বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১৩ / ১৭৪ · ১১,২০১১১,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১১,২০১.
শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. চন্দ্রভানের কন্যা
  3. দিগন্তে ফুলের আগুন
  4. কবে পোহাবে বিভাবরী
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
ব্যাখ্যা
• 'কবে পোহাবে বিভাবরী' শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস।

• শহীদুল্লাহ কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,২০২.
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল 
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধটি 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত। প্রবন্ধের উক্তি-'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।'
- 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

-------------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২০৩.
‘বড় কে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. সুকুমার রায়
  2. হরিশচন্দ্র মিত্র
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• ‘বড় কে’ কবিতাটি লিখেছেন- হরিশচন্দ্র মিত্র।
 ----------------- 
হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।

১১,২০৪.
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. যুগ-বাণী
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. দুর্দিনের যাত্রী
  4. রাজবন্দির জবানবন্দি  
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা

আমার পথ:
- 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।

১১,২০৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ’কবর’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. কল্লোল
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. কবিতা 
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর- কবিতা,
--------জসীমউদ্‌দীন।
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
-----------------

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২০৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গরকৃত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তন্বী
  2. ক্রন্দসী
  3. প্রতিধ্বনি
  4. সংবর্ত
সঠিক উত্তর:
তন্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তন্বী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ।
- উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।'

-------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২০৭.
সেলিনা হোসেনের কোন উপন্যাসটি শাহপরীর দ্বীপের মাঝিদের জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত?
  1. নীল ময়ূরের যৌবন
  2. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  3. যাপিত জীবন
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
• শাহপরীর দ্বীপের মাঝিদের জীবনকাহিনী নিয়ে রচিত উপন্যাস — পোকামাকড়ের ঘরবসতি। 
-------------------------
• 'পোকামাকরের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস। 
- বংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরিদ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রাম জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে এই উপন্যাসে।
 চরিত্র:
- মালেক, সাফিয়া। 
------------------- 
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাশিল্পী। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২০৮.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ছায়াময়ী
  2. চিত্তবিকাশ
  3. অনল প্রবাহ
  4. বীরবাহু
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কবি, আইনজীবী।
তিনি ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন।

 তাঁর রচিত কাব্য:
- চিন্তা তরঙ্গিনী,
- ছায়াময়ী,
- আশাকানন,
- বীরবাহু,
- চিত্তবিকাশ,
- দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনল প্রবাহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২০৯.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. উজানে মৃত্যু
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২১০.
বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক কে?
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. দাশরথি রায়
  3. রামরাম বসু
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২১১.
"যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি, এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।" চরণটির রচয়িতা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) অমিত রায়
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

যে আমারে দেখিবারে পায়
             অসীম ক্ষমায়
         ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।
         তোমারে যা দিয়েছিনু তার
         পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার।
         হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুণ মুহূর্তগুলি গণ্ডূষ ভরিয়া করে পান
         হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম।

- শেষের কবিতা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১১,২১২.
বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. কবিতা
  3. সমকাল
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
প্রগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগতি
ব্যাখ্যা
• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'। সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

অন্যদিকে,
-----------------
- 'কালিকলম' সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত হতো।

- 'কবিতা' কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন। 

- মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্দার আবু জাফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২১৩.
কোনটি গোলাম মোস্তফার গ্রন্থ নয়?
  1. খোশরোজ
  2. রক্তরাগ
  3. হাসনাহেনা
  4. স্বপ্নসাধ
সঠিক উত্তর:
স্বপ্নসাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বপ্নসাধ
ব্যাখ্যা
কবি গোলাম মোস্তফার বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রেনেসাঁর কবি নামে পরিচিত। তাঁর কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু - ইসলাম ও প্রেম। তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
- হাসনাহেনা
- রক্তরাগ
- খোশরোজ
- কাব্যকাহিনী
- সাহারা
- বুলবুলিস্তান
- বনি আদম
- গীতি সঞ্চয়ন ইত্যাদি।
অপরদিকে, হুমায়ুন কবির রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২১৪.
‘আনোয়ারা’ উপন্যাসটি রচনা করেন-
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২১৫.
'বেদান্তগ্রন্থ' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

বেদান্তগ্রন্থ: 
‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২১৬.
‘নেমেসিস’ নাটকে নূরুল মোমেন কোন বিষয়কে তুলে ধরেছেন?
  1. ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক- ‘নেমেসিস’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
-১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নুন্দী নামের এক-চরিত্র বিশিষ্ট। অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর কন্যা সুলতা, ম্যানেজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি, ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত।
- তাঁর রচিত নাটকগুলোর নাম:
 - রুপান্তর,
 - নেমেসিস
 - যদি এমন হতো
 - নয়া খান্দান
 - আলোছায়া
 - শতকরা আশি
 - আইনের অন্তরালে
 - যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২১৭.
সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. কালপুরুষ
  3. তিন পুরুষ
  4. পুরুষপরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
তিন পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন পুরুষ
ব্যাখ্যা
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ - তিন পুরুষ
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'তিন পুরুষ' নামে সমরেশ বসুর ও শাওন আসগরের উপন্যাস রয়েছে।

সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন  তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
-  ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের  প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা, 
- খোলাচিঠি, 
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

অন্যদিকে,
• রশীদ করীম রচিত উপন্যাস - উত্তম পুরুষ।
• সমরেশ মজুমদার রচিত উপন্যাস - কালপুরুষ।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থ - পুরুষপরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২১৮.
‘জারীগান’ লোকসঙ্গীত গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• ‘জারীগান ও মুর্শীদা গান’ সংকলন গ্রন্থ:
জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

অন্যদিকে,
• চন্দ্রকুমার দে ছিল পালা গানের সংগ্রাহক। ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকার অনেক পালাগানের সংগ্রাহক ছিলেন তিনি।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• দীনেশচন্দ্র সেন 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২১৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
> বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়। সব কয়টি বিভাগে কয়েকজন পন্ডিত ও মুন্সি ছিলেন। কলেজ কর্মচারীদের মধ্যে তাঁরাই ছিলেন দেশীয়। এভাবে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

> শ্রীরামপুর প্রেস ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও প্রকাশনার কাজ শুরু হয়।
> কলেজের শিক্ষক ও প্রাক্তন বিদ্বান ব্যক্তিগণ বাংলাসহ ভারতের প্রায় সকল ভাষার সংস্কার ও আধুনিকায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
> ডালহৌসীর সরকার ১৮৫৪ সালে ফোর্ট উইলিয়মের এ ফ্যানট্যাম কলেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলোপ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,২২০.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৮৫৮ সালে
  3. ১৮৯৪ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২২১.
গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. মরু-ভাস্কর
  2. বিশ্বনবী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. গীতিসঞ্চালন
সঠিক উত্তর:
গীতিসঞ্চালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিসঞ্চালন
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ - গীতিসঞ্চালন।

• গোলাম মোস্তফা:

 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতিসঞ্চালন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে- 
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২) ইত্যাদি। 

• অন্যদিকে: 
- 'মরু-ভাস্কর' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী কাব্য।
- ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - সিরাজাম মুনীরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২২২.
মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. মায়াকানন
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. একেই কি বলে সভ্যতা
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন হচ্ছে একেই কি বলে সভ্যতা। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তাঁর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে ও রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি মহাকাব্য।

তাঁর রচিত কাব্যসমূহ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

তাঁর রচিত নাটকসমূহ:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন। 

তাঁর প্রহসনসমূহ:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,২২৩.
কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. যুগবাণী 
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. লাঙ্গল
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা

• 'দৈনিক নবযুগ':
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্‌ফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন।

------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকাসুমূহ:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২২৪.
যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস কোনটি?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. যোগাযোগ
  3. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরাণীর হাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা

• 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাস হলো 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস।
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে বৌ-ঠাকুরাণীর হাট অবলম্বনে রচিত হয় রবীন্দ্রনাথের 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকটি।
- প্রায়শ্চিত্ত ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে পুনর্লিখিত হয়ে ‘পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।
- সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের প্রশংসা করেছেন।
- ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫৩ সালে ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট' নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন নরেশ মিত্র।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।

রবীন্দ্রনাথের রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩. 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১১,২২৫.
'বাঙালি মুসলমানের মন' নামক বিখ্যাত প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আবুল হাসান
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবদুল ওদুদ
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• বাঙালি মুসলমানের মন:
- বাঙালি মুসলমানদের মন যে এখনও আদিম অবস্থায়, তা বাঙালি হওয়ার জন্যও নয় এবং মুসলমান হওয়ার জন্যও নয়।
- সুদীর্ঘকালব্যাপী একটি ঐতিহাসিক পদ্ধতির দরুন তার মনের ওপর একটি গাঢ় মায়াজাল বিস্তৃত হয়ে রয়েছে, সজ্ঞানে তার বাইরে সে আসতে পারে না, তাই এক পা যদি এগিয়ে আসে, তিন পা পিছিয়ে যেতে হয়।
- মানসিক ভীতিই এই সমাজকে চালিয়ে থাকে।
- দু’বছরে কিংবা চার বছরে হয়ত এ অবস্থার অবসান ঘটানো যাবে না, কিন্তু বাঙালি মুসলমানের মনের ধরণ-ধারণ এবং প্রবণতাগুলো নির্মোহভাবে জানার চেষ্টা করলে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ হয়ত পাওয়া যেতে পারে।

• আহমদ ছফা:

- আহমদ ছফা ছিলেন একজন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উত্থানপর্ব পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ (১৯৭১),
- বুদ্ধি বৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৭৩),
- বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৭৬),
- সিপাহীযুদ্ধের ইতিহাস (১৯৮০)
- শতবর্ষের ফেরারী : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৯৭),
- সাম্প্রতিক বিবেচনা : বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৯৭),
- যদ্যপি আমার গুরু প্রফেসর রাজ্জাক (১৯৯৭)৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাঙালি মুসলমানের মন গ্রন্থ ।
১১,২২৬.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. সত্য পীরের পাঁচালি
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অভয়ামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২২৭.
আলাওল কার আদেশে পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

---------------
•  আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
১১,২২৮.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' - সম্পাদনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হুমায়ুন কবির
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

হাসান হাফিজুর রহমান: 
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়
- তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ: 
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,২২৯.
আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত -
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন শাহ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২৩০.
সনেটের আদি কবি কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. পেত্রার্ক
  3. টলস্তয়
  4. তুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
পেত্রার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেত্রার্ক
ব্যাখ্যা

সনেট (Sonnet):
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়।
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক।
- প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটল্ক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক ইতালীয় কবি পেত্রার্ক।
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৩১.
‘সাম্যবাদী’ কাজী নজরুল ইসলামের কোন জাতীয় সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্যবাদী’ কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।

• 'সাম্যবাদী':

- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১১,২৩২.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা নয়?
  1. ক) অতি অল্প হইল
  2. খ) বাঙলার ইতিহাস
  3. গ) আবার অতি অল্প হইল
  4. ঘ) ব্রজবিলাস
সঠিক উত্তর:
খ) বাঙলার ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাঙলার ইতিহাস
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনাঃ
- প্রভাবতী সম্ভাষণ,
- স্বরচিত জীবনচরিত,
- ব্রজবিলাস,
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল ইত্যাদি।
আরঅনুবাদ গ্রন্থঃ
- জীবনচরিত (ইংরেজি বই অবলম্বনে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দী থেকে)
- বাঙ্গলার ইতিহাস (মার্শম্যানের বই অনুসারে)
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে)
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে) ইত্যাদি।
উৎসঃলাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।

১১,২৩৩.
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার! - পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ শঙ্খমালা’ কবিতা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

শঙ্খমালা- কবিতার কিছু অংশ-

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার!
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৩৪.
'অনল প্রবাহ' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস 
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ'।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।

------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
- প্রেমাঞ্জলি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৩৫.
সত্তরের দশকের একজন কবির নাম?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) আবু কায়সার
  4. ঘ) মোহাম্মদ রফিক
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

- রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ সত্তর দশেকর বিখ্যাত কবি। তাকে সত্তর দশকের কবিও বলা হয়।

অন্যদিকে,
আবুল হাসান ষাটের দশকের বিখ্যাত কবি তবে সত্তরের দশকেও তার সৃষ্টিকর্ম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
- আবু কায়সার এবং মোহাম্মদ রফিক এই দুই জন কবিও ষাটের দশকের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।

১১,২৩৬.
'সধবার একাদশী' প্রহসনের মূল উপজীব্য কী? 
  1. বুড়োর বিধবাকে বিবাহ 
  2. ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচার
  3.  লম্পট বুড়োর নারী লোভ 
  4. নতুন জামাই আগমন নিয়ে হট্টগোল 
সঠিক উত্তর:
ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচার
ব্যাখ্যা

• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

 দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৩৭.
প্রথম সনেট রচয়িতা মুসলিম বাঙালী মহিলা কবি কে?
  1. কাজী ফজিলাতুন্নেছা
  2. মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
  3. বেগম সুফিয়া কামাল
  4. ফেরদৌসি বেগম
সঠিক উত্তর:
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট রচয়িতা মুসলিম বাঙালি মহিলা কবি হলেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

‘মন ও মৃত্তিকা’ কাব্যের কিছু কিছু কবিতায় এ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। ‘প্রেম প্রকৃতি ও বিরহের বেদনা বিধুর উপলব্ধি তাঁর সনেট কবিতার উপজীব্য হিসেবে মূর্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃত সনেট বিবেচনায় তাঁর সনেট রচনাগুলোর শৈল্পিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় এবং চৌদ্দমাত্রার চৌদ্দ চরণের আঙ্গিকে কেবল গদ্য কবিতার ঢঙে সনেট রচনায় প্রয়াসও পরিলক্ষিত হয়েছে:
গ্রীষ্মের দহন জ্বালা আষাঢ়ের ছায়ায়
ঘুমের আমেজ আনে শাল তাল পিয়ালের বনে
সিকৃত শ্যামল দুর্ব্বা বায়ু বহে গভীর স্বপনে
ঝরঝর বারিধারা অবিরাম দু’কূল ভাসায়।
[“তৃষ্ণা” ‘মন ও মৃত্তিকা’]

অন্যান্য অপশনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
ক) কাজী ফজিলাতুন্নেছা – প্রথম মুসলিম বাঙালি মহিলা স্নাতক।
গ) বেগম সুফিয়া কামাল – বিখ্যাত কবি, কিন্তু তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ (সাঁঝের মায়া) ১৯৩৮ সালে, এবং তাতে সনেট ছিল না।
ঘ) ফেরদৌসি বেগম – কবি, কিন্তু সনেট রচনায় অগ্রণী নন।

সুতরাং সঠিক উত্তর: মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা রিপোর্ট;লিংক।

১১,২৩৮.
'সুতীর্থ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস - মাল্যবান, সুতীর্থ

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৩৯.
The Taming of The Shrew- নাটকটি বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew বাংলাতে অনুবাদ করেন মুনীর চৌধুরী ।
এটি বাংলায় মুখরা রমণী বশীকরণ নামে প্রকাশ করেন ।
তিনি The Silver box (রূপার কৌটা) নাটকটি অনুবাদ করেন |
কেউ কিছু বলতে পারে না তার অনূদিত আরেকটি নাটক |

তার বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর( পানিপথের যুদ্ধ নিয়ে রচিত) |
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত নাটক কবর |
তিনি এটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় রচনা করেন |

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১১,২৪০.
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-জীবনের সূচনা ঘটে-
  1. লেটোর দলে
  2. সেনাবাহিনীতে
  3. রুটির দোকানে
  4. কারাগারে
সঠিক উত্তর:
লেটোর দলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেটোর দলে
ব্যাখ্যা

মকতব, মাযার ও মসজিদ-জীবনের পর নজরুল  রাঢ় বাংলার (পশ্চিম বাংলার বর্ধমান-বীরভূম অঞ্চল) কবিতা, গান আর নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক  লোকনাট্য লেটোদলে যোগদান করেন। ঐসব লোকনাট্যের দলে বালক নজরুল ছিলেন একাধারে  পালাগান রচয়িতা ও অভিনেতা। নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই। হিন্দু পুরাণের সঙ্গে নজরুলের পরিচয়ও লেটোদল থেকেই শুরু হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে কবিতা ও গান রচনার কৌশল নজরুল  লেটো বা কবিগানের দলেই রপ্ত করেন। এ সময় লেটোদলের জন্য কিশোর কবি নজরুলের সৃষ্টি চাষার সঙ, শকুনিবধ, রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ, দাতা কর্ণ, আকবর বাদশাহ, কবি কালিদাস, বিদ্যাভূতুম, রাজপুত্রের সঙ, বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ, মেঘনাদ বধ প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২৪১.
গুপি-গাইন, বাঘা-বাইন চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বিখ্যাত গুপি-গাইন, বাঘা-বাইন চরিত্রের স্রষ্টা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। 

• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫)  প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
-  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

• উপেন্দ্রকিশোর শিশুকিশোরদের জন্য বহুসংখ্যক সাহিত্য পুস্তক রচনা করেছেন,
এর মধ্যে উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,২৪২.
'ইয়ংবেঙ্গল' কি?
  1. ক) ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান
  2. খ) সমাজ সংস্কারমূলক প্রতিষ্ঠান
  3. গ) ইংরেজদের সহযোগীতায় গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. ঘ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট তরুন ছাত্রগোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট তরুন ছাত্রগোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট তরুন ছাত্রগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট এক তরুন ছাত্রগোষ্ঠী।

ডিরোজিও, হেনরি লুই ভিভিয়ান(১৮০৯-১৯৩১) হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুন ছাত্রগোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে  প্রধান ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র ও তারা চাঁদ চক্রবর্তী।
- ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী।
- প্রথম জীবনে হিন্দুধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাপরায়ণ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সমালোচনা-মুখর। 
- প্রচলিত হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তাদের ঐক্যসূত্র। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য, ধর্ম, নীতি গঠনে তাদের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৪৩.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
  2. ভাষা আন্দোলনের
  3. ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের 
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের
ব্যাখ্যা

• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কবি রফিক আজাদ-এর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত। 

-------------------
• 'রফিক আজাদ' এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও সাহিত্যকীর্তি:
- রফিক আজাদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। তিনি টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল ‘জীবন’, যা তাঁর ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল।

- তিনি দীর্ঘদিন বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পাদক হিসেবে তিনি নতুন ও শক্তিশালী সাহিত্যধারাকে উৎসাহিত করেছেন।

- রফিক আজাদের কবিতায় প্রতিবাদী চেতনা, সামাজিক অসংগতি ও মানবিক বোধ প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত ও বিতর্কিত কবিতা ‘ভাত দে হারামজাদা’, যা শোষণ ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের প্রতীক। এই কবিতাটি তাঁর ‘সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

রফিক আজাদ বাংলা কবিতায় নিজস্ব ভাষা ও ভাবনার জন্য পরিচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- কোনো খেদ নেই,
- অসম্ভবের পায়ে,
- অপর অরণ্যে,
-  পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৪৪.
'ছন্দের জাদুকর' কে?
  1.  কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
ব্যাখ্যা

• 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' কে 'ছন্দের জাদুকর' বলা হয়।

------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।

- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। প্রথম জীবনে তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন। পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।

- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।

- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।

- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম শিখা,
- ফুলের ফসল,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন,
- শিশু-কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৪৫.
'ভুলের মূল্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
- কাজী মােতাহার হােসেন রচিত “ভুলের মূল্য প্রবন্ধটি তাঁর রচনাবলির ১ম খণ্ড (১৯৮৪) থেকে সংকলিত।
- এই প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনে ভুলের গুরুত্ব বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন (১৯৩৭), নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫), সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮), সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫), গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সাহিত্য।
১১,২৪৬.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন-
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রাত্রির চাঁদ।
গল্পগ্রন্থ- কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর।
শিশুতোষ গ্রন্থ- ডানপিটে শওকত।
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি' তাঁর রচিত কালজয়ী গান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৪৭.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচনা?
  1. রায়নন্দিনী
  2. অগ্নিপ্রবাহ
  3. বহ্নিপ্রবাহ
  4. অগ্রপথিক
সঠিক উত্তর:
রায়নন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়নন্দিনী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস - রায়নন্দিনী। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কিনারি জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা।

ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২৪৮.
"বাল্মীকি প্রতিভা" গীতিনাট্যের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "বাল্মীকি প্রতিভা" গীতিনাট্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮১ সালে "বাল্মীকি প্রতিভা" গীতিনাট্যটি রচনা করেন।
- এতে তিনি স্বরচিত গানের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মিশ্রণ ঘটান। ঠাকুরবাড়ির ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ উপলক্ষে বাল্মীকিপ্রতিভার অভিনয় হয়।
- রবীন্দ্রনাথ নিজেই অভিনয় করেন বাল্মীকির চরিত্রে।
- তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী প্রতিভা অভিনয় করেন সরস্বতীর ভূমিকায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,২৪৯.
"দীরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস গোলাম কেনা চলে। বান্দা কেনা সম্ভব—! কিন্তু—কিন্তু—ক্রীতদাসের হাসি—না-না-না-না-।" - বিখ্যাত এই লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. ড. নীলিমা ইব্রাহীম
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• "ক্রীতদাসের হাসি":
"ক্রীতদাসের হাসি" বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক শওকত ওসমানের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের শাসনের সমালোচনা করেছে রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

উপন্যাসের কাহিনীতে বাগদাদের অত্যাচারী বাদশা হারুন অর রশিদ একজন ক্রীতদাস তাতারি এবং বাঁদি মেহেরজানের প্রেমের সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করে। বাদশা তাতারিকে গৃহবন্দি করে এবং তার উপর অত্যাচার চালায়। কিন্তু তাতারি মৃত্যু পর্যন্ত বাদশা হারুনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে।

এই উপন্যাসে তাতারি চরিত্রটি বাঙালি জনতার প্রতীক এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। তাতারির হাসি বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য উক্তি- 
উপন্যাসে তাতারীর বিখ্যাত উক্তি: "শোন, হারুনর রশীদ। দীরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস গোলাম কেনা চলে। বান্দী কেনা সম্ভব–! কিন্তু—কিন্তু–ক্রীতদাসের হাসি—না–না–না।"

পুরস্কার ও স্বীকৃতি:
- "ক্রীতদাসের হাসি" শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃত।
- এই উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কারে সম্মানিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস।
১১,২৫০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি হিসেবে পরিচিত চরিত্রটির নাম কী?
  1. প্রমীলা
  2. সরলা
  3. মাধবী
  4. সুরমা
সঠিক উত্তর:
মাধবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধবী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি চরিত্রের নাম মাধবীলতা।

- এই উপন্যাসে মাধবীলতা একজন শক্তিশালী, স্বাধীনচেতা এবং ত্যাগী নারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন, যিনি পরিবার ও সমাজের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সুখের ত্যাগ স্বীকার করেন।

----------------------
• 'বড়দিদি' উপন্যাস:

- 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল 'শিশু'।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি 'মাধবী'র নাম।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বড়দিদি' উপন্যাস।
১১,২৫১.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।' উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. লালসালু 
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. সূর্য দীঘল বাড়ি
সঠিক উত্তর:
লালসালু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু 
ব্যাখ্যা

• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।

- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৫২.
‘ছন্দোরাজ’ নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. আব্দুল কাদির
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি, 
‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫৩.
"কাল নিরবধি" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• "কাল নিরবধি" গ্রন্থটি রচনা করেন - আনিসুজ্জামান

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। - এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।

আনিসুজ্জামান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৫৪.
‘স্বাধীনতা -এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল‘’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) প্রেমাংশুর রক্ত চাই
  2. খ) নিশিকাব্য
  3. গ) চাষাভুষার কাব্য
  4. ঘ) আনন্দ উদ্যান
সঠিক উত্তর:
গ) চাষাভুষার কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাষাভুষার কাব্য
ব্যাখ্যা
কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ এর বিখ্যাত একটি কবিতা ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো ‘চাষাভুষার কাব্য’ হতে নেওয়া হয়েছে । কবিতার পটভূমি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১১,২৫৫.
"মোসলেম ভারত" পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৮
  2. ১৯১৪
  3. ১৯২৩
  4. ১৯২০
সঠিক উত্তর:
১৯২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০
ব্যাখ্যা
- ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন - মোজাম্মেল হক।
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (এপ্রিল-মে, ১৯২০) এবং সর্বশেষ সংখ্যা ১৩২৮ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি, ১৯২১-২২) প্রকাশিত হয়।
- এর বর্ণবহুল প্রচ্ছদে ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিল্পকলা তুলে ধরা হতো
- ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫৬.
কোনটি শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. উপরে ছাপ
  2. উত্তরের খেপ
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
কুলায় কালস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলায় কালস্রোত
ব্যাখ্যা

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; পিঙ্গল আকাশ, শওকত আলী।

১১,২৫৭.
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন সিলেটের করিমগঞ্জে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্তমান হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি 'সত্যপীর', 'রায়পিথোরা', 'ওমর খৈয়াম', 'টেকচাঁদ', 'প্রিয়দর্শী' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
- তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি, 'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।'
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,২৫৮.
বাংলাদেশের জাতীর কবি কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫৯.
হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নদী ও নারী
  2. খ) ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) স্বপ্নসাধ
সঠিক উত্তর:
খ) ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে। হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদিকাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
- জ্বলো চিতাবাঘ
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬০.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. নিসর্গ সন্দর্শন
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬১.
সুফিয়া কামালের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
  1. মন ও জীবন
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মায়া কাজল
  4. উদাত্ত পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।-
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'
- তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে।

• গল্প:
- কেয়ার কাঁটা।

• আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল।

• স্মৃতিকথা/ ডায়েরী:
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬২.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিঠি
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৬৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. আলেয়া
  3. ঝিলিমিলি
  4. বাঁধনহারা
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস- 'বাঁধনহারা'। 

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।

• বাঁধনহারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উল্লেখ্য,
• আলেয়া ও ঝিলিমিলি হচ্ছে- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক।
• মাল্যবান হচ্ছে জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

১১,২৬৪.
‘আনন্দের মৃত্যু নেই’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শহীদ কাদরী
  3. মহাদেব সাহা
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

কবি মহাদেব সাহার প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘আনন্দের মৃত্যু নেই’। বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ক।
মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ হলো :
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস,
- মানব এসেছি কাছে,
- কী সুন্দর অন্ধ,
- তোমার পায়ের শব্দ,
- ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১,২৬৫.
আবুল হুসেন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সওগাত
  2. শিখা
  3. মোসলেম ভারত
  4. সমাচার সভারাজেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা

আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- ​তিনি ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্যসমাজ' (১৯২৬) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 
​- সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র পত্রিকার নাম 'শিখা' (১৯২৭-৩১)। তিনি এ পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক ছিলেন৷

তার রচিত গ্রন্থ:
- বাংলার বলশী।
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা।
- মুসলিম কালচার।

​অন্যদিকে,
​​'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোজাম্মেল হক এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

​- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।

'সওগাত' (মাসিক) পত্রিকা ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১১,২৬৬.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ" পঙক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭):  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬৭.
‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে
কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে। - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্তে
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে:
‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে
কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৬৮.
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে _____________।
  1. ক) আঁখির জলে
  2. খ) চোখের জলে
  3. গ) নয়ন জলে
  4. ঘ) অশ্রুজলে
সঠিক উত্তর:
খ) চোখের জলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চোখের জলে
ব্যাখ্যা
"এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।"

   - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

• কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
- কলেজজীবনে ‘কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
• নক্সী কাঁথার মাঠ,
• সোজন বাদিয়ার ঘাট,
• রঙিলা নায়ের মাঝি,
• মাটির কান্না,
• সুচয়নী,
• পদ্মা নদীর দেশে,
• ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
• পদ্মাপার,
• বেদের মেয়ে,
• পল্লীবধূ,
• গ্রামের মায়া,
• ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়,
• জার্মানীর শহরে বন্দরে,
• স্মরণের সরণী বাহি,
• বাঙালীর হাসির গল্প,
• ডালিম কুমার ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬৯.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. নওয়াজিশ খান
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন- শুকুর মাহমুদ। 
- শুকুর মাহমুদ নাথ সাহিত্য ধারার একজন কবি। 

-----------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারা:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- নওয়াজিশ খান, 
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭০.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) কাব্য পরিক্রমা
  3. গ) কয়েকটি কবিতা
  4. ঘ) বাঙলার কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) কয়েকটি কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কয়েকটি কবিতা
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
তার কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- কয়েকটি কবিতা (১৯৩৭),
- গ্রহণ (১৯৪০),
- নানা কথা (১৯৪২),
- খোলা চিঠি (১৯৪৩) এবং
- তিন পুরুষ (১৯৪৪)।
- তার কবিতাসংগ্রহ 'সমর সেনের কবিতা' ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ড সৌমিত্র শেখর
১১,২৭১.
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
- আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ

• কুসুমকুমারী দাশ:
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১১,২৭২.
বাংলা সাহিত্যে গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ সৃষ্টি করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,২৭৩.
'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র -
  1. অমিত, লাবণ্য
  2. নিখিলেস, বিমলা
  3. শচীন, শ্রীবিলাস
  4. শচীশ, দামিনী
সঠিক উত্তর:
শচীশ, দামিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শচীশ, দামিনী
ব্যাখ্যা
•'চতুরঙ্গ':
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র - শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।

অন্যদিকে,
- নিখিলেস, বিমলা ঘরে বাইরে উপন্যাসের চরিত্র।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসে অন্যান্য চরিত্র:
- অতীন, এলা চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- নীরজা, আদিত্য মালঞ্চ উপন্যাসের চরিত্র।
- গোরা, মসুচরিতা, পরেশবাবু গোরা উপন্যাসের চরিত্র।
- শর্মিলা, উর্মিলা দুইবোন উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন, কুমোদিনী যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭৪.
'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- গ্রন্থের সর্বশেষে সাত সাগরের মাঝি নামে একটি নাম কবিতা আছে ।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে ফুটে ওঠেছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থ ।
১১,২৭৫.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীদের ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথোপকথন
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

অন্যদিকে, 
• 'রাজাবলি': কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• 'তোতা ইতিহাস' উপাখ্যান: চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

• বত্রিশ সিংহাসন: এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 'বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১১,২৭৬.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রহসন?
  1. একঘরে
  2. পরপারে
  3. রানা প্রতাপসিংহ
  4. তারাবাই
সঠিক উত্তর:
একঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একঘরে
ব্যাখ্যা

• "একঘরে" প্রহসন:
- "একঘরে" হলো দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন বা সামাজিক লঘু রসাশ্রয়ী নাটক, যা ১৯০৩ সালে লেখা হয়েছিল এবং ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকটি তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়, যেমন নব্য হিন্দু, ব্রাহ্ম, গোঁড়া, পণ্ডিত এবং বিলাতফেরতদের নিয়ে বিদ্রুপ করে লেখা। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় নিজে যখন বিলেত থেকে ফিরেছিলেন, তখন তাকে সমাজ একঘরে করে দিয়েছিল; এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই প্রহসনটি রচনা করেন। 

----------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- এ্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- মেবার-পতন,
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত।

• প্রবন্ধগ্রন্থ: কালিদাস ও ভবভূতি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; "একঘরে" প্রহসন এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৭৭.
বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
  3. মোহাম্মদ নাসির আলি
  4. ডা. লুৎফর রহমান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
ব্যাখ্যা
• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলার প্রথম সচিত্র মহিলা সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের  আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৫০ সালে বেগম ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।

- বেগমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল। পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

- বেগমের প্রথম সংখ্যা ছাপা হয়েছিল ৫০০ কপি এবং প্রতিকপির মূল্য ছিল চার আনা। প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে বেগম রোকেয়ার  ছবি ছাপা হয়েছিল। পত্রিকাটির একটি বিশেষ আকর্ষণ এর বার্ষিক ঈদসংখ্যা।  প্রথম ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে, দাম ছিল ২ টাকা।

- গোড়ার দিকে মহিলাদের ছদ্মনামে অনেক পুরুষও বেগমে লিখতেন। ১৯৪৮ সালে বেগমে প্রথমবারের মতো লেখিকাদের ছবি ছাপা হয়। মেয়েরা, বিশেষত মহিলা লেখিকগণ যাতে একত্র হয়ে নিজেদের এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে বেগম পত্রিকার অফিসেই ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেগম ক্লাব।

- ক্লাবের প্রথম সভানেত্রী ছিলেন শামসুন্নাহার মাহমুদ এবং সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম। পঞ্চাশের দশকে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজকর্মের ক্ষেত্রে  বেগম ক্লাবের কার্যক্রম এক নব দিগন্তের সূচনা করে। প্রথম দিকে মাসে একবার, পরের দিকে বছরে একবার লেখিকারা সম্মিলিত হয়ে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বেগম ক্লাব সক্রিয় ছিল।

- দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলাদের প্রগতিশীল চিন্তা এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে বিগত অর্ধ শতক ধরে বেগম পত্রিকা নারী সমাজের উন্নতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

পত্রিকাটির প্রথম দশকে যাঁরা লিখেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- রাজিয়া খাতুন,
- শামসুন্নাহার মাহমুদ,
- সেলিনা পন্নী,
- প্রতিভা গাঙ্গুলী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'নারীশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ডা. লুৎফর রহমান।
- 'নয়া সড়ক' (১৯৪৮) মোহাম্মদ নাসির আলি ও আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭৮.
'কাশবনের কন্যা' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ- উ দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
- সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখের মুখের আঞ্চলিক কথা, লোকসঙ্গীত, প্রচলিত লোকবচন ইত্যাদির ব্যবহার উপন্যাসটিকে সুখপাঠ্য ও বিশ্বস্ত করেছে।
- 'কাশবনের কন্যা' গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, এ উপন্যাসে ঔপন্যাসিক রোম্যান্টিক মনোভঙ্গিতে এমন এক গ্রাম, গ্রামের মানুষ ও পরিবেশ তুলে এনেছেন, যা দুঃখ অতিক্রমকারী, সুখস্বপ্ন আশা সঞ্চারী।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭৯.
কালীপ্রসন্ন সিংহ ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কালকূট
  2. হুতোম পেঁচা
  3. বনফুল
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
হুতোম পেঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুতোম পেঁচা
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা।

অন্যদিকে, 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৮০.
মহাকাব্যিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) গায়ত্রী সন্ধা
  3. গ) আগুন পাখি
  4. ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

যে উপন্যাসের ব্যাপ্তি ও পরিধি মহাকাব্যের মতো বিশাল ও ব্যাপক, যে উপন্যাসে ভাষা ও দ্বন্দ্বে মহাকাব্যের ব্যঞ্জনা থাকে তাকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলে।
যেমন :
- সেলিনা হোসেনের গায়ত্রী সন্ধ্যা 
- মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ-সিন্ধু
- শহীদুল্লাহ কায়সারের সংশপ্তক
- হাসান আজিজুল হকের আগুন পাখি
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলে কোঠার সেপাই
 
জাহান্নাম হইতে বিদায় শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস : সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী। 

১১,২৮১.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র?
  1. আমেনা
  2. রমেশ
  3. বেণী
  4. রমা
সঠিক উত্তর:
আমেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমেনা
ব্যাখ্যা
• 'আমেনা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র।

• মহেশ:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।
 
• গল্পের চরিত্র:
- গফুর, আমেনা,
- মহেশ, তর্করত্ন,
- জমিদার শিববাবু প্রমুখ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- রমেশ, বেণী, রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৮২.
'ছোটদের পাকিস্তান' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. গোলাম মোস্তফা 
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. বন্দে আলী মিয়া 
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

'ছোটদের পাকিস্তান' আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 
-​ গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

​-------------------
​• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
​- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। 
​- সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে। রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৮৩.
'আরোগ্য' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথের এই কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে (১৯৪১)।
- এই কাব্যে কোনো কবিতার নাম নেই, সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে কবি এই কবিতাগুলো মুখে মুখে রচনা করেছেন এবং তা কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।
- এটি তেত্রিশটি কবিতার সংকলন। কবিতাগুলি ১৯৪০-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৪১-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে রচিত।
- কবিতার ভাষা অলঙ্কারহীন, ছন্দ ধীরগতি এবং চিত্রগুলি পরিচিত জীবনের।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮৪.
‘বাংলাদেশ’ নামক কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
খ) আমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
১১,২৮৫.
'কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া, অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া' গানটির রচয়িতা-
  1. উস্তাদ আলাউদ্দিন
  2. রাধারমণ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন ফকির
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা

- 'কারে দেখাবো মনের দুঃখ' গানটি হল রাধারমন দত্তের গাওয়া।
- তিনি নিজেই গানটির কথা লিখেছেন।
- গানটি কভার করেছেন সইফ জোহান।

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া

ঘর বাঁধিলাম প্রাণবন্ধের সনে
কত কথা ছিল‌ মনে গো
ভাঙ্গিলো আদরের জোড়া
কোনজন বাদী হইয়া
জ্বলে গইয়া গইয়া

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া

কথা ছিল সঙ্গে নিবো গো আমায়
সঙ্গে আমায় নাহি নিলো গো
রাধারমন ভবে রইলো
জিতে মরা হইয়া
জ্বলে গইয়া গইয়া

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১১,২৮৬.
'খোলাচিঠি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সমর সেন
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'খোলাচিঠি'।

• সমর সেন:

- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮৭.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. নবীন তপস্বিনী
  2. লীলাবতী
  3. জামাই বারিক
  4. কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
জামাই বারিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামাই বারিক
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

দীনবন্ধু মিত্রের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রহসন হলো:
• 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন।

অন্যদিকে, 
----------------
• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি। 
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোমান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
১১,২৮৮.
‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- বক্তব্যটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গোরা
  2. কুহেলিকা
  3. চার অধ্যায়
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা
• পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে,
---------------------
• 'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

----------------------
• কুহেলিকা (উপন্যাস):
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শেষ উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায়  উপন্যাসটির প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে বড় ক্যানভাসে। 
- কলকাতার এক মেসের পরিবেশকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

-----------------
• ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস:
- চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮৯.
‘তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ’ কাব্যটি কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. বিষ্ণু দে
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• ‘তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ’ কাব্যটি লিখেছেন- 'বিষ্ণু দে'। 
------------- 
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,২৯০.
আবুল হুসেন রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে যে প্রবন্ধটি রচনা করেন -
  1. ক) মুসলিম কালচার
  2. খ) বাংলার বলশী
  3. গ) কৃষকের দুর্দশা
  4. ঘ) বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষকের দুর্দশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষকের দুর্দশা
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
 আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

- বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১১,২৯১.
বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন -
  1. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

অন্যদিকে, 
- প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৯২.
'এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী'- গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) অতুল্প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী'- গানটির গীতিকার 'কাজী নজরুল ইসলাম' 
- এটি একটি বেহাগ মিশ্র কাওয়ালি।  এটি নজরুল গীতি।  
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

গানটির কয়েকটি লাইন: 
এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায়
হেরিনু পল্লি-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে
ঝলমল করে লাবণি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম-কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।

• তাঁর রচিত গানের বই:
- বুলবুল, চোখের চাতক, চন্দ্রবিন্দু, সুরসাকী, জুলফিকার, বনগীতি, গুলবাগিচা, গানের মালা ও গীতি শতদল ইত্যাদি। 

তাছাড়া, 
আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ দেশাত্মকবোধক গানের রচয়িতা:
- জয় বাংলা বাংলার জয় গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- সব কটা জানালা খুলে দাও না গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু। 
- জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি সিকান্দার আবু জাফর রচিত।
-  সালাম সালাম হাজার সালাম গানটি ফজলে এ খোদা রচিত।
- একটি ফুলকে বাচাবো বলে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্বদিগন্তে সূ্র্য উঠেছে প্রভৃতি গানের রচয়িতা গোবিন্দ হালদার। 

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা : গান, দৈনিক ভোরের কাগজ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৯৩.
“বিষাদ সিন্ধু” উপন্যাসের নায়ক-
  1. ক) ইমাম হাসান
  2. খ) সীমার
  3. গ) এজিদ
  4. ঘ) ইমাম হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) এজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এজিদ
ব্যাখ্যা

ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরীর একটা কলাম থেকে -
"এজিদই ‘বিষাদ-সিন্ধু’র প্রধান চরিত্র। তার কামনা-বাসনাকে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাসের সূচনা এবং তার শোচনীয় বিপর্যয়েই এই কাহিনীর সমাপ্তি। তার কর্মকাণ্ডকে অবলম্বন করেই ‘বিষাদ-সিন্ধু’র কাহিনী পল্লবিত হয়ে উঠেছে। লেখক এজিদ চরিত্র-চিত্রণে যতটা আন্তরিক ও মনোযোগী, অন্য চরিত্র অঙ্কনে ততখানি নিবিষ্ট হতে পারেননি। রিপুশাসিত রক্ত-মাংসের একজন মানুষের প্রকৃতি, প্রবণতা ও বাস্তবতা নিয়ে এজিদ চরিত্রটি উপস্থাপিত। এ-প্রসঙ্গে মুনীর চৌধুরীর বিশ্লেষণ স্মরণীয় : ‘গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা স্পষ্ট এবং প্রদীপ্ত চরিত্র এজিদের। তার চিন্তায়-আচরণে, আবেগে-অভিব্যক্তিতে এমন একটা দৃঢ় গাঢ় ঔজ্জ্বল্য আছে যে অন্যান্য চরিত্র তার পাশে নিতান্ত মর্যাদাহীন বলে মনে হয়। নীতিবিদের দৃষ্টিতে এজিদের ক্রিয়াকর্ম যত গর্হিত ও অভিশপ্ত বিবেচিত হোক না কেন, চরিত্র বিচারের সাহিত্যিক মানদণ্ডে এজিদের মতো প্রাণময় পূর্ণাবয়ব পুরুষ সমগ্র উপন্যাসে দ্বিতীয়টি নেই। এজিদ পাপী, ধর্মদ্রোহী এবং ইন্দ্রিয়পরবশ। কিন্তু এজিদের পাপের প্রকৃতি অসামান্য, তার বিকাশ প্রলয়ঙ্করী, তার পরিণাম যেমন ভয়াবহ, তেমনি শোকাবহ।’"

ইমাম হোসেন প্রথম পর্ব তথা মহরম পর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী দুই পর্বের নাম - উদ্ধার পর্ব এবং এজিদ বধ।

বিষাদ সিন্ধুর - কাহিনীতে এন্টি-এস্টাবলিশমেন্টের চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্যের অনুকরণে করেছেন।
ইতিহাস মিশ্রিত এই উপন্যাসের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১১,২৯৪.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোন কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন?
  1. উত্তরফাল্গুনী
  2. তন্বী
  3. ক্রন্দসী
  4. অর্কেস্ট্রা
সঠিক উত্তর:
তন্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তন্বী
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন - 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ।  উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- তন্বী, 
- অর্কেস্ট্রা, 
- ক্রন্দসী, 
- উত্তরফাল্গুনী, 
- সংবর্ত, 
- প্রতিদিন, 
- দশমী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- স্বগত, 
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৯৫.
ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের কবি ছিলেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৯৬.
সমর সেন কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কবিতা
  2. পরিচয়
  3. পূর্বাশা
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু ও অজিত দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা - প্রগতি।
- এটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা - পরিচয়।
- এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৯৭.
'শেষ বিকেলের মেয়ে' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোট গল্প
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২) প্রখ্যাত বাংলাদেশী কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,২৯৮.
"মুসাফির" কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবুল হোসেন
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৯৯.
'লীলাবতী’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সেলিম আল দীন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘লীলাবতী’ দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক।
- নাটকটি ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৩০০.
১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথামালা
  2. বোধোদয়
  3. আখ্যানমঞ্জরী
  4. বর্ণপরিচয়
সঠিক উত্তর:
বর্ণপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণপরিচয়
ব্যাখ্যা
• বর্ণপরিচয়: 
- বর্ণপরিচয় প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ।
- শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।
- ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।
- সেই সময় থেকে অদ্যাবধি শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এটি উভয় বাংলায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহূত হয়ে আসছে।
- গ্রন্থটির প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে।
- দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।
- বইটি প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ হিসেবে এখনো পঠিত হয়। 

-------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
 
কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।
 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যানমঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।