বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৩৪ / ১৭৪ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ১৭,৪৩৭

৩,৩০১.
'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

•'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩০২.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) মাসিক মোহাম্মদী
  2. খ) দৈনিক সেবক
  3. গ) মাসিক সওগাত
  4. ঘ) দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
ক) মাসিক মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি রচনা করেন সুফিয়া কামাল।
- এটি 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম  প্রকাশিত হয়।

• তাহারেই পড়ে মনে:
- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০৩.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. এক মুঠো
  2. খসড়া
  3. অনিঃশেষ
  4. কবিতাবলী
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত 'বাংলাদেশ' কবিতাটি 'অনিঃশেষ' (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী, 
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩০৪.
'একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে / পরিণত হব!' - এই পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে / পরিণত হব!' - এই পঙক্তির রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য।

- এটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'প্রার্থী' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
- 'প্রার্থী' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• তাঁর এই কবিতার কথক একজন দরিদ্র মানুষ। তিনি বলেছেন, এমন একদিন আসবে যে দিন গরিব মানুষগুলো সূর্যের মতোই অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হয়ে নিজেরা জড়তামুক্ত হবে। এর ফলে সব বৈষম্য দূর হলে গরিব মানুষের জন্য উতাপ অভাব হবে না।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পূর্বাভাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩০৫.
'তৈল' প্রবন্ধটি লিখেছেন -
  1. সুকুমার রায়
  2. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  3. শিবনারায়ণ রায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ ‘তৈল’।

• প্রবন্ধের কিছু অংশ:
বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল — বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়; এবং কি কৌশলে সেই তৈল বিধাতৃপুরুষদিগের সুখসেব্য হয়, তাহাও অতি অল্পলোক জানেন। যাঁহারা জানেন, তাঁহাদিগকে আমরা ধন্যবাদ দিই। তাঁহারাই আমাদের দেশের বড় লোক, তাঁহারাই আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়া আছেন।

------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক।
- তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• হরপ্রসাদ বহু বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন;
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই’ উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন;
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০৬.
‘রূপজালাল’ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ফজিলাতুন্নেসা
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
⇒ রূপজালাল:
- গদ্যে-পদ্যে নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে। 
-  এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।
- ফয়জুন্নেসার নিজের একটি লাইব্রেরি ছিল। সেখানে তিনি বিভিন্ন সাহিত্য ও ধর্মবিষয়ক গ্রন্থাদি পাঠ করতেন। তাঁর স্বোপার্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উক্ত প্রতীকাশ্রয়ী গ্রন্থটিতে।
- পুথি ও জারিগানের মিশ্র ধারায় লিখিত এ গ্রন্থটি শুরু হয়েছে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
- সমকালীন বাংলায় মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ফয়জুন্নেসা তাঁর লেখায় অনেক আরবি, ফার্সি ও উর্দু শব্দ ব্যবহার করেছেন।

⇒ নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।

- নবাব ফয়জুন্নেসা আলোচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা রূপজালাল।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৭.
‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ সৈয়দ আলী আহসান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:

- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৮.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক -
  1. সীতার বনবাস
  2. সীতাহরণ
  3. প্রফুল্ল
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৯.
কোনটি সঠিক?
  1. মহাশ্মশান (নাটক)
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  3. কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  4. বহিপীর (নাটক)
সঠিক উত্তর:
বহিপীর (নাটক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিপীর (নাটক)
ব্যাখ্যা
বহিপীর: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - বহিপীর। 
- এটি ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'কাঁদো নদী কাঁদো' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত একটি উপন্যাস। 

মহাশশ্মান: 

- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশশ্মান (মহাকাব্য)। 
- এটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত। 
- তার এই কাব্যটি ৩ খন্ডে বিভক্ত। 
- এটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে একটি মহাকাব্য। 

সোজন বাদিয়ার ঘাট: 
-  কবি জসীমউদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে। 

কাঁদো নদী কাঁদো
-  
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অবিশ্বাস্য
  2. অন্ধকার থেকে আলোয়
  3. আলোর জন্য
  4. আমরা অপেক্ষা করছি
সঠিক উত্তর:
অবিশ্বাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস - অবিশ্বাস্য
- এটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অন্ধকার থেকে আলোয়।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস - আলোর জন্য।
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - আমরা অপেক্ষা করছি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১১.
'রূপাই ও সাজু' - কোন কাব্যগ্রন্থের চরিত্র?
  1. রাখালী
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. রূপবতী 
সঠিক উত্তর:
নক্সী কাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্সী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। 

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১২.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. মহাশ্মশান
  3. হানিফার লড়াই
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত কাব্য : 'মহাশ্মশান'।

⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

------------------
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক। 

অন্যদিকে,
• 'পদ্মাবতী' কাব্যটি মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল কর্তৃক রচিত। 
• মধ্যযুগের মুহম্মদ খানের কাব্য হানিফার লড়াই।  আবদুল হাকিম এর হানিফার লড়াই নামে একটা কাব্য রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৩.
'টেলিমেকাস' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি হলে তাঁকে উদ্দেশ্য করে 'টেলিমেকাস' কবিতাটি লিখেন শামসুর রাহমান। তাঁর আরও কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা- হাতির শুঁড়, আসাদের শার্ট, স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩১৪.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক। সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে। একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ রাজবন্দীর রোজনমাচা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১৫.
"যে মোরে করিল পথের বিবাগী
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।" চরণ দুটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• ''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি''--পঙক্তিটির রচয়িতা- জসীমউদ্‌দীন।
- কবিতাটি জসীমউদ্‌দীন এর 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তাঁর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত বসন্ত নাটকটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  4. চিত্তরঞ্জন দাস
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বসন্ত নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন।

তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত কাব্য:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী - কাদম্বরী দেবী 
- কড়ি ও কোমল - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর 
- মানসী - মৃণালিনী দেবী ( 'উপহার' কবিতায় ইঙ্গিত আছে)
- সোনার তরী - কবি-ভ্রাতা দেবেন্দ্রনাথ সেন
- কথা ও কাহিনী - জগদীশচন্দ্র বসু
- . স্মরণ - মৃণালিনী দেবী
- পরিশেষ - অতুলপ্রসাদ সেন
- খাপছাড়া - রাজশেখর বসু
- আকাশ প্রদীপ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
- পূরবী - আর্জেন্টাইন মহিলা ভিক্টোরিইয়া ওকাম্পো প্রভৃতি।
- বউ ঠাকুরানীর হাট উপন্যাসটি উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবী

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৭.
‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’–র পটভূমি কোন নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে? 
  1. কোপাই
  2. পবন
  3. দামোদর
  4. অজয়
সঠিক উত্তর:
কোপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোপাই
ব্যাখ্যা

‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’–র পটভূমি কোপাই নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
----------------------------------------
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হাঁসুলি বাঁকের উপকথা  ১৯৫১সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি কোপাই নদীর তীরে বাঁশবাঁদি গ্রামের কাহার সমাজের জীবনচিত্র নিয়ে রচিত।
- এতে গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, জমিদারী ব্যবস্থার বৈষম্য এবং যন্ত্রসভ্যতার আগমনে প্রাচীন কৃষিনির্ভর জীবনের টানাপোড়ন স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- কাহারদের লোকবিশ্বাস, সংস্কার, উৎসব, শিকার, সঙ্গীত—এসবই লেখক গভীর বাস্তবতায় চিত্রিত করেছেন।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৩৫৩ সালের শারদীয় আনন্দবাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরে গ্রন্থাকারে বের হয়।
- বইটি উৎসর্গ করা হয় কবিশেখর কালিদাস রায়কে।
----------------------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১৮.
নিচের কোনটি আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস?
  1. যদ্যপি আমার গুরু
  2. গাভী বিত্তান্ত
  3. নিহত নক্ষত্র
  4. দোলো আমার কনকচাঁপা
সঠিক উত্তর:
গাভী বিত্তান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাভী বিত্তান্ত
ব্যাখ্যা
• 'গাভী বিত্তান্ত' - আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস।
------------------ 
 আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলো আমার কনকচাঁপা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৯.
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ থেকে 'বিদ্যাবাচস্পতি' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
  3. সুকুমার সেন 
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক 
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র উপাধিসমূহ হলো-
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁর অপূর্ব অবদানের জন্য তাঁকে 'বিদ্যাবাচস্পতি' উপাধিতে ভূষিত করে। পাকিস্তান আমলে তাঁকে বাংলা সাহিত্য সাধনার জন্য 'প্রাইড অভ পারফর্মেন্স পদক' ও দশ হাজার টাকা পুরস্কার এবং মরণোত্তরকালে 'হিলাল-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত করা হয়। ফরাসি সরকার তাঁকে 'সেভলেয়র দ্যে লা অর্দার দ্যেস আর্টস এত দ্যে লেতর্স' উপাধি প্রদান করেছিল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেসন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করে, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনুমতির অভাবে সেটা তিনি গ্রহণ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর সম্মানসূচক 'ডি-লিট' উপাধি দিয়েছে এবং প্রাচীনতম ছাত্রাবাসকে তাঁর নামে নামকরণ করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কলাভবনটিও তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত। ১৯৮০-তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও তাঁকে মরণোত্তর দেওয়া হয়েছে।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
ভাষা ও সাহিত্য,
বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
বাংলা সাহিত্যের কথা।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩২০.
কোন গ্রন্থে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ফুটে উঠেছে?
  1. রাজা যায় রাজা আসে
  2. ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. অনেক সূর্যের আশা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

অন্যান্য গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
ক) 'রাজা যায় রাজা আসে' - কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - আবুল হাসান।
খ) ‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী। এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘ) ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস: দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সংশ্লিষ্ট’ উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২১.
জসীম উদ্‌দীন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ভলগার তীরে
  3. যাঁদের দেখেছি
  4. সেইদিন এই মাঠ
সঠিক উত্তর:
যাঁদের দেখেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাঁদের দেখেছি
ব্যাখ্যা
• 'যাঁদের দেখেছি' গ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত স্মৃতিকথামূলক সুখপাঠ্য গদ্যগ্রন্থ।
- গদ্যগ্রন্থটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গদ্যগুলো হলো:
- নজরুল,
- পরিশিষ্ট,
- শরৎ-সন্নিধানে,
- দীনেশচন্দ্র,
- সিরাজী-স্মৃতি,
- আমার বন্ধু কুদরতউল্লাহ্ সাহাব।

অন্যদিকে,
• 'ভলগার তীরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 
• বেলা অবেলা কালবেলা জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ এবং সেইদিন এই মাঠ জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; 'যাঁদের দেখেছি' গদ্যগ্রন্থ।
৩,৩২২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ‘বিলাসী’ গল্পটি কোন গল্প সংকলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ছবি
  2. মেজদিদি
  3. বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প
  4. অনুরাধা সতী ও পরেশ
সঠিক উত্তর:
ছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছবি
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ‘বিলাসী’ গল্পটি ‘ছবি’ গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প।

------------------
• 'ছবি' গল্পগ্রন্থ:
- 'ছবি' (১৯২০) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পের সংকলন।
- ছবি, বিলাসী ও মামলার ফল এই তিনটি গল্পের সংকলন।

• 'ছবি' গল্পের ঘটনাস্থল ব্রহ্মদেশ। চিত্রকর বা-থিন এবং ধনীকন্যা মাশায়ের গভীর প্রেম এই গল্পের বিষয়বন্তু।
• ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
• 'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাইয়ের (শিবু ও শম্ভু) মামলায় নিঃসন্তান সঙ্গামণির অপত্য স্নেহ শিশু গয়ারামকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে।

----------------
অন্যদিকে,
• ‘মেজদিদি’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘মেজদিদি’, ‘দর্পচূর্ণ’ ও ‘আঁধারে আলো’ এই তিনটি গল্পের সংকলন।

• ‘বিন্দুর ছেলে’, ‘রামের সুমতি’ ও ‘পথনির্দেশ’ এই তিনটি গল্পের সংকলন ‘বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প’।

• ‘অনুরাধা সতী ও পরেশ’ শরৎচন্দ্র চট্টাপাধ্যায় লিখিত তিনটি গল্পের সংগ্রহ। ‘অনুরাধা’ ভারতবর্ষে, ‘সতী’ বঙ্গবাণীতে এবং ‘পরেশ’ শরতের ফুল নামক সাময়িকীতে পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৩.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. মাওলানা আকরাম খাঁ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদের জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ।
- তিনি সাপ্তাহিক সোলতান ও মোহাম্মদীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন (১৯২৩-১৯২৬)। তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।

কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নীতির বিরুদ্ধে।
- তিনি চিত্তরঞ্জন দাশ এর (১৮৭০-১৯২৫) স্বরাজ্য পার্টির রাজনীতি সমর্থন করেন এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট এর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে প্রচেষ্টা চলে সে ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত ব্যঙ্গরচনা
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭)
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)
- গালিভারের সফরনামা

তাঁর স্মৃতিকথা
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯)
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

তাঁর অন্যান্য রচনা
- সত্য মিথ্যা (১৯৫৩)
- জীবনক্ষুধা (১৯৫৫)
- আবে হায়াত (১৯৬৮)
- হুযুর কেবলা (১৯৩৫)
- বাংলাদেশের কালচার (১৯৬৬)
- আসমানী পর্দা (১৯৬৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২৪.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মায়া কাজল 
  4. অভিযাত্রিক
সঠিক উত্তর:
কেয়ার কাঁটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেয়ার কাঁটা
ব্যাখ্যা

• 'কেয়ার কাঁটা' সুফিয়া কামাল রচিত গল্পের সংকলন বা গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ' ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২৫.
'রানী খালের সাঁকো' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) স্মৃতিকথা
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

আহসান হাবীব : কবি ও সাংবাদিক। আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই।

উপন্যাস :
- অরণ্যে নীলিমা (১৯৬২),
- রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫)।

শিশুতােষ গ্রন্থ :
- ছােটদের পাকিস্তান (১৯৫৪),
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭),
- ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৩২৬.
‘পরেশবাবু’ চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসের?
  1. গোরা
  2. চার অধ্যায়
  3. যোগাযোগ
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
‘গোরা’ উপন্যাস:
- উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে।
- এই উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহি বিপ্লবের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পতির সন্তান।
- কিন্তু সে বড় হয় হিন্দু ব্রাহ্মণ কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ীর ঘরে।
- এই উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা,পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি।
- বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর।
বনফুল ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে তথা কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৭.
কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের গদ্যগ্রন্থ?
  1. অর্কেস্ট্রা
  2. ক্রন্দসী
  3. সংবর্ত
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা
• ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• প্রতিদিন,
অর্কেস্ট্রা,
ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত,
কুলায় ও কালপুরুষ

এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২৮.
'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা -
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. আনোয়ার পাশা
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• 'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা - আনোয়ার পাশা।

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৯.
'চরিত্রহীন' উপন্যাসের দুটি প্রধান নারী চরিত্রের নাম কী কী?
  1. রাজলক্ষ্মী ও অভয়া
  2. সাবিত্রী ও কিরণময়ী
  3. বিমলা ও আশালতা
  4. অন্নদিদি ও দুর্গা
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী ও কিরণময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী ও কিরণময়ী
ব্যাখ্যা

'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

অন্যদিকে,
শ্রীকান্ত উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি, অভয়া
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র - বিমলা।
'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - আশালতা।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

৩,৩৩০.
মুক্তিযুদ্ধে হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন চিত্রায়িত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. জীবন আমার বোন
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: কালের কণ্ঠ
৩,৩৩১.
নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতাগ্রন্থ?
  1. ক) বন্দীর বন্দনা
  2. খ) সন্ধিক্ষণ
  3. গ) মর্মবাণী
  4. ঘ) স্বাগত বিদান
সঠিক উত্তর:
খ) সন্ধিক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারীতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- প্রথম জীবনে তিনি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন। পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।
- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।  
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্য সঞ্চয়ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
বন্দীর বন্দনা, মর্মবাণী ও স্বাগত বিদান বুদ্ধদেব বসু রচিত কবিতাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩২.
'জীবন আমার বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম থোকা প্রমুখ।

------------------
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৩৩.
'রোহিনী ও গোবিন্দলাল' —চরিত্র দুটি কোন উপন্যাস এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) কপালকুন্ডলা
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. ঘ) মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

'কপালকুন্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র: কপালকুন্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, মনোরমা৷
'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৩৩৪.
শহীদ কাদরী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মেঘ বলে চৈত্রে যাব
  2. খ) কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই
  3. গ) দ্বিতীয় ভুবন
  4. ঘ) প্রসন্ন শহর
সঠিক উত্তর:
খ) কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
 বাংলা কবিতার পঞ্চাশের দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকারে।
তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।  

তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ
- উত্তরাধিকার (প্রথম প্রকাশিত),
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

অন্যদিকে, 
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- দ্বিতীয় ভুবন
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- মেঘ বলে চৈত্রে যাব
সিকান্দার আবু জাফর রচিত কাব্যগ্রন্থ-প্রসন্ন শহর

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩৫.
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের লেখক-
  1. আবুল ফজল
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আব্দুল হাই
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ আব্দুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের নাম- বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন।
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' রচনার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৩৩৬.
ছন্দের জাদুকর কে?
  1. জসিম উদ্দীন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৩৩৭.
'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ

বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরীর জম্ম ১৯৪৫ সালের ২১ জুন।
- নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে

তাঁর রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৮.
‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. আল মাহমুদ
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. রশীদ হায়দার
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
ইমদাদুল হক মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
• ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা 'ইমদাদুল হক মিলন'।

• সাড়ে তিন হাত ভূমি:

- একটি কবরের আয়তন কত? এই প্রশ্নের উত্তর, 'সাড়ে তিন হাত ভূমি'।
- জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।

কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। সময়টা বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বোনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে । এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি । এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।

• ইমদাদুল হক মিলন:
- জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি,
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. সাড়ে তিন হাত ভূমি’ উপন্যাস।
৩,৩৩৯.
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী। তিনি বীরবল ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনেক রচনা প্রকাশ করেন। বীরবলের হালখাতা তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা। তিনি মাসিক সবুজপত্র (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩৪০.
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা। ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ‘আবহমান বাংলা, বাঙালী’কে।
• ‘রূপসী বাংলা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদের বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙক্তি হলো-

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪১.
কোনটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  3. জীবন আমার বোন
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

অন্যদিকে, 
- 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'ওঙ্কার' আহমদ ছফার উপন্যাস।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৪২.
নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বলা হয় কাকে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪৩.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন দীর্ঘ বাইশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. নবযুগ
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সওগাত
  4. দৈনিক মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি দৈনিক 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• নবযুগ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও রাজনীতিবিদ কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৪.
‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থটি সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. নাটক
  2. রম্যসাহিত্য 
  3. মহাকাব্য
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রম্যসাহিত্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রম্যসাহিত্য 
ব্যাখ্যা

পঞ্চতন্ত্র:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৪৫.
'জয়গুন' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়? 
  1. সারেং বৌ
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. সংশপ্তক
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'।
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
-মোরল গদু ইত্যাদি।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৪৬.
কোনটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
অন্য ঘরে অন্য স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ 'অন্য ঘরে অন্য স্বর'।
- চিলেকোঠার সেপাই এবং খোয়াবনামা তাঁর রচিত উপন্যাস।

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'।
- তাঁর রচিত আরো কয়েকটি গল্পগ্রন্থ,- খোয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৭.
‘একাত্তরের বর্ণমালা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. এম. আর. আখতার মুকুল
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুল হুদা 
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

• ‘একাত্তরের বর্ণমালা’ গ্রন্থের রচয়িতা- এম. আর. আখতার মুকুল। 
- এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা, যা সময় ও ইতিহাস সচেতনতার প্রতিফলন।

• এম. আর. আখতার মুকুল:
- এম. আর. আখতার মুকুল (১৯২৯-২০০৪) একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি বগুড়া জেলার চিংগাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র-এর কথক।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতি ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তিনি একাত্তরের বর্ণমালা নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• রূপালী বাতাস,
• আমরাই বাঙ্গালী,
• আমাকে কথা বলতে দিন,
• খালেদা থেকে খন্দকার,
• আমি বিজয় দেখেছি, ইত্যাদি।
- দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০০৪ সালে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- একাত্তরের রণাঙ্গন গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে- শামসুল হুদা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৪৮.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন?
  1. সন্ধ্যা
  2. সর্বহারা
  3. সাম্যবাদী
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
শামসুন্নাহার মাহমুদ:
- ১৯০৮ সালে ফেনী (বৃহত্তর নোয়াখালী) জেলার গুথুমা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক।
- তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
- তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।
- কলকাতায় থাকাকালে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বহুবার সাক্ষাৎ হয়। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে সাহিত্য চর্চায় উদ্বুদ্ধ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
- শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের 'আঙ্গুর' নামক মাসিক পত্রিকায়।
- আই.এ পড়ার সময় তিনি 'নওরোজ' ও 'আত্মশক্তি' পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'বুলবুল' (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন।
- ১৯৬৪ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- পুণ্যময়ী (১৯২৫),
- ফুলবাগিচা (১৯৩৫),
- বেগম মহল (১৯৩৬),
- রোকেয়া জীবনী (১৯৩৭),
- শিশুর শিক্ষা (১৯৩৯),
- আমার দেখা তুরষ্ক (১৯৫৫),
- নজরুলকে যেমন দেখেছি (১৯৫৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪৯.
’ওরা কদম আলী’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) ইব্রাহীম খলিল
  4. ঘ) ওবায়েদ উল হক
সঠিক উত্তর:
খ) মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমশটিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই(১৯৮০)
- ইবলিশ(১৯৮২)
- এখানে নোঙর(১৯৮৬)
- গিনিপিগ(১৯৮৫)
- পাথর(১৯৯৩)
- লেবেদেফ(১৯৯৭) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫০.
কত ছবি কত গান’- গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) শহীদুল্লাহ্ কায়সার
  4. ঘ) খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
‘কত ছবি কত গান’- গ্রন্থটির রচিয়তা খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস।

৩,৩৫১.
বিখ্যাত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ কে  অনুবাদ করেন? 
  1. E.M Milford
  2. Thomas Gray
  3. James Long
  4. Robert Frost 
সঠিক উত্তর:
E.M Milford
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E.M Milford
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থের অনুবাদক E.M Milford।

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ':
-​ এটি  একটি কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ।
- রচয়িতা কবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬ ) রচনাকাল ১৯২৯।
- নক্সী কাঁথার মাঠ একটি শিল্পসফল কাহিনি কাব্য।
- কাব্যটি চোদ্দটি সর্গ বা ছোট ছোট দৃশ্যপটে বর্ণিত।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৫২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নীল লোহিত
  2. বীরবল
  3. কৃষ্ণকান্ত
  4. কমলাকান্ত
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- কমলাকান্ত। 

অন্যদিকে, 
• প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক", "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৩.
"লেখরাজ সামন্ত" কার ছদ্মনাম?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমরেশ বসু
  4. শম্ভু মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।

অন্যদিকে,
• মোহিতলাল মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কৃত্তিবাস ওঝা, সত্যসুন্দর দাস।
• 'কালকূট' ও 'ভ্রমর' সমরেশ বসুর ছদ্মনাম।
• শম্ভু মিত্র এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৪.
'মর্মবাণী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
• তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।
• বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বুদ্ধদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- সাড়া,
- সানন্দা,
- তিথিডোর,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাতভরে বৃষ্টি,
- গোলাপ কেন কালো ইত্যাদি ।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- মায়ামালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- রেখাচিত্র,
- রজনী হ'ল উতলা,
- অভিনয় অভিনয় নয়,
- হাওয়া বদল।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৩৫৫.
একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে কোন পত্রিকা?
  1. ক) স্বদেশ
  2. খ) সৈনিক
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) দৈনিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈনিক
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির গুলি ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতাল পালিত হয়।
- ঐ দিন মিছিলে আবার গুলি চালায় পুলিশ, হতাহত হয় বহু ছাত্র জনতা। 
- একুশের এই রক্তাক্ত ঘটনার পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক 'সৈনিক' এর বিশেষ সংখ্যা। 
- এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকার প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ। 
- সকালে পত্রিকা প্রকাশের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় এক হাজার কপি।
- পরে পুনর্মুদ্রণ করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৬.
সুফিয়া কামালের কবিতা কোনটি?
  1. তাহারেই পড়ে মনে
  2. তোমাকে
  3. তোমায় আমি
  4. তোমাকে ভালোবেসে
সঠিক উত্তর:
তাহারেই পড়ে মনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে:
- সুফিয়া কামাল রচিত কবিতাটি ১৯৩৫ সালে মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'র অন্তর্গত।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো জীবনানন্দ দাশের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সাঁঝের মায়া, সুফিয়া কামাল; শ্রেষ্ঠ কবিতাসমগ্র, জীবনানন্দ দাশ।
৩,৩৫৭.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫৮.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭১
  2. ১৯২১
  3. ১৯২৫
  4. ১৮২১
সঠিক উত্তর:
১৯২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২১
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা: 
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়। সে হিসেবে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর '১৯২১' নেওয়া হয়েছে।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৩৫৯.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের নাম-
  1. ক) মনির চৌধুরী
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা - “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার শুরু ছাত্রজীবনথেকেই।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে' সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা। এ বছর তিনি ‘ঢাকা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ'-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'অমর একুশে' রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬০.
‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র কোনটি?
  1. কুবের
  2. হোসেন মিয়া
  3. শীতলবাবু
  4. ধনঞ্জয়
সঠিক উত্তর:
হোসেন মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬১.
W. B. Yeats- এর 'The Falling of the Leaves's' কবিতার মিল পাওয়া যাওয়া জীবনানন্দের কোন কবিতার সাথে?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) মৃত্যুর আগে
  4. ঘ) সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
- কবি জীবনান্দ দাশ রচিত 'মৃত্যুর আগে' কবিতাটি ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত।
- এটির সাথে আইরিশ কবি W. B. Yeats রচিত  The Falling of the Leaves কবিতাটির মিল রয়েছে। 
- জীবনানন্দ দাশের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬)। 

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬২.
গােলাম মােস্তফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাঙ্গাবুক
  2. রূপের নেশা
  3. এক মন এক প্রাণ
  4. হাসনাহেনা
সঠিক উত্তর:
হাসনাহেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসনাহেনা
ব্যাখ্যা
গােলাম মােস্তফা যশাের জেলার শৈলকুপা থানার মনােহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
- রক্তরাগ,
- খােশরােজ,
- কাব্যকাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা 
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম,
- তারানা ই পাকিস্তান 
- গীতি সঞ্চয়ন 

উপন্যাস:
- ভাঙ্গাবুক,
- রূপের নেশা,
- এক মন এক প্রাণ;

জীবনী :
-বিশ্বনবী,
- মরুদুলাল;
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 

অনুবাদ :
- কালামে ইকবাল,
- আল কুরআন,
- শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি।]
 
৩,৩৬৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে বাংলা গীতি কবিতায় ‘ভোরের পাখি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালেরউল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
পূর্ণিমা,
সাহিত্য-সংক্রান্তি,
অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৬৪.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. খােয়াবনামা
  2. দোজখের ওম
  3. মহাপতঙ্গ
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
দোজখের ওম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোজখের ওম
ব্যাখ্যা
• ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
--------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:

• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
• 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৫.
কলকাতায় প্রথম রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয় -
  1. ১৭৪৩ সালে
  2. ১৭৪৭ সালে
  3. ১৭৫৩ সালে
  4. ১৭৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
• নাটক ও নাট্যশালার ইতিহাস:
- ইউরো-প্রভাবিত নাট্যচর্চার প্রবর্তন জানামতে, বাংলার সর্বপ্রথম ইংরেজ নাট্যশালা 'দ্য প্লে হাউস' বো দ্য থিয়েটার) ১৭৫৩ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৭৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে 'দ্য নিউ প্লে হাউস' (দ্য ক্যালকাটা থিয়েটার)। ১৮০৮ সালে বিলুপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এ মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় শেক্সপীয়র, ম্যাসিঞ্জার, কংগ্রিভ, শেরিডান এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নাট্যকারদের নাটক।
- প্রথম অবস্থায় নারী চরিত্রে পুরুষরাই অভিনয় করতেন। কিন্তু শীঘ্রই এ রীতির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং নারীশিল্পীরা অভিনয় শুরু করেন।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম 'বেঙ্গল থিয়েটার' নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- এবং বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। তিনি "The Disguise" এবং "Love is the best Doctor" নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় হিন্দু থিয়েটার নামক বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- এখান থেকেই মোটামুটি বাংলা নাটকের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৩৬৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. খ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. গ) আখ্যান মঞ্জুরী
  4. ঘ) অতি অল্প হইলো
সঠিক উত্তর:
ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি। বিদ্যাসাগর এই গ্রন্থের দশম সংস্করণ সর্বপ্রথম যতি বা বিরাম চিহ্নের সফল প্রয়োগ করেন। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৩৬৭.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদক -
  1. জশুয়া মার্শম্যান
  2. ডেভিড হেয়ার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

--------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬৮.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'- বিখ্যাত উপদেশটি কোন চিন্তাবিদের?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের - শিক্ষক নিযুক্ত হন।

- 'ইয়ংবেঙ্গল' ছিলো ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

- 'ইয়ং বেঙ্গলে' ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।
- ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৬৯.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মতিচূর
  2. অবরোধবাসিনী
  3. পদ্মরাগ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
পদ্মরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

অন্যদিকে,
নারী ও শিশু বিষয়ক প্রবন্ধ - মতিচূর, অবরোধবাসিনী।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৭০.
"আ মরি বাংলা ভাষা" গানের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আহমদ ছফা
  3. অতুলপ্রসাদ সেন 
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন 
ব্যাখ্যা

"আ মরি বাংলা ভাষা" গানের রচয়িতা হচ্ছে অতুলপ্রসাদ সেন। 

অতুলপ্রসাদ সেন
- অতুলপ্রসাদ সেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- পরিবারের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুলপ্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসেবে সঙ্গীত জগতে অনন্য স্থান দখল করেছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি: 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।'
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তাঁর লেখা গানের সংকলন: 'কয়েকটি গান' ও 'গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৭১.
কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাহেনও
  2. সওগাত
  3. কোহিনূর
  4. লহরী
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর
ব্যাখ্যা
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ মহাশ্মশান ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
প্রধান চরিত্রঃ
- এব্রাহিম কার্দি
- জোহরা বেগম
- হিরণ বালা
- আতা খাঁ
- লঙ্গ
- রত্নজি
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা
- আহমদ শাহ্ আব্দালী
উল্লেখ্য, 
বাংলাপিডিয়ায়  
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া। 



[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
৩,৩৭২.
জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।
- তিনি ২২শে অক্টোবর ১৯৫৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৭৩.
'বেণু ও বীণা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৭৪.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ কত অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক?
  1. ১ অঙ্ক
  2. ৩ অঙ্ক
  3. ৫ অঙ্ক
  4. ৬ অঙ্ক
সঠিক উত্তর:
৩ অঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ অঙ্ক
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৭৫.
কাজী নজরুল ইসলাম এর ‘লাঙল’ পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪১ সালে
  2. ১৯২৫ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা
'লাঙল' পত্রিকা:
- ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।
- এটি নজরুলের সম্পাদিত দ্বিতীয় পত্রিকা।
- প্রথমটি ছিল ধূমকেতু।
- ‘লাঙল’ ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ' পার্টির আনুষ্ঠানিক প্ৰকাশনা।

অন্যদিকে:
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- 'ধুমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৩,৩৭৬.
'আগুনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আল মাহমুদ
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

 • আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস - আগুনের মেয়ে।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৭৭.
বাউল সম্রাট লালন শাহকে নিয়ে লিখা উপন্যাস “মনের মানুষ” - এর রচয়িতা কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. গৌতম ঘোষ
  3. সমরেশ বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

মনের মানুষ - উপন্যাসটি লিখেছেন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- উপন্যাসটি বাউল সম্রাট লালন শাহ - এর জীবনী নিয়ে রচিত।
- উপন্যাসটি ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে ২০১০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন - গৌতম ঘোষ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস -
- আত্মপ্রকাশ
- পূর্ব-পশ্চিম
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- অরণ্যের দিনরাত্রি ইত্যাদি

তার ছদ্মনাম - সনাতন পাঠক/নীল লোহিত/নীল উপাধ্যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও মনের মানুষ উপন্যাস।

৩,৩৭৮.
বাংলা একাডেমির 'আধুনিক বাংলা অভিধানে'র সম্পাদক কে?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আবু ইসহাক
  3. মনসুর মুসা
  4. জামিল চৌধুরি
সঠিক উত্তর:
জামিল চৌধুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামিল চৌধুরি
ব্যাখ্যা

• 'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক: 'জামিল চৌধুরী'। 

অন্য অপশনের লেখকদের প্রণীত অভিধান:
• আমার অভিধান- আনিসুজ্জামান।
• 'বাংলা একাডেমি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- আবু ইসহাক।
• বাংলায় প্রচলিত ইংরেজী শব্দের অভিধান- মনসুর মুসা মনোয়ার ইলিয়াস।

বাংলা একাডেমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিধান: 
• 'বাংলা একাডেমি ঐতিহাসিক অভিধান' এর সম্পাদক- মনজুরুর রহমান। 
• 'বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক- আহমদ শরীফ।
• 'মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- মোহাম্মদ আবদুল কাইউম।
• বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষ' এর সম্পাদক- সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।

৩,৩৭৯.
'জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান। মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।' - কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) নারী
  2. খ) রাজা-প্রজা
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
ক) নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নারী
ব্যাখ্যা
- 'জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।' - কাজী নজরুল ইসলামের 'নারী' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- 'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত।

                   নারী কবিতা
             – কাজী নজরুল ইসলাম

স্বর্ণ-রৌপ্যভার,
নারীর অঙ্গ-পরশ লভিয়া হয়েছে অলঙ্কার।
নারীর বিরহে, নারীর মিলনে‌ নর পেল কবি-প্রাণ
যত কথা হইল কবিতা, শব্দ হইল গান।
নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুঢা,সুঢায় ক্ষুধায় মিলে’
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু তিলে তিলে।
জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে
কত নারী দিল সিঁথির সিদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপড়ি, কত বোন দিল সেবা
বীর স্মৃতি স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোন কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষী নারী।
রাজা করিতেছে রাজ্য শাসন, রাজারে শাসিছে রানী,
রানীর দরদে ধুইয়া গেছে রাজ্যের যত গ্লানি।
                                               (কবিতার শেষাংশ)


• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি বলা হয়।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮০.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. হুমায়ুন আহমেদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২),
- লেলিহান পান্ডুলিপি (১৯৭৫),
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ (১৯৮৩),
- সাজঘর (১৯৯০) ও
- শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৮৭)।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- মরক্কোর যাদুকর (১৯৫৯),
- মায়াবী প্রহর (১৯৬৩) ও
- ধন্যবাদ (১৯৫১),
- নিঃশব্দ যাত্রা (১৯৭২),
- নরকে লাল গোলাপ (১৯৭২) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮১.
সমর সেনের পিতামহ কে ছিলেন?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. গিরিশ্চন্দ্র সেন
  3. সুকুমার সেন
  4. অচিন্ত্যকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮২.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন-
  1. কবি ও ছান্দসিক
  2. কবি ও লোক সঙ্গীতকার
  3. কবি ও নাট্যকার
  4. কবি ও উপন্যাসিক
সঠিক উত্তর:
কবি ও ছান্দসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি ও ছান্দসিক
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮৩.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির কবি কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ - কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
------------------------
কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’
-------
---------
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷"।
 --------------------------- 
⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো : 
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভগলার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতা।
৩,৩৮৪.
"ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• "ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি:
- ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেছিলেন নির্মলেন্দু গুণ। সেই স্মৃতিকে লিপিবদ্ধ করেছেন "ভলগার তীরে" গ্রন্থটিতে।
- এতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বাস্তবচিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। লেনিন সম্পর্কে তার নিজস্ব অভিমত ও সোভিয়েত জনগণ সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যাবে।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেন-
যাঁর কল্যাণে আমার এই ভ্রমণ সম্ভব হয়েছে, তাঁকে নিয়েই প্রথম লিখলাম। 'ভলগার তীরে, যে জায়গাটায় লেনিনের জন্ম এবং তাঁর জীবনের প্রথম সতেরো বছর কেটেছে, সেই জায়গাটি নিয়েই আমার এই গ্রন্থ। মস্কো এবং লেনিনগ্রাড নিয়ে প্রচুর লেকা হয়েছে, কিন্তু উলিয়ানাভোস্ক সম্পর্কে জানার মতো বই আমাদের একটিও নেই। সেদিক থেকে বইটির অনন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লেনিনের জীবনের প্রথম অধ্যায়টি জানা থাকলে, মানব-ইতিহাসের এই অনন্য প্রতিভাবে হৃদয়ঙ্গম করাটা সহজ ও আনন্দদায়ক হবে বলেই মনে করি।

উৎস: "ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি।
৩,৩৮৫.
“ফেরারী সূর্য” উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

- “ফেরারী সূর্য” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা- রাবেয়া খাতুন। 
--------------
• “ফেরারী সূর্য” উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- রাবেয়া খাতুন রচিত “ফেরারী সূর্য” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যতম প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। এতে ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও সংগ্রামের চিত্র সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার জীবন, যুদ্ধের আতঙ্ক, অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম এই উপন্যাসে বাস্তবধর্মীভাবে ফুটে উঠেছে। “ফেরারী সূর্য” শুধু একটি যুদ্ধভিত্তিক কাহিনী নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানুষের জীবন, অনুভূতি ও ত্যাগের এক বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
----------------  
• রাবেয়া খাতুন:
রাবেয়া খাতুন ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার। 
সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ৫০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ৪০০টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। 
- এছাড়াও তিনি ‘একাত্তরের নয় মাসে’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
- তিনি ৩ জানুয়ারি ২০২১ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মধুমতী,
- সাহেব বাজার, 
- ফেরারী সূর্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- ঘাতক রাত্রি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- প্রথম বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- বাগানের নাম মালনিছড়া,
- হানিফের ঘোড়া, 
-  মন এক শ্বেত কপোতী,
- অনন্ত অন্বেষা,
- রাজাবাগ, 
- অনেক জনের একজন,
- জীবনের আর এক নাম দিবস রজনী,
- বায়ান্ন গলির এক গলি,
- এই বিরহকাল,
- প্রিয় গুলশানা।

উৎস:
কালি ও কলম; 
দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

৩,৩৮৬.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য কাকে 'রায়বাহাদুর' উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

অন্যদিকে, 
• কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কে "বাংলার মিল্টন" বলা হয়। তিনি মূলত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং জন মিল্টনের মত মহাকাব্যিক শৈলী অনুসরণের জন্য এই উপাধিতে ভূষিত হন। 
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপাধি ছিলো- স্বপ্নাতুর কবি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮৭.
“একটি কালো মেয়ের কথা” উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র- 
  1. ডেভিড আর্মস্ট্রং
  2. রাফায়েল
  3. নাজমা
  4. ববিতা 
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা

নাজমা উপন্যাসের মূল চরিত্র, যদিও আখ্যান ডেভিডের জবানবন্দির মাধ্যমে এসেছে। 
------------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।
--------------------------- 
“একটি কালো মেয়ের কথা” নিয়ে কিছু কথা: 
- “একটি কালো মেয়ের কথা” উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে লিখেছেন।
- উপন্যাসে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান যুবক ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর জবানবন্দির মাধ্যমে ২৫শে মার্চের ভয়াবহ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। 

- “একটি কালো মেয়ের কথা”-এর প্রধান চরিত্র নাজমা।
- নাজমা একজন নির্যাতিত, ভাগ্যবিড়ম্বিত কিন্তু দৃঢ়চেতা কালো মেয়ে।
- লেখক নাজমার চরিত্রের মধ্য দিয়ে ১৯৭১-এর অসহায় বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। 
- নাজমা ভিক্ষাজীবী হলেও তার চোখে জীবনের গভীর বোধ প্রতিফলিত হয়।
- গভীর জীবনবোধের প্রভাবে নাজমা হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের নীরব সাক্ষী ও প্রতীক।
- উপন্যাসটিতে  নাজমার করুণ প্রেমকাহিনী ও তুলে ধরা হয়েছিলো। 
- যুদ্ধ ও প্রেমের সংমিশ্রণে লেখা এই উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম দিকের বাংলা উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮৮.
“রমেশ” শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পল্লী সমাজ
  2. খ) বিরাজবউ
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
ক) পল্লী সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮) জন্মগ্রহণ করেন হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে।
• তাঁর বিখ্যাত ‘পল্লী সমাজ’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
- রমা,
- রমেশ,
- বেণী,
- বলরাম প্রমুখ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৩৮৯.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' - নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৯০.
“যুগলাঙ্গুরীয়” গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) প্যারিচাঁদ মিত্র
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মোশাররফ হোসেন
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- যুগলাঙ্গুরীয়
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুন্ডলা
- চন্দ্রশেখর
- মৃণালিনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- সীতারাম
- রজনী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৯১.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা-
  1. বিলাসী
  2. সেঁজুতি
  3. মহেশ
  4. সতী
সঠিক উত্তর:
সেঁজুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেঁজুতি
ব্যাখ্যা
• "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থ: 
- সেঁজুতি হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার অন্ত্যপর্বের অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এতে সর্বমোট ২২-টি কবিতা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থটি তাঁঁর বন্ধু ডাক্তার সার্ নীলরতন সরকারকে উৎসর্গ করেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছোটগল্প- 
- বিলাসী,
- মহেশ,
- সতী, 

উৎস: "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রণসঙ্গীতটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কালিকলম
  2. প্রগতি
  3. শিখা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ ও রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'। 

- সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৩.
বিখ্যাত ‘তিলোত্তমা’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. জহির রায়হান
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যজিৎ রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৪.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।
 
রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে 
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৩,৩৯৫.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিটি নিচের কোন সাহিত্যিকের?
  1. আবদুল করিম
  2. রামনারায়ণ
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল করিম এর উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
- রামনারায়ণ এর উপাধি তর্করত্ন।
- ভারতচন্দ্র এর উপাধি রায়গুণাকর।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর উপন্যাস হলো:
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৬.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রবন্ধ?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. উচ্ছ্বাস
  3. নব উদ্দীপনা
  4. তুর্কি নারী জীবন
সঠিক উত্তর:
তুর্কি নারী জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি নারী জীবন
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯৭.
মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৩৯৮.
'সুচরিতা এবং কৃষ্ণদয়াল' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. গোরা
  2. নৌকাডুবি
  3. ঘরে-বাইরে
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯৯.
‘আত্মঘাতী বাঙালি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অশোক মিত্র
  2. খ) অতুল সুর
  3. গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 
- আহমদ শরীফ রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ - বিচিত চিন্তা (১৯৮৬), স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০), বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি।
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- 'বাঙালির বাংলা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৪০০.
মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র নিয়ে রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রশীদ হায়দার
  2. আনিসুল হক
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল।
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।