপত্র গ্রন্থমালা।

----------------
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধগুলো হলো:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু

উৎস: 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' গ্রন্থ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১০০.
নিচের কোনটি জসীম উদ্দীন রচিত গীতিনাট্য নয়?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পদ্মাপার
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) বালুচর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) এর প্রধান গীতিনাট্য
- মধুমালা
- পদ্মাপার 
- বেদের মেয়ে 
- পল্লীবধূ প্রভৃতি

- বালুচর (১৯৩০) কবি জসীমউদ্দীনের  একটি কাব্যগ্রন্থ।
– তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
– কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 
– বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। 
– তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
– ’বোবা কাহিনী’ (১৯৬৪) উপন্যাসটি সুখপাঠ্য।
– ‘জারীগান’ (১৯৬৮) ও ‘মুর্শীদা গান’ (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ্য, ‘মধুমালা’ নামে একটি নাটক রচনা করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।