বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান

মোট প্রশ্ন৫৫১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৫৫১

১০১.
কোন বর্গের আগে কখনও 'ণ' হয় না?
  1. ট-বর্গ 
  2. প-বর্গ  
  3. ত-বর্গ 
  4. চ-বর্গ  
ব্যাখ্যা

ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ‘ণ’ প্রযোজ্য নয়। 
------------------ 
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।

- যেসব ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হয় না, সেখানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনও ‘ণ’ হয় না।
- যেমন: অন্ত, গ্রন্থ।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- যেমন:
- দেশি শব্দ: কোণ, গণ্ড, ছাগল।
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১০২.
ণ- ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ শব্দ নির্ণয় করুন-
  1. মুর্ধণ্য
  2. গ্রহণ
  3. বন্টন
  4. সায়াহ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ শব্দ।

• সূত্র:
• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (র- ফলার পরে হ, তার পরে ণ)।

অন্যদিকে,
- 'মুর্ধণ্য' এর সঠিক বানান 'মূর্ধন্য'।
- 'বন্টন' এর সঠিক বানান 'বণ্টন'।
- 'সায়াহ্ণ' এর সঠিক বানান 'সায়াহ্ন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০৩.
ঋ, র, ষ এর পর কোন বর্গের ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন'  'ণ' হয়?
  1. প বর্গ
  2. চ বর্গ
  3. ট বর্গ
  4. ত বর্গ
ব্যাখ্যা

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ),
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ),
- অর্পণ (র্ + প্ + অ+ ণ),
- লক্ষণ (ক্+অ+ণ)।
এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০৪.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দ?
  1. পরিণয়
  2. সমর্পণ
  3. পাষাণ
  4. চাণক্য
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টান, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

৬. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৫.
ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. দুর্ণিবার
  2. লণ্ঠন
  3. উষ্ণ
  4. তৃন
ব্যাখ্যা
• 'উষ্ণ' - বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
-------------------- 
ণ-ত্ব বিধান: 

- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

অন্যদিকে,
• লন্ঠন ইংরেজি শব্দ। এই শব্দে ণ-ত্ব বিধানের প্রয়োগ অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৬.
কোনটিতে ষ-ত্ব বিধানের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ভবিষ্যৎ
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) চক্ষুষ্মান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র - এর পরে প্রত্যয়ের স সর্বদা ষ হয়।

যেমন - ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
১০৭.
মূর্ধন্য ’ণ' হয় না কার পরে?
  1. ট-বর্গীয়
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন,
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। 
যেমন- কণ্টক, ঘণ্টা, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি। 

কিন্তু, পরে ট-বর্গীয় ধ্বনির পরে 'ণ' হয় না।
যেমন- পাঠন, বাটন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৮.
স্বভাবত 'ণ' ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
  1. লক্ষণ
  2. অর্পণ
  3. স্থাণু
  4. হরিণ
  5. ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা

• স্বভাবত 'ণ' ব্যবহার হয়েছে - স্থাণু।

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- 'কৃপণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে হয়েছে।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০৯.
ণ-ত্ব বিধান কোন শব্দের জন্য প্রযোজ্য?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দ
  2. খ) বিদেশি শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১০.
কোনটিতে "ষ-ত্ব বিধান" এর নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে?
  1. স্পষ্ট
  2. শ্রদ্ধাস্পদাসু
  3. মাস্টার
  4. অগ্নিষাৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদাসু

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১১.
নিচের কোনটি 'ষত্ব' বিধানের ক্ষেত্রে অশুদ্ধ?
  1. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
  2. ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়।
  3. উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়।
  4. খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্যটি - খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয়।
কারণ,
খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে মূলত 'ষ' ব্যবহার হয় না। বাংলা ভাষায় 'ষ' ধ্বনি সাধারণত সংস্কৃত থেকে আগত শব্দে পাওয়া যায়। খাঁটি বাংলা শব্দে মূলত 'স' ব্যবহৃত হয়।

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
৭. খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয় না। যেমন - দেশি, বসবাস, করিস ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) উত্তরায়ণ
  2. খ) নারায়ন
  3. গ) ত্রিনয়ন
  4. ঘ) পরনিন্দা
ব্যাখ্যা
• উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়। 
যেমন:
- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ,
- পর + অয়ন = পরায়ণ,
- রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ,
- চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ,
- নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি। 

• সমাসসাধিত শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না এক্ষেত্রে 'ন' হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, অগ্রনায়ক, পরনিন্দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
  2. রেফ-এর পরে মূর্ধন্য-ষ হবে।
  3. বাংলা শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
  4. ঋ বা ঋ-কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে।
ব্যাখ্যা
• "বাংলা শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।"  বাক্যটি সঠিক নয়। 
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ বা ঋ-কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমন- কৃষক, বৃষ্টি, ঋষি, কৃষ্ণ, দৃষ্টি ইত্যাদি। 
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষণ, ঘর্ষণ, বর্ষা ইত্যাদি।
- রেফ-এর পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমন- আকর্ষণ, বর্ষ, মুমূর্ষু, বার্ষিক, সপ্তর্ষি।
- র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়। যথা— পরিষ্কার। 
- ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়, যথা- অনিষ্ট, চেষ্টা, নষ্ট, বৈশিষ্ট্য, অনুষ্ঠান, কনিষ্ঠ, প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১৪.
কোনটি সঠিক বানান?
  1. খুষি
  2. পোষাক
  3. পোস্ট
  4. আফষোষ
ব্যাখ্যা
• ষত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

• ষত্ব বিধান নিয়ম ও উদাহরণ:
বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন—জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

• "বিদেশি শব্দে ষ হয় না" নিয়ম অনুসারে, "পোস্ট" শব্দটি ইংরেজি থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ হিসেবে 'স' দিয়ে লেখা হয়।

অন্য অপশন:
• "খুষি" হওয়া উচিত "খুশি" (ফারসি থেকে আগত);
• "পোষাক" হওয়া উচিত "পোশাক" (ফারসি থেকে আগত);
• "আফষোষ" হওয়া উচিত "আফসোস" (ফারসি থেকে আগত)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১৫.
স্বভাবতই ‘মূর্ধন্য-ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. চক্ষুষ্মান
  2. সুষমা
  3. উৎকৃষ্ট
  4. দ্বেষ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৬.
তদ্ভব শব্দের বানানে কোনটির ব্যবহার নেই?
  1. য 
  2. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ষত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মুর্ধন্য- ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। 
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য- ষ লেখার প্রয়োজন হয়না। 
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ' ব্যবহার রয়েছে। 
- যে সব শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। 
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

• ণত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না৷। 
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মুর্ধ্ন্য- ণ এবং দন্ত্য- ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলা অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ‘ণ’  এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১৭.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর
  2. ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ে
  3. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে
  4. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর
ব্যাখ্যা
ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। 
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

'ষ' এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয় যেসব ক্ষেত্রে-
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৮.
কোনটি স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত শব্দ নয়?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. ভাষণ
  3. রোষ
  4. ষড়ঋতু
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৯.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কাণ্ড
  2. লাবণ্য
  3. লক্ষণ
  4. মরণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, যয় বহং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+), লক্ষণ (ক্+ + অ + ণ)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন: কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, শাণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১২০.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ধরণ
  2. খ) ঠান্ডা
  3. গ) লণ্ঠন
  4. ঘ) ঝরণা
ব্যাখ্যা
ধরন, ঠান্ডা, ঝরনা লন্ঠন অতৎসম শব্দে বলে ন হবে।
 
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
১২১.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নষ্ট
  2. কৃষক
  3. ঊষা
  4. কষ্ট
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২২.
 ঋ, র, ষ এর পর কোন বর্গের ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ’ন’ মূর্ধন্য 'ণ' হয়?
  1. প বর্গ
  2. চ বর্গ
  3. ট বর্গ
  4. ত বর্গ
ব্যাখ্যা

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ),
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ),
- অর্পণ (র্ + প্ + অ+ ণ),
- লক্ষণ (ক্+অ+ণ)।
এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২৩.
"ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান" অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মাস্টার
  2. পোশাক
  3. ধূলিসাৎ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে য হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৪.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়?
  1. হরিণ 
  2. কৃপণ 
  3. লক্ষণ
  4. লাবণ্য
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা। আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে,
ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, যয় বহৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন-
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে পৃ, তার পরে ণ), 
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ,)
- অর্পণ (র্ + প + অ+), 
- লক্ষণ (ক্+ + অণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২৫.
'ষ-ত্ব' বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ষড়ঋতু
  2. ভাষণ
  3. আষাঢ়
  4. চক্ষুষ্মান
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ'' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
- খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয় না। যেমন- দেশি, বসবাস, করিস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২৬.
ণ- ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. অঘ্রান
  2. গভর্ণর
  3. ঝরনা
  4. হর্ন
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ণ, দন্ত্য এর বানান রীতি: 

• অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন : অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

• তৎসম শব্দে ট ঠ ড ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন :
কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

• কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে। যেমন :
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২৭.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. ক) ক্রিয়াপদে
  2. খ) তৎসম শব্দে
  3. গ) ‘ট’ বর্গীয় বর্ণে
  4. ঘ) ঋ, র, ষ-বর্ণে
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে।
- এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

এখানে প্রশ্নের অপশন অনুসারে, ক্রিয়া পদের সাথে 'ণ' ব্যবহারের কোন সম্পর্ক নেই।
তাই সঠিক উত্তর - খ) ক্রিয়াপদে।

তথ্যসূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
১২৮.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কাণ্ড
  2. পিণাক
  3. ভাষণ
  4. কারণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে।
- এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৯.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. মাণিক্য
  2. কণিকা
  3. পাণি
  4. ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• 'ব্যাকরণ' শব্দে ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী মূর্ধন্য-ণ বসেছে। এখানে, নিত্য মুর্ধন্য 'ণ' হয়নি।

ণ-ত্ব বিধান সূত্র:
- ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৩০.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে মূর্ধন্য-ণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. বাণিজ্য
  2. কঙ্কণ
  3. ভাষণ
  4. পিণাক
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩১.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1.  ষড়ঋতু
  2. ঋষি
  3. কৃষক
  4. উৎকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তডব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ব লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

"ষ" ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 
২. ট-বগীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ট, ওষ্ঠ ইত্যাদি। 
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের “স' “ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুন্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারাস্ত এবং উ-কারাস্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর “ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, উষা, পৌষ ইত্যাদি

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও “ষ' হয় না। যেমন- অগশ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩২.
মূর্ধন্য 'ণ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দুর্ণাম
  2. বর্ণনা
  3. অর্পণ
  4. কৃপণ
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৩.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি মিথ্যা?
  1. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
  2. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  3. বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য ষ লেখার প্রয়োজন হয়না।
  4. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৪.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. আষাঢ়
  3. ঋষি
  4. কষ্ট
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৫.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আষাঢ়
  2. চিকীর্ষা
  3. ষড়যন্ত্র
  4. ভূষণ
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
• 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'য' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ষড়যন্ত্র, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩৬.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্পষ্ট
  2. আষাঢ়
  3. উৎকৃষ্ট
  4. ঋষি
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৭.
'কঙ্কণ' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. ম এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  2. স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
  3. 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  4. ম-এর পরে 'ণ' বসে
ব্যাখ্যা
‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. পরিস্কার
  2. কাষ্ঠ
  3. পুরষ্কার
  4. বহিস্কার
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 

- র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' বসে।
যেমন - পরিষ্কার, বহিষ্কার, পুরস্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৯.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত শব্দ?
  1. আষাঢ়
  2. ভূষণ
  3. কলুষ
  4. প্রতিষেদক
ব্যাখ্যা

উত্তরপত্রের অপশনে 'প্রতিষেধক' বানান ভুল আছে। 
সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
--------------------------- 

• প্রতিষেদক ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত শব্দ।

সূত্র:
- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
- যেমন- সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
- যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

১৪০.
‘ঋ’ ‘র’ ‘ষ’-এর পরে কি বসে?
  1. ন 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব-বিধান অনুযায়ী ‘ঋ’ ‘র’ ‘ষ’-এর পরে 'ণ' বসে। 
------------------------
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুসারে, শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃতমূল) শব্দে ঋ (ঋ), র (র/র-ফলা/রেফ) এবং ষ (ষ)–এর পরবর্তী দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ)–এ রূপান্তরিত হয়।
 - এই নিয়ম খাঁটি বাংলা বা বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- যেমন- 
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

- নিয়মের প্রয়োগে দেখা যায়—
 • ঋ–এর পরে ন থেকে ণ রূপান্তর ঘটে।
 - যেমন- ঋণ, তৃণ, ঘৃণা ইত্যাদি। 

• র (র, র-ফলা বা রেফ থাকলে) –এর পরে দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ)–এ রূপান্তরিত হয়।
 - যেমন- বারণ, বর্ণ, কারণ, মরণ, বরণ, বিকিরণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

 • ষ–এর পরে ন থেকে ণ রূপান্তর ঘটে।
 - যেমন- ভাষণ, উষ্ণ, বিষ্ণু, ভূষণ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪১.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধান–এর নিয়মানুসারে গঠিত শব্দ?
  1. স্পষ্ট
  2. ষড়ঋতু
  3. ভাষণ
  4. ঊষা
ব্যাখ্যা
ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷ যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়৷ যথা: ষড়ঋতু, ভাষণ, ঊষা, ভূষণ, ঔষধ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৪২.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. অভিষেক
  3. অনুসঙ্গ
  4. প্রতিষেধক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - অনুসঙ্গ

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন:
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রতিস্থান
  2. চিকীর্ষা
  3. অনুসঙ্গ
  4. চক্ষুস্মান
ব্যাখ্যা
ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন
- সুসুপ্ত > সুষুপ্ত,
- অনুসঙ্গ> অনুষঙ্গ,
- প্রতিসেধক >প্রতিষেধক,
- প্রতিস্থান অনুষ্ঠান,
- বিসম> বিষম,
- সুসমা >সুষমা ইত্যাদি।
- অভিসেক> অভিষেক,
 - প্রতিস্থান >প্রতিষ্ঠান।
- , অনুস্থান >অনুষ্ঠান।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স য হয়।
যেমন-
ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ +ব্ + ই+) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৪৪.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য বসে?
  1. ক) প্রয়াণ
  2. খ) প্রমাণ
  3. গ) বণ্টন
  4. ঘ) অণু
ব্যাখ্যা
অণু শব্দে স্বভাবতই 'ণ' বসে। 

- এমন কতকগুলো শব্দ আছে, যেগুলোকে ফেলা যায় না, সেগুলো হল স্বতঃসিদ্ধ, মনে রাখবার জন্য টাই এ জাতীয় শব্দগুলোকে মুখস্থ করে বা, লিখে লিখে অভ্যাস করে আয়ত্তে আনতে হয়। যেমন- অণু, কল্যাণ ইত্যাদি। 
- ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।

- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 


 সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৪৫.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে, নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ভাষণ
  2. অনুসঙ্গ
  3. চক্ষুষ্মান
  4. স্পষ্ট
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ - অনুসঙ্গ। 
শুদ্ধ বানান - অনুষঙ্গ।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম: 
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৬.
কোন দুটি স্বরবর্ণের পরে 'ষ' এর প্রয়োগ হয় না? 
  1. ঐ, উ
  2. ই, ঋ
  3. অ, আ
  4. এ, ঐ 
ব্যাখ্যা

ষত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ষত্ব বিধান সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না।
- বিশেষ করে ‘অ’ ও ‘আ’ স্বরবর্ণের পরে সাধারণত মূর্ধন্য ‘ষ’ বসে না; সেখানে দন্ত্য ‘স’-ই ব্যবহৃত হয়।
- কারণ এই দুই স্বর উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান এমন থাকে যে ‘ষ’ ধ্বনি উচ্চারণের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হয় না।
- কিন্তু ই, উ, ঋ প্রভৃতি স্বরবর্ণের পরে কিংবা ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ব্যঞ্জনের পরে, উচ্চারণকে সহজ করতে অনেক সময় স → ষ রূপান্তর ঘটে।

- এই নিয়মের কারণেই পুরস্কার, অসৎ, আসন—এ ধরনের শব্দে ‘স’ ব্যবহৃত হয়, ‘ষ’ নয়।
-----------------------
- ষত্ব বিধানের নিয়ম:
• ঋ, র, ষ বর্ণের পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
• ট বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত দন্ত্য স মূর্ধন্য ষ হয়।
--------------------------
উল্লেখ্য,
- যেসব ক্ষেত্রে ‘ষ’-এর ব্যবহার হয় না—
১. খাঁটি বাংলা শব্দ এবং ক্রিয়াপদে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—করিস, দিস্‌, যাস ইত্যাদি।
২. বিদেশি শব্দে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—পোশাক, জিনিস, অফিস, স্টেশন ইত্যাদি।
৩. ‘স্পৃহ’ বা ‘স্পন্দ’ ধাতুর ‘স’ কখনো ‘ষ’ হয় না। যেমন—নিস্পৃহ, নিস্পন্দ ইত্যাদি।
৪. চ-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ তালব্য বর্ণ এবং ত-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ দন্ত্য বর্ণের সঙ্গে কখনোই ‘ষ’ যুক্ত হয় না। যেমন—নিশ্ছিদ্র, বিস্তর, দুস্থ ইত্যাদি।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪৭.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঈর্ষা
  2. আষাঢ়
  3. পাষাণ
  4. ভাষণ
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, কৃষ্ণ, তৃষ্ণা, তৃষা ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’/রেফ-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ, বর্ষী, ঈর্ষা, পর্ষদ, শীর্ষক।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪৮.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. ঋণ, ঘর্ষণ, বর্ন
  2. কাণ্ড, দ্বেষ, ক্রন্দণ
  3. অন্ত, উষ্ণ, পোষ্ট
  4. গ্রন্থ, ঘণ্টা, সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক - গ্রন্থ, ঘণ্টা, সুষুপ্ত

ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

২. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৩. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৪. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৯.
কোন জাতীয় শব্দে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার হয় না?
  1. ইংরেজি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন,
জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না।
যেমন,
অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫০.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জিনিষ
  2. মাষ্টার
  3. ষ্টেশন
  4. প্রতিষেধক
ব্যাখ্যা

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫১.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয় এমন উদহরণ কোনটি?
  1. কৃষক
  2. কোষ
  3. চিকীর্ষা
  4. চক্ষুষ্মান
ব্যাখ্যা
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স য হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ + + ই+) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান),
যেমন:
- মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'য' হয়।
যেমন-
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'য' হয়।
যেমন-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
১৫২.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. আষাঢ়
  2. উৎকৃষ্ঠ
  3. পৌষ
  4. দ্বেষ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - উৎকৃষ্ঠ।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৩.
নিচের কোন বানানগুচ্ছের সব বানান শুদ্ধ?
  1. ক) সিক্ত, সেবা, সুপ্ত
  2. খ) নিষুপ্ত, পরিস্কার, ভাস্কর
  3. গ) অভিষেক, নমষ্কার, পরস্পর
  4. ঘ) তিরস্কার, নিষ্পন্ন, নিস্পাপ
ব্যাখ্যা

- প্রথম অপশনের সব বানান ঠিক।
- দ্বিতীয় অপশনের নিষুপ্ত ও ভাস্কর ঠিক। পরিস্কার ভুল, শুদ্ধ হবে পরিষ্কার।
- তৃতীয় অপশনে অভিষেক, নিষ্পন্ন ঠিক। নিস্পাপ ভুল, শুদ্ধরূপ হবে নিষ্পাপ।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

১৫৪.
নিচের কোন বানানটি ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী সঠিক?
  1. গ্রহণ
  2. অপনয়ণ
  3. অনুশীলণ
  4. ত্রিনয়ণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গ্রহণ বানান সঠিক।
• সুত্র:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়. ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), গ্রহণ (র-এর পরে 'হ' তার পরে 'ণ'), অর্পণ (র্ + প + অ +ণ), লক্ষণ (ক্+ষ্‌ + অ+ণ)।
- এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অপনয়ণ' এর সঠিক বানান 'অপনয়ন'।
- 'অনুশীলণ' এর সঠিক বানান 'অনুশীলন'।
- 'ত্রিনয়ণ' এর সঠিক বানান 'ত্রিনয়ন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫৫.
নিচের কোন শব্দে 'ণ' এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ঘণ্টা
  2. বীণা
  3. পণ্য
  4. হর্ণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে। 

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম: 
১। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য হয়। 
যেমন— ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি। 

২। ঋ, র, ষ—এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 
যেমন—ঋণ, তৃণ, বর্ণ, কারণ, ভীষণ ইত্যাদি। 

৩। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। 
যেমন- বাণিজ্য, লবণ, বীণা, কল্যাণ, পুণ্য, নিপুণ, গণনা, পণ্য ইত্যাদি। 

৪। বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না। 
যেমন - হর্ন, ইস্টার্ন ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৬.
কোন ধরনের শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. প্রত্যয় সাধিত শব্দে
  2. সমাসবদ্ধ শব্দে
  3. সন্ধি সাধিত শব্দে
  4. উপসর্গযুক্ত শব্দে
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ৭-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা,
স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৭.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তদ্ভব শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
  2. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
  3. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদে ‘ষ’ যুক্ত হয় না।
  4. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন: অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৮.
‘অপরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ- 
  1. বাহুল্যজনিত কারণে 
  2. ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
  3. প্রত্যয়জনিত কারণে 
  4. সন্ধিজনিত কারণে 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধি লঙ্ঘন করেছে বিধায় ‘অপরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ।
----------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ‘ণ’-এর সঠিক প্রয়োগের নিয়মাবলি নির্দেশ করে।
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণের সেই নিয়ম যা নির্দেশ করে যে কখন তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দে দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে।
- মূলত এটি তৎসম শব্দের জন্য প্রযোজ্য, কারণ দেশি বা তদ্ভব শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য ‘ন’ থাকে, তবে তা ‘ণ’ হয়, যেমন: ঋণ, বর্ণ, ঘৃণা।
- এছাড়া, ঋ, র, ষ এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ বা অনুস্বার থাকে, তবুও ‘ণ’ হয়, যেমন: কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ।

- প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: প্রাহ্ণ, পরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।

- ‘অপরাহ্ন'’ শব্দে — প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয় — নিয়ম অনুযায়ী ‘অপরাহ্ণ' হবে।
- ‘ন' ব্যবহার করায় ‘অপরাহ্ন’ শব্দটি ভুল। 
- এর শুদ্ধ রূপ হলো- অপরাহ্ণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫৯.
কোন শব্দে ণত্ব বিধান অনুযায়ী 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) নিক্কণ
  2. খ) বিপণি
  3. গ) নির্ণয়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'নির্ণয়'- এ  ণত্ব বিধান অনুযায়ী 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে।

ণ-ত্ব বিধান: তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দৰ্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য “ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রবণ, প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন' হয়, “ণ” হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিপণি, নিক্বণ - শব্দগুলোতে স্বভাবতই ণ ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬০.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়মসিদ্ধ উপায়ে গঠিত?
  1. ক) দর্ষন
  2. খ) অর্ষ
  3. গ) অভিষেক
  4. ঘ) আদর্ষ
ব্যাখ্যা
• ই -কারান্ত এবং উ -কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমনঃ অভিসেক > অভিষেক, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• দর্শন, আদর্শ, অর্শ, বর্শা ইত্যাদি শব্দে ষ হয় না।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুসারে গঠিত?
  1. আষাঢ়
  2. কোষ
  3. ভাষণ
  4. বর্ষণ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান এর নিয়মানুসারে,
তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। 
যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ

অন্যদিকে,
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষআষাঢ়ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষআষাঢ়ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬২.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) উষ্ণ
  2. খ) ঋণ
  3. গ) স্থাণু
  4. ঘ) বর্ণ
ব্যাখ্যা
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৩.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ শব্দ-
  1. পূর্বাহ্ন
  2. সায়াহ্ণ
  3. অপরাহ্ণ
  4. মধ্যাহ্ণ
ব্যাখ্যা
• অপরাহ্ণ - ণ-ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ শব্দ।

• সূত্র:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ)।

অন্যদিকে,
- পূর্বাহ্ন এর শুদ্ধ বানান পূর্বাহ্ণ।
- সায়াহ্ণ এর শুদ্ধ বানান সায়াহ্ন।
- মধ্যাহ্ণ এর শুদ্ধ বানান মধ্যাহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬৪.
নিচের কোনটি বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী “ষ” এর উদাহরণ -
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) ঘনিষ্ঠ
  3. গ) পাষাণ
  4. ঘ) ষড়যন্ত্র
ব্যাখ্যা

ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যথাঃ কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ, পুষ্টি, লঘিষ্ঠ, ঘনিষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি।
''ঘনিষ্ঠ'' শব্দটি একটি নিয়ম অনুসারে হয়েছে।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমনঃ ঊষা, ঊষর, আভাষ, অভিলাষ, পাষাণ, পোষণ, মানুষ, সরিষা, ঔষধ, ষোড়শ, তোষণ, পৌষ, রোষ, কলুষ, শোষণ, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি।
সুত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেনী, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৫.
ষত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে নিচের কোন শব্দটি সঠিক?
  1. ক) অন্ত্যেষ্টি
  2. খ) চক্ষুস্মান
  3. গ) সুসুপ্ত
  4. ঘ) কৃশক
ব্যাখ্যা
ষত্ব বিধান অনুসারে, অন্ত্যেষ্টি শব্দটি সঠিক। কারণ, ট, ঠ- এই দুইটি মূর্ধন্য বর্ণের পূর্বে সর্বদা ষ হবে। 

ষত্ব বিধান: তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

ষ-ত্ব বিধানের নিয়মাবলী:
১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন—ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন—অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
৩। ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন—ঋষি, কৃষক।
৪। তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন—বর্ষা, ঘর্ষণ।
৫। ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন—কষ্ট, কাষ্ঠ।
৬। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন—ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষা, মানুষ, দ্বেষ।
৭। বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন—জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৬৬.
নিচের কোন শব্দটি সঠিক?
  1. ক) পরিনাম
  2. খ) পরিনতি
  3. গ) পরাহ্ণ
  4. ঘ) প্রনত
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে, পরাহ্ণ শব্দটি সঠিক। 

- কারণ, অপর, পরা, পূর্ব, প্র- এই কয়টি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন- এর জায়গায় মূর্ধন্য ণ হয়।  যেমন- অপরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 
- ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।

- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৬৭.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে কোনটি?
  1. কঙ্কণ
  2. কৃপণ
  3. নিক্কণ
  4. বাণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে - কৃপণ

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কণিকা, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কল্যাণ, বণিক, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু , গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ ?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) পোশাক
  3. গ) জিনিষ
  4. ঘ) পোষ্ট অফিস
ব্যাখ্যা
• 'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী - 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দটি ইংরেজি এবং 'পোশাক' ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৯.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনুষঙ্গ
  2. চক্ষুম্মান
  3. উৎকৃষ্ট
  4. ষড়যন্ত্র
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি। ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭০.
"অগ্রনায়ক; দুর্নাম" - শব্দে মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি কেন?
  1. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে মূর্ধন্য 'ণ' হয় না।
  2. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয় না।
  3. সমাসবদ্ধ শব্দে মূর্ধন্য 'ণ' হয় না।
  4.  ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে মূর্ধন্য 'ণ' হয় না।
ব্যাখ্যা

• ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়।
যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক

৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, 'ন' হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭১.
নিচের কোন শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত?
  1. কোণ
  2. গণ
  3. মণ
  4. ঋণ
ব্যাখ্যা

ঋ, র, ষ -এর পর ণ হয়।
- এই নিয়মে ব্যাকরণ শব্দে 'ণ' হয়েছে।

অন্যান্য শব্দগুলোতে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

১৭২.
নিচের কোন বানানে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে?
  1. দৃষ্টি
  2. দ্বেষ
  3. ঋষি
  4. বর্ষণ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'য' হয়।
যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'য' হয়।
যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৭৩.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. বর্ষণ, ভীষন
  2. ক্রন্দণ, কলুষ
  3. কারণ, প্রতিষেধক
  4. পোষাক, ভূষণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক - গ)কারণ, প্রতিষেধক।

এখানে,
ক) বর্ষণ, ভীষন – ‘বর্ষণ’ সঠিক, কিন্তু ‘ভীষন’ ভুল; শুদ্ধ হলো ‘ভীষণ’ (ষ-এর পর ণ হয়)।
খ) ক্রন্দণ, কলুষ – ‘ক্রন্দণ’ লেখা ভুল; ‘ক্রন্দন’ সঠিক, ‘কলুষ’ সঠিক।
গ) কারণ, প্রতিষেধক – উভয়ই শুদ্ধ; র-এর পর ণ এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর ষ এসেছে বিধি মেনে।
ঘ) পোষাক, ভূষণ – ‘পোষাক’ ভুল; বিদেশি শব্দে ষ হয় না, শুদ্ধ হলো ‘পোশাক’; ভূষণ - সঠিক।
-------------------
• ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

• ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

২. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৩. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৪. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৪.
'কামাল মাষ্টার পোষ্ট অফিসের সামনে দিয়ে ষ্টেশন এর দিকে গেলো।' - 'ষ-ত্ব বিধান' অনুসারে এই বাক্যে কয়টি বানান ভুল আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ণ' ত্ব বিধান 'ষ' ত্ব বিধান খাটে না। 
অর্থাৎ 'ণ' ও 'ষ' বিদেশি শব্দে ব্যবহৃত হয় না। 
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে
- S = স এবং
- sh, shion, sion, tion = শ 

• 'কামাল মাষ্টার পোষ্ট অফিসের সামনে দিয়ে ষ্টেশন এর দিকে গেলো।' - 'ষ-ত্ব বিধান' অনুসারে এই বাক্যে ৩টি বানান ভুল আছে। 
এখানে, 
মাষ্টার, পোষ্ট এবং ষ্টেশন - বিদেশি শব্দ।
- এসব শব্দে 'ষ' ব্যবহার হবে না।

এদের শুদ্ধ বানান- মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৫.
'বাণিজ্য' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. ম-এর পরে 'ণ' বসে
  2. 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  3. ম এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  4. স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৬.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কাষ্ঠ
  2. পাষাণ
  3. ওষ্ঠ
  4. উৎকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৭.
ট ও ঠ এর সঙ্গে সংযুক্ত আকারে বসে-
  1. ক) তালব্য-শ
  2. খ) দন্ত্য-স
  3. গ) মূর্ধন্য-ষ
  4. ঘ) যে কোনো একটি স-ধ্বনি
ব্যাখ্যা
ট ও ঠ এর সঙ্গে সংযুক্ত আকারে বসে- মূর্ধন্য-ষ।

ষত্ব বিধান:

- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহার হয় তাকে ষত্ব বিধান বলে।

অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ষ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষ-ত্ব বিধান।
যেমন: কৃষক, বিষ, বর্ষণ আষাঢ়, আভাষ ইত্যাদি।

• ষত্ব - বিধানের নিয়ম অনুযায়ী,
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়, যথা- অনিষ্ট, চেষ্টা, নষ্ট, বৈশিষ্ট্য, অনুষ্ঠান, কনিষ্ঠ, প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
মর্ধন্য ণ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) পরণিন্দা
  2. খ) ক্রন্দণ
  3. গ) দুর্ণিবার
  4. ঘ) আপণ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমনঃ
- ত্রিনয়ন,
- সর্বনাম,
- দুর্নীতি,
- দুর্নাম,  
- দুর্নিবার,
- পরনিন্দা,
- অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৯.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে নিচের কোন শব্দটি গঠিত?
  1. মাষ্টার
  2. পাষাণ
  3. নষ্ট
  4. ভাষা
ব্যাখ্যা
'মাষ্টার' শব্দটি বিদেশী ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।
- সঠিক বানান - মাস্টার।

ষ-ত্ব বিধান এর নিয়মানুসারে,
- ট - বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতিপয় শব্দ স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, দ্বেষ, ভূষণ ইত্যাদি।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
১৮০.
’সদুপায়’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্ + উপায়
  2. সৎ + ঊপায়
  3. সৎ + উপায়
  4. সদ্ + উপায়
ব্যাখ্যা

’সদুপায়’ শব্দটি (ব্যঞ্জন + স্বর) নিয়মে গঠিত।
যেমন-
- ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড (ড়)/দ/ব।
- যেমন
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

- স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি (ক, চ, ট, ত, প) পরিবর্তিত হয়ে ঘোষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- ব্যঞ্জনসন্ধি
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ  (স্বর + ব্যঞ্জন) ।
• চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র (ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন) ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮১.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ভূষন
  2. খ) লুন্ঠন
  3. গ) ঘৃনা
  4. ঘ) প্রণাম
ব্যাখ্যা
•  ণ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক বানান - প্রণাম।

- কারণ, অপর, পরা, পূর্ব, প্র- এই কয়টি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন- এর জায়গায় মূর্ধন্য ণ হয়।  যেমন- অপরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 
- ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।
 
- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 
 
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৮২.
কোন ধরনের শব্দের বানানে 'ষ' বসে?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. বিদেশি
  4. আঞ্চলিক
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-'ষ' ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যে-সব তৎসম শব্দে 'য' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

একই ভাবে,
• ণত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন-এর ব্যবহার আছে।
- তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮৩.
স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সুষুপ্ত
  2. ঋষি
  3. কষ্ট
  4. দ্বেষ 
ব্যাখ্যা

ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার। ৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

'ষ' এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয় যেসব ক্ষেত্রে-
বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮৪.
স্বভাবতই 'ণ' হয়নি নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) লাবণ্য
  2. খ) অর্পণ
  3. গ) কণিকা
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
• ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ং, এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন-
কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, ব্রাহ্মণ, রুক্মিণী ইত্যাদি।

• কতগুলাে শব্দে স্বভাবতই ণ হয়:
যেমন-
চাণক্য , মাণিক্য , গণ , বাণিজ্য , লবণ , বেণু , বীণা , কঙ্কণ , কণিকা, কল্যাণ, নিপুণ, আপণ, লাবণ্য, বাণী, ভণিতা, চিক্কণ, ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
নিচের কোনটি ‘ণ’ - এর ব্যবহারের নিয়মানুযায়ী গঠিত শব্দ?
  1. ক) নিপুণ
  2. খ) ভাষণ
  3. গ) কল্যাণ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ -- এই তিন বর্ণের পরে 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, ঘূর্ণন, মরণ, ব্যাকরণ, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, নিপুণ ও কল্যাণ - শব্দ দুটিতে স্বভাবতই 'ণ' - ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৮৬.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পোষাক
  2. মাষ্টার
  3. চক্ষুষ্মান
  4. ষ্টেশন
ব্যাখ্যা

• ’ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
যেমন - ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• ’ষ’ ব্যবহারের অন্যসব নিয়ম:

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ ইত্যাদি।

• র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়।
যথা: পরিষ্কার।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়।
যথা: পুরস্কার।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) দুরবিন
  2. খ) রানি
  3. গ) পরিবহণ
  4. ঘ) সায়াহ্ণ
ব্যাখ্যা
সায়াহ্ন শব্দে ন হয়। 

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
১৮৮.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. দুর্ণীতি
  2. ত্রিনয়ণ
  3. অগ্রণায়ক
  4. অন্ত
ব্যাখ্যা

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। 
এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক

এছাড়াও
- ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন-
অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
- দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ), বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮৯.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. ক) ঘণ্টা
  2. খ) ব্যাকরণ
  3. গ) কণিকা
  4. ঘ) ভাষণ
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন : লবণ, পণ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি।

নিচের ছড়াটি মুখস্থ রাখতে হবে : 
চাণক্য মাণিক্য গণ         বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি         স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী         নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্বণ তূণ           কফোণি বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ। 

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান

১৯০.
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) কর্ণ
  2. খ) প্রণাম
  3. গ) দূষণ
  4. ঘ) দুর্ণীতি
ব্যাখ্যা

সমাসবদ্ধ পদের ণত্ব বিধান খাটে না, তাই দুর্নীতি বানানে ন হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান

১৯১.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম সাধিত উপায়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কঙ্কণ
  2. রুক্মিণী
  3. বাণিজ্য
  4. পিণাক
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯২.
‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’- বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বহুবচন জনিত
  2. প্রত্যয় জনিত
  3. বানান জনিত
  4. বাচ্যজনিত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’- প্রদত্ত বাক্যে বানান জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে,
• অতৎসম শব্দের বানানে ক্ষেত্রে 'ণ' ব্যবহার হয় না। অতৎসম শব্দের বানানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।

• অঘ্রান (তদ্ভব শব্দ),
- এটি ‘অগ্রহায়ণ’ তৎসম শব্দের কথিত রূপ।

===========
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯৩.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) চিকীর্ষা
  2. খ) ভাষা
  3. গ) ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) বর্ষা
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধানের নিয়মাবলী:
১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন—ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন—অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
৩। ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন—ঋষি, কৃষক।
৪। তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন—বর্ষা, ঘর্ষণ।
৫। ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন—কষ্ট, কাষ্ঠ।
৬। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন—ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষা, মানুষ, দ্বেষ, ভূষণ ।
৭। বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন—জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৪.
'হুঁশিয়ার' শব্দে 'ষ' ব্যবহৃত হয়নি কেন?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দ বলে
  2. খ) বাংলা শব্দ বলে
  3. গ) অর্ধসংস্কৃত শব্দ বলে
  4. ঘ) বিদেশি শব্দ বলে
ব্যাখ্যা
'হুঁশিয়ার' শব্দটি ফারসি শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' 'ষ্টেশন' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার, স্টেশন ও পোশাক।   
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৫.
'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয় - এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ওষ্ঠ
  2. বর্ষণ
  3. সৃষ্টি
  4. চিকীর্ষা
ব্যাখ্যা

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ষ ব্যবহারের নিয়ম:
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন -
- মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন;
- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ

- ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৬.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. ব্রাহ্মণ
  2. বাণিজ্য
  3. লক্ষণ
  4. কৃপণ
ব্যাখ্যা

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় বহং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+), লক্ষণ (ক্+অ+ ণ)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যথা: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ,  শোণিত,  মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন: হিন্দি শব্দ- ঠান্ডা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৭.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. স্পষ্ট
  2. কৃষক
  3. কলুষ
  4. বর্ষণ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ভূষণ, দ্বেষ রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৮.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. মাষ্টার
  2. পোষ্ট
  3. সংস্কার
  4. পোষাক
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কার' - সংস্কৃত শব্দ। এটি শুদ্ধ বানান।

• 'ষ-ত্ব' বিধান: 
- কেবল তৎসম শব্দেই 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ বানান- সংস্কার। 

অন্যদিকে, 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দটি ইংরেজি এবং 'পোশাক' ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না। 
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৯.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জিনিষ
  2. অগ্নিষাৎ
  3. মাষ্টার
  4. বিষম
ব্যাখ্যা

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০০.
"ঋ’, ‘র’, ‘ষ’- এর পর ‘ণ’ হয়।" নিচের কোন শব্দে এ বিধান কার্যকর হয়েছে?
  1. কল্যাণ
  2. বিষ্ণু
  3. ভাণ
  4. বেণু
ব্যাখ্যা
• 'বিষ্ণু' - শব্দে ঋ-কার ও র-এর পর ‘ণ’ হয়' এই বিধান এর ব্যবহার হয়েছে। 

• ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ -- এই তিন বর্ণের পরে 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, ঘূর্ণন, মরণ, ব্যাকরণ, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।