বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Limitation Act, 1908

মোট প্রশ্ন১,০৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Limitation Act, 1908

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০০ / ১,০৫৪

.
রহিম, আলীকে ১০০,০০০ টাকা ধার দিয়েছিলেন। তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ মাস আগেই আলী, রহিমকে ২০,০০০ টাকা পরিশোধ করলেন এবং লিখিত স্বীকৃতি দিলেন। এই ক্ষেত্রে তামাদির নতুন মেয়াদ কখন থেকে শুরু হবে?
  1. মূল ঋণ গ্রহণের তারিখ থেকে
  2. তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. ২০,০০০ টাকা পরিশোধের তারিখ থেকে
  4. আদালতে মামলা দায়ের করার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, যখন আংশিক পরিশোধ করা হয় এবং লিখিত স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তখন সেই পরিশোধের তারিখ থেকে নতুন তামাদির মেয়াদ শুরু হয়। এক্ষেত্রে, ২০,০০০ টাকা পরিশোধের তারিখ থেকে তামাদির নতুন মেয়াদ কখন থেকে শুরু হবে।

সুতরাং ২০ ধারা অনুযায়ী-
ঋণ বা দেনার ক্ষেত্রে তামাদির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আংশিকভাবে কোন ঋণ বা সুদ পরিশোধ করলে, উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ কোন দেনা আংশিক পরিশোধ করলে পরিশোধের তারিখ হতে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। তবে এই ক্ষেত্রে দেনা পরিশোধ অবশ্যই লিখিত এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।

Section 20: Effect of payment on account of debt as of interest on legacy-
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:

Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
.
তামাদি আইনের ধারা ২৯(১) অনুযায়ী কোন আইনের কোন ধারা অক্ষুণ্ন থাকে?
  1. দণ্ডবিধির ২৫ ধারা
  2. চুক্তি আইনের ২৫ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা
  4. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষন (Savings)
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।
(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:
(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবলমাত্র সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908 Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
.
‘X’ একটি ভূমির উপরভাগের এবং ‘Y’ ভূ গর্ভের মালিক। ‘Y’ উপরিভাগের কোন তাৎক্ষণিক ক্ষতি না করে ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। পরবর্তীতে ভূমিটির উপরিভাগ ধ্বসে পড়ে। ‘X’ কর্তৃক ‘Y’ এর বিরুদ্ধে ভূমি ধ্বসে পড়ার কারণে মামলা করলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে কবে থেকে?
  1. ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় থেকে।
  2. ভূমি ধ্বসে পড়ার সময় থেকে।
  3. ‘X’ যে দিন মামলা করবে সেই দিন থেকে।
  4. উপরের কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
♠♠
• তামাদি আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী মামলা করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষতি না হলে;  
যে দিন থেকে ক্ষতি হবে সেই দিন থেকে মামলা করার উপজাত শুরু হয় ফলে সেই দিন থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে। 
.
Z নাবালক থাকাবস্থায় তার মামলা করার অধিকার জন্মে। তামাদির সময় গণনা শুরু হবে যখন -
  1. Z এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  2. Z সাবালক থাকলে
  3. Z এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  4. উপরের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৬ অনুযায় কোন ব্যক্তি যত দিন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা হবে।
 ♦অর্থাৎ Z এর নাবালকত্বের অবসান হওয়ার পর তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।

♦The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতাঃ

উপধারাঃ(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
.
তামাদি আইনের কত ধারায় ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত সম্পত্তি সম্পর্কিত বিশেষ বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১০ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১০ ধারা- প্রকাশ্য ট্রাস্টী ও তাদের এজেন্টবৃন্দের প্রতিকূলে মামলা:
এই আইনে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত থাকুক না কেন কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যে লোকের উপর সম্পত্তি অছি অর্পিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে কিংবা তার আইনগত এজেন্টের বিরুদ্ধে কিংবা স্বত্বার্পিত লোকের বিরুদ্ধে (মূল্যভিত্তিক দ্রব্যের বিনিময়ে স্বত্বার্পিত না হয়ে থাকলে) তারা কিংবা তাদের হাতের উক্তরূপ সম্পত্তির কিংবা তার আয়ের কিংবা ঐ সম্পত্তির হিসাবের কিংবা এর আয়ের হিসাবের লক্ষ্যে কোন মামলা করতে হলে তারা কখনোও মেয়াদকালের কারণে বারিত হবে না।

এই ধারার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা হিন্দু ধর্মীয় কিংবা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত কোন সম্পত্তি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ট্রাস্টে ন্যস্ত সম্পত্তি বলে পরিগণিত হবে এবং উক্তরূপ সম্পত্তির ব্যবস্থাপক তার অছি বলে আমলে আসবে।
.
তামাদি আইনের কোন ধারায় অনুসারে জাবেদা নকল ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনা হতে বাদ দেওয়ার বিধান আছে?
  1. ৯ ধারা
  2. ১২ ধারা
  3. ১৫ ধারা
  4. ১৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা মোতাবেক আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হয়-
- মামলা করার কারণ যেদিন উদ্ভব হবে সেই দিন, রায় ও ডিক্রি যেদিন প্রদান করা হয় সে দিনটি, রায় ও ডিক্রির জাবেদা নকল সংগ্রহ করার জন্য যতদিন লাগে ততদিন।
- সুতরাং বলা যায় যে, তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী জাবেদা নকল সংগ্রহের সময়টুকু তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায়। পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
-----------------------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-12: Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded.
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded.
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded.
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার অধীনে দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস 
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

• তামাদি আইনের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৯ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় ছয় মাসের মধ্যে, এবং এই ছয় মাসের সময়সীমা শুরু হয় যেদিন দখলচ্যুতি (dispossession) ঘটে, সেদিন থেকে।

⇒ যে কেউ যদি বেআইনিভাবে কাউকে স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: জমি-বাড়ি) থেকে দখলচ্যুত করে, তাহলে দখলচ্যুত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে আদালতে গিয়ে দখল ফেরত চেয়ে মামলা করতে পারবেন।

.
In the case of a continuing breach, when does the period of limitation begin to run?
  1. From the date of first breach only
  2. From the date of filing the suit
  3. From the date of court’s order
  4. At every moment during which the breach continues
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- d) At every moment during which the breach continues.

• The Limitation Act, 1908- Section 23: Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

২৩ ধারার বিধান- অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান নেই নিচের কোন কার্যক্রমের?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. দরখাস্ত
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। 
-  তামাদি আইনের ১ম তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তামাদি আইনের ১ম তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে।
-তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
১০.
চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণ মামলার তামাদির ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. চুক্তি লিখিত এবং অনিবন্ধিত হলে ১ বছর
  2. চুক্তি লিখিত এবং নিবন্ধিত না হলে ৩ বছর
  3. চুক্তি লিখিত এবং নিবন্ধিত হলে ৩ বছর
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত না হলে, চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর এবং

অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুযায়ী-
চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হলে, উক্ত চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ ৬ বছর হবে।

অপরদিকে,
অনুচ্ছেদ ১১৩ এবং ১১৪ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মামলা এবং চুক্তি প্রত্যাহার/রদের মামলা তামাদির মেয়াদ ১ বছর।
১১.
তামাদি আইন ১৯০৮-এর Section 20 অনুযায়ী, কোন কার্যক্রম বা বক্তব্য স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে? 
  1. ঋণের সুদ পরিশোধ
  2. মৌখিক প্রতিশ্রুতি
  3. ভবিষ্যতে পরিশোধের আশ্বাস
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী:
- ঋণ বা লিগ্যাসির সুদের অর্থপ্রদান যদি তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে করা হয়, তাহলে তা একটি বৈধ স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।
- এই অর্থপ্রদানের ফলে তামাদি মেয়াদ পুনরায় গণনা শুরু হবে (Payment refreshes the limitation period)।

- ধারা ২০ তে বলা হয়েছে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতা তার ঋণের সুদ পরিশোধ করে, তবে এটি ঋণ সম্পর্কিত দায় স্বীকার করার সমতুল্য এবং এর ফলে তামাদি মেয়াদ পুনরায় শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, ঋণের সুদ পরিশোধে ঋণগ্রহীতা তার দায় স্বীকার করেছে এবং তামাদি আইনের অধীনে এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

অর্থাৎ, তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০(১) অনুসারে, ঋণের সুদ পরিশোধ একটি স্পষ্ট ও স্বীকৃত কার্যক্রম যা একটি বৈধ স্বীকৃতি (Acknowledgment) হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.

১২.
তামাদি আইনের ৫ ধারার বিলম্ব মওকুফের জন্য দরখাস্তে কী দাবি/উল্লেখ করতে হয়?
  1. বিলম্বের কারণ
  2. মামলার গুরুত্ব
  3. বিলম্বের উপযুক্ত কারণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপিল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
⇒ অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিল।
তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।
- অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
- তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবল আপিল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
১৩.
মৌখিক কুৎসার দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৫ অনুযায়ী, মৌখিক কুৎসার [Slander] দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার জন্য তামাদির মেয়াদ হল ১ বছর।
- এটি মূলত নির্ধারণ করে যে, যদি কেউ অন্যের বিরুদ্ধে মৌখিক কুৎসা রটায় বা অপবাদ দেয়, এবং এর ফলে কোনো ধরনের মানহানি বা ক্ষতি ঘটে, তবে ক্ষতিপূরণের মামলা কুৎসামূলক কথা বলার তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- যদি সেই কুৎসামূলক কথা নালিশযোগ্য না হয়, তবেও তবে যদি বিশেষ ক্ষতি ঘটে, তার ফলস্বরূপ ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করা যাবে।
১৪.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে কয়টি বিভাগ রয়েছে?
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৩ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits] 
অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
১৫.
দেওয়ানী আদালতের ডিক্রি জারীর বিক্রয় রদের [Set aside] মামলার তামাদির মেয়াদ?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১২

নিম্নলিখিত বিক্রয় রদের [Set aside] মামলা
ক. দেওয়ানী আদালতের ডিক্রি জারী করতে বিক্রয়;
খ. কালেক্টর বা অন্য রাজস্ব কর্মকর্তার ডিক্রি বা আদেশ অনুসারে বিক্রয়;
গ. বকেয়া সরকারী রাজস্ব আদায়ের জন্য বা বকেয়া হিসাবে আদায়যোগ্য যে কোন দাবী আদায়ের জন্য বিক্রয়;
ঘ. ভাড়ার হাল (নগদ) বকেয়ার জন্য বিক্রিত‌ পত্তনী তালুক বিক্রয়।

ব্যাখ্যা: এই অনুচ্ছেদে, পত্তনী তালুক শব্দের মধ্যে হাল খাজনার বকেয়ার জন্য বিক্রয়যোগ্য যে কোন মধ্যস্বত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

তামাদি- ১ বছর
সময় গণনা শুরু- যখন বিক্রয় বহাল হয় বা এমন মামলা দায়ের না করার কারণে যখন বিক্রয় চূড়ান্ত হয়।
১৬.
তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো চুক্তি অবিরামভাবে ভঙ্গ করা হয়, তখন তামাদির সময়সীমা কখন শুরু হয়?
  1. চুক্তি ভঙ্গের প্রথম দিন থেকে
  2. চুক্তি বাতিল করার দিন থেকে
  3. চুক্তি সম্পাদনের শেষ দিন থেকে
  4. চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় করার প্রতিটি মুহূর্ত থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুসারে, যখন কোনো চুক্তি অবিরামভাবে ভঙ্গ করা হয় বা অন্যায় করা হয়, তখন প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির সময়সীমা শুরু হয়। অর্থাৎ, যতক্ষণ চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ নালিশের কারণ প্রতিনিয়ত উদ্ভব হতে থাকবে, এবং সেই অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ পুনরায় গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:

-যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
-এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
--------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-23.Continuing breaches and wrongs:
-In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
১৭.
Easement Right বলতে কি বুঝায়?
  1. সুখাধিকার
  2. ঋণ
  3. ফেরত নেওয়া
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।

♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦ ২৬ ধারা অনুযায়ী সুখাধিকার আলো, বায়ু প্রবেশ ও ব্যবহার, স্থল ও জল পথের ব্যবহার এবং পানির ব্যবহারকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦ সুখাধিকার বা ব্যবহার স্বত্ব (ইজমেন্ট রাইট)- ১৮৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট অ্যাক্ট এর ৪ ধারায় সুখাধিকারের (ইজমেন্ট রাইট) সংজ্ঞা রয়েছে। সুখাধিকার বলতে এমন এক সুবিধাভোগী স্বত্বের অধিকারকে বুঝায় যা দ্বারা কোনো জমির মালিক বা দখলকার তার জমির সুবিধাজনক ভোগের জন্য অপর কোনো ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে কিছু করতে বা করা অব্যাহত রাখতে, কোনো কিছু নিবৃত্ত করতে বা নিবৃত্ত অব্যাহত রাখতে পারে।
১৮.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৬-এর মতে, চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর 
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুসারে, একটি লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ হলো ৬ বছর।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬: - লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ৬ বছর বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে: চুক্তি নিবন্ধিত না হলে যখন মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে তখন থেকে।

১৯.
নিচের কোন ধরনের মোকদ্দমার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১ বছর?
  1. শ্রমিকের মজুরি আদায়ের মোকদ্দমা
  2. অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ এর মোকদ্দমা
  3. বিক্রয় রদের মোকদ্দমা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭- গৃহ-ভৃত্য কারিগর বা শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে যখন থেকে মজুরী বকেয়া হয় তার সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে করতে হয়।

• অনুচ্ছেদ ১০- অগ্রক্রয়ের অধিকার [Right to pre-emtion] বলবৎ এর মামলার তামাদি- ১ বছর।

• অনুচ্ছেদ ১২- বিক্রয় রদের [Set aside] মামলার তামাদি- ১ বছর।
২০.
The Limitation Act, 1908 এর কোন ধারায় দলিলে বর্ণিত সময়ের হিসাব করার বিধান রয়েছে?
  1. ২৫
  2. ২৪
  3. ২৩
  4. ২৬
ব্যাখ্যা
♦ দলিলে উল্লেখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লেখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচীত হবে।
২১.
'ক','খ' ও 'গ' একটি ফার্মের অংশীদার এবং 'ঘ' উক্ত ফার্মের নিকট ঋণগ্রস্থ হয়। 'খ' উন্মাদ এবং 'গ' নাবালক। 'খ' এবং 'গ'-এর সম্মতি ব্যতীত 'ক', দেনাদার 'ঘ'-কে ঋণমুক্ত করতে পারে না। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক','খ' ও 'গ' সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  2. শুধুমাত্র 'ক' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  3. 'খ', এবং 'গ' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না
  4. 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে
ব্যাখ্যা
এক্ষেত্রে 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদি আইন,১৯০৮ এর ৭ ধারার অধীন তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে।

• তামাদি আইনের ৬, ৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

 তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

ধারা ৭ (একাধিক বাদী অথবা দরখাস্তকারীর মধ্যে একজনের অপারগতা)-
যে ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার অধিকারী হয় বা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয় এবং তাদের সকলেই আইনগত অক্ষম হলে তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদি অতিবাহিত হবে না। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তাদের মধ্যে এক বা একাধিক ব্যক্তি আইনগতভাবে অক্ষম কিন্তু বাকিরা আইনগতভাবে সক্ষম বা সুস্থ, সেই ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সকলের বিরুদ্ধে অতিবাহিত হবে। কি হবে না তা নিম্নলিখিত ভাবে নির্ধারণ করতে হবে-

⇒ যে সকল ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ তাদের সম্মতি ছাড়া যে ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ না সে যদি দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে পারে তাহলে সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে।
⇒ কিন্তু আইনগতভাবে সক্ষম ব্যক্তি আইনগত অপারগ ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে, তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না।

Section 7: Disability of one of several plaintiffs or applicants-
Where one of several persons jointly entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is under any such disability, and discharge can be given without the concurrence of such person, time will run against them all: but, where no such discharge can be given, time will not run as against any of them until one of them becomes capable of giving such discharge without the concurrence of the others or until the disability has ceased.
২২.
'ক','খ' ও 'গ' একটি ফার্মের অংশীদার এবং 'ঘ' উক্ত ফার্মের নিকট ঋণগ্রস্থ হয়। 'খ' উন্মাদ এবং 'গ' নাবালক। 'খ' এবং 'গ'-এর সম্মতি ব্যতীত 'ক', দেনাদার 'ঘ'-কে ঋণমুক্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক','খ' ও 'গ' সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  2. শুধুমাত্র 'ক' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  3. 'খ' এবং 'গ' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না
  4. 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে
ব্যাখ্যা
• এক্ষেত্রে 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদি আইন,১৯০৮ এর ৭ ধারার অধীন তামাদির মেয়াদ হতে অতিবাহিত হতে থাকবে।

• তামাদি আইনের ৬, ৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

 তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

ধারা ৭ (একাধিক বাদী অথবা দরখাস্তকারীর মধ্যে একজনের অপারগতা)-
যে ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার অধিকারী হয় বা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয় এবং তাদের সকলেই আইনগত অক্ষম হলে তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদি অতিবাহিত হবে না। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তাদের মধ্যে এক বা একাধিক ব্যক্তি আইনগতভাবে অক্ষম কিন্তু বাকিরা আইনগতভাবে সক্ষম বা সুস্থ, সেই ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সকলের বিরুদ্ধে অতিবাহিত হবে। কি হবে না তা নিম্নলিখিত ভাবে নির্ধারণ করতে হবে-

যে সকল ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ তাদের সম্মতি ছাড়া যে ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ না সে যদি দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে পারে, তাহলে সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে।

⇒ কিন্তু আইনগতভাবে সক্ষম ব্যক্তি আইনগত অপারগ ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে, তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না।

Section 7: Disability of one of several plaintiffs or applicants-
Where one of several persons jointly entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is under any such disability, and discharge can be given without the concurrence of such person, time will run against them all: but, where no such discharge can be given, time will not run as against any of them until one of them becomes capable of giving such discharge without the concurrence of the others or until the disability has ceased.
২৩.
তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন খালাস [Acquittal] আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান রয়েছে?
  1. ১৫১ অনুচ্ছেদে
  2. ১৫৭ অনুচ্ছেদে
  3. ১৫৬ অনুচ্ছেদে
  4. ১৫৫ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৫৭

খালাস [Acquittal] আদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী আপিল করতে হবে যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে- ৬ মাস।
২৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এ সংজ্ঞায়িত বিদেশী রায়ের সম্পর্কে মামলার তামাদি-
  1. ১২ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৭

দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এ সংজ্ঞায়িত বিদেশী রায়ের সম্পর্কে মামলা
তামাদি- ৬ বছর
সময় গণনা শুরু- রায়ের তারিখ হতে।
২৫.
একটি মামলায় প্রতারণামূলক দলিল সৃজনের অভিযোগ করা হলে উক্ত মামলায় তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদীর_______।
  1. অধিকার সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে।
  2. প্রতারণা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে।
  3. দলিল সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে।
  4. মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে।
ব্যাখ্যা
♦যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ১ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিল বা দলিল রদ এর মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অনুচ্ছেদ- ৯১
কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্য কোন বিধান নেই
তামাদি- ৩ বছর
সময় গণনা শুরু- যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে, সেগুলি যখন বাদী অবগত হয়।
২৭.
তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে চুক্তি প্রত্যাহার মামলার তামাদি উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১১১
  2. অনুচ্ছেদ- ১১৪
  3. অনুচ্ছেদ- ১১৩
  4. অনুচ্ছেদ- ১১৫
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৪

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি রদের মামলা (For recession of a contract) দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১১৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি প্রত্যাহার করার মামলা যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি বাতিল করার অধিকার‌ প্রদান করে, সেগুলি সম্পর্কে বাদী যখন প্রথম অবগত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে করতে হবে।
২৮.
প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনার সুবিধা পাওয়ার জন্য কোন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরল বিশ্বাস
  2. আইনি জ্ঞান
  3. আর্থিক সামর্থ্য
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, যখন কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তখন তাঁকে তামাদি মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
কিন্তু এই সুবিধা পাওয়ার মূল শর্ত হলো— ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি “সরল বিশ্বাসে” প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
⇒ সরল বিশ্বাস বলতে বোঝায় ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অজ্ঞান বা উদাসীন ছিলেন না, তিনি বুদ্ধি, সতর্কতা এবং সাধারণ সচেতনতা বজায় রেখেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তিনি সত্যকে জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
⇒ প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ গণনার সুবিধা পেতে হলে, ব্যক্তি প্রতারণার বিষয়ে সরল বিশ্বাসে অজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি প্রতারণা জানার পর দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন – এটি প্রমাণ করা আবশ্যক। তাই, "সরল বিশ্বাস" এই সুবিধার কেন্দ্রবিন্দু, যা তামাদির গণনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য।
- প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদির সুবিধা পাওয়ার জন্য ‘সরল বিশ্বাস’ অপরিহার্য বিষয়, তাই সঠিক উত্তর: ক) সরল বিশ্বাস।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
২৯.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি দখল পুণরুদ্ধারের তামাদি মেয়াদ হবে -
  1. ৩ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ১২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি দখল পুণরুদ্ধারের তামাদি মেয়াদ হবে ১২ বছর
৩০.
Section 28 of The Limitation Act, 1908 is an exception to which general principle?
  1. Limitation affects both right and remedy
  2. Limitation bars remedy but not the right
  3. Limitation never affects rights
  4. Limitation applies only to contracts
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- b) Limitation bars remedy but not the right.

The Limitation Act, 1908–এর সাধারণ নীতি হলো-
তামাদি আইন সাধারণত কেবল প্রতিকার (remedy) বন্ধ করে, অধিকার (right) নষ্ট করে না।
অর্থাৎ, সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মামলা করা যায় না, কিন্তু মূল অধিকারটি তাত্ত্বিকভাবে থেকে যায়।

কিন্তু ধারা ২৮ এই সাধারণ নীতির ব্যতিক্রম (exception)।

ধারা ২৮-
সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ শেষ হলে, ঐ সম্পত্তির ওপর ব্যক্তির অধিকারই বিলুপ্ত (extinguished) হয়ে যায়।

অর্থাৎ, এখানে শুধু মামলা করার সুযোগ নয়, অধিকার নিজেই শেষ হয়ে যায়। এই কারণেই ধারা ২৮ হলো সেই সাধারণ নীতির ব্যতিক্রম যে- “Limitation bars the remedy but not the right.”

৩১.
তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়
  1. ১৮৫৯ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৭১ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
ব্যাখ্যা
♦ ১৭৯৩ সালে সর্ব প্রথম তামাদি আইন ইংরেজীতে প্রবর্তিত হলেও ১৮৫৯ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তামাদি আইন প্রণীত হয়। অর্থাৎ ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭১ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ১৮৭১ সালের তামাদি আইনে সরকার কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ছিল ৬০ বৎসর। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭৭ সালে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়।

♦ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।

♦ সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়। ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ দুইটি সংশোধন করা হয়।

♦ তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পদ্ধতিগত আইন উল্লেখ না থাকলে বিধিবদ্ধ আইন হবে।
৩২.
মামলা করার অধিকার জন্মানোর পূর্বে মৃত্যু হওয়ার বিষয়ে তামাদি আইনের কত ধারায় আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১৮
  2. ১৬
  3. ১৭
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের ১৭ ধারা মতে মামলা করার অধিকার অর্জনের পূর্বে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার বৈধ প্রতিনিধিরা মামলা করতে পারবেন।
৩৩.
এজাহার দাখিলের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৪ মাস
  4. নির্দিষ্ট কোন মেয়াদ নেই
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, বাদীর করা কোন মামলায় বিবাদী যদি আদালতে তামাদির প্রশ্ন নাও তুলে তারপরেও মামলা খারিজ হবে যদি বাদী এই আইনের ধারা ৪-২৫ এবং ১ম তফসিলের নির্ধারিত সময়ের মাঝে আদালতে মামলা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়।
-তামাদি আইন, ১৯০৮ ফৌজদারি মূল মামলা অর্থাৎ এজাহার, এফ আই আর বা অভিযোগ/নালিশ (complaint) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
-তামাদি আইন দ্বারা ফৌজদারী মামলা বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
- তবে ফৌজদারি আপিল, রিভিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন।

তামাদি আইন ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়ােগ হয় না। তবে ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হয়।
অর্থাৎ তামাদি আইনে এজাহার দাখিলের নির্দিষ্ট কোন মেয়াদ নেই।
৩৪.
তামাদি আইনের ৫ ধারার বিলম্ব মওকুফের জন্য দরখাস্তে কী উল্লেখ করতে হয়?
  1. মামলার গুরুত্ব
  2. বিলম্বের কারণ
  3. মামলার পক্ষের নাম
  4. বিলম্বের উপযুক্ত কারণ
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপিল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
⇒ অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিল।

তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।
- অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
- তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবল আপিল এবং রিভিউ , রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
---------------------
⇒The Limitation Act, 1908 Section-5. Extension of period in certain cases:
 Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
৩৫.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, কোন ধরনের দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ ৩ বছর?
  1. যে দরখাস্ত জরিমানা সংক্রান্ত
  2. যে দরখাস্ত আদালত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে
  3. যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ আছে
  4. যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর ধরা হয়। অর্থাৎ, যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই, সেই ধরনের দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে।
→ সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) যে দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ নেই।
৩৬.
When does the limitation period begin if fraud has been committed to conceal someone's legal rights?
  1. From the date the fraud was committed
  2. From the date the fraud is discovered
  3. From the date the court accepts the case
  4. From the date the fraudulent person confesses
ব্যাখ্যা
Section 18: Effect of fraud
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application- 
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,  

shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.

• ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল:
 যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-
১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।
৩৭.
লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল (Result of acknowledgment in writing) সম্পর্কিত বিধানটি তামাদি আইনের কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১০
  2. ২০
  3. ১৯
  4. ১৮
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৯ মতে- যেই ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বেই যেই পক্ষের নিকট হতে উক্ত সম্পত্তি বা অধিকার দাবি করা হয়েছে, সেই পক্ষ স্বয়ং অথবা যাহার মাধ্যমে তিনি উক্ত সম্পত্তির স্বত্ব বা দায় প্রাপ্ত হয়েছেন, সেই ব্যক্তি লিখিত স্বাক্ষরিতভাবে উক্ত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে দায় স্বীকার করেন, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হবার সময় হইতে নতুন করে মেয়াদ গণনা করতে হবে।
৩৮.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১২৪ অনুসারে, বংশগত পদ দখলের মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী “বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা ১২ বছর, এবং এই সময় গণনা শুরু হবে যখন বিবাদী সেই পদটি বাদীর প্রতিকূলে দখল করে নেয়।”
- অর্থাৎ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল সংক্রান্ত মামলার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় যখন বিবাদী বাদীর বিপক্ষে উক্ত পদটি দখল করে।
৩৯.
তামাদি আইনের ২৩ ধারার আওতায় অবিরাম চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে কি ঘটে?
  1. তামাদির মেয়াদ একবার শুরু হয়
  2. তামাদির মেয়াদ প্রভাবিত হয় না
  3. প্রতি মুহূর্তে তামাদির মেয়াদ নতুন করে শুরু হয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
৪০.
মোকদ্দমা দায়েরের অধিকারী ব্যক্তির অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই মৃত্যু হলে, সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধির ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে শুরু হবে?
  1. ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ থেকে
  2. মোকদ্দমা দায়েরের তারিখ থেকে
  3. আইনগত প্রতিনিধির যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে
  4. আইনগত প্রতিনিধির ইচ্ছানুযায়ী সময় থেকে
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা (অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল) অনুযায়ী-

কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

Section 17- Effect of death before right to sue accrues

(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application. 
 
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application. 
 
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
৪১.
‘A’ একটি সম্পত্তির মালিক এবং ‘B’ তার নিচের মাটির মালিক। ‘B’ কয়লা খনন করে, যার ফলে কোনো তাৎক্ষণিক ক্ষতি হয় না, কিন্তু পরে মাটির পৃষ্ঠ ধসে যায়। এই ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের তামাদি সময় কখন থেকে গণনা করা হবে?
  1. যখন ‘B’ কয়লা বিক্রি করে।
  2. যখন মাটির পৃষ্ঠ ধসে যায়।
  3. যখন কয়লা খনন শুরু হয়।
  4. যখন ‘A’ মামলা দায়ের করে।
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৪ অনুসারে, যদি কোনো কাজের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কারণে মামলার কারণ (cause of action) সৃষ্টি না হয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষতি প্রকাশ পাওয়ার পরই মামলার কারণ সৃষ্টি হয়, তবে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে যখন সেই ক্ষতি প্রকাশ পায়। প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘B’-এর কয়লা খননের ফলে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু পরে মাটির পৃষ্ঠ ধসে যায়। সুতরাং, তামাদি সময় গণনা শুরু হবে যখন মাটির পৃষ্ঠ ধসে যায়, কারণ এই সময়েই ক্ষতি প্রকাশ পায় এবং মামলার কারণ সৃষ্টি হয়।

⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান: বিশেষ ক্ষতির কারণ না হইলে যে কাজের জন্য মামলা করা যায় না তাহার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।

উদাহরণ:
'ক' একটি জমির উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।
-----------
⇒ The limitation Act-1908, Section 24: Suit for compensation for act not actionable without special damage:-
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results.

Illustration-
A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.

৪২.
তামাদি আইনের কোন ধারায় তঞ্চকতা বা প্রতারণার কথা বলা আছে?
  1. ২০ ধারায়
  2. ১৮ ধারায়
  3. ১৬ ধারায়
  4. ২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল 
 
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-

১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।

Section 18: Effect of fraud
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application- 
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,  

shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
৪৩.
হাইকোর্টের মূল দেওয়ানি এখতিয়ার (original civil jurisdiction)-এ প্রদত্ত রায়, ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামদির মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮৩:
হাইকোর্টের মূল দেওয়ানি এখতিয়ার (original civil jurisdiction)-এ প্রদত্ত রায়, ডিক্রি বা আদেশ অথবা আপিল বিভাগ [Appellate Division] কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ কার্যকর করার জন্য মামলা:

তামাদি মেয়াদ: ১২ বছর।

সময় গণনার শুরু:
যেদিন সেই ব্যক্তি, যিনি উক্ত রায়, ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করতে পারেন, প্রথমবারের মতো তা কার্যকর করার অধিকার লাভ করেন, সেদিন থেকে।

৪৪.
অবিরাম চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে তামাদি (limitation) কখন শুরু হয়?
  1. প্রথমবার চুক্তিভঙ্গ হলে
  2. চুক্তি সম্পাদনের দিন থেকে
  3. চুক্তিভঙ্গ চলমান থাকলে প্রতি মুহূর্তে নতুন করে
  4. চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে
ব্যাখ্যা

 The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

৪৫.
দেওয়ানি মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের রায়ের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেকোনো দেওয়ানী আদালতের নিকট দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
রিভিউ: কোনো আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনক্রমে সেই আদালত কর্তৃক পুনরায় বিবেচনা করাকে রিভিউ বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারা এবং ৪৭ আদেশে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।সকল রায় বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ করা যায় না। তবে-
(ক) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে কিন্তু আপিল করা হয়নি,
(খ) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, এবং
(গ) স্বল্প এখতিয়ার আদালতের রেফারেন্স অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্ত এর বিরুদ্ধে রিভিউ এর আবেদন করা যায়।

⇒ রিভিউ দায়েরের স্থান এবং সময়সীমা:
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে ডিক্রি বা আদেশ জারির সময় হতে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে।
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।

উল্লিখিত প্রশ্নে যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে ঐ আদালতে রায়ের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে।
৪৬.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলার ক্ষেত্রে কোন সময়কাল নির্ধারিত না থাকলে, কবে থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে?
  1. চুক্তি কার্যকরের তারিখ হতে
  2. চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে
  3. অস্বীকৃতির বিষয় জানার তারিখ থেকে
  4. চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
• চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের কোন মামলায় যেক্ষেত্রে কোন সময়কাল নির্ধারিত নেই, সেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা অস্বীকৃতির বিষয় জানার তারিখ থেকে শুরু হবে।

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৩:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলা দায়েরর তামাদির মেয়াদ ১১৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে- ১ বছর - যেক্ষেত্রে কোন সময়কাল নির্ধারিত নেই, সেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা অস্বীকৃতির বিষয় জানার তারিখ থেকে শুরু হবে।
৪৭.
'ক' ও 'খ' কর্তৃক দায়েরকৃত  চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলার  'গ' কে পক্ষভুক্ত করা হলে 'গ' এর তামাদির মেয়াদ কখন শুরু হবে?
  1. ক যখন মামলা দায়ের করেছিল তখন থেকে
  2. ক যখন আরজি দাখিল করেছিল তখন থেকে
  3. গ কে যখন পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল তখন থেকে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ ধারা অনুসারে মামলা দায়েরের পর যদি কোনো নতুন বাদী বা বিবাদী যুক্ত বা প্রতিস্থাপিত হয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে মামলাটি সেই তারিখ থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে যখন তারা পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।

তামাদি আইন ১৯০৮,ধারা ২২,নূতন বাদী বা বিবাদীকে কাহারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করিবার ফলাফল:
উপধারা-(১) যেইক্ষেত্রে মামলা দায়ের করিবার পর নূতন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কাহারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হইয়াছে, তাহার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-(২) যেইক্ষেত্রে মামলা মুলতবী থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাহাকেও পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেইক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে ১ উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
------------------
⇒ The Limitation Act 1908, Section 22, Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.

৪৮.
সুখাধিকার ভোগের গণনার ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী কত বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছর বিবেচনা করা হবে?
  1. ৬ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।

(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

৪৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অধীন বেদখল হওয়া সম্পত্তি থেকে দখলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য, দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬৫

দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অধীন বেদখল হওয়া সম্পত্তি থেকে দখলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দরখাস্ত বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে - ৩০ দিন এর মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৫০.
“Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it” – এই বিধান কোন ধারার?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৪
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯-এর মূল বিধানই হলো: “Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it.”
- অর্থাৎ একবার তামাদির মেয়াদ শুরু হয়ে গেলে পরবর্তীতে কোনো অক্ষমতা (যেমন: নাবালক হওয়া, পাগল হওয়া, দেশের বাইরে থাকা ইত্যাদি) দিয়ে সেই মেয়াদ আর বন্ধ বা স্থগিত হবে না।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৯ ধারার বিধান হল একবার তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া শুরু করলে মোকদ্দমা দায়েরে পরবর্তী কোন অপারগতা (Disability) বা অক্ষমতা (Inability) দ্বারা তা বন্ধ হবে না। তবে যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেনার টাকা আদায়ে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
--------
⇒ The Limitation Act, 1908- Section 9:- Continuous running of time:
-Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:

Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

৫১.
কোনো সম্পত্তির ________ জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে তামাদি আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
  1. স্বত্ত্ব প্রাপ্তির
  2. দখল প্রাপ্তির
  3. বিক্রয়ের
  4. মালিকানার
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধানে Adverse possession বা জবর দখলের কথা বলা হয়েছে।

ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৫২.
প্রথম তফসিলের ১৫৪ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত
  2. জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিলের সাধারণ সময়সীমা সংক্রান্ত
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত
  4. হাইকোর্ট ভিন্ন অন্য যেকোনো ফৌজদারি আপিল আদালতে আপিল সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৫৪

১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে হাইকোর্ট ভিন্ন যে কোন আদালতে আপিল 
তামাদি- ৩০ দিন
সময় গণনা শুরু- যে দণ্ডাদেশ বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।
৫৩.
"এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হবে" এটি তামাদি আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ১৪
  3. ধারা ১১
  4. ধারা ১৩
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৪ ধারার বিধান এখতিয়ারবিহীন আদালতে সমুদ্দেশ্যমূলক কার্যধারায় যেই সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হবে:
(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, বাদী কোনো আদিম বা আপিল আদালতে বিবাদির বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানী কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাইতে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যেই আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করিবার ক্ষমতা সম্পন্ন নহে, সেই আদালতে যদি সদবিশ্বাসে উহা দায়ের করা হইয়া থাকে, তবে শেষোক্ত কার্যক্রমে যেই সময় ব্যয়িত হয়, প্রথমোক্ত মামলার মেয়াদ গণনা হইতে তাহা বাদ দিতে হইবে।
যথাযথ সতর্কতা ও সচেষ্ট প্রয়োগ সত্ত্বেও একজন যুক্তিবান ও পরিণামদর্শী মানুষের পক্ষে যেইধরনের ভুল হওয়া স্বাভাবিক, শুধুমাত্র ঐ ধরনের ভুলের ব্যাপারে জড়িত মামলার ক্ষেত্রেই এইধারার বিধান অনুসারে সুবিধাদান করা যাইতে পারে। নিম্নতর আপিল আদালত যেইক্ষেত্রে যথাযথভাবে অত্র ধারার আওতায় উহার স্ববিচার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট উহাতে হস্তক্ষেপ করিয়া থাকে না।
আপিলের জন্য সময় গণনাকালে অত্র ধারাটি প্রয়োগ ঘটে না। তবে ইহার যুক্তিযুক্ত মূলনীতি এবং এই ধারায় ভাবিত পরিস্থিতি যথাসময়ে আপিল উপস্থাপন করিবার জন্য ৫ ধারার অর্থ অনুসারে পর্যাপ্ত কারণ হিসাবে সাধারণত গ্রাহ্য হইতে পারে।
-----------------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.

Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
৫৪.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের প্রথম বিভাগে কোন বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. আপীল দায়ের
  2. মোকদ্দমা দায়ের
  3. দরখাস্ত দায়ের
  4. রিভিশন দায়ের
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিল তিনটি বিভাগে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের আইনি কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা তামাদির মেয়াদ (limitation period) নির্ধারণ করেছে।
- প্রথম বিভাগ (First Division):
এখানে উল্লেখ আছে "Limitation for Filing Suits" — অর্থাৎ মোকদ্দমা দায়েরের সময়সীমা। এই বিভাগে অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত মোকদ্দমা দায়েরের বিভিন্ন বিষয় যেমন: চুক্তি, জমি সংক্রান্ত মামলা, পাওনা আদায়, মালিকানা দাবি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তামাদির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাই, প্রথম তফসিলের প্রথম বিভাগ সরাসরি মোকদ্দমা দায়ের-এর সময়সীমা বা তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৩টি বিভাগ:
১) প্রথম বিভাগ (First Division):
→ মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Suits)
- এই বিভাগের অধীনে ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
২) দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division):
→ আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Appeals)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত বিভিন্ন আপীলের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
৩) তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
→ বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Applications and Petitions)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত বিভিন্ন দরখাস্ত বা পিটিশনের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
৫৫.
'ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়'- এই বক্তব্যের ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. এজাহার দায়ের
  2. পুলিশ রিপোর্ট দাখিল
  3. চার্জ গঠন
  4. আপিল দায়ের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) আপিল দায়ের।

তামাদি অর্থ বিলুপ্ত বা অচল। তামাদি শব্দটি আরবি ভাষা হতে উদ্ভূত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনগত দাবী আদায় না করলে উক্ত দাবী বাতিল হয়েছে বলে গণ্য হবে এটাই তামাদি।

প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্যটি হলো - “ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইন (Limitation Act) প্রযোজ্য নয়।”
অর্থাৎ, সাধারণভাবে ফৌজদারী মামলায় মামলা দায়ের, তদন্ত, চার্জ গঠন ইত্যাদির ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য হয় না। অর্থাৎ এগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও মামলা চলতে পারে।

কিন্তু ব্যতিক্রম হলো- আপিল (Appeal) দায়েরের ক্ষেত্রে। ফৌজদারী মামলার রায় ঘোষণার পর আপিল দায়েরের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, যা Limitation Act, 1908 অনুযায়ী নির্ধারিত। যেমন- তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার জন্য ৭ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সময়সীমা দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে গণনা করা হয়।

৫৬.
'ক' জমি বিক্রি করেন। বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি হয় ৫ জানুয়ারি, ২০২১। ক্রেতা ১০ জানুয়ারি, ২০২১ জমিতে দখল গ্রহণ করেন। অগ্রক্রয়ের মামলা করার সময় শুরু হবে-
  1. ৫ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে
  2. ১০ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে
  3. চুক্তির দিন থেকে
  4. বিক্রয়ের নোটিশের দিন থেকে
ব্যাখ্যা

 ⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে,
অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর।

এই মেয়াদ গণনা শুরু হয়:
→ ক্রেতা যদি সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে, তাহলে দখল গ্রহণের তারিখ থেকে।
→ যদি ক্রেতা প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে।

এ ঘটনায় ক্রেতা ১০ জানুয়ারি, ২০২১ দখল গ্রহণ করেছেন, তাই  তামাদি সময় শুরু ১০ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে।

৫৭.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ২য় বিভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ
  2. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ
  3. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ
  4. পিটিশন সংক্রান্ত তামাদির মেয়াদ
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division):
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits];
অনুচ্ছেদ: ১-১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division):
আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals];
অনুচ্ছেদ: ১৫০-১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions];
অনুচ্ছেদ: ১৫৮-১৮৩ পর্যন্ত।
৫৮.
দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের  সিডিউল ১, আর্টিকেল ৯১ মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৩৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে হলে এই দলিলের বিষয়ে জানার ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৫৯.
একতরফাসূত্রে আপিল শুনানী হলে পুনঃশুনানীর জন্য আবেদনের সময়সীমা কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৬৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একতরফাসূত্রে আপিল শুনানী হলে পুনঃশুনানীর জন্য আবেদনের সময়সীমা হল ৩০ দিন।
৬০.
তামাদি আইন অনুসারে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোন বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করা হলে, উক্ত নতুন কোন বাদী বা বিবাদীর বিরুদ্ধে কখন তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পর থেকে
  2. বিচার্য বিষয় গঠনের সময় থেকে
  3. যখন আরজি দাখিল করেছিল তখন থেকে
  4. যখন নতুন বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে তখন থেকে
ব্যাখ্যা

ধারা ২২: নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবী থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।
-----------
Section 22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.

৬১.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কার্যক্রমের জন্য তামাদির নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই?
  1. আপিল
  2. দরখাস্ত
  3. রিভিউ
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই।

- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

⇒ সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৯০ দিনের মধ্যে।
- জেলা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৩০ দিনের মধ্যে।
৬২.
A, ২০১৯ সালে এক দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়েরের অধিকারী হন। কিন্তু তামাদি আইনে উক্ত মোকদ্দমা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তিনি কখন পর্যন্ত আদালতে মামলা করতে পারবেন?
  1. ২০২০ সালের মধ্যে
  2. ২০২২ সালের মধ্যে
  3. ২০২৩ সালের মধ্যে
  4. ২০২৫ সালের মধ্যে
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

A, ২০১৯ সালে মোকদ্দমা দায়েরের অধিকারী হন। 
সেই অনুযায়ী ৬ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে → ২০১৯ + ৬ = ২০২৫ সালের মধ্যে মামলা দায়েরযোগ্য থাকবে।

৬৩.
'ক' তার বাড়ি থেকে 'খ' কর্তৃক জোরপূর্বক বেদখল হয়। 'ক' কত দিনের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
'ক' ১২ বছরের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে পারবে।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে।এক্ষেত্রে,

⇒ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে
⇒ বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে (তামাদি আইনের ১৪২ ও ১৪৪ অনুচ্ছেদ)
⇒ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

• তামাদি আইন,১৯০৮ অনুচ্ছেদ ১৪২-
যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।
৬৪.
বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর তামাদি আইনের প্রভাব কী?
  1. বাংলাদেশের আদালতে মামলা হলে, উক্ত তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে
  2. সকল ক্ষেত্রে বিদেশের আদালতের তামাদির বিধান বিধান প্রযোজ্য হবে
  3. দুই দেশের তামাদির বিধান গ্রহণযোগ্য হবে
  4. পক্ষদ্বয়ের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো এক দেশের বিধান গ্রহণযোগ্য হবে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,

বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লেখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।

⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।

Section 11: Suits on foreign contracts
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
৬৫.
Limitation Act- 1908 এর ২০ ধারায় বলা হয়েছে -
  1. দেনা / সুদ পরিশোধ করলে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
  2. দেনা / সুদ পরিশোধ করলে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা নতুন করে শুরু হবে।
  3. পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থেকে তামাদি গণনা হবে।
  4. সবগুলো।
ব্যাখ্যা
♠♠ 
• তামাদি আইনের ২০ ধারা মতে ঋণের আংশিক অর্থ পরিশোধ/ সুদ প্রদান করা হলে সম্পূর্ণ ঋণকে স্বীকার করে নেয়া বোঝায়।
• তাই সে ক্ষেত্র ঋণ পরিশোধ করার জন্য ঐ তারিখ থেকে নতুন করে পুনরায় তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে
৬৬.
The Limitation Act, 1908 এর তফসিলে কোনো মামলার তামাদির সময়সীমা আলাদাভাবে উল্লেখ করা না থাকলে তার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-

যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। অর্থাৎ মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৬৭.
তামাদি আইনের ধারা ৪ অনুসারে আদালত বন্ধ থাকাকালীন তামাদির মেয়াদ শেষ হলে, আবেদন দাখিলের সঠিক সময় কবে?
  1. আদালতের অনুমতিতে যে-কোনো দিন
  2. আদালত পুনরায় খোলার দিন
  3. তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন
  4. তামাদির মেয়াদ শেষের আগের দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ধারা ৪-এর সরাসরি বিধান হলো: যদি তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন আদালত বন্ধ থাকে, তাহলে মামলা/আপিল/দরখাস্ত আদালত যেদিন পুনরায় খুলবে, সেদিন দায়ের করা যাবে।
- সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) আদালত পুনরায় খোলার দিন।

⇒ তামাদি আইনের ৪ ধারা: আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়:
যেইক্ষেত্রে কোন মামলা, আপিল দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার দিন উত্তীর্ণ হয় সেক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে।

⇒ The Limitation Act,1908, Section 4- Where Court is closed when period expires:
Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.

৬৮.
তামাদি আইনের ৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ কী হবে?
  1. তামাদির মেয়াদ স্থগিত হবে
  2. তামাদির মেয়াদ বন্ধ হবে
  3. তামাদির মেয়াদ বাড়বে
  4. তামাদির মেয়াদ প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) তামাদির মেয়াদ স্থগিত হবে।
তামাদি আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে —
 একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হলে, কোনো পরবর্তী অক্ষমতা বা আইনি বাধা সেটি বন্ধ করতে পারবে না।
তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
 যদি কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ স্থগিত থাকবে যতক্ষণ প্রশাসন কার্যক্রম চলবে।

 এই বিধান ঋণদাতা এবং ঋণগ্রহীতার মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য রাখা হয়েছে, কারণ একজন ঋণগ্রহীতা যদি একইসঙ্গে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক হন, তাহলে তিনি কার্যত নিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। তাই এই অবস্থায় তামাদির সময় গণনা স্থগিত থাকে।

অন্যঅপশন বিশ্লেষণ:
 (খ) তামাদির মেয়াদ বন্ধ হবে – এটি ভুল, কারণ তামাদির মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয় না, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে এবং প্রশাসন শেষ হলে পুনরায় গণনা শুরু হয়।
 (গ) তামাদির মেয়াদ বাড়বে – এটি ভুল, কারণ সময় বৃদ্ধি পায় না, বরং প্রশাসনের সময়সীমা বাদ দিয়ে বাকি সময় গণনা করা হয়।
 (ঘ) তামাদির মেয়াদ প্রভাবিত হবে না – এটি ভুল, কারণ ঋণগ্রহীতার প্রশাসক হওয়ার ফলে তামাদির সময় গণনা স্থগিত থাকে।

 অর্থাৎ তামাদি আইনের ৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ প্রশাসন চলাকালীন স্থগিত থাকবে।
------------
⇒ The Limitation Act:- Section- 9. Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
৬৯.
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ১৭(১) অনুযায়ী তামাদি মেয়াদ কখন থেকে গণনা করা হবে?
  1. মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর দিন থেকে
  2. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  3. সম্পত্তি হস্তান্তরের দিন থেকে
  4. মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি যোগ্য হওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

ধারা-১৭: মামলা করিবার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল:
(১) যেই ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকিলে একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকারী হইতো, কিন্তু সেই ব্যক্তি উক্ত অধিকার সৃষ্টি হইবার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, সেইক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি উক্ত মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার যোগ্যতাসম্পন্ন হইবার সময় হইতে তামাদি মেয়াদ গণনা করা হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকিলে তাহার বিরুদ্ধে কেহ একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকার লাভ করিতো, কিন্তু সেই ব্যক্তি উক্ত অধিকার সৃষ্টি হইবার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, সেইক্ষেত্রে যখন মৃত ব্যক্তির এইরূপ কোনো আইনানুগ প্রতিনিধি থাকিবে, যাহার বিরুদ্ধে বাদী মামলা দায়ের বা দরক্ষাস্ত দাখিল করিতে পারিবে, তখন হইতে তামাদি মেয়াদ গণনা করা হইবে।


(৩) সম্পত্তি প্রয়োগের অগ্রাধিকার প্রয়োগের মামলা অথবা স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত দখল বা বংশগত কোনো পদলাভ সম্পর্কিত মামলার ক্ষেত্রে উপরোক্ত (১) ও (২) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য নহে।

৭০.
লিমিটেশন এ্যাক্ট, ১৯৮০ এর ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে না-
  1. স্যুটের ক্ষেত্রে
  2. আপিলের ক্ষেত্রে
  3. রিভিউর ক্ষেত্রে
  4. রিভিশনের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।

♦অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিলো।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবরমাত্র আপীল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারী মামলার আপীলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
৭১.
দলিল বাতিলের মামলার তামাদি The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. ৫১
  2. ১২০
  3. ৯১
  4. ১১৩
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ-৯১ কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্যকোন বিধান নেই  সেক্ষেত্রে যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে সেগুলি যখন বাদী অবগত হয় তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
৭২.
যদি কোনো ব্যক্তির অপারগতা তার মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে তবে ধারা ৬(৩) অনুসারে-
  1. মামলা খারিজ হয়ে যাবে
  2. তামাদি সাথে সাথেই শুরু হবে
  3. নতুন করে তামাদি গণনা হবে না
  4. তার আইনানুগ প্রতিনিধি মামলা করতে পারবে
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারার বিধান- বৈধ অপারগতা-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হওয়ার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।


(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।


(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

৭৩.
তামাদি আইনের কত ধারায় কোন মামলা বাধ্যতামূলক খারিজ হলে, রেস জুডিকাটার বিধান প্রযোজ্য হবে?
  1. ৩ ধারায়
  2. ৫ ধারায়
  3. ৮ ধারায়
  4. ৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সাধারণত মূল মামলায় তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয় Cause of action বা মামলার কারণ উদ্ভবের সময় থেকে এবং তামাদি মেয়াদ গননা করা হয় বাদীর বিরুদ্ধে। বিবাদী মূল মামলায় তামাদিতে দূষিত হয় না।

তামাদি আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, বাদীর করা কোন মামলায় বিবাদী যদি আদালতে তামাদীর প্রশ্ন নাও তুলে তারপরেও মামলা খারিজ হবে যদি বাদী এই আইনের ধারা ৪-২৫ এবং ১ম তফসিলের নির্ধারিত সময়ের মাঝে আদালতে মামলা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। এই ধারাতে আইনের ‘Equity aids the vigilant not the indolent’ নীতির প্রকাশ পেয়েছে অর্থাৎ যিনি সতর্ক আছেন তার জন্যই ইকুইটি প্রাপ্য; যিনি তার অধিকার আদায়ে উদাসীন তার জন্য ইকুইটি নয়।

20 DLR (West Pakistan) 133 মামলায় আদালত তামাদি আইনের ৩ ধারা সম্পর্কে বলেন যে, মামলা করার সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে উক্ত মামলা খারিজ হয়ে যাবে আর এইক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক আরজি প্রত্যাহারের আদেশও মামলা খারিজ বলে গন্য হবে। আর অনুরূপ মামলার বিষয়বস্তু বা কারণের উপর পরবর্তীতে আনীত একই পক্ষগণের মধ্যে রেসজুডিকাটা দ্বারা বারিত হবে।

সহজ ভাষায় বলা যায়, তামাদি আইনের ৩ ধারায় কোন মামলা বাধ্যতামূলক খারিজ হলে সে ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১১ ধারার রেস জুডিকাটার বিধার প্রযোজ্য হবে।
৭৪.
একটি আপিল দায়ের তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বাদ যাবে-
  1. আপিলের মেমো প্রস্তুতের জন্য ব্যয়িত সময়
  2. আইনজীবী নিয়োগের জন্য ব্যয়িত সময়
  3. প্রতিপক্ষের প্রতি সমন জারির জন্য ব্যয়িত সময়
  4. রায় এবং ডিক্রি-র জাবেদা নকল পেতে ব্যয়িত সময়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে-

(১) কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই দিন বাদ দিতে হবে।

(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যে রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হবে, তা যেদিন ঘোষণা করা হয়েছে, সেইদিন এবং যে ডিক্রি, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যেই সময় আবশ্যক, তা বাদ দিতে হবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল পেতে যে সময় লাগে, তাও বাদ দিতে হবে।

(৪) কোনো রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, রোয়েদাদের নকল পেতে যে সময় লাগে, তা বাদ দিতে হবে।

♦ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন উক্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিনটি এবং যে ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশ সম্পর্কে আপীল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যে সময় ব্যয় হবে, তা বাদ দিতে হবে।
৭৫.
তামাদি আইন অনুসারে পুনঃনিরীক্ষণ [Review] এর জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ-
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিউ দায়েরের স্থান এবং সময়সীমা:
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে ডিক্রি বা আদেশ জারির সময় হতে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে।
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।

অর্থাৎ যে আদালত ডিগ্রি প্রদান করে সেই আদালতে তামাদি আইনের ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউর আবেদন দায়ের করতে হবে।
৭৬.
অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধির সংজ্ঞা তামাদি আইনের কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ২০ ধারায়
  2. ২১ ধারায়
  3. ২২ ধারায় 
  4. ২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা

ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of persons under disability):
(১) ধারা ১৯ ও ২০-এ ব্যবহৃত “তার পক্ষে যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধি” (agent duly authorised in his behalf) বলতে, যদি ব্যক্তি কোনো অক্ষমতা (যেমন অপ্রাপ্তবয়স্ক, মানসিকভাবে অসক্ষম ইত্যাদি) অবস্থায় থাকে, তাহলে তার বৈধ অভিভাবক (lawful guardian), কমিটি (committee), ম্যানেজার (manager) অথবা ঐ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক যথাযথভাবে অনুমোদিত কোনো এজেন্টকেও বোঝাবে, যে ব্যক্তি উক্ত স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করতে বা অর্থপ্রদান করতে পারে।

(২) উল্লিখিত ধারাগুলির কোনো কিছুই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যাতে একাধিক যৌথ ঠিকাদার (joint contractor), অংশীদার (partner), নির্বাহক (executor) বা বন্ধকগ্রহীতাদের (mortgagee) মধ্যে একজন কেবলমাত্র অন্যদের দ্বারা (অথবা তাদের এজেন্টদের দ্বারা) স্বাক্ষরিত কোনো লিখিত স্বীকারোক্তি বা প্রদত্ত অর্থের কারণে দায়ী (chargeable) হয়ে যায়।

(৩) উল্লিখিত ধারাগুলির প্রয়োজনে—

(ক) কোনো দায়ের ক্ষেত্রে, যদি কোনো হিন্দু বিধানাধীন বিধবা (widow) বা অন্য কোনো সীমিত মালিক (limited owner) স্বয়ং অথবা তার যথাযথভাবে অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে কোনো স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করেন বা অর্থপ্রদান করেন, তবে তা পরবর্তী উত্তরাধিকারী (reversioner)-এর বিরুদ্ধেও বৈধ স্বীকারোক্তি বা প্রদেয় হিসেবে গণ্য হবে।

(খ) যদি কোনো দায় হিন্দু যৌথ পরিবার (Hindu Undivided Family) কর্তৃক বা তার পক্ষে গৃহীত হয়, তবে পরিবারের তৎকালীন ব্যবস্থাপক (manager) বা তার যথাযথভাবে অনুমোদিত এজেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তি বা অর্থপ্রদান পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বলে গণ্য হবে।

৭৭.
আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার _______ মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে, অন্যথায় মোকদ্দমা খারিজ হবে।
  1. ৩ বছরের
  2. ৫ বছরের
  3. ১ বছরের
  4. ৬ বছরের
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৬, ৭, ৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

• ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-

১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং

২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মোকদ্দমা খারিজ হবে।
৭৮.
When does a fresh period of limitation begin in the case of a continuing breach?
  1. At the time of filing the suit
  2. Only once at the first occurrence
  3. When the court declares so
  4. At every moment the breach continues
ব্যাখ্যা

Section 23: Continuing breaches and wrongs-
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

২৩ ধারা: অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

৭৯.
স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত প্রদত্ত রায় পুনঃনিরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬১ এর বিধান: [Court of Small Causes] স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতের রায় অথবা স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত হিসাবে বিচার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন আদালত কর্তৃক অনুরূপ এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনঃনিরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ ১৫ দিন।

সময় গণনা শুরু- ডিক্রি বা আদেশের প্রদানের তারিখ হতে। 
৮০.
ক” একটি আপীল এখতিয়ারবিহীন আদালতে দায়ের করলো। এখতিয়ার না থাকায় আদালত আপীলটি সঠিক আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দিলো। ইতোমধ্যে আপীল দায়েরের তামাদি মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছ। এই ক্ষেত্রে নিম্মলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. তামাদি আইনের ১৪ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে
  2. আদালত তামাদির মেয়াদ গণনার সময় ব্যয়িত সময় বাদ দিবে
  3. ক এবং খ উভয়
  4. ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে
ব্যাখ্যা
♦আপীলের ক্ষেত্রে ১৪ ধারার আবেদন গ্রহণযোগ্য না, কিন্তু ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের জন্য আবেদন করা যায় এবং এখতিয়ারবিহীন আদালতে আপীল দায়ের যথেষ্ট কারণ হিসাবে প্রমাণ করা যেতে পারে শর্ত হলো উক্ত পক্ষ সৎ উদ্দেশ্যে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
৮১.
যদি কোনো হিন্দু ব্যক্তি একটি প্রমিসরি নোট তৈরি করে যাতে শুধুমাত্র নেটিভ তারিখ উল্লেখ থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হবে-
  1. নেটিভ তারিখ অনুসারে
  2. গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে
  3. বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে
  4. হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে
ব্যাখ্যা
উত্তর: (খ) গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে।
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী, তামাদির মেয়াদ গণনার জন্য সকল দলিল (instrument) গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ:
- একজন হিন্দু ব্যক্তি একটি প্রমিসরি নোট তৈরি করলেন, যেখানে শুধুমাত্র নেটিভ (দেশীয়) তারিখ উল্লেখ আছে এবং বলা হলো চার মাস পরে পরিশোধ করতে হবে।
- এই ক্ষেত্রে, চার মাসের সময় গণনার জন্য গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিসাব করা হবে, নেটিভ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নয়।

অর্থাৎ যদি কোনো দলিল বা চুক্তিপত্রে দেশীয় তারিখ (যেমন বাংলা, হিজরি বা অন্য কোনো স্থানীয় ক্যালেন্ডার) ব্যবহার করা হয়, তবুও তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারই প্রযোজ্য হবে।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar. 

Illustrations:

(a) A Hindu makes a promissory note bearing a Native date only, and payable four months after date. The period of limitation applicable to a suit on the note runs from the expiration of four months after date computed according to the Gregorian calendar. 
 
(b) A Hindu makes a bond, bearing a Native date only, for the repayment of money within one year. The period of limitation applicable to a suit on the bond runs from the expiration of one year after date computed according to the Gregorian Calendar.
৮২.
তামাদি আইনের কত ধারায় 'মোকদ্দমা করিবার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল'- এটি আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ১৯ ধারায়
  3. ১৮ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৭ ধারার বিধান মামলা করার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল:-
- কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

-এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।
---------------------
⇒ Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.ঃ

(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
৮৩.
তামাদি আইনের ধারা ১৪ প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত কী?
  1. মামলাটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে
  2. মামলাটি সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে হবে
  3. আদালতের এখতিয়ার না থাকতে হবে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪ অনুযায়ী, যদি একজন বাদী বা আবেদনকারী ভুলবশত এমন একটি আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে মামলা করেন—
যে আদালতের এখতিয়ার নেই বা অনুরূপ কোনো কারণে সেটি মামলাটি গ্রহণ করতে অক্ষম—
তাহলে সেই সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ যাবে।

তবে, এই ধারা প্রযোজ্য হতে হলে নিম্নলিখিত তিনটি শর্ত পূরণ হতে হবে:
১. মামলাটি একই কারণে (same cause of action) প্রতিষ্ঠিত হতে হবে – অর্থাৎ, মূল দাবি বা ঘটনা এক থাকতে হবে।
২. মামলাটি সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে হবে (good faith) – মানে, প্রতারণা বা চাতুরীর উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রকৃতভাবে বিচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে মামলা করা হতে হবে।
৩. আদালতের এখতিয়ার না থাকতে হবে বা অনুরূপ কোনো কারণ থাকতে হবে (defect of jurisdiction or other cause of like nature) – আদালত যদি এখতিয়ার না-রাখে, তাহলে সেই কারণে মামলা গ্রহণ না করতে পারলে ধারা ১৪ কার্যকর হবে।

তাই ধারা ১৪ প্রযোজ্য হওয়ার জন্য উপরোক্ত সবকটি শর্ত পূরণ করতে হয়, এজন্য সঠিক উত্তর হলো: ঘ) উপরের সবকটি।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে কার্যক্রমের সময় বাদ দেওয়া:
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, বাদী যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে অন্য একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সেই আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।
(২) কোনো আবেদনটির জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, আবেদনকারী যদি একই পক্ষের বিরুদ্ধে একই ক্ষতিপূরণের জন্য অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি সৎ উদ্দেশ্যে এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
৮৪.
'Exclusion Of Time In legal Proceedings' সম্পর্কিত বিধান The Limitation Act, 1908 এর কত ধারায় রয়েছে?
  1. ১০ ধারায়
  2. ১২ ধারায়
  3. ১৪ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান- আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে(Exclusion of time in legal proceedings)-
(১) কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই দিন বাদ দিতে হবে।

(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যে রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হবে, তা যেদিন ঘোষণা করা হয়েছে, সেইদিন এবং যে ডিক্রি, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যেই সময় আবশ্যক, তা বাদ দিতে হবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল পেতে যে সময় লাগে, তাও বাদ দিতে হবে।

(৪) কোনো রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, রোয়েদাদের নকল পেতে যে সময় লাগে, তা বাদ দিতে হবে।
৮৫.
Z-নাবালক থাকাবস্থায় তার মামলা করার অধিকার জন্মে। গণনা শুরু হবে যখন-
  1. Z-এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  2. Z-নাবালক থাকবে
  3. Z-এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  4. উপরের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
♦ আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability)- নাবালকত্ব, পাগল বা উম্মাদ অবস্থা অথবা নিবুদ্ধিতার কারণে মামলা দায়ের করতে অসমর্থ হওয়াকে আইনগত অক্ষমতা বা বৈধ অপারগতা (legal disability) বলে। কোন মামলা বা প্রসিডিংস দায়ের করার অধিকারী ব্যক্তি অথবা ডিক্রিজারির দরখাস্ত পেশ করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত পেশ করার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ যেদিন হতে গণনা শুরু হবে সেদিন নাবালক, পাগল বা উম্মাদ থাকেন তাহলে তিনি তার নাবালকত্ব, পাগলামি বা উম্মত্ততা শেষ হওয়ার পর ঐ একই মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত দায়ের বা পেশ করতে পারবেন।

♦ মামলা করার কারণ সৃষ্টির সময় (cause of action) মামলা করার অধিকারী ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা করতে অপারগ হলে উক্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬-৯ ধারা কার্যকর হবে। কোন ব্যক্তি যতদিন নাবালক, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধ/নির্বোধ থাকে ততদিন তার তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। অর্থাৎ নাবালকত্ব, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ শুরু হবে। অন্যভাবে বলা যায়, আইনগত সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা গণনা করা হয় না অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আইনগতভবে সক্ষম হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane); এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot)।
আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয় । 
কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয় । 

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপরাগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হবে।
৮৬.
Where once _____ has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it.
  1. suit
  2. case
  3. time
  4. proceeding
ব্যাখ্যা
Section 9: Continuous running of time

Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

ধারা ৯- সময়ের অবিরাম চলন
তামাদির সময় একবার চলতে শুরু করলে কোন অক্ষমতা একে থামাতে পারে না। তবে কোন পাওনাদারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কোন দেনাদারের উপর ন্যস্ত থাকলে ততদিন উক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
৮৭.
আপীল বা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ গণনায় কোন সময় বাদ দিতে হবে?
  1. মামলা দায়েরের দিন
  2. শুধু রায় ঘোষণার দিন
  3. শুধু নকল গ্রহণের সময়
  4. রায় ঘোষণার দিন এবং নকল গ্রহণের সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৮৮.
সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভুক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের কোন কোন ধারা প্রযোজ্য হবে না?
  1. ২০ ও ২১ ধারা
  2. ২২ ও ২৩ ধারা
  3. ২৪ ও ২৫ ধারা
  4. ২৬ ও ২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-
⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে;
⇒ বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা;
⇒ বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে;
⇒ সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভুক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

Section 29- Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and 
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৮৯.
তামাদি আইনের প্রথম বিভাগে কোন বিষয়ের তামাদির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. আপীল দায়ের
  2. দরখাস্ত দায়ের
  3. মোকদ্দমা দায়ের
  4. রিভিশন দায়ের
ব্যাখ্যা

• তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।

৯০.
তামাদি আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী, কোন ধারা বা ধারাগুলি অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নয়?
  1. ৬ ধারা
  2. ৭ ধারা
  3. ৬ এবং ৭ ধারা
  4. ৯ এবং ১০ ধারা
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৮ ধারায় বিশেষ ব্যতিক্রম-

৬ অথবা ৭ ধারার কোনো কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোনো কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

Section 8- Special exceptions:
Nothing in section 6 or in section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption, or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made.
৯১.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুসারে, ঋণের সুদ পরিশোধ করা হলে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে নতুন করে শুরু হবে?
  1. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. ঋণ নেওয়ার দিন থেকে
  3. সুদ পরিশোধের দিন থেকে
  4. ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রমের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন দায়ের (ঋণের) সুদ বা আংশিক অর্থ প্রদান করা হয়, তবে সেই অর্থ পরিশোধের তারিখ থেকে তামাদি মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হবে।
- অর্থাৎ সুদের অর্থ পরিশোধের দিন থেকেই তামাদি মেয়াদ পুনরায় শুরু হয় — এইটাই ২০ ধারার মূল কথা। তাই সঠিক উত্তর: গ) সুদ পরিশোধের দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করার ফলে তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ পুনরায় শুরু হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য লিখিত স্বীকৃতি বা সাক্ষর থাকা উচিত, যাতে পরিশোধের প্রমাণ থাকে।
এটি ঋণগ্রহীতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারেন।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৯২.
ভুলের কারণে প্রতিকার লাভের মামলার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৯৬ এর বিধান ভুলের কারণে প্রতিকার লাভের মামলার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।

- প্রতারণা বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের কারণে লিখিত দলিল বা চুক্তি সত্যিকারভাবে পক্ষগণের উদ্দেশ (intention) প্রকাশ না করলে, প্রকৃত উদ্দেশ্য দলিলে সন্নিবেশ করার জন্য দলিল সংশোধন করা যায়। দলিল সংশোধনের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর (‘তামাদি আইন, ১৯০৮' অনুচ্ছেদ ৯৫ ও ৯৬)।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
- দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। (Discretionary Power)
- চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
৯৩.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৮১ অনুযায়ী, তামাদি সময়সীমা কখন থেকে গণনা করা হবে?
  1. আবেদন গ্রহণের দিন থেকে
  2. আবেদনকারীর জ্ঞাত হওয়ার দিন থেকে
  3. মামলার রায় ঘোষণার দিন থেকে
  4. অধিকার উদ্ভবের সময় থেকে
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮১-
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় কোন বিধান নাই সেই সকল দরখাস্ত বা যে সকল দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ এই তফসিলে উল্লেখ নেই, সেই সকল দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ, যখন থেকে অধিকার উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে- ৩ বছর।

৯৪.
‘A’ একজন প্রতিনিধি হিসেবে ‘B’-এর জন্য কাজ করে। ‘A’ অবহেলার কারণে ‘B’-এর সম্পত্তির ক্ষতি করে। ‘B’ এই অবহেলার বিষয়টি ১ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে জানতে পারে। তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৯০ অনুসারে, ‘B’ মামলা দায়ের করতে পারে কত তারিখ পর্যন্ত?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২৪
  2. ১ জানুয়ারি, ২০২৫
  3. ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  4. ১ জানুয়ারি, ২০২৮
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৯০ অনুসারে, মালিক কর্তৃক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অবহেলা বা অসদাচরণের মামলার সময়সীমা হলো ৩ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় যখন বাদী অবহেলা বা অসদাচরণের বিষয়টি জানতে পারে। প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘B’ অবহেলার বিষয়টি ১ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে জানতে পারে। সুতরাং, ৩ বছরের সময়সীমা গণনা করে, ‘B’ মামলা দায়ের করতে পারে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত।

 

৯৫.
তামাদি আইনের কোন ধারা বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধারা ১১
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১১ বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর মামলার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারা অনুযায়ী: ধারা ১১(১): বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলা, যদি তা বিদেশে অনুষ্ঠিত কোনো চুক্তির উপর ভিত্তি করে হয়, তবে তামাদি আইন, ১৯০৮-এর নিয়ম অনুসারে তামাদি মেয়াদ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, বিদেশি চুক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।
ধারা ১১(২): কোনো বিদেশি তামাদি নিয়ম (foreign rule of limitation) বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলায় প্রতিরক্ষা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না সেই নিয়ম চুক্তিটিকে বিলুপ্ত করে দেয় এবং উভয় পক্ষ সেই বিদেশি দেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে বসবাস করে থাকে।

অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ১১ স্পষ্টভাবে বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর মামলার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এটি নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশে দায়েরকৃত এই ধরনের মামলায় তামাদি আইন, ১৯০৮-এর বিধান প্রযোজ্য হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লিখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।
---------
⇒The Limitation Act, 1908: Section 11: Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.

৯৬.
অবিরাম চুক্তির ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ অপরিবর্তিত থাকে
  2. চুক্তিভঙ্গের পর তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকে
  3. চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হতে থাকে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করাঃ
 ♦যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
 ♦এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
৯৭.
“Good faith”: nothing shall be deemed to be done in good faith which is not done with due care and attention - এই সংজ্ঞাটি তামাদি আইনের কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ২(৩) ধারায়
  2. ২(৪) ধারায়
  3. ২(৬) ধারায়
  4. ২(৭) ধারায়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২(৭) ধারায় Good faith এর বিধান রয়েছে।

ধারা ২(৭)-
‘সরল বিশ্বাস' অর্থে যথার্থ যত্ন কিংবা সাবধানতা ও মনোযোগের সহিত করা হয়নি-এমন কোন কিছুই সরল বিশ্বাসে করা হয়েছে বলে পরিগণিত হবে না।

Section 2(7)-
“good faith”: nothing shall be deemed to be done in good faith which is not done with due care and attention.
৯৮.
'ক' একটি জমির উপরিভাগের এবং 'খ' ভূ-গর্ভের মালিক। 'খ' উপরিভাগের তাৎক্ষণিক কোন ক্ষতি না করে ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু পরে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এই ক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে-
  1. জমি ধসে পড়ার সময় থেকে
  2. 'ক' যে দিন মামলা দায়ের করে সে দিন থেকে
  3. 'খ' যেদিন মামলা দায়েরের কথা জানবে সেদিন থেকে
  4. ভূ-গর্ভ খনন করে কয়লা উত্তোলন করার সময় থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ এই ক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে জমি ধসে পড়ার কারণে মামলা করলে তামাদির মেয়াদ গণনা জমি ধসে পড়ার সময় থেকে শুরু হবে।

⇒  তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে, যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুণ ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
------------------------ 
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 24: Suit for compensation for act not actionable without special damage-
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results. 
 
Illustration-
A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.
৯৯.
তামাদি আইনের কত ধারায় ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা যায়?
  1. ২২ ধারায়
  2. ২৪ ধারায়
  3. ২৫ ধারায়
  4. ২৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ২৪: বিশেষ ক্ষতির কারণ না হলে যে কাজের জন্য মামলা করা যায় না, তাহার জন্য ক্ষতিপূরণের [compensation] মামলা

যখন কোন কাজ দ্বারা তাৎক্ষনিক কোন ক্ষতি হয় না তবে পরবর্তীতে কোন ক্ষতি হয়, তখন ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ শুরু হবে।

ব্যাখ্যা: যে কাজের দ্বারা কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হলে কোন মামলার কারণ উদ্ভব হয় না, সে রকম ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয় তখন থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

Section 24- Suit for compensation for act not actionable without special damage
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results. 
 
Illustration 
A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.
১০০.
মৃত বাদী অথবা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার তামাদি সময় গণনা শুরু হয় কখন?
  1.  ডিক্রি ঘোষণার দিন থেকে
  2. মৃত বাদী বা আপীলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে
  3. নতুন পক্ষের আবেদনের দিন থেকে
  4. আদালতের নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

মৃত বাদী অথবা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার তামাদি সময় গণনা শুরু হয়- মৃত বাদী আপীলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে।

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৬:
দেওয়ানি কার্যবিধির (Code of Civil Procedure) মৃত বাদী অথবা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার
করার জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন আবেদন করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন। এমন সময় গণনার শুরু হয় যেদিন বিবাদী বা আপিলকারী মারা যান, সেদিন থেকে।
---------------
The Limitation Act 1908, Article 176: Under the same Code to have the legal representative of a deceased plaintiff or of a deceased appellant made a party the period of limitation is 90 days. The period begins from the date of the death of the deceased plaintiff or appellant.