বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫৪ / ১৭৪ · ১৫,৩০১১৫,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,৩০১.
'সোজন ও দুলি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) জসীমউদ্দী‌ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দী‌ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দী‌ন
ব্যাখ্যা
কবি জসীম উদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে।
এ কাব্যটির প্রধান চরিত্র মুসলমান চাষীর ছেলে সোজন আর হিন্দুর মেয়ে দুলি।
কাব্যটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে 'Gypsy Wharf' (১৯৬৯) শিরোনামে অনূদিত হয়। গ্রাম বাংলার অপূর্ব অনবদ্য রূপকল্প এই কাব্য গ্রন্থের প্রধান চরিত্র সোজন ও দুলি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩০২.
'নতুন কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
আশরাফ সিদ্দিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশরাফ সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩০৩.
'একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. এম আর আখতার মুকুল
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
এম আর আখতার মুকুল:
- তিনি সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩০৪.
’আহুতি’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ’আহুতি’ গল্পগ্রন্থের লেখক- প্রমথ চৌধুরী।

• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩০৫.
'বিসর্জন' নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. রঘুপতি
  2. গোবিন্দমাণিক্য
  3. গুণবতী
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
রঘুপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঘুপতি
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়। 
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩০৬.
'পালামৌ' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- যাত্রা, বৈজিকতত্ত্ব, বাল্যবিবাহ, সৎকার, বৃত্রসংহার ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
- কণ্ঠমালা, মাধবীলতা, জালপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৩০৭.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।' এই কালোত্তীর্ণ বাক্য কোন গ্রন্থের?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পালামৌ
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা

 "বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে":
- চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- এই বাক্য সৃষ্টির মাধ্যমে লেখক স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

 সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ডেপুটি কালেক্টরেট যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘পালামৌ' যা 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথমে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা।
- মাধবীলতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩০৮.
'সাঁঝের মায়া' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. নুরজাহান বেগম
  4. রিজিয়া রহমান
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• 'সাঁঝের মায়া' সুফিয়া কামাল রচিত একটি কবিতা। কবিতাটি 'সাঁঝের মায়া' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:

- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তদানিন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়। সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

১৫,৩০৯.
অমিয় চক্রবর্তী'র প্রথম প্রকাশিত বই কোনটি?
  1. কবিতাবলী
  2. খসড়া
  3. মাটির দেয়াল
  4. অনিঃশেষ
সঠিক উত্তর:
কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতাবলী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:  
- কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। 
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে (ব্যক্তিগত সচিব) এসেছিলেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে অমিয় চক্রবর্তী অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'। 

তাঁর বিশেষ কাব্যগ্রন্থগুলো:  
• খসড়া, 
• এক মুঠো, 
• মাটির দেয়াল, 
• পারাপার, 
• পালাবদল, 
• ঘরে ফেরার দিন, 
• পুষ্পিত ইমেজ, 
• অনিঃশেষ, 
• অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩১০.
‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. নুরুল মোমেন
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বাংলায় সর্বাধিক সংখ্যক নাটক রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ মঞ্চাভিনয়ের প্রথম যুগে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় প্রতিভাবলে এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ১৮৭৭ সালে মেঘনাদবধ কাব্যে রামচন্দ্র ও মেঘনাদ উভয় ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দেখে সাধারণী পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার তাঁকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন।

-------------------
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।

- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন। পরে দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৮৭১ সালে বাগবাজার দল ন্যাশনাল থিয়েটার নামে প্রথম সাধারণ রঙ্গমঞ্চ স্থাপন করে অভিনয় আরম্ভ করে। ১৮৮০ সালে তিনি পার্কার কোম্পানির চাকরি ত্যাগ করে কম বেতনে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের ম্যানেজার হন। তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) এ মঞ্চেই অভিনীত হয়।

-  গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন। তিনি অধিকাংশ নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেছেন এবং বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সুযোগ করে দিয়ে একটি অভিনয় স্কুল গড়ে তুলেছিলেন।

- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 

- তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০। সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো: অভিমন্যুবধ (১৮৮১), সীতার বনবাস (১৮৮১), সীতাহরণ (১৮৮২), পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২), প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪), আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪), সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫), মীরকাশিম (১৯০৬), ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭), শঙ্করাচার্য (১৯১০), বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৫,৩১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন কবিতায় ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে বলেছেন?
  1. বন্ধন
  2. বর্ষা-যাপন
  3. মুক্তি
  4. সোনার বাঁধন
সঠিক উত্তর:
বর্ষা-যাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষা-যাপন
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বর্ষা-যাপন' কবিতায় ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে বলেছেন।
- কবিতাটি তাঁর 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

বর্ষা-যাপন,
--- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রাজধানী কলিকাতা; তেতালার ছাতে
কাঠের কুঠরি এক ধারে;
আলো আসে পূর্ব দিকে প্রথম প্রভাতে,
বায়ু আসে দক্ষিণের দ্বারে।
-----------------------------------
ছােটো প্রাণ, ছােট ব্যথা,   ছােটো ছােটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি    প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা    ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,   সাঙ্গ করি' মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সোনার তরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৫,৩১২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. মাহমুদুল হক
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩১৩.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর পৈত্রিক নিবাস কোথায়?
  1. বর্ধমান
  2. নদীয়া
  3. ময়মনসিংহ
  4. নেত্রকোনা
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্পভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• নাটক:
• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

• রোমান্টিক নাটক:
- সীতা,
- ভীষ্ম,
- সোহরাব- রুস্তম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী,
- কল্কি অবতার, 
- বিরহ,
- পূণর্জন্ম,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- আনন্দ বিদায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩১৪.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কি ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. কাব্যনাট্য
  3. উপন্যাস
  4. পত্রোপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর, কুড়িগ্রামে।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- তিনি মূলত লেখক হিসাবে পরিচিত।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওায়াজ পাওায়া যায়,
- নুরুলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর একমাত্র প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

গল্প:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩১৫.
'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. এস, ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. লুৎফর রহমান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
ব্যাখ্যা

'সওগাত' পত্রিকা:
- 'সওগাত' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩১৬.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সামাজিক নাটক?
  1. নূরজাহান
  2. বঙ্গনারী
  3. মেবার পতন
  4. দুর্গাদাস
সঠিক উত্তর:
বঙ্গনারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গনারী
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী,
- এক ঘরে
- কল্কি অবতার,
- বিরহ
- পূণর্জন্ম,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- আনন্দ বিদায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- ১৯ জুলাই, ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।
- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind.

• তাঁর রচিত নাটক:

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

• রোমান্টিক নাটক:
- সীতা,
- ভীষ্ম,
- সোহরাব-রুস্তম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩১৭.
"হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?"
কহিলাম, "উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?"-পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের লেখক কে? 
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কুসুমকুমারী দাস 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• কবিতা- তাহারেই পড়ে মনে।
কবি- সুফিয়া কামাল।

"হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?"
কহিলাম, "উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?"
কহিল সে কাছে সরে আসি-
"কুহেলি উত্তরূ তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।"

- এই পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অংশ।
- কবিতার মূলভাব হলো প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক। 
- স্বামীর মৃত্যুর পর কবির মনে এমন দুঃখ জমে আছে যে বসন্তের আগমনও তাকে আনন্দ দিতে পারে না।
- প্রকৃতির সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন হয়ে ওঠে।
- এই কবিতায় কবির অন্তরের বিষাদ, শূন্যতা ও একাকীত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- সংলাপধর্মী রীতিতে কবি নিজের চাপা কষ্ট প্রকাশ করেছেন;
- যা প্রিয়জন হারানোর মানবিক বেদনা ও জীবনের চিরন্তন দুঃখকে সহজভাবে তুলে ধরে।
------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
- স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৫,৩১৮.
'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আকরাম-আল-হোসেন
  2. আবু সয়ীদ আইয়ুব
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. শাহ্ কামাল
সঠিক উত্তর:
শাহ্ কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ্ কামাল
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই:
- শাহ্ কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট ১২৬টি কবিতা আছে।
- 'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' গ্রন্থটির নাম কবিতা।
- 'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' কবিতাটির কিছু লাইন -

স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই

যুদ্ধ! যুদ্ধ! যুদ্ধ!
স্বার্থের যুদ্ধ
ক্ষমতার যুদ্ধ
ধর্মের যুদ্ধ
বর্ণবাদের যুদ্ধ
হিংসার যুদ্ধ
সব যুদ্ধে একাকার বিশ্ব
আমি যুদ্ধ চাই না
তুমিও যুদ্ধ চাওনা
অথচ যুদ্ধ হচ্ছে
যুদ্ধ হবে
যুদ্ধ হয়

শাহ্ কামাল:
- তিনি ২৮ ই অক্টোবর, ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম কামাল হোসেন।
- পিতা - পিয়ার আলী, মাতা - আলেয়া বেগম।
- সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান 'কণ্ঠশীলন' হতে তিনি সম্মান এর সাথে উত্তীর্ণ হন।
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি একজন সফল শিক্ষক প্রশিক্ষকও।
- সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে অভীজ্ঞ এই শিক্ষক জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ওয়ার্কশপের নির্বাচিত সহকারী শিক্ষক।
- ২০০৪ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'একা' প্রকাশিত হয়।
- ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় 'কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এর সভাপতি তিনি। 
- 'কিছুমিছু' গ্রুপ থেকে সম্মাননা স্মারক পেয়েছন ২০২২ সালে।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বৃষ্টির অনশনে শিশিরের কান্না বিলাস,
- ওরা কী চায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দিন চলে যায়,
- জমশেদ আলীর মেহমানদারী।

উৎস: 'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' কাব্যগ্রন্থ, শাহ্ কামাল।
১৫,৩১৯.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম 
  2. আহমদ ছফা
  3. নীহাররঞ্জন রায়
  4. বদরুদ্দীন উমর 
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৫,৩২০.
কাজী নজরুল ইসলামকে 'ডি. লিট' উপাধি দেওয়া হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯)।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে দেশ স্বাধীনের পর কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে ১৯৭৪ সালের ৯ মে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত তাকে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩২১.
"রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস" ত্রয়ীকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. কায়কোবাদ
  4. কালিদাস
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, 
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্যের নাম বৃত্রসংহার আর নবীনচন্দ্র সেনের মহাকাব্য দুটি—পলাশীর যুদ্ধ এবং তিন খণ্ডে রচিত মহাকাব্য রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস। 

• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩২২.
'যোগাযোগ' উপন্যাসটি প্রথম কোন নামে প্রকাশিত হয়?
  1. বিচিত্রা
  2. যোগাযোগ
  3. ঘরে বাইরে
  4. তিন পুরুষ
সঠিক উত্তর:
তিন পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন পুরুষ
ব্যাখ্যা
‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে 'তিন পুরুষ' নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।
১৫,৩২৩.
“একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী” - চরণটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? 
  1. অর্কেস্ট্রা
  2. অমরাবতী
  3. তন্বী
  4. মেঘদূত
সঠিক উত্তর:
অর্কেস্ট্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা

- ‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।
- অন্যদিকে, 'অমরাবতী' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৩২৪.
'রসকলি' গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. আল মাহমুদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য বহ্নি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩২৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে'- ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা- 
  1. শওকত ওসমান
  2. সানাউল হক
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
ব্যাখ্যা

• 'বন্দর থেকে বন্দরে'- ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা 'সানাউল হক'।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

--------------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩২৬.
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পরিচয় 
  2. পূর্বাশা
  3. মাসিক মোহাম্মদী 
  4. ভারতী 
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি। কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩২৭.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন' রচনা করেন -
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সেলিনা হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১৫,৩২৮.
বুদ্ধদেব বসু কোন কাব্যগ্রন্থটিকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব” হিসেবে অভিহিত করেছেন?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. সোনার তরী
  3. মানসী
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা

• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি।

• উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা।

১৫,৩২৯.
‘আসাদের শাট’ কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত হয়?
  1. ১৯৫২ -র ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান
  3. ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৬৬- ছয়দফা
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
-  ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। 
-----------------------------------------------
• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
-  ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে। 
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৩০.
কোনটি জহির রায়হানের রোমান্টিক উপন্যাস?
  1. ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. খ) আরেক ফাল্গুন
  3. গ) বরফ গলা নদী
  4. ঘ) আর কত দিন
সঠিক উত্তর:
ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা
শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস এবং এটি একটি রোমান্টিক উপন্যাস। তার অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো- আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কতদিন, হাজার বছর ধরে, কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি, তৃষ্ণা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৩৩১.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত প্রবন্ধ নয়?
  1. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা 
  2. যুগবাণী
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. রাজবন্দীর রোজনামচা
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা

রাজবন্দীর রোজনামচা শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি।
- এখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিগুলো তুলে ধরেছেন।

রাজবন্দীর জবানবন্দী:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধ।
- ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ ধূমকেতু পত্রিকায় তাঁর কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করা হয়।
- ২৩ নভেম্বর একই বছরে তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- গ্রেফতারের পর তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
- আদালতে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য দেন।
- এই লিখিত বক্তব্য পরবর্তীতে রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে প্রকাশিত হয়।
- নজরুল প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানান।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- আমি সৈনিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৩২.
কোন প্রতিষ্ঠান নূরন্নেছা খাতুন কে ‘সাহিত্য সরস্বতী’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি
সঠিক উত্তর:
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ
ব্যাখ্যা

নূরন্নেছা খাতুন:
- প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯৯৪ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা খোন্দকার হাবিবুস সোবহান সরকারি চাকুরে ছিলেন। পূর্ব-পুরুষ শাহ তাহের ছিলেন পীর।
- স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইংরেজি শিক্ষার ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান। স্বামীর কর্মোপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে গমন ও ভ্রমণের ফলে বহির্জগত সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ফলে একজন সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে।
- কোহিনুর মাসিক পত্রিকার ১৩১৮ সনের বৈশাখ সংখ্যায় নূরন্নেছা খাতুনের ‘আহবান-গীতি’ নামে একটি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস স্বপ্নদৃষ্টা ১৯২৩ সালে শ্রীরামপুর (হুগলী) থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য যে, বেগম রোকেয়ার (১৮৮০-১৯৩৩) পদ্মরাগ উপন্যাসটি এর এক বছর পর ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি’ তাঁকে ‘বিদ্যাবিনোদিনী’ এবং ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ‘সাহিত্য সরস্বতী’ উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৩৩.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা' এর রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা' এর রচয়িতা - ফররুখ আহমদ
- এটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৩৪.
‘পূজারিণী ও বেলাশেষে’ কবিতাদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সিন্ধু হিন্দোল
  2. ভাঙার গান
  3. দোলন চাঁপা
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
দোলন চাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলন চাঁপা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- রাজবন্দি হিসেবে জেলে থাকা অবস্থায় কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থটি ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে প্রকাশিত হয়।
- এতে হয়েছে ২১ টি কবিতার সংকলন। এটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।

• অন্যন্য কবিতাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বেলাশেষে,
- পূবের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- পূজারিণী,
- কবি-রানী ইত্যাদি।

-----------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলন চাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৩৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে' রম্য রচনাটির রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
খ) সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা

• সানাউল হক মূলত কবি ছিলেন।
• তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' তাঁর রচিত রম্যরচনা।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- প্রবাসে যখন,
- বিরাশির কবিতা,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ,
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে,
- কাল সমকাল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৩৬.
'অবরোধবাসিনী' প্রবন্ধটির রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
গ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন(১৮৮০-১৯৩২) রচিত উপন্যাস পদ্মরাগ (১৯২৪)। তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধঃ মতিচুর, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ১ম পত্র নবম দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
১৫,৩৩৭.
‘জয়গুন’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আবু ইসহাক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• ‘জয়গুন’ চরিত্রের স্রষ্টা- আবু ইসহাক।

• সূর্য দীঘল বাড়ী:

- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

------------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৩৮.
'দীপনির্বাণ' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস - দীপনির্বাণ।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- ছিন্নমুকুল, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, কাহাকে, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি ইত্যাদি।
বিবাহ উৎসব, বসন্ত উৎসব - ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৩৯.
আহমদ ছফা রচিত কবিতা কোনটি?
  1. ক) অলাতচক্র
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) কবি ও কোলাহল
  4. ঘ) জল্লাদ সময়
সঠিক উত্তর:
ঘ) জল্লাদ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জল্লাদ সময়
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস হলোঃ ‘অলাতচক্র’। ‘জল্লাদ সময়' আহমদ ছফা রচিত কবিতা। আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত কাব্য হলো ‘মানচিত্র’। আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস হলো ‘ কবি ও কোলাহল’। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৩৪০.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) পত্রসংকলন
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার।
এছাড়াও,
- কখনো রং কখনো সুখ, কোমলের চোখ ও আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি তাঁর রচিত অন্যতম কাব্যগ্রন্থ।
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা হল আমি কিংবদন্তির কথা বলছি।

তার অন্যতম কবিতা : মাগো ওরা বলে, কোন এক মাকে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

১৫,৩৪১.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' - কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) শেষের কবিতা
  4. ঘ) শেষ লেখা
সঠিক উত্তর:
গ) শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' - কবিতাটি 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সালে। 
- উপন্যাসের চরিত্র - অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ। 
- বিখ্যাত উক্তি "ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী" 
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' - এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
- করুণা
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
- রাজর্ষি
- চোখের বালি
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ
- গোরা
- ঘরে বাইরে
- চতুরঙ্গ
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা
- মালঞ্চ
- চার অধ্যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৪২.
‘বাংলা কাব্যের ইতিহাস’ - প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস,
- কবি নজরুল,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৪৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক-
  1. বর্ণচোরা
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কেউ কিছু বলতে পারে না
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• 'কবর' নাটক:
- একাঙ্ক বিশিষ্ট 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৪৪.
কোন বিখ্যাত কবি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দিয়েছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দিয়েছিলেন। 

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা ভাষার একজন শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি প্রদান করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৪৫.
'আকাশ ভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ।' গানটির কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অতুল প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গান-
''আকাশ ভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ।
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি,
আমি পেয়েছি মোর স্থান,
বিস্ময়ে তাই জাগে, জাগে আমার গান।।''

১৫,৩৪৬.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অনিঃশেষ
  2. মাটির দেয়াল
  3. খসড়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৪৭.
গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদ কোন লেখকের রচনার বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীনের রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫);
গল্পগ্রন্থ: জীবন (১৯৪৮), রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮), ল্যাংড়ী (১৯৮৪);
প্রবন্ধ: চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪), Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩), সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭), লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন।
শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৫,৩৪৮.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচনা নয় কোনটি?
  1. কবর
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. ওঙ্কার
  4. আর্তনাদ
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভকরে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

অন্যদিকে, 
------------------------
• 'কবর' নাটক
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ। এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

• 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' উপন্যাস:
"নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি" উপন্যাস লিখেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন। এটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস এবং এটি "একুশের উপন্যাস" নামক একটি সংকলন গ্রন্থের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৪৯.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. মালাধর বসু
  3. বিপ্রদাস পিপলাই
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না, ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৫০.
কোন বাঙালি মুসলমান কবি প্রথম মহাকাব্য রচনা করেন?
  1. কাজেম আল কোরেশী
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. আলাওল
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৫১.
কোনটি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
• ‘কালো বরফ’ মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কালো ঘোড়া’।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
১৫,৩৫২.
'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেন রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটিতে।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

---------------------
• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩৫৩.
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়।
- সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৫৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  4. গোলোকথান শর্মা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

-------------------------------
• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০০); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
 রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৫৫.
"সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"—এই বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. রূপসী বাংলা
  3. কবিতার কথা
  4. বনলতা সেন
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
ব্যাখ্যা

'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- 'কবিতার কথা' শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- 'কবিতার কথা' পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা' শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই 'সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি'।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৫৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ-র ইংরেজি ভাষায় লিখিত একটি রচনা হলো-
  1. ক) Night of no moon
  2. খ) How to Cook Beans
  3. গ) Tree without roots
  4. ঘ) Cry river cry
সঠিক উত্তর:
খ) How to Cook Beans
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) How to Cook Beans
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা তাঁর রচিত উপন্যাস।
- বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানের মৃত্যু ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
- 'নয়নচারা' ও 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' তাঁর গল্পগ্রন্থ।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans'' 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং দ্যা ডেইলি স্টার।
১৫,৩৫৭.
'আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে'- পঙ্‌ক্তিটিতে 'পল্বলে' বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) ঢেউ
  2. খ) চাকা
  3. গ) ক্ষুদ্র জলাশয়
  4. ঘ) উজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষুদ্র জলাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষুদ্র জলাশয়
ব্যাখ্যা
'আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে'- পঙ্‌ক্তিটিতে 'পল্বলে' বলতে 'ক্ষুদ্র জলাশয়' বোঝায়। 

• পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'আজ সৃষ্টি-  সুখের উল্লাসে' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 
রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে দ্বারা কবি বুঝিয়েছেন- প্রাণের বদ্ধ জলাশয়ে বা প্রাণ রূপ জলাশয়ে। 

'আজ সৃষ্টি-  সুখের উল্লাসে' কবিতার কয়েকটি লাইন-
"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে ! 

উৎস: 'আজ সৃষ্টি-  সুখের উল্লাসে' কবিতা- কাজী নজরুল ইসলাম; নবম দশম শ্রেণি।
১৫,৩৫৮.
‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. মোজাম্মেল হক
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'সওগাত' পত্রিকা:
'সওগাত' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন — মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৫৯.
'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' - কাব্যদুটি কার রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. ঘ) লালন শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩):
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
-  বান্ধব,  ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু,  সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার ১৮৮৯ সালে তাঁকে 'নওয়াব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
--------------
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী - নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৬০.
'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত 'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক আবু ইসহাক। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৬১.
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসের রচয়িতা আবদুল মান্নান সৈয়দ।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস - পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী, অ-তে অজগর, গভীর গভীরতর অসুখ, ক্ষুধা প্রেম আগুন, শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৬২.
'হাতহদাই' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন
 ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবি, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।

নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
কাব্যগ্রন্থ-
- কবি ও তিমি (১৯৯০),

উপন্যাস-
- অমৃত উপাখ্যান (২০০৫)। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক (১৯৭৩),
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫),
- বাসন (১৯৮৫)
- কীর্তন খোলা (১৯৮৩) ,
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮),
- প্রাচ্য (১৯৯৮),
- হাতহদাই (১৯৯৭),
- যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩),
- চাকা (১৯৯১),
- হরগজ (১৯৯২),
- একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৫),
- বনপাংশুল (১৯৯৬),
- নিমজ্জন (২০০২),
- ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল (২০০৭),
- ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ (নৃত্যনাট্য, ২০০৭),
- পুত্র (২০০৮) ইত্যাদি।

- ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর 'চাকা' নাটকের চলচ্চিত্রায়ন করেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম এবং
- ২০০১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর 'কিত্তনখোলা' নাটক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন আবু সাইয়িদ।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৫,৩৬৩.
আধুনিক যুগের কোন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. ফররুখ আহমদ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

- আধুনিক যুগের দুইজন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন।
- তাঁরা হলেন মীর মশাররফ হোসেন ও কায়কোবাদ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১৫,৩৬৪.
‘রসকলি’ - গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫৬ সালে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।
- তাঁর ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ধাত্রীদেবতা।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৬৫.
'আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না, আড়ম্বর করি কাজ করি না, যাহা অনুশীলন করি, তাহা বিশ্বাস করি না'-এ উক্তিটি করেন-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. অরুন্ধতী রায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না, আড়ম্বর করি কাজ করি না, যাহা অনুশীলন করি, তাহা বিশ্বাস করি না'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বিদ্যাসাগরচরিত’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।


---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘বিদ্যাসাগরচরিত’ গ্রন্থ।
১৫,৩৬৬.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন কবি মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী হিসেবে পরিচিত?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. আব্দুল হাকিম
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক। তাঁর ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৬৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটা?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড 
  4. সারেং বউ
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড 
ব্যাখ্যা

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।
---------------
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

'সারেং বউ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৬৮.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর 
কেমনে পশিল প্রাণের 'পর" - পঙক্তিদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত?
  1. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  2. নির্জনের স্বপ্নভঙ্গ
  3. প্রভাত সঙ্গীত
  4. কড়ি ও কোমল
সঠিক উত্তর:
প্রভাত সঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাত সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
"আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের ’পর,
কেমনে পশিল  গুহার আধারে
প্রভাত-পাখির গান।না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ" - পঙক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের 'প্রভাত সঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত।
 
- 'প্রভাত সঙ্গীত' ১৮৮৩ তে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এখানে মোট ২১টি কবিতা রয়েছে। 
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা  'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন - "প্রভাত সঙ্গীত আমার অন্তর প্রকৃতির বিহির্মুখী উচ্ছ্বাস। 

রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা 
- কল্পনা
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি
- বলাকা
- পূরবী
- পুনশ্চ
- পত্রপূট
- সেঁজুতি
- শেষলেখা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৬৯.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রাত্রিশেষ
  2. ছায়া হরিণ
  3. সারা দুপুর
  4. আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 'রাত্রিশেষ'। 

• আহসান হাবীব: 
- একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ: 
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- মোট কবিতার সংখ্যা - ২৮।
- গ্রাম ও নগর উভয়কেন্দ্রিক কবিতা এখানে আছে। 

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা, 
- আশায় বসতি, 
- সারা দুপুর, 
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৭০.
‘নীলদর্পণ’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ কোন নামে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. Mirror of Bengal
  2. Indigo Story
  3. Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
  4. Blue Glass
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।


উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫,৩৭১.
'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. জীববানন্দ দাশ
  4. কায়বোবাদ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩৭২.
হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্ট ‘হিমু’ চরিত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে কোন উপন্যাসে?
  1. নন্দিত নরকে
  2. ময়ূরাক্ষী
  3. বহুব্রীহি
  4. শঙ্খনীল কারাগার
সঠিক উত্তর:
ময়ূরাক্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়ূরাক্ষী
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্ট ‘হিমু’ চরিত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘ময়ূরাক্ষী’ উপন্যাস দিয়ে
- ১৯৯০ সালে মে মাসে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে চরিত্রটি পাঠকদের, বিশেষ করে তরুণ সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- এই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী একে একে প্রকাশিত হতে থাকে- দরজার ওপাশে, হিমু, পারাপার, এবং হিমু, হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম , হিমুর দ্বিতীয় প্রহর, হিমুর রূপালী রাত্রি, একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা, তোমাদের এই নগরে, সে আসে ধীরে, চলে যায় বসন্তের দিন, হিমু মামা প্রভৃতি।

হুমায়ূন আহমেদ:
• হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) - কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ।
ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

 হুমায়ুন আহমেদ রচিত স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:  হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাস
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আনন্দ বেদনার কাব্য, 
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, 
- আমার আছে জল, 
- ফেরা, 
- নক্ষত্রের রাত, 
- প্রিয়তমেষু, 
- বাসর, 
- এলেবেলে (১ম পর্ব-২য় পর্ব),
- সাজঘর, 
- ছায়াসঙ্গী, 
- বহুব্রীহি, 
- অয়োময়,  
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,  
- কোথাও কেউ নেই প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৭৩.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) শিখা
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) সাধনা
সঠিক উত্তর:
গ) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল চমৎকার।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকার নাম 'সংবাদ প্রভাকর' 
- এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।  

[উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা]
১৫,৩৭৪.
কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী?
  1. ক) আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে
  2. খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
  3. গ) উন্নত জীবন
  4. ঘ) সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা
‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- এছাড়া, প্রাচ্য ও প্রতিষ্ঠিত, জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস - গ্রানাডার শেষ বীর।
- তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী - মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৭৫.
'নীল দর্পণ' নাটকটির বিষবস্তু কী?
  1. নীলকরদের অত্যাচার
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. তে-ভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
নীলকরদের অত্যাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলকরদের অত্যাচার
ব্যাখ্যা
• নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

----------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীল-দর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৭৬.
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস? 
  1. বসন্তকুমারী
  2. জমীদার দর্পণ
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. এর উপায় কি
সঠিক উত্তর:
বিষাদ-সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

​তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

​প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

​উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,৩৭৭.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' আখ্যা দিয়েছেন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু। 
- তার কাব্যবৈশিষ্টকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৭৮.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট-
  1. ক) বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) দেশবিভাগ
  3. গ) দুর্ভিক্ষ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সূর্য দীঘল বাড়ি আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৩৭৯.
নিচের কোনটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস?
  1. আবদুল্লাহ
  2. আনােয়ারা
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
- মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের প্রধান আশ্রয় পাত্র-পাত্রীর মনােজগতের ঘাত-সংঘাত ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া।
- চরিত্রের অন্তর্জগতের জটিল রহস্য উদ্ঘাটনই ঔপন্যাসিকের প্রধান লক্ষ্য। 
- মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে কাহিনি অবলম্বন মাত্র, প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে মানবমনের জটিল দিকগুলাে সার্থক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা।
- বিশ্বসাহিত্যে ফরাসি লেখক গুস্তাভ ফ্লবেয়ার লিখিত ‘মাদাম বােভারি',
- রুশ লেখক দস্তয়ভস্কি লিখিত ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট এবং
- বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের ‘চতুরঙ্গ', সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র ‘চাঁদের অমাবস্যা’ ও ‘কাঁদো নদী কাঁদো' মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের উজ্জ্বল উদাহরণ।
উৎস : একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সহপাঠ।
১৫,৩৮০.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. কল্লোল
  3. সাধনা
  4. প্রবাসী
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা

শেষের কবিতা:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫,৩৮১.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. নীললোহিত 
  2. রায়তের কথা
  3. নানাকথা
  4. তেল-নুন-লকড়ি
সঠিক উত্তর:
নীললোহিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীললোহিত 
ব্যাখ্যা

•  প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়- 'নীললোহিত'। 
• 'নীললোহিত' প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী 'বীরবল' ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৮২.
'শ্রীমতি মধ্যমা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো: অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায়; অনুরূপা দেবী; পরশুরাম; শ্রীকান্ত শর্মা ও সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৮৩.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আশায় বসতি
  2. চিত্তনামা
  3. ছায়ানট
  4. ছায়াময়ী
সঠিক উত্তর:
ছায়াময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়াময়ী
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ - ছায়াময়ী
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮০ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটি দান্তের 'ডিভাইন কমেডিয়া'র অনুসরণে লেখা।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে  খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

অন্যদিকে,
• আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ - আশায় বসতি।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত জীবনীকাব্য - চিত্তনামা।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ - ছায়ানট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৮৪.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৮৫.
'সুরেন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. পল্লীসমাজ
  2. বড়দিদি
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
বড়দিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়দিদি
ব্যাখ্যা

বড়দিদি:
-  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)।
- 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া ও বড়দিদি উপন্যাস।

১৫,৩৮৬.
কোনটি সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প?
  1. ওটেন সাহেবের বাংলো
  2. ক্ষুদে সোশালিস্ট
  3. নওল কিশোরের দরবারে
  4. ডানপিটে শওকত
সঠিক উত্তর:
নওল কিশোরের দরবারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওল কিশোরের দরবারে
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

---------------------
অন্যদিকে,
• ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’ ও ‘ক্ষুদে সোশালিস্ট’ শওকত ওসমান রচিত একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
• ‘ডানপিটে শওকত’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৮৭.
“তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদী
  2. সওগাত
  3. ধূপছায়া
  4. বিচিত্রা
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

• "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন। 

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• 'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক। 
• 'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি। 

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ। 

১৫,৩৮৮.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. সমকাল
  3. কালি ও কলম
  4. ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমকাল
ব্যাখ্যা

• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে 'সমকালে'র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে 'সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

---------------------
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক ও সাহিত্য-সাময়িকী 'শনিবারের চিঠি' (প্রতিষ্ঠা ১৯২৪) পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রাণপুরুষ ছিলেন কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস। যদিও পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস।
- এই পত্রিকাটিতে তীব্র অথচ হাস্যরসাত্মক সমালোচনার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্য কর্মকাণ্ডে বিশেষ প্রভাব ফেলা হতো। 

• 'ইত্তেফাক' পত্রিকা:
- ১৯৪৯ সালের ১৫ আগস্ট সাপ্তাহিক হিসেবে ইত্তেফাক যাত্রা শুরু করে যার সম্পাদক ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও প্রকাশক ছিলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তাসমিমা হোসেন।

• 'কালি ও কলম' পত্রিকা:
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বর্তমান সময়ের সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা 'কালি ও কলম'-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাত। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুব্রত বড়ুয়া এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৮৯.
আহমদ ছফা কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. উত্থানপর্ব
  2. সাহিত্য সংক্রান্তি
  3. সমাচার চন্দ্রিকা
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
উত্থানপর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্থানপর্ব
ব্যাখ্যা
• আহমদ ছফা কোন সম্পাদিত পত্রিকার নাম  'উত্থানপর্ব'।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:

- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা 'সাহিত্য সংক্রান্তি'।
- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা 'সমাচার চন্দ্রিকা'।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা 'কবিতা'।

উৎস:

১. বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৯০.
'তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটিতে নিচের কোন চরিত্রটি পাওয়া যায়? 
  1. জমিদার রঘুনাথ
  2. পুরোহিত মাধব
  3. ডাক্তার পরাশর
  4. গ্রামপ্রধান হরিনাথ
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার পরাশর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার পরাশর
ব্যাখ্যা

তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প:
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডাক্তার পরাশর এই গল্পের একটি চরিত্র।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:

• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী 
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৯১.
বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ধূসরতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- অপশন (ঘ) কোনোটিই নয়। 

• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ:
 - ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি, 
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৯২.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) রশীদ করিম
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
গ) রশীদ করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
- 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন রশীদ করিম।
রশীদ করিম রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস
- উত্তমপুরুষ
- প্রষন্ন পাষাণ
- আমার যত গ্লানি সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি।
• প্ৰবন্ধ
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি

• স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তি অস্থিরতাকে আশ্রয় করে রশীদ করিম রচনা করেন 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাসটি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৯৩.
'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৯৪.
কোনটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা নয়?
  1. বেদান্তচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. লিপিমালা
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
লিপিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• বেদান্তচন্দ্রিকা, হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা।

অন্যদিকে, 
• রামরাম বসুর রচনা - লিপিমালা।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। 
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৯৫.
নিচের কোনটি নাটক ?
  1. ক) একপয়সার বাশিঁ
  2. খ) বহুবচন
  3. গ) উত্তরণ
  4. ঘ) খাতার শেষপাতা
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরণ
ব্যাখ্যা

আ. ন. ম. বজলুর রশীদ (১৯১১ - ১৯৮৬) একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক ছিলেন।
তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত নাটকঃ
- ঝড়ের পাখি
- উত্তরফল্গুনী
- ত্রিমাত্রিক
- রূপান্তর
- উত্তরণ 
- সুর ও ছন্দ ইত্যাদি।

- ‘একপয়সার বাশিঁ’ কবি জসীমউদ্‌দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ।

১৫,৩৯৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলোর ভাষা, শব্দচয়ন ও ভাবগঠনে কোন সাহিত্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. ফারসি সাহিত্যের 
  2. সংস্কৃত সাহিত্যের 
  3. হিন্দি সাহিত্যের 
  4. রুশ সাহিত্যের 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত সাহিত্যের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত সাহিত্যের 
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলো মূলত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে সহায়ক ছিল। এ সময়ের লেখকরা অনুবাদ ও মৌল রচনায় ব্যাপকভাবে সংস্কৃত সাহিত্যকে অনুসরণ করেছেন। ফলে ভাষা, শব্দচয়ন ও ভাবগঠনে সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত) পর্বে (বিশেষত ১৮০১-১৮১৫) বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এই সময়ে রচিত বাংলা গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে দেশীয় পণ্ডিতরা (যেমন, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা) এই কাজ করেন। এই গ্রন্থগুলো কলেজের ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত হয়েছে, যাতে সংস্কৃতের কৃত্রিম গাম্ভীর্য এবং সাধু ভাষার প্রাধান্য লক্ষণীয়।

উদাহরণস্বরূপ:
• হিতোপদেশ (গোলকনাথ শর্মা, ১৮০২; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ।
• বত্রিশ সিংহাসন (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০২): সংস্কৃত কথাসাহিত্যের অনুবাদ।
• রাজাবলি (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত ইতিহাসের অনুবাদ।
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১): এটি বাংলা গদ্যের প্রথম মুদ্রিত জীবনচরিত্র, কিন্তু সংস্কৃত শৈলীতে রচিত এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে (মৌলিক বলে বিবেচিত হলেও, সংস্কৃত প্রভাব প্রধান)।

যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব শৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, কথোপকথন বা লিপিমালা), তবুও অধিকাংশই অনুবাদভিত্তিক। এই পর্ব বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতীকরণ করেছে, যা পরবর্তীকালে চলিত ভাষার প্রসারে সাহায্য করেছে।

------------------------
ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১), লিপিমালা (১৮০২)।
গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলি (১৮০৮), প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৩৯৭.
'মাগো, ওরা বলে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 'মাগো, ওরা বলে', ,কোন এক মাকে'। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা, আমার সময়, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৩৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সাধনা
  2. পূর্বাশা
  3. বাসনা
  4. সুধাকর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন-
- সাধনা (১৮৯৪),
- ভারতী (১৮৯৮),
- বঙ্গদর্শন (১৯০১),
- তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

-------------
• ‘ভারতী' পত্রিকা:
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

---------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

------------------
• 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা:
- 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিল। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মসমাজের মাহাত্ম প্রচার‌ করা।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা। এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
• শেখ ফজলল করিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘বাসনা’।
• শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘সুধাকর’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৩৯৯.
কে 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' উপদেশটি দিয়েছিলেন?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও মাত্র সতের বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তার পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তার ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতা মুক্ত। তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'। ডিরোজিও'র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১৫,৪০০.
কোন আন্দোলনের সময় দ্বিজেন্দ্রলাল রায় গণজাগরণমূলক গান রচনা করেন?
  1. স্বদেশি আন্দোলন 
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্পভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।