বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৪৬ / ১৭৪ · ৪,৫০১৪,৬০০ / ১৭,৪৩৭

৪,৫০১.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগমের ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. ক) হিরনবালা
  2. খ) মুন্নুবেগ
  3. গ) মরিয়ম খাতুন
  4. ঘ) জাহানারা বেগম
সঠিক উত্তর:
খ) মুন্নুবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুন্নুবেগ
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগম 'মুন্নুবেগ' ছদ্মনাম ধারন করে এসে স্বামীকে মুসলিম শিবিরে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে। 

মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫০২.
লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক ছিলেন-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫০৩.
‘চৌচির‘ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল, (১৯০৩-১৯৮৩)  শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
• ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ১৯৮৩ সালের ৪ মে চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। 

• প্রকাশিত গ্রন্থ
- জীবনপথের যাত্রী
- রাঙ্গা প্রভাত(উপন্যাস)
- চৌচির(১৯৩৪)(উপন্যাস)
- মাটির পৃথিবী (গল্পগ্রন্থ)
- মৃতের আত্মহত্যা (গল্পগ্রন্থ)
- সমকালীন চিন্তা
- রেখাচিত্র(দিনলিপি)
- সফরনামা
- দুর্দিনের দিনলিপি(দিনলিপি)
- প্রদীপ ও পতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫০৪.
‘উত্তরাধিকার ও তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ শহীদ কাদরী রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তরাধিকার ও তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• উত্তরাধিকার:

- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

• তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা:
- ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ শহীদ কাদরী রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ একটি নাম কবিতাসহ মোট ৩১টি কাবিতা রয়েছে।

----------------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫০৫.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ-
  1. তারাবাঈ
  2. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  3. অনেক আকাশ
  4. অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন।

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ- তারাবাঈ ও আমার প্রতিদিনের শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫০৬.
"ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ"- গানটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ" - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লিখা একটি গান। 

-------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য - উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫০৭.
২০২৫ সালে কাজী নজরুল ইসলামের কততম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়?
  1. ১২০তম
  2. ১২১তম
  3. ১২৩তম
  4. ১২৬তম
সঠিক উত্তর:
১২৬তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৬তম
ব্যাখ্যা
• ২০২৫ সালে কাজী নজরুল ইসলামের — ১২৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো - ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ যা বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি করে নতুন এক ধারা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৫০৮.
‘বাজে কথা' রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) লিপিকা
  2. খ) কালান্তর
  3. গ) বিচিত্র প্রবন্ধ
  4. ঘ) সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) বিচিত্র প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচিত্র প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
‘বাজে কথা' রবীন্দ্রনাথের 'বিচিত্র প্রবন্ধ' এর অন্তর্গত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- সাহিত্য
- মানুষের ধর্ম
- কালান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫০৯.
'সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষত (বইপড়া)।
- ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে (ভাষার কথা)।
- জীবনে জ্যাঠামি, সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতে পারতেন না-প্রমথ চৌধুরী (সাহিত্যে খেলা)।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন। 
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে (সাহিত্যে খেলা)।
- ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়।

-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা। 
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৫১০.
সাম্যের গান গাই _______ আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। ___কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) শেখ ফজলল করিম
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
নারী
কাজী নজরুল ইসলাম

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫১১.
'কবি জসীম উদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদান করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
  3. বাংলা একাডেমি
  4. ফরিদপুর জেলা প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
→ বাংলা কবিতায় কবি জসীম উদ্‌দীনের অনন্য অবদান স্মরণে বাংলা একাডেমি ২০১৯ সাল থেকে 'কবি জসীমউদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদান করে আসছে।
→ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যে কোনো শাখায় সার্বিক অবদানের জন্য একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিককে এ দ্বি-বার্ষিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।

-----------------------
জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী। ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- মাটির কান্না, 
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, 
- বালুচর, 
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে), 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ, 
- মধুমালা, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়, 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি।
৪,৫১২.
‘পরিক্রমা ও সানন্দা’ উপন্যাসদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তিথিডোর’ উপন্যাসের ভূমিকা।
৪,৫১৩.
'ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান' কার লেখা?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবু ইসহাক
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
 
আবু জাফর শামসুদ্দীনের রচিত ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা, 
- সংকর সংকীর্তন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৫১৪.
'আমার প্রতিদিনের শব্দ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'আমার প্রতিদিনের শব্দ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- সৈয়দ আলী আহসান। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- একক সন্ধ্যায় বসন্ত, অনেক আকাশ, সহসা সচকিত, উচ্চারণ, আমার প্রতিদিনের শব্দ, প্রেম যেখানে সর্বস্ব ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৫১৫.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. জাল
  2. মহাপতঙ্গ
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
মহাপতঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপতঙ্গ
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা 

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫১৬.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নীড় সন্ধানী
  2. খ) নিষুতি রাতের গাথা
  3. গ) রাইফেল রােটি আওরাত
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

আনোয়ার পাশা:
কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালােচক, শিক্ষাবিদ। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।

উপন্যাস :
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিষুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- রাইফেল রােটি আওরাত (১৯৭৩)।

তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)।
কাব্য :
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

৪,৫১৭.
'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'কোন দেশে' কবিতার অন্তর্গত।

কোন্ দেশে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কোন্ দেশেতে তরুলতা
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই
দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল,
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরই বাংলা রে!
(সংক্ষিপ্ত)

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
- ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার লাইনসমূহ:
- মুধুর চেয়ে আছে মধুর\ সে আমার এই দেশের মাটি\ আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি। (খাঁটি সোনা)
- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা,/ খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' /দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল/ ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
- পালকি চলে/ পালকি চলে... /দুলকি চালে/ নৃত্য তালে! (পালকির গান)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এম সি কিউ ক্লাস লেকচার।
৪,৫১৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম কোন পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. বঙ্গদূত
  3. সম্বাদ প্রভাকর
  4. সম্বাদ ভাস্কর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম সম্বাদ প্রভাকরে কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। 
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর  রচিত ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
• তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।

• উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫১৯.
'মৌলিক মুখোশ' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) রোকনুজ্জামান খান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সমর সেন
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম 
- মানুষের মানচিত্র 
- দিয়েছিলে সকল আকাশ 
- মৌলিক মুখোশ

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৪,৫২০.
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মর্মবাণী
  2. কঙ্কাবতী
  3. মায়া-মালঞ্চ
  4. দময়ন্তী
সঠিক উত্তর:
মায়া-মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়া-মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'মায়া-মালঞ্চ' বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।
- এটি লেখকের 'কালো হাওয়া' উপন্যাস অবলম্বনে তিন অঙ্কে সমাপ্ত নাটক।

-------------------------
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৫২১.
‘ক্যান্সারের সাথে বসবাস’ বইটি কে লিখেছেন?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
- 'ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস' গ্রন্থটি রচনা করেন জাহানারা ইমাম।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও মুখের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান।

• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫২২.
কোন সাহিত্যিক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন - 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এবং 'খাঁটি বাঙালি কবি' সম্পর্কে তথ্য: 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল চমৎকার।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। 

• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো - ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৪,৫২৩.
'ইছামতী' —বিখ্যাত এ উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ তিনি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন।
তার রচিত উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯),
- অশনি সংকেত৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৫২৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শেষ লেখা
  2. মালঞ্চ
  3. পুনশ্চ
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
- পুনশ্চ ও শেষ লেখা তার রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- রক্তকরবী তার রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫২৫.
বিখ্যাত কবিতা ‘বড় কে’ এর কবি কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
হরিশচন্দ্র মিত্র:
তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক।
- তাঁর অন্যান্য নাটকের মধ্যে রয়েছে
যেমন:
ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

'বড় কে' কবিতা নিম্নরূপ:

আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।
বড় হওয়া সংসারেতে
কঠিন ব্যাপার,
সংসারে সে বড় হয়
বড় গুণ যার।
গুণেতে হইলে বড়
বড় বলে সবে,
বড় যদি হতে চাও
ছোট হও তবে।
(সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৫২৬.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) অনন্দাশঙ্কর রায়
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
গ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাসঃ
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৫২৭.
অন্নদাশঙ্কর রায়কে 'দেশিকোত্তম' সম্মান প্রদান করে-
  1. ক) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে প্রদান করে 'দেশিকোত্তম' সম্মান।
- বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো:
- প্রকৃতির পরিহাস (১৯৩৪),
- দুকান কাটা ১৯৪৪,
- হাসনসখী (১৯৪৫),
- মনপবন (১৯৪৬),
- যৌবনজ্বালা (১৯৫০),
- কামিনীকাঞ্চন (১৯৫৪),
- রূপের দায় (১৯৫৮),
- গল্প (১৯৬০),
- কথা (১৯৭১),
- কাহিনী (১৯৮০),
- শ্রেষ্ঠগল্প (১৯৮৪) এবং
- গল্পসমগ্র (১৯৯৯)।

 [উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
৪,৫২৮.
"গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান"-পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সন্ধ্যা
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. চক্রবাক
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

• "গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান"-পঙ্‌ক্তিটি জীবন-বন্দনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগণে বাঝে মাদল" এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

জীবন-বন্দনা- 
কাজী নজরুল ইসলাম
গাহি তাহাদের গান -
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
এস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
- তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু-
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে!
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'জীবন-বন্দনা' কবিতা।

৪,৫২৯.
বাংলা গদ্য ও প্রবন্ধ রচনায় প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান কে? 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য/ প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক 'সবুজপত্র' (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৩০.
‘কালপেঁচা’ ছদ্মনামটি কার?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. বিনয় ঘোষ
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. বিমল ঘোষ
সঠিক উত্তর:
বিনয় ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয় ঘোষ
ব্যাখ্যা
বিনয় ঘোষ:
- ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- বিনয় ঘোষ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্যাসাগর বক্তৃতা’র প্রথম বক্তা (১৯৫৭) ছিলেন।
- ১৯৫৮-৬০ সাল পর্যন্ত তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রকফেলার রিসার্চ স্কলার হিসেবে গবেষণারত ছিলেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’। 
- বিনয় ঘোষ ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়। 
- ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (১৯৪৩) সঙ্গে বিনয় ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখানে তাঁর ল্যাবরেটরী নাটকটি অভিনীত হয়।
- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষা-ভিত্তিক আলোচনাগ্রন্থ 'পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি' (১৯৫৭) তাঁর বিশিষ্ট রচনা।
- মার্কসবাদের আলোকে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এসব গ্রন্থের প্রধান আকর্ষণ।
- ১৯৮০ সালের ২৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: 
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি, 
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খণ্ড), 
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ, 
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ, 
- মেট্রোপলিটন মন, 
- বাংলার নবজাগৃতি, 
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালী সমাজ, 
- বিদ্রোহী ডিরোজিও, 
- সুতানুটি সমাচার, 
- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা, 
- মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ, 
- বাংলার বিদ্বৎ সমাজ, 
- কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত, 
- বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৩১.
'নীহারিকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. মাহমুদুল হক
  4. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• 'নীহারিকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

যতীন্দ্রমোহন বাগচী:

- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। তাঁর কবিমানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য পল্লিপ্রীতি। 
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- লেখ,
- রেখা,
- অপরাজিতা,
- নাগকেশর,
- জাগরণী,
- নীহারিকা,
- মহাভারতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৩২.
'একুশের গল্প' রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
একুশের গল্প:
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে। তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’। তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ, বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৩৩.
কবি আবুল হাসানের প্রকৃত নাম-
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আবুল হাসান খান
  3. গ) আবুল হোসেন মিয়া
  4. ঘ) কাজী আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল হোসেন মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫): তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক।
• তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল হোসেন মিয়া
• সাহিত্যিক নাম ‘আবুল হাসান’।
• তিনি একজস সৃষ্টিশীলা কবি হিসেবে খ্যাত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্ৰন্থ-
কাব্যগ্রন্থঃ রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২), যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪), পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)। তাঁর মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য ওরা কয়েকজন (১৯৮৮) ও আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৩৪.
'পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি' কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. দাউদ হায়দার
  2. আহমদ ছফা
  3. রফিক আজাদ
  4. সুকুমার রায়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৩৫.
‘সাহিত্যরত্ন’ কার উপাধি?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. কাজেম আল কোরায়েশী
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
• হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন 'কালীপ্রসন্ন সিংহ'৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৩৬.
কোন রচনার জন্য শওকত ওসমান আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) জননী
  2. খ) জাহান্নাম হতে বিদায়
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি ' উপন্যাসের জন্য শওকত ওসমান  আদমজি পুরষ্কার লাভ করেন।

- এই উপন্যাসটি প্রকাশের সময়কাল ১৯৬২, যেখানে তিনি প্রতীকাশ্রয়ে পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করেছেন।
- এই উপন্যাসটিকে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিবেচনা করা  হয়।

- জননী - শওকত ওসমান প্রকাশিত প্রথম পুস্তক।
- জাহান্নম হতে বিদায়  এবং দুই সৈনিক তাঁর মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৩৭.
হাসন রাজার জন্ম ও মৃত্যু সাল-
  1. ১৮৫৪-১৯২২
  2. ১৯৫৪-২০২২
  3. ১৮৩৪-১৯০২
  4. ১৯৩৪-২০০২
সঠিক উত্তর:
১৮৫৪-১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৪-১৯২২
ব্যাখ্যা
• হাসন রাজার জন্ম ও মৃত্যু সাল১৮৫৪-১৯২২। 

• হাছন রাজা:
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন। 
- হাসন রাজা ছিলেন একজন ঐশীপ্রেমী এবং সেই প্রেমে মাতোয়ারা হয়েই তিনি গান রচনা করতেন।
- তিনি গানের ভণিতায় নিজেকে ‘পাগলা হাছন রাজা’, ‘উদাসী’, ‘দেওয়ানা’,  ‘বাউলা’ ইত্যাদি বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।’

- তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গান: 
• আঁখি মঞ্জিয়া দেখ রূপ রে,
• আগুন লাগাইয়া দিল কুনে, হাছন রাজার মনে,
• সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো,
• নিশা লাগিল রে বাঁকা দুই নয়নে।
- উদাস হাছন (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।
- ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'উদাস হাছন' গ্রন্থ।
৪,৫৩৮.
রাইফেল রোটি আওরাত' -কোন প্রেক্ষাপটে রচিত ?
  1. ক) ৫২ এর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ৬৬ এর ছয় দফা
  3. গ) ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা এর মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এপ্রিলে উপন্যাসটি লেখা শুরু হয় আর শেষ হয় জুনে। ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। তার রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ নীড় সন্ধানী (১৯৬৮), নিষুতি রাতের গাথা (১৯৬৮)। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,৫৩৯.
'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শওকত আলী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান 
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা

'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসের শেষ কাহিনী।
---------------------------------------
ত্রয়ী উপন্যাস:
- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
• দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।
- এই তিনটি উপন্যাস মূলত রাজনৈতিক জীবন ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীর সৃষ্টিশীলতার শীর্ষকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এই ত্রয়ী যেন একটি বড় কাহিনীর তিনটি অংশ, যা সময়ের আবর্তে মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখায়।
- এখানে সময়কে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।
-----------------------------------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকার সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থা এবং অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার মর্মস্পর্শী বর্ণনা ডায়েরির আকারে তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
যাত্রা উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৪০.
'নির্জনতার কবি' কার উপাধি?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।
• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়। 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
• রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৪১.
'বীরবল' নামে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) প্রমথনাথ বিশী
  4. ঘ) প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী।
• তিনি 'বীরবল' ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনেক রচনা প্রকাশ করেন।
• তাঁকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
• 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
• তিনি মাসিক সবুজপত্র (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৫৪২.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয়?
  1. আখ্যান মঞ্জুরী
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয় - ভ্রান্তিবিলাস।
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৪৩.
বন্দে আলী মিয়ার শিশুতোষ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চোর জামাই
  2. মৃগপুরি
  3. কুচবরণ কন্যা
  4. অনুরাগ
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ
ব্যাখ্যা
⇒ বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৪৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্য নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. গ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

- বেতাল পঞ্চবিংশতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গদ্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রভাবতী সম্ভাষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৪৫.
"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সর্বহারা
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) সিন্ধু হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের 'বিদ্রোহী' কবিতার অন্তর্গত। 
 - 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন। 
- এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
                 বল        বীর -
বল   মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
       চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
       ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
       খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
       উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
 মম   ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
                 বল        বীর -
              আমি   চির উন্নত শির! (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৪৬.
নিচের কোনটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) অগ্নীশ্বর
  2. খ) প্রচ্ছন্ন মহিমা
  3. গ) ভুবনসোম
  4. ঘ) সতীর্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীর্থ
ব্যাখ্যা

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
তৃণখন্ড (১৯৩৫),
স্থাবর (১৯৫১),
অগ্নীশ্বর (১৯৫৯),
হাটেবাজারে (১৯৬১),
ত্রিবর্ণ (১৯৬৩),
ভুবনসোম (১৯৬৩),
প্রচ্ছন্ন মহিমা (১৯৬৭),
উদয় অস্ত (দুই খন্ড, ১৯৫৯ ও ১৯৭৪) প্রভৃতি।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]

৪,৫৪৭.
‘পল্লী জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধানখেত
  2. রাখালী 
  3. রূপবতী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
রাখালী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী 
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ কবিতাটি রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ।
- ১৯২৭ সালে ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থটি রচিত।
- ‘রাখালী’ নামক কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

⇒ জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৪৮.
১১ নং সেক্টরের সম্মুখ যুদ্ধ' চিত্রিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  2. খ) নেকড়ে অরণ্য
  3. গ) যুদ্ধ
  4. ঘ) ঘাতক রাত্রি
সঠিক উত্তর:
গ) যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন জনযুদ্ধকে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে দেখার বাসনা থেকে রচনা করেছেন -
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যুদ্ধ,
- কাঠকয়লার ছবি,
- মাটি ও শস্যের বুনন,
- ঘুমকাতরে ঈশ্বর,
- দিনের রশিতে গিটটু,
- বীরাঙ্গনা, ইত্যাদি উপন্যাস।

• তিনি তার ‘যুদ্ধ’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ১১ নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে। অগণিত মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং এ যুদ্ধ সম্পর্কে দেশীয় ঐতিহ্যস্পর্শী ভাবনার ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উচ্চকিত করার প্রয়াস পেয়েছেন তিনি ৩২৬ পৃষ্ঠার বৃহৎ এ উপন্যাসে।

- ঘাতক রাত্রি - রাবেয়া খাতুন রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা- স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা;২৬ মার্চ ২০২২।
৪,৫৪৯.
'বখতিয়ারের ঘোড়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আহসান হাবীব
  3. আল মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ:
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি ছিলেন।
- বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৫০.
“আগুনের শেষ, ঋণের শেষ আর শত্রুর শেষ কখনো রাখিসনে মা” - শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) দত্তা
  3. গ) পল্লী সমাজ
  4. ঘ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত উক্তি “পল্লী সমাজ” উপন্যাস থেকে নেয়া। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত। এর আগে “ভারতবর্ষ” পত্রিকায় উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। শরৎচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলিক উপন্যাস - শ্রীকান্ত; প্রেমের উপন্যাস - দত্তা, রাজনৈতিক উপন্যাস - পথের দাবী। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪,৫৫১.
শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর -
  1. 'অদ্ভুত আঁধার এক' গ্রন্থে
  2. 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' গ্রন্থে
  3. 'কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে' গ্রন্থে
  4. 'সৌন্দর্য আমার ঘরে' গ্রন্থে
সঠিক উত্তর:
'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' গ্রন্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' গ্রন্থে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- সাহিত্য রসযোদ্ধা ও সমালোচক শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর 'আমৃত্যু তার জীবনানন্দ' (১৯৮৬) ও 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' (২০০২) গ্রন্থ দুটিতে।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ, 
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর, 
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৫২.
নিচের যেটি অনূদিত কবিতার দৃষ্টান্ত-
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) জীবন-সঙ্গীত
  3. গ) ছায়াময়ী
  4. ঘ) শূরসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন-সঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন-সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতাটি H.W. Longfellow রচিত A Psalm in life এর অনুবাদ। হেমচন্দ্রের কাব্য ছায়াময়ী এবং রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্য- শূরসুন্দরী।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৫৫৩.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' কিসের সংকলন?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) লোকসাহিত্য
  4. ঘ) গান
সঠিক উত্তর:
ঘ) গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গান
ব্যাখ্যা

• অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
• তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৫৪.
"আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা- সৈয়দ শামসুল হক। 
- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিদ্বয় সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'আমার পরিচয়' কবিতার অংশ।  
------------------------- 
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে।
---------------
আমার পরিচয়- কবিতা, 
- সৈয়দ শামসুল হক।

আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে। (সংকলিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৫৫.
'যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা,
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা৷' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা,
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা৷' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 

•  কবিতাংশটুকু নির্মলেন্দু গুণ এর 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থের 'যুদ্ধ' কবিতার অন্তর্গত।  

---------------------
⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো : 
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থ নির্মলেন্দু গুণ।
৪,৫৫৬.
'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. শাস্তি
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. নষ্টনীড়
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৫৫৭.
’Rajmohan's Wife’ - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রমেশচন্দ্র দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ’Rajmohan's Wife’
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম ইংরেজি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয়-১৮৬৪ সালে, Indian Field, পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
----------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৫৮.
'কাকজ্যোৎস্না' উপন্যাসটি কোন লেখকের লেখা?
  1. ক) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত কাকজ্যোৎস্না' উপন্যাসটি রচনা করেন 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত 

- কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর
- জন্ম ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে। দ
- ১৯২১ সালে প্রবাসী পত্রিকায় 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
- তিনি উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান।

-• তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)।
- অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না,
- বিবাহের চেয়ে বড়, -
- প্রাচীর ও প্রান্তর,
- প্রথম কদমফুল;

কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা,
- আমরা,
- প্রিয়া ও পৃথিবী, - নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম,
- উত্তরায়ণ

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৫৯.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা'- (১৯১৪) মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস। 
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয়। 
- এ উপন্যাসের চরিত্র আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজীমুল্লা, গোলাপজান ইত্যাদি। 
 
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৬০.
মুনির চৈধুরী রচিত কোনো নাটকে কোন নারী চরিত্র নেই?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. কবর
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• মুনির চৈধুরী রচিত 'কবর' নাটকে কোনো নারী চরিত্র নেই।

• ‘কবর’ নাটক:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
 
• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
------------------------
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
---------------- 
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- 'দণ্ড', 'দণ্ডধর', 'দণ্ডকারণ্য' নামে তিনটি নাটক একত্রিত করে ১৯৬৬ সালে 'দণ্ডকারণ্য' নামে প্রকাশিত হয়। 
- 'দণ্ড' একাঙ্ক কমেডি, ১৯৬০ সালে রচিত।
- 'দণ্ডধর' ১৯৬৩ সালে রচিত।
- 'দণ্ডকারণ্য' ১৯৬৫ সালে রচিত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: আমিন, জাহানারা, রোকেয়া।
------------------
• ‘মানুষ’ নাটক:
- ‘মানুষ’ নাটকটি একটি একদৃশ্য বিশিষ্ঠ নাটক।
- ১৯৪৭ সালে প্রকশিত হয়।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, হিন্দু ডাক্তার প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৪,৫৬১.
‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন গল্প অবলম্বনে রচনা করা হয়েছে?
  1. Arnals and Anliquities
  2. Apple of Discords
  3. পাদুমাবত
  4. Paradise Lost
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত,(১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- তিনি কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের বেলগাছিয়া থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। এমন একটি পরিস্থিতিতে নাট্যকার হিসেবেই মধুসূদনের বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে পদার্পণ ঘটে। তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

 তার রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯) -পৌরাণিক নাটক।
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০) - প্রহসন।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) - প্রহসন।
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০) - পৌরাণিক নাটক

১৮৬০ সালেই মধুসূদন রচনা করেন পদ্মাবতী নাটকটি।
- এই নাটকের ভিত্তি পুরোপুরি ভারতীয় পুরাণ নয়। গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অফ ডিসকর্ড’ গল্পটি ভারতীয় পুরাণের মোড়কে পরিবেশন করেছেন মধুসূদন। গ্রিক পুরাণের জুনো, প্যালাস ও ভেনাস এই নাটকে হয়েছেন শচী, মুরজা ও রতি। হেলেন ও প্যারিস হয়েছেন পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল। তিন দেবীর মধ্যে রতিকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচিত করলে অন্য দুই দেবী ইন্দ্রনীলের প্রতি রুষ্টা হন এবং ইন্দ্রনীলের জীবনে বিপর্যয় নামিয়ে আনেন। শেষে রতি ও ভগবতীর চেষ্টায় ইন্দ্রনীল উদ্ধার পান এবং বিচ্ছিন্না স্ত্রী পদ্মাবতীর সঙ্গে তার মিলন ঘটে। মূল গ্রিক উপাখ্যানটি বিয়োগান্তক হলেও, মাইকেল এই নাটকটিকে ইংরেজি ট্র্যাজি-কমেডির ধাঁচে করেছেন মিলনান্তক। এই নাটকে সংস্কৃত নাট্যরীতির প্রভাব অল্পই। প্লট-নির্মাণ, নাটকীয় দ্বন্দ্ব উপস্থাপনা ও চরিত্র চিত্রণে মাইকেল এখানে আগের থেকে পরিণত হয়েছেন।

কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১) - প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক, ঐতিহাসিক নাটক।
মায়া-কানন (১৮৭৪) - নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন (অর্থাভাবে) অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে কলকাতার সার্কুলার রোডে সমাধি দেওয়া হয়।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া

৪,৫৬২.
'তিলত্তোমা' কোন উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
 বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:

- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৫৬৩.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন?
  1. প্রগতি
  2. কোহিনূর
  3. শিখা
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন: 
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। - কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৬৪.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কামিনী কাঞ্চন
  2. খ) অসমাপিকা
  3. গ) কঙ্কাবতী
  4. ঘ) রাখী
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাখী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ রাখী। 
- এটি তাঁর প্রথম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। 

- 'অসমাপিকা' (১৯৩০) অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রথম উপন্যাস। 
- কামিনী কাঞ্চন (১৯৫৪) অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প। 
- কঙ্কাবতী (১৯৩৪) অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৬৫.
'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. মেজর রফিকুল ইসলাম
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা - রাবেয়া খাতুন।

রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৬৬.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ 
  3. সামাজিক কুসংস্কার 
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নাটক কোনটি?
  1. যুদ্ধ
  2. কবর
  3. বর্ণচোর
  4. বিবাহ
সঠিক উত্তর:
বর্ণচোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণচোর
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর, 
- বকুলপুরের স্বাধীনতা, 
- কী চাহ শঙ্খচিল, 
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ - আলাউদ্দিন আল আজাদ.
• যে অরণ্যে আলো নেই - নীলিমা ইব্রাহীম,
• পঙ্কজ বিভাস - জিয়া হায়দার,
• কিংশুক যে ম্রুতে - মোহাম্মদ এহসানুল্লাহ,
• কি চাহ শঙ্খচিল - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• প্রতিদিন একদিন - সাঈদ আহমদ,
• ফেরী আসছে - রনেশ দাশগুপ্ত।
-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
 
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৬৮.
‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’- এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটি কার রচনা?
  1. আবুল হাসান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল হোসেন
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

• "আয়নায় বন্ধুর মুখ" নাটক:
- "আয়নায় বন্ধুর মুখ" আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৬৯.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ’রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’ একটি-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গানের সংকলন
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
-  তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
-  ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

তাঁর রচিত গানের সংকলন: 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি।
- গাঙ্গের পাড়।
- জারিগান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত আত্মকথা:
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

তাঁর ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৭০.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. বেগম রোকেয়া 
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থ।

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে লেখা।
- বইয়ে উল্লেখিত নারীরা হলেন: তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
- লেখক বলেছেন, এই সাতজনের কাহিনী প্রতিনিধিত্ব করছে প্রায় দুই লাখ মা-বোনের।
- বইতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি সম্বন্ধেও আলোচনা করা হয়েছে।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ ও গবেষণাকর্ম:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়। 

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই, 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর। 

তাঁর আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৭১.
'একাত্তরের দিনগুলি' জাহানারা ইমাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. দিনলিপি
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের দিনগুলি' দিনলিপি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

- বইটি ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে লেখা, যার শুরু ১৯৭১ সালের ১ মার্চ এবং সমাপ্তি সেই বছরের ১৭ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবস্থা ও গেরিলা তৎপরতার বাস্তব চিত্র এতে উঠে এসেছে। বইটিতে তার সন্তান শফি ইমাম রুমী অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে দেখা দেয়।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।খণ্ড খণ্ড আকারে লেখা এই ঘটনাগুলিই ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়।

- বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

উৎস: 'একাত্তরের দিনগুলি' জাহানারা ইমাম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৭২.
'কড়চা' বলতে কী বুঝায়?
  1. আত্মজীবনী
  2. ছড়া
  3. গীতিকবিতা
  4. দিনিলিপি
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
ব্যাখ্যা
'কড়চা' কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনিলিপি বা ডায়েরি। 
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরুপ দামোদারের কল্যানে চৈতন্যজীবনি গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে। 
- তাঁরা  চৈতন্যজীবন কাহিনি শ্লোকে পরিবেশন করে কড়চা বলে নির্দেশ করেছেন। 
- সুকুমার সেনের মতে, "কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ' সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। কট শব্দটি প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (original draft)অর্থেই পাওয়া গিয়াছে। কড়চার অর্থও এই বুৎপত্তির অনুরূপ খসড়া রচনা , স্মারকলিপি, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।"


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৭৩.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিণি কোনটি?
  1. ক) পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ
  2. খ) দেশে বিদেশে
  3. গ) মংডুর পথে
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথে প্রবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- ১৯৪২ সালে প্রকাশিত 'ইউরোপের চিঠি' নামে আরও একটি ভ্রমণকাহিনি রয়েছে।

'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী
'পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - শহীদুল্লাহ কায়সার
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - বিপ্রদাশ বড়ুয়া

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৭৪.
"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়" - উক্তিটি কোন রচনার?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. শ্রীকান্ত
  3. বড়দিদি
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- পঙ্‌ক্তিটি তিনি 'শ্রীকান্ত' নামক আত্মজৈবনিক উপন্যাসে উদ্ধৃত করেছেন। 

 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' তাঁর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
- এতে তিনি শ্রীকান্ত শর্মা ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি-
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।',
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া দেয়।', (শ্রীকান্ত ও বাইজি রাজলক্ষ্মীর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে এই কথাটি বলা হয়েছে।)
- 'মড়ার আবার জাত কি?'

উৎস: শরৎ রচনাবলী।
৪,৫৭৫.
কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ক্ষিতিমোহন সেন
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতিমোহন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতিমোহন সেন
ব্যাখ্যা

'কবিগুরু':
- ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন।

- তাঁর কাব্য প্রতিভা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য,:
- মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

- পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

- বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২.বাংলাপিডিয়া।
৩.আমার ছেলেবেলা ।

৪,৫৭৬.
”পাখির বাসা” শিশুতোষ গ্রন্থের জন্যে ফররুখ আহমদ কী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ইউনেস্কো পুরস্কার
  2. আদমজি পুরস্কার
  3. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  4. রবীন্দ্রনাথ পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো পুরস্কার
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৭৭.
আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সারা দুপুর
  2. খ) শেষরাত্রি
  3. গ) অরণ্যে নীলিমা
  4. ঘ) ছুটির দিন দুপুরে
সঠিক উত্তর:
ক) সারা দুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৭৮.
"আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দোলনচাঁপা
  2. সাম্যবাদী
  3. চক্রবাক
  4. প্রলয়শিখা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

"আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

•'পাপ' কবিতা: 
'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৫৭৯.
শাহপরি দ্বীপের মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  3. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মালেক,
- সাফিয়া,
- তোরাব আলী প্রমুখ।

--------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং 'পোকা মাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস।

৪,৫৮০.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার নাম কী?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
সঠিক উত্তর:
কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা
'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতা:
- কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী। 
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৮১.
নিচের কোনটি কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. পৌরাণিকী
  3. মাল্য ও নির্মাল্য
  4. অম্বা
সঠিক উত্তর:
অশোকসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোকসঙ্গীত
ব্যাখ্যা

• 'অশোকসঙ্গীত' হলো বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা কামিনী রায়ের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট সংগ্রহ, যা তিনি ১৯১৪ সালে রচনা করেন। 

-----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. শেষলেখা
  3. শেষ প্রশ্ন
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা':
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস।
•  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন, শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

---------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৮৩.
পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. হাজার বছর ধরে
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
ব্যাখ্যা
'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্র:
• 'জীবন থেকে নেয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

• ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
• বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
• 'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান। ১৩৭৬ বঙ্গাব্দে 'বরফ গলা নদী' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৫৮৪.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. অন্ধ কথামালা
  3. জীবন আমার বোন
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে-কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
• 'ওঙ্কার' এটি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফার উপন্যাস।
• রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- খাঁচায়, অন্ধ কথামালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৮৫.
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
'ঝিলিমিলি' নাটক:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছোট নাটকের গ্রন্থ ‘ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মির্জা সাহেব;
- ফিরোজা;
- হালিমা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৮৬.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. ইতিহাসমালা
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. হিতোপদেশ
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
• বেদান্তচন্দ্রিকা, হিতোপদেশ, রাজাবলি - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা।

অন্যদিকে,
• উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ - ইতিহাসমালা।

------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪,৫৮৭.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সহচা সচকিত
  2. খ) একক সন্ধায় বসন্ত
  3. গ) অনেক আকাশ
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনেক আকাশ, একক সন্ধায় বসন্ত, সহচা সচকিত, উচ্চারণ, আমার প্রতিদিনের শব্দ, প্রেম যেখানে সর্বস্ব।
অনল প্রবাহ - সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৪,৫৮৮.
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র -
  1. আয়েশা
  2. তিলোত্তমা
  3. বিমলা
  4. জগৎসিংহ
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী ,
- বিষবৃক্ষ ,
- ইন্দিরা ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা,
- প্রবন্ধ-পুস্তক,
- সাম্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৮৯.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথা?
  1. ক) বাতায়ন
  2. খ) আমি বিজয় দেখেছি
  3. গ) রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বিজয় দেখেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বিজয় দেখেছি
ব্যাখ্যা
'আমি বিজয় দেখেছি' (১৯৮৫) এম আর আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা। 

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের দিনগুলি ( জাহানারা ইমাম)
- একাত্তরের ডায়েরি (সুফিয়া কামাল)
- ফেরারী ডায়েরি (আলাউদ্দিন আল আজাদ)

• অন্যদিকে,
- কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - 'অনিল বাগচীর একদিন'
- ইব্রাহীম খাঁ রচিত স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশবস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৯০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন 
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. পদ্মবতী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন। 

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করেন ।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:

→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর রচিত প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৫৯১.
'সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। -
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৫৯২.
'আগুনপাখি' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৯৩.
'তুবড়ি বাঁশির ডাক' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'তুবড়ি বাঁশির ডাক' প্রবন্ধ:
- 'তুবড়ি বাঁশির ডাক' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রবন্ধ।
- প্রবন্ধটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই প্রবন্ধে সাপুড়েরা তাদের তুবড়ি বাঁশির ডাকে যেমন গর্ত থেকে সাপকে বের করে আনেন; তেমনি বাঁশির ডাকে দেশকে জাগরণের মন্ত্রে উজ্জীবিত করার কথা কবি লিখেছেন। সাপের বিষদাঁতের ছোবল মেরে জর্জরিত ধরণী বা ভারতবর্ষকে জাগিয়ে তোলার কথা কবি বলেছেন।
- এই প্রবন্ধে মূলত ভারতবাসীকে স্বাধীনতা ও মনুষ্যত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত হবার বিষয়টিই কবি অভিব্যক্ত করেছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনে পিষ্ট ভারতবর্ষকে কবি বলেছেন-'অরাজক বিশ্ব'। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ।
৪,৫৯৪.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ধুমকেতু
  2. কল্লোল
  3. লাঙল
  4. সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয়- কল্লোল। 
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা:
- তার প্রথম পত্রিকা ছিল ধূমকেতু।
- লাঙল কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় সম্পাদিত পত্রিকা।
- 'লাঙল' ছিল শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ পার্টির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ এ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- জন্ম: ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ডাক নাম: দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে পরিচিত 'বিদ্রোহী কবি' নামে।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৯৫.
'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধটি কে লিখেছেন?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধটির রচয়িতা - প্রমথ চৌধুরী।
- রচনাটি প্রমথ চৌধুরীর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
প্রকৃতির যৌবন শাসনযোগ্য হলেও তাকে শাসন করবার ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই; কেননা, প্রকৃতির ধর্ম মানবধর্মশাস্ত্রবহির্ভূত। সেই কারণে জ্ঞানীব্যক্তিরা আমাদের প্রকৃতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে বারণ করেন, এবং নিত্যই আমাদের প্রকৃতির উলটো টান টানতে পরামর্শ দেন; এই কারণেই মানুষের যৌবনকে বসন্তের প্রভাব হতে দরে রাখা আবশ্যক। অন্যথা, যৌবন ও বসন্ত এ দুয়ের আবির্ভাব যে একই দৈবীশক্তির লীলা–এইরূপ একটি বিশ্বাস আমাদের মনে স্থানলাভ করতে পারে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৯৬.
বুদ্ধদেব বসুর প্রথম উপন্যাস-
  1. সাড়া
  2. কালো হাওয়া
  3. সানন্দা
  4. তিথিডোর
সঠিক উত্তর:
সাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া
ব্যাখ্যা
• 'সাড়া' উপন্যাস:
- বুদ্ধদেব বসুর প্রথম উপন্যাস "সাড়া” (১৯২৮-২৯)।
- এই উপন্যাস রচনাকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র কুড়ি।
- তাঁর তেতাল্লিশটি (৪৩) উপন্যাসের মধ্যে "সাড়া” সাধুভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- এরপর সাধুভাষায় বুদ্ধদেব আর কোনো উপন্যাস রচনা করেন নি।
- এই সময় "প্রগতি” পত্রিকা প্রকাশ পায়।
- ১৯২৮ সালে উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন এবং ১৯৩০ সালের জানুয়ারী মাসে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস রূপে প্রকাশিত হয়।
- 'সাগর' এই উপন্যাসের নায়ক।

উপন্যাসটির উৎসর্গ পত্রে লেখা ছিল -
"এই আমার প্রথম উপন্যাস শ্রী অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্তকে দিলাম
যে লেখকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা সেই মানুষের প্রতি অনুরাগের সমান এ-বই তাঁর উপযুক্ত বলে নয়, আমার প্রথম বলে।"
------------------ 
• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি প্রকাশনা।
৪,৫৯৭.
‘ভিখু ও পাচি’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ভিখু ও পাচী তাঁর 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী।

-------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৯৮.
অমিয় চক্রবর্তী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ঢাকা
  2. বীরভূম
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. হুগলী
সঠিক উত্তর:
হুগলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুগলী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৯৯.
'কাশবনের কন্যা' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম একজন কথাসাহিত্যিক।
১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা 
- ঢেউ 
- পথ জানা নেই 
- দুই হৃদয়ের তীর 
- শাহের বানু 
- পুঁই ডালিমের কাব্য 

তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৬০০.
'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. মোসলেম ভারত 
  3. মাসিক মোহাম্মদী 
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
সওগাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সওগাত
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসসমূহ:
কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি উপন্যাস রয়েছে। এগুলো হলো-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০- এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪-১৩৩৬ ফাল্গুন)।

- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত নজরুল কৃষ্ণনগরে বাস করতেন। এ নগরের চাঁদসড়কের ধারে বিরাট কম্পাউন্ডওয়ালা একতলা বাংলো প্যাটার্নের একটি বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের পটভূমি উক্ত বাড়ি, ওমান কাথলি পাড়া এবং কলতলার পারিপার্শ্বিককে কেন্দ্র করে রচিত।

- উপন্যাসের প্রথমাংশ কৃষ্ণনগরে এবং শেষাংশ কলকাতায় রচিত। কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট এবং দুঃসাধ্য কৃষ্ণসাধন ছিল নজরুলের নিত্য জীবনযাত্রার অঙ্গ। তাই দারিদ্রের চিত্র, সাম্য ও বিপ্লবীচেতনা এ উপন্যাসের রূপকল্পের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর বহুল পঠিত 'দ্রারিদ্র' কবিতাটিও এ সময়ের রচনা।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- আনাস, রুবি, মেজো বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস।