বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৭৩ / ১৭৪ · ১৭,২০১১৭,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১৭,২০১.
”রানী খালের সাঁকো” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. আহসান হাবীব
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. ইবরাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

রানী খালের সাঁকো উপন্যাসটির রচয়িতা আহসান হাবীব।
- তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪)
- আশায় বসতি (১৯৭৪)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬)
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)

তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো :
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও
- রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)
তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭),

 সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন:
- ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১)
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১)
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪)
- নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭)
- একুশে পদক (১৯৭৮)
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

১৭,২০২.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে কে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  2. নীলমণি হালদার
  3. অজিতকুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তিনি কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন:
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,২০৩.
'নজু মিয়া ও আসগর মিয়া' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. নদী ও নারী
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. তিতাস একটি নদীর নাম 
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

• 'নদী ও নারী' উপন্যাস:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

অন্যদিকে, 
• পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-  মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

----------------
• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
- অষ্টাদশী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,২০৪.
কোন গ্রন্থটি 'রামায়ণের কাহিনি' অবলম্বনে রচিত?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
‘মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়। এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২০৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত ও প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. জাহান্নাম হতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. বং থেকে বাংলা
সঠিক উত্তর:
জাহান্নাম হতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নাম হতে বিদায়
ব্যাখ্যা

'জাহান্নম হইতে বিদায়':
'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। যা ১৯৭১ সালে লেখা। সেসময় দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সম্পাদক শ্রী সাগরময় ঘোষের অনুরোধে তিনি এই উপন্যাসটি লেখেন। 'জাহান্নম হইতে বিদায়' ওই পত্রিকাতেই প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত ও প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র প্রবীণ শিক্ষক গাজী রহমানকে কেন্দ্র করে এগিয়ে গেছে কাহিনি। অন্য চরিত্রগুলোর মধ্যে রেজা আলী, কিরণ রায়, সৈয়দ আলী, আলম, ইউসুফ, বৃদ্ধা, ফালু ইত্যাদিও উল্লেখযোগ্য।

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:

- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জাহান্নম হইতে বিদায়'-এর রচয়িতা হলেন- শওকত ওসমান।
- সেলিনা হোসেনর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে রচিত উপন্যাস - হাঙর নদী গ্রেনেড।
- 'বং থেকে বাংলা' উপন্যাসের রচয়িতা: রিজিয়া রহমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,২০৬.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া। 

বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২০৭.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক-
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. কিত্তনখোলা
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. কেরামতমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি। এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
- হাস্যরসের মাধ্যমে সেলিম আল দীন দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে।

--------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান, তাহিতি’ ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৭,২০৮.
'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. বসন্তরঞ্জন রায় 
  5. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- বইগুলো বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট আছে।
- কারন এখানে পশুপাখির মুখদিয়েও কাহিনী বর্ণিত আছে।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,২০৯.
'ষোড়শী' নাটকটি কোন উপন্যাসের আলোকে নাট্যায়িত হয়?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) ছবি
  3. গ) দেনাপাওনা
  4. ঘ) নারীর মূল্য
সঠিক উত্তর:
গ) দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
'দেনপাওনা' উপন্যাসটি 'ষোড়শী' নামে ১৩২৭ সালে নাট্যায়িত হয়।
- ‘দেনাপাওনা' (১৯২৩) শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উপন্যাসের মতোই নারীপুরুষের সম্পর্ক, নারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।

- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ শরৎচন্দ্রের সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম । এই উপন্যাস ‘ষোড়শী' (১৩২৭) নামে নাট্যায়িত হয় এবং মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২১০.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. নিয়ত মন্তাজ
  4. কালের ধুলোয় লেখা
সঠিক উত্তর:
কালের ধুলোয় লেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

--------------------
• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,২১১.
বেদান্তগ্রন্থ ও বেদান্তসার গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায়  ১৭৭২ সালে হুগলির রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক।
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি অনেক বড় ভূমিকা পালন করছেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা-  'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১), সম্বাদ কৌমুদী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২১২.
'অমল' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. তাসের দেশ
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা

• ডাকঘর:
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।


নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭,২১৩.
'অপর্ণা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. মহেশ
  2. মামলার ফল
  3. মন্দির
  4. মেজদিদি
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা

• 'মন্দির' গল্প:
-  শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম মন্দির।
- তিনি মন্দির গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
-​ "বসুমতী" পত্রিকার সম্পাদক দেড়শ'টি গল্পের মধ্যে "মন্দির" গল্পটিকে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করেন।
- গল্পের বিষয়বস্তু: অমরনাথ অপর্ণাকে বিবাহ করেও দাম্পত্য জীবনে শান্তিলাভ করতে পারেনি। অপর্ণা পিতৃগৃহে স্থাপিত রাধাকৃষ্ণের চরণে নিজেকে উৎসর্গীকৃত করেছেন অনেক আগে। 
উল্লেখযোগ্য চরিত্র :
- অমরনাথ,
- অপর্ণা প্রমুখ।

​অন্যদিকে, 
​-------------------
• 'মহেশ' গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ। এই গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।
• ​'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাইয়ের নাম- শিবু ও শম্ভু। 
• 'মেজদিদি' গল্পের চরিত্রগুলো হলো- ​কেষ্টা, কাদম্বিনী, নবীন, বিপিন, হেমাঙ্গিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; মন্দির' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,২১৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৩৮ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৭,২১৫.
নিচের কোন পত্রিকা প্রথমে সাপ্তাহিক, পরে দৈনিক ছিল?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বর্তমান
  3. দিগদর্শন
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।

'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৭,২১৬.
কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতার জন্য জীবনানন্দ দাশের কাব্যকে চিত্ররূপময় বলা হয়েছে?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) ধূসর পান্ডুলিপি
  3. গ) সাতটি তারার তিমির
  4. ঘ) বনলতা সেন
সঠিক উত্তর:
খ) ধূসর পান্ডুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭,২১৭.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' ডাকা হয় কাকে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২১৮.
‘কাদম্বিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. নষ্টনীড়
  2. দেনাপাওনা
  3. জীবিত ও মৃত
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত':
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৭,২১৯.
কথাসাহিত্য বলতে বুঝায়-
  1. ক) ছোট গল্প ও উপন্যাস
  2. খ) কথা নিয়ে সাহিত্য
  3. গ) নাটক ও আবৃত্তি
  4. ঘ) সাহিত্যের কথা
সঠিক উত্তর:
ক) ছোট গল্প ও উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছোট গল্প ও উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্য বলতে বুঝায়- ছোট গল্প ও উপন্যাস।

কথাসাহিত্য বলতে সেসব গল্প - কাহিনীকে বোঝানো হয় যেকোন সামাজিক ভাষ্য, রাজনৈতিক সমালোচনা বা মানুষের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে রচিত সাহিত্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  

১৭,২২০.
কে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি?
  1. নাথানিয়েল হ্যালহেড
  2. জর্জ ‍গ্রিয়ারসন
  3. রেভারেন্ড জেম্স কীথ
  4. ডানকান ফোর্বস
সঠিক উত্তর:
জর্জ ‍গ্রিয়ারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ ‍গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
রেভারেন্ড জেম্স কীথ (১৭৮৪-১৮২৩):
- বাংলা ভাষায় প্রণীত ও মুদ্রিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা। 
- জেম্স কীথের বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৮২০ সালে।
- গ্রন্থটির পুরো নাম A Grammar/of/ the Bengali Language/ Adopted to the Young/in Easy Questions and Answers 

নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed: ১৭৫১-১৮৩০):
- তাঁর A Grammar of the Bengal Language প্রকাশিত হয় ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে। নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ভাল সংস্কৃত জানতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলা ভাষার উদ্ভব সংস্কৃত থেকে। তাই তাঁর ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব লক্ষণীয়।
- উনিশ শতকে অবশ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রাচুর্য লক্ষ করা যায়। এ শতকের প্রথমার্ধে রচিত বাংলা ব্যাকরণগুলি দুটি ধারায় বিভক্ত।

প্রথম ধারার গ্রন্থগুলি বিদেশীদের (ব্যতীত) দ্বারা ইংরেজি ভাষায় রচিত। এগুলির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিদেশীদের বাংলা ভাষা শেখানো। (১৭৬১-১৮৩৪), হটন, ইয়েটস ও ওয়েঙ্গার এই ধারার ব্যাকরণবিদদের মধ্যে প্রধান।
দ্বিতীয় ধারার রচয়িতারা ছিলেন প্রধানত বাঙালি এবং তাঁদের রচনার ভাষা বাংলা। এ ধারার পাঠক শ্রেণী ছিল এদেশের পাঠশালা ও ইংরেজি স্কুলগুলির ছাত্রছাত্রীরা।
-----------------
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমার্ধের দুটি ধারারই সম্প্রসারণ ঘটে। কিছু কিছু ব্যাকরণে (শ্যামারচণ সরকার, ডানকান ফোর্বস, জন বীম্স্ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য) বাংলার সংস্কৃত-ঘনিষ্ঠ শিষ্ট রূপটির পাশাপাশি কথ্য রূপের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময়েই দেশী-বিদেশী ভাষাবিজ্ঞানীদের (বীম্স্, হর্নলে, রামকৃষ্ণ গোপাল ভান্ডারকর) উদ্যোগে তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ব্যাকরণের গোড়াপত্তন হয়।

উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ A Grammar of the Bengalee Language (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

অর্থাৎ, প্রশ্নোক্ত অপশন থেকে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন নি জর্জ ‍গ্রিয়ারসন। তিনি ছিলেন ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ববিদ। 
১৯০৩ সালে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি 'Linguistic Survey of India'। 
গ্রিয়ারসন রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরী ভাষা সংক্রান্ত অভিধান, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধসংগ্রহ, যেগুলি ১৯১৬-৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
 
১৭,২২১.
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য'- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সমর সেন
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য'- পঙক্তিটির রচয়িতা- সুকান্ত ভট্টাচার্য

এই পংক্তিটি 'আঠারো বছর বয়স' - কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
-'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পুর্বাবাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 

১৭,২২২.
কোনটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা?
  1. মাধবীলতা
  2. কণ্ঠমালা
  3. পালামৌ
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা

'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- যাত্রা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৭,২২৩.
সৈয়দ সামসুল হকের 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) নৃত্যনাট্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) গিতীনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা

সৈয়দ সামসুল হকের প্রকাশিত কাব্যনাট্য গুলো হলো-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- নুরুলদীনের সারাজীবন
- এখানে এখন

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৭,২২৪.
নিম্নের কোন পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন?
  1. সবুজপত্র
  2. শনিবারের চিঠি
  3. কল্লোল
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু পত্রিকা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু।
- ১৯২২ সালে অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু -"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২২৫.
কোনটি জহির রায়হান রচিত 'একুশের গল্প' এর চরিত্র?
  1. রতন
  2. রহমত
  3. রসুল
  4. রাহাত
সঠিক উত্তর:
রাহাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাহাত
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান রচিত 'একুশের গল্প' এর চরিত্র - রাহাত

একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম।
- এই গল্পটি 'জহির রায়হান রচনাবলি' ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।
- প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু, রাহাত ইত্যাদি।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র - রতন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের চরিত্র - রহমত।
• জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের চরিত্র - রসুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি; কাবুলিওয়ালা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৭,২২৬.
'নজর আলী' কোন লেখকের ডাকনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
- মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো হলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম হচ্ছে টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং কবি নজরুল জীবনী।

১৭,২২৭.
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ভোরের বিহঙ্গী
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ 
- অভিশপ্ত নগরী
- পাপের সন্তান 
- পদচিহ্ন 
- আলবেরুনী
- সাত নম্বর ওয়ার্ড

ইতিহাস:
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ 
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম 

শিশু সাহিত্য:
- পাতাবাহার
- অভিযাত্রী                          

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১৭,২২৮.
'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থটি রচনা করেন- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন
- হিতোপদেশ
- রাজাবলী
- প্রবোধচন্দ্রিকা
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,২২৯.
সধবার একাদশী প্রহসনটির রচয়িতা?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
সধবার একাদশী প্রহসনটির রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। বিয়ে পাগলা বুড়ো এবং জামাই বারিক তার অপর দুটো প্রহসন। এর উপায় কী?, ভাই ভাই এইত চাই, ফাঁস কাগজ, এ কী? মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন। একেই কি বলে সভ্যতা এবং বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৭,২৩০.
নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সংবাদ প্রভাকর - রাজা রামমহন রায়
  2. খ) সাধনা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) মোসলেম ভারত - মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  4. ঘ) কবিতা - বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
খ) সাধনা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাধনা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
নিম্নে কয়েকটি পত্রিকার নাম এবং তাদের সম্পাদকের নাম দেয়া হল:
সংবাদ প্রভাকর - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
মোসলেম ভারত - মোজাম্মেল হক
কবিতা - বুদ্ধদেব বসু
সম্বাদ কৌমুদী - ভবানীচরন বন্দ্যোপাধ্যায়
বঙ্গদর্শন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সাধনা: ১৮১১ সালে রবীন্দ্র-ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় 'সাধনা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। মূলত ঠাকুরবাড়ি কেন্দ্রিক লেখকদের দ্বারা পরিচালিত। তবে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এ পত্রিকার প্রাণ। রবিন্দ্র- প্রতিভা বিকাশ ও প্রাকাশের ক্ষেত্রে এ পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পত্রিকা প্রকাশের ৩ বছর পরে রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে 'সাধনা' পত্রিকার সম্পাদক হয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৩১.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর 'স্পেন বিজয় কাব্যগ্রন্থ' এ কার সংগ্রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে?
  1. সুলতান সালাহউদ্দিন ও রিচার্ড লায়নহার্ট
  2. আকবর ও শিবাজী
  3. মুসলিম বীর তারেক ও সম্রাট রডারিক
  4. মুসলিম বীর তারেক ও চেঙ্গিস খান
সঠিক উত্তর:
মুসলিম বীর তারেক ও সম্রাট রডারিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম বীর তারেক ও সম্রাট রডারিক
ব্যাখ্যা
• স্পেন বিজয় কাব্য: 
- স্পেন বিজয় কাব্যগ্রন্থে মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন- ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
- এই কাব্যে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছেন।
- তিনি মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি মহাকাব্য হয়নি।
---------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ছিলেন লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- পিতা আব্দুল করিম খন্দকার ইউনানি (ভেষজ ঔষধ) চিকিৎসক ছিলেন। 
----------------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ।
- আকাঙ্ক্ষা।
- উচ্ছ্বাস।
- উদ্বোধন।
- নব উদ্দীপনা।
- স্পেন বিজয় কাব্য।
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী।
- প্রেমাঞ্জলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী।
- তারাবাঈ।
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম।
- তুর্কিনারী জীবন।
- স্পেনীয় মুসলিম সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৩২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন কবিতায় ছোটগল্পের রীতি- প্রকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন?
  1. প্রাণ
  2. বর্ষাযাপন
  3. উর্বশী
  4. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বর্ষাযাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষাযাপন
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটগল্পের রীতি- প্রকৃতির সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন।
- 'বর্ষাযাপন' কবিতাটি তার সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

বর্ষাযাপন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"ছোটো প্রাণ, ছোট ব্যথা
ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা
ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,
সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।"
(সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কথা কাহিনী,
- স্মরণ,
- খেয়া,
- পূরবী,
- আকাশ প্রদীপ
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- শেষলেখা
- সেঁজুতি
- পত্রপুট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৩৩.
কোন গ্রন্থটির রচিয়তা এস ওয়াজেদ আলী?
  1. ক) স্বদেশ চিন্তা
  2. খ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
  3. গ) স্বরূপের সন্ধানে
  4. ঘ) ভবিষ্যতের বাঙালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবিষ্যতের বাঙালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবিষ্যতের বাঙালী
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচিয়তা অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান
'স্বদেশ চিন্তা' গ্রন্থটির রচিয়তা আহমদ শরীফ
'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' গ্রন্থটির রচিয়তা  আহমদ ছফা

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১৭,২৩৪.
নিচের কোনটি ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) প্রপঞ্চ
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রপঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রপঞ্চ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার। প্রপঞ্চ – উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৭,২৩৫.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত 'আধুনিক কবি ও কবিতা' একটি -
  1. কবিতা
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান  সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- তিনি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে বিএ এবং ১৯৫৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৩৬.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) ঋত্ত্বিক ঘটক
  3. গ) ঋতুপর্ণ ঘোষ
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যজিৎ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে। এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন। এর তিনটি ভাগ : বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড ‘অপরাজিত (১৯৩১)। পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি। 'পথের পাঁচালী' ওম 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 'পথের পাঁচালী'র উল্লেখযােগ্য চরিত্র : অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৭,২৩৭.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শাহরিয়ার কবির
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
 হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন। 
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খন্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৫ খণ্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রকাশনা। 
-  হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত  হয়।  
- “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” মোট ১৫টি খণ্ডে ১৯৮২-৮৩ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৩৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষ চিঠি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শেষলেখা
  2. বলাকা
  3. সোনার তরী
  4. পুনশ্চ
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্য কবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা,
- শেষ চিঠি,
- ক্যামেলিয়া,
- সাধারণ মেয়ে,
- বাঁশি,
- খ্যাতি ইত্যাদি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- মানসী, 
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- জন্মদিন
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৭,২৩৯.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন নয় কোনটি?
  1. জামাই বারিক
  2. সধবার একাদশী
  3. বৈকুন্ঠের খাতা
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
সঠিক উত্তর:
বৈকুন্ঠের খাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকুন্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

বৈকুন্ঠের খাতা হল ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত একটি প্রহসনধর্মী বাংলা নাটক। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন।

দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে তিনি ঈশ্বর গুপ্তের প্রভাব থেকে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’, যা তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উদ্দীপনা যোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে নাটকটি অনুবাদ করেন। 

জনপ্রিয় কবিতা:
- সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড),
- দ্বাদশ কবিতা। 

প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক। 

নাটক:
- নীলদর্পণ,
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১৭,২৪০.
"ছায়ানট" কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• "ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থ:
"ছায়ানট" কাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাববিস্তারী কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে বর্মণ পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট ৫০টি কবিতা সংকলিত হয়েছে, যেগুলো নজরুলের বিভিন্ন সময়ের সৃষ্টির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

"ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থে কবি একাধারে প্রকৃতি, প্রেম, দেশপ্রেম ও মানবতার প্রতি গভীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি এতে সমাজ ও রাজনীতির জটিল বাস্তবতা সম্পর্কেও তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। ভাষা, ছন্দ ও ভাবনার গভীরতা—সব মিলিয়ে "ছায়ানট" বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অসাধারণ কাব্যিক প্রজ্ঞার স্বাক্ষর বহন করে।

"ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো-
- বিজয়িনী,
- কমল-কাঁটা, 
- চৈতী হাওয়া,
- বেদনা-অভিযান, 
- নিশীথ-প্রীতম, 
- অ-বেলায়, 
- হার-মান-হার, 
- লক্ষ্মীছাড়া, 
- শেষের গান, 
- নিরুদ্দেশের যাত্রী। 

উৎস: "ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থ।
১৭,২৪১.
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

• নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

এছাড়াও-
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
• শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
• শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭,২৪২.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত শিশুসাহিত্য কোনটি?
  1. ক) দৃষ্টিকোন
  2. খ) স্মৃতিনীড়
  3. গ) কচিপাতা
  4. ঘ) আমার স্মৃতিময় ছেলেবেলা
সঠিক উত্তর:
গ) কচিপাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কচিপাতা
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে  ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও  অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।
 
আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৪৩.
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রবীন্দ্ররচনা-
  1. ক) মুকুট
  2. খ) ছিন্নপত্র
  3. গ) ভাঙাগান
  4. ঘ) রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
খ) ছিন্নপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছিন্নপত্র
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন 'ছিন্নপত্র'। 
- এটি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রবীন্দ্ররচনা। 
- ১৮৯০ সালের দিকে রবীন্দ্রনাথ কল্পনার জগৎ থেকে নেমে বাস্তব জীবনে আসেন এবং রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের অপূর্ব সম্পদ গল্পগুচ্ছের গল্পগুলি।
- এছাড়া উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।
- জীবনের এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান  শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে ঘুরে বেড়ান।
- এই সূত্রেই শিলাইদহে গড়ে ওঠে একটি কবিতীর্থ।
- পদ্মাবক্ষে নৌকায় চড়ে বেড়ানোর সময় পদ্মানদী, বালুচর, কাশবন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, দরিদ্র জীবন এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের হূদয়লীলা কবিকে গভীরভাবে আলোড়িত করে, যা এ পর্বের গল্পে ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। 
- সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর সাথে বিবাহের পর তিনি ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী  হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৪৪.
‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সেলিনা হোসেন এর কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রহসন
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সেলিনা হোসেন এর রচিত উপন্যাস।
---------------------
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি’:

- সেলিনা হোসেনের ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাসে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও চরের জেলে জনগোষ্ঠীর কঠিন জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এখানে তাদের দারিদ্র্য, স্বপ্নভঙ্গ, জমি দখল ও শোষণের বিরুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটে ওঠে।
- মালেক নামের এক সাহসী যুবক এই নিপীড়িত মানুষদের নেতৃত্ব দিয়ে নতুন জীবনের আশার কথা বলে।
- এখানে ‘পোকামাকড়’ উপমার মাধ্যমে তুচ্ছ ও অবহেলিত জীবন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে।
-------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’,
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৭,২৪৫.
জীবনানন্দ দাশের “আবার আসিব ফিরে” কবিতায় কাকে ‘শাদা ছেঁড়া পালে’ দেখা যায় ?
  1. এক বৃদ্ধ মাঝিকে
  2. এক শিকারিকে
  3. এক কিশোরকে
  4. এক জেলেকে
সঠিক উত্তর:
এক কিশোরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক কিশোরকে
ব্যাখ্যা

• ‘আবার আসিব ফিরে’ — কবিতাটির রচয়িতা — জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

এই কবিতায় কবি বলেছেন- এক কিশোরকে এক শাদা ছেঁড়া পালে দেখা যায়।
--------------------------
• 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ':
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' — 'রূপসী বাংলা' কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।
----------------------- 
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,২৪৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. অভিযান
  2. আকাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।
 
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৪৭.
'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৪৮.
‘একুশের গান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
  3. গ) জসীম উদ্দীন
  4. ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'একুশের গান' কবিতার রচয়িতা- আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী।

- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'।গানটির রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি 'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনেও এটি প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৪৯.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে ‘কামাল পাশা’ কবিতাটি রচনা করেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯২১ সালের শেষদিকে নজরুল আরেকটি বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ রচনা করেন, যার মাধ্যমে তাঁর সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস-চেতনা এবং ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতার পরিচয় পাওয়া যায়।

• নজরুল তাঁর রাষ্ট্রীয় ধ্যান-ধারণায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্ব দ্বারা, কারণ তিনি সামন্ততান্ত্রিক খিলাফত বা তুরস্কের সুলতানকে উচ্ছেদ করে তুরস্ককে একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করেছিলেন। তুরস্কের সমাজজীবন থেকে মোস্তফা কামাল যে মৌলবাদ ও পর্দাপ্রথা দূর করেছিলেন, তা নজরুলকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি ভেবেছিলেন, তুরস্কে যা সম্ভবপর, ভারত ও বাংলায় তা সম্ভবপর নয় কেন? বস্ত্তত, গোঁড়ামি, রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও আচারসর্বস্বতা থেকে দেশবাসী, বিশেষত স্বধর্মীদের মুক্তির জন্য নজরুল আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

• কবিতাটি ১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের সংকলিত হয়।

----------------
কামাল পাশা
- কাজী নজরুল ইসলাম
"ঐ খেপেছে পাগ্লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো   কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!"

উল্লেখ্য,
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত।


অন্যদিকে,
---------------
• এ.কে ফজলুল হকের সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য 'দৈনিক নবযুগ' প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। 

• ১৯২২ সালে নজরুলের অপর বিপ্লবী উদ্যম হলো  ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)। পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো। বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল। 

• নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা  প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে। এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৫০.
বাংলায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. দিগ্‌দর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
ব্যাখ্যা

• দিগ্‌দর্শন — পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত — প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি — ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক — জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র — জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগদর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭,২৫১.
মুনীর চৌধুরী 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকটি কোন পটভূমিতে রচনা করেন?
  1. কারবালার যুদ্ধ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর':
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- এই নাটকের কাহিনি নেয়া হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

নাটকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ এই নাটকের পটভূমি। এই যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় ১৭৬১ সালে। মারাঠা বাহিনীর নেতৃত্ব করেন বালাজী রাও পেশোয়া; মুসলিম শক্তির পক্ষে আহমদ শাহ্ আবদালী। এই যুদ্ধের ইতিহাস যেমন শোকাবহ তেমনি ভয়াবহ। হিন্দু ও মুসলিম পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার সংকল্প নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধের স্থূল পরিণাম মারাঠাদের পরাজয় ও পতন, মুসলিম শক্তির জয় ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ। জয়পরাজয়ের এই বাহ্য ফলাফলের অপর পিঠে রয়েছে উভয় পক্ষের অপরিমেয় ক্ষয়-ক্ষতির রক্তাক্ত স্বাক্ষর। যত হিন্দু আর যত মুসলমান এই যুদ্ধে প্রাণ দেয় পাক-ভারতের ইতিহাসে তেমন আর কোনোদিন হয়নি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৫২.
"এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  4. আবদুল্লাহ আল-মুতী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে"। ছোটদের জন্য রচিত এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।

----------------------
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:

• আবদুল্লাহ আল-মুতী ছিলেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

• বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। 

• আল-মুতী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ'-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। 

• বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, ইউনেস্কোর কলিঙ্গ পুরস্কার এবং ড. কুদরত-ই-খুদা স্বর্ণপদকসহ এক ডজনের অধিক পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে- 
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৫৩.
'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা প্রকাশের জন্য কোন পত্রিকা নিষিদ্ধ হয়?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) নবযুগ
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) সওগাত
সঠিক উত্তর:
গ) ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয় ।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন :
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু 
দুর্দিনে এই দুর্গশিরে 
উড়িয়েদে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
 

১৭,২৫৪.
নিম্নের কোন পত্রিকার প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাদবাণী পাঠিয়েছিলেন?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) শনিবারের চিঠি
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু পত্রিকা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু।
- ১৯২২ সালে অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
-----------------------------
অন্যদিকে, 
- বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র 'সবুজপত্র' পত্রিকা। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে)। 
-  সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা- 'শনিবারের চিঠি'। শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৫৫.
জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পড়ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
কবর
-জসীম উদ্‌দীন
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এ
তটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

--------------------
• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

• তাঁর রচিত নাটক:
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• তার রচিত আত্মকথা:
যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, জীবন কথা ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনি:
চলে মুসাফির, হলদে পরির দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭,২৫৬.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. আনিস চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 
- ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------------  
শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৫৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় 'পরিচয়' পত্রিকাটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩১ সালে
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
• বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।  
• ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
• 'কল্লোল' পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পর বিষ্ণু দে-ও এই পত্রিকায় যোগ দেন। এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন। 

--------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগদ্য:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৫৮.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' উপদেশটি কে দিয়েছিলেন?
  1. ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ঘ) জোশুয়া মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
তাঁর উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।
ডিরোজিও'র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য।
এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১৭,২৫৯.
বাংলা সাহিত্যে 'অবক্ষয় যুগ' এর সূচনা হয়েছিল কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৭৩০ খ্রি.
  2. ১৭৫০ খ্রি.
  3. ১৭৬০ খ্রি.
  4. ১৮৫০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল / অবক্ষয় যুগ:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৭,২৬০.
Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats। Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৬১.
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সবুজপত্র
  3. আর্যদর্শন
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
আর্যদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যদর্শন
ব্যাখ্যা

সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

১৭,২৬২.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী?
  1. মহামহোপাধ্যায়
  2. শাস্ত্রজ্ঞ
  3. পণ্ডিত
  4. বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
মহামহোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহামহোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৬৩.
'আঠার বছর বয়স' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. হরতাল
  4. অভিযান
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
• 'আঠার বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের অন্যতম কবিতা 'ছাড়পত্র' ও 'আঠার বছর বয়স' ।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এই কাব্যে শোষিত মানুষের জীবন -যন্ত্রনা ,অনাচার ও বৈষম্যের প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- এই পঙক্তি কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য: 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৬৪.
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।"- বিখ্যাত কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. শামসুর রাহমান
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা

• "এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা — হেলাল হাফিজ।

• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- যে জলে আগুন জ্বলে, 
- কবিতা ৭১, 
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, যে জলে আগুন জ্বলে- হেলাল হাফিজ।

১৭,২৬৫.
‘জ্বলো চিতাবাঘ’ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. সুফিয়া কামাল
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
‘জ্বলো চিতাবাঘ’ কাব্যগ্রন্থ:
- হুমায়ুন আজাদ তিন বছর কবিতা ও দেশ থেকে দূরে বাস করে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন কবিতা ও দেশের জন্যে, দেশে ফিরে আসার পর অন্যান্য লেখার-গবেষণা ও সমালোচনার-পাশাপাশি দু-বছরে লেখা হয় জ্বলো চিতাবাঘ-এর কবিতাগুলো।
- এ-বইয়ের কবিতাগুলো অনেক ভিন্ন ও জটিল, অনেকটা প্রতীকবাদী কবিতার রীতিতে লেখা, অনেক বেশি পরোক্ষ। এটি হুমায়ুন আজাদ প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- তাঁর প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জ্বলো চিতাবাঘ’ কাব্যগ্রন্থ। 
১৭,২৬৬.
যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. আল মাহমুদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। তিনি বাংলায় মিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণ: নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম “নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।

• জসীম উদ্‌দীন: জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।

• আল মাহমুদ: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,২৬৭.
'চিত্রগুপ্ত' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. মণীশ ঘটক
  3. বিমল মিত্র
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

অন্যদিকে, 
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম- যুবনাশ্ব।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৬৮.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ইংরেজি দৈনিক কোনটি?
  1. ক) Bangladesh Report
  2. খ) Bangladesh Observer
  3. গ) The Daily Star
  4. ঘ) The New Nation
সঠিক উত্তর:
খ) Bangladesh Observer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bangladesh Observer
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ইংরেজি দৈনিক Bangladesh Observer। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১৭,২৬৯.
ফররুখ আহমদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১৮
  3. ১৯২৫
  4. ১৯৩০
সঠিক উত্তর:
১৯১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৮
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।  
- তিনি তাঁর কবিতায় বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন বিধায় তাকে ইসলামী রেনেসার কবি বলা হয়ে থাকে।
- তিনি শিশুদের সুস্থ বিনোদনের জন্য 'পাখির বাসা' লিখেছিলেন।
- বইটিতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়কে ছড়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন যা্তে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উপভোগের সঞ্চার ঘটাতে পারেন।
- তিনি অত্যন্ত  সাবলীল ও সহজ ভাষায় জাদুকারি ছন্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যা শিশুদের সহজেই পাঠপ্রক্রিয়ায় আকৃষ্ট করেছিল।
- 'পাখির বাসা' গ্রন্থের জন্য ফররুখ আহমদ ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

• ফররুক আহমদ এর কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি।
• তাঁর কাব্যনাটক:
- নৌফেল;
- হাতেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৭,২৭০.
‘নীল-দর্পণ’ নাটক প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৭১.
'স্বদেশে পরবাসী' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সেলিনা হোসেন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'স্বদেশে পরবাসী' প্রবন্ধের রচয়িতা - সেলিনা হোসেন।

সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিনা হোসেন বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।

তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,২৭২.
কোন গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রয়োগ করেন?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. জাপান যাত্রী
  4. পঞ্চভূত
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা

য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৩।

১৭,২৭৩.
'মুহূর্তের কবিতা' লিখেছেন-
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
 -------------
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,২৭৪.
নিচের কোনটি জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) বোবা কাহিনী
  3. গ) গ্রামের মেয়ে
  4. ঘ) এক পয়সার বাঁশী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক পয়সার বাঁশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক পয়সার বাঁশী
ব্যাখ্যা
ডালিম কুমার, এক পয়সার বাঁশী, হাসু জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ। চলে মুসাফির তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী। গ্রামের মেয়ে তাঁর রচিত নাটক।
বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক। তাঁর একমাত্র উপন্যাস বোবা কাহিনী। (সৌমিত্র শেখরের বই অনুসারে)
তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৭,২৭৫.
"অধ্যাপক রায়হান" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জলাঙ্গী
  2. যাত্রা
  3. দুই সৈনিক
  4. শ্যামল ছায়া
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান

শওকত আলী রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- ওয়ারিশ,
- উত্তরের খেপ,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
১৭,২৭৬.
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেবী চৌধুরানী
  2. খ) আনন্দমঠ
  3. গ) সীতারাম
  4. ঘ) বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
খ) আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে।  
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডলা
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- যুগলাঙ্গুরীয়
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী
- রজনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৭৭.
‘কবর’ নাটকটি কত সালে রচিত হয়েছিল?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা

'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৭,২৭৮.
বুদ্ধদেব বসুর নামের সাথে জড়িত 'কবিতা' কোন ধরনের প্রকাশনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. পত্রিকা
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রিকা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসুর নামের সাথে জড়িত 'কবিতা'- কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা। 

• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা- 
- প্রগতি → (১৯২৭-১৯),
- কবিতা→ (১৩৪২-৪৭), 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি বাসন্তিকা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'। 

• 'কবিতা' পত্রিকা:
-  কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন।
- কবিতা পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার প্রথম কবি ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- তাঁর কবিতার নাম ‘তামাসা’।
- আশ্বিন ১৩৪২ বঙ্গাব্দ থেকে চৈত্র ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত কবিতা পত্রিকার পঁচিশ বছরের জীবনকালে সর্বমোট ৩৪৫জন লেখক এতে অবদান রেখে গেছেন।
- এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- কাজী নজরুল ইসলাম,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সমর সেন,
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী ইত্যাদি।
---------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়।

• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
 
• বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৭৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি বলা হয় কাকে?
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি 'মধুকবি' নামে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি (তাঁর রচিত প্রথম মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য')।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- তিনি প্রথম বাঙালি সনেটকার। তাকে বাংলা নাটকের পথিকৃৎ বলা হয়।
- বাংলা কবিতায় আধুনিকতা আনেন কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- শুধু কবিতায় নয়, তিনি আধুনিকতা আনেন নাটকে, প্রহসনে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৮০.
নিচের কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস?
  1. ক) কৃষ্ণপক্ষ
  2. খ) বাংলাদেশ কথা কয়
  3. গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  4. ঘ) সুন্দর হে সুন্দর
সঠিক উত্তর:
গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৮১.
ফররুখ আহমদ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ছুটির দিন দুপুরে
  2. হরফের ছড়া
  3. চোর জামাই
  4. মৃগপরী
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
ব্যাখ্যা

• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - ফররুখ আহমদ। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষগ্রন্থ - ছুটির দিন দুপুরে।
- বন্দে আলী মিয়ার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো - চোর জামাই, মৃগপরী।

ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,২৮২.
"শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু'পয়সা করি দেড়ী" চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীমউদ্দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত
- এতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু'পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
(সংক্ষিপ্ত)

• জসীমউদ্দীনের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতা:
- মুসাফির (বালুচর),
- নিমন্ত্রণ (ধানক্ষেত),
- আসমানী (এক পয়সার বাঁশি) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও রাখালী কাব্যগ্রন্থ।
১৭,২৮৩.
'বত্রিশ সিংহাসন' কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. বিদ্যাসাগর
  4. রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা - বত্রিশ সিংহাসন।

• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য ।

-------------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৮৪.
“বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।''
- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) ফররুখ আহমদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
“বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।''
---------------------পঙক্তিটির রচয়িতা- 'কাজী নজরুল ইসলাম'। 
 
• কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা ,
- বিষের বাঁশি ,
- ভাঙার গান ,
- সাম্যবাদী ,
- সর্বহারা ,
- ঝিঙে ফুল ,
- ফণি-মনসা ,
- জিঞ্জির ,
- সন্ধ্যা ,
- নতুন চাঁদ ,  
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

• প্রশ্নে উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশ বিশেষ। 
- কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
- এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমার কৈফিয়ৎ- কবিতা,
---------------কাজী নজরুল ইসলাম। 

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
----------------------------------
----------------------------------
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে! 
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, আমার কৈফিয়ৎ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৭,২৮৫.
'উত্তম ও অধম' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্য: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু
- মণি মঞ্জুষা
- অন্যদিকে 

উত্তম ও অধম- কবিতা 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তাই।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে র্ভৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাতঁ?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়ে
দংশি কেমন করে?”
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৮৬.
'চারদিকে যুদ্ধ' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'চারদিকে যুদ্ধ' নাটক:
- নাট্যকার: আবদুল্লাহ আল মামুন।
- নাটকটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
-------------------------------- 
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস, 
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৮৭.
’অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ’অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- অমিয় চক্রবর্তী।

• অমিয় চক্রবর্তী:

- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। 
-  তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের:
- খসড়া,
- এক মুঠো ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার ,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই ,
- সাম্প্রতিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৮৮.
‘অদ্ভুত আঁধার এক’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৮৯.
কোনটি জসীমউদ্‌দীনের রচনা?
  1. গাজী মিয়ার বস্তানী
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

- তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
• ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ মীর মশাররফ হােসেনের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা।
• 'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপনাসের রচয়িতা - আবু জাফর শামসুদ্দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৯০.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. আব্দুল হাই
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৯১.
“যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কবির কাব্য সম্পর্কে বলেছেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• “যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সম্পর্কে।

এমন মন্তব্যের কারণ:
কবি কাজী নজরুল ইসলাম যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।
সমকালীন অনেক রবীন্দ্রভক্ত ও অনুরাগী কবি-সাহিত্যিক বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন নি। এ ব্যাপারে কেউ কেউ অভিযোগ করলে রবীন্দ্রনাথ তাঁদের নজরুল-কাব্যপাঠের পরামর্শ দেন এবং বলেন- 'যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।’

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৭,২৯২.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) ঝরা পালক
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) সাঝের মায়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাঝের মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাঝের মায়া
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে-
- ঝরা পালক 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- রুপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৭,২৯৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,২৯৪.
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - কোন্ কবিতার পঙক্তি?
  1. মানুষ
  2. নারী
  3. সাম্যবাদী
  4. বারাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা ‘সাম্যবাদী’র শেষ পঙক্তি এটি।
উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।


১৭,২৯৫.
শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রাজবন্দীর রোচনামচা
  2. খ) সারেং বৌ
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক - রাজনৈতিক পরিবর্তনের ও রূপান্তরের চিত্র ধারন করা উপন্যাস - সংশপ্তক। এটি শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকব্যিক উপন্যাস। এটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ রাবেয়া খাতুন, জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল প্রমুখ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৯৬.
‘ফেরারী সূর্য’ কার লেখা?
  1. ক) রাবেয়া খাতুন
  2. খ) রিজিয়া খান
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ক) রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

'ফেরারী সূর্য' উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন। তিনি পেশায় শিক্ষক ও সাংবাদিক। তার অন্যান্য উপন্যাস :বায়ান্ন গলির এক গলি, অনন্ত অন্বেষা, মধুমতি, সাহেব বাজার।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।

১৭,২৯৭.
'মানসী' কাব্যগ্রন্থকে কে "রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব" বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'মানসী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন। এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল।
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,২৯৮.
‘পথে প্রবাসে’ কার লেখা?
  1. ক) ড. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- পথে প্রবাসে আন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি। এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৭,২৯৯.
কোনটি বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. মধুমতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. ময়নামতীর চর
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
•'পদ্মার পলিদ্বীপ' বন্দে আলী মিয়া রচিত গ্রন্থ নয়।
•'পদ্মার পলিদ্বীপ' আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস। 

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

• তাঁর রচিত নাটক:
- মসনদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩০০.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. সার্বজনীন
  3. জননী
  4. দিবারাত্রির কাব্য
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা

'জননী’ উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।
- চরিত্র ও কাহিনির নির্মোহ বাস্তব রূপায়ণ এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- জন্মপঞ্জিকায় তাঁর নাম 'অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- সহরবাসের ইতিকথা,
- সার্বজনীন,
- অহিংসা,
• আরোগ্য ইত্যাদি।
- জননী তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।