বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মঙ্গলকাব্য

মোট প্রশ্ন৩৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মঙ্গলকাব্য

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩৭০

.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. ময়ূর ভট্ট
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা - 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল,
২. বিদ্যাসুন্দর,
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মনসামঙ্গল কাব্যের বিদ্রোহী চরিত্র কোনটি?
  1. সনকা
  2. চাঁদ সওদাগর
  3. ধনপতি সওদাগর
  4. লখিন্দর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্য:
সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর। 

• মনসামঙ্গলের কাহিনির মাধ্যমে চাঁদ সদাগরের চরিত্রটি গতানুগতিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। নিগৃহীত মানবতার জীবনবাণী রূপে মঙ্গলকাব্যের যে বৈশিষ্ট্য তা এই চরিত্রে রথার্থই প্রতিফলিত হয়েছে। মানবিকতার পরাভব ও আত্মগ্লানিতে পূর্ণ সে যুগে চাঁদ সুজার্গর শক্তিমান বিদ্রোহী হিসেবে অনন্য পরিচয় দান করেছেন। নিগৃহীত জাতির মর্মগত বঞ্চনা, আর্তনাদ ও বিক্ষোভ চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহী স্বভাবের মাধ্যমে রূপ লাভ করেছে।

• বেহুলা চরিত্রের মধ্যে বাঙালি নারীত্বের যে প্রতিচ্ছবি আঁকা হয়েছে, তা কেবল ত্যাগ-তিতিক্ষায় সমুজ্জ্বলই নয়, অতন্ত্র আত্মবিশ্বাস ও অমিত বীর্যে ভাস্বর। বেহুলার নারীশক্তি চাঁদ সদাগরের পৌরুষের সমগোত্রীয় বিদ্রোহী। যে আত্মশক্তির প্রাচুর্যে চাঁদ সদাগর বারবার ব্যর্থতার পরেও ভেঙে পড়েন নি, ক্ষুব্ধ আক্রোশে কেবল উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন, সেই মানবী শক্তির সার্থক পরিণামরূপে দেবপুরী-প্রত্যাগতা বেহুলার আবির্ভাব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অংশ?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

• ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি -
১. রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
২. লাউসেনের কাহিনি।
- এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. মনসা মঙ্গল
  2. মনসাবিজয়
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা

• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ:
মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
কবি বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়।

-------------------
• মনসামঙ্গল:
মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল।
 
একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'বড়াই' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) সারদামঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ময়ূর ভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিত, সীতারাম দাস প্রমুখ কবিদের সৃষ্টি কোন কাব্য?
  1. অন্নদা মঙ্গল
  2. মনসা মঙ্গল
  3. চণ্ডী মঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন রূপরাম চক্রবর্তী, সতীরাম দাস, শ্যাম পণ্ডিত, সহদেব চক্রবর্তী, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, গোবিন্দরাম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
দেবমাহাত্ম্যমূলক বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়। এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হতো, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।

• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন। 
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।  

• মহাভারত: 
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস। মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
মনসামঙ্গল কাব্যকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. চণ্ডিকামঙ্গল 
  2. সূর্যমঙ্গল 
  3. গৌরীমঙ্গল
  4. কেতকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল হলো সেই কাব্যগুলো যা মূলত সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা।
- তাই মনসামঙ্গলের অন্য নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গল কাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা হিসেবে পরিচিত।
- এর কাহিনি পূর্ববঙ্গের বনজঙ্গল, নদী, খাল ও বিলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।

- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন।
- এখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।

- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। 
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

১০.
ধর্মমঙ্গল কাব্যে কোন কাহিনির কথা উল্লেখ আছে?
  1. রামায়ণ কাহিনি
  2. কৃষ্ণলীলার কথা
  3. লাউসেনের কাহিনি
  4. সীতার বনবাস কাহিনি
সঠিক উত্তর:
লাউসেনের কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউসেনের কাহিনি
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যে লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ আছে।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
কোন মঙ্গলকাব্যে মুঘল সম্রাট আকবরের এক সেনাপতির চরিত্র বর্ণিত আছে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে মানসিংহ এবং ভবানন্দ প্রধান চরিত্র হিসেবে উল্লিখিত। এই দুটি চরিত্র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত।
যেমন- 
মানসিংহ: ঐতিহাসিকভাবে, মানসিংহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি, যিনি বাংলায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ডে তাঁর কাহিনি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মিশে বর্ণিত হয়েছে।
ভবানন্দ: ভবানন্দ মজুমদার বর্ধমানের ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি চরিত্র, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা কাল্পনিকভাবে
উপস্থাপিত হলেও ঐতিহাসিক ভিত্তি রাখে।

আবার
অন্নদামঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডে মানসিংহের বাংলায় আগমন এবং রাজা প্রতাপাদিত্যকে দমন করার প্রেক্ষাপটে ভবানন্দের কাছে বর্ধমানের রাজা বীরসিংহের কাহিনি বর্ণিত হয়, যা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারণে, অন্নদামঙ্গল কাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি সুস্পষ্ট।
-------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

------------------

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(ক) মনসামঙ্গল: এই কাব্যে দেবী মনসার পূজা এবং চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত, যা মূলত পৌরাণিক ও কাল্পনিক। এতে স্পষ্ট ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ নেই।

(খ) চণ্ডীমঙ্গল: এই কাব্যে দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি বর্ণিত, যা পৌরাণিক ও লোককথা-নির্ভর। ঐতিহাসিক চরিত্র এতে উল্লেখযোগ্য নয়।

(ঘ) ধর্মমঙ্গল: ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে। ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
পৌরাণিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয় কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডিকামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. গৌরীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।
 
• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।
 
• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩.
'অন্নদামঙ্গল কাব্য' কে রচনা করেছেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কানাহরি দত্ত
  4. বিজয়গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

• অন্নদামঙ্গল:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
মনসামঙ্গলের আদিকবি -
  1. ময়ূর ভট্ট
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কানা হরিদত্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গলের  আদি কবি-  কানা হরিদত্ত। 

• কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

 • মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫.
মঙ্গল কাব্যে কোন দেবীর কাহিনী আছে?
  1. ক) লক্ষীন্দর দেবী
  2. খ) পদ্মাবতী দেবী
  3. গ) মনসা দেবী
  4. ঘ) বেহুলা ও চাঁদসুন্দর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসা দেবী
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৬.
মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি যথা :
- মনসামঙ্গল
- চন্ডীমঙ্গল
- ধর্ম মঙ্গল

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্য ৫টি অংশ থাকে যথা : 
- বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড এবং
- শ্রুতিফল

- মঙ্গল কাব্যের প্রধান দেবতার হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী, ও ধর্মঠাকুর।
- এই কাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
নিচের কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. গোবিন্দমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
ব্যাখ্যা
গোবিন্দমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়।
- বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোনো যোগসূত্র নেই।
- প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

• লৌকিক শ্রেণি মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শিবায়ন বা শিবমঙ্গল,
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর),
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সারদামঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
১৮.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. রাজা-রাজবংশের গৌরবগান
  2. সমাজ ও জীবনের প্রতিফলন
  3. আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য
  4. যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ
সঠিক উত্তর:
আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য। 

• মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক – অর্থাৎ গল্প বা আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য।
- মূল কাহিনির সঙ্গে দেব-দেবীর লীলা, ধর্মতত্ত্ব, বর্ণনা ইত্যাদি যুক্ত হয়ে কাব্যগুলো বিপুল আয়তনে পরিণত হয়েছে।
- লৌকিক ও পৌরাণিক আদর্শের মিশ্রণ মঙ্গলকাব্যের বড় বৈশিষ্ট্য।
- এই কাব্যে লৌকিক দেবতা, ধর্মবিশ্বাস, ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মচিন্তার একধরনের সমন্বয় রয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য হলো আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য, যা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯.
কোন কাব্যের কবিদের ‘বাইশা’ বলা হয়?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গীতগোবিন্দ
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাইশা:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম। মনসামঙ্গলের এই কাহিনী মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
"চণ্ডীমঙ্গল" কাব্যের কবি কে?
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. মুক্তারাম সেন
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. সবাই 
সঠিক উত্তর:
সবাই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবাই 
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো:
- দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের স্বভাব কবি বলা হয় কাকে?
  1. দ্বিজ মাধব
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ মাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে: প্রথম খণ্ডে- ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

১. প্রথম উপাখ্যান: একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।

২. দ্বিতীয় উপাখ্যান: এই উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর এবং তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
'মঙ্গলকাব্য' এ ধর্মীয় আরাধনা মুখ্য হলেও এর অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো
  1. ব্যক্তির মুক্তি
  2. সামাজিক মিথস্ক্রিয়া
  3. অন্ত্যেবাসী মানুষ
  4. শ্রেণিদ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মিথস্ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মিথস্ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো: খ) সামাজিক মিথস্ক্রিয়া।

• ‘মঙ্গলকাব্য’ মূলত দেবতার মাহাত্ম্য প্রচার ও ধর্মীয় আরাধনার মাধ্যমে লোকজ সমাজে ধর্মচেতনা বিস্তারে রচিত কাব্য হলেও এতে সামাজিক বাস্তবতা, লোকজ বিশ্বাস এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়।

✦ সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে মঙ্গলকাব্যে দেখা যায়:
• সমাজের নানা স্তরের মানুষের আচরণ, বিশ্বাস ও আচার।
• লোকায়ত ধর্মচর্চা, পরিবার, গ্রামীন পরিপ্রেক্ষিত।
• দেবতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বা সম্পর্ক।
• ধর্ম ছাড়াও মানবিকতা, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির চিত্র।

মঙ্গলকাব্য মূলত বাংলা মধ্যযুগের সাহিত্যধারা, যেখানে বিভিন্ন দেবদেবীর আরাধনা ও পূজার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এই কাব্যধারার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় আরাধনার প্রচার করা হলেও, এগুলিতে তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও জাতির মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, আচার-আচরণ, রীতিনীতি, জীবনযাপন প্রণালী ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

মঙ্গলকাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক, মেলামেশা ও সামাজিক যোগাযোগের চিত্র ফুটে উঠেছে, তাকেই সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বলা হয়। চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি মঙ্গলকাব্যে এই সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার বিভিন্ন দিক সুস্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ:
• মনসামঙ্গল-এ চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা।
• চণ্ডীমঙ্গল-এ ধনপতি সওদাগরের গল্পে বণিক সম্প্রদায়ের প্রাধান্য এবং সামাজিক শ্রেণির গতিশীলতা।
• ধর্মমঙ্গল-এ নিম্নবর্গের মানুষের সংগ্রাম ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন।

সুতরাং, সামাজিক মিথস্ক্রিয়াই মঙ্গলকাব্যের অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২৩.
মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি বলা হয় কাকে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. কানা হরিদত্ত
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য হিসেবে কোনটি পরিচিত?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫.
মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুঁথি কোনটি?
  1. ক) মনসাবিজয়
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) পদ্মাপুরাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
• কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে। কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুথি।
• কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।
• মনসাবিজয় রচনা করেন ‘বিপ্রদাস পিপিলাই’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি -
  1. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এবং প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭.
ধর্মমঙ্গল কাব্য মূলত কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা
  2.  রাঢ় বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও বীরত্ব
  3. রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
  4. উপরের সবকয়টি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

ধর্মমঙ্গল কাব্য রাঢ় বাংলার সমাজ, রাজনীতি ও লোকধর্মকে কেন্দ্র করে রচিত। এতে লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য, বীর লাউসেনের কাহিনী এবং সাধারণ মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও বীরত্ব ফুটে ওঠে। এটি মূলত লোকায়ত সংস্কৃতি ও সামাজিক বীরত্বের মহাকাব্য।
------------------------------
• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো এমন একটি কাব্যধারা যা মূলত ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বা গুণগান প্রদর্শনের জন্য রচিত।
- এখানে ধর্মঠাকুরকে অনার্য দেবতা হিসেবে দেখানো হয়, অর্থাৎ সে শহরের ব্রাহ্মণ বা আর্য ধর্মের চেয়ে ভিন্ন, গ্রামীণ বা লোকমুখী দেবতা।
- একই সঙ্গে তাকে কখনও কখনও সূর্য বা বুদ্ধের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা তার অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, জ্ঞান ও প্রভাবকে তুলে ধরে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল আখ্যান প্রধানত দুটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত।
- প্রথমটি হলো রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
- এবং দ্বিতীয়টি হলো লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহের মধ্যে আছেন-
- লাউসেন, ধর্মঠাকুর, কালু ডোম, কানড়া, ইছাই ঘোষ, ময়নামতী, রাজা হরিশ্চন্দ্র এবং মদনা ও লুইচন্দ্র। 

-  ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাঢ় বাংলার লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচার করা।
- কাব্যটির আখ্যান হরিশ্চন্দ্রের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়ে, লাউসেনের বীরত্ব ও ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় প্রদর্শনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- এছাড়া কাব্যটি রাঢ় অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- এতে ধর্মঠাকুরের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, লাউসেনের বীরত্ব, ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় এবং প্রাচীন রাঢ়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি ছিলেন ময়ূরভট্ট। 
- তিনি ‘হাকন্দপুরাণ’ রচনা করেছেন।

- তবে মধ্যযুগে এই ধারায় রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তীকে প্রধান ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঘনরাম চক্রবর্তী।
- অন্যান্য কবির মধ্যে আছেন- মানিকরাম গাঙ্গুলি, রামদাস আদক, এবং সীতারাম দাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৮.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম কী?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. বিজয়গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবতী
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
বিদ্যাসুন্দরের কাব্য কোন মঙ্গলকাব্যের সাথে জড়িত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কলিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কলিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বল্ব।
সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী পত্যাশা করে সুন্দর পতির। 
- এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর- পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।
- কাব্যটির উৎস এগারো শতকের সংস্কৃত কবি বিলহনের চৌরপঞ্চাশিকা। 
- বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রেমকাহিনী অবলম্বনে প্রথমে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন ষোলো শতকের কবি শাহ বিরিদ খান ও দ্বিজ শ্রীধর।
- পরে কৃষ্ণরাম, বলরাম, কবিশেখর,  রামপ্রসাদ সেন,  ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ এ ধারায় কাব্য রচনা করে যশস্বী হন।
- তবে এঁদের মধ্যে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল বা কালিকামঙ্গলই শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১.
লোকায়ত ধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. গৌরীমঙ্গল
  4. ভবানীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

----------------
• মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার মাহাত্ম বর্ণনা করে রচিত কাব্য হলো মনসামঙ্গল কাব্য। এর আদি কবি কানাহরি দত্ত।
- এ ধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি হলো বিজয়গুপ্ত। তবে শ্রেষ্ঠ কবি ধরা হয় নারায়ণ দেবকে।
- কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ হলো মনসামঙ্গলের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি। এছাড়া মনসামঙ্গল ধারার অন্যান্য কবিদের মধ্যে রয়েছে- বিপ্রদাস পিপিলাই যার কাব্যের নাম মনসাবিজয় এবং  দ্বিজবংশী দাস যার মেয়ে চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদক।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কালকেতু কার কাছে আংটি বিক্রি করতে গিয়েছিল?
  1. মুরারি শীল
  2. ভাড়ু দত্ত
  3. ধর্মকেতু
  4. নীলাম্বর
সঠিক উত্তর:
মুরারি শীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুরারি শীল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কালকেতু মুরারি শীলের কাছে আংটি বিক্রি করতে গিয়েছিল। 
----------------------- 
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
 
• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিষয়বস্তু কয়টি সামাজিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিষয়বস্তু দুইটি  সামাজিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। 
- প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী।

• চণ্ডীমঙ্গল:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যান্য কবি: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে।
- একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডীর বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ, পরাজয় ও শেষ পর্যন্ত চণ্ডীর কৃপায় হৃতরাজ্য পুন:প্রাপ্তি। 
- দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৪.
কোন কাব্যের কবিদের ‘বাইশা’ বলা হয়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

বাইশা: 
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- মনসামঙ্গলের এই কাহিনী মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
"মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড" — কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• “মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড” — হলো ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের তৃতীয় খণ্ড।
---------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য — ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা:
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।
--------------------------
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৬.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' বলে অভিহিত করা হয়?
  1. মাণিক দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়
  3. অকিঞ্চন চক্রবর্তী
  4. দ্বিজমাধব
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবিগণ:
ষোল শতক: মাণিক দত্ত, বলরাম, দ্বিজমাধব, মুকুন্দরাম। 
সতের শতক: হরিরাম, দ্বিজরাম দেব। 
আঠার শতক: মুক্তারাম সেন, ভারতচন্দ্র রায়, অকিঞ্চন চক্রবর্তী, জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭.
“পিপীলিকার পাখা উড়ে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।”
উদ্ধৃতিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

একটি অতি প্রচলিত প্রবাদবাক্য “পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে”
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’ থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।

- মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চন্ডীমঙ্গল কাব্যে প্রবাদটির ব্যবহার আছে।
- চণ্ডীমঙ্গল যখন অপরূপ সুন্দরী নারী মূর্তি ধারণ করে কালকেতুর কুঁড়েঘরটি আলোকিত করে বসে থাকলেন, কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা এই নারীকে দেখে স্বামীকে সন্দেহ করলো।
- তার সে সন্দেহ দৃঢ়মূল হলো যখন মেয়েটি জানালো বনের মধ্যে তিনি একা একা বিচরণ করছিলেন, ফুল্লরার স্বামী কালকেতুই তাঁকে ধরে নিয়ে এসেছে।
- মেয়েটির কথা শুনে ফুল্লরার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। মেয়েটি ফুল্লরার কথায় গৃহত্যাগ করতে রাজি নয়। কালকেতু তাঁকে নিয়ে এসেছে, কাজেই কালকেতুর নির্দেশ ছাড়া তিনি গৃহত্যাগ করবেন না।
- কালকেতু তখন হাটে গেছে মাংস বিক্রি করতে। ফুল্লরার ধারণা, ঘরে তার সতীন এসেছে। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে অভিমানে ফুল্লরা হাটের দিকে যায় স্বামীকে মোকাবিলা করতে।
স্বামীকে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উচ্চারণ করে:
“পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে /
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে?”

উৎস : কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান এবং ইত্তেফাক আর্কাইভ।

৩৮.
কোন কবি “ধর্মমঙ্গল” কাব্য রচনা করেছেন?
  1. ক) বংশীদাস চক্রবর্তী
  2. খ) রূপরাম চক্রবর্তী
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) বলরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) রূপরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

ধর্মমঙ্গল ধারার অন্যান্য কবিঃ 
- রূপরাম চক্রবর্তী,
- খেলারাম চক্রবর্তী,
- শ্যাম পণ্ডিত,
- নরসিংহ বসু।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।

 
৩৯.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. ধনপতি সওদাগর
  2. বেহুলা
  3. ফুল্লরা
  4. লহনা
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
ব্যাখ্যা
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- চাঁদ সওদাগর
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

অন্যদিকে, 
• ধনপতি সওদাগর, ফুল্লরা ও লহনা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০.
কোনটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয়?
  1. আত্মপরিচয়
  2. দান খণ্ড
  3. দেবখণ্ড
  4. শ্রুতিফল
সঠিক উত্তর:
দান খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দান খণ্ড
ব্যাখ্যা

•  সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় - দান খণ্ড। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খণ্ডের ১টি খণ্ড - দান খণ্ড।

মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
মঙ্গলকাব্যের কয়টি ধারা?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

• লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২.
‘বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি’ নামে অভিহিত করা হয় কোন মঙ্গলকাব্যকে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কলিকামঙ্গল: 
- কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে।
- সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। 
- এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।
- কাব্যটির উৎস এগারো শতকের সংস্কৃত কবি বিলহনের চৌরপঞ্চাশিকা। 
- বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনে প্রথমে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন ষোলো শতকের কবি শাহ বিরিদ খান ও দ্বিজ শ্রীধর।
- পরে কৃষ্ণরাম, বলরাম, কবিশেখর,  রামপ্রসাদ সেন,  ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ এ ধারায় কাব্য রচনা করে যশস্বী হন।
- তবে এঁদের মধ্যে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল বা কালিকামঙ্গলই শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৩.
অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি কে ছিলেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের শেষতম ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২–১৭৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবিও বলা হয়। 
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) ছিলেন হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে জমিদার।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম রচয়িতা কাব্য ছিল দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি বিমিশ্র পাঁচালি।
- তিনি অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- তিনি অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- ভারতচন্দ্রই প্রথম কবি যিনি মঙ্গলকাব্যের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আধুনিক কাব্যশৈলী ও বাস্তবধর্মী রচনার সূচনা করেন।
- তাঁর রচনায় পৌরাণিক ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। 
- তাঁর রচনা বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

- ভারতচন্দ্রের সাহিত্যিক প্রতিভা প্রথমে নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নজরে আসে।
- মহারাজা তাঁর পাণ্ডিত্য ও ভদ্র আচরণ দেখে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে তাকে রাজসভাসদ বা আমত্য পদে নিয়োগ দেন।
- কবি প্রায়ই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে কবিতা পাঠ করতেন।
- মহারাজা তাঁর প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে মঙ্গলকাব্য রচনার নির্দেশ দেন।
- এ নির্দেশ অনুসারে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের বিখ্যাত কাব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রচনার সময় তিনি কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনীকেও সংযোজন করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র খুশি হয়ে তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন।
- পাশাপাশি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।
- ভারতচন্দ্র কৃষ্ণনগরে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
- ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অবসান ঘটে এবং আধুনিক যুগের সূচনা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৪৪.
কোন কাব্যটি লৌকিক ধারার অন্তর্গত?
  1. চণ্ডিকামঙ্গল 
  2. গৌরীমঙ্গল
  3. গঙ্গামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
- এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

অন্যদিকে,
পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৫.
চণ্ডীমঙ্গলের আখ্যান প্রধানত কোন দুটি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. জন্মখণ্ড ও বিরহখণ্ড
  2. পদ্মখণ্ড ও বংশীখণ্ড
  3. আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
  4. বিদ্যাসুন্দর খণ্ড ও মানসিংহ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান মঙ্গলকাব্য শাখা।
- এটি মূলত লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য ও মর্ত্যে তাঁর পূজা প্রচারের কাহিনী নিয়ে রচিত।

- কাব্যে দুটি প্রধান আখ্যান দেখানো হয়েছে—
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী (আখেটিক খণ্ড) এবং
- ধনপতি-খুল্লনা-লহনার কাহিনী (বণিক খণ্ড)।
- প্রথম কাহিনী দারিদ্র্য, সংগ্রাম এবং সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে।
- দ্বিতীয় কাহিনী সমুদ্র বাণিজ্য ও ধনসম্পদের মধ্য দিয়ে দেবী চণ্ডীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও সমর্পণ দেখায়।

- কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি সদাগর, খুল্লনা, লহনা, ভাঁড়ুদত্ত এবং দেবী চণ্ডী।
- কাব্যটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—দেবখণ্ড ও নরখণ্ড।
- দেবখণ্ডে চণ্ডীর মহিমা ও পূজা প্রচার, আর নরখণ্ডে মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, বিলাসিতা এবং সামাজিক প্রথা বর্ণিত হয়েছে।

- কাব্যের আদি-কবি জনশ্রুতি অনুসারে মানিক দত্ত।
- কিন্তু শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- এছাড়া দ্বিজ মাধব ও হরিরাম প্রমুখও চণ্ডীমঙ্গলে অবদান রেখেছেন।
- কাব্যটি সমাজচিত্র, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লৌকিক আধ্যাত্মিকতার সুন্দর মিশ্রণ হিসেবে রচনা করা হয়েছে।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- জন্মখণ্ড ও বিরহখণ্ড — শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ড।
- পদ্মখণ্ড ও বংশীখণ্ড — শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ড।
- বিদ্যাসুন্দর খণ্ড ও মানসিংহ খণ্ড — অন্নদামঙ্গল কাব্যের খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪৬.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যটি কোন দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. মনসা দেবী
  2. শীতলা দেবী
  3. অন্নপূর্ণা দেবী
  4. চণ্ডী দেবী
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী দেবী
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৮.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- ঘনরাম চক্রবর্তী হচ্ছে - ধর্মমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কী বলা হয়?
  1. বৈষ্ণক
  2. বাইশা
  3. গীতকার
  4. পদকর্তা
সঠিক উত্তর:
বাইশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইশা
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০.
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবির নাম কী?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- মধ্যযুগের তিনজন যে উল্লেখযোগ্য মহিলা কবি রয়েছে তাদের মধ্যে চন্দ্রাবতী (১৬শ শতক) অন্যতম।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের  কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাঁথা প্রচলিত আছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’র ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী?
  1. উজানী নগর
  2. সিংহল নগর
  3. রুপ নগর
  4. বর্ধমান নগর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ধনপতি সওদাগরের কাহিনী উজানী নগরের পটভূমিতে রচিত হয়েছে।
---------------------------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য, যেখানে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনী রচিত।
- দেবী চণ্ডীকে অন্য নামে অভয়া, ভবানী বা কখনও অম্বিকা বলা হয়।
- তাই চণ্ডীমঙ্গলকে অভয়ামঙ্গল, ভবানীমঙ্গল বা অম্বিকামঙ্গলও বলা হয়।

- কাব্যটি মূলত দুইটি খণ্ডে বিভক্ত-
- প্রথম খণ্ডকে বলা হয় আখেটিক খণ্ড, যা ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী উপস্থাপন করে।
- দ্বিতীয় খণ্ড হলো বণিক খণ্ড, যা ধনপতি সওদাগরের কাহিনী। 

- দ্বিতীয় খণ্ডে উজানী নগরের ধনপতি তার সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন।
- কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনা সন্তানহীন থাকায় তাকে বনভূমিতে ছাগল চরাতে পাঠানো হয়।
- সেখানে খুল্লনা দেবী চণ্ডীর পূজা করেন, যা ধনপতি দেখে ভাঙার চেষ্টা করেন।
- তবে খুল্লনা ও দেবী চণ্ডী মিলিতভাবে ধনপতি ও পরিবারকে রক্ষা করেন।
- ধনপতির ছেলে শ্রীমন্ত উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের পরে বাণিজ্যিক কাজে সিংহলে পাঠানো হয়।
- সেখানে তিনি কমলে কামিনী দেখেন।
- ধনপতি রাজাকে ঘটনা জানান, কিন্তু রাজা তখন তা প্রত্যক্ষ করতে পারেননি।
- পরে দেবী চণ্ডীর কৃপায় রাজা ও ধনপতি উভয়ই উদ্ধার হন।
- শেষে রাজা শ্রীমন্তকে তার কন্যা সুশীলা ও জয়াবতী-এর সঙ্গে বিবাহ প্রদান করেন।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দেবীর পূজা, ন্যায়-অন্যায়, কৌশল ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে চরিত্রের শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫২.
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্য কয়টি ধারায় বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

•খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৩.
‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম কী?
  1. ক) পদ্মাপুরাণ
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
- ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালী পালা।

- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- চাঁদ সওদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা,পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির স্বীকার করে বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫৪.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান স্ত্রীদেবতা কোনটি?
  1. ফুল্লরা
  2. কালী
  3. চণ্ডী
  4. সনাকা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য। 

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
‘বিদ্যাসুন্দর' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

অন্যদিকে,
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অপর নাম অভয়ামঙ্গল। 
• ধর্মমঙ্গল কাব্য ধর্ম ঠাকুরের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
কালকেতু ও ফুল্লরা —বিখ্যাত এ চরিত্র দুটি কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তিনি ষোল শতকের কবি।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৭.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কয়টি উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন কী?
  1. ক) চতুর্দশপদী কবিতা
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা মঙ্গলকাব্য। এ সময়ে পাওয়া যায় - মনসামঙ্গল কাব্য, চণ্ডীমঙ্গলকাব্য, ধর্মমঙ্গল কাব্য, কালিকামঙ্গল কাব্য, অন্নদামঙ্গল কাব্য, শীতলামঙ্গল কাব্য। এ সময়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
৫৯.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্য কৃষিকাজের জন্য উপযোগী?
  1. ক) রুপকথা
  2. খ) পুঁথি সাহিত্য
  3. গ) ডাক ও খনার বচন
  4. ঘ) লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
ব্যাখ্যা
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।
- তাই মধ্যযুগের ডাক ও খনার বচন কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
- বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল।
- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। 
- ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী, লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও  খনা একই ব্যক্তি।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাকার্ণব বাংলা ভাষার আদিগ্রন্থ।
- এটি কৃষি, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণস্বাস্থ্য ও প্রাত্যহিক জীবন সংক্রান্ত প্রজ্ঞা-বচনের সমাহার

উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০.
'রাজা হরিশ্চন্দ্র' ও 'লাউসেন' এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে কোন মঙ্গল কাব্যে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত কাহিনি সংখ্যা কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি- ১ রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি এবং ২. লাউসেনের কাহিনি। এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

• রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি:
রাজা হরিশ্চন্দ্র ও তাঁর রানী মদনা নিঃসন্তান ছিলেন বলে লজ্জায় লোকের কাছে মুখ দেখাতে পারছিলেন না। মনের দুঃখে তাঁরা ঘুরতে ঘুরতে বলুকা নদীর তীরে এসে দেখলেন সেখানে ভক্তেরা ধর্মের পূজা করছে। রাজারানীও ধর্মের পূজা করে তাঁর কাছে পুত্রবর প্রার্থনা করলেন। ধর্ম তাঁদের পুত্রলাভের বর দিলেন। পুত্রটিকে যথা সময়ে ধর্মের কাছে বলি দিতে হবে। রাজা পুত্রের মুখ দেখার আশায় তাতেই রাজি হলেন। পুত্র জন্মালে তার নাম রাখা হল লুইচন্দ্র বা লুইধর। একসময় রাজারানী প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে গেলেন। একদিন ব্রাহ্মণের বেশে ধর্মঠাকুর উপস্থিত হয়ে রাজপুত্রের মাংস ভক্ষণের আকাঙ্ক্ষা জানালেন। রাজারানী প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করে পুত্রের দেহ কেটে রান্না করলেন। এতে ধর্মঠাকুর সন্তুষ্ট হয়ে নিজ মূর্তি ধারণ করে রাজপুত্রকে ফিরিয়ে দিলেন। রাজা মহাসমারোহে ধর্মের পূজা করলেন।

• লাউসেনের কাহিনি:
গৌড়েশ্বরের একজন সামন্ত-নাম কর্ণসেন। ইছাই ঘোষ নামে জনৈক সামন্তের আক্রমণে কর্ণসেনের ছয় পুত্র মারা যায়। বৃদ্ধ বয়সে সকল পুত্রের মৃত্যুতে তিনি ভেঙে পড়েন। গৌড়েশ্বর কর্ণসেনকে সংসারে আবদ্ধ রাখার জন্য নিজের শ্যালিকা রঞ্জাবতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন। গৌড়েশ্বরের শ্যালক মহামদ তা পছন্দ করে নি। সে বৃদ্ধ ভগ্নিপতি কর্ণসেনকে আঁটকুড়ে বলে উপহাস করে। রঞ্জাবতী এ গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ধর্মঠাকুরের কাছে পুত্রবর চেয়ে কঠোর ব্রত পালন করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬২.
নিম্নের কোনটি মঙ্গল কাব্যের অংশ নয়?
  1. বন্দনা
  2. আত্মপরিচয়
  3. দেবপরিচয়
  4. দৈব্যলোক
সঠিক উত্তর:
দেবপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবপরিচয়
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
• প্রতিটি মঙ্গলকাব্যে একেকজন দেবতার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এরা লৌকিক দেবতার সঙ্গে পৌরাণিক দেবতার সংমিশ্রণে সৃষ্ট বাঙালির নিজস্ব দেবতা। বহিরাগত আর্যদেবতাদের বিরুদ্ধে অনেক সংগ্রাম করে এদেরকে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হয়েছে। আর্যদেবতাদের বিরুদ্ধে এই বিজয়ের কারণে মঙ্গলকাব্যের ‘মঙ্গল’ শব্দটি ‘বিজয়’ অর্থেও গ্রহণ করা হয়। এমনকি কোনো কোনো মঙ্গলকাব্যের নামের সঙ্গে ‘বিজয়’ শব্দটি সংযুক্তও হয়েছে, যেমন বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের মনসাবিজয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর। এদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের সাধারনত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা -
-  বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড
- শ্রুতিফল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬৩.
“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের কোন শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” - উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের চণ্ডীমঙ্গল শাখার কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান থেকে নেওয়া।
- উক্তিটি ফুল্লরা বলেছে তার স্বামী কালকেতুকে
--------------------------------
• চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ড: কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।

- চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ডে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনি রচিত।
- নায়ক কালকেতু এবং নায়িকা ফুল্লরা।
- খল চরিত্র হিসেবে রয়েছে ভাঁড়ু-দত্ত ও মুরারী শীল।

- কাহিনী:
- কাহিনির সূচনা হয় শিবভক্ত নীলাম্বর শাপগ্রস্ত হয়ে মর্ত্যে আগমনের মাধ্যমে। নীলাম্বর কলিঙ্গ জনপদে কালকেতু নামে জন্মায় এবং তাঁর স্ত্রী ছায়া ফুল্লরা নামে জন্মগ্রহণ করে। মর্ত্যে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কালকেতু বনের পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু তার অত্যাচারে পশুরা দেবী চণ্ডীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। চণ্ডী গুইসাপরূপে কালকেতুর সামনে উপস্থিত হয়ে শিকার প্রতিরোধ করে। কালকেতু শিকার না পেয়ে গুইসাপরূপী চণ্ডীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে হাটে চলে যায়। 
ফুল্লরা বাসায় ফিরে দেখে চণ্ডী সুন্দরী নারীমূর্তি ধারণ করে বসে আছে। এটি দেখে ফুল্লরা রেগে যায় এবং চোখ লাল হয়ে প্রতিবাদ করে বলে: “পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।”
পরে দেবী স্বরূপে ফিরে এসে ফুল্লরাকে পূজা প্রচারের প্রলোভন দেখান এবং কালকেতুকে দুটি উপহার দেন—মানিক অঙ্গুরীয় ও সাত ঘড়া সোনার মহর, যা বিক্রি করে গুজরাট বন কেটে নগর গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কালকেতু নগর তৈরি করেন, কিন্তু লোক না থাকায় দেবী বন্যা প্রেরণ করে যাতে লোক আসে এবং বিনিময়ে চণ্ডীর পূজা করা হয়। কিছু মুসলমানও আসে, তবে তাদের পূজা বাধ্যতামূলক নয়। এরপর ভাড়-দত্ত নামে প্রতারক লোক আসে, যার কারণে কলিঙ্গ রাজা কালকেতুকে পরাজিত করে। দেবীর স্বপ্নাদেশে কালকেতু পুনরায় বাড়ি পৌঁছায় এবং অবশেষে সকলেই চণ্ডীর ক্ষমতা বুঝে তার পূজা প্রচার করতে থাকে।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪.
'লখিন্দর' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ। চন্ডীমঙ্গল মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা। চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহ- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারি শীল। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬৫.
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) নারায়ন দেব
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয় গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত। 
- বিজয় গুপ্ত (১৫ শতক)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তাঁর কাব্যের ভণিতা থেকে কাব্য রচনার কাল পাওয়া যায় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।

- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ন দেব। নারায়ন দেবের কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। 
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক বিপ্রদাস পিপিলাই। তাঁর রচিত কাব্যের নাম মনসা বিজয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রথম খণ্ডের প্রধান কাহিনি কোনটি?
  1. মানসিংহের যশোর অভিযান
  2. সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
  3. ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা
  4. বিদ্যাসুন্দর প্রেমকাহিনি
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

৬৭.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' পঙক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. বেগম রোকেয়া
  3. মুকুন্দরাম
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।"
- "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।"
- "নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৮.
"মালিনী" মধ্যযুগের কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৯.
'বিদ্যাসুন্দর' ও 'মানসিংহ' কোন কাব্যের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭০.
নিম্নে কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত নয়?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত নয় = চণ্ডিকামঙ্গল।
----------------------------------------
• মঙ্গকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।

• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭১.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
• এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো:
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭২.
নিচের কোন মঙ্গলকাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা ফুটে উঠেছে?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে মঙ্গলকাব্যে দেখা যায়:
• সমাজের নানা স্তরের মানুষের আচরণ, বিশ্বাস ও আচার।
• লোকায়ত ধর্মচর্চা, পরিবার, গ্রামীন পরিপ্রেক্ষিত।
• দেবতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বা সম্পর্ক।
• ধর্ম ছাড়াও মানবিকতা, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির চিত্র।

• মনসামঙ্গল:
চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান, সমুদ্রযাত্রা, এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের (বণিক, শ্রমিক, ভক্ত) ভূমিকা এই কাব্যে বিশদভাবে ফুটে উঠেছে।
চাঁদ সওদাগরের মনসা দেবীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং তার বাণিজ্যিক জীবনের বিবরণ এই কাব্যের মূল বিষয়।
অর্থ্যাৎ,
- এ চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা।

অন্যদিকে,
• চণ্ডীমঙ্গল- এ ধনপতি সওদাগরের গল্পে বণিক সম্প্রদায়ের প্রাধান্য এবং সামাজিক শ্রেণির গতিশীলতা।
• ধর্মমঙ্গল- এ নিম্নবর্গের মানুষের সংগ্রাম ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন।
• অন্নদামঙ্গল: দেবী অন্নপূর্ণার পূজা এবং ভবানন্দ মজুমদারের কাহিনি বর্ণিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৭৩.
'ঈশ্বরী পাটনী' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল 
  2. ধর্মমঙ্গল 
  3. অন্নদামঙ্গল 
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• 'ঈশ্বরী পাটনী' অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র। 

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৪.
মঙ্গলকাব্য হলো-
  1. ক) রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা সম্পর্কিত কাব্য
  2. খ) শিব উপাসকদের রচিত সাহিত্য
  3. গ) লোকমুখে প্রচারিত কবতা ও গীত
  4. ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
ব্যাখ্যা

মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৪. অন্নদামঙ্গল।
এছাড়াও কালিকামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি কিছু অপ্রধান মঙ্গলকাব্য রয়েছে।

একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।
মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৫.
বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন মঙ্গলকাব্যে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়-বণিক খণ্ড। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে একটি মাত্র কাহিনি রয়েছে। 

• প্রথম খণ্ড: আক্ষেটিক খণ্ড বা ব্যাধ কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান'।প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
• দ্বিতীয় খণ্ড: বণিক খণ্ড বা ধনপতি সওদাগরের কাহিনি।দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬.
'সনকা' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এবং এই কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭.
কালিকামঙ্গল কাব্যধারার কবি নন কে?
  1. ক) কবি কঙ্ক
  2. খ) সাবিরিদ খান
  3. গ) রমাপদ সেন
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। 
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক
- এছাড়া সাবিরিদ খানরমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৮.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম -
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. বিজয়পুরাণ
  3. মনসাবিজয়
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম - মনসাবিজয়।

• বিপ্রদাস পিপিলাই:  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিপ্রদাস পিপিলাই এর কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানা হরি দত্ত।
- 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের আদি কবি - মানিক দত্ত।
- 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
- ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৯.
‘ধনপতি সদাগরের কাহিনি’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
 
• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানে রয়েছে ধনপতি সদাগরের কাহিনি। উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।'- এই মনোবাঞ্ছাটি কার?
  1. ভবানন্দের
  2. ভাঁডুদত্তের
  3. ঈশ্বরী পাটনীর
  4. ফুল্লরার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনীর
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
• ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন খণ্ডে তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে। প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনী। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা ঐতিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়।

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট ঈশ্বরী পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম স্ট্যান্ডার্ড।

• অন্নদামঙ্গলে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের মতো এতে দৈবপ্রাধান্য কম, সে স্থান দখল করেছে মানুষ। এখানে দেবীর সন্তুষ্টিকামনা অপেক্ষা রাজার সন্তুষ্টিকামনা তীব্রতর। মূলত নদীয়ার রাজবংশের গৌরবময় ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে কবি সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে দৈব ঘটনা মিশিয়ে নগরসংস্কৃতিসুলভ একটি আদিরসাত্মক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেছেন। এর সাহিত্যিক মূল্যও অসাধারণ। উপমাদি অলঙ্কার এবং ছন্দপ্রয়োগে তিনি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে তাঁর মৌলিকত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮১.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. মনসামঙ্গল
  2. পদ্মপুরাণ
  3. মনসাবিজয়
  4. গোরক্ষ বিজয়
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা

• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ: 
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া,
- মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
- কবি বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়।
- নাথ সাহিত্যের প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'গোরক্ষ বিজয়'।
-----------------
⇒ মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২.
মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় কাকে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' কে।

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের/মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৪.
বিজয়গুপ্ত কোন মঙ্গলকাব্য ধারার কবি
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ক) মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত - পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।

• সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।

• আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের?
  1.  মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- করিতে বাঘের দুধ মিলে।
- বড়র পিরীতি বালির বাধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণকে চাঁদ।
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৬.
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৭.
পৌরাণিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. চণ্ডিকামঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৮.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র 'ধনপতি'?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র 'ধনপতি'।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজমাধব
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০.
কালকেতু উপাখ্যানের কবি কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• কালকেতু উপাখ্যান মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর "চণ্ডীমঙ্গল" কাব্যের একটি অংশ।

• চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• ‘কালকেতু উপাখ্যানে’ ফুল্লরার উদ্দেশ্যে কালকেতু বলেছে:
শাশুড়ি ননদি নাহি নাহি তোর সতা।
কার সঙ্গে দ্বন্দ্ব করি চক্ষু কৈলি রাতা।।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; (‘কালকেতু উপাখ্যান’: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী)।

৯১.
‘চৈতন্য- মঙ্গল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ক) জয়দেব
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) কৃষ্ণদাস
  4. ঘ) লোচন দাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোচন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোচন দাস
ব্যাখ্যা

'চৈতন্য-মঙ্গল' গ্রন্থটি লোচন দাসের রচনা। এটি বাংলা ভাষায় রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।
এছাড়া বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত, 'চৈতন্য- ভাগবত'।
সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী কৃষ্ণদাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৯২.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে কোন কাব্যটি রচনা করেন?
  1. কেতকামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

অন্যদিকে,
- ধর্মমঙ্গল ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩.
কোনটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ নয়?
  1. ক) শ্রুতিফল
  2. খ) মর্ত্যখন্ড
  3. গ) আত্মপরিচয়
  4. ঘ) বর্ণনাখন্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণনাখন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণনাখন্ড
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ -
- বন্দনা,
- আত্নপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড এবং
- শ্রুতিফল।

• বর্ণনাখণ্ড নামে কোন খণ্ড নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪.
মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশের মধ্যে কোনটি দেবতার মহিমা ও কার্য বর্ণনা করে?
  1. স্বর্গ খণ্ড
  2. বন্দনা
  3. আত্মপরিচয়
  4. মর্ত্যখণ্ড
সঠিক উত্তর:
স্বর্গ খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্গ খণ্ড
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশের মধ্যে দেবখণ্ড বা স্বর্গ খণ্ড অংশে মূলত স্বর্গীয় দেবতাদের মহিমা, কার্য, পৌরাণিক ও লৌকিক দেবতার পারস্পরিক সম্পর্ক, দেবতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্বর্গীয় পটভূমিতে তাদের দ্বন্দ্ব ও চক্রান্ত বর্ণিত হয়। এখানে দেবতার পৃথিবীতে পূজা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে।
-------------------------- 
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি আখ্যানধর্মী কাব্য।
- এই কাব্যের মূল সাধারণত দেব-দেবী ও তাদের আখ্যানভাগ।
- এই যুগের কবিরা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কাব্য রচনা শুরু করতেন এবং প্রায়শই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে কাহিনি শুরু হত।
- মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে নায়করা সাধারণত স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষ রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাদের স্ত্রীও একইভাবে জন্ম নেন।
- মর্ত্যে তারা মানুষের মতো আচরণ করেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দেবীর পূজা প্রচারের পরে শাপমুক্ত হয়ে আবার স্বর্গে ফিরে যান।

- মঙ্গলকাব্য সমাজ ও ধর্মের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
- এতে দেখা যায় দুঃখের কাহিনি, বারমাসী গান, চৌতিশা, নারীর পতি নিন্দা, রন্ধনশিল্প ইত্যাদির বর্ণনা।
- কাব্যটি ছন্দপয়ার ও ত্রিপদী আকারের হয়, যা মূলত পাঁচালি ধরনের এবং মঞ্চে উপস্থাপন করা হত।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত পাঁচটি অংশ থাকে:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড, এবং
- শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
- প্রথম হলো লৌকিক ধারা, যা খাঁটি মঙ্গলকাব্য হিসাবে পরিচিত। 
- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর),
- সারদামঙ্গল,
- শিবমঙ্গল,
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল।

- দ্বিতীয় হলো পৌরাণিক ধারা, যা বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক।
- এর মধ্যে রয়েছে- 
- অন্নদামঙ্গল,
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা হলো তিনটি—
- মনসামঙ্গল, যা তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- এবং তুলনামূলকভাবে আধুনিক- অন্নদামঙ্গল। 
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'বন্দনা অংশ'- বিভিন্ন দেব-দেবী, গুরু এবং সম্মানীয় ব্যক্তিদের স্তুতি বা অর্চনাকে কেন্দ্র করে রচিত।

- ‘আত্মপরিচয়’ অংশে কবি নিজের পরিচয়, ভৌগোলিক অবস্থান, বংশপরিচয়, এবং স্বপ্নাদেশ বা দৈবনির্দেশে গ্রন্থ রচনার কারণ বর্ণনা করেন।

- মঙ্গলকাব্যের ‘মর্ত্যখণ্ড’ (বা নরখণ্ড/মানুষের কাহিনী) অংশটি মূলত লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং মর্ত্যলোকে তাঁদের পূজা প্রতিষ্ঠা করার কাহিনী নিয়ে রচিত। এই অংশে বর্ণিত হয় কিভাবে লৌকিক দেব-দেবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করে পূজা আদায় করেন।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি-
  1. ময়ূর ভট্ট
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উল্লেখ্য,
• ধর্মমঙ্গলের আদি কবি- 'ময়ূর ভট্ট'।
• চন্ডীমঙ্গলের আদি কবি-  মানিক দত্ত।
• ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি-  ঘনরাম চক্রবর্তী।

এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. রাধামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
রাধামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধামঙ্গল
ব্যাখ্যা

রাধামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয়। 

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক, সমাজচিত্রভিত্তিক এই কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, ১৫ম থেকে ১৮শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

প্রধান শাখা ৩টি:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- ধর্মমঙ্গল।

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯৭.
'পদ্মাপুরাণ' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অনদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮.
‘শেষ বড় কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. কোরেশী মাগনঠাকুর
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৯৯.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'। 
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা: 
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০০.
কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র?
  1. ভাঁড়ুদত্ত
  2. সনকা
  3. ধনপতি
  4. ফুল্লরা
সঠিক উত্তর:
সনকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনকা
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর।

অন্যদিকে,
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: - কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।