বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০৩ / ১৭৪ · ১০,২০১১০,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১০,২০১.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নিচের কোনটি?
  1. দৃষ্টি প্রদীপ
  2. আহবান
  3. অশনি সংকেত
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
সঠিক উত্তর:
আহবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহবান
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প হলো আহবান। 
- এটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম:
- পথের পাঁচালি
- অপরাজিত
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- ইছামতি
- অশনি সংকেত

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সাহিত্য]
১০,২০২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  3. দুর্গেশ নন্দিনী
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশ নন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশ নন্দিনী
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হচ্ছে - দুর্গেশনন্দিনী। 

• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- দুর্গেশনন্দিনীর শব্দের অর্থ প্রধানের কন্যা।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

• উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা, প্রমুখ। 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ', উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা, 
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২০৩.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন উক্তিটি মিথ্যা?
  1. ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
  2. তিনি ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক।
  3. তাঁর রচনায় যেমন প্রচুর তৎসম শব্দের ব্যবহার আছে
  4. 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে।
সঠিক উত্তর:
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে।
ব্যাখ্যা

• 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে।" - এটি ভুল।
- উপন্যাসটির প্রথম পর্ব  - 'মহরম পর্ব্ব' - ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন:

কুষ্টিয়া জেলার (তৎকালীন নদীয়া) গৌরী নদীর তীরে লাহিনীপাড়া গ্রামে এক সৈয়দ পরিবারে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহন করেন।
- ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তাঁর আগে বাংলা গদ্য সাহিত্য চর্চায় উল্লেখযোগ্য কোনো মুসলমান সাহিত্যিকের নাম পাওয়া যায় না। মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক।
- জমিদার কাচারীর ম্যানেজার হিসেবে তিনি কলিকাতা, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, ফরিদপুরের পদমদী এবং তাঁর জন্মভূমি কুষ্টিয়াতেই জীবনের অধিকাংশ সময় কাটান।
- মীর মশাররফ হোসেন মূলত সাধুরীতির গদ্যে লিখতেন। ফলে তাঁর রচনায় যেমন প্রচুর তৎসম শব্দের ব্যবহার আছে তেমনি আছে আঞ্চলিক শব্দেরও প্রচুর প্রয়োগ। লেখকের প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী', প্রকাশ কাল ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ। তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'বিষাদসিন্ধু'। তিন পর্বে ১৮৮৫, ১৮৮৭ এবং ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি — 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই — তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।

উৎস: সাহিত্য পাঠ- মাধ্যমিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস।

১০,২০৪.
কালিদাস রায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. মৌমাছি
  2. হুতুম পেঁচা
  3. বেতালভট্ট
  4. কালকূট
সঠিক উত্তর:
বেতালভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতালভট্ট
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - বেতালভট্ট।

অন্যদিকে,
• বিমল ঘোষ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - মৌমাছি।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - হুতুম পেঁচা।
• সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২০৫.
কোনটি বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ?
  1. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  2. সভ্যতার সংকট
  3. সংস্কৃতি কথা
  4. সংস্কৃতির সংকট
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন ওমর রচিত গ্রন্থ।

• বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন ।তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগুলো হলো:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
• সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২০৬.
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক ছিলেন- চন্দ্রকুমার দে।

---------------------
• চন্দ্রকুমার দে:

- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

চন্দ্রকুমারের সংগৃহীত পালাগুলি হচ্ছে -
• মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

- এগুলি ছাড়া তাঁর সংগৃহীত আরও কতগুলি পালা হচ্ছে: অধুয়া সুন্দরী, সুরতজামাল, কাজলরেখা, আসমা, সত্যপীরের পাঁচালি, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, লীলার বারমাসী ও গোপিনী কীর্তন।
- পালাগুলির বেশির ভাগ ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মৌখিক ধারার এসব গান ও সাহিত্য মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার মৌলিক কৃতিত্ব চন্দ্রকুমারের। পালা সংগ্রহ ছাড়া চন্দ্রকুমার নিজে বেশ কিছু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২০৭.
'যযাতি, দেবযানী' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন । এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,২০৮.
প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. অভেদী
  3. আধ্যাত্নিকা
  4. কৃষিপাঠ
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। 

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২০৯.
'ভিমসিংহ' - কোন রচনার চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটকে:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১০,২১০.
"নমোনমো নম সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি !
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর , জীবন জুড়ালে তুমি। - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
"নমোনমো নম সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি !
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর , জীবন জুড়ালে তুমি। - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পঙ্‌ক্তিগুলো 'দুই বিঘা জমি' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২১১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন?
  1. বোধোদয়
  2. বর্ণপরিচয়
  3. আখ্যান মঞ্জরী
  4. বেতালপঞ্চবিংশতি
সঠিক উত্তর:
বেতালপঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
• বেতালপঞ্চবিংশতি:
বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। অনুবাদের সময় তিনি মূল গল্পের অশ্লীল অংশ বর্জন এবং কোনো কোনো দীর্ঘ কাহিনী সংক্ষিপ্ত করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছাড়াও একজন অজ্ঞাতনামা লেখক ১৮৫২ সালে এবং জীবানন্দ বিদ্যাসাগর ১৮৭৩ সালে বেতালপঞ্চবিংশতি বাংলায় অনুবাদ করেন। তবে ঈশ্বরচন্দ্রের গ্রন্থখানি গদ্যরীতি ও রস-রুচির বিচারে উত্তম। দীর্ঘকাল এটি বিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
মৃত রাজা চন্দ্রভানুর প্রেতাত্মার নাম বেতাল। তৎকর্তৃক কথিত পঁচিশটি উপাখ্যানের সমাহার হচ্ছে বেতালপঞ্চবিংশতি। বেতাল ঘটনাচক্রে রাজা বিক্রমাদিত্যের স্কন্ধে ভর করে তাঁকে গল্পগুলি পরপর শোনায়। গল্পগুলির অধিকাংশ প্রাচীন রাজকাহিনী; দু-তিনটিতে ব্রাহ্মণ চরিত্র আছে। বাস্তব ও কল্পনা মিশ্রিত রোম্যান্টিক ধাঁচের এসব আখ্যানের মুখ্য আবেদন গল্পরস; তবে রাজবিধি, শাস্ত্রবিধি ও ন্যায়নীতির কথাও আছে। প্রতিটি গল্পের শেষে বেতাল ও বিক্রমাদিত্যের প্রশ্নোত্তরে এসব বিষয় আরও পরিস্ফুট হয়েছে। প্রাচীন ভারতের রাজ-পরিবারের ভোগ-বিলাস ও নৈতিক স্খলনের নানা চিত্র গল্পগুলিতে ফুটে উঠেছে।

-------------------
• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২১২.
'চাচা কাহিনী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
• তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

• তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে বিদেশে,
- জলে ডাঙ্গায়।

• তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৩.
‘ভক্তপ্রসাদ’- চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,২১৪.
মেঘনাদের মৃত্যু হয় কার হাতে?
  1. বিভীষণ
  2. লক্ষণ
  3. রাম
  4. হনূমান
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ
ব্যাখ্যা
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কাব্যাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ-কাব্যে - র বধ নামক ষষ্ঠ সর্গ থেকে সংকলিত হয়েছে।
মেঘনাদ কাব্য সর্বমোট নয়টি সর্গে বিন্যস্ত।
'মেঘনাদবধ - কাব্যের'র ষষ্ঠ সর্গে লক্ষ্মণের হাতে অন্যায় যুদ্ধে মৃত্যু ঘটে অসমসাহসী বীর মেঘনাদের।
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কাব্যাংশটি ১৪ মাত্রার অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
এ কাব্যাংশের প্রতিটি পঙক্তি ১৪ মাত্রায় এবং ৮+ ৬ মাত্রার দুটিি পর্বে বিন্যস্ত।

[উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি]
১০,২১৫.
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
  2. শেষ বিকেলের মেয়ে
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. মেঘের পরে মেঘ
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
• "তেইশ নম্বর তৈলচিত্র" আলাউদ্দিন আল আজাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।

 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:

- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৬০ সালে 'পদক্ষেপ' পত্রিকার ঈদসংখ্যায় এ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- একে তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। একজন চিত্রশিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার জীবন ও প্রেমকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৬.
‘বেদান্তগ্রন্থ’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. রামরাম বসু
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
‘বেদান্তগ্রন্থ’:
- রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৭.
লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "লাইব্রেরি" প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বই পড়ার সঙ্গে জ্ঞানের সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন।

- তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। কেননা, লাইব্রেরিতে মানবাত্মার ধ্বনিরাশি বইয়ের পাতায় বন্দি হয়ে থাকে। বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা আকাশের দৈববাণী থেকে মহাত্মাদের কথা পেয়ে থাকি। যাঁদের সান্নিধ্য আমাদের কখনই পাওয়া সম্ভব নয়, বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা তাদের পেতে পারি। বই আমাদের অতীতের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে দেয়। এ বইয়ের স্থান হলো লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিতেই মানব হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনা যায়। লাইব্রেরিতে সকল পথের, সকল মতের মানুষের সম্মিলন ঘটে।

- লাইব্রেরির মহত্ত্বের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন- জগতের উদ্দেশ্যে কি আমাদেরও কিছু বলার নেই? আমরা কি কেবল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ করে বেড়াব।
- লেখক শেষে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন- বাঙালিরা জেগে উঠেছে। তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,২১৮.
'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়' চরণটি কার রচনা?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়’- চরণটি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক দেশাত্মবোধক কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৯.
লালমোতি সয়ফুলমুলুক-এর রচয়িতা -
  1. ক) আলাওল
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি আব্দুল হাকিম।
তার ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।
যথাঃ ইউসুফ-জোলেখা, নূরনামা, দুররে মজলিশ, লালমোতি সয়ফুলমুলুক, হানিফার লড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,২২০.
'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রতিষ্ঠাকাল-
  1. ক) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৭
  2. খ) ২৬ মার্চ ১৯২৬
  3. গ) ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
ব্যাখ্যা

- মুসলিম সাহিত্য-সমাজ  ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
এছাড়াও- 
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।
- এই পত্রিকার স্লোগান ছিলো - 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,২২১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. শ্রীকান্ত
  2. চরিত্রহীন
  3. পল্লীসমাজ
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
- শরৎচন্দ্রের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 
- এই উপন্যাসের নায়িকা অচলা। 
- মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ-বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। 
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা, 
- বড়দিদি, 
- বিরাজবৌ, 
- পন্ডিতমশাই, 
- পরিণীতা, 
- চন্দ্রনাথ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- গৃহদাহ, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,২২২.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন-
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

- অতুলপ্রসাদ সেনই প্রথম বাংলা গানে ঠুংরির ধারা যুক্ত করেন।
- এবং তিনিই প্রথম রাগভিত্তিক বাংলাগানের সূচনা করেন।
- ঠুংরি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি রূপ, যা মূলত প্রেম, মিলন ও বিচ্ছেদের অনুভূতি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।

• অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন বাংলার এক বিশিষ্ট কবি, গীতিকার ও সুরকার।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন; তাঁদের আদি বাড়ি ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- বাংলা গানকে নতুন মাত্রা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য—বিশেষ করে ঠুংরি, দাদরা ও রাগভিত্তিক গানে।
- তাঁর লেখা প্রায় দুই শতাধিক গান - ‘কয়েকটি গান’ ও ‘গীতিপুঞ্জ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

∗ তাঁর ঠুংরি ও দাদরা ঘরানার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘কি আর চাহিব বলো’,
- ‘ওগো নিঠুর দরদী’ ও
- ‘যাব না যাব না ঘরে’।

∗ তাঁর রাগপ্রধান গানের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বঁধু ধর ধর মালা’ ও
- ‘তবু তোমায় ডাকি বারে বারে’ বিশেষভাবে পরিচিত।

∗ তাঁর সৃষ্টি ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ বাংলা সংগীতে চিরকালীন মর্যাদা পেয়েছে।
-এই গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অনন্য প্রেরণা জাগিয়েছিল এবং এর আবেদন আজও অম্লান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,২২৩.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান সংকলন করেছেন -
  1. ক) অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. খ) জগন্নাত চক্রবর্তী
  3. গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান যথাশব্দ।
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
১০,২২৪.
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকের পটভূমি -
  1. দেশভাগ
  2. ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. কৃষক বিদ্রোহ
  4. সাঁওতাল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
কৃষক বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য: 
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২২৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প?
  1. অনধিকার প্রবেশ
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. দেনাপাওনা
  4. ল্যাবরেটরি
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা

• ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ একটি রহস্যময় ও প্রতীকধর্মী অতিপ্রাকৃতিক ছোটোগল্প।
- ১৮৯৫ সালে সাধনা পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ আহমেদাবাদের শাহীবাগে সবরমতী নদীর নিকটে অবস্থিত মোতি শাহী মহলে অবস্থানকালে এই গল্পটি লেখার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

গল্পের সারসক্ষেপ:
গল্পকথক ও তাঁর এক থিওসফিস্ট আত্মীয় পূজার ছুটিতে ভ্রমণ শেষে ট্রেনে কলকাতায় ফিরছিলেন। পথে এক রেলস্টেশনে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয় এক রহস্যময় ট্যাক্স কালেক্টারের। অপেক্ষার সময় তিনি তাঁর জীবনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেন—এভাবেই গল্পের মধ্যে গল্পের সূচনা হয়।

ট্যাক্স কালেক্টার কর্মসূত্রে শুস্তা নদীর কাছে এক মফস্‌সল শহরে গিয়ে আড়াইশো বছরের পুরনো একটি শ্বেতপাথরের প্রাসাদে উঠেছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে সেখানে রাত কাটাতে নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। ধীরে ধীরে প্রাসাদের এক অদ্ভুত মোহ তাঁকে গ্রাস করতে থাকে। রাতে তিনি রহস্যময় শব্দ, ছায়ামূর্তি, সংগীত, নারীকণ্ঠের হাসি ও কান্না অনুভব করেন। স্বপ্ন ও বাস্তবের সীমারেখা তাঁর কাছে ক্রমে অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রাসাদের পুরোনো কর্মচারী করিম খাঁ জানায়, অতীতের অতৃপ্ত বাসনা ও ভোগবিলাসের অভিশাপে প্রাসাদের প্রতিটি পাথর যেন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে। মানুষ সেখানে থাকলে প্রাসাদ তাকে গ্রাস করতে চায়। বহু মানুষ সেখানে রাত কাটিয়ে নিখোঁজ হয়েছে; কেবল পাগল মেহের আলিই প্রাণে বেঁচে ফিরেছে।

এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনিয়ে ট্যাক্স কালেক্টার তাঁর গল্প শেষ করেন। গল্পটি অতীতের ভোগলালসা, মানবচেতনার দুর্বলতা ও অশুভ আকর্ষণের প্রতীক হিসেবে রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক আবহে পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

 ---------------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্প।

১০,২২৬.
'কেয়াবন সঞ্চারিণী' নীলিমা ইব্রাহিমের কী ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. ভ্রমণ কাহিনী
  4. কাব্যগ্রন্থ 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম: 
- নীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

- নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২২৭.
'নূরলদীনের সারাজীবন' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'। ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২২৮.
'স্বাধীনতা তুমি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• 'স্বাধীনতা তুমি':
- 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতাটি শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'বন্দী শিবির থেকে' এর অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি  ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।

স্বাধীনতা তুমি
শামসুর রাহমান
 
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
(সংক্ষিপ্ত)

• শামসুর রাহমানের  উল্লেখযোগ্য কবিতা : 
- তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, 
- স্বাধীনতা তুমি, 
- আসাদের শার্ট,
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯,
- মধুস্মৃতি, 
- রক্তাক্ত প্রান্তরে, ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২২৯.
'সঞ্চয়িতা' কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সঞ্চয়িতা:
- ‘সঞ্চয়িতা’ (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। ‘সান্ধ্যসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• সঞ্চিতা:
- কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন - ‘সঞ্চিতা'।
- এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
- ‘সঞ্চিতা' কবিতা সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৩০.
'কুলসুম জীবনী' মীর মশাররফ হোসেন কাকে কেন্দ্র করে লিখেছেন?
  1. তাঁর প্রথম স্ত্রী
  2. তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী
  3. তাঁর বড় বোন
  4. তাঁর মা
সঠিক উত্তর:
তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী
ব্যাখ্যা

কুলসুম জীবনী:
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

 এছাড়াও,
- তাঁর রচিত আরো দুটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হচ্ছে আমার জীবনী ও গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।
 
উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।
 
গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৩১.
‘সঞ্চয়ন’ কাজী মোতাহার হোসেন রচিত একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ সংকলন
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছোটগল্পের সংকলন
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবন্ধ সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন হলো 'সঞ্চয়ন'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে। 

⇒ কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা। 
- শিখা প্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''। 

তাঁর উলে­খযোগ্য অন্যান্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,২৩২.
'রেইনকোট' গল্পের নায়কের নাম কী?
  1. হাশেম আলি
  2. সব্যসাচী
  3. নুরুল হুদা
  4. মজিদ
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পের নায়কের নাম 'নুরুল হুদা'। 

• “রেইনকোট” ছোটগল্প:

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মজিদ'।
- 'বহিপীর' নাটকের চরিত্র 'হাশেম আলি'।
- 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘সব্যসাচী'।

উৎস:

১. বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই।
১০,২৩৩.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র লেখা?
  1. ক) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  2. খ) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. গ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের কথা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা সাহিত্যের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা সাহিত্যের কথা
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যের কথা (১৯৫৩),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫)।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ 'ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৯)।
- সুকুমার সেন- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস'।
- মুহম্মদ এনামুল হক-‘মুসলিম বাঙলা সাহিত্য (১৯৫৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,২৩৪.
‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবুল ফজল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আল মাহমুদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
---------------------------- 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,২৩৫.
সমালোচনামূলক সাময়িকী পত্রিকা কোনটি?
  1. দিগদর্শন‌
  2. কল্লোল
  3. তত্ত্বোবধিনী
  4. শনিবারের চিঠি
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে সমালোচনার মাধ্যমে আক্রমণ করা।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চব্বিশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।

- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

- সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘জুবিলী সংখ্যা’, আষাঢ় মাসে ‘বিরহ সংখ্যা’ ও কার্তিক মাসে ‘ভোট সংখ্যা’ প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

অন্যান্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
•  দিগদর্শন:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানত শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক পত্রিকা। ভাষা শিক্ষা, নীতিকথা ও সাধারণ জ্ঞান উপস্থাপনই পত্রিকার উদ্দেশ্য। সমালোচনামূলক পত্রিকা নয় এটি।
 
• কল্লোল:
আধুনিকতাবাদী সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। নতুন কবিতা, গল্প ও সাহিত্য আন্দোলনের সূতিকাগার। যদিও সাহিত্যিক বিতর্ক ও মতাদর্শ ছিল, তবে এটি মূলত সৃজনশীল সাহিত্যপত্র।

• তত্ত্বোবধিনী: 
ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে যুক্ত। ধর্ম, সমাজ সংস্কার ও দার্শনিক আলোচনাভিত্তিক পত্রিকা। সামাজিক-ধর্মীয় চিন্তাচর্চা থাকলেও সাহিত্যিক ব্যঙ্গ বা আক্রমণমূলক সমালোচনা ছিল না। সমালোচনামূলক সাময়িকী নয় এটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৩৬.
'শমসের উল আজাদ' ছদ্মনামটি কার?
  1. অহিদুর রেজা
  2. আবুল ফজল
  3. এম. ওবায়দুল্লাহ
  4. মোঃ শহীদুল হক
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল এর ছদ্মনাম - শমসের উল আজাদ।

অন্যদিকে,
• অহিদুর রেজা এর ছদ্মনাম - হাসন রাজা।
• এম. ওবায়দুল্লাহ এর ছদ্মনাম - আসকার ইবনে শাইখ।
• মোঃ শহীদুল হক এর ছদ্মনাম - শহীদুল জহির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৩৭.
'বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. আহমদ শরীফ
  3. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯):
- শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা আহমদ শরীফ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা (১৯৬৯),
- স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০),
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে (১৯৭০),
- বিচিত্র চিন্তা (১৯৮৬),
- স্বদেশ চিন্তা (১৯৯৭) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২৩৮.
'আগুনপাখি' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আগুনপাখি' উপন্যাসের লেখক - হাসান আজিজুল হক।

• 'আগুন পাখি' উপন্যাস: 
‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
 - মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।
---------------------
• হাসান আজিজুল হক:
তিনি ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,২৩৯.
ফটোগ্রাফির চর্চা করতেন কোন বিখ্যাত সাহিত্যিক?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
খ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ফটোগ্রাফির চর্চা করতেন। 

• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি (১৯১১) পাস করেন।

• সুকুমার রায়একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন।
- অল্প বয়স থেকেই তিনি পিতার অনুপ্রেরণায় মুখে মুখে ছড়া রচনা ও ছবি আঁকার সঙ্গে ফটোগ্রাফিরও চর্চা করতেন।
- কলেজ জীবনে তিনি ছোটদের হাসির নাটক রচনা এবং তাতে অভিনয় করতেন।
- তিনি শান্তিনিকেতনে একবার  রবীন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে গোড়ায় গলদ নাটকে অভিনয় করেছিলেন।
- স্বদেশী আন্দোলনের সময় তিনি বেশ কিছু গান রচনা করেন এবং নিজে সেগুলি গেয়েছেনও।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪০.
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ কে নির্মাণ করেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. গ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০, প্রথম উপন্যাস), নাম না জানা ভোর (১৯৬২), নীল যমুনা (১৯৬৪), শেষ রাত্রির চাঁদ (১৯৭৬)।

গল্পগ্রন্থ:
কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯), সম্রাটের ছবি (১৯৫৯), সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬০)।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
ডানপিঠে শওকত, আঁধার কুঠির ছেলেটি, ভয়ংকরের হাতছানি।

‘বাংলাদেশ কথা কয় (১৯৭২)’ তার সম্পাদনা গ্রন্থ। তিনি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানের রচয়িতা।
তিনি ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’ (২০০৭) নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
১০,২৪১.
কোনটি আধুনিক যুগের কাব্য?
  1. সারদামঙ্গল
  2. কালিকা মঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি আধুনিক যুগের কাব্য। বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

অন্যদিকে,
মনসামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কালিকা মঙ্গল - মধ্যযুগের সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪২.
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম; জানিলাম এ জগৎ স্বপ্ন নয়।"- পঙ্‌ক্তিগুলো কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. শেষের কবিতা
  3. শেষ কথা
  4. শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটির নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেন নি।
- অধিকাংশ রচনা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকদিনে রচনা। কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। 

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প - শেষ কথা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস - শেষের কবিতা।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাস - শেষ প্রশ্ন ও শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।  

১০,২৪৩.
একুশ নিয়ে লিখিত প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’। কবিতার রচিয়তা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আব্দুল লতিফ
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের।
- সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী অসুস্থ শরীরে রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে প্রতিবাদ সভায় সে কবিতা পড়লেন তাঁরই সতীর্থ চৌধুরী হারুণ-উর-রশীদ।
- পাকিস্তান সরকার সে কবিতা বাজেয়াপ্ত করে।
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ একুশের প্রথম কবিতা।

উৎস: প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
১০,২৪৪.
"আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না।" - এই পংক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্যবাদী
  3. কামাল পাশা
  4. রণভেরী
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা

• "আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না।" - এই পংক্তিটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না –
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উৎস: বিদ্রোহী কবিতা- কাজী নজরুল ইসলাম।

১০,২৪৫.
'মৌন নয়' ছোটগল্পটি কার লেখা?
  1. শওকত ওসমান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. জহির রায়হান
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'মৌন নয়' ছোটগল্পটি রচয়িতা - শওকত ওসমান
- গল্পটি ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- এটি  হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভসৃঙ্গ,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,২৪৬.
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ অনুসারে মুক্তির জন্য কয়টি উপায় অবলম্বন করতে হবে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• মুক্তির জন্য দুটি উপায় অবলম্বন করতে হবে।

• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
তাই মুক্তির জন্য দুটি উপায় অবলম্বন করতে হবে। একটি অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা, আরেকটি শিক্ষাদীক্ষার দ্বারা মানুষকে মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ানোর সাধনা। এ উভয়বিধ চেষ্টার ফলেই মানবজীবনের উন্নয়ন সম্ভব। শুধু অন্নবস্ত্রের সমস্যাকে বড় করে তুললে সুফল পাওয়া যাবে না। আবার শুধু শিক্ষার ওপর নির্ভর করলে সুদীর্ঘ সময়ের দরকার। মনুষ্যত্বের স্বাদ না পেলে অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েও মানুষ যেখানে আছে সেখানেই পড়ে থাকতে পারে; আবার শিক্ষাদীক্ষার মারফতে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলেও অন্নবস্ত্রের দুশ্চিন্তায় মনুষ্যত্বের সাধনা ব্যর্থ হওয়া অসমভব নয়।

উৎস: 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ।
১০,২৪৭.
‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• রাজবন্দীর জবানবন্দী:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

• ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধটি লেখার কারণবিশেষ:
- কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। 
- তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য।
- যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। 
- নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৪৮.
'শিখা' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে? 
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তিনি 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১০,২৪৯.
'দাদামাশয়ের থলে' রূপকথার রচয়িতা কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনটি চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা- ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামাশয়ের থলে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,২৫০.
‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ডা. রমেশ চক্রবর্তী
  2. মায়মুন
  3. জয়গুণ
  4. সত্যেন দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন দত্ত
ব্যাখ্যা

• ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসে 'সত্যেন দত্ত' চরিত্রটি নেই।

​'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:

- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাসু, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
​- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

​আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৫১.
কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত হয়?
  1. গঙ্গা
  2. জগদ্দল
  3. অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
  4. বিবর
সঠিক উত্তর:
অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস:
- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত
- একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলেন অধ্যাত্মবাদের দিকে।
- প্রতি বছর প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভমেলা হয় এবং সেখানে ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।
- আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।

সমরেশ বসু:
- ১২২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৫২.
নিচের কোনটি মহাকাব্যিক উপন্যাস?
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. চোখের বালি
  3. পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
বিষাদ-সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা

যে উপন্যাসের ব্যাপ্তি ও পরিধি মহাকাব্যের মতো বিশাল ও ব্যাপক, যে উপন্যাসে ভাষা ও দ্বন্দ্বে মহাকাব্যের ব্যঞ্জনা থাকে তাকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলে।
যেমন :
- বিষাদ-সিন্ধু
- ঢোঁড়াই চরিত মানস
 -গোরা
- সংশপ্তক
উৎস : সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।

১০,২৫৩.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
  1. আজীজন্নাহার
  2. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  3. সুধাকর
  4. মিহির
সঠিক উত্তর:
সমাচার সভারাজেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার সভারাজেন্দ্র
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকা:
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল।
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেনের 'আজীজন্নাহার' (বাঙালি মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা)। 
• শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা 'সুধাকর' এবং 'মিহির'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৫৪.
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম; জানিলাম এ জগৎ স্বপ্ন নয়।"- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. বুদ্ধদেব বসু 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম; জানিলাম এ জগৎ স্বপ্ন নয়।"- পঙ্‌ক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রূপ-নারানের কূলে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেন নি। এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত মোট কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫৬টি।

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১০,২৫৫.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তাস
  2. আনন্দের মৃত্যু
  3. শীত বিকেল
  4. একদা এক রাজ্যে
সঠিক উত্তর:
একদা এক রাজ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদা এক রাজ্যে
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হকের রচিত গল্পগ্রন্থ নয় — একদা এক রাজ্যে। 
-  ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’।
---------------------- 
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্য:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৫৬.
'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. ব্রাহ্মণসেবধি
  3. জ্ঞানান্বেষণ
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানান্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানান্বেষণ
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী ও এর মুখপাত্র:
- ইংরেজি ভাবধারা পুষ্ট বাঙালি যুবকরাই ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত ।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন ডিরোজিও ।
- ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপাত্র স্বরূপ জ্ঞানান্বেষণ, এনকোয়ারার প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, প্যারীচাঁদ মিত্র ,তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ ।

- ১৮৩৩ সালে মাইকেল মধুসূধন দত্ত হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। আর এই কলেজেই 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছিলো ডিরোজিওর হাত ধরে।
- পরবর্তীতে তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী দ্বারা ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হন। হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ডিরোজিওর স্বদেশানুরাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীতে নাম লেখান।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৫৭.
’উপেক্ষা’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

• কবিতাটির সংক্ষিপ্তরূপ:

উপেক্ষা - কবিতা,
- নির্মলেন্দু গুণ।

অনন্ত বিরহ চাই, ভালোবেসে কার্পণ্য শিখিনি।
তোমার উপেক্ষা পেলে অনায়াসে ভুলে যেতে পারি
সমস্ত বোধের উত্স গ্রাস করা প্রেম; যদি চাও ভুলে যাবো,
তুমি শুধু কাছে এসে উপেক্ষা দেখাও।
আমি কি ডরাই সখি,
ভালোবাসা ভিখারি বিরহে?

কাব্যগ্রন্থ: দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী' কাব্যগ্রন্থ ।
১০,২৫৮.
'অগ্নিবীণা' কাব্যে মোট কবিতা কয়টি?
  1. ১২টি
  2. ১৩টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহরর।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৫৯.
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. কায়কোবাদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা:
মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি বিশেষত তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং আধুনিক বাংলা সনেটের জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। তাঁর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে ছিলেন, তা নির্ধারণ করতে আমাদের সময়কাল এবং সাহিত্যে অবদান বিবেচনা করতে হবে।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুসূদন দত্তের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদনের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের পরে বিকশিত হয়। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

খ) কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১):
কায়কোবাদ একজন উল্লেখযোগ্য কবি, যিনি তাঁর — ‘মহাশ্মশান কাব্য’ এর জন্য পরিচিত। কিন্তু তিনি মধুসূদনের — পরবর্তী সময়ে সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। তাঁর জন্মও মধুসূদনের সক্রিয় সাহিত্যজীবনের পরে। সুতরাং, তিনি পূর্ববর্তী কবি নন।

গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯):
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন মধুসূদন দত্তের — পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িক কালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং তাঁর সামাজিক ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তাঁর কাজ মধুসূদনের সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বিবেচিত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিলো তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১):
ইসমাইল হোসেন সিরাজী মধুসূদনের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি তাঁর জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম সাহিত্যের জন্য পরিচিত। তাঁর জন্ম ও সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের মৃত্যুর পরে শুরু হয়, তাই তিনি পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

তাই বলা চলে, মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. সুকুমার সেন), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০,২৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৮১ সালে
  2. ১৮৮৩ সালে
  3. ১৮৭৪ সালে
  4. ১৮৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
হিন্দুমেলার উপহার:
- বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও একাধারে ছোট গল্পের জনক কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতাটির নাম হচ্ছে - ‘হিন্দুমেলার উপহার’।
- তাঁর কবিতাটি ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬১.
‘সোনার পাথর বাটি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) রশীদ করিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) রশীদ করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা

রশীদ করিমের জন্ম কলকাতায়।
তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস -
- উত্তমপুরুষ
- প্রষন্ন পাষাণ
- আমার যত গ্লানি
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি।

প্রবন্ধ -
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে রশীদ করিম রচনা করেন 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাসটি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- নায়ক এরফান অন্তর্গতভাবে দহন হবার ফলে সামাজিক কঠিন বাস্তবতার কাছে বারংবার পরাজিত হয়।
- কিন্তু অন্তরাত্মাকে সজাগ রাখে বলে শেষ অবধি সে অপরাজিত থাকে।
- এই অপরাজেয় মানসিকতাই উপন্যাসের মূলসুর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২৬২.
‘গৌড়তটবাসী মশা’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সুনীল গঙ্গেপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
‘গৌড়তটবাসী মশা’ ছদ্মনামে শীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন।

তাঁর অন্যান্য ছদ্মনামগুলো হলো:
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির, ওমর খৈয়াম ও সত্যপীর।
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু কবি ও সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম কস্যচিৎ ‘উপযুক্ত ভাইপোস্য’।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।  
- বিমল ঘোষের ছদ্মনাম মৌমাছি।  
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম বনফুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় নিম্নের কোনটি?
  1. ক) বাঁধনহারা
  2. খ) কুহেলিকা
  3. গ) চিত্তনামা
  4. ঘ) মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্তনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্তনামা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

' চিত্তনামা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত জীবনীকাব্য।
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে (১৩৩২ বঙ্গাব্দে)।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন। 
- অপর কাব্যগ্রন্থ ‘মরু-ভাস্কর’ হযরত মুহম্মদ (স) নিয়ে লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৬৪.
'নিশুতি রাতের গাথা' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. আব্দুল ওদুদ
  2. আনোয়ার পাশা
  3. ইব্রাহিম খাঁ
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাসঃ
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,২৬৫.
'যে যাবে না সে থাকুক, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।
যে-সত্য জেনেছি পুড়ে, রক্ত দিয়ে যে-মন্ত্র শিখেছি' - পংক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কামাল চৌধুরী
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- 'যে যাবে না সে থাকুক, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।
যে-সত্য জেনেছি পুড়ে, রক্ত দিয়ে যে-মন্ত্র শিখেছি,'
পংক্তিগুলোর রচয়িতা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। 
- লাইন দুটি ‘মিছিল’ কবিতা থেকে নেয়া। 
- ‘মিছিল’ কবিতাটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ছোবল কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- এ কবিতায় কবি অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে  মিছিলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন ও অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধের অসাধারণ এক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। 
মূলত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা কবিতায় উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদী কবি হিসেবে তাঁর আবির্ভাব।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৬ই অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাটের মোংলায়
তিনি ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ ও ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ' গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- মানুষের মানচিত্র,
- ছোবল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম দশম শ্রেণি।
১০,২৬৬.
কালীপ্রসন্ন সিংহের সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র কোনটি?
  1. তাহেরা বিবি 
  2. হাসনাবানু 
  3. নাজমা 
  4. দনুবানু
সঠিক উত্তর:
দনুবানু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দনুবানু
ব্যাখ্যা

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান। কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- বিখ্যাত চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

-------------------
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলাপিডিয়া।

১০,২৬৭.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৬৮.
''সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।'' - এই মত কে পেশ করেন?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ''সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।'' - প্রমথ চৌধুরী এই মত পেশ করেন।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬৯.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম?
  1. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  2. দত্তকুলোদ্ভব কবি
  3. লেখরাজ সামন্ত
  4. কালপুরুষ
সঠিক উত্তর:
দত্তকুলোদ্ভব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দত্তকুলোদ্ভব কবি
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত।
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
সুবোধ ঘোষের ছদ্মনাম - কালপুরুষ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৭০.
মুনীর চৌধুরী রচিত "কবর" কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক 
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. কবিতা 
সঠিক উত্তর:
নাটক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক 
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী রচিত “কবর” একটি নাটক। 
এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এবং পূর্ব বাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক হিসেবে পরিচিত। 

কবর:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, এবং এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটি জেলে থাকা অবস্থায় লেখা হয় এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য। 

নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৭১.
বাংলা কাব্যের 'চিত্ররূপময়' কবি
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৭২.
মধুসূদন স্বর্ণপদক লাভ করেন কোন কবি?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একজন অধ্যাপক ও লেখক
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি কবিতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭), সুফী মোতাহের হোসেন স্বর্ণপদক (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩), মধুসূদন স্বর্ণপদক (১৯৮৫) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক লাভ করেন।


• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৭৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায়
  4. ঘ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল চমৎকার।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন
- বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। 

[উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।]
১০,২৭৪.
সাহিত্যিক জীবনে কখনো উপন্যাস রচনা করেননি কে?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যিক জীবনে কখনো উপন্যাস রচনা করেননি - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৭৫.
'মাল্যবান' জীবনানন্দ দাশ রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'মাল্যবান' উপন্যাস:
- 'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। এটি উপন্যাসের চিরচেনা ছকে আবদ্ধ নয়।
- আধুনিক এবং অসুখী দাম্পত্য জীবনের আদি-অন্তহীন এক অনন্য জীবনানন্দীয় আখ্যান।
- মাল্যবান-এর পরতে পরতে কুয়াশা, হারিয়ে যাওয়া পথ, পথের ধারে খাদ। অসুখী ব্যক্তি মানুষের অসহায়ত্ব, জীবন নিয়ে খেলা, আপসের কৌশল। আছে সংঘাত, আছে গভীর জীবনবোধ।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৭৬.
'মহাশ্মশান' প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯০৩ সালে
  2. খ) ১৯০৪ সালে
  3. গ) ১৯০৫ সালে
  4. ঘ) ১৮০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯০৪ সালে
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকবি। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা, বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
উল্লেখ্য, সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বইতে ১৯০৫ দেয়া।
১০,২৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. সতীশ
  2. দিবাকর
  3. নিখিলেশ
  4. অমিত
সঠিক উত্তর:
অমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শোভনলাল।

অন্যদিকে,
• চরিত্রহীন (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) - সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
• ঘরে বাইরে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) - নিখিলেশ, বিমলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৭৮.
”আত্মজা ও একটি করবী গাছ” - কার লেখা গল্প?
  1. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্
  2. আবু ইসহাক
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. মানিক বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ:
হাসান আজিজুল হকের আটটি গল্পের সমাহারে রয়েছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটিতে। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।

- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'পরবাসী', 'সারাদুপুর', 'অন্তর্গত নিষাদ', 'মারী', 'উটপাখি', 'সুখের সন্ধানে', 'আমৃত্যু আজীবন' এই আটটি গল্প।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইনাম,
- ফেকু,
- সুহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থ, হাসান আজিজুল হক।
১০,২৭৯.
”সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত।” উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চৌধুরি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৮০.
জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম কী ছিলো?
  1. জীবন
  2. দাশ 
  3. সমর 
  4. মিলু
সঠিক উত্তর:
মিলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলু
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল — মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।

১০,২৮১.
'কাব্যভূষণ' কোন লেখকের উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।
- আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্য বিশারদ
- 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি-সাহিত্য বিশারদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৮২.
ভাষা আন্দোলনের ঘটনা পরিক্রমায় গঠিত প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. খ) তমদ্দুন মজলিশ
  3. গ) সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. ঘ) পূর্ব পাকিস্তান ভাষা কমিটি
সঠিক উত্তর:
খ) তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১০,২৮৩.
"জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?" - এই অংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কায়কোবাদ
  4. সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
"জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?" - এই অংশটুকুর রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম।
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'কৃষকের ঈদ' - কবিতার অন্তর্গত।

কৃষকের ঈদ- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

বেলাল! বেলাল! হেলাল উঠেছে পশ্চিমে আশমানে,
লুকাইয়া আছ লজ্জায় কোন মরুর গোরস্তানে!
হেরো ঈদ্গাহে চলিছে কৃষক যেন প্রেত-কঙ্কাল
কশাইখানায় যাইতে দেখেছ শীর্ণ গোরুর পাল?
রোজা এফতার করেছে কৃষক অশ্রু-সলিলে হায়,
বেলাল! তোমার কন্ঠে বুঝি গো আজান থামিয়া যায়!
থালা ঘটি বাটি বাঁধা দিয়ে হেরো চলিয়াছে ঈদ্গাহে,
তির-খাওয়া বুক, ঋণে-বাঁধা-শির, লুটাতে খোদার রাহে।

জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?

উৎস: কৃষকের ঈদ- কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম।
১০,২৮৪.
পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল ও জীবন-সংগ্রাম আবু ইসহাক রচিত কোন উপন্যাসের মুখ্য বিষয়বস্তু?
  1. পদ্মাপার
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা 
  3. পদ্মা নদীর মাঝি 
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
এরফান মাতব্বর,
আরশেদ মোল্লা,
জঙ্গুরুল্লা,
জরিনা,
রূপজান ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস- পদ্মা মেঘনা যমুনা।
• পদ্মানদীর মাঝি ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• 'পদ্মাপার' জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,২৮৫.
'আমরা আলােচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।' উক্তিগুলাে কার রচিত?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মহিউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
'আমরা আলােচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।' উক্তিগুলাের রচয়িতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উল্লিখিত উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" থেকে নেওয়া।
উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
১০,২৮৬.
আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বসে কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতাটি রচনা করেন? 
  1. মুক্তি
  2. জীবন বন্দনা
  3. বিদ্রোহী
  4. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
সঠিক উত্তর:
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন। 

তাঁর রচিত প্রথম ও নিষিদ্ধ সাহিত্যকর্ম: 
গ্রন্থের নাম - সাল - প্রকৃতি: 
• ব্যথার দান - ১৯২২ - প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ও গল্পগ্রন্থ। 
• বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী - ১৯১৯ - প্রথম প্রকাশিত রচনা ও প্রথম প্রকাশিত গল্প । ১৩২৬ বঙ্গাব্দে ‘সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
• মুক্তি - ১৯১৯ - প্রথম প্রকাশিত কবিতা। 
• অগ্নি-বীণা - ১৯২২ - প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
• বাঁধন-হারা - ১৯২৭ - প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 
• তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা - ১৯১৯ - প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ। 
• যুগবাণী - ১৯২২ - প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
• ঝিলিমিলি - ১৯২৭ - প্রথম প্রকাশিত নাটক। 
• ঝিলিমিলি (তিনটি নাটক একত্রে) - ১৯৩০ - প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ। 
• যুগবাণী - ১৯২২ - প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,২৮৭.
'রসরাজ' কার উপাধি?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. অমৃতলাল বসু
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমৃতলাল বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃতলাল বসু
ব্যাখ্যা

• 'রসরাজ' অমৃতলাল বসুর উপাধি।

------------------
• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক ‘রসরাজ' উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ। তিনি প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ,
- বিবাহ বিভ্রাট,
- তরুবালা,
- কালাপানি,
- বাবু,
- বিমাতা,
- আদর্শ বন্ধু,
- অবতার,
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৮৮.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চার অধ্যায়
  2. ঘরে-বাইরে
  3. শেষের কবিতা
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য উজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাকরীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,২৮৯.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আমলকীর মৌ
  2. জোহরা
  3. কন্যাকুমারী
  4. আগুনমুখরা মেয়ে
সঠিক উত্তর:
জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোহরা
ব্যাখ্যা
• 'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে,
- 'আমলকীর মৌ' উপন্যাসের রচয়িতা দিলারা হাসেম।
- 'কন্যাকুমারী' উপন্যাসের রচয়িতা আব্দুর রাজ্জাক।
- 'আগুনমুখরা মেয়ে'উপন্যাসের রচয়িতা নুরজাহান বেগম।  

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:

- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

• তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৯০.
কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থটি ''Folk Tales of Bangladesh' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে? 
  1. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. বাঙালীর হাসির গল্প
  4. মুর্শীদা গান
সঠিক উত্তর:
বাঙালীর হাসির গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালীর হাসির গল্প
ব্যাখ্যা

• বাঙালীর হাসির গল্প: 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বাঙালীর হাসির গল্প' গ্রন্থটি 'Folk Tales of Bangladesh' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

- জসীম উদ্‌দীন রচিত বাঙালীর হাসির গল্পের দুটি খণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের অনেকগুলো গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পই হাস্যরসাত্মক। কূটবুদ্ধি, বোকামী, সরলতা, অজ্ঞতা, দুষ্টুমি, গোঁড়ামি সবকিছুর মিশেলে বাঙালীর জীবন-যাপন আর তাদের কাণ্ডকারখানা নিয়ে গল্পগুলো রচিত। মাছ, আয়না, তেলের শিশি, বেলপাতা, পুত, নুন এসব সামান্য আটপৌরে জিনিস নিয়ে তিনি এমন সব গল্প বলেছেন যা না পড়লে বিশ্বাস হবে না। 

অন্যদিকে, 
------------------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।  কবি জসীম উদ্দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন। রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

• জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান।  জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

উৎস: 'বাঙালীর হাসির গল্প' সংকলন; 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

১০,২৯১.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা
  1. সুধা
  2. মোহাম্মদী 
  3. নয়া সড়ক
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
• 'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমির 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে, 
• ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
• মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
• কালিকলম  সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৯২.
‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ - উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি। হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

১০,২৯৩.
'শান্তিপুরের কবি’ - নামে খ্যাত কবি কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. মোজাম্মেল হক
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৯৪.
‘অগ্নি-গিরি’ গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,২৯৫.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  2. আবু ইসহাক 
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,২৯৬.
"বিশ শতকের মেয়ে" নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• "বিশ শতকের মেয়ে" নীলিমা ইব্রাহিম রচিত - উপন্যাস। 
 
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৯৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চৈতালি ঘূর্ণি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. আরগ্য নিকেতন
  4. অরণ্যবহ্নি
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৯৮.
পল্লীকবি জসীম উদদীন রচিত কবর কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কবর' কবিতা:
- রচয়িতা পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায় ।
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ।
- কবিতাটিতে ১১৮টি পংক্তি আছে ।

- কবি কলেজে পড়ার সময় কবিতাটি রচনা করেন ।
- কবি ছাত্রাবস্থাতেই কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য- তালিকাভুক্ত হয় ।
- প্রিয়জন হারানোর মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ কবিতাটির বিষয়বস্তু ।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ  ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
------------------ 
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তাঁকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর রচিত কবিতাগুলোতে কুশলতার সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গাথাকাব্যটি E.M. Millford কর্তৃক ' The Field of the Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- সুচয়নী,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- রূপবতী।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৯৯.
'হেমন্ত গোধূলি' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি (গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৩০০.
'ডাকঘর' নাটক কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৬ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯১১ সালে
  4. ১৯১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১২ সালে
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- ফাল্গুনী, 
- গুরু (১৯১৮): এটি অচলায়তনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অরূপরতন, 
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা, 
- তাসের দেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম