বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩২ / ১৭৪ · ১৩,১০১১৩,২০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,১০১.
'বাবরের প্রার্থনা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শঙ্খ ঘােষ
  2. আল মাহমুদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
ব্যাখ্যা
• শঙ্খ ঘোষ: 
- শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি।
- সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
- একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে।
- তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ, কিন্তু শঙ্খ ঘোষ নামেই তিনি পরিচিত। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
→ দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬),
→ নিহিত পাতাল ছায়া (১৯৬৭),
→ এখন সময় নয় (১৯৬৭),
→ আদিম লতা গুন্যময় (১৯৭২),
→ মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় (১৯৭৫), 
→ মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪),
→ বন্ধুরা মাতি তরজায় (১৯৮৪),
→ বহুল দেবতা বহুল স্বর (১৯৮৬), 
→ বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
→ ধুম লেগেছে হৃদ কমলে (১৯৮৭) ইত্যাদি।

- তিনি 'বাবরের প্রার্থনা' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
১৩,১০২.
"এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি" কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) অভিযান
সঠিক উত্তর:
খ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
"এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি" পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ। 
- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়। 
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে স্মরণীয় গ্রন্থ। 
-----------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য, (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- আকাল (১৯৪৩)
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১০৩.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১০৪.
কোনটি মামুনুর রশীদ রচিত নাটক?
  1. ওরা কদম আলী
  2. নয়া খান্দান
  3. রূপার কৌটা
  4. সরীসৃপ
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা

 'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা- 'মামুনুর রশীদ'

'ওরা কদম আলী' নাটক:
- ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী
নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ‘নয়া খান্দান’ নুরুল মোমেন রচিত একটি নাটক।
- ‘রূপার কৌটা’ মুনীর চৌধুরী রচিত একটি অনুবাদ নাটক। 
- ‘সরীসৃপ’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১০৫.
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে রচিত আহমদ ছফার উপন্যাস-
  1. ওঙ্কার
  2. গাভী বিত্তান্ত
  3. অলাতচক্র
  4. মরণবিলাস
সঠিক উত্তর:
গাভী বিত্তান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাভী বিত্তান্ত
ব্যাখ্যা

- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
• অলাতচক্র (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত),
• সূর্য তুমি সাথী,
• ওঙ্কার (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত),
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ,
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
• মরণবিলাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,১০৬.
আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কালের কলস
  2. খ) সোনালী কাবিন
  3. গ) লোক লোকান্তর
  4. ঘ) বখতিয়ারের ঘোড়া
সঠিক উত্তর:
গ) লোক লোকান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লোক লোকান্তর
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ লোক-লোকান্তর। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো- কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, সোনালী কাবিন, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, দোয়েল ও দয়িতা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,১০৭.
‘পানকৌড়ির রক্ত’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণ কাহিনী
  2. রম্যরচনা
  3. কথা সাহিত্য
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কথা সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদের প্রথম গল্পগ্রন্থ হলো ''পানকৌড়ির রক্ত'' যা কথা সাহিত্যের অন্তর্গত। এটি ঢাকার বর্ণমিছিল প্রকাশনী থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ আল মাহমুদ ।
১৩,১০৮.
'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী' উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ স্টাইলটা হলো মুখশ্রী' উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শেষের কবিতা উপন্যাসের।

• শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমিত রায়,
- কেতকী,
- লাবণ্য,
- শোভনলাল ইত্যাদি।

• এই উপন্যাসের কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি:
- 'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।',
- 'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে অধিপত্য শুরু করবে।',
- 'বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো।',
- 'ভালোবাসা খানিকটা অত্যাচার চাই অত্যাচার করেও।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া ও শেষের কবিতা।
১৩,১০৯.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১১০.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. ফররুখ আহমদ
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• সাঁঝের মায়া:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের  প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 
- এই কাব্যে ২৮টি কবিতা রয়েছে।
--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
১৩,১১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পান?
  1. সোনার তরী
  2. বিদ্রোহী
  3. গীতাঞ্জলী
  4. বিষাদ সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
গীতাঞ্জলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতাঞ্জলী
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০।
- গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)।
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৩,১১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তারিখ কোনটি?
  1. ৭ মে, ১৮৬১
  2. ৭ আগস্ট, ১৮৬১
  3. ২৫ আগস্ট, ১৮৪১
  4. ৪ এপ্রিল, ১৮৭১
সঠিক উত্তর:
৭ মে, ১৮৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ মে, ১৮৬১
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- জন্ম: ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,১১৩.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থের লেখক মুহম্মদ আবদুল হাই ‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ ভ্রমণ কাহিনী রচনা করেছেন।
- এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুহাম্মদ আবদুল হাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪), তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০) ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,১১৪.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. ঝরা পালক
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১১৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বর্ণপরিচয়
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. আখ্যানমঞ্জুরি
  4. প্রভাবতী সম্ভাষণ
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই কলকাতায় মারা যান।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)। এই গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।
- তিনি বর্ণপরিচয় ও আখ্যানমঞ্জুরি গ্রন্থ দুটির রচয়িতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,১১৬.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয়?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. তাসের ঘর
  3. রক্তকরবী
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয় - শর্মিষ্ঠা।
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

অন্যান্য অপশন,
অপশন খ) তে মূল পরীক্ষায় লিখা ছিলো - তাসের ঘর। কিন্তু, নাটকটির নাম হবে - তাসের দেশ।

• ‘তাসের দেশ’ নাটক:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
• প্রধান চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

চিত্রাঙ্গদা:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক।
- এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,১১৭.
‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন ⎯
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সাঝের মায়া:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা/মুখবন্ধ লিখেছিলেন ⎯ কাজী নজরুল ইসলাম।
- উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
১৩,১১৮.
'কবর' নাটক লেখার অনুরোধ করেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আব্দুল মতিন
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,১১৯.
'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম- 
  1. সাপ্তাহিক পত্রিকা 
  2. দৈনিক পত্রিকা
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা 
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক পত্রিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক পত্রিকা 
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।  ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,১২০.
'নেমেসিস' - কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১২১.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক-
  1. ক) আরেক ফাল্গুন
  2. খ) দণ্ডকারণ্য
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) কবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবর
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত নাটক-
- কবর,
- রাজার জন্মদিনে,
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক। বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষ্যে____ মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,১২২.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্রের ছোটগল্প নয়?
  1. শুভদা
  2. বিলাসী
  3. মহেশ
  4. সতী
সঠিক উত্তর:
শুভদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুভদা
ব্যাখ্যা

• শুভদা শরৎচন্দ্র রচিত উপন্যাস।

• শরৎচন্দ্র রচিত ছোটগল্প:

- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১২৩.
'মৌমাছি' কার ছদ্মনাম?
  1. বিমল ঘোষ
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সোমেন চন্দ
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি। 

অন্যদিকে, 
• 'যাযাবর' ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
• সোমেন চন্দ এর ছদ্মনাম ইন্দুকুমার সোম।
•  সতীনাথ ভাদুড়ীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল 'চিত্রগুপ্ত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১২৪.
‘বাসন্তী’ ও ‘কিশোর’ চরিত্রের রচয়িতা কে?
  1. ক) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঘ) অতুলচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি বাংলা ১৩৫২ (ইং ১৯৪৫) সালে প্রথম মোহাম্মদী নামক মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত এই উপন্যাস ৪ খন্ডে বিভক্ত।
- এই উপ্যনাসের প্রধান নারী চরীত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর
- ১৯৫৬ সালে এই উপন্যাসটি গ্রন্থ আকারে প্রকাশ পায়।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ নবশক্তি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং ত্রিপুরা কবিতায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।

• লেখকের অন্য উপন্যাস সমূহ:
- নয়া বসত
- সাদা হাওয়া,
- রামধনু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১২৫.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. আনন্দ-বিরহ, প্রেম- বেদনা ইত্যাদির প্রকাশ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. সিপাহি-বিদ্রোহ নিয়ে
  4. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 

'মহাশ্মশান' কাব্য: 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
- মহাশ্মশান কাব্যে মোট তিনটি খন্ড রয়েছে।
- প্রথম খন্ড ১৯ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ড ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খন্ড ৭ সর্গে সমাপ্ত। 
- উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায়, কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া।

প্রধান চরিত্র: 
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।
-------------------
কায়কোবাদ: 
- কায়কোবাদের প্রকৃত নাম: কাজেম আল কোরেশী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: বিরহ-বিলাপ। 
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা ।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি। 

তাঁর অন্যান্য কাব্য:
- বিরহ-বিলাপ 
- অমিয়ধারা,
- অশ্রুমালা,
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,১২৬.
'আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে,
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?' উক্তিটি কোন কবির?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

কবিতাঃ বাতাসে লাশের গন্ধ
কবিঃ রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন।
বাতাশে লাশের গন্ধ-
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দোলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ-
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়।
এ চোখে ঘুম আসে না। সারারাত আমার ঘুম আসে না-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ,
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমোতে পারিনা।
রক্তের কাফনে মোড়া কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন-
স্বাধীনতা, সে আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

১৩,১২৭.
'কোকিলারা' বিখ্যাত নাটকের নাট্যকার কে?
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'কোকিলারা' নাটক:
- 'কোকিলারা' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

• তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১২৮.
কাজী ফকির আহমদ কোন সাহিত্যিকের পিতা ছিলেন?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম - কাজী ফকির আহমদ।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১২৯.
কোনটি আল মাহমুদের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সোনালী কাবিন
  2. উপমহাদেশ
  3. যাত্রা
  4. দেয়াল
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ :
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ -  সোনালী কাবিন।
- তিনি 'বাংলা একাডেমি' পুরস্কার লাভ করেন ১৯৬৮ সালে।
- একুশে পদক' লাভ করেন ১৯৮৬ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তাঁর উপন্যাস -  উপমহাদেশ।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো :
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- সোনালী কাবিন,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- পাখির কাছে ফুলেরর কাছে,
- প্রেমের কবিতা,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 

- উপমহাদেশ,
- ডাহুক,
- আগুনের মেয়ে,
 - চেহারার  চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন,

অন্যদিকে,
-  হুমায়ন আহমেদ রচিত উপন্যাসে - দেয়াল।
- শওকত আলী রচিত উপন্যাস - যাত্রা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৩০.
’জীবনানন্দ, ষোড়শী’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. বড়দিদি
  2. দেনাপাওনা
  3. গৃহদাহ
  4. দেবদাস
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

• 'দেনাপাওনা' উপন্যাস:
- 'দেনাপাওনা' উপন্যাসের রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এখানে নারীত্ব ও সতীত্বের ধারনার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।  
- উপন্যাসের চরিত্র: ’জীবনানন্দ, ষোড়শী’ 
- এই উপন্যাস 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়। 
- 'দেনা পাওনা' শরৎচন্দ্রের সমগ্র সাহিত্য ভুবনে ভুবনে ন নানা কারণে ব্যতিক্রমী।
 এ উপন্যাসে কাহিনী আছে ২টি।
(ক) প্রথম কাহিনীটি জীবানন্দ-ষোড়শীর।
(খ) অন্যটি নির্মল হৈমন্তীর।
- শেষের কাহিনীটি গৌণ এবং মুখ্য কাহিনীর প্রয়োজন সিদ্ধ করার জন্যে এর অবতারণা ঘটিয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- দেনাপাওনা নামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৩১.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম কি?
  1. ক) সন্ধিক্ষণ
  2. খ) হসন্তিকা
  3. গ) মেথর
  4. ঘ) অভ্র আবীর
সঠিক উত্তর:
গ) মেথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেথর
ব্যাখ্যা
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম হচ্ছে 'মেথর'

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৮৮২ সালে কলকাতার নিমতাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কবিতার ভাববস্তু ছিল দেশাত্মকবোধ, শক্তির সাধনা ও মানবতার বন্ধনা।
- ছন্দের রাজা ও ছন্দের জাদুকর হিসেবে খ্যাতি ছিল সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের।
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতার নাম ‘মেথর’।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা সমূহ সমৃদ্ধ ছন্দের ঝঙ্কারে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য গুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৩২.
"কালি ও কলম" পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. চট্টগ্রাম 
  2. কলকাতা 
  3. ঢাকা 
  4. সিলেট 
সঠিক উত্তর:
ঢাকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা 
ব্যাখ্যা

• "কালি ও কলম" পত্রিকা:
- সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন - সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদক - সুব্রত বড়ুয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৩৩.
কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কী?
  1. কাজেম আল কোরেশী
  2. আবু নাসের কায়কোবাদ
  3. কায়কোবাদ ইসলাম
  4. আবুল হোসেন কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’
- কবি বলেছেন ‘আমি যখন বার বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ- বিলাপ  নামক ক্ষুদ্র কাব্য প্রকাশিত হয়।’ 
-কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ  ‘মহাশ্মশান’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর
১৩,১৩৪.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না -
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল কাদির
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না - আবুল হাসান

কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ফরিদপুর (বর্তমান রাজবাড়ী) জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক ও চিন্তাবিদ ছিলেন। 
- ১৯৬৫-তে নবপর্যায়ে প্রকাশিত 'তরুণ পত্র' পত্রিকাটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হন।
- তিনি ছিলেন বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলনকল্পে ১৯২৬-এ প্রতিষ্ঠিত 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' সমিতির অন্যতম নেতা।
- তিনি সাহিত্য সমাজের পত্রিকা 'শিখা'য় (১৯২৭) তাঁর মুক্তচিন্তা ও যুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন লেখার জন্য ঢাকার নওয়াব পরিবার কর্তৃক নিগৃহীত হন।
- তিনি ১৯ মে, ১৯৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদীবক্ষে।

• তাঁর রচিত সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ,
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৩৫.
কোনটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং ঢাকায় মঞ্চস্থ প্রথম নাটক?
  1. সাজাহান
  2. নীলদর্পণ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শেষ নবাব
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

• 'নীলদর্পণ' নাটক: 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,১৩৬.
‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতা দুটি ফররুখ আহমদ রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. সিন্দাবাদ
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি ‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতায় পাওয়া যায়।
- তবে মূলত মুসলমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

• ফররুখ আহমদ: 
-  ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৩৭.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের কাহিনী কোন গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে?
  1. নিভৃতপুর
  2. রূপনগর
  3. হলদী গ্রাম
  4. আনন্দপুর
সঠিক উত্তর:
হলদী গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলদী গ্রাম
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

১৩,১৩৮.
‘ধানকন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ এর কোন ধরনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) উপন্য়াস 
  2. খ) নাটক 
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কবিতা 
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ (জন্ম : ৬ মে, ১৯৩২ - মৃত্যু : ৩ জুলাই, ২০০৯) বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক। 

উপন্যাস
• তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
• শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
• কর্ণফুলী (১৯৬২)
• ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
• খসড়া কাগজ (১৯৮৬)

গল্প
• জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ)
ধানকন্যা
• মৃগণাভি
• উজান তরঙ্গে
• যখন সৈকত

কবিতা
• মানচিত্র
• লেলিহান পান্ডুলিপি
• স্মৃতিস্তম্ভ

নাটক
• নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
• এহুদের মেয়ে
• মরোক্কোর জাদুকর
• মায়াবী প্রহর


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৩৯.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি?
  1. মতিলাল
  2. বাবুরাম
  3. বক্রেশ্বর
  4. ঠকচাচা
সঠিক উত্তর:
ঠকচাচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠকচাচা
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা' তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৪০.
বাংলা সাহিত্যে পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না-
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যে পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না- অন্নদাশঙ্কর রায়।

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব
:
- বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন।
- এই পাঁচজন কবি হচ্ছেন: 
• অমিয় চক্রবর্তী
• বুদ্ধদেব বসু
• জীবনানন্দ দাস
• বিষ্ণু দে এবং
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

- তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন।
- এই পঞ্চপান্ডবেরাই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৩,১৪১.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. রূপবতী
  2. আর কত দিন
  3. মাটির কান্না
  4. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
সঠিক উত্তর:
আর কত দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর কত দিন
ব্যাখ্যা
 জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক ছিলেন।
- ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

অন্যদিকে,
জসীম উদ্‌দীন রচিত কব্যগ্রন্থ - মাটির কান্না, ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, এবং রূপবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৪২.
'শিউলিমালা' গ্রন্থে নিচের কোন গল্পটি অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. অগ্নি-গিরি
  2. দেনাপাওনা
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. বিলাসী
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
ব্যাখ্যা

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে, 
'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প:
- কাবুলিওয়ালা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। এই গল্পের প্রধান চরিত্র- রহমত শেখ।

'বিলাসী' গল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৪৩.
'হ য ব র ল' সুকুমার রায় রচিত-
  1. কবিতা
  2. গল্প
  3. প্রহসন
  4. ছড়া
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা

- হ য ব র ল হল সুকুমার রায় রচিত একটি রম্য গল্প।
- যা প্রকাশ হয়েছিল ১৯২১ সালে।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থ।

১৩,১৪৪.
'স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি' - প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ - স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ, 
- দরজাটা খোলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৪৫.
কায়কোবাদের রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) বিরহ-বিলাপ
  2. খ) শিবমন্দির
  3. গ) কুসুমকলি
  4. ঘ) অমিয়ধারা
সঠিক উত্তর:
গ) কুসুমকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুসুমকলি
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।

তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'বিরহ-বিলাপ'
তার অন্যান্য রচনা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
এছাড়াও তিনি - কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 
১৩,১৪৬.
'পঞ্চতন্ত্র' গ্রন্থটি কার রচনা? 
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবুল ফজল
  4. সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• 'পঞ্চতন্ত্র' প্রবন্ধ সংকলন:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর 'পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

----------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৪৭.
'দুর্দিনের দিনলিপি' স্মৃতিগ্ৰন্থটি কার লেখা?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) মুশতারি শফী 
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
'দুর্দিনের দিনলিপি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আবুল ফজল। 

আবুল ফজল:
- ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা।

- “দুর্দিনের দিনলিপি” - ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রোজনামচা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেন এবং সে সময় তিনি এই ডায়রি লিখেন।
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- মাটির পৃথিবী, 
- বিচিত্র কথা, 
- রাঙ্গা প্রভাত,
- রেখাচিত্র, 
- দুর্দিনের দিনলিপি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,১৪৮.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দু:খ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. ক) গোত্রান্তর
  2. খ) কলঙ্ক
  3. গ) অবরোধ
  4. ঘ) নবান্ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নবান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নবান্ন
ব্যাখ্যা

- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক নবান্ন।
- এই নাটকের পটভূমি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দু:খ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনী।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।
• তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য ছিল সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,১৪৯.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কোন কবি?
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক।
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব।
- বাংলার কাব্য।
- মার্কসবাদ।
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ।
- সাথী।
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৫০.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কলকাতা
  2. নদীয়া
  3. বর্ধমান
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৫১.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয় নিচের কোনটি?
  1. পুতুলনাচের ইতিকথা
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. চতুষ্কোণ
  4. চৌরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
চৌরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌরসন্ধি
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালের ২৯ মে।
- ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে ছিল তাঁর পৈতৃক নিবাস।
- তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর ডাকনাম।

• তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী (১৯৩৫),
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫),
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬),
- শহরতলী (১৯৪০-৪১),
- চিহ্ন (১৯৪৭),
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮),
- সার্বজনীন (১৯৫২),
- আরোগ্য (১৯৫৩)।

• তার উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭),
- সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩),
- হলুদ পোড়া (১৯৪৫),
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০),
- ফেরিওয়ালা (১৯৫৩)।

উল্লেখ্য,
- চৌরসন্ধি উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৫২.
'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসটির ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬):
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল (১৯০০),
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা (১৯০৪),
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ, ১৯১৩, ১৯১৬),
- নবীকাহিনী (১৯১৭),
- প্রবন্ধমালা (১৯১৮),
- কামারের কান্ড (১৯১৯) ও
- আবদুল্লাহ (১৯৩২)।
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নানা দোষত্রুটি অতিশয় দক্ষতার সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৫৩.
'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আল মাহমুদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৫৪.
’একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৫৫.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান কাহিনী লিখে তার নাম দেন শকুন্তলা।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৩,১৫৬.
‘বিদ্যাভূষণ’ কার উপাধি?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ’ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর উপাধি- সাহিত্য রত্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৫৭.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সত্যেন সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• উত্তরাধিকার:
- শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে উত্তরাধিকার।
- বাংলা কবিতা আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভূক্ত আছে।

• শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার।
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৫৮.
“অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ” রচনা করেন -
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ - বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স, অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,১৫৯.
‘গোরা’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি?
  1. মৃন্ময়ী
  2. সুচরিতা
  3. চন্দরা
  4. সুরবালা
সঠিক উত্তর:
সুচরিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুচরিতা
ব্যাখ্যা
• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; গোরা উপন্যাস।
১৩,১৬০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. পঞ্চতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

------------------
•  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৬১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. নওরোজ
  3. বিজলী
  4. সাপ্তাহিক সংবাদ
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
ব্যাখ্যা

‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি নওরোজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

‘কুহেলিকা’ উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যার রাজনৈতিক প্রসঙ্গ অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে তুলে ধরা হয়েছে।

উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
"ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।" 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ:
- জাহাঙ্গীর (নায়ক),
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩,১৬২.
'দেয়াল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, প্রপঞ্চ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,১৬৩.
'ঝুমকো লতায় জোনাকী' শীর্ষক শিশুতোষ রচনাটি কার?
  1. সুকুমার রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'ঝুমকো লতায় জোনাকী' শীর্ষক শিশুতোষ রচনাটি কাজী নজরুল ইসলামের
 
ঝুমকো লতায় জোনাকী,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

ঝুমকো লতায় জোনাকী -
মাঝে মাঝে বিষ্টি গো
আবোল তাবোল বকে কে
তারও চেয়ে মিষ্টি গো
মিষ্টি, মিষ্টি।
আকাশে সব ফ্যাকাশে
ডালিম-দানা পাকেনি,
চাঁদ ওঠেনি কোলে তার
মা বলে সে ডাকেনি
রাগ করেছে বাঘিনী

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ কবিতা:
- খুকী ও কাঠবিড়ালী,
- প্রভাতী, লিচুচোর,
- ঝুমকোলতায় জোনাকি,
- ঘুম পাড়ানি গান প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ঝুমকোলতায় জোনাকি, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৩,১৬৪.
'আয়না' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,১৬৫.
‘সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ’- উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে 'সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ' উক্তিটি করেন।

• প্রমথ চৌধুরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
• সুশিক্ষিত লােক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
• বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে৷
• সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
• হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহােদর নয়।
• সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনােরঞ্জন করা নয়।
• কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
• সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভােগ করে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) ও সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)
১৩,১৬৬.
বাংলায় প্রথম অপেরা রচনা করেন -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম ২৮ আগস্ট, ১৮৫৫ সালে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬)।
- এটি মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। দ্বাদশ শতকে দিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে আত্মকলহ গৃহবিবাদ ও পররাজ্য দখলের প্রবণতা থেকে সৃষ্ট অনৈক্য এর বিষয়বস্তু।
- ১৮৭৯ সালে তাঁর রচিত গীতিনাটক 'বসন্ত উৎসব' বাংলায় লিখিত প্রথম অপেরা।
- ৩ জুলাই, ১৯৭২ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
২.বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৬৭.
রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের পটভূমি কী?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি ১৯৬২ সালে রচিত হয়।
- এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) এর প্রেক্ষাপটে রচিত নাটকে রক্তাক্ত প্রান্তর নয়, রক্তাক্ত অন্তরই মুখ্য হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও মানবীয় প্রেমের জয়গান করুণ রসে সিক্ত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,১৬৮.
”দুগ্ধ-স্রোতরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।”- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2.  নির্মলেন্দু গুন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

”দুগ্ধ-স্রোতরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।”- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- পঙ্‌ক্তিটি ’কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অন্তর্গত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৬৯.
'জায়জঙ্গল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. জহির রায়হান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'জায়জঙ্গল' উপন্যাস:
- এটি শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস।
- সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশে 'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩) উপন্যাস রচিত। সে দিক থেকে এটিকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা চলে।
- উপন্যাসের একটি চরিত্রও সুন্দরবন অঞ্চলের নয়, উপন্যাসের পটভূমিই কেবল সুন্দরবন।
- তবে এ অঞ্চলের বর্ণনা দিতে ঔপন্যাসিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
- যে মানুষগুলোর চিত্র এ উপন্যাসে আছে তারা সেটেলার; জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি পরিত্যাগ করে সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে।
- ফেরারি খুনি, জেলপলাতক আসামি, গোপন বিপ্লবী, পলাতক প্রেমিক-প্রেমিকারা একত্র হয়ে গড়ে তোলে 'জায়জঙ্গলে'র জগৎ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়নাল শেখ, মিন্নত আলি, যুবতী সাজু, মহাজন জলিল মিয়া।
- উপন্যাসের ঘটনা উপস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে লেখক মৎস্যশিকার, নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস, জাদু-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে আঞ্চলিকতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- তিনি বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নেই,
- শাহের বানু,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৭০.
নিম্নের কোনটি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
সঠিক উত্তর:
খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান
- ছুটির দিন দুপুরে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৭১.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. ইছামতী
  2. আরণ্যক
  3. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  4. অপরাজিত
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের তিনি জনপ্রিয়।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে গুরুত্ব পায় - প্রকৃতি ও মানুষের জীবন।
- ১ সেপ্টেম্বর,১৯৫০সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

• ইছামতী :
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস ’ইছামতী’।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় - ১৯৫০ সালে।
- তিনি ইছামতী উপন্যাসের জন্যে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- দৃষ্টি প্রদীপ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৭২.
'আগমণী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. বিষের বাঁশি
  2. প্রলয়শিখা
  3. অগ্নিবীণা
  4. চক্রবাক
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৭৩.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু দিবস কবে?
  1. ক) ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  2. খ) ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  3. গ) ১১ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  4. ঘ) ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৭৪.
বাউল কবি লালন সাঁই এর গান সর্বপ্রথম সংগ্রহ করেন কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন। 
- তিনি বাঙালি সমাজে লালনকে পরিচিত করিয়ে দেন।   
-  রবীন্দ্রনাথ ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন
- ২০টি গান তৎকালীন 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।

লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৭৫.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যের মৌল বিষয় কি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গৃহযুদ্ধ
  3. বিশ্বযুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য: 
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৭৬.
'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠী - এর মুখপত্র কোনটি?
  1. শিখা 
  2. জ্ঞানাঙ্কুর
  3. তত্ত্ববোধিনী 
  4. জ্ঞানান্বেষণ
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানান্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানান্বেষণ
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা।
- এর সম্পাদক ছিলেন - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৮৩১ সালে।

•  দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়: 
- পত্রিকা-সম্পাদক, সমাজসেবক।
- ১৮১৪ সালে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কাঁচড়াপাড়ার ভাটপাড়ায়।
- তিনি হেয়ার স্কুল ও হিন্দু কলেজে পড়াশুনা করেন এবং সেই সূত্রে ইয়ং বেঙ্গল দলের কর্মী ও ডিরোজিওর প্রিয় পাত্র ছিলেন।
- দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ছাত্রাবস্থায়ই জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- পরে তিনি ভারত পত্রিকা, সমাচার হিন্দুস্থানী ইত্যাদি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৭৭.
"ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।"- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রহমান
  3. আবদুল গাফ্‌ফার  চৌধুরী
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

একুশের কবিতা' এর অংশবিশেষ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

• 'আল মাহমুদ' সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, একুশে কবিতা।

১৩,১৭৮.
'পালামৌ' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রহসন
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'পালামৌ'- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনী।

• 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনী: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।
-----------------------
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।
--------------------
তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৭৯.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- একদা এক রাজ্যে,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বিরতিহীন উৎসব,
- বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা,
- প্রতিধ্বনিগণ,
- ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,১৮০.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৮১.
'দনুবানু' চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৮২.
'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' কার রচনা?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সানাউল হক
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ:
- শামসুজ্জামান খান রচিত শিশু-সাহিত্য।
- এটি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুজ্জামান খান:

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
-  তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ, 
- গণসঙ্গতি, 
- মাটি থেকে মহীরুহ, 
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা, 
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৮৩.
'নুরু' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও
- কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
• শামসুর রাহমান 'মৈনাক ও মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী- ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ 'মুসাফির' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং কবি নজরুল জীবনী।
১৩,১৮৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) পল্লীসমাজ
  2. খ) দেবদাস
  3. গ) শেষ প্রশ্ন
  4. ঘ) চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'চতুরঙ্গ'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস। 

'চতুরঙ্গ' উপন্যাস
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস- চতুরঙ্গ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া। 
১৩,১৮৫.
'আলোছায়া' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
- 'আলোছায়া' নাটকটির রচয়িতা- নুরুল মোমেন

নুরুল মোমেন
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো 
- নয়া খান্দান 
- আলোছায়া 
- আইনের অন্তরালে 
- শতকরা আশি 
- রূপলেখা 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৮৬.
মমতাজউদদীন আহমদ রচিত নাটক - 
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
কি চাহ শঙ্খচিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কি চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে, 
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• ড. নীলিমা ইব্রাহীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের রচয়িতা সেলিনা হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৮৭.
'ইউরোপের চিঠি' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'ইউরোপের চিঠি' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা।

তাঁর ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৮৮.
"বোবা কাহিনী" জসীম উদ্‌দীন রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাহিনি কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
-  বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৮৯.
'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি -
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস
  4. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
ব্যাখ্যা
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক:
- কী চাহ শঙ্খচিল - মমতাজউদ্দীন আহমেদ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - সৈয়দ শামসুল হক,
- নরকে লাল গোলাপ - আলাউদ্দিন আল আজাদ,
- বর্ণচোরা- মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
-  বকুলপুরের স্বাধীনতা - মমতাজউদ্দীন আহমেদ, 
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম -মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
- যে অরণ্যে আলো নেই - নীলিমা ইব্রাহীম।  

• আলাউদ্দিন আল আজাদ: 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• নাটক:
- মায়াবী প্রহর,
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৯০.
'এলিয়টের কবিতা' অনুবাদ সাহিত্যটির রচয়িতা-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, 
- সেই অন্ধকার চাই,
- সন্দ্বীপের চর, 
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৯১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. মানিকগঞ্জ জেলায়
  2. বরিশাল জেলায়
  3. গাইবান্ধা জেলায় 
  4. বগুড়া জেলায়
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধা জেলায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধা জেলায় 
ব্যাখ্যা

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি — গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৯২.
বাংলায় টি. এস. ইলিয়টের কবিতা প্রথম অনুবাদ করেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলায় টি. এস. ইলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টি. এস. এলিয়ট' এর 'The Journey of the Magi' নামক কবিতার অনুবাদ করেছিলেন 'তীর্থযাত্রী' নামে।
- তিনি 'তীর্থযাত্রী' কবিতাটি 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থে সংকলন করেছিলেন।
- 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

অন্যদিকে,
- বিষ্ণু দে ১৯৫০ সালে 'এলিয়েটের কবিতা'র বাংলা অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,১৯৩.
কলকাতায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমি অবলম্বনে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
  1. স্বাধীনতার স্বাদ
  2. ইতিকথার পরের কথা
  3. শহরতলী
  4. অহিংসা
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতার স্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতার স্বাদ
ব্যাখ্যা

• 'স্বাধীনতার স্বাদ' উপন্যাস:
- 'স্বাধীনতার স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 

- হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘স্বাধীনতার স্বাদ’ (১৯৫১) উপন্যাসটি লেখা। একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো পরিবারের বেঁচে থাকা এবং তাদের সূত্র ধরে আরো কিছু হিন্দু-মুসলিম মানুষের জীবন লেখক এ উপন্যাসে দেখিয়েছেন।

- স্বাধীনতার স্বাদ-উপন্যাসে দেশবিভাগের প্রাক্কালে মহানগর কলকাতায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমিটি অবলম্বিত। এই পটভূমিকে আবর্তন করে-করে লেখক তাঁর ডিসকোর্স অন্তর্বয়ন করে গেছেন এমন এক সুনিশ্চিতবোধ নিয়ে যেন কাহিনি বা ঘটনাগুলি তাঁর জানা ও অভিজ্ঞতালব্ধ এবং এই জানা ও অভিজ্ঞতায় কী জীবনদর্শন বেরিয়ে আসবে তাও তিনি আগেই জানেন।

- যে দাঙ্গার পটভূমিতে স্বাধীনতার স্বাদ রচিত হয়েছে তা কাহিনির সঙ্গে সঙ্গে লেখকের স্পষ্ট বিবরণকে নানা মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে। উপন্যাসটিতে নানা চরিত্রের সমবায়ে কাহিনি ও সময়গ্রন্থির যে বুনন লেখক গাঁথেন তাতে প্রত্যেকটি চরিত্রই স্ব-স্ব চিন্তা ও স্বভাব নিয়ে তাৎপর্য পায়।র

-----------------
 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'স্বাধীনতার স্বাদ' উপন্যাস।

১৩,১৯৪.
কোনটি সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য?
  1. এলাটিং বেলাটিং
  2. শব্দকল্পদ্রুম
  3. ‘কূচবরণ কন্যা
  4. চোর জামাই
সঠিক উত্তর:
শব্দকল্পদ্রুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দকল্পদ্রুম
ব্যাখ্যা
⇒ 'শব্দকল্পদ্রুম' সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

⇒ সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য এলাটিং বেলাটিং।
• ‘কূচবরণ কন্যা’ ও ‘চোর জামাই’ বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৯৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথকে নিম্নের কোন রচনাটি উৎসর্গ করেছেন?
  1. সঞ্চয়িতা
  2. সঞ্চিতা
  3. ব্যাথার দান
  4. বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

‘বিদ্রোহী কবি’ কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় তাঁর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। এ কারণে ইংরেজ সরকার তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ ও পত্রিকা নিষিদ্ধ করে এবং তাঁকে কারাদন্ডে দন্ডিত করে।
- নজরুলও আদালতে লিখিত রাজবন্দীর জবানবন্দী দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং এর সমর্থনে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে গ্রন্থ উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা জানান।
- ১৯১৭ সালের শেষদিক থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর নজরুলের সামরিক জীবনের পরিধি। এ সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন।

- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা সমূহ
- অগ্নিবীণা (১৯২২)
- সঞ্চিতা (১৯২৫)
- ফনীমনসা (১৯২৭)
- চক্রবাক (১৯২৯)
- সাতভাই চম্পা (১৯৩৩)
- নির্ঝর (১৯৩৯)
- নতুন চাঁদ (১৯৩৯)
- মরুভাস্কর (১৯৫১)
- সঞ্চয়ন (১৯৫৫)

- সঞ্চিতা কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য-সংকলন।
- এই গ্রন্থে আটাত্তরটি কবিতা ও সতেরোটি গান আছে। এর মধ্যে - ‘বিদ্রোহী’, ‘সর্বহারা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘মানুষ’, ‘জীবন বন্দনা’, ‘খুকী ও কাঠবেড়ালী’, ‘চল্‌ চল্‌ চল্‌’ প্রভৃতি প্রধান।
- গ্রন্থটির উৎসর্গ পত্রে লেখা আছে: “বিশ্বকবিসম্রাট শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীশ্রীচরণারবিন্দেষু”।
- উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলনের নাম 'সঞ্চয়িতা'।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সাহিত্য ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১৩,১৯৬.
'অবকাশরঞ্জিনী' কাব্যসংকলনটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন একজন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। 

- ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো। তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।

- ১৮৭৫ সালে তাঁর 'পলাশীর যুদ্ধ' মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

- 'রৈবতক' (১৮৮৭), 'কুরুক্ষেত্র' (১৮৯৩) ও 'প্রভাস' (১৮৯৬) কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,১৯৭.
কোন কবিতাটি ‘অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়?
  1. ধূমকেতু
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. অবেলার ডাক 
  4. আগমণী
সঠিক উত্তর:
অবেলার ডাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবেলার ডাক 
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- অগ্নি-বীণা’ কাব্যটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের ১২টি কবিতা হলো:
- প্রলয়োল্লাস
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানি
- মোহররম

- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৩,১৯৮.
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশিত কবিতা কোনটি?
  1. বিদ্রোহী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. ধূমকেতু
  4. কামাল পাশা
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশিত কবিতা হচ্ছে প্রলয়োল্লাস। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,১৯৯.
কোনটি গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. স্ফুলিঙ্গ
  2. বুলবুলিস্তান
  3. অনল প্রবাহ
  4. মরু-ভাস্কর
সঠিক উত্তর:
বুলবুলিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলবুলিস্তান
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা: 
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
- স্ফুলিঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছোট কবিতার সংকলন। 
- মরু-ভাস্কর কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী কাব্য।
- অনল প্রবাহ (১৯০০) - ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রথম কাব্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২০০.
নির্মলেন্দু গুণকে কী নামে আখ্যায়িত করা হয়? 
  1. রোমান্টিক কবি
  2. জনতার কবি
  3. কৃষকের কবি
  4. কবিদের কবি
সঠিক উত্তর:
কবিদের কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিদের কবি
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের আধুনিক কবিতার একজন বিশিষ্ট কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- মূলত তিনি একজন কবি হলেও পাঠকসমাজে তাঁকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি অনুবাদকবিতা ও ছোটগল্পও রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।