বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা / ১৭৪ · ১০০ / ১৭,৪৩৭

.
'আসাদের শার্ট' কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  2. বন্দী শিবির থেকে
  3. বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়
  4. নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা

• 'আসাদের শার্ট' কবিতা:
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।
- ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
- ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

-----------------------
শামসুর রাহমান রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

.
‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়’- উক্তিটি কোন বিখ্যাত গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) শেষের পরিচয়
  3. গ) দেবদাস
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়" উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'শ্রীকান্ত' থেকে নেয়া হয়েছে।  
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়ঃ জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়। উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. দাউদ হায়দার
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
• ছাড়পত্র,
• ঘুম নেই,
• পূর্বাভাস,
• মিঠেকড়া,
• অভিযান,
• হরতাল,
• গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।
- তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তিঃ
• 'হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে।',
• 'অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুদ্র স্বদেশ ভূমি।',
• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।',
• 'সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।',
• 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
‘শ্রীকান্ত’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. আত্মজৈবনিক উপন্যাস
  3. সামাজিক উপন্যাস
  4. রোমান্টিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘শ্রীকান্ত’ একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 

শ্রীকান্ত:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী' নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির', যার জন্য তিনি ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- রাজনৈতিক উপন্যাস: পথের দাবী (১৯২৬), যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'তেল নুন লকড়ি' কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বিমলা-বিনোদিনী' কোন দুটি উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে, যোগাযোগ
  2. চতুরঙ্গ, যোগাযোগ
  3. ঘরে-বাইরে, চোখের বালি
  4. চোখের বালি, শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো -
'ঘরে-বাইরে' - নিখিলেস ও বিমলা।
'যোগাযোগ' - মধুসূদন ও কুমুদিনী।
'শেষের কবিতা' - অমিত ও লাবণ্য।
'চোখের বালি' - বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'শিখা' - কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. বার্ষিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. দ্বিমাসিক
  4. মাসিক
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হতো। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্য 'বৃত্রসংহার' কত খণ্ডে রচিত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য হলো বৃত্রসংহার।
কাব্যটি ১৮৭৫-১৮৭৭ সময়ে রচিত হয় যা দুই খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে সর্গ রয়েছে, ১-১১ পর্যন্ত। দ্বিতীয় খণ্ডে সর্গ সংখ্যা ১২-১৫।
মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের যা খ্যাতি তা মূলত এ কাব্যের জন্যই।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
.
‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রামরাম বসু
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০.
‘বন্ধুবিয়োগ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘বন্ধুবিয়োগ’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত একটি - কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’। তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১.
'পথের দাবী' উপন্যাসটি একটি -
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. খ) সামাজিক উপন্যাস
  3. গ) রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কৈশোর ও প্রথম যৌবন কাটে ভাগলপুরে মাতুলালয়ে। 
-  শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- দেবদাস, পল্লী সমাজ ও দত্তা তাঁর রচিত উপন্যাস।

• পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী’  ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৪৩ সালে অমিয় চক্রবর্তীর নিজস্বতার স্বাক্ষরে ভাস্বরিত হয়ে প্রকাশিত হলো 'অভিজ্ঞান বসন্ত'।
- এই কাব্যগ্রন্থ সাত পর্যায়ে বিন্যস্ত।
- এই কাব্যের 'সূর্যখন্ডিত ছায়া' পর্যায়ের 'সংগতি' কবিতার সুরই কবি'র জীবনের প্রধান সুর।
- 'সংগতি' কবিতা অনুধাবন করে বুদ্ধদেব বসু অমিয় চক্রবর্তীকে বলেছিলেন বাংলা দেশের সমকালীন পর্যায়ে 'সবচেয়ে আধ্যাত্মিক কবি।' এই কবিতার মূল বক্তব্যকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন: তাঁর যে কবিতাটি প্রথম সাড়া তুলেছিল সেটি মনে করা যাক; "সংগতি” ঝোড়ো হাওয়া আর পোড়া বাড়ীটার মিলন সংগীত; এই সংগতি তাঁর সকল কাব্যের মূলমন্ত্র।"

অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের একজন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব ছিলেন।
- তার বিখ্যাত কবিতা 'বাংলাদেশ' যা অনি:শেষ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

তার অন্যকাব্যগ্রন্থ:
- একমুঠো,
- উপহার,
- মাটির দেয়াল,
- হারানো অর্কিড ,
- অনিঃশেষ,
- পারাপার,
- পুষ্পিত ইমেজ, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৩.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস কোনটি?
  1. অভিযান
  2. অরণ্যবহ্নি
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. গণদেবতা
ব্যাখ্যা
• অরণ্যবহ্নি:
- 'অরণ্যবহ্নি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাসটি রচনা করেন ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- একটি কালো মেয়ের কথা,
- অরণ্যবহ্নি
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- অভিযান,
- পঞ্চগ্রাম,
- যতিভঙ্গ
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
কোন খ্যাতিমান লেখক 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. প্রমথনাথ বিশী
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. প্রমথ নাথ বসু
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

---------------------
অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম ছিল কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬.
হাসন রাজার গানে কিসের প্রাধান্য ছিলো?
  1. ক) আধ্যাত্মিকতা
  2. খ) জীবনবোধ
  3. গ) বিদ্রোহ
  4. ঘ) ইহজাগতিকতা
ব্যাখ্যা
লালন শাহ এবং হাসন রাজার গানে আধ্যাত্মিকতার প্রাধান্য থাকলেও ইহজাগতিকতা প্রাধান্য পেতো আব্দুল করিমের গানে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৭.
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- এটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। (১৯৯৪ সালের বই মেলাতে প্রথম প্রকাশিত হয় বলে ধরে নেওয়া হয়)
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ-গবেষণা:

- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ।
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন

• তাঁর রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
 - বিশ শতকের মেয়ে
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসটি সমাপ্ত হয়েছে?
  1. নৌকাডুবি
  2. চতুরঙ্গ
  3. চার অধ্যায়
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• শেষের কবিতা:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- 
- ​অমিত, 
​- লাবণ্য, 
​- কেতকী, 
​- শোভনলাল প্রমুখ।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯.
'তরঙ্গভঙ্গ' সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. কাব্যনাট্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে- বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

-----------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক।
২০.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৮২৮ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
চন্ডীচরণ মুন্সী কে?
  1. শ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
  3. কেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
  4. সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'। গ্রন্থটি ১৮০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। যা বাংলা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

অন্যদিকে, 
➝ কেরী সাহেবের মুন্সী'- উপন্যাসটির রচয়িতা - প্রমথনাথ বিশী।
➝ কেরী সাহেবের মুন্সী বলা হয় রামরাম বসুকে। কারণ রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। 
➝ 'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকার সম্পাদক - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২২.
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকে নূরলদীনের বাড়ি কোথায়?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. নীলফামারী
  3. রংপুর
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- “নুরুলদীনের সারাজীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'। ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
‘স্বামীর কাছে স্ত্রীর অহংকার সাজে না’ বক্তব্যটি শরৎচন্দ্রের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিরাজ বৌ
  2. মেজদিদি
  3. ছবি
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মেজদিদি’ গল্পের সংকলন:
- ‘মেজদিদি' হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মেজদিদি', 'দর্পচূর্ণ' ও ‘আঁধারে আলো' এই তিনটি গল্পের সংকলন।
- ‘মেজদিদি’ গল্পের সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- 'মেজদিদি' শরৎচন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় রচনাগুলোর মধ্যে একটি।
- এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত তিনটি গল্পই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই গ্রন্থে নারীর মহত্ত্বের পাশাপাশি ‘স্বামীর কাছে স্ত্রীর অহংকার সাজে না' এই বক্তব্যও প্রকাশিত।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২৪.
'শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’ - কার রচিত পঙক্তি?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজী কাদের নেওয়াজ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' কবিতা  থেকে সংকলিত। 

দুই বিঘা জমি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 


শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’
বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি –
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সেই আমগাছ একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে বালককালের কথা।
সেই মনে পড়ে, জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন –
ভাবিলাম হায়, আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন। 
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে, বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা।
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।।

উৎস: 'দুই বিঘা জমি'- কবিতা,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২৫.
বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক কোনটি?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
• রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)। ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।

• ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমার রচিত ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যের প্রতিটি শব্দ সাত কোটি বাঙালির আকাঙ্ক্ষার স্মারকে পরিণত হয়েছে। ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যটি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিচিত্র প্রবণতাকে ধারণ করে চব্বিশ বছর ধরে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিকল্প হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও দলিল। 

• শওকত ওসমানের  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য'।

--------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
"পরের কারণে স্বার্থে দিয়া বলি/ এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে?/ আপনার কথা ভুলিয়া যাও।" কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. কামিনী রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
"পরের কারণে স্বার্থে দিয়া বলি/ এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে?/ আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"- কবিতাংশটি কামিনী রায় রায় রচিত সুখ কবিতার অংশ।
'সুখ' কবিতা কামিনী রায় রচিত আলো ও ছায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত,
- অম্বা,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. কঙ্কাবতী
  2. পরিক্রমা
  3. কালো হাওয়া
  4. তিথিডোর
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৮.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. মহাশ্মশান
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
প্রধান চরিত্রগুলো হলো: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯.
‘নেমেসিস’ নাটকটি কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩০.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কামিনী রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

'আলো ও ছায়া':
- এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩১.
বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কিশোর চরিত্র কোনটি?
  1. নবকুমার
  2. ইন্দ্রনাথ
  3. চাঁদ সওদাগর
  4. কুবের
ব্যাখ্যা
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'। এবং এটি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কিশাের চরিত্র।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. সুকুমার রায়
  4. সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
• 'আবোল-তাবোল' শিশুতোষ কবিতার বইয়ের রচয়িতা - সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থের ভূমিকা।
৩৩.
নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের 
  2. কৃষক বিদ্রোহের 
  3. পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের
  4. জমিদারি শোষণের 
ব্যাখ্যা

• 'নেমেসিস' নাটক:
- নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনি বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।

---------------
• নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪.
‘একা মোর গানের তরী’- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) ইব্রাহিম খাঁ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন এর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০৬ টি। এর মধ্য অনেক জনপ্রিয় কিছু গান রয়েছে। যেমনঃ মিছে তুই ভাবিস মন, সবারে বাস রে ভাল, একা মোর গানের তরী, মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা ইত্যাদি।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩৫.
টেলিভিশনে প্রচারিত সেলিম আল দীনের প্রথম নাটক কোনটি?
  1. ক) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি 
  2. খ) ঘুম নেই
  3. গ) হাতহদাই 
  4. ঘ) হরগজ
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: ঘুম নেই।
১৯৭০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই নাটক প্রচারিত হয়। প্রযোজক-আতিকুল হক চৌধুরী।

মুনতাসির ফ্যান্টাসি: বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের শাসন নিয়ে লিখিত।
হাত হদাই- নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত।
হরগজ- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ সালে সংগঠিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখিত নাটক।
বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাংলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করেন সেলিম আল দীন। 

সেলিম আল দীনের কয়েকটি নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য
- হরগজ
- বাসন
- কেরামতমঙ্গল
- কীর্তন খোলা
- হাতহদাই
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশু,
- একটি মারমা রূপকথা,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. নদী ভাঙন
  2. নদী পাড়ের কৃষকদের জীবন
  3. ধীবর সমাজের রীতিনীতি
  4. জমিদারদের শোষণ
ব্যাখ্যা
-অদ্বৈত মল্লবর্মণের বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'।
- এ উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর (জেলে) সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে, মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক কোনটি?
  1. ক) জুলান
  2. খ) হাড়-হাড্ডি
  3. গ) পুত্র
  4. ঘ) নিমজ্জন
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক - হাড়-হাড্ডি
- এই নাটকের পরিকল্পনার মাত্র এক তৃতীয়াংশ তিনি লিখেছিলেন। সেটাই সমাপ্ত করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সেলিম আল দীন
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান : তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

তাঁর অন্যান্য নাট্যগ্রন্থসমূহ:
নাট্যগ্রন্থ: 
- কীর্তন খোলা 
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
- চাকা যৈবতী কন্যার মন
- বনপাংশু
- হরগজ
- হাতহদাই
- নিমজ্জন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
  1. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  2. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. জ্বলো চিতাবাঘ
  4. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা

'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস

তিতাস একটি নদীর নাম:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী প্রমুখ।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
৪০.
সৈয়দ মুজতবা আলীর সাহিত্যজগতে প্রবেশ ঘটে কোন গ্রন্থের মাধ্যমে?
  1. শবনম
  2. দেশে-বিদেশে
  3. অবিশ্বাস্য
  4. টুনি মেম
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪১.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. কবিতা
  2. কয়েকটি কবিতা
  3. কবিতার কথা
  4. বাঙলার কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' সমর সেনের একটি কাব্যগ্রন্থ।  
---------------- 
সমর সেন:
- সমর সেন ১৯১৬ সালের ১০ই অক্টোবর কলকাতার বাগবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। 
- তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়। 
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কবিতা লিখতেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালের ২৩শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
- কয়েকটি কবিতা
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা 
- নানাকথা 
- খোলাচিঠি
- তিন পুরুষ
- সমর সেনের কবিতা ইত্যাদি।

গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত। 

অন্যদিকে,
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
• সাহিত্য পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।
• বাংলার কাব্য- হুমায়ুন কবির রচিত -হাজার বছরের বাংলা কাব্য বিভিন্ন সময়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক যেসব পটভূমি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিলো এদের কালানুক্রমিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪২.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি কোন লিপিতে মুদ্রিত?
  1. ফারসি
  2. রোমান
  3. সংস্কৃত
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

নোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ জাতিতে একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবংচ বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
'বিরহ বিলাপ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কায়কোবাদ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
• তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
• কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
• মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৪.
‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি - শামসুর রাহমান।
তার রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, দুঃসময়ের মুখোমুখি, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এক ধরনের অহংকার, শূন্যতার শোকসভা, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, এক ফোঁটা কেমন অনল, দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে, অবিরল জলাভূমি, বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি - কালের ধুলোয় লেখা ও স্মৃতির শহর।
শামসুর রাহমানের উপন্যাস - অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
তার রচিত কয়েকটি শিশু-কিশোর সাহিত্য - এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪৫.
‘সুর সাকী’ সংগীত বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬.
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতা স্থান পেয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. একাত্তরের দশ মাস
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  4. কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা

"মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
'একাত্তরের দশ মাস':
- 'একাত্তরের দশ মাস' রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী রচিত দিনলিপি। 
- লেখক রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী তার নর্ব্যত্তিক দৃষ্টিভংগীতে নির্মোহ হয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি নির্মাণ করেছেন। তার এ গ্রন্থে ১৯৭১'এর মার্চ থেকে ১৯৭২ এর ১০ই জানুয়ারী পর্যন্ত ঘটনা কালানুক্রমিক বর্ণিত ।

• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাটক:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক। এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা। 

• 'কালের ধুলোয় লেখা' আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং 'একাত্তরের দশ মাস'। 

৪৭.
শামসুর রহমান রচিত “বন্দী শিবির থেকে” একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। কবি ১৯৭১ সালে শরনার্থী শিবিরে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে বন্দি হিসেবে ভাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮.
আলাউদ্দিন আল আজাদ এর কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. শ্যামল ছায়ার সংবাদ
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
ব্যাখ্যা

• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান সংকলনের নাম কী?
  1. যথাশব্দ
  2. রত্নমালা
  3. অভিধান
  4. সংসদ সমার্থশব্দকোষ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান যথাশব্দ
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
৫০.
বাংলা উপন্যাসধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয় কাকে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা উপন্যাসধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়— গ) প্যারীচাঁদ মিত্রকে।
-----------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
-  মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

বাংলা উপন্যাসের ক্রমবিকাশ:
১. প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮৫৮) - প্রথম উপন্যাস, পথিকৃৎ ও প্রতিষ্ঠাতা 2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৬৫) - প্রথম সার্থক উপন্যাস (দুর্গেশনন্দিনী), উপন্যাসের পূর্ণ বিকাশ 3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - উপন্যাসকে শিল্পমর্যাদা প্রদান 4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - সর্বাধিক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১.
প্যারীচাঁদ মিত্রের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য কোন পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. তকবীর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. আঙুর
  4. মাসিক পত্রিকা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হলো 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।

- প্যারীচাঁদের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এর নাম ছিল- 'মাসিক পত্রিকা' প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
- এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল মহিলাদের সহজ ভাষায় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। ।
- ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী।
---------------------
অন্যদিকে,
- আহসান হাবিব ‘দৈনিক তাকবীর’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।
- ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ‘আঙুর’ শিশুতোষ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুতুলনাচের ইতিকথা' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রোমান্টিক
  2. পৌরাণিক
  3. সামাজিক বাস্তবধর্মী
  4. ঐতিহাসিক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- এই উপন্যাসটি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সমাজব্যবস্থা এবং নিয়তির টানাপোড়েনকে তুলে ধরে। অর্থ্যাৎ, সামাজিক বাস্তবধর্মী কাহিনি এতে চিত্রিত হয়েছে।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩.
"বসন্ত রায় এবং উদয়াদিত্য" চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. চোখের বালি
  2. বউ ঠাকুরানীর হাট
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাস:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- ' বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৪.
সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাটকে 'নিলক্ষার নীল' - পদবন্ধটি প্রকাশ করেছে -
  1. ক) অনন্ত নক্ষত্রবীথি
  2. খ) দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশ
  3. গ) বিষাক্ত পৃথিবী
  4. ঘ) নীল জ্যোৎস্না
ব্যাখ্যা

‘নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয়, আছে ঊনসত্তর হাজার।’

সৈয়দ শামসুল হকের সাড়াজাগানো ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কবিতাটির শুরুর লাইন এই দুটি। আর শেষে রয়েছে সেই গভীর উচ্চারণ ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়।’ রংপুরের কৃষক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া নূরলদীন ছিলেন স্বাধীনতাকামী একজন কৃষক, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রাণপুরুষ। তাঁর আসল নাম ছিল নূরুউদ্দীন মোহাম্মদ বাকের জং।

কবিতার প্রথম দুই লাইন পড়ে বুঝা যায় যে নিলক্ষার নীল পদবন্ধটি দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশকেই উল্লেখ করছে। 

৫৫.
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বনগীতি
  2. গীতবিতান
  3. গাঙ্গের পাড়
  4. গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
- ‘গাঙ্গের পাড়’ জসীমউদ্দীন রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।
- ‘গীতবিতান’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।
- ‘রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬.
কোন গ্রন্থখানি বেগম রোকেয়ার লেখা?
  1. ক) প্রপঞ্চ
  2. খ) দেয়াল
  3. গ) মৃত্যুক্ষুধা
  4. ঘ) মতিচুর
ব্যাখ্যা
রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'মতিচুর'। গ্রন্থটি দুই খণ্ডে (১ম খণ্ড ১৯০৪; ২য় খণ্ড ১৯২২) প্রকাশিত হয়। তার রচিত আরাে কয়েকটি গ্রন্থ : অবরােধবাসিনী (প্রবন্ধগ্রন্থ), পদ্মরাগ ও সুলতানার স্বপ্ন (উপন্যাস)।
সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।
৫৭.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা- গোলাম মোস্তফা।
-
তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। 

গোলাম মোস্তফা
:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ
- খোশরোজ
- কাব্য-কাহিনী 
- সাহারা 
- হাস্নাহেনা 
- বুলবুলিস্তান
- তারানা-ই-পাকিস্তান 
- বনিআদম 
- গীতিসঞ্চালন। 
অনুবাদ কাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী
- কালামে ইকবাল 
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া। 
গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী
- ইসলাম ও কমিউনিজম 
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫৮.
'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) ইব্রাহিম খাঁ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, (১৮৯৪-১৯৭৮)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।  
• টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
• উল্লেখযোগ্য নাটক-- 
- কামাল পাশা
- আনোয়ার পাশা
- কাফেলা
- ঋণ পরিশোধ

• ভ্রমন কাহিনী--
- নয়া চীনে এক চক্কর 
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র

• উপন্যাস --
- বৌ-বেগম
- লক্ষ্মীছাড়া

• গল্পগ্রন্থ--
- সোনার শিকল
-  দাদুর আসর
- ওস্তাদ
- মানুষ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
'রমা' চরিত্রটি পাওয়া যায় -
  1. ক) জহির রায়হানের উপন্যাসে
  2. খ) রবীন্দ্রনাথের কবিতায়
  3. গ) শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে
  4. ঘ) মুনির চৌধুরীর নাটকে
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্রের রচিত ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো:
- রমা
- রমেশ
- বেণী
- বলরাম ইত্যাদি।

- উপন্যাসটি রমা নামে নাট্যায়িত হয়।
৬০.
মুনীর চোধুরী রচিত ‘দন্ডকারণ্য’ গ্রন্থে কয়টি নাটক রয়েছে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৩
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান,
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন.
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।

দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
যথা:
- দণ্ড
- দণ্ডধর
- দন্ডকারণ্য

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬১.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' গ্রন্থটি  বিষ্ণু দে রচনা করেছেন।
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২.
‘তেল নুন লকড়ি’ প্রবন্ধগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘তেল নুন লকড়ি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধগ্রন্থটি ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজ পত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. রম্যরচনা
  2. দিনিলিপি
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনলিপি। 

• আবুল ফজল: 
- ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা। 
- “দুর্দিনের দিনলিপি” - ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রোজনামচা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেন এবং সে সময় তিনি এই ডায়রি লিখেন।
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির, 
- প্রদীপ ও পতঙ্গ, 
- মাটির পৃথিবী, 
- বিচিত্র কথা, 
- রাঙ্গা প্রভাত, 
- রেখাচিত্র, 
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।

• ‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি।
- তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৬৪.
কোন লেখকের ছদ্মনাম ‘মুসাফির'?
  1. এস ওবায়দুল্লাহ
  2. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৫.
‘বাদশা হারুন ও মেহেরজান’ শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. রাজা উপাখ্যান
  4. রাজসাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রীতদাসেরে হাসি:
- এটি শওকত ওসমানের প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানীদের বিরূপ শাসন ও সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল। 
- উপন্যাসটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্র হলো: বাদশা হারুন, বেগম জুবাইদা, তাতারী, মেহেরজান।

⇒ শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন- 
  1. হুমায়ুন আজাদ 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা:
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ত্রৈমাসিক ‘চতুরঙ্গ’ অবিস্মরণীয় নাম। ‘চতুরঙ্গ’-এর প্রথম সংখ্যা (আশ্বিন ১৩৪৫) বের হয় ১৯৩৮ খ্ৰীষ্টাব্দের শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে। তবে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম দিকেই।

- ঐ ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রধান তিন কলাকুশলী হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আতাউর রহমান। তবে প্রথম থেকেই হুমায়ুন কবিরই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা।

৬৭.
"পথের পাঁচালী" উপন্যাসের চরিত্র কোনটি
  1. বিমলা
  2. সরলা
  3. দুর্গা
  4. শর্মিলা
ব্যাখ্যা
• "পথের পাঁচালী" উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, কলকাতা থেকে।

- এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত, মানুষের জীবন। এর প্রধান অংশই হলো একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়। প্রত্যেকটি আপাততুচ্ছ বিষয় ও ঘটনা নিয়ে আসে রহস্য ও সৌন্দর্যের আভাস, সবই মূল্যবান ও আনন্দময়।

- এর তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'অপরাজিত' (১৯৩১)। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

'পথের পাঁচালী'র উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেশ, বিমলা, সন্দীপ, চন্দ্রনাথ, মেজরাণী। 
• রবীন্দ্রনাথের 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র- আদিত্য, নীরজা, সরলা। 
• রবীন্দ্রনাথের 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র- শর্মিলা, উর্মিমালা, শশাঙ্ক। 

উৎস: "পথের পাঁচালী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮.
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সমরেশ বসু
  4. ঘ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ বসু। 
- ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত। 

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো:
- গঙ্গা
- উত্তরঙ্গ
- জগদ্দল
- বিবর
- প্রজাপতি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯.
কোনটি হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস?
  1. আনন্দ বেদনার কাব্য
  2. নদী ও মানুষের কথা
  3. পুঁই ডালিমের কাব্য
  4. দিবারত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস - আনন্দ বেদনার কাব্য।
- ৯ টি ছোটগল্প নিয়ে সংকলন আনন্দ বেদনার কাব্য। জব সল্যুশনের প্রশ্নে উপন্যাস লেখা হয়েছে বিধায় অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে- 'আনন্দ বেদনার কাব্য' গ্রহণ করা হলো। 

অন্যদিকে,
- ''দিবারাত্রির কাব্য” মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা উপন্যাস।
- 'পুঁই ডালিমের কাব্য' শামসুদ্দীন আবুল কালাম - গল্পগ্রন্থ।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা ‘নন্দিত নরকে’ শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ‘নন্দিত নরকে’ বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

• স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- আশাবরী (১৯৯১),
- কোথাও কেউ নেই (১৯৯২),
- কবি,

• সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা,
- তারা তিনজন।

• আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন,
- আমার ছেলেবেলা।

- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘বাদশাহ নামদার’ উপন্যাস।
৭০.
শহীদুল্লাহ কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. আবু নাসের মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আবু নায়েম
  4. আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সারের প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। 

শহীদুল্লাহ কায়সার (১৯২৭-১৯৭১):
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লাহ কায়সারের জন্ম ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে।
-  তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক  জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- পান্না কায়সার তাঁর সহধর্মিণী।
- ছাত্রজীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করতেন।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার সকল আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন।
-  ১৯৫২-র  ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ৩জুন গ্রেফতার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন। 
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান  উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত) ।

- রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) ও পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) তাঁর স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১.
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অবরোধবাসিনী 
  2. সুলতানার স্বপ্ন
  3. মতিচূর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় 'মতিচূর'। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২.
'কোথাও সান্ত্বনা নেই, পৃথিবীতে আজ বহুদিন থেকে শান্তি নেই।' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'কোথাও সান্ত্বনা নেই, পৃথিবীতে আজ বহুদিন থেকে শান্তি নেই।' পঙ্‌ক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থের 'জনান্তীকে' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশ:  
- তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।  
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।  

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি:   
• ঝরাপালক,
• ধূসর পাণ্ডুলিপি,
• বনলতা সেন,
• মহাপৃথিবী,
• সাতটি তারার তিমির,
• রূপসী বাংলা, 
• বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া
৭৩.
কোন লেখকের উপাধি 'সাহিত্যরত্ন'?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. আবুল হোসেন
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি।
- পরিণাম
- গরীবের মেয়ে
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
'বিশ্বনবী' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা

• ‘বিশ্বনবী’:
- বাংলা সাহিত্যে সীরাতচর্চার ইতিহাসে কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ একটি মাইলফলক গ্রন্থ। নবীজী হযরত মুহাম্মদ (স.)এর জীবন আদর্শ সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায়, কাব্যধর্মী গদ্যের অনন্য গাঁথুনিতে এ গ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে ।

- কবি গোলাম মোস্তফা ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থে নবীজী র জন্ম থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবন তথা দাওয়াত, সংগ্রাম, হিজরত, মদীনায় রাষ্ট্রগঠন, জিহাদ, শান্তি-নীতি, বিদেশনীতি, পরিবার, সমাজ, বিদায় হজ্জ ও ইন্তেকাল — সবকিছু ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরোছেন। পাশাপাশি সংযুক্ত দ্বিতীয় খণ্ডে নানাবিধ সংশয়ের তথ্য ও যুক্তিনির্ভর জবাব দিয়েছেন জোরালো ভাবে।

---------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান, 
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে-
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫.
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. সাগরদাড়ি গ্রামে
  2. হুগলি জেলায়
  3. মুরারিপুর, চব্বিশ পরগণা
  4. পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান  
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়:
- কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া - মুরারিপুর গ্রামে  মাতুলালয়ে জন্ম। 
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে - 

- নন্দিত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। 
- অধ্যাপক ও রাজনীতিক বদরুদ্দীন ওমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬.
'ঠাকুরমার ঝুলি'র পরবর্তী খণ্ডের নাম কী?
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) দাদামশায়ের থলে
  3. গ) খোকা বাবুর খেলা
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা
বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন ঠাকুরমার ঝুলি ।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এই গ্রন্থের সংকলন করেন। তিনি এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য আছে, কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিদ্যাসাগর শর্মা
  3. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  4. ঈশ্বরচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। 

-------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'। তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

-  বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন-শেষে পিতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদে গিয়ে সেখানে ৫ বছর বাস করেন। এই সময় থেকেই ‘সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকা’, ‘প্ৰদীপ’ প্রভৃতি পত্রিকাতে প্ৰবন্ধাবলী প্ৰকাশ করতে থাকেন এবং নিজেও ‘সুধা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

- এরপর পিতৃষ্বসার জমিদারী তত্ত্বাবধানের ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। সেই সময় থেকে দশ বছর ধরে বাঙলার লুপ্তপ্রায় ‘কথাসাহিত্যে’র সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। পরে এই সংগৃহীত উপদানসমূহ ড. দীনেশচন্দ্ৰ সেনের উপদেশানুযায়ী রূপকথা, গীতিকথা, রসকথা ও ব্ৰতকথা—এই চারভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গের পল্লী-অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় বিপুল কথাসাহিত্যকে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’, ‘দাদামশায়ের থলে’, ‘ঠানদিদির থলে’ প্রভৃতি গল্পগ্রন্থে স্থায়ী রূপদান করেছেন।

- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯.
জজ আব্রাহাম গ্রিয়াসন ছিলেন একজন-
  1. রাজনীতিবিদ
  2. ভাষাতাত্ত্বিক
  3. সাংবাদিক
  4. নাট্যকার
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়াসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- তিনি ১৯৪১ সালে মৃত্যবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana,
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta,
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন -
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল হুসেন
  3. আবু ইসহাক
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
• বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
• মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১.
'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত' --- এই লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. কায়কোবাদ 
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

"ফুল ফুটুক"-
সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

"ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত"।
- "ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এই চরণটি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর লেখা।
- এটি তার "ফুল ফুটুক" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি বিখ্যাত পঙক্তি। 
--------------------------------
সুভাষ মুখোপাধ্যায়:
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় শ্রমজীবী জনসাধারণের মুক্তিপ্রয়াসী কবি ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। কেবল কবি নন, গদ্য লেখক হিসেবেও তিনি ছিলেন শক্তিমান।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর, ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।তার  পিতা ক্ষিতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন আবগারি বিভাগের প্রসিকিউটর, এবং মাতা ছিলেন যামিনী দেবী।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় ভবানীপুর মিত্র স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৭), স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করেন। এ সময় তিনি কবি সমর সেনের সান্নিধ্যে মার্কসীয় রাজনীতি ও লেবার পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
- ১৯৪০ সালে তাঁর পদাতিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলে তিনি শ্রমজীবী জনসাধারণের মুক্তিপ্রয়াসী কবি হিসেবে বাংলা কবিতাঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে তাঁর চিরকুট কাব্য প্রকাশিত হলে তিনি মার্কসীয় বস্তুবাদী ধারার কবিরূপে খ্যাতি লাভ করেন।
- পরের বছর ১৯৫১ সালে তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ফুল ফুটুক,
- যত দূরেই যাই,
- কাল মধুমাস,
- এই ভাই,
- ছেলে গেছে বনে ও
- ধর্মের কল।

• তাঁর গদ্যগ্রন্থ:
- ক্ষমা নেই,
- খোলা হাতে খোলা মনে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮২.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. জেম্স অগাস্টাস হিকি
  2. জেমস সিল
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি কী ধরনের ছিল?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. অর্ধসাপ্তাহিক
  4. মাসিক
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি অর্ধসাপ্তাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
--------------------------
• পত্রিকা:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রধানত তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- এগুলো হলো:
- ধূমকেতু (১৯২২),
- লাঙল (১৯২৫) এবং
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০-এর দশকে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে)।
- পরে তিনি ‘লাঙল’-এর নাম পরিবর্তন করে গণবাণী (১৯২৬) পত্রিকাটিও সম্পাদনা করেন।
- এই পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে নজরুল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো বিষয় সাহসিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।
------------------------- 
উল্লেখ্য,
• 'ধূমকেতু': ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত ধূমকেতু ছিল অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। 
- এই পত্রিকায় নজরুলের বিখ্যাত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হয়।
- এই কবিতা লেখার জন্য নজরুলকে কারাবরণ করতে হয়। 

• 'লাঙল': 
- এই পত্রিকাটি ১৯২৫ সালে শ্রমিক, প্রজা ও স্বরাজের মুখপত্র হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত, হয়। 
- নজরুল এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• 'দৈনিক নবযুগ':
- ১৯২০ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকা নজরুল ও মুজফফর আহমদ যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন।

• গণবাণী (১৯২৬): ‘লাঙল’-এর পুনঃনামকরণ, নজরুল এতে সম্পাদনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮৪.
’খােয়াবনামা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৫.
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে রচিত উপন্যাস-
  1. ক) হাসলী বাঁকের উপকথা
  2. খ) তিতাস একটি নদীর নাম
  3. গ) পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. ঘ) একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। এটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- এটিতে মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮৬.
'কাল নিরবধি' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আনিসুজ্জামান
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের কাহিনীতে কোন অঞ্চলের প্রভাব রয়েছে?
  1. ঘাটশিলা ও বিহার
  2. বারাকপুর ও বনগ্রাম
  3. ঢাকা ও বিক্রমপুর
  4. মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া
ব্যাখ্যা

'অশনি সংকেত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮৮.
সেলিনা হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রাজশাহী 
  2. ঢাকা 
  3. কুমিল্লা 
  4. বরিশাল 
ব্যাখ্যা

• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৯.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. নীল লোহিত
  2. সনাতন পাঠক
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. নীল উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। এগুলো হলো:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

এছাড়া,
- সতীনাথ ভাদুড়ী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

বিভিন্ন লেখক ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- সোমেন চন্দ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম।
- বিমল ঘোষ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - মৌমাছি।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যাযাবর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- বিমল মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম - জাবালি।
- কালিকানন্দ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - অবধূত।
-  সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. স্মৃতিকথা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম'  অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ১৯৫৬ সালে 'মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত।  
- সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ এর জন্ম ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে।
-  তিনি  মোহাম্মদী,  আজাদ,  নবযুগ, কৃষক,  যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- নয়াবসত,
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা ও সাহিত্য, বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা সাহিত্যের কথা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ও বুদ্ধিস্ট মিস্টিক সংস ইত্যাদি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গবেষণামূলক গ্রন্থ। আমাদের সমস্যা, বাংলা আদব কী তারিখ এগুলো তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯২.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. কী চাহ শঙ্খচিল
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩.
“সাত নম্বর ওয়ার্ড” - কার রচনা?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
বাইবেলের কাহিনী অবলম্বন করে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস রচনাকারী প্রথম লেখক - সত্যেন সেন। তার শ্রেষ্ঠ দুটি রচনা - অভিশপ্ত নগরী ও পাপের সন্তান। অন্যান্য উপন্যাস - ভোরের হিহঙ্গী, রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ, পদচিহ্ন, বিদ্রোহী কৈবর্ত, আল বেরুনী (জীবনীভিত্তিক), সাত নম্বর ওয়ার্ড, উত্তরণ, মা ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৯৪.
নিচের গ্রন্থগুলির মধ্যে কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. কথা ও কাহিনী
  2. রাত্রি শেষ
  3. হাজার বছর ধরে
  4. চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
⇒ হাজার বছর ধরে:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- এই উপন্যাসের নায়িকা 'টুনি' একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 

⇒ জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- উপন্যাসের জন্য ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত ছবিগুলো হলো:
- কখনো আসেনি ( প্রথম পরিচালিত ছবি),
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

অন্যদিকে,
- 'কথা ও কাহিনী' (১৯০০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'। উল্লেখ্য অপশনে রাত্রি শেষ দেয়া আছে।
- 'চোখের চাতক' কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ বা গীতিকাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৬.
'বাঙালি মুসলমানের মন' কার লেখা?
  1. আহমেদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• বাঙালি মুসলমানের মন:
- রচয়িতা: আহমদ ছফা।
- প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১ সাল।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭.
'নবীন মাধব' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ক) ডাকঘর
  2. খ) জমিদার দর্পণ
  3. গ) সাজাহান
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
• গোলক বসু,
• নবীন মাধব,
• রাইচরণ,
• তোরপ,
• সাবিত্রী,
• সরলতা,
• ক্ষেত্রমণি প্রমুখ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৮.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

• জসীমউদ্‌দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

- তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯৯.
'একাত্তরের ডায়রী' কে লিখেছেন?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লায়।

তাঁর প্রকাশিত কবিতা:
- সাঁঝের মায়া
- মায়া কাজল 
- মন ও জীবন 
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে ইত্যাদি।

তাঁর প্রকাশিত গল্প: 
- কেয়ার কাঁটা 

তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 

তাঁর আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল

তাঁর ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১০০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. আরগ্য নিকেতন
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. চৈতালি ঘূর্ণি
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।