বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২৬ / ১৭৪ · ১২,৫০১১২,৬০০ / ১৭,৪৩৭

১২,৫০১.
“হৈম কে আমি লইয়া যাইব”- কে বলেছিল?
  1. ক) হৈমন্তীর স্বামী
  2. খ) হৈমন্তীর বাবা
  3. গ) দিদিমা
  4. ঘ) বনমালী বাবু
সঠিক উত্তর:
ক) হৈমন্তীর স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হৈমন্তীর স্বামী
ব্যাখ্যা
- লাইনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তি' নামক ছোটগল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: হৈমন্তি গল্প-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
১২,৫০২.
কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর স্মরণে কলকাতা বেতারে কোন কবিতার আবৃত্তি করেছিলেন?
  1. অস্তরবি
  2. রবিহারা
  3. ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে
  4. কবিগুরুর প্রয়াণ
সঠিক উত্তর:
রবিহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবিহারা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রবিহারা।
-----------------
প্রেক্ষাপট ও তথ্য বিশ্লেষণ:
• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন,
—‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা;
— ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।

• এর মধ্যে,
“রবিহারা” কবিতাটি নজরুল স্বকণ্ঠে কলকাতা বেতারে এবং গ্রামোফোন রেকর্ডে আবৃত্তি করেছিলেন। এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের প্রতি নজরুলের গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের প্রকাশ এবং বাংলা সাহিত্যে একটি ঐতিহাসিক রচনা।

উল্লেখ্য,
• ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন। 
-------------
'রবিহারা' কবিতার অংশবিশেষ:
দুপুরের রবি পড়িয়াছে ধলে অস্ত- পথের কোলে
শ্রাবনের মেঘ ছুটে এল দলে দলে
উদাস গগন-তলে
বিশ্বের রবি, ভারতের কবি,
শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি
তুমি চলে যাবে বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,৫০৩.
'অবরোধবাসিনী' পর্দাপ্রথা নির্ভর হাস্যরসাত্মক গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
'অবরোধবাসিনী':
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'। এতে মোট ৪৭টি ঘটনাকে অনুগল্প আকারে লেখা আছে। এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
- বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়৷
- আর নারী জাগরণের কবি হচ্ছেন - শামসুন্নাহার মাহমুদ।
১২,৫০৪.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়-
  1. ক) পাদুমাবৎ
  2. খ) মহুয়া
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ক) পাদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পাদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন সম্পাদিত গ্রন্থ: 
- The Kashmiri Ramayana 
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta. (1930)

• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ।
- হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পাদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫০৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. বালুচর
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. বেদের মেয়ে
  4. মাটির কান্না
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• ‘বেদের মেয়ে’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• ‘বোবা কাহিনী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত প্রশত উপন্যাস।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫০৬.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. গাইবান্দা
  2. বগুড়া 
  3. রংপুর
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর জীবনের প্রথম মঞ্চনাটক- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- তাঁর রচিত ‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে পাঠকের কাছে। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫০৭.
'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শওকত ওসমান
  3. আহমদ ছফা
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে।

---------------------------
• হুমায়ুন আজাদ:

- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি‌।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫০৮.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি, প্রাচ্য ও প্রতিষ্ঠিত, জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গ্রানাডার শেষ বীর। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫০৯.
শরৎচন্দ্র রচিত কোন উপন্যাসের নামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প রয়েছে?
  1. বড়দিদি
  2. দেনা-পাওনা
  3. পথের দাবী
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
দেনা-পাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাস:
- 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মতোইনারী পুরুষের সম্পর্ক, নারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।
- কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ।এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।।
- এই নামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প রয়েছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫১০.
‘নেমেসিস’ নাট্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ইব্রাহিম খাঁ
  2. নূরুল মোমেন
  3. আসকার ইবনে শাইখ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
নূরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন: 
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার। 
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর বহুরূপা নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

নেমেসিস: 
- তাঁর নেমেসিস নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। 
- গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। 
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- একটি মাত্র চরিত্রের (স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী) মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনী বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক: 
• যদি এমন হতো, 
• নয়া খান্দান, 
• আলোছায়া, 
• আইনের অন্তরালে,
• শতকরা আশি, 
• রূপলেখা ও 
• যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫১১.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. শেষের পরিচয়
  2. দুইবোন
  3. শেষের কবিতা
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
-  এশিয়ার মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম 'Song Offerings' এর জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
-  তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
- 'শেষের পরিচয়' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৫১২.
'লোকায়ত সাহিত্য' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবদুল কাদির
  4. বদরুদ্দীন উমর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• 'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িত আবদুল কাদির
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। আব্দুল কাদিরের মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় 'লোকায়িত সাহিত্য’।

আবদুল কাদির: 
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস,  
- কবি নজরুল, 
- কাজী আবদুল ওদুদ, 
- লোকায়ত সাহিত্য।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫১৩.
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. ক) জিঞ্জির--কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সাত সাগরের মাঝি--ফররুখ আহমদ
  3. গ) দিলরুবা--আবদুল কাদির
  4. ঘ) নূরনামা--আবদুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
খ) সাত সাগরের মাঝি--ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাত সাগরের মাঝি--ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
কবি, শিশুসাহিত্যিক ফররুখ আহমদ এর জন্ম ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে । 
- ফররুখ আহমদ ছাত্রাবস্থায়ই এম.এন. রায়ের র‌্যাডিক্যাল মানবতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু বিভাগোত্তরকালে তিনি পাকিস্তানি আদর্শ ও মুসলিম রেনেসাঁর একজন সমর্থক হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। তিনি তখন ধর্মীয় কুসংস্কার ও পাকিস্তানের অপরিণামদর্শী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কঠোর হাতে লেখনী পরিচালনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তাঁর অনুরূপ সমর্থন ছিল।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
- সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪),
- সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২),
- নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১),
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩),
- হাতেমতায়ী (১৯৬৬),
- হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১)
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
১২,৫১৪.
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।' বিখ্যাত গানটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  4. লালন শাহ্
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
ব্যাখ্যা

লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫১৫.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ‘ফুড কনফারেন্স’ কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) ব্যঙ্গাত্মক নাট্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
  5. ১৯২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ইতালি ভ্রমণ পিরালি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্রঃ
• অমিত,
• কেতকী ও
• লাবণ্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও শেষের কবিতা উপন্যাস।
১২,৫১৭.
“আমি কোনো আগন্তুক নই” কবিতাটি আহসান হাবীব রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সারা দুপুর
  2. রাত্রিশেষ
  3. দু হাতে দুই আদিম পাথর
  4. ছায়া হরিণ
সঠিক উত্তর:
দু হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দু হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
⇒ “আমি কোনো আগন্তুক নই” কবিতাটি রচনা করেন আহসান হাবীব।
• তাঁর “দু,হাতে দুই আদিম পাথর” কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি যা ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।
• এই কবিতায় শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)। প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে। এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫১৮.
‘এ জগতে হায় সেই বেশী চায়’ - এর লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মাধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ‘এ জগতে হায় সেই বেশী চায়’ - এর লেখক কে?

সমাধান:
"এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।" পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'দুই বিঘা জমি' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

- 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে 'কথা' কাব্যগ্রন্থের সহযোগে 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। 
- তিনি ১৩০২ বঙ্গাব্দের ৩১ জ্যৈষ্ঠ 'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫১৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কত সালে বাংলা বিভাগ চালু হয়?
  1. ১৮০০
  2. ১৮০১
  3. ১৮০২
  4. ১৮০৫
সঠিক উত্তর:
১৮০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১
ব্যাখ্যা

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা শিক্ষাদানের জন্য তৎকালীন ইংরেজশাসিত ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কতৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয়জন সহকারি পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
ফোর্ট উইলিয়াম পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১২,৫২০.
কোনটি আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. রাত্রিশেষে
  2. সারাদুপুর
  3. ছায়া হরিণ
  4. আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি।

-----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫২১.
সনেটের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ক) আট চরণ, চৌদ্দ মাত্রা
  2. খ) ছয় চরণ, ছয় মাত্রা
  3. গ) চৌদ্দ চরণ, চৌদ্দ মাত্রা
  4. ঘ) আট চরণ, আট মাত্রা
সঠিক উত্তর:
গ) চৌদ্দ চরণ, চৌদ্দ মাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চৌদ্দ চরণ, চৌদ্দ মাত্রা
ব্যাখ্যা

চতুর্দশপদী কবিতা ইংরেজিতে Sonnet, বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা। গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক (Octave) এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক (Sestet) বলে।
অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্টকে ভাবের পরিণতি থাকে।
চতুর্দশপদী কবিতায় কয়েক প্রকার অন্ত্যমিল প্রচলিত আছে। যেমন, প্রথম আট চরণ : কখখক কখখক। শেষ ছয় চরণ : ঘঙচ ঘঙচ।
অথবা প্রথম আট চরণ : কখখগ কখখগ, শেষ ছয় চরণ : ঘঙঘঙ চচ।
‘কপোতাক্ষ নদ' একটি চতুর্দশপদী কবিতা। এখানে মিলবিন্যাস : কখকখকখখক গঘগঘগঘ।

- সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম উদ্ভব হয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইতালিতে।
- ইংল্যান্ডে সনেটের প্রবর্তন হয় স্যার থমাস ওয়াইয়াট এবং হেনরি হাওয়ার্ডের মাধ্যমে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫২২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে হিন্দুর বাহুবল ও বীরত্ব রূপায়িত হয়েছে?
  1. আনন্দমঠ
  2. মৃণালিনী
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. রজনী
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
আনন্দমঠ:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন
- 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা।
- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত।
- মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব।
- সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে। 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। - নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। - এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫২৩.
‘আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মুনির চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

"আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - বিখ্যাত উক্তিটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

​'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:

​- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন।
​- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
​- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
​- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত একটি সংলাপ।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
​- মুমিন,
​- আসাদ,
​- রসুল,
​- সালমা।
​---------------------------
​জহির রায়হান:
​- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
​- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
​- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
​- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস​:
​- শেষ বিকেলের মেয়ে।
​- হাজার বছর ধরে।
​- আরেক ফাল্গুন।
​- বরফ গলা নদী।
​- আর কত দিন।
​- কয়েকটি মৃত্যু।

​​• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
​- সোনার কাজল।
​- কাঁচের দেয়াল।
​- বেহুলা।
​- জীবন থেকে নেয়া।
​- আনোয়ারা।
​- সঙ্গম।
​- বাহানা।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫২৪.
প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. চার-ইয়ারি কথা
  3. তেল-নুন-লাকড়ি
  4. রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
চার-ইয়ারি কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-ইয়ারি কথা
ব্যাখ্যা
• 'চার-ইয়ারি কথা'- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ। 

• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৫২৫.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. মৌরীফুল
  2. মেঘমল্লার
  3. দেবযান
  4. যাত্রাবদল
সঠিক উত্তর:
দেবযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবযান
ব্যাখ্যা
• ‘দেবযান’ উপন্যাস:
- ‘দেবযান’ (১৯৪৪) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেততত্ত্ব ও পরলোকতত্ত্ব-ভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি রচনার জন্য বিভূতিভূষণ সর্বাধিক কাল ধরে পরিকল্পনা করেছিলেন।
- বাস্তব ও অধিবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি এর কাহিনি ও চরিত্র বিন্যাসের নিয়ামক।

অন্যদিকে,
 মেঘমল্লার, মৌরীফুল ও যাত্রাবদল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
----------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫২৬.
বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৫২৭.
'পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকা আমার ভাসে, মেঘ-মুকুলের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে। -এই কবিতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) আবু জাফর ওবায়েদ উল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- উপরোক্ত কবিতাংশটুকু আহসান হাবীবের 'মেঘনা পাড়ের ছেলে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

মেঘনা পাড়ের ছেলে
- আহসান হাবীব

আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
মেঘনা নদীর ঢেউয়ের বুকে
তালের নৌকা বেয়ে
আমি বেড়াই হেসে খেলে-
আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে।
মেঘনা নদীর নেয়ে আমি মেঘনা পাড়ে বাড়ি
ইচ্ছে হ’লেই এপার থেকে ওপারে দেই পাড়ি।
তালে তালে তালের নৌকা
দু’হাতে যাই বেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকো আমার ভাসে
মেঘমুলুকের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে-
মাথার ওপর মুচকি হাসে
বিজলি নামের মেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
আমার ঢেউয়ের সঙ্গে গলাগলি ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা
ঝড়ের সঙ্গে লড়াই ক’রে কাটাই সারাবেলা।
দেশ থেকে যাই দেশান্তরে
মনের নৌকা বেয়ে-
আমি মেঘনা নদীর ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মেঘনা পাড়ের ছেলে- আহসান হাবীব।
১২,৫২৮.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ছায়া হরিণ
  2. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
দু'হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে।
- গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

• উল্লেখ্য, কবির এ কাব্যগ্রন্থের নাম বাংলা একাডেমির 'চরিতাভিধান'সহ অনেক বইয়ে 'দুই হাতে দুই আদিম পাথর' আছে। এটি ঠিক নয়। হবে 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর'।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫২৯.
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. হুতুম পেঁচা
  2. টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. বনফুল
  4. ভানুসিংহ ঠাকুর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
টেকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন প্যারীচাঁদ মিত্র।

অন্যদিকে, 
• 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বনফুল।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - হুতুম পেঁচা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ছদ্মনাম- ভানুসিংহ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৩০.
'স্পেনবিজয় কাব্য'- গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গ) সৈয়দ সামসুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'স্পেনবিজয় কাব্য'- রচনাটির রচয়িতা- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• তাঁর গদ্য বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সংস্কৃতবহুল, কবিতা মধুসূদনের মতো ক্লাসিক রীতির।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- স্পেনবিজয় কাব্য

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কিনারি জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা

ভ্রমন কাহিনি
:
- তুরস্ক ভ্রমণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১২,৫৩১.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. হাজার বছর ধরে 
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. লালসালু 
  4. আর কতদিন 
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
--------------------
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৩২.
কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
  1. সাধনা
  2. পূর্বাশা
  3. সমাচার দর্পণ
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাশা' বিশ শতকের পত্রিকা।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

------------------
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

------------------
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

------------------
• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৩৩.
হায়াৎ মামুদ এর প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) মনিরুজ্জামান
  3. গ) মাহমুদুজ্জামান
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) মনিরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
হায়াৎ মামুদ ২ জুলাই ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিমবঙ্গের হুগলি জেলার মৌড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মনিরুজ্জামান।
- তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশবিভাগের পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫০ সালে পিতার সঙ্গে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
- তিনি একজন আধুনিক কবি, প্রবন্ধকার, গবেষক ও শিশু সাহিত্যিক।
- শিশুদের নিয়ে জীবনীগ্রন্থ রচনা তার প্রিয় বিষয়।
- তিনি প্রায় অর্ধ-শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা।
- শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর উল্লেখযােগ্য রচনা :
- স্বগত সংলাপ,
- প্রেম অপ্রেম নিয়ে বেঁচে আছি (কাব্যগ্রন্থ),
- রবীন্দ্রনাথ: কিশাের জীবনী,
- নজরুল ইসলাম: কিশাের জীবনী,
- প্রতিভার খেলা- নজরুল,
- বাঙালি বলিয়া লজ্জা নাই,
-  বাংলা লেখার নিয়মকানুন,
- কিশাের বাংলা অভিধান।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৩৪.
নিচের কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক?
  1. ক) মসনদের মোহ
  2. খ) নিমজ্জন
  3. গ) আনারকলি
  4. ঘ) তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খ) নিমজ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিমজ্জন
ব্যাখ্যা

- সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
- 'আনারকলি' ও 'মসনদের মোহ' নাটকের রচয়িতা শাহাদাৎ হোসেন।
- তরঙ্গভঙ্গ, বহিপীর, সুড়ঙ্গ ও উজানে মৃত্যু নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- সেলিম আল দীন রচিত নাটকঃ স্বর্ণবোয়াল, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,৫৩৫.
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক ছিলেন-
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
  2. খ) মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন প্রমুখ
  3. গ) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী প্রমুখ
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
ব্যাখ্যা
১৯২৬ সালে গঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ সমাজের অন্যতম আবুল ফজল গড়ে তুলেন ।
- এই আন্দোলনের মূল কথা ছিলো - 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ঠ, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'
- এ আন্দোলনের মূখপত্র ছিলো বার্ষিক শিখা পত্রিকা।
- 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক ছিলেন আবুল হুসেন, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৩৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) বিবিধ প্রসঙ্গ
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন। এছাড়াও সভ্যতার সংকট, পঞ্চভূত ইত্যাদি তার প্রবন্ধ গ্রন্থ। তার প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - বিবিধ প্রসঙ্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১২,৫৩৭.
‘নুরুল এসলাম’ চরিত্রটি মোহাম্মদ নজিবর রহমানের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গরিবের মেয়ে
  2. চাদঁতারা
  3. আনোয়ারা
  4. পরিনাম
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা

'আনোয়ারা':
- 'আনোয়ারা'- (১৯১৪) মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস।
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয়।
- এ উপন্যাসের চরিত্র আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজীমুল্লা, গোলাপজান ইত্যাদি।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫৩৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. খ) বেদান্তগ্রন্থ
  3. গ) বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. ঘ) রাজাবলী
সঠিক উত্তর:
খ) বেদান্তগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেদান্তগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'বেদান্তগ্রন্থ' ও 'বেদান্তসার' গ্রন্থের রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উইলিয়াম কেরির অধিনস্থ বাংলা বিভাগের প্রধান-পন্ডিত।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো: 
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), 
- হিতোপদেশ (১৮০৮), 
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত। 
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২,৫৩৯.
'বিষের বাঁশী' কাব্যগ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলাম কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  2. পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়
  3. বিরজাসুন্দরী দেবী
  4. মিসেস এম. রহমান
সঠিক উত্তর:
মিসেস এম. রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিসেস এম. রহমান
ব্যাখ্যা
• ''বিষের বাঁশী'' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন নারী অধিকার আন্দলনের অগ্রনিয়ায়ক মিসেস এম. রহমানকে (মোসাম্মদ মাসুদা খাতুন) উৎসর্গ করেন।

• 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশি।
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।
--------
এছাড়া কবির আরো কিছু বিখ্যাত গ্রন্থ যাদের উৎসর্গ করেন: 
প্রথম কাব্যগ্রন্থ - অগ্নিবীণা; বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ;
বিষের বাঁশি - মিসেস এম. রহমান;
ভাঙার গান - মেদিণীপুরবাসী;
চক্রবাক - সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র;
বাঁধনহারা- নলিনীকান্ত সরকার; 
সঞ্চিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; 
সর্বহারা - বিরজাসুন্দরী দেবী।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ।
১২,৫৪০.
'১৯৭১' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি, অনিল বাগচীর একদিন, সূর্যের দিন, ১৯৭১, শ্যামল ছায়া, জোছনা ও জননীর গল্প ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৫৪১.
কাজেম আল কোরেশী এর ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. দাদাভাই
  2. কায়কোবাদ
  3. বীরবল
  4. ওমর খৈয়াম
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি,
- তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা 
- আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- ওমর খৈয়াম।
- রোকনুজ্জামান এর ছদ্মনাম- দাদাভাই।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- 'বীরবল'।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৪২.
'স্বদেশ চিন্তা' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- ষ্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৪৩.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মনোরমা
  2. কাপালিক
  3. হেমচন্দ্র
  4. ভ্রমর
সঠিক উত্তর:
কাপালিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাপালিক
ব্যাখ্যা
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - রোহিনী। 
- মৃণালিনী উপন্যাসের চরিত্র - হেমচন্দ্র, মনোরমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৪৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. নরকে লাল গোলাপ
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম থোকা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• 'কালো বরফ' মাহমুদুল হক রচিত একটি উপস্যাস। এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• 'নরকে লাল গোলাপ' ও "নিঃশব্দ যাত্রা" আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।

------------------
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৪৫.
'বাল্মীকির জয়' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. আলী আহসান
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৪৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' মূলত কোন শ্রেণির উপন্যাস?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি - "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

উৎস: 'চার অধ্যায়' উপন্যাস; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫৪৭.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. দেয়াল
  3. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  4. সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় - দেয়াল

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:

- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৪৮.
'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন সময়ে?
  1. উনিশ শতকের শুরুতে
  2. বিশ শতকের শুরুতে
  3. উনিশ শতকের শেষে
  4. বিশ শতকের শেষে
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের শুরুতে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে (অর্থ্যাৎ বিশ শতকের শুরুতে) মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৪৯.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃত ভাষা থেকে অনুবাদ কৃত গ্রন্থ?
  1. ক) বোধোদয়
  2. খ) কথামালা
  3. গ) শকুন্তলা
  4. ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
গ) শকুন্তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'শকুন্তলা' গ্রন্থটি কালিদাসের নাটক 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' অবলম্বনে রচিত। অভিজ্ঞান শকুন্তলম গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। আর অপশনের বাকিগুলো ইংরেজি থেকে অনূদিত গ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১২,৫৫০.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন-
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তাঁর একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিস্থান ঢাকা শহর।

------------- 
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৫১.
জসীম উদ্‌দীনের 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৫ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৫২.
'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মহাকাব্যবিক উপন্যাস 
  2. কাব্যনাট্য 
  3. মহাকাব্য
  4. ত্রয়ী উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

--------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৫৩.
কোন গল্পকারের গল্পে ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  2. রিজিয়া রহমান
  3. শহীদুল জহির
  4. দিলারা হাশেম
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা

➝ জাদুবাস্তবতার রচনাভঙ্গি / ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে শহীদুল জহিরের রচনায়
➝ তাঁর প্রতিটি রচনায় জীবনবোধ খুব ঘনিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে। বাস্তব-পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে তিনি পছন্দ করতেন।
➝ চরিত্রদের একই সঙ্গে অন্তরঙ্গ ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারেন, বিমূর্ত একটা ভাষায়, কিন্তু ঘনিষ্ঠ একটা বয়ানে তিনি বাস্তবের পর্দাপরা মানুষ ও প্রকৃতির জীবনের ভেতরের খবরটি বর্ণনা করতে পারেন। তাঁর ভাষায় বিমূর্ততা একটা স্তরে ছিল গভীর দ্যোতনা ও নিহিতার্থের একটা অবয়ব রচনার প্রয়াস।

◉ শহীদুল জহির:

➝ শহীদুল জহিরের জন্ম ঢাকায় নারিন্দার ভূতের গলিতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।
➝ বাংলা সাহিত্যে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত কথাশিল্পী শহীদুল জহির। পরিচিত এ অর্থে যে তিনি সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে লাতিন আমেরিকার জাদুবাস্তবরীতির একনিষ্ঠ সাধনা করে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
➝ তার রচনায় প্রথম এ রীতির প্রয়োগ ঘটেছে, না কি তার পূর্বেও কেউ কেউ এ রীতিতে লেখার চেষ্টা করেছেন, লিখেছেন, তা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও একবাক্যে শহীদুল জহির ও জাদুবাস্তবতা সমার্থক।
➝ উত্তর-আধুনিক প্রগতিবাদী লেখক হিসেবেও শহীদুল জহিরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শহীদুল জহির তাঁর রচিত সাহিত্যে ভাষা ব্যবহারে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করেছেন, হয়তো সফলও হয়েছেন। সাধারণভাবে বলা যায়, তিনি নিম্নবর্গের মানুষের মুখের অকৃত্রিম ভাষাকে পুঁজি হিসেবে নিয়েছিলেন।
➝ বাংলা সাহিত্য জগতের ব্যতিক্রমী স্রষ্টা শহীদুল জহির অকালপ্রয়াত। বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশকে সৃজনশীল সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর আগমন ঘটেছিল। 

◉ তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার
- ডুমুরখেকো
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প

উপন্যাস: 
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, 
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,  
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি।

➝ শহীদুল জহির জীবদ্দশায় আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, 'আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার' এবং 'প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) অর্জন করেছেন।

উৎস: শহীদুল জহির ‘গল্পসমগ্র’; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কালি কলম।

১২,৫৫৪.
কোন দুটি রচনা একই শ্রেণির?
  1. গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
  2. ডাকঘর ও শ্রীকান্ত
  3. নীলদর্পণ ও বিষাদ-সিন্ধু
  4. লালসালু ও বলাকা
সঠিক উত্তর:
গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি - কাব্যগ্রন্থ।
- 'অগ্নিবীণা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম - কাব্যগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ - নাটক।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জীবনচরিত মূলক - উপন্যাস।

- 'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা - নাটক।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক - উপন্যাস।

- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি - উপন্যাস।
- 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক -  কাব্য।

উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৫৫.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) গোপালগঞ্জ
  2. খ) জামালপুর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) কিশোরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়।
- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৫৬.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আকবর হোসেন
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৫৭.
'কালো বরফ' উপন্যাসে কোন সময়কার কথা ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) মনন্ত্বর
  3. গ) সামরিক শাসন
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ক) দেশভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

- তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১২,৫৫৮.
'ধানশালিকের দেশ' কোন প্রকারের পত্রিকা?
  1. ক) সাপ্তাহিক
  2. খ) মাসিক
  3. গ) পাক্ষিক
  4. ঘ) ত্রৈমাসিক 
সঠিক উত্তর:
ঘ) ত্রৈমাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ত্রৈমাসিক 
ব্যাখ্যা
'ধানশালিকের দেশ' একটি কিশোর পত্রিকা। 
- এটি একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা। 
- এটি প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৫৯.
কোনটা ঠিক?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. বহিপীর (নাটক)
  4. মহাশ্মশান (নাটক)
সঠিক উত্তর:
বহিপীর (নাটক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিপীর (নাটক)
ব্যাখ্যা
• বহিপীর নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

-----------------------
অন্যদিকে,
- কবি জসীম উদ্দীনের কাহিনিকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো,
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
১২,৫৬০.
কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫৬১.
'আমি এ কথা, এ ব্যথা, সুখ ব্যাকুলতা কাহার চরণতলে দিব নিছনি।।'- রবীন্দ্রনাথের এ গানে 'নিছনি' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অপনোদন অর্থে
  2. খ) পূজা অর্থে
  3. গ) বিলানো অর্থে
  4. ঘ) উপহার অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) পূজা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পূজা অর্থে
ব্যাখ্যা
নিছনি, নিছুনি - [নিছোনি, নিছুনি] (বিশেষ্য):
অর্থ - অর্ঘ্য; নিবেদন (যদি না দিই নিছনি সেই প্রিয় সখার পার তলে-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)।

এছাড়াও এটি -  রূপ; লাবণ্য; উপহার; বেশবিন্যাস ইত্যাদি অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

সুত্র: বাংলা একাডেমি অভিধান
১২,৫৬২.
'সংবাদ প্রভাকর' সাপ্তাহিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৩৪ সালে
  2. ১৮৩১ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য। তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে। পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

 - ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমিদারদের সহায়তার কারণে পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ততটা জোরালোভাবে সমালোচনা না করে বরং শাসকদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তবে, নীলচাষের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সংবাদ প্রভাকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৬৩.
'শর্মিষ্ঠা' নাটক ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. বেন জনসন
  2. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
  3. লর্ড বাইরন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৬৪.
‘আব্দুল্লাহ’ - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. কাজী আনোয়ারুল হক
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. কাজী মোতাহের হোসেন
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৬৫.
‘লালসালু’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র। শেখর

১২,৫৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান কোথায়?
  1. শান্তিনিকেতন
  2. শিলাইদহ
  3. কলকাতা, জোড়াসাঁকো
  4. পতিসর, নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা, জোড়াসাঁকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা, জোড়াসাঁকো
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১):
পরিচয়: কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। 
জন্ম: ৭ মে ১৮৬১ (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ), কলকাতা, জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার। 

পিতা: মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতামহ: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর 
বিশেষ অর্জন: ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার — এশিয়ার প্রথম ব্যক্তি যিনি এই সম্মান পান। 
মৃত্যু: ৭ আগস্ট ১৯৪১ (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), কলকাতা, জোড়াসাঁকো।

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৬৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. মহাশ্মশান
  3. বৃত্রসংহার
  4. দিবারাত্রির কাব্য
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রির কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - সোজন বাদিয়ার ঘাট। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৬৮.
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক রচিত হয় কোন সনে?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্র মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়। বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৬৯.
‘উত্তর বসন্ত‘ কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির, (১৯০৬-১৯৮৪)  কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দোবিশারদ, সম্পাদক।
• ১৯০৬ সালের ১ জুন  কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুল কাদির
- বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার 
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার 
- একুশে পদক 
- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭) ও মুক্তধারা পুরস্কার লাভ করেন।
• ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবদুল কাদির এর উল্লেখযোগ্য কবিতা ও প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- দিলরুবা  (কাব্য), 
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), (কাব্য), 
- কবি নজরুল 
- ছন্দসমীক্ষণ 
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৭০.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৮২০ সালে
  3. ১৮২১ সালে
  4. ১৮১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সালে
ব্যাখ্যা
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৭১.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয় কোন গ্রন্থে?
  1. শর্মিষ্ঠা নাটকে 
  2. পদ্মাবতী নাটকে 
  3. কৃষ্ণকুমারী নাটকে 
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে 
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন পদ্মাবতী নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখ্য,
 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৭২.
কোনটি হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ?
  1. অন্তিম শরের মতো
  2. আগুনপাখি
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. বৃত্তায়ন
সঠিক উত্তর:
অন্তিম শরের মতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তিম শরের মতো
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ- বিমুখ প্রান্তর, আর্ত শব্দাবলী, প্রতিবিম্ব, অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস- আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক, শিউলি, বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ- নামহীন গোত্রহীন, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন, শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৫৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. নৌকাডুবি
  3. দুইবোন
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসের নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

• ‘দুইবোন’ (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে। 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র: শর্মিলা ও উর্মিলা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৭৪.
'চৌরসন্ধি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
ক) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৭৫.
বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক কে? 
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫৭৬.
বাংলা গদ্যে প্রথম সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন।

- বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশী বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।

- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বে অনেকেরই গদ্যের বিকাশে অবদান থাকলেও, বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা তাকেই বলা যায়।

উল্লেখ্য,
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী। তিনি তাঁর 'সবুজপত্র' পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে এই রীতি প্রবর্তন করেন এবং এই রীতিতে রচিত প্রথম গ্রন্থ ছিল তাঁরই লেখা 'বীরবলের হালখাতা'।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৫৭৭.
ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির কয়টি স্তর নির্দেশ করেছেন?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন।

সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৫৭৮.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আতাউর রহমান
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থটির রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:

- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৭৯.
"আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।" - কে লিখেছেন?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শওকত ওসমান
  3. সুভাষ দত্ত
  4. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
"আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।" - কবিতাংশটুকু মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী'র ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতার অংশবিশেষ।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৮০.
বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ কোনটি?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয় নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত ।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৮১.
কবি গানের প্রথম কবি কে?
  1. গোঁজলা পুট [গুই]
  2. হরু ঠাকুর
  3. ভবানী ঘোষ
  4. নিতাই বৈরাগী
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা পুট [গুই]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা পুট [গুই]
ব্যাখ্যা
• গোঁজলা গুঁই:
 - গোঁজলা গুঁই (১৮শ শতক)  কবিওয়ালা।
- আঠারো শতকে বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কবিগান নামে এক প্রকার সঙ্গীতধর্মী সাহিত্য রচিত হয়, যা ‘কবিওয়ালা’ নামে এক শ্রেণির সৌখিন বা পেশাদার গায়ক আসরে পরিবেশন করতেন। উঁচু-নিচু সব শ্রেণির শ্রোতাই তখন কবিগান শুনে আনন্দ উপভোগ করত। নতুন ধারার এ গানের আদিগুরু ছিলেন গোঁজলা গুঁই।
- তিনি পেশাদার কবিদল গঠন করে ধনিগৃহে অর্থের বিনিময়ে এ গান গাইতেন।

- গোঁজলা গুঁই  টপ্পা রীতিতে গান রচনা করতেন। ‘এসো এসো চাঁদ বদনি/ এ রসে নিরস করো না ধনি’, ‘প্রাণ, তোরে হেরিয়ে দুখো দূরে গেলো মোর’ প্রভৃতি গানের বিষয় ও রীতি টপ্পার বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাঁর যে গানগুলি পাওয়া গেছে সেগুলি নায়ক-নায়িকার উক্তিরূপে রচিত।

- তাঁর শিষ্য লালু, নন্দলাল, কেষ্টা মুচি, রঘুনাথ দাস ও রামজী পরবর্তীকালে কবিগানে নতুন মাত্রা যোগ করে একে আরও সম্প্রসারিত ও জনপ্রিয় করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৮২.
কবি জসীমউদ্‌দীনের ভ্রমণ কাহিনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) হলদে পরীর দেশে
  2. খ) চাচা কাহিনী
  3. গ) বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  4. ঘ) দেশে বিদেশে
সঠিক উত্তর:
ক) হলদে পরীর দেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হলদে পরীর দেশে
ব্যাখ্যা
পল্লী কবি জসিম উদ্দিন কর্তৃক রচিত ভ্রমণকাহিনী হলো- চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।
১২,৫৮৩.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ইব্রাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ‘শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ’ অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

--------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৮৪.
'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন -
  1. সেলিম আল দীন
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. শওকত ওসমান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• ‘আমলার মামলা’ — শওকত ওসমান রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------------
শওকত ওসমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক এবং নাট্যকার। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের নানা অসঙ্গতি এবং জীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
 
• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।
 
শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৮৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমণ-কাহিনিমূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
ব্যাখ্যা
'বন্দর থেকে বন্দরে':
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত রম্যরচনা (ভ্রমণমূলক)।
• তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ান ভ্রমণ-কাহিনিটি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

---------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে। তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।

- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে। তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।

- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভকরেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১২,৫৮৬.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- সংলাপটি কার রচনা?
  1. মুনির চৌধুরী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত একটি সংলাপ।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৮৭.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) মুখরা রমনী বশীকরণ
  4. ঘ) রত্নাবতী
সঠিক উত্তর:
খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৮৮.
জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. বরিশাল জেলা
  2. ফরিদপুর জেলা
  3. ঢাকা জেলা
  4. রাজশাহী জেলা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল জেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল জেলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৮৯.
‘উৎস থেকে নিরন্তর’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• উৎস থেকে নিরন্তর:
- ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটিতে।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

--------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৯০.
"রেইনকোট" ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. নুরুদ্দিন
  2. নুরুল হুদা
  3. অসমান
  4. আজহার
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা
• "রেইনকোট" ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র- নুরুল হুদা। 

• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৯১.
'মসনদের মোহ' নাটকটির রচয়িতা-
  1. ইব্রাহিম খাঁ
  2. শাহাদাৎ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
শাহাদাৎ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহাদাৎ হোসেন
ব্যাখ্যা
• শাহাদাৎ হোসেন: 
- ১৮৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার পন্ডিতপোল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকার বেতারকেন্দ্রে চাকরি নিয়ে পাক্ষিক এলান পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- শাহাদাৎ হোসেন কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন।
- পঞ্চাশের দশকে রূপচ্ছন্দা ও মসনদের মোহ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ বাংলা বিষয়ের পাঠ্যভুক্ত ছিল। 
- ১৯৫৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্য: 
- মৃদঙ্গ,
- কল্পলেখা,
- রূপচ্ছন্দা;

উপন্যাস ও নাটক: 
সরফরাজ খাঁ,
হিরণলেখা,
পারের পথ,
স্বামীর ভুল,
সোনার কাঁকন,
যুগের আলো,
রিক্তা,
পথের দেখা,
কাঁটাফুল,
আনারকলি,
মসনদের মোহ;

গল্প: 
রূপায়ণ,
এবং শিশুসাহিত্য ছেলেদের গল্প,
মোহন ভোগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১২,৫৯২.
সনেটের ক'টি অংশ?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
দুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি
ব্যাখ্যা
• সনেট (Sonnet):
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়।
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক।
- প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক।
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৫৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছিন্নপত্র' পত্রসংকলনে মোট কতটি পত্র রয়েছে?
  1. ১৪৫টি
  2. ১৫২টি
  3. ১৫৩টি
  4. ১৫৫টি
সঠিক উত্তর:
১৫৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৩টি
ব্যাখ্যা
• ছিন্নপত্র (১৯১২):
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্রসংকলন।
• ১৫৩টি পত্র আছে।
- প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা।
- পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে চিঠিপত্র:
- ছিন্নপত্র, 
- ভানুসিংহের পত্রাবলী, 
- পথে ও পথের প্রান্তে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৫৯৪.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সচিত্রা
  2. ধূমকেতু 
  3. বিজলী
  4. লাঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কবি নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখেন।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি। এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৯৫.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
  1. স্বর্ণবোয়াল
  2. কীর্তনখোলা
  3. বনপাংশুল
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
• তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।
- আমলার মামলা শওকত ওসমানের নাটক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৫৯৬.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত দার্শনিক নিবন্ধ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. রাজাবলি
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫টি । যথা: বত্রিশ সিংহাসন, রাজাবলী, হিতোপদেশ, বেদান্তচন্দ্রিকা, প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ।

• কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। সংস্কৃতরীতির প্রয়োগে দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

১২,৫৯৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অংশ নয়-
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. রসকলি
  3. গণদেবতা
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
রসকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসকলি
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা ও
- পঞ্চগ্রাম।
• তাঁর রচিত গল্পঃ
- রসকলি,
- ডাকহরকরা,
- বেদেনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- পথের ডাক,
- দ্বীপান্তর ও
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,৫৯৮.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মানচিত্র
  2. খ) জেগে আছি
  3. গ) ক্ষুধা ও আশা
  4. ঘ) অন্ধকার সিঁড়ি
সঠিক উত্তর:
ক) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
১২,৫৯৯.
নিচের কোনটি জাহানারা ইমামের রচনা নয়?
  1. ক) বুকের ভিতরে আগুন
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) অন্য জীবন
  4. ঘ) চৈতালী ঘূর্নী
সঠিক উত্তর:
ঘ) চৈতালী ঘূর্নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চৈতালী ঘূর্নী
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাহানারা ইমাম লেখালেখিতে ব্যস্ত সময় কাটান এবং তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি এ সময়ে প্রকাশ পায়। গল্প, উপন্যাস ও দিনপঞ্জি জাতীয় রচনা মিলিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।
সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- অন্য জীবন (১৯৮৫),
- বীরশ্রেষ্ঠ (১৯৮৫),
- জীবন মৃত্যু (১৯৮৮),
- চিরায়ত সাহিত্য (১৯৮৯),
- বুকের ভিতরে আগুন (১৯৯০),
- নাটকের অবসান (১৯৯০),
- দুই মেরু (১৯৯০),
- নিঃসঙ্গ পাইন (১৯৯০),
- নয় এ মধুর খেলা (১৯৯০), 

চৈতালী ঘূর্নী - তারাশঙ্কর বন্দ্যেপাধ্যায়

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১২,৬০০.
"অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত মোট কবিতা সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১তি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
• "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাগুলো হলো:
প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তাম্বর-ধারিণী মা, আগমণী, ধূমকেতু, কামাল পাশা,  আনোয়ারা, রণভেরী, শাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী এবং  মহররম।

উৎস: "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।