বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১৮ / ১৭৪ · ১১,৭০১১১,৮০০ / ১৭,৪৩৭

১১,৭০১.
আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় -
  1. ক) ভয়ংকর
  2. খ) ভীরু
  3. গ) নির্ভীক
  4. ঘ) দুর্বার
সঠিক উত্তর:
খ) ভীরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভীরু
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
এই কবিতার দুটি লাইন-
''এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,''

তাই বলা যায় আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় 'ভীরু'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর

১১,৭০২.
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার?
  1. আষাঢ়
  2. সোনার তরী
  3. দুই বিঘা জমি
  4. প্রতীক্ষা
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ রচিত সোনার তরী কবিতার অংশ।

সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
(সংক্ষিপ্ত)।

• সোনার তরী:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭০৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম কি?
  1. মধুসূদনচরিত
  2. শ্রীমধুসূদন
  3. মধুসূদনজীবনী
  4. স্মরনে মধুসূদন
সঠিক উত্তর:
শ্রীমধুসূদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা

লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।
উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন। বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ-
বনফুলের গল্প (১৯৩৬),
বিন্দুবিসর্গ (১৯৪৪),
অদৃশ্যলোকে (১৯৪৬),
তন্বী (১৯৪৯),
অনুগামিনী (১৯৫৮),
দূরবীণ (১৯৬১),
মণিহারী (১৯৬৩),
বহুবর্ণ (১৯৭৬),
বনফুলের নতুন গল্প (১৯৭৬) প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

১১,৭০৪.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনা নয়?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) অনেক সূর্যের আশা
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
খ) অনেক সূর্যের আশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনেক সূর্যের আশা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১): আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার৷
প্রধান সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

নাটক:
- বহিপীর
- সুড়ঙ্গ
- তরঙ্গভঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

পুরস্কার:

- বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬১, লালসালু' উপন্যাসের জন্য
একুশে পদক (মরণােত্তর), ১৯৮৩
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০১ (শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, ‘লালসালু' উপন্যাসের
চলচ্চিত্ররূপের জন্য)

সৈয়দ আলী আহসান, সেলিম আল দীন এবং সেলিনা হোসেন যথাক্রমে ১৯৮২, ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

- অনেক সূর্যের আশা উপন্যাসের রচয়িতা সর্দার জয়েনউদ্দিন।

১১,৭০৫.
পদ্মা নদীর মাঝি - উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পরিচয় পত্রিকা
  2. প্রগতি পত্রিকা
  3. কল্লোল পত্রিকা
  4. পূর্বাশা পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা পত্রিকা
ব্যাখ্যা
‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- কুবের, 
- কপিলা, 
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭০৬.
সাঈদ আহমদ রচিত 'প্রতিদিন একদিন' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
- 'প্রতিদিন একদিন' সাঈদ আহমদ রচিত একটি নাটক। 

সাঈদ আহমদ
- শিক্ষাসনদ অনুসারে তিনি ১৯৩১ সালের ১লা জানুয়ারি পুরান ঢাকার ইসলামপুরের আশেক লেনে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে পোস্টগ্রাজুয়েশন ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। 
- তিনি বাংলাদেশের নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক। 
- তিনি ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত নাটক:
- কালবেলা 
- মাইলপোস্ট 
- তৃষ্ণায়
- প্রতিদিন একদিন
- শেষ নবাব ইত্যাদি। 
- তাঁর রচিত শেষ নাটক 'শেষ নবাব' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনলোকে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭০৭.
'ধন ধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' এই গানটি কোন নাটকে?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) নূরজাহান
  3. গ) প্রতাপ সিংহ
  4. ঘ) বঙ্গনারী
সঠিক উত্তর:
ক) সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাজাহান
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- তাঁর সাহিত্যে দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।
- এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
• তাঁর বিখ্যাত গানঃ
ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক - সকল দেশের সেরা;
ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানি সে যে - আমার জন্মভূমি।
এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- নূরজাহান,
- তারাবাঈ,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়,
- দুর্গাদাস,
- রানা প্রতাপসিংহ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,৭০৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ডোম
  2. খ) ধীবর
  3. গ) সাঁওতাল
  4. ঘ) কাহার
সঠিক উত্তর:
ক) ডোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডোম
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে ।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

- 'কবি' নামে হুমায়ুন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭০৯.
'পঞ্চপাণ্ডব' কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত 'পঞ্চপাণ্ডব' কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন।

 পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৭১০.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।' - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. পদ্মা নদীর মাঝি
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
- ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭১১.
আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' কোন কবি অনুবাদ করেন?
  1. ক) দুশান জাজবিভেল
  2. খ) ইমরে কারতেজ
  3. গ) এলেন গিন্সবার্গ
  4. ঘ) ইমানুয়েল জাসরিন
সঠিক উত্তর:
ক) দুশান জাজবিভেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুশান জাজবিভেল
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' দুশান জাজবিভেল অনুবাদ করেন।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭১২.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সুকুমার রায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• ‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ:
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

-------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
১১,৭১৩.
'সুধা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭১৪.
'কাঁদো, প্রিয় দেশ' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো, প্রিয় দেশ' প্রবন্ধগ্রন্থ:
• শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কাঁদো, প্রিয় দেশ'।
• 'কাঁদো, প্রিয় দেশ'-এর বারোটি লেখাই অশ্রুমাখা।
• এ অশ্রু শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবের জন্যে নয় বরং বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতির জন্যেও বটে।
• শেখ মুজিবকে অন্নদাশঙ্কর রায় বাঙালিত্বের শুদ্ধ প্রতীক হিসেবে কল্পনা করতেন। তাই তাঁর অকস্মাৎ প্রস্থান তার কাছে সমস্ত বাঙালির পতন হিসেবে প্রতিভাত।

• পদ্মা-মেঘনা-গৌরী-যমুনা যতদিন বহমান থাকবে ততদিনই শেখ মুজিবুর রহমানের কীর্তি সমুজ্জল থাকবে বলে যে কীর্তিমান বাঙালির ছড়ায় ঐতিহাসিক উচ্চারণ ধ্বনিত হয়েছিল সেই অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস নিধনযজ্ঞ দেখে চুপ থাকতে পারেননি। সবাই যখন মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিল তখন অন্নদাশঙ্কর অভীক-কণ্ঠে এই অন্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন। শুধু তা-ই নয় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে 'বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়' বলে বিদেশি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চুপতাকেও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

==============
⇒ অন্নদাশঙ্কর রায়:  

• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭১৫.
আবুল ফজলের উপন্যাস নয়-
  1. ক) চৌচির
  2. খ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
  3. গ) রেখাচিত্র
  4. ঘ) রাঙ্গা প্রভাত
সঠিক উত্তর:
গ) রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা
রেখাচিত্র আবুল ফজল দিনলিপি। চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং রাঙ্গা প্রভাত তাঁর রচিত উপন্যাস। তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন। মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যটি পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. সাধের আসন
  2. সারদামঙ্গল
  3. সঙ্গীত শতক
  4. বঙ্গসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'সারদামঙ্গল' কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন 'ভোরের পাখি' বলে।

• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।  এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

-------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭১৭.
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কামিনী রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তিনি 'আলো ও ছায়া' নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। 'সুখ' কবিতাটি ঐ কাব্যগ্রন্থেরই অন্তর্ভুক্ত।

সুখ
কামিনী রায়

"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে 
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

১১,৭১৮.
‘মোটর যোগে রাঁচী সফর’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. আহমদ শরীফ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলী।

--------------------------
• এস ওয়াজেদ আলী:
- এস ওয়াজেদ আলী একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলীর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭১৯.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে 'একুশে পদক' লাভ করেন?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৭২০.
“সুবচনী” ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন -
  1. ক) মধুসূদন মজুমদার
  2. খ) বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
গ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুভাষ মুখোপাধ্যায় - সুবচনী।

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় - যাযাবর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।
- মধুসূদন মজুমদার - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭২১.
কোন সাহিত্যিকের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূর্ল কমিটি গঠিত হয়?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) কাজী মোতাহের হোসেন
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে 'একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূর্ল কমিটি' গঠিত হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি এই কমিটি গঠন করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১১,৭২২.
গদ্যে প্রথম বিরামচিহ্নের ব্যবহার করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার 'সংস্কৃত কলেজ' থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন।
অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

- তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করেছিলেন। বাংলা ভাষাকে যুক্তিগ্রাহ্য ও সকলের বোধগম্য করে তুলেছিলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার।
তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা। ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭২৩.
‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. নিখিলেশ
  2. বিমলা
  3. সন্দীপ
  4. বিনোদিনী
সঠিক উত্তর:
বিনোদিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনোদিনী
ব্যাখ্যা

বিনোদিনী হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চোখের বালি উপন্যাসের একটি চরিত্র। 

ঘরে-বাইরে উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিখিলেশ,
- বিমলা,
- সন্দীপ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৭২৪.
'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ:
'কড়ি ও কোমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ। কড়ি ও কোমল ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারী দেহের প্রতি আকর্ষণ ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ এই তিনটি লক্ষণে কাব্যাটি বিশিষ্ট।
- রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্রমনে যে বিরাগ সৃষ্টি করেছিল তার প্রভাব এই কাব্যগ্রন্থে লক্ষ্য করা যায়।
এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৭২৫.
'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'স্বর্ণলতা' উপন্যাস:
- আজ থেকে একশো তেরো বছর আগে অর্থাৎ ইংরাজী ১৮৭৪ সালের ২৮শে এপ্রিল (বাং ১২৮১ সাল) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- যে সময়ে ইংরাজী উপন্যাস সাহিত্য, বাংলা উপন্যাসের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছিল-সেই সমরে তারকনাথ গ্রামবাংলার মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখন্দুঃখের এক নিখত চিত্র এই 'স্বর্ণ'লতা' উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরেন। বাঙালি পাঠক-পাঠিকাদের কাছে 'স্বর্ণলতা' অত্যন্ত সমাদর
লাভ করে।

তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়:

- তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৪৩ সালের ৩১শে অক্টোবর, নদীয়া জেলার অন্তগত বাগআঁচড়া গ্রামেবর্তমান যশোহর জেলা)।
- তাঁর পিতা মহানন্দ গঙ্গোপাধ্যায় অত্যন্ত ধার্মিক ও উদারচেতা ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ইংরাজী শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট অনুরাগ ছিল।
- তাই তারকনাথের যখন মাত্র দশ বৎসর বয়েস তখন তাঁকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য কলকাতায় পাঠিয়ে দেন।
- তাঁর বাসায় থেকে তিনি লন্ডন মিশনারী সোসাইটির স্কুলে পড়াশুনা করেন।
- ১৮৬৩ সালের ফিসেশ্বর মাসে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ' হয়ে ১৪ টাকা বৃত্তিলাভ করেন।

উৎস: 'স্বর্ণলতা' উপন্যাস।

১১,৭২৬.
"আসিতেছে শুভদিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!" কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশ?
  1. পাপ
  2. মানুষ
  3. সাম্যবাদী
  4. কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
কুলি-মজুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১১,৭২৭.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণ দে
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
ক) বিষ্ণ দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিষ্ণ দে
ব্যাখ্যা
- 'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন- বিষ্ণু দে।

বিষ্ণু দে
:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাহিত্যকর্ম:
- উর্বশী ও আর্টেমিস 
- চোরাবালি 
- সাত ভাই চম্পা 
- রুচি ও প্রগতি
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ 
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত 
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা 
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা 
- In the Sun and the Rain 
- উত্তরে থাকো মৌন 
- সেকাল থেকে একাল 
- আমার হূদয়ে বাঁচো ইত্যাদি। 
স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ:
- ছড়ানো এই জীবন। 
সম্পাদিত গ্রন্থ:
- এ কালের কবিতা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধে 'সহস্র পথের চৌমাথা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. বহু জ্ঞানের সম্মিলন
  2. বহু হৃদয়ের সম্মিলন
  3. বহু রাস্তার সম্মিলন
  4. বহু জীবনের সম্মিলন
সঠিক উত্তর:
বহু জ্ঞানের সম্মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহু জ্ঞানের সম্মিলন
ব্যাখ্যা

• লাইব্রেরি' প্রবন্ধে 'সহস্র পথের চৌমাথা' বলতে বহু জ্ঞানের সম্মিলনকে বুঝেয়েছেন।

"লাইব্রেরির মধ্যে আমরা সহস্র পথের চৌমাথার উপরে দাঁড়াইয়া আছি।
কোনো পথ অনন্ত সমুদ্রে গিয়াছে, কোনো পথ অনন্ত শিখরে উঠিয়াছে, কোনো পথ মানবহৃদয়ের অতলস্পর্শে নামিয়াছে।
যে যে- দিকে ধাবমান হও, কোথাও বাধা পাইবে না।
মানুষ আপনার পরিত্রাণকে এতটুকু জাগয়ার মধ্যে বাঁধিয়া রাখিয়াছে।"(লাইব্রেরি)

'লাইব্রেরি':
- 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। 
- তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন।
- কেননা, লাইব্রেরিতে মানবাত্মার ধ্বনিরাশি বইয়ের পাতায় বন্দি হয়ে থাকে।
 - বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা আকাশের দৈববাণী থেকে মহাত্মাদের কথা পেয়ে থাকি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সংস্করণ)

১১,৭২৯.
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পরেছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. সুকুমার রায়
  3. শামসুর রাহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

"মাগো, ওরা বলে"
 আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পরেছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, 
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৩০.
'শির নেহারি' আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির।' এখানে 'নেহারি' শব্দের অর্থ কী?
  1. নীহারিকা
  2. উচ্চ
  3. দেখে
  4. ধরে
সঠিক উত্তর:
দেখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেখে
ব্যাখ্যা
'নেহারি' শব্দের অর্থ: দেখে; প্রত্যক্ষ করে।
------------------------------------
• "শির নেহারি' আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" বাক্যেটি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

বাক্যটির অর্থ:
'শির' শব্দের অর্থ হলো=  মাথা বা মস্তক,
’নেহারি’ শব্দের অর্থ- দেখে; প্রত্যক্ষ করে।
'আমারি' শব্দের অর্থ= আমার,
'নতশির' অর্থাৎ =  নত-মস্তক,
'শিখর' শব্দের অর্থ চূড়া
'হিমাদ্রি' এখানে হিমালয় অর্থে ব্যবহৃত।

- শব্দগুলোর  অর্থের সমন্বয় বাক্যটির অর্থ দাঁড়ালো :আমার মাথা দেখে হিমালয়ের চূড়াও নতমস্তক।

- এখানে কবির প্রবল আত্নবিশ্বাস ফুটে উঠেছে যার জন্য হিমালয় ও তার কাছে মাথা নত করে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সাহিত্যপাঠ, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ।
১১,৭৩১.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন কোন উপাধিতে ভূষিত করে?
  1. ভাষাচার্য
  2. সাহিত্য বাচস্পতি
  3. পদ্মবিভূষণ
  4. জ্ঞানতাপস
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য বাচস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য বাচস্পতি
ব্যাখ্যা
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)’।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ভাষাতত্ত্ব এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন ‘সাহিত্য বাচস্পতি’ (১৯৪৮) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৬৩) উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৩২.
বঙ্কিমচন্দ্রের তত্ত্বমূলক উপন্যাস কোনটি-
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
ক) আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠদেবী চৌধুরাণী

• ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস আনন্দমঠ যা ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
• তাঁর জীবন তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সৃষ্টিশীলতা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিস্ময়কর প্রভাব ফেলেছে।
• তিনি প্রাচীন ভারতের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন। তাঁর এ ধারণা আনন্দমঠ (১৮৮২) ও দেবী চৌধুরাণী (১৮৮২) গ্রন্থে এবং ধর্মশাস্ত্র ও গীতার ভাষ্যে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে,
• বিষবৃক্ষ ও কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্রের চারটি ইতিহাস আশ্রয়ী রোমান্সধর্মী উপন্যাস হলো: 
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুন্ডলা
-  চন্দ্রশেখর
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৩৩.
পঞ্চকবিদের কে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।
- তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
• জীবনানন্দ দাশ কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৩৪.
বেগম সুফিয়া কামাল সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক ?
  1. ক) একজন কবি ও রাজনীতিবিদ
  2. খ) একজন কবি ও সমাজসেবক
  3. গ) শিশুতোষ গ্রন্থলেখক ও সমাজসেবক
  4. ঘ) একজন কবি ও গৃহিণী
সঠিক উত্তর:
খ) একজন কবি ও সমাজসেবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একজন কবি ও সমাজসেবক
ব্যাখ্যা

বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯): কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী
- তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে ‘জননী সাহসিকা’ অভিধায় অভিসিক্ত।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১),
- মন ও জীবন (১৯৫৭),
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪),
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯) ইত্যাদি।

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৭৩৫.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2. ডানপিটে শওকত
  3. গো হাকিম
  4. আবোল তাবোল
সঠিক উত্তর:
ডানপিটে শওকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডানপিটে শওকত
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

অন্যদিকে,
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো- আবোলতাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই, ইত্যাদি।
• 'গো হাকিম' আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৩৬.
‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে রূপক-প্রতীকের মাধ্যমে কোন শাসকের সমালোচনা করা হয়েছে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. বল্লাল সেন
  4. বাদশাহ হারুন-অর-রশীদ
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৩৭.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প- জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৩৮.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' আত্মজীবনীটি কার লেখা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। -
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবর্তী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম গদ্যগ্রন্থ রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

•  আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়ার বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৩৯.
হাসান আজিজুল হক মূলত কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. ক) সাংবাদিক
  2. খ) ঔপন্যাসিক
  3. গ) কথাসাহিত্যিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) কথাসাহিত্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কথাসাহিত্যিক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্প: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৪০.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৪১.
সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায়ের রচিত গ্রন্থ-
  1. বেদান্তগ্রন্থ
  2. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
  3. গোস্বামীর সহিত বিচার
  4. খ + গ
সঠিক উত্তর:
খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
• ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
• রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
• রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
• তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

⇒ সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ: 
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
 
১১,৭৪২.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ-
  1. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  2. একদা এক রাজ্যে
  3. পরানের গহীন ভিতর
  4. আর কতদিন
সঠিক উত্তর:
আত্মজা ও একটি করবী গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজা ও একটি করবী গাছ
ব্যাখ্যা

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ৷
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন
ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১,৭৪৩.
মেঘনাদ বধ কাব্যে কোন ঘটনার বর্ণনা আছে?
  1. ক) বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ
  2. খ) মেঘনাদ হত্যা
  3. গ) প্রমীলার চিতারোহণ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত সিপাহী বিপ্লবের স্বাধীনতা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করেন এই স্বাধীনতাভিলাষী কাব্য।
মেঘনাদবধ কাব্যে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১,৭৪৪.
শিখা পত্রিকার ৫ম বর্ষের সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল কাদির
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
শিখা পত্রিকার ৫ম বর্ষের সম্পাদক ছিলেন আবুল ফজল। 

আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা। 
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা (১৯৩১) সম্পাদনা করেন। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাসগ্রন্থ হলো:
- চৌচির 
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- রাঙ্গা প্রভাত

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৪৫.
“আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্‌ঝুম নিরালায়!”
পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

“আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।”

পঙ্‌ক্তিগুলো কবি জসীমউদ্দিনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। জসীমউদ্দিন কলেজজীবনেই ‘কবর’ কবিতাটি রচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৪৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ওঙ্কার
  2. খ) ক্ষুধা ও আশা
  3. গ) চৌচির
  4. ঘ) কঙ্কাবতী
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুধা ও আশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুধা ও আশা
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ : মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।

উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- কর্ণফুলী (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১,৭৪৭.
কোনটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কাঞ্চনমালা
  2. খ) প্রাচীন বাংলার গৌরব
  3. গ) বেণের মেয়ে
  4. ঘ) বিবাহ উৎসব
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিবাহ উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিবাহ উৎসব
ব্যাখ্যা

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।
- 'কাঞ্চনমালা' ও 'বেণের মেয়ে' তাঁর রচিত উপন্যাস।
- তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, মেঘদূত ব্যাখ্যা, ভারত মহিলা, বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,৭৪৮.
জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র-  
  1. তপু
  2. মুনীর
  3. সেলিম 
  4. রহমত 
সঠিক উত্তর:
তপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপু
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র- তপু। 
------------------------------------------- 
• “একুশের গল্প” নিয়ে কিছু আলোচনা: 
-
জহির রায়হান রচিত ‘একুশের গল্প’- এর পটভূমি হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জহির রায়হান 'একুশের গল্পে' এক তরুণের (তপুর) আত্মত্যাগের গল্প বলতে চেয়েছেন।
- গল্পে দেখা যায় যে, চার বছর আগে ১৯৫২ সালে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তপুকে নিয়ে গিয়েছিল।
- দীর্ঘ চার বছর পর একটি কঙ্কালের মাথার খুলিতে গুলির ছিদ্র দেখে তার বন্ধু রাহাত বুঝতে পারে সেটিই তপু।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা জাগে রাহাতের মনে।
- কিন্তু আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই গভীর বেদনা ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণা যুক্ত হয়।
- এই অনুভূতিগুলো সরাসরি না প্রকাশ করে লেখক ইঙ্গিত ও ব্যঞ্জনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। 
------------------------------------------- 
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৪৯.
'তোতা ইতিহাস' কার রচনা?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  4. ঘ) গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
ব্যাখ্যা
⇒ চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৫০.
'ফেরারী কবির খোঁজে' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কোন কাব্যভুক্ত কবিতা?
  1. কখনো রং কখনো সুর
  2. কমলের চোখ
  3. আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. সহিষ্ণু প্রতীক্ষা
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
ব্যাখ্যা
'ফেরারী কবির খোঁজে' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যভুক্ত কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: আত্মচরিত, কারণ আমার ভালবাসা, কৃষ্ণচূড়া লোহার খাঁচা, কয়েকটা শব্দ, রোদ্ ভিজিয়ে নদীর কাছে, কবিতা রক্তাক্ত ক্ষত, মা কখনো যায় না চ'লে, মৃত্যুর পরে, কণ্ঠকে রোধ করো, কারণ ঘাতক না হ'লে, আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ইত্যাদি।

ফেরারী কবির খোঁজে,

- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

এখানে সূর্য ওঠে
সহসা বৃষ্টি পড়ে
এখানে ফসল্ ফলে
শিশুরা ক্ষুধায় মরে ।

এখানে অনেক নদী
মেঘেরা রঙিন শাড়ি
এখানে ফুলের পাখি
ফেরারী কবির খোঁজে।

এখানে নবীন সবি
শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদে
এখানে শোভন সবি
কবিরা দীপান্তরে।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাতনরী হার' (১৯৫৫)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা: আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, কোন এক মাকে।
- তিনি ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
১১,৭৫১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. শওকত আলী
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
 
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 
 
তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৭৫২.
‘মানসিংহ’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  2. মনসামঙ্গল কাব্য
  3. রামায়ণ
  4. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শেষ কবি, ভারতচন্দ্র কতৃক রচিত মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কাব্য অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র মানসিংহ।
এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো,
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যা,
- সুন্দর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৭৫৩.
'দশরথের প্রতি কৈকেয়ী' কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. বীরাঙ্গনা
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. পদ্মাবতী
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের 'হেরোইদাইদ্‌স' কাব্যের অনুসরণে এই গ্রন্থ রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয়-কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠিত নয়।
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য সমকালে মধুসূদন নিন্দিত হয়েছিলেন।

এই কাব্যে মোট এগারটি পত্র আছে। যথা:
- দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা,
- দশরথের প্রতি কৈকেয়ী,
- সোমের প্রতি তারা,
- নীলধ্বজের প্রতি জনা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’।
১১,৭৫৪.
‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন কে ?
  1. বিষ্ণু দে
  2. নুরুল মোমেন
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন - নবীনচন্দ্র সেন।

নবীনচন্দ্র সেন:

- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস, 
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৫৫.
‘শশী, কুসুম’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভৃতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,  (১৯০৮-১৯৫৬)  কথাসাহিত্যিক।
• ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। 

• তার কিছু উপন্যাসের চরিত্র হলো--
- জননী :- মার্ক্সসীয় দৃষ্টির উপর লেখা। প্রধান চরিত্র :- শ্যামা
- দিবারাত্রির কাব্য :- তিন জোড়া নারী পুরুষের কথা। চরিত্র:- সুপ্রিয়া,মালতি,আনন্দ,অশোক, হেরম্ব
- পুতুল নাচের ইতিকথা :- সামন্ততন্ত্রের প্রতি জেহাদ। চরিত্র :- কুসুম,শশী।
- পদ্মানদীর মাঝি :- ধীবর পল্লীর জীবন যাত্রা এর প্রধান বিষয়। খেটে খাওয়া মানুষের কথা এখানে দেখনো হয়েছে। চরিত্র:- কুবের, হোসেন মিঞা।
- শহরতলী :- চরিত্র :- সত্যপ্রিয় চক্রবর্তী, যশোদা
- সহরবাসের ইতিকথা :- চরিত্র:- শ্রীপতি, সন্ধ্যা
- চিহ্ন :- চরিত্র:- অক্ষয়,সুধা
- চতুস্কোণ :- চরিত্র:- গিরি,মনোরমা।

• ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প 
- প্রাগৈতিহাসিক 
- সরীসৃপ 
- সমুদ্রের স্বাদ 
- ভেজাল 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী 
- আত্নহত্যার অধিকার

• নাটক
- ভিটেমাটি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৫৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন উপাধিতে অভিহিত করা হয়?
  1. বাঙালি কবি
  2. ছন্দের জাদুকর
  3. নাট্যকার
  4. ছান্দসিক কবি
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
ব্যাখ্যা

• “সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করা হয়"। 
----------------------------------------
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ বাঙালি কবি ও ছড়াকার।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার কাছে নিমতা গ্রামে।
- পেশায় তিনি কবি, ছড়াকার এবং অনুবাদক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক শক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দের অসাধারণ দক্ষতা, ভাষার গভীর বোঝাপড়া এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক পাণ্ডিত্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি তাঁর কবিতায় ছন্দের কারুকার্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কুহু ও কেকা’,
- ‘বেণু ও বীণা’,
- ‘পালকির গান',
- ‘ফুলের ফসল’।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৫৭.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. উপহার
  2. কবিতাবলী
  3. অনিঃশেষ
  4. এক মুঠো
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ:
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি 'অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে ।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

অমিয় চক্রবর্তী:
- তার জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৫৮.
বাংলা ভাষায় কোরান শরীফ-এর অনুবাদক “ভাই গিরিশচন্দ্র সেন” কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. ক) হিন্দু ধর্ম
  2. খ) খ্রিস্ট ধর্ম
  3. গ) ব্রাহ্ম ধর্ম
  4. ঘ) নাথ ধর্ম
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রাহ্ম ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রাহ্ম ধর্ম
ব্যাখ্যা

গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) : ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ তিনিই প্রথম করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৫৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
দ্য ক্যাপটিভ লেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য ক্যাপটিভ লেডি
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য ক্যাপটিভ লেডি’। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিক্ষা
  2. বিচিত্র
  3. পঞ্চভূত
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্র
ব্যাখ্যা
'লাইব্রেরি' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর 'বিচিত্র' প্রবন্ধগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত। এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। কেননা, লাইব্রেরিতে মানবাত্মার ধ্বনিরাশি বইয়ের পাতায় বন্দি হয়ে থাকে।

কাহিনি সংক্ষেপ:
→ বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা আকাশের দৈববাণী থেকে মহাত্মাদের কথা পেয়ে থাকি। যাঁদের সান্নিধ্য আমাদের কখনই পাওয়া সম্ভব নয়, বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা তাদের পেতে পারি। বই আমাদের অতীতের সাথে সেতুবন্ধ গড়ে দেয়। এ বইয়ের স্থান হলো লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিতেই মানব হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনা যায়। লাইব্রেরিতে সকল পথের, সকল মতের মানুষের সম্মিলন ঘটে। লাইব্রেরির মহত্ত্বের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন- জগতের উদ্দেশ্যে কি আমাদেরও কিছু বলার নেই? আমরা কি কেবল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ করে বেড়াব। লেখক শেষে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন- বাঙালিরা জেগে উঠেছে। তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে। 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বই পড়ার সঙ্গে জ্ঞানের সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন। প্রবন্ধটি আমাদের বই পাঠ এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৬১.
ফিউশন ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. সেলিম আল দীন
  2. নুরুল মোমেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র 
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

নাট্যকার সেলিম আল দীন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব, ফিউশন তত্ত্ব'র প্রবক্তা এবং নিউ এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী। তিনি শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমকে একীভূত করে একটি নতুন শিল্পরীতি প্রবর্তন করেন, যা দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব নামে পরিচিত।

• এই দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের মূল ধারণা হলো, জীবনের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ককে স্বীকার করে নেয়া। সেলিম আল দীন মনে করতেন, জীবনকে কেবল একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিকে দেখা উচিত নয়, বরং বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন মাধ্যমে এর প্রকাশ হওয়া উচিত।
সেলিম আল দীন তার নাটকে এই দ্বৈতাদ্বৈতবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। তার "চাকা" নাটকে তিনি নিজেকে "দ্বৈতাদ্বৈতবাদী" হিসেবে ঘোষণা করেন। এছাড়া, তার "হরগজ" নাটকেও এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়।

------------------
সেলিম আল দীন রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ: কবি ও তিমি।

• উপন্যাস: অমৃত উপাখ্যান।

• নাটক:
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৬২.
'Song Offerings' এর ভূমিকা লেখেন কে?
  1. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
  2. জন মিল্টন
  3. উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
  4. চার্লস ডিকেন্স
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
ব্যাখ্যা

'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০।  গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা। 
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)।
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats(উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস)। 
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৬৩.
রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পধর্মী উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নষ্টনীড়
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) দেনা পাওনা
  4. ঘ) রবিবার
সঠিক উত্তর:
খ) চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চতুরঙ্গ হলো ছোট গল্পধর্মী উপন্যাস
- অন্যদিকে তার রচিত নষ্টনীড় হলো উপন্যাসধর্মী ছোট গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৭৬৪.
কোনটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত গবেষণা কর্ম?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  2. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  3. বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের কথা
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত গবেষণা কর্ম - বাংলা সাহিত্যের কথা
- এটি ২ খণ্ডে (১৯৫৩, ১৯৬৫) প্রকাশিত হয়।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৮ সালে তিনি বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদাবলি বিষয়ে গবেষণা করে প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি 'আঙুর', 'দি পীস', 'বঙ্গভূমিক', 'তকবীর' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ‘জ্ঞানতাপস’ হিসেবে পরিচিত মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্  ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় পরলোক গমন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হল চত্বরে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত গবেষণা কর্ম:
- সিদ্ধা কাহ্নপার গীত ও দোহা,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বৌদ্ধ মর্মবাদীর গান,
- ভাষাতত্ত্ব: ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।

অন্যদিকে,
• মাহবুবুল আলম রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
• ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।
• গোপাল হালদার রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খণ্ড)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৭৬৫.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) দিগ্দর্শন
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) সমাচার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
খ) দিগ্দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দিগ্দর্শন
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা হচ্ছে দিগ্দর্শন

• দিগ্দর্শন:
- দিগ্দর্শন বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন কর্তৃক প্রকাশিত এবং বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক সম্পাদিত এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- সর্বমোট ২৬টি বাংলা সংস্করণ এবং ১৬টি করে ইংরেজি ও উভয়ভাষায় সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৬৬.
ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে।
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ
- তিনি ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা।

- তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর।
- তার রচিত অন্যান্য ছোটগল্প - দাঙ্গা, সংকেত, বনস্পতি, স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৬৭.
‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  3. শওকত ওসমান
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েনউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস:
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নিদারুণ অর্থনৈতিক সংকট মানবাত্মাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিলো। এর ফলশ্রুতি-এক মুঠো আহার না পেয়ে মানুষ নিজের ইজ্জত খোলাম-কুচির মতো বিকিয়েছিলো, পশুর চেয়েও নিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিলো তার নৈতিক ধর্ম। সেসব দিনের অনেক ঘটনা চাক্ষুষ দেখবার দুর্ভাগ্য লেখকের হয়েছিল; সেগুলো আঘাত করেছে তাঁর মানসপটে, হৃদয়ে। এ উপন্যাস সেসব মনোবেদনারই জীবন্ত চেতনা বা ভাষারূপ।

- যেহেতু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধই হচ্ছে এ উপন্যাস গর্ভাঙ্কের আদি পটভূমি, সেজন্য অকাল্পনিক মানুষ হিটলার, চার্চিল, মুসোলিনি, স্ট্যালিন, তোজো, গোয়েবলস প্রমুখ কুশীলব এ উপন্যাসের চরিত্র।

-------------------------------
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:

- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৬৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) ছাড়পত্র
  2. খ) ঘুম নেই
  3. গ) সহসা সচকিত
  4. ঘ) হরতাল
সঠিক উত্তর:
গ) সহসা সচকিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সহসা সচকিত
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য,মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

'সহসা সচকিত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৬৯.
“স্বদেশে পরবাসী” কার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থঃ স্বদেশে পরবাসী। একাত্তরের ঢাকা, নির্ভয় করো হে, ঘর গেরস্থির রাজনীতি ইত্যাদি। তার শিশুতোষ উপন্যাস - “কাকতাড়ুয়া” (১৯৯৬)। এতে বুধা নামের এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী বিবৃত করা হয়েছে। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১১,৭৭০.
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৭১.
’কুহু ও কেকা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. আল মাহমুদ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত :
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছন্দের জাদুকর, ছন্দের রাজা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে। 
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:

-সবিতা (১৯০০),
- সন্ধিক্ষণ (১৯০৫),
- বেণু ও বীণা (১৯০৬),
- কুহু ও কেকা (১৯১২),
- অভ্র ও আবীর (১৯১৬),
- হসন্তিকা (১৯১৯),
- বেলা শেষের গান (১৯২৩),
- বিদায় আরতি (১৯২৪),
- কাব্য সঞ্চয়ন (১৯৩০)।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৭২.
'ফোঁড়া' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছেঃ
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,৭৭৩.
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন কে?
  1. ক) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) মিসেস আর এস হোসেন
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
গ) মিসেস আর এস হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিসেস আর এস হোসেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। 
- তিনি প্রথমে মিসেস আর এস হোসেন নামে লিখতেন। 
- তিনি মূলত মুসলিম নারীজাগরনের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
---------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন(১৮৮০-১৯৩২)  
সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। রোকেয়ার জীবনে স্বামী সাখাওয়াৎ হোসেনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯০৯ সালের ৩ মে সাখাওয়াৎ হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
- সাহিত্যিক হিসেবে তৎকালীন যুগের প্রেক্ষাপটে রোকেয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা।
- নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, নবপ্রভা, মহিলা, ভারতমহিলা, আল-এসলাম, নওরোজ, মাহে নও, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, The Mussalman, Indian Ladies Magazine  প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়। মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। সমকালীন সাময়িক পত্রে মিসেস আর.এস হোসেন নামে তাঁর রচনা প্রকাশিত হতো। 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৭৪.
‘ফাঁস কাগজ’ প্রহসনটি কার রচনা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• ‘ফাঁস কাগজ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি প্রহসন।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৭৫.
‘ডাকঘর’ নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কবিরাজ
  2. অমল
  3. সুধা
  4. গোপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা

• ‘ডাকঘর’ নাটকের চরিত্র নয় - গোপাল।

"ডাকঘর" নাটক:

- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৭৭৬.
"একটি কথার দ্বিধা থর থর চূড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী।"- কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) শাশ্বতী
  3. গ) তন্বী
  4. ঘ) ক্রন্দসী
সঠিক উত্তর:
ক) অর্কেস্ট্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা
‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ
- তন্বী (১৯৩০), 
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), 
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০), 
- দশমী (১৯৫৬);
- প্রতিদিন (১৯৫৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৭৭.
'তোতা ইতিহাস' গল্পগ্রন্থটি চণ্ডীচরণ মুনশী কোন সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন?
  1. আরবি 
  2. ফারসি
  3. ইরানী 
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'তোতা ইতিহাস':
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

-----------------
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন।
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১,৭৭৮.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর মহাকাব্য রচনার প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে কোন রচনায়?
  1. ক) বৃত্রসংহার
  2. খ) স্পেনবিজয় কাব্য
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
খ) স্পেনবিজয় কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্পেনবিজয় কাব্য
ব্যাখ্যা
'স্পেন বিজয় কাব্যে'র রচয়িতা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 
- এ কাব্যের মাধ্যমে লেখক মহাকাব্য লিখতে চেয়েছেন। 
- কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে। 
- স্পেন বিজয় কাব্য এর বিষয়বস্তু স্পেনের সম্রাট রডারিকের সাথে মুসলমান বীর তারেকের সংগ্রাম কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।
- বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি পরিপূর্ণ  মহাকাব্য হয় নি।

তার রচিত অন্যান্য কাব্য:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- মহাশিক্ষা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৭৯.
হুমায়ুন কবিরের সাথে যৌথ সম্পাদনায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. প্রগতি
  3. চতুরঙ্গ
  4. চিত্রদর্শন
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়;
- রেখাচিত্র;
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'পূর্ববাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
• বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা 'চিত্রদর্শন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৮০.
'মেঘনাদবধ কাব্য' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৬ সালে
  2. ১৮৬০ সালে
  3. ১৮৬১ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য।
- এই কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে।
- সর্গগুলো হলো:
- অভিষেক, 
- অস্ত্রলাভ, 
- সমাগম, 
- অশোক বন, 
- উদ্যোগ, 
- বধ, 
- শক্তিনির্ভেদ, 
- প্রেতপুরী, 
- সংস্ক্রিয়া।

• মহাকাব্যটির প্রধান চরিত্র:
- রাম, 
- রাবণ (নায়ক), 
- লক্ষ্মণ, 
- সীতা, 
- মেঘনাদ, 
- বিভীষণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৮১.
'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী : একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
তাঁর প্রকাশিত বিশেষ কাব্যগ্রন্থ:
- 'খসড়া' (১৯৩৮);
- 'এক মুঠো' (১৯৩৯); 
- ‘মাটির দেয়াল’ (১৯৪২);
- 'অভিজ্ঞান বসন্ত' (১৯৫০),
- ‘অনিঃশেষ’ (১৯৭৬) ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনা:
- ‘চলাে যাই';
- 'সাম্প্রতিক’,
- ‘পুরবাসী';
- 'পথ অন্তহীন’ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

১১,৭৮২.
''বেতন দিয়াছ? — চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল!''
পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) সাম্যবাদী
  2. খ) কুলি-মজুর
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) চাষী
সঠিক উত্তর:
খ) কুলি-মজুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের কুলি-মজুর কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত৷ এই কবিতার কয়েকটি পঙক্তি নিচে দেওয়া হলো৷
বেতন দিয়াছ? — চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল!
______________________________
আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!
উৎসঃ সপ্তবর্ণা

১১,৭৮৩.
দীনবন্ধু মিত্র এর উপাধী কি ছিল?
  1. ক) দাদা ভাই
  2. খ) চারণ কবি
  3. গ) রায়বাহাদুর
  4. ঘ) পদাতিক কবি
সঠিক উত্তর:
গ) রায়বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফল্ভাবে ডাকবিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য তৎকালীন সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধীতে ভূষিত করে। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১১,৭৮৪.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. নীল দংশন
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. আমার যত গ্লানি
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা':

- প্রকাশকালের বিবেচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি অপরিহার্য বিষয় নিয়ে লেখা উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা'।
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ সালের ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, উল্টোরথের পুজো সংখ্যা, নবকল্লোল।
- ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর জবানীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতা বর্ণনা অনুষঙ্গে উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপটের সূচনা ঘটেছে।
- জীবনের সায়াহ্নে লেখকের দায়বোধ থেকে রোগশয্যাতে জর্জরিত অশান্ত ও উদ্বিগ্ন তারাশঙ্কর নাজমা নামক এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীকরূপে উপস্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বের পাক হানাদারদের নৃশংসতা বিচিত্র করেছেন।
- এই উপন্যাসের নাম-চরিত্র/প্রধান চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ‘নীল দংশন’।
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৮৫.
'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহামেদ
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের জুনিয়র স্টাফ অফিসার পদে যোগ দেন। ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- এটি আল মাহমুদ রচিত সনেট, যা ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস ,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার:
- একুশে পদক (১৯৮৬),
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৮৬.
'সূর্যমুখী’ - চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. বিষবৃক্ষ
  3. আনন্দমঠ
  4. সীতারাম
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

বিষবৃক্ষ:
- ’বিষবৃক্ষ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৩ সালে।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুন্দনন্দিনী , নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী। 
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা - বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে।
- এই উপন্যাসের পটভূমি বিধবাবিবাহ আইন পাশ হওয়ার সমসাময়িক কাল।
- এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।

অন্যদিকে,
- ’কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৭৮৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. রাজবন্দির জবানবন্দি
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. রুদ্র-মঙ্গল
  4. যুগ-বাণী
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
'আমার পথ' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ 'রুদ্র-মঙ্গল' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- "আমার পথ" প্রবন্ধে নজরুল এমন এক 'আমি'র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে তিনি নির্ভীক অসংকোচ।
- তাঁর এই 'আমি'-ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। নজরুল প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক 'আমি'র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন; একইসঙ্গে, এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে 'আমরা' হয়ে উঠতে চেয়েছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি।
১১,৭৮৮.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. খ) ওয়ারিশ
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) হাতহদাই
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা

• 'উত্তরাধিকার' শহীদ কাদরীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• 'ওয়ারিশ' শওকত আলী উপন্যাস।
• 'হাতহদাই' সেলিম আল দীনের নাটক।
• প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,

উল্লেখ্য,
উত্তরাধিকার - নামে সমরেশ মজুমদার একটি জনপ্রিয় উপন্যাসও রচনা করেছেন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

 
১১,৭৮৯.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  2. আবু ইসহাক 
  3. আল মাহমুদ 
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,৭৯০.
সৈয়দ শামসুল হক কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. রংপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হৃৎকলমের টানে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৯১.
'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সেঁজুতি
  2. পুনশ্চ
  3. মানসী
  4. শ্যামলী
সঠিক উত্তর:
শ্যামলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামলী
ব্যাখ্যা

'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
-'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
- এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্‌ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
-সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৯২.
কোন কাব্যের জন্য বিহারীলাল চক্রবর্তী 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. সারদা মঙ্গল
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. দেবরাণী
সঠিক উত্তর:
সারদা মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদা মঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯৩.
স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
বর্ণচোর - মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
তার রচিত অন্যান্য নাটক:
- বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- আমাদের শহর
- রাক্ষুসী
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া
১১,৭৯৪.
'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া।
- প্রেমের কবিতা।
- হাতুড়ির নিচে জীবন।
- অপর অরণ্যে।
- করো অশ্রুপাত।
- প্রেম ও বিরহের কবিতা।
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি।
- সশস্ত্র সুন্দর।
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৯৫.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. বোধেন্দুবিকাশ
  4. রাজাবলি
সঠিক উত্তর:
বোধেন্দুবিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোধেন্দুবিকাশ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা  প্রকাশ করেন। অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়। মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্রের সাহিত্যাদর্শ যখন লুপ্ত হয়ে আসছিল, তখন তিনি বিভিন্ন বিষয় অবলম্বনে খন্ডকবিতা রচনার আদর্শ প্রবর্তন করেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

• তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন। ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর 'বোধেন্দুবিকাশ' (১৮৬৩) নাটকে।

• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
• তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত নাটক:
• হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' 'হিতোপদেশ' ও 'রাজাবলি' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯৬.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার কোন গ্রন্থের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান?
  1. ঠাকুরদাদার ঝুলি
  2. ঠাকুরমার ঝুলি
  3. দাদা মশায়ের থলে
  4. বাংলার সোনার ছেলে
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরমার ঝুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরমার ঝুলি
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯৭.
নিচের কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস নয়? 
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. বহিপীর
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৯৮.
'আজ কাল পরশুর গল্প' ছোটগল্পগ্রন্থটি লিখেছেন-
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬)
একজন কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯৯.
“মেঘনা নদী দেবো পাড়ি
কল অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাড়াতলী গাঁয়ে।” কবিতাংশের রচয়িতা-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি তাঁর 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতায় সেটা উল্লেখ করেছেন।
- তাঁর 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটি হলো-
মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাড়াতলী গাঁয়ে।
গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়ে
বসব বিকাল বেলা।
দু-চোখ ভরে দেখব কত
আলো-ছায়ার খেলা।
বাঁশবাগানে আধখানা চাঁদ
থাকবে ঝুলে একা।
ঝোপে ঝাড়ে বাতির মতো
জোনাক যাবে দেখা।
ধানের গন্ধ আনবে ডেকে
আমার ছেলেবেলা।
বসবে আবার দুচোখে জুড়ে
প্রজাপতির মেলা।
হঠাৎ আমি চমকে উঠি
হলদে পাখির ডাকে।
ইচ্ছে করে ছুটে বেড়াই
মেঘনা নদীর বাঁকে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৮০০.
বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে- 'প্রমথ চৌধুরী'। 

• প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
-------------------------------------
• বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে- সবুজপত্র পত্রিকা। 

• সবুজপত্র পত্রিকা: 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
----------------------------- 
• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।
-----------------------------------------

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।