বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তৎপুরুষ সমাস

মোট প্রশ্ন৫৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তৎপুরুষ সমাস

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৫৭২

.
‘আত্মহত্যা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে দ্বিতীয় বিভক্তি (কে) লোপ পেয়ে যে তৎপরুষ হয় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন:
রথদেখা = রথকে দেখা,
বীজবোন = বীজকে বোনা। 

দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ :
- শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ
- ভাতরাঁধা = ভাতকে রাঁধা
- ছেলে-ভুলানো = ছেলেকে ভুলানো ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
.
‘কবিগুরু’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- কবিদের গুরু = কবিগুরু।
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'গজনীরাজ' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গজনীরাজ' = গজনীর রাজা- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
-খেয়ার ঘাট খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি নঞ্ তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) অলৌকিক
  2. খ) অবিশ্বাস
  3. গ) অজ্ঞান
  4. ঘ) অকাল
ব্যাখ্যা
ন লৌকিক = অলৌকিক, নয় বিশ্বাস =অবিশ্বাস, ন কাল = অকাল, (নঞ্ তৎপুরুষ সমাস) নেই জ্ঞান যার =অজ্ঞান( নঞ বহুব্রীহি সমাস)। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
.
'প্রাণপ্রিয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কানাকানি
  2. খ) মনমাঝি
  3. গ) গরুরগাড়ি
  4. ঘ) একগুঁয়ে
ব্যাখ্যা
গরুর গাড়ি= 'গরুরগাড়ি'- অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, সেগুলোকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন: তেলে ভাজা= তেলেভাজা। 

তাছাড়া, 
কানাকানি= ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস,
মনমাঝি- রূপক কর্মধারয় সমাস,
একগুঁয়ে = সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস,

ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
- পরস্পর এক জাতীয় ক্রিয়া করা বোঝালে এ সমাস হয়।
- এতে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হতে দেখা যায়। 
যেমন: লাঠালাঠি, দেখাদেখি, হাসাহাসি ইত্যাদি।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: কাজলের ন্যায় কালো= কাজলকালো, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।

সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: কালাে বরণ যার = কালােবরণ; এক গোঁ যার= একগুঁয়ে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
.
"জেলমুক্ত" - কোন তৎপুরুষ সমাস সাধিত?
  1. দ্বিতীয়া 
  2. তৃতীয়া 
  3. পঞ্চমী 
  4. অলুক 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'চিত্রকর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
  5. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- মধু পান করে - মধুপ;
- চিত্র আঁকে যে - চিত্রকর;
- মানুষ খায় যে - মানুষখেকো;
- জল দেয় যে - জলদ;
- নীল চাষ/উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'মানুষখেকো' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

--------------
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- মধু পান করে - মধুপ;
- চিত্র আঁকে যে - চিত্রকর;
- মানুষ খায় যে - মানুষখেকো;
- জল দেয় যে - জলদ; 
- নীল চাষ/উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ?
  1. হাতেপায়ে
  2. তেলেভাজা
  3. কানেখাটো
  4. পথেপ্রবাসে
ব্যাখ্যা
তেলেভাজা অলুক তৎপুরুষ সমাস।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে তৎপুরুষ সমাস হলে তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। 'অলুক' শব্দের অর্থ অ-লোপ, অর্থাৎ লোপ না হওয়া।
যেমন-
- সোনার তরী = সোনার তরী,
- চিনির বলদ = চিনির বলদ,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- খেলার মাঠ = খেলার মাঠ ইত্যাদি অলুক তৎপুরুষ সমাস।

অন্যদিকে, 
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সুস্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অনুক হন্দু বলে।
- যেমন:
কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে,
দুধে ও ভাতে = দুধেতাতে ইত্যাদি।

এরূপ- আদায়-কাঁচকলায়, আগেপিছে, কাগজে-কলমে, ধীরেসুস্থে, ক্ষেতেখামারে, দলেদলে, দুঃখেসুখে, হাতেপায়ে, হাতেনাতে, যাকেতাকে, ঝোপেঝাড়ে, মনেপ্রাণে, জলেডাঙায়, পথেপ্রবাসে, ইত্যাদি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন-
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'রাতকানা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• রাতকানা = রাতে কানা ৭মী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :

পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
'রাতে কানা= রাতকানা'
বনে ভোজন= বনভোজন,
অকালে পক্ব= অকালপক্ব।
 এরূপ বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
‘মৃগশিশু’ শব্দটির ব্যাস বাক্য কোনটি?
  1. মৃগের শিশু
  2. শিশুরূপ মৃগ
  3. মৃগীর শিশু
  4. শিশুর যে মৃগ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. একোন
  2. লাঠালাঠি
  3. বউভাত
  4. অল্পপ্রাণ
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
‘প্রিয়ংবদা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রিয়ম্ বলে যে নারী = প্রিয়ংবদা; উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

- এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।।
১৫.
তৎপুরুষ সমাস সাধিত সমস্তপদ নয় কোনটি?
  1. রাজপথ
  2. রান্নাঘর
  3. তেলেভাজা
  4. লালপেড়ে
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।এই সমাস এপরপদের প্রাধান্য পায়।
যেমন,
-পথের রাজা = রাজপথ।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পুর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঙ্কজ
  2. রেলগাড়ি
  3. বাকপটু
  4. দানবীর
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
• এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রেলগাড়ি = রেলে চলে যে গাড়ি- কর্মধারয় সমাস।
- বাকপটু = বাকে পটু - ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
- দানে বীর = দানবীর - ৭মী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. মাতৃহত্যা
  2. ঊর্ণনাভ
  3. দশানন
  4. মেঘনাদ
ব্যাখ্যা
• মাতাকে হত্যা = মাতৃহত্যা ২য়া তৎপুরুষ সমাস।

• তৎপুরুষ সমাস:
-  সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- জীবনে আনন্দ = জীবনানন্দইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- ঊর্ণনাভ =ঊর্ণ নাভিতে যার। 
- দশানন = 'দশ আনন যাহার। 
- মেঘনাদ = 'মেঘের মত নাদ যার ।
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮.
'দিবানিদ্রা' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ,
- রথে আরোহণ = রথারোহণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৯.
"বিপদাপন্ন" কোন তৎপুরুষ সমাস?
  1. পঞ্চমী
  2. চতুর্থী
  3. তৃতীয়া
  4. দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বিলাতফেরত
  2. খ) দেশসেবা
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) লাঠিখেলা
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত,
- স্নেহ দ্বারা অন্ধ = স্নেহান্ধ 
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা,
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার,
- জরা দ্বারা জীর্ণ = জরাজীর্ণ, প্রভৃতি। 

বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত - পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
‘চায়ের বাগান’ কোন সমাসের ব্যাসবাক্য?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. অব্যয়ীভাব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• 'চায়ের বাগান' = চাবাগান ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - 
চায়ের বাগান = চাবাগান;
রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এছাড়াও, ছাত্রসমাজ , দেশসেবা, দিল্লিশ্বর, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

সুত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
‘বইপড়া’- (বইকে পড়া) কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• বইকে পড়া = বইপড়া, এটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

• পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তির (কে, রে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- দুঃখকে প্রাপ্ত দুঃখপ্রাপ্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
সমাস নির্ণয় করুন - বেআইনি।
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) নঞ তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। 
'বেআইনি' তৎপুরুষ সমাস এর একটি প্রকার নঞ তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভূক্ত। 

নঞ তৎপুরুষ সমাস: নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-
নয় এক = অনেক 
নয় সুখ = অসুখ,
নয় উচিত = অনুচিত,
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস,
নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

এছাড়া সংস্কৃত নঞ অব্যয়ের বাংলা প্রতিরূপ রূপে অ, অন, আনা, গর, বে, বি, ন, না, নি ইত্যাদি এসেছে।
যেমন-
নাই আহার = অনাহার,
নয় জোড় = বিজোড়,
নয় অতি দূর = নাতিদূর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
'দ্রুত গমন করে যে' ব্যাসবাক্যটি কোন তৎপুরুষ সমাস নির্দেশ করে?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
- ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
- মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে = নীলকর;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- ধামা ধরে যে = ধামাধরা;
- পকেট মারে যে = পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৫.
নিচের কোন শব্দটি ব্যাসবাক্য অনুসারে তৃতীয়া ও সপ্তমী উভয় তৎপুরুষ সমাস?
  1. বজ্জাত
  2. আশীবিষ
  3. মনগড়া
  4. দেবদত্ত
ব্যাখ্যা
• 'মনগড়া' শব্দটি ব্যাসবাক্য অনুসারে তৃতীয়া ও সপ্তমী উভয় তৎপুরুষ সমাস হয়। 

• মন দিয়ে গড়া = মনগড়া; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। 
•  মনে গড়া = মনগড়া; সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস

অন্যদিকে, 
• বদ থেকে জাত = বজ্জাত; পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। 
• আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ; ব্যধিকরণ বহুব্রীহি। 
• দেবকে দত্ত = দেবদত্ত; চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ। 
২৬.
‘অসুর’ কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার।না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূবে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। ন সুর = অসুর -নঞ তৎপুরুষ সমাস।এরূপ- অকেজো, অজানা,অবিশ্বাস, অকেশা,অঘাট,অনাদর,নাতিদীর্ঘ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২৭.
‘আধমরা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন কে, রে।
যেমন:
- গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা,
- বইকে পড়া = বই-পড়া ইত্যাদি।

- এ-রকম: আত্মরক্ষা, আত্মহত্যা, কাপড়-কাচা, গুনটানা, জাতিগত, দুঃখপ্রাপ্ত, নারী-নির্যাতন, পদত্যাগ, চুক্তি-সম্পাদন, বৃত্তিপ্রাপ্ত, বুকজুড়ানো, দেশত্যাগ, প্রাণনাশ, ফুলতোলা, বর্ণনাতীত, বিপদাপন্ন, ব্যক্তিগত, হস্তগত, রেখাপাত, মর্মগত, মজ্জাগত ইত্যাদি।

• ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
যেমন:
- চিরকাল ধরে সুখ = চিরসুখ,
- ক্ষণকাল ধরে স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী ইত্যাদি।

- এ-রকম: চিরকুমারী, চিরকৃতজ্ঞ, চিরদুঃখী, চিরবঞ্চিত, চিরবসন্ত, চিরশত্রু, চিরস্থায়ী, চিরস্মরণীয়, দীর্ঘস্থায়ী ইত্যাদি।

• পূর্বপদটি বিশেষণের বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ হলে পরবর্তী কৃদন্ত পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
যেমন:
- অর্ধরূপে সিদ্ধ = অর্ধসিদ্ধ,
- আধভাবে মরা = আধমরা ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকার?
  1. ক) ৯ প্রকার
  2. খ) ৬ প্রকার
  3. গ) ৮ প্রকার
  4. ঘ) ১১ প্রকার
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার।
যথা:
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: দুঃকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ। যেমন: গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ। যেমন: বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ। যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ। যেমন: দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ। যেমন: ন কাতর = অকাতর।
৮. উপপদ তৎপুরুষ। যেমন: জলে চরে যা = জলচর।
৯. অলুক তৎপুরুষ। যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. কলে ছাঁটা 
  2. গোলাভরা
  3. গাছপাকা
  4. গ্রামছাড়া
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন :
গায়ে পড়া = গায়ে পড়া।
ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা 
কলে ছাঁটা = কলে ছাঁটা 
কলের গান=  কলের গান
গরুর গাড়ি =গরুর গাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ, ২০১৯ এবং ২০২১সংস্করণ ]
৩০.
'চিরসুখী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
'চিরকাল ব্যাপীয় সুখী= চিরসুখী'- ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩১.
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্বীয়-এর অধীন
  2. সত্ত্বার অধীন
  3. স্ব-এর অধীন 
  4. স্বত্তের-অধীন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - স্ব-এর অধীন। এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: 
-  পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা: 
- চায়ের বাগান = চাবাগান, 
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র, 
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

৩২.
'গায়েপড়া' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ
- গায়ে পড়া = গায়েপড়া,
- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা,
- কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা,
- কলের গান = কলেগান,
- গরুর গাড়ি = গরুগাড়ি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩.
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি ?
  1. ক্রীতদাস
  2. দেশবিভাগ
  3. উত্তরোত্তর
  4. জয়পতাকা
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- উত্তর থেকে উত্তর = উত্তরোত্তর।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দেশকে বিভাগ = দেশবিভাগ; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
• ক্রীত যে দাস = ক্রীতদাস; কর্মধারয় সমাস।
• জয় সূচক পতাকা = জয়পতাকা; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
‘ছবিঘর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
‘পঙ্কজ’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলে চড়ে যা - জলচর ; জল দেয় যে - জলদ ; পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন : √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে) ; √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন : বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে-সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ : অগ্রজ, আত্মজ, পঙ্কজ; মাছিমারা , ইদুরমারা (কল); ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকার (কুম্ভ করে যে], জলচর, খেচর, নিশাচর, নভশ্চর৷
উৎসঃ ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৩৬.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. খেয়াঘাট
  2. খাঁচাছাড়া
  3. চাবাগান
  4. রাজপুত্র
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ঘনশ্যাম
  2. ছাত্রসমাজ
  3. কালচক্র
  4. নীলপদ্ম
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র, রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- ঘনের (মেঘের) ন্যায় শ্যাম = ঘনশ্যাম; উপমান কর্মধারয় সমাস। 
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮.
'বিদ্যাহীন' - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. যষ্ঠী
  3. পঞ্চমী
  4. চতুর্থী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

• ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৯.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. রাজপথ
  2. রক্তলাল
  3. ঘরজামাই
  4. ঘনশ্যাম
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া,
বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

অন্যদিকে,
রক্তলাল ও ঘনশ্যাম সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
ঘরজামাই মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
'জলদ' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪১.
কোনটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. খাঁচাছাড়া
  2. বিপদাপন্ন
  3. বিলাতফেরত
  4. মনগড়া
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২.
'পিতৃধন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৩.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস?
  1. দানবীর
  2. ভোজন পটু
  3. পকেটমার
  4. অদৃষ্টপূর্ব
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

--------------
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
কোনটি নঞ্ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অশ্রুতপূর্ব
  2. অদৃষ্টপূর্ব
  3. গরহাজির
  4. অমৃতকল্প
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় হাজির = গরহাজির;
- নয় হিসাব = বেহিসাবি;
- নয় কাতর = অকাতর;
- ন অশন = অনশন;
- নয় বুঝ = অবুঝ;
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- পূর্বে অশ্রুত = অশ্রুতপূর্ব; সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব; সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
- অমৃতের কল্প = অমৃতকল্প; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৫.
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে কোন সমাস বলে?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোন বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন - বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার।
দ্বিতীয়াঃ দঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
তৃতীয়াঃ মন ইয়ে গড়া = মনগড়া।
চতুর্থীঃ গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
পঞ্চমীঃ বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
ষষ্ঠীঃ চায়ের বাগান = চাবাগান।
সপ্তমীঃ দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা
নঞঃ ন আচার = অনাচার।
উপপদঃ পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
অলুকঃ গায়ে পড়া = গায়ে পড়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
‘ছেলে-ভুলানাে’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বাকপটু
  2. রাজপুত্র
  3. গৃহস্থ
  4. ক্রোড়পত্র
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• খে (আকাশে) চরে যে = খেচর,
• গাঁট কাটে যে = গাঁটকাটা,
• গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া,
• গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
• ছা পোষে যে = ছাপোষা,
• জলে চরে যা = জলচর,
• জল দেয় যে = জলদ,
• পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র। 
রাজার পুত্র = রাজপুত্র।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
গাছে পাকা = গাছপাকা,
বাকে পটু = বাকপটু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮.
'দেশসেবা' কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• দেশসেবা = দেশের সেবা ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাগীর দুগ্ধ = ছাগদুগ্ধ;
- গৃহের কর্তা = গৃহকর্তা;
- অশ্বের পদ = অশ্বপদ;
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এছাড়াও- জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯.
'বসতবাড়ি' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫০.
'তেলে ভাজা = তেলে ভাজা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সপ্তমী তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তির দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি লোপ না হলে অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন : তেলে ভাজা (তেল দিয়ে ভাজা) = তেলেভাজা। এরূপ- কলেছাঁটা, তাঁতেবোনা, হাতেকাটা ইত্যাদি।
[সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই]
৫১.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) দ্রুতগামী
  3. গ) ভারপ্রাপ্ত
  4. ঘ) প্রাণপ্রিয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সোনার-তরী = সোনার তরী, ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম এগুলো অলুক তৎপুরুষ সমাস। যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫২.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. বিদ্যাহীন
  2. বসতবাড়ি
  3. আরামকেদারা
  4. গুরুভক্তি
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা: মন দিয়ে গড়া মনগড়া, শ্রম দ্বারা লব্ধ শ্রমলব্ধ, মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা।

→ উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা: এক দ্বারা উন = একোন, বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য, পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম।

অন্যদিকে,
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি, আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা, বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি, বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩.
'পাটক্ষেত' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পাটক্ষেত = পাটের ক্ষেত; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
-  পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা: চায়ের বাগান = চাবাগান, রাজার পুত্র = রাজপুত্র, খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
অনুরূপভাবে- ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, দিল্লীশ্বর, বাঁদরনাচ, পাটক্ষেত, ছবিঘর, ঘোড়দৌড়, শ্বশুরবাড়ি,
বিড়ালছানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৪.
তৎপুরুষ সমাসে কোন পদ প্রধান হয়?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. অন্যপদ
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস: 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ঠ্য:
- তৎপুরুষ সমাস অভ্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত;
- তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান;
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপে তৎপুরুষ সমাস হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫৫.
‘পঙ্কে জন্মে যা’ ব্যাসবাক্যটি কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- জলে চরে যা = জলচর।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ।
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা।
- পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬.
"পরানপ্রিয়" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭.
'গুরুভক্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারায় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। চতুর্থী বিভক্তির চিহ্ন কে, রে। নিমিত্ত বা জন্য অর্থেও চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- দেবকে দত্ত = দেবদত্ত;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল। 

এরকম- 
• গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
• বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
• মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮.
"অকালমৃত্যু" - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী
  2. তৃতীয়া
  3. উপপদ
  4. চতুর্থী
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
- দানে বীর = দানবীর,
- মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস :মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
'তপোবন' - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. উপপদ
  3. তৃতীয়া
  4. পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০.
‘গ্রাম থেকে ছাড়া’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমান নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত;
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো;
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
- ধানের খেত = ধানখেত;
- পথের রাজা = রাজপথ।

• সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর;
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুস, যেমন-
- গরুর গাড়ি= গরুরগাড়ি;
- তেলে ভাজা - তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬১.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দুঃখপ্রাপ্ত
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) ছেলে-ভুলানাে
  4. ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬২.
'হজযাত্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ৩য়া তৎপুরুষ
  2. খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. গ) ৫মী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৭মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- হজের জন্যে যাত্রা- হজযাত্রা।
৬৩.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. রাজপুত্র
  2. গরুরগাড়ি
  3. খেয়াঘাট
  4. চাবাগান
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৪.
'নাবালক' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ: 
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- যথা ন আচার = অনাচার
         ন কাতর = অকাতর 
- অনুরূপ, অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, বেতাল, অভাব ইত্যাদি। 
- খাঁটি বাংলায় অ, আ, না ইত্যাদি অনা হয়। 
যেমন- ন কাল = অকাল। তদ্রুপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অকেজো, অজানা, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৫.
নিচের কোনটি 'অলুক তৎপুরুষ' সমাস?
  1. মামাবাড়ি
  2. গাছপাকা
  3. ছেলে-ভুলানো
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস 
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- যেমন: 
• ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো; 
• মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
• ধানের খেত = ধানখেত;
• গাছে পাকা = গাছপাকা; 
• রথকে চালন = রথচালন। 
• বিয়েপাগলা, গ্রামছাড়া, আগাগোড়া, রাজপথ, দুঃখপ্রাপ্ত, অকালমৃত্যু ইত্যাদি। 

♣ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন - 
• গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি; 
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা;  
• ঘিয়েভাজা, ঘোড়ার-ডিম, চোখের বালি, গানের-আসর, সোনার-বাংলা ইত্যাদি।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মাতাপিতা
  2. তেলেভাজা
  3. নাজানা
  4. সাহিত্যসভা
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

অন্যদিকে:
- 'সাহিত্যসভা' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- 'মাতাপিতা' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'নাজানা' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

৬৭.
কোন শব্দটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. নৌবহর
  2. গৃহস্থ
  3. ধানখেত
  4. পুষ্পসৌরভ
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- কল্পনায় বিলাস করে যে = কল্পনাবিলাসী,
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

অন্যদিকে,
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস - ধানের খেত = ধানখেত, নৌয়ের বহর = নৌবহর, পুষ্পের সৌরভ = পুষ্পসৌরভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬৮.
'চিরসুখী' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• 'চিরকাল ব্যাপীয় সুখী= চিরসুখী'- ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

- সমস্তপদ - ব্যাসবাক্য
- চিরসুখী - চির কাল ব্যাপিয়া সুখী।
- চিরস্থায়ী - চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী।
- চিরস্মরণীয় - চির কাল ব্যাপিয়া স্মরণীয়।
- চিরশত্রু - চির কাল ব্যাপিয়া শত্রু।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

৬৯.
'পুঁথিগত' কোন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পুঁথিগত = পুঁথি হইতে আগত, 
- এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৎপুরুষ সমাস- 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
অনুরূপ ভাবে, পুঁথি হইতে আগত = পুঁথিগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
'গায়েপড়া' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
'গায়েপড়া' উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- যেমন: গায়ে পড়া যে - গায়েপড়া।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: 
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী।
জাদু করে যে - জাদুকর।
শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য।
বর্ণ চুরি করে যে - বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭১.
‘তপোবন' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
  যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
- এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ - পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- বজ্রের সম = বজ্রসম। (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)। 
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।

• তপোবন = তপের নিমিত্তে বন।
- এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২.
কোনটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মুখভ্রষ্ট
  2. তপোবন
  3. রবাহূত
  4. তপস্বীকন্যা
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'তপস্বীর কন্যা = তপস্বীকন্যা' - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- 'রব দ্বারা আহূত = রবাহূত' - তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- 'মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট' পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩.
তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চৌরাস্তা
  2. গ্রামছাড়া
  3. চন্দ্রমুখ
  4. ঝড়বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: গ্রামছাড়া।

•  সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা,
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া,
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

অন্যদিকে,
• দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= চৌরাস্তা।
• উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= চন্দ্রমুখ।
• দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ= ঝড়বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৭৪.
তৎপুরুষ সমাসের কোন পদ প্রধান থাকে ?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয় পদ
  4. অন্য পদ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূরবপদের বিভক্তি লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- রথকে দেখা = রথ দেখা।

অন্যদিকে,
- দ্বন্দ্ব সমাসের উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]
৭৫.
‘মুখভ্রষ্ট’- এটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 
- মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম -১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৭৬.
'চিরসুখী' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চিরকালের সুখী
  2. চিরদিনের জন্য সুখী
  3. চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
  4. চির দিনের জন্য সুখী
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী।

এরকম:
গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
৭৭.
'জন্মাদ্ধ'- কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. যষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ'- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
'মধুপ' যে সমাসের উদাহরণ-
  1. ক) ব্যতিহার বহুব্রীহি
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ।
এরূপ: ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার ইত্যাদি৷
তেমনি, মধু আহরণ করে যে = মধুপ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৭৯.
'গ্রামছাড়া' কোন ধরনের সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গ্রামছাড়া' তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷

সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: 
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ,
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)। 
৮০.
‘অনাদর’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) নঞ তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
‘অনাদর’ নঞ তৎপুরুষ সমাস।
এর ব্যসাবাক্য = ন আদর।

নঞ তৎপুরুষ সমাস :
- পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
- বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়। যেমন- নয় কাতর = অকাতর, ন অশন = অনশন, নয় বুঝ নামঞ্জুর, নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮১.
‘জাদুকর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
- ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
- মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮২.
'পরাণপ্রিয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।
- সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।যেমন: স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো, জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি। এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।
- কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর' 'চেয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়। যথা- পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয়।

অন্যদিকে,
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮৩.
‘বজ্জাত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৪.
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে-
  1. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৫.
'পঙ্কজ' কোন তৎপুরুষ নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. পঞ্চমী
  2. উপপদ
  3. অলুক
  4. দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

অলুক তৎপুরুষ:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৬.
'তপোবন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
 
যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- বজ্রের সম = বজ্রসম,
- তপের নিমিত্তে বন = তপোবন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭.
'গজনীরাজ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮.
'খেয়াঘাট' শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯.
"খেলারমাঠ" শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা, 
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯০.
’অশ্রুতপূর্ব’ কোন সমাসের উদহরণ?
  1. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. নঞ্জ তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন-
পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
পূর্বে অশ্রুত = অশ্রুতপূর্ব,
পূর্বে অদৃষ্ট= অদৃষ্টপূর্ব।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
গাছে পাকা =  গাছপাকা,
দিবায় নিদ্রা =  দিবানিদ্রা।
এরূপ
বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

এছাড়াও,
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
খাঁচা থেকে ছাড়া =  খাঁচাছাড়া,
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী  তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
চায়ের বাগান = চাবাগান,
রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• নঞ্জ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
ন আচার = অনাচার,
ন কাতর = অকাতর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৯১.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।

এরূপ- ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মালগুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯২.
'কালোবরণ' কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালো বরণ যার = কালোবরণ;
- পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে। 

----------------------
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- এক দিকে চোখ যার  = একচোখা/একচোখো।

এরকম: ক্ষুরধার, গজানন, মৃগনয়না, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

--------------------
• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় -প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা,
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো,
- নি খরচ যার = নি-খরচে। 

এরূপ- দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, উনপাঁজুরে ইত্যাদি।

----------------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:

পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।

এরকম: কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু, হাতেখড়ি, পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
৯৩.
"একোন" শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৪.
'অলুক বহুব্রীহি' সমাস নয় কোনটি? 
  1. গায়ে হলুদ
  2. হাতেখড়ি
  3. হাতেকাটা 
  4. মুখেভাত
ব্যাখ্যা

'অলুক বহুব্রীহি' সমাস নয়- হাতে কাটা। 
- হাতে কাটা অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

---------------------------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- মুখে ভাত দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত,
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।
- হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। 

• অলুক বহুব্রীহি সমাসের কিছু উদাহরণ-
- কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু,পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।

----------------------------
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায়না তাই অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- চিনির বলদ = চিনির বলদ,
- তেলে ভাজা = তেলে ভাজা,
- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা ইত্যাদি। 

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৫.
‘মুখ থেকে ভ্রষ্ট’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৬.
‘সাহিত্য বিশারদ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. ঘ) সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ
গাছে পাকা - গাছপাকা,
দিবায় নিদ্রা - দিবানিদ্রা,
অকালে মৃত্যু - অকালমৃত্য,
সাহিত্যে বিশারদ - সাহিত্য বিশারদ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৯৭.
'ইত্যাদি' কোন সমাস (ইতি হতে আদি)?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

ইতি হতে আদি = ইত্যাদি।
এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো।
জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত।
স্নাতক থেকে উত্তর = স্নাতকোত্তর।
সর্ব হতে শ্রেষ্ঠ = সর্বশ্রেষ্ঠ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮.
‘দুঃখকে প্রাপ্ত’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া,
বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুস, যেমন-
গরুর গাড়ি= গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা - তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯.
'নঞ তৎপুরুষ' সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. অনাচার
  2. অকাতর
  3. অনৈক্য
  4. অনুক্ষণ 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- নয় এক = অনেক,
- অন্ (নঞ্) + ঐক্য = অনৈক্য,
- অন্ (নঞ্) + ইষ্ট = অনিষ্ট।

অন্যদিকে,

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।

১০০.
উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে কী বলে?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ।
উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।