বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৬৭ / ১৭৪ · ৬,৬০১৬,৭০০ / ১৭,৪৩৭

৬,৬০১.
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ - কাবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) রচিত বিখ্যাত কবিতা হলো ‘কোন এক মাকে’। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। তার রচিত কালজয়ী কবিতা ‘ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' এবং ‘মাগো, ওরা বলে'(ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে)।তিনি ‘পদাবলি’ নামে কবিদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
[সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা]
৬,৬০২.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" কোন ধরণের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যনাটক
  4. পত্রোপন্যাস
  5. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাটক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক রচিত সাহিত্যকর্মঃ
কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন (ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কাহিনী নিয়ে রচিত), -এখানে এখন।

উপন্যাসঃ
- দেয়ালের দেশ (১৯৫৯),
- এক মহিলার ছবি (১৯৫৯),
- অনুপম দিন (১৯৬২) ও
- সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪)।

গল্পগ্রন্থঃ
- শীত বিকেল (১৯৫৯),
- রক্তগোলাপ (১৯৬৪),
- আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭)।

সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৬০৩.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন শাহ
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!'- গানটির রচয়িতা - 'অতুলপ্রসাদ সেন'।  
- গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। 

অতুলপ্রসাদ সেন: 

- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন। 
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

• তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬০৪.
পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
  2. কর্ণফুলী
  3. অরণ্যবহ্নি
  4. অরণ্য নীলিমা
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

• ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।
- এটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জীবন ও কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবন সংগ্রাম, প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার এক অসাধারণ আখ্যান

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসের চরিত্র: আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- এই উপন্যাসে ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

অন্যদিকে,
- 'অরণ্যবহ্নি' আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এ উপন্যাস।
- সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস ‘পোকামাকড়ের ঘড়বসতি’। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।

•'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীবের রচিত উপন্যাস 'অরণ্য নীলিমা'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬০৫.
নবীনচন্দ্র সেনের প্রথম কাব্যসংকলন-
  1. ক্লিওপেট্রা
  2. অবকাশরঞ্জিনী
  3. রৈবতক
  4. প্রভাস
সঠিক উত্তর:
অবকাশরঞ্জিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবকাশরঞ্জিনী
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন একজন কবি ছিলেন।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন।
- প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
 - তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস, নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।  

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
-  ভগবদগীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬০৬.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ছাড়পত্র
  2. খ) ঘুম নেই
  3. গ) পূর্বাভাস
  4. ঘ) অভিযান
সঠিক উত্তর:
ক) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,৬০৭.
নিচের কোনটি অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা?
  1. পূর্বাশা
  2. ধূমকেতু
  3. সওগাত
  4. সমকাল
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।


-------------------
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:

- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল। টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

• 'সওগাত' পত্রিকা:
- সওগাত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম। তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোট গল্প পাঠান।এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।
- সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬০৮.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) রশীদ করীম
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
গ) রশীদ করীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- রশীদ করীম 
রশীদ করীমের উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের
- সেলিনা
- অণিমা
- শেখর,

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি
- প্রসন্ন পাষাণ
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬০৯.
'ইন্দিরা' উপন্যাসটি - কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।

'ইন্দিরা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প।
- ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত এবং 'উপকথা' (১৮৭৭) গ্রন্থে সংকলিত।
- ১৮৯৩ সালে পুনর্লিখিত এবং পরিবর্ধিত হয়।

এই উপন্যাসের কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত। কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি 'ইন্দিরা'। অনেকের মতে, বঙ্কিমচন্দ্রের কালে শিল্পমাধ্যম হিসেবে ছোটগল্পের অস্তিত্ব ছিলো না বলে তিনি একটি গল্পের বিষয়কে উপন্যাসে রূপ দিতে গিয়েছেন। তাঁদের মতে, 'ইন্দিরা' বাংলা ছোটগল্পের ইঙ্গিত, সূচনার বার্তাবহ।
-------------

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬১০.
'চোখের বালি' - কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রাজনৈতিক
  3. মনস্তাত্ত্বিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
মনস্তাত্ত্বিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনস্তাত্ত্বিক
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৬১১.
’আনন্দের মৃত্যু’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

- ’আনন্দের মৃত্যু’ গল্পগ্রন্থের লেখক - সৈয়দ শামসুল হক।
- এটি প্রকাশিত হয়- ১৯৬৭ সালে।

সৈয়দ শামসুল হক

- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য হলো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নি:স্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,৬১২.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলেন নাম কী?
  1. ক) কয়েকটি গান
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) আফতাব সঙ্গীত
  4. ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে।
- অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি
- “মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা' বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬১৩.
কবিতা বিষয়ক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) চিত্রদর্শন
  3. গ) মোসলেম ভারত
  4. ঘ) কল্লোল
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতা
ব্যাখ্যা
• কবিতাবিষয়ক পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।

• পত্রিকা 'কবিতা': 
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-  প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

এছাড়া, 
- 'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা -'চিত্রদর্শন'।
- 'মোসলেম ভারত' - পত্রিকাটি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর সম্পাদনায় ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬১৪.
“একাত্তরের দিনগুলি” স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

• জাহানারা ইমামের রচনা - একাত্তরের দিনগুলি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
 - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত আছে এ গ্রন্থে।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম  ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উল্লেখ্য
• সুফিয়া কামাল রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - একাত্তরের ডায়েরী।
• সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬১৫.
কোনটি বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক?
  1. পদ্মাবতী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক 'পদ্মাবতী'।

• 'পদ্মাবতী' নাটক:

- নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প ''Apple of Discord'' এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রকাশিত প্রথম বাংলা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক
- এর প্রকাশকাল ১৮৫৯।

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা তারাচরণ শিকদার।
- এটি একটি কমেডি নাটক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬,৬১৬.
উনিশ শতকের পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. তত্ত্ববােধিনী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল'  উনিশ শতকের পত্রিকা নয়।
- এটি বিশ শতকের পত্রিকা। 

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।

------------------
অন্যদিকে,
বঙ্গদর্শন পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
------------------
• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-----------------
• সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

------------------
সুতরাং, দেখা যাচ্ছে,
- 'কল্লোল' পত্রিকা পত্রিকাটি - বিশ শতকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
বঙ্গদর্শন, তত্ত্ববোধিনী ও সংবাদ প্রভাকর - উনিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬১৭.
'সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় বসে রচনা করেছিলেন?
  1. কুষ্টিয়ার শিলাইদহে
  2. কলকাতায়
  3. শান্তিনিকেতনে
  4. জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে
ব্যাখ্যা

সোনার তরী:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন। সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৬১৮.
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা “চতুরঙ্গ” কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৩১
  2. খ) ১৯৩৫
  3. গ) ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৪৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৩৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৩৯
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। তার ;রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬,৬১৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) রাজসিংহ
  2. খ) দেবী চৌধুরানী
  3. গ) আনন্দমঠ
  4. ঘ) চিরকুমার সভা
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিরকুমার সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিরকুমার সভা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস- রাজসিংহ, দেবী চৌধুরানী ও আনন্দমঠ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক- চিরকুমার সভা (১৯২৬)। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৬২০.
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শওকত ওসমান
  5. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

-----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাংগী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- তারা দুই জন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬২১.
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক হুমায়ুন আজাদের বাজেয়াপ্তকৃত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  2. সব কিছু ভেঙে পড়ে
  3. পাক সার জমীন সাদ বাদ
  4. বুকপকেটে জোনাকি পোকা
সঠিক উত্তর:
পাক সার জমীন সাদ বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাক সার জমীন সাদ বাদ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদকে দেশের প্রধান প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। গতানুগতিক চিন্তাকে তিনি সচেতনভাবেই পরিহার করেছেন। তিনি জনপ্রিয় তবে অতি বিতর্কিত সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি যা ভাবতেন তাই সাহসের সঙ্গে লিখতেন ফলে তিনি অনেকেরই বিরাগভাজন হন। এক পর্যায়ে তিনি মৌলবাদীদের কর্তৃক মারাত্মকভাবে আহত হয়ে প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েন। তাঁর নারী (১৯৯২), দ্বিতীয় লিঙ্গ (২০০১), পাক সার জমীন সাদ বাদ (২০০৩) গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং এরই এক পর্যায়ে সরকার বই তিনটিকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। 

-------------------
• 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস:
- 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সহযোগিতাকারী একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপর ভিত্তি করে এটি রচিত।
- উপন্যাসটি প্রথম ২০০৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এর ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

--------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬২২.
কোন উপন্যাস অবলম্বনে ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে?
  1. একাত্তরের যীশু 
  2. আগুনের পরশমণি  
  3. শ্যামল ছায়া 
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসটি অবলম্বনে চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’ নির্মিত হয়েছে।
----------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা: 
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলে যা।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- 
- এক মহিলার ছবি;
- অনুপম দিন;
- এক মুঠো জন্মভূমি;
- রাজার সুন্দরী;
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি। 

• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
-------------------------------------------- 
“নিষিদ্ধ লোবান” নিয়ে কিছু কথা: 
- সৈয়দ শামসুল হকের “নিষিদ্ধ লোবান” উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- উপন্যাসে লেখক “নিষিদ্ধ লোবান” নামের মাধ্যমে মৃত্যুর বাস্তবতা ও যুদ্ধের বিভীষিকাকে প্রকাশ করেছেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বিলকিস একজন বীরাঙ্গনা।

- যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পরিবার-স্বজনকে হারানোর পরেও বিলকিস সাহস হারাননি।
- বরং, যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে নবগ্রামে ফিরে আসে।
- নবগ্রামে ফেরার কারণ হলো- বিলকিস তার যুদ্ধে শহীদ হওয়া ভাইয়ের লাশ খুজে পেতে বদ্ধপরিকর ছিল।
- শেষ পর্যন্ত বিলকিস তার ভাইয়ের লাশ খুঁজে বের করে সৎকার করেন;
- যা তার দৃঢ় চেতনা ও স্বাধীনতার প্রয়াসকে প্রতিফলিত করে। 
-------------------- 
'গেরিলা' চলচ্চিত্রের কিছু তথ্য:
- 'গেরিলা’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
- ২০১১ সালে এই ছবিটি মুক্তি পায়। 
- এই চলচ্চিত্রটি সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে।
- ছবিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও সেই সময়ের ঘটনাবলি প্রতিফলিত হয়েছে।
--------------------------- 
অন্যদিকে, 
- একাত্তরের যীশু- শাহরিয়ার কবিরের উপন্যাস। 
- শ্যামল ছায়া ও আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬,৬২৩.
'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
খ) আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক এবং বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ড. কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন।
প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ১৯৮৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করা হয়। সাহিত্যে অবদান রাখায় ২০১৫ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দুবার আনন্দবাজারপত্রিকার আনন্দ পুরস্কার। তিনি ২০০৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট. ডিগ্রি এবং ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক পেয়েছেন।‌ ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।‌ তিনি সার্ক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য, মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র, আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, পুরোনো বাংলা গদ্য, আমার একাত্তর, সাহিত্যে ও সমাজে, পূর্বগামী, কাল নিরবধি, স্বরূপের সন্ধানে, মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর, আমার চোখে, বিপুলা পৃথিবী, নারীর কথা, ফতোয়া, মধুদা, আইন-শব্দকোষ ইত্যাদি।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর ও সাম্প্রতিক সমাচার।
৬,৬২৪.
'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি নিয়ে উপন্যাস কোনটি?
  1. পুতুলনাচের ইতিকথা
  2. গঙ্গা
  3. গৃহদাহ
  4. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা

'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস হাঁসুলী বাঁকের উপকথা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসে বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি, 
- পঞ্চগ্রাম, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- গণদেবতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬,৬২৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম কবিতা 'মুক্তি' কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. শিখা
  2. ধূমকেতু
  3. বিজলী
  4. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
ব্যাখ্যা

•  কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি। 
- প্রথম প্রকাশ শ্রাবণ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ। কবিতাটি প্রকাশিত হয় 'বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য' পত্রিকায়।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৬২৬.
বিখ্যাত 'বাংলাদেশ' কবিতা কে রচনা করেছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. মুনির চৌধুরী
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- কবিতাটির রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা। 
- কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬২৭.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন-
  1. তারেক মাসুদ
  2. সুভাষ দত্ত
  3. মোরশেদুল ইসলাম
  4. আলমগীর কবির
সঠিক উত্তর:
সুভাষ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুভাষ দত্ত
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র':
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬২৮.
"হারিয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে, ওরে!
হারিয়ে গেছে বোল্-বলা সেই বাঁশি,"- পঙক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটির রচয়িতা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ-

ছিন্ন মুকুল
– সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

সবচেয়ে যে ছোট্ট পিঁড়িখানি
সেইখানি আর কেউ রাখে না পেতে,
ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া,
জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে;
বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট
খাবার বেলায় কেউ ডাকে না তাকে,
সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল
তারি খাওয়া ঘুচেছে সব আগে।

সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি
খুশি ছিল ঘেঁষাঘেঁষির ঘরে,
সেই গেছে হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে
দিয়ে গেছে জায়গা খালি করে।
ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা,
ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি;
ভয়-তরাসে ছিলো যে সবচেয়ে
সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি।

হারিয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে, ওরে!
হারিয়ে গেছে বোল্-বলা সেই বাঁশি, (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: ছিন্ন মুকুল,  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
৬,৬২৯.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১১ই শ্রাবণ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১২ই ভাদ্র, ১৩০৭বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (২৪ শে মে, ১৮৯৯ খ্রি.) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- তাঁর ডাক নাম: নুরু, ত্যারা ক্ষ্যাপা, দুখু মিয়া।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪২ সালে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট; বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৩০.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
শিশুতোষগ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া:

- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- মৃগপরী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৩১.
'বাসমতীর উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• 'বাসমতীর উপাখ্যানা' উপন্যাস:
- 'বাসমতীর উপাখ্যান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে চলেছে- অধ্যাপক প্রভাস সেনের ছেলে ও মেয়ের বাড়ি না ফেরার এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাম দপ্তরী ও কুড়ুনি এর।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এই আখ্যানের শেষ দিকে এক মারাত্মক ঝড়জলের রাতে সন্ধের পরেও প্রভাস সেনের ছেলে দপ্তরী ও মেয়ে কুভুনি বাড়ি না ফেরাতে এক ভয়ঙ্কর সমবেত উদ্বেগের পরিস্থিতি আঁকা হয়। অথচ উপন্যাস শেষ হয়ে গেলেও কোথাও পাওয়া গেল না, দপ্তরী ও কুডুনি ফিরল কি ফিরল না। এমনই আনমনা, অপ্রত্যাশিত জীবনানন্দের এই কুহেলি-ভুবন।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- প্রভাস সেন,
- দপ্তরী,
- কুড়ুনি।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।

৬,৬৩২.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাটি প্রথমে কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. দৈনিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৩৩.
‘যোগাযোগ’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।
৬,৬৩৪.
“আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।” - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শামসুর রহমান
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

“আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।”
 - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা আল মাহমুদ।
- এটি লেখকের নোলক কবিতার অন্তর্গত।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৩৫.
নাটকগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. বর্ণচোরা
  2. কী চাহ শঙ্খচিল
  3. বকুলপুরের স্বাধীনতা
  4. ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা

• 'ওরা কদম আলী' নাটক:
- প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত প্রথম নাটক 'ওরা কদম আলী'। ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- এখানে শোষিত-নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।
- "কদম আলী" এই নাটকের প্রধান চরিত্র।

 ------------------
মামুনুর রশীদ রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়।

৬,৬৩৬.
বিষ্ণু দে কোন বিখ্যাত ইংরেজি কবির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন?
  1. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
  2. টি.এস. এলিয়ট
  3. জন কিটস
  4. রবার্ট ফ্রস্ট
সঠিক উত্তর:
টি.এস. এলিয়ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি.এস. এলিয়ট
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৩৭.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত গবেষণা গ্রন্থ?
  1. আধুনিকযুগের বাঙলা নাট্য
  2. অন্ধকারযুগের বাঙলা নাট্য
  3. প্রাচীনযুগের বাঙলা নাট্য
  4. মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন রচিত গবেষণা গ্রন্থ - মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য
- এটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গবেষণা গ্রন্থ:
- মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৩৮.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. মনোএল দ্যা আসসুম্পসাও
  4. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৩৯.
‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ উপাধি কার_
  1. ক) কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলি
  4. ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক একজন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর  খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি কবিতা,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক  শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
-  ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’।
-  তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৬,৬৪০.
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. সমর সেন
  2. শহীদ কাদরী
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' শহীদ কাদরী রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' একটি নাম কবিতাসহ মোট ৩১টি কাবিতা রয়েছে।

• শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার।
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৪১.
রবীন্দ্রনাথের 'ছিন্নপত্র' গ্রন্থে কাকে লেখা পত্রসমূহ সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) ইন্দিরা দেবী
  3. গ) কাদম্বরী দেবী
  4. ঘ) ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দিরা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দিরা দেবী
ব্যাখ্যা
'ছিন্নপত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠির সংকলন। 
- ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখা চিঠিসমূহ এখানে স্থান পেয়েছে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। 
- ইন্দিরা দেবীর সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর বিবাহ হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবী ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।  
- বৌদী কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যায় তিনি রচনা করেন 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ। 
- আর্জেন্টাইন মহিলাকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তিনি তাঁর 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪২.
'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৪৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘পঞ্চতন্ত্র’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ 
  4. গল্প
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন। 
- এইসব প্রবন্ধ ‘বসুমতী’ ও ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে।

• 
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• 
তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৪৪.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' - কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যনাটক
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- এটি শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

এই গল্পগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্পগুলো হলো: 
- আলোক-অন্বেষা,
- বারুদের গন্ধ লোবানের ধোঁয়া,
- সারেঙ সুখানী,
- বার্তাবহ,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- রক্ত চিহ্ন,
- দুই ব্রিগেডিয়ার,
- ক্ষমাবতী,
- ভারতীয় গোয়েন্দা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ।

৬,৬৪৫.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্ররমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলি
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে। 
 
 মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি,  
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৪৬.
সরদার জয়েন উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস-
  1. ক) নয়নঢুলি
  2. খ) খরস্রোত
  3. গ) অষ্টপ্রহর
  4. ঘ) রোদের ঢেউ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রোদের ঢেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েন উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস- রোদের ঢেউ।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ২২শে ডিসেম্বর ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ

ছোটগল্প:
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্টপ্রহর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪৭.
'রায়তের কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:

- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্যগল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৪৮.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. মহাদেব সাহা
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির লেখক- নির্মলেন্দু গুণ। 
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাকে কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর ডাকনাম হচ্ছে রতন। প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকতেন।
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুঠোফোনের কাব্য,
- কামকানন ইত্যাদি।

• অনুবাদ কবিতা :
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- রাজনৈতিক কবিতা,
- কাব্যসমগ্র।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬৪৯.
'হলদে পরীর দেশে' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়।

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৫০.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বনলতা সেন
  2. মহাপৃথিবী
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রূপসী বাংলা।

• রূপসী বাংলা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উল্লেখ্য, 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৫১.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থটি কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ: 
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’র অন্তর্ভুক্ত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- এই কাব্যে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। 
- 'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। 
- 'কবর' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
----------------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।
 
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৫২.
'দুয়ে দুয়ে চার' কি ধরনের সাহিত্য কর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম, (১৯২১-২০০২)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান (১৯৭১-৭৫), বাংলা একাডেমীর অবৈতনিক মহাপরিচালক (১৯৭৪-৭৫) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ (১৯৭১-৭৭)-এর দায়িত্বও পালন করেন।
- দুয়ে দুয়ে চার, যে অরণ্যে আলো  নেই , রোদজাল বিকেল, সূর্যাস্তের পর  - তাঁর লেখা কয়েকটি  নাটক । 
 [উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৬,৬৫৩.
'কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে/ কভু আশীবিষে দংশেনি যারে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার 
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
 - তিনি রামের ইতিবৃত্ত (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন।
- কৈবল্যতত্ত্ব (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ।
- মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক রাবণবধ।

সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না
(সদ্ভাব শতক কাব্যগ্রন্থ থেকে) কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

চিরসুখী জন
ভ্রমে কি কখন,
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে ?
কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে
কভু আশীবিষে দংশেনি যারে ?
যতদিন ভবে,
না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম ;
ঈষৎ হাসিবে
শুনে না শুনিবে,
বুঝে না বুঝিবে যাতনা মম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না কবিতা-কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৬,৬৫৪.
'কবিরঞ্জন' উপাধিটির কার?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. মালধর বসু
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৫৫.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) ফকির- সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি 'উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান' প্রেক্ষাপটে রচিত। 

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস
• ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
• এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
• কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
• এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই 
- খােয়াবনামা 

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর 
- খোয়ারি 
- দুধভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৬,৬৫৬.
নিম্নোক্ত শব্দগুলোর মধ্যে একটি মাইকেলি ধাতুর দৃষ্টান্ত হলো -
  1. ক) বেড়ি
  2. খ) পবিত্রি
  3. গ) ঢালি
  4. ঘ) রাঙ্গি
সঠিক উত্তর:
গ) ঢালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢালি
ব্যাখ্যা

বাংলা কবিতায় ভাষার সংস্কৃত বিশেষ্য শব্দ অনেক সময় ধাতুরুপে ব্যবহৃত হয়।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার কবিতায় ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয়যোগে ধাতু ব্যবহার করেছেন।
যেমনঃ
"মিত্রাক্ষর" কবিতায় একটি পংক্তি হচ্ছে এরকম -
'কি কাজ পবিত্রি মন্ত্রে জাহ্নবীর জলে?
কি কাজ সুগন্ধ ঢালি পারিজাত - বাসে?'
এখানে 'ঢালি' একটি মাইকেলি ধাতু।

৬,৬৫৭.
‘রমা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধসংকলন
  4. কবিতাসংকলন
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• 'রমা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি হৃদয়স্পর্শী বাংলা নাটক।
-----------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমা':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমা’ নাটকটি গ্রামীণ সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
- এতে জমিদারী প্রথার শোষণ, সাধারণ মানুষের দুর্দশা, সামাজিক কুসংস্কার এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা ফুটে ওঠে।
- প্রধান চরিত্র রমা ও রমেশের প্রেম ও সংঘাতের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, ভালোবাসার টানাপোড়েন এবং ন্যায়বিচারের প্রয়াস নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকে রমা একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সক্রিয় থাকে, যা তৎকালীন সমাজে নারীর অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
- নাটকটি একই সঙ্গে পল্লী জীবনের সরলতা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
- এছাড়াও এতে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের দ্বন্দ্ব এবং মানুষের ভেতরের স্বার্থপরতা ও মহত্ত্বের সংমিশ্রণও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- অনিলা দেবী তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ছদ্মনাম।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী এবং সাহিত্য সম্রাট।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।

• তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’।
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, বিলাসী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’। 
• তাঁর দীর্ঘগল্প মেজদিদি।

তাঁর বিখ্যাত নাটক হচ্ছে:
- রমা;
- ষোড়শী।

• তাঁর অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস:
- শ্রীকান্ত, 
- দেবদাস,
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়।

উৎস :
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর ;
বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৫৮.
জহির রায়হানের অসমাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. স্টপ জেনোসাইড
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. কাঁচের দেয়াল
  4. লেট দেয়ার বি লাইট
সঠিক উত্তর:
লেট দেয়ার বি লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেট দেয়ার বি লাইট
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান 'লেট দেয়ার বি লাইট' নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।

---------------------
• চলচ্চিত্র প্রাঙ্গণে জহির রায়হান:
•  ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনও আসেনি মুক্তি পায়। তারপর একের পর এক তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকে। এসব চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
• ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর তিনি কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

• জহির রায়হানের উর্দু চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং ১৯৬৮ সালে অপর চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচন্দাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৫৯.
‘বিচিত চিন্তা’ কী জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ: 
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দুখন্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
৬,৬৬০.
সুফিয়া কামালের প্রকাশিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. বসন্তলিপি
  2. বাসন্তী
  3. ভিখারিণী
  4. সৈনিক বধূ
সঠিক উত্তর:
বাসন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসন্তী
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৬১.
'তমুদ্দিন মজলিস' এর মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন -
  1. কামরুদ্দীন আহমদ
  2. আবুল কালাম
  3. শাহেদ আলী
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৬,৬৬২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক শেক্সপিয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকের বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. বেতালপঞ্চবিংশতি
  3. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• ভ্রান্তিবিলাস:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন "ভ্রান্তিবিলাস" (১৮৬৯) নাম দিয়ে শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস নাটকের (Comedy of Errors) অনুবাদ করেছেন, তখন তাকে বাঙালি পরিবেশের উপযুক্ত করে রচনা করেছেন। যদি তাঁর রচিত ভ্রান্তিবিলাস গল্প ছিল, নাটক নয়। তাঁর ভাষাভঙ্গি, সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং শব্দের মারপ্যাঁচে এই গ্রন্থকে অনুবাদ নয়, বরং মৌলিক গ্রন্থ বলে মনে হয়। তাঁর গদ্যে তিনি অনুপ্রাসসহ সঙ্গীতময় এবং বিষয়ের উপযোগী শব্দ ব্যবহার করেছেন। শ্বাসযতি ও অর্থযতির সমন্বয় ঘটানোর ফলে তাঁর গদ্যে এমন সৌন্দর্য এসেছে যা তাঁর পূর্ববতী লেখকরা আবিষ্কার করতে পারেননি।

অন্যদিকে, 
--------------
• তাঁর প্রথম সাহিত্যগ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতিতেই (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ) বিদ্যাসাগর প্রমাণ দিয়েছেন, তিনি কেবল বেতালের গল্পগুলিকেই নতুন করে বলেছেন, অনুবাদ করেননি। গল্পগুলি বলতে গিয়ে তিনি তাদের সংস্কার এবং পরিবর্তন করেছেন এবং মূল বেতালের স্থূল রুচি ত্যাগ করে তাদের আধুনিক পাঠকদের কাছে পরিবেশনের উপযোগী করে তুলেছেন।

• একই কথা বলা যায় কালিদাসের রচনা অবলম্বনে রচিত 'শকুন্তলা' (১৮৫৪) সম্পর্কে। তাছাড়া এ গ্রন্থে তিনি শকুন্তলা এবং তার দুই সখীকে রীতিমতো বাঙালি নারীর মতো করে নির্মাণ করেছেন।

• রামায়ণ অনুসারে 'সীতার বনবাস' গ্রন্থে (১৮৬০) সীতাও নিতান্ত বাঙালি নারী হয়ে উঠেছেন। 

• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' (১৮৯২)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৬৩.
"মস্কোতে কয়েকদিন" নামক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'মস্কোতে কয়েকদিন' নামক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।


তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

উৎস: মস্কোতে কয়েক দিন, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
৬,৬৬৪.
"ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম"- ত্রয়ী উপন্যাসের লেখক কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• "ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম" ত্রয়ী উপন্যাস:
- "ধাত্রীদেবতা", "গণদেবতা" এবং "পঞ্চগ্রাম" তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস। এই তিনটি উপন্যাসকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।
-  এই তিনটি উপন্যাস গ্রামীণ জীবন ও সমাজকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। 
- "ধাত্রীদেবতা" ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং "গণদেবতা" ও "পঞ্চগ্রাম" যথাক্রমে ১৯৪৩ ও ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
-  এই উপন্যাসগুলোর প্রধান চরিত্র হলো-  শিবনাথ ("ধাত্রীদেবতা"), দেবু ("গণদেবতা"), এবং পঞ্চগ্রামে বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ। 

অন্যদিকে, 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস- "পথের পাঁচালী", "অপরাজিত" এবং "অপুর সংসার"।
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস- "সেই সময়", "পূর্ব-পশ্চিম" এবং "প্রথম আলো"।
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস- "ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান", "পদ্মা মেঘনা যমুনা" এবং "সংকর সংকীর্তন"।

উৎস: "ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম" ত্রয়ী উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,৬৬৫.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৬৬.
এস ওয়াজেদ আলির পূর্ণনাম কী?
  1. সৈয়দ ওয়াজেদ আলি
  2. শেখ ওয়াজেদ আলি
  3. শামচ্ছুদ্দিন ওয়াজেদ আলি
  4. শাহ্ ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
শেখ ওয়াজেদ আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
- এস ওয়াজেদ আলির পূর্ণনাম- শেখ ওয়াজেদ আলি।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
-  জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৬৭.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মা যে জননী কান্দে
  2. বখতিয়ারের ঘোড়া
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. কাশবনের কন্যা
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনীরা
ব্যাখ্যা
• ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যটির রচয়িতা- 'ফররুখ আহমদ'।

-------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য।
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'জসীমউদ্‌দীন'।
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া'(১৯৮৪) কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৬৮.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' - উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. তেল-নুন লাকড়ী
  2. সভ্যতার সংকট
  3. বই পড়া
  4. বীরবলের হালখাতা
সঠিক উত্তর:
বই পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বই পড়া
ব্যাখ্যা

• 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী,
- গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয় তাকে।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।

তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী, 
- বীরবলের হালখাতা, 
- নানাকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৬৯.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রশীদ হায়দার
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) নজিবর রহমান
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭) 
- পরিণাম (১৯১৮)
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩)
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭০.
বাংলা ভাষায় রচিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. ইন্দিরা
  4. রাধারানী
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৭১.
আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি।- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থের 'হঠাৎ দেখা' কবিতার অন্তর্গত। 

• 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। 
- এগুলো গদ্য কবিতার বিশেষ উদাহরণ। 
- 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে। 
- 'আমারই চেতনার রঙ্গে পান্না হলো সবুজ', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিত পঙক্তি বা কবিতাগুলো এ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

হঠাৎ দেখা- কবিতা, 
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন।

আগে ওকে বারবার দেখেছি
লালরঙের শাড়িতে
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা;
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
-----------------
----------------------
আমি বললেম, “বলব।”
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি। (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, হঠাৎ দেখা- কবিতা।
৬,৬৭২.
'উত্তীর্ণ পঞ্চাশ' কার রচনা?
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
খ) সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা

- সানাউল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি ছিলেন।
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' তাঁর রচিত রম্যরচনা।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ,
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৭৩.
'আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।'- উক্তিটি কোন রচনা অন্তর্ভুক্ত?
  1. চোখের বালি 
  2. হৈমন্তী
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. পরিচিতা 
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৭৪.
দাউদ হায়দারের সাহিত্যকর্ম নিচের কোনটি?
  1. ক) ঘর মন জানালা
  2. খ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  3. গ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  4. ঘ) সাজাহান
সঠিক উত্তর:
গ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- জন্মই আমার আজন্ম পাপ।
- 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্য।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
- 'ঘর মন জানালা' দিলারা হাসেম এর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
- 'বাংলার মাটি বাংলার জল' বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'সাজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি ঐতিহাসিক নাটক।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭৫.
'অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী।'- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে এ উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) জোহরা
  2. খ) ইব্রাহিম কার্দি
  3. গ) আহমদ শাহ আবদালি
  4. ঘ) নজীবউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
ক) জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জোহরা
ব্যাখ্যা

- 'অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী।'- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে এ উক্তিটি করেছেন 'জোহরা'

• রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা, আহমদ শাহ আবদালি, নজীবউদ্দৌলা ইত্যাদি।

• নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হচ্ছে -
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'
- আমরা হচ্ছি পাহাড়াদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।
- 'যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ'।
- 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।
- 'জয় পরাজয় যাই হউক, মৃত্যু ভিন্ন আমার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৬৭৬.
‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. শহীদুল জহির
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা

শহীদুল জহিরের (১৯৫৩-২০০৮) বিখ্যাত উপন্যাস - সে রাতে পূর্ণিমা ছিল। এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত।
- বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতাবাদের আমদানিকর্তা তিনি।
- তার রচিত জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা একটি উপন্যাস। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই উপন্যাসে প্রচলিত ধারা বাহিরে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এটি টানা গদ্যে লেখা এবং এই গ্রন্থে জাদুবাস্তবতাবাদ ও অস্তিত্ববাদের উপস্থিতি আছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৬৭৭.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে কোন পঞ্চপাণ্ডব কবিকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৭৮.
উইলিয়াম কেরী প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. খ) শ্রীরামপুর মিশন
  3. গ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  4. ঘ) এসিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীরামপুর মিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীরামপুর মিশন
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে। 
------------------
• ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়ামের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
• বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ  একটি সাহিত্য সংস্থা। এল লিওটার্ড ও ক্ষেত্রপাল চক্রবর্তীর উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২৩ জুলাই ‘বেঙ্গল একাডেমী অব লিটারেচার’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ রাখা হয়। 
• ১৯৫২ সালে এশিয়ার মানুষ ও প্রকৃতি বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যে বাংলাদেশে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭৯.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম— 
  1. কালকূট
  2. সুনন্দ
  3. জাবালি
  4. চিত্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সুনন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনন্দ
ব্যাখ্যা

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম — সুনন্দ।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- কালকূট ও ভ্রমর।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৮০.
"আমার কবিতা আমি জানি গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।" পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

"আমার কবিতা আমি জানি
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।"
-  পঙ্‌ক্তিটির লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এটি ঐকতান কবিতার অংশ।

উল্লেখ্য,
‘ঐকতান’ কবিতাটি রবি ঠাকুরের ‘জন্মদিনে’ কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। ঐকতান কবিতাটি লেখকের আত্মস্বীকারোক্তি ও আত্মপক্ষসমর্থন মূলক কবিতা। লেখকের মৃত্যুর ৪ মাস আগে কবিতাটি রচনা করেন।

ঐকতান
বিপুল। এ পৃথিবীর কতটুকু জানি!
দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী—
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু,
কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু
রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন;
মন মোর জুড়ে থাকে অতিক্ষুদ্র তারি এক কোণ।
-------
তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথা—
আমার সুরের অপূর্ণতা।
আমার কবিতা, জানি আমি,
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ঐকতান কবিতা।

৬,৬৮১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি-কাহিনী
  2. বনফুল
  3. গীতাঞ্জলি
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
কবি-কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি-কাহিনী
ব্যাখ্যা

• 'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উল্লেখ্য,
- আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৮২.
কবি জসীম উদ্‌দীন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৮৩.
'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কোন কবির?
  1. সমর সেন
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা

• মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
• 'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন এর। 

সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন। 
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা, 
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৮৪.
'যশোদা' চরিত্রটির স্রষ্টা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শহরতলী:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'শহরতলী'(১৯৪১) নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের জীবনের কাহিনি ও সেইসঙ্গে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশের উপন্যাস, মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও কপটতা, ঈর্ষা ও ইন্দ্রিয়ালুতার রূপায়ণ এখানে আছে।
- 'যশোদা' চরিত্রটির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্ভ্রম বাংলাসাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে স্বীকৃত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৮৫.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) এক পথ দুই বাঁক
  3. গ) রোদ জ্বলা বিকেল
  4. ঘ) কেয়াবন সঞ্চারিণী
সঠিক উত্তর:
গ) রোদ জ্বলা বিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রোদ জ্বলা বিকেল
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম: 
- নীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;

= বি:দ্র: "রোদ জ্বলা বিকেল" নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক , এছাড়া বাকি ৩টি নীলিমা ইব্রাহিমের উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৮৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত উপন্যাস নয়?
  1. রাজর্ষি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা

• "পথের পাঁচালী" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত উপন্যাস নয়। এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসগুলি:
- চোখের বালি;
- যোগাযোগ;
- রাজর্ষি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম উপন্যাস - 'বউ ঠাকুরানীর হাট'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম ছোটগল্প - 'ভিখারিনী'।

• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- গোরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. রবীন্দ্র রচনাবলী।

৬,৬৮৭.
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এটি কার উক্তি?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এটি 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীতে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ' যা ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা।

• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ডেপুটি কালেক্টরেট যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘পালামৌ' যা 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথমে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা।
- মাধবীলতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৮৮.
'রাজবন্দীর জবানবন্দী' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধ:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৬,৬৮৯.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ কার লেখা?
  1. অন্নদাশংকর রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন': 
- এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।
- তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত 'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯০.
ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে নিচের কোন প্রহসনে?
  1. জামাই বারিক
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. সধবার একাদশী
  4. কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• 'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক। বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোমান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৬৯১.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর লেখা বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে' কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. গণঅভ্যুত্থান 
  4. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে- কবিতা, 
রচয়িতা- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
------------------

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৯২.
“ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি,
আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“- উক্তিটি কোন লেখকের?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি-  “ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৯৩.
মোজাম্মেল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস "জোহরা" কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯১৪
  2. খ) ১৯১৭
  3. গ) ১৯২৪
  4. ঘ) ১৯৩১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯১৭
ব্যাখ্যা
- মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩)  ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেছিলেন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক তিনি এ উপাধি লাভ করেন। 
-------------
'জোহরা' (১৯১৭) উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। 
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।
---------------


তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য রচনাবলি:

কাব্য:
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);

গদ্য রচনা:

- মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);

উপন্যাস:

- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি। 
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯৪.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৪ সালে
  2. ১৯৪৫ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

----------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৯৫.
কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা-
  1. ক) সমকাল
  2. খ) প্রগতি
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
গ) কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্লোল
ব্যাখ্যা

• কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকাঃ
- কালিকলম
- কল্লোল।
• ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকাঃ
- শিখা,
- প্রগতি,
- ক্রান্তি,
- লোকায়ত,
- সমকাল ইত্যাদি
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৬৯৬.
‘গো জীবন’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:
- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯৭.
‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি রচনা করেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার অন্যান্য উপন্যাস হলো-
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- হাঁসুলীবাঁকের উপকথা,- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- কবি,
- পঞ্চগ্রাম,
- পঞ্চপুণ্ডুলী,
- আরগ্য নিকেতন,
- রাধা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৬৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. সেলিম আল দীন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রাম নারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক 'শর্মিষ্ঠা'।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- যযাতি,
- দেবযানি,
- শর্মিষ্ঠা,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৬৯৯.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস? 
  1. অদ্ভূত আঁধার এক
  2. নিজ বাসভূমে
  3. বিধ্বস্ত নীলিমা
  4. রৌদ্র করোটিতে
সঠিক উত্তর:
অদ্ভূত আঁধার এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্ভূত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অদ্ভূত আঁধার এক
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০০.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসটি কোন সালে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৮৬
  3. ১৯৮০
  4. ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
১৯৮৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৬
ব্যাখ্যা
• ‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক।
- এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।