বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৩৬ / ১৭৪ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ১৭,৪৩৭

৩,৫০১.
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি কার লেখা?
  1. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. আহমদ শরীফ
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

• 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধ:
 - 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্য-রসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন।
- বাঙালি পুরুষগণের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতি আলোচনাও রয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এই প্রবন্ধের মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। 

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
• ‘বিশ শতকের বাঙালি’ প্রবন্ধটির রচয়িতা 'আহমদ শরীফ'।
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫০২.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে?
  1. মার্কসবাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. অস্তিত্ববাদ
  4. পরাবাস্তববাদ
সঠিক উত্তর:
অস্তিত্ববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্তিত্ববাদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অস্তিত্ববাদ (Existentialism)।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ এবং অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) উপন্যাসে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে। এই উপন্যাসে লেখক পাশ্চাত্য অস্তিত্ববাদী দর্শন আত্মস্থ করে ব্যক্তির অস্তিত্ব সংকট, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, একাকীত্ব এবং জীবনের অর্থহীনতার অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে নায়ক আরেফ আলীর মানসিক যাত্রা এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তি সমাজের বাইরে নিজের অস্তিত্বের স্বাধীনতা ও সংকট খুঁজে পান। সমালোচকরা (যেমন: ড. আহমেদ মাওলা) এটিকে অস্তিত্ববাদী উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মূল বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:
এই উপন্যাসে নায়ক আরেফ আলী, একজন স্কুল মাস্টার, যিনি একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যান। তাঁর মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এই মানসিক দ্বন্দ্ব, জীবনের অর্থহীনতা, একাকীত্ব এবং স্বাধীনতার অনুসন্ধান অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল উপাদান। উপন্যাসটি সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের অসঙ্গতি এবং মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতাকেও তুলে ধরে, যা আরেফের চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, উপন্যাসটি অস্তিত্ববাদী দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তির অস্তিত্ব, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রশ্ন উঠে আসে।
----------------
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(ক) মার্কসবাদ: উপন্যাসে শ্রেণিবৈষম্যের কিছু ছোঁয়া থাকলেও, এটি মার্কসীয় শ্রেণিসংগ্রামের দর্শনের উপর কেন্দ্রীভূত নয়।
(ক) বাস্তববাদ: চাঁদের অমাবস্যায় মানসিক ও অস্তিত্বগত অনুসন্ধান প্রাধান্য পায়; বাস্তববাদ নয়।
(ক) পরাবাস্তববাদ: উপন্যাসে কিছু পরাবাস্তব উপাদান (যেমন: অদ্ভুত ঘটনা) থাকলেও, মূল দর্শন অস্তিত্ববাদী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া; "চাঁদের অমাবস্যা : অস্তিত্বসংকট ও চেতনাপ্রবাহ- অধ্যাপক ড. আহমেদ মাওলা, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫০৩.
'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের কি ধরণের রচনা?  
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) দিনলিপি
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা ।

নাটক: 
- কায়েদে আজম 
- প্রগতি 
- স্বয়ম্বরা 

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র 

 [উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৩,৫০৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতার গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সবিতা
  2. হসন্তিকা
  3. তারা দুই জন
  4. বেণু ও বীণা
সঠিক উত্তর:
তারা দুই জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা দুই জন
ব্যাখ্যা

- তারা দুই জন সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার গ্রন্থ নয়। 
- অন্যদিকে, তারা দুই জন হচ্ছে শওকত ওসমানের শিশুতোষ রচনা। 

-----------------
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রাম।
- পরিচিতি: ‘ছন্দের জাদুকর’ এবং ‘ছন্দের রাজা’ নামে সুপরিচিত।
- পৈতৃক নিবাস: বর্ধমান জেলার চুপী গ্রাম।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ জুন।

প্রখ্যাত কবিতাগ্রন্থসমূহ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র ও আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্য সঞ্চয়ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫০৫.
কোনটি নজরুল রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ছায়ানট
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যাথার দান
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
ছায়ানট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়ানট
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - ছায়ানট

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস - মৃত্যুক্ষুধা।
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ - ব্যাথার দান ও শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫০৬.
কোন সাহিত্যিককে ‘বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দাশ 
  2. বিষ্ণু দে 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র 
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন কবি এবং আইনজীবী।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তাঁর কবিতায় দেশপ্রেমের ভাব ফুটে ওঠে।
- এছাড়া তাঁর রচনায় নারীমুক্তি ও সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে।
- বিশেষ করে বিধবাদের প্রতি সমাজের নির্দয় আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতায় গভীর ভাব ও উচ্চমানের সাহিত্যিক গুণ দেখা যায়।
- এই কারণে তাকে 'বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
- এখানে 'বাংলার মিল্টন’ বলতে তাকে ইংরেজি কবি জন মিল্টনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- গোবিন্দ চন্দ্র দাশকে বলা হয়- স্বভাবকবি।
- বিষ্ণু দে-কে বলা হয় মার্ক্সবাদীকবি।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বলা হয়- ডিফেন্স অফ বেঙ্গল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩,৫০৭.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা‌ কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫০৮.
বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন ও তাদের সংস্কৃতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) পঞ্চগ্রাম
  2. খ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. গ) রাধা
  4. ঘ) কালিন্দীহাসুলী
সঠিক উত্তর:
খ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন ও তাদের সংস্কৃতির তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসে।

• 'হাঁসুলীবাঁকের উপকথা' (১৯৪৭) উপন্যাসে বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আর একটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। উজ্জ্বল এর বিচিত্র চরিত্রগুলি। সেই সঙ্গে আছে এক আদিম মানবিক সংরাগ।

তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলির মধ্যে -
উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- কবি
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
- আরোগ্য নিকেতন

• তিনি অনেক গল্পও লিখেছেন:
- বেদে
- পটুয়া
- মালাকার
- লাঠিয়াল
- চৌকিদার
- বাগদী
- বোষ্টম 
- ডোম
ইত্যাদি সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তাঁর গল্পে দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে। ‘রসকলি’, ‘বেদেনী’, ‘ডাকহরকরা’ প্রভৃতি তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৩,৫০৯.
‘আমি আছি, ভয় কেন মা কর”- কোন ধরনের উক্তি?
  1. প্রত্যক্ষ
  2. পরোক্ষ
  3. প্রশ্নবোধক
  4. পুনরুক্ত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ
ব্যাখ্যা
• উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: 
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রদত্ত 'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫১০.
'ধর্ম নিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ' কোন উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) লালসালু
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) একটি তুলসি গাছের কাহিনী
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

বহিপীর - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক। 
হাজার বছর ধরে - জহির রায়হান রচিত উপন্যাস; আবহমান বাংলার জীবন প্রবাহ যার মূল বিষয়।
একটি তুলসি গাছের কাহিনী - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫১১.
'মানুষের মানচিত্র'- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
গ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'মানুষের মানচিত্র'- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার
- মানুষের মানচিত্র

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫১২.
নিচের কোনটি গল্প?
  1. দুই সৈনিক
  2. আমি সৈনিক
  3. সৈনিক বধূ
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
সৈনিক বধূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈনিক বধূ
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

অন্যদিকে,
• ‘আমি সৈনিক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
• জননী শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫১৩.
"বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ" কার ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।
----------------------
অন্যদিকে,
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১৪.
‘বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ’- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

• কামিনী রায়:

- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১৫.
'রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা/
ফাল্গুন আজ চিত্ত আত্মভোলা।' - গানটির গীতিকার কে?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আবদুল লতিফ
  3. আবুল কাশেম সন্দ্বীপ
  4. আখতার হুসেন
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী অমর একুশে নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর গান রচনা করেছেন। 
গানটির কয়েকটি চরণ -

রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা/
ফাল্গুন আজ চিত্ত আত্মভোলা/
আমি কি ভুলিতে পারি/
একুশে ফেব্রুয়ারি,’ 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. প্রথম আলো পত্রিকা,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
৩,৫১৬.
'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. জসীমউদদীন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতাটির রচয়িতা: সৈয়দ শামসুল হক। 
- উল্লেখ্য, নুরুলদীনের সারা জীবন - নামে তারই রচিত একটি কাব্যনাট্য রয়েছে।

কবিতাটির অংশবিশেষ হলো:
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়, 
– সৈয়দ শামসুল হক। 
নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার।
ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
নষ্ট খেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার
তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস
দিয়ে এত বড় চাঁদ? (সংক্ষেপিত)
----------------------- 
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুঁডিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে। 
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, 
- নুরুলদীনের সারা জীবন, 
- এখানে এখন ইত্যাদি। 

• প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে। 

• উপন্যাস: 
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস), 
- অনুপম দিন, 
- এক মহিলার ছবি, 
- খেলারাম খেলে যা, 
- তুমি সেই তরবারি, 
- ত্রাহি, 
- সীমানা ছাড়িয়ে, 
- নীল দংশন, 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ ইত্যাদি। 

• গল্পগ্রন্থ: 
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩,৫১৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য - 
  1. মহাভারত
  2. মহাশ্মশান
  3. মেঘনাদবধ কাব্য 
  4. অশ্রুমালা
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য 
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসুদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য - কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'মহাভারত' সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫১৮.
ইব্রাহীম খাঁ কর্তৃক প্রাপ্ত খেতাব কোনটি?
  1. ক) বাহাদুর
  2. খ) নওয়াব
  3. গ) সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
  4. ঘ) সিতারা-ই-নওয়াব
সঠিক উত্তর:
গ) সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ আমলে ইব্রাহীম খাঁ কর্তৃক প্রাপ্ত খেতাব-
- ‘খান সাহেব’
- ‘খান বাহাদুর’ এবং
- পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’

- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
- তিনি বিভিন্ন লেখায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের কথা বলেছেন। 

অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে (১৯২০-১৯২২) সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইব্রাহীম খাঁ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
- পরবর্তীকালে তিনি একাধিকবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য এবং ১৯৫৩ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১৯.
হুমায়ূন আহমেদ কোন গল্পটি পড়ে কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পান?
  1. সোনার তরী
  2. নৌকাডুবি
  3. ইঁদুর
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
ইঁদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইঁদুর
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে। ১৯২০ সালে নরসিংদীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ। ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।

তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোটগল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• সংকেত ও অন্যান্য গল্প, 
• বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প, 
• সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২০.
"দত্তকুলোদ্ভব কবি" নামে পরিচিত -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে ইংরেজিতে লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie.'
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরে এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২১.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' এর লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২২.
শেখ আজিজুর রহমান কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. ক) হায়াৎ মামুদ
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮)
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।   
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়
- তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
উপন্যাস
- জননী (১৯৫৮),
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২),
- সমাগম (১৯৬৭),
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮),
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১),
- জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১),
- দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫),
- রাজপুরুষ (১৯৯২) ইত্যাদি। 
অন্যদিকে,
হায়াৎ মামুদ-এর প্রকৃত নাম - মনিরুজ্জামান।
জহির রায়হান-এর প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
সেলিম আল দীন-এর প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫২৪.
'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) শঙ্খ ঘােষ
  3. গ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
খ) শঙ্খ ঘােষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শঙ্খ ঘােষ
ব্যাখ্যা
শঙ্খ ঘোষ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক সময়ের একজন প্রতিথযশা কবি।
- শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মা অমলা ঘোষ। ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
- চুপ করো, শব্দহীন হও
- সবিনয় নিবেদন
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে
- হওয়া

উৎস: প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
৩,৫২৫.
সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভাষারূপ পেয়েছে কার রচনায়?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  4. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২৬.
‘রাইকমল’ কোন ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘রাইকমল’ উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস 'রাইকমল’
প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। 
- ‘রাইকমল’ উপন্যাসে বৈষ্ণব প্রেমতত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে লেখক একদিকে কৃষক শ্রেণির প্রতিনিধি হরি মোড়লের ছেলে রঞ্জন অন্যদিকে খঞ্জনী বাজিয়ে গান গেয়ে ভিক্ষার দ্বারা জীবিকা উপার্জনকারী কামিনী বোষ্টমীর মেয়ে কমলিনী, উভয়ের বাল্য প্রেমের বিচ্ছেদজাত সমস্যা এবং নবদ্বীপে কামিনীর মৃত্যুর পর আধবুড়া রসিক দাসের সঙ্গে কমলিনীর বিবাহ নারীর নিম্নবর্গতার স্বরূপ উন্মোচিত করেছেন।
 
উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
কমলিনী বাল্যকালে রঞ্জনকে ভালোবেসেছে, যৌবনে রসিকদাসকে বিয়ে করেছে তারপর জীবনকে নিয়ে খেলেছে। তার স্বপ্ন ভেঙেছে বাল্যে, যৌবনের তীব্র যৌন ক্ষুধার জ্বালা দেখেছে দাম্পত্য জীবনে। তারপর কাম্য-স্নিগ্ধতার জায়গায় এসেছে যন্ত্রণার আবেশ। একাকী, নিঃসঙ্গ এক নারীর সংগ্রামই ব্যক্ত হয়েছে উপন্যাসটিতে। একইসঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে প্রেম ও দাম্পত্য সংকটের জটিলতা।

--------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) ছিলেন সমকালীন ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমাজসচেতন লেখক। তিনি তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তির ওপরে সমাজকে স্থান দিয়েছেন। ফলে তাঁর উপন্যাসে সামন্ত সমাজের সঙ্গে ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্ব প্রায়শই প্রকট হয়েছে।

• তাঁর রচিত দুটি জনপ্রিয় উপন্যাস- রাইকমল ও কবি-তে (১৯৪২) বৈষ্ণব ও কবিয়ালের বাস্তব জীবন চিত্রায়িত হয়েছে।
• হাসুলী বাঁকের উপকথায় (১৯৪৭) রাঢ়ের নিম্নশ্রেণীর হিন্দুদের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
• তাঁর প্রতিভার পূর্ণ পরিচয় রয়েছে গণদেবতা (১৯৪২), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৩), কালিন্দী (১৯৪০), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩), ধাত্রী দেবতা (১৯৩৯), চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩১), জলসাঘর (১৯৪২) ইত্যাদি উপন্যাসে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘রাইকমল’ উপন্যাস তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩,৫২৭.
'রসুল বিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
ব্যাখ্যা
'রসুল বিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- সরদার জয়েনউদ্দিন। গোরক্ষবিজয় কাব্যগ্রন্থ রচয়িতা- শেখ ফয়জুল্লাহ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৫২৮.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. উত্তরণ
  2. প্রতিরোধ
  3. স্বদেশ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক।

তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:

- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কর,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২৯.
‘ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী’ চরণটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
ভাঙার গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
• ‘ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী-জাগরণী’ কবিতাটি নজরুলের ভাঙার গান কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• ভাঙার গান:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিদ্রোহাত্মক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালের আগস্ট মাসে (১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে)।
- ব্রিটিশ সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে।
- ব্রিটিশ সরকার কখনো এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেননি।
---------------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৩০.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস নয়?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) বহিপীর
  4. ঘ) দি আগলি এশিয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি। গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৫৩১.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৩২.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কঙ্কাবতী
  2. দময়ন্তী
  3. এক মুঠো
  4. মর্মবাণী
সঠিক উত্তর:
এক মুঠো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক মুঠো
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - এক মুঠো।
----------------------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা, বাংলাদেশ।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৩৩.
‘লালসালু’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. রোমান্টিক উপন্যাস
  4. ধর্মীয় দর্শনধর্মী উপন্যাস 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

লালসালু উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।

• লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয় এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।

• সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৩৪.
কোন সাহিত্যিক পাকিস্তান সরকারের দেয়া 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব বর্জন করেন?
  1. ক) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. খ) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারর (১৯৬২) লাভ করেন।
মীর মানস গ্রন্থের জন্য তিনি দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫), পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব (১৯৬৬) লাভ করেন। 

- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ খেতাব বর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৩৫.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. ব্যথার দান
  2. কুহেলিকা
  3. মৃত্যু-ক্ষুধা
  4. বাঁধন-হারা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• ’বাঁধন-হারা’ উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি গ্রন্থাকারে ১৩৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ’বাঁধন-হারা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে -  নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন হারা,
- কুহেলিকা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৩৬.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৫৩৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত আবদুল মান্নান সৈয়দ এর উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতির নোটবুক
  2. ক্ষুধা প্রেম আগুন
  3. মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
  4. নেকড়ে হায়েনা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধা প্রেম আগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধা প্রেম আগুন
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তাঁর একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিস্থান ঢাকা শহর।
------------- 
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৩৮.
"অকপটচন্দ্র ভাস্কর" ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন লেখক?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. মণীশ ঘটক
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৩৯.
জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম ছিলো কোনটি?
  1. মানিক
  2. মিলু
  3. জীবন
  4. অশোকানন্দ
সঠিক উত্তর:
মিলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলু
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: প্রারম্ভিক জীবন এবং পরিবার - 
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার গাওপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক এবং সমাজসেবক, আর মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। জীবনানন্দ দাশের ডাক নাম ছিল মিলু। তাঁর আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে, যেখানে তিনি তার শৈশব কাটান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।
৩,৫৪০.
কোনটি তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. পঞ্চপুণ্ডলী
  3. কালিন্দী
  4. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৪১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি?
  1. কুহেলিকা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. দোলনচাঁপা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

বাঁধন-হারা:
- 'বাঁধন-হারা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস 'বাঁধন-হারা'।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: নুরু, মাহবুবা, রাবেয়া, সাহসিকা, কুহেলিকা ইত্যাদি। 

• মৃত্যু-ক্ষুধা:
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা: 
- কুহেলিকা উপন্যাস টি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য,
- দোলনচাঁপা কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৪২.
'পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না, পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও'- উক্তিটি কার?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কেবল ইহাই জানি যে, আমি একা। কেহ একা থাকিও না। যদি অন্য কেহ তোমার প্রণয়ভাগী না হইল, তবে তোমার মনুষ্যজন্ম বৃথা। পুষ্প সুগন্ধী, কিন্তু যদি ঘ্রাণ গ্রহণকর্ত্তা না থাকিত, তবে পুষ্প সুগন্ধী হইত না- ঘ্রাণেন্দ্রিয় বিশিষ্ট না থাকিলে গন্ধ নাই। পুষ্প আপনার জন্য ফুটে না। পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও। - কমলাকান্তের দপ্তর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উৎসঃ কমলাকান্তের দপ্তর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৩,৫৪৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম -
  1. ভানুসিংহ ঠাকুর
  2. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  3. শ্রীমতি মধ্যমা 
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৪৪.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২৪
  2. খ) ১৯২৫
  3. গ) ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯২৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৭
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী। ১৯১৪ সালের ৭মে (২৫শে বৈশাখ, ১৩২১ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয়। নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হতো। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৫৪৫.
একাত্তরের চিঠি গ্রন্থটির প্রকাশক কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) প্রথমা প্রকাশন
  2. খ) পরশী প্রকাশন
  3. গ) ইউপিএল
  4. ঘ) প্রগতি প্রকাশনী
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথমা প্রকাশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথমা প্রকাশন
ব্যাখ্যা
একাত্তরের চিঠি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা ৮২ টি চিঠির একটি সংকলন।
দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীনফোনের উদ্যোগে চিঠিগুলো সংগ্রহ করা হয়। সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় চৈত্র ১৪১৫, মার্চ ২০০৯ এ।
এটি প্রকাশিত হয় প্রথমা প্রকাশন থেকে।
এই সংকলনের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন আমীন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
উৎসঃ প্রথম আলো এবং liberationwarbangladesh.org
৩,৫৪৬.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে রচিত 'বনমানুষ' গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. সেলিনা হোসেন
  3. জাহানারা ইমাম
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
'বনমানুষ' গল্প:
- এইটি আবু ইসহাক রচিত গল্প। 
- ভারত বিভাগের আগে ১৯৪৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল।
- এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে 'বনমানুষ' গল্পটি লিখিত।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এ গল্পের লেখক বন বিভাগে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন। তিনি দ্বিগুণ বেতনে কলকাতায় চাকরি করতে আসেন। কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর নিজেকে সভ্য মানুষ মনে হতে থাকে। কিন্তু তিনি তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির মুখোমুখি হতে থাকেন। তিনি দেখেন এ শহরের মানুষেরা ধর্মের নামে পরস্পরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। বনের পশু-পাখিরাও এ রকম পরস্পরকে হত্যা করে না। তখন লেখক আবার বন বিভাগের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেখকের কাছে এ শহরের সভ্য মানুষের চেয়ে বনে বসবাসকারী অশিক্ষিত মূর্খ মানুষকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়। 'বনমানুষ' গল্পটি সংকীর্ণ ধর্ম-পরিচয়মুক্ত মানবিক বোধসম্পন্ন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করে; কারণ ধর্ম নিয়ে মানুষে সংঘাত মানুষ পরিচয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কেননা জীব হিসেবে মানুষ অন্য সব প্রাণীর তুলনায় জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতায় শ্রেষ্ঠ

আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাকের জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৪৭.
প্রমথ চৌধুরীর 'বর্ষা' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  2. নানাকথা
  3. প্রবন্ধপাঠ
  4. তেল-নুন-লকড়ী
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
'বর্ষা' প্রবন্ধ:
- প্রমথ চৌধুরীর “বর্ষা” প্রবন্ধটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১৯৫২) থেকে সংকলিত এবং ঈষৎ সংক্ষেপিত।

কাহিনি সংক্ষেপ:
নদীমাতৃক এই দেশে বর্ষা ঋতু অত্যন্ত পরিচিত। অবিরাম বৃষ্টিতে বৃক্ষরাজির অবস্থা, মানব মনের আনন্দ-বিষাদ মাখানো অনুভূতি, বর্ষার গান ও কবিতা, বিশেষত রবীন্দ্রনাথের বর্ষার চিত্র প্রাবন্ধিকের মন জুড়ে বয়ে চলেছে। এমন দিন প্রতিটি বাঙালি ভাবুকজনের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর অনুভূতি অন্যের কাছে প্রকাশ করা কঠিন। মন্ময় এই প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিকের ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। বর্ষা মানবহৃদয়কে যে ভাবাবেগে আপ্লুত করে, একই সঙ্গে করে তোলে সজীব ও স্মৃতিকাতর, নৈঃসঙ্গ্যানুভূতিতে জর্জর ও সৃষ্টিমুখর- তারই মর্মকথা ব্যক্ত হয়েছে এ রচনায়। বর্ষা প্রকৃতিতে যে সজীবতা ও আনন্দানুভূতির সঞ্চার করে তা মানবের প্রাণকেও আন্দোলিত করে গভীরভাবে। এই গভীর হৃদয়ানুভূতি "বর্ষা” প্রবন্ধে অভিব্যক্ত হয়েছে; যার মধ্য দিয়ে এ রচনার ভাষা হয়ে উঠেছে নান্দিনিক অনুভব-সঞ্জাত বক্তব্য প্রকাশের বিশেষ উপযোগী।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা ইত্যাদি।

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৪৮.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আবদুল হাকিম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা' কবিতা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি চতুৰ্দ্দশপদী কবিতাবলী গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট।
- মাতৃভাষার প্রতি কবির সুগভীর হৃদয়াবেগ এই কবিতায় মার্জিত ও পরিশীলিত ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অজস্র ঐশ্বর্য ও সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত হয়েছে কবির নিপুণ বর্ণনায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৪৯.
কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম প্রবন্ধ সংকলন -
  1. সংস্কৃতির কথা
  2. আলো ও ছায়া
  3. সঞ্চয়ন
  4. আলোক বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন হলো 'সঞ্চয়ন'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে।

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান

অন্যদিকে,
- ‘সংস্কৃতির কথা’ প্রবন্ধটির রচয়িতা মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
- 'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কামিনী রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫০.
বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র-
  1. ক) আজাদী
  2. খ) সমাচার দর্পন
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) বেঙ্গল গেজেট
সঠিক উত্তর:
ক) আজাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আজাদী
ব্যাখ্যা

যেহেতু নির্দিষ্ট করে 'বাংলাদেশ' লেখা তাই উত্তর হবে, ১৯৭১ সালে ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম) দৈনিক আজাদী।

‘রংপুর বার্তাবহ’ বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে রংপুরের কুণ্ডি পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায় চৌধুরীর উদ্যোগ ও আর্থিক সহায়তায় রংপুর থেকে প্রকাশিত হয়।
প্রথম সম্পাদক গুরুচরণ রায়।
পত্রিকাটি ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ।
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিকদর্শন (১৮১৮)।
বাঙ্গালী কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেট এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৫১.
'ওরা কদম আলী' —বিখ্যাত এ নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. ক) মামুনুর রশীদ
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
তার অন্যান্য নাটক- ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৫২.
কার পরামর্শে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্য সংগ্রহ শুরু করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) জসিমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্য সংগ্রহ শুরু করেন দীনেশচন্দ্র সেনের পরামর্শে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৫৫৩.
কোনটি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ নয়?
  1. ক) অন্বেষা
  2. খ) ভালো মানুষের জগৎ
  3. গ) ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
  4. ঘ) দ্বিতীয় ভুবন
সঠিক উত্তর:
খ) ভালো মানুষের জগৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভালো মানুষের জগৎ
ব্যাখ্যা
'ভালো মানুষের জগৎ' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প। প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে।

 সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি।

'বাবুলের বেড়ে ওঠা' তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।

দরজাটা খোলো তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৫৪.
'পার্থিব' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ মজুমদার
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পার্থিব' উপন্যাসের রচয়িতা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। 
- এ উপন্যাসে নিঃসঙ্গতার কথা বলা হয়েছে। 
- নায়ক কৃষ্ণজীবন গ্রামের দরিদ্রের সন্তান হলেও মেধার জোরে খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হয়ে উঠেছিল। 
- কিন্তু শহুরে জীবন তার ভাল লাগেনি। 

- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহে।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- ঘুনপোকা,
- উজান, 
- পারাপার,
- দূরবীন ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৫৫৫.
"আয়নায় বন্ধুর মুখ" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল কাদির
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. হাসান ফেরদৌস
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

 - "আয়নায় বন্ধুর মুখ" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা আবদুল্লাহ আল মামুন।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৫৬.
আমার দেশের পথের ধূলা, 
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. ফজলুল হক
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 'খাঁটি সোনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া ও 'খাঁটি সোনা কবিতা।

৩,৫৫৭.
'জমিদার দর্পণ' নাটকটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. সিরাজগঞ্জের কৃষক-বিদ্রোহ
  4. ফকির বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জের কৃষক-বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জের কৃষক-বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৫৮.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু প্রকাশিত কবিতাবিষয়ক পত্রিকা?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) প্রগতি
  3. গ) ক্রান্তি
  4. ঘ) কবিতা কুসুমাবলী
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
• ঢাকা থেকে ‘প্রগতি’ (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে ‘কবিতা’ (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
• কবিতাবিষয়ক ‘কবিতা’ পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

 পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা বন্দীর বন্দনা,
• কঙ্কাবতী,
• দ্রৌপদীর শাড়ী,

উপন্যাস
• লাল মেঘ,
• রাতভর বৃষ্টি,
• পাতাল থেকে আলাপ,
• গোলাপ কেন কালো;

গল্পগ্রন্থ
• অভিনয়, অভিনয় নয়,
• রেখাচিত্র,
• ভাসো আমার ভেলা;

নাটক
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,
- কলকাতার ইলেকট্রা, সত্যসন্ধ;

• প্রবন্ধ: কালের পুতুল (১৯৪৬), সাহিত্যচর্চা (১৯৫৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫৯.
'ভোরের পাখি' কাকে বলে?
  1. কাক
  2. ঘুঘু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন।

• 'ভোরের পাখি' বলার কারণ:
- বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করেন।
- এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। তাই তাকে 'ভোরের পাখি' বলা হয়েছে।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬০.
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস' এই ত্রয়ী মহাকাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেন চট্টগ্রামের নোয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি। তাঁর রচিত কাব্য- অবকাশ রঞ্জিনী, পলাশীর যুদ্ধ, রঙ্গমতী। তাঁর ত্রয়ী মহাকাব্য- 'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস'। মহাকাব্য ৩টির নায়ক কৃষ্ণ। রৈবতকে কৃষ্ণের আদি, কুরুক্ষেত্রে মধ্য ও প্রভাসে অন্তলীলার কাহিনী বর্ণিত। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৫৬১.
'দিবারাত্রির কাব্য' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক - 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৬২.
আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. জাল
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. হারেম
সঠিক উত্তর:
হারেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারেম
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস -সূর্য-দীঘল বাড়ী, জাল, পদ্মার পলিদ্বীপ।

• 'হারেম' গল্পগ্রন্থ:

- ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘হারেম‘ আবু ইসহাকের প্রথম গল্পগ্রন্থ। 
-এর গল্পগুলো গ্রামীণ সমাজ, ভাষাপ্রীতি, কুসংস্কারকে উপজীব্য করে লেখা হয়েছে।
--------------------- 
• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬৩.
সরদার জয়েনউদ্‌দীন কী হিসেবে পরিচিত?
  1. নাট্যকার
  2. প্রাবন্ধিক
  3. কবি
  4. কথাসাহিত্যিক
সঠিক উত্তর:
কথাসাহিত্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথাসাহিত্যিক
ব্যাখ্যা
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী। 
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। 
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী  মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬৪.
'হুইটম্যানের কবিতা' কার অনুবাদগ্রন্থ?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
- 'হুইটম্যানের কবিতা' সৈয়দ আলী আহসান বাংলায় অনুবাদ করেন।

• সৈয়দ আলী আহসান:
-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬৫.
'চিলেকোঠার সেপাই'  উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. রুহুল
  2. ওসমান
  3. আজাদ
  4. ফিরোজ
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস: 
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
-------------------------------- 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬৬.
"দত্তকুলোদ্ভব কবি" বলা হয় কাকে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাকে দত্তকুলোদ্ভব কবি বলা হয়।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৬৭.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা - আল মাহমুদ
- এটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬৮.
কাকে নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয়?
  1. সেলিম আল দীন
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

বিজন ভট্টাচার্যক- নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয়। 

'নবনাট্য আন্দোলন':
- গণনাট্যের পরবর্তী  পর্যায় হলো নবনাট্য আন্দোলন।
- নবনাট্যের অন্যতম পথিকৃৎ গঙ্গাপদ বসুর মতের,
সৎ মানুষের নতুন জীবনবোধের এবং নতুন সমাজ ও বলিষ্ট জীবনগঠনের মহৎ প্রয়াস যে সুলিখিত নাটকে শিল্প সুষমায় প্রতিফলিত হয় তাকেই বলে নবনাট্যের নাটক।  

বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তাঁর শেষজীবনে রচিত নাটকে মার্কসীয় দর্শন, হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সংমিশ্রিত হয়েছে।
 
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকগুলো হলো: 
- জনপদ,
- নবান্ন, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৬৯.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বিষের বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থটির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২৪ সালে
  2. খ) ১৯৪২ সালে
  3. গ) ১৯৪৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা

১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (অগস্ট ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে। এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল। এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে বিদ্রোহাত্মক ও জাতি জাগরণ্মূলক।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৭০.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মোহাম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ একজন  শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
 তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি ।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর 
৩,৫৭১.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের সাহিত্য বৈশিষ্ট্যে মানুষ মুখ্য হয়ে উঠে?
  1. প্রাচীন যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. প্রাক-চৈতন্য যুগে
  4. আধুনিক যুগে
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন আধুনিক  ও মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য:
• প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবন প্রধান ছিল।
• মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য হয়ে, মানুষ গৌণ হয়ে পড়ে এবং মানবতাই একমাত্র কাম্য হয়ে উঠে।
• আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয়ে উঠে।
এ যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো:  যুক্তিশীলতা, স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭২.
'আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট'- উক্তিটির মাধ্যমে মার্কসবাদের প্রতি আকর্ষণ ঘোষণা করেন কোন কবি?
  1. সত্যেন সেন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সমর সেন
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- সমর সেন ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক। তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদকও ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- তাঁর জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।

- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়। তবে তিনি মার্কসের সাম্যবাদী মতবাদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করলেও সরাসরি মার্কসীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেননি। 'আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট'-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

- তিনি 'Frontier' (ফ্রন্টিয়ার) ও নাও পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- নাগরিক জীবনের স্বভাব, অভাব ও অসঙ্গতির বিদ্রূপাত্মক চিত্রায়ণ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি স্বশ্রেণীর স্বরূপ উন্মোচনে স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ৩ খণ্ডে
  2. খ) ৪ খণ্ডে
  3. গ) ৫ খণ্ডে
  4. ঘ) ২ খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ খণ্ডে
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।
• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথাঃ
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৫৭৪.
‘ইউরোপের চিঠি’ ভ্রমণ কাহিনীর লেখক কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) আবদুল লতিফ
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনী।
তার রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ কাহিনী ‘পথে প্রবাসে’।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৫৭৫.
কোন লেখক ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড পণ্ডিত পদে নিযুক্ত ছিলেন?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- তিনি ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড পণ্ডিত পদে নিযুক্তি হন

উল্লেখ্য,
- চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। ১৮০৫ খ্রী. কাদির বখশ রচিত ফারসী গ্ৰন্থ ‘তুতীনামা’র বঙ্গানুবাদ করেন।

অন্যদিকে,
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৫৭৬.
‘বনলতা সেন’ কবিতায় কোন বিদেশি কবির প্রভাব রয়েছে?
  1. শেলি
  2. ইয়েটস
  3. রবার্ট ব্রাউনিং 
  4. এডগার অ্যালান পো
সঠিক উত্তর:
এডগার অ্যালান পো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডগার অ্যালান পো
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।

• জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বিখ্যাত কবিদের প্রভাব:
- জীবনান্দ দাশ ইয়েটস, বেদলেয়ার, অ্যাডগার এলেন পো দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
- তাঁর রচিত 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথেও ইয়েটস্-এর He reproves the curlow কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর "মৃত্যুর আগে" কবিতাটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে এডগার অ্যালান পো এর কবিতা 'টু হেলেন' এর প্রভাব রয়েছে।

• 'বনলতা সেন' কবিতা:  
- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনাম গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যগ্রন্থের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
- জীবনানন্দ দাশ তাঁর অশ্রুতপূর্ব উপমা প্রয়োগে এই কবিতাটি রচনা করেন।

বনলতা সেন- কবিতা, 
জীবনানন্দ দাশ।

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

 • তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।  
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩,৫৭৭.
প্রথম সনেট রচয়িতা বাঙালি মুসলমান কবি কে?  
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কায়কোবাদ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:   
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি। 
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য, সনেট রচয়িতা। 

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে। 


- কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' হচ্ছে মহাকাব্য। 
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।  
- তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় - এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। 
- মহাকাব্য রচনার ক্ষেত্রে বাংলার অপর দুই মহাকবি  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারা অনুসরন করেন।

⇒ তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
• কুসুম কানন, 
• অশ্রুমালা, 
• শিব-মন্দির, 
• অমিয়ধারা, 
• শ্মশান-ভস্ম ও 
• মহরম শরীফ। 

⇒ কবির মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়:  
• প্রেমের ফুল,
• প্রেমের বাণী, 
• প্রেম-পারিজাত, 
• মন্দাকিনী-ধারা ও 
• গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ। 

⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৭৮.
কোনটি সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা?
  1. ক) শিকল-পরা
  2. খ) বন্দী-বন্ধনা
  3. গ) অবেলার ডাক
  4. ঘ) কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা
• সর্বহারা:
কাজী নজরুল ইসলাম
সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩,৫৭৯.
’হাসুলীবাঁকের উপকথা’ একটি -
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. আঞ্চলিক উপন্যাস
  4. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

হাসুলীবাঁকের উপকথা:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা হলো তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে প্রকশিত হয়।
- রাঢ় অঞ্চলের বিশেষ মানুষজনদের ইতিবৃত্ত রচনার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।আর তাই অনিবার্যভাবে 'উপকথা' শব্দটি গ্রন্থনামে লক্ষ করা যায়। 
- কাহিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে নদী প্রবাহের ধারাটিই এখানে লক্ষণীয়। 'কোপাই' নদীর তীরবর্তী মানুষজন এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি হাবু শর্মা ছদ্মনামে লিখতেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, হাসুলীবাঁকের উপকথা’গ্রন্থ ।

৩,৫৮০.
'ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।' মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• 'ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।' মন্তব্যটি করেন প্রখ্যাত ভাষা-চিন্তক  সুকুমার সেন।
- তিনি তাঁর ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের ‘ভাষা ও উপভাষা’ নামক অধ্যায়ে মন্তব্যটি করেন।
- গ্রন্থটি প্রথম ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

সুকুমার সেনের ভাষায় -
"মানুষমাত্রেই কোন না কোন সংসার-সীমানার অথবা সমাজগণ্ডীর অন্তর্গত। স্বাভাবিক অবস্থায় কোন ব্যক্তি সংসার অথবা সমাজ বিরহিত নয়। যে সংসার বা সমাজের মধ্যে মানুষ বাস করে সে সংসার ও সমাজভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাহার চিত্তা উদ্দেশ্য এবং কর্মগত সমতা কিছু না কিছু থাকিবেই। ভাষা এই সমতার প্রধান সাধন। ভাষার মধ্য দিয়া আদিম মানুষের সামাজিক প্রবৃত্তির প্রথম অঙ্কুর প্রকাশ পাইয়াছিল । ভাষার মধ্য দিয়াই সেই সামাজিক প্রবৃত্তি নানাদিকে নানাভাবে প্রসারিত হইয়া আদিম নরকে পশুত্বের অন্ধজড়তা হইতে উদ্ধার করিয়া তাহাকে মননশীল করিয়াছে। প্রকৃতির দাসত্ব হইতে মুক্তি পাইয়া মানুষ প্রকৃতির প্রভুত্বের অধিকারী হইয়াছে। ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয় চিন্তার প্রসূতিও। লতা যেমন মঞ্চ-অবলম্বন না পাইলে বাড়িতে পারে না চিত্তাও তেমনি ভাষা-অবলম্বন ব্যতিরেকে বিচরণ করিতে অক্ষম।
পশুর সমাজ নাই এবং তাহা থাকিবার কথাও নয়। পশু একাকী অথবা জোড় বাঁধিয়া কিংবা দল লইয়া ঘুরিয়া বেড়ায়। কিন্তু পশুর দল পশুর “সমাজ” নয়, সে দলে একটিমাত্র পুরুষ-প্রাণী—কর্তা। সে দলকে সমাজ নয়, বরং পরিবার বলিতে পারি। পশুর জীবনধারণ শুধু বাঁচিয়া থাকা, সুতরাং তাহার পক্ষে ভাষা নিতান্ত অনাবশ্যক। তবে শারীরিক প্রয়োজনে অনেক পশু বিশেষ বিশেষ ডাক ডাকে।"


------------------
সুকুমার সেন:
-  জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 
- তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- বাংলা স্থান নাম,
- বাংলায় নারীর ভাষা,
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
- রামকথার প্রাক ইতিহাস,
- বটতলার ছাপা ও ছবি,
- বনফুলের ফুলবন,
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৫৮১.
কোন কাব্যগ্রন্থটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ?
  1. Captive Ladie
  2. তিলোত্তমাসম্ভব
  3. হেক্টরবধ
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলি 
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা

• ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ ছিল মাইকেল মধুসূধন দত্তের অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ।
- যদিও তিনি প্রথমে 'পদ্মাবতী' নাটকে এই ছন্দ ব্যবহার করেন, তবে এটি ছিল প্রথম প্রয়োগ, যা 'সার্থক প্রয়োগ' ছিলোনা।

'তিলোত্তমাসম্ভব':
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কাব্যের একটি বিশেষ ছন্দরূপ যা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তন করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত পৌরাণিক কাব্য। 
- তিলোত্তমাসম্ভব এ মাইকেল প্রথম সফলভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
---------------------------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে।
- তিনি এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত  ছিলেন কলকাতার আইনজীবী ও জমিদার, আর তার মাতা হলেন জাহ্নবী দেবী। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম ছিল টিমোথি পেনপোয়েম।
- তিনি মাদ্রাজে থাকাকালীন এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie প্রকাশ করেন।
- তাঁকে “দত্তকুলধর্মী কবি” বলেও অভিহিত করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, প্রথম ট্র্যাজেডি ও প্রথম সফল নাটক—সবই তাঁরই সৃষ্টি।
-----------------------------------
অন্যদিকে,
'The Captive Ladie':
-  The Captive Ladie হলো মাইকেল মধুসূদন দত্তের লিখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এটি লেখার মাধ্যমে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইউরোপীয় সাহিত্যশৈলীকে বাংলা সাহিত্যের সাথে সংযুক্ত করার একটি প্রাথমিক প্রয়াস শুরু করেন। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তার দেশপ্রেম ফুটে উঠেছিল।

• হেক্টরবধ:

- এটি মাইকেল মধুসূধন দত্তের অসমাপ্ত কাব্যগ্রন্থ।

• 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- চতুর্দশপদী কবিতাবলীর বিষয়বস্তু মূলত দেশপ্রেম, সমাজ ও সাহিত্য।
- কবির নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনুভূতি ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’তে প্রতিফলিত হয়েছে।
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে- এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়।
- এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এই কবিতার প্রথম ৮টি চরণকে বলা হয় অষ্টক, যেখানে ভাবের প্রবর্তন করা হয়।
- এবং পরবর্তী ৬টি চরণকে বলা হয় ষটক, যেখানে ভাবের পরিণতি ঘটে। 
- 'কপোতাক্ষ নদ’ একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা, যা মাইকেল মধুসূদন দত্ত ফ্রান্সে অবস্থানকালে রচনা করেন।
- এটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ চতুর্দশপদী কবিতাবলী থেকে সংগৃহীত।
- এই গ্রন্থে মোট ১০২টি সনেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৮২.
মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান কোথায়?
  1. পারাতলী গ্রাম
  2. পাইকারদি গ্রাম
  3. পায়রাবন্দ গ্রাম
  4. শাহজাদপুর
সঠিক উত্তর:
পায়রাবন্দ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়রাবন্দ গ্রাম
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন, (১৮৮০-১৯৩২)
- সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, নবপ্রভা, মহিলা, ভারতমহিলা, আল-এসলাম, নওরোজ, মাহে নও, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, The Mussalman, Indian Ladies Magazine  প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়।
- সমকালীন সাময়িক পত্রে মিসেস আর.এস হোসেন নামে তাঁর রচনা প্রকাশিত হতো।
- রোকেয়ার সমগ্র সাহিত্যকর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজের কুসংস্কার ও অবরোধ প্রথার কূফল, নারীশিক্ষার পক্ষে তাঁর নিজস্ব মতামত, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা এবং নারীর অধিকার ও নারী জাগরণ সম্পর্কে তাঁর প্রাগ্রসর ধ্যানধারণা।
- বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮৩.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে অপুর মায়ের নাম কী? 
  1. মৃণালিনী 
  2. সর্বজয়া 
  3. নলিনী 
  4. বিনোদিনী 
সঠিক উত্তর:
সর্বজয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বজয়া 
ব্যাখ্যা

'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে অপু ও দুর্গার মায়ের নাম- সর্বজয়া।

• পথের পাঁচালী:

- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও পথের পাঁচালী উপন্যাস।

৩,৫৮৪.
কোনটি আল মাহমুদ রচিত একটি উপন্যাস?
  1. উপমহাদেশ
  2. পানকৌড়ির রক্ত
  3. কালের কলস
  4. অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• উপমহাদেশ: 
- 'উপমহাদেশ’ কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও উপমহাদেশ উপন্যাস।

৩,৫৮৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. ক) বর্ণচোর
  2. খ) অনিল বাগচির একদিন
  3. গ) নরকের লাল গোলাপ
  4. ঘ) জন্ম যদি তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
গ) নরকের লাল গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নরকের লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- মায়াবী প্রহর,
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
'বর্ণচোর' - মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প।
'অনিল বাগচির একদিন' হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮৬.
গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্ম ব্যবসা কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. গঙ্গা
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

> ১৯৪৮ সালে রচিত এবং প্রকাশিত লালসালু উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী সৃষ্টিকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এর পটভূমি ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ হলেও এর প্রভাব বা বিস্তার কালোত্তীর্ণ।
- মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র উপন্যাসটির মূল বিষয়
- উপন্যাসের চরিত্র - মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

> লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন অ্যান-মারি-থিবো, জেফ্রি ডিবিয়ান, কায়সার সাঈদ এবং মালিক খৈয়াম।
- তবে ওয়ালীউল্লাহ নিজে এতে সম্প্রসারণের কাজ করেন।
- ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের Chatto অ্যান্ড Windus লিমিটেড থেকে Tree Without Roots শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে উপন্যাসটি জার্মান ও চেক ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া
৩,৫৮৭.
সেলিনা হোসেনের 'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. নারী জাগরণ
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৩,৫৮৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুষ্টিয়া
  2. চব্বিশ পরগনা
  3. বর্ধমান
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
চব্বিশ পরগনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চব্বিশ পরগনা
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৮৯.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৯০.
জসীমউদ্দীনের নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পল্লীসমাজ
  3. গ) গ্রামের মেয়ে
  4. ঘ) পদ্মাপার
সঠিক উত্তর:
খ) পল্লীসমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
কবি জসীমউদ্দীনের নাটক- পদ্মাপার, গ্রামের মায়া, মধুমালা, পল্লীবধূ, বেদের মেয়ে ইত্যাদি। পল্লীসমাজ শরৎচন্দ্রের উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৫৯১.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদি
  2. সাপ্তাহিক বিজলী
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক বিজলী
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম - 'সাপ্তাহিক বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।  

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৯২.
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সাল
  2. ১৯৩০ সাল
  3. ১৯৩৬ সাল
  4. ১৯৪০ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ সাল
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।

পদ্মা নদীর মাঝি:

- 'পদ্মা নদীর মাঝি' হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে এবং বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামাঞ্চল।
- এতে দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুবের নামে একজন মাঝি, কপিলা,মালা ও হোসেন মিয়া এবং তাদের জীবন সংগ্রাম।
- ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৯৩.
‘জননী’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

⇒ ‘জননী’ উপন্যাস:
জননী (১৯৩৫) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস।
চরিত্র ও কাহিনির নির্মোহ বাস্তব রূপায়ণ এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট।

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, ‘জননী’ নামে শওকত ওসমানের একটি উপন্যাস রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৯৪.
'রিক্তের বেদন' কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. গানের সংকলন
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'রিক্তের বেদন':
- 'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - গল্পগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হলো- প্রেম।
- এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

'রিক্তের বেদন' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'রিক্তের বেদন' গ্রন্থ।

৩,৫৯৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আলেয়া' কোন ধরনের রচনা?
  1. গীতিনাট্য
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
-  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিনাট্য:
- আলেয়া,
- মধুমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৯৬.
‘জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।- চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
‘জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় আভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।’ - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'নারী' কবিতার অংশ

• 'নারী' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত।
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
• ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎস: সাম্যবাদী বাক্যগ্রন্থ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৯৭.
“বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে,
রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা”
- পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ বিশেষ?
  1. ক) আমার কৈফিয়ত
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) কুলি-মজুর
  4. ঘ) দারিদ্র
সঠিক উত্তর:
ক) আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা

উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত আমার কৈফিয়ত কবিতার অংশ বিশেষ।
কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।
সূত্রঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ।

৩,৫৯৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ব্যথার দান' কোন শ্রেণির রচনা? 
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ 
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'ব্যথার দান':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ হলো 'ব্যথার দান'। .
- ছয়টি গল্প গ্রন্থ নিয়ে 'ব্যথার দান' ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 

• গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলো:
- ব্যথার দান
- হেনা
- অতৃপ্ত কামনা
- বাদল- বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে
- রাজবন্দীর চিঠি

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ গুলো হলো:
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,৫৯৯.
‘কিশোর, বাসন্তী ও মনমালী’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নয়া বসত
  2. দু রঙা প্রজাপতি
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. সাদা হাওয়া
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।

উপন্যাসের চরিত্র
- কিশোর,
- সুবল,
- অনন্ত,
- তিলক,
- বাসন্তী ও
- মনমালী মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

--------------------------
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ‘নবশক্তি’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০০.
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি কোন সাহিত্যিক রচনা করেছেন? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যু-ক্ষুধা এবং 
- কুহেলিকা। 

গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা। 

সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ: 
- চোখের চাতক, 
- নজরুল গীতিকা, 
- সুর সাকী, 
- বনগীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।