বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২৮ / ৩৮ · ২,৭০১২,৮০০ / ৩,৭৪৭

২,৭০১.
কোন অবস্থায় পদার্থের অণুগুলো সবচেয়ে দূরে দূরে অবস্থান করে?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) গ্যাসীয়
  4. ঘ) স্ফটিক অবস্থায়
সঠিক উত্তর:
গ) গ্যাসীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্যাসীয়
ব্যাখ্যা
যখন কোন পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে, তখন তার অণুগুলো মুক্ত অবস্থায় থাকে, ফলে অণুগুলোর একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

অপরদিকে,
- কঠিন অবস্থায় পদার্থের অণুগুলো কাছাকাছি থাকে, কিন্তু একটি অনু অন্য অণুর সাপেক্ষে নড়তে পারে না।
- তরল অবস্থায় পদার্থের অণুগুলো কাঁপে নিজ অবস্থানে থেকে, কিন্তু স্থান পরিবর্তন করতে পারে না।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
২,৭০২.
কোন প্রক্রিয়ায় বৈদ্যুতিক রোধের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তাপের সৃষ্টি হয়?
  1. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  2. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  3. প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  4. উভমুখী প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রত্যাবর্তী ও অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া:
- কোনো সিস্টেম যখন এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায় বা পরিবর্তিত হয়, তখন অবস্থার এ পরিবর্তন দু'ভাবে সংঘটিত হতে পারে। যথা:

১. প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া:
- যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করে এবং সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ার প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয়, সে প্রক্রিয়াকে প্রত্যাবর্তী বা প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া বলে।

• প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ার উদাহরণ:
১. আমরা জানি, বরফ তাপ শোষণ করে পানিতে পরিণত হয়। এখন যদি সেই পানি থেকে সমপরিমাণ তাপ অপসারণ করে সমআয়তনের বরফ পাওয়া যায়, তবে এটি প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।

২. স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে খুব ধীরে ধীরে কোনো স্প্রিংকে সম্প্রসারণ করতে প্রতি ধাপে স্প্রিং এর উপর যে পরিমাণ কাজ করা হবে, সংকোচনের সময় স্প্রিংটিও সেই একই পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করবে।

৩. অল্প উপর থেকে একটি স্থিতিস্থাপক বলকে একটি স্থিতিস্থাপক ইস্পাত পাতের উপর ফেলা হলে বলটি যদি | প্রাথমিক উচ্চতা পর্যন্ত উপরে উঠে আসে তবে বোঝা যাবে যে, শক্তির কোনো অপচয় হয়নি। সুতরাং প্রক্রিয়াটি প্রত্যাবর্তী।

২. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া:
- যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করতে পারে না অর্থাৎ সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয় না তাকে অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া বলে।
- প্রকৃতিতে যে সমস্ত পরিবর্তন বা রূপান্তর নিজ থেকেই ঘটে সেগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন বলে। যেমন- তাপ সবসময়ই উচ্চতর তাপমাত্রা থেকে নিম্নতর তাপমাত্রার দিকে প্রবাহিত হবে, বস্তু সবসময়ই উঁচু থেকে নিচুতে পড়তে থাকে।

• অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ার উদাহরণ:
১. দুটি বস্তুর মধ্যে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। কারণ ঘর্ষণের বিরুদ্ধে যে কাজ হয় তাই তাপে রূপান্তরিত হয় এবং এ উৎপাদিত তাপকে কোনো প্রকারেই কাজে রূপান্তরিত করা যায় না।

২. তাপমাত্রার পার্থক্য আছে এমন দুটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে রাখলে তাপ সবসময়ই অধিক তাপমাত্রার বস্তু হতে কম তাপমাত্রার বস্তুতে প্রবাহিত হবে। কিন্তু কখনোই কম তাপমাত্রার বস্ত্র হতে অধিক তাপমাত্রার বস্তুতে তাপ প্রবাহিত হবে না। সুতরাং এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

৩. বৈদ্যুতিক রোধের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তাপের সৃষ্টি হয়। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭০৩.
শব্দোত্তর তরঙ্গের সাহায্যে জামা-কাপড় কীভাবে পরিষ্কার করা হয়?
  1. শব্দ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  2. শব্দ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  3. শব্দ শক্তিকে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  4. শব্দ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- কয়লা পোড়ালে রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সাধারণত বিদ্যুৎকোষে রাসায়নিক দ্রব্যের বিক্রিয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এছাড়া কয়লা, পেট্রোল, কেরোসিন, গ্যাস ইত্যাদি পুড়িয়ে রাসায়নিক শক্তিকে তাপ ও আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর: 
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক শক্তিকে প্রাথমিকভাবে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- তাপশক্তিকে ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে যান্ত্রিক শক্তিকে জেনেরেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 

তাপ শক্তির রূপান্তর: 

- বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে উৎপন্ন তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে রেলগাড়ি চালানো হয়। 

আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সূর্যের আলোকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিণত করা হয়। 
- এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পকেট ক্যালকুলেটর, রেডিয়ো ও ইলেকট্রনিক ঘড়িতে সৌর শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়। 

শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- শব্দোত্তর তরঙ্গ দ্বারা উৎপন্ন শব্দশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জামা কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করে। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করে। 

চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- লোহাকে দ্রুত ও বারবার চুম্বক এবং বিচুম্বকরনকালে তাপ উৎপন্ন হয়। এতে চৌম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- তাছাড়া তড়িৎ চুম্বকের সাহায্যে ভারী জিনিসপত্র উঠানো যায়। এতে চৌম্বকশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

বিদ্যুৎশক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ চালনা করলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে পাখা ঘুরতে থাকে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্ব বা LED লাইট জ্বললে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৭০৪.
২ নিউটন বল কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর উপর প্রয়োগ করায় বস্তুটি  ৫ মিটার দূরে সরে গেলো। সম্পন্ন কাজের পরিমাণ কত?
  1. ২০ জুল
  2. ২০ ওয়াট
  3. ১০ জুল
  4. ১০ ওয়াট
সঠিক উত্তর:
১০ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ জুল
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ২ নিউটন বল কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর উপর প্রয়োগ করায় বস্তুটি  ৫ মিটার দূরে সরে গেলো। সম্পন্ন কাজের পরিমাণ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
বল = 2 নিউটন
সরণ = 5 মিটার

আমরা জানি,
কাজ = বল × সরণ
= ২ × ৫
= ১০ জুল
অর্থাৎ, সম্পন্ন কাজের পরিমাণ ১০ জুল।
২,৭০৫.
দীপন তীব্রতার একক কোনটি?
  1. নিউটন
  2. মোল
  3. ক্যান্ডেলা
  4. অ্যাম্পিয়ার 
সঠিক উত্তর:
ক্যান্ডেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যান্ডেলা
ব্যাখ্যা
পরিমাপের একক: 
- পরিমাপ বলতে বুঝায় কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা। 
- যে কোন ভৌত রাশির পরিমাপের জন্য তার একটি নিদিষ্ট পরিমাণকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয় এবং এই পরিমাণের সাপেক্ষে সমগ্র ভৌত রাশিটির পরিমাপ করা হয়। 
- বিভিন্ন ভৌত রাশি (যেমন- ক্ষেত্রফল, আয়তন, ওজন, সময়, বল, তাপ, শক্তি) ইত্যাদি পরিমাপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন একক রয়েছে এবং পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতিতে এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। 
- এ এককগুলো আবার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 
সুতরাং, যে আদর্শ পরিমাপের সাথে তুলনা করে ভৌত রাশিকে পরিমাপ করা হয় তাকে পরিমাপের একক বলা হয়। 
যেমন- মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড, নিউটন, জুল ইত্যাদি পরিমাপের এককের উদাহরণ। 

এস.আই. (SI) এর মৌলিক একক সমূহ: 
- যেহেতু মৌলিক রাশির একক সমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। 
- তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। 
- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না। কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না। 
- 1960 সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 
যেমন- 1900 সালে ট্রপিক্যাল বৎসরের উপর ভিত্তি করে সময়ের একক সেকেন্ড এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিজিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক পরিবৃত্তির উপর ভিত্তি করে সেকেন্ডের সংজ্ঞা প্রণয়ন করা হয়েছে। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলোর জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ নিম্নে বর্ণনা করা হল- 
১। দৈর্ঘ্যের একক: মিটার 
- বায়ুশূন্য স্থানে আলো 1/299,792,458 সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সে দূরত্ব কে 1 মিটার (m) বলা হয়। 

২।  ভরের একক: কিলোগ্রাম 
- ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস্ এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে 1 কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়েই 3.9 cm  । 

৩। সময়ের একক: সেকেন্ড 
- একটি সিজিয়াম পরমানুর (133Cs) 9,192,631,770 টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে 1 সেকেন্ড (s) বলে। 

৪। তাপমাত্রার একক: কেলভিন 
- 1 পানির ত্রৈধ বিন্দুর (triple point) তাপমাত্রার 1/273.16 ভাগকে 1 কেলভিন (K) বলে। 

৫। তড়িৎ প্রবাহের একক: অ্যাম্পিয়ার 
- শূন্য মাধ্যমে 1m দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে 2×10-7 N নিউটন বল উৎপন্ন হয় তাকে 1 ampere বলে। 

৬। দীপন তীব্রতার একক: ক্যান্ডেলা 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে 540×1012 হার্জ কম্পাঙ্কের এক 1 বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে 1/863 ওয়াট। 

৭। পদার্থের পরিমাণের একক: মোল 
- যে পরিমাণ পদার্থে 0.012 কিলোগ্রাম কার্বন-১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে তাকে 1 মোল বলে। 



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭০৬.
এক্স-রশ্মি কোন পথে চলে?
  1. বক্র পথে
  2. সরল পথে
  3. জটিল পথে
  4. আবর্তিত পথে
সঠিক উত্তর:
সরল পথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল পথে
ব্যাখ্যা

- এক্স-রশ্মি (X-ray) হলো এক প্রকার উচ্চ শক্তি সম্পন্ন তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ। দৃশ্যমান আলোর মতোই এক্স-রশ্মিও একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সর্বদা সরল পথে চলাচল করে, এটি বিদ্যুৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয় না। 

এক্স-রশ্মির ধর্ম: 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স-রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।  
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭০৭.
মহাজাগতিক দূরত্ব পরিমাপের একক কোনটি?
  1. অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল
  2. পারসেক
  3. ট্রিলিয়ান কিলোমিটার
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পারসেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারসেক
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক দূরত্ব:
- pc বা পারসেক হল মহাজাগতিক দূরত্ব পরিমাপের একক।
- সূর্য বা পৃথিবীর মধ্যকার গড় দূরত্বকে এক অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট (AU) বলে।
- 1 AU = 1.495x108 km.
- 1 AU দৈর্ঘ্যের কোনো চাপ যে দূরত্বে ঠিক এক সেকেন্ডে কোণ উৎপন্ন করে সেই দূরত্বকে 1 pc বা এক পারসেক বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭০৮.
Which is the hearing range of dogs?
  1. ক) 4 Hz - 45,000 Hz
  2. খ) 45 Hz - 64,000 Hz
  3. গ) 1,000 Hz - 91,000 Hz
  4. ঘ) 2,000 Hz - 110,000 Hz
সঠিক উত্তর:
ক) 4 Hz - 45,000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 4 Hz - 45,000 Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার পাল্লা:

- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz - ২০,০০০ Hz.
- কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz - ৪৫,000 Hz.
- বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz - ৬৪,000 Hz.
- ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz - ৯১,০০০ Hz.
- বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz - ১১০,০০০ Hz.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭০৯.
তরঙ্গ কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দুই প্রকার। যথা- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ।।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭১০.
বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কিসের একক পাওয়া যায়? 
  1. ত্বরণের
  2. দৈর্ঘ্যের
  3. কাজের
  4. ক্ষমতার
সঠিক উত্তর:
কাজের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের
ব্যাখ্যা
কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১১.
অপটিক্যাল ফাইবার আলোর কোন নীতি অনুসারে কাজ করে?
  1. প্রতিসরণ
  2. ব্যাতিচার
  3. বিচ্ছুরণ
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
• অপটিক্যাল ফাইবার আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতি অনুসারে কাজ করে। 

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের বাস্তব উদাহরণ-
- হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- পদ্ম পাতার উপর বৃষ্টির ফোটা পড়লে চকচক করে।
- গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রে উত্তপ্ত পিচঢালা মসৃন রাজপথকে বৃষ্টির অব্যবহিত পরবর্তী সময়ের মত ভেজা ও চকচকে মনে হয়।
- মরুভূমির মরীচিকার (Mirage) সৃষ্টি হয়।

• অপটিক্যাল ফাইবার:
• অপটিক্যাল ফাইবার হলো এক ধরনের পাতলা স্বচ্ছ কাচ নির্মিত তার, যার মাধ্যমে আলো এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হয়। 
• আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল তৈরি করা হয়েছে। 
• সাধারণত টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিবহনে এটি ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি
২,৭১২.
মানুষ কোন কম্পনমাত্রার শব্দ শুনতে পারে?
  1. সেকেন্ডে ২০ এর কম কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  2. সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  3. সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  4. সেকেন্ডে ২০ থেকে ২৫,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা: 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ মানুষ শুনতে পাই না। 
- যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয়, তা মানুষেরা শুনতে পাই না, এরকম শব্দকে শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলা হয়। 
- আবার প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দকেও মানুষ শুনতে পাই না, একে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলা হয়। 
সুতরাং মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পন দিয়ে সৃষ্ট শব্দ। 
- প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাকে বলা হয় ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক। 
- এই কম্পাঙ্ক প্রকাশের একক হলো হার্জ (Hertz)। 
- কোনো বস্তু সেকেন্ডে ২০ বার কাঁপলে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ, ২০,০০০ বার কাঁপলে ২০,০০০ হার্জ। 
সুতরাং মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ, এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে। 

- কোনো কোনো প্রাণী ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। 
যেমন- কুকুরের এই ক্ষমতা আছে। পুলিশ অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের হুইসেল ব্যবহার করে যা কুকুর শুনতে পায় কিন্তু মানুষ শুনতে পায় না। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অতিশব্দ (শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী) যন্ত্রের একটি হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম। এ যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের সাহায্যে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৭১৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে কোন মৌল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) ইউরেনিয়াম-২৩৫
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) ট্রিটিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরেনিয়াম-২৩৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরেনিয়াম-২৩৫
ব্যাখ্যা
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।
Liquid sodium is used as a coolant in fast breeder reactors on account of its excellent heat transfer properties.
It must, however, be in the pure form to be compatible with structural materials.
- অন্যদিকে, জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা
২,৭১৪.
রঙিন মনিটরের পিক্সেলে কয় ধরনের রঙ থাকে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৮
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৭
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
ব্যাখ্যা
রঙ্গিন মনিটর: 
- রঙ্গিন মনিটরের পিক্সেলে ৩ ধরনের রঙ থাকে।
- মনিটরে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে মনিটরের পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১৫.
আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য দুটি কত সালে প্রদান করেন? 
  1. ১৯০০ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৯০৩ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা- 
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১৬.
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ৬৭.৮১%
  2. ৭০.৪১%
  3. ৭৩.৬৩%
  4. ৭৫.১৯%
  5. ৭৮.০২%
সঠিক উত্তর:
৭৮.০২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৮.০২%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ:
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২%
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১%
• আর্গন ⇒ o.৮০%
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩%
• ওজোন ⇒ ০.০০০১%
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১%
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১%

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭১৭.
বৈদ্যুতিক পাখার গতি এক ধরনের -
  1. ক) দোলন গতি
  2. খ) সরল রৈখিক গতি
  3. গ) পর্যাবৃত্ত গতি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) পর্যাবৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি এক মিনিটে একবার এর কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে ঘুরে আসে। 
- ঘড়ির কাঁটাটি বারবার একটি পথে ঘুরছে অর্থাৎ এর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারপাক দৌড়ের একজন প্রতিযোগী একই দিক থেকে চারবার অতিক্রম করে যা একটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি, পাকদৌড়ের গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৭১৮.
একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২০ সেমি হলে এর ক্ষমতা কত?
  1. +২.৫ ডাইঅপ্টার
  2. -২.৫ ডাইঅপ্টার
  3. +৫ ডাইঅপ্টার
  4. -৫ ডাইঅপ্টার
সঠিক উত্তর:
+৫ ডাইঅপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+৫ ডাইঅপ্টার
ব্যাখ্যা

◉ উত্তল লেন্সের ফোকাস ধনাত্মক ধরা হয়, তাই ক্ষমতাও ধনাত্মক হবে।২০ সেমি ফোকাস দূরত্ব মানে +৫ ডাইঅপ্টার ক্ষমতা।

লেন্সের ক্ষমতা: 
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল এক গুচ্ছ আলোকরশ্মিকে উত্তল লেন্স কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে এক বিন্দুতে মিলিত করে। 
- অপরদিকে অবতল লেন্স একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিকে অপসারী করে; ফলে ঐ রশ্মিগুচ্ছ কোনো একটি বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে বা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। 
- আলোকরশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াটি পরিমাপ করার জন্য লেন্সের "ক্ষমতা" সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ১-কে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব (মিটারে প্রকাশ করে) দিয়ে ভাগ করা হলে লেন্সের ক্ষমতা পাওয়া যায়, যার একক হল ডায়াপ্টর। 
অর্থাৎ, একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হলে তার ক্ষমতা হবে ১/২ ডায়াপ্টর বা ০.৫ ডায়াপ্টর। 
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুই-ই হতে পারে। 
- কোনো লেন্সের ক্ষমতা +1D বলতে বোঝায়, লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের ১ মিটার দূরে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করবে। 
- আবার লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলো কোনো লেন্স থেকে ১/২ মিটার বা ৫০ সেমি দূরের কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। 

লেন্সের ক্ষমতা (P) = 100 / f 
যেখানে, f = ফোকাস দূরত্ব (সেমি) = 20 সেমি

P = 100/20 = +5 D (ডাইঅপ্টার)

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭১৯.
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ কোনটি? 
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. জলবাষ্প ইঞ্জিন
  3. টেলিফোন লাইন
  4. টেলিভিশন
সঠিক উত্তর:
টেলিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেলিভিশন
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত।
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়।
- ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়।
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়।
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে ০ এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭২০.
কোন অবস্থায় বল দ্বারা কোনো কাজ হয় না? 
  1. বল এবং সরণ একই দিকে হলে 
  2. বল এবং সরণ বিপরীত দিকে হলে 
  3. বল এবং সরণ পরস্পরের লম্ব হলে 
  4. উপরের কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বল এবং সরণ পরস্পরের লম্ব হলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল এবং সরণ পরস্পরের লম্ব হলে 
ব্যাখ্যা

- বল এবং সরণ পরস্পরের লম্ব অবস্থায় বল দ্বারা কোনো কাজ হয় না। 

বলের দ্বারা কাজ বা ধনাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের দিকে সরে যায় বা বলের দিকে সরণের উপাংশ থাকে, তাহলে সেই বল এবং বলের দিকে সরণের উপাংশের গুণফলকে ধনাত্মক কাজ বা বলের দ্বারা কাজ বলে। 
উদাহরণ: 
- একটি বস্তু উপর থেকে মাটিতে ফেলে দিলে বস্তুটি অভিকর্ষ বলের দিকে পড়বে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত বল তথা বস্তুর ওজন mg এবং সরণ s একই দিকে তথা নিচের দিকে হয়; ফলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল দ্বারা কাজ হয়েছে বা অভিকর্ষ বলের জন্য ধনাত্মক কাজ হয়েছে বোঝায়। 

বলের বিরুদ্ধে কাজ বা ঋণাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের বিপরীত দিকে সরে যায় বা বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশ থাকে তাহলে সেই বল এবং বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশের গুণফলকে ঋণাত্মক কাজ বা বলের বিরুদ্ধে কাজ বলে। 
উদাহরণ: 
- একখানি বই যদি মেঝে থেকে টেবিলের উপর ওঠানো হয়, তাহলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল তথা বস্তুর ওজন mg খাড়া নিচের দিকে এবং সরণ s খাড়া উপরের দিকে ক্রিয়া করে। এক্ষেত্রে অভিকর্ষ বল ও সরণ বিপরীতমুখী হওয়ায় অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করা হবে বা অভিকর্ষ বলের জন্য ঋণাত্মক কাজ হবে। 

শূন্য কাজ: 
- বল প্রয়োগে যদি কোনো বস্তুর সরণ বলের লম্ব বরাবর হয়, তবে ঐ বলের দ্বারা কোনো কাজ হয় না। 
- কেননা, এই ক্ষেত্রে θ = 90° হওয়ায় W = FS cos90° = 0 । 
উদাহরণ: 
- কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরায় যে কেন্দ্রমুখী বল, তার দ্বারা কোনো কাজ হয় না। কেননা, প্রতি মুহূর্তে বল ব্যাসার্ধ বরাবর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়া করে আর সরণ হয় বৃত্তের স্পর্শক বরাবর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

২,৭২১.
লব্ধ রাশির উদাহরণ হচ্ছে -
  1. বেগ
  2. সময়
  3. ভর 
  4. দৈর্ঘ্য 
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা

• লব্ধ রাশি হলো সেই ভৌত রাশি, যা এক বা একাধিক মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত হয়। প্রদত্ত উদাহরণগুলোর মধ্যে বেগ একটি লব্ধ রাশি, কারণ বেগ নির্ণয় করা হয় দূরত্ব ও সময়ের সাহায্যে (বেগ = দূরত্ব ÷ সময়)। এখানে দূরত্ব ও সময় উভয়ই মৌলিক রাশি। অন্যদিকে সময়, ভর এবং দৈর্ঘ্য নিজেরা মৌলিক রাশি; এদেরকে অন্য কোনো রাশির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয় না। তাই এরা লব্ধ রাশি নয়। সুতরাং প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে কেবল বেগই লব্ধ রাশির উদাহরণ।

রাশি: 
- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায় যেখানে ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। পানির তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায় যেখানে পানির তাপমাত্রাও একটি রাশি ইত্যাদি। 

মৌলিক রাশি: 
- এসকল রাশির মধ্যে কয়েকটি রাশি রয়েছে যেগুলো পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এই রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ রাশি: 
- অপরদিকে, এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭২২.
পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. সাইকেলের চাকার গতি
  2. সরল দোলকের গতি
  3. ঘড়ির কাঁটার গতি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো বস্তু নির্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
- পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।
- পর্যাবৃত্ত গতি দু’ ধরণের।
যেমন- ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।
- এই গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার, সরল রৈখিকও হতে পারে। 

- ঘড়ির কাঁটার গতি, সিলিং ফ্যানের গতি, সাইকেলের চাকার গতি, সরল দোলকের গতি  সবগুলোই পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭২৩.
পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান কত? 
  1. ০ মি/সে
  2. ৯.৭৮ মি/সে
  3. ৯.৮৩ মি/সে
  4. ৯.৮ মি/সে
সঠিক উত্তর:
০ মি/সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ মি/সে
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর মান শূন্য (0) হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের সূত্র হলো: g = GM/R2,
- যেখানে M হলো পৃথিবীর ভর এবং R হলো পৃথিবীর ব্যাসার্ধ।
- কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্রে যখন দূরত্ব r = 0, তখন পৃথিবীর ভরের কারণে কোনো নেট অভিকর্ষজ ত্বরণ কার্যকর হয় না, কারণ সব দিক থেকে সমান আকর্ষণ একে অপরকে বাতিল করে দেয়।
 
পৃথিবীর আকৃতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হওয়ার কারণ: 
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড)। এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে।
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 
- আবার, পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৭২৪.
যে তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে তরঙ্গ অগ্রসর হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. শব্দ তরঙ্গ
  2. অভিকর্ষ তরঙ্গ
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গের প্রকারভেদ (Types of waves): 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় তাকে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। 
- আবার যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না সেই তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরণের। 
যথা- (১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও (২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (Transverse wave): 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ (Longitudinal wave): 
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ হলো এমন এক ধরনের তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো কম্পনের দিকের সমান্তরালে আন্দোলিত হয়, কিন্তু নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে না। 
- নমনীয় স্প্রিংয়ে মৃদু আঘাত করলে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি পরিবহন করে। 
- এ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদ থাকে না, বরং সংকোচন ও প্রসারণের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭২৫.
বিটা কণিকা কোন ধরনের চার্জ বহন করে? 
  1. ধনাত্মক 
  2. ঋণাত্মক 
  3. নিরপেক্ষ 
  4. পরিবর্তনশীল 
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক 
ব্যাখ্যা

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। বিটা কণিকা খুব হালকা, এরা ইলেকট্রন প্রবাহের ভর 9.1×10-31 কেজি। 
২। এরা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে, এই চার্জের মান 1.6×10-19 কুলম্ব। 
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়, এর বেগ প্রায় 0.9×108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়, এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশি। 
৮। জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭২৬.
তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় -
  1. রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায়
  2. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
  3. দেহের হাড়ের চিকিৎসায়
  4. ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করতে
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
-  আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনিশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২,৭২৭.
শীতকালে কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায় কেন?
  1. ক) বাতাসের আদ্রতা বেশি বলে
  2. খ) বাতাসের আদ্রতা কম বলে
  3. গ) বায়ুমন্ডলের চাপ বেশী বলে
  4. ঘ) বায়ুমন্ডলের চাপ কম বলে
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসের আদ্রতা কম বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসের আদ্রতা কম বলে
ব্যাখ্যা
শীতকালে বাতাসের আদ্রতা কম থাকে তাই ভেজা কাপড় থেকে তাড়াতাড়ি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি শুষে নেয়।
২,৭২৮.
গামা রশ্মি কোন প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে? 
  1. প্লাস্টিক প্লেট
  2. ফটোগ্রাফিক প্লেট
  3. লিথোগ্রাফিক প্লেট
  4. ধাতব প্লেট
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেট
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
৩। এর কোন চার্জ ও ভর নাই। 
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭২৯.
চৌম্বক ফ্লাক্স এর একক কী? 
  1. ক) ক্যান্ডেলা 
  2. খ) লাক্স
  3. গ) ওয়েবার
  4. ঘ) লুমেন
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়েবার
ব্যাখ্যা
চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ:
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত্ বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে।

চৌম্বক ফ্লাক্সের (SI) একক ওয়েবার (Weber) বা সংক্ষেপে (Wb).

জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। 
২,৭৩০.
গাড়ির রিয়ার ভিউ মিররে কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অবতল দর্পণ
  2. খ) উত্তল দর্পণ
  3. গ) সমতল দর্পণ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তল দর্পণ
ব্যাখ্যা
মোটর গাড়ী, মোটর সাইকেল ইত্যাদি দ্রুতগামী গাড়ির চালকের সামনে একটি উত্তল দর্পণ থাকে।
একে বলা হয় রিয়ার ভিউ মিরর। চালক গাড়ি চালানোর সময় পেছনের দৃশ্য দেখার জন্য এটি
প্রয়োজন হয়। এতে পেছন থেকে আসা গাড়ি এবং পেছনের দিকের বিস্তীর্ণ এলাকার চিত্র এক
সাথে চালকের চোখে পড়ে। রিয়ার ভিউ মিরর চালককে অনেক রকম দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা
করতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৭৩১.
পরিবাহিতার একক কী? 
  1. ​কুলম্ব
  2. সিমেন্স
  3. ওম 
  4. ভোল্ট 
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স
ব্যাখ্যা

পরিবাহিতা (Conductance): 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I 
​- পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে,
I ∝ V
বা, I= GV; এখানে G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক।
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে।
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)। একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি।
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি।
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৩২.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটতে শুরু করে কোন শতাব্দীতে?
  1. ঊনবিংশ শতাব্দীতে শেষের দিকে
  2. অষ্টাদশ শতাব্দীতে শেষের দিকে
  3. একবিংশ শতাব্দীতে শেষের দিকে
  4. বিংশ শতাব্দীতে শেষের দিকে
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দীতে শেষের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দীতে শেষের দিকে
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩৩.
মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়-
  1. শব্দশক্তি
  2. তড়িৎশক্তি
  3. আলোকশক্তি
  4. চৌম্বকশক্তি
সঠিক উত্তর:
তড়িৎশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎশক্তি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎশক্তি (বা বিদ্যুৎ শক্তি) মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- মোবাইল টেলিফোন সিস্টেমে, আমাদের কথাবার্তা (শব্দ সিগন্যাল) প্রথমে বিদ্যুৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং তারপর এই বিদ্যুৎ সিগন্যাল ওয়্যারলেস মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- টেলিফোনের লাইনের মধ্যে (যেমন ল্যান্ডলাইন) সরাসরি বিদ্যুৎ সিগন্যাল প্রবাহিত হয়।

মোবাইল টেলিফোনের সিস্টেমে যে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়, তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

১. ভয়েস টু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল রূপান্তর:
- যখন আপনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তখন আপনার কণ্ঠস্বর (শব্দ তরঙ্গ) মোবাইলের মাইক্রোফোনে পড়ে। মাইক্রোফোন এই শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।

২. অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর:
- এই তড়িৎ সিগন্যাল প্রথমে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকে। ফোনের ভেতরে ADC (Analog-to-Digital Converter) এই অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি কোড - 0 এবং 1 এর সিরিজ) রূপান্তরিত করে।

৩. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং:
- এই ডিজিটাল সিগন্যাল এরপর প্রসেস হয় - এর মধ্যে কম্প্রেশন (ডাটা সাইজ কমানো), এনক্রিপশন (সুরক্ষার জন্য), এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট (শব্দের মান উন্নত করা) অন্তর্ভুক্ত।

৪. রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর:
- এই প্রক্রিয়াকৃত ডিজিটাল সিগন্যাল পরে মোবাইলের ট্রান্সমিটার দ্বারা রেডিও তরঙ্গে (বিদ্যুতচুম্বকীয় তরঙ্গ) রূপান্তরিত হয়, যা মোবাইল টাওয়ারে প্রেরিত হয়।

৫. সিগন্যাল ট্রান্সমিশন:
- মোবাইল টাওয়ার এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং তারপর তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- এই তড়িৎ সিগন্যাল টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় - যা ফাইবার অপটিক কেবল, কপার কেবল বা মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে হতে পারে।
- নেটওয়ার্কের মধ্যে, সিগন্যাল মোবাইল স্যুইচিং সেন্টার (MSC) দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত হয়, যেখানে সিগন্যাল রাউটিং ও প্রসেসিং হয়।

৬. প্রাপকের দিকে:
- প্রাপকের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার রেডিও তরঙ্গ হিসেবে সিগন্যাল প্রেরিত হয়।
- প্রাপকের মোবাইল ফোন এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং আবার তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ রূপান্তরের পর, স্পিকারের মাধ্যমে এই তড়িৎ সিগন্যাল আবার শব্দে পরিণত হয়।
- তাই, সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে শব্দ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→শব্দ এই রূপান্তর চক্র চলে।
- যদিও রেডিও তরঙ্গ ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তবুও নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে সিগন্যাল তড়িৎশক্তি হিসেবেই প্রবাহিত হয়।
২,৭৩৪.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ________ বলে। 
  1. কম্পাঙ্ক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  3. তরঙ্গ বেগ
  4. বিস্তার
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলা হয়। এটি তরঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা তরঙ্গের ঘনত্ব ও তার গতির সাথে সম্পর্কিত। কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পেলে স্পন্দনের সংখ্যা বাড়ে এবং কম্পাঙ্ক কমলে স্পন্দনের সংখ্যা কমে। এটি সাধারণত হার্জ (Hz) এককে পরিমাপ করা হয়।
 
 তরঙ্গ:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- একে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয় Hz।
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা কোনো বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণস্পন্দন বলে।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৩৫.
ডুবোজাহাজ হতে পানির উপর কোনো বস্তু দেখার জন্য কোন আলোক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. স্পেকট্রোস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. ক্যালিডোস্কোপ
  4. বাইনোকুলার
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা

• পেরিস্কোপ:
- পেরিস্কোপ হলো এমন একটি আলোক যন্ত্র, যা মূলত আয়না বা প্রিজম দিয়ে তৈরি হয়।
- এটি এমনভাবে তৈরি হয় যেন পানির নিচে থাকা ডুবোজাহাজের ভেতর থেকে মানুষ পানির উপরিভাগে থাকা বস্তু দেখতে পারে।

অন্যদিকে,
- স্পেকট্রোস্কোপ: আলোকরশ্মিকে তার উপাদান বর্ণালীতে বিশ্লেষণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ক্যালিডোস্কোপ (Kaleidoscope): এটি এমন একটি অপটিক্যাল যন্ত্র, যা একাধিক দর্পণ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্যাটার্ন (Pattern) তৈরি করে।
- বাইনোকুলার (Binocular): দূরবর্তী বস্তুগুলোকে দেখার জন্য চোখের জন্য ব্যবহৃত দ্বিনেত্র দূরবীক্ষণ যন্ত্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,৭৩৬.
কোন ধাতুর Ductility সর্বোচ্চ?
  1. Mild Steel
  2. Copper
  3. Platinum
  4. Aluminum
সঠিক উত্তর:
Platinum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Platinum
ব্যাখ্যা
- Ductility এর অর্থ নমনীয়তা।
- যে ধর্মের জন্য ধাতুকে তারে পরিণত করা যায় সে ধর্মকে বলে নমনীয়তা।
                               ধাতুর নমনীয়তার পরিমাণ:

∴ প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে নমনীয়তার মান সবচেয়ে বেশি প্লাটিনামের।

উৎস: www.failurecriteria.com.
২,৭৩৭.
ওজন এর এস আই  একক কোনটি?
  1. নিউটন
  2. কেজি
  3. পাউন্ড
  4. আউন্স
সঠিক উত্তর:
নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটন
ব্যাখ্যা
• নিউটন (Newton) হলো বলের এসআই একক, এবং যেহেতু ওজন হলো ভরের ওপর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রয়োগ, তাই ওজনের এককও নিউটন।
• সূত্র: ওজন = ভর × মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ (W = m × g)
• যেখানে ভরের একক কেজি (kg) এবং g’র একক m/s², তাই ওজনের একক হয়  Kg·m/s² = নিউটন।

• ভৌত রাশি ও তাদের SI একক:
- দৈর্ঘ্য - মিটার (m), 
- ভর - কিলোগ্রাম (kg), 
- সময় - সেকেন্ড (s), 
- তাপমাত্রা - কেলভিন (K), 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ - অ্যাম্পিয়ার (A), 
- পদার্থের পরিমাণ - মোল (mol), 
- আলোক তীব্রতা - ক্যান্ডেলা (cd), 
- বল - নিউটন (N)।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৭৩৮.
জ্বালানীর দহনের ফলে নিচের কোন শক্তির রূপান্তর ঘটে? 
  1. তাপ শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
  2. রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে
  3. তাপ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
- জ্বালানীর দহনের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাপ এক প্রকার শক্তি, আবার কাজ করার সামর্থকে শক্তি বলে। 
- জ্বালানীর দহনের ফলে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। 
- বাড়িতে কাঠ পুড়িয়ে রান্না করা, প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজি গ্যাস পুড়িয়ে রান্না করা, এমনকি শুকনো পাতা বা শুকনো গোবর পুড়িয়ে রান্না করলেও রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- রাসায়নিক শক্তির প্রধান উৎস কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি সবই হলো জীবাশ্ম জ্বালানী। 
- সিরামিক শিল্প, কাঁচ শিল্প, লোহা ও ইস্পাতের ঢালাই শিল্প, অ্যালুমিনিয়ামের ঢালাই শিল্প সব ক্ষেত্রেই প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় রাসায়নিক শক্তি থেকে। 
- তাপ শক্তিকে ব্যবহার করে ইটের ভাটায় ইট পোড়ানো হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩৯.
একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকিত ও বিচুম্বকিত করলে চৌম্বক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তিতে
  3. যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪০.
তরলের বাষ্পায়ন নিচের কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
  1. বায়ুর শুষ্কতা
  2. বাতাসের চাপ
  3. বাতাসের প্রবাহ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের নির্ভরশীলতা: 
- পানির বাষ্পায়ন বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণভাবেই একটা তরলের বাষ্পায়ন বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১। বাতাসের প্রবাহ: 
- বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

২। তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: 
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
- এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। 

৩। তরলের প্রকৃতি: 
- তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন বেশি। 
- উদ্বায়ী তরলের বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি। 

৪। বাতাসের চাপ: 
- বাতাসের চাপ যত কম হবে বাষ্পায়নের হার তত বেশি। 
- শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি, তাই খাদ্য সংরক্ষণের জন্য খাবারকে শুকাতে পাম্প দিয়ে বাতাস বের করে নেওয়া হয়। 

৫। উষ্ণতা: 
- তরল এবং তরলের কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

৬। বায়ুর শুষ্কতা: 
- বাতাস যত শুষ্ক হবে তরল তত তাড়াতাড়ি বাষ্পায়ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৪১.
দূরবীক্ষণ যন্ত্রে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. সমতল
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
উত্তল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তল
ব্যাখ্যা

উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
অবতল লেন্সের ব্যবহার:
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৪২.
তাপমাত্রা কম থাকলে বায়ু কীরূপ হবে?
  1. হালকা
  2. শীতল
  3. উষ্ণ
  4. ঘন
সঠিক উত্তর:
ঘন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘন
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফুর্ত ঘটনা। 
- এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয় সেগুলো হলো- 

তরলের প্রকৃতি: 
- বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। 
- সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। 
- উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 

বায়ু প্রবাহ: 
- তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 

তরলের উপর চাপ: 
- তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। 
- চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। 
- শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 

তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: 
- বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। 
- তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 

তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয় এবং তাপমাত্রা কম হলে বাষ্পায়নও ধীরগতির হয় অর্থাৎ ঘন হয়। 

তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: 
- বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৩.
“The origin of species by means of natural selection” বইটির লেখক কে?
  1. ক) মেন্ডেল
  2. খ) ডারউইন
  3. গ) ডে ভ্রিস
  4. ঘ) ভাইজম্যান
সঠিক উত্তর:
খ) ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডারউইন
ব্যাখ্যা
১৮৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ দেন।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৭৪৪.
এক অ্যাটোসেকেন্ড = কত সেকেন্ড?
  1. 10-18
  2. 10-21
  3. 10-15
  4. 10-12
সঠিক উত্তর:
10-18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10-18
ব্যাখ্যা
অ্যাটোসেকেন্ড: 
- এক অ্যাটোসেকেন্ড হল এক সেকেন্ডের 1×10-18 এর সমান। 
- এটি আন্তর্জাতিক সিস্টেমে সময়ের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একটি একক। 
- ১ সেকেন্ডেকে ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ক্ষুদ্র সময়টা পাওয়া যাবে (১০-১৮ সেকেন্ড) তার সমান। 
- পরমাণুর ভেতরের জগতে কোনো কোনো ঘটনা ঘটে অ্যাটোসেকেন্ডের দশভাগের একভাগ বা তার চেয়েও কম সময়ে। সেসব ক্ষুদ্রতম সময়ের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আলোক স্পন্দনের এই অ্যাটোসেকেন্ড স্পন্দন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 
অর্থাৎ, পরমাণুর ভেতরকার কার্যকলাপ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট চিত্র তৈরি করতে পারা যাবে। 
- অ্যাটোসেকেন্ড পদার্থবিদ্যা সবচেয়ে বড় সুফল নিয়ে আসবে ইলেকট্রনিক জগতে, যেখানে সবকিছু চলে ইলেকট্রোডাইনামিকস বা ইলেকট্রন গতিবিদ্যার সাহায্যে। 
- তুলনা করার জন্য, এক অ্যাটোসেকেন্ড =  এক সেকেন্ড ধরা হলে, এক সেকেন্ড = প্রায় 31.71 বিলিয়ন বছর। 
- মার্কিন বিজ্ঞানী পিয়েরে অগাস্তিনি, হাঙ্গেরিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রেঙ্ক ক্রাউজ ও ফরাসি বিজ্ঞানী অ্যান লুইলিয়ে এই তিন বিজ্ঞানী ইলেকট্রনের আলোক শোষণের ঘটনাকে অ্যাটোসেকেন্ড স্কেলে পরিমাপ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।
- ২০২৩ সালে এই তিন বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। 

উল্লেখ্য যে, 
- এক মিলিসেকেন্ড = 10-3 = 1/1,000 
- এক মাইক্রোসেকেন্ড = 10-6 = 1/1,000,000 
- এক ন্যানোসেকেন্ড = 10-9 = 1/1,000,000,000 
- এক পিকোসেকেন্ড = 10-12 = 1/1,000,000,000,000 
- এক ফেমটোসেকেন্ড = 10-15 = 1/1,000,000,000,000,000 
- এক অ্যাটোসেকেন্ড = 10-18 = 1/1,000,000,000,000,000,000

উৎস:
কালেরকণ্ঠ পত্রিকা (৩ অক্টোবর, ২০২৩)।
২,৭৪৫.
কোন রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. লিউকেমিয়া চিকিৎসায়
  2. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
  3. হাড়ের ক্যান্সার চিকিৎসায়
  4. হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ নির্ণয়ে
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা

• থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- রক্তের লিউকেমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য:
- রক্তস্বল্পতা বা লিউকেমিয়া চিকিৎসায় সাধারণত তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32) ব্যবহৃত হয়।
- হাড়ের ব্যথানাশক বা হাড়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় স্ট্রনসিয়াম (Sr-89) অথবা রেডিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন বা ব্লকেজ পরীক্ষা করতে টেকনেশিয়াম (Tc-99m) ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৪৬.
কোন তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 হয়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 273° C
  4. 373° K
সঠিক উত্তর:
0° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0° C
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ মস্তিষ্কে থাকে। এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৭.
বিভব শক্তি অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. শব্দ শক্তি
  2. তাপ শক্তি
  3. গতি শক্তি
  4. স্থিতি শক্তি
সঠিক উত্তর:
স্থিতি শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতি শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তি: 
বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তি বলা হয়। 
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। 
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। 
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। 
যেমন- পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 
- একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে। 
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। 
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ। 
অর্থাৎ, যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। 
যথা- গতি শক্তি এবং বিভবশক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৮.
উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. অ্যালটিমিটার 
  3. ম্যানোমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম হলো ট্যাকোমিটার (Tachometer)। আধুনিক বিমানে বায়ুর গতির সাপেক্ষে গতি মাপতে 'এয়ার স্পিড ইন্ডিকেটর' ব্যবহৃত হয়। 

অন্যদিকে, 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,৭৪৯.
নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. অর্ধেক
  2. দ্বিগুণ
  3. চারগুণ
  4. এক-চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৭৫০.
ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. KW
  2. KVA
  3. MVAR
  4. MVA
সঠিক উত্তর:
KVA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
KVA
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা KVA (কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার) এককে প্রকাশ করা হয়। কারণ ট্রান্সফরমার হলো একটি যন্ত্র যা বিদ্যুৎশক্তি স্থানান্তর করে কিন্তু নিজে কোনো বিদ্যুৎ খরচ করে না।

ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৫১.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক কী? 
  1. কেজি
  2. সেন্টিগ্রাম 
  3. কুইন্টাল 
  4. গ্রাম 
সঠিক উত্তর:
কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেজি
ব্যাখ্যা

সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m), 
ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।

২,৭৫২.
তাপের এস.আই একক এবং ক্যালরির মধ্যে সম্পর্ক কোনটি সঠিক?
  1. 1 Cal = 1 J
  2. 1 Cal = 4.2 J
  3. 1 J = 4.2 Cal 
  4. 1 J = 1 Cal
সঠিক উত্তর:
1 Cal = 4.2 J
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 Cal = 4.2 J
ব্যাখ্যা

- তাপের আন্তর্জাতিক বা এস.আই (S.I) একক হলো জুল (Joule)। অন্যদিকে, ক্যালরি (Calorie) হলো তাপের একটি প্রচলিত একক। বৈজ্ঞানিক পরিমাপে এই দুই এককের মধ্যে সম্পর্ক হলো ১ ক্যালরি তাপ প্রায় ৪.১৮৪ জুলের সমান, যাকে গাণিতিক সুবিধার্থে সাধারণত ৪.২ জুল ধরা হয় অর্থাৎ, 1 Cal ≈ 4.2 J । 

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস.আই একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৫৩.
পরিবাহকের ক্ষেত্রফল বাড়লে রোধের সম্পর্ক কোনটি? 
  1. R∝A
  2. R∝1/A
  3. R ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে না
  4. R∝√A 
সঠিক উত্তর:
R∝1/A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
R∝1/A
ব্যাখ্যা

বিদ্যুতের রোধ (Resistance, R) হলো পরিবাহকের বৈদ্যুতিক প্রবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাত্রা।
কোনো পরিবাহকের রোধ নির্ভর করে: 
- দৈর্ঘ্য (L) – দীর্ঘ পরিবাহকের রোধ বেশি।
- ক্ষেত্রফল (A) – বড় ক্ষেত্রফলের পরিবাহকের রোধ কম।
- প্রতিরোধ (ρ) – পদার্থের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
•মূল সূত্র: R=ρ(L/A)
- R ∝ L (দৈর্ঘ্যের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক)
- R ∝ 1/A (ক্ষেত্রফলের সাথে বিপরীত সমানুপাতিক)

ফলাফল: ক্ষেত্রফল বাড়ালে রোধ কমে, ক্ষেত্রফল কমলে রোধ বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান। 

২,৭৫৪.
RADAR - এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Radio Detection And Routing
  2. খ) Radio Detecting And Routing
  3. গ) Radio Detection And Ranging
  4. ঘ) Radio Detecting And Ranging
সঠিক উত্তর:
গ) Radio Detection And Ranging
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Radio Detection And Ranging
ব্যাখ্যা
'RADAR'- এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Radio Detection And Ranging.

এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়।
যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৫৫.
টেলিভিশনের মৌলিক রং নয় কোনটি? 
  1. নীল
  2. সবুজ
  3. হলুদ
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
হলুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলুদ
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন: 
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রংয়ে ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 

- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। 
- এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। 
- এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৫৬.
বিষুব অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন কেন বেশি?
  1. মেরুতে বস্তুর ঘনত্ব বেশি 
  2. মেরুতে ভরের মান বেশি 
  3. মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
  4. মেরুতে বস্তুর আকার বড় 
সঠিক উত্তর:
মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৭৫৭.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. অ্যামিটার
  2. জেনারেটর
  3. মাইক্রোফোন
  4. বৈদ্যুতিক মোটর
সঠিক উত্তর:
জেনারেটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেটর
ব্যাখ্যা

• জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- এটি মাইকেল ফ্যারাডের তড়িৎ-চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- যখন কোনো পরিবাহী কুন্ডলীকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে যান্ত্রিকভাবে ঘুরানো হয়, তখন তাতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য:
-অ্যামিটার: এটি বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ (Current) পরিমাপ করার যন্ত্র, শক্তি রূপান্তরকারী নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৫৮.
প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য শব্দের বেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. ০.৬ মিটার/সেকেন্ড
  2. ০.৮ মিটার/সেকেন্ড
  3. ১.৬ মিটার/সেকেন্ড
  4. ১.৮ মিটার/সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.৬ মিটার/সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৬ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
- যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
- কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি।
- ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৫৯.
শীতকালে ভিজা কাপড় অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি শুকায় কারণ -
  1. ক) বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে।
  2. খ) বাতাসে সামান্য জলীয় বাষ্প থাকে।
  3. গ) বায়ুর চাপ বেশি থাকে।
  4. ঘ) বাতাসের তাপমাত্রা বেশি থাকে।
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসে সামান্য জলীয় বাষ্প থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসে সামান্য জলীয় বাষ্প থাকে।
ব্যাখ্যা
বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায়। 
ভিজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া। 
বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে।
ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়। 
 
অন্যদিকে শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে। 
অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।
 
কোনো স্থানের বা একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে অর্থাৎ বায়ু কতটুকু শুকনো বা ভেজা থাকে তার নির্দেশক বায়ুর আর্দ্রতা।
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ঐ একই তাপমাত্রায় ঐ আয়তনের বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন তার অনুপাতকে ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৭৬০.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. ক) স্টেথোস্কোপ
  2. খ) কার্ডিওগ্রাফ
  3. গ) ক্রেস্কোগ্রাফ
  4. ঘ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেস্কোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র ক্রেস্কোগ্রাফ। এছাড়া হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসের শব্দ নির্ণায়ক যন্ত্র স্টেথোস্কোপ; হৃৎপিন্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কার্ডিওগ্রাফ; এবং মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র স্ফিগমোম্যানোমিটার। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৬১.
Which light has the shortest wavelength?
  1. Red
  2. Green
  3. Violet
  4. Blue
সঠিক উত্তর:
Violet
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Violet
ব্যাখ্যা
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৭৬২.
ভোল্টমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়? 
  1. বিভব পার্থক্য 
  2. শক্তি 
  3. ত্বরণ 
  4. বিদ্যুৎ প্রবাহ 
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য 
ব্যাখ্যা

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

অ্যামিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৬৩.
5 KVA Ratings এর কম ট্রান্সফরমারে ব্যবহৃত হয়-
  1. Oil cooled
  2. Natural air cooled
  3. Water cooled
  4. None of the above
সঠিক উত্তর:
Natural air cooled
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Natural air cooled
ব্যাখ্যা
- 5 কেভিএ (কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার) রেটযুক্ত ট্রান্সফরমারগুলি সাধারণত আকারে ছোট হয় এবং কম শক্তি প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে: Natural air cooled ব্যবহৃত হয়। 

- 5 কেভিএ পর্যন্ত রেটিং সহ ট্রান্সফরমারগুলি প্রায়শই প্রাকৃতিক পরিচলন (ফ্যান বা অতিরিক্ত কুলিং সিস্টেম ছাড়া) ব্যবহার করে এয়ার-কুল করা যেতে পারে।
- এই ছোট ট্রান্সফরমারগুলি শীতল করার জন্য তাদের কয়েল এবং কোরের চারপাশে প্রাকৃতিক বায়ু সঞ্চালনের উপর নির্ভর করে।
২,৭৬৪.
তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল স্থির থাকলে বিভিন্ন পরিবাহীর রোধ কি রকম হয়?
  1. ক) একই
  2. খ) বিভিন্ন
  3. গ) উভয়টি প্রযোজ্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভিন্ন
ব্যাখ্যা
কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। রোধের এ নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে রোধের তিনটি সূত্র আছে।
উপাদানের সূত্রঃ তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল স্থির থাকলে বিভিন্ন পরিবাহীর রোধ বিভিন্ন হয়।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
২,৭৬৫.
কোনটি আলোর প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয় না?
  1. সবুজ
  2. নীল
  3. লাল
  4. হলুদ
সঠিক উত্তর:
হলুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলুদ
ব্যাখ্যা
◉ লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি রঙকে মৌলিক রঙ (মূল রঙ) বা প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হলুদ মৌলিক রঙ নয়।

রং সম্পর্কিত জ্ঞান:
- আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুরই নিজস্ব রং রয়েছে।
- রঙের উৎস প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম হতে পারে।

◉ রং মূলত তিন প্রকার। যথা-
১। মৌলিক/প্রাথমিক রং:
- লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি রঙকে মৌলিক রঙ (মূল রঙ) বা প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- মৌলিক রং বা প্রাথমিক রংগুলো বিশুদ্ধ রং, কেননা এগুলো অন্যান্য রঙের সংমিশ্রণে তৈরি হয় না বরং এদের সংমিশ্রণে অন্যান্য রং সৃষ্টি হয়।

২। গৌণ রং:
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ।
- দুটো মৌলিক রঙের মিশ্রণে গৌণ রং তৈরি হয়। যেমন-
• নীল + লাল = বেগুনি,
• লাল + সবুজ = হলুদ এবং
• নীল + সবুজ = নীলাভ সবুজ।
- এই রংগুলোকে মিশ্র বা মাধ্যমিক বর্ণও বলা হয়।

৩। প্রান্তিক রং:
- মৌলিক রঙের সাথে কাছাকাছি যে কোনো একটি গৌণ রং মিশিয়ে প্রান্তিক রং প্রস্তুত করা হয়। যেমন-
• হলুদ + সবুজ = হলদে সবুজ,
• লাল + বেগুনি = লালচে বেগুনি,
• লাল + কমলা = লালচে/কমলা এবং
• কমলা + হলুদ = হলদে কমলা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৭৬৬.
ক্ষমতা নির্ণয়ের সঠিক সূত্র কোনটি? 
  1. P = বল/সময়
  2. P = কাজ × সময়
  3. P = বল × বেগ
  4. P = সময়/কাজ
সঠিক উত্তর:
P = বল × বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P = বল × বেগ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৬৭.
রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক-
  1. ক) আসলের সমান হবে
  2. খ) আসলের চেয়ে বেশি হবে
  3. গ) আসলের চেয়ে কম হবে
  4. ঘ) আসল গতির সাথে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
খ) আসলের চেয়ে বেশি হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসলের চেয়ে বেশি হবে
ব্যাখ্যা
• রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে।
- শব্দের উৎস থেকে কম্পাঙ্ক যেদিকে যায়, শব্দের উৎস তথা ট্রেন সেদিকেই এগোতে থাকলে কম্পাঙ্কের ঘনত্ব বাড়ে, এতে শব্দের তিব্রতা বাড়ে।
- এই ঘটনা ডপলার অ্যাফেক্ট দ্বারা বর্ণনা করা যায়।
- শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতির ফলে শ্রুত শব্দের কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন হয় তাকে ডপলার ক্রিয়া বলে।
- ডপলার ক্রিয়া শব্দ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়।
- ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ার পদার্থবিদ ডপলার এ সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৭৬৮.
একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?
  1. 32 একক
  2. 36 একক
  3. 40 একক
  4. 44 একক
সঠিক উত্তর:
32 একক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
32 একক
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?

সমাধান:
ধরি,
বর্গক্ষেত্রের একবাহুর দৈর্ঘ্য = a একক
তাহলে, বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√2 একক
এবং বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4a একক

প্রশ্নমতে,
a√2 = 8√2
⇒ a = 8 একক

∴ বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4 × 8 একক
= 32 একক
২,৭৬৯.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৭৭০.
সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ক্রেসকোমিটার 
  2. ক্রোনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ট্যাকোমিটার 
সঠিক উত্তর:
ক্রোনোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোনোমিটার 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র- ক্রোনোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্নায়ক যন্ত্র- ক্রেসকোগ্রাফ। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,৭৭১.
নিম্নের কোন কম্পাঙ্কের শব্দকে ইনফ্রাসাউন্ড বলা যায়?
  1. ক) 10 Hz
  2. খ) 20 Hz
  3. গ) 100 Hz
  4. ঘ) 20000 Hz
সঠিক উত্তর:
ক) 10 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 10 Hz
ব্যাখ্যা
20 Hz থেকে 20000 Hz বিশিষ্ট শব্দকে মানুষ শুনতে পারে। 20 Hz এর কম হলে তাকে ইনফ্রাসাউন্ড এবং 20000 Hz এর বেশি হলে তাকে আলট্রাসাউন্ড বলে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৭৭২.
আইসি তৈরি করতে কোনটি লাগে না? 
  1. ক্যাপাসিটর 
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর 
  4. ট্রান্সফরমার 
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

- আইসি তৈরি করতে 'ট্রান্সফরমার' লাগে না, কিন্তু ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) তৈরি করা হয়। 

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 

- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

২,৭৭৩.
কবি, গণিতবিদ ও দার্শনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন- 
  1. পিথাগোরাস 
  2. ডেমোক্রিটাস 
  3. আল মাসুদি 
  4. ওমর খৈয়াম 
সঠিক উত্তর:
ওমর খৈয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওমর খৈয়াম 
ব্যাখ্যা

গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- প্রাচীনকালে পদার্থবিজ্ঞান শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা ও জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিস প্রথম ধর্ম ও পৌরাণিক ব্যাখা পরিহার করে যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা দেন এবং সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেন। 
- পিথাগোরাস জ্যামিতি ও কম্পমান তারের ওপর কাজ করেন। 
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক অ্যাটম-এর ধারণা দেন, যদিও প্রমাণ করতে পারেননি। 
- অ্যারিস্টটল চার উপাদান (মাটি, পানি, বাতাস, আগুন) দ্বারা গঠিত জগতের মতবাদ দেন। 
- আরিস্তারাকস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন এবং সেলেউকাস তা যুক্তি দিয়ে সমর্থন করেন। 
- আর্কিমিডিস তরলে ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র ও আয়নার মাধ্যমে সূর্যরশ্মি কেন্দ্রীভূত করে যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরানোর জন্য বিখ্যাত। 
- ইরাতোস্থিনিস সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেন। 

- গ্রিক যুগের পর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞানচর্চা থেমে যায়, তবে ভারতীয়, মুসলিম ও চীনা সভ্যতা তা ধরে রাখে। 
- ভারতে আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত ও ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং শূন্যের ব্যবহার প্রবর্তন করেন। 
- মুসলিম বিজ্ঞানী আল খোয়ারিজমি-র আল জাবির বই থেকে “অ্যালজেবরা” শব্দের উৎপত্তি। 
- ইবনে আল হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি। 
- আল মাসুদি প্রকৃতির ইতিহাসে এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। 
- ওমর খৈয়াম ছিলেন কবি, গণিতবিদ ও দার্শনিক। 
- চীনে শেন কুয়ো চুম্বক নিয়ে গবেষণা করেন ও কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণের ধারণা দেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৭৪.
ফিউশন প্রক্রিয়ায়-
  1. ক) একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করে
  2. খ) একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. গ) ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
  4. ঘ) একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
সঠিক উত্তর:
খ) একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
ব্যাখ্যা
ফিউশন প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে এবং প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। উৎসঃমাধ্যমিক রসায়ন বই


পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়।
প্রক্রিয়া দুটি হল :
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন 
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন 

নিউক্লিয়ার ফিশন :
যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি
খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।


নিউক্লিয়ার ফিউশন : যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়
এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন
পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।
সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে। 

[উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
২,৭৭৫.
এক অশ্বক্ষমতা (1 HP) এর জন্য কোনটি সঠিক?
  1. 1 KW
  2. 0.764 KW
  3. 0.746 KW
  4. 0.784 KW
সঠিক উত্তর:
0.746 KW
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.746 KW
ব্যাখ্যা

• অশ্বক্ষমতা (Horsepower):
- অশ্বক্ষমতা হলো শক্তি উৎপাদনের একক, যা সাধারণত ইঞ্জিন বা যন্ত্রের ক্ষমতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- 1 অশ্বক্ষমতা বলতে বোঝায় এমন শক্তি যা প্রতি সেকেন্ডে 746 জুল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। 
- এটি প্রায়শই বৈদ্যুতিক বা মেকানিক্যাল যন্ত্রের পাওয়ার রেটিং নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
- কিলোওয়াটে রূপান্তর করলে, 1 HP = 0.746 kW.

• কিলোওয়াট (Kilowatt):
- কিলোওয়াট শক্তির মাপকাঠি, যা 1000 ওয়াটের সমান। 
- এটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের শক্তি পরিমাপের সাধারণ একক।
- HP থেকে kW রূপান্তর করতে 1 HP × 0.746 = kW সূত্র ব্যবহার করা হয়।

• সঠিক রূপান্তর:
- যেহেতু 1 HP = 0.746 kW, তাই 1 অশ্বক্ষমতা কে কিলোওয়াটে রূপান্তর করলে ফলাফল হবে 0.746 kW.
- অন্য অপশনগুলো (1 kW, 0.764 kW, 0.784 kW) ভুল কারণ সঠিক রূপান্তর 0.746 kW.

সুতরাং, 1 অশ্বক্ষমতার জন্য সঠিক মান হলো 0.746 kW.
সঠিক উত্তর: গ) 0.746 KW

সূত্র: Britannica [লিংক]

২,৭৭৬.
কোনটি উর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) ন্যাপথালিন
  4. ঘ) বেনজিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেনজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেনজিন
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয় সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। যেমন:
- কর্পুর,
- গন্ধক,
- আয়োডিন,
- ন্যাপথালিন,
- নিশাদল,
- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- আর্সেনিক,
- বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি।
• কিন্তু বেনজিন উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৭৭.
বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ওয়াট
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
ওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা: 
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক ওয়াট। 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ক্ষমতা = বল × বেগ। 

অন্যদিকে, 
- রোধের একক ওহম। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- বৈদ্যুতিক বিভবের একক ভোল্ট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৭৮.
বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ক্যাপিং
  2. মিক্সিং
  3. ডোপিং
  4. ট্রান্সেন্ডিং
সঠিক উত্তর:
ডোপিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোপিং
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping): 
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৭৯.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন-
  1. ক) জন ফ্লেমিং
  2. খ) ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
গ) আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,৭৮০.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়?
  1. ভ্যাকুয়াম
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. বায়বীয়
সঠিক উত্তর:
ভ্যাকুয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্যাকুয়াম
ব্যাখ্যা
শব্দের গতি: 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য বা ভ্যাকুয়াম মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৮১.
অপসারিত তরলের ওজন যখন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হবে তখন কি ঘটবে ?
  1. বস্তু ভাসবে
  2. বস্তু ডুবে যাবে
  3. নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বস্তু ডুবে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তু ডুবে যাবে
ব্যাখ্যা

• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত করলে সেটি যে পরিমাণ তরল অপসারণ করে সেইটুকু তরলের সমান ওজন বস্তুটির ওজন থেকে কমে যায়।
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত থাকলে তার ওপর যে উর্ধ্বমুখী প্লবতা বল ক্রিয়া করে, তার মান বস্তুটি কর্তৃক বিতাড়িত তরলের ওজনের ঠিক সমান।

• প্রথম অবস্থা:
- যখন কোনো বস্তু কর্তৃক অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশি হয়, তখন প্লবতা বল বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশি হয়।
- ফলে বস্তুর ওপর ক্রিয়ারত নেট বল উর্ধ্বমুখী হয় এবং বস্তুটি তরলের উপরিভাগে ভেসে থাকে।
- উদাহরণ: কাঠ, কর্ক, প্লাস্টিকের বল, জাহাজ, হাওয়াই জুতা ইত্যাদি।

• দ্বিতীয় অবস্থা:
- যখন অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের সমান হয়, তখন প্লবতা বল এবং বস্তুর ওজন পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী হয়ে একে অপরকে নিঃশেষ করে ফেলে।
- ফলে বস্তুর ওপর কোনো নেট বল ক্রিয়া করে না এবং বস্তুটি তরলের যেকোনো গভীরতায় নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকে।
উদাহরণ: পানিতে সাঁতার কাটা মাছ, ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক সামঞ্জস্য করা সাবমেরিন, ঘন লবণপানিতে ডিম ইত্যাদি।

• তৃতীয় অবস্থা:
- যখন অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয়, তখন প্লবতা বল বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয়।
- ফলে বস্তুর ওপর ক্রিয়ারত নেট বল নিম্নমুখী হয় এবং বস্তুটি তরলের তলদেশে ডুবে যায়।
- উদাহরণ: লোহা, পাথর, ইট, সোনা, তামা, কাচের গোলক ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৮২.
তরলের বাষ্পায়ন কোন বিষয়টি দ্বারা প্রভাবিত হয় না? 
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. তরলের প্রকৃতি
  3. তরলের উপর চাপ
  4. পদার্থের ঘনত্ব
সঠিক উত্তর:
পদার্থের ঘনত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থের ঘনত্ব
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা, এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন- 
তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 
বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 
• তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
• তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
• তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৩.
পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান কেমন থাকে?
  1. ক) বেশী থাকে
  2. খ) কম থাকে
  3. গ) উপরিলেপন ঘটে
  4. ঘ) থাকে না
সঠিক উত্তর:
গ) উপরিলেপন ঘটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপরিলেপন ঘটে
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে যোজন ইলেকট্রন বলে ।
- যোজন ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ড কে যোজন ব্যান্ড বলে।
- পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত যোজন ইলেকট্রন গুলো পরিবহনে অংশ নিলে তাদের পরিবাহী ইলেকট্রন বলে।
- পরিবাহী ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে পরিবাহী ব্যান্ড বলে।

- পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান থাকেই না , বরং উপরিলেপন ঘটে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্যে তড়িৎ প্রবাহের সূচনা হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই। 
২,৭৮৪.
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায়-
  1. এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
  2. এক ওয়াট-ঘণ্টা
  3. এক কিলোওয়াট
  4. এক ওয়াট
সঠিক উত্তর:
এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৮৫.
​পেরিস্কোপে কতটি দর্পণ থাকে?
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ১ 
সঠিক উত্তর:
২ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,৭৮৬.
বাংলাদেশে প্রতি সেকেন্ডে কতবার পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়? 
  1. ৪০ বার
  2. ১০০ বার
  3. ৬০ বার
  4. ৫০ বার
সঠিক উত্তর:
৫০ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ বার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

(খ) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৭৮৭.
লোহা একটি -
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  4. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৮.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪ট
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
যথা-
১। পরিবহন,
২। পরিচলন ও
৩। বিকিরণ।
• বিকিরণ পদ্ধতি:
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
-কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
-যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৯.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ওডোমিটার
  2. স্পিডোমিটার
  3. অ্যালটিমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজ বা বিমানের গতি নির্ণয় করার জন্য ট্যাকোমিটার (Tachometer) নামক যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি মূলত বিমানের ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতি (RPM - Revolutions Per Minute) পরিমাপ করে যা গতি নির্ধারণে সহায়তা করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।

২,৭৯০.
250 kg ভরের একটি গাড়ি 450 ms-1 বেগে গতিশীল। গাড়িটির গতিশক্তি কত?
  1. 4.06 × 109 J
  2. 7.06 × 106 J
  3. 6.02 × 105 J
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
২,৭৯১.
ডায়োড সাধারণত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. তাপ উৎপাদনে
  2. শব্দ কমাতে
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  4. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে
সঠিক উত্তর:
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- ডায়োডের রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৯২.
The average salinity of sea of water is ___
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 5%
  4. 3.5%
  5. None
সঠিক উত্তর:
3.5%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3.5%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- গড়ে সমুদ্রের পানির ওজনের প্রায় ৩.৫ শতাংশ হলো দ্রবীভূত লবণ। 
- এর অর্থ ১ কিলোগ্রাম সমুদ্রের পানিতে ৩৫ গ্রাম দ্রবীভূত লবণ রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
- সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৭৯৩.
ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন দিয়ে কী সম্ভব? 
  1. উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি
  2. কম তাপ উৎপাদন
  3. তড়িৎ তরঙ্গ সঞ্চালন
  4. কম বিদ্যুতের কাজ
সঠিক উত্তর:
উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি
ব্যাখ্যা
ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন: 
- অত্যন্ত উচ্চ বিভব দিয়ে নানা ধরনের কাজ করা হয়। 
- ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিনে সেটি করা সম্ভব হয় স্থির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। 
- একটি ঘুরন্ত বিদ্যুৎ অপরিবাহী বেল্টে চার্জযুক্ত কণা বা স্থির বিদ্যুৎ স্প্রে করা হয়, বেল্টটি ঘুরিয়ে একটি ধাতব গোলকের ভেতর নেওয়া হয়। 
- বেল্টের ওপর থেকে একটা স্পর্শক এই চার্জটা গ্রহণ করে ধাতব গোলকের কাছে পৌঁছে দেয়। 

- চার্জ সব সময়ই বেশি থেকে কম বিভবে প্রবাহিত হয়। 
- ভ্যান ডি গ্রাফ জেনারেটরে এটি সব সময় ঘটে থাকে, কারণ ধাতব গোলকের ভেতরে সব সময়ই গোলকের সমান বিভব থাকে। 
- বেল্টের উপরের বাড়তি চার্জটুকুর জন্য যে বাড়তি ভোল্টেজ তৈরি হয় সেটি তাই সব সময়ই গোলকের  ভোল্টেজ থেকে বেশি। সে কারণে গোলকের ভেতরে চার্জ থাকলেই সেটা গোলকপৃষ্ঠে চলে যায়। 
- এভাবে বিশাল পরিমাণ চার্জ জমা করিয়ে অনেক উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি করা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৯৪.
কোন বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়?
  1. বেগুনি 
  2. নীল 
  3. লাল 
  4. হলুদ 
সঠিক উত্তর:
বেগুনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুনি 
ব্যাখ্যা

- আলোর বিক্ষেপণ তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম হয়, তার বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এই বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। অন্যদিকে, নীল আলোর বিক্ষেপণ অনেক বেশি হলেও তা বেগুনির চেয়ে কিছুটা কম, তবে বায়ুমণ্ডলে এর প্রভাব বেশি স্পষ্ট হয়। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
 - এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৯৫.
কোন বছর পরিমাপের এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতির প্রবর্তন হয়েছিল? 
  1. 1940 সালে
  2. 1950 সালে
  3. 1960 সালে
  4. 1970 সালে
সঠিক উত্তর:
1960 সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1960 সালে
ব্যাখ্যা
পরিমাপের একক: 
- পরিমাপ বলতে বুঝায় কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা। 
যেমন- রুপম প্রতিদিন সকালে ২ কিলোমিটার দৌড়ায়, প্রীতমের বাসা থেকে স্কুলে যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এখানে ২ কিলোমিটার হলে দূরত্বের পরিমাণ এবং ১৫ মিনিট হলো সময়ের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো কিছু পরিমাণ নির্ণয় করতে হলে দুটি জিনিসের প্রয়োজন হয়। একটি হলো সংখ্যা অন্যটি হলো একক। 
- যে কোন ভৌত রাশির পরিমাপের জন্য তার একটি নিদিষ্ট পরিমাণকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয় এবং এই পরিমাণের সাপেক্ষে সমগ্র ভৌত রাশিটির পরিমাপ করা হয়, এ আদর্শ পরিমাণকে ঐ রাশিটির একক বলা হয়। 
- বিভিন্ন ভৌত রাশি যেমন- ক্ষেত্রফল, আয়তন, ওজন, কোণ, সময়, বল, তাপ, শক্তি ইত্যাদি পরিমাপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন একক রয়েছে এবং পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতিতে এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। 
- যে আদর্শ পরিমাপের সাথে তুলনা করে ভৌত রাশিকে পরিমাপ করা হয় তাকে পরিমাপের একক বলা হয়। 
যেমন- মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড, নিউটন, জুল ইত্যাদি পরিমাপের এককের উদাহরণ। 

এস.আই (S.I) এর মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির এককসমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।
যেমন- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না।
- কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না।
- 1960 সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯৬.
রান্নার পাত্র তৈরিতে এলুমিনিয়ামের ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. ক) দ্রুত তাপ সঞ্চালন হয়
  2. খ) দামে সস্তা বলে
  3. গ) সহজলভ্য বলে
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা

রান্নার কাজে আমরা এলুমিনিয়ামের পাত্র বা লোহার কড়াই ব্যবহার করে থাকি।
কারণ, এগুলো চুলার আগুন থেকে তাপ দ্রুত পরিবহণ করে রান্নার মূল উপাদানে পৌঁছে দেয়। ফলস্বরূপ, উপাদানগুলো ঐ তাপে সিদ্ধ হয়।
এলুমিনিয়াম তাপ সুপরিবাহী পদার্থ।
উৎস: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান

২,৭৯৭.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ হ্রাস পায়।
  2. খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  3. গ) মাধ্যমের ঘনত্ব হ্রাস পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা
পরীক্ষা করে দেখা গেছে আলাের দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3x108 ms-1 নির্দিষ্ট। কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1

তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
 
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়
যেমন- বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লােহার মধ্যে 5220 ms-1 |

বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৭৯৮.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. ফটোইলেকট্রিক প্রক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. নিউক্লিয় ফিউশন
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিশন
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭৯৯.
ধারকের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. 1 μF = 10- 3 F
  2. 1 μF = 10- 6 F
  3. 1 μF = 10- 9 F
  4. 1 μF = 10- 12 F
সঠিক উত্তর:
1 μF = 10- 6 F
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 μF = 10- 6 F
ব্যাখ্যা
• ধারকের ক্ষেত্রে  সঠিক'1 μF = 10- 6 F'।

• ধারক:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়।
- তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়।
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে।
- সহজ কথায় বলতে গেলে যে ধারণ করে সেই ধারক। যেমন গ্লাস, বালতি বা কলসী পানি ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকে পানি ধারক বলা যায়।
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ধারকের একক ফ্যারাড (F)।
- ধারকের একক ফ্যারাডে একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়।
১. 1 μF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10- 6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10- 9 F
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10- 12 F

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮০০.
আন্তর্জাতিক তাপমাত্রা স্কেল অনুমোদিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পূর্বে তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য বিভিন্ন তাপমান যন্ত্রে বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করা হতো। তাপমাত্রার বিভিন্ন স্কেল হলো সেলসিয়াস, ফারেনহাইট এবং কেলভিন স্কেল।
বিভিন্ন স্কেলে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার মান সমান ছিলো না। এই অসুবিধা দূর করার জন্য আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ কমিটি ১৯২৭ সালে তাপমাত্রার একটি ব্যবহারিক স্কেল অনুমোদন করেন। এর নাম আন্তর্জাতিক তাপমাত্রা স্কেল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি