বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৭ / ১৭৪ · ১৩,৬০১১৩,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৬০১.
'রাত্রিশেষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আর মাহমুদ
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৬০২.
‘মাল্য ও নির্মাল্য’ কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে,
⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬০৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলার প্রকৃতি
  2. বাংলার মুখ
  3. বাংলার দামাল ছেলে
  4. বাংলার সোনার ছেলে
সঠিক উত্তর:
বাংলার সোনার ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার সোনার ছেলে
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার রচিত গ্রন্থ - বাংলার সোনার ছেলে

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- ঢাকা জেলার সাভারের নিকটবর্তী উলাইল গ্রামে ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭) ২ বৈশাখ তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন রূপকথার লেখক, শিশুসাহিত্যিক। 
 - প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।
- জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- তিনি বিভিন্ন সময়ে 'সুধা' (১৯০১-১৯০৪), 'সারথি' (১৯০৮) ও 'পথ' (১৯৩০-৩২) নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 'পথ' ছিল বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র।
- দক্ষিণারঞ্জন কিছুদিন ওই পরিষদের সহ-সভাপতি (১৯৩০-৩৩) ছিলেন।
- পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা-সমিতির সভাপতিরূপে তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের অনেক পরিভাষা রচনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) ১৬ চৈত্র কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬০৪.
'ভিস্তি বাদশা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - কাফেলা, আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, ভিস্তি বাদশা, ঋণ পরিশোধ।
তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী - ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, পাকিস্তানের পথে ঘাটে, নয়া চীনে এক চক্কর।
গল্পগ্রন্থ - সোনার শিকল, আলু বোখরা, দাদুর আসর। এবং
তার রচিত উপন্যাস - বৌ বেগম।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৬০৫.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দ্দিনের এই দুর্গ শিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন!
অলক্ষণের তিলক রেখা
রাতের ভালো হোক না লেখা,
জাগিয়ে দে রে চমক মেরে
আছে যারা অর্দ্ধ চেতন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১৩,৬০৬.
পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আহসান হাবীব
  3. ফররুখ আহমদ
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, 
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শামসুর রাহমান(১৯২৯-২০০৬)  কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 

• ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪)  কবি, শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।

• জীবনানন্দ  দাশ(১৮৯৯-১৯৫৪)  কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬০৭.
বাঙলা নাট্যসাহিত্যে — "দ্বৈতাদ্বৈতবাদী" শিল্পরীতির প্রবর্তন করেছেন কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মোজাম্মেল হক
  3. নূরুল মোমেন
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• বাঙলা নাট্যসাহিত্যে সেলিম আল দীন এক নবতর শিল্পরীতির প্রবর্তন করেছেন—দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পরীতি। 

• সেলিম আল দীন:
- জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন রচনায় লিখেছেন-শিল্পাদর্শে তিনি ছিলেন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী।
পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বৎসরের নন্দতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার পূর্বক তিনি বাংলা সাহিত্যে এক নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেছেন, যার নাম দেন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’।

- তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা পূর্বক বাঙলা নাটকের সহস্র বৎসরের ইতিহাস এবং তার একটি সুস্পষ্ট আঙ্গিক নির্মাণেও সমর্থ হন, রচনা করেন মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য (১৯৯৬)।

- বাঙলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাঙলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করে বাঙলা নাট্যের কোষগ্রন্থের অভাব পূরণ করতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি।

- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছা্ড়া, নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
• কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি,

• উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত সব সৃজনকর্ম নিয়ে ৫ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে সেলিম আল দীন রচনাসমগ্র [১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ (২০০৫-২০০৯)]।

উৎস: বাংলাপডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬০৮.
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে" - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাস
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে" - চরণদ্বয়ের রচয়িতা - কামিনী রায়

কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬০৯.
'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি-
  1. ক) শিশুতোষ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) কাহিনীকাব্য
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) শিশুতোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিশুতোষ
ব্যাখ্যা
ফরুক আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত।
তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো- পাখির বাসা, হরফের ছড়া, চাঁদের আসর, ছড়ার আসর, ফুলের জলসা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৬১০.
দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সবকিছু ভেঙে পড়ে
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
  4. ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
সঠিক উত্তর:
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা

'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- "মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্যম কবিতা।

------------------
• দাউদ হায়দার:
- দাউদ হায়দার মূলত একজন লেখক।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

অন্যদিকে, 
• হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস: সবকিছু ভেঙে পড়ে,
• 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
• 'ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা' শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬১১.
‘কালের কলস’ -কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. শহীদ কাদরী
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬১২.
'পদ্মাবতী' প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থটির রচয়িতা - সৈয়দ আলী আহসান

উল্লেখ্য, 'পদ্মাবতী' নামে আলাওলের কাব্য এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক রয়েছে।

সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬১৩.
কোন কবিকে বাংলা গীতি কবিতায় 'ভোরের পাখি' বলা হয়?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) উল্লেখযোগ্য।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
১৩,৬১৪.
'শিখা' পত্রিকাটি কোন সংগঠনের বার্ষিক মুখপত্র ছিল?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
  3. মুসলিম লিগ
  4. ঢাকা সাহিত্য সভা
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
ব্যাখ্যা

শিখা পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬১৫.
'ঢাকা থিয়েটার' প্রতিষ্ঠা করেন-
  1. ক) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) রামেন্দু মজুমদার
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন‌।
- তিনি 'ঢাকা থিয়েটার' এবং 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর রচিত নাটক হলো:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- শকুন্তলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীত্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬১৬.
'গাভী বিত্তান্ত' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, গাভী বিত্তান্ত, ওঙ্কার, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৬১৭.
'ভুলব না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না'। - গানের চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আ ন ম গাজীউল হক
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
ক) আ ন ম গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আ ন ম গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
• একুশের প্রথম গানের রচনা করেন- আ ন ম গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরণ হচ্ছে 'ভুলব না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না'।

- এক জনপ্রিয় হিন্দি গান থেকে নেয়া হয়েছে এর সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটি ছিল তখনকার দিনের রাজপথের গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬১৮.
'হেক্টরবধ' গ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করা হয়?
  1. রামমোহন রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ভূদেব মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূদেব মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ:
- হেক্টরবধ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:

- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬১৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না?
  1. সংবাদ সাধুরঞ্জন
  2. পাষণ্ডপীড়ন
  3. সংবাদ প্রভাকর 
  4. সমাচার দর্পণ 
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ 
ব্যাখ্যা

সমাচার দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। 

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬২০.
সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) সৈয়দপুর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) নীলফামারী
সঠিক উত্তর:
গ) সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিলেট
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল তৎকালীন শ্রীহট্ট তথা আজকের সিলেটে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৬২১.
আহসান হাবীব রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. সারাদুপুর
  3. রাত্রিশেষে
  4. আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

--------------------------
আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬২২.
আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
'আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।'- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'।
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

- কবিতার কিছু অংশ-বিশেষ:

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া
আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

--------------------------
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক:
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতা- বন্দে আলী মিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬২৩.
‘এ নেটিভ’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬২৪.
স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'স্মৃতির নোটবুক' লিখেছেন কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'স্মৃতির নোটবুক' লিখেছেন - আবদুল মান্নান সৈয়দ।
 
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬২৫.
বাংলা সাহিত্যে 'দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব' ধারার প্রচলন করেন -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন
- ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন নোয়াখালী (বর্তমান ফেনী) জেলার সোনাগাজী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রোত্তরকালের বাংলা নাটকের প্রধান পুরুষ সেলিম আল দীন। 
- ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উদ্যোগেই খোলা হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। 
- তিনি ১৯৮১-৮২ সালে দেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মর্ত্যলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে যান অনন্তলোকে।

- সেলিম আল দীন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ নামে এক নতুন নাট্যরীতির প্রচলন করেন।
- পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার করে তিনি এই নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেন।
- এছাড়াও তিনি ফিউশন তত্ত্ব’র প্রবক্তা এবং নিউ এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী। 

উল্লেখযোগ্য নাটক : 
- জণ্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসির, শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামত মঙ্গল,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস : ১. যুগান্তর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬২৬.
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা।’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
• তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।
• তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশোটি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ।
১৩,৬২৭.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. রাজসিংহ
  4. মধ্যাহ্ন
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।

• বঙ্গভঙ্গ ও দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে লেখা হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস “মধ্যাহ্ন”।

-------------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬২৮.
'নীল-দর্পণ' নাটক কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬২ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা

 • নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীল-দর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬২৯.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক কোনটি?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. বিবাহ
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা

কবর:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ‘কবর’ নাটকের পটভূমি। 
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক 'কবর'।
- জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের জন্য মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ করেন ১৯৫৩ সালে।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতেই মুনীর চৌধুরী ‘কবর’ নাটক রচনা করেন।

• মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ। 

উল্লেখ্য,
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে লেখা।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক হল 'বিবাহ'। ভাষা আন্দোলন নিয়ে ১৯৬০ সালে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এর লেখা প্রথম নাটক 'বিবাহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩,৬৩০.
'বৃত্রসংহার' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য:
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৩১.
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) এসব ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ (১৯৫৯)।
সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর - তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৩২.
'বাঁধনহারার' প্রথম কিস্তি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. সাধনা
  3. পূর্বাশা
  4. মোস্‌লেম ভারত
সঠিক উত্তর:
মোস্‌লেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোস্‌লেম ভারত
ব্যাখ্যা
'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকা:
- ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকার প্রতি সংখ্যার প্রথম পাতার শীর্ষে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণী সংকলিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে মোসলেম ভারত বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৩৩.
'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. ক) কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির: কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।

১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।
প্রবন্ধ :
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

১৩,৬৩৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. হিতকরী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকাসমূহ:
• 'সাধনা’ পত্রিকা:

- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

• ‘ভারতী' পত্রিকা :
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৩৫.
“সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।”- এই বিখ্যাত উক্তিটি কোন কবির লেখা? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী 
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

“সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।”- এই বিখ্যাত উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর লেখা। 
-------------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী (৭ আগস্ট ১৮৬৮ — ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, কবি ও লেখক।
- তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) দর্শন, এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।
- তিনি কিছুদিন ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেছেন এবং পরবর্তীতে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যে চলিতরীতি প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধের পথিকৃৎ ছিলেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্যধারা সূচনা করেন।
- ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী পদক’ পান।

- তার সাহিত্যকর্মে প্রবন্ধ, গল্প ও কাব্যরচনার সমৃদ্ধি রয়েছে।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
• তেল-নুন-লকড়ী, 
• বীরবলের হালখাতা,
• নানাকথা,
• আমাদের শিক্ষা,
• রায়তের কথা,
• নানাচর্চা।

- তাঁর গল্পগ্রন্থ:
• চার-ইয়ারী কথা,
• আহুতি,
• নীললোহিত,
• অনুকথা সপ্তক,
• ঘোষালে ত্রিকথা।

- তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
• সনেট-পঞ্চাশৎ,
• পদচারণ। 
-----------------------------------------
প্রমথ চৌধুরীর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো, 
- “সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”।

-  এ উক্তিটি তার বিখ্যাত প্রবন্ধ "বই পড়া"-থেকে নেয়া হয়েছে।
- "বই পড়া" প্রবন্ধটি তাঁর "প্রবন্ধ সংগ্রহ" বইয়ের অন্তর্ভুক্ত

- “সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”-
- এই উক্তি প্রমাণ করে যে প্রকৃত শিক্ষিত হতে হলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, নিজের প্রচেষ্টা ও আগ্রহেও জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৩৬.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. হাওয়ার গান
  2. সাদা হাওয়া
  3. কালো হাওয়া
  4. ভোরের হাওয়া
সঠিক উত্তর:
কালো হাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো হাওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কালো হাওয়া’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘সাদা হাওয়া’ উপন্যাসটি রাজনৈতিক ও নাগরিক ধরনের উপন্যাস। 
- ‘ভোরের হাওয়া’ কাজী জহিরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্য, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৬৩৭.
'ভ্রমর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. রাজসিংহ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে -বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নগেন্দ্রনাথ, কুন্দনন্দিনী, সূর্যমুখী, হীরা ইত্যাদি।
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি
• 'রাজসিংহ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলির মধ্যে আছেন- রাজসিংহ, ঔরঙ্গজেব এবং জেবউন্নিসা।

------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৩৮.
'মৈনাক' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম।
- 'মৈনাক' ছদ্মনামে তিনি পত্রিকায় কলাম লিখতেন। 

অন্যদিকে, 
• অনিলা দেবী ছদ্মনামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিচিত।
• ক্বচিৎ প্রৌঢ়, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৩৯.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৪০.
কোন উপন্যাসে চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. ক) মরণবিলাস
  2. খ) স্বপ্নশীলা
  3. গ) খসড়া কাগজ
  4. ঘ) কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।

• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,৬৪১.
'জীবনে সমাজে সাহিত্যে' প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আহমদ শরীফ
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'জীবনে সমাজে সাহিত্যে' প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থটির লেখক - আহমদ শরীফ
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৪২.
বিমল ঘোষের ছদ্মনাম -
  1. সুনন্দ
  2. পরশুরাম
  3. মৌমাছি
  4. বনফুল
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম — 'মৌমাছি'।

অন্যদিকে, 
- 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'বনফুল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৪৩.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক -
  1. ত্রিবেণী
  2. আলেখ্য
  3. আর্য্যগাথা
  4. চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। 
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৬৪৪.
কালীপ্রসন্ন সিংহের 'পুরাণসংগ্রহ' পৌরাণিক কোন গ্রন্থের গদ্যানুবাদ?
  1. ভাগবাদের
  2. রামায়ণের
  3. মহাভারতের
  4. মঙ্গলকাব্যের
সঠিক উত্তর:
মহাভারতের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাভারতের
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী। কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে তাঁর জন্ম। 

- খুব অল্প বয়সেই বহুগুণে গুণান্বিত কালীপ্রসন্নের বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 

- নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ (১৮৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রথম মঞ্চস্থ হয় বেণীসংহার নাটক এবং কালীপ্রসন্ন স্বয়ং এতে অভিনয় করেন।

- ১৮৫৭ সালে তিনি কালিদাসের সংস্কৃত নাটক বিক্রমোর্বশীয় অনুবাদ করেন এবং ১৮৫৮ সালে তিনি রচনা করেন সাবিত্রীসত্যবান নাটক। বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চে উভয় নাটকই মঞ্চস্থ হয় এবং তিনি দুটিতেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

তৎকালীন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। তিনি নিজ সম্পাদনায় কিছুদিন পরিদর্শক নামে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন।

- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) এবং 'পুরাণসংগ্রহ'-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে। বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

- 'পুরাণসংগ্রহ' (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬) সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, কালীপ্রসন্ন মাত্র ত্রিশ বছরের জীবনে তাঁর এ সকল কৃতিত্ব অর্জন করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৪৫.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. হিতোপদেশ
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা 
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ও লিপিমালা  রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৪৬.
সর্বাপেক্ষা তথ্যসমৃদ্ধ চৈতন্য জীবনী 'চৈতন্য- চরিতামৃত' রচনা করেন?
  1. ক) বৃন্দাবন দাস
  2. খ) লোচন দাস
  3. গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১৩,৬৪৭.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা- আহমদ শরীফ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বিচিত্র চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৬৪৮.
‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ ও যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ’ গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৪৯.
জীবনানন্দ দাশ রচিত নয়-
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) মাল্যবান
  3. গ) অদ্ভুত এক আধার
  4. ঘ) কবিতার কথা 
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্ভুত এক আধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্ভুত এক আধার
ব্যাখ্যা
অদ্ভুত আধার এক - শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 

জীবনানন্দ দাশ রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক
- ধূসর পান্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- সাতটি তারার তিমির
- রূপসী বাংলা

- কবিতার কথা = জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস- 
- মাল্যবান
- সতীর্থ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৫০.
‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. ভূষণার জমিদার মোহনলাল
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দোম আন্তনিও
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'।

- ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি ১৭৩৫ সালে রচিত হয় এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ।
১৩,৬৫১.
'মানুষ কে' কবিতার রচয়িতা-
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
মানুষ কে, বাঙালি মেয়ে,আনারস, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির, স্বদেশ, তপসে মাছ ইত্যাদি কবিতার রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' তাঁর ছদ্মনাম। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৬৫২.
'বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রমোহন বাগচী রচিত 'কাজলা দিদি' কবিতার বিখ্যাত চরণ 'বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ'।

কাজলা দিদি- কবিতা,
- যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, কাজলা দিদি- কবিতা।
১৩,৬৫৩.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কোন হরফে রচিত?
  1. ফারসি
  2. রোমান
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদ্রি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৬৫৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান
  2. সরল বাঙ্গালা সাহিত্য
  3. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  4. ​বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য':
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- দীর্ঘ সময়ের গবেষণায় কুমিল্লা থেকে ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বঙ্গভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক গ্রন্থটি।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর এটি একটি সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাগ্রন্থ যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালের পন্ডিতদের প্রশংসা লাভ করে।
- এ অসাধারণ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে পথিকৃৎ-এর সম্মান ও পান্ডিত্যের স্বীকৃতি লাভ করেন।

​--------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০। সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

- ​এছাড়াও দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন- মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো:
- History of bengali Language and Literature,
- বাংলার পুরনারী,
- প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান,
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য, 
- ​বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়,
- হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম,
- রের কথা ও যুগসাহিত্য,
- রামায়ণী কথা,
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৫৫.
'মুহুর্তের কবিতা' নামক সনেট সংকলন করেন কে?
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) বিজন ভট্টাচার্য
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
'মুহুর্তের কবিতা' নামক সনেট সংকলনের রচয়িতা ফররুখ আহমদ। 

কবি, শিশুসাহিত্যিক ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪) -এর জন্ম মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ব্যঙ্গ্যকবিতা ও সনেট রচনায় তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
- সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪),
- সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২),
- নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১),
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩),
- হাতেমতায়ী (১৯৬৬),
- হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১) ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৫৬.
'হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে।'- উক্তিটি কার রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।
- তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি- 'হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে।',
- 'অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুদ্র স্বদেশ ভূমি।',
- 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।',
- 'সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।',
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৫৭.
'সভ্যতার সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট:
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৫৮.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. পুরবাসী
  2. মাটির দেয়াল
  3. চলো যাই,
  4. পথ অন্তহীন
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী: 
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। 
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো: 
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক, 
- পুরবাসী, 
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৫৯.
'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'-বইটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসূদ্দীন 
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

♦ বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা:
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের লেখক আবুল মনসুর আহমেদ।
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থে যে ৪২টি নিবন্ধ রয়েছে।
→ সেগুলির মধ্যে প্রথম ৩৯টি ১৯৭২ ও ৭৩ সালে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
→ এই গ্রন্থে প্রকাশিত ৪২-টি নিবন্ধ পাচ মিশালা হহলেও প্রত্যেকাঢর মূল বক্তব্য অভিন্ন।
→ প্রবন্ধগুলোতে নানান দিকে উদ্ভুত জাতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানেরই পথ-নির্দেশনা লেখক তার লেখাগুলো দিয়েছেন।
→ অনেক বিষয়ে তিনি লেখা ও আলোচনা শুরু করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন সবার উপর।

♦ আবুল মনসুর আহমেদ:

→ তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
→ তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

♦ ব্যঙ্গরচনা:
→ আয়না,
→ ফুড কনফারেন্স,
→ গালিভারের সফরনামা

♦ স্মৃতিকথা:
→ আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
→ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
→ শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

♦ তাঁর রচিত উপন্যাস:
→ সত্যমিথ্যা,
→ জীবন ক্ষুধা,
→ আবে-হায়াৎ

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৬০.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
  2. খ) দস্যু কেনারাম : চন্দ্রাবতী
  3. গ) বিদ্যাসুন্দর : কবিকঙ্ক
  4. ঘ) কমলা : দ্বিজ ঈশান
  5. ঙ) দেওয়ানা মদিনা : মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
উপরে উল্লেখিত সবগুলোই ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত পালা ও রূপকথা। এদের মধ্যে মহুয়া পালাটির রচয়িতা দ্বিজ কানাই। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১৩,৬৬১.
মরুভাস্কর লিখেছেন-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) আতা খাঁ
  4. ঘ) ইব্রাহীম পাশা
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বাংলা সাহিত্যে “দুঃখবাদী কবি” হিসেবে পরিচিত। তার কাব্যঃ মরীচিকা, মরুমায়া, মরুশিখা, সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, কাজী নজরুল লিখেছিলেন - মরুভাস্কর কাব্য, যা মুহম্মদ (স.) এর জীবনী নিয়ে লেখা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
১৩,৬৬২.
কোনটি আধুনিক যুগের রচনা?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. রায়মঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'সারদামঙ্গল'- আধুনিক যুগের রচনা।
- ''অন্নদামঙ্গল, কালিকামঙ্গল, রায়মঙ্গল'' মধ্যযুগের রচনা। 

• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন,
“সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।
-------------------- 
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

 • কালিকামঙ্গল: 
- কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে।
- সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। 
- এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।
- কাব্যটির উৎস এগারো শতকের সংস্কৃত কবি বিলহনের চৌরপঞ্চাশিকা। 
- বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনে প্রথমে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন ষোলো শতকের কবি শাহ বিরিদ খান ও দ্বিজ শ্রীধর।
- পরে কৃষ্ণরাম, বলরাম, কবিশেখর,  রামপ্রসাদ সেন,  ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ এ ধারায় কাব্য রচনা করে যশস্বী হন।
- তবে এঁদের মধ্যে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল বা কালিকামঙ্গলই শ্রেষ্ঠ কাব্য।

• রায়মঙ্গল:
- মধ্যযুগীয় আখ্যানকাব্য। ব্যাঘ্র-দেবতা দক্ষিণ রায়ের মাহাত্ম্য প্রচার উপলক্ষে এ কাব্যটি রচিত হয়। দক্ষিণ রায় একজন লৌকিক দেবতা।
- দক্ষিণ বঙ্গের, বিশেষত সুন্দরবন অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষেরা এর পূজারী।
- তারা যখন জীবিকার উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে যায় তখন তারা বাঘের আক্রমণের শিকার হয়।
- এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই তারা দক্ষিণ রায়ের পূজা করে, কারণ তাদের বিশ্বাস, দক্ষিণ রায়ের পূজা মানত করলে আর বিপদ হবে না।
- রায়মঙ্গলের  প্রথম কবি মাধবাচার্য, কিন্তু তাঁর কাব্য পাওয়া যায়নি।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমিতা গ্রামনিবাসী কৃষ্ণরাম এর দ্বিতীয় কবি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩,৬৬৩.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'আশা' কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
  1. বৃশ্চিকলগ্ন
  2. মালব কৌশিক
  3. বৈরীবৃষ্টিতে
  4. প্রসন্ন প্রহর
সঠিক উত্তর:
মালব কৌশিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালব কৌশিক
ব্যাখ্যা
'আশা' কবিতা:
- সিকান্দার আবু জাফরের 'মালব কৌশিক' কাব্য থেকে কবিতাটি সংকলিত হয়েছে। 
- কবিতায় ফুটে উঠেছে জাগতিক এই পৃথিবী ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। মানুষ ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের বাড়ছে ব্যবধান।
 
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
 
সিকান্দার আবু জাফর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- কবিতা,
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৬৪.
কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত প্রথম মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক্রান্তি
  2. পরিচয় 
  3. শিখা
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক 'ক্রান্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্ত। 
• 'পরিচয়' বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ত্রৈমাসিক পত্রিকা, যা ১৯৩১ সালের জুলাই মাসে (১৩৩৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ) প্রখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-এর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
• 'শিখা' ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কর্তৃক প্রকাশিত প্রখ্যাত বার্ষিক পত্রিকা, যা 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন'-এর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৬৫.
'সনেট পঞ্চাশৎ' কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিষ্ণু দে
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

 • 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি  'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ
- পদাচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৬৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন?
  1. ক) ১৮২৯
  2. খ) ১৮৪১
  3. গ) ১৮২৬
  4. ঘ) ১৮২৮
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮২৯
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২৯ সালে কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৬৬৭.
বাংলা লিপি সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) রামমোহন রায়
  4. ঘ) বঙ্কিমচ্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০ - ১৮৯১):
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার ‘সংস্কৃত কলেজ’ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করেছিলেন। বাংলা ভাষাকে যুক্তিগ্রাহ্য ও সকলের বোধগম্য করে তুলেছিলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- প্রভাবতী সম্ভাষণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।
- ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৬৮.
'নবান্ন' নাটকের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশ ভাগ
  2. খ) মন্বন্তর
  3. গ) স্বাধীন বাংলার গ্রামীন জীবন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক। 

বিজন ভট্টাচার্য নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন৷
তিনি 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- জনপদ
- কলঙ্ক
- মরাচাঁদ
- অবরোধ
- গোত্রান্তর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৬৯.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. জীবন ঘষে আগুন
  2. সাবিত্রী উপাখ্যান
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. অসীমান্তিক
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'সাবিত্রী উপাখ্যান' উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি।
- উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।
- অতীত থেকে এই সাম্প্রতিককাল অবধি নারীর যে চিরন্তন অবস্থান, উপন্যাসটিতে সে বিষয়ই প্রধান হয়ে এসেছে।

• একটি পত্রিকাকে প্রকাশনা- পর্বে লেখক বলেন:
'১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন হয়েছে। ভারতে প্রথম একটি নির্বাচন হচ্ছে। ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি ও জাতীয় কংগ্রেস কোয়ালিশন করার চেষ্টা করেছে। তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। ওদিকে জমিদারি ও মহাজনি প্রথা উঠে যাচ্ছে। সমাজে তখন একটি পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সে সময়ই বীরভূম এলাকায় একটি ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবংশীয় এক নারী ধর্ষিতা হয়েছিল। সে ঘটনায় উচ্চ ও নিম্নবর্ণের হিন্দু ও মুসলমানদের নামে মামলা হয়। ঘটনাটি তখন বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে । আমি ঐ সময়টির পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনেতিক পটভূমিতে নারীর অবস্থানকে তুলে ধরতে চেয়েছি। একে রাজনৈতিক উপন্যাস বলা যাবেনা।

----------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

• তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক (ভারতের মোট একষট্টি গল্পের সমাহারে সমাপাদনা গ্রন্থ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৭০.
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- 
  1. অজিতকুমার দত্ত 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত 
  4. মোজাম্মেল হক 
সঠিক উত্তর:
অজিতকুমার দত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজিতকুমার দত্ত 
ব্যাখ্যা

•  'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। 
​- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

​অন্যদিকে,
- ​মোজাম্মেল হক - মোসলেম ভারত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ​অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত - কল্লোলের নিয়মিত লেখক ছিলেন।
​- প্রেমেন্দ্র মিত্র - কালিকলম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৭১.
১৯৯৪ সালে যে প্রবন্ধকার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন-
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) ওয়াকিল আহমদ
  4. ঘ) আব্দুল মতিন খান
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়াকিল আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়াকিল আহমদ
ব্যাখ্যা

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৩,৬৭২.
মাহমুদুল হক রচিত 'কালো বরফ' উপন্যাসটি কোন পেক্ষাপটে রচিত?
  1. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
  4. তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের দেশভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
 - ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন ‘কালো বরফ’ উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে। 
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু- মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জীবন আমার বোন (মুক্তিযুদ্ধকে উপন্যাস),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: 'কালো বরফ' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৭৩.
কবিগান রচয়িতাদের জীবনী সংগ্রহ করেন -
  1. জসীমউদ্দিন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ। 
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবিগান রচয়িতাদের জীবনী সংগ্রহ করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৩,৬৭৪.
শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক' সম্পাদনা ও প্রকাশের সাথে যুক্তছিলেন কে?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৭৫.
'আনন্দমঠ' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. আনন্দমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।
- 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা।
- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত।
- মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব।
- সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। - নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। - এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

-------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৭৬.
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?  
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৬ সালে 
  3. ১৯২৭ সালে 
  4. ১৯২৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে 
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

• নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

এছাড়াও-
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
• শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
• শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৭৭.
'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' কবিতাটি কত লাইনে রচিত?
  1. ১৫১
  2. ১৫২
  3. ১৫৩
  4. ১৫৪
সঠিক উত্তর:
১৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২
ব্যাখ্যা

• সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:
- 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও গীতা মেহতার সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি।
- এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।

১৩,৬৭৮.
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৭৯.
‘ A Grammar of the Bengali Language’ বইটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) শ্রীরামপুর
  3. গ) হুগলি
  4. ঘ) লিসবন
সঠিক উত্তর:
গ) হুগলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুগলি
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ রচনার দ্বিতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। যথার্থ বাংলা ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর A Grammar of the Bengal Language (হুগলি, ১৭৭৮) একটি সার্থক প্রচেষ্টা। কিন্তু গ্রন্থ রচনায় তিনি সংস্কৃতের ওপর বেশি নির্ভর করেন। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৮০.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. মণীশ ঘটক
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - দাদাভাই; বাণভট্ট।
মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শংকর।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,৬৮১.
লর্ড বায়রনের “My native Land, Good Night!” কবিতা থেকে উদ্ভূদ্ধ হয়ে রচিত বাংলা কবিতা কোনটি?
  1. ক) বঙ্গভাষা
  2. খ) বঙ্গভূমির প্রতি
  3. গ) কপোতাক্ষ নদ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গভূমির প্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গভূমির প্রতি
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: কবি ও নাট্যকার৷
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা কবিতায় আধুনিকতার প্রবর্তক। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।

কবির 'বঙ্গভূমির প্রতি" কবিতাটি তিনি কবিতাটি লর্ড বায়রনের “My native Land, Good Night!” কবিতা থেকে উদ্ভূদ্ধ হয়ে রচনা করেন।

বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; –
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
তবে যদি দয়া কর,
ভুল দোষ, গুণ ধর,
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে! –
ফুটি যেন স্মৃতি-জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!"

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা।
১৩,৬৮২.
'শাহনামা' -এর লেখক কে?
  1. কবি ফেরদৌসী
  2. মওলানা রুমী
  3. কবি নিজামী
  4. কবি জামি
সঠিক উত্তর:
কবি ফেরদৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি ফেরদৌসী
ব্যাখ্যা
• ‘শাহনামা’ মহাকাব্য:
- শাহনামা পারস্যের (বর্তমান ইরান) কবি ফেরদৌসী দ্বারা লিখিত একটি দীর্ঘ মহাকাব্য।
- এটি একই সাথে ইরানের ও সারা বিশ্বের ফার্সি ভাষাভাষী লোকদের জন্য জাতীয় মহাকাব্য।
- ফেরদৌসী ৯৭৭ থেকে ১০১০ সালের মধ্যে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মহাকাব্য রচনা করেন।
- শাহনামায় প্রায় ষাট হাজার শ্লোক রয়েছে।
- ইরানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে আনা হয়েছে এই মহাকাব্যে।
- এটিকে বলা হয় ইরানের জাতীয় মহাকাব্য।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এটির একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালে।
- প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর এই মহাকাব্য থেকে কিছু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছিলেন।
- বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁও শাহনামা পড়ে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন।

উৎস: কালের কন্ঠ, ৩১ জুলাই, ২০১৫, ‘শাহনামা' গ্রন্থ- কবি ফেরদৌসী।
১৩,৬৮৩.
"বছির" - কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. আগুনের পরশমণি
  2. লালসালু
  3. বোবা কাহিনী
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা

"বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী - উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

অন্যদিকে,
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের চরিত্র - বদিউল আলম।
'লালসালু' উপন্যাসের চরিত্র - মজিদ, জমিলা, আমেনা।
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র - জয়গুন, হাসু, মায়মুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৮৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’ এর রচয়িতা কে?
  1. মাহমুদুল হাসান
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম থোকা প্রমুখ।

• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৮৫.
আল মাহমুদ রচিত কোন কবিতাটি একটি সনেট?
  1. ক) কালের কলস
  2. খ) সোনালী কাবিন
  3. গ) অবগাহনের শব্দ
  4. ঘ) অন্তরভেদী অবলোকন
সঠিক উত্তর:
খ) সোনালী কাবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ:
-
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল ‘সোনালী কাবিন’ (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থ।
-  এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালী কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
- ‘সোনালী কাবিনে’র কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

 এই কাব্যগ্রন্থের অন্য কবিতা গুলো হলো:
- জাতিস্মর
- পারক ভাঙার প্রতিবাদে,
- ক্যামোফ্লাজ
- শোণিত সৌরভ
- তোমার আড়ালে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত।
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
- গন্ধবণিক।
- ময়ূরীর মুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী।
- উপমহাদেশ।
- আগুনের মেয়ে।
- কাবুলের বোন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৮৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কবিরত্ন
  2. অশীতিপর শর্মা
  3. যুবনাশ্ব
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।
 
 অনুবাদ কাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৮৭.
পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ ছিলেন-
  1. রামরাম বসু
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. দাশরথি রায়
  4. গোঁজলা গুঁই
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়।

• দাশরথি রায়:
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।

- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পণ্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।
-------------------
• পাঁচালি:
পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা। এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়। পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
আবার,
এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।

অন্যদিকে,
• বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। 
• গোঁজলা গুঁই - কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু ছিলেন গদ্য সাহিত্য সূচনা পর্বের লেখক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৩,৬৮৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি কাকে উৎসর্গ করেন? 
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দেবেন্দ্রনাথ সেন
  3. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  4. জগদীশচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।

• 'কালের যাত্রা' নাটক:
- নাটকটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- রথযাত্রা, রথের রশি, কবির দীক্ষা নামে কয়েকটি দৃশ্যে নাটকটি রচিত। 

-----------------------
তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত কাব্য ও গ্রন্থসমূহ:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্ব পরিচয়' বইটি - সত্যেন্দ্রনাথ বসু উৎসর্গ করেন। 
• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী - কাদম্বরী দেবী। 
• মানসী - মৃণালিনী দেবী ( 'উপহার' কবিতায় ইঙ্গিত আছে)। 
• সোনার তরী - কবি-ভ্রাতা দেবেন্দ্রনাথ সেন। 
• কথা ও কাহিনী - জগদীশচন্দ্র বসু। 
• স্মরণ - মৃণালিনী দেবী। 
• পরিশেষ - অতুলপ্রসাদ সেন। 
• খাপছাড়া - রাজশেখর বসু। 
• আকাশ প্রদীপ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রভৃতি।
• পূরবী - আর্জেন্টাইন মহিলা ভিক্টোরিইয়া ওকাম্পো। 
• 'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাসটি উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবী। 

উল্লেখ্য,
• কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।
• এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
• ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৬৮৯.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৯০.
'হাসু এবং মায়মুন' চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  3. বরফ গলা নদী
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
সূর্য-দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য-দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'। জয়গুণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৯১.
‘ব্যোমকেশ বক্সী’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল চট্টোপাধ্যায়
  3. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হলো সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী
- ১৯৩২ সালে 'পথের কাঁটা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে ব্যোমকেশের আত্মপ্রকাশ।

• শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-৯৭০):
- তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক।
- তাঁর জন্ম উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে নিজ মাতুলালয়ে।

তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস:
- কালের মন্দিরা,
- গৌড়মল্লার,
- তুমি সন্ধ্যার মেঘ,
- কুমারসম্ভবের কবি,
- তুঙ্গভদ্রার তীরে,

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩,৬৯২.
‘আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাধ অগ্নিসেতু’ কার উক্তি?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৬৯৩.
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ কর্তৃক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ কোন উপাধি লাভ করেছেন?
  1. চলিষ্ণু অভিধান
  2. জ্ঞানতাপস
  3. বিদ্যাবাচস্পতি
  4. হিলাল-ই-ইমতিয়াজ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাবাচস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাবাচস্পতি
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র উপাধিসমূহ হলো-
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁর অপূর্ব অবদানের জন্য তাঁকে 'বিদ্যাবাচস্পতি' উপাধিতে ভূষিত করে। পাকিস্তান আমলে তাঁকে বাংলা সাহিত্য সাধনার জন্য 'প্রাইড অভ পারফর্মেন্স পদক' ও দশ হাজার টাকা পুরস্কার এবং মরণোত্তরকালে 'হিলাল-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত করা হয়। ফরাসি সরকার তাঁকে 'সেভলেয়র দ্যে লা অর্দার দ্যেস আর্টস এত দ্যে লেতর্স' উপাধি প্রদান করেছিল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেসন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করে, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনুমতির অভাবে সেটা তিনি গ্রহণ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর সম্মানসূচক 'ডি-লিট' উপাধি দিয়েছে এবং প্রাচীনতম ছাত্রাবাসকে তাঁর নামে নামকরণ করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কলাভবনটিও তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত। ১৯৮০-তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও তাঁকে মরণোত্তর দেওয়া হয়েছে।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা। 

- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: 'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' গ্রন্থ; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৯৪.
প্রেম ও দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ কবে মৃত্যবরণ করেন?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪
  2. ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  3. ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
ব্যাখ্যা
• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
- ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)।
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)।
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৯৫.
রবীন্দ্র প্রতিভা বিকাশ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে?
  1. সাধনা
  2. প্রগতি
  3. পরিচয়
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা
⇒ সাধনা' পত্রিকা:
- ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্র-ভাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'সাধনা' পত্রিকা।
- মূলত 'সাধনা' পত্রিকাটি ঠাকুরবাড়ি কেন্দ্রিক লেখকদের দ্বারা পরিচালিত।
- তবে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এই পত্রিকার প্রাণ। 
- রবীন্দ্র প্রতিভা বিকাশ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পত্রিকা প্রকাশের ৩ বছর পর রবীন্দ্রনাথ নিজে এই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৯৬.
'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. শঙ্খ ঘােষ
  3. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
ব্যাখ্যা
• 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের লেখক: 'শঙ্খ ঘােষ'।

• শঙ্খ ঘোষ:

- শঙ্খ ঘোষের জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২, অধুনা বাংলাদেশের চাঁদপুরে। কুন্তক তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি ছিলেন লব্ধপ্রতিষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। 
- শিক্ষালাভ করেছেন চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ, পাকশি (বাংলাদেশের পাবনা জেলায়); প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাসূত্রে যুক্ত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- 'দিনগুলি রাতগুলি' (১৯৫৬) তারঁ প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে,
- চুপ করো, শব্দহীন হও,
- সবিনয় নিবেদন,
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে,
- হওয়া।

কবির প্রাপ্ত নানা পুরস্কারের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৭৭),
- রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৮৯),
- কবীর সম্মান (১৯৯৮),
- সরস্বতী সম্মান (১৯১৮),
- অজ্ঞানপীঠ পরস্থার (২০১৬)।

উৎস: ‘সীমান্তবীহিন দেশে দেশে’ শঙ্খ ঘোষ এবং প্রথম আলো ও দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট।
১৩,৬৯৭.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের শেষ ভাগের নাম কী?
  1. বল্লালী বালাই
  2. আমআঁটির ভেঁপু
  3. অক্রূর সংবাদ
  4. অপুর সংসার
সঠিক উত্তর:
অক্রূর সংবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্রূর সংবাদ
ব্যাখ্যা

 পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অপরাজিত, 
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক 
- আদর্শ হিন্দু হােটেল 
- দেবযান 
- ইছামতী 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৯৮.
১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত কবিতা-
  1. লাশ
  2. পাঞ্জেরী
  3. তুফান
  4. দরিয়ায় শেষ রাত্রি
সঠিক উত্তর:
লাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাশ
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

- ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি জনপ্রিয় খেলাঘর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৯৯.
বাংলাদেশের সমুদ্র-উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কোন উপন্যাসের মাধ্যমে?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) পদ্মা নদীর মাঝি
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত সারেং বৌ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র-উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৭০০.
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে হায়?’
কোন গ্রন্থ থেকে পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে?
  1. শূরসুন্দরী
  2. কাঞ্চীকাবেরী
  3. পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ থেকে উল্লিখিত উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।
গ্রন্থটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
এই কাব্যের কাহিনি আহরণ করা হয় টডের রাজস্থান-কাহিনি নামক গ্রন্থ থেকে।
- শূরসুন্দরী,
- কর্মদেবী,
- কাঞ্চীকাবেরী তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ।
উৎস : লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ