বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বচন

মোট প্রশ্ন৩১১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বচন

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩১১

.
কোন শব্দটি প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রাশি
  2. খ) রাজি
  3. গ) পুঞ্জ
  4. ঘ) যূথ
ব্যাখ্যা
পাল ও যূথ কেবল জন্তুর (প্রাণিবাচক) শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন: গরুর পাল, হস্তিযূথ। রাশি, রাজি, পুঞ্জ - অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
.
মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. আবলি
  2. দাম
  3. রাজি
  4. মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
• বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
• বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন -গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
'শিক্ষক' শব্দকে বহুবচন করার সময় কোন লগ্নকটি যুক্ত করা হয়?
  1. ক) গণ
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বৃন্দ
  4. ঘ) মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
বচন: 
- 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ', ‘বৃন্দ', ‘মণ্ডলী', ‘বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 
যেমন – 
• গণ– সদস্যগণ, সচিবগণ। 
• বৃন্দ– দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
• মণ্ডলী– সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
• বর্গ– পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ। 

- অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে। 
যেমন - 
• বাজারে লোক কম। 
• মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
• সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘পাখি’ শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. সব
  2. মালা
  3. আবলি
  4. দাম
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে,
অপ্রণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘দল’ - শৈবালদাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
উন্নত প্রাণিবাচক বহুবচনে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সব
  2. কুল
  3. গণ
  4. পাল
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক বহুবচনে গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
.
'পুষ্প'- শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. পুষ্পচয়
  2. পুষ্পরাশি
  3. পুষ্পনিচয়
  4. উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উটর: ঘ) উপরের সবকটি।
------------
বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন -
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

বহুবচনের প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য:
(ক) বিশেষ্য শব্দের একবচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহুবচন বোঝানো হয়।
যেমন -
- সিংহ বনে থাকে (একবচন ও বহুবচন দু-ই বোঝায়)।
- পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় (বহুবচন)।
- বাজারে লোক জমেছে (বহুবচন)।
- বাগানে ফুল ফুটেছে (বহুবচন)।

‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. বৃন্দ
  2. গণ
  3. গুলি
  4. মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে?
- আমগুলো টক।
- টাকাগুলো দিয়ে দাও।
- ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।

অন্যদিকে, 
• রা-কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে 'রা' বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়।
যেমন- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে। তারা সকলেই লেখাপড়া করে। শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ। 
গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
কোনটি অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না?
  1. রাজি
  2. পুঞ্জ
  3. যূথ
  4. দাম
ব্যাখ্যা

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘পাল ও যূথ’।
- যেমন: হতিযূথ, মৃগপাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. বৃন্দ
  2. ব্রাত
  3. মণ্ডলী
  4. সঙ্ঘ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
- সমূহ: বিহগসমূহ, জনসমূহ।
- দল: শ্রমিকদল, ফুলদল।
- নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
- পুঞ্জ: প্রাজ্ঞপুঞ্জ, মেঘপুঞ্জ।
- মণ্ডল: বুধমণ্ডল, সারস্বতমণ্ডল।
- মণ্ডলী: নক্ষত্রমণ্ডলী,বিদ্বন্মণ্ডলী।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বাৎসঙ্ঘ।
- যূথ: গজযূথ, মৃগযূথ।
- ব্রাত: মধূকরব্রাত।
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ।
- পাল: মৃগপাল।
- গণ: বন্ধুগণ।
- কুল: জীবকুল, অলিকুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
নিচের কোন বহুবচনটি সঠিক?
  1. ক) মনুষ্যসকল
  2. খ) মনুষ্যসমূহ
  3. গ) পাখিসব
  4. ঘ) ক, খ, গ সবগুলােই
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ, ২০১৯ সংস্করণ ]
১১.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. ক) বইটা
  2. খ) মাঝিরা
  3. গ) শিক্ষক
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- মাঝিরা- বহুবচনের উদাহরণ।
- 'বচন' অর্থ হচ্ছে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
 
• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন ।
• একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন: শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন। বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

• বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন: মাঝিরা নৌকা চালায়। কলমগুলোর দাম অনেক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২.
বহুবচন লগ্নক যোগে সঠিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পুস্তকবর্গ
  2. পুষ্পদাম
  3. কমলনিকর
  4. কুসুমনিচয়
ব্যাখ্যা
⇒ 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন - 'পুস্তকাবলি'। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
"মন্ত্রী" শব্দের সঠিক বহুচন কোনটি?
  1. মন্ত্রীণ্ডলী
  2. মন্ত্রীরাজি
  3. মন্ত্রীমালা
  4. মন্ত্রীবর্গ
ব্যাখ্যা

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:

যেমন:
→ গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
→ বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
→ মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১৪.
সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) দুই প্রকার
  2. খ) চার প্রকার
  3. গ) তিন প্রকার
  4. ঘ) পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
সংখ্যা শব্দ দুই রকম:
যথা-
- ক্রমবাচক শব্দ
- পূরণবাচক শব্দ

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি। 

পূরণ বাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
পূরণবাচক শব্দ তিন ধরণের হয়।
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম , দ্বিতীয় , তৃতীয় , চতুর্থ ইত্যাদি। 
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা , দোসরা , তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি। 
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১-সংস্করণ]
১৫.
'মানী' পক্ষের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয় কোনটি?
  1. বর্গ
  2. গণ
  3. রাজি
  4. বৃন্দ
ব্যাখ্যা
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক- রাজি।
যেমন: তারকারাজি।

----------------
• বচন:

'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৬.
বচন কীসের ধারণা দেয়?
  1. পরিমাণের ধারণা
  2. সংখ্যার ধারণা
  3. ক্রমের ধারণা
  4. গণনা ধারণা
ব্যাখ্যা

• বচন:
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের — সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন: তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)

১৭.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক হলো-
  1. দাম
  2. সব 
  3. বৃন্দ
  4. ব্রজ
ব্যাখ্যা

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল
- ব্রজ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।।

১৮.
‘উচ্চয়’ বহুবচন লগ্নকটি কোন ধরনের শব্দে ব্যবহৃত হয়?
  1. প্রাণিবাচক শব্দে
  2. অপ্রাণিবাচক শব্দে
  3. প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে
  4. ব্যক্তিবাচক শব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্চয়’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - শিলোচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

----------------------------------
বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা:
১. একবচন এবং
২. বহুবচন।

• বহুবচন:
যখন কোনো শব্দ দ্রারা একাধিক ব্যাক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে নির্দেশ করে তখন তাকে বহুবচন বলে। সাধারণত কিছু মব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
'ভক্ত' শব্দের সঠিক বহুবচন কোনটি?
  1. ভক্তগণ
  2. ভক্তণ্ডলী
  3. ভক্তবর্গ
  4. ভক্তবৃন্দ
ব্যাখ্যা

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:

যেমন:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

২০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. মনুষ্যসমূহ
  2. বৃক্ষসমূহ
  3. মনুষ্যসকল
  4. পর্বতপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
সব = ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ = বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।
কুল = কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল = পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পর্বতপুঞ্জ - অশুদ্ধ। এর সঠিক বচন লগ্নক - মালা (পর্বতমালা)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২১.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মালা
  2. খ) আবলি
  3. গ) সব
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২.
‘মণ্ডলী’ লগ্নক যোগে সঠিক বহুবচন শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবিমণ্ডলী
  2. সুধীমণ্ডলী
  3. মন্ত্রীমণ্ডলী
  4. জনমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 

যেমন:
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, জনগণ, কবিগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
• বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২৩.
নিচের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. তারা বই পড়ছে।
  3. গাছগুলো কাটা হয়েছে।
  4. শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
- তারা বই পড়ছে।
- গাছগুলো কাটা হয়েছে।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪.
একবচন বাচক নির্দেশক কোনটি?
  1. দাম
  2. গাছি
  3. গ্রাম
  4. মহল
ব্যাখ্যা
গাছি একবচন বাচক নির্দেশক।
যেমন: মালাগাছি।

• একবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
'টি', 'টা', 'খানা', 'খানি' ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় 'এক'-এর সঙ্গে যোগ করে, অথবা 'এক' শব্দটিকে ব্যবহার না করেও বিশেষ্যের সঙ্গে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় যোগে একবচন গঠন করা যায়। যেমন:
- একটি ছেলে অথবা ছেলেটি।
- তার গলায় ছিল একখানি হার।

• সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে:
- দাম: শৈবালদাম,
- গ্রাম: গুণগ্রাম,
- মহল: মহিলামহল, গুণিমহল।

উৎস: ১। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
কোনটি 'পর্বত' শব্দের বহুবচন?
  1. পর্বতগুচ্ছ
  2. পর্বতমালা
  3. পর্বতপুঞ্জ
  4. পর্বতরাজ
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'পর্বত' শব্দের বহুবচন - পর্বতমালা।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘-আবলি’, ‘মালা ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন -
সব - ভাইসব, পাখিসব
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৬.
‘কুল’ লগ্নকটি কোন ধরনের শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. মানী পক্ষের বহুবচন
  2. কেবল জন্তুর বহুবচনে
  3. প্রাণি ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• প্রাণি ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ‘কুল’ লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ইষ্টকুল, কবিকুল।

অন্যদিকে,
--------------------
• কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘পাল ও যূথ’।
যেমন: হতিযূথ, মৃগপাল।

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৭.
'পাল' ও 'যূথ' শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে
  2. খ) কেবল জন্তুর বহুবচনে
  3. গ) অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে
  4. ঘ) কেবল জন্তুর একবচনে
ব্যাখ্যা
'পাল' ও 'যূথ' শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়- কেবল জন্তুর বহুবচনে।
যেমন: 
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।
হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৮.
'তরঙ্গ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. তরঙ্গমালা
  2. তরঙ্গদল
  3. তরঙ্গদাম
  4. তরঙ্গরাশি
ব্যাখ্যা

• ‘তরঙ্গ’ শব্দের বহুবচন- 'তরঙ্গমালা'। 

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
• মালা- পর্বতমালা, তরঙ্গমালা। 
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সঙ্ঘ
  2. উচ্চয়
  3. মণ্ডল
  4. সমূহ
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্চয়’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - শিলোচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

অন্যদিকে,
• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. সব
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব: ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ: গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি: নিয়মাবলি, রচনাবলি
- মালা: মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে, 
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ। 
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩১.
'পাল' ও 'যূথ' কেবল ___ এর বহুবচনে যুক্ত হয়।
  1. ক) জন্তু
  2. খ) অপ্রাণি
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) প্রাণি ও অপ্রাণি
ব্যাখ্যা
'পাল' ও 'যূথ' কেবল জন্তু এর বহুবচনে যুক্ত হয়। 
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
'তারকা' শব্দের বহুবচন - 
  1. তারকাপুঞ্জ
  2. তারকানিচয়
  3. তারকারাজি
  4. তারকাগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৩৩.
'আবলি' লগ্নক যোগে শুদ্ধ বহুবচন বোধক শব্দ কোনটি?
  1. পর্বতবলি
  2. পুস্তকাবলি
  3. মেঘবলি
  4. তারাবলি
ব্যাখ্যা
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
• মালা- পর্বতমালা।
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪.
কোনটিতে বহুবচন বোঝানো হয়েছে?
  1. অঢেল টাকা পয়সা
  2. নানা কথা
  3. অজস্র লোক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
→ একবচনাত্মক বিশেষ্যের আগে অজস্র, অনেক, বিস্তর, বহু, নানা, ঢের ইত্যাদি বহুত্ববোধক শব্দ বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ করেও বহুবচন বোঝানো হয়।
যেমন-
- অজস্র লোক, অনেক ছাত্র, বিস্তর টাকা, বহু মেহমান, নানা কথা, ঢের খরচ, অঢেল টাকা পয়সা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
'আবলি' যোগে শুদ্ধ বহুবচনবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মেঘবলি
  2. রচনাবলি
  3. পর্বতবলি
  4. বৃক্ষাবলি
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন-
সব: ভাইসব, পাখিসব। 
সমূহ: গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
আবলি: নিয়মাবলি, রচনাবলি। 
মালা: মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩৬.
শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ নয় কোনটি?
  1. দাম
  2. কুল
  3. মালা
  4. আবলি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ নয়- কুল। 

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ- 
• কুল: কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল: পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব: ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ: বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭.
নিচের কোনটি বহুবচন বাচক শব্দ নয়?
  1. ক) গ্রাম
  2. খ) কুল
  3. গ) সভা
  4. ঘ) মঙ্গল
ব্যাখ্যা
গ্রাম, কুল, সভা ইত্যাদি বহুবচন বাচক শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৮.
'হস্তী' শব্দটির বহুবচন-
  1. হস্তীসব
  2. হস্তীযূথ
  3. হস্তীসকল
  4. হস্তীবর্গ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'হস্তী' শব্দটির বহুবচন - হস্তীযূথ।
- যূথ- বহুবচন বোধক শব্দটি 'হস্তী' শব্দটির পর বসবে।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
নিচের কোনটি বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ?
  1. পাল
  2. যূথ
  3. গুচ্ছ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

অন্যদিকে,
'পালযূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বলে-
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’
বা ‘বইগুলো” পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

পদ:
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 

লগ্নক চার ধরনের: 
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ। 

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের ‘টি' বা ‘টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’
বা ‘বইগুলো” পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। ‘তখনই
বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৪১.
'রাশি' শব্দযোগে গঠিত সঠিক বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. বৃক্ষরাশি
  2. মেঘরাশি
  3. জলরাশি
  4. কুসুমরাশি
ব্যাখ্যা
• 'জল' এর সাথে 'রাশি' বহুবচন বাচক শব্দ বেশি মানানসই এবং শুদ্ধ।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
- যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, জলরাশি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- বাকি অপশনের সঠিক বহুবচন হলো:
- কুসুমনিচয় বা কুসুমদাম, 
- মেঘকুঞ্জ বা মেঘমালা, 
- বৃক্ষরাজি বা বৃক্ষসমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪২.
নিম্নের কোন বাক্যে বহুবচন প্রকাশক এর ব্যবহার সঠিকভাবে হয়েছে?
  1. ক) পাখিবর্গ আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে।
  2. খ) গ্রন্থগণ খুঁজে পাচ্ছিনা।
  3. গ) মৌমাছি মৌচাক বানায়।
  4. ঘ) দর্শকমালা চলচ্চিত্র উপভোগ করছে।
ব্যাখ্যা
বচন হলাে সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যান্য বাক্যের সঠিক প্রয়োগ- 
- পাখিসব আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। 
- গ্রন্থসমূহ খুঁজে পাচ্ছিনা। 
- দর্শকবৃন্দ চলচ্চিত্র উপভোগ করছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৩.
বচন ব্যাকরণের কোন পদের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশ করে?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বচন:
বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।

• বচনের প্রকারভেদ:
বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা: ১. একবচন ও ২. বহুবচন।

১. একবচন: কোনো গণন-বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দে অভিধেয় ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর মাত্র একটি সংখ্যা বোঝালে তাকে একবচন বলে। যেমন: বইটি, পাখিটি ইত্যাদি।

২. বহুবচন: কোনো গণন-বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দে অভিধেয় ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর একের অধিক সংখা বোঝালে তাকে বহুবচন বলে। যেমন: বইগুলো, পাখিগুলো ইত্যাদি। যা গণনা করা যায় না তার বহুবচনও হয় না। যেমন: পানিরা, দুধেরা ইত্যাদি হবে না, কারণ এগুলো দ্বারা এখানে পরিমাপ বোঝায়- সংখ্যা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪.
'মানী' পক্ষের বেলায় কোন বহুবচন বাচক শব্দটি বসে?
  1. আবলি
  2. মালা
  3. গণ
  4. সমূহ
ব্যাখ্যা
• 'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে 'গণ' লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, 
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, 
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডল, 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

তাছাড়া, 
- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫.
'ফুল' এর সাথে কোন লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়?
  1. ক) গুলো
  2. খ) সমূহ
  3. গ) গুলি
  4. ঘ) মালা
ব্যাখ্যা
- 'ফুল' এর সাথে 'গুলো' লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।

• '-রা', '-এরা', 'গুলো', 'গুলি' 'দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়। যেমন:
রা - ছাত্ররা, ধনীরা।
এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
গুলো - ফুলগুলো, গরুগুলো।
গুলি - বইগুলি, ঘরগুলি।
দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

অন্যদিকে,
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
গুলি - বইগুলি, ঘরগুলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৬.
কোনটি 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন?
  1. পুস্তকগুলি
  2. পুস্তকাবলি
  3. পুস্তকগুচ্ছ
  4. পুস্তকসমূহ
ব্যাখ্যা
• 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন - পুস্তকাবলি। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭.
গণসাহিত্য শব্দে ‘গণ’ কথাটি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) সাধারণ মানুষ অর্থে
  2. খ) জনগণের রচিত সাহিত্য অর্থে
  3. গ) জনগণের জন্য সাহিত্য অর্থে
  4. ঘ) লোকসাহিত্য অর্থে
ব্যাখ্যা

গণ - সমূহ; সমষ্টি।
বহুবচনবাচক শব্দ (কৃষকগণ, লোকগণ)।
জনসাধারণ (গণ-আন্দোলন)।

গণসাহিত্য শব্দে ‘গণ’ কথাটি ব্যবহৃত হয় সাধারণ মানুষ অর্থে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪৮.
'বচন' ব্যাকরণের কোন পদের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশ করে?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'বচন':
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

• একবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- সে এলো।
- মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪৯.
বনে বনে ফুল ফুঠেছে, এখানে ফুল শব্দটি
  1. এক বচন
  2. বহু বচন
  3. উভয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বহুবচন:
- যে বচন বা পারিভাষিক শব্দের সাহায্যে একের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে বলা হয় বহুবচন।
- বহুবচনের উদহারণ- মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে , আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে। ইত্যাদি। 
- বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলি, গুলা, গুলো, দিগ, দের, প্রভৃতি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
- সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর অধিকাংশই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত। 

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

এরূপ- বনে বনে ফুল ফুঠেছে।- বাক্যে ‘ফুল’ শব্দটিতে বহুবচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বনে বনে অনেক ফুল ফুটেছে বোঝাচ্ছে। সুতরাং বাক্যে ফুল বহুবচন শব্দ। 
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০.
'রচনা' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. বলী
  2. সব
  3. আবলি
  4. নিচয়
ব্যাখ্যা
• বচন:
একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে। যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে,
• ‘নিচয়’ লগ্নকটি উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১.
'তিনি' এর বহুবচন কোনটি?
  1. ক) তারা
  2. খ) আপনারা
  3. গ) তাঁরা
  4. ঘ) তোমরা
ব্যাখ্যা
কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হবার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়- 

একবচন— আমি;  বহুবচন— আমরা। 
একবচন— তুমি;  বহুবচন—তোমরা। 
একবচন— সে; বহুবচন— তারা।
একবচন— তিনি;  বহুবচন— তাঁরা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২.
'মেঘ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. মেঘমালা
  2. মেঘসমূহ
  3. মেঘেরা
  4. মেঘগুলো
ব্যাখ্যা

• 'মেঘ' শব্দের বহুবচন মেঘমালা।
বচন:

- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৩.
প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. উচ্চয়
  2. ব্রজ
  3. কুল
  4. জাল
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে কুল।
- যেমন: জীবকুল, অলিকুল।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত শব্দ 
ব্রজ - ভূধরব্রজ, গিরিব্রজ,
জাল - শরজাল, বিপজ্জাল,
উচ্চোয় - শিলচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি,
- গুচ্ছ,
- দাম,
- নিকর,
- পুঞ্জ,
- মালা,
- রাজি,
- রাশি।
 
• প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ,
- কুল,
- পাল,
- ব্রাত,

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪.
’বচন’ এর অর্থ কী?
  1. ক্রমের ধারণা
  2. গণনা ধারণা
  3. সংখ্যার ধারণা
  4. পরিমাণের ধারণা
ব্যাখ্যা
• বচন:
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন: তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
৫৫.
নিচের কোনটি একবচন?
  1. তারা
  2. বইটা 
  3. মেয়েরা 
  4. পাখিগুলো
ব্যাখ্যা
বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। সবাই কাজে মন দাও। পাখিগুলো আকাশে উড়ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
৫৬.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয় কোনটি?
  1. শিক্ষকবৃন্দ
  2. জনগণ
  3. মনুষ্যসকল
  4. সুধীবৃন্দ
ব্যাখ্যা

উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৫৭.
‘অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।’ আলোচ্য বাক্যে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বচনজনিত
  2. খ) বাচ্যজনিত
  3. গ) বাহুল্যজনিত
  4. ঘ) যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায়
ব্যাখ্যা

‘অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।'- এই বাক্যে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি আছে।
এই বাক্যের শুদ্ধ রূপ হবে - অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৫৮.
"পণ্ডিত" - শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. পণ্ডিতমণ্ডলী
  2. পণ্ডিতবৃন্দ 
  3. পণ্ডিতবর্গ
  4. পণ্ডিগণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:

যেমন:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৯.
কোন শব্দটি ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন রূপ প্রকাশ করে?
  1. নিচয়
  2. মালা
  3. রাজি
  4. রাশি
ব্যাখ্যা
মালা শব্দটি ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন রূপ প্রকাশ করে।
• মালা শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- মেঘমালা,
- গ্রন্থমালা,
- পর্বতমালা

অন্যান্য অপশন:
• নিচয় শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- পুষ্পনিচয়,
- বুধনিচয়।

• রাজি শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- পুষ্পরাজি,
- বৃক্ষরাজি,
- গ্রন্থরাজি।

রাশি শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- পুষ্পরাশি,
- পত্ররাশি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০.
কিসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোনো পার্থক্য হয় না?
  1. অর্থভেদে
  2. বচনভেদে
  3. বর্ণনাভেদে
  4. কালভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৬১.
'বচন' কীসের ধারনা দেয়?
  1. ক) লিঙ্গের
  2. খ) পদের
  3. গ) বর্গের
  4. ঘ) সংখ্যার
ব্যাখ্যা
বচন হলাে সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬২.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. '-সব'
  2. 'সমূহ'
  3. '-আবলি'
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘-সব’, ‘-সমূহ’, ‘-আবলি’, ‘-মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৩.
মানী পক্ষের বহুবচন নির্দেশ করতে কোন প্রত্যয় ব্যবহার করা হয় না?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. কুল 
ব্যাখ্যা

মানী পক্ষের বহুবচন নির্দেশ করতে কুল লগ্নক ব্যবহার করা হয় না। 

মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে, 
- গণ, 
- বৃন্দ, 
- মণ্ডলী, 
- বর্গ, ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।

প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্র কুল ব্যবহৃত হয়,
কুল : জীবকুল, অলিকুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬৪.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. নিকর
  2. দাম
  3. সমূহ
  4. গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক-
• কুল- কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল- পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ- বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

--------------
অন্যদিকে, 
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ-
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৫.
‘হস্তি’ শব্দের সাধারণ বহুবচন কোনটি?
  1. হস্তিকুল 
  2. হস্তিযূথ
  3. হস্তিসমূহ 
  4. হস্তিরাজি 
ব্যাখ্যা

‘হস্তি’ শব্দের সাধারণ বহুবচন হস্তিযূথ। 
কেবল জন্তুর বহুবচনে পাল ও যূথ ব্যবহৃত হয়,
পাল - মুগপাল,
যূথ - হস্তিযূথ। 

প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্র কুল ব্যবহৃত হয়,
- কুল - জীবকুল, অলিকুল।
সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে রাজি ব্যবহৃত হয়,
- রাজি - পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি। 
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দে সমূহ ব্যবহৃত হয়,
- সমূহ - বিহগসমূহ, জনসমূহ, জাতিসমূহ। 

উৎস: ১। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৬.
কোনটি প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় বহুবচন নির্দেশক?
  1. সকল 
  2. ব্রজ 
  3. বৃন্দ 
  4. আবলি 
ব্যাখ্যা

সকল প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় বহুবচন নির্দেশক।

প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দসমূহ:
- কুল (ইষ্টককুল/ কবিকুল),
- নিচয় (পর্বতনিচয়/ মনুষ্যনিচয়),
- সকল (পর্বতসকল/ মনুষ্যসকল),
- সব (নথিসব/পাখিসব),
- সমূহ (বইসমূহ/ বৃক্ষসমূহ)। 

অন্যদিকে, 
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ, দর্শকবৃন্দ
- ব্রজ: ভধুরব্রজ, গিরিব্রজ,
- আবলি: রচনাবলি, রত্নাবলি, পদাবলি। 

উৎস: ১। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৬৭.
কোনটি শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ?
  1. দেবগণ
  2. হস্তিদাম
  3. তরঙ্গরাশি
  4. কুসুমাবলি
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
- গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'হস্তিদাম' এর শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ - হস্তিযূথ।
- 'কুসুমাবলি' এর শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ - কুসুমদাম।
- ‘তরঙ্গ’ এর শুদ্ধ বচনবোধক শব্দ - তরঙ্গমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮.
'সাহেব' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. সাহেববৃন্দ
  2. সাহেবান
  3. সাহেবগণ
  4. সাহেবরা
ব্যাখ্যা
কতিপয় বিদেশি শব্দে, সে ভাষার অনুসরণে বহুবচন হয়।
যেমন -
- আন যোগে: বুজুর্গ-বুজুর্গান, সাহেব-সাহেবান

বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন -
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

বহুবচনের প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য:
(ক) বিশেষ্য শব্দের একবচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহুবচন বোঝানো হয়।
যেমন -
- সিংহ বনে থাকে (একবচন ও বহুবচন দু-ই বোঝায়)।
- পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় (বহুবচন)।
- বাজারে লোক জমেছে (বহুবচন)।
- বাগানে ফুল ফুটেছে (বহুবচন)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯.
নিচের কোন বাক্যে লগ্নকের ব্যবহার ব্যতিত বহুবচন প্রকাশ পেয়েছে?
  1. হাজার হাজার মানুষের মেলা।
  2. ছেলেরা মাঠে খেলা করে।
  3. মৌমাছি মৌচাক বানায়।
  4. এসব নিয়ে আমরা ভাবি না।
ব্যাখ্যা
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।যেমন: -রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি' ইত্যাদি।
- অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন-
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৭০.
নিচের কোন বহুবচনটি সঠিক নয়? 
  1. পর্বতসকল
  2. কবিকুল
  3. পক্ষিকুল
  4. পণ্ডিতাবলি
ব্যাখ্যা
• 'পণ্ডিতাবলি' বহুবচনটি ভুল।
- সঠিক বহুবচন হবে পণ্ডিতবৃন্দ/ পণ্ডিতগণ/ পণ্ডিতবর্গ।

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ

- কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭১.
কোন বাক্যটিতে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন বোঝাচ্ছে?
  1. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  2. শিক্ষকেরা আজকের সভায় অনুপস্থিত।
  3. কলমগুলোর দাম অনেক।
  4. বাজারে লোক কম।
ব্যাখ্যা
 বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।  
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যদিকে,
• "ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।" - এখানে বহুবচন লগ্নক হলো 'রা'।
• "শিক্ষকেরা আজকের সভায় অনুপস্থিত।" - এখানে বহুবচন লগ্নক হলো 'এরা'। 
• "কলমগুলোর দাম অনেক।" - এখানে বহুবচন লগ্নক হলো 'গুলো'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৭২.
কোনটি  ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ ?
  1. প্রথমা
  2. এক
  3. পহেলা
  4. প্রথম
ব্যাখ্যা

 • ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
 যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২(বারো),

•পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। যেমন 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান 'প্রথম', 'প্রথমা', 'পহেলা'ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৭৩.
ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে কী যুক্ত হয়?
  1. রাশি
  2. দাম
  3. মালা
  4. গুলো
ব্যাখ্যা
(ক) অপ্রাণী বা ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'রা' যুক্ত হয় না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়।
যেমন: পাথরগুলো, গরুগুলি।

(খ) অপ্রাণিবাচক শব্দের উত্তর 'কে' বা 'রে' বিভক্তি হয় না, শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা: কলম দাও।

(গ) স্বরাস্ত শব্দের উত্তর 'এ' বিভক্তির রূপ হয় – 'য়' বা 'য়ে'। 'এ' স্থানে 'তে' বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন – মা+এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়, পানি + তে = পানিতে।

(ঘ) অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র' স্থলে 'এর' যুক্ত হয়।
যেমন – লোক + রা = লোকেরা। বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) রা= বিদ্বানেরা। মানুষ এর = মানুষের।

অন্যদিকে,
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো-
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন: গ্রন্থাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৪.
'মানুষ' - এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক লগ্নক কোনটি?
  1. তা
  2. টুকু
  3. খানা
  4. জন
ব্যাখ্যা
- জন:
• শুধু মানুষের বেলায় - 'জন' নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন:
বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন ৷

• সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন:
একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।

• অধিক সংখ্যার বেলায় ‘জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে।
যেমন:
পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৭৫.
উন্নত প্রাণিবাচক বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. পাল
  2. বৃন্দ
  3. মালা
  4. আবলি
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মানুষ প্রকাশক বহুবচনে নিম্নলিখিত বদ্ধরূপমূল ব্যবহৃত হয়-
গণ: জনগণ, শিক্ষকগণ, দেবগণ, নরগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ: শিক্ষকবৃন্দ, সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলি: সম্পাদকমণ্ডলি, শিক্ষকমণ্ডলি ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ইতর প্রাণিবাচক শব্দের শেষে এরা, সমূহ, সকল, সম, পাল, কুল, ব্যবহার করে একবচন থেকে বহুবচন করা হয়।
যেমন- গরুগুলি, পাখিরা, পাখিসব, বাচ্চাগুলো, গরুরপাল ইত্যাদি।

• বস্তুবাচক শব্দের শেষে আবলি, সমূহ, সকল, রাজি, গুচ্ছ, মালা, রাশি, পুঞ্জ ইত্যাদি যোগ করে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বইসমূহ, বৃক্ষরাজি, পুষ্পগুচ্ছ, কেশরাশি, মেঘপুঞ্জ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
নিচের কোন শব্দটির সঙ্গে 'গুচ্ছ' বহুবচন বোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়?
  1. পুস্তক
  2. কবিতা
  3. পর্বত
  4. তারকা
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি - পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
দাম - কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর - কমলনিকর।
পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
মালা - পর্বতমালা।
রাজি - তারকারাজি।
রাশি - বালিরাশি।
নিচয় - কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭.
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কী লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রাজি
  2. খ) মালা
  3. গ) মণ্ডলী
  4. ঘ) আবলি
ব্যাখ্যা
- 'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে মণ্ডলী ব্যবহৃত হয়।

• বচন: 
- 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 
যেমন-
গণ– সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ– দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী– সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ– পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লোক কম। 
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮.
'মেঘ' শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি
  1. আবলি
  2. মণ্ডলী
  3. কুঞ্জ
  4. বর্গ
ব্যাখ্যা
'মেঘ' শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক- মেঘকুঞ্জ, মেঘমালা ও মেঘপুঞ্জ। 

-----------
বচন:
একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে। যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন: গ্রন্থাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা, গ্রন্থমালা।

অন্যদিকে,
• ‘পুঞ্জ’ লগ্নকটি প্রাণি বা বস্তু উভয় নামের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: মেঘপুঞ্জ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৯.
বাংলা ভাষায় বচন কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও
- বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮০.
"বাজারে লোক কম।" - এখানে "লোক" -
  1. একবচন
  2. বহবচন
  3. দ্বিবচন
  4. একবচন ও বহুবচন
ব্যাখ্যা
• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লোক কম। 
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১.
মানী পক্ষের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. আবলি
  2. বর্গ
  3. সব
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ। 
বৃন্দ- দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ- পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন-
সব- ভাইসব, পাখিসব। 
সমূহ- গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
আবলি- নিয়মাবলি, রচনাবলি। 
মালা- মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮২.
'পর্বত' শব্দের বহুবচন- 
  1. পর্বতপুঞ্জ
  2. পর্বতগুচ্ছ
  3. পর্বতরাজ
  4. পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

• 'পর্বত' শব্দের বহুবচন - পর্বতমালা।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘-আবলি’, ‘মালা ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন -
সব - ভাইসব, পাখিসব
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৩.
কোনটি বহুবচনের ভুল প্রয়োগ?
  1. জনগণেরা
  2. মানুষেরা
  3. গ্রন্থাবলি
  4. ভাইসব
ব্যাখ্যা

অপশন পর্যালোচনা:
ক) জনগণেরা → ভুল, কারণ জনগণ শব্দটি ইতোমধ্যেই বহুবচন বোঝায়, তাই “-রা” লাগানো ভুল।
খ) মানুষেরা → সঠিক, “মানুষ” একবচন হলেও বহুবচনের অর্থে “-রা” যুক্ত করা যায়।
গ) গ্রন্থাবলি → সঠিক বহুবচন রূপ।
ঘ) ভাইসব → সঠিক বহুবচন রূপ।

সঠিক উত্তর: ক) জনগণেরা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৪.
সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে কোন পদাশ্রিত নির্দেশক ব্যবহৃত হয়?
  1. গাছা
  2. খানি
  3. টো
  4. টা
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 

পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
 একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি। 
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি। 

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টিতা বোঝায়। 
যেমন - 
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে। 
- গোটা দুই আম দাও। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৫.
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. সমূহ
  2. সব
  3. নিচয়
  4. গণ
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক "নিচয় - কুসুমনিচয়"।

• বচন:

- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
আবলি = পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ = কবিতাগুচ্ছ।
দাম = কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর = কমলনিকর।
পুঞ্জ = মেঘপুঞ্জ।
মালা = পর্বতমালা।
রাজি = তারকারাজি।
রাশি  = বালিরাশি।
নিচয় = কুসুমনিচয়।

-----------------------
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
সব = ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ = বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।
কুল = কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল = পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ = দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ = সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী = শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ =  পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৮৬.
কোনটি একবচন  ও বহুবচন উভয়ই বোঝায়?
  1. ক) অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার
  2. খ) পোকা আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়
  3. গ) সিংহ বনে থাকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দের একবচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহুবচন বোঝানো হয়। যেমন : 
সিংহ বনে থাকে (একবচন  ও বহুবচন উভয়ই বোঝায়)।
পোকা আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় (বহুবচন)।
হাটে লোক জমা হয়েছে (একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝায় )

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র , এস এস সি প্রোগ্রাম ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৭.
কোনটি 'একবচন' এর সঠিক উদাহরণ?
  1. শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।
  2. পাখিরা আকাশে উড়ছে।
  3. ছেলেটি স্কুলে যায়নি।
  4. ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে।
ব্যাখ্যা

একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- সে এলো।
- ছেলেটি স্কুলে যায়নি।

বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করে।
- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে।
- পাখিরা আকাশে উড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৮৮.
‘ভূধরব্রজ’ কোন বচন?
  1. একবচন
  2. দ্বিবচন
  3. বহুবচন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ভূধরব্রজ’ — বহুবচনবাচক শব্দ। 
- সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে বহুবচনবাচক শব্দ- ভূধরব্রজ, গিরিব্রজ।
---------------- 
• 'বচন': 

- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
যথা, 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৮৯.
কোনটি 'তারকা' শব্দের বহুবচন?
  1. তারকাপুঞ্জ
  2. তারকানিচয়
  3. তারকারাজি
  4. তারকাগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৯০.
“বৃন্দ” যুক্ত সঠিক বহুবচন কোনটি?
  1. ক) সদস্যবৃন্দ
  2. খ) সুধীবৃন্দ
  3. গ) সম্পাদকবৃন্দ
  4. ঘ) শিক্ষকবৃন্দ
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’, ‘বৃন্দ’, ‘মণ্ডলী’, ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
৯১.
'পুস্তক' শব্দের বহুবচনে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গুচ্ছ
  2. আবলি 
  3. সমূহ
  4. দাম
ব্যাখ্যা
• 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন- 'পুস্তকাবলি'। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৯২.
নিচের কোনটি একবচনের উদাহরণ?
  1. তারা গেল।
  2. মানুষ মরণশীল।
  3. ডাক্তার রুগী দেখছেন।
  4. লোকে বলে।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩.
বচনের মাধ্যমে কোন দুটি পদের শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. গ) সর্বনাম ও অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া ও অব্যয়
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। 
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।
 
• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- সে এলো।
- মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৯৪.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
  2. খ) বচন হলো গণনার ধারণা।
  3. গ) বচনের মাধ্যমে সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয় না।
  4. ঘ) বচন হলো পরিমাপের ধারণা।
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৯৫.
'মেঘ' শব্দের বহুবচন কী?
  1. ক) মেঘে মেঘে
  2. খ) মেঘময়
  3. গ) মেঘসমূহ
  4. ঘ) মেঘমালা
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৬.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?  
  1. জাল
  2. সমূহ 
  3. নিকর
  4. আবলি
ব্যাখ্যা

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল
- ব্রজ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৯৭.
কোনটি বিশেষ্যের বহুবচন নির্দেশ করে?
  1. টা
  2. খানা
  3. গুলি
  4. খানি
ব্যাখ্যা
• 'গুলি'- বিশেষ্যের বহুবচন নির্দেশ করে। 
-------------- 
• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। মানুষ মরণশীল। লোকে বলে। রচনাবলি দিও।   

• কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন-
গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

• বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
৯৮.
'গ্রন্থ' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. সমূহ
  2. পুঞ্জ
  3. মালা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• বচন:
একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে। যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা, গ্রন্থমালা।

অন্যদিকে,
• ‘পুঞ্জ’ লগ্নকটি প্রাণি বা বস্তু উভয় নামের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: মেঘপুঞ্জ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৯.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. শিক্ষক
  2. বইটা
  3. সে
  4. আমরা
ব্যাখ্যা
• বহুবচন - আমরা।

একবচন:

- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০০.
নিচের কোনটি বহুবচনবোধক শব্দ?
  1. বাজারে লোক কম।
  2. মৌমাছি মৌচাক বানায়।
  3. তিনি সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গবেষণা করছে।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে। 
যেমন-  
বাজারে লোক কম।
মৌমাছি মৌচাক বানায়।
তিনি সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গবেষণা করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।