বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ২২ / ১৭৪ · ২,১০১২,২০০ / ১৭,৪৩৭

২,১০১.
‘মজিদ’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - মজিদ।
• 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মজিদ নামের এক কূটচরিত্র গারোপাহারি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে শোষণ করে। সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০২.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) আলী জাকের
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) ইব্রাহিম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
• প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।  
• নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- কাফেলা,
- ভিস্তি বাদশা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১০৩.
‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. হুমায়ুন কবির
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকটির রচয়িতা - হুমায়ূন আহমেদ। এটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ:

- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়, 
- কোথাও কেউ নেই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; কোথাও কেউ নেই, হুমায়ূন আহমেদ।
২,১০৪.
'যুবনাশ্ব' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. সমরেশ বসু
  2. বিমল মিত্র
  3. মণীশ ঘটক
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি'।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১০৫.
নিচের কোনটি জহির রায়হানের উপন্যাস নয়?
  1. ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. খ) আরেক ফাল্গুন
  3. গ) জঙ্গম
  4. ঘ) বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
গ) জঙ্গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জঙ্গম
ব্যাখ্যা
- 'জঙ্গম' উপন্যাসটি রচনা করেছেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। 
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।

জহির রায়হান রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
হাজার বছর ধরে,
আরেক ফাল্গুন,
বরফ গলা নদী,
শেষ বেকেলের মেয়ে,
আর কত দিন,
তৃষ্ণা,
কয়েকটি মৃত্যু ইত্যাদি।

- স্টপ জেনোসাইট ও লেট দেয়ার বি লাইট তার দুটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রমাণচিত্র।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
২,১০৬.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসের পর্ব নয় কোনটি?
  1. ক) মহরম পর্ব্ব
  2. খ) সমর পর্ব্ব
  3. গ) উদ্ধার পর্ব্ব
  4. ঘ) এজিদ-বধ পর্ব্ব
সঠিক উত্তর:
খ) সমর পর্ব্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমর পর্ব্ব
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু'। 
- তাঁর খ্যাতি মূলত এই গ্রন্থটির জন্যই। 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ৩ টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে:
- মহরম পর্ব্ব (১৮৮৫)
- উদ্ধার পর্ব্ব (১৮৮৭)
- এজিদ-বধ পর্ব্ব (১৮৯১)
- বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৭.
নিম্নের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক?
  1. ক) আলেয়া
  2. খ) সাজাহান
  3. গ) কুহেলিকা
  4. ঘ) রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
ক) আলেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলেয়া
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি 
- আলেয়া 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) 
- মধুমালা (গীতিনাট্য) 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
১। বাঁধন-হারা,
২। মৃত্যুক্ষুধা ও
৩। কুহেলিকা।

অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'সাজাহান'।
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক ৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১০৮.
"শ্রীমতি কনিষ্ঠা" কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
সেগুলো হল:
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর, 
- আন্নাকালী পাকড়াশী, 
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য, 
- নবীনকিশোর শর্মণ, 
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, 
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা
- শ্রীমতি মধ্যমা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'কবি-কাহিনী' (প্রকাশ:১৮৭৮)।
-  আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা হিন্দুমেলার উপহার।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১০৯.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
  2. পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
  3. পালাগান রচনা করেন।
  4. কল্লোল পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
সঠিক উত্তর:
কল্লোল পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• পালাগান রচয়িতা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম: 
- মকতব, মাজার ও মসজিদ-জীবনের পর নজরুল রাঢ় বাংলার (পশ্চিম বাংলার বর্ধমান-বীরভূম অঞ্চল) কবিতা, গান আর নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক লোকনাট্য লেটোদলে যোগদান করেন।
- ঐসব লোকনাট্যের দলে বালক নজরুল ছিলেন একাধারে পালাগান রচয়িতা ও অভিনেতা।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।

• কাজী নজরুল ইসলামের 'পদ্মভূষণ' লাভ:
- কাজী নজরুল ইসলাম পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন ১৯৬০ সালে।
- পদ্মভূষণ হলো ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার যা সরকার দ্বারা প্রদান করা হয়।
---------------------------

• 'কল্লোল' কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা নয়। 
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১১০.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) স্বর্ণবোয়াল
  3. গ) হরগজ
  4. ঘ) হাতি ও তিমি
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাতি ও তিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাতি ও তিমি
ব্যাখ্যা
'হাতি ও তিমি' সেলিম আল দীনের কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত নাটক- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,১১১.
প্যারীচাঁদ মিত্রের কোন গ্রন্থটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লেখা?
  1. বামাতোষিণী
  2. যৎকিঞ্চিৎ
  3. The Zamindar and Royats
  4. ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত
সঠিক উত্তর:
The Zamindar and Royats
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Zamindar and Royats
ব্যাখ্যা
• ‘The Zamindar and Royats’/‘জমিদার ও রায়ত’ প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
- কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
------------------ 
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। গ্রন্থটি ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত,
- বামাতোষিণী,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- গীতাঙ্কুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১১২.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান রচিত গ্রন্থ?
  1. সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  2. সংস্কৃতি কথা
  3. সংস্কৃতির সংকট
  4. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
ব্যাখ্যা

•  'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 

• 'সংস্কৃতি' নামে আরও কিছু গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর - গোপাল হালদার। 
- 'সংস্কৃতির সংকট' - 'বদরুদ্দীন উমর'।
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১১৩.
‘সাবিত্রী উপখ্যান’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রহসন
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘সাবিত্রী উপখ্যান’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি।
- উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

-----------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১১৪.
‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ নাটকটি কার লেখা?
  1. ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়। বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে পরিচিত ছিলেন।
কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪) তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নাটক। এতে হিন্দুসমাজে বহুবিবাহ প্রথার কুফল সম্পর্কে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

২,১১৫.
রশীদ হায়দারের ‘খাঁচায়’ উপন্যাসের পটভূমি হলো :
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. ঘ) ছাত্র আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- রশীদ হায়দারের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- খাঁচায় (১৯৭৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,১১৬.
‘সুবচন নির্বাসনে’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) কল্যাণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন: 
• তিনি একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যু ২১ আগস্ট ২০০৮।  

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে: 
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- সেনাপতি,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা,

• তাঁর লিখিত উপন্যাস গুলো হচ্ছে: 
- মানব তোমার সারা জীবন, 
- হায় পার্বতী, 
- খলনায়ক, 
- আহ্ দেবদাস, 
- তাহাদের যৌবনকাল, 
- এই চুনীলাল, 
- গুন্ডাপান্ডার বাবা। 

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
২,১১৭.
‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ১৯৪৭ সালের দাঙ্গার প্রেক্ষাপট
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট  
  3. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
  4. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট  
ব্যাখ্যা

‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
---------------------------------
• কবিতা- আমাকে কি মাল্য দেবে দাও।
• কবি- নির্মলেন্দু গুণ।

"তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
 আমাকে কী মাল্য দেবে দাও।
এই নাও আমার যৌতুক, এক বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে
স্থলে
অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাবো পাহাড়।
আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে দাও"।
-------------------------
‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’:
- ‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি নির্মলেন্দু গুণের রচনা।
- এটি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতায় শহীদদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতায় “মাল্য” প্রদানের মাধ্যমে শহীদদের বীরত্বকে সম্মান জানানো হয়েছে।
----------------------------------- 
নির্মলেন্দু গুণ:
-  নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- নিশিকাব্য।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক ইনকিলাব;
বাংলাপিডিয়া। 

২,১১৮.
"ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এ বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এ উদ্ধৃতির রচয়িতা সুভাষ মুখোপাধ্যায়। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

ফুল ফুটুক না ফুটুক
সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত। (সংক্ষিপ্ত)

• সুভাষ মুখোপাধ্যায় একজন কবি, রাজনীতিবিদ।
- সাহিত্য-সংস্কৃতির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও তিনি পারদর্শিতার পরিচয় দেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় লেখক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত কবিতা, 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'।
- তিনি 'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১১৯.
‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. ভ্রমণকাহিনি
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
• ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি - ভ্রমণকাহিনি।  

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১২০.
“বখতিয়ারের ঘোড়া” কোন শ্রেণীর রচনা?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) রূপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্য
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা
২,১২১.
মোতাহের হোসেন চৌধুরী কী হিসেবে অধিক পরিচিত?
  1. কবি হিসেবে
  2. মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা হিসেবে
  3. নাট্যকার হিসেবে
  4. গীতিকার হিসেবে
সঠিক উত্তর:
মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা হিসেবে
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ এবং লেখক, যিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরী এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ, এবং মানুষের জীবনাচরণ নিয়ে মৌলিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মাধ্যমে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• প্রধান গ্রন্থসমূহ: 

সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮): এটি তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
সভ্যতা (১৯৬৫): ক্লাইভ বেল-এর Civilisation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

বিশেষ খ্যাতি: 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী, এবং মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
• আমাদের দৈন্য, 
• আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, 
• মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
২,১২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাল্মীকি প্রতিভা
  2. কবি-কাহিনী
  3. হিন্দুমেলার উপহার
  4. ভিখারিনী
সঠিক উত্তর:
কবি-কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি-কাহিনী
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'কবি-কাহিনী'।

'কবি-কাহিনী' 
কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ তথা কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক বাল্মীকি প্রতিভা।
প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,১২৩.
রংপুর সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘কবিশেখর’ উপাধি লাখ করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. কালিদাস রায়
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
কালিদাস রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়:
- কালিদাস রায় ছিলেন রবীন্দ্রানুসারী কবি ও সমালোচক।
- ১৮৮৯ সালের ২২ জুন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কড়ুই গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যোগেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন কাশিমবাজার রাজ এস্টেটের কর্মচারী। বৈষ্ণব কবি লোচনদাস ঠাকুর ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ।

- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন। - রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি; তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।

তারঁ সাহিত্যকর্মসমূহ (কাব্যগ্রন্থ):
- পর্ণপুট,
- ঋতুমঙ্গল,
- রসকদম,
- হৈমন্তী,
- লাজাঞ্জলি,
- ব্রজবেণু,
- চিত্তচিতা,
- পূর্ণাহুতি ইত্যাদি।

• তিনি কালিদাসের শকুন্তলা, কুমারসম্ভব এবং মেঘদূতের অনুবাদ করেন। প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়, প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য, পদাবলী সাহিত্য, শরৎ-সাহিত্য ও সাহিত্য প্রসঙ্গ তাঁর সমালোচনা গ্রন্থ।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ কালিদাস বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন-
- তিনি রংপুর সাহিত্য পরিষদের ‘কবিশেখর’ উপাধি (১৯২০),
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ (১৯৫৩) ও ‘সরোজিনী স্বর্ণপদক’,
- বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি,
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৬৩) এবং
- রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি (১৯৭১) লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 

• সুকুমার সেন রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র থেকে পান 'রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য' উপাধি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১২৪.
নিচের কোনটি শিশুতোষ সাহিত্য?
  1. ক) বহুরূপী
  2. খ) আবোল তাবোল
  3. গ) খাই খাই
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত সবগুলোই সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

• সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলার মাসুয়া গ্রামে জন্মহগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত  শিশুসাহিত্যিক। অনুপম ভাষায় গল্প, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে তিনি শিশুদের মন জয় করতেন। তাঁর লেখা বাঙলা শিশুতোষ বইগুলো বাংলা শিশুতোষ সাহিত্যের অমর সৃষ্টি।

তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যগুলো:
- হ-য-ব-র-ল
- আবোল তাবোল
- পাগলা দাশু
- খাই খাই
- বহুরূপী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৫.
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কে কথা কয়
  2. শঙ্খনীল কারাগার
  3. নন্দিত নরকে
  4. আগুনের পরশমণি
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
• নন্দিত নরকে:
- হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
- এটি তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর মধ্যে একটি।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জুলাই, ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আগুনের পরশমণি,
- জোছনা ও জননীর গল্প।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- ১৯৭১,
- শ্যামল ছায়া,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
২,১২৬.
'অচিনপাখি' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

 'আমরা অপেক্ষা করছি' প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে
 'আমরা অপেক্ষা করছি' গল্পগ্রন্থের কয়েকটি গল্প হলো:
- মিনি মাগনার,
- চুমকুড়ি হাওয়া নেই,
- মাটির তলা মাটি,
- সমুখে শান্তি পারাবার,
- পাব্লিক সার্ভেন্ট,
- অচিনপাখি।

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন 
- শিউলি 
- আগুনপাখি 
- সাবিত্রী উপাখ্যান 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- কথাসাহিত্যের কথকতা 
- অপ্রকাশের ভার 
- কথা লেখা কথা 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা 
সম্পাদনা: অসীমন্তিক 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২,১২৭.
‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন কোন লেখক?
  1. রফিক আজাদ
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. হুমায়ুন কবির
  4. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন কবির:
• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন। সাহিত্যক্ষেত্রে প্রথমত কবি হিসেবেই হুমায়ুন কবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
• তিনি ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
• তিনটি কাব্যগ্রন্থ স্বপ্নসাধ, সাথী ও অষ্টাদশী প্রকৃতি ও প্রেমবিষয়ক তাঁর স্বচ্ছ রোম্যান্টিক মানসের পরিচয় বহন করে।
• ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর Men and Rivers নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে কবির পদ্মানদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
• ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় তিনি দর্শন, সাহিত্য, শিক্ষানীতি ও সমাজতত্ত্ব বিষয়ে মৌলিক প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- ইমানুয়েল কান্ট,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব,
- বাংলার কাব্য,
- মার্কসবাদ,
- নয়া ভারতের শিক্ষা,
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী,
- মিরজা আবু তালিব খান,
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো।

অন্যদিকে,
- ‘স্বাক্ষর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এই পত্রিকার জন্য তিনি স্মরনীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৮.
'ক্রান্তি' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. আবদুল গনি
  4. মুনির চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা 'ক্রান্তি।'
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় 'প্রগতি' লেখক শিল্পী সংঘ।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'ক্রান্তি' পত্রিকা। 
 - এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- প্রথম প্রকাশক ছিলেন- সোমেন চন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,১২৯.
’আয়েশা, তিলোত্তমা’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. সংশপ্তক
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• দুর্গেশনন্দিনী:
-দূর্গেশনন্দিনী অর্থ দুর্গ প্রধানের কন্যা।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন।
- উপন্যাস দুটি দ্রুত প্রচার লাভ করে।
- দূর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- আয়েশা,
- তিলোত্তমা, প্রভৃতি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৩০.
”আদিত্য, সরলা” চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. মালঞ্চ
  4. রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

"মালঞ্চ" উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা
- চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- শেষের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৩১.
পল্লীকবি জসীম উদদীন রচিত গান কোনটি?
  1. আমায় ভাসাইলি রে, আমায় ডুবাইলি রে
  2. আমার হাড় কালা করলাম রে
  3. নদীর কূল নাই কিনার নাই
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদদীন
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত, দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে জসীম উদ্‌দীন কাজ করেন।
- তিনি পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও।
- জসীমউদ্দীন জারীগান ও মুর্শীদা গান নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

♦ গান
- আমার সোনার ময়না পাখি,
- আমার হাড় কালা করলাম রে,
- আমায় ভাসাইলি রে,
- আমায় এতো রাতে,
- নদীর কূল নাই কিনার নাই,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে, রে ভোমরা ইত্যাদি।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।

♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।

♦ কবর
- ১৯২৫ সালে এই কবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি কবির ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর 'কবর' কবিতাটি প্রবেশিকা(এস.এস.সি) বাংলা পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই কাহিনী-কাব্যটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ‘ড্রামাটিক মনোলগ’।
- এ কবিতার চরণ সংখ্যা ১১৮।
- কবিতায় এক বৃদ্ধ তার নাতিকে পাঁচজন স্বজন হারানোর ব্যথা এক এক করে বর্ণনা করেছেন। তারা হলো: বৃদ্ধের স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনী ও মেয়ে।

♦ কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

♦ নাটক
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

♦ আত্মকথা
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. বাংলাপিডিয়া।
২,১৩২.
’বাংলার স্কট’ নামে পরিচিত কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৩.
উত্তর বসন্ত - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির রচিত কাব্যগ্রন্থঃ দিলরুবা, উত্তর বসন্ত।
তার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ বাংলা কাব্যের ইতিহাসঃ মুসলিম সাধনার ধারা, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৩৪.
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম তারিখ-
  1. ক) ১২ ভাদ্র
  2. খ) ১২ বৈশাখ
  3. গ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
  4. ঘ) ১১ আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম ২৪মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,১৩৫.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. স্মৃতিকথা
  3. ভ্রমণবৃত্তান্ত
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- সারেং বউ (১৯৬২)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২)।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৬.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৭৮ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি: 
- এটি বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন।
- একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৭.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ‘জীবন ক্ষুধা’ কোন ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) স্মৃতিকথা
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না ও
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা
- আবে-হায়াত।

স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদনা করেছেন-
  1. অমৃতবাজার পত্রিকা
  2. তত্ত্ববোধনী পত্রিকা
  3. ভারতী পত্রিকা
  4. বঙ্গদর্শন পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন পত্রিকা
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- এটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।

অন্যদিকে,
- 'তত্ত্ববোধনী' পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক শিশিরকুমার ঘোষ।
- 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৯.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) দেবদাস
  2. খ) দত্তা
  3. গ) পল্লী সমাজ
  4. ঘ) দলিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দলিল
ব্যাখ্যা
'দলিল'-  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ নয়। 
- এটি শওকত আলী রচিত উপন্যাস।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কৈশোর ও প্রথম যৌবন কাটে ভাগলপুরে মাতুলালয়ে। 
-  শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- দেবদাস, পল্লী সমাজ ও দত্তা তাঁর রচিত উপন্যাস।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- পরীনিতা
- বিরাজ বৌ
- পন্ডিত মশাই
- চরিত্রহীন
- গৃহদাহ
- বামুনের মেয়ে
- দেনা পাওনা
- পথের দাবী
- শেষ প্রশ্ন
- বিপ্রদাস

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৪০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
সোজন বাদিয়ার ঘাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

অন্যদিকে,
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- এর বিষয়বস্তু- গ্রামীণ জীবন, নদী-ঘাটকেন্দ্রিক পরিবেশ, প্রেম-বিরহ ও বেদনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,১৪১.
'লায়লী-মজনু' প্রণয়োপাখ্যান সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) এনামুল হক
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ মধ্যযুগের সাহিত্যবিষয়ক ৪৫ টি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। তাঁর সম্পাদিত 'লাইলী-মজনু' বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
২,১৪২.
'মরচে পড়া পেরেকের গান' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'মরচে পড়া পেরেকের গান' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- মর্মবাণী, বন্দীর বন্দনা, কঙ্কাবতী, দময়ন্তী, যে আঁধার আলোর অধিক, স্বাগত বিদায়, একদিন: চিরদিন ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,১৪৩.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থে কোন শহরের বর্ণনা সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠেছে? 
  1. প্যারিস 
  2. কাবুল 
  3. অসলো 
  4. রোম 
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
ব্যাখ্যা
 • দেশে বিদেশে:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ আছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে  উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৪.
'কল্লোল' পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• কল্লোল — পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
 
• 'কল্লোল' পত্রিকা:
 অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

• 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন — অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।
 
উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৫.
গ্রীক ট্রাজেডি ‘ইডিপাস’ বাংলায় অনুবাদ করেন -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. কবীর চৌধুরী
  3. হেলাল হাফিজ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
ইডিপাস:
- ইডিপাস বাংলা সাহিত্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ নাটক। বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় এ নাটকটা রচনা করেন।
- আর এটা বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- এটি একটি ট্র্যাজেডি নাটক।

সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৬.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  4. ঘ) যশোর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী, (১৮৩৪-১৯০৩) জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

 [উৎস: বাংলাপিডিয়া]
২,১৪৭.
'জীবন এত ছোট ক্যানে' এই উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) হাসুলি বাঁকের উপকথা
  2. খ) কবি
  3. গ) গনদেবতা
  4. ঘ) আরোগ্য নিকেতন
সঠিক উত্তর:
খ) কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি
ব্যাখ্যা

কবি উপন্যাসটিতে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে। এটি তারাশঙ্করের একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের 'জীবন এত ছোট ক্যানে' সংলাপটি ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 

 

২,১৪৮.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
  2. কবি ও রাজনীতিবীদ
  3. রাজনীতিবীদ ও সাংবাদিক
  4. সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক
সঠিক উত্তর:
প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক হিসেবে সর্বসকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ,
- বাঙালি কাকে বলি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি,
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

• তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২,১৪৯.
বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্ম হল 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
২,১৫০.
'অমল' কোন নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. অচলায়তন
  2. রক্তকরবী
  3. কালের যাত্রা
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"
- 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- ফাল্গুনী, 
- গুরু (১৯১৮): এটি অচলায়তনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অরূপরতন, 
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা, 
- তাসের দেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম

২,১৫১.
'কুহেলিকা' নজরুল ইসলাম রচিত -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৫২.
'আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে' এই পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার?
  1. ক) রূপসী বাংলা
  2. খ) সেই দিন এই মাঠ
  3. গ) আবার আসিব ফিরে
  4. ঘ) এই পৃথিবীতে একস্থান আছে
সঠিক উত্তর:
গ) আবার আসিব ফিরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে' এই পঙ্‌ক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার।

- 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি 'রূপসী বাংলা' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

এই বক্তব্যে, কবি ব্যক্ত করেছে যে, তিনি নদীমাতৃক এই বাংলার বিভিন্ন অনুষঙ্গ ও উপাদানের মধ্যেই জীবিত থাকবেন। এগুলো যদি হারিয়ে যায় তবে বাংলার শাশ্বত রূপও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাংলার রূপ অবিকৃত রাখার প্রয়োজনে আমাদের উচিত, এই দেশের পশু-পাখি, গাছ-পালা, নদী- হাওড়, মানুষ ও জীবজন্তুকে ভালোবাসা এবং এগুলো যেন সুন্দরভাবে বৃদ্ধি পায় সে দিকে লক্ষ রাখা।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- তিমির
- সাতটি তারার মালা
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৩.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? 
  1. ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  2. ২৫ বৈশাখ, ১৩০৭ বঙ্গাব্দ 
  3. ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ 
  4. ১২ ভাদ্র ১৩০৬ বঙ্গাব্দ 
সঠিক উত্তর:
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ২৪মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হ

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম-এর প্রকাশিত
- প্রথম কাব্য/কবিতা - "মুক্তি"। 
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ - "অগ্নিবীণা"। 
- প্রথম গল্প - "বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী"। 
- প্রথম গল্পগ্রন্থ/গ্রন্থ -  ব্যথার দান। 
- প্রথম প্রবন্ধ - তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা। 
- প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ- যুগবাণী। 
- প্রথম উপন্যাস - বাঁধনহারা। 
- প্রথম নাটক - ঝিলিমিলি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৪.
একুশের প্রথম কবিতার লেখক ছিলেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম গানের রচয়িতা ভাষাসৈনিক গাজীউল হক। 
- একুশের প্রথম নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৫.
‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রত্নপরীক্ষা
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
রত্নপরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নপরীক্ষা
ব্যাখ্যা
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।
• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।


-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস -
  1. ডাকঘর
  2. কবি-কাহিনী
  3. চার-অধ্যায়
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা
চার-অধ্যায় হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• চার-অধ্যায়:
- চার-অধ্যায় একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।

• অন্য অপশন:
- ডাকঘর হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক সাংকেতিক নাটক।
- কালান্তর হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন - 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
• বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান - আহমদ শরীফ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৮.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করেননি?
  1. কলমগীর
  2. কবিরঞ্জন
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. নবকুমার
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'কবিরঞ্জন' ছদ্মনামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কাব্যচর্চা করেননি ।
• কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের উপাধি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:

- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৫৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. রেখাচিত্র
  2. খোঁয়ারি
  3. মহাপতঙ্গ
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
খোঁয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোঁয়ারি
ব্যাখ্যা
• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ খোঁয়ারি।
- ১৯৮২ সালে এই গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেন।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন- নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু। তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

অন্যদিকে, 
• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
• 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।

---------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৬০.
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’ উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. রূপার কৌটা
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

নাটকে ব্যবহৃত কিছু উক্তি হলো:
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- ‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন নজীবদ্দৌলা। 
- ‘আমরা হচ্ছি পাহারাদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন বশির।

-------------------
⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৬১.
‘রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৬২.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র-
  1. বিনোদনী
  2. বিমলা
  3. লাবণ্য
  4. কুমুদিনী
সঠিক উত্তর:
বিমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমলা
ব্যাখ্যা

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।
- উপন্যাসের চরিত্র: বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ

অন্যদিকে,
- চোখের বালি উপন্যাসের চরিত্র নগেন্দ্রনাথ, বিহারী ও বিনোদনী।
- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র মধুসূদন ও কুমুদিনী
- শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র অমিত, লাবণ্য, কেতকা ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৬৩.
বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯২
  3. ১৯৯৪
  4. ১৯৯৬
সঠিক উত্তর:
১৯৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি 'প্রমিত বানানের নিয়ম' প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে।

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম:
- বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকে সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে।
- এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে
- একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত।
- যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।
- উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'।
- ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

-----------------------
উল্লেখ্য,
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ১৯৮৮ সালে বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে।

• বাংলা একাডেমি অভিধান সংকলন:
- বাংলা একাডেমি সূচনালগ্ন (১৯৫৫) থেকেই অভিধান রচনায় মনোনিবেশ করে এবং এই কাজে ব্রতী হয়েছিলেন স্বয়ং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় পূর্ব পাকিস্তানী আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (পরবর্তীকালে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, ১৯৬৫)।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (১৯৭৪) প্রণয়নের সূত্রপাত করেন আরেকজন বিখ্যাত পণ্ডিত ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
- এই অভিধানটি প্রকাশিত হয় অধ্যাপক শিবপ্রসন্ন লাহিড়ীর সম্পাদনায় (১৯৮৪)।

• বাংলা একাডেমি প্রণীত কয়েকটি অভিধান গ্রন্থ:
- Bangla Academy English-Bangla Dictionary (1993),
- Bangla Academy Bengali-English Dictionary (1994),
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধান (১৯৯৪),
- বাংলা একাডেমী বাংলা উচ্চারণ অভিধান (১৯৯০),
- যথাশব্দ (১৯৭৪),
- বাংলা একাডেমী ছোটদের অভিধান (১৯৮৩) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অভিধান।
২,১৬৪.
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’ বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৬৫.
'রামগরুড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
হাসব না-না না-না।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতাংশটি সুকুমার রায়ের ' রামগরুড়ের ছানা' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতাটি তাঁর 'আবোল-তাবোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতা,
----------------------সুকুমার রায়।

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
‘‘হাস্‌ব না-না না-না’’।

সদাই মরে ত্রাসে- ঐ বুঝি কেউ হাসে!
এক চোখে তাই মিট্‌মিটিয়ে
তাকায় আশে পাশে।
ঘুম নাহি তার চোখে আপনি ব’কে ব’কে
আপনারে কয়, ‘‘হাসিস্‌ যদি
 মারব কিন্তু তোকে!’’
যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে,
হাসিয়ে ফেলে পাছে!
সোয়াস্তি নেই মনে- মেঘের কোণে কোণে
হাসির বাষ্প উঠছে ফেঁপে
কান পেতে তাই শোনে।
ঝোপের ধারে ধারে রাতের অন্ধকারে
জোনাক্‌ জ্বলে আলোর তালে
হাসির ঠারে ঠারে।
হাসতে হাসতে যারা হচ্ছে কেবল সারা
রামগরুড়ের লাগছে ব্যথা
বুঝছে না কি তারা?
রামগরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা,
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়
নিষেধ সেথায় হাসা।

উৎস: 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতা, সুকুমার রায়, বাংলাপিডিয়া।  
২,১৬৬.
শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. সুকুমার রায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
সঠিক উত্তর:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
ব্যাখ্যা

• 'সন্দেশ' পত্রিকা:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,১৬৭.
‘সাতকাহন’ অন্নদাশঙ্কর রায় এর একটি-
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- সাতকাহন।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত। 
- ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে ১৯০৪ সালে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 
- ১৬ বছর বয়সে টলস্টয়ের গল্প ‘তিনটি প্রশ্ন’ তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন।
- বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল ’নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ২০০২।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
-  যার যেথা দেশ ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কলঙ্কবতী ,
- দুঃখমোচন ,
- মর্ত্যের স্বর্গ ,
- অপসরণ;
- অসমাপিকা ,
- পুতুল নিয়ে খেলা ,
- সুখ .
- বিশল্যকরণী;
- তৃষ্ণার জল;
- রাজঅতিথি ;
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো:
- প্রকৃতির পরিহাস;
- দুকান কাটা;
- হাসনসখী;
- মনপবন; 
- যৌবনজ্বালা;
- কামিনীকাঞ্চন;
- রূপের দায়; 
- গল্প; 
- কথা ;
- কাহিনী ;
- শ্রেষ্ঠগল্প ;
- গল্পসমগ্র;

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
-  তারুণ্য,
-  রবীন্দ্রনাথ,
- বাংলার রেনেসাঁস,
-  শিক্ষার সংকট,
- সাতকাহন,
- সাহিত্যে সংকট ও অন্যান্য, 
- সংস্কৃতির বিবর্তন, 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৬৮.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন কোন নারী সাহিত্যিক?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
- ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০১ সালে বাংলা একাডেমী তাঁর কিছু কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে ‘Mother of Pearls and Other Poems’ এবং ২০০২ সালে সুফিয়া কামালের রচনা সমগ্র প্রকাশ করেছে।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৬৯.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরোনা নামক স্থানের যুবক পেট্রশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন: কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভোগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৭০.
‘সঞ্চিতা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি -
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কবিতা সংকলন
সঠিক উত্তর:
কবিতা সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা সংকলন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।
উল্লেখ্য ‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭১.
‘রাঙ্গাপ্রভাত’ -উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি। তাঁর রচিত প্রবন্ধ- শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি, বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,১৭২.
নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ফররুখ আহমদ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: কাজী নজরুল ইসলাম
- এটি তাঁর 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'খেয়াপারের তরণী' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

খেয়াপারের তরণী
কাজী নজরুল ইসলাম

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,১৭৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' গল্পের বিখ্যাত চরিত্র কোনটি? 
  1. বিনোদিনী
  2. হৈমন্তী
  3. আশালতা
  4. চারুলতা
সঠিক উত্তর:
চারুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুলতা
ব্যাখ্যা

'নষ্টনীড়’:
- এটি ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু চারুলতা, যে তার কর্মব্যস্ত স্বামী ভূপতির অবহেলায় একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটায়।
- একাকীত্ব ও অতৃপ্তি থেকে তার মধ্যে জন্ম নেয় অমল নামক ভূপতির ছোট ভাইয়ের প্রতি সূক্ষ্ম মানসিক আকর্ষণ।
- এছাড়াও অমলের লেখালেখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ চারুলতার জীবনে নতুন অনুভূতির জন্ম দেয়।
- ‘নষ্টনীড়’ বা ভাঙা নীড় কেবল ঘর নয়, বরং সম্পর্কের ভিত্তি এবং মানসিক আশ্রয়স্থল ভেঙে যাওয়াকে বোঝায়।
- প্রধান চরিত্রগুলো হলো : চারুলতা, ভূপতি এবং অমল।
- গল্পটি মূলত উনিশ শতকের বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের বাস্তবতা এবং নারীর মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে।
- এছাড়াও, এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে ১৯৬৪ সালে সত্যজিৎ রায় “চারুলতা” নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
• চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা ১৯০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো আশালতা ও বিনোদিনী।
• ‘হৈমন্তী’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প।
- ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র হলো ‘হৈমন্তী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
‘নষ্টনীড়’ ছোটগল্প।

২,১৭৪.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. নবিতুন
  2. আসমা
  3. নূরজাহান
  4. রাবেয়া খাতুন 
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
ব্যাখ্যা

• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৭৫.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. প্রেমের কবিতা
  3. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  4. সশস্ত্র সুন্দর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা
• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি' সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো' এই পঙক্তিটি' ভাত দে হারামজাদা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ ১৯৪২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি  টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- অসম্ভবের পায়ে,
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা,
- হাতুড়ির নিচে জীবন,
- অপর অরণ্যে,
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি,
- সশস্ত্র সুন্দর,
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭৬.
বরিশাল অঞ্চলের লোকজীবন বর্ণিত হয়েছে কোন রচনায়?
  1. কাশবনের কন্যা
  2. ধানকন্যা
  3. সারেং বউ
  4. পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে শামসুদ্দিন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। 

শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭):
 - কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
গল্পগ্রন্থ
- অনেক দিনের আশা (১৯৫২),
- ঢেউ (১৯৫৩),
- পথ জানা নাই (১৯৫৩),
- দুই হূদয়ের তীর (১৯৫৫),
- শাহের বানু (১৯৫৭),
- পুঁই ডালিমের কাব্য (১৯৮৭);
উপন্যাস
- আলমনগরের উপকথা (১৯৫৪),
- কাশবনের কন্যা (১৯৫৪),
- কাঞ্চনমালা (১৯৬১),
- জায়মঙ্গল (১৯৭৮) ও
- কাঞ্চনগ্রাম (১৯৯৮)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৭৭.
'বাংলারকবি মধুসূদন' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

 'বাংলারকবি মধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলারকবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৭৮.
'কারাগারের রোজনামচা'-কার লেখা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শেখ হাসিনা
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. শেখ কামাল
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

গ্রন্থটির কিছু অংশ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।
কারাগারের রোজনামচায় প্রসঙ্গক্রমে অনেকবার এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা। শেখ মুজিব তিনি নিজের সন্তান, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, বাবা-মা সবকিছু ফেলে দেশের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠকে বেছে নিয়েছিলেন। পরিবারের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণ দেখি তাঁর লেখায়: ‘৮ ফেব্রুয়ারি ২ বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, ‘আব্বা বালি চলো’। কি উত্তর ওকে আমি দিব। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম, ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দী। ওকে বললাম, ‘তোমার মার বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।’ ও কি বুঝতে চায়!..

উৎস: ‘কারাগারের রোচনামচা বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান।
২,১৭৯.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত একটি-
  1. ক) সামাজিক উপন্যাস
  2. খ) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন রচিত একটি বাংলা ভাষার উপন্যাস।

'হাঙর নদী গ্রেনেড' 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালের যশোরের কালীগঞ্জ গ্রামের এক মায়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সেলিনা হোসেন এই উপন্যাসটি রচনা করেন। - - ১৯৭২ সালে গল্পাকারে ঘটনাটি লিখেন এবং সমকালীন টেরেডাকটিল নামে তরুণদের একটি পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হয়েছিল।
- ১৯৭৪ সালে গল্পটিকে উপন্যাস আকারে লিখেন এবং ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:
প্রবন্ধ: 
- স্বদেশে পরবাসী
- একাত্তরের ঢাকা
- নির্ভয় করো হে
- মুক্তো করো ভয়
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি

গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা। 

উপন্যাস : 
- জলোচ্ছ্বাস
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,১৮০.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৮১.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কলকাতায়
  4. হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮২.
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. চক্রবাক
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

---------------------------------
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।
- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।

- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - বিষাদ-সিন্ধু, যা একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। কারবালার কাহিনীর মূল ঘটনার প্রেক্ষিতে রচিত।
- "চক্রবাক" গ্রন্থটি কাজী নজরুলের প্রেমের কবিতা ও গানের সংকলন। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা : প্রলয়োল্লাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৮৩.
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাস টির রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌।

• এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহর (নাম নেয়া হয় নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।

সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল। এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।
আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে। উপন্যাসটি চরমভাবে দৃষ্টির গুণে উপন্যাসটি মার্কিনবিরোধী।

• উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপর পড়েছিল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৮৪.
'একদা তুমি প্রিয়ে' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আহমদ ছফা
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

-------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮৫.
‘সাত ভাই চম্পা’ - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৮৬.
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  2. জহিরুল ইসলাম
  3. জহির উদ্দিন
  4. মোহাম্মদ রায়হান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।
• “একুশের গল্প” জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,১৮৭.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোট গল্প
  3. গ) গ্রাম্য গীতিকা
  4. ঘ) উপকথা
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। 
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮৮.
শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কী ধরনের রচনা?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  4. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক কবিতা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের লেখা 'বন্দী শিবির থেকে' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- শামসুর রাহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৮৯.
'হলুদ পোড়া' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. নাটক 
  3. প্রবন্ধ 
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

• 'হলুদ পোড়া' ছোটগল্প:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'হলুদ পোড়া' একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা গ্রাম বাংলার কুসংস্কার, বিশেষত ভূত-প্রেত এবং অলৌকিক শক্তির ধারণা নিয়ে রচিত। 
- ছোটগল্পে দামিনী নামের এক নারী চরিত্রের ভয় ও উন্মাদনা দেখানো হয়েছে কাঁচা হলুদ পোড়ানোর মাধ্যমে, যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাস্তবধর্মী ও মনস্তাত্ত্বিক লেখার উদাহরণ।
- গল্পটি মূলত কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জীবনের অন্ধকার দিক এবং মানবমনের গভীর ও জটিল অনুভূতিকে তুলে ধরেছে, যা বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

-------------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া,  
- আজ কাল পরশুর গল্প,  
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

• নাটক: ভিটেমাটি। 

উৎস: হলুদ পোড়া' ছোটগল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৯০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী - পালামৌ, যার রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। টি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি। পরে ১৩৫১ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তিঃ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২,১৯১.
'আনোয়ারা' —এ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ নজিবর রহমান: তিনি ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।

তার রচিত উপন্যাস -
- আনোয়ারা
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭),
- পরিণাম (১৯১৮),
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩),
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪)৷


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,১৯২.
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. জননী
  2. সমাগম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোতীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে। 
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত । এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'সমাগম' উপন্যাস:
 সমাগম' হলো বিখ্যাত বাংলাদেশী লেখক শওকত ওসমান রচিত একটি রূপকধর্মী ও ফ্যান্টাসি উপন্যাস, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়। এবং এটি সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়, যেখানে কালজয়ী মনীষীদের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে এক কাল্পনিক জগতের সৃষ্টি করা হয়। 

• 'জননী' উপন্যাস: 
জননীতে সামাজিক জীবনচিত্র উন্মোচিত হয়েছে। জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে

"ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী" বলতে সাধারণত বিখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমানের একটি বিখ্যাত ছোটগল্পের সংকলন।  

---------------------
শওকত ওসমানের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাংগী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী (এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান)।
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে (এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৩.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১৯৪.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র গ্রন্থের রচয়িতা রামরাম বসু।

​• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

​তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৫.
কোন প্রতিষ্ঠানটি গদ্যচর্চা শুরু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. বিশ্বভারতী
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
→ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
→ ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,১৯৬.
কারাগারের রোজনামচা-
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
উৎসঃলাইভ এমসিকিউ লেকচার
২,১৯৭.
'ধূসরতার কবি' উপাধিটি কার?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে,
• জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি' বলা হয়।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি ছিল ছন্দের যাদুকর।
• শামসুর রহমানের উপাধি নাগরিক কবি।

------------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৮.
জীবনানন্দ দাশের কবিতা মূলত প্রকাশ ঘটেছে:
  1. বাংলার সমাজ ব্যবস্থা
  2. গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক বঞ্চনা
  3. গ্রাম বাংলার নিসর্গ
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
গ্রাম বাংলার নিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাম বাংলার নিসর্গ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের কবিতার বৈশিষ্ট্য:
জীবনানন্দ দাশের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য নিসর্গচিত্র, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, নদী, বন, পাখি, গ্রাম্য শান্ত জীবন ইত্যাদি। তাঁর কাব্যে প্রকৃতি একটি স্বতন্ত্র চরিত্রের মতো উপস্থিত।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো (রূপসী বাংলা, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, বেলা অবেলা কালবেলা) প্রায় সবই গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি ও তার রূপ-রস-গন্ধ নিয়েই রচিত।

সুতরাং — সঠিক উত্তর: গ) গ্রাম বাংলার নিসর্গ।

--------------------
জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৯.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘কবর’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. রাখালী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. বালুচর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘কবর’ কবিতাটি রাখালী কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• 'কবর' কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 
- জসীম উদ্‌দীনের ‘কবর’ কবিতায় একজন নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের বেদনা ফুটে উঠেছে।
- বৃদ্ধ তার প্রিয়তমা স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ ও কন্যাকে হারানোর দুঃখে একমাত্র নাতিকে নিয়ে কবরের পাশে বসে তাদের স্মৃতি স্মরণ করতেন।  
- কবিতায় কবি গ্রামীণ জীবনের সহজ ভালোবাসা, ত্যাগ ও বিয়োগান্তক অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলেছেন। 
- কবিতাটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’র অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে। 
- ‘কবর’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। 
----------------------------------------
কবিতা- কবর।
কবি- জসীম উদ্‌দীন।

“এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।” 

---------------------------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- তাঁকে “পল্লীকবি” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

- পল্লীকবির লেখা বিখ্যাত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- 
- নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- বালুচর, 
- ধানখেত,
- হাসু,
- রূপবতী। 

উৎস:
'কবর' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,২০০.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিষ্ণু দে
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।