বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আধুনিক বিজ্ঞানসংক্রান্ত অন্যান্য

মোট প্রশ্ন১৯৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আধুনিক বিজ্ঞানসংক্রান্ত অন্যান্য

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৯৪

.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- 
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. অডিওমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।  
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
এক্স-রে মূলত কী ধরনের রশ্মি?
  1. ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
  2. নিউক্লিয়ার
  3. যান্ত্রিক
  4. কণিকাধর্মী
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে হলো একটি উচ্চ-শক্তির Electromagnetic Radiation, যা দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য (প্রায় 0.01-10 ন্যানোমিটার) এবং উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি সম্পন্ন।

আবিষ্কার:
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, যখন ক্যাটোড রে টিউবে উচ্চ ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি অদৃশ্য রশ্মি তৈরি হয় যা ফ্লুরোসেন্ট পর্দা উজ্জ্বল করে।
- তিনি এই রশ্মি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা চালান এবং দেখান যে এটি দেহের ভিতরের দৃশ্যমান ছবি তৈরি করতে পারে।

বৈশিষ্ট্য:
- Electromagnetic nature: কোন ভর বা চার্জ নেই।
- Penetrating power: হালকা পদার্থ যেমন ত্বক পার হয়, কিন্তু হাড় বা ধাতু অনেকাংশে আটকে রাখে।
- চিত্রায়ন: রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত।
- তাপ উৎপাদন: অত্যধিক এক্স-রে ত্বক বা কোষ ক্ষতি করতে পারে।

উদাহরণ ও ব্যবহার:
- চিকিৎসা: হাড় ভাঙা, দাঁতের সমস্যা, ফুসফুসের রেন্টজেন।
- শিল্প: ধাতুর ফাটল বা ভেতরের কাঠামো পরীক্ষা।
- বিজ্ঞান: অণু ও ক্রিস্টাল গঠন বিশ্লেষণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
Species Plantarum গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. মেন্ডেল
  3. ডারউইন
  4. ক্যারোলাস লিনিয়াস
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

• লিনিয়াসই Species Plantarum গ্রন্থের রচয়িতা।

• দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির সূচনা:

- ১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species Plantarum নামক গ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।

 
• দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির গুরুত্ব:

- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে লিনিয়াস—

- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন,
- জীবজগৎকে গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species)-তে বিভক্ত করার সুস্পষ্ট ধারণা দেন।
 
• জীবের শ্রেণিবিন্যাসে লিনিয়াসের অবদান:

- লিনিয়াসই সর্বপ্রথম জীবকে শ্রেণিবিন্যাস করার ক্ষেত্রে—

- শ্রেণি (Class),
- বর্গ (Order),
- গণ (Genus) এবং
- প্রজাতি (Species)
- এই ধাপগুলো ব্যবহার করেন।
 
• দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য:

- লিনিয়াসের প্রবর্তিত এই দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি অনুযায়ী—

- প্রতিটি জীবের নাম দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত,
- প্রথম শব্দটি জীবের গণের নাম,
- দ্বিতীয় শব্দটি জীবের প্রজাতির নাম নির্দেশ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

.
আর্কিমিডিসের নীতি প্রযোজ্য-
  1. ক) কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. খ) তরল ও কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতিঃ
বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল উর্ধ্বচাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। তাই, কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।।
.
টেলিফোনের উপাংশ নয় কোনটি?
  1. সুইচ
  2. মাইক্রোফোন
  3. ট্রানজিস্টার
  4. রিংগার
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টার
ব্যাখ্যা
টেলিফোন
- টেলিফোন মানুষের মুখের কথা তাত্ক্ষণিক প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- ১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
- টেলিফোনে পাঁচটি উপাংশ পাঁচটি। যথা- সুইচ, রিংগার, কী প্যাড, মাইক্রোফোন এবং স্পিকার। 
- ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে ডাটা ট্রান্সমিট করে।
-  ISDN-এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে Integrated Service Digital Network.
- এটি নিয়মিত টেলিফোনের বিকল্প এক ধরনের টেলিফোন সার্ভিস।

- টেলিফোনে সংবাদ আদান দু'পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। 
যথা- এনালগ ও ডিজিটাল। 
 
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দকে সরাসরি তড়িতে পরিণত করে প্রেরণ করা হয়। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে তড়িৎশক্তিকে ডিজিটাল সংবাদে রূপান্তর করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. ওডোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ম্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে অডিওমিটার ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
পোলিও টীকা আবিস্কারক জোনাস সাল্ক যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে মারা যান, শহরটির নাম-
  1. La Martini
  2. La Zola
  3. San Antonio
  4. San Hose
সঠিক উত্তর:
La Zola
উত্তর
সঠিক উত্তর:
La Zola
ব্যাখ্যা
পোলিও:
- পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস) হল পোলিওভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি পঙ্গু করে দেওয়া এবং প্রাণ-সংশয়কারী রোগ, যা একজন ব্যক্তির মেরুদন্ডকে সংক্রামিত করতে পারে, যার ফলে পক্ষাঘাত হতে পারে।
- পোলিও টিকা পোলিও প্রতিরোধ করতে পারে।
- OPV-এর পূর্ণরূপ: Oral Polio Vaccine যা পোলিও রোগের টীকা।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ জোনাস সাল্ক:
- ১৯১৪ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া জোনাস সাল্ক ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ১৯৩০-এর দশকে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্লুর প্রতিষেধকের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। 
- ১৯৪৮ সালে পোলিও ভাইরাস নিয়ে গবেষণা এবং প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টার জন্য বৃত্তি পান।
- ১৯৫০ সালের দিকে পোলিও ভ্যাকসিনের প্রাথমিক একটি সংস্করণ তৈরিতে সফল হোন।
- ১৯৫২ সালে সাল্কের নেতৃত্বে একটি দল প্রথম পোলিও টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করে।
- ১৯৫৪ সালে এই টিকার পরীক্ষাগার প্রয়োগ শুরু হয়।
- ১৯৫৫ সালে এই টিকা কার্যকর এবং নিরাপদ বলে ঘোষণা করা হয়।
-  ১৯৯৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা নামক শহরে মারা যান জোনাস সাল্ক। 

উৎস: Britannica.
.
নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম পরমাণুকে আঘাত করা হয়-
  1. ইলেক্ট্রন দ্বারা
  2. নিউট্রন দ্বারা
  3. পজিট্রন দ্বারা
  4. প্রোটন দ্বারা
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন দ্বারা
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' কোন বিজ্ঞানী প্রথম ধারণা করেছিলেন? 
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. জোহান কেল্লার 
  3. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
  4. গ্যালিলিও গ্যালিলি
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস 
ব্যাখ্যা

নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
- গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

আইজ্যাক নিউটন: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
জগদীশচন্দ্র বসু কোন বৈদ্যুতিক ডিভাইস ব্যবহার করে রেডিও সংকেত শনাক্ত করেন?
  1. অর্ধপরিবাহি জাংশন
  2. রেজিস্টর
  3. ট্রানজিস্টর 
  4. ক্রেস্কোগ্রাফ
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহি জাংশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহি জাংশন
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫ মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
১ অ্যাটোসেকেন্ড = কত সেকেন্ড?
  1. ১০-৮০ সেকেন্ড
  2. ১০-৮ সেকেন্ড
  3. ১০-২৮ সেকেন্ড
  4. ১০-১৮ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
১০-১৮ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০-১৮ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• ১ অ্যাটোসেকেন্ড = ১০-১৮  সেকেন্ড।
- পদার্থবিদ্যায় ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন পিয়েরে অ্যাগোস্টিনি (যুক্তরাষ্ট্র), ফেরেন্স ক্রাউজ (হাঙ্গেরি) ও অ্যান হুইলেয়ার (ফ্রান্স)।
- ইলেকট্রন ডাইনামিকস নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পেয়েছেন তারা।
...................
...................
“এবার নোবেল দেওয়া হয়েছে এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিক্সের উপরে কাজের জন্য। তারা গবেষণা করেছেন লেজার ফিজিক্স নিয়ে সেখানে তারা অ্যাটোসেকেন্ডের লেজার পালস পদ্ধতি বের করেছেন। এটি একটি যুগান্তকারী কাজ কারণ এই পালস বস্তুর মধ্যে ইলেক্ট্রনের গতি প্রকৃতি জানতে সাহায্য করবে।
তাদের কাজের গুরুত্ব বুঝতে হলে ১ অ্যাটোসেকেন্ড কী, সেটা আগে বুঝতে হবে। ১ এর পরে ১৮ টা শূন্য দিলে যে নম্বর সেটা দিয়ে ১ সেকেন্ডকে ভাগ দিলে যে সময় হয় সেটা ১ অ্যাটোসেকেন্ড। ইলেকট্রনের পালস বুঝতে তারা খুবই ক্ষুদ্র সময়ের জন্য ইলেকট্রনের উপর আলোকসম্পাতের পদ্ধতি বের করেছেন।
ইলেকট্রনের আচরণ বুঝতে পারার জন্য ওই অল্প সময়ের পালস গণনা দরকার। তারা দুর্দান্ত একটি গবেষণা করেছেন। পদার্থের আণবিক কণার মধ্যে ইলেকট্রনের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।”

- জটিল এই গবেষণার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।

উৎস:
১) ৩ অক্টোবর, ২০২৩, ডেইলি স্টার।
২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।
১২.
কোন কণাটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সময় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয় এবং চেইন রিয়‍্যাকশন সৃষ্টি করে?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. ফোটন
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission):
-  নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission) প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-২৩৫ বা প্লুটোনিয়াম-২৩৯) নিউট্রনের আঘাতে বিভক্ত হয়।
-  বিভাজনের ফলে নতুন নিউট্রন নির্গত হয়, যা অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে সংঘর্ষ করে আরও নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং একে বলে চেইন রিয়্যাকশন (Chain Reaction)।
- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক বোমা এই চেইন রিয়্যাকশনের উপর নির্ভর করে কাজ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা
১৩.
মহাবিশ্ব গবেষণায় অবদান রাখা জামাল নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ইংরেজি বইটির নাম কী? 
  1. দ্য অরিজিন অফ ইউনিভার্স
  2. ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম
  3. ব্ল্যাক হোলস অ্যান্ড বেবি ইউনিভার্স
  4.  ফার ফিউচার অফ দ্য ইউনিভার্স
সঠিক উত্তর:
 ফার ফিউচার অফ দ্য ইউনিভার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ফার ফিউচার অফ দ্য ইউনিভার্স
ব্যাখ্যা

• বাঙালি বিশ্ববিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞানে জামাল নজরুল ইসলামের মতো অবদান আর কারও নেই। এই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্ম তাঁর বাবার কর্মক্ষেত্র ঝিনাইদহে ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ সালে। 
- পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, এবং তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল আপেক্ষিকতা, বিশ্বতত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব।
- আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কসমোলজি ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্বের মতো জটিল বিষয় নিয়ে মৌলিক গবেষণা করেছেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই 'কৃষ্ণগহ্বর’ (ব্ল্যাক হোল)।
- ছাত্রজীবনে তাঁর সমসাময়িক ও আজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিস্ময়কর বিজ্ঞান-প্রতিভা স্টিফেন হকিং। কেমব্রিজ এবং পশ্চিমে শিক্ষার গবেষণা ও অধ্যাপনায় থাকাকালে তাঁর বন্ধু ও সুহৃদমহল গড়ে ওঠে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তাঁর শিক্ষক ফ্রিম্যান ডাইসন, পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান, ভারতের সুব্রহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর, পাকিস্তানের আবদুস সালাম, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অমিয় বাগচী, তাঁর সহপাঠী জয়ন্ত নারলিকার, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম মার্লিস প্রমুখ।  

- তাঁর গবেষণা আইনস্টাইন-পরবর্তী মহাবিশ্ব গবেষণায় বিরাট অবদান রেখেছে। তিনি এই ধারায় গবেষণা অব্যাহত রেখে পরবর্তীকালে লেখেন ফার ফিউচার অব দ্য ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ভবিষ্যৎ
- জামাল নজরুল ইসলাম দেশে গড়ে তুলেছেন উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণাগার আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গাণিতিক ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র বা রিচার্স সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস), যেটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশের প্রবীণ পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর এ এম হারুন-অর রশিদ ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আগত খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী, আপেক্ষিকতত্ত্ববিদ এবং বিশ্ব সৃষ্টি তাত্ত্বিকদের অবদান’ স্মরণ করে এ প্রতিষ্ঠানকে প্রফেসর ইসলামের শ্রেষ্ঠ কীর্তি আখ্যা দিয়েছিলেন।
- ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মধ্যরাতে এ মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।

১৪.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. ব্যারোমিটার 
  2. ফ্যাদোমিটার 
  3. টেলিস্কোপ 
  4. সিসমোমিটার
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৫.
আপেক্ষিক তত্ত্বটি কে উপস্থাপন করেন?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. হাইজেনবার্গ
  3. মার্কস প্ল্যাঙ্ক
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

• উত্তর: ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন। 
আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) প্রস্তাব করেন আলবার্ট আইনস্টাইন, যা সময়, স্থান ও গতির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে।

আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। যথা- 
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব। 
• সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা - 
• প্রথম স্বীকার্য- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে । 
• দ্বিতীয় স্বীকার্য- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
কসমিক-রে নামক রশ্মির আবিষ্কারক কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন 
  2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 
  3. কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসন 
  4. আইজ্যাক নিউটন
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। 
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়। 
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

১৭.
কোন তত্ত্বের বিকাশের ফলে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়?
  1. ক) আপেক্ষিকতা
  2. খ) নিউটনীয় বলবিদ্যা
  3. গ) স্ট্রিং থিওরি
  4. ঘ) ক্যাওস থিওরি
সঠিক উত্তর:
ক) আপেক্ষিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আপেক্ষিকতা
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করে। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান,কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর,এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

১৮.
ডিজিট্যাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. এলইডি
  2. সিলিকন চিপ
  3. এলসিডি
  4. আইসি
সঠিক উত্তর:
এলসিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলসিডি
ব্যাখ্যা
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।
- সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই।  যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
১৯.
মেটেরিওলজির আলোচ্য বিষয় কী?
  1. আবহাওয়া
  2. মহাকাশ
  3. অস্ত্র
  4. জলানুসন্ধান
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া
ব্যাখ্যা

◉ মেটেরিওলজি (Meteorology) হলো আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- এটি বায়ুমণ্ডলের অবস্থা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করে।

মেটেরিওলজির আলোচ্য বিষয়:
- আবহাওয়া পূর্বাভাস (Weather Forecasting), 
- ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, বৃষ্টিপাত বিশ্লেষণ, 
- বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিবর্তন, 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণা। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) মহাকাশ: এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) বা অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (Astrophysics) এর অন্তর্ভুক্ত।
গ) অস্ত্র: অস্ত্র গবেষণা বলিস্টিক্স (Ballistics) বা মিলিটারি টেকনোলজি এর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) জলানুসন্ধান: জল অনুসন্ধান সংক্রান্ত গবেষণা হাইড্রোলজি (Hydrology) এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২০.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন কে? 
  1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক 
  2. নিউটন 
  3. আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও 
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্লাঙ্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্লাঙ্ক 
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
'Newmania nobiprobia' বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. মো. বেলাল হোসেন কর্তৃক অতি সম্প্রতি আবিষ্কৃত-
  1. একটি পানিবাহিত রোগ
  2. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম জীবাশ্ম
  3. অতি ক্ষুদ্র সপূষ্পক উদ্ভিদ
  4. একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী
সঠিক উত্তর:
একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী
ব্যাখ্যা
'Newmania nobiprobia' বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. মো. বেলাল হোসেন কর্তৃক আবিষ্কৃত একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

• ড. বেলাল হোসেন বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী এবং গবেষক।
- তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
- তিনি একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি পলিকীটের সম্পূর্ণ নতুন প্রাণির সন্ধান দিতে পেরেছেন।
- তার আবিষ্কারের মধ্যে Neumania nobiprobia (নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া) একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
- Neumania nobiprobia (নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া)- এর নামকরণ করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ নোবিপ্রবি-এর সঙ্গে মিল রেখে।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।
২২.
কোন যন্ত্র হিগস কণা (Higgs Boson) আবিষ্কারে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. Hubble Space Telescope
  2. Spitzer Space Telescope
  3. Large Hadron Collider
  4. Kepler Space Observatory
সঠিক উত্তর:
Large Hadron Collider
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Large Hadron Collider
ব্যাখ্যা

◉ হিগস বোসন (Higgs Boson), যাকে অনেক সময় “God Particle” বলা হয়, এটি ২০১২ সালে CERN-এর Large Hadron Collider (LHC)-এ আবিষ্কৃত হয়। LHC হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কণাত্বরণযন্ত্র (particle accelerator), যা প্রোটনকে আলোর কাছাকাছি গতিতে সংঘর্ষ ঘটিয়ে নতুন কণা সনাক্ত করে।

হিগস বোসন: 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। 
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্ডরিত হয়। 
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

২৩.
'Adult Cell' ক্লোন করে কোন দেশে একটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে?
  1. যুক্তরাজ্যে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. অস্ট্রোলিয়ায়
  4. ফ্রান্সে
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্যে
ব্যাখ্যা
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
- ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
- ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
২৪.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ টি
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার গ্রহের গতির তিনটি সূত্র দিয়েছিলেন:
১। প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২। সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩। একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।
সূত্র: ''Kepler's Laws of Planetary Motion''

২৫.
মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত কোন অংশ উপস্থিত থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. নিউট্রন
  4. প্রোটন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটন উপস্থিত থাকে। প্রোটন হলো পরমাণুর একটি মূল কণা যা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। মহাবিশ্বের সাধারণ পদার্থের বড় অংশ হাইড্রোজেন গ্যাসের আকারে থাকে, এবং প্রতিটি হাইড্রোজেন পরমাণুতে একটিমাত্র প্রোটন থাকে। তাই মহাবিশ্বের জ্যোতির্মণ্ডলে যে রশ্মি বা বিকিরণ দেখা যায়, তার প্রধান উপাদান হিসেবে প্রোটনই প্রাধান্য পায়। অন্যদিকে, নাইট্রোজেন ও কার্বন মহাবিশ্বে কম পরিমাণে আছে, আর নিউট্রন সাধারণত প্রোটনের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং স্বাধীনভাবে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না। ফলে, মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটনই উপস্থিত।

- সঠিক উত্তর: ঘ) প্রোটন।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 

২৬.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২৭.
মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. নিউট্রন
  2. প্রোটন
  3. কার্বন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে প্রোটন (৮৯ ভাগ)।

• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 
২৮.
ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. জার্মেনিয়াম
  2. আর্সেনিক
  3. মাঙ্গানিজ
  4. টাংস্টেন
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া -টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p নিঃসারক ভূমি সংগ্রাহক ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়
- ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।

- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
- যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
  2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
  3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) আরহেনিয়াস
  4. ঘ) আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
গ) আরহেনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী আরহেনিয়াস ১৮৮১ সালে প্রথম তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা দেন।
তিনি দেখিয়েছিলেন এসিড, ক্ষার বা লবণজাতীয় যৌগিক পদার্থকে তরলে দ্রবীভূত করলে সেগুলো আয়নায়িত হয়ে সম-পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধানে ভাগ হয়ে যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১.
Biotechnology শব্দটি প্রথম কে, কোন বছর প্রবর্তন করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল, 1863 সালে 
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক, 1953 সালে
  3. স্ট্রাসবুর্গার, 1953 সালে
  4. কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
ব্যাখ্যা

- হাঙ্গেরীয় কৃষি প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) সর্বপ্রথম ১৯১৯ সালে "Biotechnology" বা "জৈবপ্রযুক্তি" শব্দটি প্রবর্তন করেন।

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 

- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২.
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন-
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩৩.
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে -
  1. ক্যাপাসিটর
  2. বায়ুশূন্য টিউব
  3. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  4. পাঞ্চ কার্ড
সঠিক উত্তর:
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
ব্যাখ্যা

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি)।
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- যার ফলে সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪.
E = mc2 সূত্রে m দ্বারা কি বুঝায়?
  1. ক) শক্তি
  2. খ) আলোর দ্রুতি
  3. গ) বস্তুর ভর
  4. ঘ) বস্তুর ওজন
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুর ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা

E = mc2
এখানে,
E (energy) = শক্তি
M (mass) = ভর
C (Light-velocity) = আলোর বেগ = 3×108 (মি./সে.)
আইনস্টাইনের বিখ্যাত E = mc2 সূত্র দ্বারা, শক্তি ও ভর যে অভিন্নতা নির্দেশ করে।
এই সূত্র অনুসারে m ভরের কোন বস্তুতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ (c) এর বর্গের গুনফল এর সমান।

৩৫.
হিগের কণার (Higgs Particle) প্রকৃতির সাথে কোন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাম জড়িয়ে আছে?
  1. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
  2. সত্যেন্দ্র নাথ বসু
  3. প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম
  4. ড. কুদরত-ই-খুদা
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্র নাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্র নাথ বসু
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন।
-----------------------

বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা- 

(i) গেজ বোসন (Gauge Boson): 
- এদের স্পিন হলো 1 । 
- এই কণাগুলো হলো- গণ্ডুওন (g), ফোটন (γ) এবং W ও Z বোসন। 
• গণ্ডুণ্ডন: গণ্ডুওন কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর শূন্য। 
• ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য। 
• W ও Z বোসন: W+, W- এবং W0 এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।

(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
ফ্যাক্স মেশিন কে, কোন সালে আবিষ্কার করেন? 
  1. থমাস এডিসন, ১৮৭৯ সালে 
  2. মাইকেল ফ্যারাডে, ১৮৩১ সালে 
  3. আলেকজান্ডার বেইন, ১৮৪২ সালে 
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, ১৮৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার বেইন, ১৮৪২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার বেইন, ১৮৪২ সালে 
ব্যাখ্যা

ফ্যাক্স (Fax): 
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন। 
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল। 
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়। 
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান। 

ফ্যাক্সের মূলনীতি: 
- ফ্যাক্স মেশিন হলো মূলত টেলিফোন, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও মোডেম সম্মিলিত একটি যন্ত্র। প্রেরক কোনো ডকুমেন্ট পাঠাতে চাইলে তিনি প্রথমে টোলফোনে ডায়াল করে প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনের সাথে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন। তারপর তার ডকুমেন্টটি ফ্যাক্স মেশিনে রাখলে ডকুমেন্টের যাবতীয় লেখা বা ছবি স্ক্যানারের মাধ্যমে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর হয়। সেই ছবি মোডেমের সাহায্যে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করে টেলিফোন লাইনের সাহায্যে প্রাপকের মোডেমে পাঠায়। প্রাপকের মোডেম সেই এনালগ সংকেতকে পুনরায় ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে ফ্যাক্স মেশিনের প্রিন্টারে পাঠায় এবং প্রিন্টারে সাহায্যে প্রেরকের পাঠানো ডকুমেন্টের হুবহু কপি প্রাপক পেয়ে যান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
প্রতিসরণের সূত্র কে প্রণয়ন করেন?
  1. নিউটন
  2. ম্যাক্সওয়েল
  3. আইনস্টাইন
  4. স্নেল
সঠিক উত্তর:
স্নেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেল
ব্যাখ্যা

প্রতিসরণ (Refraction):
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

প্রতিসরণের সূত্র:
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন, তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়
যেমন-
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
Photoelectric Effect ব্যাখ্যার জন্য কোন তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে?
  1. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. কণিকা তত্ত্ব
  3. তরঙ্গ তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• Photoelectric Effect বা আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তত্ত্ব প্রথম দেন আলবার্ট আইনস্টাইন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলো ধারাবাহিক তরঙ্গ নয়, বরং শক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট বা কণা আকারে নির্গত হয়, যাদের ফোটন বলা হয়। যখন নির্দিষ্ট ন্যূনতম কম্পাঙ্কের আলো কোনো ধাতুর পৃষ্ঠে আপতিত হয়, তখন ফোটন ধাতুর ইলেকট্রনকে শক্তি সরবরাহ করে। পর্যাপ্ত শক্তি পেলে ইলেকট্রন ধাতুর পৃষ্ঠ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসে। তরঙ্গ তত্ত্ব দিয়ে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি, তাই কোয়ান্টাম তত্ত্বই সঠিক উত্তর।
 
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
ট্রানজিস্টরে কয়টি টার্মিনাল থাকে?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর।
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
১৯২৪ সালে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু কী তত্ত্ব প্রদান করেন? 
  1. নিউক্লিয়াস তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব
  4. থিওরি অব রিলেটিভিটি
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, 1911 সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 
- 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 

- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং 1887 সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- 1905 সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক 1931 সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১.
হিগস বোসন কণার অপর নাম কী?
  1. আলফা কণা
  2. ফোটন
  3. ঈশ্বর কণা
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর কণা
ব্যাখ্যা

• হিগস বোসন কণা হলো মৌলিক পদার্থ যা ভরের উৎস, এবং সাধারণভাবে এটিকে “ঈশ্বর কণা (God Particle)” বলা হয়।

- ১৯৯৩ সালে লিওনার্ড গডেলম্যান (Leon Lederman) এই কণার জন্য বই লিখে এটিকে প্রখ্যাত করেন “God Particle” নামে।
- নামটি এসেছে কণাটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে পুরো পদার্থবিজ্ঞান এবং ব্রহ্মাণ্ডের গঠন বোঝার জন্য অপরিহার্য, কিন্তু খুব ধীরে ধীরে এবং কঠিনভাবে আবিষ্কার করা যায়।

হিগস বোসন কী?
- হিগস বোসন হলো একটি মৌলিক কণা যা হিগস ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- হিগস ক্ষেত্র হলো সেই ক্ষেত্র যা অন্য কণাগুলিকে ভর (Mass) প্রদান করে।
- এটি প্রথমভাবে প্রস্তাব করেন পিটার হিগস (Peter Higgs) ১৯৬৪ সালে।

আবিষ্কার ও পরীক্ষা:
- CERN-এর Large Hadron Collider (LHC)-এ ২০১২ সালে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
- এটি Standard Model of Particle Physics-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
 
বৈশিষ্ট্য:
- ভরযুক্ত কণার উৎপত্তি বোঝায়।
- স্থিতিশীল নয়; খুব দ্রুত অন্য কণায় রূপান্তরিত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞান ও মহাবিশ্বের গঠন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৪২.
নাসার বিজ্ঞানীরা যে নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন, বৈজ্ঞানিক ভাষায় সেটিকে কী বলা হয়? 
  1. Crescent Moon
  2. Waxing Gibbous Moon
  3. Quasi Moon
  4. First Quarter Moon 
সঠিক উত্তর:
Quasi Moon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Quasi Moon
ব্যাখ্যা

কোয়াসি-মুন:
- নাসার বিজ্ঞানীরা ২০২৫ পিএন৭ নামের একটি নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন।
- এটি একটি ছোট মহাকাশীয় বস্তু যা দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকে।
- এর কক্ষপথ এমনভাবে ঘোরে যে কখনও এটি পৃথিবীর সামনে দেখা যায়, আবার কখনও পিছনে চলে যায়।
- ফলে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পৃথিবীর উপগ্রহের মতো মনে হয়।
- কিন্তু এই নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তু পৃথিবীর উপগ্রহ নয়।
- এটি সূর্যের চারপাশে এমন কক্ষপথে ঘুরছে যা দেখে মনে হয় এটি পৃথিবীর সঙ্গে চলছে। 
- বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই ধরনের বস্তুকে ‘কোয়াসি-মুন’ বা আংশিক চাঁদ বলা হয়
- এটি মূলত ১৯ মিটার ব্যাসের একটি ছোট গ্রহাণু।
-এই ছোট গ্রহাণু ২০৮৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি থাকবে।

অন্যদিকে,
• Crescent Moon (অর্ধচন্দ্র) হলো চাঁদের এমন একটি পর্যায় যেখানে চাঁদ New Moon এবং পূর্ণিমার মধ্যে থাকে। 
- এসময় চাঁদের পুরো অংশ আলোকিত হয় না, শুধু ছোট অংশ সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হয়ে দৃশ্যমান হয়।

• Waxing Gibbous Moon হলো চাঁদের এমন পর্যায় যেখানে অর্ধেকের বেশি অংশ আলোকিত থাকে।

• First Quarter Moon হলো চাঁদের সেই পর্যায় যখন অর্ধেক অংশ আলোকিত থাকে এবং নিখুঁত অর্ধবৃত্তের মতো দেখা যায়।

উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. The Daily Ittefaq;
৩. BBC News.

৪৩.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. মার্কনী
  3. আইনস্টাইন
  4. ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
স্টিফেন হকিং কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সর্বাধিক পরিচিত?
  1. জিনতত্ত্ব
  2. রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  3. কোয়ান্টাম কম্পিউটার
  4. কৃষ্ণগহ্বর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা

◉ স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) একজন বিশ্ববিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও মহাকাশবিদ। কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণা তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি দিয়েছে। বিশেষ করে “হকিং রেডিয়েশন (Hawking Radiation)” তত্ত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং ছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.
- তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত Centre for Theoretical Cosmology এর পরিচালক ছিলেন।
- সম্মান: রয়্যাল সোসাইটির ফেলো, প্রেসিডেন্টিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, কপলি মেডেল
- ১৪ মার্চ ২০১৮ স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৫.
ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কী?
  1. নেনী
  2. টমি
  3. শেলী
  4. ডলি
সঠিক উত্তর:
ডলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডলি
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে।
- ক্লোনিং তিন ধরনের। যথা- 

১। জিন ক্লোনিং:
- একই জিনের অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে।
- জিন ক্লোনিং রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়।

২। সেল ক্লোনিং:
- একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই ধরনের কোষ তৈরি করাকে সেল ক্লোনিং বলে।

৩। জীব ক্লোনিং:
- একটি মাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে।
- প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অঙ্গজ জননের ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদ একটি ক্লোন।
- মনোজাইগোটিক যমজ একে অপরের ক্লোন।

- সম্প্রতি জিন প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব হয়েছে একই প্রাণীর দেহকোষ থেকে সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসকে বের করে সে প্রাণীর নিষেককৃত ডিম্বাণুতে ইনজেকট করে নিউক্লিয়াস স্থাপন করা।
- ডিম্বাণুতে দেহকোষের নিউক্লিয়াস স্থাপন করার পূর্বে নিষেককৃত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসকে অপসারণ করা হয়। এ ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয় তা হুবহু তার মাতার ন্যায় হয়।
- ডলি নামক ভেড়া হলো পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে।
- এ ক্লোনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শূকর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- ইঁদুর, ডলি নামক ভেড়া, বানর, প্রভৃতি ক্লোনিংয়ের পর বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন মানুষের উপর।
- এ প্রক্রিয়াটি কিন্তু মোটেই দূরূহ নয়, তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের ক্লোন করার প্রক্রিয়া আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) লিউয়েন হুক
  3. গ) রবার্ট হুক
  4. ঘ) মাইকেল ফ্যারাডে
সঠিক উত্তর:
খ) লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

১৬৮৩ সালে ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন ।
গ্যালিলিও টেলিস্কোপ ও থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন।
রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।
মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো ও তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র আবিস্কার করেন।
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ এবং ব্রিটানিকা।

৪৭.
কোয়াসি মুন কী?
  1. চাঁদের চারপাশে ঘূর্ণায়মান ছোট উপগ্রহ
  2. পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি ঘোরে কিন্তু স্থায়ী নয় এমন ক্ষুদ্র গ্রহাণু
  3. সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্রহ
  4. পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাকৃতিক উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি ঘোরে কিন্তু স্থায়ী নয় এমন ক্ষুদ্র গ্রহাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি ঘোরে কিন্তু স্থায়ী নয় এমন ক্ষুদ্র গ্রহাণু
ব্যাখ্যা

• কোয়াসি-মুন।
- কোয়াসি-মুন এমন একটি বস্তু, যা পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি ঘোরে, কিন্তু স্থায়ীভাবে পৃথিবীর উপগ্রহ নয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি একটি অজানা 'কোয়াসি-মুন' বা আধা-চাঁদ সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন।
- নতুন এই মহাজাগতিক বস্তুটির নাম '২০২৫ পিএন৭'।
- এটি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তবে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি অবস্থান করে।
- হাওয়াইয়ের হেলেয়াকালা আগ্নেয়গিরিতে অবস্থিত 'প্যান-স্টারস'- মানমন্দির গত ২৯ আগস্ট '২০২৫ পিএন৭'-কে প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষণ করে।

উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

৪৮.
রেডিয়েশন ডোজের একক কোনটি?
  1. বেকেরেল
  2. ওয়াট
  3. জুল
  4. সিভার্ট
সঠিক উত্তর:
সিভার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিভার্ট
ব্যাখ্যা

• SI একক সিস্টেমে রেডিয়েশন ডোজের একক হলো সিভার্ট (Sv)।

- রেডিয়েশন ডোজ হলো দেহে বিকিরণ দ্বারা শোষিত শক্তির পরিমাণ, যা মানুষের শরীরের কোষ বা টিস্যুতে প্রভাব ফেলে।
- এটি রেডিওঅ্যাকটিভ বিকিরণের ঝুঁকি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
- ১ সিভার্ট = শরীরের টিস্যু প্রতি কিলোগ্রামে ১ জুল শক্তি শোষণ + রেডিয়েশন টাইপ অনুযায়ী ক্ষতি মান্য।
- সাধারণভাবে ব্যবহার হয় মিলিসিভার্ট (mSv) বা মাইক্রোসিভার্ট (μSv) হিসেবে, কারণ পূর্ণ Sv অনেক বেশি শক্তিশালী।

রেডিয়েশন ডোজের ধরন:
- Absorbed Dose (Gy, Gray): শোষিত শক্তির পরিমাণ।
- Equivalent Dose (Sv): রেডিয়েশন টাইপ অনুযায়ী মানবদেহের ক্ষতির মান।
- Effective Dose (Sv): বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি গণনায় ব্যবহৃত।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৪৯.
রিখটার স্কেলে পরিমাপ করা হয়-
  1. ভূমিকম্পের তীব্রতা
  2. শব্দের তীব্রতা
  3. সমুদ্রস্রোত 
  4. আবহাওয়া পরিবর্তন 
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্পের তীব্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্পের তীব্রতা
ব্যাখ্যা

◉ ভূমিকম্পের আপেক্ষিক শক্তি/মাত্রা (Magnitude) রিখটার স্কেলে পরিমাপ করা হয়।

রিখটার স্কেল:
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে।
- 1935 সালে আমেরিকার ভূকম্প বিশারদ চার্লস ফ্রান্সিস রিখটার ভূমিকম্পের যে মাত্রামাপক স্কেল প্রণয়ন করেন সেই স্কেলকে রিখটার স্কেল বলে।
- রিখটার পরিমাপক স্কেল হলো কোন ভূমিকম্পের প্রাবল্যকে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা, এটি একটি 10 মাত্রা ভিত্তিক লগারিদম পরিমাপ।
অর্থাৎ এই পরিমাপে যে কোন সংখ্যার ভূমিকম্প- পূর্ববর্তী সংখ্যার চাইতে 10 গুণ বেশি শক্তিশালী।যেমন তিন মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে চার মাত্রার ভূমিকম্প দশগুণ বেশি শক্তিশালী।

ভূমিকম্প:
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে।
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৫০.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? 
  1. পুকুরে
  2. বিলে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ। 
- প্লবতা প্রবাহীর ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে (সমানুপাতিক)। 
- নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কিছু বেশি। 
- তাই সাঁতার কাটার সময় নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানিতে বেশি উর্ধ্বমুখী বল পাওয়া যায়। 
- এ কারণে নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও কালের কণ্ঠ।
৫১.
কোন গ্রিক বিজ্ঞানী পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেছিলেন?
  1. পিথাগোরাস
  2. অ্যারিস্টটল 
  3. ইরাতোস্থিনিস
  4. আর্কিমিডিস
সঠিক উত্তর:
ইরাতোস্থিনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাতোস্থিনিস
ব্যাখ্যা

গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২.
প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নাই - এ তত্ত্বের আবিষ্কারক কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ট
  4. মাইকেলসন ও মোরলি
সঠিক উত্তর:
মাইকেলসন ও মোরলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেলসন ও মোরলি
ব্যাখ্যা

৫৩.
আলফ্রেড নোবেল কি আবিষ্কার করেন?
  1. বিদ্যুৎ
  2. পোলিও টিকা
  3. ডিনামাইট
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
ডিনামাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিনামাইট
ব্যাখ্যা
আলফ্রেড নোবেল: 
- আলফ্রেড নোবেল সুইডিশ শিল্পপতি। 
- আলফ্রেড নোবেলের জন্ম ১৮৩৩ সালের ২১ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে। 
- বাবা ইমানুয়েল নোবেল ছিলেন প্রকৌশলী। 
- যুদ্ধাস্ত্র তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন বিস্ফোরক উদ্ভাবন করতেন তিনি। 
- তার বাবার কারখানায় কাজ শিখে আলফ্রেড নোবেল। 
- তিনি প্রথমে স্টকহোমে এবং পরে জার্মানিতে রাসায়নিক গবেষণাগার স্থাপন করেন। 
- ১৮৬৬ সালে জার্মানির গবেষণাগারে আবিষ্কার করেন ডিনামাইট। 

উল্লেখ্য, 
- আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পর ১৮৯৭ সালে গঠিত হয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। 
- ১৯০০ সালে গঠিত হয় নোবেল ফাউন্ডেশন। 
- ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করে যাঁরা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তাঁদেরকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 

উৎস: Britannica.
৫৪.
পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কিত সূত্রগুলো কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন? 
  1. গ্যালিলিও 
  2. কেপলার 
  3. নিউটন 
  4. আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও 
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies):
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

৩। তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
AIDS এর জীবাণু সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) Dr. Luc Montagnier
  2. খ) Dr. Robert Gallo
  3. গ) Dr. Jacques Benveniste
  4. ঘ) Dr. Emilio Del Giudice
সঠিক উত্তর:
ক) Dr. Luc Montagnier
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Dr. Luc Montagnier
ব্যাখ্যা
১৯৮৩ সালে ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী Dr. Luc Montagnier এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যামিক্যাল ইন্সটিটিউট এর Dr. Robert Gallo ১৯৮৪ সালে পৃথকভাবে AIDS এর জীবাণু সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫৬.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. সেক্সট্যান্ট 
  2. ক্রোনােমিটার 
  3. ম্যানোমিটার 
  4. ফ্যাদোমিটার 
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• অ্যানিমোমিটার - বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার - বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
সেক্সট্যান্ট - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ - ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ম্যানােমিটার - গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• জাইরাে কম্পাস - জাহাজের দিক নির্ণয়ের যন্ত্র। 
ক্রোনােমিটার - সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান এবং ব্রিটানিকা।

৫৭.
ফ্যাক্সের সাহায্যে কী করা যায়?
  1. তথ্য আদান প্রদান
  2. মেইল আদান প্রদান
  3. ডকুমেন্ট আদান প্রদান
  4. কথাবার্তা আদান প্রদান
সঠিক উত্তর:
ডকুমেন্ট আদান প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডকুমেন্ট আদান প্রদান
ব্যাখ্যা

- ফ্যাক্সের সাহায্যে ডকুমেন্ট আদান প্রদান করা যায়।

 ফ্যাক্স (Fax):
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন।
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল।
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়।
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক কে?
  1. টমাস এডিসন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জি মার্কনি
  4. গ্রাহামবেল
সঠিক উত্তর:
জি মার্কনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি মার্কনি
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ চৌম্বক বলকে একত্র করে তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারণা প্রকাশ করেন, যা কিনা বিনা তারে বার্তা প্রেরণের একটি সম্ভাবনা উন্মোচন করে।
- ১৮৯৫ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরণে সফল হন।
- ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করেন।
- একই সময়ে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে একই কাজে প্রথম সফলতা লাভ করে ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি।
- এজন্য তাকে বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামের দুইটি গণনা যন্ত্র তৈরি করেন।
- ১৯৯১ সালে তাঁর ডিজাইন থেকেই সফলভাবে কর্মক্ষম একটি যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- তাঁকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
বায়ুমণ্ডলের চাপের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি লিফট পাম্পের সাহায্যে সর্বোচ্চ যে গভীরতা থেকে উঠানো যায়-
  1. ১ মিটার
  2. ১০ মিটার
  3. ১৫ মিটার
  4. ৩০ মিটার
সঠিক উত্তর:
১০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ মিটার
ব্যাখ্যা
[Under ideal conditions the pressure of the air at sea level is enough to raise a column of water 10.3 m (34 ft) in a vertical pipe in which a perfect vacuum has been made. -WHO Document on Pumps.]

• বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে সাধারণ লিফট পাম্প দিয়ে পানি সর্বোচ্চ ১০ মিটার উঁচুতে তোলা সম্ভব।
• কারণ:
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ১.০১৩ × ১০ প্যাসকেল (1 atmosphere)
এই চাপ পানির স্তম্ভের উচ্চতার সমান = ১০.৩৩ মিটার (তাত্ত্বিকভাবে)
বাস্তবে ঘর্ষণ ও অন্যান্য কারণে এই উচ্চতা প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে

টরিচেলির শূন্যতার নীতি অনুযায়ী:
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ρgh
যেখানে, ρ = পানির ঘনত্ব (১০০০ কেজি/মি)
g = অভিকর্ষীয় ত্বরণ (৯.৮ মি/সে)
h = পানির স্তম্ভের উচ্চতা

১০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পানি তুলতে হলে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করতে হয় অথবা বুস্টার পাম্প ব্যবহার করতে হয়।
সুতরাং, বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ফলে লিফট পাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ মিটার গভীরতা থেকে পানি তোলা সম্ভব।
৬০.
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক কে?
  1. বোর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. হাইজেনবার্গ
  4. ডিরাক
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 

- ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক ১৯৩১ সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৬ সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১.
'অধরা কণা'র আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পদার্থ বিজ্ঞানী-
  1. মাকসুদুল আরম
  2. এম জাহিদ হাসান
  3. দীপঙ্কার তালুকদার
  4. সেলিম শাহরিয়ার
সঠিক উত্তর:
এম জাহিদ হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম জাহিদ হাসান
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।]

অধরা কণা
- একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা।
- এটির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী এম জাহিদ হাসান।
- এটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তৈরি করা যাবে।
- এটি অন্যান্য ইলেক্ট্রনের চেয়ে ১০০০ গুণ বেশি চার্জ পরিবহন করতে পারে।
- উল্লেখ্য যে, অধরা কণার অস্তিত্ব ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে হারম্যান ভাইল সর্বপ্রথম জানিয়েছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৬২.
সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন কে?
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) জেনোফেন
  4. ঘ) হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
গ) জেনোফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেনোফেন
ব্যাখ্যা
- ল্যামার্ক 'বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

 -সর্বপ্রথম, জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।

- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, ২০২১
৬৩.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) মহাকাশযান উৎক্ষেপণ
  2. খ) একজন মাঝির নৌকা চালানো
  3. গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  4. ঘ) বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা
সঠিক উত্তর:
গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র: বল প্রয়ােগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়ােগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। উদাহরণঃ
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক মতবাদ প্রকাশ করেন?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. এডুইন হাবল
  3. জর্জ ল্যামেটার
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
এডুইন হাবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডুইন হাবল
ব্যাখ্যা

১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬৫.
রেডিওঅ্যাক্টিভিটি আবিষ্কার করেন কে?
  1. মেরি কুরি
  2. পিয়ের কুরি
  3. হেনরি বেকেরেল
  4. আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
হেনরি বেকেরেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

◉ হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) ১৮৯৬ সালে ইউরেনিয়াম লবণের উপর গবেষণা করতে গিয়ে রেডিওঅ্যাক্টিভিটির আবিষ্কার করেন।

তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি”।
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী (Madame Marie Curie) এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথাঃ- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।

উৎস: Britannica.

৬৬.
কোন বিষয়ে অবদানের জন্যে ২০২০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়?
  1. ক) ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপির বিকাশ
  2. খ) লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
  3. গ) জিনোম এডিটিং পদ্ধতি
  4. ঘ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত
সঠিক উত্তর:
গ) জিনোম এডিটিং পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিনোম এডিটিং পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা। জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

৬৭.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ফসফরাস-৩২
  2. কার্বন-১৪ 
  3. কোবাল্ট-৬০ 
  4. আয়োডিন-১৩১
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস-৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস-৩২
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
pH স্কেল সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী চালু করেন? 
  1. নিউটন
  2. মোসলে
  3. থমসন
  4. সোরেনসেন
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
LASER এর পূর্ণরূপ-
  1. Light Analysis by Spontaneous Emission of Radiation
  2. Light Amplification by Synchronized Emission of Radiation
  3. Light Analysis by Stimulated Emission of Radiation
  4. Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation
সঠিক উত্তর:
Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation
ব্যাখ্যা
• LASER:
- LASER এর পূর্ণরূপ- Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation.
- লেজার এমন একটি প্রযুক্তি, যা নির্দিষ্ট তরঙ্গের আলোকে এমনভাবে তৈরি করে যে সেই আলো খুবই শক্তিশালী ও একটি নির্দিষ্ট দিকে ছুটে চলে।
- থিওডোর মাইম্যান ১৯৬০ সালে হিউজ রিসার্চ ল্যাবে প্রথম কার্যকরী লেজার আবিষ্কার করেন।

• লেজার রশ্মির ব্যবহার:
- নিখুঁত জরিপ কাজে লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
- অতি সূক্ষ্ম ঝালাইয়ের কাজে এবং কঠিন বস্তুতে সুক্ষ্ম ছিদ্র করার কাজে লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
- টেলিভিশনে লেজার রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- বর্ণালী মাপন যন্ত্রে লেজার রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- শল্য চিকিত্সকরা চক্ষু ও চিকিৎসার কাজে লেজার রশ্মি ব্যবহার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭০.
QR কোড মূলত কোন কাজে তৈরি করা হয়েছিল?
  1. বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য
  2. টিকিটিং ব্যবস্থার জন্য
  3. অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ট্র্যাক করার জন্য
  4. ব্যাংকিং সেবার জন্য
সঠিক উত্তর:
অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ট্র্যাক করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ট্র্যাক করার জন্য
ব্যাখ্যা

QR কোড:
- QR কোড হলো এক ধরনের বারকোড, যা ছোট কালো ও সাদা বর্গক্ষেত্র দিয়ে তৈরি।
- এই বর্গক্ষেত্রগুলিতে তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা সহজে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন স্ক্যানার দিয়ে পড়া যায়।
- কালো-সাদা স্কোয়ারগুলোতে সংখ্যা, ইংরেজি অক্ষর বা এমনকি জাপানি কানজি ও অন্যান্য অ-ল্যাটিন অক্ষরও রাখা যেতে পারে।

 • QR কোডের ব্যবহার:
- মূলত QR কোড তৈরি করা হয়েছিল অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ট্র্যাক করার জন্য।
- এখন এটি বিজ্ঞাপন, টিকিট, পণ্য ট্র্যাকিং এবং আরও নানা কাজে ব্যবহার করা হয়।

 • QR কোড স্ক্যান ও বৈশিষ্ট্য:
- QR কোড স্ক্যান করতে ব্যবহারকারীদের ফোন বা লেজার স্ক্যানার প্রয়োজন হয়।
- বিশেষ সফটওয়্যার তথ্যটি ডিকোড করে দেখায়।
- সবচেয়ে বড় QR কোড (Version 40) 177 × 177 পিক্সেলের হয় এবং সবচেয়ে ছোট (Version 1) 21 × 21 পিক্সেলের হয়।
- Version 40 QR কোডে প্রায় 7,089টি সংখ্যা বা 4,296টি আলফানিউমেরিক অক্ষর সংরক্ষণ করা যায়।
- অনেক স্মার্টফোনে বিল্ট-ইন QR রিডার থাকায় এগুলি বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় সহজেই ব্যবহার করা যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭১.
'গ্যালিলিও' কি?
  1. মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ
  2. বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ
  3. শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ
  4. পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতিরএকটি কৃত্রিম উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতিরএকটি কৃত্রিম উপগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতিরএকটি কৃত্রিম উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
- গ্যালিলিও হলো পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতির একটি কৃত্রিম উপগ্রহ।
- গ্যালিলিও মহাকাশযানটি নাসা কর্তৃক বৃহস্পতি গ্রহের গবেষণার জন্য প্রেরিত হয়েছিল।
- ১৯৮৯ সালের ১৮ অক্টোবর এটি উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বৃহস্পতি ও এর উপগ্রহসমূহের উপর গবেষণা পরিচালনা করে।
- গ্যালিলিও বৃহস্পতির প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হয়। মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল: বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের অধ্যয়ন, বৃহস্পতির চৌম্বক ক্ষেত্রের পর্যবেক্ষণ, বৃহস্পতির প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলোর গবেষণা, বৃহস্পতির বলয় ব্যবস্থার অধ্যয়ন।
- ২০০৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, গ্যালিলিও মহাকাশযানটি বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নাসা।
৭২.
RADAR-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Radio Data And Relay
  2. Rapid Detection And Ranging
  3. Radio Detection And Ranging
  4. Radio Direction And Response
সঠিক উত্তর:
Radio Detection And Ranging
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Radio Detection And Ranging
ব্যাখ্যা

রাডার (RADAR):
- 'RADAR' এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detection And Ranging.
- এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়।
- রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়।
- যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- ১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৭৩.
ম্যারি ও পিয়েরে কুরি কোন মৌলিক পদার্থ আবিষ্কার করেন?
  1. ক) রেডিয়াম
  2. খ) প্লাটিনাম
  3. গ) সিজিয়াম
  4. ঘ) টারবিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) রেডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেডিয়াম
ব্যাখ্যা

ম্যারি ও পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালে পোলনিয়াম ও রেডিয়াম নামের নতুন দুটি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কার করেন।
১৯০৩ সালে তাঁরা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।

৭৪.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মূলত কোন প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. পারমাণবিক সংযোজন
  2. পারমাণবিক বিভাজন
  3. তেজস্ক্রিয় ক্ষয়
  4. আয়নীকরণ
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিভাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিভাজন
ব্যাখ্যা

◉ পারমাণবিক বিভাজন (Nuclear Fission) হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239) ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
- এই শক্তি পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করতে ব্যবহৃত হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়।
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
পারমাণবিক সংযোজন (Nuclear Fusion) — হালকা পরমাণু মিলিয়ে ভারী পরমাণু তৈরি, যা সূর্যের শক্তির উৎস, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay) — স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ নির্গমন, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়।
আয়নীকরণ (Ionization) — ইলেকট্রন যোগ-বিয়োগ করে আয়ন তৈরি, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়। 

উৎস: রসায়ন (নবম-দশম শ্রেণি)।

৭৫.
কে প্রথম বোসন কণার ধারণা ব্যবহার করে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. প্রফুল্ল চন্দ্র বসু 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, 1911 সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 
- 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 

- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং 1887 সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- 1905 সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক 1931 সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং 
  2. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি 
  3. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
  4. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও 
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭.
'পাথফাইন্ডার' মঙ্গলপৃষ্ঠে কত সালে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- মার্স পাথফাইন্ডার ১৯৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয়।
- ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গল গ্রহের এরেস ভ্যালিসে সফলভাবে অবতরণ করে।
- এটি ছিল নাসার "ফাস্ট, বেটার, চিপার" (Faster, Better, Cheaper) দর্শনের অধীনে পরিচালিত অন্যতম সফল মিশন, যা সীমিত বাজেটে দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে আন্তগ্রহীয় গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
- এই মিশনটি একটি উন্নত ল্যান্ডার এবং সোজার্নার নামের স্বয়ংচালিত রোভার বহন করেছিল, যা মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা ও পরিচালিত প্রথম রোবোটিক রোভার হিসেবে ইতিহাস গড়ে।
- সোজার্নার ছোট হলেও এর কার্যক্ষমতা ছিল অসাধারণ; এটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে বিভিন্ন শিলা ও মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করে।
- পাথফাইন্ডার মিশন তখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিল, যার মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- পাথফাইন্ডারের সাফল্য নাসাকে পরবর্তী রোভার মিশনগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৭৮.
নিচের কোন অবদানের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ক) আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য
  2. খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
  3. গ) জিনোম ইডিটিংয়ের জন্য
  4. ঘ) ক্যান্সারের চিকিৎসা আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা।
- জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

৭৯.
বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ি করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহণ করবেন? 
  1. গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
  2. কোনো গাছের তলায় আশ্রয় নিবেন
  3. বাইরে এসে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়বেন
  4. বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
সঠিক উত্তর:
গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
ব্যাখ্যা
National Oceanic and Atmospheric Administration of the USA Government এর মতে,
No place outside is safe when a thunderstorm is in the area. Get inside as soon as you hear thunder. Run to a substantial building or hard-topped metal vehicle as fast as you can.
এখানে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, বাইরে যাওয়া কোনভাবেই নিরাপদ নয়
তারা আরও বলে যে,
If you can’t get to a safe building or vehicle:
— Avoid open areas. Don’t be the tallest object in the area.
অর্থাৎ, যদি কোন বিল্ডিং বা ছাদ বিশিষ্ট গাড়ি আশেপাশে না থাকে তাহলেই কেবল বাইরে শুয়ে পড়তে হবে যেন আশেপাশের সবকিছুর চেয়ে নিজের উচ্চতাটা কম থাকে।

তাছাড়া, আমাদের সরকারি নির্দেশনা/লিফলেটেও গাড়ির ভেতরেই থাকতে বলা হয়েছে এবং গাড়ির ভেতরে কোন ধাতব অংশের সঙ্গে যেন স্পর্শ না লাগে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাইরে খোলা জায়গাতে যেতে সরাসরিভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আবহাওয়া সেবা সংস্থার প্রচারণামূলক নির্দেশিকার একটা ছবি দিয়ে দেয়া হলো- 
৮০.
‘ব্ল্যাক বক্স’ কী?
  1. একটি ধরনের স্যাটেলাইট যন্ত্র
  2. মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল
  3. বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র
  4. দূরবর্তী অঞ্চলের তাপমাত্রা নির্ধারণ যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বিমানের ব্ল্যাক বক্স:
- ব্ল‍্যাক বক্স একটি যন্ত্র যাতে বিমান উড্ডয়নের শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করা থাকে।
- এটিকে বিমানের 'ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারও বলা হয়।
- প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং 'রেড এগ' নামে পরিচিত ছিল।
- ব্ল্যাক বক্স অত্যন্ত শক্তিশালী ধাতব পদার্থ (স্টেইনলেস স্টিল বা টাইটেনিয়াম) দিয়ে তৈরি।
- এটি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ এবং প্রচণ্ড চাপেও অক্ষত থাকে।
- সর্বশেষ ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত তথ্য ধরে রাখতে পারে।
- অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক বক্স’ বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র। 

উল্লেখ্য, 
- ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেজু এয়ারের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়।
- উড়োজাহাজটি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে আসছিল।
- এতে ১৮১ জন আরোহী ছিল, যার মধ্যে ১৭৯ জন নিহত হয়েছেন।
- দুর্ঘটনার পর ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়।
- ব্ল্যাক বক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় এর তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
- ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।

তথ্যসূত্র:  প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক] ও ইত্তেফাক নিউজ। [লিঙ্ক]
৮১.
হিগস বোজন কণা শণাক্ত করা হয়-
  1. ক) ২০১০ সালে
  2. খ) ২০১১ সালে
  3. গ) ২০১২ সালে
  4. ঘ) ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

On July 4, 2012, scientists at the LHC announced that they had detected an interesting signal that was likely from a Higgs boson with a mass of 125–126 gigaelectron volts (billion electron volts; GeV). Further data was needed to definitively confirm those observations, and such confirmation was announced in March 2013. That same year Higgs and Belgian physicist François Englert (who had also proposed the Higgs mechanism) shared the Nobel Prize in Physics.

Source: Encyclopaedia Britannica

From CERN website:

৮২.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. মার্কোনি 
  2. গ্যালিলিও 
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. আইনস্টাইন 
সঠিক উত্তর:
মার্কোনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কোনি 
ব্যাখ্যা

- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কোনি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান।
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত LBW এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Less birth weight
  2. Lean birth weight
  3. Level birth weight
  4. Low birth weight
সঠিক উত্তর:
Low birth weight
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Low birth weight
ব্যাখ্যা
LBW:
- পূর্ণরূপ: Low Birth Weight
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, Low Birth Weight (LBW) বা কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু বলতে বোঝায় যেসব নবজাতকের ওজন জন্মের সময় ২.৫ কিলোগ্রামের (২৫০০ গ্রাম) কম হয়।
- এটি শিশুদের অপুষ্টি, গর্ভকালীন জটিলতা ও মাতৃস্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।
- WHO ২০২৫ সালের মধ্যে কম জন্ম ওজনের হার ৩০% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- এ জন্য বিভিন্ন দেশভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও গর্ভকালীন সেবা উন্নতকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস: WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮৪.
“The origin of species by means of natural selection” বইটির লেখক কে?
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ম্যালথাস
  3. গ) লিনিয়াস
  4. ঘ) ওয়ালেস
সঠিক উত্তর:
ক) ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডারউইন
ব্যাখ্যা
১৯৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫.
‘Plum Pudding Model’ কার সাথে সম্পর্কিত?
  1. জন ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. নিলস বোর
  4. জে. জে. থমসন
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
ব্যাখ্যা

- 'প্লাম পুডিং মডেল' (Plum Pudding Model) হলো পরমাণুর গঠনের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক মডেল, যা ১৯০৪ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী জে. জে. থমসন প্রস্তাব করেন। 

পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। তিনি স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) হ্যান্স লিপারহে
  4. ঘ) আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন এবং এর সাহায্যে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ এবং চাঁদের পিঠে পাহাড় আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, শাহজাহান তপন

৮৭.
রকেট আবিষ্কার করেন কে?
  1. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. থিওডর মাইম্যান
  3. উইলিয়াম গিলবার্ট
  4. ডব্লিউ কনগ্রিড
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ কনগ্রিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ কনগ্রিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন আবিষ্কার:
- ডব্লিউ কনগ্রিড রকেট আবিষ্কার করেন।

- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন।
- উইলিয়াম গিলবার্ট বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন।
- ডিনামাইট আবিষ্কার করেন আলফ্রেড নোবেল।
- ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; 
- থিওডর মাইম্যান আবিষ্কার করেন লেজার রশ্মি;
- টমাস আলভা এডিসন আবিষ্কার করেন গ্রামোফোন, ফনোগ্রাফ, সিনেমা প্রজেক্টর, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র।
- পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। 

উৎস: Britannica.
৮৮.
সেলুলার ফোনের জনক কে?
  1. স্টিভ জবস
  2. টমাস এডিসন
  3. মার্টিন কুপার
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
সঠিক উত্তর:
মার্টিন কুপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্টিন কুপার
ব্যাখ্যা
মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন (Mobile Phone): 
- মোবাইল ফোন বা সেলফোন বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার অর্থাৎ একে এক কথায় ট্রান্সসিভার বলে।
- প্রথম দিকে এটি শুধু যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি বিনোদন থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যন্ত সকল কাজেই ব্যবহার করা যায়।
- মোবাইল ফোন এখন একটি ছোটো খাটো কম্পিউটারের ন্যায় কাজ করে।
- এর সাহায্যে গেইম খেলা, গানশুনা, গান ডাইনলোড করা, সিনেমা দেখা, ভিডিও কনফারেন্স করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, চিঠি-পত্র আদান প্রদান করা, স্থির ও ভিডিও চিত্র গ্রহন ও প্রেরণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা যায়।
- তাছাড়াও মোবাইল ফোন দিয়ে ক্যাশ পেমেন্ট, বিল পরিশোধ, এয়ারপোর্টে চেক-ইন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির দরখাস্ত করা যায়।

 
মার্টিন কুপার:
- মার্টিন কুপার (জন্ম: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯২৮, শিকাগো, ইলিনয়, যুক্তরাষ্ট্র) একজন আমেরিকান প্রকৌশলী।
- তিনি ১৯৭২–৭৩ সালে প্রথম মোবাইল সেল ফোন তৈরি করার দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 
- তিনি প্রথম মোবাইল ফোন কল করেন।
- তিনি ব্যাপকভাবে সেলুলার ফোনের জনক হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
Britannica. 
৮৯.
রেডিয়াম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) পিয়ারে কুরি
  2. খ) মেরি কুরি
  3. গ) উভয়েই
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়েই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়েই
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে পিয়ারে কুরি এবং মেরি কুরি সর্বপ্রথম রেডিয়াম আবিষ্কার করেন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
৯০.
একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ১৬০০ বছর হলে মৌলটির ৬০% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?
  1. ২১০০ বছর
  2. ৯৬০ বছর
  3. ১৭৬০ বছর
  4. ১৯৬০ বছর
সঠিক উত্তর:
২১০০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১০০ বছর
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ১৬০০ বছর হলে মৌলটির ৬০% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে? 

সমাধান:
আমরা জানি,
অর্ধায়ু, T = 0.693/λ     [λ = ক্ষয়ধ্রুবক]
বা, 1600 = 0.693/λ
বা, λ = 0.693/1600
∴ λ = 0.000433

আবার,
মৌলটির 60% ক্ষয় হলে, অবশিষ্ট আছে (100 - 60)%
= 40%

∴ তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের বা ক্ষয়ের সূচকীয় সূত্র:
N = N0e- tλ
বা, N/N0 = e- tλ
বা, e- tλ = 40% = 40/100 = 2/5
বা, ln(e- tλ) = ln(2/5)
বা, - tλ = - 0.92
বা, t = 0.92 /0.000433
∴ t = 2124.71 

অর্থাৎ, অর্ধায়ূ 2124.71 বছর

এই মান অপশন ক) ২১০০ বছর এর কাছাকাছি হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে এটি গ্রহণ করা হলো।
৯১.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরত্বে সংকেত পাঠানোর প্রক্রিয়া কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জগদীশ চন্দ্র বসু
  2. জি. মার্কনী
  3. হেনরিখ হার্জ
  4. জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
জি. মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. মার্কনী
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত একটি জীবন্ত জীবাশ্ম হলো-
  1. কিং ক্র্যাব
  2. পিঁপড়া
  3. পেঁচা
  4. কিং ফিশ
সঠিক উত্তর:
কিং ক্র্যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিং ক্র্যাব
ব্যাখ্যা
• King Crab বা রাজ কাঁকড়া:
- রাজ কাঁকড়া (অশ্বখুরাকৃতির কাঁকড়া বা সাগর কাঁকড়া) প্রকৃত পক্ষে কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড।
- প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে "জীবন্ত জীবাশ্ম" বলা হয় যা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তন ছাড়াই এরা পৃথিবীতে টিকে আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৩.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ফ্রান্সিস হেস কোন সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৩৯ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৩৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ সালে
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে  বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক-  ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৯৪.
রেডিও কার্বনের অর্ধায়ু কত বছর?
  1. ক) ৫৫৬৮ বছর
  2. খ) ৪৫৮৬ বছর
  3. গ) ৫৫৭৮ বছর
  4. ঘ) ৫৬৭৮ বছর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫৬৭৮ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫৬৭৮ বছর
ব্যাখ্যা

রেডিও কার্বনের ((carbon-14) অর্ধায়ু 5700 ± 30 বছর।। 

কোনো কোনো পদার্থের স্বাভাবিক পরমাণু তেজষ্ক্রিয় না হলে এদের আইসোটোপসমূহ তেজষ্ক্রিয় পদার্থরূপে আচরণ করতে পারে। এ সকল আইসোটোপকে রেডিও আইসোটোপ বলে।
যে সময়ে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ভেঙ্গে যায় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে।
অর্থাৎ, যে সময় কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের 'N' সংখ্যক অণু ভেঙ্গে N/2 সংখ্যক হয়, সেই সময় হলো অর্ধায়ু।

The half-life of radiocarbon (14C) is 5700 ± 30 yr, which makes it particularly useful for dating in archaeology.

আবার,
ব্রিটানিকা অনুসারে, অর্ধায়ু 5,730 ± 40 বছর।

উৎস: U.S. Department of Health & Human Services Website and Cambridge ডিকশনারি। 

৯৫.
কোন্ বাঙালি বিজ্ঞানী কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষনা করেছেন?
  1. ড. কুদরত-ই-খুদা
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. জামাল নজরুল ইসলাম
  4. অতীশ দীপংকর
সঠিক উত্তর:
জামাল নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামাল নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী এবং স্টিফেন হকিংয়ের একজন সহকর্মী। তিনি কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) ও মহাবিশ্বের বিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন এবং এ বিষয়ে বাংলায় একটি বইও লিখেছেন। 

বাঙালি বিশ্ববিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞানে জামাল নজরুল ইসলামের মতো অবদান আর কারও নেই। এই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্ম তাঁর বাবার কর্মক্ষেত্র ঝিনাইদহে ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ সালে। 
- পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, এবং তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল আপেক্ষিকতা, বিশ্বতত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব।
- আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কসমোলজি ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্বের মতো জটিল বিষয় নিয়ে মৌলিক গবেষণা করেছেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই 'কৃষ্ণগহ্বর’ (ব্ল্যাক হোল)।
- ছাত্রজীবনে তাঁর সমসাময়িক ও আজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিস্ময়কর বিজ্ঞান-প্রতিভা স্টিফেন হকিং। কেমব্রিজ এবং পশ্চিমে শিক্ষার গবেষণা ও অধ্যাপনায় থাকাকালে তাঁর বন্ধু ও সুহৃদমহল গড়ে ওঠে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তাঁর শিক্ষক ফ্রিম্যান ডাইসন, পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান, ভারতের সুব্রহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর, পাকিস্তানের আবদুস সালাম, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অমিয় বাগচী, তাঁর সহপাঠী জয়ন্ত নারলিকার, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম মার্লিস প্রমুখ।  
- তাঁর গবেষণা আইনস্টাইন-পরবর্তী মহাবিশ্ব গবেষণায় বিরাট অবদান রেখেছে। তিনি এই ধারায় গবেষণা অব্যাহত রেখে পরবর্তীকালে লেখেন ফার ফিউচার অব দ্য ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ভবিষ্যৎ।
- জামাল নজরুল ইসলাম দেশে গড়ে তুলেছেন উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণাগার আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গাণিতিক ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র বা রিচার্স সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস), যেটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশের প্রবীণ পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর এ এম হারুন-অর রশিদ ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আগত খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী, আপেক্ষিকতত্ত্ববিদ এবং বিশ্ব সৃষ্টি তাত্ত্বিকদের অবদান’ স্মরণ করে এ প্রতিষ্ঠানকে প্রফেসর ইসলামের শ্রেষ্ঠ কীর্তি আখ্যা দিয়েছিলেন।
- ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মধ্যরাতে এ মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।

৯৬.
উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র কোনটি? 
  1. পাইরোমিটার 
  2. ট্যাকোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
সঠিক উত্তর:
পাইরোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইরোমিটার 
ব্যাখ্যা

- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র- পাইরোমিটার। 

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
- সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৯৭.
সোলার প্যানেল মূলত কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে?
  1. সূর্যের তাপ শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে
  2. সূর্যের আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে
  3. সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করে
  4. উপরের কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সূর্যের আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যের আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে
ব্যাখ্যা

◉ সোলার প্যানেল আসলে ফোটোভোল্টায়িক (Photovoltaic, PV) সেল দ্বারা তৈরি। সূর্যের আলোতে থাকা ফোটন (Photon) যখন প্যানেলের সিলিকন স্তরে আঘাত করে, তখন তা সিলিকনের ইলেকট্রনগুলোকে উত্তেজিত করে। এই ইলেকট্রনগুলোর গতি থেকেই ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। পরবর্তীতে ইনভার্টার ব্যবহার করে এই DC কে Alternating Current (AC) এ রূপান্তরিত করা হয়, যা আমরা বাসা-বাড়ি বা শিল্পে ব্যবহার করি।

সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ বা সৌর সেল হলো এক ধরনের ডিভাইস যা সূর্যের আলো (ফোটন) শোষণ করে এবং এটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- সৌর সেল বা ফটোভোলটাইক কোষে সিলিকন (Si) ব্যবহৃত হয়, যা একটি অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) পদার্থ।
- এটি সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• সৌর সেলের কাজের পদ্ধতি:
- সূর্যের ফোটন সিলিকন পরমাণুতে আঘাত করে।
- ইলেকট্রন-হোল জোড় সৃষ্টি হয়।
- p-n জাংশনের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৯৮.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
  1. আইনস্টাইন
  2. ওপেনহাইমার
  3. অটোহ্যান
  4. রোজেনবার্গ
সঠিক উত্তর:
ওপেনহাইমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওপেনহাইমার
ব্যাখ্যা
পারমানবিক বোমা: 
পারমানবিক বোমা ওপেন হেইমার আবিষ্কার করেন। 
- তিনি মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। 
- তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেন এবং গটিংজেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অর্জন করেন। 
- ম্যানহাটন প্রকল্প মার্কিন সরকারের গবেষণা প্রকল্প যা প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। 
- ম্যানহাটন প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ নিউ মেক্সিকোতে আলামোগোর্ডোর কাছে একটি পরীক্ষায় প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। 

উৎস: Britannica.com
৯৯.
বস্তুর ভর সৃষ্টি করে কোন কণা?
  1. লেপটন
  2. প্রোটন
  3. হিগস-বোসন
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
হিগস-বোসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস-বোসন
ব্যাখ্যা
হিগের কণা:

- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।
- এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন। 
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
- হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান 'পিটার ডব্লিউ হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট'।
- হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'।
- বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১০০.
হিগস্‌ বোসন কণা কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ২০০৪ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০১৬ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
কণাটি ২০১২ সালের ৪ জুলাই আবিষ্কৃত হয়।
- সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার CERN-এ অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার' (LHC)-এর গবেষকদের দ্বারা।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য:
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Space.com website.