• 'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাস।
-----------------------
• নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) থাকে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে প্রকাশ পায়।
- এটি সাধারণত অবিমূর্ত বা অদৃশ্য বস্তু, ভাব, গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- নঞ তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম:
- পূর্বপদ = না-বাচক অব্যয়;
- পরপদ = বিশেষ্য বা বিশেষণ;
- অর্থ প্রধান = পরপদ;
- বোঝানো বস্তু = অবিমূর্ত, যেমন: সত্য, মিথ্যা, বিশ্বাস, ক্ষত, খ্যাত, মঞ্জুর, সুখ ইত্যাদি
- উদাহরণসমূহ:
- অবিশ্বাস → নয় বিশ্বাস,
- অক্ষত → নয় ক্ষত,
- নাতিদীর্ঘ → নয় অতি দীর্ঘ,
- অনিষ্ট → ন ইষ্ট,
- অসময় → ন সময়,
- অনুর্বর → ন উর্বর,
- অসহযোগ → ন সহযোগ,
- অকাল → ন কাল,
- অসুর → ন সুর,
- বেসরকারি → ন সরকারি,
- নামঞ্জুর → নয় মঞ্জুর,
- গরমিল → নাই মিল,
- অনাচার → ন আচার,
- নাতিশীতোষ্ণ → ন অতি শীতোষ্ণ,
- অনশন → ন অশন,
- অনাবশ্যক → নয় আবশ্যক।
-------------------------
অন্যদিকে,
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়;
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।