বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Limitation Act, 1908

মোট প্রশ্ন১,০৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Limitation Act, 1908

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০১২০০ / ১,০৫৪

১০১.
Continuing breaches and wrongs বিধানটি তামাদি আইনের কত ধারায় বলা আছে?
  1. ২১ ধারায়
  2. ২৩ ধারায়
  3. ২৪ ধারায়
  4. ২৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♠ তামাদি আইনের  ২৩ ধারা মতে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ/ অন্যায় করা হলে যতদিন/ যতবার  তা করা হবে তার প্রতিদিন/ প্রতিবার হতেই তামাদির মেয়াদ নতুন করে শুরু হবে।
১০২.
বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর তামাদি আইনের প্রভাব কী?
  1. দুই দেশের তামাদির বিধান গ্রহণযোগ্য হবে
  2. পক্ষদ্বয়ের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো এক দেশের বিধান গ্রহণযোগ্য হবে
  3. সকল ক্ষেত্রে বিদেশের আদালতের তামাদির বিধান বিধান প্রযোজ্য হবে
  4. বাংলাদেশের আদালতে মামলা হলে, উক্ত তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,

- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লিখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।

- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।

⇒The Limitation Act, 1908: Section 11: Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
১০৩.
ক” নাবালক থাকাকালে উইলবলে প্রাপ্ত সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বা মিরাস[Legacy] আদায়ের জন্য মামলা করার অধিকার অর্জন করে। এর ১১ বৎসর পর ক” সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক” মামলা দায়ের করার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। প্রকৃতপক্ষে ক” সর্বোচ্চ কত বছর এর মধ্যে মামলা করলে মামলা খারিজ হবে না?
  1. ১ বছরের মধ্যে
  2. ২ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ৪ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃতের সম্পত্তির জন্য অথবা উইল করা সম্পত্তির অবশিষ্টাংশের জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ হলো ১২ বৎসর। এই প্রশ্নে ক আইনগতভাবে অপারগ বা নাবালক ছিল ১১ বৎসর। সুতরাং তার মামলা করার অবশিষ্ট মেয়াদ ছিল ১ বৎসর। যেহেতু অবশিষ্ট মেয়াদ ৩ বৎসরের কম আছে, তাই ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপরাগতার সুবিধা দাবী করা যেতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে আদালত ৮ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত ২ বৎসর সময় বাড়ায়ে ৩ বৎসর করতে পারে। অর্থাৎ ক সর্বোচ্চ ৩ বৎসরের মধ্যে মামলা করতে পারবে।
১০৪.
সর্বশেষ কত সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
♦ সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়। ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ দুইটি সংশোধন করা হয়।

♦ ১৭৯৩ সালে সর্ব প্রথম তামাদি আইন ইংরেজীতে প্রবর্তিত হলেও ১৮৫৯ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তামাদি আইন প্রণীত হয়। অর্থাৎ ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭১ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ১৮৭১ সালের তামাদি আইনে সরকার কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ছিল ৬০ বৎসর। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭৭ সালে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়।

♦ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।

♦ তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পদ্ধতিগত আইন উল্লেখ না থাকলে বিধিবদ্ধ আইন হবে।
১০৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার অধীনে চুক্তি বাতিলের মামলা দায়েরের সময়সীমা তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-১১২
  2. অনুচ্ছেদ-১১৩
  3. অনুচ্ছেদ-১১৪
  4. অনুচ্ছেদ-১১৫
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৪ এর বিধান: চুক্তি প্রত্যাহার করার (For recession of a contract] মামলা ।
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি রদের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১১৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

- যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি বাতিল করার অধিকার‌ প্রদান করে, সেগুলি সম্পর্কে বাদী যখন প্রথম অবগত হয় তখন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
১০৬.
অ্যাডভোকেট কর্তৃক মামলা বা কাজের জন্য খরচ আদায়ের মামলার তামাদি মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ৮৪ অনুযায়ী, যদি কোন অ্যাডভোকেট তার মামলা বা কাজের জন্য খরচ আদায় করতে চায়, এবং সেই খরচ পরিশোধের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় সীমা প্রকাশ্যে নির্ধারিত না থাকে, তবে এমন মামলার তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
→ এই ৩ বছরের গণনা শুরু হয়:
- সংশ্লিষ্ট মামলা বা কাজ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে, অথবা
- যদি অ্যাডভোকেট যথাযথভাবে সেই মামলা বা কাজ পরিত্যাগ করে, তাহলে কাজ পরিত্যাগের তারিখ থেকে।
→ অর্থাৎ, অ্যাডভোকেটের খরচ আদায়ের দাবি দাখিল করার জন্য ৩ বছরের মধ্যে দরখাস্ত করতে হবে, না হলে তামাদি হয়ে যাবে।
১০৭.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান নেই-
  1. আপিলের জন্য
  2. রিভিশনের জন্য
  3. রিভিউ এর জন্য
  4. এবেটমেন্ট রদের জন্য
ব্যাখ্যা
রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। আদালতে একটি প্রথা চালু আছে যে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে প্র্যাক্টিক্যালি ব্যবহার করা হয়।
১০৮.
সুদ পরিশোধের ফলে তামাদি মেয়াদ নবায়নের জন্য তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুসারে প্রয়োজন- 
  1. মৌখিক স্বীকৃতি
  2. স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি
  3. আদালতের অনুমোদন
  4. দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতি 
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908-এর ধারা ২০ (Section 20) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার ঋণের সুদ বা ঋণের কোনো অংশ তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিশোধ করে, তাহলে নতুন করে তামাদি মেয়াদ শুরু হয়, তবে তা তখনই কার্যকর হবে যখন এই পরিশোধের একটি লিখিত স্বীকৃতি থাকবে।
- এই স্বীকৃতি অবশ্যই, হস্তলিখিত (handwritten) অথবা স্বাক্ষরিত (signed) হতে হবে, এবং অবশ্যই পরিশোধকারী ব্যক্তি বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের মাধ্যমে হতে হবে।
- মৌখিক স্বীকৃতি, সাক্ষী বা আদালতের অনুমোদন – এগুলো এই ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক নয় এবং তামাদি নবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।

উদাহরণস্বরূপ:
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি তার ঋণের সুদ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ পরিশোধ করেছে এবং সেই পরিশোধ তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত কাগজে উল্লেখ আছে, তাহলে নতুন তামাদি মেয়াদ শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.

১০৯.
তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য হবে-
  1. মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ গণনা করতে
  2. আবেদনের তামাদির মেয়াদ গণনা করতে
  3. আপীলের তামাদির মেয়াদ গণনা করতে
  4. মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা করতে
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য হবে-মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা করতে।

⇒ তামাদি আইনের ১৭ ধারার বিধান মামলা করার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল: 
১.কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে।
2.একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।
3. উপধারা ১ ও ২ এর বিধানাবলি, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
-------------------
17.The Limitation Act 1908, Section-17, Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.

১১০.
তামাদি আইনের কত ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন' এর বিধান আছে?
  1. ১১
  2. ২৩
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৯ ধারার বিধান হল একবার তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া শুরু করলে মোকদ্দমা দায়েরে পরবর্তী কোন অপারগতা (Disability) বা অক্ষমতা (Inability) দ্বারা তা বন্ধ হবে না। তবে যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেনার টাকা আদায়ে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
-অর্থাৎ 'সময়ের অবিরাম চলন' হল তামাদি আইনের ৯ ধারার বিধান।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908- Section 9:- Continuous running of time:
-Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:

Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
১১১.
তামাদি আইনের ৬ ধারায় কয় ধরনের অপারগতাকে 'আইনগত অপারগতা' হিসেবে বৈধতা দেয়া হয়েছে?
  1. ৪ ধরনের
  2. ৫ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ২ ধরনের
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority];
২. উন্মাদ [Insanity];
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]।

⇒ মােকদ্দমা করার অধিকারী ব্যক্তি যে সময়ে মামলা করার অধিকারী হয়, তখন সে নাবালক বা উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকলে, তার মামলা দায়ের করার ও তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, যে সময় থেকে তার আইনগত অপারগতার অবসান ঘটবে।

⇒ যদি উক্ত ব্যক্তির একটি আইনগত অপারগতা থাকাকালীন সময়ে আরাে একটি অপারগতায় আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে দুটি আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ যদি উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তার আইনানুগ প্রতিনিধি, যদি তার আবার কোন অপারগতা না থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

১১২.
তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তামাদি আইন কীভাবে প্রযোজ্য?
  1. যেকোনো সময় মামলা করা যাবে
  2. কেবল ১২ বছরের মধ্যে মামলা করা যাবে
  3. নির্দিষ্ট সময়সীমার পর মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না
  4. কেবল উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ক) যেকোনো সময় মামলা করা যাবে।
⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো সম্পত্তি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে কারও কাছে ন্যস্ত (vested) থাকে, তাহলে সেই সম্পত্তির মালিক বা তার আইনি প্রতিনিধি বা অধিকারী (assigns) – যদি তারা বিনিময়ে কোনো মূল্য পরিশোধ না করে থাকেন – তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তামাদি সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়।
এর অর্থ হলো, সুনির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি উদ্ধার বা তার হিসাব চাওয়ার জন্য মামলা দায়েরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, যেকোনো সময় মামলা করা সম্ভব।
তবে, এই বিধান সাধারণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি ও ধর্মীয় বা দাতব্য ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি-এর জন্য প্রযোজ্য।

→ ধারা ১০-এর বিশেষ দিকসমূহ:
- সাধারণ তামাদি সময়সীমা প্রযোজ্য নয় – সাধারণত দেওয়ানি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের বিভিন্ন ধারা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়, তবে ধারা ১০-এর আওতাভুক্ত ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা নেই।
- ধর্মীয় বা দাতব্য ট্রাস্টও অন্তর্ভুক্ত – মুসলিম, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সংক্রান্ত সম্পত্তিকে নির্দিষ্ট ট্রাস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এসব ট্রাস্টের ম্যানেজারকে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে – ট্রাস্টের সম্পত্তি যদি অবৈধভাবে অন্যের দখলে চলে যায়, তাহলে ট্রাস্টি বা তার উত্তরাধিকারী যেকোনো সময় মামলা করতে পারবেন।

→ অন্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ:
(খ) কেবল ১২ বছরের মধ্যে মামলা করা যাবে – এটি ভুল, কারণ ধারা ১০-এর আওতায় ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তির জন্য কোনো নির্দিষ্ট তামাদি সীমা নেই।
(গ) নির্দিষ্ট সময়সীমার পর মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না – এটি ভুল, কারণ নির্দিষ্ট ট্রাস্টের জন্য সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।
(ঘ) কেবল উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে – এটি ভুল, কারণ মূল ট্রাস্টির বিরুদ্ধেও মামলা করা যেতে পারে।

→ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তির বিষয়ে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা নেই। তাই যেকোনো সময় মামলা করা যাবে।
১১৩.
করিম সুস্থ থাকা অবস্থায় মোকদ্দমা করার অধিকার অর্জন করে। কিন্তু মোকদ্দমা দায়ের করার আগেই সে উন্মাদ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য তামাদি গণনার পরিণতি হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. স্থগিত থাকবে
  2. অপারগতা শেষ হবার পর গণনা শুরু হবে
  3. স্থগিত থাকবে না
  4. শুধু ৩ বছর স্থগিত খাকবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৯- সময়ের অবিরাম চলন
একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে পরবর্তী কোন অপারগতা বা অক্ষমতা দ্বারা তা বন্ধ হবে না।

ব্যতিক্রম
যেক্ষেত্রে পাওনাদারের (Creditor) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদারের (Debtor) উপর পরিচালনার পত্ৰনামার (Letters of Administration) মাধ্যমে অর্পন করেছে, সেইক্ষেত্রে যতদিন উক্ত দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকবে ততদিন উক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।

Section 9: Continuous running of time
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

উল্লিখিত ক্ষেত্রেও করিম সুস্থ থাকা অবস্থায় মোকদ্দমা করার অধিকার অর্জন করে। পরবর্তীতে অপারগ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মোকদ্দমার তামাদি গণনা স্থগিত থাকবে না।
১১৪.
তামাদি আইনের কোন ধারায় আইনগত অপারগতার বিধানসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ৬, ৭ ধারায়
  2. ৬,৭,৮, ৯ ধারায়
  3. ৭,৮, এবং ৯ ধারা
  4. ৬, এবং ৮ ধারা
ব্যাখ্যা
♦কোন গুলো আইনগত অপারগতা তা ৬ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেক্ষেত্রে একাধিক বাণী বা আবেদনকারী আইনগত অক্ষম থাকে সেই ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা ৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে এবং ধারায় ৬ ও ৭ ধারার ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ৮ ধারায় উল্লেখিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬৭ ধারা ব্যাখ্যা করতে হবে। ৯ ধারায় বলা হয়েছে, একবার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া শুরু হলে পরবর্তী কোন অপারগতা তা বন্ধ করতে পারবেনা। অর্থাৎ ৬ ধারা প্রযোজ্য করতে হলে দেখাতে হবে যে, মামলা দায়েরের অধিকার যখন সৃষ্টি হয়েছিল তখন বাদী আইনগত অক্ষম ছিল। সুতরাং ৯ ধারা অনুযায়ী মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হওয়ার পর কোন বাদী আইনগত অক্ষম হলে সেই ক্ষেত্রে ৬ ধারা প্রযোজ্য হবেনা এবং তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবেনা।
১১৫.
'ক' নাবালক থাকাবস্থায় তার একটি দেওয়ানি মামলা করার অধিকার জন্মে, তামাদির সময় গণনা শুরু হবে যখন-
  1. 'ক' এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  2. 'ক' এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  3. 'ক' যখন মামলা করার আগ্রহী হবে
  4. 'ক' মামলা করার অধিকার অর্জন করে তখন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৬ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যত দিন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে।
-নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা হবে।
⇒ অর্থাৎ 'ক' এর নাবালকত্বের অবসান হওয়ার পর তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা:
উপধারা:(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা: (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা: (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যেত, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা: (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
---------------------------------
⇒ Limitation Act- Section-6: Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
১১৬.
According to Section 11(1) of the Limitation Act, 1908, suits on contracts entered into in a foreign country and instituted in Bangladesh-
  1. Can be filed at any time
  2. Have no limitation period
  3. Are subject to the limitation rules of Bangladesh
  4. Are subject to the foreign country's limitation rules
ব্যাখ্যা
Section 11: Suits on foreign contracts-
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.

• তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,
⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লেখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।

⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।
১১৭.
কোন মামলা দায়েরের সময়সীমা বিষয়ে তামাদি আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকলে তামাদির মেয়াদ হলো-
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
১১৮.
অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ে তামাদির মেয়াদ গণনার মূল প্রভাব কী?
  1. তামাদির মেয়াদ কমে যায়
  2. তামাদি সময়সীমা পরিবর্তন হয় না
  3. প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়
  4. কেবলমাত্র প্রথমবার চুক্তিভঙ্গ হলে তামাদি গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো অবিরাম চুক্তিভঙ্গ (Continuing Breach of Contract) বা অবিরাম অন্যায় (Continuing Wrong) সংঘটিত হয়, তাহলে প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির গণনা শুরু হয়, যতক্ষণ না ওই অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ বন্ধ হয়।

- সাধারণত, মামলার তামাদি গণনা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে শুরু হয়, তবে অবিরাম অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ হলে প্রতিদিনই নতুন করে তামাদির গণনা শুরু হয়।
- এর ফলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পরও মামলা দায়ের করতে পারেন, যদি অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ চলমান থাকে।
- জমির অবৈধ দখল (Trespass), পরিবেশ দূষণ (Pollution), বা চুক্তি লঙ্ঘন (Breach of Contract) সংক্রান্ত মামলায় এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

→ অর্থাৎ যদি অন্যায় বা চুক্তিভঙ্গ একটি নির্দিষ্ট দিনে শেষ না হয়ে চলতে থাকে, তাহলে প্রতিদিন নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। ফলে, তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এই যুক্তিতে মামলাটি খারিজ হবে না।
১১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি রদের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ-
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি রদের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১১৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৪ এর বিধান চুক্তি প্রত্যাহার করার (For recession of a contract] মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
তামাদি মেয়াদ শুরু হবে- যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি বাতিল করার অধিকার প্রদান করে, সেগুলি সম্পর্কে বাদী যখন প্রথম অবগত হয় তখন থেকে।
১২০.
স্থাবর সম্পত্তি হতে দখলদারের স্বত্ব অস্বীকারপূর্বক বেদখল করা হলে, মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের সময় সীমা-
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• স্থাবর সম্পত্তি হতে দখলদারের স্বত্ব অস্বীকারপূর্বক বেদখল করা হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারার দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলা করা হয়।

• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১২ বৎসরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় মামলা করতে হবে। 
১২১.
তামাদি আইনের ৫ ধারায় বর্ণিত তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিচের কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. মূল মামলা
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারায় বর্ণিত বিলম্ব মওকুফের বিষয়টির আইনগত মূল্য অপরিসীম। এই ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবরমাত্র আপীল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারী মামলার আপীলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
♦মূল মামলার ক্ষেত্রে এ তামাদি আইনের ৫ ধারাটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ অধিকাংশ দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর হতে ১২ বৎসর পর্যন্ত সম্প্রসারিত কিন্তু এই ধারার বিধান মতে আপীল এবং আবেদনের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন হতে ৬ মাস। যেহেতু আপীরের সময়সীমা কম সেহেতু যুক্তিসংগত কারনে আপীল দাযের করতে কিংবা রিভিশন সহ অন্যান্য দরখাস্ত দাখিল করতে বিলম্ব হলে এই ধারা মতে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে সেই বিলম্ব মওকুফ করা যাইতে পারে। তাই মূল মামলায় অনেক সময় পাওয়া যায় বিধায় মূল মামলা ৫ ধারা ব্যবহার যোগ্য নহে।
১২২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ১২ ধারার অধীন চুক্তি প্রবলের মামলার তামাদি-
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী,
 
চুক্তি প্রবলের মামলা করার তামাদির মেয়াদ হচ্ছে এক বছর, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ১২ ধারার অধীন চুক্তি প্রবলের মামলা করতে হবে এক বছরের মধ্যে।
১২৩.
কোনো দরখাস্ত দায়েরের মেয়াদ তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা না থাকলে কোন অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে?
  1. ১৮১
  2. ১৮২
  3. ১৭৩
  4. ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮১ বিধান: তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অন্য কোথাও বা দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় যে সব দরখাস্ত সম্পর্কে কোন বিধান নাই সেইসব দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ দরখাস্ত করার অধিকার উদ্ভব হওয়ার দিন থেকে ৩ বছর।
১২৪.
'ক' ও 'খ' এর মধ্যে ০১/০১/২০১০ তারিখে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে, যার শর্ত ছিল ০১/০৩/২০১০ তারিখের মধ্যে 'খ' কর্তৃক 'ক' কে ১ লক্ষ টাকা প্রদানের। কিন্তু 'খ' উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং টাকাও প্রদান করেনি। 'ক' কে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে?
  1. ২ বছরের মধ্যে
  2. ৩ বছরের মধ্যে
  3. ৬ বছরের মধ্যে
  4. ১২ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬ এর বিধান:
লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ৬ বছর বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

এক্ষেত্রে, 'ক' ও 'খ' এর মধ্যে ০১/০১/২০১০ তারিখে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে যার শর্ত ছিল ০১/০৩/২০১০ তারিখের মধ্যে 'খ' কর্তৃক 'ক' কে ১ লক্ষ টাকা প্রদানের। কিন্তু 'খ' উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং টাকাও প্রদান করেনি। এখন ১১৬ ধারা অনুসারে, 'ক' এর উক্ত টাকা আদায়ের জন্য বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে ৬ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ০১/০৩/২০১৬ তারিখের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। অন্যথায় মোকদ্দমা তামাদি আইনের ১১৬ ধারায় বাধাগ্রস্ত হবে এবং খারিজ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, চুক্তি অনিবন্ধিত হলে ১১৫ ধারা প্রযোজ্য হবে এবং সময়সীমা হবে ৩ বছর।
১২৫.
তামাদি আইনের তফসিলে যে সকল আবেদনে দাখিলের জন্য কোন তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নেই সে সকল আবেদন দাখিলের জন্য তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর 
  2. ২ বছর 
  3. ৩ বছর 
  4. ৬ বছর 
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮১: দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় কোন বিধান নাই সেই সকল দরখাস্ত বা যে সকল দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ এই তফসিলে উল্লেখ নেই, সেই সকল দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ, যখন থেকে অধিকার উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে- ৩ বছর।
---------------
The Limitation Act,1908, Article181: Applications for which no period of limitation is provided elsewhere in this schedule or by section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908 is 3 years from the day when the right to apply accrues.

১২৬.
আমানতি অর্থের জন্য মামলা করতে হবে -
  1. ৩ বছরের মধ্যে
  2. ৬ বছরের মধ্যে
  3. ১২ বছরের মধ্যে
  4. যে কোন সময়ে
ব্যাখ্যা
♠ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৬০ অনুযায়ী আমানতের অর্থ উদ্ধরের মামলা ৩ বছরের মধ্যে করতে হবে।
১২৭.
'একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে পরবর্তী কোন অপারগতা বা অক্ষমতা দ্বারা তা বন্ধ হবে না।'- এই নীতির ব্যতিক্রম কখন হয়?
  1. নাবালকের সম্পত্তির ক্ষেত্রে
  2. বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে
  3. দেনাদার পাওনাদারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় থাকলে
  4. পাওনাদার দেনাদারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় থাকলে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৯- সময়ের অবিরাম চলন:
একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে পরবর্তী কোন অপারগতা বা অক্ষমতা দ্বারা তা বন্ধ হবে না।

ব্যতিক্রম:
যদি কোনো পাওনাদারের সম্পত্তির পরিচালনার পত্রনামা তার দেনাদারকে দেওয়া হয়, তাহলে ঐ দেনা আদায়ের জন্য মামলা করার নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ পরিচালনা চলাকালীন স্থগিত থাকবে।

Section 9: Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

⇒ এই ধারা অনুযায়ী,
একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে পরবর্তীকালে যে কোনো অপারগতা বা অক্ষমতা এসে পড়লেও তা তামাদির গণনাকে বন্ধ করবে না। অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ অবিরত চলতে থাকবে। যখন দেনাদারই পাওনাদারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করছে, সেক্ষেত্রে পাওনার টাকা আদায়ের মামলা করার মেয়াদ বা সময়সীমা স্থগিত বা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এক্ষেত্রে দেনাদারের হাতেই আসলে পাওনাদারের সম্পত্তি থাকে। সুতরাং মামলার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে যায়।
১২৮.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১৯৪০ সালের সালিশী আইনের অধীনে সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদি সময় কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচেছদ-১৫৮ এর বিধান The Arbitration Act, 1940 এর অধীন সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ রোয়েদাদ দাখিলের নোটিশ জারীর তারিখ হতে ৩০ দিন।

- তামাদি আইনের ১৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদে সালিশের রোয়েদাদ রদের বিষয়ে বর্ণনা আছে।

অর্থাৎ তামাদি আইনে সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য বা তা পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করার জন্য ১৯৪০ সালের সালিশী আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে দরখাস্ত করতে হয়।
১২৯.
The Arbitration Act, 1940 এর অধীন সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচেছদ-১৫৮ এর বিধান The Arbitration Act, 1940 এর অধীন সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ রোয়েদাদ দাখিলের নোটিশ জারীর তারিখ হতে ৩০ দিন।
- তামাদি আইনের ১৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদে সালিশের রোয়েদাদ রদের বিষয়ে বর্ণনা আছে।
অর্থাৎ তামাদি আইনে সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য বা তা পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করার জন্য ১৯৪০ সালের সালিশী আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে দরখাস্ত করতে হয়।
১৩০.
অস্থাবর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জব্দ করার ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি সময়-
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ২৯ অনুচ্ছেদের বিধান-
আইনসম্মত পদ্ধতিতে অস্থাবর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জব্দ [wrongful seizure] করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলার
তামাদি মেয়াদ- ১ বৎসর।
সময় গণনা শুরু- জব্দ করার তারিখ থেকে।

The limitation Act-1908- Schedule-1 Article 29: 
For compensation for wrongful seizure of moveable property under legal process - One year from the date of Seizure.

১৩১.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ১৪ ধারার বিধান বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি-না?
  1. প্রযোজ্য নয় যদি না সেই আইনে প্রযোজ্যতা দেওয়া হয়
  2. প্রযোজ্য যদি সেই আইনে এই ধারার প্রযোজ্যতা বারিত করা না হয়
  3. এটি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা
  4. খ+গ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে তামাদি আইনের ৪, ৬-১৮ ধারার বিধান অন্য বিশেষ আইনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যদি সেই আইনে এই ধারাগুলোর প্রযোজ্যতা কে বারিত না করে।
১৩২.
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের সাধারণত কত দিনের মধ্যে করতে হয়?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ২০ দিন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: ৯০ দিন।
- রিভিশনের তামাদির মেয়াদ সরাসরি তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ নেই। তবে আদালতের রীতি ও প্রথা অনুযায়ী, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়। 
এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সময়সীমা অনুসরণ করা হয়:
- হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়েরের সময়সীমা: সংশ্লিষ্ট আদেশ বা রায় পাওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে।
- জেলা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের সময়সীমা: সংশ্লিষ্ট আদেশ বা রায় পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে।
১৩৩.
আলম ও রানা একটি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তি করেছেন। চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে রানা ক্ষতিপূরণের মামলা করতে চায়। এই ক্ষেত্রে মামলার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

• তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত না হলে, চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর এবং

অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুযায়ী-
চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হলে, উক্ত চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ ৬ বছর হবে।

অপরদিকে,
অনুচ্ছেদ ১১৩ এবং ১১৪ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মামলা এবং চুক্তি প্রত্যাহার/রদের মামলা তামাদির মেয়াদ ১ বছর।

১৩৪.
গাজীপুরে অবস্থিত একটি কারখানার একজন শ্রমিককে তার পাওনা মজুরি থেকে বঞ্চিত করলে, উক্ত শ্রমিক তামাদি আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতদিনের ভেতরে মজুরি আদায়ের জন্য মোকদ্দমা করতে পারবেন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে,
গৃহ-ভৃত্য, কারিগর বা শ্রমিকের মজুরী বকেয়া হলে তার মামলা করার সময়সীমা হলো ১ বছর।

⇒ অর্থাৎ, শ্রমিকের মজুরী যে তারিখে বকেয়া হবে সেই তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে তাকে মামলা করতে হবে।
১৩৫.
Limitation Act, 1908- এর অনুচ্ছেদ ১০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. Right to sue
  2. Right of damage
  3. Right of Pre-emption
  4. Right to adverse possession
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১০ অনুচ্ছেদ- অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) প্রয়োগের জন্য,
যেই অধিকার আইন, প্রথা/রেওয়াজ, অথবা বিশেষ চুক্তি-র উপর ভিত্তি করেই হোক না কেন –
তামাদি মেয়াদ: এক (১) বছর।

সময়সীমা গণনার শুরু:
- যেদিন বিক্রেতার কাছ থেকে সম্পত্তির দখল (physical possession) ক্রেতা গ্রহণ করে, অথবা,
- যদি বিক্রিত সম্পত্তির প্রকৃতি এমন হয় যে তার শারীরিক দখল সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল নিবন্ধিত হওয়ার দিন থেকে সময় গণনা শুরু হবে।
১৩৬.
আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে বাদী এই ক্ষেত্রে-
  1. মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে পারবে না
  2. পুনরায় যেদিন আদালত খুলবে তার ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করবে
  3. পুনরায় যেদিন আদালত খুলবে ঐদিন দায়ের করবে
  4. নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৪ ধারার বিধান: আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়: যেইক্ষেত্রে কোন মামলা, আপিল দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার দিন উত্তীর্ণ হয় সেক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে।
-----------------
⇒ Section-4. Where Court is closed when period expires:
Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
১৩৭.
তামাদি আইনের সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১২ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৬০ বছর
  4. ১২০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের আইনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বা তামাদির মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই মেয়াদগুলি প্রথম তফসিলের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
→ সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১৪৭ থেকে ১৪৯ এ বন্ধক (mortgage) সংক্রান্ত মামলা ও অন্যান্য নির্দিষ্ট সিভিল দাবির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 উদাহরণ:
- যদি কেউ কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক দিয়ে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ফেরত না পায়, তাহলে সে ৬০ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা করতে পারবে।
১৩৮.
তামাদি আইনের ৪ ধারার শিরোনামের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. আদালত খোলা থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়
  2. আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ শুরু হয়
  3. আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়
  4. আদালত খোলা থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ শুরু হয়
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৪ ধারা: আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়:
যেক্ষেত্রে কোন মামলা, আপিল দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার দিন উত্তীর্ণ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে।

Section 4- Where Court is closed when period expires:
Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
১৩৯.
তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে কোন সময় টা বাদ দেওয়ার বিধান নেই?
  1. যেদিন তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে সেদিন
  2. যেদিন মামলা দায়ের করা হবে সেদিন
  3. রায়-ডিক্রির কপি প্রাপ্ত হতে যে সময় লাগে
  4. রোয়েদাদের কপি প্রাপ্ত হতে ব্যয়কৃত সময়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১২ ধারায় বলা আছে তামাদির মেয়াদ হিসাব করার সময় কোন কোন সময় বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে। যেদিন মামলা দায়ের করা হবে সেদিন বাদ দেওয়ার বিধান নেই।
♦তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে কতিপয় সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। যথা-
মামলা, আপিল বা দরখাস্তের মেয়াদ আরম্ভের দিন।
রায় ঘোষণার দিন।
রায়ের নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময়।
রোয়েদাদ উত্তোলন করতে যে সময় ব্যয় হয়।
১৪০.
তামাদি আইনের ৬ ধারা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে
  2. আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে 
  4. উল্লিখিতর সকল ক্ষেত্রে 
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা শুধুমাত্র মোকদ্দমা দায়ের, আদালতের কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত তামাদি গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
-তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক, উন্মাদ, বা জড়বুদ্ধি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি গণনা শুরু হবে তখনই, যখন সে এই অপারগতা থেকে মুক্ত হবে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক মামলা (suit), আদালতের কার্যধারা (proceeding), বা ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজ্য।
- আপিল দায়ের একটি পৃথক অধিকার: মোকদ্দমা (suit) বা কার্যধারা (proceeding) দায়ের করার অধিকার এবং আপিল দায়ের করার অধিকার আলাদা। আপিল সাধারণত একটি আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যা স্বতন্ত্র এবং The Limitation Act-এর অন্যান্য ধারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- তামাদির গণনার প্রভাব: ৬ ধারায় উল্লেখিত বৈধ অপারগতার কারণে যে সময় গণনা বন্ধ রাখা হয়, তা শুধুমাত্র মূল মামলা বা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আপিলের ক্ষেত্রে নয়।

অর্থাৎ আপিলের জন্য নির্ধারিত সময়: আপিল দায়েরের জন্য The Limitation Act-এ স্বতন্ত্র সময়সীমা নির্ধারিত আছে (যেমন, ৩০ বা ৯০ দিন, নির্ভর করে আদেশ বা ডিক্রির ধরন অনুযায়ী)। এই সময়সীমা ৬ ধারার বিধান দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

সুতরাং, The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা মোকদ্দমা দায়ের, কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, আপিল দায়েরের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত আছে এবং তা ৬ ধারার আওতাভুক্ত নয়।

১৪১.
তামাদি আইন অনুযায়ী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ-
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

⇒ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
- The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
১৪২.
একতরফা শুনানিকৃত আপিল পুনঃশুনানির তামাদি সম্পর্কিত বিধান The Limitation Act, 1908- এর কত Article-এ বর্ণিত আছে?
  1. 169
  2. 170
  3. 173
  4. 181
ব্যাখ্যা
•  তামাদি আইনের ১৬৯ অনুচ্ছেদে একতরফা শুনানিকৃত আপিল পুনঃশুনানির তামাদি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

- একতরফাসূত্রে আপিল শুনানী হলে পুনঃশুনানীর জন্য আবেদনের সময়সীমা হল ৩০ দিন।
১৪৩.
The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারায় কোন বিষয় সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. প্রতারণার ফলাফল
  2. বৈদেশিক রায়
  3. অবিরাম চুক্তিভঙ্গ
  4. ক্ষতিপূরণ মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারা: অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-

যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs-
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
১৪৪.
তামাদি আইনের ৫ ধারার বিলম্ব মওকুফের জন্য দরখাস্তে কী দাবি/উল্লেখ করতে হয়?
  1. বিলম্বের কারণ
  2. বিলম্বের উপযুক্ত কারণ
  3. মামলার গুরুত্ব
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
♦অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিলো।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবরমাত্র আপীল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারী মামলার আপীলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
১৪৫.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি হতে বেদখল হলে সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য মামলা করার জন্য তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১২ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৬০ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি হতে বেদখল হলে সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য মামলা করার তামাদি ১২ বছর।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী: যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিল, কিন্তু পরে বেদখল হয়ে যায় বা নিজে থেকে দখল ত্যাগ করে, তখন সেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায়) মামলা করতে হয় ১২ বছরের মধ্যে। এই সময় গণনা শুরু হয় বেদখল হওয়ার বা দখল ত্যাগের তারিখ থেকে।
__________________
⇒ The Limitation Act 1908, Article 142: The period of limitation of a suit for the recovery of possession of an immoveable property when the plaintiff, while in possession of the property, has been dispossessed or has discontinued the possession.
 is 12 years. The period begins from the date of the dispossession or discontinuance.

১৪৬.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৭০ অনুসারে নি:স্ব হিসাবে আপীল করার অনুমতি দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ-১৭০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে নি:স্ব বা দরিদ্র (pauper) দাবি করে এবং কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করতে চান, তাহলে তাকে ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে "leave to appeal as a pauper" দরখাস্ত দাখিল করতে হবে।
- এই ধারা দরিদ্র বা আর্থিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিকে ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে সহযোগিতা করে।

উদাহরণস্বরূপ:
- একজন দরিদ্র ব্যক্তি যদি কোনো দেওয়ানি মামলায় হেরে যান এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, কিন্তু আদালতের ফি দিতে অক্ষম হন — তাহলে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল করে বিনা খরচে আপিল করার অনুমতি চাইতে পারেন।
১৪৭.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে মেয়াদ উত্তীর্ণের পর মামলা দায়ের করলে তা খারিজ হবে?
  1. ৩ ধারা
  2. ৪ ধারা
  3. ৫ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ (Section 3 of the Limitation Act, 1908) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে: "যদি কোনো মামলা, আপীল বা দরখাস্ত নির্ধারিত তামাদির মেয়াদের পর দাখিল করা হয়, তবে তা খারিজ করে দিতে আদালত বাধ্য থাকবে— এমনকি প্রতিপক্ষ (বিবাদী) যদি তামাদির প্রশ্ন না-ও তোলে, তবুও।"
অর্থাৎ, মামলা, আপিল বা দরখাস্ত যদি তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়ের করা হয়, তাহলে আদালত নিজ থেকেই সেটি খারিজ করে দেবে, এটি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক (mandatory)।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ মোতাবেক- প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হলে বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।

⇒ যা যা খারিজ হবে:
- Suit (মামলা)
- Appeal (আপিল)
- Application (আবেদন)
১৪৮.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ আদেশ অনুযায়ী ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৬৪ক অনুযায়ী, দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ আদেশ মোতাবেক ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- ৩৭ আদেশ দেওয়ানী কার্যবিধিতে ঋণ আদায়ের মামলার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়।
যদি এই ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
১৪৯.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. নিলাম বিক্রয়
  2. সুদ বা ঋণ পরিশোধ
  3. বিবাহ সংক্রান্ত অধিকার
  4. তৃতীয় পক্ষের দাবি
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮- ধারা ২০ : উত্তর দায় (Debt) সংক্রান্ত ঋণ বা সুদ প্রদানের ফলাফল:
(১) যে ক্ষেত্রে কোনো দেনা বা দায়ের সুদ বাবদ নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে, উক্ত দেনা বা দায় পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি স্বয়ং অথবা তার যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কোনো অর্থ প্রদান করে, সে ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা করতে হবে।

তবে শর্ত থাকে যে, ১৯২৮ সালের ১লা জানুয়ারির পূর্বে সুদ পরিশোধের ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে যিনি অর্থ প্রদান করবেন, সেই ব্যক্তির স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত (অথবা অন্যের দ্বারা লিখিত হলেও তার দ্বারা স্বাক্ষরিত) স্বীকৃতি থাকতে হবে।

১৫০.
তামাদি আইনের ১৪ ধারার অধীনে সময় বাদ দেওয়ার জন্য কোন শর্তটি অপরিহার্য?
  1. মামলা ফৌজদারি হতে হবে
  2. বাদী অবশ্যই আপিল করতে হবে
  3. বাদীকে মামলাটি সৎ বিশ্বাসে দায়ের করতে হবে
  4. মামলা অবশ্যই সরকারী সংস্থার বিরুদ্ধে হতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৪ এর মূল উদ্দেশ্য হল যদি কোনো ব্যক্তি যথাযথ যত্ন (due diligence) এবং সৎ বিশ্বাসে (good faith) একটি দেওয়ানি মামলা বা দরখাস্ত এমন কোনো আদালতে দায়ের করেন যেটি এখতিয়ারগত ত্রুটির কারণে সেই মামলার বিচার করতে অক্ষম, তবে উক্ত মামলায় যে সময় ব্যয় হয়, তা বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

এখানে "সৎ বিশ্বাসে" দায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
- কারণ যদি বাদী জানার পরও ভুল আদালতে মামলা করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে এখতিয়ারবিহীন আদালতে মামলা করেন, তাহলে সেটা “সৎ বিশ্বাসে” ধরা হবে না।
- সৎ বিশ্বাসের মানে হলো যথাযথ যত্ন ও মনোযোগ সহকারে, ভুল না করে, বিশ্বাসযোগ্য ও ন্যায্য উদ্দেশ্যে মামলা করা।

⇒ তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধান এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় যেই সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে:
(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, বাদী মূল বা আপিল আদালতে বিবাদির বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানি কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যে আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয়, সেই আদালতে যদি সৎবিশ্বাসে তা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে কার্যক্রমে যে সময় ব্যয়িত হয়, মামলার মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।
(২) কোন দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে দরখাস্তকারী মূল বা আপিল আদালতে একই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যধারা যথোপযুক্ত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে এবং তাতে একই প্রতিকার দাবি করা হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়ে ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে যে আদালতে শেষোক্ত কার্যধারার বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয় সেই আদালতে সৎবিশ্বাসে উপরোক্ত কার্যধারা দায়ের করা হয়ে থাকলে শেষোক্ত কার্যধারায় যে সময় ব্যয়িত হয়, উপরোক্ত দরখাস্তের মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।
ব্যাখ্যা-১: যে সময়ের জন্য পূর্ববর্তী মামলা বা দরখাস্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল তা বাদ দিতে, যে ঐ মামলা বা দরখাস্ত রুজু বা দাখিল করা হয়েছিল এবং যে দিন তাদের কার্যধারা শেষ হয়েছিল, উভয় দিনই গণনা করতে হবে।
ব্যাখ্যা-২: এ ধারার উদ্দেশ্যে যে বাদী বা দরখাস্তকারী আপিলে বিরোধিতা করছে, সে কার্যধারা চালাচ্ছে বলে গণ্য হবে ।
ব্যাখ্যা-৩: এ ধারার উদ্দেশ্যে ভুল পক্ষভুক্তি বা মামলার কারণভুক্তি, এখতিয়ারগত ত্রুটির ন্যায় একই প্রকৃতির কারণ বলে পরিগণিত হবে।
--------------
⇒ The Limitation Act:- Section- 14. Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it. 
Explanation I: - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted. 
Explanation II: - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.  
Explanation III: - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
১৫১.
নিম্নলিখিত কোনটি তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীনে বিলম্ব মওকুফের ক্ষেত্র নয়?
  1. আপিল
  2. মামলা দায়ের
  3. রায়ের পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত
  4. রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী- ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে 'Condonation of delay' বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal);
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision);
iv) রায়ের পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত (Review);
v) অন্য কোন দরখাস্তে (Any other application)।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, তামাদি আইনের ৫ ধারায় তামাদি মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন।
১৫২.
তামাদি আইনের ১২ ধারার কোন উপধারায় রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের সময় বাদ দেওয়ার বিধান উল্লিখিত হয়েছে?
  1. উপধারা (১)
  2. উপধারা (২)
  3. উপধারা (৩)
  4. উপধারা (৪)
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১২(৪) এ বলা হয়েছে যে, যেসব আবেদন বা দরখাস্ত পুরস্কার (award) বাতিল করার জন্য দাখিল করা হয়, সেক্ষেত্রে পুরস্কারের কপি পাওয়ার জন্য যে সময় লাগে, তা তামাদি গণনার সময় থেকে বাদ দিতে হবে। এখানে ‘রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্ত’ এর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই এই বিধান ধারা ১২ এর উপধারা (৪) তে রয়েছে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
১৫৩.
আইনগত অপারগতার কারণে কোন ধরণের মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে না?
  1. স্বত্বঘোষণা
  2. বন্ধক উদ্ধারের মোকদ্দমা
  3. দেন মোহরের মোকদ্দমা
  4. অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ৬-৭ ধারায় মামলা করার অধিকার সৃষ্টির সময় বাদী legal disability তে আক্রান্ত থাকলে তখন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ রাখার বিধান আছে। কিন্তু এই বিধান অগ্রক্রয়ের আবেদন বা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ধারা ৮ এ এই বিষয়ে উল্লেখ আছে।
১৫৪.
তামাদি আইনে রিভিশনের তামাদির মেয়াদ কোথায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১৪৯ অনুচ্ছেদ
  2. ১৫৭ অনুচ্ছেদ
  3. ১৮৩ অনুচ্ছেদ
  4. কোথাও উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
• রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। 

• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
১৫৫.
তামাদি আইনের 'বৈধ অপারগতা' সংক্রান্ত বিধান কোন মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. বাটোয়ারা
  2. অগ্রক্রয়
  3. স্বত্ব ঘোষণা
  4. দখল পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৬-৭ ধারায় মামলা করার অধিকার সৃষ্টির সময় বাদী legal disability তে আক্রান্ত থাকলে তখন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ রাখার বিধান আছে। কিন্তু তামাদি আইনে ৮ ধারায় বলা আছে এই বিধান অগ্রক্রয়ের আবেদন বা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⇒ তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম: ৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
উদাহরণ:
(ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।

⇒ The Limitation Act:- Section 8: Special exceptions:
- Nothing in section 6 or section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made.
১৫৬.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির দখল বিহীন হলে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করার জন্য মেয়াদ কত?
  1. ১২ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৬০ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী: যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিল, কিন্তু পরে বেদখল হয়ে যায় বা নিজে থেকে দখল ত্যাগ করে, তখন সেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায়) মামলা করতে হয় ১২ বছরের মধ্যে। এই সময় গণনা শুরু হয় বেদখল হওয়ার বা দখল ত্যাগের তারিখ থেকে।

- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল হলে বা দখল ত্যাগ করলে দখল পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় বেদখল হওয়ার বা দখল ত্যাগের তারিখ থেকে।
১৫৭.
The Limitation Act, 1908 এর কোন ধারা অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হবে?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৪
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা
♦ The Limitation Act, 1908 এর ১৪ ধারার বিধান এখতিয়ারবিহীন আদালতে সমুদ্দেশ্যমূলক কার্যধারায় যেই সময় গণনাহইতে বাদ দিতে হইবেঃ
(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, বাদী কোনো আদিম বা আপিল আদালতে বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানী কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাইতে থাকে। তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যেই আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করিবার ক্ষমতা সম্পন্ন নহে, সেই আদালতে যদি সদবিশ্বাসে উহা দায়ের করা হইয়া থাকে, তবে শেষোক্ত কার্যক্রমে যেই সময় ব্যয়িত হয়, প্রথমোক্ত মামলার মেয়াদ গণনা হইতে তাহা বাদ দিতে হইবে।
যথাযথ সতর্কতা ও সচেষ্ট প্রয়োগ সত্বেও একজন যুক্তিবান ও পরিণামদর্শী মানুষের পক্ষে যেইধরনের ভুল হওয়া স্বাভাবিক, শুধুমাত্র ঐ ধরনের ভুলের ব্যাপারে জড়িত মামলার ক্ষেত্রেই এইধারার বিধান অনুসারে সুবিধাদান করা যাইতে পারে। নিম্নতর আপিল আদালত যেইক্ষেত্রে যথাযথভাবে অত্র ধারার আওতায় উহার স্ববিচার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, সেইক্ষেত্রে হাইকোর্ট উহাতে হস্তক্ষেপ করিয়া থাকে না।
আপিলের জন্য সময় গণনাকালে অত্র ধারাটি প্রয়োগ ঘটে না। তবে ইহার যুক্তিযুক্ত মূলনীতি এবং এই ধারায় ভাবিত পরিস্থিতি যথাসময়ে আপিল উপস্থাপন করিবার জন্য ৫ ধারার অর্থ অনুসারে পর্যাপ্ত কারণ হিসাবে সাধারণত গ্রাহ্য হইতে পারে।
১৫৮.
হাইকোর্ট কর্তৃক মূল দেওয়ানী এখতিয়ারে প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করার সময়সীমা কতদিন?
  1. ৭ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908) এর ১ম তফসিলের , Article-151 অনুযায়ী—
From a decree or order of the High Court Division in the exercise of its original jurisdiction
- অর্থাৎ, হাইকোর্ট ডিভিশন যখন তার মূল দেওয়ানী এখতিয়ার ব্যবহার করে কোনো ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে,
Period of limitation: 20 days
- সেই ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করার সর্বোচ্চ সময়সীমা ২০ দিন।
Time begins to run: The date of the decree or order
- এই ২০ দিন গণনা শুরু হবে ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে।

সুতরাং, হাইকোর্ট কর্তৃক মূল দেওয়ানী এখতিয়ারে প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা ২০ দিন।

১৫৯.
তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে নিম্মলিখিত কোন সময়টি বাদ যাবে?
  1. ডিক্রি প্রস্তুতের সময়
  2. ডিক্রি জারির সময়
  3. মামলা বা ডিক্রি জারির দরখাস্তে কার্যক্রম স্থগিতের সময়
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবেঃ

(১) যেই মামলা বা ডিক্রী জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হইয়াছে, তাহার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উহা নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেইদিন উহা প্রদত্ত হইয়াছিল এবং যেইদিন উহা প্রত্যাহার করা হইয়াছিল, তাহা বাদ দিতে হইবে।

(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেওয়া হইয়াছে, তাহার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হইবে।
১৬০.
যদি কোনো লিখিত দায় স্বীকারে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে তারিখ সম্পর্কে কী প্রমাণ দেওয়া যাবে?
  1. অন্য লিখিত প্রমাণ
  2. মৌখিক প্রমাণ
  3. আদালতের নির্দেশ অনুসারে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ১৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো লিখিত দায় স্বীকার (acknowledgment) এ তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে তারিখ সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, স্বাক্ষরকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মৌখিকভাবে তারিখ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

- এই ধারাটির উদ্দেশ্য হলো, দায় স্বীকারের তারিখ নির্ধারণ করা যাতে তামাদির মেয়াদ সঠিকভাবে গণনা করা যায়। তবে, Evidence Act, 1872-এর বিধান অনুসারে, দায় স্বীকারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়, শুধুমাত্র তারিখ সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ দেওয়া যাবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: খ) মৌখিক প্রমাণ।
---------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 19. Effect of acknowledgement in writing:
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I - For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time 
for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
Explanation II - For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
Explanation III - For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
১৬১.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১০৩
  2. অনুচ্ছেদ ১০৪
  3. অনুচ্ছেদ ১০৭
  4. অনুচ্ছেদ ১০৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৪ অনুযায়ী, বিলম্বিত দেনমোহরের (Deferred Dower) জন্য একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
- এই মেয়াদ মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

- বিলম্বিত দেনমোহর বলতে ইসলামিক আইনে বিবাহের সময় নির্ধারিত দেনমোহরের যে অংশ পরবর্তীতে পরিশোধের শর্তে স্থগিত রাখা হয় তাকে বোঝায়।
- মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ বলতে স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের মাধ্যমে বিবাহের সম্পর্ক শেষ হওয়াকে বোঝায়।
১৬২.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ঋণের সুদ পরিশোধ করলে তামাদি মেয়াদ গণনা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
  1. মেয়াদ স্থগিত হয়
  2. মেয়াদ বাতিল হয়
  3. পূর্বের মেয়াদ বহাল থাকে
  4. নতুন করে মেয়াদ গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২০ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করে (বা আংশিক টাকা পরিশোধ করে), তবে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এটি একটি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয় এবং আইন অনুযায়ী এটি তামাদি মেয়াদ পুনরারম্ভের জন্য যথেষ্ট।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করার ফলে তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ পুনরায় শুরু হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য লিখিত স্বীকৃতি বা সাক্ষর থাকা উচিত, যাতে পরিশোধের প্রমাণ থাকে।
এটি ঋণগ্রহীতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারেন।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
১৬৩.
তামাদি আইনের কোন কোন অনুচ্ছেদে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আপিলের বিধান রয়েছে?
  1. ১৫৪ এবং ১৫৫ অনুচ্ছেদ
  2. ১৫২ এবং ১৫৬ অনুচ্ছেদ
  3. ১৫০ এবং ১৫৭ অনুচ্ছেদ
  4. ১৫৪ এবং ১৫৮ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে আপিল তামাদি আইনের ১৫২ এবং ১৫৬ অনুচ্ছেদের তামাদির বিধান অনুযায়ী করতে হয়।

অনুচ্ছেদ- ১৫২
১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপিল
তামাদি- ৩০ দিন
সময় গণনা শুরু- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।

অনুচ্ছেদ- ১৫৬
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন, ১৫১ ও ১৫৩ অনুচ্ছেদে যে সকল মোকদ্দমা সম্পর্কে বিধান আছে সেগুলি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
তামাদি- ৯০ দিন
সময় গণনা শুরু- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে।
১৬৪.
Where once _____ has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it.
  1. suit
  2. time
  3. case
  4. proceeding
ব্যাখ্যা
⇒ Section: 9 of The Limitation Act,1908-
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
--------------------
⇒ তামাদি আইনের ৯ ধারার বিধান: সময়ের অবিরাম চলন:
তামাদির সময় একবার চলতে শুরু করলে কোন অক্ষমতা একে থামাতে পারে না। তবে কোন পাওনাদারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কোন দেনাদারের উপর ন্যস্ত থাকলে ততদিন উক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
১৬৫.
রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ-
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

⇒ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
- The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
১৬৬.
The Limitation Act, 1908 এর কত ধারায় সুখাধিকার [Easement] সম্পর্কে উল্লেখ আছে?
  1. ২২ ধারায়
  2. ২৪ ধারায়
  3. ২৬ ধারায়
  4. ২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জন (Acquisition of right to easements) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ সুখাধিকার [Easement] এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। যেমন- আলো বাতাসের অধিকার, চলাচলের অধিকার ইত্যাদি।

তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।

(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদী বাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণ করে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।

(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে বিশ বৎসর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করে যে, ঐ বিশ বৎসরের মধ্যে বাদী একবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়া যাইবে।
১৬৭.
তামাদি আইনের ধারা ১৮ অনুযায়ী, প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. প্রতারণার ঘটনার দিন থেকে
  2. প্রতারণা জানার দিন থেকে
  3. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  4. 'ক' এবং 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৮ অনুযায়ী: প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ শুরু হয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যখন প্রথমবার প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে সেই দিন থেকে।
দলিল গোপন করা হলে: যদি প্রতারণার মাধ্যমে কোনো দলিল গোপন করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ শুরু হবে দলিলটি প্রথমবার উপস্থাপন করা বা আদালতে জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার দিন থেকে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) প্রতারণা জানার দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
১৬৮.
তামাদি আইনে উল্লেখ নেই এমন দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ কখন থেকে গণনা করা হয়?
  1. আদালতের নির্দেশনা থেকে
  2. দরখাস্ত দাখিলের তারিখ থেকে
  3. অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে
  4. মামলা নিষ্পত্তির তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর ধরা হয়। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে। অর্থাৎ, যখন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার বা দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির জমি দখল বা সম্পত্তি সম্পর্কিত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে। যদি এই সময়সীমা অতিক্রম করে যায়, তাহলে দরখাস্তটি তামাদির কারণে বাতিল হয়ে যেতে পারে।

→ সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে।
১৬৯.
তামাদি আইনের ২৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য হয় কোন প্রেক্ষিতে?
  1. দলিলের বৈধতা প্রমাণ করতে
  2. দলিলের মূল্যের হিসাব করতে
  3. দলিলে উল্লেখিত সময় গণনা করতে
  4. দলিলের পক্ষসমূহ নির্ধারণ করতে
ব্যাখ্যা
⇒ দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে।
- তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-----------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
- All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.
১৭০.
তামাদি আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী তামাদি আইন প্রযোজ্য হয়-
  1. মামলা 
  2. আপীল 
  3. আবেদনপত্র 
  4. উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

⇒তামাদি আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী তামাদির বিষয়বস্তু হলো ৩ টি।যথা:মামলা, আপীল  এবং আবেদনপত্র।

তামাদি আইন ১৯০৮ এর ৩ ধারা, তামাদির মেয়াদ অন্তে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ: আইনের ৪ হইতে ২৫ ধারার উভয় ধারাসহ সাপেক্ষে প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হলে বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।

ব্যাখ্যা: সাধারণত উপযুক্ত কর্মচারির নিকট আরজি উপস্থিত করলে বা নিঃস্ব হলে, নিঃস্বভাবে মামলা করিবার অনুমতির জন্য দরখাস্ত করলে এবং আদালত যেখানে কোম্পানি গুটিয়ে ফেলছে; সেখানে কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে দাবিদার সরকারী অবসায়কের নিকট দাবি প্রেরণ করলে মামলা দায়ের করা হয়।

⇒তামাদি আইনের ৩ ধারার বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।তাই পক্ষগণ একমত হয়েও তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি
করতে পারে না। ধারা ৩ অনুযায়ী,নির্ধারিত তামাদির  মেয়াদ শেষ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করা হলে খারিজ হবে।
------------
The Limitation Act, 1908 section- 3. Dismissal of suits, etc., instituted, etc., after period of limitation: 
Subject to the provisions contained in sections 4 to 25 (inclusive), every suit instituted, appeal preferred, and application made, after the period of limitation prescribed therefor by the first schedule shall be dismissed, although limitation has not been set up as a defence.
 
Explanation.- A suit is instituted, in ordinary cases, when the plaint is presented to the proper officer; in the case of a pauper, when his application for leave to sue as a pauper is made; and, in the case of a claim against a company which is being wound up by the Court, when the claimant first sends in his claim to the official liquidator.

১৭১.
বর্তমানে তামাদি আইনে কতটি ধারা ও তফসিল বলবৎ আছে?
  1. ২৯টি ধারা এবং ২টি তফসিল
  2. ৩০টি ধারা এবং ১টি তফসিল
  3. ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল
  4. ৩১টি ধারা এবং ১টি তফসিল
ব্যাখ্যা
⇒ বর্তমানে তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) অনুযায়ী:
- ২৯টি ধারা বলবৎ আছে।
- ১টি তফসিল বলবৎ আছে।
অতএব, বর্তমানে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনে মোট ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল বলবৎ আছে।

আইনের তফসিল (১টি):
এই তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যেখানে তিন ধরনের বিষয়ের তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে— 
- মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১-১৪৯।
- আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১৫০-১৫৭।
- দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১৫৮-১৮৩।
১৭২.
সহকারী জজের ডিক্রীর বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপীল দায়েরের জন্য তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ২১(২) অনুযায়ী, সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপীল দায়ের করতে হয়।
- এতে তামাদির মেয়াদ হিসেবে ৩০ দিন নির্ধারিত রয়েছে, যা তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপীলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- তামাদি মেয়াদ: ৩০ দিন।
- সময়সীমা গণনা: যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হচ্ছে, তার তারিখ থেকে গণনা শুরু হবে।

অর্থাৎ সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজের আদালতে আপীল করার জন্য তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
১৭৩.
তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দিন আদালত বন্ধ থাকলে এর প্রতিকার কী?
  1. আদালত খোলার পরবর্তী যেকোনো সময় মামলা দায়ের করা যাবে
  2. বন্ধের আগের দিনই মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে হবে
  3. আদালত খোলার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে
  4. আদালত পুনরায় খোলার দিন মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদির  আইনের ৪ ধারার বিধান- আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে:
-যেক্ষেত্রে কোন আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় কোন মামলা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আদালত যেদিন খুলবে সেদিন উক্ত মামলা, আপিল বা আবেদন দাখিল করা যাবে।
------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 4- Where Court is closed when period expires:
-Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
১৭৪.
'Condonation of delay' নীতি তামাদি আইনের কোন ধার‍ার সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা
• 'Condonation of delay' নীতি তামাদি আইনের ৫ ধারার সাথে সংশ্লিষ্ট।

• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal);
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision);
iv) রায়ের পুনরীক্ষণের দরখাস্ত (Review);
v) অন্য কোন দরখাস্তে ( Any other application)।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

Section 5: Extension of period in certain cases
Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
১৭৫.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি কাল কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী: "চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance of Contract) সম্পর্কিত মামলা দায়ের করার তামাদি সময়সীমা ১ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন বাদীর সেই বলবৎকরণ চাওয়ার অধিকার উদ্ভব হয় সেই তারিখ থেকে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে।
১৭৬.
তামাদি আইন ১৯০৮ কবে কার্যকর করা হয়?
  1. ১লা জানুয়ারী ১৯০৮
  2. ৭ আগস্ট ১৯০৮
  3. ১লা জানুয়ারী ১৯০৯
  4. ৭ আগস্ট ১৯০৯
ব্যাখ্যা
♦বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮নামে পরিচিত।
♦এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন। সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়।
♦তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)।
১৭৭.
তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের ক্ষেত্রে আদালত নিম্মলিখিত কোন বিষয়টি বিবেচনায় নিবে
  1. শুধুমাত্র বিলম্ব কতটা দীর্ঘ
  2. বিলম্বের কারণের ব্যাখ্যা এবং বিলম্বের পরিধি
  3. বিলম্বের ব্যপ্তি কোন বিষয় না বরং বিলম্বের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦তামাদি সময়সীমা কত দিনের বিলম্ব তা মূল বিবেচ্য বিষয় না বরং প্রতিটি দিনের বিলম্বের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মৌকুফ বলে। বিলম্ব মৌকুফের ক্ষেত্রে দুইটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণঃ ১) পর্যাপ্ত কারণ ২) আদালতকে সন্তুষ্টি করণ।
১৭৮.
না চলানো হেতু খারিজ হওয়া আপিল পুনরায় গ্রহণের নিমিত্ত দরখাস্ত আনয়নের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ২০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৬৮ এর বিধান না চলানো হেতু খারিজ হওয়া আপিল পুনরায় গ্রহণের নিমিত্ত দরখাস্ত আনয়নের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
১৭৯.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অধিকার লঙ্ঘনের মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার আছে এমন ব্যক্তির দ্বারা সম্পত্তি অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মামলার তামাদি মেয়াদ হলো ২ বছর। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় যখন সম্পত্তির অপব্যবহার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রথম জানতে পারে।

- অর্থাৎ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার লঙ্ঘনের মামলার তামাদি মেয়াদ হলো ২ বছর, যা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অপব্যবহার সম্পর্কে জানার সময় থেকে গণনা করা হয়।


১৮০.
স্থাবর সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট কোনো স্বার্থ যার সম্পর্কে এই আইনে কোন বিশেষ বিধান নেই, সেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কত হবে?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৪৪

স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো স্বার্থ যার সম্পর্কে এই আইনে কোন বিশেষ বিধান না থাকলে,
তামাদি - ১২ বছর;
সময় গণনা শুরু - বিবাদীর দখল যখন বাদীর জন্য প্রতিকূল হয়।
১৮১.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুযায়ী, জলপ্রবাহের পথ পরিবর্তনের মামলায় তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় কখন থেকে?
  1. ক্ষতি দেখা দেওয়ার তারিখ থেকে
  2. পরিবর্তন সম্পূর্ণ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. পরিবর্তনের কাজ শুরু করার তারিখ থেকে
  4. পরিবর্তনের পরিকল্পনা করার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) পরিবর্তন সম্পূর্ণ হওয়ার তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩৮-এ বলা হয়েছে:
- "For compensation for diverting a water-course"
- Limitation: 3 years
- When: The date of the diversion

- অর্থাৎ, যদি কেউ কোনো জলপ্রবাহের পথ পরিবর্তন করে এবং এর ফলে অন্য কারো ক্ষতি হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জলপ্রবাহ পরিবর্তনের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারবেন।
- এখানে "the date of the diversion" বলতে বোঝানো হয়েছে— যখন পানি প্রবাহের পথ বাস্তবিকভাবে পরিবর্তন সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ পরিবর্তন সম্পূর্ণ হয়।

 অতএব, তামাদি মেয়াদ শুরু হয় সেই তারিখ থেকে যেদিন জলপ্রবাহের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয় বা সম্পূর্ণ হয়, শুধুমাত্র পরিকল্পনা বা কাজ শুরুর তারিখ থেকে নয়।
১৮২.
তামাদি আইন, ১৯০৮ সর্বশেষ সংশোধন হয় কত সালে?
  1. ২০০৪ সালে
  2. ২০০৫ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা

'তামাদি’:
‘তামাদি’ একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ “বিলুপ্ত হওয়া” বা “অতিক্রান্ত হওয়া”। আইনি পরিভাষায় ‘তামাদি’ বলতে বোঝায়— যখন কোনো দাবির নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ দাবিটি করার বা মামলা দায়েরের আইনানুগ সময় শেষ হয়ে যায়।অতএব, নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করা এবং আদালত কর্তৃক তা বাধ্যতামূলকভাবে খারিজ হওয়ার প্রক্রিয়াকেই সংক্ষেপে ‘তামাদি’ বলা হয়।

তামাদি আইনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৭৯৩ সাল - উপমহাদেশে প্রথম তামাদি আইন প্রণীত হয়। ইংরেজ শাসক লর্ড চার্লস কর্নওয়ালিস এটি প্রবর্তন করেন। তবে সে সময়ের আইনটি সঠিকভাবে বিধিবদ্ধ ছিল না।
১৮৫৯ সাল - তামাদি আইন প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্টভাবে বিধিবদ্ধ হয়।
১৮৬২ সাল - ১৮৫৯ সালের বিধিবদ্ধ আইন কার্যকর হয়।
১৯০৮ সালের ৭ আগস্ট - আইনটি ব্যাপক সংস্কার ও পরিমার্জন করে পুনরায় প্রকাশ করা হয়।
১৯০৯ সালের ১ জানুয়ারি - নবপ্রণীত আইন কার্যকর হয়, যা বর্তমানে “১৯০৮ সালের ৯ নং আইন” নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে ১১৩ এবং ১১৪ অনুচ্ছেদের তামাদি সময় ৩ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করা হয়।

বর্তমানে এতে ২৯টি ধারা ও ১টি তফসিল কার্যকর রয়েছে। ১ম তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা ৩টি খণ্ডে বিভক্ত-
প্রথম খণ্ড (১–১৪৯)- মামলা দায়েরের সময় সম্পর্কিত;  
দ্বিতীয় খণ্ড (১৫০–১৫৭)- আপিল দায়েরের সময় সম্পর্কিত;
তৃতীয় খণ্ড (১৫৮–১৮৩)-  আবেদন বা দরখাস্ত দায়েরের সময় সম্পর্কিত।

১৮৩.
The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করে?
  1. ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে
  2. সরকারি আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে
  3. তামাদি আইনের সাধারণ সকল ক্ষেত্রে
  4. অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা একটি বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করে এবং এটি শুধুমাত্র অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই ধারা অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার মামলায় তামাদি আইনের ৬ ও ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ, সাধারণভাবে, ৬ ও ৭ ধারার বিধান অনুযায়ী যদি কেউ নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি গণনা শুরু হবে তখনই, যখন সে এই অপারগতা থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু ৮ ধারা অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেয় না।

- অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি গণনার জন্য ৬ বা ৭ ধারার কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না।
- যদি কেউ অপারগ হয় (যেমন, নাবালক বা উন্মাদ), তাহলেও সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত সময় বাড়ানো যেতে পারে, এর বেশি নয়।

অন্য ক্ষেত্র যেমন ফৌজদারি মামলা, সরকারি আদেশ কার্যকর করা বা তামাদি আইনের সাধারণ ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: ঘ) অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে।
১৮৪.
ক্ষতিপূরণ মামলার ক্ষেত্রে কখন থেকে মামলার তামাদির মেয়াদ শুরু হয়?
  1. ক্ষতিকর কাজটি যখন করা হয়
  2. যখন ক্ষতি সাধিত হয়
  3. যখন মামলা করার কারণ উদ্ভব হয়
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ২৪ ধারায় বলা আছে- কোন ক্ষতি সাধিত না হলে বা কোন মামলা করার কারণ উদ্ভব হবার আগ পর্যন্ত তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে না।

• তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে, যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুণ ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।

Section 24: Suit for compensation for act not actionable without special damage-
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results.
১৮৫.
'যেক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।'- The Limitation Act, 1908 এর কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৬ ধারা
  2. ৭ ধারা
  3. ৮ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]।

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

• ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-

১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং

২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মোকদ্দমা খারিজ হবে।
১৮৬.
According to Section 9, once limitation time begins to run-
  1. It may stop due to later disability
  2. It stops if the plaintiff becomes insane
  3. It starts again if the defendant becomes insolvent
  4. It continues regardless of any subsequent disability
ব্যাখ্যা

Section 9: Continuous running of time
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

ধারা ৯- সময়ের অবিরাম চলন
একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে পরবর্তী কোন অপারগতা বা অক্ষমতা দ্বারা তা বন্ধ হবে না।

ব্যতিক্রম
যেক্ষেত্রে পাওনাদারের (Creditor) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদারের (Debtor) উপর পরিচালনার পত্ৰনামার (Letters of Administration) মাধ্যমে অর্পন করেছে, সেইক্ষেত্রে যতদিন উক্ত দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকবে ততদিন উক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।

১৮৭.
তামাদি আইনের ১৭ ধারা মূলত কোন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে?
  1. নাবালকত্ব
  2. মৃত্যুর প্রভাব
  3. বৈধ অপারগতা
  4. লিখিত প্রাপ্তি স্বীকার
ব্যাখ্যা
→ তামাদি আইনের ১৭ ধারা মূলত মৃত্যুর প্রভাবের ওপর আলোকপাত করে। 

⇒ তামাদি আইনের ১৭ ধারার বিধান মামলা করার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল:-
- কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

-এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।
---------------------
⇒ The Limitation Act- Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.ঃ
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
১৮৮.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের কোন অনুচ্ছেদসমূহে মামলায় বিভিন্ন ধরনের দরখাস্ত বা আবেদনের তামাদির সময়সীমা সম্পর্কে বিধান রয়েছে?
  1. ১-১৪৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫০-১৫৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৫৮-১৮৩ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৬০-১৮৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
১৮৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর কোন ধারার অধীনে মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-৩ প্রযোজ্য?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ৮
  3. ধারা ৯
  4. ধারা ৩১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ-৩ এ বলা হয়েছে: “Under the Specific Relief Act, 1877, Section 9, to recover possession of immovable property.”
অর্থাৎ, যদি কেউ অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তিকে তার স্থাবর (স্থায়ী) সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ অনুসারে আদালতে মামলা করতে পারবেন।
⇒  এই মামলার উদ্দেশ্য: মালিকানা নয়, দখলের অধিকার রক্ষা করা।
- এই আইনে বলা হয়, কারো বৈধ দখল থাকলে, তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না – এমনকি উচ্ছেদকারী মালিক হলেও।

→ তামাদি সময়সীমা: এই ধারা অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে হবে বেদখলের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে।
- এই সময়সীমা তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-৩ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
১৯০.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের তৃতীয় বিভাগে কোন অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত?
  1. ১ থেকে ১৪৯
  2. ১৫০ থেকে ১৫৭
  3. ১৪৭ থেকে ১৪৯
  4. ১৫৮ থেকে ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিল (The First Schedule)-এ মোট তিনটি বিভাগ রয়েছে, প্রতিটি বিভাগে বিভিন্ন ধরণের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
→ তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
- এই বিভাগে বিভিন্ন দরখাস্ত ও আবেদন (applications and petitions) দায়েরের তামাদির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এটি অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত বিস্তৃত।
উদাহরণ: আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন, কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের আবেদন, রায় কার্যকর করার আবেদন ইত্যাদির তামাদি মেয়াদ এই বিভাগে নির্ধারিত।

অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের তৃতীয় বিভাগ মূলত দরখাস্ত ও আবেদন দাখিলের তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করে এবং এটি অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তাই সঠিক উত্তর: ঘ) ১৫৮ থেকে ১৮৩।
১৯১.
যদি মামলা করার অধিকার ১ জানুয়ারি, ২০১০-এ প্রাপ্ত হয়, তবে তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলাটি কোন তারিখের মধ্যে দায়ের করতে হবে?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২১
  2. ১ জানুয়ারি, ২০২২
  3. ১ জানুয়ারি, ২০১৬
  4. ১ জানুয়ারি, ২০২০
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ এই তফসিলে উল্লেখ নেই, সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

Article 120-
Suit for which no period of limitation is provided elsewhere in this schedule- Six years from when the right to sue accrues.

অর্থাৎ '১ জানুয়ারি, ২০১৬' তারিখের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
১৯২.
লিখিত দায় স্বীকারের ফলে তামাদি মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হয় কোন ধারার অধীনে?
  1. ধারা ১৭
  2. ধারা ১৮
  3. ধারা ১৯
  4. ধারা ২০
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে লিখিতভাবে দায় স্বীকার করে, তাহলে সেই দায় স্বীকারের দিন থেকে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়। এই ধারা নিশ্চিত করে যে, লিখিত দায় স্বীকারের মাধ্যমে নতুন সময়সীমা শুরু হবে, যা পাওনাদারকে আবারো মামলা করার সুযোগ দেয়।

⇒ তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
- লিখিত হতে হবে
- উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
- অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
- উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
১৯৩.
সরকারের পক্ষে সম্পত্তি দখল উদ্ধারের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ বছর
  2. ৬০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাদী সরকার হলে সম্পত্তি দখল উদ্ধারের মামলা করার তামাদি মেয়াদ ৬০ বছর।

- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৯ এর বিধান সুপ্রীম কোর্টের মূল এখতিয়ারাধীন মামলা ব্যতীত সরকার কর্তৃক সরকারের পক্ষে দায়েরকৃত কোন মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৬০ বৎসর।
১৯৪.
তামাদি আইনের ধারা ৯ অনুসারে, একবার সময় চালু হলে, পরবর্তী অক্ষমতা কী করে?
  1. সময় বন্ধ করে
  2. সময় চালু রাখে
  3. সময় রিসেট করে
  4. সময় বাড়িয়ে দেয়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৯-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "যেখানে একবার সময় চলা শুরু হয়েছে, কোন পরবর্তী অক্ষমতা বা মামলা দায়ের করতে অক্ষমতা এটিকে থামায় না।"
অর্থাৎ, মামলা দায়েরের অধিকার সৃষ্টির তারিখ থেকে সময় গণনা শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীতে যদি কোনও ব্যক্তি নাবালক বা পাগল হয়ে যান কিংবা অন্য কোনও অক্ষমতার সৃষ্টি হয়, তবুও সময়ের গণনা বন্ধ হবে না।

⇒ তামাদি আইনের ৯ ধারার বিধান অবিরাম সময়ের গণনা:
- একবার সময় শুরু হলে, পরে কোন অক্ষমতা বা মোকদ্দমা দায়েরের অক্ষমতা সময়ের গণনাকে থামায় না:
যেহেতু, যদি কোন ক্রেডিটরের সম্পত্তির জন্য প্রশাসনের পত্র তার ঋণগ্রহীতার হাতে দেওয়া হয়, তাহলে ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা দায়েরের জন্য নির্ধারিত সময়ের গণনা প্রশাসন চালু থাকা কালীন স্থগিত থাকবে।
-------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

১৯৫.
বিশেষ আইনের অধীন কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ৪ ধারা
  2. ৯-১৮ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. উল্লিখিত সকল ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ এ বলা আছে-
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন

-বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
১৯৬.
যদি কোনো চুক্তি অবিরাম ভঙ্গ করা হয়, তবে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে শুরু হবে?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে
  2. প্রথম চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
  3. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  4. সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, যদি কোনো চুক্তি অবিরাম বা বারংবার ভঙ্গ করা হয়, তবে: প্রতিবার চুক্তি ভঙ্গের মাধ্যমে নতুন করে cause of action (আইনগত অভিযোগের ভিত্তি) সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রতিবারই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
- অর্থাৎ বারংবার চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে, সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের তারিখ থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
-যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-23.Continuing breaches and wrongs:
-In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
১৯৭.
তামাদি আইন,১৯০৮ এর ১ম তফসিলে মোট কয়টি অনুচ্ছেদ আছে?
  1. ১৩৮ টি
  2. ১১৩ টি
  3. ১৮৩ টি
  4. ১৯৩ টি
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন পাশ করা হয়। এই আইনটি ১৮৬২ সালে কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ ১৯০৮ সালে পুনরায় তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয় যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এটা ১৯০৮ সালের ৯নং আইন। আইনটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী হতে কার্যকর হয়। বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল বলবৎ আছে। 

• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
১৯৮.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারা অনুযায়ী দখল ফেরত পাওয়ার জন্য কত দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় দখলচ্যুত হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে।
১৯৯.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের (trespass) জন্য ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি মেয়াদের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৮
  2. অনুচ্ছেদ ৩৯
  3. অনুচ্ছেদ ৪০
  4. অনুচ্ছেদ ৪১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩৯-এ বলা হয়েছে—
- "For compensation for trespass upon immoveable property"
- Limitation: 3 years
- When: The date of the trespass
অর্থাৎ, যদি কেউ স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে (trespass), তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অনধিকার প্রবেশের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবেন। এই ৩ বছরের সময়সীমা পার হয়ে গেলে মামলা তামাদি হয়ে যাবে।

-অতএব, স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধান অনুচ্ছেদ ৩৯-এ রয়েছে।
২০০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুযায়ী জেলা জজের নিকট দেওয়ানি আপিল করতে হবে -
  1. ১৫ দিনের মধ্যে
  2. ৩০ দিনের মধ্যে
  3. ১ বছরের মধ্যে
  4. যে কোন সময়ে
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট দেওয়ানি আপিল করতে হবে।