বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তৎপুরুষ সমাস

মোট প্রশ্ন৫৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তৎপুরুষ সমাস

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৫৭২

২০১.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) জ্ঞানমানব
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) শতাব্দী
  4. ঘ) মন্ত্রমুগ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন্ত্রমুগ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন্ত্রমুগ্ধ
ব্যাখ্যা
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
গাছে পাকা = গাছপাকা,
অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
ভোজনে পটু = ভোজনপটু,
পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
দানে বীর = দানবীর,
তেমনি,
মন্ত্রে মুগ্ধ = মন্ত্রমুগ্ধ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
কোনটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস?
  1. ইন্দ্রজিৎ
  2. যাদুকর
  3. দিবানিদ্রা
  4. স্থলচর
সঠিক উত্তর:
দিবানিদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবানিদ্রা
ব্যাখ্যা
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- ভোজনে পটু = ভোজনপটু,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
- দানে বীর = দানবীর। 

অন্যদিকে, 
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অর্ধটাকা
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) অকাতর
  4. ঘ) মনোরথ
সঠিক উত্তর:
খ) সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।

সোনার-তরী = সোনার তরী, ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম এগুলো অলুক তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৪.
'জাদুকর' কোন সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০৫.
‘মনমরা’ শব্দটি কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
- ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
- দানে বীর = দানবীর,
- মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস:মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'বিয়েপাগলা' চতুর্থী তৎপুরুষ এর উদাহরণ।

যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্বপদে বিদ্যমান দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন - কলাকে বেচা = কলাবেচা।

বিভক্তি, বিভক্তি লোপ, বিভক্তি-আলোপ ও প্রকৃতি অনুসারে তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার:

- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
- চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
- পঞ্চমী  তৎপুরুষ সমাস
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
- সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
- নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
- উপপদ  তৎপুরুষ সমাস
 -অলুক  তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি অর্থ্যাৎ 'কে রে' প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- অন্নের জন্য চিন্তা = অন্নচিন্তা,
- মুক্তির জন্য যুদ্ধ = মুক্তিযুদ্ধ।
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগলা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
২০৭.
পূর্বপদে (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে কোন তৎপুরুষ সমাস বলে?
  1. পঞ্চমী 
  2. দ্বিতীয়া
  3. তৃতীয়া
  4. চতুর্থী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

 অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০৮.
'মধুমাখা' - কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ৷

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
- যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, 
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০৯.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অসীম
  2. খ) তেলেভাজা
  3. গ) মুখচন্দ্র
  4. ঘ) ঘর-বাড়ি
সঠিক উত্তর:
খ) তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
'তেলেভাজা'- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৎপুরুষ সমাস
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ
• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন –
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২১০.
'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস
  1. নঞ তৎপুরুষ সমাস  
  2. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. নঞ বহুব্রীহি সমাস
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ সমাস  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ সমাস  
ব্যাখ্যা

• 'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাস। 
-----------------------
• নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) থাকে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে প্রকাশ পায়।
- এটি সাধারণত অবিমূর্ত বা অদৃশ্য বস্তু, ভাব, গুণ বা ধর্ম বোঝায়।

- নঞ তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম:
- পূর্বপদ = না-বাচক অব্যয়;
- পরপদ = বিশেষ্য বা বিশেষণ;
- অর্থ প্রধান = পরপদ;
- বোঝানো বস্তু = অবিমূর্ত, যেমন: সত্য, মিথ্যা, বিশ্বাস, ক্ষত, খ্যাত, মঞ্জুর, সুখ ইত্যাদি

- উদাহরণসমূহ:
- অবিশ্বাস → নয় বিশ্বাস,
- অক্ষত → নয় ক্ষত,
- নাতিদীর্ঘ → নয় অতি দীর্ঘ,
- অনিষ্ট → ন ইষ্ট,
- অসময় → ন সময়,
- অনুর্বর → ন উর্বর,
- অসহযোগ → ন সহযোগ,
- অকাল → ন কাল,
- অসুর → ন সুর,
- বেসরকারি → ন সরকারি,
- নামঞ্জুর → নয় মঞ্জুর,
- গরমিল → নাই মিল,
- অনাচার → ন আচার,
- নাতিশীতোষ্ণ → ন অতি শীতোষ্ণ,
- অনশন → ন অশন,
- অনাবশ্যক → নয় আবশ্যক।
-------------------------
অন্যদিকে,

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।

• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে  ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,

 উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

২১১.
‘অকালপক্ব’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বুঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে সপ্তমী বিভক্তি লোপ পায়। ভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অকালপক্ব, কৃষিপ্রধান, ঘরপোড়া, গালভরা ইত্যাদি হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২১২.
সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয় কোনটি? 
  1. মৃগশিশু
  2. জলমগ্ন 
  3. উপলখণ্ড
  4. জীবনসঞ্চার 
সঠিক উত্তর:
জলমগ্ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলমগ্ন 
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয়- জলমগ্ন।  
----------------------- 
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস:
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (য, এর) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রকাশ পায়।
- এটি মূলত সম্বন্ধ পদ তৈরি করে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে যৌক্তিক বা সম্পর্কসূচক অর্থ থাকে।

- উদাহরণস্বরূপ:
চা-বাগান = চায়ের বাগান,
রাজহংস = হংসের রাজা,
মৃগশিশু = মৃগের শিশু, 
উপলখণ্ড = উপলের খণ্ড, 
জীবনসঞ্চার = জীবনের সঞ্চার, 
কবিগুরু = কবিদের গুরু, 
গৃহকর্ত্রী = গৃহের কর্ত্রী, 
মার্তণ্ডপ্রায় = মার্তণ্ডের প্রায়, 
পুষ্পসৌরভ = পুষ্পের সৌরভ, 
পূর্বাহ্ণ = অহ্নের পূর্বভাগ, 
বনস্পতি = বনের পতি, 
গণতন্ত্র = জনগণের তন্ত্র, 
রাজদণ্ড = রাজের দণ্ড, 
রাজপথ = পথের রাজা, 
পুষ্পাঞ্জলি = পুষ্পের অঞ্জলি, 
পৌরসভা = পৌরদের সভা।
-----------------------
অন্যদিকে,
জলমগ্ন (জলে মগ্ন) সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস। 

- সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (যেমন – এ, য়, তে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্বপদকে “কোথায়, কখন, কীসে দ্বারা” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে তাই সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 
- উদাহরণস্বরূপ:
- গাছপাকা = গাছে পাকা,
- মাথাব্যথা = মাথায় ব্যথা,
- বনভোজন = বনে ভোজন,
- রথারোহণ = রথে আহোরণ,
- তমাসাচ্ছন্ন = তমসায় আচ্ছন্ন,
- সলিলসমাধি = সলিলে সমাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২১৩.
‘ঋণমুক্ত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৪.
(কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপ পেয়ে কোন সমাস হয়?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- 
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৫.
‘চিনির বলদ’ কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৬.
‘দলছাড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ৩য়া তৎপুরুষ
  2. ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. ৫মী তৎপুরুষ
  4. ৭মী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
৫মী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া,
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ,
- দল থেকে ছাড়া = দলছাড়া,
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৭.
নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) পকেটমার
  2. খ) চাবাগান
  3. গ) বেহায়া
  4. ঘ) ভোজন পটু
সঠিক উত্তর:
গ) বেহায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেহায়া
ব্যাখ্যা
না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাঁকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন:
নয় সুখ = অসুখ
নয় উচিত = অনুচিত 
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস 
নেই মিল = অমিল 
নেই হায়া = বেহায়া ইত্যাদি। 

পকেট মারে যে = পকেটমার = উপপদ তৎপুরুষ সমাস। 
চায়ের বাগান = চাবাগান = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
ভোজনে পটু = ভোজন পটু = সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৮.
'রোগমুক্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি 
  3. তৎপুরুষ
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১৯.
'জলদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২২০.
‘অঘাট’ কোন সমাস উদাহরণ ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার।না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূবে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞতৎপুরুষ সমাস বলে। ন ঘাট = অঘাট নঞ তৎপুরুষ সমাস। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২২১.
'স্কুলপালানো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
স্কুলপালানো = স্কুল হতে পালানো পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ৷
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - খাঁচাছাড়া, বিলাতফেরত, জেলমুক্ত, ঋণমুক্ত, পরাণপ্রিয় ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
২২২.
নিচের কোনটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. সেচনকলস
  2. লোকভয়
  3. পথভ্রষ্ট
  4. ভদ্রেতর
সঠিক উত্তর:
সেচনকলস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেচনকলস
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়- সেচনকলস। 
------------------------------- 
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পঞ্চমী তৎপুরুষ বা অপাদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (যেমন – হতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসে পূর্বপদ “কোথা থেকে, কী থেকে, কার থেকে” ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে এবং পরপদ মূল অর্থ বহন করে।
- সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, ভ্রষ্ট বা পালানো বোঝানো হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।

- উদাহরণসমূহ:
লোকভয় = লোক হতে ভয়, 
পথভ্রষ্ট = পথ হতে ভ্রষ্ট, 
ভদ্রেতর = ভদ্র হতে ইতর, 
মেঘমুক্ত = মেঘ হতে মুক্ত, 
জেলমুক্ত = জেল হতে মুক্ত, 
ঝণমুক্ত = ঝণ হতে মুক্ত, 
সত্যভ্রষ্ট = সত্য থেকে ভ্রষ্ট, 
রোগমুক্ত = রোগ হতে মুক্ত, 
দলছুট = দল থেকে ছুট, 
বৃক্ষচ্যুত = বৃক্ষ হতে চ্যুত,
লক্ষ্যচ্যুত = লক্ষ্য হতে চ্যুত। 

- টেকনিক:
- পরপদে ‘ভ্রষ্ট’, ‘মুক্ত’, ‘চ্যুত’, ‘ভয়’, ‘ছুট’ বা সমজাতীয় শব্দ থাকলে তা পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- সেচনকলস- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস। 

- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস:
- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (যেমন – কে, জন্য, নিমিত্ত) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এ ধরনের সমাসে সমস্তপদ দ্বারা পরপদ মূলত পূর্বপদের জন্য বা উদ্দেশ্যে বোঝায়। 

- উদাহরণসমূহ:
সেচনকলস = সেচনের নিমিত্তে কলস,
রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর,
বসতবাটি = বসতের নিমিত্তে বাটি,
তপোবন = তপের নিমিত্তে বন,
ডাকমাশুল = ডাকের নিমিত্ত মাশুল,
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি,
পাঠাগার = পাঠের জন্য আগার,
দেবভক্ত = দেবকে ভক্তি,
ডাকঘর = ডাকের নিমিত্ত ঘর,
মুক্তিযুদ্ধ = মুক্তির জন্য যুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২২৩.
কোন শব্দটি তৎপুরুষ শব্দ?
  1. ক) কালি-কলম
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) দশানন
  4. ঘ) মাতাপিতা
সঠিক উত্তর:
খ) মধুমাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধুমাখা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসঃ
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা,
রব(শব্দ) দ্বারা আহুত(ডাকা হয়েছে এমন) =রবাহুত,
রক্ত দ্বারা অক্ত(মাখানো)=রক্তাক্ত।

ক) উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা-
এক দ্বারা উন = একোন,
বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

খ) উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা- স্বর্ণ দ্বারা মণ্ডিত = স্বর্ণমণ্ডিত। এরূপ-হীরকখচিত, চন্দনচর্চিত, রত্নশোভিত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৪.
‘অকাতর’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. নঞ্ তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অব্যয়ীভাব
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় উক্ত = অনুক্ত,
- নয় কাতর = অকাতর,
- নয় বুঝ = অবুঝ,
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২২৫.
'হংসডিম্ব' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. হংসীর ডিম
  2. হাঁসের ডিম
  3. হাঁস ও ডিম
  4. হঁংস হতে যে ডিম
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
হংসীর ডিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হংসীর ডিম
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
মৃগীর শিশু= মৃগশিশু,
ছাগীর দুগ্ধ= ছাগদুগ্ধ,
হংসীর ডিম্ব= হংসডিম্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৬.
'ইত্যাদি' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ইতি হতে আদি = ইত্যাদি; এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো।
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত।
- স্নাতক থেকে উত্তর = স্নাতকোত্তর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২২৭.
‘ডাকঘর’ কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ডাকের নিমিত্তে ঘর = ডাকঘর৷
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি৷
বিয়ের জন্য পাগল - বিয়েপাগল,
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি,
বিদ্যার জন্য আলয় - বিদ্যালয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২২৮.
‘চিনিপাতা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৯.
'রাজপুত্র' কোন সমাস?
  1. ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পায়, এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন, রাজার পুত্র- রাজপুত্র।
২৩০.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ক) এগারো
  2. খ) বারো
  3. গ) নয়
  4. ঘ) তেরো
সঠিক উত্তর:
গ) নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নয়
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকারের হয়ে থাকে। 

- যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার। যথা:
১) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
২) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
৩) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস,
৪) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস,
৫) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস,
৬) সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস,
৭) নঞ্ তৎপুরুষ সমাস,
৮) উপপদ তৎপুরুষ সমাস এবং
৯) অলুক তৎপুরুষ সমাস।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস : না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৯. অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
২৩১.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়-
  1. ক) জলচর
  2. খ) পঙ্কজ
  3. গ) অকেশা
  4. ঘ) জলদ
সঠিক উত্তর:
গ) অকেশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অকেশা
ব্যাখ্যা

• যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
• কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমনঃ
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।
• অকেশা নঞ তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩২.
"বিদ্যাহীন" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. দ্বিতীয়া
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন ইত্যাদি।

উতস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৩.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. ৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে।

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
- এরূপ-ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মালগুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩৪.
' চাবাগান' শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২৩৫.
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. গরুরগাড়ি
  2. রাজপথ
  3. তেলেভাজা
  4. কানেখাটো
সঠিক উত্তর:
রাজপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজপথ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো, মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, ধানের খেত = ধানখেত, পথের রাজা = রাজপথ, গোলায় ভরা = গোলাভরা, গাছে পাকা = গাছপাকা, অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু ।

অন্যদিকে,
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
 যেমন – গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

• যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। 
যেমন - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৬.
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য- 
  1. পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ/য়/তে) থাকে যা লোপ পায়।
  2. ব্যাসবাক্যে 'এ', 'য়', 'তে' বিভক্তি ব্যবহৃত হয়।
  3. কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ/য়/তে) থাকে যা লোপ পায়।
- ব্যাসবাক্যে 'এ', 'য়', 'তে' বিভক্তি ব্যবহৃত হয়।
- কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
--------------

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৭.
‘তেলেভাজা’ কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৩৮.
'জ্ঞানশূন্য' কোন সমাস?
  1. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক এসব তৃতীয়া বিভক্তি।
যেমন: মন দ্বারা গড়া = মনগড়া; শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ইত্যাদি।

উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা-
- এক যারা উন= একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২৩৯.
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস নয় কোনটি?
  1. দানবীর
  2. যাদুকর
  3. ভোজনপটু
  4. মনমরা
সঠিক উত্তর:
যাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাদুকর
ব্যাখ্যা
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস নয় - যাদুকর। 

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:

যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজনপটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

-------------------
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
• পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪০.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কলে ছাটা
  2. খ) মাথায় ছাতা
  3. গ) হাতে কলমে
  4. ঘ) গায়ে হলুদ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কলে ছাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কলে ছাটা
ব্যাখ্যা

অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে।

- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা, কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা, কলের গান = কলেগান, গরুর গাড়ি = গরুগাড়ি ইত্যাদি।

- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৪১.
'প্রিয়ংবদা' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) রুপক কর্মধারয়
  3. গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে।
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: প্রিয়ম্‌ বলে যে (নারী) = প্রিয়ংবদা।
জলে চরে যা= জলচর, জল দেয় যা= জলদ, পঙ্কে জন্মে যা= পঙ্কজ ইত্যাদি। এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৪২.
'বাস্তুহারা' কোন সমাসভুক্ত?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. নিত্য
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে। যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্ > ধর (ধরা অর্থে)।

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ ধাতু প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন:
- বাস্তু হারিয়েছে যে = বাস্তুহারা; (√বাস্তু + হার্ + আ); 
- খেচর= খ + √চর্ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৪৩.
"ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল" কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী
  2. তৃতীয়া
  3. দ্বিতীয়
  4. পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৪.
'খেয়াঘাট' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৫.
"কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি"- লোপ পেয়ে কোন ধরনের সমাস হয়?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- 
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

----------------------------
অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৬.
‘ধানখেত’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত, ‍
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৭.
‘বিদেশ’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্ বহুব্রীহি
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) নঞ্ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নঞ্ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
‘নঞ্’ শব্দের অর্থ ‘না’। পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) বসে যে তৎপুরুষ হয় তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : 
- অবিশ্বাস = নয় বিশ্বাস
- অনাদর = ন আদর
- অক্ষত = নয় ক্ষত
- অপর্যাপ্ত = নয় পর্যাপ্ত
- নাতিদীর্ঘ = নয় অতি দীর্ঘ
- অনুচিত = ন উচিত

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৪৮.
'অশ্রুতপূর্ব' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. অলুক ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুতপূর্ব' সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
→ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৯.
‘নাতিশীতোষ্ণ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. নঞ তৎপুরুষ
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ নঞ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- নয় অতি শীত বা উষ্ণ = নাতিশীতোষ্ণ;
- নয় এক = অনেক; 
- নয় অতি দীর্ঘ = নাতিদীর্ঘ;
- নেই বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি;
- নয় সুখ = অসুখ;
- নয় উচিত = অনুচিত;
- নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস;
- নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

এরূপ- অলৌকিক, অসাধ্য ইত্যদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫০.
"দিবানিদ্রা" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা
এরূপ বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫১.
'পিতৃধন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২৫২.
'জলচর' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঞ্চমী
  2. ষষ্ঠী
  3. সপ্তমী
  4. উপপদ 
সঠিক উত্তর:
উপপদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ 
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৫৩.
নিচের কোনটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস?
  1. অযত্নচয়িত
  2. ক্ষমতাসীন
  3. ক্ষীণজীবী
  4. গৃহস্থ
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতাসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতাসীন
ব্যাখ্যা
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু;
- ঊর্ধ্বে আরোহণ = ঊর্ধ্বারোহণ;
- কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ = কবিশ্রেষ্ঠ;
- কল্পনাতে বিলাস = কল্পনাবিলাস;
- কোটরে স্থিত = কোটরস্থিত; 
- ক্ষমতায় আসীন = ক্ষমতাসীন;
- ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত = ক্ষমতাধিষ্ঠিত। 

অন্যদিকে,
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার;
- অযত্নে চয়িত যা = অযত্নচয়িত; 
- কল্পনায় বিলাস করে যে = কল্পনাবিলাসী;
- ক্ষীণভাবে বাঁচে যে = ক্ষীণজীবী;
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৪.
‘যুদ্ধবিরতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. তৃতীয় তৎপুরুষ
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- যুদ্ধ থেকে বিরতি = যুদ্ধবিরতি।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
২৫৫.
'জলদ' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫৬.
‘অধর্ম’ শব্দের সমস্যমান পদ কোনটি?
  1. নয় ধর্ম
  2. র্ধম নেই যার
  3. ধর্মহীন যে
  4. ধর্মের অভাব
সঠিক উত্তর:
নয় ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয় ধর্ম
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর= অকাতর।
- ন কাল = অকাল বা আকাল।
- নয় ধর্ম = অধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
২৫৭.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. গরুর গাড়ি
  2. ছাত্রাবাস
  3. উপাচার্য
  4. জাদুকর
সঠিক উত্তর:
জাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাদুকর
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অলুক তৎপুরুষ - গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - ছাত্রদের জন্য আবাস = ছাত্রাবাস।
অব্যয়ীভাব সমাস - আচার্যের সমীপে = উপাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৫৮.
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মনগড়া
  2. খ) দেশসেবা
  3. গ) আরামকেদারা
  4. ঘ) আগাগােড়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগাগােড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগাগােড়া
ব্যাখ্যা
আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।
কোনাে কোনাে সময় পঞ্চমী তৎপুরুষের ব্যাসবাক্য এর চেয়ে ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যেমন- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয় ইত্যাদি

- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া - তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
-  দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৯.
তৎপুরুষ সমাসের কোন পদ প্রধান থাকে ?
  1. ক) পূর্বপদ
  2. খ) পরপদ
  3. গ) উভয় পদ
  4. ঘ) অন্য পদ
সঠিক উত্তর:
খ) পরপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরপদ
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্বপদের কারকের বিভক্তি চিহ্ন বা বিভক্তি স্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থই প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে ।
- যেমন: রথকে দেখা = রথ দেখা
- দ্বন্দ্ব সমাসের উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]

২৬০.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) হাতঘড়ি
  2. খ) গ্রামছাড়া
  3. গ) শশব্যস্ত
  4. ঘ) ঘরজামাই
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রামছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রামছাড়া
ব্যাখ্যা
'গ্রামছাড়া' তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ,
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• অন্যান্য অপশন:
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি (কর্মধারয় সমাস)।
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই (কর্মধারয় সমাস)।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত (উপমান কর্মধারয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬১.
নিচের কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অনাচার
  2. বেতার
  3. অনন্ত
  4. অক্লান্ত
সঠিক উত্তর:
অনাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাচার
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা -
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ - অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন -
ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অক্লান্ত, অনন্ত, বেতার - নঞ্‌ বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬২.
'রাজপুত্র' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৩.
‘শ্রমলব্ধ’ কোন সমাসে উদাহরণ?
  1. ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ ; পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
২৬৪.
"গৃহের কর্তা = গৃহকর্তা" - কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া 
  2. তৃতীয়া 
  3.  ষষ্ঠী 
  4. পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
 ষষ্ঠী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ষষ্ঠী 
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ;
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা;
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ;
• চায়ের বাগান = চাবাগান;
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬৫.
তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আগাগোড়া
  2. খ) লালপেড়ে
  3. গ) জমা-খরচ
  4. ঘ) বিজয়-পতাকা
সঠিক উত্তর:
ক) আগাগোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগাগোড়া
ব্যাখ্যা
• সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

• সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া

অন্যদিকে, 
বিজয়-পতাকা = বিজয় নির্দেশক পতাকা; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
জমা-খরচ = জমা ও খরচ; দ্বন্দ্ব সমাস 
লালপেড়ে = লাল পাড় যে শাড়ির; বহুব্রীহি সমাস। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৬.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তেলেভাজা
  2. ঘর-বাড়ি
  3. অসীম
  4. মুখচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬৭.
'যাদু করে যে =  যাদুকর' এটি কোন সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।

যেমন:
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে =  যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৮.
‘মধ্যাহ্ন’ কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
‘মধ্যাহ্ন’- যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।  

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

• কালের কোনো অংশবোধক শব্দ পরে থাকলে তা পূর্বে বসে
মধ্যাহ্ন এর ব্যাসবাক্য = অহ্নের মধ্য ভাগ; এটি যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৯.
'স্বর্ণকার' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

'স্বর্ণকার' = স্বর্ণের অলংকার নির্মাণ করে যে; উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

 উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
•  এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭০.
নিচের কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ ?
  1. ক) মনবাউল
  2. খ) সিংহাসন
  3. গ) নীলপদ্ম
  4. ঘ) মধুমাখা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধুমাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধুমাখা
ব্যাখ্যা
- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা, রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত, ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা, অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার, জরা দ্বারা জীর্ণ = জরাজীর্ণ, স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য

অন্যদিকে--
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম -কর্মধারয় সমাস।
সিংহাসন= সিংহ চিহ্নিত আসন- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
মন রূপ বাউল = মনবাউল- রূপক কর্মধারয় সমাস।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭১.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঙ্কজ
  2. রেলগাড়ি
  3. বাকপটু
  4. দানবীর
সঠিক উত্তর:
পঙ্কজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঙ্কজ
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
• এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রেলগাড়ি = রেলে চলে যে গাড়ি- কর্মধারয় সমাস।
- বাকপটু = বাকে পটু - ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
- দানে বীর = দানবীর - ৭মী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৭২.
'বামনেতর' কোন সমাস?
  1. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপমান কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বামন থেকে ইতর = বামনেতর।
- যুদ্ধ থেকে বিরতি = যুদ্ধবিরতি।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
- ধর্ম হতে ভীরু = ধর্মভীরু।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
২৭৩.
'রাতকানা' কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) ৭মী তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) ৭মী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭মী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
'রাতে কানা= রাতকানা'- ৭মী তৎপুরুষ সমাস এর উদাহরণ। 

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
'রাতে কানা= রাতকানা'
বনে ভোজন= বনভোজন,
অকালে পক্ব= অকালপক্ব। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৭৪.
'ছাত্রসমাজ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• 'ছাত্রসমাজ' হলো তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- এর ব্যাসবাক্য হলো 'ছাত্রের সমাজ'।
- পূর্বপদের বিভক্তি ('এর') লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় বলে এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

আরও কিছু উদাহরণ:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ;
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা;
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ;
• চায়ের বাগান = চাবাগান;
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এছাড়াও- জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

উৎস: উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭৫.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রভাকর
  2. প্রভাত
  3. দশগজি
  4. কথসর্বস্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• প্রভাকর= প্রভা করে যে; উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:

- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'প্রভাত'- প্র(প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত(আলোকিত); প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
- 'দশগজি'- দশ গজ পরিমাণ যার; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।।
- কথসর্বস্ব- কথা সর্বস্ব যার; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
২৭৬.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গায়ে-হলুদ
  2. খ) হাতেখড়ি
  3. গ) গরুর গাড়ি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) গরুর গাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গরুর গাড়ি
ব্যাখ্যা

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
ঘিয়ে ভাজা, কলে ঘঁটা, কলের গান, গরুর গাড়ি ইত্যাদি।

তবে,
হাতেখড়ি সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় না অর্থাৎ হলুদ বা খড়ি বােঝায় না, অনুষ্ঠান বিশেষকে বােঝায়।
সুতরাং এগুলাে অলুক তৎপুরুষ নয়, অলুক বহুব্রীহি সমাস।
গায়ে হলুদ - মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী।

২৭৭.
’গুরুভক্তি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি  = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,ইত্যাদি।
-------------------------------------
উল্লেখ্য.
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৭৮.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. গোলাভরা
  2. গাছপাকা
  3. তেলেভাজা
  4. ধানক্ষেত
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ সমাস : কিছু কিছু  তৎপুরুষ সমাসে বিভক্তি লােপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন ,
গায়ে পড়া = গায়েপড়া।
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
কলে ছাঁটা = কলে ছাঁট।
কলের গান=  কলেরগান।
গোরুর গাড়ি =গোরুরগাড়ি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৯.
"কে, জন্য, নিমিত্ত" ইত্যাদি কোন তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ= ছাত্রসমাজ।
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস: না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস: যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮০.
‘জন্মান্ধ’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮১.
'বিস্ময়াপন্ন' সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  2. খ) বিস্ময়ে আপন্ন
  3. গ) বিস্ময়কে আপন্ন
  4. ঘ) বিস্ময়ে যে আপন্ন
সঠিক উত্তর:
গ) বিস্ময়কে আপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিস্ময়কে আপন্ন
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা নংঃ ৬৪
২৮২.
"বসতবাড়ি" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী
  2. তৃতীয়া
  3. পঞ্চমী
  4. চতুর্থী
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮৩.
'ধামা ধরে যে = ধামাধরা' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. উপপদ
  3. অলুক
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।

যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে = নীলকর;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- ধামা ধরে যে = ধামাধরা;
- পকেট মারে যে = পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৮৪.
নিচের কোনটি যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. গজনীরাজ
  2. মাতৃসেবা
  3. খেয়াঘাট
  4. বিয়েপাগলা
সঠিক উত্তর:
বিয়েপাগলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা
• বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।

-------------------------------
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৫.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) জনাকীর্ণ
  2. খ) মাল্যদান
  3. গ) সংগীতাসর
  4. ঘ) অশ্বপদ
সঠিক উত্তর:
ক) জনাকীর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জনাকীর্ণ
ব্যাখ্যা
⇒ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মালাকে দান = মাল্যদান দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- সংগীতের জন্য আসর = সংগীতাসর  চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
- অশ্বের পদ = অশ্বপদ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৬.
'কলুর বলদ' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লেখিত ”কলুর বলদ” অলুক তৎপুরুষ সমাস।
অলুক তৎপুরুষ সমাস 
যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
» কুলুর বলদ = কলুর বলদ
» ঘোড়ার ডিম = ঘোড়ার ডিম
» গায়ে পড়া = গায়েপড়া
» সোনার বাংলা = সোনার বাংলা ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
২৮৭.
’বিদ্যাহীন’ কোন সমাস?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  3. ষষ্ঠী  তৎপুরুষ সমাস
  4. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা
মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।

উল্লেখ্য,
- উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
এক দ্বারা উন = একোন,
বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
পাঁচ দ্বারা কম  = পাঁচ কম।

এছাড়াও,
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
গাছে পাকা =  গাছপাকা,
দিবায় নিদ্রা =  দিবানিদ্রা।
এরূপ
বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
খাঁচা থেকে ছাড়া =  খাঁচাছাড়া,
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী  তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
চায়ের বাগান = চাবাগান,
রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৮৮.
'ছেলে-ভুলানো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো, 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- ধানের খেত = ধানখেত,
- পথের রাজা = রাজপথ, 
- গোলায় ভরা = গোলাভরা,
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 
- রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া,
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
- যেমন গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৯.
'মাথায়পাগড়ি' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস। এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯০.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) বাগদত্তা (বাগ দ্বারা দত্তা)
  2. খ) জীবনবীমা (জীবন রক্ষার বীমা)
  3. গ) গমনাগমন (গমন ও আগমন)
  4. ঘ) নদীমাতৃক (নদী মাতা যাৱ
সঠিক উত্তর:
ক) বাগদত্তা (বাগ দ্বারা দত্তা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাগদত্তা (বাগ দ্বারা দত্তা)
ব্যাখ্যা
বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা; তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 
• যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত, প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯১.
‘হরবোলা’ কোন সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমনঃ
জলে চরে যা = জলচর
জল দেয় যে = জলদ
মন হরণ করে যে - মনোহারিণী
তেমনি, মধু আহরণ করে যে = মধুপ
বিভিন্ন বুলি বলে যে = হরবোলা 
এছাড়াও গৃহস্থ, সত্যবাদী, পকেটমার, ছেলেধরা ইত্যাদি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

২৯২.
'দলছুট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদের পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি। লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। হতে, থেকে, চেয়ে- এসব পঞ্চমী বিভক্তির চিহ্ন।
যেমন:
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি,
- দল থেকে ছুট = দলছুট। 

এরকম-
কণ্ঠনিঃসৃত, দুখজাত, বোঁটাখসা, স্বর্গচ্যুত, ঋণমুক্ত, কারামুক্ত, কৃষিজাত, খাঁচাছাড়া, গদিচ্যুত, দলস্থাত, বৃত্তচ্যুত, লক্ষ্যচ্যুত, চাকভাঙা, জেলফেরত, দলছুট, পথভ্রষ্ট, বন্ধনমুক্ত, বিক্রয়লখ, বিদেশাগত, মেঘমুক্ত, শাপমুক্ত, রোগমুক্ত, স্কুলপালানো, স্নেহবঞ্চিত, হাতছাড়া ইত্যাদি।

সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহে, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর', 'চেয়ে' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯৩.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) জলে-স্থলে
  2. খ) হাতে কলমে
  3. গ) গলায়গামছা
  4. ঘ) ঘিয়েভাজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘিয়েভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘিয়েভাজা
ব্যাখ্যা

অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে।

- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-  ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা, কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা, কলের গান = কলেগান, গরুর গাড়ি = গরুগাড়ি ইত্যাদি।

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৯৪.
'বেতনভোগী' কোন সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ
  3. গ) নঞ্ তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন -
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে - জলদ ;
- পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

তেমনিভাবে, বেতন ভোগ করে যে = বেতনভোগী।

উৎসঃ ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
২৯৫.
'ইন্দ্রজিৎ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপমিত কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ।

- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৯৬.
"চিনিপাতা" - কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. কর্মধার‍য় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২৯৭.
'বেসরকারি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. খ) সাধারণ কর্মধারয়
  3. গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'বেসরকারি' - নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমান হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গ ন, নি. বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

- নঞ্ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়। যেমন- নয় কাতর = অকাতর, ন অশন = অনশন, নয় বুঝ = অবুঝ, নয় সরকারি = বেসরকারি প্রভৃতি। তেমনই- নামঞ্জুর, নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক প্রভৃতি ।

পঞ্চমী তৎপুরুষ:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি অর্থাৎ 'হইতে/হতে, থেকে, চেয়ে' প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে । যেমন- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ। তেমনই— স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, রোগমুক্ত, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, নীতিভ্রষ্ট, ধর্মভীরু, দুগ্ধজাত, দলছাড়া, ঋণমুক্ত প্রভৃতি।

অব্যয়ীভাব:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যাতে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন- মরণ পর্যন্ত = আমরণ, জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত ইত্যাদি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
২৯৮.
‘ছাত্রসমাজ’ শব্দটি কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) কর্মধারায়
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯)
২৯৯.
'বাগদত্তা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. অলুক কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্বপদে বিদ্যমান দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- কলাকে বেচা = কলাবেচা।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত। 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত।
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা।
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য।
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন।
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত।
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা।
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০০.
'তপোবন' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'তপোবন' = তপস্যার নিমিত্তে যে বন।  
- এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• তপোবন (বিশেষ্য)- 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- যে বনে মুনি ঋষিগণ তপস্যা করেন। 
- মুনি ঋষিদের আশ্রম। 

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।