বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০৭ / ১৭৪ · ১০,৬০১১০,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১০,৬০১.
‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো'- কি জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্য্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) সম্পাদনা
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

- অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬০২.
'লালসালু' উপন্যাসে কোন অঞ্চলের জীবন চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) সিলেট
  3. গ) নোয়াখালী
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
গ) নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাসে নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবন চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

• ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬০৩.
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. নবকুমার
  3. মতিবিবি
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) কপালকুণ্ডলা।
‘কপালকুণ্ডলা’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস (প্রকাশকাল ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো কপালকুণ্ডলা, এক সন্ন্যাসীর আশ্রমে লালিত এক সুন্দরী কন্যা।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো নবকুমার, মতিবিবি, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) রচনা করেন।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬০৪.
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অগ্নিসাক্ষী
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. অনেক সূর্যের আশা
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান। কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬০৫.
"এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি
 নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।"- উক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আহসান হাবীব 
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ফররুখ আহমদ 
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

"এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।"-  উক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচনা। 

• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর তিন মাস পর, ১৯৪৭ সালে।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে এক স্মরণীয় সংযোজন।
- এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।"

-------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে। নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬০৬.
"কমলাকান্ত" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ সংকলন
  4. ত্রয়ী উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
• প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্ত":
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্ত"। এটি নকশা জাতীয় রম্য রচনা।
- 'কমলাকান্তের দপ্তর', 'কমলাকান্তের পত্র', 'কমলাকান্তের জবানবন্দী'-এই তিনটি বইয়ের একত্রিত নাম কমলাকান্ত। দপ্তরের রচনাগুলি প্রথম প্রকাশিত হয় বঙ্গদর্শন পত্রিকায়।

সংকলনের তিনটি অংশ হলো-
১. কমলাকান্তের দপ্তর,
২. কমলাকান্ত পত্র ও
৩. কমলাকান্তের জবানবন্দি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬০৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. ঝিলিমিলি
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 

• 'ঝিলিমিলি' নাটক সম্পর্কিত আলোচনা: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
• ঝিলিমিলি
• সেতুবন্ধ
• শিল্পী।
-------------
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা।
- মৃত্যুক্ষুধা ।
- কুহেলিকা। 

• 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। 
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে। অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে। মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস: 
- ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে(১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬০৮.
'জোহরা' চরিত্র কোন নাটকের?
  1. রক্তকরবী
  2. বিবাহ বিভ্রাট
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক 'রক্তাক্ত প্রান্তর'।
• এই নাটকের চরিত্রঃ
- জোহরা
- জরিনা
- হিরণ বালা
- ইব্রাহীম কার্দি
উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।

১০,৬০৯.
"আনন্দের মৃত্যু" গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

′আনন্দের মৃত্যু' গল্পটির রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪) উপন্যাসের রচিয়তা তিনি। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬১০.
’বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
’বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটির লেখক- ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

• ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বৈদিক ভাষা, বৌদ্ধ সংস্কৃত, তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব, তিববতি ও প্রাচীন পারসিক ভাষা এবং জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন খোতনি, প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা শেখেন।
-  তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। 
- গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন।
- তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে রচনা করেন- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬১১.
‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনাম গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যগ্রন্থের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
- জীবনানন্দ দাশ তাঁর অশ্রুতপূর্ব উপমা প্রয়োগে বাংলা সাহিত্যে এই অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।

------------------------
⇒ জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১০,৬১২.
কোনটি সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস?
  1. আর্তনাদ
  2. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  3. উৎস থেকে নিরন্তর
  4. একাত্তরের নয় মাস
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• ‘একাত্তরের নয় মাস’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক প্রবন্ধ।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬১৩.
'সারাদুপুর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

'সারাদুপুর' কাব্যগ্রন্থ:
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম - 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।
- কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬১৪.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি -
  1. পথে প্রবাসে
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. দেশে বিদেশে
  4. তুরস্ক ভ্রমণ
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক ভ্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক ভ্রমণ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি - তুরস্ক ভ্রমণ

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি - দেশে বিদেশে।
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত - পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি - পথে প্রবাসে।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ, 
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬১৫.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক-
  1. নবীন তপস্বিনী
  2. নীলদর্পণ
  3. লীলাবতী
  4. জামাই বারিক
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।

- নাটকটিতে নাট্যকারের প্রত্যক্ষ স্বজাতি-প্রেম এবং বিদেশী শাসকের প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নাটকটির নাম ছিল 'নীলদর্পণম নাটকম' এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল: ‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।' নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।

- অনুমান করা হয় এটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন এবং অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

- নীলকরেরা কি ধরনের অত্যাচার করত সে সম্পর্কে যোগেশচন্দ্র বাগল লিখেছেন, 'নীলকর কর্তৃক টাকা দাদন দিয়ে উৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষে চাষীকে প্ররোচনা, আশানুরূপ ফসল না হলে পর বছর নীল উৎপাদনে তাকে বাধ্য করান, নীল চাষের জন্য দশ বছরের চুক্তি, পুরুষানুক্রমে নীলকরের আজ্ঞাবহ প্ৰজায় পরিণতি, নীলকরদের জমিদারী তালুকদারী ক্রয়, প্রজাবৃন্দদের দ্বারা বেগার খাটান, চুক্তি ভঙ্গকারী চাষিদের নীলকুঠিতে কয়েদ করে রাখা ইত্যাদি অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
 
- বাস্তব চিত্র রূপায়ণের ফলে সে আমলে নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রবল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। 

অন্যদিকে, 
• ‘নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক।
• দীনবন্ধু মিত্রের ‘লীলাবতী’ (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• ‘জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

১০,৬১৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদের 'হাড়' কবিতার পটভূমি কী ?
  1. ক) পলাশী যুদ্ধ পরবর্তী সংগ্রাম
  2. খ) সিপাহী যুদ্ধ পরবর্তী সংগ্রাম
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সংগ্রাম
  4. ঘ) বুদ্ধিজীবি হত্যা
সঠিক উত্তর:
ক) পলাশী যুদ্ধ পরবর্তী সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পলাশী যুদ্ধ পরবর্তী সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'হাড়' কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে? 
- দেশপ্রেম মূলক এই কবিতার মধ্যে এদেশের সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ও তাৎপর্য উন্মোচিত হয়েছে। 
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর থেকে যে শোষন, নির্যাতন, নিপীড়নের পটভূমিতে যে বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছিলো কবিতাটিতে সেই সংগ্রামের পরিচয় ফুটে উঠেছে। 

আলাউদ্দিন আল আজাদের উল্লেখযোগ্য কাবগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২),
- লেলিহান পান্ডুলিপি (১৯৭৫),
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ (১৯৮৩),
- সাজঘর (১৯৯০) ,
- শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৮৭)।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)
১০,৬১৭.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' - ছাত্রদের এই উপদেশ দিতেন-
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  4. ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন।
ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল-
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।
ডিরোজিও-র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৬১৮.
'কাণ্ডারী এই তরীর পাকা মাঝি মাল্লা, দাড়ি মুখে সারি গান লা-শরিক আল্লাহ'- কোন কবিতার অংশ?
  1. খেয়াপারের তরণী
  2. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  3. রণভেরী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা, 
দাঁড়ি-মুখে সারিগান লা-শরিক আল্লাহ! - কবিতাংশটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'খেয়াপারের তরণী' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
- 'খেয়াপারের তরণী' কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

খেয়াপারের তরণী
কাজী নজরুল ইসলাম

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

তমসাবৃতা ঘোরা 'কিয়ামত' রাত্রি,
খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী!
দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী,
শিঙ্গার হুঙ্কারে থরথর যামিনী!

লঙ্ঘি এ সিন্ধুরে প্রলয়ের নৃত্যে
ওগো কার তরী ধায় নির্ভীক চিত্তে-
অবহেলি জলধির ভৈরব গর্জন
প্রলয়ের ডঙ্কার ওঙ্কার তর্জন!

পুণ্য-পথের এ যে যাত্রীরা নিষ্পাপ,
ধর্মেরি বর্মে সু-রক্ষিত দিল্ সাফ!
নহে এরা শঙ্কিত বজ্র নিপাতেও
কাণ্ডারী আহমদ তরী ভরা পাথেয়।

আবুবকর উস্মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারিগান লা-শরিক আল্লাহ!

• অগ্নিবীণা কাব্যের অন্যান্য কবিতাসমূহ:

- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।
১০,৬১৯.
হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মায়াকানন
  3. হেক্টরবধ
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ: 
- এটি হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭ তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৬২০.
কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থ ‘যুগবাণী’ কত সালে নিষিদ্ধ হয়?
  1. ১৯২১
  2. ১৯২২
  3. ১৯২৩
  4. ১৯২৪
সঠিক উত্তর:
১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২
ব্যাখ্যা

যুগবাণী: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ বই হলো ‘যুগবাণী’।
- ‘যুগবাণী’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারা অনুযায়ী বইটি বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘যুগবাণী’-র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- গ্রন্থের প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চেতনা ও ব্রিটিশবিরোধী ভাবধারা প্রকাশ পেয়েছে।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ (৫টি)-
- যুগবাণী - প্রবন্ধগ্রন্থ; নিষিদ্ধ: ২৩ নভেম্বর ১৯২২; প্রত্যাহার: ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী - কবিতাগ্রন্থ; নিষিদ্ধ: ২২ অক্টোবর ১৯২৪; প্রত্যাহার: ২৭ এপ্রিল ১৯৪৫।
- ভাঙার গান - কবিতাগ্রন্থ; নিষিদ্ধ: ১১ অক্টোবর ১৯২৪।
- প্রলয়শিখা - কবিতাগ্রন্থ; নিষিদ্ধ: ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু - গানের সংকলন; নিষিদ্ধ: ১৪ অক্টোবর ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া

১০,৬২১.
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে" -এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কায়কোবাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে”—এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের রচনা।
----------------------------------------
• বনলতা সেন।  
   —জীবনানন্দ দাশ

"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।" 
-----------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’।
- কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   
-------------------------------------
'বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা: 
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।

- জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতাটি মূলত দীর্ঘ সময়ের ক্লান্ত জীবনযাত্রা ও মানসিক অস্থিরতার পর মানুষের অন্তরে শান্তি, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। এটি শুধু প্রেমের কবিতা নয়; বরং জীবনের জীর্ণতা ও একাকিত্বের শেষে কবি বনলতা সেন নামক নারীর উপস্থিতি এবং নাটোরের শান্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক গভীর আত্মিক স্বস্তি ও প্রশান্তির সন্ধান পেয়েছেন।

উৎস:
'বনলতা সেন' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১০,৬২২.
'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4.  রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েন উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা

• ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস:
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নিদারুণ অর্থনৈতিক সংকট মানবাত্মাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিলো। এর ফলশ্রুতি-এক মুঠো আহার না পেয়ে মানুষ নিজের ইজ্জত খোলাম-কুচির মতো বিকিয়েছিলো, পশুর চেয়েও নিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিলো তার নৈতিক ধর্ম। সেসব দিনের অনেক ঘটনা চাক্ষুষ দেখবার দুর্ভাগ্য লেখকের হয়েছিল; সেগুলো আঘাত করেছে তাঁর মানসপটে, হৃদয়ে। এ উপন্যাস সেসব মনোবেদনারই জীবন্ত চেতনা বা ভাষারূপ।


• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬২৩.
নিম্নের কোনটি সুকুমার রায় গঠিত-
  1. ক) ননসেন্স ক্লাব
  2. খ) মানডে ক্লাব
  3. গ) মন্ডা ক্লাব
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি (১৯১১) পাস করেন।

• সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা।
- বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’
- এখানে আলোচনা ও পাঠের সঙ্গে থাকত ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
- তাই ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ একে বলত ‘মন্ডা ক্লাব’

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২৪.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. কাজী শহীদুল্লাহ
  3. আবু মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২৫.
হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন কবে ?
  1. ১৪ নভেম্বর ২০২১
  2. ১৫ নভেম্বর ২০২১
  3. ১০ নভেম্বর ২০২১
  4. ১৬ নভেম্বর ২০২১
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর ২০২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর ২০২১
ব্যাখ্যা

দীর্ঘদিন বিভিন্ন অসুস্থতায় ভোগার পর, ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর, হাসান আজিজুল হক তার রাজশাহীর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। 
- তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাধিস্থ করা হয়।

- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা মোহাম্মদ দোয়া বখশ এবং মাতা জোহরা খাতুন। 
- জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
গল্পগ্রন্থ
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪)
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)
- জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩)
- নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)
- পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১

উপন্যাস:
- আগুনপাখি(২০০৬)
- সাবিত্রী উপাখ্যান (২০১৩)
- শামুক (২০১৫)

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- ফিরে যাই, ফিরে আসি (১ম অংশ, ২০০৯)
- উঁকি দিয়ে দিগন্ত (২য় অংশ, ২০১১)

উৎস: প্রথম আলো রিপোর্ট ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬২৬.
”যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।” পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

”যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি, 
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।”
- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা।
- এটি শেষের কবিতা উপন্যাসের অংশ।

• শেষের কবিতা: 
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

-  তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬২৭.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ১৯৪২
  2. ১৯৪৫
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯৫৮
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 

• লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ, 
- জমিলা, 
- আমেনা, 
- খালেক ব্যাপারী, 
- রহিমা, 
- তাহেরের বাপ, 
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২৮.
বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে কবি নন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. অমিয় চক্রবর্তী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে কবি নন- জসীমউদ্‌দীন।

-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬২৯.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত অনুবাদগ্রন্থ নয়?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. সীতার বনবাস
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ব্রজবিলাস
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা
• 'ব্রজবিলাস' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক রচনা।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
• হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
• কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা'।
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ)।
• ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ এবং বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত 'সীতার বনবাস'।
• সেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৩০.
'ভারত পাঁচালী' কার পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত হয়েছে?
  1. হার্মদ
  2. ছুটি খান
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
ছুটি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছুটি খান
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খার মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- সেই মতো শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন। 
- যা 'ছুটিখানী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৩১.
বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত-
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নজরুল ইসলাম
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী: 
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর ছদ্মনাম- বীরবল।
- চলিত রীতিতে তাঁর রচিত প্রথম গদ্য রচনা - বীরবলের হালখাতা ।
- ১৯১৪ সালে তাঁর সম্পাদিত মাসিক  সবুজপত্র পত্রিকা প্রকাশ পায়।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি- ”সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত”
- ১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ :
- তেল-নুন-লাকড়ি,
- নানাকথা ,
- বীরবলের হালখাতা ,
- আমাদের শিক্ষা,
- দুই ইয়ারির কথা ,
- বীরবলের টিপ্পনী ,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা ,
- ঘরে বাইরে ,
- প্রাচীন হিন্দুস্থান ,
- বঙ্গ সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয়,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ১ম ও ২য় খণ্ড ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো।

১০,৬৩২.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী 
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,৬৩৩.
'কেনারাম' চরিত্রটি পাওয়া যায়_____নাটকে।
  1. ক) নবীন তপস্বিনী
  2. খ) লীলাবতী
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) জামাই বরিক
সঠিক উত্তর:
গ) সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাসক্তি একশ্রেণীর যুবকের জীবনে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিলো। সধবার একাদশী সেই বিপর্যয়ের কাহিনী নিয়ে রচিত। এই নাটকের চরিত্র নিমে দত্ত বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় চরিত্র। এই নাটকের কেনারাম চরিত্রের মধ্য দিয়ে তৎকালীন শিক্ষিত শ্রেণীর নৈতিক অবস্থান ফুটে উঠেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৬৩৪.
'বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।' কবিতাংশটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সমর সেন
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।' কবিতাংশটির রচয়িতা- সুকান্ত ভট্টাচার্য। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭):

- কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর বি ত মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।
-------------------------------------------
উদ্যোগ- কবিতা, 

বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত ।
মুঢ় শত্রুকে হানো স্রোত রুখে, তন্দ্রাকে করো ছিন্ন,
একাগ্র দেশে শত্রুরা এসে হয়ে যাক নিশ্চিহ্ণ ।
ঘরে তোল ধান, বিপ্লবী প্রাণ প্রস্তুত রাখ কাস্তে,
গাও সারিগান, হাতিয়ারে শান দাও আজ উদয়াস্তে ।
আজ দৃঢ় দাঁতে পুঞ্জিত হাতে প্রতিরোধ কর শক্ত,
প্রতি ঘাসে ঘাসে বিদ্যুৎ আসে জাগে সাড়া অব্যক্ত ।
আজকে মজুর হাতুড়ির সুর ক্রমশই করে দৃপ্ত,
আসে সংহতি; শত্রুর প্রতি ঘৃণা হয় নিক্ষিপ্ত ।
ভীরু অন্যায় প্রাণ-বন্যায় জেনো আজ উচ্ছেদ্য,
বিপন্ন দেশে তাই নিঃশেষে ঢালো প্রাণ দুর্ভেদ্য !
সব প্রস্তুত যুদ্ধের দূত হানা দেয় পুব-দরজায়,
ফেণী ও আসামে, চট্টগ্রামে ক্ষিপ্ত জনতা গর্জায় ।
বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত॥

উৎস: পূর্বাভাস কাব্য- সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড.সৌমিত্র শেখর। 
১০,৬৩৫.
‘সুনন্দ’ ছদ্মনামে লিখতেন কোন লেখক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়:
- তিনি প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ছিলেন। প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলার বালিয়াডিঙ্গিতে তাঁর জন্ম।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় শনিবারের চিঠির নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- জীবনের শেষ সময়ে তিনি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ‘সুনন্দ ছদ্মনামে লিখতেন

অন্যদিকে,
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম- জরাসন্ধ। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- উপনিবেশ,
- সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী,
- শিলালিপি,
- লালমাটি ইত্যাদি।

জীবনের শেষ সময়ে তিনি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ‘সুনন্দ’ ছদ্মনামে লিখতেন।
১০,৬৩৬.
বিদ্যাপতির পদাবলী সংবলিত An introduction to Maithili Language of north India গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. ঘ) জোশুয়া মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা

১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর মৈথিলী ভাষার ব্যাকরণ An Introduction of the Maithili Language of North India এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা। বিহারে থাকাকালে গ্রিয়ারসন সেখানকার কৃষকদের সঙ্গে মিশে তাঁদের ভাষা ও জীবন সম্পর্কে অবহিত হন। ফলে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে তিনি Bihar Peasant Life নামে এক অনন্য গ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া ১৮৮৩-৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গ্রিয়ারসন রচিত বিহারের সাতটি উপভাষার ব্যাকরণ Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of Bihari Language আট খন্ডে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৩৭.
'নীলদর্পণ’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক — নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক 

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৩৮.
কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. মৃত্তিকা
  2. কুয়াশা
  3. মিছিল
  4. উপনয়ন
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকা
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল
- উপনয়ন
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৩৯.
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা ‘সাম্যবাদী’র শেষ পঙ্‌ক্তি এটি।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১০,৬৪০.
'পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল' বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. আহসান হাবীব
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন কবি ও সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি 'চট্টোপাধ্যায়' হলেও প্রাপ্ত উপাধি 'তর্কালঙ্কার' হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করে
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়। 

- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর 'শিশু শিক্ষা' (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ; ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

- কবি-প্রতিভার জন্য  সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন। 

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪১.
কোনটি নবীনচন্দ্র সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. অমৃতাভ
  2. কুরুক্ষেত্র
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।

নবীনচন্দ্র সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পলাশীর যুদ্ধ,
- কুরুক্ষেত্র,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৪২.
‘কীর্তিবিলাস’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
'কীর্তিবিলাস' নাটক: 
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৬৪৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গন্থসমূহের মধ্যে নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. মরুভাস্কর
  2. চক্রবাক
  3. কুহেলিকা
  4. বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কুহেলিকা:
- ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪৪.
'স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার।'
- পঙক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯): শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত পঙক্তিটি 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা থেকে নেওয়া।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ - জেগে আছি (১৯৫০), ধানকন্যা (১৯৫১), জীবন জমিন (১৯৮৮) প্রভৃতি।
ষাটের দশকে রচিত তাঁর উপন্যাস, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) ও কর্ণফুলী (১৯৬২) ব্যাপক সাড়া জাগায়।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
তাঁর দুটি কাব্যনাট্য- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া৷
১০,৬৪৫.
‘বাদশাহ নামদার’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বাদশাহ নামদার’ উপন্যাস:
• ‘বাদশাহ নামদার’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত বাংলা ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস।
• এটি ২০১১ সালে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়।
• বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সেরা সৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
• হুমায়ূন আহমেদ বাদশাহ নামদার বইটি লেখার সময় গুলবদন বেগম রচিত হুমায়ুন-নামা এবং জওহর আফতাবচির তাজকিরাতুল ওয়াকিয়াত গ্রন্থ থেকে ইতিহাসের ঘটনাবলি নিয়েছেন। আফতাবচি সম্রাট হুমায়ুনকে পানি পান করাতেন।

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪৬.
'চার অধ্যায়' উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের সম্পর্ক আছে?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. রবিবার
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. ব্যবধান
সঠিক উত্তর:
রবিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবিবার
ব্যাখ্যা
'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪৭.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায় একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা।
• তিনি একসময় 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- নির্মাল্য,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অম্বা,
- পৌরাণিকী,
- অশোক সঙ্গীত,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে,
- গুঞ্জন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৬৪৮.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বসন্তকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. ভদ্রার্জুন
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ভদ্রার্জুন।
- মাইকেল মধুসূদন রচিত নাটক- 'পদ্মাবতী', ‘কৃষ্ণকুমারী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪৯.
‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' নামক মুদ্রিত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. হেনরী লুই
  3. দোম অ্যান্তোনিও
  4. হেনরী পিটস
সঠিক উত্তর:
দোম অ্যান্তোনিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম অ্যান্তোনিও
ব্যাখ্যা
• দোম আন্তোনিও (১৭শ-১৮শ শতক): 
- বাংলা গদ্যরীতির প্রথম লেখক ও বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচারক।
- আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন যশোর-ফরিদপুর অঞ্চলের  ভূষণা রাজ্যের রাজ পরিবারের সদস্য।
- আন্তোনিও 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক' সম্বাদ নামে ১২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাধু গদ্যরীতির আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ সেনের সম্পাদনায়  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
১০,৬৫০.
'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীম উদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।

কবর,
- জসীম উদ্‌দীন

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
------------------------------------------
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে,
এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজীদ হইছে আজান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুর,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দুর!
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর্, ‘আয় খোদা, রহমান,
ভেস্ত নাজেল করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত প্রাণ!’

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৫১.
আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ব্যঙ্গরচনা
  4. ঘ) প্রহসন
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঙ্গরচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঙ্গরচনা
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'আয়না'- 'ব্যঙ্গরচনা'।   

• আবুল মনসুর আহমদ: 
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না  ও
- ফুড কনফারেন্স।   

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৫২.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. অবিশ্বাস্য
  2. চাচা-কাহিনী
  3. দেশে বিদেশে
  4. পঞ্চতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
দেশে বিদেশে: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি 'দেশে বিদেশে' (১৯৪৯)।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণকাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহরে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৫৩.
“পায়ের আওয়ায পাওয়া যায়” কি ধরনের রচনা?
  1. ক) ছােটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্যনাটক
  4. ঘ) পত্রোপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাটক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান ও
- নীল দংশন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন, ত্রাহী,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যঃ
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৬৫৪.
'ধাত্রীদেবতা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন-
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'ধাত্রীদেবতা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- এটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে একটি হচ্ছে- ধাত্রীদেবতা। 
- এটি বঙ্গশ্রী পত্রিকায় 'জমিদারের মেয়ে' নামে ছোট আকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- চার বছর পরে শনিবারের চিঠিতে 'ধাত্রীদেবতা' নামে যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। 
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি 
- ধাত্রীদেবতা 
- কালিন্দী 
- গণদেবতা 
- পঞ্চগ্রাম 
- কবি 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা 
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- বেদে,  
- পটুয়া,
- মালাকার,
- লাঠিয়াল,
- চৌকিদার,  
- বাগদী,
- বোষ্টম,  
- ডোম ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১০,৬৫৫.
“শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ স্মৃতি গন্ধে ভরপুর,
একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।” - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান 
  4. হেলাল হাফিজ 
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• “শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ স্মৃতি গন্ধে ভরপুর,
একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং। - এই পঙ্‌ক্তিগুলো কবি শামসুর রাহমানের 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা,
---------শামসুর রাহমান।   

আবার ফুটেছে দেখো কৃষ্ণচূড়া  থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ওরা
শহিদের  ঝলকিত রক্তের  বুদ্ বুদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশর কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
এ রংয়ে র বিপরীত আছে অন্য রং,
যে রং লাগে না ভালো চোখে, যে রং সন্ত্রাস আনে
প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যা
 এখন সে রঙে  গেছে পথ- ঘাট সারা দেশ
ঘাতকের অশুভ আস্তানা।

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা: 
- 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতাটি নেয়া হয়েছে কবি শামসুর রহমান এর ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
- এ কবিতার পটভূমি  পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ এ সূচিত পূর্ববঙ্গের মানুষের গণ আন্দোলন। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
- ১৯৫২ তে ভাষা শহিদ সালামের রক্তে অর্জিত বাংলা ভাষাই ৬৯ সালের আন্দোলনে প্রতিবাদীদের মুখে ধ্বনিত হয়েছে।
- কবি দেখেছেন যে, ১৯৫২ সালের সংগ্রামের অর্জন ১৯৬৯ সালের আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৫৬.
সনেটের বৈশিষ্ট্য- i) চৌদ্দ চরণবিশিষ্ট ii) প্রতি চরণে চৌদ্দ মাত্রা iii) তিন পর্ব
  1. ক) i, ii ও iii
  2. খ) i
  3. গ) i ও ii
  4. ঘ) ii ও iii
সঠিক উত্তর:
গ) i ও ii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) i ও ii
ব্যাখ্যা

- সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম উদ্ভব হয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইতালিতে।
- ইংল্যান্ডে সনেটের প্রবর্তন হয় স্যার থমাস ওয়াইয়াট এবং হেনরি হাওয়ার্ডের মাধ্যমে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
এটি সাধারণত দুই পর্বে রচিত হয়। এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে। অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্টকে ভাবের পরিণতি থাকে।
উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৬৫৭.
শামসুর রাহমান রচিত ''ইলেক্ট্রার গান'' কবিতায় মিথের আড়ালে দ্যোতিত হয়েছে -
  1. ক) পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ
  2. খ) সন্তানহারা জননীর বেদনা
  3. গ) অপরিসীম অপত্যস্নেহ
  4. ঘ) শিশুপুত্র রাসেল - হত্যার করুণ কাহিনি
সঠিক উত্তর:
ক) পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ
ব্যাখ্যা

কবি শামসুর রহমান রচিত ''ইলেক্ট্রার গান'' কবিতায় মিথের আড়ালে দ্যোতিত হয়েছে পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ।

কবিতার নিম্নোক্ত চরণগুলো পড়লেই এ ব্যাপারটি পরিষ্কার ভাবে বোধগম্য হয়। 

''নিহত জনক, ত্র্যাগামেমনন্‌, কবরে শায়িত আজ।
সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহান
বিজয়ী সে বীর দূর দেশ থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে।
শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস;
পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত।

নন্দিত সেই নায়ক অমোঘ নিয়তির টানে
গরীয়ান এক প্রাসাদের মতো বিপুল গেলেন ধ্বসে।
বিদেশী মাটিতে ঝরেনি রক্ত; নিজ বাসভূমে,
নিজ বাসগৃহে নিরস্ত্র তাঁকে সহসা হেনেছে ওরা।''

১০,৬৫৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ 'একাত্তরের নিশান' রচনা করেন কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ 'একাত্তরের নিশান' রচনা করেন - রাবেয়া খাতুন। 
 
রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'। পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।
 
রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৫৯.
শেখ আজিজুর রহমান কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সানাউল হক
  3. শওকত আলী
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ক্রীতদাসের হাসি 
- সমাগম 
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- জাহান্নাম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক 
-  নেকড়ে অরণ্য 
- পতঙ্গ পিঞ্জর 
- রাজসাক্ষী 
- জলাংগী 
-পুরাতন খঞ্জর 

তাঁর রচিত গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প 
- প্রস্তর ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
- শ্রেষ্ঠ গল্প 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে 
-  ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী 

তাঁর রচিত নাটক 
- আমলার মামলা 
-তস্কর ও লস্কর 
- বাগদাদের কবি 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা 

শিশুতোষ: 
- ওটেন সাহেবের বাংলো
- তারা দুই জন 
- ক্ষুদে সোশালিস্ট 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৬৬০.
'রক্তকরবী' নাটকের অন্তর্গত বিষয় কী?
  1. নতুনের জয়গান গাওয়া 
  2. সামন্তবাদের বিলুপ্তি দেখানো
  3. শ্রমিকদের অপ্রাপ্তি তুলে ধরা
  4. পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
সঠিক উত্তর:
পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো।

অর্থ্যাৎ, 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকটি একটি — সাংকেতিক নাটক, যেখানে পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব এবং এর ফলে মানুষের জীবনের সৌন্দর্য, স্বাভাবিকতা ও মানবিকতার ক্ষয় প্রকাশ পেয়েছে।

• 'রক্তকরবী' নাটকের: সংক্ষিপ্ত কাহিনী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকে য— ক্ষপুরীর রাজার অর্থলোভ ও প্রজাশোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজা সোনার খনির কুলিদের মানুষ হিসেবে নয়, শুধুমাত্র উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে দেখেন। এই যান্ত্রিকতায় মানুষের প্রেম, সৌন্দর্য ও মনুষ্যত্ব পীড়িত। নন্দিনী, প্রেম ও জীবনের প্রতীক, যক্ষপুরীর শোষণের বিরুদ্ধে আনন্দের দূত হয়ে আবির্ভূত হন। তিনি সবাইকে মুক্ত জীবনের দিকে আহ্বান করেন। রাজা শক্তির জোরে নন্দিনীকে পেতে চান, কিন্তু প্রেম ও সৌন্দর্য জয় করা যায় না। রঞ্জন, নন্দিনীর প্রেমাস্পদ, যান্ত্রিকতার শিকার হয়ে নিঃশেষিত হয়। তবু নাটক জীবনের প্রাণশক্তির জয় ও যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মানবিকতার সামঞ্জস্যের বার্তা দেয়।

• 'রক্তকরবী' নাটক সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।

নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

উল্লেখ্য,
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।
-------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,  
- রাজা,  
- ডাকঘর,  
- অচলায়তন, 
- ফাল্গুনী, 
- গুরু,  
- অরূপরতন,  
- মুক্তধারা,  
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা, 
- তাসের দেশ।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; রবীন্দ্র রচনাবলী; 'রক্তকরবী' নাটক।

১০,৬৬১.
বিভীষণের স্ত্রীর নাম কী?
  1. ক) ঊর্মিলা
  2. খ) মন্দোদরী
  3. গ) চিত্রঙ্গদা
  4. ঘ) সরমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরমা
ব্যাখ্যা

সরমা - রামায়ণোক্ত বিভীষণপত্নী।
অর্থাৎ রামায়ণে যে বিভীষণের উল্লেখ আছে, তার স্ত্রীর নাম হচ্ছে সরমা। 

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান 

১০,৬৬২.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল লতিফ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৬৩.
'হরগজ' নাটকটির পটভূমি কোন জেলা?
  1. মুন্সীগঞ্জ
  2. মানিকগঞ্জ
  3. ফরিদপুর
  4. সাতক্ষীরা
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা

'হরগজ' নাটক:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ সালে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে সেলিম আল দীন এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৬৪.
বুদ্ধদেব বসু'র উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মৌলিনাথ
  2. খ) কর্ণফুলী
  3. গ) নীল যমুনা
  4. ঘ) স্থাবর
  5. ঙ) কাকজ্যোৎস্না
সঠিক উত্তর:
ক) মৌলিনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৌলিনাথ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসমূহ হলো- তিথিডোর, একদা তুমি প্রিয়ে, রাতভর বৃষ্টি, মৌলিনাথ প্রভৃতি। কর্ণফুলী, নীল যমুনা, স্থাবর ও কাকজ্যোৎস্না উপন্যাসের রচয়িতা যথাক্রমে আলাউদ্দিন আল আজাদ, আব্দুল গাফফার চৌধূরী, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ও অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১০,৬৬৫.
What is the date of birth of the national poet of Bangladesh?
  1. May 24, 1888
  2. May 24, 1899
  3. August 29, 1888
  4. August 29, 1899
সঠিক উত্তর:
May 24, 1899
উত্তর
সঠিক উত্তর:
May 24, 1899
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
• বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• ধুমকেতু, নবযুগ, দৈনিক নবযুগ, লাঙল পত্রিকাগুলো সম্পাদনা করেন।  

♣♣
• ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।   
• বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।

• ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। 
• এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

• ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৬৬.
কোন কাব্যে নামকরণ রবীন্দ্রনাথ করে যেতে পারেননি?
  1. ক) শেষ সপ্তম
  2. খ) পরিশেষ
  3. গ) পুনশ্চ
  4. ঘ) শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেষলেখা
ব্যাখ্যা
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। কিছু কবিতা মুখে মুখে রচিত। নামকরণ করে যেতে পারেননি। 

উৎস: রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা।
১০,৬৬৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মাসিক কিশোর পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) ধান শালিকের দেশ
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) আঙুর
  4. ঘ) কালিকলম
সঠিক উত্তর:
গ) আঙুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আঙুর
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মাসিক কিশোর পত্রিকার নাম হচ্ছে - আঙুর।
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা 'আঙুর' যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- ধান শালিকের দেশ -বাংলা একাডেমি কতৃক প্রকাশিত ত্রৈমাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- সন্দেশ - সুকুমার রায় প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা
- কালিকলম - প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৬৮.
'বিশ শতকের বাঙালী' প্রবন্ধটি কার?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. আহমদ শরীফ
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. বদরুদ্দীন উমর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধঃ
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- বিশ শতকের বাঙালি,
- কালের দর্পণের স্বদেশ,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- একালে নজরুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৬৬৯.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধটির রচয়িতা -
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯)- শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ - বিচিত্র চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা,বিশ শতকের বাঙালি, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, একালে নজরুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া
১০,৬৭০.
বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক -
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. আহমদ শরীফ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৭১.
'উপনয়ন' উপন্যাসটির ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
মূলত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
প্রথমা (১৯৩২),
সম্রাট (১৯৪০),
ফেরারী ফৌজ (১৯৪৮),
সাগর থেকে ফেরা (১৯৫৬),
হরিণ চিতা চিল (১৯৫৯),
কখনাে মেঘ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
পাক (১৯২৬),
মিছিল (১৯৩৩),
উপনয়ন (১৯৩৪),
আগামীকাল (১৯৩৪),
প্রতিশােধ (১৯৪১),
কুয়াশা,
প্রতিধ্বনি ফেরে,
মনুদ্বাদশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
পঞ্চশর (১৯২৯),
বেনামী বন্দর (১৯৩০)
পুতুল ও প্রতিমা (১৯৩২),
মৃত্তিকা (১৯৩২),
অফুরন্ত (১৯৩৫),
ধূলিধূসর (১৯৪৩),
মহানগর (১৯৪৩),
জলপায়রা (১৯৫৭) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,৬৭২.
‘ইরফান মণ্ডল’ ও ‘লালু’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. নদীবক্ষে
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. পল্লী সমাজ
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা

⇒ 'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 

⇒ কাজী আবদুল ওদুদ:
- কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার (বর্তমান রাজবাড়ী জেলার) পাংশায় একটি নিম্ন - মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭০ সালের ১৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর সাহিত্য কর্মগুলো হলো:
• প্রবন্ধ:
- শাশ্বত বঙ্গ,
- বাংলার জাগরণ,
- কবিগুরু গ্যেটে (১ম ও ২য় খণ্ড ১৩৫৩),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ (১ম খণ্ড ১৩৬৯, ২য় খণ্ড ১৩৭৬),
- হযরত মোহাম্মদ ও ইসলাম।
 
• উপন্যাস:
- আজাদ, 
- নদীবক্ষে।

• তাছাড়া:
- মির পরিবার (গল্প),
- মানব বন্ধু (নাটক), 
- পথ ও বিপথ (নাটক), 
- তরুণ (গল্প),
• তার সম্পাদনায় সংকলিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধান - ব্যবহারিক শব্দকোষ (১৯৫৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৬৭৩.
‘তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদা শঙ্কর রায়
  2. খ) আবদুল হাই
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯- ১৯৬৯) প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি ‘ (১৯৫৪), তোষামদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০), ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)। বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন (১৯৫৮) আবদুল হাই রচিত ভ্রমণ কাহিনি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১০,৬৭৪.
'শিব মন্দির' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ- মহাশ্মশান, কুসুম কানন, বিরহ বিলাপ, অশ্রুমালা, শিব মন্দির, অমিয়ধারা, শ্মশানভষ্ম, মহররম শরীফ ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১০,৬৭৫.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. ক) স্বরবৃত্ত
  2. খ) অক্ষরবৃত্ত
  3. গ) মাত্রাবৃত্ত
  4. ঘ) অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অমিয় চক্রবর্তীর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা। কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত (৮ + ১০ মাত্রা)।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ - খসড়া, এক মুঠো, কবিতাবলী, উপহার, পারাপার, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৬৭৬.
কোনটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) খেলাঘর
  2. খ) মাটি আর অশ্রু
  3. গ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  4. ঘ) একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
ক) খেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খেলাঘর
ব্যাখ্যা
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস), 
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
- 'মাটি আর অশ্রু' উপন্যাসের রচয়িতা সিকান্দার আবু জাফর।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৭৭.
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. আলাওল
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৭৮.
“পুরুষ পরীক্ষা” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. হরপ্রসাদ রায়
  3. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ রায়
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক হিসাবে পরিচিত- হরপ্রসাদ রায়।
তার রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষ পরীক্ষা
এছাড়া, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ

১০,৬৭৯.
`একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথের স্ফুলিঙ্গ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 

একটি শিশির বিন্দু
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বহু দিন ধরে' বহু ক্রোশ দূরে
      বহু ব্যয় করি,বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
            দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।

      দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
      ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
            একটি শিশিরবিন্দু।


উৎস: স্ফুলিঙ্গ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০,৬৮০.
'বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. আত্মজীবনী
  4. দিনপঞ্জিকা
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- 'বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' হচ্ছে শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

⇒ শামসুজ্জামান খান: 
- মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার নাম আব্দুর রহমান খান এবং মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম।
- তিনি জাতীয় যাদুঘর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন।

⇒ তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- মাটি থেকে মহীরূহ,
- ফোকলোরচর্চা।

⇒ তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

⇒ তিনি 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' নামে একটি শিশু সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৮১.
"বিজ্ঞান ও মানুষ" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. ইবরাহীম খাঁ
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. আব্দুল হাই
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে:
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৮২.
'মেঘনাদবধ কাব্য' কয় সর্গে বিভক্ত?
  1. ১১টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৮৩.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সংকলন কোনটি?
  1. কয়েকটি গান ও সঙ্গীতপুঞ্জ
  2. গীতরত্ন
  3. কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  4. সঙ্গীতকল্পতরু
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা

• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা- অতুলপ্রসাদ সেন।

• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ':
- গীতিগুঞ্জ ১৯৩১ সালে অতুলপ্রসাদের জীবিতকালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৩৫৬ সালের সংস্করণ অতুলপ্রসাদের ন্যাসরক্ষক সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ হতে প্রকাশিত হয়।
- অতুলপ্রসাদ সেনের ভাই সত্যপ্রসাদ সেন এই সংস্করণ প্রকাশে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছিলেন, তাঁরই চেষ্টায় এই সংস্করণে, পূর্বে অপ্রকাশিত কয়েকটি গান যোজিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
•  রামনিধি গুপ্ত কর্তৃক রচিত টপ্পা গানের একটি সংকলন গ্রন্থ 'গীতরত্ন'।

----------------------
• অতুলপ্রসাদ সেন:
- একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক। তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।'
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তাঁর লেখা গানের সংকলন- 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গীতিগুঞ্জ'  অতুলপ্রসাদ সেন এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৮৪.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন"- উক্তি টি কার?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) আলাওল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৬৮৫.
'পুনর্জন্ম' নাটকটি কার লেখা?
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো: 
- আর্যগাথা
- মন্দ্র 
- আলেখ্য 
- ত্রিবেণী 

- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক: 
- তারাবাঈ 
- রানা প্রতাপসিংহ
- দুর্গাদাস
সোহরাব-রুস্তম (১৯০৮)
- নূরজাহান 
- মেবার পতন 
- সাজাহান 

- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক: 
- পরপারে 
- বঙ্গনারী 
- একঘরে
- কল্কি অবতার 
- বিরহ 
- এ্যহস্পর্শ 
- প্রায়শ্চিত্ত 
- পুনর্জন্ম 
- আনন্দ-বিদায় 

- তাঁর রচিত রোমান্টিক পৌরাণিক নাটক: 
- চন্দ্রগুপ্ত 
- সিংহল বিজয় 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১০,৬৮৬.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. সুফিয়া কামাল 
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয় কবি কুসুমকুমারী দাশ রচিত  'আদর্শ ছেলে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

-----------------------
• কুসুমকুমারী দাশ:

- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে'। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।  

১০,৬৮৭.
কোন উপন্যাসে সামন্তবাদ থেকে পুঁজিবাদে উত্তরণের সংকট আছে?
  1. যোগাযোগ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. ঘরে-বাইরে
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে সামন্তবাদ থেকে পুঁজিবাদে উত্তরণের সংকট চিত্রিত হয়েছে।
এ উপন্যাসে পুরনো জমিদার সমাজের অবক্ষয় ও নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা (ব্যবসা-বাণিজ্য, পুঁজিবাদী সম্পর্ক) — এই দুই যুগের সংঘাত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে কুমোদিনীর স্বামীর নাম হলো মধুসূদন। এই উপন্যাসে কুমোদিনী ও মধুসূদনের সম্পর্কের মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব, শ্রেণিগত পার্থক্য এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'যোগাযোগ' উপন্যাস।

১০,৬৮৮.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক?
  1. ক) মসনদের মোহ
  2. খ) স্বর্ণবোয়াল
  3. গ) অচিনরাগিনী
  4. ঘ) আনারকলি
সঠিক উত্তর:
খ) স্বর্ণবোয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বর্ণবোয়াল
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীনের নাটক- স্বর্ণবোয়াল, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। অচিনরাগিনী উপন্যাসের রচয়িতা সতীনাথ ভাদুড়ী। আনারকলি ও মসনদের মোহ নাটকের রচয়িতা শাহাদাৎ হোসেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৬৮৯.
বাংলা ভাষার আধুনিক যুগের সূচনার সাল ধরা হয়?
  1. ক) ১৭৫০
  2. খ) ১৮০০
  3. গ) ১৮৫০
  4. ঘ) ১৯০০
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮০০
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০১ সাল থেকে বা উনিশ শতক থেকে। ১২০১ সাল বা তের শতক থেকে ১৮০০ বা আঠারো শতক পর্যন্ত হলো মধ্যযুগ। এর মধ্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল হলো অন্ধকার যুগ। প্রাচীন যুগ ধরা হয় ৬৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত সময়কে। মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১০,৬৯০.
কোন গ্রন্থটি ঢাকা হতে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. দুর্গেশ নন্দিনী
  3. নীলদর্পণ
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ দুখণ্ড ও নয় সর্গে রচিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য। প্রথম খণ্ড ১৮৬১ সালের জানুয়ারি মাসে এবং দ্বিতীয় খণ্ড একই বছরের আগস্ট মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উপন্যাসের রচয়িতা। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে।

• 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১২ টি কবিতা রয়েছে। প্রথম কবিতা হচ্ছে ‘প্রলয়োল্লাস’।

---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৯১.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন দুটি বাংলা মাসের নাম পাওয়া যায়?
  1. ক) বৈশাখ ও ফাল্গুন
  2. খ) মাঘ ও ফাল্গুন
  3. গ) আষাঢ় ও শ্রাবণ
  4. ঘ) ভাদ্র ও আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
খ) মাঘ ও ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাঘ ও ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

তাহারেই পড়ে মনে: 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে। 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ। 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কবিতা: 
- সাঁঝের মায়া, 
- মন ও জীবন, 
- উদাত্ত পৃথিবী, 
- অভিযাত্রিক, 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে, 
- মায়া কাজল ইত্যাদি। 

গল্পগ্রন্থ: 
- কেয়ার কাঁটা। 

শিশুতোষগ্রন্থ: 
- ইতল বিতল, 
- নওল কিশোরের দরবারে। 

আত্মজীবনী: 
- একালে আমাদের কাল। 

ডায়েরি: 
- একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৯২.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্রে
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্রে
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• 'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর ছদ্মনাম- হুতোম প্যাঁচা।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল- বীরবল।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৯৩.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন কে?  
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী: 
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম। পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার। 

- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন এবং ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন। পরে তিনি সাহিত্যচর্চায় পরিপূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেন।

- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়। তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।

- সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে। তবে তিনি উচ্চমানের গল্প ও কবিতাও রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। 

- বাংলা কাব্য সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক।

প্রমথ চৌধুরী রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ,
- আহুতি।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- নানা চর্চা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৯৪.
কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) পালাবদল
  3. গ) উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
  4. ঘ) অনীষ্ট স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
ক) হরতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হরতাল
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
• মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৬৯৫.
''মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।'' কবিতার এই অংশ বিশেষের রচয়িতা-
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

চন্দনেরি গন্ধভরা,
শীতল করা, ক্লান্তি-হরা
যেখানে তার অঙ্গ রাখি
সেখানটিতেই শীতল পাটি।

শিয়রে তার সূর্য এসে
সোনার কাঠি ছোঁয়ায় হেসে,
নিদ-মহলে জ্যোৎস্না নিতি
বুলায় পায়ে রূপার কাঠি।

নাগের বাঘের পাহারাতে
হচ্ছে বদল দিনে রাতে,
পাহাড় তারে আড়াল করে
সাগর সে তার ধোয়ায় পা’টি।

নারিকেলের গোপন কোষে
অন্ন-পানী’ যোগায় গো সে,
কোল ভরা তার কনক ধানে
আটটি শীষে বাঁধা আঁটি।

মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি।

কবিতা: খাঁটি সোনা
কবি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

১০,৬৯৬.
কোন গল্পটি কুৎসিত পণপ্রথার একটি অনন্য দলিল?
  1. ডাকঘর
  2. জীবিত ও মৃত
  3. দেনাপাওনা
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

• "দেনাপাওনা" গল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- 'দেনাপাওনা' গল্পটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন হিন্দু সমাজের পণপ্রথার কুৎসিত চিত্র তুলে ধরেছেন।

- এখানে তিনি দেখিয়েছেন পণপ্রথার জন্য কীভাবে নিরূপমা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে। এ গল্পটি যেন কুৎসিত পণপ্রথার একটি অনন্য দলিল। গল্পটির মূলবস্তু পণের টাকা।

উল্লেখ্য,
"দেনাপাওনা" নামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "দেনাপাওনা" গল্প।

১০,৬৯৭.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ নয়?
  1. ক) জীবন চরিত
  2. খ) বাঙলার ইতিহাস
  3. গ) ব্রজবিলাস
  4. ঘ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রজবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কিছু অনুবাদ গ্রন্থ হলো-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- জীবনচরিত (ইংরেজি বই অবলম্বনে),
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দী থেকে),
- বাঙ্গলার ইতিহাস (মার্শম্যানের বই অনুসারে),
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে)।

অন্যদিকে,
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- প্রভাবতী সম্ভাষণ,
- স্বরচিত জীবনচরিত,
- ব্রজবিলাস,
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ এবং বাংলাপিডিয়া; লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৬৯৮.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থটির রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৯৯.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) মধুমালা
  3. গ) ব্যথার দান
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
উপরের তিনটি রচনাই কাজী নজরুল ইসলামের।
Source: LiveMCQ Lecture
১০,৭০০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কোন প্রতিষ্ঠান বিদ্যাসাগর উপাধি প্রদান করেন?
  1. ক) সংস্কৃত কলেজ
  2. খ) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজ বিদ্যাসাগর উপাধি প্রদান করেন। 

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়।
- তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন।
- অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- সংস্কৃত কলেজের ছয়টি বিভাগের ছয়জন অধ্যাপক ঈশ্বরচন্দ্রের বিদ্যাসাগর উপাধি সংক্রান্ত প্রশংসাপত্রে স্বাক্ষর করেন।

(সূত্রঃ বিসিসি বাংলা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা)