বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২৫ / ৩৮ · ২,৪০১২,৫০০ / ৩,৭৪৭

২,৪০১.
এমপ্লিফায়ারে ভোল্টেজ গেইন প্রকাশ করা-
  1. ক) Ap
  2. খ) Av
  3. গ) AI
  4. ঘ) dB
ব্যাখ্যা
এমপ্লিফায়ার: 
- একটি ট্রানজিস্টর এমপ্লিফায়ার হিসাবে কাজ করে।
- এমপ্লিফায়ার এর কাজ হল ইনপুট সিগনালকে আউটপুটে বিবর্ধিত করে দেয়া।
- এমপ্লিফায়ারে ৩ ধরনের বিবর্ধন হয়।

কারেন্ট এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট কারেন্ট এর অনুপাত।

AI =Ioutput/Iinput

ভোল্টেজ এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট ভোল্টেজের অনুপাত।

Av = Voutput/Vinput

পাওয়ার এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট পাওয়ার এর অনুপাত।

Ap = Poutput/Pinput

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।
২,৪০২.
চোখের Myopia দূর করার জন্য কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) উত্তল লেন্স
  2. খ) দ্বি-উত্তল লেন্স
  3. গ) অবতল লেন্স
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি বা মাইওপিয়া (Short sight or Myopia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না, তবে কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পায়। চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব বা নিকট দূরত্ব কমে যায়। নিকট বিন্দু চোখের সামনে চলে আসে। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

এই ত্রুটি দূর করার জন্য চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যের বা পাওয়ারের অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফোকাস রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪০৩.
For normal elderly people, the minimum distance of clear vision typically is:
  1. 45 cm
  2. 35 cm
  3. 25 cm
  4. 15 cm
  5. 5 cm
ব্যাখ্যা
• দৃষ্টিসীমার নিকটতম বিন্দু:
- মানুষ তার চোখের লেন্সে ফোকাস দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে একটা বস্তুকে সবসময় স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করে।
- কিন্তু লক্ষ্যবস্তু চোখের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বেশি কাছে এলে আর স্পষ্ট দেখা যায় না।
- চোখের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে ঐ বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়।
- এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

- একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার বা ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- দূর বিন্দু চোখ থেকে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে। এ কারণে বহুদূরের নক্ষত্রও খালি চোখে দেখা যায়।
- সুস্থ ও স্বাভাবিক চোখ “নিকট বিন্দু” (near point) থেকে শুরু করে অসীম দূরত্বের দূর বিন্দুর মাঝখানে যে স্থানেই কোন বস্তু থাকুক না কেন সেটা স্পষ্ট দেখতে পারে। আর এটাই হচ্ছে চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি।।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪০৪.
নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ কোনগুলি?
  1. ক) গ্যাস, কয়লা, তেল
  2. খ) তেল,গ্যাস,পানি
  3. গ) বায়ু, পানি, সূর্যের আলো
  4. ঘ) বায়ু, গ্যাস, কয়লা
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার কোনাে আশঙ্কা নেই। তাকে নবায়নযোগ্য (Renewable Energy) শক্তি বলা হয়। যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বাতাস, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান।

২,৪০৫.
Which color of light has the minimum wavelength?
  1. Red
  2. Green
  3. Blue
  4. Violet
  5. Orange
ব্যাখ্যা
• বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

• দৃশ্যমান আলো (Visible light):

- তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির যে অংশ মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার (nm) পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলা হয়।

• তরঙ্গ দৈর্ঘ্য:
- লাল আলোর জন্য প্রায় ৭০০ (৬২০ - ৭৫০nm) ন্যানোমিটার।
- বেগুনি আলোর জন্য প্রায় ৪০০ (৩৮০ - ৪৫০nm) ন্যানোমিটার।
- এই দুটি সীমার মধ্যে অন্য বর্ণের আলোগুলো হলো নীল, সবুজ, হলুদ, এবং কমলা।

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত কম, তার প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। 
যেমন- বেগুনি আলো। 

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ খুব কম হয়। 
যেমন- লাল আলো। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে এর প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলো সবচেয়ে বেশি দুর হতে দেখা যায়। বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অধিক বলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় আমরা সূর্যকে লাল দেখি।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৬.
রংধনুতে কয়টি রং?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশ্লিষ্ট হয়।
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু। 
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোক রশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়, আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে। 
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। 
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
অর্থাৎ, প্রিজমে আলো প্রতিসরিত হয়। 
- প্রিজম যে দুটি তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক তল বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৭.
শব্দেতর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ক) ২০০০০ Hz এর চেয়ে কম
  2. খ) ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি
  3. গ) ২০ Hz - ২০০০০ Hz
  4. ঘ) ২০ Hz এর কম
ব্যাখ্যা

উৎসের কম্পাঙ্ক ২০ Hz - ২০০০০ Hz এর মধ্যে থাকলেই কেবল তা শুনতে পায় মানুষ। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
- যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি- তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- আর যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর চেয়ে কম-তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৪০৮.
নিচের কোনটি স্থায়ী চুম্বক?
  1. সেমিরিয়াম কোবাল্ট
  2. অ্যালনিকো
  3. নিউডাইমিয়াম আয়রন বোরন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে চৌম্বক পদার্থের মিশ্রণের বিভিন্নতার উপর ভিত্তি করে নিম্নে চার ধরনের স্থায়ী চুম্বক দেখানো হলো:

১। নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন:
নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন এ ধরনের স্থায়ী চুম্বক ল্যান্থানাইড শ্রেণিভুক্ত এবং শক্তিশালী প্রকৃতির।
এদেরকে সহজে বিচুম্বকায়ন করা যায় না।

২। সেমিরিয়াম কোবাল্ট:
এটিও এক প্রকার স্থায়ী চুম্বক।

৩। অ্যালনিকো: এটি অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল ও কোবাল্টের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি। এটি স্থায়ী চুম্বক হলেও
বিচুম্বকায়ন করা যায়। এটি বহুল ব্যবহৃত হয় তবে এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

৪। ফেরাইট:
এটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪০৯.
এক্স-রে হলো এক ধরনের- 
  1. কণিকা বিকিরণ
  2. তাপ বিকিরণ
  3. আলোক বিকিরণ
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন, তাই এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়।
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়।
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 
- এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। 
- অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১০.
What is an example of a magnetic material?
  1. Aluminum
  2. Copper
  3. Cobalt
  4. Silver
  5. Zinc
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪১১.
মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ৫ টি
  2. খ) ৭ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) অসংখ্য
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এগুলো হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪১২.
এক মাইক্রোফ্যারাড বলতে বুঝায় -
  1. এক ফ্যারাডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  2. এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  3. এক ফ্যারাডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ
  4. এক ফ্যারাডের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর ধারকত্ব: 
- কোনো বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহকের ধারকত্ব বলে। 
মনে করি, কোনো পরিবাহকের বিভব V পরিমাণ বৃদ্ধি করতে Q পরিমাণ আধান প্রয়োজন হয়। 
সুতরাং, পরিবাহকের ধারকত্ব, Q ∞ V 
বা, Q/V = ধ্রবক = ধারকত্ব 
∴ C = Q/V. 

একক: 
- এস. আই বা S.I পদ্ধতিতে ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
- উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যায় যে, V = 1 ভোল্ট (V) এবং Q = 1 কুলম্ব (C) হলে C = 1 ফ্যারাড (F) হয়। 

ফ্যারাডের সংজ্ঞা: 
- কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (IV) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্বকে এক ফ্যারাড (IF) বলে। 
∴ 1F= 1C/1V = 1 CV-1 
- এক ফ্যারাড (1F) বেশ বড় একক বিধায়, একে সচরাচর ব্যবহার করা হয় না মাইক্রোফ্যারাড (µF) কেই ধারাকত্বের একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রোফ্যারাড বলে। 
অর্থাৎ, 1µF = 10-6F. 
- মাইক্রোফ্যারাড ছাড়াও ন্যানোফ্যারাড (nF), পিকোফ্যারাড বা মাইক্রো মাইক্রোফ্যারাড (µµF) এককও ব্যবহার করা হয়। 
1nF = 10-9F এবং 1pF = 1µµF =10-12F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১৩.
নিচের কোনটি নির্ণয় করার জন্য একটি Transformer এর No-load টেস্ট করা হয়-
  1. Copper loss
  2. No-load current and no-load loss
  3. Efficiency of the transformer
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- Transformer এ সাধারণর no load test ও short circuit test করা হয়। 

- no load test এর মাধ্যমে No-load current and no-load loss নির্ণয় করা হয়। 

No load test
ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়:
রেটেড ভোল্টেজ ট্রান্সফরমারের প্রাথমিক উইন্ডিংয়ে প্রয়োগ করা হয়।

সেকেন্ডারি উইন্ডিং ওপেন: সেকেন্ডারি উইন্ডিং ওপেন-সার্কিটেড থাকে, মানে এর সাথে কোনো লোড সংযুক্ত থাকে না।

পরিমাপ:
নো-লোড কারেন্ট  পরিমাপ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কোর চুম্বকীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় কারেন্ট এবং নো লোড লস। 

- অন্যদিকে, short circuit test করা হয় Copper loss নির্ণয়ের জন্য। 
২,৪১৪.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ-
  1. ক) এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. খ) এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. গ) এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. ঘ) এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা
সহজলভ্য ধাতুর মধ্যে অন্যান্য ধাতব পদার্থের তুলনায় এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবহন ক্ষমতা বেশি বলে এলুমিনিয়ামের তৈরী হাড়ি পাতিল খাদ্যদ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে পারে এবং তাপ শক্তির কম অপচয় হয়।
২,৪১৫.
ডিজিটাল টেলিফোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ডিজিটাল সিগনালে বার্তা প্রেরণ
  2. বোতাম টিপিয়া ডায়াল করা
  3. অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার
  4. নতুন ধরনের মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা
- টেলিফোনে প্রধানত দুটো প্রধান অংশ থাকে। 
যথা- গ্রাহক যন্ত্র ও প্রেরক যন্ত্র। 
- টেলিফোনে সংবাদ আধানে দুটি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। 
যথা- এনালগ ও ডিজিটাল। 
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দকে সরাসরি তড়িতে পরিণত করে প্রেরণ করা হয়। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে তড়িৎশক্তিকে ডিজিটাল সংবাদে রূপান্তর করে বার্তা প্রেরণ করে
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দ আদান-প্রদানে অসুবিধা হয় কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে শব্দ আদান প্রদানে সুবিধা হয়। 
- বর্তমানে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা বহুলভাবে প্রচলিত। এটির সুবিধা হল কম্পিউটার ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১৬.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ কীভাবে পরিবর্তিত হবে? 
  1. অর্ধেক হবে 
  2. দ্বিগুণ হবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. চারগুণ হবে 
ব্যাখ্যা

- পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ দ্বিগুণ হারে পরিবর্তিত হবে। 

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪১৭.
আলো যখন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করে বা প্রতিফলিত হয়, তখন কোন ঘটনা ঘটে?
  1. প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন
  2. বিচ্ছুরণ, সমবর্তন
  3. উভয়ই (ক ও খ)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

•  আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।

• আলো:
• কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব মাধ্যমে আলো সরলপথে চলে।
• কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়া আলো একটি নির্দিষ্ট বেগে চলে।
• শূন্যস্থানে এই বেগের মান c = ৩ × ১০ m/s
• সূর্য থেকে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট সময় লাগে।
•  আলো এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
• আলোর একমাত্র উপাদান হলো ফোটন, বা কণা ধর্মের প্রকাশ করে।
• আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।
• আলো কখনো তরঙ্গের ন্যায় আবার কখনো কণার মতো আচরণ করে।
• ১ আলোকবর্ষ ৯.৪৬১ × ১০১২ কি.মি= ৫.৮৭৯ ×  ১০১২ মাইল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪১৮.
সহসা দরজা খুলতে চাইলে দরজার কোথায় বল প্রয়োগ করা উচিত?
  1. ক) কব্জার বিপরীত প্রান্তে
  2. খ) মাঝখানে
  3. গ) কব্জার কাছে
  4. ঘ) উপরের প্রান্তে
ব্যাখ্যা
কব্জার কাছে বল প্রয়োগ করার চেয়ে কব্জার বিপরীত প্রান্তে বল প্রয়োগ করলে সহজে দরজা খুলে যায়। 
কারণ বিপরীত প্রান্তে অল্প বল প্রয়োগ করলে দরজা খুলে যাবে।
২,৪১৯.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধসীমা -
  1. ক) 1,000 Hz
  2. খ) 10,000 Hz
  3. গ) 1,00,000 Hz
  4. ঘ) 10,00,000 Hz
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,৪২০.
শীতকালে কোন রঙেয়ের কাপড় আরামদায়ক?
  1. ক) সাদা
  2. খ) সবুজ
  3. গ) কাল
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা

কালো রং অন্য সকল রংকে শোষণ করতে পারে বলে শীতকালে কালো রঙের কাপড় পরা আরামদায়ক।
অন্যদিকে, সাদা রং অন্য সকল রংকে প্রতিফলিত করে দেয় বলে গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের কাপড় পরা আরামদায়ক।

২,৪২১.
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের শক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে?
  1. আলোক শক্তি
  2. স্থিতি শক্তি
  3. গতি শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

• জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা, স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়।

• জলবিদ্যুৎ:

- পানির স্রোতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- পানির স্রোত এবং জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
- পানির স্রোতে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি বিদ্যমান, যা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের একটি উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
- এই প্রকল্পে বিভব শক্তি এবং স্থিতি শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়, যা যান্ত্রিক শক্তি তৈরি করে।
- এই যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২২.
বিটা রশ্মির আধানের পরিমাণ কত?
  1. - ১.৬ × ১০- ২১ কুলম্ব
  2. - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব
  3. - ৯.৮ × ১০-২৩ কুলম্ব
  4. - ৬.০২ × ১০-১৯ কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• বিটা (β) রশ্মি:
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- বিটা রশ্মি হচ্ছে অতি উচ্চ দ্রুতি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনের প্রবাহ।
- বিটা কণার দ্রুতি আলোর দ্রুতির প্রায় সমান। (শতকরা ৯৮ ভাগ)।
- এটি ঋণাত্বক চার্জযুক্ত। এর আধান - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা আলফা কণা অপেক্ষা বেশী।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান। ৯.১×১০-৩১ কেজি।

উতস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৩.
অর্ধপরিবাহী পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে রোধ কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. হ্রাস পায় 
  2. বৃদ্ধি পায় 
  3. এলোমেলোভাবে পরিবর্তিত হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২৪.
নিচের কোনটি একটি বামন গ্রহ?
  1. সেরেস
  2. আলফ সেন্টুরি
  3. প্লুটো
  4. বুধ
ব্যাখ্যা

১৯৩০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইভ টমবার্গ যখন প্লুটোকে খুঁজে বের করেন তখন একে সৌরজগতের একটি গ্রহের মর্যাদা দেওয়া হলেও ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের সংজ্ঞানুসারে প্লুটোকে বামন গ্রহ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্লুটো ছাড়াও সৌতজগতে এরিস, ম্যাকিম্যাকি ও সিরেস নামে আরো কয়েকটি বামনগ্রহ রয়েছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৪২৫.
মৌলিক বল নয় কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. ঘর্ষণ বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
বলের বিভিন্নতা সত্ত্বেও সকল প্রকার বলকে মাত্র চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই চার প্রকার বলকে মৌলিক বল বলে।
“যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে”।

মৌলিক বলগুলো হল :
১. মহাকর্ষ বল
২. তাড়িতচৌম্বক বল 
৩. সবল নিউক্লিয় বল 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪২৬.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বলে ________। 
  1. ক) বিস্তার 
  2. খ) দশা 
  3. গ) কম্পাঙ্ক 
  4. ঘ) প্রতিধ্বনি 
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 
২,৪২৭.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1. g
  2. L
  3. T
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে 'T' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• সেকেন্ড দোলক:

- একটি সরল দোলক, যার পূর্ণ দোলনকাল দুই সেকেন্ড। অর্থাৎ, এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এবং আবার ফিরে আসতে মোট দুই সেকেন্ড সময় নেয়, তাকে সেকেন্ড দোলক বলা হয়।
- সেকেন্ড দোলক প্রতি ১ সেকেন্ডে একটি অর্ধদোলন সম্পন্ন করে।

• সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য:
- সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, T = 2s

আমরা জানি,
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g)
∴ সেকেন্ড দোলকের জন্য, 2s = 2π √(L/g)
⇒ L = gs22

∴ দেখা যায় যে, সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২,৪২৮.
'তাপ ইঞ্জিন একটি যন্ত্র' যা রূপান্তর করে- 
  1. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে
  4. যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৯.
ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হল-
  1. hλ/c
  2. hc/λ
  3. cλ/h
  4. chλ
ব্যাখ্যা
◉ ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হলো- E = hc/λ

ফোটন কণা:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ, আলো তড়িৎ ক্রিয়া, কম্পটন ক্রিয়াগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিকিরণ শক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেটের গুচ্ছ প্রবাহ আকারে বিবেচনা করা হয়। এই শক্তিকে আলোর কোয়ান্টা (quanta) বা ফোটন (photon) বলে।

• প্রতিটি ফোটনের শক্তি মান E = hf, যেখানে কম্পাংক, f = c/λ.
বা, E = hf
বা, E = h × c/λ
∴ E = hc/λ

এখানে, λ হলো বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩০.
নিচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর?
  1. তামা
  2. সিলিকন
  3. রূপা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• সিলিকন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর, কারণ এটি সহজলভ্য, স্থিতিশীল এবং তাপমাত্রা ও অমিশ্রণের মাধ্যমে এর তড়িৎ পরিবাহিতা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

• সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):

- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, সেগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থ বলা হয়।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির ভিত্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর।
- সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা তাপমাত্রা, আলো ও অমিশ্রণ (Impurity) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সাধারণ তাপমাত্রায় সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা কম থাকে, কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর হলো সিলিকন (Silicon)।
- সিলিকন পরমাণুর বহিঃকক্ষে চারটি ইলেকট্রন থাকে।
- বিশুদ্ধ সিলিকনে প্রতিটি পরমাণু চারটি প্রতিবেশী পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে।
- বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা খুব কম থাকায় তড়িৎ পরিবাহিতা সীমিত হয়।
- সেমিকন্ডাক্টরে উপযুক্ত অমিশ্রণ যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ট্রানজিস্টর, ডায়োড ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৪৩১.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়ু
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। যেমন- ইস্পাত, লোহা।
- তরল পদার্থে শব্দের বেগ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।

উল্লেখ্য,
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে কোনো মাধ্যম নেই, তাই শব্দ সেখানে চলাচল করতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৩২.
সর্বপ্রথম তড়িৎ চুম্বকের ধারণা দেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. ওয়েবার
  3. গিলবার্ট
  4. কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়া:
- আধুনিক বিজ্ঞান জগতে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে।
- ফ্যান, মোটর, ইত্যাদি ঘূর্ণায়মান সকল যন্ত্রই তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাবে কাজ করে।
- তড়িৎ প্রবাহ চারিদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে।
- এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনার আবিষ্কারক কোপেনহেগেনের অধ্যাপক বিজ্ঞানী হেন্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড (1820)।
- ওয়েরস্টডের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁর নাম অনুসারে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক ওয়েরস্টেড (Oersted) করা হয়েছিল।
- তড়িৎ প্রবাহ যেহেতু গতিশীল তড়িৎ আধান, অতএব তড়িৎ আধান গতিশীল হলেই চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
- আধান স্থির থাকলে একে ঘিরে যে তড়িৎ ক্ষেত্র বর্তমান থাকে, আধান গতিশীল হলে তা দূরীভূত হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৩.
নিচের কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. এক্সরে
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (আলফা, বিটা ও গামা) নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নিউক্লীয় ও স্বাভাবিক ঘটনা। 
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি তারাই মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
- যেমন: ইউরোনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি।
- ভরের বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে (বেশি হতে কম) আলফা রশ্মি > বিটা রশ্মি > গামা রশ্মি।
- ভেদন ক্ষমতার বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে: গামা রশ্মি > বিটা রশ্মি> আলফা রশ্মি।

উল্লেখ্য, 
- 1896 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল (Henry Becquerel) সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য দুটি একক রয়েছে, যথা- 
(১) কুরী (Curie) এবং (২) বেকেরেল (Becquerel)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৪৩৪.
কোমল এক্স-রে (Soft X-ray)-এর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. উচ্চ বিভব প্রয়োগে উৎপন্ন
  2.  তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, ভেদন ক্ষমতা বেশি
  3. তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, ভেদন ক্ষমতা কম
  4. শুধুমাত্র ধাতব পদার্থ অতিক্রম করতে পারে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-Rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় আকস্মিকভাবে এক্স-রে (X-Rays) আবিষ্কার করেন। 
- তিনি 10-3 mmHg চাপে একটি ক্ষরণ নল (Crookes tube) ব্যবহার করছিলেন। পরীক্ষার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে নলের কাছে রাখা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড আবৃত পাতের ওপর একটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- আরও বিশদ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ক্যাথোড রশ্মি যেখানে আপতিত হয়, সেখান থেকে সবুজাভ-হলুদ আলো বিকিরিত হওয়ার পাশাপাশি এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে। যেহেতু সে সময় এই রশ্মির প্রকৃতি জানা ছিল না, তাই প্রফেসর রঞ্জন একে "X-Rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হন যে, উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- কোমল এক্সরে (Soft X-ray) এবং কঠিন এক্সরে (Hard X-ray)। 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৫.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. ফসফরাস-32
  3. কার্বন-14 
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-32 (P-32) ব্যবহার করে উদ্ভিদের মূল থেকে বিভিন্ন অংশে খাদ্যবস্তু পৌঁছানোর কৌশল এবং উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৬.
একটি ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল কত?
  1. ১২ ঘন্টা
  2. ২৪ ঘন্টা
  3. ০ ঘন্টা
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল ২৪ ঘন্টা। অর্থাৎ ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল পৃথিবীর আবর্তনকালের সমান। পৃথিবীর আবর্তনকাল ও ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল সমান হওয়ায় পৃথিবীর একজন পর্যবেক্ষকের নিকট একে সব সময়ই স্থির মনে হবে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৪৩৭.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক (frequency) প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কী?
  1. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার বন্ধ হয়
  2. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
  3. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
  4. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার উঠানামা করে
ব্যাখ্যা
• যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)। বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না।
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা-

(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ:
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়।
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ:
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ।
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী।
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো।
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়।
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়।
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৩৮.
কোন অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g‘ এর মান সর্বোচ্চ?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
g-এর মান কোনো ধ্রব রাশি নয়। বস্তু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব পরিবর্তনের সাথে সাথে g-এর মান পরিবর্তন হয়।
পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণেও পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে বস্তুর উপর g-এর মানের পরিবর্তন ঘটে। বিষুব রেখা বরাবর
g-এর মান সর্বনিম্ন এবং মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ। পরীক্ষা করে দেখা যায় বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় ৯.৭৮ মি/সে
এবং মেরু এলাকায়, ৯.৮৩ মি/সে

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪৩৯.
রংধনু কোন দিকে দেখা যায়? 
  1. মেঘের দিকে 
  2. সূর্যের দিকে 
  3. সূর্যের বিপরীত আকাশে 
  4. সরাসরি মাথার উপরে 
ব্যাখ্যা

রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয় যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারেনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখে। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ ওঠে তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 
- রংধনু সব সময়ই সূর্যের বিপরীত আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৪০.
একটি কাগজের পৃষ্ঠা দিয়েই কোন রশ্মির গতি রোধ করা সম্ভব?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি মূলত একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
এটি পজিটিভ চার্জযুক্ত।
আলফা রশ্মি খুব বেশি আয়নিত করে শক্তি ক্ষয় করতে পারে বলে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে এটাকে থামানো সম্ভব।

অন্যদিকে
- বিটা রশ্মিকে থামাতে কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম ও
- গামা রশ্মির চার্জ না থাকাতে এটিকে থামাতে পুরু সিসার পাতের দরকার হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।
২,৪৪১.
ট্রান্সফরমার মূলত কিসের উপর নির্ভর করে কাজ করে?
  1. ধাতু
  2. বায়ু মাধ্যম
  3. কয়েলের পাক
  4. আইসি (IC)
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার (Transformer) হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা একটি এসি (AC) ভোল্টেজকে অন্য একটি এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয় যাতে ভোল্টেজের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে । এটি দুইটি কুণ্ডলী (Primary ও Secondary Coil) এবং একটি লোহানির্মিত কোর নিয়ে তৈরি
-   এটি মূলত তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির উপর কাজ করে এবং এর কার্যক্ষমতা নির্ভর করে কয়েলের পাক সংখ্যা (Number of turns) এর উপর।
-   একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল তড়িৎপ্রবাহ থাকলে, অন্য কুণ্ডলীতে আবেশিত ভোল্টেজ তৈরি হয়।

Vs / Vp = Ns / Np

যেখানে:
Vp​ = প্রাইমারি ভোল্টেজ
Vs​ = সেকেন্ডারি ভোল্টেজ
Np​ = প্রাইমারি কয়েলের পাক
Ns​ = সেকেন্ডারি কয়েলের পাক
এই সূত্রের মাধ্যমে বোঝা যায়, ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ রূপান্তর সরাসরি কয়েলের পাক সংখ্যার অনুপাতের উপর নির্ভরশীল। 

অন্যদিকে, 
-  ট্রান্সফরমারে ধাতু থাকে কোর হিসেবে, তবে ধাতুর উপর কাজ নির্ভর করে না ।
-  ট্রান্সফরমার বায়ুমাদ্ধমের উপর নির্ভর করে নয়া।
-  ট্রান্সফরমারে আইসি থাকে না, এটি এনালগ যন্ত্র। 

তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  Britannica.
২,৪৪২.
ট্রানজিস্টর জনপ্রিয় হওয়ার একটি প্রধান কারণ কী? 
  1. এটি ব্যাটারিতে চলে
  2. এটি শুধু কম্পিউটারেই ব্যবহার হয়
  3. এটি কেবল সেন্সর হিসেবে কাজ করে
  4. এটি অল্প খরচে তৈরি করা যায়
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, ওজন খুবই কম। 
- এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। 
- এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিয়েছে এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি করা নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি হাতের নাগালে পাওয়ার ফলে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৪৩.
RFID এর পূর্ণরূপ-
  1. Random Frequency Information
  2. Radio Frequency Information
  3. Radio Frequency Identification
  4. Random Frequency Identification
ব্যাখ্যা
• Radio Frequency Identification (RFID):
- RFID এর পূর্ণরূপ Radio Frequency Identification.
- রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা RFID একটি বেতার যোগাযোগ পদ্ধতি।
- এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তু, মানুষ বা প্রাণীর সাথে যুক্ত ট্যাগ শনাক্ত ও ট্র্যাক করে।
- এই ট্যাগগুলিকে RFID ট্যাগ বলা হয়।
- RFID ট্যাগে ডিজিটালি সংরক্ষিত তথ্য থাকে, যা RFID রিডার দ্বারা পড়া যায়।
- বারকোড রিডারের মতো সরাসরি দৃষ্টিসীমায় না থাকলেও RFID রিডার কয়েক মিটার দূর থেকে ট্যাগ পড়তে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৪৪.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার না থাকলেও দৃঢ়তা এবং আয়তন আছে
  2. খ) তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা না থাকলেও আয়তন আছে
  3. গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা থাকলেও আয়তন নেই
  4. ঘ) তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার না থাকলেও দৃঢ়তা এবং আয়তন আছে
ব্যাখ্যা
অবস্থাভেদে পদার্থ তিন প্রকার হয়৷ যথা- কঠিন, তরল ও বায়বীয়৷
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও দৃঢ়তা আছে৷
তরল পদার্থে নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার এবং দৃঢ়তা নেই৷
গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন এবং দৃঢ়তা কোনোটিই নেই।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
২,৪৪৫.
দুর্বল নিউক্লীয় বলের কারণে কোন ধরনের কণা বা রশ্মির নির্গমন ঘটে? 
  1. ফোটন কণা 
  2. আলফা (α) রশ্মি 
  3. গামা (γ) রশ্মি 
  4. বিটা (β) রশ্মি 
ব্যাখ্যা

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোনো দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই বলটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-18 m) কাজ করে। 
- তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে যে বিটা (β) রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় সেটার কারণ এই দুর্বল নিউক্লীয় বল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৪৬.
নিউটন/বর্গমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. শক্তি
  2. চাপ
  3. ভরবেগ
  4. বল
ব্যাখ্যা

• নিউটন প্রতি বর্গমিটার (N/m2) হলো চাপের একক। চাপ হলো কোনো পৃষ্ঠের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে লেগে থাকা বলের পরিমাণ। অর্থাৎ, যদি একটি পৃষ্ঠে কোনো বল প্রয়োগ করা হয়, সেই বল যতটা বেশি এবং পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল যত ছোট, চাপ তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটি বড় বই টেবিলের ওপর রাখেন, চাপ কম থাকে, কিন্তু যদি সেই বইয়ের কোণ দিয়ে রাখেন, চাপ অনেক বেশি হয়। সুতরাং, N/m2 বা প্যাসকেল (Pa) মূলত চাপের পরিমাপের একক, বল, শক্তি বা ভরবেগের জন্য ব্যবহার করা হয় না। সঠিক উত্তর হলো খ) চাপ।
 
• চাপ (Pressure):
- চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের প্রতি প্রয়োগ করা বলের পরিমাণ।  
- এটি বলের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়া বা বাহ্যিক প্রভাবকে বোঝায় যা কোনো পৃষ্ঠের উপর লেগে থাকে।  
- SI এককে চাপকে নিউটন/বর্গমিটার (N/m2) বা প্যাসকেল (Pa) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।  
- চাপ গণনার সূত্র: P = F / A, যেখানে F = বল, A = ক্ষেত্রফল।  
- উদাহরণ: বাতাসের চাপ, জলস্তরের চাপ, হাইড্রোলিক সিস্টেমের চাপ ইত্যাদি।  

- অপশন আলোচনা: 
- নিউটন (N) হলো বলের একক, শক্তি নয়।  
- শক্তি (Energy) জুল (J) দ্বারা পরিমাপ করা হয়, N/m2 দ্বারা নয়।  
- ভরবেগ (Momentum) কেজি·মিটার/সেকেন্ড (kg·m/s) দ্বারা পরিমাপ হয়।  
- তাই N/m2 শুধু চাপের জন্য প্রযোজ্য।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

২,৪৪৭.
একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি টুলকে একই ত্বরণে সরাতে গেলে দেখা গেল ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হচ্ছে। এই ঘটনার ব্যাখ্যা কোন সূত্রের সাহায্যে করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. মহাকর্ষ সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র — একই ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর বেশি হলে বেশি বল প্রয়োজন হয়; তাই এ ঘটনাটি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

 
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- কোনো বস্তুর উপর প্রয়োগকৃত বল তার ভর ও ত্বরণের গুণফলের সমান।
- গাণিতিকভাবে, F = ma.
- নির্দিষ্ট ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর যত বেশি হবে, প্রয়োজনীয় বলও তত বেশি হবে।
 
• ঘটনার বিশ্লেষণ:
- ড্রেসিং টেবিলের ভর টুলের তুলনায় বেশি।
- একই ত্বরণে সরাতে হলে ড্রেসিং টেবিলের জন্য বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়।
- তাই ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- নিউটনের প্রথম সূত্র: বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তু স্থির বা সমবেগে চলমান থাকে।
- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
- মহাকর্ষ সূত্র: দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল নির্ণয়ের সূত্র।
 
উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

২,৪৪৮.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) বিজ্ঞানী মার্কনী
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৯.
নবায়নযোগ্য শক্তির একটি বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. এটি মজুদ করা যায় না
  2. এটি পরিবেশবান্ধব
  3. এটি কেবল খনিজ থেকে পাওয়া যায়
  4. এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

অন্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: 
ক) নবায়নযোগ্য শক্তি অনেক সময় মজুদ করা যায় (যথাযথ- প্রযুক্তির মাধ্যমে)। 
গ) এটি খনিজ নয়, প্রাকৃতিক উৎস (যেমন- সূর্য, বায়ু) থেকে আসে। 
ঘ) এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫০.
নিচের কোনটির একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন?
  1. ভরবেগের পরিবর্তনের হার
  2. ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল
  3. ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
  4. ঘনত্ব × আয়তন × বেগ
ব্যাখ্যা
• ভরবেগের পরিবর্তনের হার:
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার = কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমান
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার ও বলের একক একই হবে।
- ভরবেগের পরিবর্তনের হারের একক নিউটন (N).

• ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল:
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর দৈর্ঘ্য পীড়ন ও দৈর্ঘ্য বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা । এই ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের বা ইয়ং গুণাঙ্ক বলে। 
- ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংকের একক Nm−2
- ক্ষেত্রফলের একক m2
-  ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফলের একক = Nm−2 × m= N (নিউটন)।

• ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ = প্রযুক্ত বল যেহেতু, F = mg.
- বলের এককই ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক।
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক N (নিউটন)।

• ঘনত্ব × আয়তন × বেগ:
- ঘনত্বের একক kgm−3
- আয়তনের একক m3
- বেগের একক ms−1
- ঘনত্ব × আয়তন × বেগের একক = kgms−1

• সুতরাং, ঘনত্ব × আয়তন × বেগ - এর একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান - ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন , মুহম্মদ আজিজ হাসান , ড. রানা চৌধুরী।
২,৪৫১.
বিবর্তনবিদ্যার আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. ক) প্রাণের বিকাশ
  2. খ) জীবের বিবর্তন
  3. গ) কালের বিবর্তন
  4. ঘ) জীবের ক্রমবিকাশ
ব্যাখ্যা
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবংক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলােচনা এ শাখার বিষয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৪৫২.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে - 
  1. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  2. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  3. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৫৩.
কোনটি অকেলাসিত পদার্থ? 
  1. মাইকা
  2. তামা
  3. কাচ
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫৪.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. ক) এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. খ) এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. গ) অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. ঘ) প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে। যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। এজন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
২,৪৫৫.
নিচের কোনটি রেক্টিফায়ার হিসাবে কাজ করে?
  1. ক) p-n junction
  2. খ) p-n-p junction
  3. গ) n-p-n junction
  4. ঘ) AND gate
ব্যাখ্যা
- রেক্টিফায়ার এর কাজ হলো  AC কে DC তে পরিবর্তন করা ।

- রেক্টিফায়ার এর অপর নাম হলো ডায়োড / p-n junction 

- p-n-p junction এবং n-p-n junction হলো ট্রানজিস্টর যার কাজ হলো দুর্বল সংকেত কে শক্তিশালী সংকেত এ রুপান্তরিত করা ।

- AND gate  এর কাজ হলো বাইনারি গুণের কাজ করা ।

উৎস: একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
২,৪৫৬.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণ করা যায়?
  1. ক্রনোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. অ্যাটমোমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা
ক্রনোমিটার (Chronometer):
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।
- শ্রাব্যতা মাপার যন্ত্র মাপার যন্ত্র অডিওমিটার।
- বায়ুচাপ বলোমিটার(bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ মাপার যন্ত্র ক্যালোরিমিটার।
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপার যন্ত্র ল্যাক্টোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- ধাবমান বস্তুর গতি/বেগ মাপার যন্ত্র স্পিডোমিটার।
- রক্ত চাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগোমোম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
২,৪৫৭.
প্রিজমে পতিত আলো সাধারণত-
  1. ক) প্রতিফলিত হয়
  2. খ) বিকরিত হয় না
  3. গ) বিকরিত হয়
  4. ঘ) প্রতিসরিত হয়
ব্যাখ্যা

সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশ্লিষ্ট হয়। প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে।
বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়।
কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। অর্থাৎ, প্রিজমে আলো প্রতিসরিত হয়।
প্রিজম যে দুটি তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক তল বলে। 
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৪৫৮.
কোনটির মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয় না?
  1. ক) পোলোনিয়াম
  2. খ) টাইটেনিয়াম
  3. গ) প্লোটোনিয়াম
  4. ঘ) কার্বন - ১৪
ব্যাখ্যা
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪, পোলোনিয়াম-৮৪ ইত্যাদি।

কার্বন মৌলের ৬ টি প্রােটন ও তিনটি আইসােটোপ রয়েছে- কার্বন-১২, কার্বন-১৩ ও কার্বন-১৪।
এই তিনটির মধ্যে কার্বন-১৪ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। এতে ৬টি প্রােটন ও ৮টি নিউট্রন রয়েছে।
কার্বন-১৪ (14) ব্যবহৃত হয় মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসাব করতে।
টাইটেনিয়ামে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয় না।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই এবং নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বই (উন্মুক্ত)
২,৪৫৯.
কোনটি এক্সরের ধর্ম নয়?
  1. আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
  2. এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে না।
  3. এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
  4. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
ব্যাখ্যা
• এক্স-রে :
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।

• এক্স-রে এর ধর্ম:
১. এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২. এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩. এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪. এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫. এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬. আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭. এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮. এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০. এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১. এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২. এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩. এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬০.
জেনারেটরে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়?
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. স্থায়ী চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক
  4. সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা

• জেনারেটরে সাধারণত স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় না। জেনারেটরে মূলত চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বক বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়। ইলেক্ট্রোম্যাগনেট তৈরি হয় লোহা বা লৌহকাঠের সলিড কোরের চারপাশে কয়েল ওয়্যার ঘোরানোর মাধ্যমে, যেখানে বৈদ্যুতিক ধারা প্রবাহিত করলে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়। এটি শক্তিশালী এবং নিয়ন্ত্রিত চৌম্বক ক্ষেত্র প্রদান করতে সক্ষম, যা ঘূর্ণমান রটার বা কুণ্ডলীর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। তাই, জেনারেটরে সাধারণভাবে অস্থায়ী চুম্বক (ইলেক্ট্রোম্যাগনেট) ব্যবহার করা হয়, যা চাহিদা অনুযায়ী চালু-বন্দ করতে বা চুম্বকীয় শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধাজনক।

- সঠিক উত্তর: ক) অস্থায়ী চুম্বক।

কৃত্রিম চুম্বক: কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক।
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৬১.
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র কী নামে পরিচিত?
  1. জড়তার সূত্র
  2. ত্বরণের সূত্র
  3. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র
  4. মহাকর্ষের সূত্র
ব্যাখ্যা

◉ নিউটনের প্রথম সূত্র:
“কোনো বস্তুর উপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ না হলে, স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতি সম্পন্ন বস্তু একই বেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।”
এই সূত্রকে “জড়তার সূত্র (Law of Inertia)” বলা হয়।

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 

সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বলের সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬২.
ক্ষমতার এস.আই একক কোনটি?
  1. জুল
  2. নিউটন
  3. ওয়াট
  4. কিলোওয়াট
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতা হলো কাজ করার হার বা শক্তি স্থানান্তরের হার। আন্তর্জাতিক একক ব্যবস্থায় (S.I) ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট (W), যা প্রতি সেকেন্ডে এক জুলের (J) সমান (1 W = 1 J/s)

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
• ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, ক্ষমতা = (বল × সরণ)/সময় 
বা, ক্ষমতা = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 হর্স পাওয়ার (H.P) = 746 ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে ML2T -3

অন্যদিকে, 
- জুল (Joule) কাজ বা শক্তির এস.আই একক। 
- নিউটন (Newton) বলের এস.আই একক। 
- কিলোওয়াট (Kilowatt) ক্ষমতার একটি একক, তবে এটি ওয়াটের চেয়ে বড় একটি প্রায়োগিক একক (১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৩.
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কী?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অ্যালটিমিটার
  4. হাইড্রোমিটার
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্র:
- স্থলভাগের প্রকৃতি যেমন বন্ধুর সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপও তেমন বন্ধুর প্রকৃতির।
- শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার।

উল্লেখ্য,
- উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র-  অ্যালটিমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম - সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - রিখটার স্কেল।
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার
- রক্তের চাপ মাপক যন্ত্র - স্ফিগমেমোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম - ক্যালরিমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৬৪.
CNG- শব্দ-সংক্ষেপের পূর্নরূপ-
  1. ক) Compressed Natural Gas
  2. খ) Carbonated Nitrogen Gas
  3. গ) Complete Natural Gas
  4. ঘ) None of above
ব্যাখ্যা
CNG - Compressed Natural Gas
২,৪৬৫.
0° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 330m/s
  2. খ) 340m/s
  3. গ) 335m/s
  4. ঘ) 0m/s
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ: 
- শব্দ প্রতি একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে।

বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ উৎপন্ন হয় কম্পনের ফলে।
- শব্দ একধরনের শক্তি যা আমাদের কানে শ্রবণের অনুভূতি জোগায়।
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না। চাঁদে বায়ু না থাকায় চাঁদে কথা বললে শোনা যায় না।
- দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়।
- ০° তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে। মাধ্যমের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। যেমন: পানিতে শব্দের বেগ ১৮৯৩ মি/সে এবং লোহায় ৫১৩০ মি/সে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই।
২,৪৬৬.
​ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ কোনটি? 
  1. রূপা 
  2. পানি 
  3. লোহা 
  4. অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে।
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে।
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না।

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না।
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়।
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে।
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না।

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে, কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না।
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৭.
আলোর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে কত কিলোমিটার?
  1. ক) ২ লক্ষ কিলোমিটার
  2. খ) ৩ লক্ষ কিলোমিটার
  3. গ) ৪ লক্ষ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৮ লক্ষ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

আলো এক প্রকার শক্তি, যা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে।
SI এককের সংজ্ঞা অনুসারে আলোর দ্রুতি প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার ।
উৎস: নবম অধ্যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই

২,৪৬৮.
শব্দের তীব্রতা এবং তরঙ্গের বিস্তার কিভাবে সম্পর্কিত?
  1. তীব্রতা বিস্তারের বিপরীত
  2. তীব্রতা সরাসরি এক ধরনের বিস্তার
  3. তীব্রতা বিস্তারের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৬৯.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) এক্স রশ্মি
  2. খ) গামা রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) বেকেরেল রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্স রে
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- রঞ্জনরশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩x১০১৬ থেকে ৩x১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়।

এক্স রে এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি ব্যবহৃত হয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭০.
E = mc2 কে কোন সমীকরণ বলা হয়?
  1. তাপগতিবিদ্যার সমীকরণ 
  2. কৃষ্ণ বস্তুর সমীকরণ 
  3. ভর-শক্তির সমীকরণ 
  4. ভর-বেগের সমীকরণ
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass Energy Relation): 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। 
- এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
- অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়।

ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- E = mcকে ভর-শক্তির সমীকরণ বলা হয়।
- এটিই আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লীয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
- অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজাগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭১.
কোন বৈশিষ্ট্য এক্সরে-কে অন্য রশ্মি থেকে আলাদা করে? 
  1. এটি আলোর সমবেগে যায় না 
  2. এটি দৃশ্যমান 
  3. এটি আলোর মতো প্রতিসরণ করে না 
  4. এটি তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ধর্ম (Properties of X-ray): 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এক্সরে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭২.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফাইবার অপটিক্স কিসের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ করে?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. আলোক সংকেত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়, যা পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে।

• ফাইবার অপটিক্স এর কাজের প্রক্রিয়া:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে (light signal) রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
২,৪৭৩.
১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সমান কত ডিগ্রি ফারেনহাইট?
  1. ৩২.৬
  2. ৩২.৪
  3. ৩২.৮
  4. ৩৩.৮
ব্যাখ্যা
• ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস = ৩৩.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
- C/5 = (F-32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]।
এখানে,
1/5 = (F-32)/9
∴ F = 33.8 

উল্লেখ্য,
- -40 ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৭৪.
অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে কী বলা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. FET
  3. রেকটিফায়ার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার 
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: অর্ধপরিবাহী ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক উপাদান যা কেবলমাত্র একদিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহকে বাধা দেয়।
- এই একমুখী প্রবাহের ধর্মের কারণে ডায়োড AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) তে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়। তাই, অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে রেকটিফায়ার বলা হয়।

ডায়োড সাধারণত দুটি স্তরবিশিষ্ট অর্ধপরিবাহী দ্বারা তৈরি হয়:
- P-type (ধনাত্মক স্তর)
- N-type (ঋণাত্মক স্তর)
- সংযুক্ত অবস্থায় এটি PN জংশন তৈরি করে, যা রেকটিফায়ার ক্রিয়ার জন্য দায়ী।

ট্রানজিস্টর: তিন স্তরের (PNP বা NPN) যন্ত্র, যা প্রবাহ বৃদ্ধি (amplification) বা সুইচিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
FET (Field Effect Transistor): এটি একটি বিশেষ ধরণের ট্রানজিস্টর, সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
অ্যামপ্লিফায়ার: এটি সিগন্যাল বৃদ্ধি করে, কিন্তু ডায়োড নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

২,৪৭৫.
কোন পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়?
  1. কঠিন পদার্থ
  2. তরল পদার্থ
  3. গ্যাসীয় পদার্থ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সর্বাধিক থাকে। 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন অবস্থায় অণুর স্থানান্তর ও আবর্তন গতি প্রায় থাকে না; তবে অণুসমূহের কম্পন গতি থাকে। 
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়লে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কিছুটা বাড়ে ও অণুর কম্পন বাড়ে; সেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কঠিন পদার্থের আয়তন কিছুটা বাড়ে, তবে এ বৃদ্ধি খুবই কম। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ ও অণুর স্থানান্তর গতি প্রায় সমান থাকে। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- কিন্তু যেহেতু তরল অবস্থাতেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে থাকে; সেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ালে অণুসমূহের স্থানান্তর, আবর্তন ও কম্পন গতি বৃদ্ধি পায়, তাই তরল পদার্থের আয়তনও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে। 
- কিন্তু এক্ষেত্রেও আয়তন বৃদ্ধি খুব বেশি নয়; কেননা, তিন প্রকার গতি বৃদ্ধি পেলেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে অবস্থান করে। 
- তবে তরল পদার্থের অণুসমূহ কঠিন পদার্থের তুলনায় কম সুশৃঙ্খল থাকে। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে। 
- তাই গ্যাসীয় অবস্থায় অণুসমূহ সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। 
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে। 
- তখন অণুসমূহ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 
- তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই। 
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৪৭৬.
একটি ক্যাপাসিটরের মূল কাজ কী?
  1. বিদ্যুৎ প্রবাহকে বাধা দেওয়া
  2. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  3. বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করা
  4. বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা

◉ ধারক (Capacitor) হলো একটি ইলেকট্রনিক উপাদান, যা বৈদ্যুতিক চার্জ (Electric Charge) সংরক্ষণ করতে পারে।

ধারক (Capacitor):
- যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- এটি দুটি পরিবাহী প্লেটের মধ্যে একটি ডাই-ইলেকট্রিক (Non-conductive insulating material) পদার্থ দ্বারা গঠিত হয়।
- যখন ক্যাপাসিটরের দুই প্লেটে ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি চার্জ জমা করে এবং প্রয়োজনে সেই চার্জ সরবরাহ করতে পারে।

ধরকের কাজ: 
- এটি চার্জ ধরে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ে চার্জ মুক্ত করতে পারে।
- এটি AC প্রবাহকে পার করতে দেয়, কিন্তু DC প্রবাহকে বাধা দেয়।
- পাওয়ার সার্কিটে সার্কিটের সঠিক ভোল্টেজ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৪৭৭.
________ছাড়া আধুনিক জীবনযাপন অসম্ভব।
  1. ক) গাড়ী
  2. খ) মোবাইল ফোন
  3. গ) বিদ্যুৎ
  4. ঘ) ফ্যাশন
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবনযাপন অসম্ভব।
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটিক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ-এর প্রয়োগ দেখা যায়।
- দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি হচ্ছে চল বিদ্যুৎ।
- বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট আলোকিত করা, কলকারখানা, ট্রাম, ট্রেন, পাখা সবকিছুর জন্য বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন।
- টেলিভিশন, রেডিও, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ প্রভৃতি সচল রাখতে বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন।
- এসবক্ষেত্রে বিদ্যুৎকে আলোকশক্তি, তাপশক্তি, যান্ত্রিক শক্তি ইত্যাদিতে রূপান্তর করা হয়।
- সুতরাং বিদ্যুৎ এক প্রকার শক্তি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭৮.
উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করেছিলেন কে?
  1. রবার্ট বয়েল
  2. রবার্ট হুক
  3. বিজ্ঞানী হাইগেনস
  4. লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি
ব্যাখ্যা
- লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি ছিলেন মূলত একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। 
- তিনি উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করেছিলেন। 

অন্যদিকে, 
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 
- জার্মানীর বিজ্ঞানী স্নেল প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী রবার্ট বয়েল গ্যাসের সূত্র আবিস্কার করেন। 
- রোমার বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাণ করেন, যা তখনকার বিজ্ঞানীদের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিল না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭৯.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে তাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. মোটর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. ডায়নামো
  4. লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা
• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়।
- এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়।
- যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়।
- আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
- এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

অন্যদিকে,
- মোটর বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ বিভব বাড়ান কমানোর কাজ করে।।
- লাউড স্পিকার বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮০.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী কেপলার।
  3. গ) সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ।
  4. ঘ) কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ:

- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
- অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
- অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।

মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ।
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।

• সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
• গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮১.
নিম্নের কোন বৈশিষ্ট্যটি শব্দ তরঙ্গের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং মাধ্যমে কণার সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
  2. শব্দ আড় তরঙ্গ এবং কণার উপর-নিচ স্পন্দনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
  3. শব্দ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হয়
  4. শব্দ কেবল তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
ব্যাখ্যা

• শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, যা মাধ্যমে কণার সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• শব্দ ও শব্দের উৎপত্তি:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূত হয়।
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।
- শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং অনুদৈর্ঘ্য প্রকৃতির।

• শব্দ সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য বস্তুগত মাধ্যম প্রয়োজন।
- কম্পনশীল বস্তু সংলগ্ন মাধ্যমের কণায় সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি করে।
- এই সংকোচন-প্রসারণ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- মাধ্যমের কণাগুলো সামনের-পেছনের দিকে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শব্দ শূন্য মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় না।

• শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- শব্দ যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি, ঘনত্ব, তাপমাত্রা ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও অপবর্তন ঘটাতে পারে।
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮২.
কোন বিজ্ঞানী পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. কেপলার
  2. নিউটন
  3. গ্যালিলিও
  4. আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৩.
নিচের কোন রাশির ধারণা নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে পাওয়া যায়? 
  1. কাজ
  2. শক্তি
  3. জড়তা
  4. ভরবেগ
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতি সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৪.
আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. প্লাঙ্ক
  2. নিউটন
  3. হাইগেন
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব: ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিয় শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৫.
ত্বরণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1. বস্তুর ভর 
  2. বস্তুর বেগের মান 
  3. সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হার 
  4. বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনের হার 
ব্যাখ্যা

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

গড় ত্বরণ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে বেগের যে পরিবর্তন হয় তাকে বস্তুটির গড় ত্বরণ বলে। 
- কোনো নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে, বস্তুর বেগের যে পরিবর্তন হয় তাকে উক্ত সময় ব্যবধান দিয়ে ভাগ করলে গড় ত্বরণ পাওয়া যায়। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমত্বরণ: 
- কোনো গতিশীল বস্তুর ত্বরণ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমত্বরণ বলে। 
- এক্ষেত্রে ত্বরণের মান ও দিক উভয়ই ধ্রুব থাকতে হবে। 
- মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ সমত্বরণের একটি বাস্তব উদাহরণ। 

অসম ত্বরণ: 
- কোনো গতিশীল বস্তুর সময়ের সাথে যখন ত্বরণ ভিন্ন হয় তখন তাকে অসম ত্বরণ বলে। 
- ত্বরণের মান বা দিক কিংবা মান এবং দিক উভয়ের পরিবর্তনের জন্য অসম ত্বরণ সৃষ্টি হতে পারে। 
যেমন- বাস, ট্রেন, মোটগাতি ইত্যাদির ত্বরণ অসম ত্বরণের উদাহরণ। 
অর্থাৎ, গতিশীল প্রায় বস্তুর ত্বরণই অসম ত্বরণ। 

মন্দন: 
- সময়ে সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
অর্থাৎ, একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৬.
Which nuclei have the same number of neutrons but different mass numbers?
  1. Isobar
  2. Isotone
  3. Isomer
  4. Isotope
ব্যাখ্যা
আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৭.
নিচের কোনটি অভিকর্ষজ ত্বরণ g-কে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বস্তুতে অনুভূত বেগ বৃদ্ধির হার
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
  3. সূর্যের চারপাশে গ্রহের কক্ষপথে বেগ বৃদ্ধির হার
  4. বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ বা প্রতিরোধের কারণে বেগ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- প্রত্যেকটি বস্তুকে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের যেকোনো উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা নিচের দিকে পড়তে থাকে বা গতিশীল হয়।
- যতই নিচে নামে বলের প্রভাবে বস্তুর গতি তত বৃদ্ধি পেতে থাকে বা ত্বরণ হয়।
- নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি বস্তুর উপর বল প্রয়োগে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- তাই অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ বেগ বৃদ্ধির হার সুতরাং এর একক ms- 2 এবং এর মাত্রা LT-2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৮.
কোন বস্তুর রং কালো দেখায় কারণ-
  1. ক) মেলানিনের উপস্থিতির কারণে
  2. খ) আলোর বেগুনি রশ্মি শোষণ করে
  3. গ) আলোর লাল ও হলুদ রশ্মি শোষণ করে
  4. ঘ) আলোর সব রশ্মিই শোষণ করে
ব্যাখ্যা

কোন বস্তুর রং সাদা দেখায় কারণ ঔ বস্তুটি সবগুলো আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলন করে।
একই কারণে বরফকেও সাদা দেখায়।

আবার কোন বস্তুর রং লাল দেখায় কারণ বস্তুটি লাল ছাড়া সব আলোর রশ্মিই শোষণ করে নেয়, শুধু লাল আলোর রশ্মিই প্রতিফলন করে।
কোন বস্তুর রং কালো দেখায় কারণ বস্তুটি সবগুলো আলোর সব রশ্মিই শোষণ করে নেয়, আলোর কোন রশ্মিই প্রতিফলন করে না।

২,৪৮৯.
গামা রশ্মি বিকিরণে নিচের কোনটি পরিবর্তিত হয়?
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এবং এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল গামা রশ্মি নির্গত করে থাকে।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো ভর নেই।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. নাসা ওয়েবসাইট।
২. পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯০.
স্টিফেন হকিং তাঁর কোন বইতে বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন?
  1. ক) The Grand Design
  2. খ) The Universe in a Nutshell
  3. গ) A Brief History of Time
  4. ঘ) The Explosion of Universe
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell
- The Grand Design, ইত্যাদি। 

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.

সূত্র: ব্রিটানিকা
২,৪৯১.
জাল টাকা শনাক্তকরণে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. এক্সরে
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি:
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে।
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)।
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি।
- সূর্য রশ্মি এই বিকিরণের প্রধান উৎস।
- এই রশ্মি আমাদের শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে।
- তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়।
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উল্লেখ্য,
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না।
- প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না।
- এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়।
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি।

উৎস: i) Britannica.
ii) উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯২.
কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ৯ গুণ বাড়বে
  2. ৯ গুণ কমবে
  3. ৩ গুণ বাড়বে
  4. ৩ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল মধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 
২,৪৯৩.
বিটা কণিকার ভর হচ্ছে:
  1. 9.9 × 1031 kg
  2. 9.1 × 10-19 kg
  3. 9.1 × 10-31 kg
  4. 9.4 × 10-28 kg
ব্যাখ্যা

• বিটা কণিকা মূলত একটি ইলেকট্রনের সমতুল্য পারমাণবিক কণিকা। ইলেকট্রনের ভর খুবই ছোট, যা প্রায় 9.1 × 10-31 kg কিলোগ্রাম। এটি এটমের ভরের তুলনায় প্রায় অতি ক্ষুদ্র। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:

- বিটা কণিকা খুব হালকা।
- এর ভর 9.1×10-31 kg।
- এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 কুলম্ব ।
- তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়।
- এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম ।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী ।
- জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯৪.
দুটি ভিন্ন বিভবে আহিত বস্তুকে একই সাথে স্পর্শ করলে শরীরের ভিতর দিয়ে কোনটি ঘটবে?
  1. ক) শুধু নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  2. খ) নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  3. গ) উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  4. ঘ) শুধু উচ্চ বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
ব্যাখ্যা
স্থির তড়িতের বিপদ থেকে রক্ষার কৌশল:  
- উচ্চ বা ধনাত্মক আধানে আহিত কোনো বস্তুর বিভব পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভব থেকে বেশী (কারণ পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভবকে শূন্য ধরেই উচ্চ বা নিম্ন বিভব বিবেচনা করা হয়)।
- আবার নিম্ন বা ঋণাত্মক আধানে আহিত কোনো বস্তুর বিভব পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভব থেকে কম। বিভব কম বা বেশী যাই হোক না কেন ভূ-সংযোগ করলে আধান প্রবাহিত হবে। 
- সুতরাং যে কোনো আহিত বস্তুকে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে শরীরের মধ্য দিয়ে ভূমিতে আধান প্রবাহিত হবে (মানব দেহ তড়িৎ পরিবাহী) একে আমরা শক্ লাগা বলি। আধান প্রবাহ অর্থাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেশী হলে মানব দেহের জন্য বিপদজ্জনক এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
- ভেজা শরীর আরো বেশী তড়িৎ পরিবাহী। সেজন্য ভেজা শরীরে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে আরো দ্রুত তড়িৎ প্রবাহ হয় বলে প্রবাহের মাত্রা আরো বেড়ে যায়, ফলে আরো বেশী বিপদজ্জনক।
- দুটি ভিন্ন বিভবে আহিত বস্তুকে একই সাথে স্পর্শ করলে শরীরের ভিতর দিয়ে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে। সে ক্ষেত্রেও শক্ লাগতে পারে।
- সুতরাং স্থির তড়িৎ নিয়ে কাজ করার সময় কতকগুলি সতর্কতা বা কৌশল অবলম্বন করা উচিৎ যেন আমাদের শরীরের ভিতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ না হয়। শুকনো কাঠ, শুকনো রবার, চীনামাটি, প্লাস্টিক, শুকনো কাপড় (যেমন, লেপ, তোষক, বালিশ, কম্বল ইত্যাদি) তড়িৎ অপরিবাহী।
- সুতরাং এর উপরে দাঁড়িয়ে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে বস্তুর বিভব এবং শরীরের বিভব সমান হয়ে যায় কিন্তু ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে শরীরের মধ্য দিয়ে কোনো তড়িৎ প্রবাহ হয় না।
- রবার সোলের জুতা (সোলে যেন কোনো কাঁটা লাগানো না থাকে) পরেও নিরাপদে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করা যায়।
- হাতে রবারের হাত মোজা অর্থাৎ রবারের গ্লাভস পরে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে শরীর থেকে আহিত বস্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং শরীরের ভিতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হবে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৫.
হার্জ (hertz) দিয়ে প্রকাশ করা হয়-
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. দোলনকাল
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
- কম্পাঙ্কের একক s-1। 
- একে Hz দিয়ে ও প্রকাশ করা হয়।
- কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

অন্যদিকে, 
- বিস্তার, তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একক মিটার। 
- দোলনকালের একক সেকেন্ড। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
২,৪৯৬.
রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কী?
  1. এক্স-রে
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ইনফ্রারেড
  4. মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম মাইক্রোওয়েভ।
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে ৩০০MHz থেকে ৩০০GHz.
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।

• মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দু' ধরনের হতে পারে। যথা:
১. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave) ও
২. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা
২. পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৭.
গামা রশ্মির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য -
  1. ক) ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. খ) ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. গ) এর ভর ইলেক্ট্রনের ভরের সমান
  4. ঘ) এর বেগ আলোর বেগের সমান
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:

১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল
৩। এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪৯৮.
Optical Fiber কী?
  1. সরু তার
  2. ধাতব তার
  3. সরু ধাতব তার
  4. সরু কাঁচ তন্তু
ব্যাখ্যা
- অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তু।
- আলো বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৯৯.
বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে কোনটি?
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) নিউট্রনের প্রবাহ
  3. গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. ঘ) তাপের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনের প্রবাহ।
- ধাতুর শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন দুর্বলভাবে নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত থাকে, সামান্য বিভব পার্থক (voltage) প্রয়োগ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
- অন্যদিকে, প্রোটন ও নিউট্রন অপেক্ষাকৃত ভারী কণা এবং এরা শক্তিশালী Strong Nuclear Force এর জন্য নিউক্লিয়াসে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কিন্তু ইলেকট্রন আবিষ্কারের পূর্বে মানুষের ধারণা ছিল যে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের জন্য তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যেহেতু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, সেহেতু কনভেনশনাল নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন। 
২,৫০০.
সমন্বিত বর্তনী (IC)–এর একটি মূল সুবিধা কী? 
  1. আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হয়
  2. কেবল ট্রানজিস্টার দিয়েই তৈরি হয়
  3. এতে বিদ্যুৎ সঞ্চয় হয় না
  4. সকল প্রয়োজনীয় উপাদান একত্রে তৈরি হয়
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।