বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৭৮ / ১৭৪ · ৭,৭০১৭,৮০০ / ১৭,৪৩৭

৭,৭০১.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. বরিশাল
  3. বর্ধমান
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা-প্রগতি (১৯২৭-১৯), কবিতা (১৩৪২-৪৭)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০২.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত - 
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭০৩.
'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের ঢাকা':
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ঘটনা শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। বিভিন্ন শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।
- একটি-দু'টি উদাহরণ এমন : 'মার্চের পঁচিশ দিন : পাকিস্তান সরকার বনাম বঙ্গবন্ধু সরকার, কাক ও ডোমদের শহর, রুদ্ধশ্বাসের দিনগুলো ইত্যাদি।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক অসাধারণ ডায়েরি (দিনলিপি) গ্রন্থ।
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথাটির রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

উৎস: ‘একাত্তরের ঢাকা’ সংকলন গ্রন্থ সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭০৪.
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - চরণদ্বয় রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কর্মদেবী
  2. কাঞ্চী কাবেরী
  3. পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. শূরসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?<br/>
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - চরণদ্বয় রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

পদ্মিনী উপাখ্যান:
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'পদ্মিনী উপাখ্যান' ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan' - এর কাহিনি অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য। 
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম ১৮২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে। 
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি নিজে  কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন। 
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। 
- ১৮৮৭ সালের ১৩ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য: 
- কর্মদেবী, 
- শূরসুন্দরী,
- কাঞ্চী কাবেরী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০৫.
"একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!" - কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. বিদ্রোহী
  2. রণভেরী
  3. আগমণী
  4. প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

"একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!" - কাজী নজরুল ইসলামের আগমণী কবিতার অংশবিশেষ।
-------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে দ্বিতীয়।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- মোট বারটি কবিতার সমাহারে কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম।
-------------------------- 
আগমনী- কবিতা, 
- কাজী নজরুল ইসলাম,

একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!
সেকি দমকি দমকি
ধমকি ধমকি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা কবিতা সাময়িকী।

৭,৭০৬.
'কারাগারের রোজনামচা' বইটি ইংরেজিতে কে অনুবাদ করেন?
  1. ক) ড. হাবিবুর রহমান
  2. খ) ড. মুনজুরুল করিম
  3. গ) ড. ফকরুল আলম
  4. ঘ) ড. ফরহাদ রেজা
ব্যাখ্যা
- 'কারাগারের রোজনামচা' বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন 'ড. ফকরুল আলম'

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।

•এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

•নামকরণ করেন শেখ রেহেনা
প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।

- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৭,৭০৭.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. উইলিয়াম কেরি​
  4. জন আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
ব্যাখ্যা

 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৭০৮.
'দোজখের ওম' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প সংকলন
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ছোটগল্প সংকলন।
- এটি ১৯৮৯ সালে ঢাকার প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'দোজখের ওম' নামে এই গল্পগ্রন্থে একটি নামগল্প রয়েছে।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন।
৭,৭০৯.
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. গোলোকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১০.
‘নুরুল হুদা, নবকুমার ও অমল’ কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে, কপালকুণ্ডলা ও দেনাপাওনা
  2. মালঞ্চ, দুর্গেশনন্দিনী ও পোস্টমাস্টার
  3. বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর
  4. কুহেলিকা, রাজসিংহ ও প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘নুরুল হুদা, নবকুমার ও অমল’ বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর গ্রন্থেসমূহের চরিত্র।

• ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস:

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে-
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সােফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

----------------------------
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য এটাকে 'রোমান্স' ধর্মী উপন্যাস বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

-----------------------
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক। 
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭১১.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি’ এই বিখ্যাত উক্তিটি কোন লেখকের?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জহির রায়হান
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। 
- জীবনানন্দ দাশের ‘কবিতার কথা’ গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি'। 
- মূলত কবি হলেও তিনি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন। 

জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাঁওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। 
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১২.
কাজী নজরুল ইসলামের 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থে কয়টি গল্প আছে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
শিউলিমালা (১৯৩১) গল্পগ্রন্থে মোট চারটি গল্প আছে- পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি ও শিউলিমালা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৭১৩.
"আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মত ডাকতে।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• "আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মত ডাকতে।" - কবিতাংশটুকু কবি আল মাহমুদের 'পাখির মতো' কবিতার অংশবিশেষ। 

পাখির মতো - কবিতা,
- আল মাহমুদ।
 
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
------------------
• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদের প্রকৃত নাম: মির আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'। 
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
 
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
৭,৭১৪.
রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. সওগাত
  3. পূর্বমেঘ
  4. শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
• "পূর্বমেঘ" পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে।

- বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত 'পূর্বমেঘের' আয়ুকাল।
- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরউল ইসলাম এবং প্রকাশক ছিলেন এ. আর. মল্লিক।
- উচ্চমার্গীয় সাহিত্যালোচনার পাশাপাশি সৃজনশীল রচনার নমাদর ছিল এ পত্রিকায়।

- ঢাকা থেকে যেকালে 'সমকাল' (১৯৫৭) প্রকাশ হচ্ছে, ঠিক সে-কালেই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' প্রকাশ দেশে সাহিত্য চর্চার ইতিবাচক উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

অন্যদিকে,
• 'পূর্বাশা' পত্রিকাটি সঞ্জয় ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• 'সওগাত' একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 

• 'শনিবারের চিঠি' স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭১৫.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. প্ৰথমা
  3. বিমুখ প্রান্তর
  4. রাজা যায় রাজা আসে
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।
-  অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন ' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন তিনি।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিমুখ প্রান্তর।

•  তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত গল্প: 
- আরো দুটি মৃত্যু।

অন্যদিকে,
’প্রেমেন্দ্র মিত্র’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘প্ৰথমা’।
’আবুল হাসান’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘‘রাজা যায় রাজা আসে'’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭১৬.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

কুসুমকুমারী দাশ:
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭১৭.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন ঋতুর উল্লেখ আছে?
  1. ক) হেমন্ত
  2. খ) গ্রীষ্ম
  3. গ) বসন্ত
  4. ঘ) শীত
ব্যাখ্যা
কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে শীতের রিক্ততা তুলনীয়। তবে কবিতায় উল্লেখ আছে বসন্ত ঋতুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৭১৮.
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  2. খ) মৈত্রেয়ী দেবী
  3. গ) কমলকুমার মজুমদার
  4. ঘ) আশালতা দেবী
ব্যাখ্যা
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা মৈত্রেয়ী দেবী। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সানিধ্য লাভের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। 
- তাঁর সবচেয়ে খ্যাতিমান উপন্যাস। 
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'ন হন্যতে' উপন্যাসে বাস্তবধর্মী  এবং সময়কালীন অনেক ব্যাক্তিত্বের প্রসঙ্গে এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- এ উপন্যাসের অমৃতা চরিত্রের মধ্য দিয়ে মৈত্রেয়ী দেবীর জীবন খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,৭১৯.
বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র-
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. দিগ্দর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. ক্যালকাটা জার্নাল
ব্যাখ্যা
প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে, দিগদর্শন সংবাদপত্র ছিল না। নীতিতত্বমূলক মাসিক সাময়িকপত্র ছিল।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ। জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।

বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিকদর্শন (১৮১৮)। বাঙ্গালী কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেট এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১)। 

• উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে 'দিগ্দর্শন' নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়। এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।

অন্যদিকে, 
• জেমস অগাস্টাস হিকি কর্তৃক প্রকাশিত দুই পাতার এই ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম ছিল 'বেঙ্গল গেজেট' বা ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভার্টাইজার। হিকি ছিলেন মুদ্রণ ব্যবসায়ী। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে দুই হাজার রুপি খরচ করে তিনি কলকাতায় যে ছাপাখানা বসান সেখান থেকেই 'বেঙ্গল গেজেট' মুদ্রিত হয়।

• ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে। এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ। এটি প্রায় ২০ বছর চালু ছিল।

• ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দের ১ মে জেমস সিল্ক বাকিংহাম সম্পাদিত 'ক্যালকাটা জার্নাল' অর্ধ-সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক-এ রূপান্তরিত হয়। ক্যালকাটা জার্নালই ছিল উপমহাদেশের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।

উল্লেখ্য, 
• ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র 'বাঙ্গাল গেজেটি' প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য। মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা। হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২০.
'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গল্পগুচ্ছ
  2. কণিকা
  3. লিপিকা
  4. তিনসঙ্গী
ব্যাখ্যা

• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা। গল্পটি কবির 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।


• 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থ:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। সংকলনটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।

সংকলনের গল্প তিনটি হলো:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

-------------------
রবীন্দ্রিনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো-
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিনসঙ্গী,
- কণিকা, 
- গল্পসল্প।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭২১.
"আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল? 
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।" 
- চরণ দুটি কোন কবিতার অংশ?
  1. আনন্দময়ীর আগমনে
  2. দুঃশাসনের রক্ত পান
  3. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  4. বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
- ধূমকেতু পত্রিকায় ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।
- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
- বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে।
- ৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হন।
--------------------------
আনন্দময়ীর আগমনে
- কাজী নজরুল ইসলাম

আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল? 
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল। 
দেব–শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি, 
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী? 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা।
৭,৭২২.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙ্গল
  2. নবযুগ
  3. ধূমকেতু
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
• নবযুগ:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে।
- পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।
- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা  এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক  কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ।
- পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না।
- স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

অন্যদিকে, 
- ’ধূমকেতু’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ’লাঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
-  ’কল্লোল’ একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা, যার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২৩.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থের নাম কী?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. শবনম
  3. দেশে বিদেশে
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা

- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য, 
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭২৪.
'টুনি মেম' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত - 
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,

ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

গল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,৭২৫.
‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ লিখেছেন কে?
  1. ক) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. খ) শেখ ওয়াজেদ আলি
  3. গ) বদরুদ্দীন ওমর
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• শেখ ওয়াজেদ আলি:
- শেখ ওয়াজেদ আলি প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
-  ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি এস ওয়াজেদ আলি নামে সমধিক পরিচিত।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এস ওয়াজেদ আলী ১৯১৯ সালে Bulletin of the Indian Rationalistic Society নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।

- তিনি পরপর দুবার (১৯২৫ ও ১৯২৬) বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি উক্ত সমিতির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- এবং একই বছর তাঁর ছোটোগল্পগ্রন্থ গুলদস্তা প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি কলকাতা এলবার্ট হলে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে গঠিত সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন।
- একই বছর তিনি ‘আসাম মুসলিম ছাত্র সমিতি’-র বার্ষিক সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- প্রবন্ধ জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

• গল্প:
- গুলদাস্তা,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ;

 • উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর;

 • ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

⇒ বিঃদ্রঃ নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২৬.
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'কবর' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) রাখালী
  2. খ) সুচয়নী
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'কবর'।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় এ কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। 
- কবিতাটি প্রথমে 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. আপদ
  2. সমস্যাপূরণ
  3. মেঘ ও রৌদ্র
  4. খাপছাড়া
ব্যাখ্যা
• 'খাপছাড়া':
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

• অন্যদিকে, আপদ, সমস্যাপূরণ ও মেঘ ও রৌদ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।

===================
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২৮.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।” উক্তিটি কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. আনন্দমঠ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমের রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা, যার বিখ্যাত উক্তি —
- ‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।' 
 -“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।”
-----------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকায় কবিতা রচনার মাধ্যমে সাহিত্যের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৮৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।

- তাঁর উপন্যাসগুলি হলো —
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাধারাণী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা এবং
- বিষবৃক্ষ।
------------------------------ 
‘কপালকুণ্ডলা’ সম্পর্কিত কিছু আলোচনা-
- “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।” এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- সংলাপটি কপালকুণ্ডলা উপন্যাস থেকে নেয়া। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) একটি রোমান্টিক ট্র্যাজেডি। 
- উপন্যাসটি অরণ্যচারিণী কপালকুণ্ডলা ও তার স্বামী নবকুমারের সংসার ও সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘিরে আবর্তিত।
- উপন্যাসে প্রকৃতির স্বাধীনতা বনাম সমাজের কঠোর নিয়ম, নিয়তি, রহস্যময়তা ও নারী চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: কপালকুণ্ডলা (মৃন্ময়ী), নবকুমার, কাপালিক এবং মতিবিবি।
- গল্পে কপালকুণ্ডলার প্রকৃতি-নির্ভর জীবন ও সমাজের ছকবাঁধা জীবন, নিয়তির প্রভাব, রহস্যময়তার রোমান্টিকতা এবং নারী মনস্তত্ত্বের সংঘাত প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া

৭,৭২৯.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) আগুনের পরশমনি
  4. ঘ) জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩০.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' কার উপাধি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- ষোড়শী,
- রমা,
- বিজয়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির,
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৩১.
‘দোজখের ওম’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইরিয়াস রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩২.
জহির রায়হান রচিত 'সঙ্গম' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. চলচ্চিত্র
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'সঙ্গম' চলচ্চিত্র:
- 'সঙ্গম' ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জহির রায়হান ও প্রযোজনা করেছেন ইফতেখারুল আলম কিসলু।
- এটিই সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল ঈদ উল আযহাতে সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে মুক্তি পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জহির রায়হান জীবনী।
৭,৭৩৩.
"আদিবাসি রাঙামিলা, দেওয়ানপুত্র" কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. পথের পাঁচালী 
  2. অপরাজিত 
  3. কর্ণফুলী
  4. অনুবর্তন 
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৩৪.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৩৫.
নিচের কোনটি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ? 
  1. রাখালী
  2. ধানখেত 
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ 
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা

• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,৭৩৬.
বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
-  তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৩৭.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? 
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পূর্ণিমা
  4. সোমপ্রকাশ 
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- সাধনা – সম্পাদনা করেছিলেন হরচন্দ্র বসু।
- পূর্ণিমা – সম্পাদনা করেছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- সোমপ্রকাশ – সম্পাদনা করেছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৩৮.
প্রসিদ্ধ মহাকাব্য "শাহ্‌নামা" গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ কবীর
  2. খ) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  3. গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
প্রসিদ্ধ মহাকাব্য শাহ্‌নামা গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
কাব্য
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);
গদ্য রচনা
- মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);
উপন্যাস
- জোহরা (১৯১৭),
- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩৯.
"রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস" কাব্যত্রয়ী কার রচনা?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

- তাঁর আত্মজীবনী 'আমার জীবন' গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
৭,৭৪০.
''পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'' – কথাটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?"  উক্তিটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস। 
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

•  বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও 
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চিতা
  2. চিরকুমার সভা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. সুচয়নী
ব্যাখ্যা
• সঞ্চয়িতা:
- ‘সঞ্চয়িতা’ (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। ‘সান্ধ্যসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• সঞ্চিতা:
- কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন - ‘সঞ্চিতা'।
- এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
- ‘সঞ্চিতা' কবিতা সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক 'চিরকুমার সভা'।
• 'সুচয়নী' জসীম উদদীনের কাব্য সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম ছোটগল্প কোনটি? 
  1. অতসী মামী
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. সরীসৃপ
  4. বৌ  
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প অতসী মামী।
----------------
‘অতসী মামী’ গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প ‘অতসী মামী’।
- গল্পটি ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে খ্যাতনামা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা এই গল্পটি প্রকাশের পরই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিতি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে গল্পটি ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

- গল্পটির মূলভাব হলো- জীবনের কঠোর বাস্তবতার ভেতরেও মানবিক সম্পর্কের গভীর টান, বিচ্ছেদের বেদনা এবং আত্মিক অনুভবের প্রকাশ। এখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসার অনুরণন এবং রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানসিক ও আত্মিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, হারিয়ে পাওয়ার আনন্দ–বেদনা—এসবই গল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর জীবনদর্শন ও বাস্তবধর্মী সাহিত্যশৈলীর স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
---------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর পারিবারিক ডাকনাম।

- তাঁর পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করে জীবনের শেষদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- পিতার চাকরির কারণে তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়—দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরে।
- শেষ পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

- মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রয়েড, ইয়ুং ও অ্যাডলারের মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় মার্কসবাদের প্রভাব গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- অতসী মামী
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।

উৎস:
‘অতসী মামী’ গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৭,৭৪৩.
'সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন' - বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. বন্ধু-বিয়োগ
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. নিসর্গ সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
• বঙ্গসুন্দরী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ 'বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০)।
- এ কাব্যে কবি বলেছেন: 'সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: 'আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।'
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরবালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
-----------------------------------------

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৪৪.
সাহিত্যপত্র 'সমকাল' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. ক) দৈনিক
  2. খ) সাপ্তাহিক
  3. গ) মাসিক
  4. ঘ) ষান্মাসিক
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।

• তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪৫.
'কবিতা মুকুল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) উপরের কেউ নন
ব্যাখ্যা
কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ। কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।
যার প্রথম দুই চরণ
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?''।
'কবিতার কথা' নামে জীবনানন্দ দাশের একটি প্রবন্ধ রয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৭৪৬.
'উত্তর বসন্ত' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আব্দুল কাদের ছিলেন মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ - কবিতা: দিলরুবা, উত্তর বসন্ত;
প্রবন্ধ: বাংলা কাব্যের ইতিহাস, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪৭.
‘অগ্নি-গিরি’ গল্পের রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- ‘অগ্নি-গিরি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘শিউলিমালা’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:

- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪৮.
মুক্তিযোদ্ধা 'বদিউল আলম' হুমায়ূন আহমেদ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. আগুনের পরশমণি
  4. অনীল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

------------
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৪৯.
কোনটি ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. আলমগীর
  2. রামদয়াল
  3. জাহেদ
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক। সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে। একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৫০.
'আব্দুল্লাহ্' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- আব্দুল্লাহ্। আঁখিজল ও লতিকা তাঁর রচিত কাব্য। প্রবন্ধমালা তাঁর রচিত প্রবন্ধ এবং নবীকাহিনী তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৫১.
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ হলো-
  1. ক) আলো ও ছায়া
  2. খ) নির্মাল্য
  3. গ) পৌরাণিকী
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো -
আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সংগীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৭৫২.
গোলাম মোস্তফাকে ‘কাব্য সুধাকর’ উপাধি দেন -
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. যশোর সংঘ
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৫৩.
‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. বিজয় ভট্টাচার্য
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত ব্যঙ্গকাব্য হচ্ছে ‘মগের মুলুক’।

⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস:

- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৫৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৫৫.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়? 
  1. রায়তের কথা
  2. বীরবলের হালখাতা
  3. তেল-নুন-লকড়ি
  4. চার-ইয়ারি কথা।
ব্যাখ্যা
 • প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়তসঃ
৭,৭৫৬.
কোনটি চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত সাহিত্যকর্ম?
  1. তোতা কাহিনী
  2. তোতা ইতিহাস
  3. বোবা ইতিহাস
  4. ইতিহাস মালা
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

অন্যদিকে, 
- ‘তোতা কাহিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'লিপিকা' নামের সংকলনের একটা লেখা।
- 'ইতিহাস মালা' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম কেরি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৭.
'ময়ূরকণ্ঠী' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) রম্যরচনা
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য ধরণের গ্রন্থ - 'ময়ূরকণ্ঠী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা: 
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৭,৭৫৮.
কোন কবি পঞ্চপাণ্ডবদের একজন?
  1. সমর সেন
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
পঞ্চপান্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপান্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।

আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডব লেখক হচ্ছেন:
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
পঞ্চপান্ডবের অন্তর্ভূক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস?
  1. পরিশেষ
  2. শেষলেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
• "শেষের কবিতা" উপন্যাস:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• “শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।

• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

অন্যদিকে,
- পরিশেষ ও শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- ‘শেষের পরিচয়’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৬০.
‘গোটা অঙ্গ কবরে কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই বাঞ্ছনীয়।’- উক্তিটি কার?
  1. আবুল ফজল
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
⇒ আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তারঁ মৃত্যুদেহ কবর দেয়া হয়নি। মৃত্যুর আগে তিনি এক উইল করে নিজের মৃত্যু-উত্তর দেহ ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে’কে দান করে যান। তিনি লিখেছিলেন: ‘গোটা অঙ্গ কবরে কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই বাঞ্ছনীয়।’

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৬১.
কাঁঠালপাড়া গ্রামে কোন লেখক জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৬২.
বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• ‘মৃণালিনী’ উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ হলো:
- হেমচন্দ্র,
- মৃণালিনী,
- পশুপতি,
- মনোরমা।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৬৩.
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,
পাঠশালা পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,
পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।
৭,৭৬৪.
ইয়ংবেঙ্গল বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) বাংলা ভাষা শিক্ষার্থী ইংরেজি
  2. খ) একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠী
  3. গ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
  4. ঘ) একটি সাময়িক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

ইয়ং বেঙ্গল হিন্দু কলেজের ছাত্রদেরকে সমসাময়িক কলকাতা সমাজ কর্তৃক প্রদত্ত সামাজিক বুদ্ধিবাদী একটি অভিধা বিশেষ। এঁরা সবাই হিন্দু কলেজ-এর মুক্তবুদ্ধি যুক্তিবাদী শিক্ষক হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও-র অনুসারী ছিলেন। ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ-প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন কি করে সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে ওঠে ও বিকশিত হয় এবং কি করে মানুষ মৃত ও সেকেলে ধ্যান-ধারণা ও সমাজ-সংগঠনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

হিন্দুদের কুসংস্কার আর কতিপয় নিষ্ঠুর সামাজিক ও ধর্মীয় আচারের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান মিশনারিগণ যে সকল যুক্তি ব্যবহার করতেন, ইয়ং বেঙ্গল-এর অনেক সদস্য সেসব যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করতেন। দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও কৃষ্ণমোহন বন্দোপ্যাধ্যায়ের মতো এঁদের অনেকই হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইয়ং বেঙ্গল ইংরেজিকে অফিস-আদালতের ভাষা হিসেবে প্রবর্তনের সমর্থক ছিল। কলকাতায় কতিপয় গণপাঠাগার স্থাপনের বিষয়টিকে তারা স্বাগত জানায়।

পাশ্চাত্যের প্রতি অন্ধ আনুগত্যই ছিল ইয়ং বেঙ্গল-এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। প্রাচ্য জীবনচর্চাকে তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনে করত। এ বিশ্বাস থেকে তারা পাশ্চাত্য রীতি-নীতি অভ্যাসকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করে, যদিও এ-ক্ষেত্রে তারা সর্বাংশে সফল হতে পারে নি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৭,৭৬৫.
জসীম উদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রাখালী
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. নকশী কাঁথার মাঠ
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা

'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে। বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

-------------------
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৬৬.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক ছিল কোন পত্রিকা?
  1. ক) মোসলেম ভারত
  2. খ) সওগাত
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক ছিলো 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা। 

- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২০) বৈশাখ মাসে মাসিক 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 
- প্রথম বছর নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। 
- সর্বমোট ১৭ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতিটি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো। 
- মোসলেম ভারত নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। 
- প্রতিটি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়। 
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, শাত-ইল-আরব, বিদ্রোহী, বাঁধন হারা ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৬৭.
জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. কখনো আসে নি
  2. বাহানা
  3. কাঁচের দেয়াল
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল। 
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী, 
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৬৮.
'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ব্যাকরণ,
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ইত্যাদি।
• তাঁর কিছু বিখ্যাত কিছু উক্তিঃ
- 'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সেদেশে গুণীজন জন্মাতে পারে না।',
- 'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।',
- পৃথিবীর কোনো জাতি জাতীয় সাহিত্য ছেড়ে বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে যশস্বী হতে পারেনি।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৬৯.
’শাশ্বতবঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ভ্রমনকাহিনী
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
• কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন 'শাশ্বতবঙ্গ'।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ' এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

• কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কলেজে অধ্যয়নকালেই কাজী আবদুল ওদুদ সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। 
- ছাত্র অবস্থায়ই তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ মীর পরিবার (১৯১৮) এবং উপন্যাস নদীবক্ষে (১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 

• সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৭০.
'ফিরোজা বেগম' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
তারাবাঈ, রায়নন্দিনী, নূরুদ্দিন, ফিরোজা বেগম, জাহানারা ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৭৭১.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) মানব তোমার সারা জীবন
  3. গ) হায় পার্বতী
  4. ঘ) খলনায়ক
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস হলোঃ’ মানব তোমার সারা জীবন’, ‘হায় পার্বতী’, ‘খলনায়ক’। ‘এখনও ক্রীতদাস’ হলো নাটক। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৭৭২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৭৩.
শোভনলাল ও কেতকী কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. শেষের কবিতা
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
• শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে-
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৭৪.
'আকাশলীনা' কাব্য কার লেখা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আকাশলীনা' কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- কবিতাটি 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সুরঞ্জনা, অইখানে যেয়ো নাকে তুমি,
বোলো নাকো কথা অই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা:
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;

ফিরে এসো এই মাঠে ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূরে–আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়ো নাকে আর।

কী কথা তাহার সাথে?–তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।

সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস–
আকাশের ওপারে আকাশ।
-------------
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎস: আকাশলীনা, জীবনানন্দ দাশ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৭৫.
’জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।’ - পঙ্‌ক্তিটি কার?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ’জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।’ - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের পঙ্‌ক্তি।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৭৭৬.
হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) শ্যামল ছায়া
  3. গ) শ্রাবণ মেঘের দিন
  4. ঘ) সূর্যের দিন
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় শ্রাবণ মেঘের দিন।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৭৭৭.
রবিঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কোন জেলায়?
  1. রাজশাহী
  2. কুমিল্লা
  3. কুষ্টিয়া
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
- শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের।
- রবিঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৭৭৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'আর্তনাদে বিবর্ণ' এর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. ড. মযহারুল ইসলাম
  3. শামসুর রহমান
  4. সৈয়দ হাদী আহসান
ব্যাখ্যা
প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম (১ জুলাই ১৯২৯ - ১৪ নভেম্বর ২০০৩)
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকাচারবেত্তা, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, লোকতাত্ত্বিক, লোকবিজ্ঞানী, কবি-কথাশিল্পী-সংগঠক ও শিল্পপতি।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- মাটীর ফসল
- বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি
- আর্তনাদে বিবর্ণ
- যেখানে বাঘের থাবা
- অপরাহ্ণে বিবস্ত্র প্রাতরাশ
- দুঃসময়ের ছড়া
- উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা কবিতার ব্লগ ও দৈনিক পত্রিকা
৭,৭৭৯.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'লেখরাজ সামন্ত'?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. কালিকানন্দ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'প্রেমেন্দ্র মিত্র' এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত

অন্যদিকে,
- 'প্যারীচাঁদ মিত্র' এর ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- 'শম্ভু মিত্র' এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- 'কালিকানন্দ' এর ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৮০.
'তিথিডোর' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প 
  3. নাটক 
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস:
​- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস 'তিথিডোর'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮।
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত।
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা।
- এ কাহিনির গীতল ভাষা ও কাব্যময়তা এবং এর শেষাংশে প্রযুক্ত 'চৈতন্যপ্রবাহ' -ধর্মী বর্ননাভঙ্গির দেখা পাওয়া যায়।

বুদ্ধদেব বসু রচিত  অন্যান্য উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৮১.
সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে যে উপন্যাসে-
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) ক্রাচের কর্নেল
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা: মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বােবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে। এটি মূলত '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

তার অন্যান্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- মরণ বিলাস (১৯৯০),
- গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৮৬)।

 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৭৮২.
'উদীচী' - সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সমর সেন
  3. সত্যেন সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন সেন:
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৮৩.
বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ ছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) পর্যন্ত মোট ছয়বার জাপান সফর করেন এবং সেখানে সর্বমোট ৫ মাস ১৪ দিন অবস্থান করেন।
- জাপান সফরের এই কাহিনিগুলো নিয়ে তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘জাপান যাত্রী’।

• ‘জাপান যাত্রী’ ভ্রমণকাহিনি:
• জাপান যাত্রী তাঁর জাপানে প্রথম সফরের সময় সংরচিত। রবীন্দ্রনাথ অন্যান্য বিদেশ যাত্রার মত জাপান যাত্রার প্রাক্কালে সেবারও 'সবুজ পত্র'র জন্য ভ্রমণ-বৃত্তান্ত লিখে পাঠাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জাপান যাত্রার তিন দিন পর ২১ বৈশাখ তোসামারু জাহাজে বসেই রবীন্দ্রনাথ প্রমথ চৌধুরীকে পত্র লেখেন। এই পত্রে লিখিত কাহিনিগুলোই পরে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে প্রকাশিত হয়।

• প্রবাসি ও মডার্ণ রিভিউ পত্রিকা সম্পাদক বিশিষ্ট ব্রাহ্মনেতা রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এর নামে জাপান যাত্রী উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ।
• জাপান-যাত্রী পরবর্তীকালে ১৩৪৩ সালে জাপানে-পারস্যে গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।

• ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র শতবর্ষ উদযাপনের সময় জাপান যাত্রী জাপান ভ্রমণ সংক্রান্ত বহু তথ্য, চিঠিপত্র, ভাষণ ও অন্যান্য রচনা একত্র করে আলাদাভাবে সচিত্র সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

• সবুজ পত্রে লেখাগুলির প্রকাশকাল এবং গ্রন্থাকারে জাপান-যাত্রীর প্রথম প্রকাশকাল সম্পর্কিত পূর্বোক্ত তথ্য পর্যালোচনা করে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের জাপান যাত্রার বিবরণ মূলত প্রথমবার যাত্রাপথে জাহাজে বসে লেখা এবং জাপানে বসে লেখা মাত্র চারটি পরিচ্ছেদ তাও প্রথম বার সফরের সময়।

• এটাও প্রণিধানযোগ্য যে রবীন্দ্রনাথ মোট ছয়বার জাপানে পদার্পণ করলেও ১৯১৬ সালে প্রথমবার ৩ মাস ৬ দিন, ১৯২৪ সালে চতুর্থবারে ২৩ দিন এবং ১৯২৯ সালে ষষ্ঠ বারে ২৯ দিন একটানা অবস্থান করেছিলেন। বাকি তিন বারের অবস্থান ছিল যাত্রাবিরতি প্রকৃতির, ২ থেকে ৭ দিনের মতো।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি হলো:
- জাভা যাত্রীর পত্র;
- জাপান যাত্রী;
- রাশিয়ার চিঠি;
- জাপানে-পারস্যে;
- পারসো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাপান যাত্রী’ ভ্রমণকাহিনি।
৭,৭৮৪.
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস-
  1. ধানকন্যা
  2. কর্ণফুলী
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

⇒ আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৮৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) অরক্ষণীয়া
  2. খ) বিন্দুর ছেলে
  3. গ) নারীর মূল্য
  4. ঘ) ল্যাংড়ী
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প হলো - মন্দির, রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, মেজদিদি, কাশীনাথ, বিলাসী, মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, হরিলক্ষ্মী, অনুরাধা,সতী, পরেশ, ইত্যাদি। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৭,৭৮৬.
'হৃৎকলমের টানে' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কী ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কবিতা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  

তাঁর রচিত কবিতা: 
- একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে 

তাঁর রচিত গল্প: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

তাঁর রচিত উপন্যাস : 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
৭,৭৮৭.
কোন নাটকটি ইব্রাহিম খাঁ রচিত?
  1. সাজাহান 
  2. কাফেলা 
  3. ডাকঘর
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর 
ব্যাখ্যা

- ‘কাফেলা’ নাটকটি ইব্রাহিম খাঁর আদর্শনিষ্ঠ ও সংস্কারমুখী চিন্তার প্রতিফলন, যেখানে তাঁর অন্যান্য নাটক ও সাহিত্যকর্মের মতোই সমাজ ও ধর্মের নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

• ইব্রাহীম খাঁ:

- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
-তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
-তিনি ব্রিটিশ আমলে 'খান সাহেব' ও 'খান বাহাদুর' এবং পাকিস্তান আমলে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক:
- কাফেলা,
- আনোয়ার পাশা,
- কামাল পাশা,
- ভিস্তি বাদশা,
- ঋণ পরিশোধ।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী:
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- পাকিস্তানের পথে ঘাটে,
- নয়া চীনে এক চক্কর।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সোনার শিকল,
- আলু বোখরা,
- দাদুর আসর।

• তাঁর রচিত উপন্যাস- বৌ বেগম।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৮৮.
'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা

• 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- 'শোকার্ত তরবারি' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- হাসান হাফিজুর রহমানের 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যের সবগুলো কবিতাতেই মূলত গদ্যছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হয়তো ছন্দহীন জীবন সময় কে ফুটিয়ে তুলতে কবি গদ্যছন্দের আশ্রয় নিয়েছেন।
- রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:এই কবিতা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনে এক শক্তিশালী শিল্পরূপ। তরবারি এখানে নিপীড়িত বাঙালি জাতির সংগ্রামের প্রতীক — যারা কাঁদে, কিন্তু শেকল ভাঙতেও জানে।

---------------------
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি,
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৮৯.
’উজানে মৃত্যু’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মামুনুর রশিদ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

’উজান মৃত্যু’ নাটকের রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু।
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৯০.
'শেষের পরিচয়’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'শেষের পরিচয়' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচতি শেষ উপন্যাস।
- তিনি এ উপন্যাসটি মৃত্যু পূর্বে শেষ করে যেতে পারেননি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের ’রাখাল এ প্রশ্নে নীরব বহিরে হইয়া গেল’ পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত।
- বাকি অংশটুকু রাধারানি দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে ’ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৯১.
'ভেড়াকান্ত' ছদ্মনামে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৯২.
বিশ শতকের ষাটের দশকের কবিদের জন্য প্রাসঙ্গিক -
  1. ক) অনিদের্শ্য সৌন্দর্যচেতনা
  2. খ) রূপক - প্রতীকের আড়াল
  3. গ) নির্ভীক সত্যপ্রকাশ
  4. ঘ) বিবিক্ত সমাজচেতনা
ব্যাখ্যা

ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে রাজনৈতিক যুগচেতনা এতটা প্রাধান্য পায় যে, কবি-সাহিত্যিককে প্রগতিচেতনার দ্বারস্থ হতে হয়। ঊনসত্তরের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক গণজাগরণ তাঁদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যেমন কবিতায় তেমনি গণসংগীত রচনায়।

কবিতা অনেকাংশে সরে আসে অর্থহীন শব্দচয়নের চৌখুপি থেকে, বলিষ্ঠ জীবনচর্চা তাদের ডাক পাঠায় জীবনের ধন রক্তের মূল্যে অর্জন করার জন্য। ফিরে আসে পলাশ-কৃষ্ণচূড়ার চেতনা-উদ্দীপক বাহার কাব্যভুবনে।
পাকিস্তানি সহমর্মিতার প্রলেপ ঝরে পড়তে থাকে। কবিদের সংখ্যাগুরু অংশের শ্রুতিতে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে ঘরে ফেরার ডাক। নব্য ভূখ-ভিত্তিক কথিত জাতীয়তার টান তাদের ধরে রাখতে পারে না। রাজপথ-মেঠোপথ একই চেতনার রঙে রঞ্জিত হতে থাকে। এ-সময় কবিতা নতুন চেতনায় ভর করে বলিষ্ঠ উচ্চারণে পথ চলতে থাকে।
সত্তরের দামামা বাজার পূর্বাহ্নে এদেশের কবিতায় এমন ঘণ্টাধ্বনিও শোনা গেছে আবার ‘সমাজমানসের মৃদুতম পরিবর্তন কবিতার শরীরে অনুভূত হয়ে’ প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে ষাটের দশকের কবিতা বিচিত্র-ভাব প্রকাশের পথ ধরে চলেছে। তবে একথাও ঠিক যে, এই বিচিত্র-ভাবনা ও অবস্থান থেকেও ষাটের দশকের একেবারে শেষদিকে বাংলাদেশের কবিতার অংশবিশেষ রক্তচিহ্নিত পাথরটাকে ছুঁয়ে গেছে, জাতিসত্তার সম্মানে একমুঠো ঘাসফুল নিয়ে। সেখানে মানবিক চেতনার প্রকাশই বড় হয়ে থেকেছে।

অর্থাৎ, বিশ শতকের ষাটের দশক কবিদের  নির্ভীক সত্যপ্রকাশের চেতনাকে প্রাসঙ্গিকভাবে ফুটিয়ে তোলে।

উৎসঃ কালি ও কলম

৭,৭৯৩.
হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  2. একাত্তরের ডায়েরি
  3. একাত্তরের ঢাকা
  4. একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা:
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা'
- তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে।
- বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন: 'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'
- জীবনের নিষ্ঠুরতার বর্ণনায় এমনি অসাধারণ সংযমী শিল্পদৃষ্টির প্রকাশ আমাদের এক লহমায় দাঁড় করিয়ে দেয় কঠিন সত্যরূপের মুখোমুখি। শক্তিমান লেখকের সংহত জীবনদৃষ্টি এমনিভাবেই পরতে পরতে উদ্ভাসিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- একান্ত ব্যক্তিগত ছোট-বড় সাধারণ অভিজ্ঞতাসমূহ শিল্পের পুণ্যস্পর্শে তিনি করে তুলেছেন সর্বকালীন ও সর্বজনীন। 

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা

অন্যদিকে,
• সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - একাত্তরের ডায়েরি।
• সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।
• জাহানারা ইমামের দিনপঞ্জিরূপে লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ - একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা, হাসান আজিজুল হক।
৭,৭৯৪.
‘পালামৌ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'। 
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে। 
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
------------------ 
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা, (১২৮১-১২৮২) বঙ্গাব্দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৯৫.
সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. রবিবারের ডাক
  3. বিজলি
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা- 'শনিবারের চিঠি'।

----------------------------
• শনিবারের চিঠি পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন- যোগানন্দ দাস।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৯৬.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আমরি বাংলা ভাষা' - বিখ্যাত গানটি রচনা করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- অতুলপ্রসাদ ১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পাসের পর কিছুদিন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়ন করেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৯৭.
"জমিদার দর্পণ" মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রহসন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
• মীর মশাররফ হোসেনের 'জমিদার দর্পণ' নাটকের কাহিনি সরল ও আড়ম্বহীন।

• নারীলোভী এক জমিদার এবং কৃষকের সুন্দরী পত্নীর নির্যাতনের প্রসঙ্গ এ নাটকের কাহিনির মূল অংশ। জমিদার শ্রেণীর চরিত্র, তোষামোদের ছলচাতুারি, চাষা আবু মোল্লা এবং তার পত্নী নুরন্নেহারের নির্যাতন প্রভৃতি নিয়ে জমিদার দর্পন অতি বাস্তব ধর্মী নাট্যকর্ম।

• এ নাটকেও নটনটী আছে, গান আছে। বিচারালয়ে ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট ,ডাক্তার, দেশি দারোগা, পেশকার ইত্যাদি সমন্বয়ে যে নৈরাজ্য চিত্র অঙ্কিত হয়েছে ,তা বাস্তবতার দিক থেকে অতুলনীয়। সাহিত্য ও শিল্পকর্মে সাধারণ ও অপরিচিত বেদনার কথা বেশি দৃষ্টিগোচার হয় না।

• আবু মোল্লা আর নুরন্নেহারের জীবন দান বিরাট সংবাদ ভাষ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু তাদের এমন মৃত্যুর ব্যঞ্জনা কোনোভাবে তুচ্ছ বা বিস্মৃত হবার নয় । জমিদার দর্পন নাটকের প্রধান চরিত্রের পরিণাম ও অসহায় জীবনভাগ্য নাটকটিকে ট্র্যাজেডির মহিমা দান করেছে। মীর মশারফ হোসেন ছিলেন বাস্তবাদী ও জীবনমুখী নাট্যকার। জমিদার দর্পন নাটকে সে দৃষ্টান্ত উজ্জ্বল।

উৎস: 'জমিদার দর্পণ' নাটক।
৭,৭৯৮.
'জন্মিলে মরিতে হবে, 
অমর কে কথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, 
হয় রে জীবন নদে?' - কোন কবির উক্তি? 
  1. নবীন চন্দ্র
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) 

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; –
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
তবে যদি দয়া কর,
ভুল দোষ, গুণ ধর,
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে! –
ফুটি যেন স্মৃতি-জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!
৭,৭৯৯.
কোন পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে অনস্বীকার্য অবদান রাখেন?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পরিচয়
  4. শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮০০.
'সবুজপত্র' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪৩ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।