বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৭ / ৩৮ · ১,৬০১১,৭০০ / ৩,৭৪৭

১,৬০১.
সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে নিচের কোন বিজ্ঞানী জানতেন?
  1. থেলিস
  2. গ্যালিলিও
  3. আরিস্তারাকস
  4. কোপার্নিকাস
সঠিক উত্তর:
থেলিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থেলিস
ব্যাখ্যা
- প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন আরিস্তারাকস (310 BC)। 
- থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস তার একটি বইয়ে সূর্যকেন্দ্রিক একটি সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন। 
- কোপার্নিকাসের তত্ত্বটি দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে ছিলো, গ্যালিলিও (১৫৬৪-১৬৪২) সেটিকে সবার সামনে নিয়ে আসেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০২.
কোনটি তাপ কুপরিবাহী নয়?
  1. কাঁচ
  2. কাঠ
  3. পানি
  4. তুলা
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
যেমন - লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পানি ইত্যাদি।

- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
যেমন - তুলা, কাঠ, পশম, কাঁচ ইত্যাদি।

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬০৩.
কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. গামা তরঙ্গ
  2. এক্সরে
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. মাইক্রোওয়েভ
সঠিক উত্তর:
রেডিও তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে বলা হয় আলট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়। 
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে বলা হয় ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বেশি বড় হলে রেডিও ওয়েভ। 
 -জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি, নাসা ওয়েবসাইট। 
১,৬০৪.
পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশে কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. নীলস বোর
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা করেন।

• পদার্থবিজ্ঞান :
- বিশ্ব প্রকৃতিতে যা স্থান দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে তাকে পদার্থ বলে।
- পদার্থ ও শক্তির প্রকৃতি এবং এদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে পদার্থবিজ্ঞান বলে।
- পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বস্তু ও শক্তির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং ফলাফল পরিমাপগতভাবে প্রকাশ করাই পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য।

• পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর :
- বিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি হলো পদার্থবিজ্ঞান।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশলশাস্ত্র, জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান প্রভৃতি শাখায় পদার্থবিজ্ঞানের নীতি ব্যবহৃত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞানকে বলবিজ্ঞান, তাপবিজ্ঞান, শব্দবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, চুম্বকত্ববিজ্ঞান, তড়িৎবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, - নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

• পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ :
- প্রাচীন যুগে থেলিস সূর্যগ্রহণ ও জ্যামিতি বিষয়ে ধারণা প্রদান করেন।
- পিথাগোরাস জ্যামিতিক উপপাদ্য ও সূত্র প্রবর্তন করেন।
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক পরমাণু ধারণা প্রদান করেন।
- আর্কিমিডিস ভাসমানতার নীতি ও জ্যামিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- মধ্যযুগে জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নে অবদান রাখেন।
- আল-খোয়ারিজমি গণিতে গবেষণা করেন এবং Algebra শব্দটির উৎপত্তি তাঁর গ্রন্থ থেকে।
- ইবনে আল-হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানে অবদান রাখেন।
- আল-বিরুনি পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন।
- রজার বেকন পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারণা প্রদান করেন।
- কপর্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রদান করেন।
- কেপলার গ্রহের গতিসূত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র, ক্যালকুলাসের নীতি ও আলোর কণাতত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন করেন।
- ওয়েরস্টেড, ফ্যারাডে, লেঞ্জ তড়িৎচুম্বকত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বক তত্ত্ব প্রদান করেন।
- মার্কনি বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন।
- রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- বেকেরেল ও মেরি কুরি তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে অবদান রাখেন।
- জে. জে. থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং ভর-শক্তি সমীকরণ E=mc2 প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ড নিউক্লিয় তত্ত্ব প্রদান করেন।
- নীলস বোর পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন।
- অটো হান নিউক্লিয় বিভাজন প্রমাণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব প্রদান করেন।

• অন্যান্য অপশন :
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব ও ভর-শক্তি সমীকরণ প্রদান করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র ও ক্লাসিক্যাল বলবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- নীলস বোর হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তর তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬০৫.
শক্তির ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) শক্তি সৃষ্টি করা যায় না।
  2. খ) শক্তি ধ্বংস করা যায় না।
  3. গ) শক্তির রূপান্তর হয়।
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
শক্তির নিত্যতার সূত্র:
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চারপাশে যে শক্তি দেখি সেটি সৃষ্টিও হয় না, ধ্বংস ও হয় না। শুধু তার রূপ পরিবর্তন করে। এটাই হচ্ছে শক্তির নিত্যতার সূত্র৷

যেমনঃ
বাশিঁ বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বৈদ্যুতিক মটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
১,৬০৬.
অর্ধ-পরিবাহী পদার্থের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) সিলভার
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) জার্মেনিয়াম
  4. ঘ) গ্যালিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) সিলভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিলভার
ব্যাখ্যা

১. পরিবাহী : যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী। পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায়ঃ ১০-৮ Ωm ক্রমের। রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক। পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।

২. অপরিবাহী : যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, প্লাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ। অপরিবাহী পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা খুব কম এবং আপেক্ষিক রোধের মান অত্যন্ত বেশি।

৩. অর্ধপরিবাহী : যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
যেমনঃ জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ ১০-৪ Ωm থেকে ১০-২ Ωm ক্রমের।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬০৭.
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি ও হিটারে কোন ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়? 
  1. তামা 
  2. নাইক্রোম 
  3. স্টেনিয়াম
  4. টাংস্টেন
সঠিক উত্তর:
নাইক্রোম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইক্রোম 
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে নাইক্রোম (নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু) ব্যবহার করা হয় কারণ এর আপেক্ষিক রোধ অনেক বেশি।
- ফলে এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এটি উচ্চ তাপমাত্রায় সহজে জারিত হয় না এবং এর গলনাঙ্কও অনেক বেশি।

 • নাইক্রোম তার: 
- বৈদ্যুতিক হিটার এবং ইস্ত্রিসহ আরো অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রে নাইক্রোমের তার ব্যবহার করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক হিটারের মধ্যে অপরিবাহী পদার্থের একটি গোল চাকতি থাকে। 
- চাকতিতে নাইক্রোম তারের কুণ্ডলী সাজিয়ে রাখা হয়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তারটি গরম হয় এবং উত্তপ্ত হয়ে তাপ বিকিরণ করে। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির নাইক্রোম তারটি ইস্ত্রির নিচের মসৃণ লৌহ নির্মিত তলটিকে উত্তপ্ত করে। 
- এক্ষেত্রে তাপ উৎপাদন বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। 
- প্রবাহ বেশি হলে ইস্ত্রি বেশি উত্তপ্ত হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- তামা: তামার রোধ খুব কম এবং এটি সুপরিবাহী, তাই এটি বিদ্যুৎ পরিবহনের তারে ব্যবহৃত হয়, তাপ উৎপাদনের জন্য নয়।
- স্টেনিয়াম: এটি টিনের ল্যাটিন নাম; এর গলনাঙ্ক কম হওয়ায় এটি হিটিং এলিমেন্ট হিসেবে অনুপযোগী।
- টাংস্টেন: এটি সাধারণত বাল্বের ফিলামেন্টে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি আলো উৎপন্ন করতে পারে, কিন্তু এটি হিটারের মতো খোলা অবস্থায় থাকলে দ্রুত বাতাসের সাথে বিক্রিয়া করে নষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৬০৮.
নিচের কোনটি একমুখী যোগাযোগ মাধ্যমের উদাহরণ?
  1. ই-মেইল
  2. টেলিফোন
  3. মোবাইল ফোন
  4. রেডিও 
সঠিক উত্তর:
রেডিও 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও 
ব্যাখ্যা

- রেডিও একমুখী যোগাযোগের একটি নিখুঁত উদাহরণ (যাকে ব্রডকাস্ট বা সিমপ্লেক্স মোডও বলা হয়), কারণ এখানে তথ্য শুধুমাত্র একজন প্রেরক (রেডিও স্টেশন) থেকে একাধিক প্রাপকের (শ্রোতা) কাছে প্রবাহিত হয় এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সুযোগ থাকে না।  

রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 

অন্যদিকে, 
- ই-মেইল হলো দ্বিমুখী যোগাযোগ (ফুল-ডুপ্লেক্স) ব্যবস্থার একটি উদাহরণ, যেখানে প্রেরক এবং প্রাপক উভয়ই বার্তা আদান-প্রদান করতে পারে।
- টেলিফোন হলো দ্বিমুখী যোগাযোগ (ফুল-ডুপ্লেক্স) ব্যবস্থার উদাহরণ, কারণ এটি দুইজন ব্যক্তিকে একই সময়ে কথা বলতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে।
- মোবাইল ফোনও টেলিফোনের মতোই দ্বিমুখী যোগাযোগ (ফুল-ডুপ্লেক্স) ব্যবস্থা ব্যবহার করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১,৬০৯.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি আপেক্ষিক?
  1. ক) স্থান
  2. খ) বস্তুর ভর
  3. গ) সময়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
১,৬১০.
মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেন-
  1. গ্যালিলিও
  2. নিউটন
  3. আইনস্টাইন
  4. মার্কনী
সঠিক উত্তর:
নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটন
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ। 
১. অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ। 
২. অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। 
৩. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল। 
৪. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন। 
৫. অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না। 

- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে। 
১. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ। 
২. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১১.
কোন পদ্ধতির সাহায্যে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়?
  1. অপবর্তন
  2. প্রতিসরণ
  3. বিচ্ছুরণ
  4. প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬১২.
সমটান সম্পন্ন একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পনাঙ্কের কতটা পরিবর্তন ঘটবে?
  1. ক) অর্ধেক হবে
  2. খ) দ্বিগুণ হবে
  3. গ) তিনগুণ হবে
  4. ঘ) চারগুণ হবে
সঠিক উত্তর:
ক) অর্ধেক হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অর্ধেক হবে
ব্যাখ্যা
সমটান সম্পন্ন একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পনাঙ্ক অর্ধেক হবে।
সূত্রঃ এইসএসসি পদার্থবিজ্ঞান
১,৬১৩.
নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরে ক্যাডমিয়াম দণ্ড ব্যবহার করা হয় কারণ-
  1. অধিকাংশ নিউট্রন শোষিত হয়
  2. বিক্রিয়ার তাপমাত্রা শোষিত হয়
  3. বেশি সংখ্যক পরমাণু ভাঙ্গে
  4. অতি দ্রুত শক্তি উৎপাদন করা হয়
সঠিক উত্তর:
অধিকাংশ নিউট্রন শোষিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকাংশ নিউট্রন শোষিত হয়
ব্যাখ্যা
• ক্যাডমিয়াম দণ্ডের ভূমিকা:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরে নিউট্রন নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ,
- কারণ এই নিউট্রনই পরমাণু বিভাজন (nuclear fission) প্রক্রিয়াকে চালিত করে।
- ক্যাডমিয়াম একটি শক্তিশালী নিউট্রন শোষক (neutron absorber),
- যা অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে এবং নিয়ন্ত্রিত চেইন বিক্রিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: Stanford University Website.
১,৬১৪.
জলীয় বাষ্পকে যখন ঘনীভবন করা হয়, তখন ক্ণাসমূহের ক্ষেত্রে কী ঘটবে?
  1. ক) আকার সংকুচিত হবে
  2. খ) চলাচল করতে থাকবে
  3. গ) একই অবস্থানে থেকে কাঁপতে থাকবে
  4. ঘ) শক্তি নির্গত করবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) শক্তি নির্গত করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শক্তি নির্গত করবে
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই
১,৬১৫.
বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় কীভাবে দিক নির্ণয় করে?
  1. ক) সবগুলোই ঠিক
  2. খ) চোখে দেখে
  3. গ) ঘ্রাণ শক্তির মাধ্যমে
  4. ঘ) আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে  দিক নির্ণয় করে। 

- আলট্রাসাউন্ড মূলত আমাদের শোনার বাহিরের শব্দ। 
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- আল্টাসনিক শব্দ ২০,০০০ থেকে বেশি কম্পাংকের হয়ে থাকে।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১৬.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎ চৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১৭.
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে ব্যবহৃত ডায়োডের সংখ্যা কয়টি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি 
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

• ব্রিজ রেকটিফায়ারের ক্ষেত্রে চারটি ডায়োডকে একটি ব্রিজের মতো বিন্যাসে যুক্ত করা হয়। এতে ট্রান্সফরমারের ইনপুট এসি সিগন্যালের উভয় অর্ধ-চক্রেই (Positive and Negative half cycles) আউটপুট পাওয়া যায়।

• রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার।  
যথা- 
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার: 
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। 
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন। 
২. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬১৮.
রিমোট কন্ট্রোল ও নাইট ভিশন ক্যামেরায় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. দৃশ্যমান আলো
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা

রিমোট কন্ট্রোল ও নাইট ভিশন ক্যামেরায় অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

• অবলোহিত রশ্মি:
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের চেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ অবলোহিত বিকিরণ বা অবলোহিত রশ্মি (infrared ray)।
- বর্ণালির 10- 6 m থেকে 10- 3 m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর অবলোহিত বিকিরণের।
- সূর্যের আলো থেকে আমারা যে তাপ পাই তা অবলোহিত বিকিরণ।
- এছাড়া কাঠের আগুন, বৈদ্যুতিক চুলা, গ্যাস বা যে কোন জ্বালানি থেকে উৎপন্ন তাপ মাত্রই অবলোহিত বিকিরণ।
- রিমোট কন্ট্রোল ও নাইট ভিশন ক্যামেরায় অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬১৯.
আলোক রশ্মি বহনের কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ফাইবার গ্লাস
  2. ফ্লোট গ্লাস
  3. অপটিক্যাল ফাইবার
  4. ম্যাগনিফাইং গ্লাস
সঠিক উত্তর:
অপটিক্যাল ফাইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপটিক্যাল ফাইবার
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু। 
- এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচ অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬২০.
ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার গতি কোন ধরনের গতি?
  1. ক) চলন গতি
  2. খ) ঘূর্ণন গতি
  3. গ) দোলন গতি
  4. ঘ) উপ-পর্যায়বৃত্ত গতি
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণন গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণন গতি
ব্যাখ্যা
ঘড়ির কাঁটায় সাধারণত ঘূর্ণন ও পর্যায়বৃত্ত উভয় ধরণের গতি থাকে।
১,৬২১.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) টেলুরিয়াম
  3. গ) পোলোনিয়াম
  4. ঘ) সেলেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) পোলোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পোলোনিয়াম
ব্যাখ্যা

ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪, পোলোনিয়াম-৮৪ ইত্যাদি।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই এবং নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বই (উন্মুক্ত)
১,৬২২.
শব্দের প্রতিধ্বনি তৈরী হতে সর্বনিম্ন ____ লাগে।
  1. ক) ০.১ সেকেন্ড
  2. খ) ১ সেকেন্ড
  3. গ) ১০ সেকেন্ড
  4. ঘ) ১ মিনিট
সঠিক উত্তর:
ক) ০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দের প্রতিধ্বনি তৈরী হতে সর্বনিম্ন ০.১ সেকেন্ড লাগে। এই সময়ে শব্দ অতিক্রম করে ৩৩ মিটার৷ শব্দের যাওয়া আসা মিলিয়ে ৩৩ মিটার অতিক্রম করতে হলে বড় দেয়ালের কমপক্ষে ১৬.৫ মিটার দুরত্বে দাড়াতে হবে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬২৩.
নবায়ণযোগ্য শক্তির সর্বাধিক ব্যবহৃত উৎস হচ্ছে -
  1. ক) জলবিদ্যুৎ
  2. খ) বায়োমাস
  3. গ) বায়ুশক্তি
  4. ঘ) সৌরশক্তি
সঠিক উত্তর:
ক) জলবিদ্যুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জলবিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর পুরো শক্তির পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি।
- সেই এক ভাগের বেশির ভাগ হচ্ছে জলবিদ্যুৎ, নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা।
- জলবিদ্যুতের পর সবচেয়ে বড় নবায়নযোগ্য শক্তি আসে বায়োমাস (Biomass) থেকে, বায়োমাস বলতে বোঝানো হয় লাকড়ি, খড়কুটো এসবকে। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির এই দুটি রূপ, জলবিদ্যুৎ আর বায়োমাসের পর গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎসগুলো হচ্ছে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, বায়ো ফুয়েল আর জিওথার্মাল।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি
১,৬২৪.
বায়োমাস শক্তির প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও ______________। 
  1. সিলিকন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়োমাস শক্তি: 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে। 
- এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে। 
- এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস। 
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
- আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে গোবর ও পানির মিশ্রণ ১ : ২ অনুপাতে রেখে পচানো হলে বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৫.
গামা রশ্মি (γ) কোন ধরণের রশ্মি?
  1. ধনাত্মক কণিকা
  2. ঋণাত্মক কণিকা
  3. তড়িতচৌম্বকীয় তড়িৎবাহী
  4. তড়িতচৌম্বকীয় তড়িৎনিরপেক্ষ 
সঠিক উত্তর:
তড়িতচৌম্বকীয় তড়িৎনিরপেক্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িতচৌম্বকীয় তড়িৎনিরপেক্ষ 
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি (γ) তড়িতচৌম্বকীয় তড়িৎনিরপেক্ষ একটি রশ্মি। 

তেজস্ক্রিয়তা: 

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়। 
যথা-
১. আলফা কণিকা (α): ধনাত্মক আধান গ্রন্থ, যা ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়। 
২. বিটা কণিকা (β): ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ, যা ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়। 
৩. গামা রশ্মি (γ): তড়িৎ নিরপেক্ষ, যা কোনো দিকেই বিচ্যুত হয় না। 
- এই রশ্মিগুলোর উৎপত্তি পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে হয়ে থাকে। 

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
৩। এর কোন চার্জ ও ভর নাই। 
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২৬.
আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশিকে বলা হয়-
  1. ক) চৌম্বকত্ব
  2. খ) পরিবাহকত্ব
  3. গ) স্থির রোধ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবাহকত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবাহকত্ব
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশিকে পরিবাহকত্ব বলে। 
স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের একক দৈর্ঘ্যের এবং একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের রোধকে আপেক্ষিক রোধ বলে। 
স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের একক দৈর্ঘ্যের এবং একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহিতাকে পরিবাহকত্ব বলে।
পরিবাহকত্বকে σ (সিগমা) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬২৭.
যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত ______ ।
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি
ব্যাখ্যা
বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে। 
- এ আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬২৮.
সূর্য থেকে আলোর তাপ কোন বল দিয়ে তৈরি হয়? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এটি হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৯.
স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা যায়- 
  1. সরু তারের ব্যাস 
  2. সরু চোঙের ব্যাসার্ধ
  3. ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়।
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়।
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩০.
তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক কী?
  1. অ্যাম্পিয়ার
  2. কুলম্ব
  3. ভোল্ট
  4. ওহম
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) অ্যাম্পিয়ার

তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হচ্ছে অ্যাম্পিয়ার।

- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- যার প্রতীক হলো A।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করার জন্য অ্যামিটার নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৩১.
তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা কোনটি? 
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. গ্লুঅন
  4. Z বোসন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 

তাড়িতচৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তাড়িতচৌম্বক বল বলে। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 

অন্যদিকে, 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন) এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩২.
আলোর প্রতিফলন কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. ক) মাধ্যমের প্রকৃতির উপর
  2. খ) আপতন কোণের মানের উপর
  3. গ) প্রতিফলন কোণের মানের উপর
  4. ঘ) সবগুলোর উপর নির্ভরশীল
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতিফলন কোণের মানের উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতিফলন কোণের মানের উপর
ব্যাখ্যা
কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে।

যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি।
সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে । তা হলো,-
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

** প্রতিফলিত রশ্মি অভিলম্বের সাথে যে কোণ উৎপন্ন করে তাকে প্রতিফলন কোণ বলে।
অর্থাৎ, আলো প্রতিফলিত হওয়ার পর অভিলম্বের সাথে যে কোণ উৎপন্ন হয় সেটাই হচ্ছে প্রতিফলন কোণ। যেহেতু এটি প্রতিফলনের পরে সৃষ্টি হয় তাই এর উপর প্রতিফলন নির্ভর করে না। 
আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে,
∠ i = ∠ r


সূত্র - SSC, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড বই
১,৬৩৩.
সিটি স্ক্যান (CT Scan) এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Computed Thermal Scan
  2. Comprehensive Tissue Scan
  3. Computerized Testing Scan
  4. Computed Tomography Scan
সঠিক উত্তর:
Computed Tomography Scan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Computed Tomography Scan
ব্যাখ্যা

সিটি স্ক্যান: 
- সিটি স্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan)
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটি স্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র, এ যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 

- সিটি স্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটি স্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটি স্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পাশ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটি স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটি স্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 
- সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় 'ডাই' ব্যবহৃত হরে এলার্জি জনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৪.
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়? 
  1. ২টি
  2. ১টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। যথা- 
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় ৪ (চার) টি ডায়োড ব্যবহার করে। 
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৫.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. তরল পদার্থ
  2. শূন্য মাধ্যম
  3. বায়বীয় পদার্থ
  4. কঠিন পদার্থ
সঠিক উত্তর:
কঠিন পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন পদার্থ
ব্যাখ্যা
• কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।
- যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।

• শব্দের গতি:

- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উত্তস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৬.
পাহাড়ী রাস্তার বিপজ্জনক বাঁকে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) সমতল দর্পণ
  2. খ) উত্তল দর্পণ
  3. গ) উত্তল লেন্স
  4. ঘ) অবতল লেন্স
সঠিক উত্তর:
ক) সমতল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমতল দর্পণ
ব্যাখ্যা
পাহাড়ি রাস্তায় গাড়িচালনার জন্য অনেক সময় ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁক নিতে হয়। অদৃশ্য বাঁকে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক পরস্পরকে দেখতে পান না, এছাড়া বাঁকের অপর পাশে কী আছে তা আদৌ তারা জানেন না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিপজ্জনক বাঁকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে বৃহৎ আকৃতির সমতল দর্পণ বসানো হয়। এর ফলে গাড়িচালকগণ বাঁকের আশেপাশে সবকিছু দেখতে পান এবং নিরাপদে গাড়ি চালাতে সক্ষম হন।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৬৩৭.
কোনটির সাহায্যে বস্তুর তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়?
  1. ক) সিসমোগ্রাফ
  2. খ) সোনোগ্রাফি
  3. গ) থার্মোমিটার
  4. ঘ) অ্যানেমোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) থার্মোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) থার্মোমিটার
ব্যাখ্যা
বস্তুর তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায় থার্মোমিটার এর মাধ্যমে। 

- থার্মোমিটার হল তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র, যার সাহায্যে কোনো বস্তুর তাপমাত্রা সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায় এবং বিভিন্ন বস্তুর তাপমাত্রার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
- থার্মোমিটার শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ থেকে, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ :যবৎসড় মানে 'তাপ' এবং সবঃবৎ মানে পরিমাপ করা।
- থার্মোমিটার হলো তাপমাত্রা নির্ণয়ের এক বিশেষ যন্ত্র। জানা যায়, ষোড়শ শতকে সর্বপ্রথম ইতালিতে থার্মোমিটার আবিষ্কার হয়।
- ১৬১২ সালে ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. সেন্টোরিয়াস থার্মোমিটার ব্যবহার করে মানবদেহের তাপমাত্রা পরিমাপের কথা উলেস্নখ করেন।
- সিসমোগ্রাফ: ভূমিকম্প লিপিবদ্ধ করার যন্ত্র। 
- সোনোগ্রাফি: শব্দ বিশ্লেষণ এবং লিপিবদ্ধ করার যন্ত্র। 
- অ্যানেমোমিটার: বায়ুর গতিবেগ পরিমাপের যন্ত্র।

সূত্র: ৩৭০ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৮.
'মানুষের হাঁটা' নিউটনের কোন সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. ক) গতির প্রথম সূত্র
  2. খ) গতির দ্বিতীয় সূত্র
  3. গ) গতির তৃতীয় সূত্র
  4. ঘ) মহাকর্ষ সূত্র
সঠিক উত্তর:
গ) গতির তৃতীয় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গতির তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমানও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। একজন মানুষ হাঁটার সময় পা দিয়ে যখন মাটিকে ধাক্কা দেয়, মাটিও মানুষটিকে পাল্টা ধাক্কা দেয়।
উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
- মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎস:
১.পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৯.
পৃথিবীর কেন্দ্রে ‘g’ এর মান কত?
  1. ০ মি./সে.
  2. ৯.৮ মি./সে.
  3. ৮.৪ মি./সে.
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
['g' এর মানের একক ms-2 কিন্তু এখানে অপশনে মি./সে. বা, ms-1 দেওয়া আছে। তাই কোনটি নয় উত্তর হবে]

• ওজন:

- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg
- এখানে, g= অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 ms-2
- m = বস্তুর ভর।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অন্ঞলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬৪০.
একজন মানুষ কী অবস্থায় পৃথিবীকে সবচেয়ে কম চাপ দেয়?
  1. ক) দৌড়ানো অবস্থায়
  2. খ) দাঁড়ানো অবস্থায়
  3. গ) বসা অবস্থায়
  4. ঘ) শোয়া অবস্থায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোয়া অবস্থায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোয়া অবস্থায়
ব্যাখ্যা
• চাপ বলতে একক ক্ষেত্রফলের কোনো বস্তুর উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকেই বোঝায়।
- মানুষ দাঁড়িয়ে অথবা, বসা অবস্থায় ক্ষেত্রফলের পরিমাণ এর থেকে শোয়া অবস্থায় ক্ষেত্রফলের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। 
- শোয়া অবস্থায় মানুষের দৈহিক ওজন ক্ষেত্রফলের পুরোটা ছড়িয়ে পড়ে বলে চাপের পরিমাণ কমে যায়। 
- এই কারণে, একজন মানুষ শোয়া অবস্থায় পৃথিবীকে কম চাপ দেয়।
১,৬৪১.
উঁচু পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ উঁচু পর্বত চূড়ায় -
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি
  2. খ) বায়ুর চাপ কম
  3. গ) অক্সিজেন কম
  4. ঘ) ঠাণ্ডা বেশি
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম
ব্যাখ্যা
উঁচু পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ-
- বায়ুর চাপ কম
- শুষ্ক বায়ু 
- অক্সিজেন স্বল্পতা 

ইত্যাদি কারণে রক্তনালিতে চাপ পড়ে। ফলে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৬৪২.
ভর ও বেগ উভয়ই বেড়ে দ্বিগুণ হলে, গতিশক্তি কতগুণ হবে? 
  1. দ্বিগুণ
  2. তিনগুণ
  3. চারগুণ
  4. আটগুণ
সঠিক উত্তর:
আটগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটগুণ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ভর ও বেগ উভয়ই বেড়ে দ্বিগুণ হলে, গতিশক্তি কতগুণ হবে? 

সমাধান: 
গতিশক্তি = (1/2)mv2

নতুন বেগ = 2v 
নতুন ভর = 2m 

গতিশক্তি = (1/2) × (2m) × (2v)2
= (1/2) × 4 × 2 × mv2
= 8 × (1/2)mv2

গতিশক্তি ৮ গুণ হবে। 
১,৬৪৩.
কম্পাঙ্কের একক কী?
  1. হার্জ
  2. সেকেন্ড
  3. নিউটন 
  4. মিটার 
সঠিক উত্তর:
হার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্জ
ব্যাখ্যা

- কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি (Frequency) পরিমাপের আন্তর্জাতিক (SI) একক হলো হার্জ (Hertz), যাকে সংক্ষেপে Hz লিখে প্রকাশ করা হয়। জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী হাইনরিখ হার্জের নামানুসারে এই এককের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে একটি তরঙ্গ যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে, তাকেই হার্জ বলা হয়। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪৪.
কোনটি নিয়ে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী গঠিত হয় -
  1. সিলিকন ও ফসফরাস
  2. সিলিকন ও বোরন
  3. সিলিকন ও জার্মেনিয়াম
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
সিলিকন ও ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা

সিলিকনের সর্বশেষ কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। সিলিকন ক্রিস্টালের সাথে এমন একটা পরমাণু (যেমন ফসফরাস) মিশিয়ে দেওয়া হয় যার শেষ কক্ষপথে থাকে ৫টি ইলেকট্রন। ফসফরাসের এই ৫ম ইলেকট্রনটি বাড়তি একটা ইলেকট্রন, কোনো পরমানুরই তার প্রয়োজন নেই, তাই সেসব পরমাণুর মাঝেই প্রায় মুক্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারে।
ফসফরাস মেশানো এ রকম সেমিকন্ডাক্টর অনেকটাই পরিবাহী, কারণ চার্জ পরিবহনের জন্য এখানে কিছু মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফসফরাসের মতো শেষ কক্ষপথে ৫ম ইলেকট্রনসহ পরমাণু যোগ করে সেমিকন্ডাক্টরকে মোটামুটি পরিবাহক তৈরি করে ফেলা এই সেমিকন্ডাক্টরকে বলে n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর।
জার্মেনিয়ামের সর্বশেষ কক্ষপথেও ৪টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। তাই জার্মেনিয়াম ও ফসফরাস যুক্ত হয়েও n-টাইপ অর্ধপরিবাহী গঠন সম্ভব।

১,৬৪৫.
এক্স-রে কোন সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৮৯৫ সালে
  2. খ) ১৮৯৮ সালে
  3. গ) ১৮৮৫ সালে
  4. ঘ) ১৯০০ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে:
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামাণুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 

এক্স-রের ব্যবহার
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়।
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪৬.
কোনটি 'আপেক্ষিক গুরুত্ব' এর একক ?
  1. gm/cm3
  2. gm/m3
  3. kg/m3
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'আপেক্ষিক গুরুত্ব':
- আপেক্ষিক গুরুত্ব বলতে কোন বস্তুর ঘনত্ব এবং অন্য একটি প্রসঙ্গ বস্তুর ঘনত্বের অনুপাত অথবা কোন বস্তুর ভর এবং একই আয়তনের অন্য একটি বস্তুর ভরের অনুপাতকে বোঝায়।
- আপেক্ষিক গুরুত্ব যেহেতু সমরাশির অনুপাত তাই এর কোনো একক নেই।

• ব্যবহার:
• ভাসা ও ডোবা নির্ধারণ:
- আপেক্ষিক গুরুত্বের মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো বস্তু পানিতে ভাসবে নাকি ডুবে যাবে।
- যেমন, কাঠের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১-এর কম হওয়ায় এটি পানিতে ভাসে, কিন্তু লোহার আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশি হওয়ায় এটি ডুবে যায়।

• গহনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা:
- স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ধারণে আপেক্ষিক গুরুত্ব ব্যবহার করা হয়।

• ইঞ্জিনিয়ারিং ও নির্মাণ:
- বিভিন্ন পদার্থের ঘনত্বের তুলনা করে উপযুক্ত নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৪৭.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ -
  1. অণুর বিন্যাস
  2. তাপের প্রভাব
  3. পরমাণুর বিন্যাস
  4. রায়ায়নিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- এদের ভর ও আয়তন আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- কক্ষ তাপমাতায় বেশির ভাগ পদার্থ কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন অর্থাৎ তাপের প্রভাব পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪৮.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১,৬৪৯.
কোনটি তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অবলোহিত রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয় রশ্মি:
- তেজষ্ক্রিয় নিউক্লিয়াস এর ভাঙ্গনের ফলে যে রশ্মিগুলো নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বলে।

তিন ধরনের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। যথা -
- আলফা
- বিটা
- গামা

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই।
১,৬৫০.
ভূপৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি আছে?
  1. ক) কপার
  2. খ) অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) জিংক
  4. ঘ) লৌহ
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় শতকরা ৮ ভাগ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়। 
- কিন্ত প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায় না।
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে। এগুলো হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫১.
কোন বাদ্য যন্ত্রে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয় না?
  1. গীটার
  2. একতারা
  3. সেতার
  4. বাঁশি
সঠিক উত্তর:
বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি
ব্যাখ্যা
স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

অন্যদিকে, 
- বাঁশি বাদ্যযন্ত্রে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয় না। কারণ, বাঁশি এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র যেখানে বাঁশের ভিতর বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের হোল থাকে। ফলে এর থেকে একই আবৃত্তির তরঙ্গ সৃষ্টি হয় না। বরং ভিন্ন ভিন্ন আবৃত্তির অস্থির তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫২.
কোন বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী প্রবাহে (D.C) পরিবর্তন করে? 
  1. সমন্বিত বর্তনী
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী প্রবাহে (D.C) পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- 
১। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
২। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৩.
পানি একটি- 
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  3. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৪.
‘রেডিও আইসোটোপ পরীক্ষা’ দ্বারা নিরূপণ করা হয়?
  1. তেজষ্ক্রিয়তা
  2. ঘন বস্তুর বয়স
  3. ঘনত্ব
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
ঘন বস্তুর বয়স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘন বস্তুর বয়স
ব্যাখ্যা
- কোন কোন আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়।

- রেডিওআইসোটোপ পরীক্ষা (Radioisotope Testing): তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে বস্তু বা পদার্থের বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল ধারণা হলো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের হ্রাসের হার, যাকে হাফ-লাইফ (অর্ধ-জীবনকাল) বলা হয়, যা একটি নির্দিষ্ট হার অনুযায়ী কমে। এর মাধ্যমে ভূতাত্ত্বিক স্তর, জীবাশ্ম এবং প্রাচীন জৈব পদার্থের বয়স নির্ধারণ করা হয়।

এতে প্রধানত ব্যবহার করা হয়:
কার্বন-১৪ ডেটিং:
যা জীবাশ্ম বা জৈব পদার্থের বয়স নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। কার্বন-১৪ হল এক ধরনের রেডিওআইসোটোপ, যা জীবন্ত প্রাণীর শরীরে থাকে। প্রাণী মারা গেলে কার্বন-১৪-এর পরিমাণ ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং এর ভিত্তিতে বয়স নির্ধারণ করা হয়।

ইউরেনিয়াম-সিসি পদ্ধতি:
যা বিশেষভাবে ভূতাত্ত্বিক স্তর বা শিলার বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। ইউরেনিয়াম একসময় সিসি তে পরিণত হয়, এবং এই রূপান্তরের হারের উপর ভিত্তি করে শিলার বয়স নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। লিঙ্ক
১,৬৫৫.
অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যম দিয়ে আলো কোন প্রক্রিয়ায় চলে? 
  1. প্রতিসরণ
  2. ব্যতিচার
  3. অপবর্তন
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

• অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে বিকিরণআলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 

১,৬৫৬.
এক্সরে রশ্মি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যান্সার চিকিৎসায়
  2. খ) চোরাচালান রোধে
  3. গ) পাকস্থলীতে পাথর শনাক্তকরণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

এক্সরের ব্যবহার

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঃ রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়।
কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় যুগান্তকারী উন্নতি সাধনের জন্য এক্সরের অবদান অকল্পনীয়।
এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে।
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়।

গোয়েন্দা বিভাগে ঃ চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৬৫৭.
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক কি?
  1. ক) মিটার
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) ডায়াপ্টার
  4. ঘ) লুমেন
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়াপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দিয়ে সীমাবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।

লেন্স দু-প্রকার। যথা-
১. উত্তল বা অভিসারী লেন্স এবং
২.অবতল বা অপসারী লেন্স।

লেন্সের ক্ষমতা বলতে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক হলো ডায়াপ্টার। এসআই একক হলো রেডিয়ান/মিটার।
লেন্সের ক্ষমতার মান ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক উভয় প্রকার হতে পারে।

(সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,৬৫৮.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সহজেই প্রবাহিত হতে পারে?
  1. কাঁচ
  2. লোহা
  3. সিলিকন
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না, সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন - কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন - রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৯.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা 
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি 
  3.  বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৬৬০.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রথম প্রস্তাব করেন কে এবং কখন? 
  1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
  2. বোর, ১৯১৩
  3. নিউটন, ১৬৮৭
  4. আইনস্টাইন, ১৯০৫
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬১.
শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে?
  1. ক) দস্তার খোল
  2. খ) কার্বন দন্ড
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) কয়লার গুড়া
সঠিক উত্তর:
ক) দস্তার খোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দস্তার খোল
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।

শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়। দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একটি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

অ্যানোডে বিক্রিয়া:  Ζn(s) → Zn2+(aq) + 2e
ক্যাথোডে বিক্রিয়া:  2NH4+(aq) + 2MnO2(s) + 2e → Mn2O3(s) + H2O(l) + 2NH3(aq) 

অর্থাৎ, জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে।

এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
এতে সাধারণত ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১,৬৬২.
g-এর মান সর্বোচ্চ -
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
  4. মেরু অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্বনিম্ন প্রায় 9.78 ms-2.
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2.
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৩.
খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্ক্রু গজ
  2. খ) তুলা যন্ত্র
  3. গ) ডিজিটাল স্কেল
  4. ঘ) স্লাইড ক্যালিপার্স
সঠিক উত্তর:
খ) তুলা যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তুলা যন্ত্র
ব্যাখ্যা
তুলা যন্ত্র :

- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপার জন্য তুলা যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
- তখন সাধারণ নিক্তির সাহায্যে তা পরিমাপ করা সম্ভব হয় না।
- বস্তু বা পদার্থের ভর যত কম হবে, তার ভর পরিমাপের জন্য তত সুক্ষ্ম নিক্তির প্রয়োজন হবে।
- এই রকম একটি নিক্তি হল তুলা যন্ত্র।
- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের ল্যাবরেটরীতে খুব অল্প পরিমাণ নমুনার ভর পরিমাপ করতে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৪.
রোধ কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলে
  2. উপাদান
  3. তাপমাত্রা
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• রোধ:
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।
- রোধের এস আই একক হলো ও'ম।
- কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য ১ ভোল্ট এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ ১ অ্যাম্পিয়ার হলে, ঐ পরিবাহীর রোধ হবে ১ ও'ম।
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে।
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৫.
সরাসরি হৃৎপিণ্ড দিয়ে সর্বনিম্ন কী পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে মানুষ মারা যেতে পারে?
  1. ক) 1000 A
  2. খ) 100 A
  3. গ) 10 mA
  4. ঘ) 0.05 mA
সঠিক উত্তর:
গ) 10 mA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 10 mA
ব্যাখ্যা
- সরাসরি হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে মাত্র 10mA বিদ্যুতেই মানুষ মারা যেতে পারে।
- ব্যবহার করার জন্য আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি AC এবং AC বিদ্যুৎ DC বিদ্যুৎ থেকে প্রায় 5 গুণ বেশি ক্ষতিকর।
- শুকনো অবস্থায় মানুষের চামড়ার রোধ প্রায় 30,000 Ω থেকে 50,000 Ω হলেও ভেজা অবস্থায় সেটি হাজার গুণ কমে আসে। কাজেই ও'মের সূত্র ব্যবহার করে আমরা দেখাতে পারি আমাদের দেশের 220 V শরীরের ভেতর দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলার মতো বিদ্যুৎ প্রবাহ করতে পারে। যখন কেউ ভেজা মাটিতে ভেজা পা নিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সেটি হয় সবচেয়ে বিপজ্জনক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
১,৬৬৬.
পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে তৈরি হয় -
  1. ক্রিপ্টন
  2. বেরিয়াম
  3. হিলিয়াম
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে  E=উৎপন্ন শক্তি, m=শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c=আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)। 
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। 
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
- এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
১,৬৬৭.
অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনীতে কতটির অধিক উপাদান থাকে?
  1. প্রায় ১০ টি
  2. প্রায় ১০০ টি
  3. প্রায় ১,০০০ টি
  4. প্রায় ১০,০০০ টি
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০,০০০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০,০০০ টি
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়। 
- এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। 
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৮.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104°F । সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. - 40° C
  2. 38° C
  3. 40° C
  4. 48° C
সঠিক উত্তর:
40° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
40° C
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104°F । সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা, F = 104°F
সেলসিয়াস তাপমাত্রা, C = ?

আমরা জানি,
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (104 - 32)/9
বা, C/5= 72/9
বা, C = 8 × 5
∴ C = 40
উত্তর: 40° C
১,৬৬৯.
নিচের কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. রূপা
  2. তামা
  3. নিকেল
  4. সোনা
সঠিক উত্তর:
নিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকেল
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৭০.
কোন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. সোনা
  2. ইস্পাত
  3. রবার
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)। 
১,৬৭১.
কোনো সিলিকন চিপে লক্ষ লক্ষ বর্তনী সংযোজিত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) সমান্তরাল বর্তনী
  2. খ) অর্ধপরিবাহী ট্রানজিস্টর
  3. গ) সমন্বিত বর্তনী
  4. ঘ) অর্ধপরিবাহী ডায়োড
সঠিক উত্তর:
গ) সমন্বিত বর্তনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমন্বিত বর্তনী
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর, ডায়ােড ইত্যাদি ব্যবহার করে অনেক প্রয়ােজনীয় সার্কিট তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির উন্নতি হতে থাকে এবং এই ধরনের নানা কিছু ব্যবহার করে তৈরি করা আস্ত একটি সার্কিট ছােট একটা জায়গার মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া শুরু হলাে এবং তার নাম দেওয়া হলাে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।

একটা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হয়তাে একটা নখের সমান। তার ভেতরে প্রথমে হাজার হাজার ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি সার্কিট ঢােকানাে শুরু হয় এবং দেখতে দেখতে একটা আইসির ভেতর বিলিয়ন ট্রানজিস্টর পর্যন্ত বসানাে সম্ভব হয়ে উঠতে থাকে।

একটি ছােট চিপের ভেতর বিলিয়ন ট্রানজিস্টর ঢােকানাের এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় VLSI বা Very Large Scale Integration. এই প্রক্রিয়াটি এখনাে থেমে নেই এবং চিপের ভেতর আরাে ট্রানজিস্টর ঢুকিয়ে আরাে জটিল সার্কিট তৈরি করার প্রক্রিয়া এখনাে চলছে।
উৎসঃ নবন-দশম শ্রেণী, পদার্থবিজ্ঞান।
১,৬৭২.
কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত কোন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়?
  1. পরিচলন
  2. পরিবহন
  3. বাষ্পীভবন
  4. বিকিরণ
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে গমন করে।
- তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়, পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না।
- অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
- উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- কঠিন পদার্থে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে স্থান পরিবর্তন করে।
- তরল ও বাষ্পীয় পদার্থে তাপ পরিচলনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই তাপ সঞ্চালিত হয়।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে আসে।
- এ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত তাপকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
2) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭৩.
বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে কী বলে? 
  1. মধ্যবেগ
  2. সমবেগ
  3. অসমবেগ
  4. তাৎক্ষণিক বেগ
সঠিক উত্তর:
সমবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমবেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity): 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

সমবেগ (Uniform velocity): 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসমবেগ (Non-uniform Velocity): 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে।

গড় বেগ (Average Velocily): 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity): 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

মধ্যবেগ (Mean Velocity): 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৪.
অ্যামিটার দিয়ে মূলত কী পরিমাপ করা হয়?
  1. শক্তি 
  2. বিভব পার্থক্য
  3. রোধ 
  4. তড়িৎ প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- অ্যামিটারের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়। 
- অ্যামিটার বর্তনীর সাথে শ্রেণি সংযোগে যুক্ত থাকে। 
- এই যন্ত্রে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। 
- এই গ্যালভানোমিটারে বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি অ্যাম্পিয়ার, মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার এককে দাগকাটা একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বিদ্যুৎ কোষের মতো অ্যামিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

অন্যদিকে,
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৬৭৫.
P-N জংশন ডায়োডে কারেন্ট কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. P থেকে N এ
  2. N থেকে P এ
  3. উভয় দিকে
  4. কারেন্ট প্রবাহ হয় না 
সঠিক উত্তর:
P থেকে N এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P থেকে N এ
ব্যাখ্যা

◉ P-N জংশন ডায়োড একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস। এটি শুধু একদিক দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত করতে পারে, যাকে বলে Forward Bias condition. যখন ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্ত P-টাইপ এর সাথে এবং ঋণাত্মক প্রান্ত N-টাইপ এর সাথে যুক্ত করা হয়। তখন কারেন্ট P থেকে N দিকে প্রবাহিত হয়।

​ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৭৬.
ফোটন কণা সম্পর্কে যে তথ্যটি ভুল-
  1. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
  2. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
  3. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ নয়।
  4. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
সঠিক উত্তর:
ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ নয়।
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon) I

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
- পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
-  ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
- ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
- প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
- ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
- ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৭.
১০ মিটার পানির গভীরতায় চাপ আনুমানিক কত atm বেড়ে যায়?
  1. ০.৫ 
  2. ১ 
  3. ৫ 
  4. ১০
সঠিক উত্তর:
১ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ 
ব্যাখ্যা

- পানির গভীরতায় নামলে চাপ বৃদ্ধি পায়।
- এই চাপ বৃদ্ধি হয় মূলত হাইড্রোস্ট্যাটিক প্রেসার কারণে, যা তরলের ঘনত্ব, গভীরতা ও মহাকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
চাপের সূত্র, P = ρgh. 
যেখানে,
ρ = ১০০০ কেজি/মি
g = ৯.৮ মি/সে
h = ১০ মিটার।
P = ১০০০ × ৯.৮ × ১০ = ৯৮০০০ প্যাস্কেল।
আর ১ atm = ১০১৩২৫ প্যাস্কেল।
∴ P = ৯৮০০০ ÷ ১০১৩২৫ = ০.৯৭ atm ≈ ১ atm (আনুমানিক)।

∴ ১০ মিটার পানির গভীরতায় চাপ আনুমানিক ১ atm বেড়ে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৭৮.
ফ্যাদোমিটার কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উচ্চতা নির্ণয়ে
  2. খ) উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে
  3. গ) বায়ুর গতিবেগ নির্ণয়ে
  4. ঘ) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
ব্যাখ্যা
- বায়ুর গতিবেগ পরিমাপক যন্ত্রের নাম এনোমোমিটার ।
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র অলটিমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র টেকোমিটার।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র অডিওমিটার।
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র ওডোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র ল্যাকটোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৭৯.
আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব কে প্রস্তাব করেছিলেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  4. হেন্রিখ হার্জ
সঠিক উত্তর:
ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

• আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব (Electromagnetic Theory of Light) প্রস্তাব করেছিলেন ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। তিনি  Maxwell’s Equations এর মাধ্যমে দেখান, আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যা স্থান জুড়ে প্রলেপিত হয়। তাঁর তত্ত্ব অনুসারে, বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্র একে অপরকে উত্পন্ন করে এবং তরঙ্গের আকারে স্থান মাধ্যমে ছড়ায়। এটি আলোর প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এক বিপ্লবাত্মক ধারণা।

তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্তে¡র ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে
সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮০.
চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক তীব্রতার অনুপাতকে কী বলে?
  1. চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  2. চৌম্বক প্রাবল্য
  3. চৌম্বক প্রবণতা
  4. চৌম্বক গ্রাহিতা
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে।
- একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয়
- এর একক TmA-1.

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে ।
- একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

• চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা:
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে ।
- এটি একটি এককবিহীন রাশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮১.
কোনটি নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে মডারেটরের কাজ করে? 
  1. ভারী জল 
  2. ক্যাডমিয়াম দণ্ড
  3. তরল সোডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম-২৩৫
সঠিক উত্তর:
ভারী জল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারী জল 
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে ফিশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিসম্পন্ন নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে মডারেটর বলে। ভারী জল (D2O) বা গ্রাফাইট মডারেটর হিসেবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। নিউট্রনের গতি কমলে তা পরবর্তী ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে একটি নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) বজায় রাখতে সাহায্য করে।

• নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

• মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং ২। গ্রাফাইট। 

অন্যান্য অপশন:
- ক্যাডমিয়াম দণ্ড: এটি অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণের জন্য 'কন্ট্রোল রড' হিসেবে কাজ করে।
- তরল সোডিয়াম: এটি রিঅ্যাকটরে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য 'শীতলকারক' বা কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
- ইউরেনিয়াম-২৩৫: এটি রিঅ্যাকটরের মূল জ্বালানি (Fuel) যা ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮২.
এক ঘনমিটার পানির ভর ১০০০ কিলোগ্রাম হয় কোন তাপমাত্রায়? 
  1. ০° C
  2. ৪° C
  3. ২৫° C
  4. ১০০° C
সঠিক উত্তর:
৪° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° C
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4°C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000kg m-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৮৩.
বায়োগ্যাস প্লান্টে গোবর ও পানির অনুপাত কত?
  1. ১ : ২
  2. ১ : ৩
  3. ২ : ৩
  4. ২ : ৫
সঠিক উত্তর:
১ : ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ২
ব্যাখ্যা
বায়োমাস শক্তি:
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে। 
- এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে। 
- এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস। 

- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
- আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে গোবর ও পানির মিশ্রণ ১ : ২ অনুপাতে রেখে পচানো হলে বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৪.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মিটি ঋণাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. আলফা (α) রশ্মি
  2. বিটা (β) রশ্মি
  3. গামা (γ) রশ্মি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ) নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

অপশন আলোচনা:
• আলফা রশ্মি:
 ১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর  6.6 × 10-27 কেজি।
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব।
৩। এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।

• বিটা রশ্মি:
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1 × 10-31 কেজি।
২। এরা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6 × 10-19 কুলম্ব।
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9 × 108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী।

• গামা রশ্মি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৪। ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
৫। শক্তি ও ফ্রিকোয়েন্সি সর্বাধিক।
৬। চার্জ ও ভর নেই।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮৫.
1 হর্সপাওয়ার (H.P) কত ওয়াটের সমান? 
  1. 464 W 
  2. 746 W 
  3. 764 W 
  4. 1000 W 
সঠিক উত্তর:
746 W 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
746 W 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা, P = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
1 H.P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা হলো ML2T-3 । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮৬.
কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. বায়োগ্যাস
  2. সৌরশক্তি
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. জলবিদ্যুৎ
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। 
- তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৭.
নিচের কোনটি নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  4. ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো - 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৮.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. টেলিস্কোপ 
  2. পেরিস্কোপ 
  3. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র 
  4. অণুবীক্ষণ যন্ত্র 
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৬৮৯.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী-
  1. শক্তি নষ্ট হয়ে যায়
  2. শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
  3. শক্তি সৃষ্টি করা যায়
  4. শক্তি চিরকাল ধ্রুবক থাকে, কিন্তু এটি ব্যবহার করা যায় না
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
ব্যাখ্যা
• শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না।

• শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র:
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংশ করা যায় না।
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র।
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে আমরা নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করতে পারি না বা শক্তি ধ্বংসও করতে পারি না।
- বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯০.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক কী?
  1. সেন্টিগ্রাম
  2. কেজি
  3. কুইন্টাল
  4. গ্রাম
সঠিক উত্তর:
কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেজি
ব্যাখ্যা
সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m), 
ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।
১,৬৯১.
ফটোকপি যন্ত্রের কার্যপ্রণালী কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. আলোক প্রভাব 
  2. চৌম্বক প্রভাব 
  3. স্থির তড়িৎ প্রভাব 
  4. চল তড়িৎ প্রভাব
সঠিক উত্তর:
স্থির তড়িৎ প্রভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থির তড়িৎ প্রভাব 
ব্যাখ্যা

ফটোকপি যন্ত্র: 
- কোনো কাগজের লেখার অনুরূপ কপি তৈরি করার জন্য ফটোকপি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। 
- এই ফটোকপি যন্ত্রের কর্ম প্রক্রিয়ায় প্রায় সর্বত্র স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়
- একটি চোঙাকৃতি ধাতব ড্রামের উপর আলোক সংবেদনশীল (যেমন-সেলুলয়েড ফিল্ম থাকে) পদার্থের প্রলেপ দেয়া থাকে। ড্রামটি সমদ্রুতিতে এর অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরতে থাকে এবং এই প্রলেপকে প্রায় 1.5kV বিভবে ধনাত্মক আধানে সমভাবে আহিত করা হয়। 
- অন্যদিকে যে কাগজের কপি করতে হবে তার উপর আলো ফেলা হয় এবং লেন্সের সাহায্যে এর প্রতিবিম্ব ড্রামের আলোক সংবেদনশীল পদার্থের প্রলেপের উপর ফেলা হয়, এর ফলে ড্রামের যে স্থানে আলো পড়ে সে স্থানের আধানগুলি নিস্তড়িৎ হয়ে যায় আর যেখানে আলো পড়েনা (লেখা অংশ) সেখানে আধান থেকে যায়। 
- এই অবস্থায় ড্রামটি ঘুরে পাউডারের মতো সূক্ষ্ম কালির সংস্পর্শে আসে এবং আগের থেকেই কালিকে ঋণাত্মক আধানে আহিত করা থাকে, ফলে ড্রামটি যে স্থানগুলোতে আধান আছে সেস্থানে কালি লেগে যায়। 
- এই ড্রামটি পরবর্তীতে কাগজের (অনেক ক্ষেত্রে কাগজকে ঋণাত্মক আধানে আহিত করা হয়) উপর চাপ দিয়ে কালি লাগিয়ে দেয়া হয় এবং এই কাগজটিকে চাপ ও তাপ দিয়ে কালিকে ভালোভাবে কাগজের সাথে লাগিয়ে দেয়া হয়। 
- এইভাবেই স্থির তড়িৎ ব্যবহার করে ফটোকপি যন্ত্রের সাহায্যে কোনো কাগজের লেখার অনুরূপ কপি তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৯২.
যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজেই নষ্ট হয় না, তাকে কী বলে?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
  3. গ) দণ্ড চুম্বক
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বক
সঠিক উত্তর:
ক) স্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজেই নষ্ট হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- প্রকৃতিতে চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অনেক দুর্বল প্রকৃতির। 
- স্থায়ী চুম্বক অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুম্বকীয় গুণাবলি ধরে রাখতে পারে।
- স্থায়ী চুম্বক বিভিন্ন আকারের হতে পারে।
- চুম্বকত্ব প্রদানকারী শক্তি অপসারণ করার পর এর চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- চৌম্বক সহনশীলতা বেশি।
- ফেরাইট একটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্র- ১৭২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৩.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ নয়?
  1. ক) ম্যাঙ্গানিজ
  2. খ) টিন
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) জিপসাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জিপসাম
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।


অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- কয়লা
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র
১,৬৯৪.
A Chronometer in used to measure-
  1. ক) Time
  2. খ) Velocity
  3. গ) Current
  4. ঘ) Temperature
সঠিক উত্তর:
ক) Time
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Time
ব্যাখ্যা
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
 
সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৬৯৫.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয় কোনটি?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ তিনটি। যথা- লাল, সবুজ এবং নীল।

- অপরদিকে, বেগুনি রঙ টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয়। 
- টেলিভিশন শব্দের বাংলা অর্থ দূরদর্শন। অর্থাৎ দূর থেকে দেখা। 
- টেলিভিশনে দেখা ও শোনা দুটোই ঘটে। শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক স্টেশন। 
- শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য টেলিভিশন প্রেরক স্টেশনে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র থাকে। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয়। 
- অন্য একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 
- যে দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে। 
- এ তরঙ্গ বা সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- ডিসপ্লে বা প্রদর্শনীর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে টেলিভিশনকে সিআরটি, প্লাজমা, এলসিডি, এলইডিসহ বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়। 

সূত্র- ৩৭৬ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৬৯৬.
আলোর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
  2. আলো একটি পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ।
  3. আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
  4. আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
সঠিক উত্তর:
আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
ব্যাখ্যা
• আলো হচ্ছে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা মাধ্যম ছাড়াও যেমন শূন্যস্থানে (vacuum) চলতে পারে। এটি তরঙ্গ ধর্ম (যেমন প্রতিসরণ, প্রতিফলন, ব্যতিচার, অপবর্তন) এবং কণিকাধর্ম—দুটিই প্রদর্শন করে।
⇒ আলো একদিকে পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ এবং এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট আছে । ( যেমন দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের মধ্যে পড়ে।
⇒ পুকুরে ঢিল ছুড়ে যেমন ছোট-বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ তৈরি করা যায়, তেমনি আলোরও নানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকতে পারে। 


"আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ" — এই ধারণাটি আংশিক সত্য হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণে এটি পূর্ণ সত্য নয়। কারণ, আলো বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন লেজার বা মুক্ত মাধ্যমে সরলরেখায় চললেও বাস্তবে এটি তরঙ্গ ধর্ম অনুযায়ী বাঁকেও যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, আলো সরু ফাঁক দিয়ে গেলে অপবর্তন ঘটে, দুটি আলোর রশ্মি একত্রিত হলে ব্যতিচার দেখা যায়, এবং বিভিন্ন মাধ্যমের সংযোগস্থলে প্রতিসরণ ঘটে।।
 তাই আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ  কথাটি পূর্ণ সত্য নয়। 


তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬৯৭.
কোন দুই রঙের মিশ্রণে বেগুনী রঙ তৈরি হয়? 
  1. সাদা ও নীল
  2. হলুদ ও লাল
  3. লাল ও নীল 
  4. সবুজ ও নীল
সঠিক উত্তর:
লাল ও নীল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল ও নীল 
ব্যাখ্যা
রং সম্পর্কিত জ্ঞান: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
লাল ও নীল রং মিশালে বেগুনী
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
• হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৮.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. ক) হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইউকে
  2. খ) হিমায়িত অক্সিজেনকে
  3. গ) ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
  4. ঘ) হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
সঠিক উত্তর:
ক) হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইউকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইউকে
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক বরফ:
- শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপের সাধারণ নাম।
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়।
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৯.
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাপ করতে কোন ধরনের স্কেল ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মিটার স্কেল
  2. খ) সেন্টিমিটার স্কেল
  3. গ) ভার্নিয়ার স্কেল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ভার্নিয়ার স্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভার্নিয়ার স্কেল
ব্যাখ্যা
ভার্নিয়ার স্কেল:

- মিটার স্কেলে আমরা সাধারণত মিলিমিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্য মাপতে পারি।
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- মিলিমিটারের ভগ্নাংশ যেমন, ০.২ মিমি, ০.৫ মিমি বা ০.৯ মিমি ইত্যাদি মাপার জন্য আমাদের ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করতে হয়।
- ফরাসী গণিত শাস্ত্রবিদ পিয়েরে ভার্নিয়ার এই স্কেল উদ্ভাবন করেন।
- এজন্য তাঁর নামানুসারে এ স্কেলের নামকরণ করা হয় ভার্নিয়ার স্কেল।
- মূল স্কেলের ক্ষুদ্রতম ভাগের ভগ্নাংশের মান নিখুঁতভাবে নির্ণয় করার জন্য মূল স্কেলের পাশে ছোট আর একটি স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- সেই ছোট স্কেলটির নাম ভার্নিয়ার স্কেল।
- মিটার স্কেলের সাথে ভার্নিয়ার স্কেল সংযুক্ত করে মিলিমিটারের ভগ্নাংশ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।
- ভার্নিয়ার স্কেল আকারে মূল স্কেল অপেক্ষা ছোট হয়।
- এই স্কেলটি মূল স্কেল বা প্রধান স্কেলের পাশে সংযুক্ত থাকে, ভার্নিয়ার স্কেলকে প্রধান স্কেলের পাশ দিয়ে সামনে বা পেছনে সরানো যায়।
- প্রধান স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্য এবং ভার্নিয়ার স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যকে ভার্নিয়ার ধ্রুবক (Vernier constant) V. C বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০০.
কোনটিকে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার সম্ভব?
  1. রোধ
  2. রেগুলেটর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. ফিউজ
সঠিক উত্তর:
ক্যাপাসিটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি: ব্যাটারি হলো এমন একটি উৎস যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে তড়িৎ শক্তি (electrical energy) সরবরাহ করতে পারে।

• ক্যাপাসিটর হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, যা তড়িৎআধান (electric charge) সঞ্চয় করতে পারে।যদিও এটি সত্যিকার অর্থে ব্যাটারি নয়, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাটারির মতো কাজ করতে পারে, বিশেষ করে অস্থায়ী শক্তি সরবরাহে।
- ক্যাপাসিটর বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় চার্জ সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে সেটি নির্গত করতে পারে।
-  ক্যাপাসিটরের এই ক্ষমতাকে বলা হয় Capacitive Energy Storage।
-  বিশেষ কিছু সুপারক্যাপাসিটর (Supercapacitor) আছে, যেগুলোকে ছোট আকারের ব্যাটারির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
যেমন: RAM backup, LED flash, Hybrid vehicles ইত্যাদিতে।

অন্যদিকে, 
রোধ (Resistor):  এটি বিদ্যুৎ বাঁধাদান করে, চার্জ সংরক্ষণ করে না। 

রেগুলেটর (Voltage Regulator): এটি নির্দিষ্ট ভোল্টেজ বজায় রাখে, নিজে চার্জ সংরক্ষণ করে না।

ফিউজ (Fuse): এটি বিদ্যুৎ প্রবাহে বেশি কারেন্ট হলে সার্কিট কেটে দেয় — এটি সুরক্ষা যন্ত্র, শক্তি সংরক্ষণ করে না।   


তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ – পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র।