বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৪৯ / ১৭৪ · ৪,৮০১৪,৯০০ / ১৭,৪৩৭

৪,৮০১.
‘যে অরণ্যে আলো নেই’ কার রচিত সাহিত্যকর্ম?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম, ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
তাঁর রচিত নাটকগুলোর মধ্যে :-
- দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪),
- যে অরণ্যে আলো নেই (১৯৭৪),
- রোদ জ্বলা বিকেল (১৯৭৪)
- সূর্যাস্তের পর (১৯৭৪)


উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া

৪,৮০২.
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।' উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
• তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
• তিনি সিলেটের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
• তিনি 'সত্যপীর', 'রায়পিথোরা', 'ওমর খৈয়াম', 'টেকচাঁদ', 'প্রিয়দর্শী' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
• তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি-
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। বই পড়লে মনের দেউলিয়াত্ব ঘোচে। জীবন জগৎ সম্পর্কে জানা-শোনা বাড়ে।'
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮০৩.
'শকুন্ত উপাখ্যান' সাহিত্যকর্মটির রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শওকত আলী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'শকুন্ত উপাখ্যান' সাহিত্যকর্মটির রচয়িতা 'সিকান্দার আবু জাফর'।

• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- নবী কাহিনী।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,৮০৪.
"মহাশ্মশান" গ্রন্থটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কোহিনূর
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর
ব্যাখ্যা

মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

​ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮০৫.
"শেষরাত্রি" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. সিন্দবাদ
  4. সাত সাগরের মাঝি
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮০৬.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই যুগোত্তীর্ণ বাক্যের স্রষ্টা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮০৭.
শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'বন্দি শিবির থেকে' এর প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আনোলন
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. প্রেম
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- এর অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্ভর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

শামসুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮০৮.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন সময়কালকে ‘যুগসন্ধির কাল’ বা ‘অবক্ষয় যুগ’ বলা হয়?
  1. ১২০১ - ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৭৬০ - ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৬০ - ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৭৫০ - ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ - ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ - ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়। তাকে 'গুপ্ত কবি' ও বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৪,৮০৯.
নিচের কোনটি ‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ক) সর্বজয়া
  2. খ) হরিহর
  3. গ) দুর্গা
  4. ঘ) ভানুমতী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভানুমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভানুমতী
ব্যাখ্যা
ভানুমতী চরিত্রটি ‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসের চরিত্র নয় এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় : 
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, পণ্ডিত ও কথকতার জন্য তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- ‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- সর্বজয়া,
- ঠাকরুন,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন এবং
- অপু।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১০.
দাশরথি রায় বাংলা সাহিত্যে কী হিসেবে খ্যাত ছিলেন?
  1. বৈষ্ণব পদের লেখক 
  2. বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক
  3. পাঁচালিকার
  4. পুঁথি সাহিত্যর প্রথম কবি 
সঠিক উত্তর:
পাঁচালিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচালিকার
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন দাশরথি রায়।

• দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। 'দাশু রায়' নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা 'দাশুরায়ের পাঁচালি' নামে খ্যাত।

--------------
• পাঁচালি:
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা। এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি। আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ দাশরথি রায়। 'দাশু রায়ের পাঁচালি' সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

অন্যদিকে,
• বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৮১১.
ফররুখ আহমেদ কোন পত্রিকা সম্পাদনার কাজ করেন?
  1. ক) মোহাম্মদী
  2. খ) হাফেজ
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) কল্লোল
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

- ফররুখ আহমেদ মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেন
এছাড়া
- হাফেজ পত্রিকার সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম।
- শিখা পত্রিকার সম্পাদক আবুল হোসেন।
- কল্লোল পত্রিকার সম্পাদক দীনেশচন্দ্র দাস।
[উৎস : বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা]

৪,৮১২.
হুমায়ুন কবির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. স্বপ্নসাধ
  2. শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
  3. সাথী
  4. অষ্টাদশী
সঠিক উত্তর:
শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব,
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী
- অষ্টাদশী

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮১৩.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. রাজার সুন্দরী
  3. রোদে যাবো
  4. রৌদ্র করোটিতে
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস - রাজা উপাখ্যান

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস - রাজার সুন্দরী।
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - রোদে যাবো।
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্য - রৌদ্র করোটিতে।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৪.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস -
  1. সাড়া
  2. তিথিডোর
  3. লালমেঘ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৫.
১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানান সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল-
  1. বানানকে উচ্চারণের কাছাকাছি নেওয়া
  2. বানানের ঐতিহ্যকে বজায় রাখা
  3. বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
  4. বানানে বিকল্প বর্জন করা
সঠিক উত্তর:
বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
ব্যাখ্যা

• বাংলা বানানের নিয়ম:
- উনিশ শতকের গোড়া থেকে বাংলা গদ্যরচনা আরম্ভ হলে বাংলা বানানে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারটি অনুধাবন করে একটি বানান-রীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 'কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি' গঠন করে। এবং ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে প্রথম বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে।

- প্রায় দুইশ লেখক ও অধ্যাপকের অভিমত আলোচনা করে সমিতি বানানের নিয়ম সংকলন করেছিল।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার-সমিতি বাংলা বানানের এইসব নিয়ম প্রবর্তিত করেছিলেন পঁয়ষট্টি বছর আগে। ইতিমধ্যে প্রচুর বিতর্ক ও আলোচনা গড়িয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বানানে পরিবর্তন এসেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবের মূল কাঠামো স্বীকার করে নিলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্থা অনেকগুলি পরিবর্তন সাধন করেছেন, কিছু-কিছু পরিবর্তন ভাষায় স্বাভাবিকভাবে এসেও গেছে।

- বাংলা একাডেমি এই নিয়ম প্রণয়নে উদ্যোগী হয় ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে।

উৎস: বাংলা বানানের নিয়ম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়; দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৮১৬.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
•  'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার রচিত 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

---------------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:

- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি 'চট্টোপাধ্যায়' হলেও প্রাপ্ত উপাধি 'তর্কালঙ্কার' হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় 'সংস্কৃত-যন্ত্র' (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।
- কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি 'কাব্যরত্নাকর' এবং পাণ্ডিত্যের জন্য 'তর্কালঙ্কার' উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

--------------------
তাঁর রচিত কবিতা সংক্ষেপ-
আমার পণ
মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।

ভাইবোন সকলেরে যেন ভালোবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।

সুখী যেন নাহি হই আর কারও দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দিই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারও সনে,
সকালে উঠিয়া আমি বলি মনে মনে।

উৎস: আমার পণ- কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৭.
নিচের কোনটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয়?
  1. জলাঙ্গী
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. দুই সৈনিক
  4. জাহান্নাম হইতে বিদায়
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসগুলো হলো - দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায়, জলাঙ্গী ইত্যাদি।

- রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৮.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিজুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. খাঁচায়
  3. উপমহাদেশ
  4. খেলাঘর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
• 'উপমহাদেশ' উপন্যাস:
- "উপমহাদেশ" কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সৈয়দ হাদী মীর নামক একজন কবির জবানবন্দিতে রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস এটি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক।

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস: কালো বরফ, খেলাঘর। 
- 'খাঁচায়' রশীদ হায়দার রচিত উপন্যাসে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'উপমহাদেশ' উপন্যাস।
৪,৮১৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চতুর্দশী
  3. চতুষ্কোন
  4. চতুষ্পাঠী
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র-শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

অন্যদিকে, 
• 'চতুর্দশী' কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত সাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (ছদ্মনাম বনফুল) এর লেখা একটি কাব্যসংগ্রহ। 
• "চতুষ্কোণ" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা কবির সঙ্গে চারজন মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে লেখা।
• "চতুষ্পাঠী" লিখেছেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী। এটি লেখকের লেখা প্রথম উপন্যাস এবং এটি ১৯৯২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ এর উৎস কোনটি?
  1. কুমারসম্ভব
  2. ভাগবত
  3. মহাভারত
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
ব্যাখ্যা
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। 
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য। 
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২১.
কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের কোন গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন?
  1. ক) সত্যমিথ্যা
  2. খ) আয়না
  3. গ) ফুড কনফারেন্স
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
খ) আয়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আয়না
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের ''আয়না'' শীর্ষক হাস্যরসাত্মক গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন।
এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮২২.
'সব্যসাচী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. পথের দাবী
  3. দেনা-পাওনা
  4. দেবদাস
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

৪,৮২৩.
‘আমার যত গ্লানি’ কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• রশীদ করীম রচিত উপন্যাস - আমার যত গ্লানি।

রশীদ করীম:

- রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’।
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।

রশীদ করীম রচিত সাহিত্যকর্ম:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রষন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ ইত্যাদি।

প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন গ্রন্থের জন্য মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. আরণ্যক
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. মেঘমল্লার
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৫.
মুকুন্দদাসের পিতৃদত্ত নাম -
  1. অক্ষয়
  2. মহেন্দ্রলাল
  3. শিবনাথ
  4. যজ্ঞেশ্বর
সঠিক উত্তর:
যজ্ঞেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যজ্ঞেশ্বর
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৬.
প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন কে?
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

• জোশুয়া মার্শম্যান:
- জোশুয়া মার্শম্যান ছিলেন পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ ছাড়া তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এটির প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান।
- ১৮২১ সালে তিনি শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষামূলক গ্রন্থ School Dialogues; or Lessons on the commandments and the way of Salvation প্রকাশ করেন। মার্শম্যান প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। এটি ১৮২১ সালে শ্রীরামপর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি কিছু খ্রিস্টীয় প্রার্থনা সঙ্গীতও রচনা করেন।

তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পণ,
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২৭.
'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. রাজা রামমোহন
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরি। 
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। 
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। 

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি। 
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক। 
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। 
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ। 
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।

৪,৮২৮.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ -
  1. আধুনিক কবি ও কবিতা
  2. শোকার্ত তরবারি
  3. অন্তিম শহরের মতো
  4. প্রতিবিম্ব
সঠিক উত্তর:
আধুনিক কবি ও কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক কবি ও কবিতা
ব্যাখ্যা
 হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন। 
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮২৯.
‘বালক’ পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  2. কাদম্বরী দেবী 
  3. ইন্দিরা দেবী
  4. জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
ব্যাখ্যা

• ‘বালক’ পত্রিকা:
‘বালক’ ছিল কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত একটি পারিবারিক সচিত্র মাসিক শিশু-পত্রিকা। ১২৯২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী–র সম্পাদনায়। তিনি ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজোবৌঠাকুরানী। যদিও সম্পাদক ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১২৯৩ বঙ্গাব্দে কার্য্যধ্যক্ষের পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবসর নেন। ফলে জ্ঞানদানন্দিনীর পক্ষে একা পত্রিকা দেখাশোনা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বালক' তাই দীর্ঘায়ু হয়নি, মাত্র এক বছর চলেছিল।

পরে এটি যুক্ত হয় ঠাকুরবাড়িরই বিখ্যাত পত্রিকা 'ভারতী'র সঙ্গে, যুগ্ম-পত্রিকার নাম হয় 'ভারতী ও বালক'। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১২৯৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (ইংরাজী ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে)। তৎকালীন 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদক স্বর্ণকুমারী দেবী 'বালক' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 'ভারতী'র সাথে যুগ্মভাবে 'বালক'-এর আয়ুষ্কাল ছিল সাত বছর এবং এই সাতবছরে শিশুসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে বাংলায় জাগরণ এনেছিলো 'বালক' পত্রিকা। 

‘বালক’ পত্রিকায় ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন বহু খ্যাতনামা লেখকের রচনা প্রকাশিত হতো, যা বাংলা শিশুসাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: ‘বালক’ পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,৮৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যে কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর প্রভাব পড়েছে?
  1. সন্ধ্যাসঙ্গীত
  2. ক্ষণিকা
  3. কড়ি ও কোমল
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুতে সৃষ্ট বিরাগের প্রভাব পরেছে — রবীন্দ্রনাথের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে। 

'কড়ি ও কোমল':
- 'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।

এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ- 
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কড়ি ও কোমল'।

৪,৮৩১.
"রঞ্জন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বলাকা
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. মুক্তধারা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।

- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় 'রক্তকরবী'।

- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের
প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।

- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো;
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা।
• 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. তিলোত্তমা
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কুন্দনন্দিনী
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)।
- উপন্যাসের চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- কাপালিক পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলার সাথে নবকুমারের বিয়ে এবং সমাজ বন্ধনের দ্বন্দ্বই এ উপন্যাসের মূলকাহিনি।

• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' তাঁর একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা- বিধবা বিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা।
- বিষবৃক্ষের প্রধান চরিত্রসমূহ: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী।

• ‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩৩.
ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত "Linguistic Survey of India" এর রচয়িতা কে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের ভাষা নিয়ে গবেষণা:
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি Linguistic Survey of India।

১৯০৩-২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ২০ খন্ডে ৮০০০ পৃষ্ঠায় এ মহাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি ভারতের ভাষা-জাত-কুল সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করেছে, তেমনি ভারতের আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সূতিকাগার হিসেবেও কাজ করেছে। তাঁর এ অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৪.
'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
- ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।
- ১৯৩১ সালে প্রকাশিত 'ইউরোপের চিঠি' 'পথে প্রবাসে নামে আরও একটি ভ্রমণকাহিনি রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩৫.
কপোতাক্ষ নদ- কবিতায় "সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে" এ পঙ্‌ক্তিটির মধ্যে কোন ভাবটি ফুটে উঠেছে?
  1. ভ্রান্তির ছলনা
  2. স্মৃতিকাতরতা
  3. মায়ের স্লেহডোর
  4. স্বদেশপ্রেম
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকাতরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকাতরতা
ব্যাখ্যা

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা, এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি। 

- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।

কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 
-------------------

• সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে- লাইনটিতে, 
এটি স্পষ্টভাবে স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে — অর্থাৎ অতীতের স্মৃতিতে বিহ্বল হয়ে ওঠা, বারবার মনে পড়া, আকুলতা ও বেদনার সঙ্গে স্মৃতির পুনরাবৃত্তি।

উল্লেখ্য,
ঘ) স্বদেশপ্রেম → কবিতার সামগ্রিক ভাবে স্বদেশপ্রেম আছে ঠিকই, কিন্তু এই নির্দিষ্ট পঙক্তিটিতে প্রধানত স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে।

সুতরাং এই পঙ্‌ক্তিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: স্মৃতিকাতরতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৩৬.
'মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী' নাটকটির লেখক - সেলিম আল দীন।

সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৭.
'সত্য সুন্দর দাস' কার ছদ্মনাম?
  1. কালি প্রসন্ন সিংহ
  2. মোহিত লাল মজুমদার
  3. মালাধর বসু
  4. কাজেম আল কোরায়েশী
  5. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
মোহিত লাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিত লাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার এর ছদ্মনাম 'সত্যসুন্দর দাস'। 
 - তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• মোহিতলাল মজুমদার: 
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়।
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

অন্যদিকে,
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম — হুতোম পেঁচা।
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৪,৮৩৮.
শওকত আলীর ‘নাঢ়াই’ গ্রন্থটি কোন পটভূমিতে রচিত? 
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. তেভাগা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ 
  4. দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• 'নাঢ়াই' - উপন্যাস:
- উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলনের পেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে।

- গরিব কৃষকের ঘরে এক বালক সন্তানের অল্পবয়সী মা ফুলমতি বিধবা হলে শুরু হয় তার বাঁচার লড়াই।
- লােভ, লালসা, সম্পদ আর সম্ভ্রম লুণ্ঠনের নানান চক্রান্তের বিরুদ্ধে তাকে লড়াই করতে হয়।
- তবে লড়াই ক্ৰমে একাকার হয়ে যায় গরিব কৃষকের লড়াই তেভাগার (তেভাগা আন্দোলন) সঙ্গে।
- এই প্রক্রিয়ার বিবরণ নিয়েই লেখা শওকত আলীর নতুন উপন্যাস ‘নাঢ়াই'।
- পটভূমি চরিত্র কাহিনী সংলাপ সবই আঞ্চলিক এবং গভীরভাবে মৃত্তিকা লগ্ন।

-------------------
• শওকত আলী: 

- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। 

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উওরের খেপ, 
- বসত, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৩৯.
"পরিণীতা" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'পরিণীতা' উপন্যাস:
- 'পরিণীতা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে হিন্দি, বাংলা, তামিল ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
বিশ শতকের প্রথমভাগের কলকাতাকে কেন্দ্র করে রচিত 'পরিণীতা' এক অনন্য প্রেমের উপন্যাস। যেখানে মিশে আছে আবেগ, ত্যাগ ও ভুল বোঝাবুঝির সুর। ললিতা, এক অনাথ মেয়ে, যে তার কাকা-কাকির সঙ্গে বসবাস করে, শৈশব থেকেই শেখরকে নিজের পরম আশ্রয় ও জীবনসঙ্গী হিসেবে মনে করে। বহু চেষ্টার পর অবশেষে আত্মগর্বী শেখর স্বীকার করে যে সেও ললিতাকে ভালোবাসে। কিন্তু তাদের সম্পর্কের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শেখরের ধনী পিতা ও ললিতার দরিদ্র কিন্তু সৎ কাকার মধ্যে সংঘাত। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন দৃশ্যপটে আসে গিরীন—এক ভদ্র, শিক্ষিত ও উপযুক্ত পাত্র, যে ললিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

অভিমান, সংঘাত ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে শেখর ও ললিতার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়, এবং তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ বছর পর, ভাগ্যের খেলা তাদের আবার মুখোমুখি দাঁড় করায়, আর গল্পটি মোড় নেয় এক নতুন, অপ্রত্যাশিত পথে। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
• ললিতা (উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র),
• শেখর, 
• গিরীন,
• গুরুচরণ, 
• নবীন রায়। 

উৎস: 'পরিণীতা' উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৪,৮৪০.
বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

 
'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি ধাচের নাটক 'পদ্মাবতী'।
- এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। এটি  ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৪১.
বাংলা সাহিত্যে বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে কোন নাটকটি রচিত হয়েছিলো?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. রত্নাবলী
  3. কীর্তিবিলাস
  4. নীল-দর্পণ
সঠিক উত্তর:
কীর্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাহিনি সংক্ষেপ: 
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক - কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)।
- 'রামনারায়ণ তর্করত্ন' রচিত অনুবাদ নাটক - রত্নাবলী (১৮৫৮)।
- দীনবন্ধু মিত্রের রচিত ট্র্যাজেডি নাটক - নীল-দর্পণ (১৮৫৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৮৪২.
'মজিদ, জমিলা' চরিত্রগুলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. ক) দুই দুয়ারী
  2. খ) নদী ও নারী
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালসালু
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৩.
'বছির, আজহার' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা

• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

---------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।

• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।

• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৪৪.
"অমল, ভূপতি" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. একরাত্রি
  4. শাস্তি
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'অমল; ভূপতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

-------------------
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 
------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ছোটোগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, 
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে: 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

৪,৮৪৫.
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া? আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- লাইনটির রচয়িতা 'দ্বিজ চণ্ডীদাস'।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 

 চণ্ডীদাসরে বিখ্যাত উক্তি:
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?

আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চন্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
তারা হলেন: 
- বড়ু চণ্ডীদাস
- দ্বিজ চণ্ডীদাস
- দীন চণ্ডীদাস
- চণ্ডীদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৪৬.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3.  বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।

- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।

- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

- মোজাম্মেল হক কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক 'সময়' পত্রিকায় প্রথম সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন। 

- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।

- মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার ও কিছুকাল ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ত্রিশ বছর নদীয়া জেলা বোর্ডের শিক্ষা কমিটির সদস্য, বিশ বছর অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও কিছুকাল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৭.
"বউ ঠাকুরানীর হাট" নামক উপন্যাস হইতে কোন গ্রন্থখানি নাট্যীকৃত হয়?
  1. বিসর্জন
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. ডাকঘর
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন - 
"বউঠাকুরানীর হাট নামক উপন্যাস হইতে এই প্রায়শ্চিত্ত গ্রন্থখানি নাট্যীকৃত হইল। মূল উপন্যাসখানির অনেক পরিবর্তন হওয়াতে এই নাটকটি প্রায় নূতন গ্রন্থের মতোই হইয়াছে।"

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। 
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৪৮.
আবদুল করিমকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. নদীয়া সাহিত্য সভা
  3. এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. বাংলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
নদীয়া সাহিত্য সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া সাহিত্য সভা
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি। 
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৯.
বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত কিশোর সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. বার্তা 
  2. ধান শালিকের দেশ
  3. উত্তরাধিকার
  4. বাংলা একাডেমি জার্নাল
সঠিক উত্তর:
ধান শালিকের দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান শালিকের দেশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী:

- ধান শালিকের দেশ - ত্রৈমাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- বার্তা  - মাসিক মুখপাত্র।
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা - গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা একাডেমি জার্নাল: ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- উত্তরাধিকার - সৃজনশীল সাহিত্য মাসিক পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪,৮৫০.
‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
⇒ নুরুলদীনের সারা জীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নুরুলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

---------------------
⇒ সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৫১.
জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. গঙ্গা
  2. পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
ব্যাখ্যা
• 'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

----------------------
অন্যদিকে,
• পুতুলনাচের ইতিকথা:
- উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: 'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।' 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।
- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় পুতুল বলতে এই মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে, যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।

----------------------
• হাঁসুলী বাঁকের উপকথা:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির লোকেরা বাস করত। কাহারদের পুরানো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তন নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।

------------------------
• গৃহদাহ:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫২.
'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫৩.
'শাহনামা' বাংলায় অনুবাদ করেন-
  1. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  2. মোজাম্মেল হক
  3. সৈয়দ এমদাদ আলী
  4. কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

• মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। বাঙালি-মুসলমানদের জন্য সর্বপ্রথম পাঠ্যপুস্তক রচনাও তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব।
-  বাল্যকাল থেকে মোজাম্মেল হকের মধ্যে কবি প্রতিভা দেখা যায়। তিনি একজন ভিন্নধর্মী কবি ও লেখক হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি গদ্য ও পদ্য দুই ধারাতেই অবদান রেখেছেন।
- মুসলিম রেনেসার ধারণা তার কবিতায় প্রভাব ফেলেছে। জীবনীভিত্তিক গদ্য ও উপন্যাস রচনায় তিনি পারদর্শী ছিলেন।
- মূল ফারসি থেকে শাহনামা কাব্যের প্রথমাংশের অনুবাদ তার অমর কীর্তি। ১৯০৯ সালে তিনি ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় শাহনামা অনুবাদ করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি জনপ্রিয় উপন্যাস জোহরা রচনা করেন।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকাতে তিনি সেক্রেটারি ছিলেন। এই পত্রিকায় কাজী নজরুল ইসলামের অনেক লেখা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
কাব্য:
- কুসুমাঞ্জলি, 
- অপূর্বদর্শন, 
- প্রেমহার, 
- হজরত মহাম্মদ, 
- জাতীয় ফোয়ারা, 
- ইসলাম সঙ্গীত। 

গদ্য রচনা:
- মহর্ষি-মনসুর,
- ফেরদৌসী-চরিত, 
- শাহনামা, 
- তাপসকাহিনী, 
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী, 
- হাতেমতাই, 
- টিপু সুলতান।  

উপন্যাস:
- জোহরা, 
- দরাফ খান গাজী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৮৫৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ব্রজঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৫৫.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম উপন্যাস?
  1. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. আগুনের পরশমণি
  4. জীবন ঢুলি
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৫৬.
“ঘেটুপুত্র কমলা” চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) মোর্শেদুল আলম
  2. খ) সুভাষ দত্ত
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) চাষী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' যা ২০১২ সালে নির্মিত হয়েছিল। তাঁর নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্র- আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, শ্যামল ছায়া, আমার আছে জল।
এছাড়াও তিনি নিজে পরিচালনা করেননি কিন্তু তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এরকম কিছু চলচ্চিত্রঃ শঙ্খনীল কারাগার, দারুচিনি দ্বীপ, নন্দিত নরকে।

৪,৮৫৭.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক্রান্তি
  2. নয়া সড়ক
  3. কালিকলম
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে,
- 'ক্রান্তি' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুবিশ্ব বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. মানসী
  2. সোনার তরী
  3. বলাকা
  4. চিত্রা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা

• মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশচ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৫৯.
‘নীল অপরাজিতা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

• ‘নীল অপরাজিতা' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।

এই কাহিনীর সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোন মিল নেই। নীল অপরাজিতার মূল চরিত্রে আছেন-একজন ঐপন্যাসিক। পাঠক-পাঠিকারা যদি আমাকেই সেই ঔপন্যাসিক ভেবে বসেন তাহলে আমার জন্যে খুব অস্বস্তির ব্যাপার হবে। (হুমায়ূন আহমেদ)


• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২)  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং ‘নীল অপরাজিতা’ হুমায়ূন আহমেদ।

৪,৮৬০.
১৮৬০ সালে প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় কোন নাটকটি?
  1. নেমেসিস
  2. কবর
  3. রূপান্তর
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

• 'নীলদর্পণ' নাটক:

- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক — নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
---------------------

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক 

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত ‘কবর’ নাটক রচিত হয় ১৯৫৩ সালে । এবং গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।
• নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
• নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৬১.
সুরঞ্জনা, আজো তুমি আমাদের পৃথিবীতে আছো;
পৃথিবীর বয়সিনী তুমি এক মেয়ের মতন;- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা

সুরঞ্জনা, আজো তুমি আমাদের পৃথিবীতে আছো;
পৃথিবীর বয়সিনী তুমি এক মেয়ের মতন;
- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ । এটি জীবনানন্দ দাশের রচিত সুরঞ্জনা কবিতার অংশ।

জীবনানন্দ দাশ

- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ রচিত সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণির পাঠ্য৷
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৫ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর মারা যান।

- তিনি ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্য- ঝরা পালক।

কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক ,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহা পৃথিবী,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা (এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৬২.
আবুল ফজল রচিত 'দিনলিপি'- 
  1. চৌচির
  2. রাঙ্গা প্রভাত
  3. রেখাচিত্র
  4. মৃতের আত্মহত্যা
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি 'দিনলিপি'।
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

• আবুল ফজল:
- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম কাকে 'চারণকবি'র মর্যাদা প্রদান করেন?
  1. আবদুল হাকিম
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  3. গোবিন্দদাস
  4. মুকুন্দদাস
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন একজন চারণকবি। ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম।

- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস। পরে গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত হন।

- বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত 'ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা' জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৪.
সানাউল হক রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) পদ্মিনী শঙ্খিনী
  2. খ) নদী ও মানুষের কবিতা
  3. গ) প্রসন্ন শহর
  4. ঘ) বিচূর্ণ আর্শিতে
সঠিক উত্তর:
গ) প্রসন্ন শহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রসন্ন শহর
ব্যাখ্যা
- সানাউল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি ছিলেন।
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' তাঁর রচিত রম্যরচনা।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ,
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে।

অন্যদিকে, 
সিকান্দার আবু জাফর রচিত কাব্যগ্রন্থ - প্রসন্ন শহর

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৫.
কোনটি ফররুখ আহমেদ রচিত কাব্যনাট্য?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. মুহূর্তের কবিতা
  4. হাতেমতায়ী
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৬৬.
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৫৯
  2. খ) ১৮৬৫
  3. গ) ১৮৬০
  4. ঘ) ১৮৬৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬৬
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) রচনা করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৬৭.
‘বৈকুণ্ঠের উইল’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বৈকুণ্ঠের উইল' উপন্যাস:
- 'বৈকুণ্ঠের উইল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে রচিত হয়।
- সহায় সম্পত্তি বিষয়-আশয়ের উইল নিয়ে দুই ভাইয়ের মনোভাবের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে 'বৈকুণ্ঠের উইল'।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- গোকুল ও বিনোদ।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
একজন ব্যবসায়ী লোক বৈকুন্ঠ মজুমদার। ব্যবসার প্রতি তাঁর যেমন আদর্শ, তেমনিই ভালোবাসা। খুব সৎভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর ধ্বংসপ্রায় মুদির দোকানকে বড় আড়তে পরিণত করেন তিনি।
বৈকুণ্ঠের দুই ছেলে-বড় ছেলে গোকুল এবং ছোট ছেলে বিনোদ। গোকুল হচ্ছে তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তান, যখন তাঁর প্রথম স্ত্রী মারা যান তখন ছেলের দিকে তাকিয়ে আবার দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং সেই দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান হচ্ছে বিনোদ। গোকুল অনেকটা বোকা ধরনের কিন্তু বাবা, মা এবং ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা অনেক গভীর। পড়ালেখাতে ভালো ছিল না বিধায় সে ছোটবেলা থেকেই বাবার আড়তের কাজে লেগে যায়। অন্যদিকে বিনোদ পড়ালেখায় খুবই ভালো তাই সবার আস্থা ও আশা বেশি তাকে নিয়ে। কিন্তু বিনোদের স্বভাব-চরিত্র, চালচলনে মোটেও সন্তুষ্ট নন বাবা বৈকুণ্ঠ। বৈকুণ্ঠের কেন যেন যেন মনে হয় এত কষ্ট করে গড়ে তোলা তাঁর সহায়-সম্পদ বিনোদ আরাম-আয়েস করেই ধ্বংস করে দেবে আর এই ভাবনা থেকেই মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর স্ত্রী ভবানীর সম্মতি নিয়ে সমস্ত সম্পত্তি গোকুলের নামে উইল করে যান। গোকুল বোকাসোকা হলেও সে যথেষ্ট আদর্শবান। এই বিষয়-আশয়ের উইল নিয়ে দুই ভাইয়ের মনোভাবের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে 'বৈকুণ্ঠের উইল'।

উৎস: 'বৈকুণ্ঠের উইল' উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৪,৮৬৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ - এর রচয়িতা কে?
  1. আমজাদ হোসেন
  2. আনোয়ার পাশা
  3. শহীদুল জহির
  4. মাহমুদুল হাসান
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা
• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' মুক্তিয্যদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা- শহীদুল জহির। 

• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' সম্পর্কিত আলোচনা: 
- শহীদুল জহির রচিত 'জীবন ও রাজনৈতি বাস্তবতা' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি ভিন্নমাত্রিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি টানাগদ্যে লেখা। প্রবন্ধের বই বলে অনেকে ভুলও করতে পারেন।
- এতে গতানুগতিক উপন্যাসের স্বাদ নেই। নিরীক্ষা আছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাবাদসহ উত্তরাধুনিক চেতনার সংমিশ্রণ রয়েছে।
- উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্য়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়েও এতে দর্শনের প্রয়োগ ও কর্মের নতুনত্ব রয়েছে।  
----------------------- 
শহীদুল জহির: 
- ১৯৫৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম: মো. শহীদুল হক।
--------------------

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার, 
- ডুমুরখেকো, 
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,  
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প।  

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, 
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,  
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৯.
'যাত্রা' উপন্যাসের উপজীব্য  কী?
  1. দেশভাগ
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে।
- এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।

৪,৮৭০.
সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'বাতায়ন' এর রচয়িতা-
  1. আবু ইসহাক
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. আব্দুল কাদির
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহীম খাঁ: 
- তিনি ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭১.
'মুনিম, আসাদ' - চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. যাত্রা
  2. যাপিত জীবন
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:  
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৭২.
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব"- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ "মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব" -উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধের অন্তর্গত।

⇒ 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধের অংশ:
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শকে নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ। কোন্ দিকে নির্দেশ? যে দিকে সে বিচ্ছিন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব।" 

তাছাড়া এই প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন -"যা আমাদের ত্যাগের দিকে তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

=================
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- কালান্তর
- সভ্যতার সংকট

উৎস: মানুষের ধর্ম প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৭৩.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী 
  2. শওকত ওসমান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

--------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

তাঁর রচিত নাটক:
- আমলার মামলা,
- তস্কর নস্কর,
- বাগদাদের কবি,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী,
- প্রস্তর ফলক,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৭৪.
মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বিষ্ণু দে
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৭৫.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. ক) একেই কি বলে সভ্যতা
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. ঘ) কমলাকান্তের দপ্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার দীনবন্ধু মিত্র।
তার রচিত নাটক - নীলদর্পণ, লীলাবতী, নবীন তপস্বিনী, কমলে কামিনী।
প্রহসন - সধবার একাদশী, বিয়ে পাগলা বুড়ো, জামাই বারিক।

'একেই কি বলে সভ্যতা', 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন৷
'কমলাকান্তের দপ্তর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যঙ্গাত্মক রম্যরচনা৷
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৮৭৬.
'ভারতী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ভারতী:
- ভারতী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৪৯-১৯২৫) পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)।
- ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)।
- তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- ভারতী-র প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর তিনটি রচনা প্রদান করেন।
- ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ।
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।
- পরে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭৭.
'সব্যসাচী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. চরিত্রহীন
  3. পথের দাবী
  4. দেবদাস
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - 'পথের দাবী'।
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - মহিম, সুরেশ এবং অচলা।
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
- 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র - দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।
৪,৮৭৮.
‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসিম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্র মোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্র মোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• যতীন্দ্রমোহন বাগচী:
- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে।
- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।  
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে তিনি  মানসী পত্রিকার সম্পাদক (১৯০৯-১৯১৩), যমুনা পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক (১৯২১-১৯২২) এবং পূর্বাচল পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী (১৯৪৭-১৯৪৮) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
→ লেখা (১৯০৬),
→ রেখা (১৯১০),
→ অপরাজিতা (১৯১৫),
→ নাগকেশর (১৯১৭),
→ জাগরণী (১৯২২),
→ নীহারিকা (১৯২৭),
→ মহাভারতী (১৯৩৬) ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৮৭৯.
'নবান্ন' নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. মামুনুর রশিদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮০.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পতঙ্গ পিঞ্জর
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. অক্টোপাস
সঠিক উত্তর:
অক্টোপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
• 'অক্টোপাস' উপন্যাস:
- 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা শামসুর রাহমান।
- ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফূরণ।

অন্যদিকে,
- 'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাসের রচয়িতা - শওকত ওসমান।
- ওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ - জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- 'বিধ্বস্ত নীলিমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শামসুর রাহমান।

-------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৮১.
রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম কোনটি?
  1. পরশুরাম
  2. যাযাবর
  3. দাদাভাই
  4. প্রিয়দর্শী
সঠিক উত্তর:
পরশুরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরশুরাম
ব্যাখ্যা
• রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম - পরশুরাম

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
- সৈয়দ মুজতবা আলী'র ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- রোকনুজ্জামান এর ছদ্মনাম - দাদাভাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮২.
ব্রিটিশ-শক্তির বিরুদ্ধে হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. সীতারাম
  2. রাজসিংহ
  3. দেবী চৌধুরাণী
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দেবী চৌধুরাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবী চৌধুরাণী
ব্যাখ্যা
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে।

• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস:

- ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন।
- এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
- স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- প্রফুল্ল, 
- জমিদার হরবল্লভ রায়,
- ব্রজেসর,
- সাগর,
- নয়ন
- ডাকাত সর্দার ভবানি পাঠক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিভিন্ন উপন্যাসে মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুর বিজয় দেখানো হয়েছে, যেমন: রাজসিংহ (১৮৮২) এবং সীতারাম (১৮৮৮)।
• বঙ্কিমচন্দ্রে কোন কোন উপন্যাসে আবার ব্রিটিশশক্তির বিরুদ্ধেও হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে, যেমন: দেবী চৌধুরাণী এবং আনন্দমঠ।

উৎস: ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮৩.
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যের নাম কী?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
  3. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  4. বন্দী শিবির থেকে
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যের নাম- 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে'। 
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।  

• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।   

• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৮৪.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. একুশের গল্প
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. যাপিত জীবন
সঠিক উত্তর:
যাপিত জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- ‘জীবন থেকে নেয়া’ জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- “একুশের গল্প” গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলী দ্বিতীয় খণ্ড (১৯৮১ সালে প্রকাশিত) থেকে সংগৃহীত। এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

----------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮৫.
"গ্রহণের সূর্যকে জন্তুরা ভয় করে, পূর্ণ সূর্যকে ভয় করে না।" - উক্তিটি কোন রচনার?
  1. কুহেলিকা 
  2. রক্তকরবী
  3. আমার পথ 
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• "গ্রহণের সূর্যকে জন্তুরা ভয় করে, পূর্ণ সূর্যকে ভয় করে না।" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী' নাটকের।

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

• 'রক্তকরবী' নাটকের: সংক্ষিপ্ত কাহিনী:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকে য— ক্ষপুরীর রাজার অর্থলোভ ও প্রজাশোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজা সোনার খনির কুলিদের মানুষ হিসেবে নয়, শুধুমাত্র উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে দেখেন। এই যান্ত্রিকতায় মানুষের প্রেম, সৌন্দর্য ও মনুষ্যত্ব পীড়িত। নন্দিনী, প্রেম ও জীবনের প্রতীক, যক্ষপুরীর শোষণের বিরুদ্ধে আনন্দের দূত হয়ে আবির্ভূত হন। তিনি সবাইকে মুক্ত জীবনের দিকে আহ্বান করেন। রাজা শক্তির জোরে নন্দিনীকে পেতে চান, কিন্তু প্রেম ও সৌন্দর্য জয় করা যায় না। রঞ্জন, নন্দিনীর প্রেমাস্পদ, যান্ত্রিকতার শিকার হয়ে নিঃশেষিত হয়। তবু নাটক জীবনের প্রাণশক্তির জয় ও যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মানবিকতার সামঞ্জস্যের বার্তা দেয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; রবীন্দ্র রচনাবলী; 'রক্তকরবী' নাটক।

৪,৮৮৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুসাল কোনটি?
  1. ১৮৭৫ সালে
  2. ১৮৯১ সালে
  3. ১৮৮৫ সালে
  4. ১৮৯৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন সালে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১০
  3. ১৯২১
  4. ১৯৩০
সঠিক উত্তর:
১৯০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০১
ব্যাখ্যা
শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা:
- ১৮৬৩ সালে আশ্রম হিসেবে শান্তিনিকেতনের যাত্রা শুরু।
- রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহন সিনহার কাছ থেকে বিশ বিঘা জমি কিনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পশ্চিম বাংলার বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরের কাছে এই আশ্রম অবস্থিত। জাগতিক করণীয় কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে প্রার্থনায় সময় কাটানোর জন্য গৃহী ব্যক্তিদের নির্জন আশ্রয় দান করা ছিল এই আশ্রমের উদ্দেশ্য।
- ১৮৮৮ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট- একটি অতিথিভবন, প্রার্থনা কক্ষ এবং ধর্মীয় সাহিত্যের জন্য নিবেদিত গ্রন্থাগারের সংস্থান করেছিলেন।
- ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রমে শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখ্‌
- কবি-কাহিনীইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৮৮.
‘বৈতালিক' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) গোলাম কুদ্দুস
  3. গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) আকবর হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

•নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘বৈতালিক' একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক। প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি  দিনাজপুর জেলার বালিয়াডিঙ্গিতে তাঁর জন্ম।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে। কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হলো:
• উপন্যাস:
উপনিবেশ (৩ খন্ড),
সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী,
মন্দ্রমুখর,
শিলালিপি,
লালমাটি,
কৃষ্ণপক্ষ,
বৈতালিক,
অসিধারা;

• তাঁর রচিত নাটক ভাড়াটে চাই এবং আগন্তুক সে সময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি কয়েকটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও রচনা করেন। তাঁর রচিত বহু গান, চলচ্চিত্র ও রেকর্ডে গৃহীত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৮৯.
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. বীরবল
  3. যাযাবর
  4. জাবালি
সঠিক উত্তর:
বীরবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবল
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।

• আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ছদ্মনাম:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৯০.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. দরজাটা খোলো
  2. ভালো মানুষের জগৎ
  3. বাবুলের বেড়ে ওঠা
  4. অন্বেষা
সঠিক উত্তর:
অন্বেষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্বেষা
ব্যাখ্যা
• প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রথম প্রবন্ধ 'অন্বেষা'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:

- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক হিসেবে সর্বসকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ,
- বাঙালি কাকে বলি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি,
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ

• তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো

• তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৪,৮৯১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক কোনটি? 
  1. রাবণবধ
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা
- 'মায়াকানন' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক। 
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত। 

তাঁর রচিত কাব্য: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- হেক্টরবধ কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

তাঁর রচিত নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- মায়াকানন। 

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

অন্যদিকে, 
• 'রাবণবধ' গিরিশচন্দ্র ঘোষের পৌরাণিক নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯২.
'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. মনজুরুর রহমান
  2. জামিল চৌধুরী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
জামিল চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামিল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক: 'জামিল চৌধুরী'। 

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কিছু অভিধান: 
• 'বাংলা একাডেমি ঐতিহাসিক অভিধান' এর সম্পাদক- মনজুরুর রহমান। 
• 'বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
• 'বাংলা একাডেমি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- আবু ইসহাক।
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক- আহমদ শরীফ।
• 'মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- মোহাম্মদ আবদুল কাইউম।
• বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষ' এর সম্পাদক- সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪,৮৯৩.
ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষগ্রন্থ কোনটি?
  1. চোর জামাই
  2. ছুটির দিন দুপুরে
  3. মৃগপরী
  4. পাখির বাসা
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষগ্রন্থ- পাখির বাসা।
-----------------------------------
ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষগ্রন্থ: ‘ছুটির দিন দুপুরে' ।
• বন্দে আলী মিয়ার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৯৪.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন কবি কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজেম আল কোরেশী
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৯৫.
'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিনয় ঘোষ
  2. খ) সুবিনয় ঘোষ
  3. গ) বিনয় ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বিনয় বর্মণ 
সঠিক উত্তর:
ক) বিনয় ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিনয় ঘোষ
ব্যাখ্যা
'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা - বিনয় ঘোষ।
- বিনয় ঘোষ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্যাসাগর বক্তৃতা’র প্রথম বক্তা (১৯৫৭) ছিলেন।
- ১৯৫৮-৬০ সাল পর্যন্ত তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রকফেলার রিসার্চ স্কলার হিসেবে গবেষণারত ছিলেন।
-----------
বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।

- বিনয় ঘোষ ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়। 
তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: 
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি, 
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খন্ড), 
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ, 
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।
-----------------
- ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (১৯৪৩) সঙ্গে বিনয় ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখানে তাঁর ল্যাবরেটরী নাটকটি অভিনীত হয়।
- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষা-ভিত্তিক আলোচনাগ্রন্থ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি (১৯৫৭) তাঁর বিশিষ্ট রচনা।
- মার্কসবাদের আলোকে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এসব গ্রন্থের প্রধান আকর্ষণ।
তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ, 
- মেট্রোপলিটন মন, 
- বাংলার নবজাগৃতি, 
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ, 
- বিদ্রোহী ডিরোজিও, 
- সুতানুটি সমাচার, 
- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা, 
- মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ, 
- বাংলার বিদ্বৎ সমাজ, 
- কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত, 
- বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৬.
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র':
- 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৭.
"অশোক সংগীত" এর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. কামিনী রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৯৮.
”চিলেকোঠার সেপাই” উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ছয়দফা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

• চিলেকোঠার সেপাই' 
- উপন্যাসটি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।

- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
- একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
- ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।
অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার
- আলাউদ্দিন
- আলতাফ
- হাড্ডি খিজির
- রানু প্রমুখ।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত বাংলা উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা ।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর ,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস।

৪,৮৯৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা কোনটি?
  1. ক) রাজমোহনস ওয়াইফ
  2. খ) দ্য ওয়াস্‌ট ল্যান্ড
  3. গ) ক্যাপটিভ লেডী
  4. ঘ) ল্যাবরেটরী
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপটিভ লেডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপটিভ লেডী
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৪,৯০০.
‘জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন-
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) জসীমউদ্দীন
  3. গ) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
খ) জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন - জসীমউদ্দীন

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো: গৌড়তটবাসী মশা, উদাসীন পথিক, গাজী মিয়াঁ।
• ‘মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ’ জহির রায়হানের প্রকৃত নাম।
• লেখক আবুল ফজল ‘শমসের উল আজাদ’ ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।