বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪১ / ১৭৪ · ১৪,০০১১৪,১০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,০০১.
‘আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের আমি কবি যত ইতরের’- এটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচায
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
  5. ঙ) অমিয় চক্রবতী
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
‘আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের আমি কবি যত ইতরের’- এটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথমা’ এর ‘আমি কবি যত’ কবিতার অন্তগত। এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১৪,০০২.
'কবিতা মুকুল' শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
কুসুমকুমারী দাশ:
• ১৮৭৫ (১২৮২ বঙ্গাব্দ ২১শে পৌষ) খ্রিষ্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর বাখরগঞ্জ জেলার বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ জননী অবিসংবাদিত প্রতিভাময়ী কবি কুসুমকুমারী দাশ।

• শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'কবিতা মুকুল' রচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কুসুমকুমারী দাশের কাব্যজীবন। প্রবাসী, ব্রাহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রায়ই প্রকাশিত হতো। স্বদেশী যুগের কবিতা, দেশবিভাগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের আর্তনাদমুখর কবিতা, সাময়িক ঘটনা কাব্যময় রূপ, মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনমূলক কবিতা-এরকম বহু ধরনের কবিতা লিখেছেন কুসুমকুমারী দাশ।

• বালক-বালিকাদের জন্য মুদ্রিত সচিত্র মাসিক পত্রিকাটিতে কুসুমকুমারী দাশ-এর কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। 'আদর্শ ছেলে' কবিতাটি মুকুল এর প্রথম ভাগে পৌষ ১৩০২ সপ্তম সংখ্যায় স্থান পেয়েছিলো। 'খোকার বিড়ালছানা', 'দাদার চিঠি' কবিতা দুটিও মুকুল-এ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।

উৎস: 'দিনলিপি' কুসুমকুমারী দাশ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০০৩.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. নিসর্গ সন্দর্শন
  4. সাধের আসন
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,০০৪.
'কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।'- পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. কামিনী রায়
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• 'কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।'- পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখি-সব করে রব-
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

-------------------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০০৫.
'যদ্যপি আমার গুরু' গ্রন্থে লেখক গুরু হিসেবে কার কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) ড: মুহাম্মদ ইউনুস
  2. খ) স্যার ফজলে হাসান আবেদ
  3. গ) অধ্যাপক আনিসুজ্জান
  4. ঘ) অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। 
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০০৬.
‘নেমেসিস’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. প্রেম ও বিরহ
  2. পানি পথের যুদ্ধ
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঐতিহাসিক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।
 
নুরুল মোমেন বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে ,
- শতকরা আশি ,
- রূপলেখা ,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,০০৭.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. দময়ন্তী
  2. মর্মবাণী
  3. খসড়া
  4. পুরবাসী
সঠিক উত্তর:
খসড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খসড়া
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - খসড়া।

• অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তী জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। ।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- দময়ন্তী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০০৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. রেইনকোট
  3. খোয়াবনামা
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
ব্যাখ্যা

'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- এই গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে ৷
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭)।
• তাঁর রচিত ছােটগল্প-
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত ও
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
- 'চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭) উপন্যাসের মূল উপজীব্য ১৯৬৯ - এর গণঅভ্যূত্থান।
- “দোজখের ওম” গল্পে এক দরিদ্র পরিবারের জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০০৯.
‘প্রেম ও ফুল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• ‘প্রেম ও ফুল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - গােবিন্দচন্দ্র দাস

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,০১০.
বর্ধমানের মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সাবিত্রী উপাখ্যান
  2. খ) বৃত্তায়ন
  3. গ) আগুনপাখি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) আগুনপাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আগুনপাখি
ব্যাখ্যা
Live পরীক্ষায় এই প্রশ্নের ঘ) অপশনটি অনাকাঙ্খিতভাবে ফাঁকা ছিলো।
তবে সঠিক উত্তর প্রথম ৩টি অপশনে থাকায় উত্তর বাতিল করা হয় নি।
সঠিক উত্তর - গ) আগুন পাখি।
===================
হাসান আজিজুল হক:

- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা
- আগুনপাখি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া।
- এতে বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ন ঘটেছে।


হাসান আজিজুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক ইত্যাদি। 

হাসান আজিজুল  হক রচিত গল্প:
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,  
- রোদে যাবো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো আর্কাইভ।
১৪,০১১.
'শনিবারের চিঠি' কোন শতকের পত্রিকা?
  1. উনিশ শতকের
  2. আঠারো শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' বিশ শতকের পত্রিকা। 

'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯২৪ সালে। পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন- সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০১২.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর ‘সত্যেন-প্রয়াণ’ কবিতাটি লিখেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতাটি লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।  
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০১৩.
”সনাতন পাঠক” কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমেন্দ্র মিত্র
  4. হরিনাথ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ”সনাতন পাঠক”।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন।
- নীল লোহিত
- নীল উপাধ্যায়
- সনাতন পাঠক

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমালাকান্ত।
- প্রমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম ছিলো - কৃত্তিবাস ভদ্র
- হরিনাথ মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিলো- কাঙাল হরিনাথ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১৪,০১৪.
'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে টানা গদ্য লেখা কবিতা যেমন আছে তেমনি আছে অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের ব্যবহার।
-----------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০১৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তী কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কবিতা
  2. প্রগতি
  3. পূর্ণিমা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'কবিতা' ও 'প্রগতি' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,০১৬.
'পঞ্চতন্ত্র' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সমরেশ বসু
  3. আবুল ফজল
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
 সৈয়দ মুজতবা আলী একজন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
তিনি ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে  জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস -
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

ছোটগল্পগ্রন্থঃ
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম।

রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র
- ময়ূরকণ্ঠী।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,০১৭.
'মোর প্রিয়া হবে এসো রানী' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) জসীম উদ্দীন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী,
দেব খোঁপায় তারার ফুল ।
কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির,
চৈতী চাঁদের দুল ।

কন্ঠে তোমার পরাবো বালিকা,
হংস-সারির দুলানো মালিকা ।
বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব,
মেঘ রং এলো চুল।

- কাজী নজরুল ইসলাম

১৪,০১৮.
আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. রাত্রিশেষে
  2. সারাদুপুর
  3. ছায়া হরিণ
  4. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
⇒ আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

⇒ তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

⇒ আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০১৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অবেলায় অসময়' - এর রচয়িতা কে?
  1. আমজাদ হোসেন
  2. মাহমুদুল হাসান
  3. রশীদ হায়দার
  4. শহীদুল জহির
সঠিক উত্তর:
আমজাদ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমজাদ হোসেন
ব্যাখ্যা
অবেলায় অসময়:
- আজ ছ'দিন। গোলাবারুদের প্রচণ্ড শব্দে উড়ে গেছে এদেশের সমস্ত পাখি। বসতির ধুলাবালি-কাদায় মানুষের চিহ্ন আছে শুধু, কিন্তু মানুষ নেই কোথাও। তারই পাড়ে পাড়ে, দীর্ঘ এক নদীতে, একটাই মাত্র নৌকো সাংঘাতিক সন্তর্পণে, ভয়ে ভয়ে, ছুপছুপ করে এগুচ্ছে - এভাবেই শুরু হয়েছে আমজাদ হোসেনের অনবদ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অবেলায় অসময়'
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে আমজাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের যে চিত্র এঁকেছেন তা যেমন জীবন্ত, বাস্তবানুগ, তেমনি মর্মবিদারকও।
- তাঁর উপন্যাসে বর্ণিত কাশেম, সাকিনা, ব্রজরাণী, আলীর মতো প্রতিটি চরিত্র এবং তাদের ঘিরে গড়ে ওঠা ঘটনাগুলো পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে এবং তাঁকে নিয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই ভয়াল দিনগুলোতে।

আমজাদ হোসেন:
- তিনি ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
- ১৯৫৮ সালে তাঁর যৌবনের প্রথম কবিতা ছাপা হয় পশ্চিমবঙ্গের দেশ পত্রিকায় ।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত 'কৃত্তিবাস' পত্রিকায় ছাপা হয় ছোটগল্প 'স্থিরচিত্র'।
- ছোটগল্প ও উপন্যাসে অবদানের জন্য পরপর দুইবার অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার (১৯৯৩-৯৪) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারে (২০০৪) ভূষিত হন।
- এছাড়া তিনি নাটক ও চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি (ইউএসএসআর উইমেন অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউএসএসআর জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সুভেন্যির পুরস্কারসহ) পুরস্কার।
- আমজাদ হোসেন ১৯৯৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

উৎস: 'অবেলায় অসময়' উপন্যাস, আমজাদ হোসেন।
১৪,০২০.
"রোহিনী, গোবিন্দলাল" কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. পল্লীসমাজ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,০২১.
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকটি রচনা করেন-
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. মমতাজউদ্দীন আহমদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটক:
- 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজউদ্দীন আহমদ রচিত একটি নাটক।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শতবর্ষের নাটক নামক গ্রন্থ থেকে 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটিকাটি সংকলিত ও সম্পাদিত হয়েছে।
- নাটিকাটি স্বদেশচেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নাট্যকার এখানে আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যদের মানবতাবোধ এবং দেশাত্মবোধ অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
- একজন দারোগা, দুইজন পুলিশ সদস্য এবং একজন বিপ্লবীকে নিয়ে রচিত এ নাটকের প্রতিটি চরিত্রই আপন মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

মমতাজউদ্দীন আহমদ:
- মমতাজউদ্দীন আহমদ ১৮ই জানুয়ারি ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যকার ও অভিনেতা হিসেবে খ্যাতিমান। বাংলাদেশের নাট্যশিল্প আন্দোলনের তিনি পুরোধা পুরুষ।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
- ২০১৯ সালের ২রা জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- পালা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি।

গবেষণা ও প্রবন্ধ:
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত,
- বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত,
- প্রসঙ্গ বাংলাদেশ,
- প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,০২২.
‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’ ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০২৩.
“হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো” পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. রফিক আজাদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• “হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো” পঙ্‌ক্তিটি রফিক আজাদ রচিত ‘নত হও, কুর্নিশ করো’ কবিতা অংশ।

নত হও, কুর্নিশ করো
রফিক আজাদ -সংকলিত (রফিক আজাদ)   

হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,

অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,
বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,
এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন…

--------------
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০২৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন নাটককে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন?
  1. লীলাবতী
  2. নীলদর্পণ
  3.  নবীন তপস্বিনী
  4. কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীলদর্পণ নাটকটিকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

• নীলদর্পণ নাটক:

- ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাটক এবং তাঁর সাহিত্যজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
- নাটকের মূল বিষয় হল সে সময়ের নীলচাষ ব্যবস্থা, নীলকর সাহেবদের নির্যাতন, এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষপাতমূলক আচরণ।
- প্রকাশের পর এই নাটক তৎকালীন সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উৎসাহ জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- পাদ্রি জেমস লং অনুবাদটি প্রকাশ করায় আদালত তাঁকে অর্থদণ্ড দেয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র এই নাটকটিকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’—এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
- রচনার পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি জাতীয় চেতনার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
- এটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে প্রথম ঢাকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ রঙ্গালয়-এর অভিনয় শুরু হয় এই নাটক দিয়েই।
------------------------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,০২৫.
'বাক্কা মিয়া' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. এখন দুঃসময়
  2. এখনও ক্রীতদাস
  3. মেরাজ ফকিরের মা 
  4. সুবচন নির্বাসনে
সঠিক উত্তর:
এখনও ক্রীতদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখনও ক্রীতদাস
ব্যাখ্যা

- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত "এখনও ক্রীতদাস" নাটকের চরিত্র বাক্কা মিয়া। 

• এখনও ক্রীতদাস: 
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা’ বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক, সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

» তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১৪,০২৬.
'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. শিশুতোষ গদ্য 
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থ:
• 'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ। অধিকাংশ গল্প ১৯৫০-৫১ সালে লেখা এবং সবগুলোই ইতিপূর্বে বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। 

• ১৯৫৩ সাল থেকে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর গল্প লেখার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই এত দীর্ঘদিন পর প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথম পর্যায়ের গল্পগুলোর ভাষা, আঙ্গিক ও কাহিনিগত বিভিন্ন ত্রুটি লেখকের চোখে পড়েছিল। সেজন্য গ্রন্থটি প্রকাশের আগে লেখক এসব ত্রুটি যতটা সম্ভব শুধরে নিয়ে, গোটা বইয়ের বিষয়-বৈচিত্র্য আনার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গল্পও জুড়ে দিয়েছিলেন। এই গল্পগুলো হলো- কৃষ্ণপক্ষ, পূর্বাশা, নাম ভূমিকা এবং ইতিহাস।

• গল্প লেখার প্রাথমিক প্রচেষ্টার যুগে লেখককে  সর্বাধিক উৎসাহ জুগিয়েছিলেন কবি আহসান হাবীব ও তালিম হোসেন।

----------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:

- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত গ্রন্থসমূহ
• উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থ।

১৪,০২৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' উইলিয়াম শেক্সপীয়র রচিত কোন নাটকের গদ্য অনুবাদ?
  1. অ্যা মিডসামার নাইটস ড্রিম
  2. মার্চেন্ট অব ভেনিস 
  3. টেমিং অব দ্য শ্রু
  4. কমেডি অব এররস
সঠিক উত্তর:
কমেডি অব এররস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমেডি অব এররস
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' ‘কমেডি অব এররস’ নাটকের গদ্য অনুবাদ। 
------------------------ 
'ভ্রান্তিবিলাস' নিয়ে কিছু কথা:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) মূলত উইলিয়াম শেক্সপীয়রের কমেডি অফ এররস নাটকের কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এটি একটি কৌতুকপূর্ণ বাংলা গদ্য আখ্যান বা অনুবাদ সাহিত্য। কাহিনীর মূল উপজাত্য হলো দুই জোড়া যমজ ভাই ও ভৃত্যের নামের মিলের কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি, যা পরিশেষে মিলনের মাধ্যমে সমাধান হয়। বিদ্যাসাগর শেকসপীয়রের মূল ইংরেজি নাম ও স্থান পরিবর্তন করে কাহিনীটি বাংলাভাষী পাঠকের জন্য উপযোগী করেছেন। ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, যা বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতি-এর ২২ বছর পরে প্রকাশিত হয়।
---------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

- মানবিকতা ও দয়ার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিত ছিলেন, তাকে এই উপাধি দিয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের “প্রথম শিল্পী” এবং গদ্যের জনক বলে অভিহিত করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের অসংলগ্ন রূপগুলো সংস্কার করে তা আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও ছন্দময় করেছেন।
- এছাড়া তিনি লিপি সংস্কারের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে সহজপাঠ্য করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বিদ্যাসাগর সংস্কৃত ও দর্শনে স্নাতকোত্তর স্তরে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন।
- ১৮৩৯ সালে  সংস্কৃত কলেজ থেকে তাঁকে বিদ্যাসাগর (‘জ্ঞানের মহাসাগর’) সম্মানসূচক উপাধি প্রদান করা হয়। 

- আধুনিক মনোভাবাপন্ন বিদ্যাসাগর সমাজ পরিবর্তনের জন্য সক্রিয় ছিলেন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, পুরনো মূল্যবোধ ও পরিবারভিত্তিক সংস্কার না আনলে সমাজ ও দেশের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।
- এজন্য তিনি বিধবা বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা, এবং স্ত্রীশিক্ষার প্রসারের জন্য আন্দোলন শুরু করেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হলো বেতালপঞ্চবিংশতি। 
- এই গ্রন্থে তিনি প্রথমবার আধুনিক বিরামচিহ্নের ব্যবহারপ্রচলন করেন। 
- তাঁর আত্মজীবনী পরিচিত বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত নামে।
- তিনি ২৯ জুলাই ১৮৯১ সালে প্রয়াণ করেন।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 
বাংলাপিডিয়া।

১৪,০২৮.
‘খসড়া কাগজ' – উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ- জেগে আছি, ধানকন্যা, মৃগনাভি, অন্ধকার সিঁড়ি ইত্যাদি। কাব্যগ্রন্থঃ মানচিত্র, ভোরের নদী মোহনায় জাগরণ ইত্যাদি। উপন্যাসঃ তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০), কর্ণফুলী, শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, খসড়া কাগজ ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০২৯.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা - দীনেশচন্দ্র সেন

বঙ্গভাষা ও সাহিত্য: 
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ 
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৩০.
'হরফের ছড়া' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৩১.
'স্মৃতিস্তম্ভ' নিচের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  4. ঘ) মৃগনাভি
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- কর্ণফুলী (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি 
- মৃগনাভি 
- ধানকন্যা 
- যখন সৈকত 
- অন্ধকার সিঁড়ি 
- জীবনজামিন 
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৪,০৩২.
'আমি একা ফির‍্যা আইলাম গো মামা, সব কটারে গাঙের জলে ভাসাইয়া দিয়া আমি একা ফির‍্যা আইলাম।'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. নদী নিঃশেষিত হলে
  3. নদী ও নারী
  4. পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- 'আচ্ছা সমুদ্র কত বড়-পদ্মার চেয়ে বড় বুঝি?' উপন্যাসে উক্তিটি যুগীর। 
- 'আমি একা ফির‍্যা আইলাম গো মামা, সব কটারে গাঙের জলে ভাসাইয়া দিয়া আমি একা ফির‍্যা আইলাম।'- উপন্যাসে উক্তিটি রাসুর। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ- নদী নিঃশেষিত হলে। 
• 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা - হুমায়ুন কবির।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৩৩.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় কখন?
  1. ১৯৬৫ সালে 
  2. ১৯৭৩ সালে 
  3. ১৯৮০ সালে 
  4. ১৯৫২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
‘সোনালী কাবিন’ হলো আল মাহমুদ রচিত একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থ, যা — ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালী কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেট অন্তর্ভুক্ত, যা একটি দীর্ঘ কবিতার রূপে পাঠকের সামনে আসে। এটি আল মাহমুদের প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই — ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম — মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি — 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ — 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৩৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রকাশিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' ⎯ এর কালো মেয়েটির নাম কী?
  1. সালমা
  2. জামিলা
  3. নাজমা
  4. সালেহা
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি লেখকের সর্বশেষ রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র নাজমা নামের এই আশ্চর্য কালো মেয়ে হয়ে ওঠে ১৯৭১-এর তৎকালীন পূর্ব বাংলার নির্যাতিত-নিপীড়িত মা-বোনদের প্রতীক।
-------------- 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- পঞ্চগ্রাম,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৩৫.
শামসুর রাহমান কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক পূর্বদেশ
  2. দৈনিক বাংলা
  3. দৈনিক ইত্তেফাক
  4. দৈনিক আজকাল
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-----------------------------------------
শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। 
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

এছাড়া তাঁর বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৩৬.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় গ্রন্থ 'পালামৌ'-এ মূলত কোন অঞ্চলের বর্ণনা দেয়া হয়েছে?
  1. ক) কাবুল
  2. খ) বেলুচিস্থান
  3. গ) ঝাড়খন্ড
  4. ঘ) পাঞ্জাব
সঠিক উত্তর:
গ) ঝাড়খন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঝাড়খন্ড
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'। 
- বর্তমানে পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা৷
- তৎকালীন বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী - পালামৌ।
- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম 
- লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন। 
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণ কাহিনি প্রকাশ হয়। 

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য- 
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৩৭.
কোনটি কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পৌরাণিকী
  2. মাল্য
  3. পৃথিবীজোড়া গান
  4. আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিকী
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ 'পৌরাণিকী'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে। 

• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

অন্যদিকে,
• “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।
• ‘পৃথিবীজোড়া গান’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,০৩৮.
প্রবন্ধ গ্রন্থ 'স্বগত' এর রচয়িতা -
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2.  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
 সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
 সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু হয় ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী, 
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- ভসংবর্ত, 
- দশমী।

প্রবন্ধ গ্রন্থ :
- স্বগত, 
- কুলায় ও কালপুরুষ।

-  প্রতিধ্বনি - তাঁর অনুবাদগ্রন্থ।

উৎস - বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৩৯.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. আবুল ফজল 
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. হুমায়ূন আহমেদ 
  4. শওকত আলী 
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান:
- উনবিংশ শতকের শেষার্ধের পটভূমিকায় বাংলার এক বিশিষ্ট অঞ্চলের জীবনধারা আবু জাফর শামসুদ্দীন সজীব করে তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৪০.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বনফুল
  2. কবিকাহিনী
  3. গীতাঞ্জলি
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
কবিকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিকাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী।

উল্লেখ্য,
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা - 'হিন্দুমেলার উপহার' (১৮৭৪)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বৌঠাকুরাণীর হাট।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোট গল্প - ভিখারিনী।

- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 বনফুল, মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, পূরবী, পুনশ্চ, পত্রপূট, সেঁজুতি, শেষলেখা, কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

- বনফুল - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় প্রকাশিত (১৮৮০) কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৪১.
'জাবালি' ছদ্মনামটি কার?
  1. হায়াৎ মামুদ
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. বিমল মিত্র
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৪২.
কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতায় উল্লেখকৃত 'শাক্যমুনি' কে?
  1. চৈতন্য
  2. যিশু খ্রিষ্ট
  3. অতীশ দীপঙ্কর
  4. গৌতম বুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গৌতম বুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌতম বুদ্ধ
ব্যাখ্যা
•  কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতায় উল্লেখকৃত “শাক্যমুনি হলো- গৌতম বুদ্ধ।
এখানে শাক্যমুনি ছিলেন- শাকবংশে জন্মগ্রহণকারী গৌতমবুদ্ধ। 

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ: 
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা। 
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১৪,০৪৩.
“বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আকাইয়া পড়িয়া থাকে” – উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অংশবিশেষ?
  1. ক) দুরন্ত পথিক
  2. খ) আঠাবাে বছর বয়স
  3. গ) ফলে মুসাফির
  4. ঘ) যৌবনের গান
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌবনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌবনের গান
ব্যাখ্যা
উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত যৌবনের গান রচনার। এই রচনার আরও একটি উক্তিঃ বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।
Source: LiveMCQ Archive
১৪,০৪৪.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কোন গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. বহ্নিবলয়
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. সূর্যাস্তের পর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দুলক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
- বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৪৫.
'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. ভারতী
  3. বঙ্গদূত
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীত:
- 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটির প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- সঙ্গীতটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতবিতান'র স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।
- এটি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের 'বঙ্গভঙ্গ' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি এই সঙ্গীতটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৪৬.
'মরমি কবি' নামে পরিচিত -
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. লালন শাহ
  3. হাসন রাজা
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
হাসন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসন রাজা
ব্যাখ্যা
মরমি কবি হিসেবে হাসন রাজা: 
• হাসন রাজার মুখ্য পরিচয় একজন মরমি কবি হিসেবে।
• তাঁর সম্পর্কে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন:
‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।
• ’হাছন উদাস (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।

---------------------------- 
হাসন রাজা ছিলেন এক জনপ্রিয় মরমি কবি ও সাধক, যিনি আধ্যাত্মিক এবং মানবিক অনুভূতিতে সমৃদ্ধ গান রচনা করে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী, এবং তিনি সুনামগঞ্জের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

জীবনী:
• জন্ম: ১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামে।
• মৃত্যু: ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর।
• পরিচিতি: তিনি আঞ্চলিক ভাষায় রচিত প্রায় এক হাজার গানের জন্য প্রসিদ্ধ। তার গানের মধ্যে সমাজ, ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, মানবিকতা, এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিবেদন গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
• গানের ভণিতা: হাসন রাজা তাঁর গানের ভণিতায় নিজেকে "পাগলা হাসন রাজা," "উদাসী," "দেওয়ানা," এবং "বাউলা" বলে অভিহিত করেছেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতিফলন।

উল্লেখযোগ্য গান:
• "লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার": এই গানে তাঁর দারিদ্র্যের প্রতীকী ব্যাখ্যা ও আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি আকর্ষণ প্রতিফলিত হয়েছে।
• "সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল": এই গানে প্রিয়জন বা স্রষ্টার প্রতি অগাধ প্রেম এবং তার দ্বারা নিজেকে ‘দেওয়ানা’ ভাবা হয়েছে।

হাসন রাজার গানে সাধারণ জীবনের নানা বোধ এবং আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ রয়েছে, যা তাঁকে বাংলার মরমি সংগীতের এক বিশিষ্ট রূপকার করে তুলেছে।

উৎস:বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৪৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯২০ সালে
  2. খ) ১৯২৬ সালে
  3. গ) ১৯৩১ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস।
• এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। এর কাহিনীর পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
• কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
• নিঃসন্দেহে এই কাহিনীতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের আন্তরিক সমর্থন আছে।
• গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,০৪৮.
''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'' কথাটি মুদ্রিত থাকতো কোন সাহিত্য পত্রিকায়?
  1. কল্লোল
  2. শিখা
  3. মোহাম্মদী
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা

• শিখা পত্রিকা: 
- শিখা ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)। 
 
উল্লেখ্য, 
- শিখা পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায় শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত। 
- এ উক্তিকেই শিখা পত্রিকার লেখকগোষ্ঠী তাদের মটো বা আদর্শবাণী হিসেবে বিবেচনা করত।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৪৯.
'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) দিনলিপি
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
গ) দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের একটি দিনলিপি ও আত্মকাহিনী।
বিচিত্র কথা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, সমকালীন চিন্তা, শেখ মুজিব: থাকে যেমন দেখছি - ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
তাঁর রচিত উপন্যাস - প্রদীপ ও পতঙ্গ, চৌচির, রাঙা প্রভাত এবং
কায়েদে আজম, প্রগতি, স্বয়ম্বরা - ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,০৫০.
'প্রস্তর ফলক' শওকত ওসমান রচিত -
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৫১.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হতো কাকে?
  1. মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৫২.
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)। তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।

ধর্মের বিষয় আলোচনায় রামমোহন রায় যে গদ্যরীতি অবলম্বন করেছিলেন তার জন্য তিনি তৎকালীন রচনারীতি থেকে বিশেষ কোন সাহায্য লাভ করতে পারেন নি। তাই তাঁর ভাষা তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছিলেন। ধর্মের বাদানুবাদে ব্যবহৃত বলে তাঁর ভাষা বিবৃতিসর্বস্ব ও প্রচারধর্মী। পরমতখণ্ডন ও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শাস্ত্রের আলোচনা উদ্ধৃতি ও অনুবাদ করতে গিয়ে ভাষায় শিল্পরূপ ফুটিয়ে তোলা সম্ভবপর হয় নি। তাঁর রচনা যুক্তিনিষ্ঠ বলে তাতে বুদ্ধির দীপ্তি আছে, কিন্তু সাহিত্যগুণ প্রকাশ পায় নি। তাঁর কোন কোন রচনায় পণ্ডিতি-বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর গদ্যরীতি মূলত সংস্কৃত গদ্যরীতির আদর্শে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৪,০৫৩.
নাটক এবং প্রহসনের পার্থক্য কোথায়?
  1. চরিত্র
  2. উপাখ্যান
  3. ব্যঙ্গ বিদ্রপ
  4. সংলাপ
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ বিদ্রপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ বিদ্রপ
ব্যাখ্যা
• নাটক অর্থ: সংলাপের আকারে রচিত এবং অভিনয়ের ‍উপযোগী দৃশ্যকাব্য।
• প্রহসন অর্থ: হাস্য রসাত্মক নাটক ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ নাটক।

⇒ প্রহসন:
প্রহসন হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা। এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়। পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত। বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

⇒ নাটক:
মঞ্চে অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তা হয় নাটক। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্তৃক অভিনীত হবে এ উদ্দেশ্য নিয়েই নাট্যকার নাটক রচনা করেন। 'নাটক' শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এ সত্যের ইঙ্গিত।

তাই বলা যায়, নাটক ও প্রহসনে পার্থক্য হলো ব্যঙ্গবিদ্রূপ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,০৫৪.
'কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক নন-
  1. মুরলীধর বসু
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
•  'কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক নন- বুদ্ধদেব বসু। 

• কালিকলম:

- কালিকলম সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- টেকসই অ্যান্টিক কাগজে ছাপা কালিকলম-এর সাইজ ডাবল ক্রাউন। দাম প্রতি সংখ্যা চার আনা। বার্ষিক ডাকমাশুলসহ সাড়ে তিন টাকা। প্রত্যেক মাসের ৩০ তারিখে এটি প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকাটির মেয়াদকাল ছিল মাত্র চার বছর। এ সময় দু’ একটি সংখ্যা বাদে ১৩৩৬ সালের মাঘ মাসে বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে ।

- কালিকলম-এর ২য় বর্ষে এসে প্রেমেন্দ্র মিত্র পত্রিকা ছেড়ে যান। এরপর শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও মুরলীধর বসুর যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি আরও এক বছর চলে। তৃতীয় বর্ষে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ও পত্রিকা ছেড়ে চলে যান। এরপর বন্ধ হওয়া অবধি মুরলীধর বসু উক্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৪,০৫৫.
'ফুড কনফারেন্স'  আবুল মনসুর আহমেদ রচিত- 
  1. স্মৃতিকথা
  2. রাজনৈতিক  উপন্যাস
  3. সামাজিক গল্প
  4. রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা
ব্যাখ্যা

• 'ফুড কনফারেন্স'  আবুল মনসুর আহমেদ রচিত- রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা 
- এ বইয়ে গল্প আছে সর্বমোট নয়টি—
- ‘ফুড কনফারেন্স’, ‘সায়েন্টিফিক বিযিনেস’, ‘এ আই সি সি’, ‘লঙ্গরখানা’, ‘রিলিফ ওয়ার্ক, ‘গ্রো মোর ফুড’, ‘মিছিল’, ‘জমিদারি উচ্ছেদ’ এবং ‘জনসেবা ইউনিভার্সিটি।
- প্রতিটি গল্পই সুখপাঠ্য।
- আবুল মনসুর আহমদের নিজস্ব ভাষাগুণে সাধারণ গল্পও হয়ে ওঠে অনন্য।

• আবুল মনসুর আহমেদ:

- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।লিংক

১৪,০৫৬.
কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা—লাইনটি কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. ক) কখনাে রং কখনাে সুর
  2. খ) লোক লোকান্তর
  3. গ) কোন এক মাকে
  4. ঘ) স্মৃতিস্তম্ভ
সঠিক উত্তর:
গ) কোন এক মাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোন এক মাকে
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) - কবি, সরকারি কর্মকর্তা। ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে (কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)


কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কখনাে রং কখনাে সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৯৩) ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,০৫৭.
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম,(১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ‘শহীদ জননী’ জাহানারা ইমামের নাম ছড়িয়ে পরে তাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য।
- মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য জাহানারা ইমাম নিজেও সর্বদা সক্রিয় ছিলেন।
- তিনি বুদ্ধিজীবীদের পরিচালিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী নাগরিক কমিটি’, ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’ ইত্যাদি উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল বরেণ্য  বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক দল ও কর্মিবৃন্দ, দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজ এবং প্রজন্ম ’৭১ তাঁর আহবানে এগিয়ে আসেন
- তাঁদের সক্রিয় সমর্থনে জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৫৮.
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ 'সংস্কৃতির রূপান্তর' রচনা করেন কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. কাজী মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  3. আহমদ শরীফ
  4. রফিকুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গোপাল হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল হালদার
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতির রূপান্তর' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার রচিত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ১৯৪১ সালে সংস্কৃতির রূপান্তর প্রথম রচিত হয়। বিশ্ব-সংস্কৃতির ধারার একটি বাস্তব অবতরণিকা রচনাই ছিল লেখকের উদ্দেশ্য।
- সেদিকে বোধ হয় সংস্কৃতির রূপান্তরই প্রাথমিক প্রয়াস। তারপর নতুন নতুন সংস্করণে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন-পরিবর্ধনের দ্বারা যথাসাধ্য এ গ্রন্থকে পাঠকের সহায়ক করতেও চেষ্টা করা হয়েছে।

উৎস: 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার।
১৪,০৫৯.
রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসে স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. চার অধ্যায়
  3. গোরা
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা

'ঘরে বাইরে' উপন্যাস:
- 'ঘরে বাইরে' চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- রবীন্দ্র প্রতিভার শেষ যুগের উপন্যাস হচ্ছে 'ঘরে বাইরে'।
- 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসে রাজনৈতিক মতবাদের লীলাচাঞ্চল্য ফুটে উঠেছে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমলোচনা।

রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য উপন্যাস গুলো:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪,০৬০.
কায়কোবাদ প্রকাশিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. ক) অশ্রুমালা
  2. খ) বিরহ বিলাপ
  3. গ) কুসুম কানন
  4. ঘ) অমিয় ধারা
সঠিক উত্তর:
খ) বিরহ বিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিরহ বিলাপ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ  'বিরহ বিলাপ'
- মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি এ কাব্যগ্রন্থ লিখেন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭০ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য। 

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 
- অশ্রুমালা
 - শ্মশানভষ্ম
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা 
- শিবমন্দির 
- মহররম শরীফ
----------
কায়কোবাদ
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
- 'মহাশ্মশান' কাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৬১.
‘সমকাল' সাহিত্যপত্রের সম্পাদক ছিলেন-
  1. শামসুর রাহমান
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,০৬২.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'সুচয়নী’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ সংকলন
  2. ছোটগল্প সংকলন
  3. নির্বাচিত কবিতার সংকলন
  4. নাটকের সংকলন
সঠিক উত্তর:
নির্বাচিত কবিতার সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচিত কবিতার সংকলন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীনের 'সূচয়িনী' হলো - নির্বাচিত কবিতার সংকলন।

জসীম উদ্‌দীন:
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ 'সূচয়নী'। 

তাঁর রচিত অন্যান্য জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- ধানক্ষেত
- মাটির কান্না,

জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়;
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি; 
- জারিগান। 

উল্লেখ্য, 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ - সঞ্চয়িতা।
কাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ - সঞ্চিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৬৩.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত' বিখ্যাত উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাস থেকে নেয়া হয়েছে? 
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. ঝিলিমিলি
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস: 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১ সালে)। 
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। 
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত"। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''
- ঝিলিমিলি কাজী নজরুল ইসলামের নাট্যগ্রন্থ। 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত তাঁর অন্য দুইটি উপন্যাস হচ্ছে- 
• বাঁধন-হারা এবং 
• মৃত্যুক্ষুধা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,০৬৪.
বাংলা কোন কবিতায় অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব পড়েছে?
  1. ক) মৃত্যুর আগে
  2. খ) হায় চিল
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) ঝরাপালক
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত 'বনলতা সেন' কবিতায় অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব পড়েছে। 
- কবিতাটি 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি বাংলা সাহিত্যেরখ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম। 

- 'মৃত্যুর আগে' কবিতাটি কবি W.B. Yeats-এর 'The falling of the leaves's' কবিতার মিল আছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৬৫.
‘অবরোধবাসিনী’ কী ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নকশাধর্মী গদ্য
  3. ব্যঙ্গ রচনা 
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
নকশাধর্মী গদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নকশাধর্মী গদ্য
ব্যাখ্যা

• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৬৬.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশক সংস্থা কোনটি?
  1. আর্য পাবলিশি হাউস
  2. ভারতীয় বিদ্যাপ্রকাশ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. কল্লোল প্রকাশনী
সঠিক উত্তর:
আর্য পাবলিশি হাউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য পাবলিশি হাউস
ব্যাখ্যা

'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'দোলনচাঁপা' বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন, ১৩৩০ বঙ্গাব্দ) আর্য পাবলিশি হাউস থেকে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের দুর্গাপূজোর আগে ধুমকেতু পত্রিকায় নজরুলের 'আনন্দময়ীর আগমনে' নামে বিদ্রোহাত্মক কবিতাটি প্রকাশের জন্য তাকে রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত কবিকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়। এই সময় দোলনচাঁপা কাব্যের কবিতাগুলি রচিত হয়।
- জেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় ওয়ার্ডারদের সাহায্যে তার সব কবিতাই বাইরে নিয়ে আসেন। কবির নির্দেশমত আর্য পাবলিশি হাউস এ কবিতাগুলো দিয়ে দোলনচাঁপা প্রকাশ করে। প্রথম সংস্করণ এই কাব্যগ্রন্থে ২১টি কবিতা ছিল।
- সূচিপত্রের আগে মুখবন্ধরূপে সংযোজিত প্রথম কবিতা "আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে" ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) জ্যৈষ্ঠ মাসের কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের পরবর্তী সংস্করণে ৫০টি কবিতা সংকলিত হয়।

এগুলো হলো:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পুবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৬৭.
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" পঙক্তিটি কোন জাতীয় সঙ্গীত? 
  1. ক) চারণ সঙ্গীত
  2. খ) টপ্পাগান
  3. গ) শ্যামাসঙ্গীত
  4. ঘ) পাঁচালী গান
সঠিক উত্তর:
খ) টপ্পাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টপ্পাগান
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম গীতরত্ন (১৮৩২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৬৮.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ কোনটি?
  1. নক্সীকাঁথার মাঠ
  2. রাখালী
  3. সুচয়নী
  4. ধানক্ষেত
সঠিক উত্তর:
সুচয়নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুচয়নী
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।  

'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।
জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড় 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি 
- জারিগান 

'হলদে পরীর দেশ ' জসিমউদ্দীন রচিত  ভ্রমণ কাহিনী। 
'বোবা কাহিনী' জসিমউদ্দীন রচিত একমাত্র উপন্যাস।
'ডালিমকুমার' জসিমউদ্দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৪,০৬৯.
‘Lyrics of Ind’ কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জহির রায়হান
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

Lyrics of Ind, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, নাট্যকার।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, সম্রাট সাহাজানকে নিয়ে প্রথম নাটক রচনা করেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,০৭০.
'পদ্মরাগ' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া (৯ ই ডিসেম্বর, ১৮৮০-৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২) : মুসলিম নারীজাগরণের অগ্রদূত৷
গ্রন্থ:
মতিচুর
অবরোধবাসিনী
Sultana's Dream

উপন্যাস:
পদ্মরাগ


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৪,০৭১.
'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' - গ্রন্থের রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৭২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য কোনটি?
  1. হেক্টরবধ
  2. মহাশ্মশান
  3. মেঘনাদবধ
  4. বৃত্রসংহার
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা

• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মহাকাব্য - 'বৃত্রসংহার' (১৮৭৫ - ৭৭) ।
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৪)।
- ‘হেক্টরবধ’ হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত অনুবাদ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য ক্যাপটিভ লেডি’। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৭৩.
‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যটির রচয়িতা- 
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজী নজরুল ইসলাম  
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য।
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
 
• ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যটির রচয়িতা- 'ফররুখ আহমদ'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।
- ‘সিরাজাম মুনীরা’র আভিধানিক অর্থ হলো আলোর পথ বা আলোকিত সূর্য।

কবির ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যগ্রন্থের মধ্যে যে কবিতাগুলো রয়েছে তার নাম ‘সিরাজাম মুনীরা’ মুহম্মদ মুস্তফা, হযরত আবুবকর সিদ্দিক, উমর দরাজ দিল, ওসমান গনি, আলী হায়দার, শহীদে কারবাল, মন, আজ সংগ্রাম, এই সংগ্রাম, প্রেমপন্থী, অশ্রুবিন্দু, গাওসুলআজম, সুলতামুল হিন্দ, খাজা নকসবন্দ, মুজাদ্দিদে আলফেসানী, মৃত্যু সংকট, অভিযাত্রীদের প্রার্থনা, মুক্তধারা ও পিপাসা।

-------------------------

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৭৪.
নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. ক) মীর মোশাররফ হোসেন - মৌমাছি
  2. খ) সমরেশ বসু - কালকূট
  3. গ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বীরবল
  4. ঘ) কালী প্রসন্ন সিংহ - টেকচাঁদ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) সমরেশ বসু - কালকূট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমরেশ বসু - কালকূট
ব্যাখ্যা
কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 
- মীর মোশাররফ হোসেন - গাজী মিয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কালকূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৭৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল ?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পল্লীসমাজ
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী।

অন্যদিকে,
-'পল্লীসমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক সমস্যা নির্ভর উপন্যাস। এতে মোট ১৯টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

- পণ্ডিতমশাই' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস, যা গ্রাম বাংলার পটভূমিতে রচিত। উপন্যাসটি মূলত বৃন্দাবন ও কুসুম নামের দুটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “পথের দাবি” একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপন্যাস যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত যুবকদের জীবন ও তাদের বিপ্লবী চেতনা তুলে ধরে। এই উপন্যাসটি ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৭৬.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'আঁখিজল' কি জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬):
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
• কাব্য:
- আঁখিজল,
- লতিকা।
• প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধমালা।

• শিশুতোষ গ্রন্থ-
- নবীকাহিনী।

• উপন্যাস- ‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য কোনটি?
  1. খেয়া
  2. বলাকা
  3. পূরবী
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
বলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাকা
ব্যাখ্যা

• 'বলাকা' কাব্য:
- ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
- কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল।
- এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে।

• আলোচ্য কাব্যে মোট ৪৫টি কবিতা রয়েছে; ১০টি সমপঙক্তিক আর ১টি সনেট আকারবদ্ধ। অবশিষ্ট ৩৪টি বিষম ছন্দে রচিত এবং উক্ত ৩৪টি কবিতার ছন্দকেই ‘বলাকার ছন্দ’ বলা হয়।

• রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’ কাব্যে ব্যবহৃত ছন্দের নাম: 'মুক্তক ছন্দ' বা 'মুক্তবন্ধ ছন্দ'।

- 'বলাকা' কাব্যে ব্যবহৃত ছন্দের বৈশিষ্ট্যকে বোঝাতে গিয়ে কেউ কেউ ছন্দের এরূপ মুক্ত স্বভাবকে নাম দিয়েছেন ‘মুক্তক ছন্দ’ বা ‘মুক্তবন্ধ ছন্দ’। আবার কেউ কেউ এছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরই রবীন্দ্রনাথকৃত অভিনবরূপ বলে মনে করেন যা অন্ত্যানুপ্রাসযুক্ত। পাশ্চাত্য সাহিত্যে বহুল ব্যবহূত এ ছন্দকে free verse  বা verse-libre বলে।
----------

অন্য অপশন:
ক) খেয়া (১৯০৬) → প্রেম, বিরহ, আধ্যাত্মিকতা ও মৃত্যুচেতনা প্রধান। গতিচেতনা নয়।
গ) পূরবী (১৯২৫) → প্রেম ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক, আর্জেন্টিনার ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর প্রতি উৎসর্গীকৃত। গতি নয়।
ঘ) শেষের কবিতা → এটি কাব্যগ্রন্থ নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'বলাকা' কাব্য।

১৪,০৭৮.
‘গাছপাথর’ ছদ্মনামে লিখালিখি করতেন কোন প্রাবন্ধিক?  
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
  4. সাইদ আহমদ
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছদ্মনাম - ‘গাছপাথর’।
-------------------------------------------- 
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি মার্ক্সবাদী ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। 
- তিনি “গাছপাথর” ছদ্মনামে লিখালিখি করতেন।
- দৈনিক সংবাদে 'গাছপাথর' ছদ্মনামে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করেছে।

• তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থসমূহ:
- অন্বৈষণ;
- রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি;
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক;
- গণতন্ত্রের পক্ষ-বিপক্ষ;
- দ্বিজাতিতত্ত্বের সত্য-মিথ্যা;
- লিঙ্কনের বিষণ্ণ মুখ;
- নজরুল ইসলাম: কবি ও অন্যান্য;
- শেক্সপীয়রের মেয়েরা ইত্যাদি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শেষ নেই;
- কণার অনিশ্চিত যাত্রা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব;
- ইবসেনের বুনো হাঁস। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৪,০৭৯.
‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
• ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ মীর মশাররফ হােসেনের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা।

মীর মোশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। 
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ  ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৮০.
'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা

• ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা- 'মামুনুর রশীদ'

'ওরা কদম আলী' নাটক:
- ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী
নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,০৮১.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. রেইনকোট
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- লেখক মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষজন তাদের আপনজন ও বসতভিটা হারিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।  
 
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ - বন্দী শিবির থেকে। 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
• শওকত ওসমান রচিত নাটক - পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৮২.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৫৪ সালে 
  2. ১৮৫৮ সালে 
  3. ১৮৭৫ সালে 
  4. ১৮৭৮ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে 
ব্যাখ্যা

• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তৃত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভকরে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে রয়েছে-
- বাবুরাম,
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল,
- ধূর্ত উকিল বটলর,
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৮৩.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ময়নামতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. মধুমতীর চর
  4. উড়ানীর চর
সঠিক উত্তর:
উড়ানীর চর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উড়ানীর চর
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ - ময়নামতীর চর, পদ্মানদীর চর, মধুমতীর চর। 

অন্যদিকে, 
উড়ানীর চর- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতা।
-------------------- 
বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১৪,০৮৪.
'ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) শহীদুল্লা কায়সার
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৮৫.
‘বীরবলের হালখাতা’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘বীরবলের হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ। 
-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারি কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৮৬.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে যে রচনায়-
  1. ক) পতঙ্গ পিঞ্জর
  2. খ) নেকড়ে অরণ্যে
  3. গ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  4. ঘ) চৌরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
গ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান: কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- জাহান্নাম হইতে বিদায় ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

তার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস জাহান্নাম হইতে বিদায়-এ মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে বাংলাদেরশের স্বাধীনতা কামী শরণার্থী বাঙালীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে উঠেন।  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১৪,০৮৭.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. রংপুর
  3. কুমিল্লা
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।

- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বিয়ের পরে তাঁর নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন। তবে তিনি বেগম রোকেয়া নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।

- বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান। মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার অন্যতম ক্ষেত্র এই মহিলা সমিতি। 

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৪,০৮৮.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ নয়?
  1. ক) বাজে কথা
  2. খ) বিশ্ব পরিচয়
  3. গ) বাংলা গদ্য রীতি
  4. ঘ) কালান্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা গদ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা গদ্য রীতি
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্য রীতি, মীর মানস মুনীর চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ। বিশ্ব পরিচয়, বাজে কথা, কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,০৮৯.
‘স্বরূপের সন্ধানে‘ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
ক) আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান (১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭ - ১৪ মে ২০২০) ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক।
• তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। 
• তিনি ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
• আনিসুজ্জামান ২০২০ সালের ১৪ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম:
- মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য 
- স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬)
- কাল নিরবধি (আত্মজীবনী)
- আমার একাত্তর 
- মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর 
- আমার চোখে 
- বিপুলা পৃথিবী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৯০.
নিচের কবিতাগুলোর মধ্যে কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নয়?
  1. মানুষ
  2. খেয়াপারের তরণী
  3. আসমানী
  4. কুলি - মজুম
সঠিক উত্তর:
আসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসমানী
ব্যাখ্যা
• 'আসমানী' কবিতাটি পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন এর কবিতা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ ৩টি। যথা:
- ব্যাথার দান, 
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন। 

কাজী নজরুল ইসলাম এর কয়েকটি কবিতা: 
- মানুষ,
- খেয়াপারের তরণী,
- কুলি - মজুম, 
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৯১.
কোন সাল থেকে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগ শুরু হয়?
  1. ১৮৫৭
  2. ১৮০১
  3. ১৮৬১
  4. ১৮৯৯
সঠিক উত্তর:
১৮০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা:
১. আদিযুগ: ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ আদিযুগের সময়কাল।
২.মধ্যযুগ: ১২০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগের সময় কাল।
৩.আধুনিক যুগ: ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে বর্তমান যুগ।
- বাংলার সাহিত্যরে ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত সময় অন্ধকার যুগ হিসাবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোন নিদর্শন পাওয়া যায় না। প্রাচীন ও মধ্যযুগের মধ্যবর্তী ১২০১-১৩৫০  সাল , এই দেড়শ বছর শাসকদের তাণ্ডবে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত, শান্তি তিরোহিত।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যার্থহয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৪,০৯২.
‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদদীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত একটি নাটক।

-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল।
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
১৪,০৯৩.
'সুড়ঙ্গ' নাটকটি রচনা করেছেন কে? 
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
- 'সুড়ঙ্গ' নাটকটি রচনা করেছেন- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়।  
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’  ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার দৈনিক  স্টেটস্ম্যান পত্রিকার সাব-এডিটর ছিলেন।
- ১৯৬০-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসে পাকিস্তান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং ১৯৬৭-৭১ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ছিলেন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু (১৯৪৮) ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরে এটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয় এবং প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেল্ভু-তে তিনি সমাহিত হন।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) ও কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮) বাংলা সাহিত্যে দুটি ব্যতিক্রমধর্মী সৃষ্টি। তিনি এ দুটি উপন্যাসে ‘চেতনাপ্রবাহ রীতি’ ও ‘অস্তিত্ববাদ’-এর ধারণাকে অসাধারণ রূপক ও শিল্পকুশলতায় মূর্ত করে তুলেছেন।
- লালসালু 
- দি আগলি এশিয়ান 
- How does one cook beans ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- নয়নচারা 
- দুই তীর 
- গল্প সমগ্র। 
নাটক:
- বহিপীর 
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৯৪.
আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  2. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থটির যৌথ রচয়িতা - মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'।
- 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৯৫.
'আরোগ্য' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রবীন্দ্রনাথের এই কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে (১৯৪১)।
- এই কাব্যে কোনো কবিতার নাম নেই, সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে কবি এই কবিতাগুলো মুখে মুখে রচনা করেছেন এবং তা কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।
- এটি তেত্রিশটি কবিতার সংকলন। কবিতাগুলি ১৯৪০-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৪১-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে রচিত।
- কবিতার ভাষা অলঙ্কারহীন, ছন্দ ধীরগতি এবং চিত্রগুলি পরিচিত জীবনের।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,০৯৬.
কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায়
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. আবুল ফজল
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,০৯৭.
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র কোন পত্রিকা?
  1. ঢাকা প্রকাশ
  2. সৈনিক
  3. ইত্তেফাক
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল - 'সৈনিক' পত্রিকা'। 
- এটি সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশিত হত।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ'
- এর উদ্যোক্তাগণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন। সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিশেরও মুখপত্র।
- পত্রিকাটিতে তৎকালীন বাংলা ভাষার প্রতিযশা সকল লেখকগণই লিখে বাংলা সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।
- সাপ্তাহিক সৈনিক  এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় - ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো আর্কাইভ। 
১৪,০৯৮.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা কত সালে প্রতিষ্ঠা হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৪১ সালে
  3. ১৮৫১ সালে
  4. ১৮৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:

- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,০৯৯.
‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’-গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাসন রাজা
  2. শাহ আবদুল করিম
  3. লালন শাহ্‌
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্‌
ব্যাখ্যা
• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

তাঁর জনপ্রিয় গান-
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১০০.
'বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন' এর সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. অবরোধবাসিনী
  4. নারীর মূল্য
সঠিক উত্তর:
নারীর মূল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
• 'বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন' এর সাহিত্যকর্ম নয়- নারীর মূল্য।

• 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। 
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান একটি প্রবন্ধ। 

-----------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ), প্রভৃতি। 
- এছাড়া, আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।