বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৫ / ১৭৪ · ১৩,৪০১১৩,৫০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৪০১.
কোনটি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) হরিণের হাড়
  2. খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) আমি অনাহারী
সঠিক উত্তর:
গ) ছায়া হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছায়া হরিণ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
• তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
• তিনি পুরান ঢাকার মাহুতটুলী নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে।
• পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
• মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,  
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,  
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে ইত্যাদি।

• 'ছায়া হরিণ' আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪০২.
“হারেম” ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) শাহেদ আলী
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প হলো মহাপতঙ্গ, হারেম এবং জোঁক ৷ তার বিখ্যাত উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ী।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,৪০৩.
‘সারেং বউ' বইটির লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,৪০৪.
ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. অক্ষয় কুমার দত্ত
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪০৫.
'স্বাধীনতা তুমি, শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রফিক আজাদ 
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নে প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতার অন্তর্গত। 

স্বাধীনতা তুমি
- শামসুর রাহমান
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা,
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত স্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল,
স্বাধীনতা তুমি ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।

---------------------
• 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:

- শামসুর রাহমানের খ্যাতি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থের শুরুতে 'পূর্বলেখ' শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি', 'মধুস্মৃতি', 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' ইত্যাদি।
- প্রতিটি কবিতায় স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

-------------------
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি ও  সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ'শ উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়।
- 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা' তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪০৬.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের দেশবিভাগের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে
  2. কালো বরফ
  3. কেয়াপাতার নৌকো
  4. পূর্ব-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম (১৯৮৯) ১৯৪৭ সালের ভারতবর্ষের দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত একটি বৃহৎ উপন্যাস।
- 'উপন্যাসটি কলকাতা থেকে ধারাবাহিকভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। 

- সাতচল্লিশের দেশভাগ আর এর ফলে দুই বাংলার হাজার হাজার পরিবারের বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে ভিনদেশে পাড়ি দেয়ার ঘটনা উপমহাদেশের ইতিহাসের এক নির্মম সত্য। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার বিখ্যাত ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসের দুই খণ্ডে তুলে ধরেছেন দেশবিভাগের সেই বিচ্ছেদ বেদনার কথা।

- সেইসাথে তার কালজয়ী এ উপন্যাসে উঠে এসেছে তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পালা বদলের গল্প। ঐতিহাসিক উপন্যাস না হয়েও ইতিহাসকে আঁকড়ে দুই বাংলার কয়েকটি পরিবারের গল্পকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলেছে উপন্যাসের কাহিনি। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে আমেরিকার নিউইয়র্ক জুড়ে রয়েছে এই উপন্যাসের ক্যানভাস।

--------------------
অন্যান্য অপশনে দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
• অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের "নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে"। 
• মাহমুদুল হকের "কালো বরফ"।
• এবং প্রফুল্ল রায়ের "কেয়াপাতার নৌকো"। 

উৎস: 'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৪০৭.
'আসাদের শার্ট' কবিতার লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।

• 'আসাদের শার্ট' কবিতা: 
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শার্ট' কবিতাটি। 
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। 

তাতে কবি লিখেছিলেন-
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪০৮.
‘এ পথের যদি শেষ না হতো কোনদিন, অনন্তকাল ধরে যদি এমনি চলতে পারতাম আমরা।’- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আর কতদিন
  2. হাজার বছর ধরে
  3. একুশের গল্প
  4. শেষ বিকেলের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
একুশের গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশের গল্প
ব্যাখ্যা
• একুশের গল্প:
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে ‘একুশের গল্প’ অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

গল্পটিতে ব্যবহৃত কিছু সংলাপ হলো:
• 'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি একুশের গল্পের অন্তর্গত।
• ‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে। - সংলাপটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।”

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।
১৩,৪০৯.
“আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?” - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• “আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?” পঙ্‌ক্তিদ্বয়  "মেঘনাদবধ" কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে।

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৪১০.
'Song Offerings' কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন কোন বিখ্যাত ইংরেজ কবি? 
  1. টি. এস. এলিয়ট
  2. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
  3. জন কিটস
  4. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
ব্যাখ্যা

'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০।  গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা। 
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)।
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats। 
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪১১.
বিখ্যাত ছোটগল্প 'জোঁক'-এর রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

উপন্যাসঃ

সূর্য দীঘল বাড়ি (একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।),
- পদ্মার পলিদ্বীপ (আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- জাল (তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।

গল্পগ্রন্থঃ হারেম, মহাপতঙ্গ ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ জোঁক
তাঁর রচিত একমাত্র নাটক - ‘জয়ধ্বনি’।
তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘স্মৃতিবিচিত্রা’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪১২.
'ছায়াহরিণ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
'ছায়াহরিণ' কাব্যগ্রন্থ:
- আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ - ছায়াহরিণ।
- গ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
- মোট কবিতার সংখ্যা ২৪। এ কাব্যে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত।
- ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।

আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪১৩.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রজনী
  2. নববিধান
  3. প্রেমের সমাধি 
  4. গ্রানাডার শেষ বীর
সঠিক উত্তর:
প্রেমের সমাধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমের সমাধি 
ব্যাখ্যা

• 'প্রেমের সমাধি' উপন্যাসটি রচনা করেন - মোহাম্মদ নজিবর রহমান

অন্যদিকে,
- 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি। এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'রজনী' উপন্যাসটি লিখেছেন সাহিত্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- 'নববিধান' হলো প্রখ্যাত বাঙালি লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় ও কালজয়ী বাংলা উপন্যাস।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪১৪.
বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ কোনটি?
  1. সনেট পঞ্চাশৎ
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. অশোক সংগীত
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলি
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলি
ব্যাখ্যা

• 'চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- 'চতুর্দশপদী কবিতাবলি' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

অন্যদিকে, 
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে।
• ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন- মুহূর্তের কবিতা।
• 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ। এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
-তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (কাহিনি কাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪১৫.
‘বিষাদ-সিন্ধু’র মূল কাহিনি কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. বদরের যুদ্ধ
  3. কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
  4. হোসেন শাহের রাজত্বকাল
সঠিক উত্তর:
কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪১৬.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক -
  1. বেহুলা গীতাভিনয়
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
বেহুলা গীতাভিনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক - বেহুলা গীতাভিনয়

অন্যদিকে,
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত জীবনীভিত্তিক উপন্যাস - উদাসীন পথিকের মনের কথা।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ - গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক কমলে কামিনী - কমলে কামিনী।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪১৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রোমান্সধর্মী উপন্যাস—
  1. ক) যুগলাঙ্গুরীয়
  2. খ) কপালকুণ্ডলা
  3. গ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. ঘ) আনন্দ মঠ
সঠিক উত্তর:
খ) কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক ও দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)'।

কপালকুণ্ডলা:

• কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
• এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়। কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪১৮.
"নিরুদ্দেশ যাত্রা" কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. বলাকা 
  2. মানসী
  3. কল্পনা
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা

• "বর্ষাযাপন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।

• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন। সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙ্‌ক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪১৯.
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনের নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনের নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন। 
- উদ্বোধন করা হয় ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।  
- সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আবুল কালাম শামসুদ্দীন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। 
- ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে পূর্ববঙ্গ পরিষদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪২০.
'বিপ্রদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'বিপ্রদাস' উপন্যাস:
- 'বিপ্রদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত (১৯৩৫) জনপ্রিয় এবং সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- বিপ্রদাস, দ্বিজদাস, বন্দনা প্রভৃতি চরিত্র এবং তাদের মানবিক সম্পর্কের জটলতা এবং মাধুর্য, কাহিনির টানাপোড়েন এবং পরিণাম-রমণীয়তা এই উপন্যাসটিকে বিশেষ জনপ্রিয় করেছিল।
- সমগ্র 'বিপ্রদাস' 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি শরৎচন্দ্রের জীবদ্দশায় প্রকাশিত সর্বশেষ উপন্যাসগ্রন্থ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- রামের সুমতি,
- মামলার ফল,
- ছবি,
- বিন্দুর ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪২১.
‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত -
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৈামিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪২২.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি
  3. পানিপথের যুদ্ধ
  4. মনন্ত্বর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি
ব্যাখ্যা
'ঘরে বাইরে' উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৫ সালে সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসের একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বদেশিকতার সমালোচনা ও অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা নিয়ন্ত্রিত নারী পুরুষের সম্পর্ক।

রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস সমূহ:
- করুণা
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
- রাজর্ষি
- চোখের বালি
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ
- গোরা
- ঘরে বাইরে
- চতুরঙ্গ
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা
- মালঞ্চ
- চার অধ্যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪২৩.
মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক-
  1. বসন্তকুমারী
  2. আবু হোসেন
  3. পদ্মাবতী
  4. মালতী মাধব
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অশ্রুমতী’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মালতী-মাধব’।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত গীতিনাট্য ‘আবু হোসেন’।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক ‘পদ্মাবতী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪২৪.
হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) অনিল বাগচীর একদিন
  3. গ) শঙ্খনীল কারাগার
  4. ঘ) জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
গ) শঙ্খনীল কারাগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শঙ্খনীল কারাগার
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। 
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)। [প্রথম রচিত উপন্যাস; কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত]

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪২৫.
'ঠক চাচা' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. জোহরা
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

-----------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর সাহিত্যিক ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪২৬.
ভারতবর্ষে বিজ্ঞান আলোচনার পদপ্রদর্শক বলা হয় কাকে?
  1. অতুলচন্দ্র গুপ্ত
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
অক্ষয়কুমার দত্ত:
- তিনি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও আদি ব্রাহ্মসমাজের প্রধান কর্মীপুরুষ।
- জন্ম ১৮২০ সালের ১৫ জুলাই নবদ্বীপের পাঁচ মাইল উত্তরে, চুপী গ্রামে।
- ১৮৩৮ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত-এর সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি অক্ষয়কুমার দত্তকে সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতে উৎসাহিত করেন। এ পত্রিকায় নিয়মিত লেখার সূত্রেই দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সঙ্গে অক্ষয়কুমার দত্তের পরিচয় হয়। ১৮৩৯ সালে ৬ অক্টোবর ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠিত হলে ২৬ ডিসেম্বর তিনি এ সভার সভ্য হন।
- ভূগোল বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বিজ্ঞানবিষয়ক বই এবং এ বইয়ের মাধ্যমে অক্ষয়কুমার দত্ত বাংলা যতিচিহ্নের প্রবর্তন করেন। পদার্থবিদ্যা পরে প্রকাশিত হলেও, এটি বাংলা ভাষায় রচিত বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের প্রথম গ্রন্থ।
- অক্ষয়কুমার দত্তকে ভারতবর্ষে বিজ্ঞান আলোচনার পদপ্রদর্শক বলা হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ভূগোল,
- চারপাঠ,
- ধর্মনীতি,
- ভারতবর্ষীয় উপয়াসক-সম্প্রদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪২৭.
‘বিশ শতকের বাঙালী’ প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আহমদ শরীফ
  3. আল মাহমুদ 
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

•'বিশ শতকের বাঙালী' প্রবন্ধটির রচয়িতা: 'আহমদ শরীফ।

• আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দুখন্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪২৮.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রেম প্রধান কাব্যগ্রন্থ?
  1. প্রলয় শিখা
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. দোলন-চাঁপা
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪২৯.
ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপত্র কোনটি?
  1. ক) জ্ঞানান্বেষণ
  2. খ) জ্ঞানাঙ্কুর
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানান্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানান্বেষণ
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা।
- ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট ডিরোজিওর বাঙালি শিষ্যরাই ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১)পত্রিকা দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৩০.
'লোক-লোকান্তর'- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'লোক-লোকান্তর'- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- আল মাহমুদ
- এট কবির আত্মপরিচয়মূলক কবিতা। 
- কবির উল্লেখযোগ্য সনেটের মধ্যে এটি একটি। 

আল মাহমুদ
- আল মাহমুদের প্রকৃত নাম: মির আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
-স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো: 
লোক লোকান্তর,
কালের কলস,
মায়াবী পর্দা দুলে উঠে,
সোনালী কাবিন,
বখতিয়ারের ঘোড়া,
পাখির কাছে ফুলের কাছে,
প্রেমের কবিতা,
আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ১ম পত্র। 
১৩,৪৩১.
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা- 'আবদুল গাফফার চৌধুরী'
- বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- এটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।

- তবে, 'পলাশী থেকে পাকিস্তান' নামক ইতিহাস ভিত্তিক গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী:
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
- বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্ত্রদ্বীপের উপাখ্যান।'  

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ: 
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১৩,৪৩২.
ত্রয়ী মহাকাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে।

• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা, ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৩৩.
’বেণু ও বীণা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠকুর
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২) :
- সত্যেন্দ্রনাথ একজন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন  তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন  ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন : নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ।
১৩,৪৩৪.
'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয় একুশের কোন গানটি?
  1. ক) আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
  3. গ) ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না
  4. ঘ) মা গো ওরা বলে
সঠিক উত্তর:
ক) আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'।গানটির রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি 'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। 
১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে সংকলনে'ও এটি প্রকাশিত হয়। 
ঢাকা কলেজের ছাত্র বান্ধবকুটির মেসনিবাসী আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর কবিতা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ ১৯৫৩ সালে রচিত হলেও সুরারোপিত হয়ে এ গান গাওয়া হয়েছে ১৯৫৪ সালের প্রভাতফেরিতে এবং এরপর থেকে নিয়মিত। এ ছাড়া একাধিক কবি লিখেছেন একুশের গান, যদিও সেগুলো প্রভাতফেরিতে গাওয়া হয়নি।

• একুশের প্রথম গান রচনা করেন ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হক। গানটির প্রথম চরণ- ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় এ গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটা ছিলো তখনকার দিনে রাজপথের গান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৩৫.
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ জহিরুলা
  2. মুহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  3. মুহাম্মদ জহিরুল্লা
  4. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী, 
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৩৬.
'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আব্দুল কাদির
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
- 'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িত আব্দুল কাদির। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- আব্দুল কাদিরের মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় 'লোকায়িত সাহিত্য’।

আব্দুল কাদির:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আব্দুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- লোকায়ত সাহিত্য।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৩৭.
'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কার কাব্যগন্থ?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগন্থের রচয়িতা আহসান হাবীব।

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৪৩৮.
ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসটির বিষয়বস্তু কি?
  1. ক) সন্ত্রাসবাদ
  2. খ) স্বদেশি আন্দোলন
  3. গ) মৃত্যু পথযাত্রী নারী ও তার স্বামীর কাহিনি
  4. ঘ) পৌরাণিক প্রণয় কাহিনি
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশি আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে
- এটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

• অন্যান্য অপশন:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রাঙ্গদা' নাটকটি পৌরাণিক প্রণয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করা হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মালঞ্চ' উপন্যাসে মৃত্যু পথযাত্রী নারী ও তার স্বামীর কাহিনি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
  3. কঙ্কাল
  4. রবিবার
সঠিক উত্তর:
যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৪০.
কোন কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তুর্গত নয়? 
  1. খেয়াপারের তরণী
  2. কামাল পাশা
  3. রণভেরী
  4. কুলি মজুর
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুলি মজুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলি মজুর
ব্যাখ্যা

• "কুলি মজুর" কবিতাটি  'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৪১.
'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আহসান হাবীব
  3. বিষ্ণু দে
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:    
• ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। 
• তাকে রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচি লেখক বলা হয়। 
• ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন।   

⇒  তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ: 
• বন্দীর বন্দনা,
• স্বাগত বিদায়, 
• দ্রৌপদীর শাড়ী, 
• যে আঁধারআলোর অধিক।   

⇒ উপন্যাসগ্রন্থ:  
• সানন্দা, 
• তিথিডোর, 
• নির্জন স্বাক্ষর, 
• রাত ভরে বৃষ্টি ইত্যাদি। 

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ:
• কালের পুতুল,
• সাহিত্যচর্চা।  

⇒ ভ্রমণ ও স্মৃতিকথা:   
• হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
• দেশান্তর, 
• আমার ছেলেবেলা। 

⇒ নাটক: 
• মায়ামালঞ্চ ও  
• তপস্বী ও তরঙ্গিণী।    
→ ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। 
→ এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।  
→ ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৪২.
নিচের কোন কবির প্রভাব বিষ্ণু দে-এর কবিতায় লক্ষ্য করা যায়?
  1. টি.এস. এলিয়ট
  2. ডব্লিউ.বি. ইয়েটস
  3. পাবলো নেরুদা
  4. স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ
সঠিক উত্তর:
টি.এস. এলিয়ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি.এস. এলিয়ট
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে
- বিষ্ণু দে ছিলেন একজন খ্যাতিমান কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন একজন অ্যাটর্নি।
- তিনি ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম।
- মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ বিষ্ণু দে টি.এস. এলিয়টের কবিতার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- এছাড়া তিনি ‘সাহিত্যপত্র’ নামক আরেকটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস;
- চোরাবালি;
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ;
- সেই অন্ধকার চাই;
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার;
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রুচি ও প্রগতি;
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ;
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৪৩.
"হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছো মহান
তুমি মোরে দানিয়াছো খ্রিস্টের সম্মান"
- লাইন দুটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- লাইনদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।

- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।


এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৩,৪৪৪.
কোন কবি মুকুন্দদাস'কে চারণকবির মর্যাদা দেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. চন্দ্রাবতী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৪৫.
কোন কবিতা রচনা করার জন্য নজরুল কারারুদ্ধ হন?
  1. ক) বিদ্রোহী
  2. খ) প্রলয়োল্লাস
  3. গ) কান্ডারি হুশীয়ার
  4. ঘ) আনন্দময়ীর আগমন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনন্দময়ীর আগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনন্দময়ীর আগমন
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।
এই কবিতার প্রথম দুই লাইন -
'আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল'৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আনন্দময়ীর আগমনে - কাজী নজরুল ইসলাম৷

১৩,৪৪৬.
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৪৫ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ সালে
ব্যাখ্যা
উর্বশী ও আর্টেমিস:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে: 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর একজন ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্প,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৪৭.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কার মাতা বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
-----------------
• কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৪৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার -
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রামায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল বাংলা মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- তাঁর প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়।
- এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল।

উল্লেখ্য,
সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৪৪৯.
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কোন গ্রন্থটি কাজী নজরুলকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) বসন্ত
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) চন্ডালিকা
  4. ঘ) গোরা
সঠিক উত্তর:
ক) বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বসন্ত
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন তাসের দেশ নাটকটি, বসন্ত গীতিনাট্য কাজী নজরুল ইসলামকে, খেয়া কাব্যগ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুকে এবং পূরবী কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৪৫০.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রশীদ করীম
  2. শওকত ওসমান
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা - রশীদ করীম

উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীমের এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।
- এদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।

রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৪৫১.
'বছির এবং আজহার' - চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র: 
- বছির, 
- আজহার
- আরজান, 
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৫২.
'আনোয়ারা' উপন্যাসটি কার?
  1. নজিবর রহমান
  2. মীর মশাররফ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচিত উপন্যাসঃ
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- গরিবের মেয়ে,
- মেহেরুন্নেছা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৫৩.
সেলিম আল দীন কত সালে নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফকে সাথে নিয়ে সারাদেশে ‘গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন?
  1. ১৯৮৮-৮৯ সালে
  2. ১৯৮১-৮২ সালে
  3. ১৯৮৪-৮৫ সালে
  4. ১৯৮৯-৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮১-৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮১-৮২ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সেলিম আল দীন' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- ১৮ আগষ্ট, ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে ফেনীর সোনাগাজীর সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- প্রকৃত নাম মঈনুদ্দিন আহমেদ।
- কর্মজীবন তিনি প্রথমে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘বিটপী'তে কপিরাইটার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন এবং ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হন এবং আমৃত্যু এ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

- বিশেষত্ব তিনি বাংলা নাট্য সাহিত্যে এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী এবং ‘নাট্যাচার্য' হিসেবে খ্যাত। তাঁর শিল্পচিন্তার নাম ছিল ‘কথানাট্য'।
- সংগঠন বাংলাদেশে ‘গ্রাম থিয়েটার' এর প্রবর্তক সেলিম আল দীন।
- তিনি ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফকে সাথে নিয়ে সারাদেশে ‘গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন। তিনি ‘ঢাকা থিয়েটার' এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর হলো:
- বিপরীত তমসায়' (১৯৬৯): এটি রেডিওতে প্রচারিত তাঁর প্রথম নাটক ।
- ‘ঘুম নেই' (১৯৭০): টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর প্রথম নাটক। 
- ‘মুনতাসির’ (১৯৮৬): নাটকটির প্রথমে নাম ছিল ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসি'। পরবর্তীতে তিনি নাটকটি থেকে ‘ফ্যান্টাসি' অংশটুকু বাদ দিয়ে শুধু ‘মুনতাসির’ রাখেন। 
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ, 
- হাতহদাই, 
- ধাবমান,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৫৪.
চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার প্রতিষ্ঠাকারী পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. কল্লোল
  3. সবুজপত্র
  4. পরিচয়
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলতি রীতির প্রচলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন প্রমথ চৌধুরীর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী 'বীরবল' ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৫৫.
বিচিত্রপ্রবন্ধ কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  5. ঙ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ গ্রন্থগুলোর নাম হলোঃ পঞ্চভূত (১৮৯৭), বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭), সাহিত্য (১৯০৭), মানুষের ধর্ম (১৯৩৩), কালান্তর (১৯৩৭) ও সভ্যতার সংকট (১৯৪১)। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১৩,৪৫৬.
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থ:
- (১৯৩৭) বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

উল্লেখ্য,
- 'কঙ্কাবতী' উপন্যাসের রচয়িতা - অন্নদাশংকর রায়।

বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক।
- তিনি ৩০ নবেম্বর ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধি,
- একদিন চিরদি,
- স্বাগত বিদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৫৭.
নিচের কোনটি হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) অলৌকিক ইস্টিমার
  2. খ) কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
  3. গ) জ্বলো চিতাবাঘ
  4. ঘ) আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।
সঠিক উত্তর:
খ) কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
ব্যাখ্যা
কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ - হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস। তার রচিত বিখ্যাত কয়েকটি প্রবন্ধ রয়েছে। যেমন - শামসুর রাহমান : নিঃসঙ্গ শেরপা, নারী, আমার অবিশ্বাস, দ্বিতীয় লিঙ্গ ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৪৫৮.
"সাঁঝের মায়া" কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।  এই কাব্যে ২৮টি কবিতা রয়েছে।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

১৩,৪৫৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি কাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. শ্রীঅরবিন্দ
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি নেতাজিকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
-------------------------------------------
তাসের দেশ:
- তাসের দেশ একটি রূপকধর্মী ও ব্যঙ্গাত্মক নাটক, যা ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের পরাধীনতা, মানুষের যান্ত্রিক ও আবেগহীন জীবনযাপন এবং অন্ধ নিয়মকানুনের শাসনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে।
- এখানে তাস খেলার সমাজকে জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেখানে মানুষ নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ।
- কৌতুক ও ব্যঙ্গের আড়ালে নাটকটি মুক্তি, স্বাধীনতা ও মানবিক জাগরণের কথা বলে।
---------------------------------------------
তাসের দেশ ও নেতাজি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই নৃত্যনাট্যটি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছিলেন। 
- উৎসর্গপত্রে তিনি সুভাষচন্দ্রকে ‘কল্যাণীয়’ সম্বোধনে স্মরণ করে জানান, স্বদেশের চিত্তে নতুন প্রাণ সঞ্চারের যে মহান ব্রত তিনি গ্রহণ করেছেন, তারই প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রচনাটি উৎসর্গ করা হলো।
- তিনি সুভাষচন্দ্রকে “দেশনায়ক” আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন বাঙালি কবি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে জাতির নেতার আসনে গ্রহণ করছেন।
- ১৯৪১ সালে মৃত্যুর কিছু আগে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বদনাম নাটকে শৃঙ্খল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
- নাটকের ভাব ও ভাষায় যেন নেতাজির আফগানিস্তান হয়ে রাশিয়ার পথে যাত্রার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- রবী ঠাকুরের বিশ্বাস ছিল, অধর্মের জয় ক্ষণস্থায়ী; 
- শেষ পর্যন্ত সত্য ও মানবতারই বিজয় হবে।
----------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।
• তাঁর অন্যান্য নৃত্যনাট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  ‘চণ্ডালিকা’, ‘শ্যামা’ ও ‘বসন্তগীতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৬০.
‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ -প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর
  2. খ) এস. ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ হলোঃ জাগ্রত বাংলাদেশ, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য, সেই সব লেখা, উপলক্ষের লেখা, রাজনীতির লেখা, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৪৬১.
'তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. শহীদ কাদরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শহীদ কাদরী

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৬২.
কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. বেনামী বন্দর
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. পঞ্চশর
  4. সাগর থেকে ফেরা
সঠিক উত্তর:
সাগর থেকে ফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর থেকে ফেরা
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প কোনটি?
  1. মন্দির
  2. পোস্টমাস্টার
  3. পদ্মগোখরা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
পোস্টমাস্টার:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'পোস্টমাস্টার' গল্প 'হিতবাদী' পত্রিকায় ১২৯৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশ পায়।
- গল্পে চরিত্র তিনটি - পোস্টমাস্টার, রতন ও প্রকৃতি।
- গল্পটিতে প্রকৃতি কেবল স্থানিক ও ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে নি, গল্পের প্রধান দুটি চরিত্রের আবেগকে নিয়ন্ত্রিত করেছে এবং গল্পের অগ্রগতি ও পরিণতিতে অমোঘ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
- পোস্টমাস্টার আর রতন এ দুটি চরিত্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিরাট ফারাক।
- আবার বয়সেও পোস্টমাস্টার ছিল পূর্ণ যুবক আর রতন নিতান্তই বালিকা।
- তবে, গল্পের মধ্যেই রতনের মনোগত পরিবর্তনটি হয় এবং সে বালিকার কোঠা অতিক্রম করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- তাঁর ছোট গল্পগুলি “গল্পগুচ্ছ” -এর তিন খণ্ডে সংকলিত।
- তাঁর প্রথম গল্প সংগ্রহের নাম ”ছোটগল্প”।

• তাঁর রচিত সামাজিক গল্প:
- দেনাপাওনা,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তি,
- ছুটি,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কথা-চতুষ্টয়;
- ”বিচিত্র গল্প” দুই খণ্ড।
- গল্প দশক;
- গল্পগুচ্ছ।
- গল্পসপ্তক।

অন্যদিকে,
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প- মহেশ।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প- ‘শিউলিমালা’, ‘পদ্মগোখরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৬৪.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান?
  1. পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল।
  2. মোদের গরব, মোদের আশা।
  3. ধনধান্য পুষ্প ভরা।
  4. খাঁচার ভিতর অচিন পাখি।
সঠিক উত্তর:
ধনধান্য পুষ্প ভরা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনধান্য পুষ্প ভরা।
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

অন্যদিকে,
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!'- গানটির রচয়িতা- 'অতুলপ্রসাদ সেন'।  
• 'পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল' - পংক্তিটির রচয়িতা মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
• ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’, 'আমার মনের মানুষেরই সনে', 'সময় গেলে সাধন হবে না' ইত্যাদি লালন শাহ এর বিখ্যাত গান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৬৫.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) এমদাদুল হক
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু'হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৪৬৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম কি?
  1. মেথর
  2. বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন
  3. সন্ধিক্ষণ
  4. অভ্র-আবীর
সঠিক উত্তর:
মেথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেথর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম 'মেথর'।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:

- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস 'বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন'।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ 'অভ্র-আবীর'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৬৭.
শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কবি ও কাহিনী
  2. খ) মানসী
  3. গ) সোনার তরী
  4. ঘ) কণিকা
সঠিক উত্তর:
গ) সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোনার তরী
ব্যাখ্যা
শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। 
- ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের। 
- এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মা বোটে বসে রচিত হয় রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতা, পদ্মাপর্বের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্যের গান।
- এখানে বসেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৬৮.
বিখ্যাত নাটক 'বসন্তকুমারী' কে রচনা করেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক ।
- বৃদ্ধ রাজা বীরেন্দ্র সিংহ এর যুবতী স্ত্রী রেবতী সপত্নীপুত্র নরেন্দ্র সিংহকে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখিত হয় এবং ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
- এর পরিণামে পুরো রাজ পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায়।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

মীর মশাররফ রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৬৯.
ফররুখ আহমদ এর জন্মস্থান-
  1. মাগুরা জেলায়
  2. খুলনা জেলায়
  3. ঢাকা জেলায়
  4. মানিকগঞ্জ জেলায়
সঠিক উত্তর:
মাগুরা জেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা জেলায়
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪৭০.
'জিনের বাদশা' - গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যথার দান
  2. কুহেলিকা
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যাথার দান ,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪৭১.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটি কে রচনা করেন?
  1. সত্যেন সেন
  2. সোমেন চন্দ
  3. সমর সেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
'ইঁদুর' ছোটগল্প:
- সোমেন চন্দ রচিত একটি ছোটগল্প।
- জীবনের পরতে পরতে বাস্তবতার অনুশীলন যে আমরা প্রতিনিয়ত করে চলেছি , আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌড়ে সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম মানুষের বিরুদ্ধে।
- এই পটভূমিতে ইঁদুর একটি অসাধারন গল্প যার থেকে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৭২.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরী:
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
- বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।'  

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ: 
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১৩,৪৭৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী?
  1. বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. চট্টোপাধ্যায়
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. শর্মা
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১৩,৪৭৪.
বেগম রোকেয়া রচিত 'অর্ধাঙ্গী' একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

অর্ধাঙ্গী
বেগম রোকেয়ার ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ার ভারতবর্ষে নারী জীবনের কষ্ট ও সীমাবদ্ধতা দেখানো হয়েছে।
⇒ পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে রচিত এ প্রবন্ধ।
⇒ অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রোকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি আকাঙ্ক্ষায় আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
⇒  তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্য পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি।
⇒ এই রচনায় তিনি নারীজাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণসাধনের জন্যে নারীজাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৭৫.
’আমার সোনার বাংলা’ রচনার প্রেক্ষাপট কী?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. ভাষা-আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ’আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীত:
- এটি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের 'বঙ্গভঙ্গ' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি অনেকগুলো সঙ্গীতটি রচনা করেন তার মধ্যে এটি একটি। 
- 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটির প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- সঙ্গীতটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতবিতান'র স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,৪৭৬.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. বিষবৃক্ষ
  4. মৃণালিনী 
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

• 'নবকুমার' হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র।

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

-------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা।  
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪৭৭.
শরৎচন্দ্রের জীবদ্দশায় প্রকাশিত সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. দেবদাস
  2. শেষ প্রশ্ন
  3. বিপ্রদাস
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
বিপ্রদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রদাস
ব্যাখ্যা
• 'বিপ্রদাস' উপন্যাস:
- 'বিপ্রদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত (১৯৩৫) জনপ্রিয় এবং সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- বিপ্রদাস, দ্বিজদাস, বন্দনা প্রভৃতি চরিত্র এবং তাদের মানবিক সম্পর্কের জটলতা এবং মাধুর্য, কাহিনির টানাপোড়েন এবং পরিণাম-রমণীয়তা এই উপন্যাসটিকে বিশেষ জনপ্রিয় করেছিল।
- সমগ্র 'বিপ্রদাস' 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্রের জীবদ্দশায় প্রকাশিত সর্বশেষ উপন্যাসগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
-------------------------
‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাস: 
• ‘শেষ প্রশ্ন’ (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নিত্য রূপান্তরশীল মানুষ, জীবন ও সমাজের চলমান আদলটিকে ধরার চেষ্টা করেছেন বিশ শতকের প্রথমার্ধের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত ভারতীয় বাঙালির মন-মানস এবং পটভূমির পরিপ্রেক্ষিতে। 

• 'দেবদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম ১৯১৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় দেবদাস তার বাল্যপ্রণয়ী পার্বতীকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতায় নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় ক বেদনাময় কাহিনি।

• শেষের পরিচয়:
- 'শেষের পরিচয়' (১৯৩৯) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের 'রাখাল এ প্রশ্নে নীরবে বাহির হইয়া গেল' পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা।
- বাকি অংশ রাধারানী দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৭৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. স্বপ্নদর্শন
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৭৯.
’অরণ্য নীলিমা’ উন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. হুমায়ুন আহমেদ
  2. আহসান হাবীব
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
’অরণ্য নীলিমা’ উন্যাসটি রচনা করেন- আহসান হাবীব।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-  ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
-  তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০);
- রাণী খালের সাঁকো (১৯৬৫)। 

• আহসান হাবীব রচিত  কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- আশায় বাসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৮০.
বাংলা সাহিত্যে 'স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত - 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪৮১.
‘নিজ বাসভূমে ও হরিণের হাড়’ কাব্যগ্রন্থদ্বয় কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• ‘নিজ বাসভূমে ও হরিণের হাড়’ শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

--------------------------
• শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
• মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে লিখতেন।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৮২.
‘হাসু ও মায়মুন’ চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. লালসালু
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. সূর্য দীঘল বাড়ী
  4. হাজার বছর ধরে 
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস সম্পর্কিত তথ্য:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- জয়গুণ, হাসু, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।

• উপন্যাসটির অংশবিশেষ:
পাশাপাশি পিঁড়ে বিছিয়ে বসে দুটি ভাইবোন—হাসু ও মায়মুন। জয়গুন পান্তা বেড়ে ছেলে ও মেয়ের সামনে দুটো থালা এগিয়ে দিয়ে নিজেও একটা নিয়ে বসে। মায়মুন আড়চোখে হাসুর থালার দিকে চায়। রোজ সে এমনি চেয়ে দেখে। রোজই হাসুকে বেশী করে খেতে দেয় মা। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস তার হয় না। জয়গুন বুঝতে পেরে নিজের পাতের একমুঠো ভাত দিয়ে বলে—বিছমিল্লা বুইল্যা মোখে দে। দেখবি এই দুগগায়ই প্যাট ভইরা যাইব।

• উপন্যাসটির কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
• 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-  মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
• "হাজার বছর ধরে" উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো: মন্তু, টুনি, এবং বুড়ো মকবুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৮৩.
'অনন্ত ও সুবল' চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসের?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. সূর্যের দিন
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
তিতাস একটি নদীর নাম:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী প্রমুখ।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৮৪.
‘মনোরমা’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. রজনী
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা

• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন। 
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন। 
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে। 
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল, 
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৮৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হয় কত সালে?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
 রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৮৬.
ফররুখ আহমেদের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. মাগুরা
  2. ঝিনাইদহ
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. নোয়াখালি
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪৮৭.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হলো-
  1. সধবার একাদশী
  2. পদ্মাবতী
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হলো- কৃষ্ণকুমারী।

• ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক পদ্মাবতী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক হলো শর্মিষ্ঠা। 

• সধবার একাদশী প্রহসনটির রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৮৮.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ কে সম্পাদনা করেন?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ এর সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 

সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান ভূমিকাতে লিখেছেন—
‘ইতিহাস রচনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এই প্রকল্প স্বাধীনতা যুদ্ধ-সংক্রান্ত দলিল ও তথ্যগুলো প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর কারণ, সমকালীন কোনও ঘটনার, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো একটি যুগান্তকারী ঘটনার ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা এবং বিকৃতির সম্ভাবনা এড়িয়ে যাওয়া বস্তুত অত্যন্ত দুরূহ। এ জন্যই আমরা ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি।’

দলিলপত্রের প্রথম খণ্ডে রয়েছে পটভূমি (১০৫-১৯৫৮), দ্বিতীয় খণ্ডেও পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১), তৃতীয় খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রশাসন’, চতুর্থ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা’, পঞ্চম খণ্ডে ‘মুজিবনগর: বেতারমাধ্যম’, ষষ্ঠ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: গণমাধ্যম’, সপ্তম খণ্ডে ‘পাকিস্তানি দলিলপত্র: সরকারি ও বেসরকারি’, অষ্টম খণ্ডে ‘গণহত্যা, শরণার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা’, নবম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (১)’, দশম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (২)’, একাদশ খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)’, দ্বাদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: ভারত’, ত্রয়োদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র বিশ্ব জনমত’, চতুর্দশ খণ্ডে ‘বিশ্ব জনমত’, পঞ্চদশ খণ্ডে ‘সাক্ষাৎকার’, ষোড়শ খণ্ডে ‘কালপঞ্জী, গ্রন্থপঞ্জী ও নির্ঘণ্ট’ সন্নিবেশিত আছে।

দলিলপত্রের সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান আরও লিখেছেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, এমন অনেকের কাছেই দলিল ও তথ্যাদি রয়েছে, যা তারা হাতছাড়া করতে রাজি নন। অনেকেই কিছু ছেড়েছেন, কিছু হাতে রেখে দিয়েছেন। আবার কারও কারও প্রত্যাশা- দলিলাদি পুরোনো হলে সেগুলো অনেক বেশি লাভের উৎস হয়ে উঠতে পারে। আমরা মূল দলিলের ফটোকপি রেখে অনেককেই তার মূল কপি ফেরত দিয়েছি।’

উৎস: ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ গ্রন্থ।
১৩,৪৮৯.
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্য কোন কোন রচনার পথ ধরে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে প্রবেশ করে?
  1. নাটক-প্রহসন ও গীতিকাব্য
  2. আখ্যনকাব্য ও মহাকাব্য
  3. সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্র
  4. উপরের সবগুলোই
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. আদি যুগ :
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

২. মধ্যযুগ :  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

৩. আধুনিক যুগ: 
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৩,৪৯০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট কবিতার নাম কী?
  1. কপোতাক্ষ নদ
  2. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  3. বঙ্গভাষা
  4. গীতালি
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলা সনেট কবিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত  রচিত বঙ্গভাষা।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তাঁ অবদান:

- প্রথম বাংলা মহাকবি।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়।
- মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি।
- বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- প্রথম ট্র্যাজেডি, প্রহসন এর রচয়িতা।
- প্রথম রচিত ও প্রকাশিত বাংলা গ্রন্থ - শর্মিষ্ঠা নাটক।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য - বীরাঙ্গনা কাব্য।
- কৃষ্ণকুমারী - বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট সংকলন - চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
- প্রথম বাংলা প্রহসন - বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৯১.
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক বিপ্লবী কৃষকনেতাকে নিয়ে লেখা-
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) একুশের গল্প
  3. গ) নূরুলদীনের সারা জীবন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নূরুলদীনের সারা জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নূরুলদীনের সারা জীবন
ব্যাখ্যা
বাঙ্গালির মুক্তি চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক ‘নূরুলদীনের সারা জীবন’ এর রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক। বইটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক বিপ্লবী কৃষকনেতাকে নিয়ে লেখা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৪৯২.
বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শন কোনটি?
  1. দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থ
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত ' A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থ
  3. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও রচিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থ
  4. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও রচিত 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগোল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
•‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
- বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থটির কথা।
- ভূষণার জমিদারপুত্র ১৬৬৩ সালে মগ দস্যুদের দ্বারা অপহৃত হয়ে আরাকানে নীত হন।
- একজন পাদ্রি তাঁকে উদ্ধার করে রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করেন।
- পরে তিনি নিজেই একজন পাদ্রি হিসেবে খ্যাত হন।
- শোনা যায়, তাঁর প্রচেষ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ত্রিশ হাজার লোক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল।
- ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিস্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয় নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৪৯৩.
কবি জসীম উদ্‌দীনকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি প্রদান করেন-
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
-  জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- 'সুচয়নী' জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
- কবি জসীম উদ্দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

জসীম উদ্‌দীন অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা:
- জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮) অর্জন করেন।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

•  তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৯৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সাল
  2. ১৯৪৬ সাল
  3. ১৯৪৭ সাল
  4. ১৯৪৫ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সাল
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 

লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ,
- জমিল,
- আমেন,
- খালেক ব্যাপার,
- রহিম,
- আক্কা,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস: 
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৪৯৫.
'আনন্দের মৃত্যু নেই' গ্রন্থটি মূলত কোন কবি বিষয়ক?
  1. ক) মহাদেব সাহা
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'আনন্দের মৃত্যু নেই' গ্রন্থের রচয়িতা মহাদেব সাহা। 
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। 
- বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ক। 
- লেখক রবীন্দ্রনাথ বিষয়জ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য তুলে ধরেছেন। 
- এই পুস্তক তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত। 

মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ হলো :
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস,
- মানব এসেছি কাছে,
- কী সুন্দর অন্ধ,
- তোমার পায়ের শব্দ,
- ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৪৯৬.
বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক যুগ’ শুরু হয় কবে?
  1. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়। 

• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৯৭.
নিচের কোনটি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের লেখকের রচনা?
  1. ক) সাদা হাওয়া
  2. খ) নয়াবসত
  3. গ) রামধনু
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছেন।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থের নাম:
- নয়াবসত
- রামধনু
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৯৮.
'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. আবুল আসাদ ইব্রাহিম
  4. মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৯৯.
'স্বপ্নসাধ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন।
• ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
• এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৫০০.
'সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. শম্ভু মিত্র
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিমল মিত্র
সঠিক উত্তর:
শম্ভু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা
• শম্ভু মিত্র এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

অন্যদিকে,
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
• বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।