বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২১ / ১৭৪ · ১২,০০১১২,১০০ / ১৭,৪৩৭

১২,০০১.
’নারীর রূপকথা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ- নারীর রূপকথা।

সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মানুষমাটি,
- মতিজানের মেয়ে,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- পরজন্ম,
- নারীর রূপকথা।
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০০২.
‘সিরাজ-উদ-দৌলা’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শওকত আলী
  3. সেলিম আল দীন 
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

‘সিরাজ-উদ-দৌলা’ নাটকের রচয়িতা- সিকান্দার আবু জাফর।
----------------------------------------------
সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও গীতিকার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ষাটের দশকের বাঙালি জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি দেশপ্রেমমূলক কবিতা, নাটক ও গণসংগীত রচনার মাধ্যমে মানুষকে আন্দোলন ও সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
- পেশাগত জীবনে তিনি কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও সাংবাদিকতা—সাহিত্যের নানা শাখায় সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।
- বিশেষ করে ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি এবং সিরাজ-উদ-দৌলা নাটকটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাওল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১২,০০৩.
‘ভ্রমণকারী বন্ধু’ নিচের কোন লেখকের ছদ্মনাম? 
  1. আবু ইসহাক
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায় 
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তার সম্পাদিত পত্রিকা:
- সংবাদ প্রভাকর
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,০০৪.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?  
  1. সজনীকান্ত দাস
  2. সুবিমল রায়
  3. যোগানন্দ দাস
  4. মোহিতলাল মজুমদার 
সঠিক উত্তর:
সজনীকান্ত দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সজনীকান্ত দাস
ব্যাখ্যা

শনিবারের চিঠি:
- শনিবারের চিঠি ছিল বাংলা সাহিত্যের একটি ব্যঙ্গধর্মী (স্যাটায়ার) সাহিত্যিক পত্রিকা।
- শুরুতে এটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হলেও পরে মাসিক পত্রিকায় রূপ নেয়।
- পত্রিকাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল হাস্য–কৌতুক ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্যিক প্রবণতাগুলোর সমালোচনা করা।
- ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে কলকাতা-কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যজগতে এই পত্রিকা বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- এ সময় কল্লোল গোষ্ঠীর সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল স্পষ্টতই দ্বন্দ্বমূলক ও আক্রমণাত্মক;
- যদিও সামগ্রিকভাবে তৎকালীন সাহিত্যচর্চাকে এটি নতুনভাবে উদ্দীপিত করেছিল।

- পত্রিকাটির প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস।
- তিনি দীর্ঘদিন এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- তবে পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস।

- উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শনিবারের চিঠির অধিকাংশ রচনাই বেনামে প্রকাশিত হতো।
- তবু এর সঙ্গে যুক্ত লেখকদের মধ্যে ছিলেন- 
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১২,০০৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস -
  1. পল্লী সমাজ
  2. বড়দিদি
  3. দেবদাস
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
বড়দিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়দিদি
ব্যাখ্যা
'বড়দিদি' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পরিণীতা, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস,
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; ‘বড়দিদি’ উপন্যাস।
১২,০০৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান কে ছিলেন?
  1. রামরাম বসু
  2. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন : উইলিয়াম কেরি। 

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
-----------------------
 • উইলিয়াম কেরি:  
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি ।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশির অবদান সর্বাধিক ।
- তিনি "ইতিহাসমালা ও কথোপকথন" নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন ।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ।
---------------------
অন্যদিকে,
রামরাম বসু , গোলকনাথ শর্মা,  চণ্ডীচরণ মুন্‌শী - ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
১২,০০৭.
'কুলায় ও কালপুরুষ' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কুলায় ও কালপুরুষ' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'। 

----------------- 
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতার জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী। 

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,০০৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. বামুনের মেয়ে
  2. শেষের পরিচয়
  3. দেনা পাওনা
  4. শেষ প্রশ্ন
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
• "শেষের পরিচয়" উপন্যাস:
- 'শেষের পরিচয়' (১৯৩৯) উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদে 'রাখাল এ প্রশ্নে নীরবে বাহির হইয়া গেল' পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা। বাকি অংশ রাধারানী দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০০৯.
সেলিম আল দীনের যে সৃষ্টিকর্মটি ব্যতিক্রমধর্মী -
  1. ক) নিমজ্জন
  2. খ) হরগজ
  3. গ) প্রাচ্য
  4. ঘ) ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।

স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- ধাবমান ইত্যাদি।

ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ ২০০৭ সালে প্রকাশিত নৃত্যনাট্য

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া

১২,০১০.
‘বহুরূপী' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
খ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায় একজন ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক। তার রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ- 'আবােল-তাবোল' (১৯২৩), হ-য-ব-র-ল (১৯২৪), পাগলা দাশু (১৯৪০), বহুরূপী (১৯৪৪), ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই। উল্লেখ্য উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী তার পিতা, সত্যজিৎ রায় তার ছেলে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১২,০১১.
'পঞ্চভূত' কার লেখা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। 
- পত্রিকায় ছাপা হবার সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভুতনাথ বাবু' 

তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০১২.
"পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।" - কবিতাংশটুকু কোন কবি রচনা করেন?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. শেখ ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।'- কবিতাংশটুকু কালীপ্রসন্ন ঘোষ রচনা করেন।

পারিব না- কবিতা
  কালীপ্রসন্ন ঘোষ

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,
পাঁচ জনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে দেখ শত বার৷

কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং পারিব না- কবিতা।
১২,০১৩.
"হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো" কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) পূর্বাভাস
  2. খ) হরতাল
  3. গ) অভিযান
  4. ঘ) ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য
১২,০১৪.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. শেষ লেখা
  2. শেষের কবিতা
  3. শেষের পরিচয়
  4. শেষ কথা
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
• শেষের পরিচয়:
- 'শেষের পরিচয়' (১৯৩৯) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের 'রাখাল এ প্রশ্নে নীরবে বাহির হইয়া গেল' পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা।
- বাকি অংশ রাধারানী দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ - শেষ লেখা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প - শেষ কথা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস - শেষের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০১৫.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
  1. বিদ্রোহী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. অগ্নিবীণা
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
ব্যাখ্যা
•  কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত:
- 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস 'বাঁধন-হারা'।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম- তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০১৬.
জহির রায়হান পরিচালিত কোন চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরষ্কার লাভ করে?
  1. বাহানা
  2. সোনার কাজল
  3. কাঁচের দেয়াল
  4. কখনো আসেনি
সঠিক উত্তর:
কাঁচের দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচের দেয়াল
ব্যাখ্যা
• 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্র:
- 'কাঁচের দেয়াল' জহির রায়হান পরিচালিত একটি চলচ্চিত্র।
- তিনি ১৯৬৩ সালে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন।
- 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।

--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর অন্যান্য পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০১৭.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০১ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৯০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৩ সালে
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীম উদদীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,০১৮.
'প্রেম সতীত্ব অপেক্ষা মহত্তর' কার উক্তি?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'দেনা পাওনা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। অধুনা চণ্ডীগড়ের ভৈরবী ষোড়শীর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ঘৃণিত চরিত্রের অধিকারী জীবনানন্দের আমূল পরিবর্তন এই উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু। এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- 'প্রেম সতীত্ব অপেক্ষা মহত্তর'।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১২,০১৯.
‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) নওরোজ
  2. খ) সওগাত
  3. গ) লাঙ্গল
  4. ঘ) শিখা
সঠিক উত্তর:
ক) নওরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নওরোজ
ব্যাখ্যা

- ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি নওরোজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।:
- জাহাঙ্গীর 
- তাহমিনা 
- চম্পা 
- ফিরদৌস বেগম 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

১২,০২০.
বাংলা সাহিত্যে সনেট প্রবর্তক কে?
  1. কায়কোবাদ 
  2. অমিয় চক্রবর্তী 
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভান্তে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,০২১.
বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  2. বঙ্গসাহিত্য পরিচয়
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ - বঙ্গভাষা ও সাহিত্য

বঙ্গভাষা ও সাহিত্য: 
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ 
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত গবেষণা কর্ম - বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০২২.
‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ বিখ্যাত কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দিয়েছিলে সকল আকাশ
  2. একগ্লাস অন্ধকার
  3. ছোবল
  4. উপদ্রুত উপকূল
সঠিক উত্তর:
উপদ্রুত উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদ্রুত উপকূল
ব্যাখ্যা
• ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতা:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত 'উপদ্রুত উপকূল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ইতিহাস-সচেতন কবি। ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতায় তাঁর কবিস্বরূপ আপনাতেই ধরা পড়ে। তাঁর এ সংগ্রামী চেতনা পাঠককে বর্তমানের নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে ভবিষ্যতের দিকে।

‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতায় কবি বলেন- 

‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে—
এ—দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?’

---------------
'উপদ্রুত উপকূল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য কবিতাগুলো হলো: 
- অভিমানের খেয়া,
- আজীবন জন্মের ঘ্রানে,
- বাতাসে লাশের গন্ধ,
- আধখানা বেলা,
- মুখরিত মর্মমূল,
- বিমানবালা,
- নষ্ট অন্ধকারে,
- স্মৃতি বন্টন,
- ইচ্ছের দরােজায়,
- শব্দ-শ্রমিক,
- এ কেমন ভ্রান্তি আমার। 

----------------
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে-
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১),
- ছোবল (১৯৮৬),
- গল্প (১৯৮৭),
- দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮),
- মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) ও
- একগ্লাস অন্ধকার (১৯৯২)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'উপদ্রুত উপকূল' কাব্যগ্রন্থ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
১২,০২৩.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কী ধরনের সাহিত্যের রচয়িতা?
  1. পুঁথিসাহিত্য
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা 
  3. কবিগান
  4. নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
কবিগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিগান
ব্যাখ্যা
• এন্টনি ফিরিঙ্গি কবিগানের রচয়িতা।

• এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান ।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। 
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন। 

•তাঁর একটি বিখ্যাত গান -

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০২৪.
ইমদাদুল হকের উপন্যাস নিচের কোনটি?
  1. জোহরা
  2. সারাবেলা
  3. বখতিয়ারের ঘোড়া
  4. আসায় বসতি
সঠিক উত্তর:
সারাবেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারাবেলা
ব্যাখ্যা

 • ইমদাদুল হক মিলন রচিত উপন্যাস ‘সারাবেলা’।

• ইমদাদুল হক মিলন:

-  জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য। 

•তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি, 
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জোহরা উপন্যাসটি মোজাম্মেল হক রচনা করেন। 
- 'বখতিয়ারের ঘোড়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- 'আল মাহমুদ'। 
- 'আসায় বসতি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - আহসান হাবীব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০২৫.
'সাহিত্যের পথে' কার রচিত সাহিত্যকর্ম?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'সাহিত্যের পথে' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভাষা ও সাহিত্যসমালোচনা মূলক গ্রন্থ।

• 'সাহিত্যের পথে':
- এটি ভাষা ও সাহিত্যসমালোচনা মূলক গ্রন্থ।
- ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- খেয়া, 
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০২৬.
'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।' - চরণদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।'- চরণদ্বয় কালীপ্রসন্ন ঘোষ রচিত ‘পারিব না’ কবিতার।

পারিব না- কবিতা,
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ।

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,
পাঁচ জনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে দেখ শত বার৷

কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা,
- নিভৃত-চিন্তা,
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব,
- নিশীথ-চিন্তা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ,
- প্রমোদলহরী,
- ভক্তির জয়,
- মা না মহাশক্তি,
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা,
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও পারিব না- কবিতা।
১২,০২৭.
"কাশবনের কন্যা" - উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শওকত আলী
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ- উ দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
- সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখের মুখের আঞ্চলিক কথা, লোকসঙ্গীত, প্রচলিত লোকবচন ইত্যাদির ব্যবহার উপন্যাসটিকে সুখপাঠ্য ও বিশ্বস্ত করেছে।
- 'কাশবনের কন্যা' গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, এ উপন্যাসে ঔপন্যাসিক রোম্যান্টিক মনোভঙ্গিতে এমন এক গ্রাম, গ্রামের মানুষ ও পরিবেশ তুলে এনেছেন, যা দুঃখ অতিক্রমকারী, সুখস্বপ্ন আশা সঞ্চারী।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,০২৮.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মতিন
  2. সুদীপ্ত শাহীন
  3. নুরুল হুদা
  4. গাজী রাহমান
সঠিক উত্তর:
সুদীপ্ত শাহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুদীপ্ত শাহীন
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।

- 'রাইফেল, রোটি, আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি  উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস পাঠে এই উপন্যাস একটি অমূল্য দলিলরূপে গণ্য করা হয়।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
সুদীপ্ত শাহীন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। স্ত্রী আমিনাসহ তিন বাচ্চা নিয়ে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কোয়ার্টারের ২৩ নম্বর বিল্ডিংয়ে। ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনীর আক্রমণে ২৩ নম্বর বিল্ডিংয়ের সবাই মারা গেলেও বেঁচে যান তিনি ও তাঁর পরিবার। চারপাশে লাশের স্তূপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপকেরা নিহত হয়েছেন সপরিবার। রাতের আঁধারে ইয়াহিয়া খানের লেলিয়ে দেওয়া পশুরা মেরে ফেলেছে তাঁর সহকর্মীদের। গণহত্যার বলী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রেহাই পায়নি শহরের সাধারণ জনগণ। শিক্ষক হিসেবে নিজের সন্তানতুল্য ছাত্রদের রক্ষা করতে না পারার আক্ষেপ, সহকর্মীদের মধ্যে ব্যতিক্রমী হয়ে নিজে জীবিত থাকার যে অপরাধবোধ-এসবই কুরে কুরে খাচ্ছিল সুদীপ্তকে। মরে গিয়ে তাঁরা বেঁচে গিয়েছেন। লেখক যেন সুদীপ্ত শাহিনের মধ্যে সে সময়ের হতাশা এবং আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০২৯.
"ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

"ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি:
- ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেছিলেন নির্মলেন্দু গুণ। সেই স্মৃতিকে লিপিবদ্ধ করেছেন "ভলগার তীরে" গ্রন্থটিতে।
- এতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বাস্তবচিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। লেনিন সম্পর্কে তার নিজস্ব অভিমত ও সোভিয়েত জনগণ সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যাবে।

নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০৩০.
'এক মন এক প্রাণ' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) রাবেয়া খাতুন
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
ক) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
রূপের নেশা, ভাঙ্গা বুক, এক মন এক প্রাণ উপন্যাস গুলোর রচয়িতা গোলাম মোস্তফা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,০৩১.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনপাখি
  2. সাবিত্রী উপাখ্যান
  3. শিউলি
  4. অবিশ্বাস্য
সঠিক উত্তর:
অবিশ্বাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা

• আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শিউলি হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• 'অবিশ্বাস্য' উপন্যাসটির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।

• হাসান আজিজুল হক:

- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০৩২.
'আবিষ্কারের নেশায়' —গ্রন্থটি রচনা করেছেন-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী (১৯৩০-১৯৯৮): জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।

উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে -
-আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,০৩৩.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদিত 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা':
• ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
• তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
• তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক।
- তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 

• হরপ্রসাদ বহু বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন;
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই’ উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন;
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৩৪.
‘বিন্দু বিসর্গ' কোন শ্রেণির গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. আত্মজীবনী
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত আত্মজীবনী - বিন্দু-বিসর্গ।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
- বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন

নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

নীলিমা ইব্রাহীম রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৩৫.
বাংলা একাডেমী প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ'-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন-
  1. আব্দুল হাই
  2. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন
  3. আহমদ ছফা
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন:
- জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি ছিলেন ইসলামিক একাডেমী অব সাইন্স-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা ফেলো; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো এবং সভাপতি (১৯৮৮-৯১)।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানের বিস্ময় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,০৩৬.
‘পথের দাবী’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রোমান্টিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. দার্শনিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

‘পথের দাবী’ একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 

পথের দাবী:
- পথের দাবী হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল এবং কাহিনির পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সব্যসাচী, যিনি একজন গুপ্ত বিপ্লবী নেতা।কিছু বিশ্লেষকের মতে, সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত আছে।
- উপন্যাসে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের আন্তরিক সমর্থন ফুটে উঠেছে।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার এটি নিষিদ্ধ করে। যদিও নান্দনিক দিক থেকে কিছু প্রশ্ন থাকলেও, স্বাধীনতা সংগ্রামে এই উপন্যাস উদ্দীপক ভূমিকা পালন করেছে।
- উপন্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য উক্তি হলো, “আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।”
- পথের দাবী ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবাণী পত্রিকায় ১৩২৯ সালের ফাল্গুন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভকরেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ, 
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়, ইত্যাদি। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

১২,০৩৭.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

---------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৩৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনী মূলক রচনা নিম্নের কোনটি?
  1. ক) চীনযাত্রী
  2. খ) ইংল্যন্ডের ডায়রী
  3. গ) পশ্চিমের যাত্রী
  4. ঘ) রাশিয়ার চিঠি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশিয়ার চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশিয়ার চিঠি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট বারো বার বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। তিনি পাঁচটি মহাদেশের ত্রিশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন।
তাঁর এসব ভ্রমনকাহিনি তিনি বিভিন্ন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।

তাঁর ভ্রমণ কাহিনীমূলক গ্রন্থ:
- ইউরোপ প্রবাসীর পত্র 
- ইউরোপ প্রবাসীর ডায়রী 
- রাশিয়ার চিঠি 
- পারস্যে 
- জাপান যাত্রী 

অন্যদিকে, চীনযাত্রী - কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
                  ইংল্যন্ডের ডায়রী  - শিবনাথ শাস্ত্রী 
                 পশ্চিমের যাত্রী  - সুনীতিকুমার  চট্টোপাধ্যায় 


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৩৯.
‘দুধেভাতে উৎপাত' – গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প- রেইনকোট, মিলির হাতে স্টেনগান। তার উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা উপন্যাস- চিলেকোঠার সেপাই। অন্যান্য গল্পগ্রন্থ - অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।’
১২,০৪০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি? 
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য।

• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য:
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।
---------------------------

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১২,০৪১.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. বিমল মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. রোকনুজ্জামান খান
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

অন্যদিকে,
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি।
রোকনুজ্জামান খানের ছদ্মনাম - দাদাভাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,০৪২.
কোনটি নুরুল মোমেন রচিত প্রথম নাটক?
  1. রূপান্তর
  2. রূপলেখা
  3. আলোছায়া
  4. নেমেসিস
সঠিক উত্তর:
রূপান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপান্তর
ব্যাখ্যা

নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০৪৩.
কোন লেখক কাব্যচর্চায় 'অশীতিপর শর্মা' ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১২,০৪৪.
একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. ক) রক্তকরবী
  2. খ) এখনও ক্রীতদাস
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) কোকিলারা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোকিলারা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'কোকিলারা'।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।  

নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত অন্যান্য নাটক - 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক৷
- নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটকে এক বোবা চরিত্রের মাধ্যমে গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর।
- নুরুল মোমেন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'নেমেসিস'। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এটি। নাটকটির রচয়িতা - ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৪৫.
'মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ,
অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষাদ–সিন্ধু
  3. শ্রীকান্ত
  4. নীল-দর্পণ
সঠিক উত্তর:
বিষাদ–সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ–সিন্ধু
ব্যাখ্যা
‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয়নি।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- মীর মশাররফ হোসেন বিষাদ–সিন্ধু উপন্যাসে বলেছেন, ‘মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ, অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন; কিন্তু জগৎ এমনই ভয়ানক স্থান যে, টাকা না থাকিলে তাহার স্থান কোথাও নাই..'

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
১২,০৪৬.
মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে কোন নাটকে?
  1. ক) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. খ) নূরুলদীনের সারাজীবন
  3. গ) ওরা কদম আলী
  4. ঘ) ইবলিশ
সঠিক উত্তর:
গ) ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত নাটক 'ওরা কদম আলী' প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে। 
- এই নাটকের মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে। 
- শোষিত-নিপীড়িত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নিয়ে আসেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহন করে তা কদম আলী নামক এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে তা দেখানো হয়েছে। 

মামুনুর রশীদ (জন্ম: ১৯৪৮) এর প্রকাশিত নাটক সমূহ-
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই (১৯৮০)
- মে দিবস (১৯৮১)
- ইবলিশ (১৯৮২)
- এখানে নোঙর (১৯৮৬)
- গিনিপিগ (১৯৮৫)
- সমতট (১৯৯০)
- পাথর (১৯৯৩)
- লেবেদেফ (১৯৯৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৪৭.
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নন্দিত নরকে
  2. খ) শঙ্খনীল কারাগার
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) আশাবরী
সঠিক উত্তর:
ক) নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অধ্যাপনা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক সাহিত্যর্চ্চায় মনোনিবেশ করেন।

- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প।
- হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ বলা যায়।
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন তোমাদের জন্য ভালোবাসা।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার। 

• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- ১৯৭১ (১৯৯৩),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি।

 • স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩),
- আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪),
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ (১৯৮৪),
- আমার আছে জল (১৯৮৫), 
- নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭),
- এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০),
- বহুব্রীহি (১৯৯০),
- অয়োময় (১৯৯০), 
- শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০),
- আশাবরী (১৯৯১),
- কোথাও কেউ নেই (১৯৯২), 
- কবি (১৯৯৬), 

• সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা (১৯৭৩),
- তারা তিনজন। 

• আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন (১৯৮৯),
- আমার ছেলেবেলা। 

- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১২,০৪৮.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নয় কোনটি?
  1. এখানে এখন
  2. হৃৎকলমের টানে
  3. নুরুলদীনের সারাজীবন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
হৃৎকলমের টানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎকলমের টানে
ব্যাখ্যা
‘হৃৎকলমের টানে’- সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৪৯.
দিনপঞ্জিরূপে লেখা 'একাত্তরের দিনগুলি' এর রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
গ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম এর দিনপঞ্জিরূপে লেখা অনবদ্য গ্রন্থ- 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

জাহানারা ইমাম 
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি। 
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১২,০৫০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. দেশভাগ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসটি আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে রচিত।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০৫১.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ গীতি নাট্যটির রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল-মামুন
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যটির রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক
প্রশ্নে গীতি নাট্য লিখা থাকলেও এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৫২.
‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে / দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?’- পঙ্‌ক্তিটি কার?
  1. কালিকানন্দ
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে / দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রামের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
১২,০৫৩.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. অন্ধ কথামালা
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ):
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

--------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা।
- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প। 
- ‘অন্ধ কথামালা’ রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০৫৪.
'ঢাকা দর্পণ' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হরিশ্চন্দ্র মিত্র
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা দর্পণ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন: 'হরিশ্চন্দ্র মিত্র'। 
------------------- 
• হরিশ্চন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশ্চন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক  কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশ্চন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,০৫৫.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রতিশোধ
  2. কুয়াশা
  3. বেনামী বন্দর
  4. উপনয়ন 
সঠিক উত্তর:
বেনামী বন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনামী বন্দর
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা,
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০৫৬.
'ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’ এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

- 'ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’- পঙ্‌ক্তিটি রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এই পঙ্‌ক্তিটি ’সবুজের অভিযান’ কবিতার অংশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,০৫৭.
'সুমিত্রা দেবী' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  2. মহাশ্বেতা দেবী
  3. অনুরূপা দেবী
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মহাশ্বেতা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্বেতা দেবী
ব্যাখ্যা
• 'সুমিত্রা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন - মহাশ্বেতা দেবী। 

• অন্যদিকে: 
- অনুরূপা দেবী এর ছদ্মনাম অনুপমা দেবী। 
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত এর ছদ্মনাম দাদাভাই। 
- নীহারিকা দেবী' এর ছদ্মনাম অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

বিঃদ্রঃ রোকনুজ্জামান খানও দাদাভাই ছদ্মনামে লিখতেন। 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৫৮.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অবদূত
  2. জরাসন্ধ
  3. দৃষ্টিহীন
  4. যুবনাশ্ব
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- ঢাকা জেলার সাভারের নিকটবর্তী উলাইল গ্রামে ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭) ২ বৈশাখ তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন রূপকথার লেখক, শিশুসাহিত্যিক। 
- তিনি 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন।
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।
- জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- তিনি বিভিন্ন সময়ে 'সুধা' (১৯০১-১৯০৪), 'সারথি' (১৯০৮) ও 'পথ' (১৯৩০-৩২) নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 'পথ' ছিল বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র।
- দক্ষিণারঞ্জন কিছুদিন ওই পরিষদের সহ-সভাপতি (১৯৩০-৩৩) ছিলেন।
- পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা-সমিতির সভাপতিরূপে তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের অনেক পরিভাষা রচনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) ১৬ চৈত্র কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• কালিকানন্দের ছদ্মনাম - অবদূত।
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
• মণীশ ঘটক ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০৫৯.
জসীমউদ্দিনরে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ নিচের কোনটি?
  1. ক) স্মৃতিপট
  2. খ) রাখালী
  3. গ) ডালিমকুমার
  4. ঘ) হাসু
সঠিক উত্তর:
খ) রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাখালী
ব্যাখ্যা
• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
• তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
• ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
• পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
• বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। 
• তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- নকশী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- বালুচর, 
- ধানখেত, 
- রূপবতী, 
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী, 
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মকথাঃ
- জীবনকথা, 
- স্মৃতিপট, 
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- ডালিমকুমার, 
- এক পয়সার বাঁশি, 
- হাসু।

• 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

• তাঁর রচিত নাটক- 
- পদ্মাপার, 
- বেদের মেয়ে, 
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‌লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,০৬০.
‘কাঞ্চনমালা’ গ্রন্থটির কার রচনা?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন আবুল কালামের প্রকাশিত উপন্যাসধারা এরকম: কাশবনের কন্যা (১৯৫৪), আলমনগরের উপকথা (১৯৫৪), আশিয়ানা (১৯৫৫), জীবন কাব্য (১৯৫৬), কাঞ্চনমালা (১৯৬১), জায়জংগল (১৯৭৮), মনের মত ঠাঁই (১৯৮৫), সমুদ্রবাসর (১৯৮৬), যার সাথে যার (১৯৮৬), নবান্ন (১৯৮৭), কাঞ্চনগ্রাম (১৯৯৮) এবং আত্মজৈবনিক উপন্যাস ঈষদাভাস (২০১৬)।
১২,০৬১.
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কাকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে
  2. জসীম উদ্‌দীনকে
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
ব্যাখ্যা
• জীবন ও বৃক্ষ:
- 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত 'সংস্কৃতি কথা' শীর্ষক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে তিনি জীবনের সার্থকতা বৃক্ষের মাঝে খুজেছেন।

'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে লিখেছেন:
‘অবশ্য রবীন্দ্রনাথ অন্য কথা বলেছেন। ফুলের ফোটা আর নদীর গতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি নদীর গতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। তাঁর মতে মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই উপলব্ধি হয়, ফুলের ফোটায় নয়। ফুলের ফোটা সহজ, নদীর গতি সহজ নয়। তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। কিন্তু ফুলের ফোটার দিকে না তাকিয়ে বৃক্ষের ফুল ফোটানোর দিকে তাকালে বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ ভালো করতেন। তপোবন-প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ কেন যে তা করলেন না বোঝা মুশকিল।’

-
-------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ (বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের  ভাবানুবাদ।)
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জীবন ও বৃক্ষ' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৬২.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. স্বদেশ রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. শওকত ওসমান
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থের রচয়িতা: 'জাহানারা ইমাম'। 

• একাত্তরের দিনগুলি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
• ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'। 

=============
• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি;
- অন্যজীবন;
- বুকের ভিতর আগুন;
- নাটকের অবসান;
- নিঃসঙ্গ পাইন;
- প্রবাসের দিনগুলি;
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।

অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের ডায়েরি'।
- সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ 'একাত্তরের ঢাকা'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৬৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় মাসিক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৮৬৫
  2. খ) ১৮৬৮
  3. গ) ১৮৭২
  4. ঘ) ১৮৭৫
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৭২
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ সালে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভূত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগােষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন।
- এই পত্রিকার তিনি ছাড়া আরাে ৪ জন বিশিষ্ঠ লেখক – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রামকৃষ্ণ মুখােপাধ্যায়, অক্ষয়চন্দ্র সরকার ও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখ

১২,০৬৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. সনাতন পাঠক
  2. প্রিয়দর্শী
  3. সত্য পীর
  4. মুসাফির
সঠিক উত্তর:
সনাতন পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনাতন পাঠক
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- সনাতন পাঠক। 

•  সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে লেখালেখিতে ‘নীললোহিত’, ‘সনাতন পাঠক’ ও ‘নীল উপাধ্যায়’ প্রভৃতি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

-------------
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনামগুলো হলো -
- ওমর খৈয়াম, 
- প্রিয়দর্শী, 
- সত্য পীর, 
- মুসাফির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৬৫.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. জেম্স অগাস্টাস হিকি
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
জেম্স অগাস্টাস হিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেম্স অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,০৬৬.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত -
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৬৭.
মহেন্দ্র, আশালতা - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শেষের কবিতা
  2. মালঞ্চ
  3. চোখের বালি
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
মহেন্দ্র, আশালতা, বিনোদিনী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র। 
- 'চোখের বালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে। 

- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র = আমিত, লাবণ্য, কেতকী প্রমুখ। 
- 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র = নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ। 
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র = কুমুদিনী, মধুসূদন প্রমুখ।
------------------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস বাংলা ভাষায় তার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম।
- ১৮৮৩ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ মোট তেরোটি উপন্যাস রচনা করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস- 
- করুণা
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
- রাজর্ষি
- চোখের বালি
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ
- গোরা
- ঘরে বাইরে
- চতুরঙ্গ
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা
- মালঞ্চ
- চার অধ্যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৬৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) শব্দ মঞ্জুরী
  2. খ) বোধোদয়
  3. গ) ইতিহাসমালা
  4. ঘ) আখ্যান মঞ্জুরী
সঠিক উত্তর:
গ) ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন ও ইতিহাসমালা।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি। 

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :-
- শকুন্তলা
- সীতার বনবাসের
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৬৯.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮):
- এর জন্ম ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে। 
- উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি গল্প এবং প্রবন্ধও রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭০.
‘শিখা’ পত্রিকাটি কোন প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র ছিল?
  1. ঢাকা প্রেস ক্লাব
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
  4. কলকাতা সাহিত্য পরিষদ
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭১.
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ফজলল করিম
  3. গ) ভানুসিংহ
  4. ঘ) বীরবল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরবল
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৭২.
কোন উপন্যাসে চাকমা সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ক) কবি
  2. খ) কর্ণফুলী
  3. গ) অরণ্যবহ্নি
  4. ঘ) হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'কর্ণফুলী'।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের-
'কবি' উপন্যাসে - 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।
'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসে - সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে।
'হাঁসুলীবাঁকের উপকথা' উপন্যাসে - 'কাহার' সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭৩.
মুনীর চৌধুরীর 'মানুষ' নাটকটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. দুর্ভিক্ষ
  2. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
• 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
• মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার ।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড' এর রচয়িতা-
  1. সেলিম আল দীন
  2. শওকত আলী
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
 ----------------------------------
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, কালের কণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১২,০৭৫.
'মায়াবী প্রহর' নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'মায়াবী প্রহর' নাটকটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি তাঁর একটি অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ নাটক
 
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নরকে লাল গোলাপ
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭৬.
মীর মশাররফ হোসেনের নাটক কোনটি?
  1. নটির পূজা
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
বেহুলা গীতাভিনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
• 'বেহুলা গীতাভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক। 

অন্যদিকে,
• ‘নটীর পূজা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌদ্ধগ্রন্থ থেকে গৃহীত একটি নাটক।
• 'নবীন তপস্বিনী' নাটকটি রচনা করেছেন দীনবন্ধু মিত্র।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'।

--------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭৭.
তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,০৭৮.
'হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছে পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীদের অন্ধকারে মালয় সাগরে' - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কামিনী রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
বনলতা সেন -
জীবনানন্দ দাশ

'হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছে পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীদের অন্ধকারে মালয় সাগরে

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭৯.
'শোভনলাল' রবীন্দ্রনাথ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. গোরা
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি 
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শোভনলাল' রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের চরিত্র।

•‘শেষের কবিতা’:
- ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের একটি রোমান্টিক কাব্যোপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৭ সালের ভাদ্র (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) থেকে ১৯২৮ সালের চৈত্র পর্যন্ত প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয় এবং ১৯২৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র: অমিত, লাবণ্য, কেতকী ও শোভনলাল।
- এদের চরিত্রের মাধ্যমে কবি আধুনিক প্রেম, জীবনবোধ ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম জটিলতা সহজ, সাবলীল ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছে।
- অমিত–লাবণ্যের অসমাপ্ত প্রেমের পরে শোভনলালই লাবণ্যের জীবনে নতুন পথ খুলে দেন।
- অমিতের উচ্ছ্বল, স্বাধীনচিন্তার বিপরীতে শোভনলাল শান্ত, বাস্তববাদী এবং সমাজের চোখে ‘মানানসই’ একজন মানুষ।
- তার উপস্থিতিতে লাবণ্যের জীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’।
- তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।
- রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে।

- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• ‘শেষের কবিতা’; যা একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস; এর বিখ্যাত চরিত্র হলো লাবণ্য, অমিতরায়, শোভনলাল ও কেতকী।
• ‘গোরা’ একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক উপন্যাস।
• আর ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যার প্রধান চরিত্র হলো: মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২,০৮০.
‘হৃৎকলমের টানে’ - কার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলি
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘হৃৎকলমের টানে’ - সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
 
সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
 
তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি। 
 
সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৮১.
ক্লিনটন বি সিলি কোন কবিকে নিয়ে গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
ক্লিনটন বি সিলি ও জীবনানন্দ গবেষণা:
- ক্লিনটন বি সিলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্বনামধন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যের অধ্যাপক, বাংলা ভাষা ও ও সাহিত্যের অনুবাদক।
- তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২১ জুন। বর্তমানে তিনি শিকাগো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক।
- তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে গবেষণা করেছেন।
- জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন ক্লিনটন বি সিলি।
- গ্রন্থটির নাম - A Poet Apart যা ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। বাংলা অনুবাদ গ্রন্থটি 'অনন্য জীবনানন্দ’ নামে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট (প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪)।
১২,০৮২.
মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপট রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. কালের কলস
  2. আগুনের মেয়ে
  3. কাবিলের বোন
  4. ডাহুকী
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
•"কাবিলের বোন" উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।

- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে' দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস, পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।

- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।

- শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন। এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

--------------
আল মাহমুদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।
১২,০৮৩.
‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠনের মুখপত্র কোনটি?
  1. লাঙল
  2. কল্লোল
  3. ধূমকেতু
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
লাঙল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাঙল
ব্যাখ্যা
'লাঙল' পত্রিকা:
- লাঙল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- লাঙল ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সংগঠনের মুখপত্র।
- নজরুল এর সম্পাদক হলেও পত্রিকার প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হতো মুখ্য পরিচালক হিসেবে, আর সম্পাদক হিসেবে ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,০৮৪.
ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন কোনটি?
  1. ক) হাতেম তায়ী
  2. খ) সাত সাগরের মাঝি
  3. গ) মুহূর্তের কবিতা
  4. ঘ) নৌফেল ও হাতেম
সঠিক উত্তর:
গ) মুহূর্তের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা
'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। এতে ১৯টি কবিতা রয়েছে। নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্যনাট্য এবং হাতেম তায়ী কাহিনীকাব্য। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১২,০৮৫.
মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার কোন পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল?
  1. লহরী
  2. হিতকরী
  3. বাসনা
  4. মিহির ও সুধাকর
সঠিক উত্তর:
মিহির ও সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিহির ও সুধাকর
ব্যাখ্যা
• মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার 'মিহির ও সুধাকর’ পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল।

• 'মিহির ও সুধাকর’ পত্রিকা:

- শেখ আবদুর রহিম সুধাকরের সঙ্গে মিহিরের নাম সংযুক্ত করে ১৮৯৫ সালে ‘মিহির ও সুধাকর' প্রকাশ করেন।
- ১৯০৮ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির অস্তিত্ব ছিল। শেষবছর সৈয়দ ওসমান আলী সম্পাদনা করেছিলেন।

- ড. কাজী আবদুল মান্নান এই পত্রিকাপ্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, 'মুখ্যত সাহিত্যচর্চার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই এ পত্রিকার আবির্ভাব হয়েছিল; কিন্তু তখন মুসলমান সমাজে ধর্ম ও জাতির জন্য যে দুর্ভাবনা দেখা দিয়েছিল এবং সে ভাবনার যে উচ্চকিত কণ্ঠ ধ্বনিত হয়ে উঠেছিল, তাতে নিছক সাহিত্যচর্চার বাসনা বিঘ্নিত হওয়া অসম্ভব ছিল না।

- ইসলাম ধর্মের পবিত্র আদর্শ প্রচার ও মুসলমান জাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধনই ছিল এই পত্রিকায় প্রধান ব্রত। বাংলায় মুসলমানকে জ্ঞানে ও ত্যাগে, শিক্ষায় ও সাহিত্যে সমৃদ্ধিবান ও সংঘবদ্ধ করে তোলার জন্য পত্রিকার পরিচালক ও লেখকগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

------------------
অন্যদিকে,
• ‘লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।'
- পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

-----------------------
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-----------------
• ‘বাসনা' পত্রিকা:
- বাসনা' নামে সাহিত্য মাসিকটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ সালে। শেখ ফজলল করিম ছিলেন এর সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রায় দুই বৎসর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিমুদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নুরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ণ দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ।

- ধর্ম ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হতো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসলেখকগণ নিজ নিজ সমাজ ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।

- 'হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণির লেখকই তাঁদের স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন।'
- এই পত্রিকাটির সমালোচনা বিভাগ ছিল বেশ সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৮৬.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচিয়তা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৮ সালে এবং  একুশে পদক ১৯৮৩ সালে লাভ করেন। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১২,০৮৭.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে কত সালে মহামহোপাধ্যায় উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ক) ১৮৮৯
  2. খ) ১৮৯৮
  3. গ) ১৯০০
  4. ঘ) ১৯২৭
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৯৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৯৮
ব্যাখ্যা
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।
-  তিনি ১৮৯৮ সালে ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট লাভ করেন।  
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাল্মীকির জয় 
- বৌদ্ধধর্ম 
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস)
- বেণের মেয়ে ( উপন্যাস) 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
১২,০৮৮.
'নিখিলেশ, বিমলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. চতুরঙ্গ
  3. প্রজাপতির নির্বন্ধ
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি মোট বারোটি উপন্যাস রচনা করেন।
----------
'ঘরে বাইরে': 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।
- এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র: নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।

অন্যদিকে, 
 ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের প্রধান প্রধান চরিত্র হলো: অক্ষয়কুমার, চন্দ্রমাধব, শ্রীশ, বিপিন, পূর্ণ প্রমুখ।

 ‘চোখের বালি’ (১৯০৩): বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘােষ এই উপন্যাস অবলম্বনে ‘চোখের বালি' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
- প্রধান চরিত্র: মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনােদিনী প্রভৃতি।

 ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
- এই চারটি চরিত্র চার অঙ্গের মতো উপন্যাস-দেহকে গঠন করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৮৯.
শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাস কোন বিষয়ে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক 
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 
  3. সামাজিক বাস্তবতা
  4. রোমান্টিক প্রেম
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 
ব্যাখ্যা

শওকত আলী রচিত ‘যাত্রা’ উপন্যাস ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 

যাত্রা:
- শওকত আলীর যাত্রা উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময়কে কেন্দ্র করে রচিত।
- গল্পের শুরুতে দেখা যায় মানুষ দলে দলে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে। এই পলায়ন শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও এটি প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না, এই দ্বিধা ও সংশয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি।
- যাত্রা উপন্যাসটি ১৯৭২ সালে রচিত হয় এবং ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত আলী:
- শওকত আলী (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ – ২৫ জানুয়ারি) দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই একটি ছোট উপন্যাস পিঙ্গল আকাশ (১৯৬৪)।
- তিনি শিশু-কিশোরদের জন্যও লিখেছেন। 
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদানের জন্য শওকত আলী ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

বিখ্যাত উপন্যাসসমূহ:
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ, ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০৯০.
‘মাটির দেয়াল’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?.
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ কবিতাবলি, উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার। পালাবদল, হারানো আর্কিড, অমরাবতী, অনিঃশেষ, পুষ্পিত ইমেজ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃশীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১২,০৯১.
গােবিন্দচন্দ্র দাস কোন যুগের সাহিত্যিক?
  1. মধ্যযুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. যুগসন্ধিক্ষণ
  4. অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- তিনি আধুনিক যুগের কবি।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৯২.
’সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আহসান হাবিব
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,০৯৩.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. মাটির কান্না
  3. ধানক্ষেত
  4. মায়া কাজল
সঠিক উত্তর:
মায়া কাজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়া কাজল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মায়া কাজল’ সুফিয়া কামাল রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

 • জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।

 • জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,০৯৪.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1.  আমলকীর মৌ
  2. জোহরা
  3. আগুনমুখরা মেয়ে
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোহরা
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে,
- 'আমলকীর মৌ' উপন্যাসের রচয়িতা দিলারা হাসেম।
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- 'আগুনমুখরা মেয়ে'উপন্যাসের রচয়িতা নুরজাহান বেগম।  

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

• তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,০৯৫.
'ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবুল হাসান
  3. আবুল ফজল
  4. কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল ও ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ:
আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা। এ উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁদের সে আন্দোলনের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯২৬ সালে তাঁরা প্রকাশ করেন সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ গোষ্ঠী তখন ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে। তাঁদের আন্দোলনের মূলকথা ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

শিখাগোষ্ঠীর এ আন্দোলনের মাধ্যমে আবুল ফজল যে মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী হয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তাঁর রচনায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,০৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়নি?
  1. প্রলয় শিখা
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. বিষের বাঁশি
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রক্তাম্বরধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি
:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪। 
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০। 
- চন্দ্রবিন্দু : গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- ছায়ানট,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৯৭.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পুতুল ও প্রতিমা
  2. পঞ্চশর
  3. বেনামী বন্দর
  4. রাজাবলী
সঠিক উত্তর:
রাজাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজাবলী
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- রাজাবলী।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস:
 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৯৮.
‘কবিকন্ঠহার’ কোন কবির উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

• অন্যদিকে:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধী দিয়েছেন।
- কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১২,০৯৯.
বিখ্যাত 'কোকিলারা' নাটকটি কোন নাট্যকারের রচনা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'কোকিলারা' নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।

- প্রায় ক্ষেত্রেই নারীদের কথাগুলো না বলাই থেকে যায় কিংবা নারীরা কথা বললেও সে কথাগুলো হয়তো কখনোই শুনতে পায় না কেউ। ‘কোকিলারা’ নাটকটি তিনজন নারীর তেমনই একটি গল্প। তিনজন নারীর তিন গল্পের মিশ্রণ হলেও তিন কোকিলা মিলেই কোকিলারা।

- পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই কোকিলারা নারী হয়ে জন্মেছেন, সমাজে নারী হয়েই বেড়ে উঠেছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই কোকিলারা তাদের না বলা কথাগুলো নিয়েই হারিয়ে গেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে কোকিলাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ হয় না সাধারণত। তবে এই ‘কোকিলারা’ সম্পাদিত পান্ডুলিপিতে সংযোজন করা হয়েছে অন্যায় অবিচার না মেনে প্রতিবাদ করার বিষয়টি। সমকাল বিবেচনায় নাট্যকাহিনিতে তা প্রযুক্ত করা হয়েছে।

-----------------
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। এবং তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: 'কোকিলারা' নাটক; প্রথম আলো রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১০০.
'দুই পুরুষ' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'দুই পুরুষ' নাটক:
- 'দুই পুরুষ' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি নাটক। 

নাটকের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
- 'দুই পুরুষ' আমার দ্বিতীয় নাটক। আমার প্রথম নাটক 'কালিন্দী'। কিন্তু 'কালিন্দী' মূলত উপন্নাস। সেই হিসাবে 'দুই পুরুষ' কে আমায়। প্রথম নাটক বলিলেও ভুল হইবে না।

- 'দুই পুরুষ' রচনাকালে নাম দিয়াছিলাম "পিতা-পুত্র", এবং ওই নামেই 'শনিবারের চিঠিতে প্রকাশিত হইতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে বইখানি ছাপাও আরম্ভ হয়।

- ইতিমধ্যে বহুপ্রসিদ্ধ বঙ্গালয় "নাট্যভারতী'র কর্তৃপক্ষ বইখানি শুনিয়া মঞ্চস্থ করিবার অভিপ্রায়ে 'দুই পুরুষ' নামে বইখানিকে গ্রহণ করেন। 

--------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: 'দুই পুরুষ' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।