বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

মোট প্রশ্ন৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬৪৬

৫০১.
কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ নয়?
  1. আইন
  2. দর্শন
  3. পোশাক
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
পোশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোশাক
ব্যাখ্যা
অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

অন্যদিকে -
বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০২.
আমলাতন্ত্রের 'লাল ফিতা' দিয়ে বোঝানো হয় -
  1. কাজের দীর্ঘসূত্রতা 
  2. পদোন্নতি
  3. দুর্বল সরকার ব্যবস্থা
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
কাজের দীর্ঘসূত্রতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের দীর্ঘসূত্রতা 
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।

• আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি আমলাতন্ত্রের অহেতুক বাড়াবাড়ি, কড়াকড়ি, বিলম্ব, আনুষ্ঠানিকতা, হয়রানি ও নেতিবাচক অর্থে প্রচলিত। রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে। প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।

• অতিবেশি নিয়ম কানুনের কারণে জনগণ সরকারি অফিসে এসে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ছোটাছুটিতে বাধ্য হন। আবার আইন কানুনের জটিলতার জন্য আমলারা সময়মত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।

উল্লেখ্য,
- লালফিতার সুযোগে অনেক সময় আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠতে পারেন। পদসোপান নীতির কারণেও আমলাতন্ত্রে কাজের বিলম্ব হয়ে থাকে। লালফিতার দৌরাত্ম্যে আমলাতন্ত্র জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমলাতন্ত্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে, তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, এমনকি এ কারণে সরকারের পতন পর্যন্ত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৩.
নিচের কোনটি 'SMART Bangladesh' এর উপাদান?
  1. Smart Democracy
  2. Smart Politics
  3. Smart Society
  4. Smart Parliament
সঠিক উত্তর:
Smart Society
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Smart Society
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনে 'Smart Society' হচ্ছে 'SMART Bangladesh' এর উপাদান।

স্মার্ট বাংলাদেশ:
- স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও শ্লোগান।
- এই প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে 'স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চারটি ভিত্তি:
- স্মার্ট সিটিজেন,
- স্মার্ট ইকোনমি,
- স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও,
- স্মার্ট সোসাইটি।

উৎস: smartbangladesh.gov.bd ওয়েবসাইট।
৫০৪.
চার্লস মন্টেস্কু কোন গ্রন্থে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'র কথা উল্লেখ করেন?
  1. লেভিথিয়ান
  2. দ্য স্পিরিট অব ল
  3. প্রিন্সিপাল অব ইথিক্স
  4. দ্য রিপাবলিক
সঠিক উত্তর:
দ্য স্পিরিট অব ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য স্পিরিট অব ল
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৫.
মৌলিক অধিকার কিসের মাধ্যমে রক্ষিত হয়?
  1. স্পীকারের মাধ্যমে
  2. সংবিধানের মাধ্যমে
  3. রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে
  4. বিচার বিভাগের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সম্পর্ক:
→ মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়।
→ একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না।
মৌলিক অধিকার সংবিধানে গৃহীত হওয়ায় তা সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। এর ফলে সরকার এসব অধিকার ভোগে বাধা দিতে পারে না।
→ অপরদিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন, এমনকি রাজনৈতিক মতামত ও পদমর্যাদা নির্বিশেষে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত বা স্বীকৃত অধিকারগুলোই হচ্ছে মানবাধিকার।
→  জাতিসংঘ সনদের ৩ নম্বর ধারা থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রায় ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫০৬.
রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে লালফিতার দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়?
  1. দক্ষতা
  2. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. শৈথিল্য
  4. জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
শৈথিল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈথিল্য
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।
- আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি আমলাতন্ত্রের অহেতুক বাড়াবাড়ি, কড়াকড়ি, বিলম্ব, আনুষ্ঠানিকতা, হয়রানি ও নেতিবাচক অর্থে প্রচলিত।
- রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে।
- প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।

⇒ যে কোন সমস্যা বিধি-মোতাবেক সমাধান করতে গিয়ে প্রায়শ সময় নষ্ট হয়ে যায়। যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা পূর্ববর্তী নজিরের উপর বেশি গুরুত্বরোপ করেন। অফিসের দৈনন্দিন কর্ম পরিকল্পনা করেন সনাতন রীতি ও কর্মপদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। এর ফলে আমলাতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ জনগণের সেবা প্রদান ব্যাহত হয়।

 ⇒ অতিবেশি নিয়ম কানুনের কারণে জনগণ সরকারি অফিসে এসে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ছোটাছুটিতে বাধ্য হন। আবার আইন কানুনের জটিলতার জন্য আমলারা সময়মত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।

⇒ লালফিতার সুযোগে অনেক সময় আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠতে পারেন। পদসোপান নীতির কারণেও আমলাতন্ত্রে কাজের বিলম্ব হয়ে থাকে। লালফিতার দৌরাত্ম্যে আমলাতন্ত্র জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমলাতন্ত্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে, তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, এমনকি এ কারণে সরকারের পতন পর্যন্ত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৭.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ভোটাধিকার
  2. সম্পত্তি লাভের অধিকার
  3. শ্রমিক সংঘ গঠনের অধিকার
  4. ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি লাভের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা

আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫০৮.
নিম্নের কোনটি 'ভদ্রবেশী অপরাধ'?
  1. সম্পত্তি আত্মসাৎ
  2. দুর্নীতি
  3. মাদকাসক্তি
  4. নারী নির্যাতন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫০৯.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'র মূল প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. চার্লস মন্টেস্কু
  3. আনেস্ট বার্কার
  4. লাস্কি
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 
- চার্লস মন্টেস্কু ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১০.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের প্রধান তিনটি গুণ কী কী? 
  1. শিক্ষা, দেশপ্রেম ও আনুগত্য
  2. সাহস, নেতৃত্ব ও কর্তব্যবোধ
  3. সততা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা
  4. বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিকের গুণ:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইসের মতে, একজন সুনাগরিকের তিনটি প্রধান ও অপরিহার্য গুণ রয়েছে—
- বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।
- এই তিনটি গুণ অর্জনের মাধ্যমেই একজন সাধারণ মানুষ নিজেকে প্রকৃত অর্থে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

• সুনাগরিকের প্রথম গুণ হলো বুদ্ধি।
- এর মাধ্যমে সে শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে রাষ্ট্রের আইন, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে। 
- এবং সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।

• দ্বিতীয় গুণ বিবেক।
- বিবেক একজন নাগরিককে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়।

• তৃতীয় গুণ আত্মসংযম। 
- এটি দ্বারা নাগরিক নিজের আবেগ, অসৎ প্রবৃত্তি ও স্বার্থপরতা নিয়ন্ত্রণে রেখে সমাজের মঙ্গল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১১.
’Groundwork for Metaphysics of Morals’ গ্রন্থটি কার রচিত? 
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল 
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. স্টুয়ার্ট মিল
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে,
• বার্ট্রান্ড রাসেল উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Conquest of Happiness,
- The Principles of Mathematics,

• স্টুয়ার্ট মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে।
- On Liberty
- Representative Government.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫১২.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫১৩.
নীতিবিদ্যাকে "মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান" হিসেবে কে আখ্যায়িত করেন?
  1. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. নিকোলাস রেসার
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
ব্যাখ্যা
⇒ নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

⇒ উইলিয়াম লিলি- তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৪.
"আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।" উক্তিটি করেছেন-
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. জি পাওয়েল
  3. এস ই ফাইনার
  4. জন ফিফনার
সঠিক উত্তর:
এস ই ফাইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ই ফাইনার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। ইংরেজি 'Bureaucrary' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে।
- ফরাসিতে শব্দটি এসেছে ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা।
-সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'। আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন। বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।
- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৫.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ কোনটি?
  1. শক্তি প্রয়োগ মতবাদ
  2. বিবর্তনমূলক মতবাদ
  3. ঐশ্বরিক মতবাদ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- সমাজ জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র গঠন করে।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান। 

⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ হলো ঐশ্বরিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূল কথা হলো- বিধাতাই রাষ্ট্রের সৃষ্টিকর্তা।
- রাজা বা শাসক, সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
- শাসক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।
- শাসকের মনোনয়ন কিংবা বিনাশ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।
- তবে শাসক ঈশ্বরের কাছে দায়বদ্ধ।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।
- অধিক শক্তিশালী গোত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল গোত্রকে পরাজিত করে।
- পরবর্তীতে পরাজিত গোত্রের ওপর আইন কানুন চাপিয়ে আনুগত্য আদায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করা হয়।
- এই মতবাদ অনুযায়ী শক্তিই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ পরম শান্তিতে বসবাস করত।
- তারা প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে। 

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়।
- ঐতিহাসিক বিবর্তনের পথে নানা উপাদানের প্রভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
- বিবর্তনবাদকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যুক্তিযুক্ত ও সর্বজন গ্রাহ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
- সুতরাং রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মতবাদ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো -
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. রাষ্ট্র
  4. সমাজ  
সঠিক উত্তর:
সমাজ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ  
ব্যাখ্যা

• সভ্যতা:
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে -আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- স্কটের মতে -“সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।”
- বটোমোরের মতে -“সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়”।
- উপরিউক্ত সংজ্ঞা থেকে বলা যায় - সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের প্রতিচ্ছবি বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৭.
'আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক' বলা হয় -
  1. গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড
  2. এস ই ফাইনার
  3. রবার্ট প্রেসথাস
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫১৮.
'সুবর্ণ মধ্যক' হলো -
  1. গাণিতিক মধ্যমান
  2. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  3. সম্ভাব্য সব ধরনের কাজের মধ্যমান
  4. একটি দার্শনিক সম্প্রদায়ের নাম
সঠিক উত্তর:
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
ব্যাখ্যা
'সুবর্ণ মধ্যক' হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা।

গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
৫১৯.
কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. কর্মের অধিকার
  2. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
  4. দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকারসমূহ:
- জীবনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, আইনের চোখে সমানাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্মের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার, খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৫২০.
‘Civil Society’ এর অর্থ কী?
  1. যুব সমাজ
  2. বুদ্ধিজীবী
  3. সুশীল সমাজ
  4. সামরিক সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
 সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ ( Civil Society)  কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২১.
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. জনগণের কল্যাণ সাধন
  2. রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২২.
‘গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র’ কী?
  1. সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
  2. অধিকার, সাম্য ও স্বাধীনতা
  3. অধিকার, কর্তব্য ও সাম্য
  4. কর্তব্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
সঠিক উত্তর:
সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৩.
তথ্য পাওয়া মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. মৌলিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ মৌলিক অধিকার:
- মৌলিক অধিকার বলতে বুঝায় নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং অলঙ্ঘনীয়।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।

⇒ মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে।

⇒ তথ্য পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২৪.
কোনটি সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. বিরোধীদল
  3. সুশীল সমাজ
  4. এনজিও সংস্থা
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫২৫.
কোন স্বাধীনতা ছাড়া অন্য স্বাধীনতাগুলি মূল্যহীন?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- বর্তমানে অধিকাংশ রাষ্ট্রই জাতি রাষ্ট্র। অর্থাৎ তারা স্বাধীন জাতি হিসেবে রাষ্ট্র গঠন করেছে।
- একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার সক্ষমতাই হল জাতীয় স্বাধীনতা। 
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব স্বাধীনতার মূলভিত্তি।
 - জাতি হিসেবে স্বাধীন থাকা যেমন গর্বের তেমনি তা অর্জন করাও কষ্টসাধ্য। অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়। যেমন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৬.
নিম্নের কোনটিকে সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়? 
  1. জবাবদিহিতা
  2. দায়বদ্ধতা
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
- বৈধতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৫২৭.
প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভ
  2. সামরিক বাহিনী দ্বারা শাসন
  3. জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র (Republic):
- যে শাসনব্যবস্থা বা সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচিত হন, তাকে "প্রজাতন্ত্র" বলে।
- প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ।
- প্রজাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র।
- গনতান্ত্রিক সরকারেরই একটা রূপ প্রজাতান্ত্রিক সরকার।
- প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে।
- প্রজাতন্ত্রের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন নির্বাচিত ও তাদের নিকট দায়বদ্ধ।

গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মূল পার্থক্য-
- গণতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে সরাসরি জনগণের হাতে। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে পৃথক নাগরিকদের হাতে।
- একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতেও পারেন আবার না-ও পারেন। কিন্তু একটি প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে।
- গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে। প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা।
- গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা বা জনমত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে তা সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, গণতন্ত্রে জনমত চাইলে কোনো বিষয়ে তাদের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রে সংবিধানের দেয়া অধিকারকে জনমত ছাড়িয়ে যেতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫২৮.
’’জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ১৯(১)
  2. অনুচ্ছেদ- ২০(২)
  3. অনুচ্ছেদ- ২০(১)
  4. অনুচ্ছেদ- ১৯(৩)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৯(৩)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৯(৩)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ- ১৯(৩): জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
• অনুচ্ছেদ- ১৯(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
• অনুচ্ছেদ- ১৯(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

এছাড়াও, 
- অনুচ্ছেদ-২০(১) কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন৷ 
 - অনুচ্ছেদ-(২) রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্র্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫২৯.
"অধিকার হল সামাজিক জীবনের সেসকল শর্ত, যা' ছাড়া কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের সর্বোচ্চ বিকাশ সম্ভব নয়।" – উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক বার্কার
  2. অধ্যাপক অ্যালমন্ড
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. রাষ্ট্রদার্শনিক টি এইচ গ্রীন
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক লাস্কি
ব্যাখ্যা
অধিকারে সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ অধিকারের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- রাষ্ট্রদার্শনিক টি এইচ গ্রীনের (TH Green) মতে, "অধিকার হচ্ছে সেসকল বাহ্যিক অবস্থা যা' মানসিক পরিপুষ্টি সাধন করে।"
- অধ্যাপক এইচ জে লাস্কির (HJ Laski) মতে, "অধিকার হল সামাজিক জীবনের সেসকল শর্ত, যা' ছাড়া কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের সর্বোচ্চ বিকাশ সম্ভব নয়।"
- অধ্যাপক বার্কার (Prof. Barker) বলেছেন, "অধিকার হল মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী সেসকল সুযোগ-সুবিধা যেগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়।"

উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি যে,
- জনগণের ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে পূর্ণভাবে বিকশিত করার জন্য সমাজ তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দান করে এবং এ সকল সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিই হল অধিকার।
- এ সকল সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয় এবং এগুলোর লক্ষ্য সার্বজনীন কল্যাণ সাধন।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একজন নাগরিক তিন ধরনের অধিকার ভোগ করে থাকে। যথা- সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩০.
কোন সংস্থা বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. WTO
  2. WBG
  3. UNCTAD
  4. IMF
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
ব্যাখ্যা
বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন (World Investment Report): 
- প্রকাশক: UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development)

বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু:
- বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) সম্পর্কিত বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দেশভিত্তিক প্রবণতা বিশ্লেষণ।
- FDI কীভাবে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা।
- গ্লোবাল ভ্যালু চেইন (GVC) ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর জোর, বিশেষ করে তাদের উন্নয়নগত প্রভাব বিশ্লেষণ।

UNCTAD-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন:
Commodities and Development Report: পণ্য বাজার ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিশ্লেষণ।
Digital Economy Report: ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অর্থনীতির বৈশ্বিক প্রভাব।
Economic Development in Africa Report: আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা।
Handbook of Statistics: বৈশ্বিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান।
Least Developed Countries Report: স্বল্পোন্নত দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে বিশ্লেষণ।
Review of Maritime Transport: বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যের তথ্য ও বিশ্লেষণ।
Technology and Innovation Report: নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কীভাবে উন্নয়ন প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণা।
Trade and Development Report: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নীতিমালা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশ্লেষণ।

উৎস: UNCTAD ওয়েবসাইট। 
৫৩১.
'যেখানে আইন থাকেনা, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'- উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. আইন স্বাধীনতার প্রচারক
  2. আইন স্বাধীনতার সম্পূরক
  3. আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  4. আইন স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - আইনের শাসন।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- 'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন'- উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।
- 'যেখানে আইন থাকেনা, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না' উক্তিটিতে প্রকাশ পাচ্ছে - আইন স্বাধীনতার রক্ষক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৩২.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ
  2. কর আদায় বৃদ্ধি
  3. জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- বর্তমান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা।
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৩৩.
আক্ষরিক অর্থে 'আমলাতন্ত্র' বলতে কোনটি বোঝায়?
  1. প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন
  2. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শাসন
  3. স্থানীয় জনপ্রতিনিধির শাসন
  4. রাজনীতিবিদদের শাসন 
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আক্ষরিক অর্থে 'আমলাতন্ত্র' বলতে আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন বোঝায়।
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন।
- আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর সংযুক্ত এবং রাজনীতিনিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- আমলাতন্ত্রের আধুনিক আলোচনার অগ্রনায়ক প্রখ্যাত জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার।
- তিনি সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল (Legal and rational model) হিসেবে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্সওয়েবার ছিলেন আদর্শ আমলাতন্ত্রের (Ideal Bureaucracy) উদ্ভাবক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৩৪.
তথ্য অধিকার আইন কোনটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুরক্ষা
  2. জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
  3. বাণিজ্যিক লেনদেনে 
  4. পরিবহন ব্যবস্থায়
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
ব্যাখ্যা

তথ্য অধিকার আইন: 
- জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন একটি যুগান্তকারী আইন।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় সংসদে ৩০ মার্চ ২০০৯ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করে।
- এরপর ৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে তথ্য অধিকার আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভকরে।
- জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- 'তথ্য অধিকার' অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার।
- আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে।
- কোনো নাগরিকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে।
- তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ যাবতীয় তথ্যের তালিকা এবং সূচি প্রস্তুত করে যাথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখবে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৫.
রাজনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. বেকারত্ব থেকে মুক্তি
  2. নির্বাচিত হওয়া
  3. মতামত প্রকাশ
  4. ভোট দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব থেকে মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব থেকে মুক্তি
ব্যাখ্যা

• সাম্যের বিভিন্ন রূপ:
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- 
• সামাজিক সাম্য: 
- ​জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।

​• রাজনৈতিক সাম্য: 
​- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে। নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

• অর্থনৈতিক সাম্য: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত

​• আইনগত সাম্য: 
- ​জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।

​​​উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি। 

৫৩৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের -
  1. বিপরীত
  2. সাংঘর্ষিক
  3. পরিপূরক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৩৭.
"জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান" এটি কোন ধরনের সাম্য?
  1. স্বাভাবিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. নাগরিক সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
স্বাভাবিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাভাবিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য হচ্ছে এমন একটি ধারণা, যার মাধ্যমে সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।
- এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে, যেখানে কেউ তার জন্ম, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, সামাজিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বৈষম্যের সম্মুখীন হয় না।
- সাম্য সমাজে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
- আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হলে সমাজে সাম্য আনয়ন সম্ভব হয়।

সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য: জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান। অর্থাৎ, সকল মানুষের মূল্য ও অধিকার জন্মগতভাবে সমান।
সামাজিক সাম্য: সমাজে ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পদ ও সুযোগের সঠিক বণ্টন। অর্থাৎ, সমাজের সব সদস্য যাতে সমানভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
নাগরিক সাম্য: ব্যক্তিগত নাগরিক অধিকার ও সুযোগে সমান অধিকার প্রদান। এর মাধ্যমে সব নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সুযোগ দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক সাম্য: রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সমান অধিকার। এখানে ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকার যেমন ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইত্যাদি সমান থাকে।
আইনগত সাম্য: আইনের কাছে সকল মানুষ সমান। আইন সকলের জন্য একেবারে সমান এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন -
  1. এইচ জিগলার
  2. এলান আর বল
  3. অধ্যাপক মাইরন উহনার
  4. অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
সঠিক উত্তর:
এইচ জিগলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ জিগলার
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব বিস্তার করে।
- ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

• অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা-
(১) স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থগোষ্ঠী,
(২) সংগঠনভিত্তিক স্বার্থগোষ্ঠী,
(৩) সংগঠনহীন স্বার্থগোষ্ঠী,
(৪) প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৩৯.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, গণতন্ত্রের সাফল্যের প্রথম শর্ত কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  3. শক্তিশালী সরকার
  4. জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন গ্রহণের ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন গ্রহণের ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন গ্রহণের ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। 
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

• জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৪০.
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়-
  1. সকলকে সমপরিমাণ সম্পদ প্রদান
  2. সম্পদের উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ করা
  3. সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
  4. সকল নাগরিকের সমান উপার্জিত আয়
সঠিক উত্তর:
সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- সাম্য একটি সমাজকে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়।
- আইনের সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

• সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য- জন্মগতভাবে সবাই সমান।
সামাজিক সাম্য- সমাজে যোগ্যতা অনুযায়ী সকলে একই সুযোগ ভোগ করবে।
অর্থনৈতিক সাম্য- যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বন্টন।
নাগরিক সাম্য- ব্যক্তিগত সকল নাগরিকের সমান অধিকার।
রাজনৈতিক সাম্য- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার ও মতামত প্রকাশ।
আইনগত সাম্য- আইনের চোখে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪১.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক' মতবাদে কে বিশ্বাসী?
  1. জি. ডি. এইচ. কোল
  2. লর্ড এ্যাকটন
  3. হেনরী মেইন
  4. কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
জি. ডি. এইচ. কোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ডি. এইচ. কোল
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক:
- অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না।
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী।
- তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন।
- হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।"
- আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

অন্যদিকে,
- স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন। একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়। লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪২.
'বিকল্প নীতি উত্থাপন' করে কে?
  1. বিরোধী দল
  2. আমলা
  3. সুশীল সমাজ
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

বিরোধী দলের বৈশিষ্ট্য:
১। গঠনমূলক সমালোচনা,
২। অধিকার বাস্তবায়ন,
৩। গণতন্ত্র রক্ষা,
৪। বিকল্প নীতি উত্থাপন,
৫। সমস্যা চিহ্নিত করা,
৬। জনমত গঠন,
৭। প্রার্থী মনোনয়ন,
৮। পারস্পরিক সম্পর্ক,
৯। রাজনৈতিক সংযোগ সাধন,
১০। রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ,
১১। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৩.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল বক্তব্য কী?
  1. ধর্মীয় বিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
  2. সামরিক শক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
  3. জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
  4. রাষ্ট্র শাসকের ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে
সঠিক উত্তর:
জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
ব্যাখ্যা

• সামাজিক চুক্তি মতবাদ
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- সমাজে বসবাসকারী জনগণেরপারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্ ও জন লক এবং ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
- এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত।
​- তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। 
​- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। 
- ​​ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
-​ মানুষ হয়ে উঠে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। দুর্বলের উপর চলে সবলের অত্যাচার।
-​ এ কারণে মানুষের জীবন কষ্টকর ও দুর্বিষহ হয়ে উঠে। 
- ​এ ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
-​ প্রকৃতির রাজ্যের এ অরাজকতাপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজেদের উপর শাসন করার জন্য স্থায়ীভাবে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

​উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৪৪.
সুনাগরিকের অন্যতম গুণ হচ্ছে -
  1. সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড 
  2. সহনশীলতা
  3. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি
  4. উসকানি দেওয়া
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও কিাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৪৫.
“জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. এটিস্টটল
  4. ওপেন হাইম
সঠিক উত্তর:
ওপেন হাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওপেন হাইম
ব্যাখ্যা
•    “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করে → এটিস্টটল।
•    আইনের অনুশাসন কথাটি প্রথম ব্যবহার করে → অধ্যাপক ডাইসি।
•    “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করে → এটিস্টটল।
•    “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করে → জন অস্টিন।
•    “জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি করে → ওপেন হাইম।
•    “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন → অধ্যাপক ডাইসি।
•    “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা”- উক্তিটি করে → জন লক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৪৬.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ন্যায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে কে?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. বিরোধী দল
  4. সুশীল সমাজ 
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৪৭.
জিরোসাম গেম আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোন তত্ত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?
  1. উদারতাবাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. মার্ক্সবাদ
  4. গঠনবাদ
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
জিরোসাম গেম:
- জিরো সাম গেম (Zero Sum Game) হচ্ছে বিখ্যাত ‘গেম থিওরি’র একটা অংশ।
- এটা দিয়ে বোঝায় যেকোনো ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক পক্ষ কোনো নির্দিষ্ট জিনিস পেতে চাইলে, এক পক্ষ যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন করবে, অন্য পক্ষ ঠিক সে পরিমাণ সম্পদ হারাবে।
- এতে নিট ফলাফল শূন্য হবে।

⇒ জিরো সাম গেমের বৈশিষ্ট্য:
১। এ ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় যোগান সব সময়ই কম থাকবে।
২। সম্পদের পরিমাণ একই থাকবে। কোনো কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন ঘটবে না।
৩। সব পক্ষের জন্যই সম্পদের নেট পরিবর্তন হবে শূন্য।

উল্লেখ্য, 
⇒ বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।
- মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- -অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।

অন্যদিকে,
⇒ উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

উৎস: Investopedia.
৫৪৮.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'র প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. চার্লস মন্টেস্কু
  3. আনেস্ট বার্কার
  4. লাস্কি
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- চার্লস মন্টেস্কু ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৯.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলপ্রসূতার জন্য অগ্রাধিকার পাবে _____।
  1. আইনসমূহ
  2. টাকা
  3. গুণগত শিক্ষা 
  4. অবকাঠামোগত সুবিধাসমূহ
সঠিক উত্তর:
গুণগত শিক্ষা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত শিক্ষা 
ব্যাখ্যা

● গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলপ্রসূতার জন্য অগ্রাধিকার পাবে গুণগত শিক্ষা।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা:
- গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন। 
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। 
- গণতন্ত্র হল জনগণের সম্মতির শাসন, আর এটি একটি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনার কতগুলো নিয়ম বা পদ্ধতি থাকে। একইসঙ্গে পদ্ধতি থাকে শাসকদের দায়বদ্ধ করার। বস্তুত গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে নিয়মতান্ত্রিকতা অপরিহার্য।

⇒ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সফলতা ও ফলপ্রসূতা মূলত নির্ভর করে শিক্ষিত, সচেতন, দায়িত্বশীল ও সমালোচনামূলক চিন্তাশীল নাগরিকের উপর।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও দায়িত্ববোধ জরুরি।
- শুধু প্রতিষ্ঠান বা আইন থাকলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না, মানুষ যদি অধিকার, কর্তব্য ও নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন না হয় তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- এই ভিত্তি গড়ে ওঠে গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, গুণগত শিক্ষা:
- গুণগত শিক্ষা বা মানসম্মত শিক্ষা বর্তমানে শিক্ষা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
- ইউনেস্কো গুণগত শিক্ষাকে টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করেছে। 
- গুণগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে: বৈষম্যহীন সমন্বিত শিক্ষা; আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাক্রম; মানসম্মত ও পেশার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ শিক্ষক সমাজ; সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন; অভ্যন্তরীণ দক্ষতা; বাহ্যিক দক্ষতা।
- তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলপ্রসূতার জন্য অগ্রাধিকার পাবে গুণগত শিক্ষা।

অন্যদিকে,
- আইন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শিক্ষিত নাগরিক ছাড়া আইন কার্যকর হয় না।
- অর্থনৈতিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও টাকা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা নৈতিকতা তৈরি করতে পারে না; বরং কখনো কখনো গণতন্ত্রকে বিকৃতও করে।
- অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দরকার, কিন্তু গণতন্ত্রের ফলপ্রসূতার মূল চালিকাশক্তি নয়।

উৎস: i) সুশাসনের জন্য নাগরিক ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশে শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে ‘শোষণমুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ১২
  4. অনুচ্ছেদ ১৩
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১০
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদে ‘মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা বর্ণিত রয়েছে।

ধারার মূল বক্তব্য:
মানুষকে মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত করে ন্যায়নিষ্ঠ ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠন নিশ্চিত করার জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই ধারার লক্ষ্য হলো:
- প্রতিটি মানুষ যাতে অন্য কোনো মানুষের শোষণের শিকার না হয়
- সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
- ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানো।
- সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা।
- সবাইকে তার অধিকার ও সুযোগের সমান ভাগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৫১.
জন উইলিয়ামসন কত সালে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' শব্দটি তৈরি করেন?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস (Washington Consensus): 
- ১৯৮০-এর দশকে ল্যাটিন আমেরিকাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক নীতির কাঠামো ঢেলে সাজাতে এই ধারনার সূচনা হয়।
ওয়াশিংটন কনসেনসাস একগুচ্ছ অর্থনৈতিক নীতির সুপারিশ, যা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষত: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), বিশ্ব ব্যাংক (World Bank) ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (U.S. Treasury Department) এর মধ্যকার সম্মতির প্রতিফলন ছিল।
- মূল আদর্শ: মুক্ত বাজার অর্থনীতি, বেসরকারিকরণ, সরকারের হস্তক্ষেপ হ্রাস, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উন্মুক্ততা। 
- জন উইলিয়ামসন ১৯৮৯ সালে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' শব্দটি তৈরি করেন। 
- তিনি মূলত এটি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ল্যাটিন আমেরিকার জন্য কিছু যৌক্তিক সংস্কার দরকার।
- কিন্তু পরে এটি একঘেয়ে নিওলিবারেল দৃষ্টিভঙ্গির সমার্থক হিসেবে সমালোচিত হয়।

উৎস: Britannica.
৫৫২.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন‘ কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য,
(খ) রাজনৈতিক সাম্য,
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য,
(ঘ) আইনগত সাম্য।

⇒ সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

⇒ রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

⇒ অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

⇒ আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫৩.
গণতন্ত্রের প্রাণ বলা যায় কোনটিকে?
  1. সহমর্মিতা
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. সৌহার্দ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ।
- অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
- অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
- সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারেনা।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজে তত বেশি গণতান্ত্রিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৫৪.
'সার্বভৌমত্ব' রাষ্ট্রের কততম উপাদান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস করে, যাদের একটি সরকার আছে সর্বোপরি যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে সর্বোতভাবে মুক্ত থাকে।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।

⇒ রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা:
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও,
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
আইনকে সার্বভৌম শক্তির আদেশ বলে অভিহিত করেছেন-
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. হল্যাণ্ড
  3. অস্টিন
  4. লর্ড এ্যাকটন
সঠিক উত্তর:
অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্টিন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।”

আইনের উপরিউক্ত সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যেতে পারে যে, আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি, যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত, সমর্থিত ও প্রযুক্ত হয়। জনগণের কল্যাণের জন্য আইন অত্যাবশ্যক। আইন ভঙ্গ করলে সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বল প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদান করে আইন মেনে চলতে বাধ্য করে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
“দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।" - উক্তিটি কোন দার্শনিকের? 
  1. আর. বি. পেরি
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস 
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

- “দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।" - উক্তিটি দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। 

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

উল্লেখ্য,
- বিখ্যাত দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেলের মতে সচেতনভাবে বা অচেতনভাবেই হোক মানুষের মনে এমন কিছু প্রশ্ন জাগে যাদের কোন যুক্তি সঙ্গত উত্তর ধর্মতত্ত্বে যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি আবার বিজ্ঞান এদের নিয়ে আদৌ মাথা ঘামায় না।
- ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এই যে অনধিকৃত একটি রাজ্য তাতেই দর্শন বিচরণ করে চলেছে।
- আর এ কারণেই রাসেল দর্শনকে বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বের মধ্যবর্তী অনধিকৃত রাজ্য (No Man's Land) বলে অভিহিত করেছেন।

⇒ তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৭.
রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা কোনটি?
  1. জনসমষ্টি
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. ভূ-খন্ড
  4. সরকার
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।

সার্বভৌমত্ব: 
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।

- সার্বভৌমত্বের দু'টো দিক রয়েছে। যথা-
(ক) অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব, যার দ্বারা রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর অবাধ ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

(খ) বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব, এ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৮.
প্রতি বছর কোন সংস্থা মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে?
  1. World Bank
  2. UNCTAD
  3. UNDP
  4. UNEP
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI ( Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
- মানব উন্নয়ন সূচক ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৫৫৯.
আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো-
  1. ঘুষ গ্রহণ
  2. নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
  3. ক্ষমতার অপব্যবহার
  4. দায়িত্ব পালনে অবহেলা
সঠিক উত্তর:
নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি:
- দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো “Corruption”.
- এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ “Corruptus” থেকে।
- আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো 'নীতির বিরুদ্ধে আচরণ'।
- সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে 'দুর্নীতি'।
- বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝানো হয়েছে-
'ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।'

যেমন-
→ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার,
→ সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা,
দায়িত্ব পালনে অবহেলা,
→ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার,
→ ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ,
→ স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬০.
‘ওয়াশিংটন কনসেনসাস’ ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. জন মেনার্ড কেইনস
  2. জন উইলিয়ামসন
  3. মিল্টন ফ্রিডম্যান
  4. পল ক্রুগম্যান
সঠিক উত্তর:
জন উইলিয়ামসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন উইলিয়ামসন
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- এটি মুক্ত-বাজার অর্থনৈতিক নীতির একটি গুচ্ছ বোঝায়।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৯ সালে জন উইলিয়ামসন নামের একজন অর্থনীতিবিদ এই ধরণাটির প্রবর্তক।
- তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকস এর একজন অর্থনীতিবিদ।

⇒ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই ধারণাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
- নীতিগুলো হচ্ছে: বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.
৫৬১.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  2. সার্বজনীন ভোটাধিকার
  3. উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস
  4. ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন ভোটাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে - সার্বজনীন ভোটাধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
৫৬২.
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসারে, কোনটি গুরু দণ্ড?
  1. বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
  2. বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ
  3. নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ
  4. তিরস্কার
সঠিক উত্তর:
বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮:
- সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দশম অধ্যায়ের ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কেবলমাত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে লঘু ও গুরু দন্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষের বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর বিভাগীয় মামলায় এই ধারায় উল্লিখিত গুরু বা লঘু দন্ড আরোপের এখতিয়ার বা ক্ষমতা নাই। এই ধারায় এই ক্ষমতা অর্পণেরও কোনো বিধান রাখা হয় নাই। যদিও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর লঘু দন্ড আরোপের ক্ষমতা রয়েছে, যা এই আইনের পরিপন্থী হওয়ায় এই আইনের আওতাধীন কর্মচারীদের জন্য শৃংখলা ও আপীল বিধিমালার আইনটি অকার্যকর।

⇒ দণ্ড:
- নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা:

• গুরু দণ্ডসমূহ:
- নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
- বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
- চাকরি হতে অপসারণ;
- চাকরি হতে বরখাস্ত।

• লঘু দণ্ডসমূহ:
- তিরস্কার;
- নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
- বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
- কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

উৎস: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮।
৫৬৩.
বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?
  1. চিন্তাভাবনা
  2. তৈজসপত্র
  3. নীতিবোধ
  4. বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
তৈজসপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৈজসপত্র
ব্যাখ্যা

• বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে বোঝায়- তৈজসপত্র।

সংস্কৃতির ধরন:

সমাজে সাধারণত দুই ধরনের সংস্কৃতি বিদ্যামান।যথা-
১. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
২. অবস্তুগত সংস্কৃতি।

১. বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম আর এগুলোই বস্তুগত সংস্কৃতি।

২. অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। 

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৪.
গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. Transparency International
  2. Economist Intelligence Unit
  3. UNDP
  4. World Justice Project
সঠিক উত্তর:
Economist Intelligence Unit
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Economist Intelligence Unit
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index):
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU)।
- এটি The Economist Group-এর একটি অঙ্গসংস্থা।
- এটি প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থার মূল্যায়ন করে এই সূচক প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সাধারণত ১৬৫টি স্বাধীন দেশ ও দুটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- সূচকটি নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান মানদণ্ড ব্যবহৃত হয়—
- নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং
- নাগরিক অধিকার।
- মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- পূর্ণ গণতন্ত্র,
- ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র,
- মিশ্র শাসনব্যবস্থা এবং
- কর্তৃত্ববাদী শাসন।
----------------------------
• সুশাসন সম্পর্কিত সূচক:
- সুশাসন কতটা কার্যকরভাবে একটি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে—তা পরিমাপ করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নানা সূচক (Index) প্রকাশ করে।
- এসব সূচক মিলেই একটি দেশের সুশাসনের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।
- যেমন, 
• আইনের শাসন সূচক দেখায় আইন কতটা ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, এটি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক World Justice Project।

• মানুষের জীবনমান পরিমাপের জন্য UNDP ১৯৯০ সাল থেকে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রকাশ করছে।

• গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যাচাই করা হয় World Press Freedom Index দ্বারা, যা প্রকাশ করে Reporters Without Borders.

• মানুষের সামগ্রিক সুখের মাত্রা বোঝাতে World Happiness Index প্রকাশ করে Sustainable Development Solutions Network.

• এছাড়া, বিশ্বে শান্তির অবস্থা জানাতে Global Peace Index প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক Institute for Economics and Peace.

• দুর্নীতির মাত্রা নির্ণয়ে সবচেয়ে পরিচিত সূচক হলো Corruption Perceptions Index, যা প্রকাশ করে Transparency International. 

• আধুনিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল বাণিজ্যের অবস্থা বোঝাতে UNCTAD প্রকাশ করে E-commerce Index। Economist Intelligence Unit. 

উৎস: ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট সূচকের ওয়েবসাইট। 

৫৬৫.
নীতিবিদ্যা মানুষের কোন ক্রিয়া আলোচনা করে?
  1. প্রারম্ভিক ক্রিয়া
  2. আবশ্যিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  4. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য কি?
  1. ক্ষমতা দখল
  2. গোষ্ঠীগত স্বার্থ
  3. জাতীয় স্বার্থ
  4. সামাজিক স্বার্থ
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠীগত স্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠীগত স্বার্থ
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য:
- মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রম বাদ দিলে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সামনে বৃহত্তম জাতীয় কল্যাণ সাধনের কোন মহান উদ্দেশ্য থাকে না।
- সংকীর্ণ ও সমজাতীয় বিশেষ গোষ্ঠীগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উৎপত্তি।

রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৬৭.
সাম্যের অর্থ কী?
  1. বিশেষ সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতি
  2. অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা
  3. শ্রেণি বিশেষের অধিকার প্রতিষ্ঠা
  4. সমান সুযোগ-সুবিধা
সঠিক উত্তর:
সমান সুযোগ-সুবিধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান সুযোগ-সুবিধা
ব্যাখ্যা
সাম্য:
→ সাম্যের অর্থ  - সমান সুযোগ-সুবিধা।
→ সাম্যের অর্থ সমান। সাধারণ অর্থ্য সাম্য বলতে বোঝায় সব মানুষ সমান।
→ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নীতিগতভাবে স্বীকার করা হয় যে, সকল মানুষ সমান। কিন্তু বাস্তবে দেখায়া যায়, সব মানুষ এক সমান নয়। শারীরিক ও মানসিক গঠন এবং ক্ষমতা ও যোগ্যতার দকে থেকে একজনের সাথে অন্যজনের পার্থক্য রেয়েছে। এজ্যই রাষ্ট্রের কাছ থেকে সকলেই সমান ব্যবহার দাবি করতে পারে না। 
→ বার্কার-এর মতে, সম্য কথাটির অর্থ সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পার্থক্য সৃষ্টি না করা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৬৮.
সভ্যতা কী?
  1. লোক-রীতি
  2. নৈতিক ক্ষমতার বিকাশ
  3. উন্নত জীবনধারা
  4. মানুষের আচরণবিধি
সঠিক উত্তর:
উন্নত জীবনধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নত জীবনধারা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।

• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

⇒ সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৯.
সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক কিরূপ?
  1. পরস্পর সম্পূরক
  2. পরস্পর সহায়ক
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- প্রকৃতপক্ষে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সাম্য পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে।

⇒ 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক।
- সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না।
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭০.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ কোনটি?
  1. CEDAW
  2. UNCAC
  3. UNCLOS
  4. CBD
সঠিক উত্তর:
UNCAC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCAC
ব্যাখ্যা
দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- UNCAC জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে:
i) prevention;
ii) criminalization and law enforcement;
iii) international cooperation;
iv) asset recovery;
v) technical assistance and information exchange.

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
৫৭১.
সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি -
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৭২.
চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন কোন ধরণের আইন?
  1. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
  4. আন্তর্জাতিক আইন
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
আইন কত প্রকার তা নির্দিষ্ট নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করেছেন-
১. ব্যক্তিগত আইন ২. সরকারি আইন ।
মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন দুই প্রকার। ১. জাতীয় আইন ২. আন্তর্জাতিক আইন।
জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুইভাগে ভাগ করেছেন- ক. সাংবিধানিক আইন খ. সাধারণ আইন।

আইন সাধারণত তিন প্রকার-
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন (Public Law)
২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন (Private Law)
৩. আন্তর্জাতিক আইন (International Law)
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন: রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হলো রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন। রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন আবার নিম্নরূপ-
ক. ফৌজদারি আইন: রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়। সমাজে শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং দণ্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
খ. প্রশাসনিক আইন: প্রশাসনিক আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা হয় ও সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বর্গের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন: এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত না হলেও সামাজিকভাবে স্বীকৃত। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন- চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।
৩. আন্তর্জাতিক আইন: এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
  2. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষিত হয়
  3. কর্মসংস্থান হ্রাস পায়
  4. সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিগণিত।
- তাই মূল্যবোধ ‍শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
৫৭৪.
অবস্তুগত সংস্কৃতিতে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সাহিত্য
  2. হাতিয়ার
  3. মূল্যবোধ
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
ব্যাখ্যা

- অবস্তুগত সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্ত নয়- হাতিয়ার।
- এটি বস্তুগত সংস্কৃতি।

সংস্কৃতি:

- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই। পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম। এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৫.
লর্ড ব্রাইস এর মতে আইন মান্য করার কারণ কোনটি?
  1. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
  2. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৬.
প্রশাসনিক ভাষায় "সবুজপত্র" বলতে কী বোঝায়?
  1. গোপন চিঠি
  2. আদালতের রায়
  3. জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
  4. আইন প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত নীতিপত্র
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র:
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।
- এর উপর জনসাধারণের মতামত আহবান করে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইউরোপীয় কমিশনে এ প্রথা অনুসূত হয়।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশ সবুজপত্র প্রকাশ করার যে প্রথা অনুসরণ করে, সে প্রথা বাংলাদেশে নেই। তবে নীতি সংক্রা্ন্ত বিষয় অথবা অন্য কোন জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করার রেওয়াজ রয়েছে। এ প্রক্রি্য়ায় দাতাগোষ্ঠীদেরও মতামত গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া, চিন্তাবিদদের নিয়ে গঠিত বেসরকারি সংস্থাও সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭৭.
‘Justice delayed is justice denied’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. উইনস্টন চার্চিল
  3. উইলিয়াম গ্লাডস্টোন
  4. মার্টিন লুথার কিং
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম গ্লাডস্টোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম গ্লাডস্টোন
ব্যাখ্যা
“Justice delayed is justice denied” উইলিয়াম গ্লাডস্টোন এর বিখ্যাত উক্তি।
- এই উক্তিটি আইনি ও বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতার ফলে সৃষ্ট সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব হলে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- এটি বোঝায় যে, যদি ন্যায়বিচার প্রদানের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা প্রকৃতপক্ষে অন্যায়েরই শামিল হয়ে যায়।
- কারণ, বিচার পেতে দেরি হলে ভুক্তভোগী সুবিচার থেকে বঞ্চিত হন এবং অন্যায়কারী আরও বেশি সুযোগ পায়।
- এছাড়া, ন্যায়বিচারের বিলম্ব একটি রাষ্ট্রের সুশাসনের দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
- গণতান্ত্রিক সমাজে দ্রুত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সহায়ক।

উল্লেখ্য,
- উইলিয়াম গ্লাডস্টোন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি চারবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫৭৮.
'গণতন্ত্র হচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র, অজ্ঞ ও অকর্মণ্য ব্যক্তির সরকার'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. জন লক 
  2. লাস্কি
  3. হেরোডোটাস
  4. লেকি
সঠিক উত্তর:
লেকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেকি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র হচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র, অজ্ঞ ও অকর্মণ্য ব্যক্তির সরকার'—উক্তিটি লেকি (Lecky)-এর।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ। 
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

⇒ প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- ডাইসির (Dicey) মতে, ‘‘গণতন্ত্র হল সরকারের একটি রূপ যেখানে পরিচালনা পরিষদে সমগ্র জাতির একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত।’’
- অধ্যাপক সিলির (Prof. Selley) মতে, “গণতন্ত্র হলাে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকেরই অংশগ্রহণ রয়েছে।”
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৯.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি?
  1. দর্শন
  2. ধ্যান-ধারণা
  3. পোশাক
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পোশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোশাক
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:

- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮০.
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ কোনটি?
  1. জ্ঞানবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. উদারতাবাদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
ব্যাখ্যা
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ হলো পূর্ণতাবাদ।
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

⇒  পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
অ্যারিস্টটল কোন গ্রন্থে 'সদ্গুণ'-এর কথা উল্লেখ করেন?
  1. নিকোমেকিয়ান এথিক্স
  2. আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস
  3. রিপাবলিক
  4. লেভিয়াথান
সঠিক উত্তর:
নিকোমেকিয়ান এথিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোমেকিয়ান এথিক্স
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকিয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮২.
ক্ষমতায় 'স্বতন্ত্রীকরণ নীতির' প্রবক্তা কে?
  1. টি, এইচ, গ্রীন
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. মন্টেস্কু
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতায় 'স্বতন্ত্রীকরণ নীতির' প্রবক্তা মন্টেস্কু।

​ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:

- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৩.
আইন ব্যক্তির কী হিসেবে কাজ করে?
  1. পরামর্শক
  2. ভক্ষক
  3. পথ প্রদর্শক
  4. রক্ষক
সঠিক উত্তর:
রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ষক
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

অন্যদিকে,
- জন লক বলেছেন, 'যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।' আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক, মানুষ তাই আইন মান্য করে। তবে শাস্তির ভয়, উপযোগিতা, আনুগত্য ও চেতনাবোধই আইন মেনে চলার অন্যতম কারণ।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৮৪.
"আইনের চোখে সব নাগরিক সমান।"- বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ধারা ০৭
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ৩৭
  4. ধারা ৪৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
→ বাংলাদেশের সংবিধানের 'তৃতীয় অধ্যায়' - এর "মৌলিক অধিকার" অংশের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
→ অনুচ্ছেদ - ২৭ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
→ সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
→ 27th article-All citizens are equal before the law and are entitled to equal protection of law.

• বাংলাদেশের সংবিধানের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ ⎯ ১৩: মালিকানার নীতি,
অনুচ্ছেদ ⎯ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
অনুচ্ছেদ - ১৯: সুযোগের সমতা
অনুচ্ছেদ - ২৮: ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য,
অনুচ্ছেদ ⎯ ২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা। 
অনুচ্ছেদ - ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
অনুচ্চেদ - ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮৫.
অধ্যাপক হল্যান্ড নিচের কোনটিকে আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করে নি?
  1. প্রথা
  2. ন্যায়বিচার
  3. জনমত
  4. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা
আইনের উৎস:
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইনের উৎস ৬টি:
১. প্রথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

অর্থাৎ, 'জনমত'- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস নয়।

অন্যদিকে,
- ওপেনহাইম এর মতে, আইনের উৎস ৭টি:
১. প্রথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৫৮৬.
আইনের সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. প্রথা
  3. ন্যায়বিচার
  4. বিচারকের রায়
সঠিক উত্তর:
প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা
ব্যাখ্যা
আইন ও প্রথা:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে, সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রথা বা রীতিনীতি, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা হচ্ছে আইনের উৎসসমূহ।

উল্লেখ্য,
- আইনের একটি সুপ্রাচীন উৎস প্রথা।

- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজে অধিকাংশ জনগণ কর্তৃক সমর্থিত, স্বীকৃত ও পালিত হয়ে আসছে, তাকে প্রথা বলে।
- প্রাচীনকালে কোনো আইনের অস্তিত্ব ছিল না। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে প্রথার মাধ্যমে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ হতো।
- রাষ্ট্র সৃষ্টির পর যেসব প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে সেগুলো আইনে পরিণত হয়।
- যুক্তরাজ্যের অনেক আইন প্রথার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস:
i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৮৭.
ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক নীতিমালা কোনটির ওপর নির্ভরশীল?
  1. অশুদ্ধ বুদ্ধি
  2. বিকৃত আচরণ
  3. মন্দ আচরণ
  4. শর্তহীন আদেশ
সঠিক উত্তর:
শর্তহীন আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্তহীন আদেশ
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৫৮৮.
নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধানের জন্য কোন আইনের প্রয়োজন?
  1. প্রশাসনিক আইন
  2. ফৌজদারি আইন
  3. শাসনতান্ত্রিক আইন
  4. বেসরকারি আইন
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইন সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে বিভিন্ন ভাগেভাগ করা যায়:

⇒ জাতীয় আইন:
- জাতীয় আইন হচ্ছে সেসব আইন যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও কার্যকর হয়।
- জাতীয় আইন সরকারই কিংবা বেসরকারি দুই রকমের হতে পারে।

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

⇒ বেসরকারি আইন:
- এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।
- যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।

⇒ আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
- আন্তর্জাতিক আইনকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- শান্তিকালীন আইন, যুদ্ধসংক্রান্ত আইন এবং নিরপেক্ষতার আইন।
- এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত।

⇒ সাংবিধানিক বা শাসনতান্ত্রিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।
- শাসনতান্ত্রিক আইন লিখিত এবং অলিখিত এই দুই রকমের হতে পারে।

⇒ প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরূপ।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

⇒ ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৯.
সাম্য ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন?
  1. বিরূপ
  2. সম্পূরক
  3. নির্ভরশীল
  4. চমৎকার
সঠিক উত্তর:
নির্ভরশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

সাম্য ও গণতন্ত্র:
- সাম্য ও গণতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন।
- কেননা গণতন্ত্র প্রত্যেকেরমতের মূল্যায়ন করে।
- সাম্যের অনুপস্থিতিতে এটা সম্ভব নয়।
- যেখানে শ্রেণিভেদ প্রথা ও জাতিভেদ প্রথা রয়েছে, বংশ ও রক্তের আলাদা মর্যাদা রয়েছে সেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল।
- অর্থাৎ সামাজিক সাম্য গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।
- সমাজবিজ্ঞানী উফ বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে বুঝায় মুক্ত, সমান, সক্রিয় ও সচেতন নাগরিকের এক সমাজ।”
- এরূপ সমাজ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করতে পারে।
- তদ্রুপ যে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট সেখানে জীবিকার্জন নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত হবে যে, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় ও সুযোগ পাবে না।
- আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সুযোগ থাকে বলে জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ
করে। তাই দেখা যায় গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল। 

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৫৯০.
‘সুবর্ণ মধ্যক’ ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. টমাস হবস
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- এই ধারণার মূল কথা হলো, কোনো বিষয়ে চরম অবস্থা পরিহার করে দুটি অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বা মধ্যম পথ অবলম্বন করা উচিত।
- যেমন একদিকে অতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং অন্যদিকে অভাব- এই দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান হলো "সুবর্ণ মধ্যক"।
- গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলএই ধারণার প্রবর্তক।

উৎস: Britannica.
৫৯১.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'-এর মূল প্রবক্তা কে? 
  1. চার্লস মন্টেস্কু
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. জন লক
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা। প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে। কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

এছাড়াও,
• ফরাসি চিন্তাবিদ জ্যাঁ বডিন বলেন, "আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাঁরা কঠোর আইন প্রণয়ন করে তা নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করবেন।" তাঁর কথায় একই সাথে বিচারক এবং আইন প্রণেতা হওয়ার অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচারের সাথে ক্ষমতার অধিকার এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার সংমিশ্রণ।"

• ইংল্যান্ডের বিখ্যাত চিন্তাবিদ জন লক এ প্রসঙ্গে বলেন, "একই ব্যক্তি আইন রচনা এবং তা প্রয়োগ করলে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই তিনি অধিকার রক্ষার স্বার্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ অপরিহার্য বলে মনে করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯২.
নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে কী প্রতিষ্ঠা সহজ হয়?
  1. সুশাসন
  2. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. অবকাঠামোগত উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা।
- সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে।
- এ জন্য বলা হয়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব হলো বৈধ নেতৃত্ব।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৯৩.
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে নিচের কোনটি জরুরি?
  1. স্বীকৃতি
  2. স্নেহ
  3. সাফল্য
  4. উল্লেখিত সবকটি
সঠিক উত্তর:
উল্লেখিত সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লেখিত সবকটি
ব্যাখ্যা
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে উল্লেখিত সবকটিই (ক) স্বীকৃতি, (খ) স্নেহ এবং (গ) সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

স্বীকৃতি: 
- শিশুদের সাফল্য, চেষ্টা এবং অগ্রগতি স্বীকৃত হওয়া দরকার। 
- এটি তাদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্ম-মর্যাদা গড়ে তোলে। 

স্নেহ: 
- শিশুদের অনুভব করতে হবে যে তারা পরিবার ও সমাজের দ্বারা গৃহীত এবং স্নেহ পাচ্ছে। 
- স্নেহ এবং গ্রহণযোগ্যতার অনুভূতি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। 

সাফল্য: 
- শিশুদের সামান্য সাফল্য ও কৃতিত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। 
- এটি তাদের আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি করে। 
সুতরাং, স্বীকৃতি, স্নেহ এবং সাফল্য এই তিনটি উপাদান শিশুর সুস্থ এবং সুষম মনোবৈজ্ঞানিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। 
৫৯৪.
সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ কোন ধরণের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
সামাজিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক সাম্য
ব্যাখ্যা
• সামাজিক সাম্য (Social Equality):
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হয় না তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- সামাজিক সাম্যের মূল কথা হলো সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৫.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  2. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  3. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
  4. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
৫৯৬.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্তের উল্লেখ করেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৯৭.
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চতুর্থ ভিত্তি কী?
  1. স্মার্ট সরকার
  2. স্মার্ট সমাজ
  3. স্মার্ট অর্থনীতি
  4. স্মার্ট নাগরিক
সঠিক উত্তর:
স্মার্ট সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মার্ট সমাজ
ব্যাখ্যা
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চতুর্থ ভিত্তি হলো স্মার্ট সমাজ।

স্মার্ট বাংলাদেশ:
- স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও শ্লোগান।
- এই প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে 'স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চারটি ভিত্তি:
- স্মার্ট সিটিজেন,
- স্মার্ট ইকোনমি,
- স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও,
- স্মার্ট সোসাইটি।

স্মার্ট নাগরিক:
- শতভাগ শিক্ষিত নাগরিকেরা নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদের এবং সমাজের সকলের জীবন ও জীবিকার মান বদলে দেবে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তারা সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে; সরকারি ও বেসরকারি খাত প্রদত্ত পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে; দেশ বিদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ঋদ্ধ করে তুলবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

স্মার্ট অর্থনীতি:
- স্মার্ট অর্থনীতি ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নারী-পুরুষ, শিক্ষা অথবা ভৌগোলিক দূরত্ব নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। রোবটিক্সের ব্যবহার হবে কৃষি, শিল্প, সেবা সকল খাতে; কমিয়ে ফেলা যাবে কায়িক শ্রম; সম্পদের হবে সুষ্ঠু ব্যবহার; কমবে অপচয়; বাড়বে উৎপাদনশীলতা; খরচ কমবে উৎপাদনের; উৎপাদন হয়ে উঠবে প্রতিযোগিতামূলক; প্রসারিত হবে আভ্যন্তরীণ ও রফতানি বাজার। তথ্য প্রযুক্তি সহযোগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নেয়া যাবে দ্রুত ও তথ্য নির্ভর সিদ্ধান্ত; সহজে করা যাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা; ব্যবস্থাপনা হয়ে উঠবে দক্ষ।

স্মার্ট সরকার:
- প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার পরিচালনা ব্যবস্থাকে দক্ষ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে, সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করবে। স্মার্ট সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তই হবে জ্ঞাননির্ভর। আইওটি, মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এবং স্মার্ট নাগরিকদের স্মার্ট প্রতিনিধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করবে। সরকার তথা রাষ্ট্র হয়ে উঠবে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

স্মার্ট সমাজ:
- স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তির সহযোগিতায় দূর করা যাবে সব রকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সমাজে নাগরিকেরা জ্ঞান চর্চা ও প্রয়োগের সুযোগ পাবেন অনেক বেশি। সঠিক তথ্য প্রবাহের ফলে কমে যাবে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অনৈতিক সুযোগ। প্রযুক্তি ব্যবহার সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদন ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের সময় ও সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

উৎস: smartbangladesh.gov.bd ওয়েবসাইট।
৫৯৮.
কোন দুটি ব্যবস্থার মাঝামাঝি একটি মধ্যম পথ হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র উদ্ভূত হয়?
  1. রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র 
  3. চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র
  4. ধর্মতন্ত্র ও নাস্তিকতা
সঠিক উত্তর:
চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
 
⇒ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
 - মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- মূলত সামজতন্ত্রকে প্রতিরোধ করার জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্ম পন্থা গ্রহণ করে। এই ভাবে চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি একটি মধ্যম ব্যবস্থা হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। বর্তমান বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কম-বেশী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে মানুষের দুঃখ কষ্টের লাঘব করে থাকে। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে সুফল লাভের ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নাগরিকদের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সমাজের ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
iii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৯.
উপযোগবাদ অনুসারে কোনো কাজের নৈতিকতা নির্ধারিত হয় কীভাবে?
  1. কাজের উদ্দেশ্য দিয়ে
  2. ব্যক্তিগত গুণাবলী দিয়ে
  3. কাজের প্রকৃতি দিয়ে
  4. কাজের ফলাফল দিয়ে
সঠিক উত্তর:
কাজের ফলাফল দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের ফলাফল দিয়ে
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ (Utilitarianism) অনুসারে, কোনো কাজের নৈতিকতা সম্পূর্ণরূপে তার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, উদ্দেশ্য বা কাজের প্রকৃতির ওপর নয়।

উল্লেখ্য,
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৬০০.
N.G.O শব্দটির পূর্ণরূপ কী?
  1. National Governmental Organisation
  2. Non-Governmental Organisation
  3. New Governmental Organisation
  4. Non-Governing Organisation
সঠিক উত্তর:
Non-Governmental Organisation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Non-Governmental Organisation
ব্যাখ্যা
এন.জি.ও (N.G.O): 
- এন.জি.ও (N.G.O) শব্দটির পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organisation.
- এন.জি.ও বলতে বেসরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বোঝায়।
- এন.জি.ও.-গুলো উন্নয়ন সহযোগী। এ কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে এর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলছে।
- অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে এন.জি.ও. সমূহ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
- এসব রাষ্ট্রে এন.জি.ও.গুলো মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানবসম্ভাবনাকে জাগ্রত করে।
- স্থানীয় ও গ্রামীণ জনগণের দারিদ্র্য দূরীকরণে, সম্পদ সমাবেশ ও ক্ষুদ্র পুঁজি সংগ্রহ ও সমাবেশ উন্নয়নমূলক কাজে জনগণের বিশেষ করে গ্রামীণ জনগণের বিনিয়োগ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নে এন.জি.ও.-গুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেই চলেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।