বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গঠনমূলক শ্রেণি

মোট প্রশ্ন৭০এই পাতা৭০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গঠনমূলক শ্রেণি

PrepBank · পাতা / · ৭০ / ৭০

.
ভেঙে আলাদা করা যায় না কোন শব্দকে?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• ভেঙে আলাদা করা যায় না - মৌলিক শব্দ

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. গোলাপ
  2. পাখি
  3. সংসদ
  4. গাছ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন :
- গাছ
- পাখি
- ফুল
- হাত
- গোলাপ
পক্ষান্তরে সংসদ শব্দটি সংসদ শব্দটি সদ্ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
.
গঠনগত দিক থেকে শব্দ কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. পাঁচ
  4. আট
ব্যাখ্যা

গঠনমূলক শ্রেণিবিভাগ:
- গঠনগত দিক থেকে শব্দ - ২ প্রকার।
১. মৌলিক শব্দ।
২. সাধিত শব্দ।  

• মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।যেমন-
- গোলাপ,
- নাক, 
- লাল, 
- তিন ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে। উদাহরণ:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌+উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র+শাসন),
- গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ - সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
  1. ক) পঙ্কজ
  2. খ) রাজপুত
  3. গ) মহাযাত্রা
  4. ঘ) প্রবীণ
ব্যাখ্যা
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন-পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি ইত্যাদি। প্রবীণ, বাঁশি, তৈল, সন্দেশ ইত্যাদি শব্দগুলো হলো রূঢ়ি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
.
নিচের কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. প্রবীণ, সন্দেশ
  2. কর্তব্য, বাবুয়ানা
  3. পঙ্কজ, মহাযাত্রা
  4. গোলাপ, গাছ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
- যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
- অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ+তব্য অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য- অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
যেমন:
- হস্তী,
- তৈল,
- গবেষণা,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ।  

• যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণ ভাবে সমস্যমান পদশূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
- মহাযাত্রা,
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- জলধি
- তুরঙ্গম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
সাধিত শব্দটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) নাক
  2. খ) তিন
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) চাঁদমুখ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দগুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ। যেমন- গোলাপ, নাক, লাল, তিন ইত্যাদি।
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায় সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন - চাঁদমুখ (চাঁদের মত মুখ), নীলাকাশ ( নীল যে আকাশ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. গরমিল
  2. চলন্ত
  3. প্রশাসন
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - লাল

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
রূঢ়ি শব্দ নয় কোনটি?
  1. বাঁশি
  2. প্রবীণ
  3. সন্দেশ
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা

সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন : পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি।
কিন্তু যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন : বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (পুরাতন)

.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) লাল
  3. গ) নাক
  4. ঘ) মানব
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

অপরদিকে,
মনু + অ/ষ্ণ = 'মানব' হলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১০.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. পাখি
  2. দেশি
  3. মাটির
  4. বউটি
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১.
কোন শব্দটি বিশ্লেষণ করা যায় না?
  1. চাঁদমুখ
  2. চলন্ত
  3. ডুবুরি
  4. গোলাপ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে, 
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।

উদাহরণ:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ), নীলাকাশ (নীল যে আকাশ), ডুবুরি (ডুব্‌+উরি), চলন্ত (চল্ + অন্ত), প্রশাসন (প্র+শাসন), গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
"পাঞ্জাবী" কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক
  3. যৌগরূঢ়
  4. মৌলিক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তৎসম
  2. যোগরূঢ়
  3. যৌগিক
  4. রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমনঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
নিম্নের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) স্নাতক
  2. খ) গবাক্ষ
  3. গ) পঙ্কজ
  4. ঘ) বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন-
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
- পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।
- এরূপ আরও শব্দের উদাহরণ হলাে- গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক,
- এরূপ শব্দ হলাে গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক, চরণ, পক্ষী ইত্যাদি।

রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ :  সন্দেশ, জ্যাঠামি ,প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
যােগরূঢ় শব্দ : জলদ, পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
১৫.
যৌগিক শব্দ কোনটি?
  1. গোলাপি
  2. ফুল
  3. প্রবীণ
  4. জলধি
ব্যাখ্যা
• 'গোলাপি' যৌগিক শব্দ। 

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য – অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা – অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র -অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা +ষ্ণ্য-অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা-অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
- ফুল মৌলিক শব্দ।
- প্রবীণ রূঢ়ি শব্দ।
- জলধি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬.
কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) পানসা
  2. খ) ফুলেল
  3. গ) গােলাপ
  4. ঘ) হাতল
ব্যাখ্যা
যে সকল শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন- গােলাপ, দেশ, ঢাকা, হাত, ফুল, ঘর ইত্যাদি। যে সকল শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় তাদেরকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন- পানসা, ফুলেল, হাতল ইত্যাদি সাধিত শব্দ। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৭.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গাছ
  2. চলা
  3. হাত
  4. পথ
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ: 
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। 
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ, মা, ভাত,পথ, চল ইত্যাদি। 

• সাধিত শব্দ: 
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। 
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, নীলাকাশ, পথিক, চলা, ডুবুরি, চাঁদমুখ ইত্যাদি। 

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) বন্ধুত্ব
  3. গ) প্রশাসন
  4. ঘ) দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৯.
নিম্নের কোনটি শব্দগঠন প্রক্রিয়া নয়?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।
- অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে।
- কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ছুটি
  2. কাব্য
  3. দ্বীপ
  4. মেঘ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
  যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, ছুটি
 
অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
 যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
সাধিত শব্দ:
মেঘ = মিহ্ + অ।
দ্বীপ = দ্বী + অপ্ + অ।
কাব্য = কবি + য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ - সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২১.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. গরমিল
  2. গোলাপ
  3. নাক
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - গরমিল

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
মহাযাত্রা একটি -
  1. ক) সমাস নিষ্পন্ন শব্দ
  2. খ) যোগরূঢ় শব্দ
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ। যেমনঃ পঙ্কজ- শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে যা, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্মফুল। মহাযাত্রা - মহাসমারোহে যাত্রা অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৩.
‘আয়ত্তাধীন’ শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. ক) গঠনজনিত
  2. খ) বানানজনিত
  3. গ) বাহুল্যজনিত
  4. ঘ) প্রয়োগজনিত
ব্যাখ্যা
‘আয়ত্তাধীন’ শব্দটি গঠনজনিত কারণে অশুদ্ধ। এর যথার্থ প্রয়োগ হবে ‘আয়ত্ত’।
২৪.
কোন শব্দ গুলোকে ভাষার মূল উপকরণ বলা হয়?
  1. সংস্কৃত শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. সাধিত শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে শব্দ দুই প্রকার। যথা- মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
আর মৌলিক শব্দ গুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ।
যেমন- গোলাপ, লাল, নাক, তিন, নীল ইত্যাদি।
আবার, অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
যোগরুঢ় শব্দ কোনটি?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) জলধি
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

গায়ক = যৌগিক শব্দ 
গবেষণা = রূঢ়ি শব্দ
গোলাপ = মৌলিক শব্দ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. মা
  2. দরদি
  3. লাল
  4. ভাত
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - দরদি

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল), 
দরদি (দরদ + ই) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
'ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) একাদশী
  2. খ) বাঘিনী
  3. গ) ননদিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
ব্যাখ্যা
'-ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ- 
একাদশ - একাদশী
মানব - মানবী
কপোত - কপোতী 
নেতা - নেত্রী 
তাপস - তাপসী ইত্যাদি 

'-আনী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
অরণ্য - অরণ্যানী 
চাকর - চাকরাণী 
মেথর - মেথরাণী 
শূদ্র - শূদ্রাণী ইত্যাদি 

'-ইনী'প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
বাঘ - বাঘিনী
গোয়ালা - গোয়ালিনী
মালী - মালিনী 
পাগল - পাগলিনী ইত্যাদি 

'-নী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
ননদাই - ননদিনী 
ধোপা - ধোপানী 
নাতি - নাতনী 
জেলে - জেলেনী ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গাছ
  2. চলন্ত
  3. পাখি
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - চলন্ত

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯.
‘নিঃস্ব’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) সাধিত
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. মৌলিক শব্দ ও
খ. সাধিত শব্দ।

ক. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: কলম, বাক্য, পদ্ম, নিঃস্ব, আম, বই ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

৩০.
মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম। 
  2. প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। 
  3. স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতা। 
  4. সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে। 
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১.
'ম্যালেরিয়া' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ইতালিয়ান
  2. ইংরেজি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফরাসি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ম্যালেরিয়া' ইতালিয়ান শব্দ।
• 'ম্যালেরিয়া' অর্থ:
মানবদেহে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত জীবাণু সংক্রমণের ফলে পালা করে আসে এমন জ্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩২.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) বাঁশি
  2. খ) মা
  3. গ) তৈল
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন : মা, বউ, লতা, গাছ, পাখি, ফুল ইত্যাদি। 

• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। - যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
- যেমনঃ হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
এছাড়াও সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩.
গঠনগত দিক থেকে শব্দ কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার
যথা- মৌলিক ও সাধিত শব্দ।

উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৪ প্রকার
যথা- তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।

অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ - ২০২১)।

৩৪.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গোলাপ
  2. ডুবুরি
  3. তিন
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - ডুবুরি

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
'মধুর' কোন প্রকার শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) রূঢ়ি
  4. ঘ) যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
বাগর্থ অনুসারে বাংলা শব্দকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়- 
যৌগিক শব্দ
রূঢ়ি শব্দ এবং 
যোগরূঢ় শব্দ

যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
এখানে 'মধুর' শব্দটি গঠিত হয়েছে (মধুর+র) যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই = মধুর মত মিষ্টি গুণ যুক্ত। 
তাই 'মধুর' শব্দটি যৌগিক শব্দ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
গঠন অনুসারে শব্দ কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন: পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৭.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) ফুল
  2. খ) হস্তী
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন : মা, বউ, লতা, গাছ, পাখি, ফুল ইত্যাদি। 
• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
রূঢ়ি শব্দ - যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
• যেমনঃ হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
এছাড়াও সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়?
  1. ক) বাঁশি
  2. খ) প্রবীণ
  3. গ) সন্দেশ
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা
জলধি যোগরূঢ় শব্দ। বাকিগুলো রূঢ়ি শব্দ। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৩৯.
নিম্নের কোনটি শব্দ গঠন প্রক্রিয়া নয়?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
 শব্দ ও গঠনবৈচিত্র্য
বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
- এগুলাে হলাে : উপসর্গ যােগে, প্রত্যয় যােগে এবং যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

- মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়। সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়। অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে। কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
"বাবুয়ানা" কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। 
​যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪১.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. অর্ধাঙ্গী
  2. আদিত্য
  3. রাজপুত
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
• অর্ধাঙ্গী= অর্ধাঙ্গ + ঈ  যার অর্থ দাঁড়ায় 'অর্ধ অঙ্গ আছে যার' কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ স্ত্রী।
তাই, অর্ধাঙ্গী রূঢ়ি শব্দ।

অন্যদিকে,
- আদিত্য = অদিতির পুত্র (সূর্য)। 
- রাজপুত=  রাজার পুত্র (জাতি বিশেষ)।
- পঙ্কজ = পঙ্কে(কাদায়) জন্মে যে(পদ্মফুল)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪২.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ গঠিত হয়?
  1. উপসর্গ যোগে
  2. প্রত্যয় যোগে
  3. সমাস সাধিত হয়ে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১)
৪৩.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
  1. জলধি
  2. রাজপুত
  3. পঙ্কজ
  4. সন্দেশ
ব্যাখ্যা

• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রাঃ 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুতঃ 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজঃ পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- অপরদিকে সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪.
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. নির্দেশক
  2. বলক
  3. বিভক্তি
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• লগ্নক:
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:
 
বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
 
বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।
 
বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫.
সাধিত শব্দ তৈরির প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

⇒ মৌলিক শব্দ :
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ :
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।

উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৬.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) মহাযাত্রা
  4. ঘ) বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ সমূহঃ
- পঙ্কজ,
- আদিত্য,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- জলদ,
- দশানন,
- বহুব্রীহি,
- গোঁফখেজুরে ইত্যাদি।

• রূঢ়ি শব্দ সমূহঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ,
- হরিণ,
- কুশল,
- পাঞ্জাবি,
- মন্দির,
- ফলাহার,
- কারচুপি,
- রাখাল,
- কদর্য,
- শুশ্রূষা ইত্যাদি শব্দগুলো রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৪৭.
'গাছ' একটি-
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:

- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ,
- পাখি,
- ফুল,
- হাত,
- গোলাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪৮.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) গায়ক
  3. গ) হাত
  4. ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দঃ
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, গায়ক শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৪৯.
গঠনগত দিক থেকে শব্দ কয়ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) এক
  2. খ) দুই
  3. গ) তিন
  4. ঘ) চার
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত। যথাঃ মৌলিক শব্দ এবং সাধিত শব্দ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫০.
নিম্নের কোনটি যােগরূঢ় শব্দ?
  1. ক) জ্যাঠামি
  2. খ) জলদ
  3. গ) কর্তব্য
  4. ঘ) প্রবীণ
ব্যাখ্যা
যােগরূঢ় শব্দ: সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনাে অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যােগরূঢ় শব্দ। যেমন
জলদ- মূল অর্থ যে জল দেয়, ব্যবহারিক অর্থ হলাে মেঘ,
পঙ্কজ- শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

এরূপ আরও উদাহরণ হলাে- মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।

জ্যাঠামি, প্রবীণ = রুঢ়ি শব্দ। 
কর্তব্য = যৌগিক শব্দ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. চাঁদ
  2. চলন্ত 
  3. শয়ন
  4. বিমল
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ: 
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- চাঁদ, গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- বিমল = বি + মল।
- চলন্ত = চল + অন্ত
- শয়ন = শী + অন।- সাধিত শব্দ।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, বন্ধুত্ব, প্রশাসন, দায়িত্ব, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. ক) পঙ্কজ
  2. খ) চিকামারা
  3. গ) হস্তী
  4. ঘ) কর্তব্য
ব্যাখ্যা
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযাগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনাে বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন -হস্তী=হস্ত+ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বােঝায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫৩.
'লাজুক' কোন ধরণের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক শব্দ
  2. খ) রূঢ়ি শব্দ
  3. গ) যৌগিক শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দঃ যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় উক যোগে লাজুক শব্দটি গঠিত হয় যা একটি যৌগিক শব্দ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা - ড.হায়াৎ মামুদ

৫৪.
'রাজপুত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) গবেষণা
  2. খ) বাঁশি
  3. গ) গায়ক
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ : যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম সেগুলােকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন-
গায়ক = গৈ + ণক (অক)- অর্থ : গান করে যে।ভকর্তব্য = কৃ+ তব্য - অর্থ : যা করা উচিত।
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ : বাবুর ভাব।
মধুর = মধু+র - অর্থ : মধুর মতাে মিষ্টি গুণযুক্ত।
দৌহিত্র = দুহিতা+ ষ্ণ্য - অর্থ : কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা+মারা - অর্থ : দেওয়ালের লিখন।
সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৫৬.
গঠনগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:
যথা-
- যৌগিক শব্দ
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ
- যোগরূঢ় শব্দ

উৎসগতভাবে শব্দসমূহ চার ভাগে বিভক্ত:
- তৎসম শব্দ
- তদ্ভব শব্দ
- দেশি শব্দ
- বিদেশি শব্দ


গঠনগতভাবে শব্দসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:
- মৌলক শব্দ
- যৌগিক শব্দ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ]
৫৭.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. চলন্ত
  2. ডুবুরি
  3. তিন
  4. নীলাকাশ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - তিন

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গোলাপ
  2. চলন্ত
  3. তিন
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ নয় - চলন্ত

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
- তিন

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র + শাসন),
- গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯.
'কর্তব্য' অর্থগতভাবে কোন ধরনের শব্দ?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য – অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা – অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র -অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা +ষ্ণ্য-অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা-অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬০.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. চলন্ত
  2. ডুবুরি
  3. ধুমাধুম
  4. পাখি
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুযায়ী শব্দ দুই প্রকার। যথা:
১. মৌলিক শব্দ,
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

২. সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, চলন্ত, ডুবুরি ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬১.
কোন শ্রেণির শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা

- গঠনগতভাবে শব্দ দুই প্রকার। যথা- মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
- মৌলিক শব্দ গুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ। যেমন- গোলাপ, লাল, নাক, তিন, নীল ইত্যাদি।
- অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) বউ
  3. গ) লতা
  4. ঘ) নীলাকাশ
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৩.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. গোলাপ
  2. গায়ক
  3. হাত
  4. ফুল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দঃ
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, গায়ক শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৬৪.
'পাগলামি' অর্থ অনুসারে কোন ধনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যোগরূঢ়
  3. মৌলিক
  4. যৌগিক
ব্যাখ্যা
• 'পাগলামি' গঠন অনুসারে যৌগিক শব্দ।
• পাগলামি = পাগল + আমি অর্থ: পাগলের মত ভাব। 

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য – অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা – অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র -অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা +ষ্ণ্য-অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা-অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৫.
‘চিকামারা’ শব্দটি হলো -
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ দেওয়ালের লিখন। এটি যৌগিক শব্দ।
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৬৬.
সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. গরমিল
  2. গোলাপ
  3. ডুবুরি
  4. প্রশাসন
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ নয় - গোলাপ

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
- তিন।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র + শাসন),
- গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গরমিল
  2. গোলাপ
  3. ডুবুরি
  4. নীলাকাশ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - গোলাপ

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮.
গঠন বিবেচনায় শব্দের প্রকার কোনটি?
  1. ক) মৌলিক ও যৌগিক
  2. খ) মৌলিক ও সাধিত
  3. গ) সাধু ও চলিত
  4. ঘ) স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ :
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ :
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯.
নিম্নের কোনটি সাধিত শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া?
  1. সমাস
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

⇒ মৌলিক শব্দ : যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ : যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন –
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন –
- ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭০.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) নাক
  2. খ) হাতল
  3. গ) লালচে
  4. ঘ) কাঠগোলাপ
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

কিন্তু, 
হাতল, লালচে, কাঠগোলাপ = সাধিত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।