বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ১০০ / ৩,৭৪৭

.
মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. তথ্য স্থায়ীভাবে জমা রাখা
  2. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
  3. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  4. তথ্য প্রদর্শন করা
সঠিক উত্তর:
তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসর: 
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সঙ্গে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে। ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো- 
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা। 
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা। 
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা।  
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। 
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে। 
- উপরে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ, 
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং   
৩। স্মৃতি । 


উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন আলোক তরঙ্গ মানব চোখে দেখতে পাওয়া যায়?
  1. ১০ থেকে ৪০০ নেমি (nm)
  2. ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
  3. ১০০ মাইক্রোমিটার (um) থেকে ১ মি(m)
  4. ১ মি(m) - এর ঊধবে
সঠিক উত্তর:
৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
ব্যাখ্যা
- আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সব ধরনের আলো আমরা দেখতে পাই না। 
- যে আলোর তরঙ্গ (Light spectrum) দৈর্ঘ্য ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত সেই আলো আমরা দেখতে পাই। 
- ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর আলো বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলে রং পরিবর্তন হতে থাকে।
- আই আলোই হচ্ছে দৃশ্যমান আলো। 
- আলোক তরঙ্গ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য (একক ন্যানোমিটারে nm = 10-9m) নিচে দেয়া হলো- 
• মহাজাগতিক রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: <0.00005nm  
• গামা রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 0.0005 - 0.15 nm
• রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 0.01 – 10 nm
• অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: <380 nm
• দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 400 - 700nm 
• অবলোহিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >700nm 
• রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >2.2 x 105 nm


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু?
  1. ক) বোসন
  2. খ) কৃষ্ণবিবর
  3. গ) কোয়াসার
  4. ঘ) নিউট্রন স্টার
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াসার
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar):
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি।
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো।

- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে।
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে।
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ফটোভোল্টায়িক কোষ
  2. গ্যাস টারবাইন
  3. কয়লা জ্বালানি চুল্লি
  4. নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোল্টায়িক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোল্টায়িক কোষ
ব্যাখ্যা

• ফটোভোল্টায়িক কোষ:
- সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেলে অনেকগুলো কোষ সিরিজ বা প্যারালাল সংযোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- সূর্যের আলোর কণা (ফোটন) সেমিকন্ডাক্টর উপাদানে পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

• গ্যাস টারবাইন:
- এটি গ্যাস বা তেলের জ্বালানি পুড়িয়ে ঘূর্ণনশক্তি তৈরি করে।
- সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত।

• কয়লা জ্বালানি চুল্লি:
- এটি কয়লা পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সৌরশক্তি নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে ট্রানজিস্টর কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞাঃ দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে।
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকারঃ
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত কোনটি? 
  1. মেসনের প্রবাহ
  2. নিউট্রনের প্রবাহ
  3. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. প্রোটনের প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। যখন কোনো অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন এটি অতিরিক্ত শক্তি মুক্তি পায়। এই শক্তি মুক্তির সময় নিউক্লিয়াস ইলেকট্রন নির্গত করে, যাকে আমরা বিটা কণা বা বিটা রশ্মি বলি। বিটা কণা একটি ক্ষুদ্র, নেতিবাচক চার্জযুক্ত কণা, যা দ্রুত গতিতে নির্গত হয়। তাই বিটা রশ্মির সাথে ইলেকট্রনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং এটি পারমাণবিক বিকিরণের এক গুরুত্বপূর্ণ ধরন।

- সঠিক উত্তর: গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
একটি আয়তাকার পরিবাহকের মধ্য দিয়ে X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে এবং Y-অক্ষ বরাবর একটি সমসত্ত্ব চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হলো। যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হয়, তবে আধান বাহক কেমন হবে?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
ব্যাখ্যা

• হল প্রভাবের ক্ষেত্রে উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হলে হল বিভব ধনাত্মক হয় এবং আধান বাহক ধনাত্মক।

• হল প্রভাব (Hall Effect):
- কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত অবস্থায় প্রবাহের লম্বভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে পরিবাহকের দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- এই বিভব পার্থক্যকে হল বিভব (Hall Voltage) এবং ঘটনাটিকে হল প্রভাব বলা হয়।

• অক্ষ ভিত্তিক ব্যাখ্যা:
- যদি X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- Y-অক্ষ বরাবর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়।
- তবে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হয়।

• হল প্রভাবের কারণ:
- চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে প্রবাহিত আধান কণার উপর চৌম্বক বল ক্রিয়া করে।
- আধান কণাগুলি এক পার্শ্বে সঞ্চিত হয়।
- বিপরীত পার্শ্বে সমপরিমাণ বিপরীত আধান সঞ্চিত হয়।
- ফলে দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• আধানের প্রকৃতি নির্ণয়:
- যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব (Vb) নিচের পৃষ্ঠের বিভব (Va)-এর চেয়ে বেশি হয়, অর্থাৎ Vb > Va হয়।
- তবে VH = Vb – Va ধনাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ধনাত্মক।
- যদি Va > Vb হয়।
- তবে VH ঋণাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ঋণাত্মক।

• অর্ধপরিবাহকের ক্ষেত্রে হল প্রভাব:
- হল বিভব ধনাত্মক হলে আধান বাহক ধনাত্মক আধান (হোল)।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি P-টাইপ।
- হল বিভব ঋণাত্মক হলে আধান বাহক ইলেকট্রন।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি N-টাইপ।

• হল বিভবের রাশিমালা:
- হল বিভব চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব তড়িৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব আধান বাহকের ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

• হল প্রভাবের প্রয়োগ:
- আধান বাহকের প্রকৃতি নির্ণয়।
- আধান বাহকের ঘনত্ব নির্ণয়।
- অর্ধপরিবাহকের ধরন নির্ণয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য
  2. খ) মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চল থেকে কম
  3. গ) 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
খ) মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চল থেকে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চল থেকে কম
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান: 
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2, 
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81ms-2 
-  সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত g-এর মান 9.75 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2 । 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. ভূ-তাপীয় শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
ভূ-তাপীয় শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ-তাপীয় শক্তি
ব্যাখ্যা

◉ ভূ-তাপীয় শক্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ থেকে উৎপন্ন শক্তি। এটি অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না। তাই এটি একটি পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

​শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
সূর্য রশ্মি থেকে বিকিরণের প্রধান উৎস হিসেবে কোন রশ্মি বের হয়? 
  1. এক্স রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে এর শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

এক্স রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে 10-8 m পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহকে বলা হয় X-ray বা এক্স রশ্মি। 
- বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তার নাম অনুসারে এই রশ্মিকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। 
- গামা রশ্মি থেকে এর কম্পাঙ্ক কম বলে এর শক্তিও অপেক্ষাকৃত কম। 
- এই রশ্মি মানুষের দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় বা টিউমার জাতীয় শক্ত টিস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এই রশ্মির সাহায্যে ফটো তুলে দেহের ভেতরের হাড় এবং টিউমার সনাক্ত করা হয়। 

অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- এই রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
তাপ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক্যালরিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালরিমিটার
ব্যাখ্যা

- ক্যালরিমিটার বস্তুর গ্রহণ করা বা বর্জন করা তাপের পরিমাণ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ক্যালরিমিতির মূলনীতির (গৃহীত তাপ = বর্জিত তাপ) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। 

তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল। 
- তাপের মেট্রিক পদ্ধতির একটি একক হচ্ছে ক্যালরি যা এখনো পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- হাইগ্রোমিটার: এটি বাতাসের আর্দ্রতা (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ) পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- থার্মোমিটার: এটি বস্তুর তাপমাত্রা (বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, তাপের মোট পরিমাণ নয়।
- ব্যারোমিটার: এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
স্কেলার রাশির উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরণ 
  2. তাপমাত্রা 
  3. বেগ 
  4. ওজন 
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

ভৌত রাশি: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
Among these colours, which one has the highest heat absorption capacity?
  1. Yellow
  2. Green
  3. Blue
  4. Red
  5. Black
সঠিক উত্তর:
Black
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Black
ব্যাখ্যা
• তাপ শোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি।  
- চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমাণ তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হবে। 
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক, কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। 
- অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কোনটি চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ফেনল
  2. ক্লোরোফরম
  3. বেনজিন
  4. হ্যালোজেন
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফরম
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
-ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 


ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কোন তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়?
  1. ক) 100 K
  2. খ) - 273 K
  3. গ) 273 K
  4. ঘ) 0 K
সঠিক উত্তর:
গ) 273 K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 273 K
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 0 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়।
সেলসিয়াস স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক ০ ডিগ্রী, ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক ১০০ ডিগ্রী ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়।
কেলভিন স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক ২৭৩ এবং ঊর্ধ স্থিরাঙ্ক ৩৭৩ ধরে মৌলিক দৈর্ঘ্যকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
তাই ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর ২৭৩ কেল্ভিন একই তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৬.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- 
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. অডিওমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।  
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৭.
কোন দুটি ট্রান্সফরমারের মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলীর পাকসংখ্যার অনুপাত 1:2, সেগুলাের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অনুপাত কত হবে?
  1. ক) 1:2
  2. খ) 1:4
  3. গ) 2:1
  4. ঘ) 4:1
সঠিক উত্তর:
গ) 2:1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 2:1
ব্যাখ্যা
কুণ্ডলী দুটির তড়িৎ প্রবাহমাত্রা তাদের পাক সংখ্যার ব্যস্তানুপাতিক। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১৮.
১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান কত ওয়াট?
  1. ৬৪৬ ওয়াট
  2. ৯৪৬ ওয়াট
  3. ৭৪৬ ওয়াট
  4. ৮৪৬ ওয়াট
সঠিক উত্তর:
৭৪৬ ওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৪৬ ওয়াট
ব্যাখ্যা

১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান ৭৪৬ ওয়াট।

• ক্ষমতা:
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
 - ক্ষমতাকে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
-1HP = 746 ওয়াট
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে? 
  1. ০°সেন্টিগ্রেড
  2. ৪°সেন্টিগ্রেড
  3. ২৫°সেন্টিগ্রেড
  4. ১০০°সেন্টিগ্রেড
সঠিক উত্তর:
০°সেন্টিগ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০°সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক কোনটি?
  1. রেডিয়ান
  2. ডায়াপ্টার
  3. মিটার
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করেছিলেন কে? 
  1. থেলিস
  2. আর্যভট্ট
  3. পিথাগোরাস
  4. আরিস্তারাকস
সঠিক উত্তর:
আর্যভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যভট্ট
ব্যাখ্যা
গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২.
গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় পরা হয়, কারণ-
  1. সাদা কাপড়ের তাপ বিকিরণ ক্ষমতা বেশি
  2. সাদা কাপড় তাপ শোষণ করে না
  3. সাদা কাপড়ে তাপ প্রতিফলন ক্ষমতা বেশি
  4. সাদা কাপড়ের প্রতিসরণ ক্ষমতা বেশি
সঠিক উত্তর:
সাদা কাপড় তাপ শোষণ করে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদা কাপড় তাপ শোষণ করে না
ব্যাখ্যা
- সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমম্বয়ে গঠিত। 
- সাদা বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা একেবারেই কম। 
- গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় আরামদায়ক হয়, কেননা সাদা কাপড় সূর্যের আলোর সব বর্ণকেই প্রতিফলিত করে এবং সামান্য অংশ জামা কর্তৃক শোষিত হয়। 
- সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম, এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক। 
 
অন্যদিকে, 
- কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
২৩.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পান -
  1. ক) বেল বার্ডিন
  2. খ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  3. গ) উইলিয়াম শকলি
  4. ঘ) উপরের সকলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সকলে
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য ১৯৫৬ সালে বেল বার্ডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৪.
তড়িৎ তীব্রতার একক হচ্ছে -
  1. N
  2. Nm
  3. Nm -1
  4. NC-1
সঠিক উত্তর:
NC-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NC-1
ব্যাখ্যা
তড়িৎ তীব্রতার একক হচ্ছে NC-1
 
স্থির তড়িৎ বল F, আধান q ও তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা E-এর মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে, 
     F = qE
বা, E = F/q
২৫.
নিচের কোন পদার্থ ফটো ইলেকট্রিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে না?
  1. আয়রন
  2. ক্যালসিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেক্ট্রন নির্গত হতে দেখা যায়। ফটো- ইলেক্ট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। এরূপ একটি কোষে আলো ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৬.
বর্তনীতে কত প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়?
  1. দুই
  2. চার
  3. তিন
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান?
  1. অপটিক্স
  2. ব্যাটারি ডিজাইন
  3. তাপগতিবিজ্ঞান 
  4. তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
নিচের কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. গ্যালিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর। যেমন—জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই সেমিকন্ডাক্টর চিহ্নিত করা হয় না।
- কেননা কিছু সংকরও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু সেগুলো সেমিকন্ডাক্টর নয়। 

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
- এর আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।
- এতে কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় (0K, শূন্য কেলভিন) এরা অপরিবাহী।
-  একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
 - দু প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বৃদ্ধি করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
-  এদের পরিবহণ ও যোজনব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর কম।

জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী হলেও অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয় , বরং এটি একটি পরিবাহী পদার্থ। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২৯.
ট্রান্সফরমারে বিভব বৃদ্ধি করলে কী ঘটে?
  1. শক্তি কমে যায়
  2. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়
  4. তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

- ট্রান্সফরমারে যখন ভোল্টেজ বা বিভব বৃদ্ধি করা হয় (যাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার বলা হয়), তখন শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট কমে যায়। যেহেতু ট্রান্সফরমারের আদর্শ অবস্থায় ইনপুট ক্ষমতা এবং আউটপুট ক্ষমতা সমান থাকে (P = V × I), তাই ভোল্টেজ (V) বৃদ্ধি পেলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে তড়িৎ প্রবাহের (I) মান হ্রাস পেতে হয়। 

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
সর্বপ্রথম পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দেখান-
  1. ক) বেকরেল
  2. খ) রন্টজেন
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) বেইন
সঠিক উত্তর:
ক) বেকরেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেকরেল
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম বেকেরেল ১৮৯৬ সালে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দেখান।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩১.
"শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।"
- এই তত্ত্বটি কে প্রদান করেন?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. আইজ্যাক নিউটন
  3. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্বঃ ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।

প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।

কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩২.
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে কোনটি?
  1. ইনডাক্টর
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ইনভার্টার
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

• রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
অন্যদিকে,
- ইনডাক্টর হলো একটি ইলেকট্রনিক উপাদান যা চুম্বকীয় ক্ষেত্রে শক্তি সঞ্চয় করে এবং এসি প্রবাহের পরিবর্তনে বাধা দেয়।
- ট্রান্সফরমার কেবল এসি ভোল্টেজের মান কমায় বা বাড়ায় কিন্তু প্রবাহের প্রকৃতি এসি থেকে ডিসিতে পরিবর্তন করতে পারে না।
- ইনভার্টার রেকটিফায়ারের ঠিক বিপরীত কাজ করে অর্থাৎ এটি ডিসি বিদ্যুৎকে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- একমুখীকারক দুই প্রকার। যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।

৩৩.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) ২৮০ m/s
  2. খ) ৩৩২ m/s
  3. গ) ৩৫০ m/s
  4. ঘ) বেগ নাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগ নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগ নাই
ব্যাখ্যা

শব্দ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে।
শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়ােজন। কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশিও বায়বীয় বা গ্যাসীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম।
শূন্য মাধ্যমে শব্দের কোন বেগ থাকে না।

৩৪.
স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা ______।
  1. কম থাকে
  2. বেশী থাকে
  3. সমান থাকে
  4. যেকোনোটিই হতে পারে
সঠিক উত্তর:
বেশী থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশী থাকে
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে।
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- ট্রান্সফরমার যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী থাকে।
- অপর দিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল কি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) টেলিফোন
  2. খ) টেলিভিশন
  3. গ) তড়িৎ
  4. ঘ) টেলিগ্রাফিক সংকেত
সঠিক উত্তর:
ক) টেলিফোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টেলিফোন
ব্যাখ্যা
- ১৮৭৬ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
- টেলিফোনের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা-
সুইচ,
রিংগার,
কি প্যাড,
মাইক্রোফোন,
এবং স্পিকার।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
৩৬.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্সরে
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:

• তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (আলফা, বিটা ও গামা) নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
• এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নিউক্লীয় ও স্বাভাবিক ঘটনা। 
• পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি তারাই মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
• যেমন: ইউরোনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি।
• ভরের বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে (বেশি হতে কম) আলফা রশ্মি > বিটা রশ্মি > গামা রশ্মি।
• ভেদন ক্ষমতার বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে: গামা রশ্মি > বিটা রশ্মি> আলফা রশ্মি।

উল্লেখ্য,
• 1896 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল (Henry Becquerel) সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
• তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য দুটি একক রয়েছে, যথা- 
(১) কুরী (Curie) এবং (২) বেকেরেল (Becquerel)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩৭.
হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে জলীয়শক্তি কীসে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তিতে
  3. বৈদ্যুতিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে জলীয়শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

• হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্ল্যান্ট:

- হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্ট হল এক ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে পানিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

• সাধারণত, একটি উঁচু স্থান থেকে পানি ছেড়ে দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এই টারবাইনগুলো জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে এবং টারবাইনের ঘূর্ণনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 

• কাজের ধাপ:
- উঁচু জলাধার থেকে পানি ছাড়া হয়। 
- পানির কারণে টারবাইন ঘুরে → গতিশক্তি উৎপন্ন হয়। 
- টারবাইন জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে → জেনারেটর ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 

• হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে শক্তি রূপান্তরের ধারা:
জলীয়শক্তি → গতিশক্তি → যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৩৮.
বিদ্যুৎ প্রবাহের একক-
  1. ভোল্ট
  2. জুল
  3. ওয়াট
  4. অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- অর্থাৎ কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- ক্ষমতার একক ওয়াট।  
- কাজ ও তাপের একক জুল। 
- তড়িৎ বিভব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয় ভোল্ট। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯.
যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. রিমেনেন্স
  2. চৌম্বক ধারকতা 
  3. কুরি তাপমাত্রা
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪০.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে-
  1. ক) ১০ কিমি
  2. খ) ২৭ কিমি
  3. গ) ৫ কিমি
  4. ঘ) ১০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্টে বায়ু চাপ ১০ নিউটন বা 10m/atm(m=meter, atm=atmosphere)। এবং যেহেতু পানির ঘনত্ব সমান তাই তলদেশের দিকে যেতে থাকলে চাপ একই হারে বাড়তে থাকে। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪১.
এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার কোথায় দেখা যায়? 
  1. শিল্প ক্ষেত্রে
  2. চিকিৎসা ক্ষেত্রে
  3. গোয়েন্দা বিভাগে
  4. বৈজ্ঞানিক গবেষণায়
সঠিক উত্তর:
চিকিৎসা ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকিৎসা ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। 
- এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। 
- বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। 
- এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
কোন সরল দোলককে পাহাড়ের উপরে নিয়ে গেলে কী ঘটবে?
  1. ক) দোলনকাল কমবে
  2. খ) দোলনকাল বাড়বে।
  3. গ) দোলনকাল একই থাকবে
  4. ঘ) দোলনকাল অর্ধেক হবে।
সঠিক উত্তর:
খ) দোলনকাল বাড়বে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দোলনকাল বাড়বে।
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।
৪৩.
আর্কিমিডিসের নীতি প্রযোজ্য-
  1. ক) কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. খ) তরল ও কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতিঃ
বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল উর্ধ্বচাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। তাই, কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।।
৪৪.
তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় কোন বলের কারণে?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. সবল নিউক্লিয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
দুর্বল নিউক্লিয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
দুর্বল নিউক্লিয় বল:
- যে স্বল্প পাল্লার ও স্বল্প মানের বল নিউক্লিয়াসের মধ্যে মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে ক্রিয়া করে অনেক নিউক্লিয়াসের অস্থিতিশীলতার উদ্ভব ঘটায় তাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলে।
- নিউক্লিয়াস থেকে বিটা কণিকা ক্ষয়ের জন্য এই মৌলিক বল ক্রিয়াশীল থাকে। 

• প্রকৃতিতে বেশ কিছু মৌলিক পদার্থ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যায় (যেমন ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ইত্যাদি)।  
•  এই সমস্ত নিউক্লিয়াস থেকে তিন ধরনের কণিকা ও রশ্মি নির্গত হয় যাদেরকে আলফা কণিকা (a-particle), বিটা কণিকা (B-particle) এবং গামা রশ্মি (y-ray) বলা হয়।
•   β রশ্মির নির্গমনের সময় নিউক্লিয়াস থেকে একটি ইলেকট্রন এবং একটি অনাহিত কণা নিউট্রিনো (neutrino) নির্গত হয়।

•  দুর্বল নিউক্লিয় বল মহাকর্ষ বল অপেক্ষা শক্তিশালী কিন্তু তাড়িতচৌম্বক বল অপেক্ষা কম শক্তিশালী। এই বলের পাল্লা অত্যন্ত কম, যেখানে সৃষ্টি হয় সেখানেই শুধুমাত্র কার্যকর থাকে। এর পাল্লা 10-m।
• মাধ্যমিক ভেক্টর বোসন (Intermediate vector bosons) নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ-
  1. ক) রান্নার জন্য তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
  2. খ) বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
  3. গ) উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নায় সহায়ক
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না।
ফলে উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এতে বাড়তি তাপ সৃষ্টি হয়ে রান্না হয় তাড়াতাড়ি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৪৬.
নিচের কোনটি পানির স্ফুটনাংক?
  1. ক) ০° সেলসিয়াস
  2. খ) ১০০° সেলসিয়াস
  3. গ) ২৭৩° সেলসিয়াস
  4. ঘ) -২৭৩° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
তরল:

- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক হলো ১০০° সেলসিয়াস। 
- এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে।

অন্যদিকে,
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম / সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
আলো চুম্বক ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সরল রৈখিক ভাবে সমবর্তিত হয় এটি প্রমাণ করেন-
  1. ক) রবার্ট হুক
  2. খ) এলবার্ট মাইকেলসন
  3. গ) মাইকেল ফ্যারাডে
  4. ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেল ফ্যারাডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব:
- ১৮৪৫ সালে মাইকেল ফ্যারাডে (Michael Faraday) আবিষ্কার করেন, আলো চুম্বক ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সরল রৈখিক ভাবে সমবর্তিত (polarized) হয়
- আলোর সমবর্তন তল মাধ্যমের মধ্যে ঘুরে যায়।
- এ থেকে প্রমাণ হয় আলোর উপর তড়িৎ চুম্বকের প্রভাব আছে।
- ১৮৪৬ সালে তিনি অনুমান করেন চুম্বক ক্ষেত্রের বল রেখার সঞ্চালনের কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার (disturbance) ফলে আলো উৎপন্ন হয়।
- ১৮৪৭ সালে মাইকেল ফ্যারাডে প্রস্তাব দেন আলো উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা যেকোনো মাধ্যমের মধ্যে এমনকি মাধ্যম ছাড়াও সঞ্চালিত হতে পারে।  - এজন্য ইথার বা অনুরূপ কোন মাধ্যমের প্রয়োজন নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) কর্ণিয়া
  3. গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
গতিশীল গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনে ঝুঁকে পরেনে এটি কিসের উদাহরণ
  1. ক) গতি জড়তা
  2. খ) স্থিতি জড়তা
  3. গ) গতি
  4. ঘ) ভরবেগ
সঠিক উত্তর:
ক) গতি জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গতি জড়তা
ব্যাখ্যা
পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যেই প্রবণতা, তাকে জড়তা বলে।
এটি দুই প্রকার:
১. স্থিতি জড়তা
২. গতি জড়তা

গতিশীল ঘোড়ার গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে গাড়িতে বসা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। গাড়ি যখন গতিশীল ছিল তখন যাত্রীর শরীরের উপরের অংশ এবং নিচের অংশ উভয়ই গতিশীল ছিল। কিন্তু গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় গাড়ি সংলগ্ন শরীরের নিচের অংশ সর্বপ্রথম থেমে যায় বা স্থির হয়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকায় তা গতিশীলই থাকতে চায়। ফলে আরোহী বা যাত্রী পিছনের দিকে ঝুঁকে পরে।
৫০.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে যাওয়া সম্ভব, কারণ- 
  1. আলো দ্রুত চলে 
  2. আলো শক্তিশালী 
  3. কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ খুবই কম 
  4. কোর বড় হওয়ায়
সঠিক উত্তর:
কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ খুবই কম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ খুবই কম 
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১.
কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. ক) আলােক
  2. খ) বেতার তরঙ্গ
  3. গ) শব্দ তরঙ্গ
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রঞ্জন রশ্মি
৫২.
কোনটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হিসেবে পরিচিত?
  1. FPGA
  2. VLSI
  3. LSI
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপে হাজার হাজার বা মিলিয়ন ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান একত্রিত করা। FPGA হলো প্রোগ্রামেবল লজিক ডিভাইস যা বিভিন্ন ডিজাইন অনুযায়ী কনফিগার করা যায়। LSI (Large Scale Integration) এবং VLSI (Very Large Scale Integration) হল বড় আকারের ইন্টিগ্রেশন প্রযুক্তি, যেখানে ক্রমশ আরও বেশি ট্রানজিস্টর একটি চিপে সংযুক্ত করা হয়।
- তাই FPGA, LSI এবং VLSI - তিনটিই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদাহরণ। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) সবগুলোই।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের সুবিধা সমূহ- 
১. এটি আকারে বেশ ছোট্ট। 
২. অনেক জটিল সার্কিট একটি একক চিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাই এটি একটি জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিটের নকশাকে সহজতর করে। এছাড়াও এটি সার্কিটের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. আইসিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
৪. অধিক উৎপাদনের কারণে এগুলো কম খরচে পাওয়া যায়।
৫. আইসিগুলো খুব অল্প শক্তি গ্রহণ করে।
৬. প্যারাসাইটিক ক্যাপাসিট্যান্স প্রভাব না থাকায় এদের অপারেটিং গতি অনেক উচ্চ হয়।
৭. মূল সার্কিট থেকে খুব সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

৫৩.
High AC voltage পরিমাপের জন্য কোন পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়?
  1. Capacitance potential divider
  2. Sphere gaps
  3. Electro static voltmeter
  4. উপরের সব কয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সব কয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সব কয়টি
ব্যাখ্যা
High AC voltage পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়- 
Capacitance potential divider:
- এটি প্রকৃতপক্ষে উচ্চ-ভোল্টেজ এসি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- এতে ক্যাপাসিটর সিরিজে যুক্ত থাকে। 
- এতে voltage divider circuit তৈরি হয়। 

Sphere gaps 
Sphere gaps হল এক ধরনের উচ্চ-ভোল্টেজ পরিমাপক যন্ত্র যা প্রাথমিকভাবে উচ্চ-ভোল্টেজ এসি বা ডিসি সিস্টেমের ভোল্টেজের মাত্রা নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এগুলি বায়ুমণ্ডলীয় চাপে গ্যাস বা বাতাসে ভরা একটি ছোট গ্যাপ দ্বারা পৃথক দুটি সমকেন্দ্রিক গোলক বা ইলেক্ট্রোড নিয়ে গঠিত।

Electro static voltmeter
- একটি ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ভোল্টমিটার হল একটি উচ্চ-প্রতিবন্ধক ভোল্টমিটার যা উচ্চ ভোল্টেজ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে কিলোভোল্ট (কেভি) এবং মেগাভোল্ট (এমভি) রেঞ্জে।
- এটি চার্জযুক্ত প্লেটের মধ্যে ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক আকর্ষণ বা বিকর্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
৫৪.
'বেকরেল' নিচের কোনটির একক?
  1. এক্সরে
  2. দীপন ক্ষমতা
  3. তেজস্ক্রিয়তা
  4. লেন্সের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
তেজস্ক্রিয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করার জন্য যে একক ধরা হয় তাকে বলা হয় বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা হলো যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদন সম্পূর্ণ বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনা।
- ফরাসি বিজ্ঞানী অঁতোয়ান অঁরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করে ফেলেন যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান জগতে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- তিনি দেখতে পান যে, ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি বা বিকিরণ নির্গত হয়।
- তার নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকারেল রশ্মি।
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে।

উৎস: Britannica.com
৫৫.
পানি 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে তখন বায়ুমন্ডলীয় চাপ কত থাকে?
  1. ক) 1 atm
  2. খ) 2 atm
  3. গ) 3 atm
  4. ঘ) 0 atm
সঠিক উত্তর:
ক) 1 atm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 1 atm
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে তাকে স্ফুটনাংক বলে যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস। স্ফুটনাংক এর বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
৫৬.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) কর্ণিয়া
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
ব্যাখ্যা

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
এক মাইক্রোফ্যারাডে বলতে বুঝায়-
  1. এক ফ্যারাডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  2. এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  3. এক ফ্যারাডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ
  4. এক ফ্যারাডের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর ধারকত্ব: 
- কোনো বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহকের ধারকত্ব বলে। 
মনে করি, কোনো পরিবাহকের বিভব V পরিমাণ বৃদ্ধি করতে Q পরিমাণ আধান প্রয়োজন হয়। 
সুতরাং, পরিবাহকের ধারকত্ব, Q ∞ V 
বা, Q/V = ধ্রবক = ধারকত্ব 
∴ C = Q/V. 

একক: 
- এস. আই বা S.I পদ্ধতিতে ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
- উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যায় যে, V = 1 ভোল্ট (V) এবং Q = 1 কুলম্ব (C) হলে C = 1 ফ্যারাড (F) হয়। 

ফ্যারাডের সংজ্ঞা: 
- কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (1C) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্বকে এক ফ্যারাড (1F) বলে।
∴ 1F= 1C/1V = 1 CV-1
- এক ফ্যারাড (1F) বেশ বড় একক বিধায়, একে সচরাচর ব্যবহার করা হয় না, মাইক্রোফ্যারাড (µF) কেই ধারাকত্বের একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রোফ্যারাড বলে। 
অর্থাৎ, 1µF = 10-6F. 
- মাইক্রোফ্যারাড ছাড়াও ন্যানোফ্যারাড (nF), পিকোফ্যারাড বা মাইক্রো মাইক্রোফ্যারাড (µµF) এককও ব্যবহার করা হয়। 
1nF = 10-9F এবং 1pF = 1µµF =10-12F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
নিচের কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়?
  1. সৌর শক্তি
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস তাই এ শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব কত?
  1. ২.৫ সে.মি.
  2. ২৫ মি.
  3. ২৫ সে.মি.
  4. ২.৫ মি.
সঠিক উত্তর:
২৫ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ সে.মি.
ব্যাখ্যা
দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব:
- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে।
- কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- চোখের লেন্স থেকে ২৫ সে.মি. দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- এর থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
একটি Transformer এর দক্ষতা 80%, 100v, 4kw। যদি সেকেন্ডারি ভোল্টেজ 240v হয়, তবে প্রাইমারি কারেন্ট কত?
  1. 40A
  2. 30A
  3. 20A
  4. 10A
সঠিক উত্তর:
40A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
40A
ব্যাখ্যা
Input = 4 Kw

primary current = 4000/100
= 40 A
৬১.
এক্স-রে কোন সালে আবিষ্কৃত হয়? 
  1. ১৮৮৫ সালে
  2. ১৮৯৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 

এক্স-রের ব্যবহার: 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। 
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়। 
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. খনিজ তেল
  2. কয়লা
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'বায়োগ্যাস' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি, এই শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
চোখের লেন্সের ধরণ কোনটি?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. দ্বি-উত্তল
  4.  দ্বি-অবতল
সঠিক উত্তর:
দ্বি-উত্তল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-উত্তল
ব্যাখ্যা

মানুষের চোখের লেন্সটি হলো একটি দ্বি-উত্তল লেন্স, যা উভয় দিকেই উত্তল আকৃতির। 
- এই লেন্সটি অভিসারী লেন্স হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে প্রতিসারিত করে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করে, যার ফলে আমরা কোনো বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই।

দ্বি-উত্তল লেন্স:
- দ্বি-উত্তল লেন্স হলো একটি বিশেষ ধরনের উত্তল লেন্স, যার উভয় পৃষ্ঠই বাইরের দিকে বক্রাকার বা উত্তল আকৃতির।
- এটি অভিসারী (converging) লেন্স হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি এর মধ্য দিয়ে যাওয়া সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাস বিন্দুতে) একত্রিত করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি এর মধ্য দিয়ে আপতিত সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে প্রতিসরণের পর একটি বিন্দুতে মিলিত করে।
- এটি সাধারণত বাস্তব (real) এবং উল্টো (inverted) প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- রেটিনায় সৃষ্ট উল্টো প্রতিবিম্বের তথ্য অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, এবং মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সোজা করে দেখায়।

চোখে দ্বি-উত্তল লেন্সের কার্যকারিতা:
- চোখের লেন্স হলো একটি প্রাকৃতিক, নমনীয় এবং স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল লেন্স। 
- এর মূল কাজ হলো বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মিকে রেটিনার ওপর সঠিকভাবে ফোকাস করা, যাতে একটি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উপযোজন (Accommodation) প্রক্রিয়া:
- চোখের লেন্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উপযোজন ক্ষমতা। এটি চোখের সিলিয়ারি পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- দূরের বস্তু দেখার জন্য চোখের লেন্স পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ফোকাস দূরত্ব বেড়ে যায় এবং রেটিনার উপর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
- আর কাছের বস্তু দেখার সময় লেন্সটি মোটা হয়ে যায়, যার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যায় এবং রেটিনার উপর প্রতিবিম্ব সঠিকভাবে গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়াটিই উপযোজন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য-
- উত্তল: এটি লেন্সের একটি সাধারণ প্রকার, কিন্তু চোখের লেন্সের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ধরণ হলো দ্বি-উত্তল।
- অবতল: এটি একটি অপসারী লেন্স এবং এটি দৃষ্টি ত্রুটি (যেমন: মায়োপিয়া) সংশোধনের জন্য চশমায় ব্যবহৃত হয়, চোখে নয়।
- দ্বি-অবতল: এটি অবতল লেন্সের একটি প্রকারভেদ এবং এটিও সাধারণত চশমা ও কিছু বিশেষ আলোকীয় যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৪.
কোন বল শুধুই আকর্ষণধর্মী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচৌম্বক বল
  3. সবল নিউক্লিয় বল
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বল শুধুই আকর্ষণধর্মী।

• মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। অর্থাৎ, এই বল শুধু আকর্ষণধর্মী।
- বল দুইটি বস্তুর ভর ও দূরত্বের উপর নির্ভর করে।
- এই বলের পাল্লা অসীম অর্থাৎ অসীম পর্যন্ত এই বল কার্যকর।
- এই বলের বাহক কণা হলো গ্রেভিটন।

• তড়িৎচৌম্বক বল:
- এই বল আকর্ষণ ও বিকর্ষণধর্মী হয়।
- সমধর্মী চার্জ পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী চার্জ পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।
- চৌম্বকের সমমেরু পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।
- এই বলের বাহক কণা হলো ফোটন।

• সবল নিউক্লিয় বল:
- নিউক্লিয়াসে থাকা অবস্থায় দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে (নিউক্লিয়াসের ভিতর প্রোটন ও নিউট্রন নামে যে কণা থাকে তাদেরকে এক কথায় নিউক্লিয়ন বলে) যে প্রবল আকর্ষণ বল বিদ্যমান তাকে সবল নিউক্লিয় বল বলে।
- এ বল আকর্ষণধর্মী, স্বল্প পাল্লা বিশিষ্ট এবং চার্জ নিরপেক্ষ। নিউক্লিয়াসের বাইরে এ বলের কোনো প্রভাব নেই।
- দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে মেসন (meson) নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়।
- এর পাল্লা 10-15 m যা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধের সমান।

- সবল নিউক্লিয় বল প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যে খুব শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক কোর (nucleus) কে একসাথে ধরে রাখে।
- তবে, খুব ছোট দূরত্বে (প্রায় ০.৮ ফেমটোমিটার বা তার কম) এর মধ্যে একটি বিকর্ষণধর্মী অংশও থাকে, যা পারমাণবিক কোরের মধ্যে অংশগুলিকে একে অপর থেকে খুব বেশি কাছে যেতে বাধা দেয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজাহান তপন।
৬৫.
“Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ড
  4. জগদীশচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
জগদীশচন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদীশচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• “Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুর রচনা, যেখানে তিনি জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করেছেন।

• জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান (Contributions of Jagadish Chandra Bose):
-জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী।
- তিনি মূলত উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
 
• বৈজ্ঞানিক অবদান:
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং উদ্ভিদের মধ্যেও সংবেদনশীলতা বিদ্যমান।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি, উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণের জন্য তিনি ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদের সূক্ষ্মতম বৃদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা সম্ভব হয়।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ গবেষণা:
- জগদীশচন্দ্র বসু তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন এবং রেডিও তরঙ্গের ধর্ম ব্যাখ্যায় অবদান রাখেন।
- তিনি বেতার যোগাযোগ গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
 
• স্বীকৃতি ও সম্মান:
- তিনি রয়্যাল সোসাইটি (Fellow of the Royal Society – FRS)–এর ফেলো নির্বাচিত হন।
- তার গবেষণা কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়।
 
• গ্রন্থ:
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Response in the Living and Non-living”, যেখানে জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৬৬.
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ধারণ ক্ষমতা কত ডিবি?
  1. ৪৫-৫৫ ডিবি
  2. ৩৫-৪৫ ডিবি
  3. ৫৫-৬৫ ডিবি
  4. ২৫-৩৫ ডিবি
সঠিক উত্তর:
৪৫-৫৫ ডিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫-৫৫ ডিবি
ব্যাখ্যা
- যে কোনো বস্তুতে ঘর্ষণের ফলে এক ধরনের তরঙ্গ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। এই তরঙ্গ ধ্বনি মূলত এক প্রকার শক্তি। 
- এই তরঙ্গ শক্তি মানুষের কানে প্রবেশ করে শ্রবণ অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে আমরা শুনতে পাই। একে শব্দ বলে। 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ধারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাকে শব্দ দূষণ বলে। 
-  National Center for Environmental Health (NCEH) এর তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪৫-৫৫ ডেসিবল। 

 
উৎস: National Center for Environmental Health (NCEH) এবং পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
The density of milk is measured by -
  1. lactometer
  2. Fadometer
  3. Seismograph
  4. Barometer
  5. Manometer
সঠিক উত্তর:
lactometer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
lactometer
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম ল্যাকটোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬৮.
কোন পদার্থ পরম শূন্য তাপমাত্রায় অন্তরকের ন্যায় কাজ করে?
  1. অতিপরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ 
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  4. প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা

• পরম শূন্য তাপমাত্রায় তাপীয় শক্তির অভাবে অর্ধপরিবাহীর ইলেকট্রনগুলো যোজন ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে যেতে পারে না। ফলে কোনো মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় এটি একটি নিখুঁত অন্তরকের ন্যায় আচরণ করে।

• অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে?
  1. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. মহাকর্ষ বল
  3. আপেক্ষিক বল
  4. সমান্তরাল বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

- স্যাটেলাইট প্রধানত মহাকর্ষ বল বা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে।
- স্যাটেলাইটের নিজস্ব ভরবেগ (Momentum) বা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি এবং পৃথিবীর টান এমনভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে যে, এটি পৃথিবীতে আছড়ে না পড়ে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
- স্যাটেলাইটের  ঘূর্ণন বজায় রাখার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে। যথা:

• মহাকর্ষ বল (Gravitational Force):
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে, তাই মহাকর্ষ বল। এটি একটি সর্বজনীন আকর্ষণ বল।
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি স্যাটেলাইটকে সবসময় নিজের কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরে রাখে।

• কেন্দ্রমুখী বল (Centripetal Force):
- কেন্দ্রমুখী বল হলো সেই বাহ্যিক বল যা কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরানোর জন্য কেন্দ্রের দিকে কাজ করে।
- মহাকর্ষ বলই মূলত এখানে কেন্দ্রমুখী বল হিসেবে কাজ করে, যা স্যাটেলাইটটিকে সোজা পথে চলে যেতে না দিয়ে বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে ঘুরতে বাধ্য করে।

• অন্যান্য অপশন সমূহ:

আপেক্ষিক বল: 
- আপেক্ষিক বল বলতে সাধারণত একটি চলন্ত বা অ-জড় (non-inertial) প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে পরিমাপ করা কোনো বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বলকে বোঝায়, যার মধ্যে প্রকৃত বলের সাথে কাল্পনিক বলও (pseudo-force) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। 

সমান্তরাল বল:
- যখন দুই বা ততোধিক বলের ক্রিয়ারেখা পরস্পর সমান্তরাল হয়, তখন তাদের সমান্তরাল বল বলে। এই বলগুলো একই দিকে (সদৃশ/সমমুখী) অথবা বিপরীত দিকে (বিসদৃশ) কাজ করতে পারে।

অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষজ ত্বরণ (Gravitational acceleration) হলো পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হার, যাকে 'g' দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর মান প্রায় 9.8 m/s2 । 

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
২। National Environmental Satellite, Data & Information Service- USA [Link]

৭০.
কোন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে মহাবিশ্বে ইথারের কোনো অস্তিত্ব নেই?
  1. ক) বোর-রাদারফোর্ড পরীক্ষা
  2. খ) হকিং-বোস পরীক্ষা
  3. গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
  4. ঘ) আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

অ্যালবার্ট মাইকেলসন ও এডওয়ার্ড মােরলে ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে ইথারের অস্তিত্ব নির্ণয়ের জন্য একটি বিখ্যাত পরীক্ষা সম্পাদন করেন।
এটি মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা নামে সুপরিচিত।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মহাবিশ্বে ইথারের কোনাে অস্তিত্ব নেই।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৭১.
Gamma rays in electric and magnetic fields- 
  1. are scattered
  2. are not scattered
  3. travel in curved paths
  4. are partially scattered
  5. are scattered in electric fields but not in magnetic fields
সঠিক উত্তর:
are not scattered
উত্তর
সঠিক উত্তর:
are not scattered
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত হয় না (not scattered), কারণ গামা রশ্মি আধান নিরপেক্ষ (কোনো চার্জ নেই), ফলে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিচ্যুত বা বক্র পথে চালিত হয় না, বরং সরলরেখায় চলে যায়। 

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মি আলোর বেগের ন্যায় গতিশীল। 
- বেগের কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- গামা রশ্মিটি ফটোগ্রাফিক পেণ্টটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭২.
শূন্য মাধ্যমে নিচের তিনটি বস্তুকে একসাথে ছেড়ে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে?
  1. পালক
  2. পাথর
  3. কাঠ
  4. সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, একই উচ্চতা থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু একই সময়ে মাটিতে এসে পড়ে।

• প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে ।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
• তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h∝ t.

- তাই শূন্য মাধ্যমে ৩টি বস্তুকে একসাথে ছেড়ে দিলে সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে।

উৎস: পসার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে কী তৈরি হয়?
  1. রেডন ও থোরিয়াম
  2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন 
  3. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
  4. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
ব্যাখ্যা

• বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

• পারমাণবিক শক্তি:
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

উৎস:
১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।

৭৪.
সরল দোলকের প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র) অনুযায়ী নিচের কোনটি সত্য?
  1. কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
  2. দোলনকাল দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  3. দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. দোলনকাল দোলকের ভরের উপর নির্ভর করে
সঠিক উত্তর:
কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
ব্যাখ্যা

কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• সরল দোলক (Pendulum):
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকে ওজনহীন, অপ্রসারণশীল ও নমনীয় সুতার সাহায্য বুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে থাকে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সরল দোলকের চারটি সূত্র প্রদান করেন।

- কৌণিক বিস্তার ৪°  এর বেশি না হলে, সরল দোলকের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত চারটি সূত্র প্রযোজ্য হবে।
সূত্রগুলো নিম্নরূপ-

• প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• দ্বিতীয় সূত্র (দৈর্ঘ্যের সূত্র):
- স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল তার কার্যকরী দৈর্ঘ্যোর বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ T ∝ √L যেখানে T দোলনকাল এবং L কার্যকরী দৈর্ঘ্য

তৃতীয় সূত্র (ত্বরণের সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ঐ স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

• চতুর্থ সূত্র (ভরের সূত্র):
- একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য স্থির থাকে এবং কৌণিক বিস্তার ৪° এর বেশি না হয়, তবে সরল দোলকের দোলনকাল দোলক পিন্ডের ভর, আকার এবং উপাদানের উপর নির্ভর করে না।
- বিভিন্ন ভর আয়তন বা উপাদানের ভরের জন্য দোলনকাল একই হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৭৫.
পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন ব্যক্তির ভর ৮০ কেজি, চাঁদের পৃষ্ঠে তার ভর কত হবে?
  1. ক) ৬ গুণ কমে যাবে
  2. খ) ৬ গুণ বেড়ে যাবে
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকবে
  4. ঘ) অর্ধেক কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
গ) অপরিবর্তিত থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
ভর: প্রত্যেক বস্তু পদার্থ দ্বারা গঠিত। ভর হলো কোনো বস্তুতে পদার্থের পরিমাণ। বস্তুর ধর্ম এর অবস্থান, আকৃতি  ও গতি পরিবর্তিনের জন্য পরিবর্তিত হয় না। যে পরমাণু ও অণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত হয়, তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর বস্তুটির ভর নির্ভর করে।

অতএব, চাঁদের পৃষ্ঠে ব্যক্তির ভরের কোনো পরিবর্তন হবে না
৭৬.
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে কারণ -
  1. সরকারি নির্দেশ
  2. দূর থেকে চোখে পড়বে বলে
  3. তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
  4. দেখতে সুন্দর লাগে
সঠিক উত্তর:
তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
ব্যাখ্যা
• তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে।

- সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমম্বয়ে গঠিত।
- সাদা বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা একেবারেই কম।
- গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় আরামদায়ক হয়, কেননা সাদা কাপড় সূর্যের আলোর সব বর্ণকেই প্রতিফলিত করে এবং সামান্য অংশ জামা কর্তৃক শোষিত হয়।
- সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম, এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক।
- কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৭৭.
বাড়িতে ব্যবহৃত ফ্রিজে হিমায়করূপে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) নিয়ন
  2. খ) ফ্রেয়ন /অ্যামোনিয়া
  3. গ) স্পিরিট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেয়ন /অ্যামোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেয়ন /অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
বাড়িতে ব্যবহৃত ফ্রিজে হিমায়করূপে ফ্রেয়ন /অ্যামোনিয়া ব্যবহৃত হয়। 

- অ্যামোনিয়া হিম হিসাবে কাজ করে এবং জল শোষণকারী হিসাবে কাজ করে।

- একটি সরলীকৃত আকারে গ্যাস মডেলটিতে নিম্নলিখিত প্রযুক্তিগত মডিউল রয়েছে:
১. গ্যাস গরম করার মডিউল।
২. জেনারেটর (আরো সঠিকভাবে, একটি বয়লার)।
৩. ক্যাপাসিটর।
৪. শোষক। 
৫. ইভাপোরেটর।

- গ্যাস হিটার জেনারেটরের বিষয়বস্তু গরম করে। জেনারেটর মডিউলটি বাষ্পযুক্ত অ্যামোনিয়া তৈরি করতে এবং শোষক এলাকায় একটি দুর্বল অ্যামোনিয়া দ্রবণ সরবরাহ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

- কনডেন্সার মডিউল অ্যামোনিয়া বাষ্পকে ঘনীভূত তাপমাত্রায় ঠান্ডা করতে কাজ করে। এবং "শোষক" নামক একটি মডিউল অ্যামোনিয়া শোষকের কার্য সম্পাদন করে। গ্যাস রেফ্রিজারেটরের বাষ্পীভবন একটি ঠান্ডা জেনারেটর হিসাবে কাজ করে।

সূত্র: American Society of Heating Website [লিঙ্ক]
৭৮.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
  2. কোবাল্ট আইসোটোপ
  3. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
  4. আয়োডিন আইসোটোপ
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৭৯.
শূন্য ঘরের চেয়ে লোক ভর্তি ঘরে শব্দ কম হয়, কারণ-
  1. শূন্য ঘর নীরব থাকে
  2. লোক ভর্তি ঘরে মানুষের সোরগোল হয়
  3. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ বেশি হয়
  4. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
সঠিক উত্তর:
শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- যখন একটি ঘরে মানুষ বা আসবাব পত্র দিয়ে ভর্তি থাকে, তখন অনেক শব্দ সেগুলোর মাধ্যমে শোষিত হয়ে যায়। 
অর্থাৎ, লোকভর্তি হল ঘরে মানুষ বেশি থাকায় শব্দের শোষণ বেশি হয় তাই সেখানে শব্দের আওয়াজ ক্ষীণ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পরপর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলা হয়?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  3. বিস্তার
  4. পর্যায়কাল
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। 
- তরঙ্গের উপর পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে গ্রীক বর্ণ λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পর পর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পরপর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বও একটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
শব্দ সঞ্চালনের জন্য কোনটি অপরিহার্য? 
  1. মাধ্যম 
  2. আলো 
  3. উচ্চ তাপমাত্রা 
  4. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
মাধ্যম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধ্যম 
ব্যাখ্যা

- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা পদার্থের কণাগুলোর কম্পনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়। কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম (যেমন: কঠিন, তরল বা বায়বীয় পদার্থ) ছাড়া শব্দ চলাচল করতে পারে না। 

শব্দ সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টি করে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৮২.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. ওডোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ম্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে অডিওমিটার ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৮৩.
প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে-
  1. বেশি থাকে
  2. কম থাকে
  3. স্বাভাবিক থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
• স্ফুটনাঙ্ক:
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উত্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়।
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়।
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না।
- ফলে উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এতে বাড়তি তাপ সৃষ্টি হয়ে রান্না হয় তাড়াতাড়ি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪.
ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের জনক -
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউটন
ব্যাখ্যা
নিউটন  হলেন ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের জনক। 

- ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স ম্যাক্রোস্কোপিক শাখাগুলো নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং গবেষণা করা হয়।
- মেক্রোস্কোপিক স্ট্যাটিক্সগুলি ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের অধীন আলোচনা করা হয়।
- ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের তিনটি শাখা রয়েছে,  যথা, নিউটনিয়ান মেকানিক্স, লেগ্রেঞ্জিয়ান মেকানিক্স এবং হ্যামিল্টোনিয়ান মেকানিক্স।
- উপরোক্ত এই তিনটি শাখা গাণিতিক পদ্ধতি এবং গতি গবেষণা অধ্যয়ন ব্যবহৃত পরিমাণে উপর ভিত্তি করে। 
- ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত Philosophiae Naturalis Principia Mathematica বইতে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তিনটি গতিসূত্র প্রকাশ করেন, যা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি ঘটনা।

সূত্র: ২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৫.
ভেদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. গামা < আলফা < বিটা
  2. আলফা < বিটা < গামা
  3. বিটা < গামা < আলফা
  4. গামা < বিটা < আলফা
সঠিক উত্তর:
আলফা < বিটা < গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলফা < বিটা < গামা
ব্যাখ্যা
• ভেদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সঠিক ক্রম হলো আলফা < বিটা < গামা। 

• ভেদন ক্ষমতা:
- ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) বলতে বোঝায় কোনো বিকিরণ পদার্থের কতটুকু গভীরে বা কতদূর ভেদ করে যেতে পারে।
- এটি নির্ভর করে কণার শক্তি, ভর ও আধান-এর উপর।

• তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়।
- আলফা
- বিটা
- গামা 

• আলফা কণার ধর্ম:
- আলফা কণার ধনাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 3.2 × 10-19 C । 
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- এ কণা তীব্র আয়নায়ন সৃষ্টি করতে পারে।
- এর ভর বেশি হওয়ায় ভেদনক্ষমতা কম।

• বিটা কণার ধর্ম:
- এ কণা ঋণাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 1.6 × 10 -19 C ।
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এ কণা অত্যন্ত দ্রুত নির্গত হয়। এর দ্রুতি আলোর দ্রুতির শতকরা 98 ভাগ পর্যন্ত হতে পারে।
- এ কণা অতি উচ্চ দ্রুতিসম্পন্ন ইলেকট্রনের প্রবাহ। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

• গামা রশ্মির ধর্ম:
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এ রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয় না।
- এর বেগ আলোর বেগের সমান অর্থাৎ ৪.3 × 108 ms-1
- আলফা ও বিটা কণার চেয়ে এ রশ্মির ভেদনক্ষমতা বেশি। এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত ভেদ করে যেতে পারে।

• তিনটি বিকিরণের মধ্যে গামা রশ্মি সবচেয়ে বেশি ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। সবচেয়ে কম ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি হলো আলফা। বিটা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৮৬.
কোন পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে?
  1. প্লাস্টিক
  2. সিলিকন
  3. রূপা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে কোন যৌগ আলোর সংস্পর্শে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় চিত্র তৈরি করে? 
  1. সিলভার নাইট্রেট
  2. সিলভার ব্রোমাইড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সিলভার ব্রোমাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ব্রোমাইড
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তির রূপান্তর: 
আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি: 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে চিত্র তৈরি হয়। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইড (AgBr) বা সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) থাকে, যা আলোর সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে; ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → তাপ শক্তি: 
- হারিকেনের চিমনির কাচ স্পর্শ করলে গরম লাগে, কারণ আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি: 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপন্ন হলে পরে তা গ্রহণকারী প্রাণীর দেহে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৮৮.
মহাবিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে তাকে কী বলে?
  1. তড়িৎ বল
  2. চৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. ঘর্ষণ বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলা হয়।

• মহাকর্ষের ধারণা:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য সব বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই সার্বজনীন আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বল নামে পরিচিত।
- মহাকর্ষ বল সর্বদা আকর্ষণমূলক এবং সব বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল।

• মহাকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- বলের মান বস্তুর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- বলের মান বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
- বলটি বস্তুর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়।

• পৃথিবী ও মহাকর্ষের সম্পর্ক:
- পৃথিবী অন্যান্য বস্তুকে আকর্ষণ করে যে বল দ্বারা, সেটি অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বল হিসেবে পরিচিত—এটি মহাকর্ষ বলেরই একটি বিশেষ রূপ।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- তড়িৎ বল: বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল।
- চৌম্বক বল: চুম্বক বা চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়।
- ঘর্ষণ বল: সংস্পর্শে থাকা পৃষ্ঠের মধ্যে ক্রিয়াশীল।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

৮৯.
মৌলের স্থায়ী কণিকা কোনটি?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) নিউট্রিনো
  3. গ) মেসন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে সকল মূল কণিকা সকল মৌলের পরমাণুতেই উপস্থিত থাকে, তাকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
- স্থায়ী মূল কণিকা হলো ৩ টি, যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 

- যে সকল মূল কণিকা কোনো কোনো মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে, তাকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। এদের সংখ্যা প্রায় ১০০।
- নিউট্রিনো, অ্যান্টিনিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন ইত্যাদি হলো অস্থায়ী মূল কণিকা। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৯০.
শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত? 
  1. ১.০ সেকেন্ড
  2. ০.০০১ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. অসীম
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• আমাদের মস্তিষ্কে কোনো শব্দের অনুভূতি শোনার পর তা প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বা শব্দের ক্ষণস্থায়িত্ব বলা হয়।

• শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
অর্থাৎ, এই 0.1 সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
এক আলােকবর্ষ হলাে -
  1. ক) 9.4 x 1012 km
  2. খ) 9.4 x 1015 km
  3. গ) 9.4 x 1018 km
  4. ঘ) 9.4 x 1021 km
সঠিক উত্তর:
ক) 9.4 x 1012 km
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 9.4 x 1012 km
ব্যাখ্যা

আলােক বর্ষ বা লাইট ইয়ার (ly ) : আলাে 3 x 10m/s বেগে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলােক বর্ষ বলে। 1 ly = 9.46 x 1012 km (উৎসঃ  ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

৯২.
রাদারফোর্ড, পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির তেজস্ক্রিয়তার ওপর গবেষণার প্রধান অবদান কী ছিল? 
  1. রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার
  2.  তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
  3. নিউট্রনের গঠন ব্যাখ্যা 
  4. আলফা রশ্মির শক্তি পরিমাপ
সঠিক উত্তর:
 তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে, কিছু পদার্থ নিজে থেকেই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে, যা বাহ্যিক কোনো প্রভাব ছাড়াই ঘটে।তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra) ও পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি 1903 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল ও পিয়ের কুরির সঙ্গে) এবং 1911 সালে রসায়নে এককভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন 
(i) আলফা (α) রশ্মি: ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী ও কম অনুপ্রবেশক্ষম।
(ii) বিটা (β) রশ্মি: ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
(iii) গামা (γ) রশ্মি: কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, প্রবেশক্ষমতা সর্বাধিক।

উল্লেখ্য,
ক) রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার - পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির একটি অবদান কিন্তু,
খ) তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ - সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।
মেরি ও পিয়ের কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু এটি তাদের প্রধান অবদান নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৯৩.
কোন পদার্থটি কঠিন অবস্থা থেকে তরলে রূপান্তরিত হলে আয়তনে হ্রাস পায়?
  1. মোম
  2. তামা
  3. বরফ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরফ
ব্যাখ্যা
(ক) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায় যেমন মোম, তামা ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে।

(খ) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায় যেমন লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি। চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়।
অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
কোন ধরনের পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা ধাতব পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি থাকে?
  1. রাবার
  2. কাচ
  3. রূপা
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা

◉ অর্ধপরিবাহী (Semiconductors) যেমন সিলিকন, জার্মেনিয়াম—এদের পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি।

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে?
    সঠিক উত্তর:
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় মৌল। 
    অপশনের গ) তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে।

    সূত্র - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
    ৯৬.
    Infrasound frequency range -
    1. ক) < 20 Hz
    2. খ) > 20 Hz
    3. গ) > 200 Hz
    4. ঘ) < 200 Hz
    সঠিক উত্তর:
    ক) < 20 Hz
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ক) < 20 Hz
    ব্যাখ্যা
    - Spectrum are very low-frequency sounds (below 20 Hz), known as infrasound.
    - Elephants use infrasound for communication, making sounds too low for humans to hear.
    - Because low-frequency sounds travel farther than high-frequency ones, infrasound is ideal for communicating over long distances.

    Source: www.nps.gov
    ৯৭.
    নিচের কোনটি সবচেয়ে ছোট মান নির্দেশ করে? 
    1. পিকো
    2. ফেমটো
    3. ন্যানো
    4. মাইক্রো
    সঠিক উত্তর:
    ফেমটো
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ফেমটো
    ব্যাখ্যা
    - ফেমটো = 10−15 যা সবচেয়ে ছোট মান নির্দেশ করে, কারণ এর সূচক সবচেয়ে বড় ঋণাত্মক (−15)। 

    উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
    - বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
    - কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
    - এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
    - কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৯৮.
    পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতি হয়-
    1. সান্দ্রতা
    2. স্থিতিস্থাপকতা
    3. প্লবতা
    4. পৃষ্ঠটান
    সঠিক উত্তর:
    পৃষ্ঠটান
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    পৃষ্ঠটান
    ব্যাখ্যা
    • তলটান বা পৃষ্ঠটান:
    - তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
    - পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
    ১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
    ২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা।
    ৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
    ৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

    • পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারণে।
    - পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়।
    - মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৯৯.
    গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর বেগ (v) ও সময় (t) এর সম্পর্ক কী?
    1. বেগ সময়ের সমানুপাতিক
    2. বেগ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
    3. বেগ সমান থাকে সব সময়
    4. বেগ দূরত্বের সমানুপাতিক
    সঠিক উত্তর:
    বেগ সময়ের সমানুপাতিক
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    বেগ সময়ের সমানুপাতিক
    ব্যাখ্যা

    স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।

    • পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ:
    - ষোড়শ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র প্রদান করেন।

    ১. প্রথম সূত্র:
    - স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা ধাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
    - অর্থাৎ বায়ু শূন্য স্থানে একটি পালক ও একটি পাথর একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে দুটি বস্তুই একই সময়ে একই পথ অতিক্রম করে মাটিতে গড়বে।

    ২. দ্বিতীয় সূত্র:
    - স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
    - এই ক্ষেত্রে বেগ v ও সময় t হলে, v ∝ t ।

      ৩. তৃতীয় সুত্র:
    - স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব, ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
    - এই ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত দূরত্ব h ও সময় t হলে, h ∝ t2

    উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১০০.
    নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
    1. ক) বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
    2. খ) বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
    3. গ) বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
    4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
    সঠিক উত্তর:
    গ) বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    গ) বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
    ব্যাখ্যা
    বায়ু এক ধরণের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরণের পদার্থ রয়েছে।
     
    যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।
    যেমন- লোহা, তামা, সোনা, রূপা হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ইত্যাদি।

    যে সব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলা হয়।
    যেমন- পানি, লবণ, চিনি, ইস্পাত ইত্যাদি।


    সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি।