বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ২৭ / ১৭৪ · ২,৬০১২,৭০০ / ১৭,৪৩৭

২,৬০১.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা 
  2. জীবন আমার বোন 
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস "কাবিলের বোন"। পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস।

- এই উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।

- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন, নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।

- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।

• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০২.
আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চাচা-কাহিনী
  2. খ) টুনি মেম
  3. গ) ওটেন সাহেবের বাংলো
  4. ঘ) ডানপিটে শওকত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডানপিটে শওকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডানপিটে শওকত
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি:
- চাচা-কাহিনী (১৯৫২)
- টুনি মেম (১৯৬৪)
• শওকত ওসমানের শিশুতোষ গ্রন্থ - ওটেন সাহেবের বাংলো, তারা দুইজন, ক্ষুদে সোশালিস্ট ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০৩.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. হেলাল হাফিজ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন - বদরুদ্দীন উমর

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬০৪.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. আহমদ ছফা
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
------------- 
• 'বেনের মেয়ে' উপন্যাস: 
- 'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 
-------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন 
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. একুশের গল্প
  4. আর্তনাদ
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- 'একুশে ফেব্রুয়ারী' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন। 
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

অন্যদিকে, 
• বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
• জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬০৬.
'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?' -এ বিখ্যাত কথাটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরীর
  2. কাজী নজরুল ইসলামের
  3. বুদ্ধদেব বসুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- উপন্যাসের চরিত্র: 
গুরুত্বপূর্ণ উক্তি: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি। 
• পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? (বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ)
• তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০৭.
'রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?' বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) নতুন লেখা
  2. খ) মুহূর্তের কবিতা
  3. গ) সাত সাগরের মাঝি
  4. ঘ) নৌফেল ও হাতেম
সঠিক উত্তর:
গ) সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬০৮.
কোন সাহিত্যিক দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ(১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। 
১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- পরে দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন
- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭)।
- পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে রচিত তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০।
- সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো:
- অভিমন্যুবধ (১৮৮১),
- সীতার বনবাস (১৮৮১),
- সীতাহরণ (১৮৮২),
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২),
- প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪),
- আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪),
- সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫),
- মীরকাশিম (১৯০৬),
- ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭),
- শঙ্করাচার্য (১৯১০),
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি।

প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬০৯.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকাটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬১০.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কঙ্কাবতী
  2. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  3. মর্মবাণী
  4. পরিক্রমা
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস - পরিক্রমা

বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
-  রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা, 
- কঙ্কাবতী, 
- যে আধাঁর আলোর অধিক, 
- মরচেপড়া পেরেকের গান, 
- একদিন চিরদিন, 
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ, 
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬১১.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. রামমোহন রায়
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।

রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৬১২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সনেট সংকলন কোনটি?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬১৩.
'পথ জানা নাই' গল্পের রচয়িতা কে? 
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আবু ইসহাক
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. শামসুর রাহমান 
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

'পথ জানা নাই' গল্পের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। 
----------------------------------------------
• শামসুদ্দিন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
শামসুদ্দীন আবুল কালাম একজন ব্যতিক্রমী ধারার লেখক।
- সাধারণ মানুষের সরল জীবনের প্রতিচ্ছবি অঙ্কনে তিনি দক্ষ রূপকার। 
- ১৯২৩ সালে তিনি দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান এবং মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো: 

• 'পথ জানা নাই' গল্পগ্রন্থের গল্পসমূহ:
- পথ জানা নাই,
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।
------------------------------------------------- 
 ‘পথ জানা নেই’ গল্পের মূলভাব:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নেই’ গল্পে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন ফুটে উঠেছে।
- গল্পে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়;
- ফলে পরিবার ও সমাজে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়।
- প্রিয়জনের বিচ্ছিন্নতা ও হতাশার মাধ্যমে গল্পে যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নাই’ গল্পে মূল চরিত্ররা হলেন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষ—কৃষক ও দরিদ্র পরিবার। 
- এই সাধারণ মানুষের সমষ্টিগত জীবনের দুঃখ, বিচ্ছিন্নতা ও দিশাহীনতার প্রতিচ্ছবিই গল্পে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,৬১৪.
'তন্বী' কাব্যটি কার রচনা?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থগুলি: 
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০),
- দশমী (১৯৫৬)

উৎস - বাংলাপিডিয়া।

২,৬১৫.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় 'সুদর্শন' কোথায় উড়ে?
  1. নদীর তীরে
  2. সন্ধ্যার বাতাসে
  3. শিমুলের ডালে
  4. সবুজ মাঠে
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যার বাতাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যার বাতাসে
ব্যাখ্যা
• 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি- 'হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে। 

• ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

উৎস: আবার আসিব ফিরে, জীবনানন্দ দাশ।
২,৬১৬.
সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজর্ষি
  2. চার অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।

- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত। 
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে, 
• 'রাজর্ষি' উপনাসের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস এটি। 

• 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এটি সাধুভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস। উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

• 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬১৭.
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র':
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।

- ইব্রাহীম খাঁ ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন। সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি। তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। মূলত এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকেই অবলম্বন করে 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি রচিত। 

- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গিয়েছিলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন। এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।

- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ- ইবরাহীম খাঁ'কে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেন-
ইস্তাম্বুল যাত্রীর অনেকগুলি পত্র আজাদে প্রকাশিত হয়। তখন পাঠক সমাজের অনেকে একে বইয়ের আকারে ছাপাতে পরামর্শ দেন। তাঁদের এই পরামর্শকে কাজে পরিণত করার ব্যাপারে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস যে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য তাঁদেরে ধন্যবাদ। আর যে সহৃদয় পাঠক বন্ধুদের আগ্রহে আমি এই ছাপান কাজে প্রবৃত্ত হই, আজ তাঁদেরেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি।
২,৬১৮.
”সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/যদি নাও, দিতে পারি কাবিন বিহীন হাত দুটি’”-অমর পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. শাসসুর রহমান
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• ”সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/যদি নাও, দিতে পারি কাবিন বিহীন হাত দুটি’”-অমর পঙ্‌ক্তিটির লেখক আল মাহমুদ।
- পঙ্‌ক্তিটি সোনালি কাবিন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬১৯.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মা
  2. খ) পড়শ্রী খণ্ড
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) অলীক মানুষ
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬২০.
সাহিত্য সম্রাট হিসাবে কাকে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬২১.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. জামিলা
  2. তাহেরা
  3. জয়গুন
  4. জোহরা
সঠিক উত্তর:
জয়গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়গুন
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
→ হাসু,
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→  ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
→ মোরল গদু ইত্যাদি। 
-------------------------- 
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাকের  প্রাপ্ত পদক:
→ ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩),
→ ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১),
→ ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),
→ ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭),
→ ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং
→  ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২২.
‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আনোয়ার পাশা
  3. রশীদ করীম
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাস:
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
- উপন্যাসে এরফান চরিত্রের প্রেক্ষণবিন্দু দিয়ে পাকিস্তান কায়েম থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন এবং সত্তরের নির্বাচন-উত্তরকালে ভূমিধস বিজয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনীহা, আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ এবং ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণের চিত্র শহর ও গ্রাম জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

রশীদ করীম:
- রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’।
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।

রশীদ করীম রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রষন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ ইত্যাদি।

প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৩.
'তুরস্ক-ভ্রমণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• ‘তুরস্ক ভ্রমণ’ গ্রন্থ পরিচিতি
‘তুরস্ক ভ্রমণ’ গ্রন্থটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। তিনি ১৯১০ সালে বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এটি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে একটি, যা তৎকালীন তুরস্কের সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী :
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬২৪.
'মুহূর্তের কবিতা' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
-১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৫.
‘বাঙালী ও মুসলমান ছাত্রদের ফুটবল ম্যাচ’ - এর বর্ণনা দিয়ে সূচিত হয় কোন গ্রন্থ?
  1. ক) ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড
  2. খ) ‘শ্রীকান্ত’ দ্বিতীয় খণ্ড
  3. গ) ‘শ্রীকান্ত’ তৃতীয় খণ্ড
  4. ঘ) ‘শ্রীকান্ত’ চতুর্থ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
ক) ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড
ব্যাখ্যা
‘বাঙালী ও মুসলমান ছাত্রদের ফুটবল ম্যাচ’ - এর বর্ণনা দিয়ে সূচিত হয় - ‘’শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ডে।

‘শ্রীকান্ত’ শরৎচন্দ্রের আত্নজৈবনিক উপন্যাস।

• শরৎচন্দ্র বাস্তবঘনিষ্ঠ লেখক। বাস্তবতার হুবহু অনুকৃতি তাঁর লেখার প্রাণ। বাস্তবতা উল্লেখের কষাঘাত থেকে হিন্দু কুলীনদেরও তিনি মুক্তি দেন নি।

• ‘শ্রীকান্ত' প্রথম পর্বের প্রথম দিককার এই গল্প ভাগলপুরের পটভূমিকায়। তৎকালীন ভাগলপুরের মুসলিমরা প্রকৃতই বাঙালি ছিল না, অধিকাংশই উর্দুভাষী, কিছু কিছু ছিল ভোজপুরী। আর অধিকাংশ হিন্দু ছিল বাঙালি হিন্দু।

ফলে শরৎচন্দ্রের বর্ণনায় এই সামাজিক সত্যটির ছায়াপাত অসম্ভব নয়, অস্বাভাবিক নয়।
(সূত্র: কথাসাহিত্যে বাস্তবতা : শরৎচন্দ্র ও প্রেমচন্দ, ১৯৯৭,বাংলা একাডেমি, ঢাকা, পৃ. ১২৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,৬২৬.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লহরী
  2. মিহির
  3. হিতকরী
  4. বাসনা
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'মিহির ও সুধাকর' পত্রিকা:
১৮৯২ সালের ২৭ জানুয়ারি শেখ আবদুর রহিম মিহির নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালু করেন, যা অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো। ১৮৯৫ সালে মিহির এবং সুধাকর একীভূত হয়ে মিহির ও সুধাকর নাম ধারণ করে। প্রথমে কলকাতার ২৫, রায়বাগান স্ট্রিট থেকে এটি প্রাশিত হতো। পরবর্তীতে তা ৪২, মেটকাফ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়।

• 'লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।' - পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

• 'বাসনা' পত্রিকা:
- বাসনা' নামে সাহিত্য মাসিকটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ সালে। শেখ ফজলল করিম ছিলেন এর সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রায় দুই বৎসর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিমুদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নুরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ণ দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ।
- ধর্ম ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হতো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসলেখকগণ নিজ নিজ সমাজ ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।
- 'হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণির লেখকই তাঁদের স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬২৭.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র কী ছিল?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. গল্প
  4. ছড়া
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. সঙ্গীতশতক
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্নদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬২৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি ?
  1. পণ্ডিত মশাই
  2. দেনা পাওনা
  3. শেষের কবিতা 
  4. শেষ প্রশ্ন
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা 
ব্যাখ্যা

শেষের কবিতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় হচ্ছে পল্লীর জীবন ও সমাজ।
- ব্যক্তি জীবনের মন ও চেতনার ওপর সমাজ ও সংস্কারের প্রভাব তিনি গভীরভাবে তুলে ধরেছেন।
- ব্যক্তির ইচ্ছা ও মুক্তি প্রায়শই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তাঁকে রক্ষণশীল বলা হয়।
- নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তাদের বঞ্চিত জীবনের চিত্রায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীর প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা অতুলনীয়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে আঁকা তাঁর ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- মৃত্যু: ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি, কলকাতা।

রচিত উপন্যাসসমূহ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- পল্লী সমাজ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বিপ্রদাস, ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,৬৩০.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ‘ইউরোপের চিঠি’ একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) পত্রসংকলন
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২): ভারতের উড়িষ্যা জেলায় তাঁর জন্ম। তিনি একজন স্বনামধন্য বাঙ্গালি কবি, লেখক এবং বিশিষ্ট ছড়াকারও। তিনি ‘লীলাময় রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য-
উপন্যাসঃ অসমাপিকা(১৯৩০, প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী প্রভৃতি।
ভ্রমণকাহিনীঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১), ইউরোপের চিঠি (১৯৪২) ইত্যাদি।
প্রবন্ধগ্রন্থঃ তারুণ্য, জীবনশিল্পী, ইশারা, বিনুর বই, জীয়ন কাটি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
কবিতাঃ রাখী, কালের শাসন, কামনা পঞ্চবিংশতি ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ প্রকৃতির পরিহাস, মন পবন, যৌবন জ্বালা, কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
২,৬৩১.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  4. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ ‘বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ ও ‘সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩২.
বাংলা সাহিত্যে পত্রাকারে প্রকাশিত প্রথম কাব্য কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৩৩.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' নামক রম্য রচনাটির রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্দীন
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সমর সেন 
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

শামসুজ্জামান খান- 'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' নামক রম্য রচনাটির রচয়িতা। 
--------------------------------------------------- 
• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও ফোকলোরবিদ।
- তিনি মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
- এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
- ২০১৮ সালে শামসুজ্জামান খান 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার' অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
-
শামসুজ্জামান খান ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান:
- তিনি ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহশালা সম্পাদনা করেছেন।
-  এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা সম্পাদনা করেছেন।
- এর মাধ্যমে তিনি দেশের লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গীত,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- মুক্তিবুদ্ধি,
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল,
- আধুনিক ফোকলোর চিন্তা,
- ফোকলোর চর্চা। 

• রম্য রচনাসমূহ: 
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা

• শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ,
- লোভী ব্রাহ্মণ ও তেনালী রাম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালের কন্ঠ পত্রিকা।

২,৬৩৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ-
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. জাগ্রত বাংলাদেশ
  4. ফেরারী ডায়েরী
সঠিক উত্তর:
জাগ্রত বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।
• এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
• সূর্য তুমি সাথী তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ওঙ্কার,
- গাভী বিত্তান্ত,
- মরণবিলাস,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬৩৫.
'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আহসান হাবীব
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা : 'শামসুর রাহমান'। 
 
শামসুর রাহমান:
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
---------------------
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি। 
------------------ 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- অবিরল জলাভূমি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়
- অদ্ভুত আঁধার এক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৬.
কলকাতার হিন্দু কলেজের শিক্ষক ছিলেন-
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও মাত্র সতের বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তার পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তার ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতা মুক্ত। তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'। ডিরোজিও'র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৬৩৭.
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

-----------------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাংগী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- তারা দুই জন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৮.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) ছয়দফা আন্দোলনের সময়কাল
  2. খ) ৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী সময়কাল
  3. গ) স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান
  4. ঘ) পূর্ব বাংলার সামরিক অভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ:
- ২৩টি কবিতার সমাহারে শামসুর রহমানের এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতা গুলোতে আছে কবির স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ের দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা এবং পাশ্চাত্য পুরাণের পাশাপাশি তাঁর স্বদেশি পুরাণের  মাধ্যমে ব্যক্তিমহিমা সন্ধানের প্রয়াস।
- ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগনের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।

আধুনিক কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগন্থ: 
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নিলীমা
- নিরালোকে দিব্যরথ
- নিজ বাসভূমে
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ।
২,৬৩৯.
'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. নজিবর রহমান
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন। তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪০.
“লালসালু” উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৬৪১.
আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ছিলেন একজন-
  1. ক) কথা সাহিত্যিক
  2. খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
  3. গ) লোকগীতি সংগ্রাহক
  4. ঘ) সাংবাদিক
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
তাঁর অমর কীর্তি Linguistic Survey of India। এটি ভারতের ভাষা-জাত-কুল সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করেছে, তেমনি ভারতের আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সূতিকাগার হিসেবেও কাজ করেছে। তাঁর এ অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪২.
‘কীর্তিবিলাস’ - কোন ধরনের নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা?
  1. বিয়োগান্তক
  2. হাস্যরসাত্মক
  3. ঐতিহাসিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৬৪৩.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি "এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে" কীভাবে আসতে চান?
  1. পাখির বেশে
  2. সুদর্শন হয়ে
  3. ভোরের কাক হয়ে
  4. রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে
সঠিক উত্তর:
ভোরের কাক হয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোরের কাক হয়ে
ব্যাখ্যা

• 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি ভোরের কাক হয়ে "এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে" আসতে চান।

• ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

উৎস: আবার আসিব ফিরে, জীবনানন্দ দাশ।

২,৬৪৪.
কখনো উপন্যাস লেখেননি-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কোনো উপন্যাস গ্রন্থ নেই।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্য:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

গদ্যগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসসমূহ:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪৫.
'আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. আলাউদ্দিন খাঁ
  3. লালন শাহ
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা
লালন শাহ:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক ছিলেন।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ-নিবন্ধে।

লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গান:
• খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।।

• আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।

• জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৬৪৬.
বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
• প্রহসন: 
- প্রহসন  হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা।
- এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়।
- পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত।
- বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

• বিশেষ তথ্য: 
- রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত প্রহসনের আদর্শে বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪)।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৬৪৭.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যে ব্যবহৃত শঙ্খমালা হলো -
  1. ক) রূপকথার চরিত্র
  2. খ) রোমান্টিক কবিকল্পনা
  3. গ) পূর্বপরিচিতা নারী
  4. ঘ) কবির জীবনদেবতা
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান্টিক কবিকল্পনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান্টিক কবিকল্পনা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

শঙ্খমালা- কবিতা
----------- জীবনানন্দ দাশ

কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই: বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি— কুয়াশার পাখ্‌নায়—
সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে-আলোক
জোনাকির দেহ হ‌তে— খুঁজেছি তোমাকে সেইখানে—
ধূসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে
ধানসিড়ি বেয়ে-বেয়ে
সোনার সিঁড়ির মতো ধানে আর ধানে
তোমারে খুঁজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে।
দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ পাখির রঙে ভরা:
সন্ধ্যার আঁধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখি দেয় ধরা—
বাঁকা চাঁদ থাকে যার মাথার উপর,
শিং-এর মতন বাঁকা নীল চাঁদ শোনে যার স্বর।

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।

চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।
------------------------
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে'। 
- এ কবিতায় শঙখমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙখমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৮.
আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক কোনটি?
  1. জাল
  2. জয়ধ্বনি
  3. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
জয়ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক 'জয়ধ্বনি'।
- এটি ধানশালিকের দেশ পত্রিকায় ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।
-----------------------------

আবু ইসহাক:

- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।
 
• নাটক:
- জয়ধ্বনি। 

• স্মৃতিচারণমূলক রচনা:
- স্মৃতিবিচিত্রা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪৯.
"আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু" - এই বাণীটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. কল্লোল
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. মাসিক সওগাত
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের একটি বিপ্লবী উদ্যম হলো ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫০.
' রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' গ্রন্থটির রচয়িতা আনোয়ার পাশা ।

আনোয়ার পাশা(১৯২৮-১৯৭১):
 বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক আনোয়ার পাশার জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে। 
- আনোয়ার পাশা ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। 
- তাঁর দু দশকের সাহিত্যজীবনে প্রকাশিত হয় মোট দশটি গ্রন্থ ও পনেরোটি প্রবন্ধ।
- তার মধ্যে আছে দুটি কাব্যসংকলন, একটি গল্পসংকলন, তিনটি  উপন্যাস ও দুটি সমালোচনা গ্রন্থ। 

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
- নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩),
- রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা (২ খন্ড ১৯৬৩, ১৯৭৩), নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল (১৯৬৮),
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০),
- রাইফেল-রোটি-আওরাত (১৯৭৩),
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪) ইত্যাদি।

- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫১.
'সেতুবন্ধ' নাটকটি কাজী নজরুলের কোন নাট্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঝিলিমিলি
  2. আলেয়া
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থ:
- তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ ঝিলিমিলি।
- এটি ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রাহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত:
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

অন্যদিকে,
- ‘শিউলিমালা’ নজরুলের গল্পগ্রন্থ।
- ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল প্রকাশিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- 'আলেয়া' কাজী নজরুল ইসলামের নাটক যা 'ঝিলিমিলি নাট্যগ্রন্থ' এর অন্তর্ভুক্ত নাটক নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৫২.
'কথোপকথন' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।
- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৬৫৩.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহাম্মদ এনামুল হক
  2. আহমদ শরীফ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।
------------- 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৫৪.
একখানি ছোটো____, আমি একেলা, চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
  1. ক) নদী
  2. খ) মাঠ
  3. গ) তরী
  4. ঘ) খেত
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেত
ব্যাখ্যা
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতার।

• সোনার তরী:

- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

'সোনার তরী' কবিতাটি নিম্নরূপ- 
সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
  (সংক্ষিপ্ত)।  

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৫৫.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. কঙ্কাবতী
  2. পরিক্রমা
  3. সানন্দা
  4. তিথিডোর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৫৬.
’ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’- পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. নির্মলেন্দু গুন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
•’ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’ পঙ্‌ক্তিটি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ’সবুজের অভিযান’ কবিতার অংশ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৭.
'জলসাঘর' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ 'জলসাঘর' গল্পগ্রন্থ:
- 'জলসাঘর' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ১১টি গল্পের সংকলন।
- প্রত্যেকটি গল্পের পটভূমি গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষ্যয়ের শোচনীয় রূপ।
- জমিদারতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও অবসানের রূপ এই গল্পগুলিতে লক্ষ্য করা যায়। 

--------------------
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৮.
'নেমেসিস' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে , 
- শতকরা আশি , 
- রূপলেখা , 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. শ্রীকান্ত
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; চোখের বালি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২,৬৬০.
'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

উৎস: সুখ কবিতা- কামিনী রায়।

২,৬৬১.
'জীবন ঘষে আগুন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬২.
বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক কে? 
  1. ক) নিধুবাবু
  2. খ) গোঁজলা গুঁই
  3. গ) অতুল প্রসাদ সেন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
গ) অতুল প্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুল প্রসাদ সেন।
-  ঠুমরি একপ্রকার রাগসঙ্গিত ,যার সুর অতি মিষ্টি। সুরের মিষ্টতার কারনেই এর এই নামকরন। 
- অতুপ্রসাদ বাংলায় ঠুমরি গানের প্রবর্তক এবং সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীতভুবনে তিনি প্রসিদ্ধতা লাভ করেন। 
- মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা - তার   অতি বিখ্যাত সৃষ্টি। 
- স্বদেশি, ভক্তিগীতি এবং প্রেমে গানে বিভক্ত প্রায় ২০০টি গান তিনি রচনা করেছেন। 
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত তার গানের সংকলন।

অন্যদিকে প্রশ্নে উল্লেখিত অপশন গুলোর মধ্যে - 

- নিধুবাবু হচ্ছেন বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক।
- গোঁহলা গুঁই কবিগানের প্রাচীনতম কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - আধুনিক বাংলা গানের জনক। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬৩.
'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
 
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী ইত্যাদি। 
 
তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 
 
তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬৪.
'পরিণাম' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'পরিণাম' উপন্যাসের রচয়িতা - মোহাম্মদ নজিবর রহমান
- এটি ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে 'আনোয়ারা'। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে,
- মেহেরউন্নিসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬৫.
কত বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম লেটোর দলে যোগদান করেন?
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৯ বছর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ১২ বছর বয়সে 'লেটোর দলে' যোগদান করেন এবং দলে 'পালা গান' রচনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।

- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬৬.
জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে কিসের দেশ বলেছেন?
  1. ক) নবান্নের
  2. খ) শালিক ও শঙ্খছিলের
  3. গ) কাকের
  4. ঘ) কার্তিকের
সঠিক উত্তর:
ক) নবান্নের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নবান্নের
ব্যাখ্যা
আবার আসিব ফিরে
--- জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। 

- জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে নবান্নের দেশ বলেছেন। 


• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৭.
প্রমথ চৌধুরীর জীবনকাল -
  1. ১৮৬১ - ১৯৪১
  2. ১৮৬৩ - ১৯৪৩
  3. ১৮৬৬ - ১৯৪৪
  4. ১৮৬৮ - ১৯৪৬
সঠিক উত্তর:
১৮৬৮ - ১৯৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৮ - ১৯৪৬
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরীর জীবনকাল: ১৮৬৮ - ১৯৪৬

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা 'বীরবলের হালখাতা' (ভারতী পত্রিকায় প্রকাশ: ১৯০২)।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৮.
বাংলা একাডেমীর 'আঞ্চলিক অভিধান' সম্পাদনা কে করেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী 'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

---------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬৯.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের কাহিনির নাম কী?
  1. পলাশী থেকে একাত্তর
  2. পলাশী থেকে ধানমন্ডি
  3. পলাশী থেকে বাংলাদেশ
  4. পলাশী থেকে মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে ধানমন্ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে ধানমন্ডি
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের কাহিনির নাম - পলাশী থেকে ধানমন্ডি
- এটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭০.
'রাজা যায় রাজা আসে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক 
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

• 'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
-'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।

- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ

• আবুল হাসান:
- আবুল হাসান (১৯৪৭–১৯৭৫) ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- অল্প বয়সেই তিনি একজন সৃজনশীল কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো, 
- পৃথক পালঙ্ক। 

∗ মৃত্যুর পর তাঁর কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন এবং গল্পসংকলন- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ প্রকাশিত হয়।
------------------------
অন্যদিকে,
∗ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪–২০০১) ছিলেন একজন খ্যাতনামা কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর সর্বাধিক পরিচিত কাব্যগ্রন্থ হলো “আমি কিংবদন্তির কথা বলছি”।
- এছাড়াও তিনি “সাত নরীর হার”, “কখনো রং কখনো সুর”, “কমলের চোখ” এবং “বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা”—এমন একাধিক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

∗ সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯–১৯৭৫) ছিলেন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- কর্মজীবনে তিনি নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত–সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন।
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যের মধ্যে রয়েছে: “সিরাজ-উদ-দৌলা” এবং “মহাকবি আলাউল”।

∗ আবু ইসহাক ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক।
- তিনি সমাজবাস্তবধর্মী উপন্যাস ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ এবং গোয়েন্দাধর্মী উপন্যাস ‘জাল’–সহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য রচনা সৃষ্টি করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,৬৭১.
'মধুমালতী' নামক প্রণয়কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ হামজা
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সাবিরিদ খান
  4. ঘ) শাহ মুহাম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
'মধুমালতী' নামক প্রণয়কাব্যের রচয়িতা সৈয়দ হামজা। 
- পুথি সাহিত্যের ধারায় ফকির গরীবুল্লাহর অনুসারী হিসেবে সৈয়দ হামজার আবির্ভাব। 
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ভুরশুট পরগনার উদনা গ্রামে সৈয়দ হামজার পৈতৃক নিবাস ছিল।
- অল্প বয়সে সৈয়দ হামজার কবি-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে।
- তিনি  পাঁচালী ও হেঁয়ালি জাতীয় ছড়া রচনার মাধ্যমে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য মধুমালতী (১৭৮৮) সামান্য আঞ্চলিকতা ছাড়া শুদ্ধ সাহিত্যিক বাংলায় রচিত।
- হিন্দিতে কুতবন ও মনঝন এবং বাংলায় মুহম্মদ কবির পূর্বেই রোম্যান্সধর্মী এ কাব্য রচনা করেন।
- এর কাহিনি অলৌকিকতায় পূর্ণ হলেও মানুষের ধর্ম, সমাজ, নীতি, আচার, সংস্কার ইত্যাদি উপেক্ষিত হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭২.
'আমি সৈনিক' প্রবন্ধের রচয়িতা -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'আমি সৈনিক' প্রবন্ধের রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম। 
--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বই, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৩.
নিচের কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. কল্লোল
  2. ক্রান্তি
  3. কবিতা
  4. পরিচয়
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: 

- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- দশমী,  

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে: 
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৪.
'পাহাড়তলী' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন-
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. সেলিম আলদীন
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে ভুল আছে। পাহাড়তলী গ্রামে উল্লিখিত চারজনের কেউই জন্মগ্রহণ করেননি।
[তবে, শামসুর রাহমানের পৈত্রিক নিবাসের সঙ্গে পাহাড়তলী নামের মিল আছে। সে অনুসারে সর্বধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ উত্তর নেয়া হলো।]

--------------------------
• শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭৫.
’অমরাবতী’ কাব্যগ্রন্থ কে লিখেছেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আল মাহমুদ
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ’অমরাবতী’ কাব্যগ্রন্থ কে লিখেছেন- অমিয় চক্রবর্তী।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের:
- খসড়া,
- এক মুঠো ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার ,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই ,
- সাম্প্রতিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭৬.
হুমায়ুন আজাদ হুমায়ুন আহমেদ কে উৎসর্গ করে কোন গ্রন্থটি?
  1. ক) অলৌকিক ইস্টিমার
  2. খ) জ্বলো চিতাবাঘ
  3. গ) কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  4. ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
ব্যাখ্যা
'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' - হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত এবং হুমায়ুন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলনকে উৎসর্গ করেন।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- অলৌকিক ইস্টিমার;
- জ্বলো চিতাবাঘ;
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল;
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু; 
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৬৭৭.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" গ্রন্থের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. গ্রামীণ জীবনে দুঃখ দুর্দশা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাটক। বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, 
- নুরুলদীনের সারাজীবন, 
- এখানে এখন, 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান, 
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি। 

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৭৮.
"সিরাজদ্দৌলা" নাটক রচনা করেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

সিরাজদ্দৌলা:
- 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত।
- নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বদেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রে স্বাধীন বাংলার শেষ নবাবের চরিত্রকে ইংরেজ ঐতিহাসিকদের কুৎসা-কণ্টকিত বর্ণনার বিপরীতে নতুন দেশভক্তরূপে আবিষ্কার করেন।
- নাটকে সেই নতুন রূপ সঠিকভাবে চিত্রিত হয়েছে।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক:
- আগমনী,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৭৯.
'আদিগন্ত' - উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. শহীদ কাদরী 
  2. সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েন উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত, 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৮০.
মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. রত্নবতী
  3. রাজাবলি
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ- রত্নবতী।

-------------------------
• রত্নবতী: 

- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচয়িতার মর্যাদা লাভ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ - রত্নবতী।
- গ্রন্থটির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে “ধন বড় না বিদ্যা বড়” - এ বিতর্কের সমাধানই “রত্নবতী” গদ্যগ্রন্থের মূল বিষয় বস্তু।
- ২ রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ সালে, কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- লেখক গ্রন্থটিকে কৌতুকাবহ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মাঝে রয়েছে - বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বিষাদ সিন্ধু, গাজী মিয়াঁর বস্তানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘রাজাবলি’ ও ‘হিতোপদেশ’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮১.
সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'কাব্য সুধাকর' উপাধি প্রদান করা হয় কাকে?
  1. মীর মশররফ হোসেন
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল। তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম।

অন্যদিকে, 
• কায়কোবাদ বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
• কবি ও গদ্যশিল্পী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮২.
'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা:
- কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- যে চেতনা ও সাহিত্যবোধ থেকে 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়েছিল, 'কালিকলম'ও একই বোধ সম্পন্ন পত্রিকা ছিল। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু হতে পারে নি। 'কল্লোল' ও 'কালিকলমে'র লেখককুল ছিল মূলত একই।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮৩.
চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  3. গ) জহিরুল্লাহ মোহাম্মদ
  4. ঘ) জহিরুল্লাহ মোহাম্মদ আবু সাদ
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। 
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- অল্প বয়সেই জহির রায়হান কম্যুনিস্ট রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন।
- তখন কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল।
- তিনি কুরিয়ারের দায়িত্ব পালন করতেন অর্থাৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চিঠি ও সংবাদ পৌঁছে দিতেন।
- গোপন পার্টিতে তাঁর নাম রাখা হয় ‘রায়হান’।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জহির রায়হান নামে পরিচিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮৪.
'একদিন মরতেই হবে, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যদি মরতে পারি, সে মরাতেও শান্তি আছে।'- কোন রচনার উদ্ধৃতি?
  1. অপরিচিতা
  2. আমার পথ
  3. বায়ান্নর দিনগুলো
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
ব্যাখ্যা
• 'একদিন মরতেই হবে, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যদি মরতে পারি, সে মরাতেও শান্তি আছে।'- 
 উক্তিটির রচয়িতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- উল্লিখিত উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত "বায়ান্নর দিনগুলো" থেকে নেওয়া।
--------------------
• বায়ান্নর দিনগুলো:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে অতিবাহিত দিনগুলোর স্মৃতিবিজড়িত সংকলন। 
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকার সময় তা লেখা বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য,
- বায়ান্নর দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধু ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং ঢাকার রাজপথে জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কথা বর্ণনা করেছেন।
- এই স্মৃতিচারণে ব্যক্ত হয়েছে তাঁর অনশনকালে জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আচরণ, নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর নানা কৌশল ইত্যাদি।
- এতে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ছাত্রজনতার মিছিলে পুলিশের গুলিচালনার খবর।
- 'আমরা অনশন ভাঙব না’-এটি বায়ান্নর দিনগুলো থেকে উদ্ধৃত।
- এ সময় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
-------------------- 
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে। বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
২,৬৮৫.
'উজানে মৃত্যু' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৬.
"ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।"
- কার রচনা?
  1. সমর সেন
  2. মুকুন্দদাস
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা

চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৯৩৪):
- জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বানারি গ্রামে।
- ১৯০২ - ১৯০৩ মধ্যে তাঁর রচিত শতাধিক গান “সাধন সংগীত” নামে প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যগ্রন্থের গানে তিনি “মুকুন্দ” ভণিতা দিয়েছিলেন।
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন। সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

২,৬৮৭.
‘রিজিয়া’ অসম্পূর্ণ নাটকটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. সেলিম আল দীন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সুলতানা রিজিয়ার বীরত্বপূর্ণ কাহিনি নিয়ে ইংরেজি অসম্পূর্ণ নাটক হচ্ছে ‘রিজিয়া’।

------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮৮.
'ইতিহাসমালা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. রামরাম বসু
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্সী
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৮৯.
‘কালো বরফ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শহীদুল জহির
  2. জহির রায়হান
  3. মাহমুদুল হক
  4. জাকির তালুকদার
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান লেখক মাহমুদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান।
- কালো বরফ তার বিখ্যাত উপন্যাস।
- জীবন আমার বোন উপন্যাসটিও বেশ আলোচিত।
অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- পাতালপুরী
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ
উৎস : বাংলাপিডিয়া ও জনকন্ঠ রিপোর্ট।

২,৬৯০.
'নানাকথা' প্রবন্ধটির রচয়িতা -
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- 'নানাকথা' প্রবন্ধটির রচয়িতা - প্রমথ চৌধুরী

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে  জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

• সনেট পঞ্চাশৎ ও পদচারণ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯১.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) আগুনের মেয়ে
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
  4. ঘ) লোক লোকান্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
ব্যাখ্যা
- আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ হচ্ছে 'সৌরভের কাছে পরাজিত'

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত।
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
- গন্ধবণিক।
- ময়ূরীর মুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী।
- উপমহাদেশ।
- আগুনের মেয়ে।
- কাবুলের বোন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯২.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের বিষয়বস্তু -
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. বিধবার প্রেম
  3. পানিপথের যুদ্ধ
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বদেশী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয় কোনটি 
  1. অচলায়তন
  2. মালঞ্চ
  3. কালের যাত্রা
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'মালঞ্চ' উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস। 
-  মৃত্যুপথযাত্রী নারী নীরজা ও তাঁর স্বামী আদিত্যকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের কাহিনি রচিত।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- নীরজা, আদিত্য, সরলা এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। 

অন্যদিকে, 
---------------------
• অচলায়তন:

'অচলায়তন' একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন। এর অর্থ হলো প্রগতিবর্জিত এবং গোঁড়ামিপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠান বা সমাজ। এই নাটকে প্রচলিত সংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তার জয়গান গাওয়া হয়েছে।

• ‘কালের যাত্রা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক (১৯৩২)। নাটকটি তিনি শরৎচন্দ্রকে উৎসর্গ করেন।

• চিত্রাঙ্গদা:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক। এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৯৪.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন কোন উপন্যাসে?
  1. দরাফ খাঁ গাজী
  2. জোহরা
  3. আনোয়ারা
  4. গরীবের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোহরা
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- 'জোহরা' উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
-কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

----------------------
কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন খ্যাতিমান কবি ও সাংবাদিক। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে। সাহিত্যচর্চায় বৈচিত্র্য ও বহুমুখিতার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। কবিতা, উপন্যাস ও জীবনী রচনায় তাঁর স্বতন্ত্র কৃতিত্ব লক্ষণীয়।

‘শান্তিপুরের কবি’ নামে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম সমাজের জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ও ধর্মীয় চেতনা অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও উপন্যাস রচনায়ও তিনি বিশেষ সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর রচিত ‘জোহরা’ উপন্যাসে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন বাস্তবচিত্র গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অপরদিকে ‘দরাফ খাঁ গাজী’ একটি ধর্মপ্রেরণামূলক ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) এবং শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: কুসুমাঞ্জলি, অপূর্বদর্শন। হযরত মুহাম্মদ, জাতীয় ফোয়ারা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো: জোহরা, দরাফ খান গাজী।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস- 'আনোয়ারা', 'প্রেমের সমাধি', 'গরীবের মেয়ে’, ‘পরিণাম', ‘চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি', 'দুনিয়া আর চাই না'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২,৬৯৫.
কোনটি আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি
  2. লোক লোকান্তর
  3. শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি
  4. ক্ষুধা প্রেম আগুন
সঠিক উত্তর:
পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত কাব্যগ্রন্থ- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ: 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। 
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি,
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা। 

অন্যদিকে,
- লোক লোকান্তর কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- আলমাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৬.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. রাজা উপাখ্যান
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. সমাগম
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯৭.
"অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।" - সাহিত্যের কোন ধারা সম্পর্কে এ উক্তিটি করা হয়েছে?
  1. গীতিকবিতা
  2. সনেট
  3. ছােটগল্প
  4. লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ছােটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছােটগল্প
ব্যাখ্যা
''অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”- বাংলা সাহিত্যের 'ছোটগল্প' ধারার প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় এ কথাটি বলেছেন।

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়। 
---------------------
• 'ছোটগল্প':
- ছোটগল্প  কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:

ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• ছোটগল্প সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনা পাওনা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯৮.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) জেগে আছি
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  4. ঘ) স্বপ্নশিলা
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,৬৯৯.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধাকর
  2. কোহিনুর
  3. সওগাত
  4. হিতকরী
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা - হিতকরী।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ’আজিজননেহার’ ও ’হিতকরী’ নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭০০.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন?
  1. সঞ্চিতা
  2. সঞ্চয়িতা
  3. অগ্নি-বীণা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
- এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
- সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য,
‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।

- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।