বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বচন

মোট প্রশ্ন৩১১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বচন

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩১১

১০১.
'মেয়েটি স্কুলে যায়নি।' - বাক্যে কোন বচন ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. দ্বিবচন
  2. বহুবচন
  3. একবচন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
একবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবচন
ব্যাখ্যা

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন: তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১০২.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. শিক্ষক
  2. ছাত্ররা
  3. বইটা
  4. সে
সঠিক উত্তর:
ছাত্ররা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্ররা
ব্যাখ্যা
• ছাত্ররা - বহুবচনের উদাহরণ।
- 'বচন' অর্থ হচ্ছে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।

• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও
- বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০৩.
'গরু' এর সাথে কোন বহুবচন প্রত্যয় যুক্ত হবে?
  1. আবলি
  2. দাম
  3. পাল
  4. যূথ
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা
• 'গরু' এর সাথে 'পাল' বহুবচন প্রত্যয় যুক্ত হবে।

বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• 'পাল' ও 'যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১০৪.
'আবলি’ লগ্নক যোগে বহুবচনের সঠিক উদাহরণ কোনটি?
  1. শৈবালাবলি
  2. দর্শকাবলি
  3. পুস্তকাবলি
  4. শিক্ষকাবলি
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
ব্যাখ্যা
• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ। 
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বহুবচনবোধক শব্দ:
● শৈবালাবলি - শৈবালদাম,
● দর্শকাবলি - দর্শকবৃন্দ,
● শিক্ষকাবলি - শিক্ষকমণ্ডলী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০৫.
নিম্নের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পাখিরা আকাশে উড়ছে।
  2. মা রান্না করছেন।
  3. ছাত্ররা শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে।
  4. বইগুলো টেবিলে রাখা আছে।
সঠিক উত্তর:
মা রান্না করছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা রান্না করছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা- একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

একবচন শব্দের উদাহরণ:
• শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
• বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
• ছেলেটি মাঠে খেলছে।
• গাছটি সুন্দর ফুলে সাজানো।
• মা রান্না করছেন।
• সে একটি বই পড়ছে।

বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
পাখিরা আকাশে উড়ছে।
• আমরা একসঙ্গে ছবি আঁকছি।
• বইগুলো টেবিলে রাখা আছে।
ছাত্ররা শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
১০৬.
শুধু প্রাণির বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. যূথ
  2. রাশি
  3. গুচ্ছ
  4. দাম
সঠিক উত্তর:
যূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যূথ
ব্যাখ্যা
• শুধু প্রাণির বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক - যূথ।
যেমন:
- হস্তিযূথ
মাঠের ফসল নষ্ট করছে।

অন্যদিকে,
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৭.
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কী লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. গণ
  2. রা
  3. সব
  4. গুলি
সঠিক উত্তর:
গণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ
ব্যাখ্যা

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ’বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
• বর্গ – পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

১০৮.
'বৃক্ষ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি 
  2. সমূহ 
  3. মালা 
  4. সব 
সঠিক উত্তর:
সমূহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ 
ব্যাখ্যা

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন-
- সব = ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ = গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি = নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা = মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

১০৯.
ভাষার মৌলিক অংশ নয়-
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বচন
  4. ঘ) বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বচন
ব্যাখ্যা

• প্রত্যেক ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে।
• এগুলো হলোঃ
- ধ্বনি,
- শব্দ,
- বাক্য ও
- অর্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১০.
কোনটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি
  2. পুঞ্জ
  3. গুচ্ছ
  4. পাল
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা

• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১১.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
  1. দাম
  2. গুচ্ছ
  3. রাজি
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকূল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রাজি, দাম, গুচ্ছ অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১২.
কোন বাক্যে 'লোক' শব্দটি বহুবচন নির্দেশ করছে?
  1. লোকটি অত্যন্ত ভদ্র। 
  2. ওই লোকটা সবার কাছে প্রিয়।
  3. বাজারে লোক কম।
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাজারে লোক কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজারে লোক কম।
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন-
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও বহুবচন।

- একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

- বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

১১৩.
“মণ্ডলী” যুক্ত করে সঠিক বহুবচন হয়েছে নিচের কোনটিতে?
  1. ক) সম্পাদকমণ্ডলী
  2. খ) ভক্তমণ্ডলী
  3. গ) কবিমণ্ডলী
  4. ঘ) মন্ত্রীমণ্ডলী
  5. ঙ) পন্ডিতমণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
ক) সম্পাদকমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্পাদকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় গণ (জনগণ, দেবগণ), বর্গ (পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ), মণ্ডলী (শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী) এবং বৃন্দ (সুধীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ)।
পাল (গরুরপাল) এবং যূথ (হস্তীযূথ) কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১১৪.
একাধিক সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে যুক্ত হয়, তার নাম-
  1. যোজক
  2. বচন
  3. আবেগ
  4. পদাণু
সঠিক উত্তর:
বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচন
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের  মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে। 

একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
এখানে প্রথম বাক্যের ‘শিক্ষক’ শব্দের সঙ্গে কোনো লগ্নক যুক্ত হয়নি। দ্বিতীয় বাক্যে ‘বই’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ‘টা’ একটি নির্দেশক। এর সঙ্গেও কোনো বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয়নি। 

বহুবচন  শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।
এখানে প্রথম বাক্যের একবচন ‘মাঝি’ শব্দের সঙ্গে ‘-রা’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘মাঝিরা’ হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় বাক্যে ‘-গুলো’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘কলমগুলো’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৫.
'পুষ্প' শব্দের সঠিক বহুবচন কোনটি?
  1. পুষ্পদল
  2. পুষ্পরাজি
  3. পুষ্পদাম
  4. পুষ্পপুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
পুষ্পরাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুষ্পরাজি
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি। 
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- প্রাজ্ঞপুঞ্জ, মেঘপুঞ্জ। 
মালা- মেঘমালা, পর্বতমালা, গ্রন্থমালা। 
রাজি- পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি। 
রাশি- পুষ্পরাশি, পত্ররাশি। 
নিচয়- পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৬.
বচন দ্বারা কী নির্দেশিত হয়?
  1. গণনবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা
  2. বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের লিঙ্গের ধারনা
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের দোষ গুণ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গণনবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণনবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• বচন হল সংখ্যার ধারণা। এটি গণনাবাচক বিশেষ্য এবং সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশ করে।

- বাংলা ভাষায় বচন সাধারণত দুটি ভাগে বিভক্ত: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।
- তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো বচন লগ্নক ব্যবহার না করেও বহুবচন বোঝানো যায়। উদাহরণ হিসেবে নিচের বাক্যগুলো লক্ষ্য করা যেতে পারে:
• বাজারে লোক কম।
• মৌমাছি মৌচাক বানায়।
• সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
- এই ধরনের বাক্যে নির্দিষ্ট কোনো বহুবচন লগ্নক না থাকলেও অর্থ থেকে বহুবচন নির্দেশিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ।[২০২২ সংস্করণ]
১১৭.
কোন পদের আগে 'অজস্র' বসালে বহুবচন হয়?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কেবল সর্বনাম ও বিশেষ্য পদের বচনভেদ রয়েছে। 
'অজস্র' শব্দটি বিশেষণ যার অর্থ অসংখ্য। 
'অজস্র' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদের  পূর্বে বসে। 
যেমন: অজস্র পাখি
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১১৮.
কোন প্রত্যয়টি একবচন নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. রাজি
  2. খানা
  3. মহল
  4. দাম
সঠিক উত্তর:
খানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খানা
ব্যাখ্যা

খানা প্রত্যয়টি একবচন নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।

একবচন গঠনের নিয়ম:
- 'টি', 'টা', 'খানা', 'খানি' ইত্যাদি প্রত্যয় 'এক'-এর সঙ্গে যোগ করলে একবচন হয়।
- আবার 'এক' ব্যবহার না করেও কেবল টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি প্রভৃতি যোগ করেও একবচন গঠন হয়।

উদাহরণ:
- একটি ছেলে / ছেলেটি
- তার গলায় ছিল একখানি হার

সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে একবচন
উদাহরণ:
- দাম - শৈবালদাম,
- রাজি - পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি,
- মহল - মহিলামহল, গুণিমহল,

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১৯.
'নিয়ম' শব্দের বহুবচন কী?
  1. ক) নিয়মসমূহ
  2. খ) নিয়মসব
  3. গ) নিয়মগুলো
  4. ঘ) নিয়মাবলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিয়মাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিয়মাবলি
ব্যাখ্যা
• বচন:
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
১২০.
'তরঙ্গ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. তরঙ্গরাশি
  2. তরঙ্গমালা
  3. তরঙ্গদাম
  4. তরঙ্গদল
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গমালা
ব্যাখ্যা
• ‘তরঙ্গ’ শব্দের বহুবচন- 'তরঙ্গমালা'। 

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
• মালা- পর্বতমালা, তরঙ্গমালা। 
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।  (২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
১২১.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) কুসুমপুঞ্জ
  2. খ) বৃক্ষপুঞ্জ
  3. গ) মেঘপুঞ্জ
  4. ঘ) তরঙ্গপুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) মেঘপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেঘপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবােধক শব্দ আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘপুঞ্জ (বইয়ে ভুলবশত কুঞ্জ দেয়া), পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, 'মেঘমালা' দেয়া।
১২২.
কোনটি সঠিক?
  1. পুস্তকপুঞ্জ
  2. কবিতাপুঞ্জ
  3. মেঘপুঞ্জ
  4. তারকাপুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৩.
'মেঘ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি
  2. মালা
  3. সব
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
মালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালা
ব্যাখ্যা
বচন:
বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে। 

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘-সব’ , ‘-সমূহ’ , ‘-আবলি’ , ‘-মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়। 
যেমন -
→ সব - ভাইসব, পাখিসব।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
→ সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমুহ।
→ আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৪.
কোন পদের আগে 'অজস্র' শব্দটি বসালে বহুবচন হয়?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় কেবল সর্বনাম ও বিশেষ্য পদের বচনভেদ রয়েছে।

• "অজস্র" একটি বিশেষণ, যা পরিমাণ বা সংখ্যার অতিরিক্ততা বোঝায়।
- এটি সাধারণত — বিশেষ্য পদের আগে বসে এবং সংখ্যার অতিরিক্ততার কারণে বিশেষ্যটি বহুবচনে রূপান্তরিত হয়।

যেমন -
• অজস্র ফুল (একাধিক ফুল বোঝানো হয়েছে)।
• অজস্র মানুষ (একাধিক মানুষ বোঝানো হয়েছে)।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়া, বিশেষণ, অব্যয়: এই পদের ক্ষেত্রে "অজস্র" ব্যবহার করা যায় না।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৫.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. তিনি
  2. তুমি
  3. তাঁরা
  4. শিক্ষক
সঠিক উত্তর:
তাঁরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁরা
ব্যাখ্যা
• তাঁরা - বহুবচনের উদাহরণ।

• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও
- বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২৬.
একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক কোনটি?
  1. গোটা
  2. টে
  3. গুলি
  4. গাছা
সঠিক উত্তর:
গাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছা
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়।

পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি।

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে।
- গোটা দুই আম দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৭.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. দাম
  2. সমূহ
  3. আবলি
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
- আবলি- পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১২৮.
বহুবচন লগ্নক ‘উচ্চয়’ কোন ধরনের শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক শব্দে
  2. প্রাণিবাচক শব্দে
  3. প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে
  4. অপ্রাণিবাচক শব্দে
সঠিক উত্তর:
অপ্রাণিবাচক শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রাণিবাচক শব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্চয়’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - শিলোচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা:
১. একবচন এবং
২. বহুবচন।

• বহুবচন:
যখন কোনো শব্দ দ্রারা একাধিক ব্যাক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে নির্দেশ করে তখন তাকে বহুবচন বলে। সাধারণত কিছু মব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম। 
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৯.
বনে বনে ফুল ফুটেছে। এখানে 'ফুল' শব্দটি-
  1. একবচন
  2. বহুবচন
  3. উভয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।

যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

এরূপ- বনে বনে ফুল ফুঠেছে। বাক্যে 'ফুল' শব্দটিতে বহুবচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বনে বনে অনেক ফুল ফুটেছে বোঝাচ্ছে। সুতরাং বাক্যে ফুল বহুবচন শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩০.
'পুষ্প' শব্দটির পর কোন বহুবচনবোধক শব্দটি বসবে?
  1. চয়
  2. রাশি
  3. রাজি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩১.
কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. বর্গ
  2. গুচ্ছ
  3. নিচয়
  4. মালা
সঠিক উত্তর:
বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ- দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- মন্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পন্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।
- বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মালা, নিচয়, গুচ্ছ অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩২.
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনগুলো?
  1. কূল, সমূহ, বৃন্দ
  2. আবলি, পুঞ্জ, রাশি
  3. বর্গ, রাজি, মালা
  4. গণ, নিচয়, সকল
সঠিক উত্তর:
আবলি, পুঞ্জ, রাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি, পুঞ্জ, রাশি
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
১৩৩.
'পক্ষি' শব্দের শুদ্ধ বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. পক্ষিরাজি
  2. পক্ষিকুল
  3. পক্ষিদাম
  4. পক্ষিরাশি
সঠিক উত্তর:
পক্ষিকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষিকুল
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• কুল- কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল- পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ- বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

-----------------------
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৩৪.
“মণ্ডলী” যুক্ত সঠিক বহুবচন কোনটি?
  1. ক) সদস্যমণ্ডলী
  2. খ) পণ্ডিতমণ্ডলী
  3. গ) সম্পাদকমণ্ডলী
  4. ঘ) মন্ত্রীমণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
গ) সম্পাদকমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্পাদকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’, ‘বৃন্দ’, ‘মণ্ডলী’, ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩৫.
'গণকবর' শব্দে ‘গণ’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মানুষ
  2. বহুবচন
  3. সাধারণ
  4. বিশেষ
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
ব্যাখ্যা

• গণ (বিশেষ্য) অর্থ:
- সমূহ; সমষ্টি।
- বহুবচনবাচক শব্দ (কৃষকগণ, লোকগণ, গণকবর)।
- বর্গ; শ্রেণি।
- দল। 

উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান

১৩৬.
বাংলা ভাষায় বচন হলো-
  1. শব্দের ধারণা
  2. রীতরি ধারণা
  3. উক্তির ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
সঠিক উত্তর:
সংখ্যার ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা

 • 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
» একবচন। যেমন - একটি বই, একজন খেলোয়াড়।
» বহুবচন। যেমন-  মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছ, আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৩৭.
'চয়', 'সমূহ', 'মণ্ডল' ইত্যাদি কোন ধরনের লগ্নক?
  1. প্রাণিবাচক
  2. অপ্রাণিবাচক
  3. উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
  4. অব্যয়মূলক
সঠিক উত্তর:
উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
ব্যাখ্যা
• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. গুচ্ছ
  2. আবলি
  3. রাজি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, গুচ্ছ, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

১৩৯.
কোনটি বহুবচন?
  1. তিনি
  2. তারা
  3. তুমি
  4. আমি
সঠিক উত্তর:
তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা
ব্যাখ্যা
• কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।

যেমন:
- একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা,
- একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা, 
- একবচন- সে, বহুবচন - তারা,
- একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪০.
নিচের কোনটি একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক?
  1. গুলো
  2. গাছা
  3. গুলা
  4. গুলি
সঠিক উত্তর:
গাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছা
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়।

বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকের প্রয়োগ:

• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ:
কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে, দুটো ভাত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪১.
কোনটি বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ?
  1. কুল
  2. দাম
  3. সব
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
দাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাম
ব্যাখ্যা

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
যেমন:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২সংস্করণ)।

১৪২.
বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে -
  1. কলমগুলোর দাম অনেক।
  2. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  3. পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়।
  4. মাঝিরা নৌকা চালায়।
সঠিক উত্তর:
পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়।
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
- বাগানে ফুল ফুটেছে।
- পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৪৩.
কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত লগ্নক-
  1. গুলা
  2. গুলি
  3. রা 
  4. গুলো
সঠিক উত্তর:
রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রা 
ব্যাখ্যা
• রা-কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে 'রা' বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়।
যেমন:
- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে।
- তারা সকলেই লেখাপড়া করে।
- শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।

অন্যদিকে, 
• গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে?
- আমগুলো টক।
- টাকাগুলো দিয়ে দাও।
- ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৪৪.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয়-
  1. মণ্ডলী
  2. বৃন্দ
  3. পুঞ্জ
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
পুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
- গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ গুলো হচ্ছে:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা রাজি, রাশি।
- যেমন- গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, পর্বতমালা, মেঘপুঞ্জ, তারকারাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪৫.
‘ফুল’ শব্দের বহুবচন কী হবে?
  1. ফুলরাজি
  2. ফুলগুলো
  3. ফুলসমূহ
  4. ফুলরা
সঠিক উত্তর:
ফুলগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলগুলো
ব্যাখ্যা
- 'ফুল' এর সাথে 'গুলো' লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।

• '-রা', '-এরা', 'গুলো', 'গুলি' 'দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়। যেমন:
রা - ছাত্ররা, ধনীরা।
এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
গুলো - ফুলগুলো, গরুগুলো।
গুলি - বইগুলি, ঘরগুলি।
দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪৬.
'হস্তি' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি
  2. মালা
  3. সকল
  4. যূথ
সঠিক উত্তর:
যূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যূথ
ব্যাখ্যা
• হস্তি' শব্দটির বহুবচন- হস্তিযূথ।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বম ও দশম শ্রেণি ( ২০২৯ সংস্করণ)।
১৪৭.
-টুকু নির্দেশকের রূপভেদ?
  1. -তে
  2. -টে
  3. -টো
  4. -টু
সঠিক উত্তর:
-টু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-টু
ব্যাখ্যা
• -টুকু:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।
- এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন - 
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৮.
নিচের কোন শব্দের সঙ্গে 'রাজি' লগ্নক বসে বহুবচন শব্দ গঠন করা যায়?
  1. পর্বত
  2. কেশ
  3. বই
  4. বৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• রাজি: অপ্রাণিবাচক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বৃক্ষরাজি,
- মেঘরাজি,
- পুষ্পরাজি।

-----------------
• বস্তুবাচক শব্দের শেষে আবলি, সমূহ, সকল, রাজি, গুচ্ছ, মালা, রাশি, পুঞ্জ ইত্যাদি যোগ করে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
- পর্বতমালা,
- বইসমূহ,
- বৃক্ষরাজি,
- পুষ্পগুচ্ছ,
- কেশরাশি,
- মেঘপুঞ্জ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
কোন পদের ক্ষেত্রে বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের ক্ষেত্রে বচনভেদ হয়।

বচন:
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।

- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন- 
– সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫০.
কোন পদের শেষে -খানা, -খানি নির্দেশক যুক্ত হয় না?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন,
-টা, -টি, -খানা, -খানি,-জন, -টুকু।

- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা ,-টি নির্দেশক যুক্ত হয়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয় -খানা, -খানি নির্দেশক।
- শুধু মানুষের ক্ষেত্রে -জন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
- কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায় সেক্ষেত্রে -টুকু নির্দেশক যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫১.
কোন দুটি পদের বচন ভেদ হয়?
  1. ক্রিয়া ও অব্যয়
  2. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. সর্বনাম ও অব্যয়
  4. বিশেষ্য ও বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচন ভেদ হয়।
------------- 
• বচন: 
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরণের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণি, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন –
সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণি, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫২.
'বচন' হলো-
  1. পরিমাপের ধারণা
  2. গণনার ধারণা
  3. পদের ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
সঠিক উত্তর:
সংখ্যার ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা
• 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
• একবচন। যেমন - একটি বই, একজন খেলোয়াড়।
• বহুবচন। যেমন-  মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছ, আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে ইত্যাদি।

------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৩.
‘হস্তী’ শব্দের সাথে কোন বহুবচন প্রত্যয় যুক্ত হবে?
  1. নিকর
  2. আবলি
  3. রা
  4. যূথ
সঠিক উত্তর:
যূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যূথ
ব্যাখ্যা
• 'হস্তী’ শব্দটির বহুবচন- হস্তীযূথ।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
হস্তীযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০২৯ সংস্করণ)।
১৫৪.
অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক লগ্নক কোনটি?
  1. আবলি
  2. গণ
  3. বৃন্দ
  4. বর্গ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি
ব্যাখ্যা

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি। 
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

অন্যদিকে,
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৫.
‘রা’, ‘গুলি’, ‘গুলা’ — এগুলো কী নির্দেশ করে?
  1. একবচন
  2. নির্দেশবাচক সর্বনাম
  3. সমষ্টিবোধক বিশেষ্য
  4. বহুবচন
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
ব্যাখ্যা
• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন-
গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্যরা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
১৫৬.
কোনটি অশুদ্ধ বহুবচন শব্দ?
  1. বইগুচ্ছ
  2. ভাইয়েরা
  3. গরুগুলো
  4. ছেলেদের
সঠিক উত্তর:
বইগুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বইগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বহুবচন - বইগুচ্ছ। এর শুদ্ধরূপ - বইগুলো

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৫৭.
‘তারকা’ শব্দের বহুবচন কী?
  1. তারকামালা
  2. তারকাপুঞ্জ
  3. তারকারাজি
  4. তারকাবলি
সঠিক উত্তর:
তারকারাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারকারাজি
ব্যাখ্যা
• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৮.
কেবল কোন কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. সর্বনাম ও অব্যয়
  4. বিশেষণ ও সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
বচন:
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৯.
'অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার' - এখানে কোন কোন পদযোগে বহুবচন হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষণ ও বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য ও বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য ও বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যপদকে পর পর দুইবার বসিয়ে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার,
- ডালে ডালে আম ঝুলছে,
- বনে বনে পাখি গান গাইছে,
- দলে দলে লােক মাঠে জমায়েত হচ্ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬০.
উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. দাম
  2. বর্গ
  3. আবলি
  4. মালা
সঠিক উত্তর:
বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
• মালা- পর্বতমালা।
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬১.
বহুবচনবাচক কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. বালিরাজি 
  2. বালিরাশি
  3. বালিমালা
  4. বালিগুচ্ছ 
সঠিক উত্তর:
বালিরাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালিরাশি
ব্যাখ্যা

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
আবলি,
গুচ্ছ,
দাম,
নিকর,
পুঞ্জ,
মালা,
রাজি,
রাশি।

যেমন- গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘমালা, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১৬২.
'নিয়ম' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. সব
  2. আবলি
  3. মালা
  4. কুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি
ব্যাখ্যা
• একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে।
- যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৩.
‘মানী’ লোকের বেলায় বহুবচনে কী লগ্নক ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) বৃন্দ
  2. খ) আবলি
  3. গ) গণ
  4. ঘ) বর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবলি
ব্যাখ্যা
- মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি(২০২২ সংস্করণ)।
১৬৪.
‘মেঘ’ শব্দের বহুবচন কী?
  1. মেঘবলি
  2. মেঘরাজি
  3. মেঘপুঞ্জ
  4. মেঘমালা
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৫.
রচনা শব্দকে বহুবচন করতে নিচের কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সমূহ
  2. খ) বলি
  3. গ) সব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উপরের কোন লগ্নক ই সঠিক নয়। 'রচনা' শব্দের জন্য সঠিক লগ্নক আবলি।

• বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
সাধারণত কিছু শব্দাংশ বাঁ লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

তেমনি,  প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ,' '-আবলি;, '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন -
• সব - ভাইসব, পাখিসব
• সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমুহ
• আবলি - নিয়ামবলি, রচনাবলি
• মালা- মেঘমালা, পর্বতমালা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)
১৬৬.
'কুসু' - শব্দের সঠিক বহুচন কোনটি?
  1. কুসুমবলি
  2. কুসুমমালা
  3. কুসুমরাজি
  4. কুসুমদাম
সঠিক উত্তর:
কুসুমদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমদাম
ব্যাখ্যা

• 'কুসু' শব্দের সঠিক বহুচন - কুসুমদাম।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, গুচ্ছ, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।

যেমন:
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

১৬৭.
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনগুলো?
  1. গণ, নিচয়, সকল
  2. রাজি, নিকর, মালা
  3. বর্গ, রাজি, মালা
  4. কূল, সমূহ, বৃন্দ
সঠিক উত্তর:
রাজি, নিকর, মালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজি, নিকর, মালা
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
১৬৮.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. ব্রাত
  2. রাজি
  3. গণ
  4. পাল
সঠিক উত্তর:
রাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজি
ব্যাখ্যা
• ‘রাজি’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত (মধুকরব্রাত),
- বৃন্দ (বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ),
- পাল,
- গণ (বন্ধুগণ),
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৯.
'বৃক্ষ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. বৃক্ষবর্গ
  2. বৃক্ষরা
  3. বৃক্ষসমূহ
  4. বৃক্ষমালা
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষসমূহ
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে সব’, ‘সমূহ’, ‘-আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন -
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭০.
বহুবচনজ্ঞাপক শব্দ নয় নিম্নের কোনটি?
  1. ক) -রাজি
  2. খ) -নিচর
  3. গ) -দাম
  4. ঘ) -গুচ্ছ
সঠিক উত্তর:
খ) -নিচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) -নিচর
ব্যাখ্যা
'-নিচর' বহুবচনজ্ঞাপক শব্দ নয়। 

‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
একবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।
 
বহুবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে। যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
দৈনন্দিন ভাষার বহুবচন-প্রত্যয়
ক. ব্যক্তিবাচক কর্তৃপদ : -রা, -এরা, সকল
ব্যক্তিবাচক তির্যক : -দের (কে)/-এদের (কে)
খ. অ-মানবিক সজীব
মানবিক ক্ষেত্রে অবজ্ঞাবাচক এবং অজীব : -গুলো, (-গুলি)
 
সাহিত্যে ও বিশেষ নিরুক্তিতে (register) ব্যবহৃত বহুবচন-প্রত্যয়
ক. ব্যক্তিবাচক : --গণ, --বৃন্দ, -মণ্ডলী, -কুল, -দল, -মহল, সঙ্ঘ, সমূহ, -দিগর, -পুঞ্জ, -নিচয়, -উচ্চয়, -চয়, -ব্রজ
খ. অজীব : -আবলি, -উচ্চয়, -গুচ্ছ, -গ্রাম, -চয়, -জাল, -দল, -দাম, নিকর, -নিচয়, পাল, পুঞ্জ, ব্রজ, ব্রাত, মণ্ডল, -মণ্ডলী, মালা, রাজি, রাশি, -শ্রেণি, -সমূহ ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। 
১৭১.
‘মণ্ডলী’ লগ্নক যোগে সঠিক বহুবচন শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. সম্পাদকমণ্ডলী
  2. পণ্ডিতমণ্ডলী
  3. মন্ত্রীমণ্ডলী
  4. শিক্ষকণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
সম্পাদকমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পাদকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
→ গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, জনগণ, কবিগণ।
→ বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
→ মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
→ বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৭২.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) গণ
  2. খ) বৃন্দ
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) আবলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবলি
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ গুলো হচ্ছে : আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা রাজি, রাশি। যেমন- গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, পর্বতমালা, মেঘপুঞ্জ, তারকারাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দমম শ্রেণি।
১৭৩.
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সব
  2. বৃন্দ
  3. রাজি
  4. মালা
সঠিক উত্তর:
বৃন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দ
ব্যাখ্যা
• 'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে — 'বৃন্দ' লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

তাছাড়া, 
- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৪.
'কবিতা' এর বহুবচন কী হবে?
  1. কবিতারাজি
  2. কবিতাগুচ্ছ
  3. কবিতামালা
  4. কবিতাপুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কবিতাগুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতাগুচ্ছ
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৫.
নিচের কোন বহুজ্ঞাপক শব্দ কেবল প্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে?
  1. ক) মালা
  2. খ) সভা
  3. গ) শ্রেণি
  4. ঘ) আবলি
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রেণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রেণি
ব্যাখ্যা
- শ্রেণি কেবল প্রাণিবাচক শব্দের সাথে হয়। যেমন – ধনিকশ্রেণি সব সময় নিম্নশ্রেণির উপর খবরদারি করে থাকে।
- আবলি, মালা কেবল অপ্রাণীবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

- সভা শব্দটি প্রাণীবাচক ও অপ্রাণীবচক উভয় ধরণের শব্দেই ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন- মন্ত্রীসভা, সাহিত্যসভা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমী
১৭৬.
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত তাদেরকে কী বলে?
  1. ক) নির্দেশক
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) লগ্নক
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
গ) লগ্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লগ্নক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। 
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।
বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।
বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৭.
কোন দুটি শব্দ কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. পাল ও কুঞ্জ
  2. যূথ ও মালা
  3. পাল ও যূথ
  4. নিকর ও রাজি
সঠিক উত্তর:
পাল ও যূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল ও যূথ
ব্যাখ্যা

• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৮.
নিচের কোনটি একবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. গুলি
  2. রা
  3. টা
  4. এরা
সঠিক উত্তর:
টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টা
ব্যাখ্যা
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক- 'টা'।

• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
যেমন: টাকাটা, বাড়িটা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলি, গুলা, গুলো, রা, দিগ, এরা, দের ইত্যাদি নির্দেশক সংযুক্ত হয়।
যেমন: মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৯.
'কুসুম' শব্দের বহুবচন বোঝাতে নিচের কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গুচ্ছ
  2. পুঞ্জ
  3. দাম
  4. রাজি
সঠিক উত্তর:
দাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাম
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১৮০.
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. চয়
  2. রাজি
  3. গুচ্ছ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

 ‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮১.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
  1. রাশি
  2. রাজি
  3. মণ্ডলী
  4. মালা,
সঠিক উত্তর:
মণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
গণ;
বৃন্দ;
মণ্ডলী; শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
মালা,
রাজি,
রাশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৮২.
ব্যাকরণ অনুসারে কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন: গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর বেশিরভাগই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-সংস্করণ)।
১৮৩.
সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত নির্দেশক কোনটি?
  1. খানি
  2. টো
  3. গুলা
  4. গাছা
সঠিক উত্তর:
টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টো
ব্যাখ্যা
• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- টাকাটা, বাড়িটি, কাপড়খানা, বইখানা, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নির্দেশক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমন- মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি। [গুলিন শব্দ বর্তমানে ব্যবহৃত হয় না।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে- টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদির প্রয়োগ হয়। যেমন-চারটে ভাত, দুধটুকু, দুধটুকুন, দুটো ভাত, গোটা চারেক আম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৪.
'ছোট ছোট ঘর' দ্বিরুক্ত শব্দ কী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাহুল্য বোঝাতে
  2. ধারাবাহিকত বোঝাতে
  3. বহুবচন বোঝাতে
  4. গুণ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
বহুবচন বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচন বোঝাতে
ব্যাখ্যা
একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার পর শব্দ দুটো অবিকৃত থেকে গেলে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। 
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে- 

- অল্পতা বোঝাতে - জ্বরজ্বর , কবিকবি, হাসি হাসি মুখ ইত্যাদি। 
- বাহুল্য বোঝাতে - বস্তা বস্তা চাল, ঝুড়ি ঝুড়ি আম ইত্যাদি। 
- তাড়াতাড়ি বোঝাতে - সকাল সকাল আসবে, হাতে হাতে ফল পাওয়া ইত্যাদি। 
- ধারাবাহিকত বোঝাতে - দিন দিন ভালো হওয়া, বছর বছর পাস করা  ইত্যাদি। 
- বহুবচন বোঝাতে - লাল লাল ফুল, ছোট ছোট ঘর ইত্যাদি। 
- গুণ বোঝাতে - গরম গরম ভাত, মিষ্টি মিষ্টই কথা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
নিচের কোন বাক্যে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে?
  1. অনুগ্রহ করে নিয়মাবলি পড়ে দেখুন।
  2. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  3. সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
  4. সভায় সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সঠিক উত্তর:
সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৬.
বচন ও লিঙ্গ ব্যাকরণের কোন অংশের আলােচ্য বিষয়?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বঃ ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলোঃ
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস,
- কারক।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৭.
নিচের কোনটি একবচনের উদাহরণ?
  1. শিক্ষক পড়াচ্ছেন
  2. মানুষ মরণশীল
  3. লোকে বলে
  4. রচনাবলি দিও
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক পড়াচ্ছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক পড়াচ্ছেন
ব্যাখ্যা
একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

বহুবচন:

যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ থাকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮৮.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. শিক্ষকবৃন্দ
  2. সুধীবৃন্দ
  3. পর্বতকুল
  4. মনুষ্যসমূহ
সঠিক উত্তর:
পর্বতকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বতকুল
ব্যাখ্যা
• 'পর্বতকুল' - বচনবোধক শব্দটি সঠিক নয়। এর সঠিক রূপ- পর্বতসকল; পর্বতমালা।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
যেমন:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
যেমন:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৮৯.
নিচের কোনটি একবচন?
  1. ক) আমি
  2. খ) বইগুলি
  3. গ) মাঝিরা
  4. ঘ) কলমগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমি
ব্যাখ্যা
“আমি” হলো একবচন শব্দ

‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।
• বহুবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে। যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১৯০.
'বৃক্ষ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি
  2. মালা
  3. সব
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে। 

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘-সব’ , ‘-সমূহ’ , ‘-আবলি’ , ‘-মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়। 
যেমন -
সব - ভাইসব, পাখিসব।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯১.
'কবি' - শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. কুল
  2. সকল
  3. সব
  4. সমূহ
সঠিক উত্তর:
কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুল
ব্যাখ্যা

প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

যেমন:
- কুল - কবিকূল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৯২.
'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা' কোন শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে
  2. খ) উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে
  3. গ) অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে
  4. ঘ) কোনটিই না
সঠিক উত্তর:
গ) অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৯৩.
কোনটি একবচন বাচক নির্দেশক?
  1. গাছি
  2. গুলি
  3. গুলিন
  4. গুলা
সঠিক উত্তর:
গাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছি
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকেরও বিভিন্নতা প্রযুক্ত হয়।

যেমন:
• একবচনে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- টাকাটা, বাড়িটা, কাপড়খানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে গুলি, গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নিদের্শক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমন- মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৯৪.
নিম্নের কোন বহুত্ববোধক শব্দটি একবাচনবাচক বিশেষ্যের আগে প্রয়োগ করে বহুবচন প্রকাশ করে?
  1. ক) আবলি
  2. খ) বিস্তর
  3. গ) নিকর
  4. ঘ) রাজি
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্তর
ব্যাখ্যা
একবাচনবাচক বিশেষ্যের আগে অজস্র, অনেক, বিস্তর, বহু, নানা, ঢের, ইত্যাদি বহুত্ববোধক শব্দ বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ করেও বহুবচন বুঝানো হয়। 
যেমন: অজস্র লোক, অনেক টাকা, বিস্তর টাকা, বহু মেহমান, নানা কথা, ঢের খরচ, অঢেল টাকা পয়সা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৫.
কোনটি বিশেষ্যের বহুবচন নির্দেশ করে না?
  1. দের
  2. গুলো
  3. টি
  4. রা
সঠিক উত্তর:
টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি
ব্যাখ্যা
• একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন:  শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
- যেমন: মাঝিরা নৌকা চালায়।

• কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।
• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
- যেমন- গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।
• বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৬.
সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর অধিকাংশই কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তদ্ভব
  2. তৎসম
  3. বিদেশি
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• বহুবচন:
- যে বচন বা পারিভাষিক শব্দের সাহায্যে একের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে বলা হয় বহুবচন।
- বহুবচনের উদহারণ- মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে , আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে। ইত্যাদি। 
- বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলি, গুলা, গুলো, দিগ, দের, প্রভৃতি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
- সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর অধিকাংশই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭.
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. মণ্ডলী
  2. আবলি
  3. বৃন্দ
  4. গণ
সঠিক উত্তর:
আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি
ব্যাখ্যা

অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, গুচ্ছ, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন:
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
যেমন: - গণ; বৃন্দ; মণ্ডলী; বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

১৯৮.
কোনটি সঠিক?
  1. পণ্ডিতবর্গ
  2. সদস্যবর্গ
  3. শিক্ষকগণ
  4. সচিবমণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
পণ্ডিতবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পণ্ডিতবর্গ
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ। 
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৯.
কোনটি সঠিক?
  1. শিক্ষকগণ
  2. কুসুমদাম
  3. সুধীগণ
  4. তারকারাশি
সঠিক উত্তর:
কুসুমদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমদাম
ব্যাখ্যা
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ
 গণ-  দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমন্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ-  পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২০০.
‘পুস্তক’ শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. নিকর
  2. মালা
  3. আবলি
  4. রাশি
সঠিক উত্তর:
আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
- আবলি- পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।