তেজস্ক্রিয়তা:
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ) নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।
অপশন আলোচনা:
• আলফা রশ্মি:
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6 × 10-27 কেজি।
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব।
৩। এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়।
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
• বিটা রশ্মি:
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1 × 10-31 কেজি।
২। এরা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6 × 10-19 কুলম্ব।
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9 × 108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে।
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী।
• গামা রশ্মি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৪। ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
৫। শক্তি ও ফ্রিকোয়েন্সি সর্বাধিক।
৬। চার্জ ও ভর নেই।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।