বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

মোট প্রশ্ন৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৬৪৬

.
'আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।' - এই উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিনের
  2. এরিস্টটলের 
  3. হল্যান্ডের
  4. হেনরি মেইনের
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটলের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটলের 
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন ফার্সি শব্দ।
- ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।

• আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের , "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'- উক্তিটি কার?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. থমাস জেফারসন
  3. অধ্যাপক গার্নার
  4. পিয়েরে ল্যান্ডেল মিলস্
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক গার্নার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক গার্নার
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্র
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। 
​ প্রতিটি রাষ্ট্রেরই আছে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং জনসংখ্যা। 
​এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আরও আছে সরকার এবং সার্বভৌমত্ব। 
​মূলত এগুলো ছাড়া কোনো রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

​ অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'
এ সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের চারটি উপাদান পাওয়া যায়। যথা-
- জনসমষ্টি, 
- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
- সরকার ও 
- সার্বভৌমত্ব।

​​উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
আইনের প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে ______________।
  1. ধর্ম
  2. প্রথা
  3. সংবিধান
  4. আইন পরিষদ
সঠিক উত্তর:
প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা
ব্যাখ্যা
আইন এর সংজ্ঞা:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন লক- "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
- এরিস্টটল- "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, “আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।” 

আইন সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
• প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
• গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ধর্ম।
• আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
• আইনের মৌলিক উৎস- সংবিধান।
• স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক- আইন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. হার্বাট স্পেনসার
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন। এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

.
‘নারী ও শিশু নির্যাতন’ কোন ধরনের সমস্যার উদাহরণ?
  1. অর্থনৈতিক সংকট
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. পরিবেশগত সমস্যা
  4. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের অভাবজনিত সামাজিক অবক্ষয়:
- সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও সুশাসনের অভাব সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
- সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে না।
- এতে মানুষের মধ্যে অসততা, অনাচার ও অন্যায়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

সামাজিক অবক্ষয়সমূহ হলো:
অপসংস্কৃতি, যুব সমাজের অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দরিদ্রতা, খাদ্যে ভেজাল, সহিংসতা ও যুদ্ধমূলক সমস্যা, যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, মৌলবাদ, বর্ণবাদ, রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্র আক্রমণ ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
আধুনিক গণতন্ত্রের জনক কে?
  1. পল স্যামুয়েলসন
  2. অ্যারিস্টটল
  3. জন লক
  4. ক্লিসথেনিস
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে।
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক।
- জন লক ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও আলোকিত যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৬৩২ সালে ২৯ আগস্ট ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে জন লকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু।

অন্যদিকে -
- গণতন্ত্রের জনক হচ্ছেন অ্যারিস্টটল।
- ক্লিসথেনিসকে 'এথেনীয় গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.

.
জনমত গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক?
  1. তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক শিক্ষা 
  4. অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা 
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. তিন ধরনের
  2. চার ধরনের
  3. পাঁচ ধরনের
  4. আট ধরনের
সঠিক উত্তর:
চার ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ধরনের
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত।
এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে -
  1. বিরোধী দল
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. সুশীল সমাজ
  4. সংবাদপত্র
সঠিক উত্তর:
সংবাদপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
সংবাদপত্র:
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
- সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে।
- এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।
- তাই সরকার ও জনগণের মধ্যে সংবাদপত্র আয়নার মতো কাজ করে

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১০.
প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে সুশাসন সম্পর্কে কী বলেছেন?
  1. “শাসনপ্রক্রিয়া আইন নির্ভর হওয়া উচিত।”
  2. “শাসকের নৈতিকতা আইন দ্বারা নির্ধারিত।”
  3. “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
  4. “শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন শক্তিশালী।”
সঠিক উত্তর:
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
উত্তর
সঠিক উত্তর:
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে সুশাসন সম্পর্কে “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।” এই উক্তিটি বলেছেন।

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বইটি Plato’s Republic নামে পরিচিত।
- তার লেখা অন্যান্য বই:
- Symposium
- Apologia Sokrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।  

উল্লেখ্য,
- কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
- অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
- সুশাসন এমন একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং আইন অনুসরণ করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
১১.
"গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা” - কথাটি কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. জর্জ ওয়াশিংটন 
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিঙ্কন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিঙ্কন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র: 
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা'।
- গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের (Abraham Lincoln) সংজ্ঞা খুবই জনপ্রিয়।
- তার মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২.
অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. জনমত
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
অধিকারের রক্ষাকবচ:
- বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার অত্যাবশ্যক।
- রাষ্ট্রই নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রবর্তন ও তা সংরক্ষণ করে থাকে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের শর্তগুলোকে “অধিকারের রক্ষাকবচ" বলে।
এগুলো হল:
-আইন(প্রধান)
- গণতন্ত্র
- সংবিধানে মৌলিক অধিকারের ঘোষণা
- আইনের অনুশাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
- জনগণের সজাগ দৃষ্টি

- আইন (Law):
→ আইন হচ্ছে অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ।
→ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়।
→ আইন হচ্ছে অধিকার ভোগের আবশ্যকীয় শর্ত বা রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩.
সার্বজনীন মানবাধিকার গৃহীত হয় কবে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  2. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  3. ১৪ মে, ১৯৪৮
  4. ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকারের ধারণা:
- অধিকারবোধ থেকে মানবাধিকারের উৎপত্তি হয়েছে।
- মানবাধিকার বলতে সেসব আইনগত ও নৈতিক অধিকারকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। প্রতিটি মানুষ এ অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ঘোষণাপত্রে মানবাধিকার সংক্রান্ত কতগুলো সাধারণ নীতি রয়েছে। যেমন:
১. সকল মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
২. সকল মানুষ যেকোন প্রকার পার্থক্য, যথা: জাতি, গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, মতাদর্শ, জাতীয় ও সামাজিক পরিচিতি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে ঘোষণায় উল্লেখিত সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের অধিকারী।
৩. মানবাধিকার সমগ্র বিশ্বের সর্বস্থানে সর্বকালের সকল মানুষের প্রাপ্য।
৪. বিশ্বের যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিককে তাঁর দেশের বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা হবে না। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কোনটি ব্যতীত গণতন্ত্র সফল হতে পারে না?
  1. অর্থনৈতিক সাম্য
  2. সচেতনতা
  3. আইনের শাসন
  4. কুসংস্কার
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ। 
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- সুতরাং গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা। 
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

⇒ প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- ডাইসির (Dicey) মতে, ‘‘গণতন্ত্র হল সরকারের একটি রূপ যেখানে পরিচালনা পরিষদে সমগ্র জাতির একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত।’’
- অধ্যাপক সিলির (Prof. Selley) মতে, “গণতন্ত্র হলাে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকেরই অংশগ্রহণ রয়েছে।”

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৫.
"আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ" - কথাটি কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হল ফার্সি শব্দ যার অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Law"। Law শব্দের অর্থ স্থির বা অপরিবর্তনীয় এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন"।
- The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম"।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
- জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন হল মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
কোন সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন?
  1. অর্থনৈতিক
  2. ব্যক্তিগত
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ (UNCAC) কত সালে অনুমোদিত হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ২০০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ:
- দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা; পৃথিবীর কোনো দেশই পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়।
- আর তাই জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর 'আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ' United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) অনুমোদিত হয়।
- একই বছর ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডায় উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সনদটি উন্মুক্ত করা হয়।
- স্বাক্ষর প্রদানের গুরুত্বকে স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে এবং ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালন ও স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলো।
- যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক, রাষ্ট্রীয়, সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দেশের সকল নাগরিকসহ সকল অংশীজনের- এই মর্মে প্রচারণা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পালন করা এই দিবসটি উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য।

উৎস: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট। 

১৮.
আইনের মূল কথা কোনটি?
  1. ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  2. আইনের চোখে সবাই সমান
  3. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  4. মানুষের বিবেক জাগ্রত করে
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।”
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে আইনের মূল কথা হল আইন মানুষের "বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে"।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উল্লেখ্য, 
- আইনের শাসনের মূল কথা 'আইনের চোখে সবাই সমান' কিন্তু আইনের মূল কথা আইন মানুষের "বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে"।
- বিষয়টা খেয়াল করুন আইন আর আইনের শাসন এক নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
'আমলাতন্ত্র' প্রথম উপস্থাপন করেন কে?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. এমিল ডুর্খেইম
  3. কার্ল মার্ক্স
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

• আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হল একটি সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থা যা বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে জটিলতা, শ্রম বিভাজন, স্থায়িত্ব, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, শ্রেণিবিন্যাস সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, কঠোর চেইন অফ কমান্ড এবং আইনি কর্তৃত্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত সংগঠনের নির্দিষ্ট রূপ।
- 'আমলাতন্ত্র' তত্ত্ব প্রথম উপস্থাপন করেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী 'ম্যাক্স ওয়েবার' (১৮৬৪-১৯২০)।
- তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক উত্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২০.
গণতন্ত্রের অর্থ হল - 
  1. জনগণের শাসন
  2. জনপ্রতিনিধির শাসন
  3. বিচারকের শাসন
  4. শোষিতের শাসন
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন।
- গ্রীক Demos ও Kratia শব্দদ্বয় হতে Democracy শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনসাধারণ এবং Kratia শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত বা উৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণ পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২১.
অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের কোন উৎসের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. প্ৰথা
  2. সার্বভৌমের আদেশ
  3. ধর্ম
  4. বিচারকের রায়
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমের আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমের আদেশ
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস নয় সার্বভৌমের আদেশ।

আইন:

- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
- যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
- যথা: প্ৰথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা, জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২.
"আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা” - উক্তিটি কার? 
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. আইনবিদ স্যামন্ড
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
আইনবিদ স্যামন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনবিদ স্যামন্ড
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।

- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" 
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।" 
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"

- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৩.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?
  1. সিসেরো
  2. মন্টেস্কু
  3. এরিস্টটল
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• মন্টেস্কু:
→ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা - মন্টেস্কু।
→ ১৭৪৮ সালে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর “The Spirit of Laws” নামক সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
→ মন্টেস্কুর মতে, কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে একচেটিয়া সরকারি ক্ষমতা প্রদান ঠিক নয়।
→ তাঁর মতে, এক বিভাগের ক্ষমতা দিয়ে অন্য বিভাগের ক্ষমতা সংযত ও সীমিত করতে হবে।
→ কোনো বিভাগ তার নিজস্ব এখতিয়ারের বাইরে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাইলে অন্য বিভাগ তা প্রতিরোধ করবে।
→ মন্টেস্কু বলেন, “সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা অবশ্যই পৃথক হবে এবং বিভিন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা এমনভাবে ব্যবহৃত হবে যেন একটি অপরটির সাথে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রক্ষা করে।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, মো. মোজাম্মেল হক।
২৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. অধ্যাপক ফাইনার
  2. অধ্যাপক অ্যালমন্ড
  3. অধ্যাপক মাইরন উহনার
  4. অধ্যাপক এলান পটার
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ফাইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ফাইনার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
'A System of Logic' - গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]:
- মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill] এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা।
- আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Utilitarianism,
- A System of Logic,
- On Liberty,
- Three Essays on Religion: Nature, the Utility of Religion, and Theism
- The Subjection of Women,
- The Spirit of the Age প্রভৃতি।

সূত্র: ব্রিটানিকা.কম।
২৬.
গণতন্ত্রের সফলতার জন্যে জনগণের মাঝে কী প্রয়োজন?
  1. একনায়কতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য
  2. ভ্রাতৃত্ববোধ
  3. সজাগ দৃষ্টি
  4. মানবিকতা
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতৃত্ববোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতৃত্ববোধ
ব্যাখ্যা

• ভ্রাতৃত্ববোধ:
- ‘ভ্রাতৃত্ববোধ’ গণতন্ত্রের সফলতার অন্যতম একটি শর্ত।
- গণতন্ত্রের সফলতার জন্যে জনগণের মাঝে প্রয়োজন ভ্রাতৃত্ববোধ।
- জনগণের মধ্যেকার ভ্রাতৃত্ববোধ থাকলে তারা এক অপরের দুঃখ্য কষ্ট বুঝতে পারবে।

এছাড়া ও ,
• গণতন্ত্রের সফলতার অন্যতম আরো কয়েকটি শর্ত হলো:
- অর্থনৈতিক সাম্য।
- সামাজিক সাম্য।
- সহনশীলতা।
- গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য।
- যথার্থ আইনের শাসন।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
- দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব।
- সুষ্ঠ জনমত।
- সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭.
জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে Aspire to Innovate (a2i) প্রকল্পটি শুরু হয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা
Aspire to Innovate (a2i):
- ২০০৫ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ-আইটিইউ-এর ঘোষণাপত্রে সরকারি পরিষেবার ডিজিটাল রূপান্তরকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরা হয়; পরিষেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবাগুলিকে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করার কথা বলা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায়, পরের বছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সম্পূর্ণরূপে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কর্তৃক অর্থায়নে, 'অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (a2i) প্রোগ্রাম' নামে একটি প্রকল্প শুরু করে।
- প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সালের অক্টোবরে শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা হয়ে ওঠে।

⇒ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, a2i UNDP বাংলাদেশের সহায়তায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে, যাতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দ্রুত, স্বচ্ছ, ঝামেলামুক্ত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পরিষেবা প্রদান করা যায়। a2i জনসেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং একটি জনবান্ধব উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তুলে এক অভূতপূর্ব রূপান্তরে সহায়তা করছে যা পরিষেবাগুলিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী মূল্যের, নির্ভরযোগ্য এবং অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলে। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হল নাগরিকদের ঐতিহ্যগতভাবে এই ধরনের পরিষেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, খরচ এবং পরিদর্শন হ্রাস করে আরও গুণগত এবং সন্তোষজনক পরিষেবা প্রদান করা, যার ফলে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা।

⇒ 'কাউকে পিছনে ফেলে রাখবেন না' এই নীতিবাক্য নিয়ে, a2i ধীরে ধীরে তার কার্যক্রম এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলি প্রসারিত করেছে। ২০২০ সালে, প্রকল্পের নাম 'অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন' থেকে 'অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট' করা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ওয়েবসাইট।
২৮.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  4. ভোটদান
সঠিক উত্তর:
ভোটদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোটদান
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ।
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব।
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য কী?
  1. রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অর্জন
  2. সমাজে চলাফেরা নিশ্চিত করা
  3. ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষা
  4. সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অর্জন
ব্যাখ্যা

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

অন্যদিকে,
⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।” রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।” অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩০.
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়"- উক্তিটি কার?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. ম্যাককরনী
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩১.
বেকারত্ব থেকে মুক্তি লাভ কোন ধরনের সাম্য?
  1. আইনগত সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি লাভ অর্থনৈতিক সাম্য।

অন্যদিকে, 
• সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

• রাজনৈতিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।

• আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২.
গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্রফেসর সিলী
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. কার্ল জি ফ্রেডরিখ 
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর সিলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর সিলী
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ প্রফেসর সিলী বলেন, "গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”

অন্যদিকে,
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ মৌলিক অধিকার:
- মৌলিক অধিকার বলতে বুঝায় নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং অলঙ্ঘনীয়।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।

⇒ মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে।

⇒ তথ্য পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪.
নিম্নলিখিত কোনটি অধ্যাপক লাস্কির প্রদত্ত সাম্যের বিশেষ দিকগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত?
  1. সম্পদের অসম বণ্টন
  2. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
  3. বৈষম্যমূলক সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  4. বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমানাধিকারের নীতিকে বোঝায়।
- সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে একটি সমাজে বৈষম্য, শোষণ ও অন্যায়ের আধিপত্য বিস্তার করে।

অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ০৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে-
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি;
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি;
৩. বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
'The Most Good You Can Do' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হাইডেগার
  2. হেগেল
  3. পিটার সিঙ্গার
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

সূত্র: Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

৩৬.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে, নিম্নের কোনটি আইন মান্য করার একটি কারণ?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. প্রথাগত বাধ্যবাধকতা
  3. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. রাজনৈতিক প্রভাব
সঠিক উত্তর:
অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
৩. নির্লিপ্ততা;
৪. সহানুভূতি;
৫. শাস্তির ভয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
প্লেটোর মতে কোনটি ‘সদগুণ’?
  1. প্রজ্ঞা
  2. ন্যায়
  3. মিতাচার
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোন ধরনের সাম্যের অন্তর্গত?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৯.
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থায়?
  1. একনায়কতন্ত্রে
  2. গণতন্ত্রে
  3. রাজতন্ত্রে
  4. প্রজাতন্ত্রে 
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত:
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে তারাই গণতন্ত্রে সরকার গঠন করে।
→  নির্বাচকমন্ডলী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
নিচের কোনটি 'মানব উন্নয়ন সূচক'-এর মৌলিক নির্দেশক?
  1. জনসংখ্যা হ্রাসের হার
  2. প্রতিরক্ষা উন্নয়ন বাজেট
  3. দেশের মানুষের মাথপিছু আয়
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
সঠিক উত্তর:
দেশের মানুষের মাথপিছু আয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের মানুষের মাথপিছু আয়
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
- মানব উন্নয়ন সূচক (Human development index) হলো এমন একটি সূচক, যার দ্বারা কোনো একটি দেশের নাগরিক কতটা ভালো জীবনযাপন করে এবং সেই দেশ কতটা উন্নত তা বোঝা যায়।
- কোনো একটি দেশ মানব উন্নয়ন সূচকে কতটা ভালো স্কোর করবে তা নির্ভর করে কয়েকটি নির্দেশকের উপর।
- এগুলো হলো:
i) মানুষের গড় আয়ু,
ii) মানুষের শিক্ষার মান,
iii) দেশের মানুষের মাথপিছু আয়।

উল্লেখ্য,
- যে দেশের মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষার হার ও মাথাপিছু আয় বেশি হয়, সেই দেশের মানব উন্নয়ন সূচক স্কোর বেশি হয়।

⇒ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) human Development Report 2021-2022 প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান: ১২৯তম।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৪১.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সংবাদমাধ্যম
  2. শাসন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. আইন বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সংবাদমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদমাধ্যম
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

⇒ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক। তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি এই বিকল্পটি দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, চারটি আক্রমণাত্মক সংবাদপত্র হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ক্ষতিকর।’
- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।

অন্যদিকে -
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
- এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে।
- স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
৪২.
মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য কোনটি অপরিহার্য?
  1. সম্পদ
  2. ক্ষমতা
  3. স্বাধীনতা
  4. প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- স্বাধীনতা মানুষের জীবনকে নিরাপদ এবং মর্যাদাসম্পন্ন করে।
- ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ করে দেয়।
- স্বাধীনতা মানুষের মধ্যে অধিকার বোধ জাগ্রত করে।
- স্বাধীনতা থাকলেই মানুষ তার প্রাপ্য আদায় করতে পারে।
- পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত থেকে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির জীবনে শান্তি, উন্নতি ও কল্যাণ বয়ে আনে।
- তাই মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। 
- সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, কর্ম সকল ক্ষেত্রেই স্বাধীনতার প্রয়োজন।
- স্বাধীনতা জীবনকে নিরাপদ, মহীয়ান, গৌরবময় করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি  প্রোগ্রাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১৪
  2. অনুচ্ছেদ- ১৫
  3. অনুচ্ছেদ- ১৬
  4. অনুচ্ছেদ- ১৭
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৫
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়,
- “রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
- (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
- (খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
- (গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
- (ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷”

অন্যদিকে,
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৪.
কোন পদ্ধতি অনুসারে রাজা বা রানি নামমাত্র শাসক হয়ে থাকেন?
  1. নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে
  2. অভিজাততন্ত্রে 
  3. নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
  4. একনায়কতন্ত্রে 
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভের পদ্ধতি অনুসারে সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) এবং প্রজাতন্ত্র (Republic) এই দুভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন উত্তরাধিকারসূত্রে। রাজা বা রানি নামমাত্র শাসক।
- প্রকৃত শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের হাতে।
- গ্রেট ব্রিটেন, জাপান প্রভৃতি রাষ্ট্রে এরূপ সরকার প্রচলিত রয়েছে।
- কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন রাষ্ট্রপ্রধান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা নির্বাচিত হন তখন তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।
- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি রাষ্ট্রে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রচলিত রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৫.
Deontological Ethics-এর মূল কথা কী?
  1. সর্বাধিক সুখই মূল
  2. নৈতিকতা ফলাফলের উপর নির্ভর
  3. সামাজিক সম্মতি
  4. কর্তব্য পালন এবং নৈতিক নিয়ম
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য পালন এবং নৈতিক নিয়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য পালন এবং নৈতিক নিয়ম
ব্যাখ্যা

Deontological Ethics (কর্তব্যমুখী নৈতিকতা):
- Deontological Ethics বা কর্তব্যজ্ঞানীয় নীতিশাস্ত্র হলো এমন একটি আদর্শিক নৈতিক দর্শন, যা কর্মের ফলাফলের পরিবর্তে নৈতিক নিয়ম, কর্তব্য এবং বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে কোনো কাজের সঠিক বা ভুল নির্ধারণ করে।
- Deontological ethics (কর্তব্যজ্ঞানীয় নীতিশাস্ত্র) বা কর্তব্য-ভিত্তিক নৈতিকতার মূল কথা হলো—কাজের ফলাফল (consequences) যেমনই হোক না কেন, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম, নীতি বা কর্তব্য মেনে চলাই হলো নৈতিক আচরণ।
- এটি ফলাফলের পরিবর্তে কাজের অভিপ্রায় এবং 'কর্তব্য' পালনের ওপর জোর দেয়।

উল্লেখ্য,
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উৎস: Britannica.

৪৬.
বিকল্প নীতি উত্থাপন কে করতে পারে?
  1. সরকারি দল
  2. বিরোধী দল
  3. সামরিক বাহিনী
  4. সচিবালয়
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

⇒ বিরোধী দলের বৈশিষ্ট্য:
১। গঠনমূলক সমালোচনা,
২। অধিকার বাস্তবায়ন,
৩। গণতন্ত্র রক্ষা,
৪। বিকল্প নীতি উত্থাপন,
৫। সমস্যা চিহ্নিত করা,
৬। জনমত গঠন,
৭। প্রার্থী মনোনয়ন,
৮। পারস্পরিক সম্পর্ক,
৯। রাজনৈতিক সংযোগ সাধন,
১০। রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ,
১১। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ ধরা হয় কোনটিকে?
  1. আইন বিভাগ
  2. সংবাদপত্র
  3. সুশীল সমাজকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজকে
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ (Civil Society):
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- সুশীল সমাজের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ প্রেস, রেডিও, টিভি মাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে বা মুখপাত্র হিসেবে যে বক্তব্য প্রকাশ করে থাকেন তা সুষ্ঠু জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

⇒ রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ ধরা হয় সুশীল সমাজকে (Civil Society)।
- রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভ হল আইনসভা, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম।
- সুশীল সমাজ এই চারটি স্তম্ভের বাইরে থেকে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে, সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
- তাই একে রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৪৮.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন কোনটি?
  1. জেনেভা কনভেনশন
  2. মেরিডা কনভেনশন
  3. আইএলও কনভেনশন
  4. ভিয়েনা কনভেনশন
সঠিক উত্তর:
মেরিডা কনভেনশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরিডা কনভেনশন
ব্যাখ্যা
মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention): 
- মেরিডা কনভেনশন জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।
- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে। 

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
৪৯.
গণতন্ত্রের অর্থ হল -
  1. জনগণের শাসন
  2. জনপ্রতিনিধির শাসন
  3. মানুষের শাসন
  4. শোষিতের শাসন
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন।
- গ্রীক Demos ও Kratia শব্দদ্বয় হতে Democracy শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনসাধারণ এবং Kratia শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত বা উৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণ পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫০.
Existentialism হচ্ছে -
  1. একটি উগ্রবাদী সংগঠন
  2. একটি দার্শনিক মতবাদ
  3. একটি ব্যবসায় সংগঠন
  4. একটি নৈতিকতার মতবাদ
সঠিক উত্তর:
একটি দার্শনিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি দার্শনিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
Existentialism:
- Existentialism এর বাংলা অস্তিত্ববাদ।
- এটি বিংশ শতাব্দীর একটি দার্শনিক মতবাদ। 
- অস্তিত্ববাদ একটি দার্শনিক প্রবণতা, এটা মূলত মানুষের অস্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ, এবং অর্থহীনতা নিয়ে আলোচনা করে।
- জ্যাঁ পল সার্ত্রে অস্তিত্ববাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। 
- অস্তিত্ববাদীদের মতে, মানুষের জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন এবং মানুষকে তার নিজের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্য খুঁজে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, 
- জ্যাঁ পল সার্ত্রে ১৯৪৯ সালে ‘Existentialism Is a Humanism' নামে ছোট্ট একটি পুস্তিকা লেখেন।

সূত্র: Britannica.
৫১.
২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ১২৯তম
  2. ১৩০তম
  3. ১৩১তম
  4. ১৩৩তম
সঠিক উত্তর:
১৩০তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০তম
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI (Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

⇒ মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৫২.
মেরিডা কনভেনশন কী সম্পর্কিত?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  3. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ
  4. শিশুশ্রম প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট।

৫৩.
টি. এইচ. গ্রিনের মতে, রাষ্ট্রের ভিত্তি কী?
  1. শক্তি
  2. ইচ্ছা
  3. কর্তব্য
  4. অধিকার
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের ভিত্তি:
- টিএইচ গ্রিন ছিলেন উনিশ শতকের একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক ও উদারপন্থী চিন্তাবিদ।
- তিনি নৈতিক দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্র কেবল শক্তি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গঠিত হয় না, বরং জনগণের নৈতিক সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- গ্রিন বোঝাতে চেয়েছেন যে, একটি স্থায়ী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কেবল অস্ত্র বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা যায় না।
- জনগণের সচেতন স্বীকৃতি, নৈতিক দায়িত্ববোধ, এবং সম্মিলিত ইচ্ছাই রাষ্ট্র গঠনের প্রকৃত ভিত্তি।
- জনগণ যদি স্বেচ্ছায় আইন মেনে চলে, তবেই রাষ্ট্র কার্যকর হয় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এস এস এইচ এল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
কোনটি ‘সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম’ ক্ষমতার অধিকারী?
  1. রাষ্ট্র
  2. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. আমলাতন্ত্র
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

এছাড়াও,
- ইংরেজ দার্শনিক টি, এইচ, গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫.
আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড'- এটি কোন মতবাদ নির্দেশ করে?
  1. উদারতাবাদ
  2. অস্তিত্ববাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. উপযোগবাদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
ব্যাখ্যা
পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
নাগরিক অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ -
  1. স্বচ্ছতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. জনগণের সজাগ দৃষ্টি
  4. দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
জনগণের সজাগ দৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের সজাগ দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• জনসচেতনতার অভাব:
 → জনগণের সচেতনতাই গণতন্ত্রের সফলতার মূল শক্তি।
 → জনগণের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ।
 → জনসচেতনতা সুশাসনেরও চাবিকাঠি।
 → জনগণ সচেতনতা না হলে সরকার, প্রশাসনযনন্ত্র স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
৫৭.
নিচের কোনটি ব্যক্তির 'জাতীয় সম্পদ'?
  1. পার্ক
  2. খনিজ সম্পদ
  3. চিড়িয়াখানা
  4. হাসপাতাল
সঠিক উত্তর:
খনিজ সম্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ সম্পদ
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ ব্যক্তির 'জাতীয় সম্পদ'। অন্যদিকে, হাসপাতাল, পার্ক, চিড়িয়াখানা ব্যক্তির সমষ্টিগত সম্পদ।

সম্পদ:

- মালিকানার দিক হতে সম্পদকে চারভাগে ভাগ করা যায়।

ব্যক্তিগত সম্পদ:
- ব্যক্তির মালিকানায় যেসব সম্পদ রয়েছে তাই হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পদ।
- যেমন- গাড়ি-বাড়ি, আসবাবপত্র ইত্যাদি।

সমষ্টিগত সম্পদ:
- যেসব সম্পদের মালিকানা সমাজ বা রাষ্ট্রের হাতে থাকে সেসব সম্পদকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে।
- অর্থাৎ জনগণের ব্যবহৃত সম্পদ ও সরকারি সম্পদ একত্রে মিলে সমষ্টিগত সম্পদ সৃষ্টি হয়।
- যেমন- রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পার্ক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

জাতীয় সম্পদ:
- জাতীয় সম্পদ মূলত: ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সম্পদের সংমিশ্রণে সৃষ্ট।
- যেমন- জনগণের সুনাম, কারিগরি সম্পদ, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি জাতীয় সম্পদের অন্তর্গত।

আন্তর্জাতিক সম্পদ:
- আন্তর্জাতিক সম্পদ হচ্ছে সেই সম্পদ যার মালিকানা ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রের নয় বরং পৃথিবীর সব দেশ তা ভোগ করতে পারে।
- যেমন- সাগর, মহাসাগর, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ইত্যাদি।

উৎস: অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত প্রকার স্বার্থকামী গোষ্ঠীর কথা বলেছেন?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:

১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী:
- স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী গোষ্ঠী কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাবাবেগ দ্বারা চালিত হয়ে হঠাৎ করে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আবেগ এদেরকে সংঘবদ্ধ করে। দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন এ ধরণের চাপগোষ্ঠীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- যে চাপগোষ্ঠী নিজস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তাকে সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে। এই গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণের এক বিশেষ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। এ গোষ্ঠী কোন হঠকারী আচরণ করেনা। বরং সুপরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে নিজেদের স্বার্থের কথা, আইনসভা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমে পেশ করে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন এ ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উদাহরণ।

৩. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী তেমন কোন সুসংহত বা সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এদের সাংগঠনিক দুর্বলতা সুস্পষ্ঠ। গোষ্ঠী বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মনেতা, অঞ্চল প্রধান প্রভৃতির মাধ্যমে দাবি পেশ ও আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী, ধর্মগুরুর অনুসারী গোষ্ঠী এরূপ স্বার্থকামী গোষ্ঠী প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরকারী ব্যবস্থায় এদের চাপ প্রয়োগ তেমন জোরদার হয় না। ফলে দাবী আদায়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠে। বংশ, বর্ণ, অঞ্চল প্রভৃতি শ্রেণীর ক্ষুদ্রতর বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- উন্নয়নশীল দেশ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গোষ্ঠী যখন তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ আদায়ের জন্য সংঘবদ্ধ হয় তখন প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এদের উদ্ভব ঘটে। আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, প্রভৃতি এধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সম্মিলিত সংস্থা হিসাবে এ গোষ্ঠী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পাদন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
Utilitarianism নীতির প্রবর্তক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. থমাস হবস
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।
- এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল তার পিতা জেমস মিল ও জেরেমি বেন্থামের "greatest-happiness principle" বা পরম সুখবোধের নীতি সংক্রান্ত ধারণাকে তিনি নিজের মতো বর্ণনা করেন। জেরেমি বেন্থামরা সুখ বা আনন্দকে পরিমাপ করার প্রচেষ্টা করতেন। কিন্তুু তিনি এর বিপরীতে বলেন, মুর্খের সুখবোধের চেয়ে তিনি বরং সক্রেটিসের মতো জ্ঞানীর সুখবোধ অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা করেন। অর্থাৎ তিনি বৌদ্ধিকতা বা জ্ঞানার্জন ও নৈতিকতাবোধ বা মরালিটির উপর এবং তার মাধ্যমে সমাজের মঙ্গলের সাধনকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। 

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ও মর্যাদা ইত্যাদি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে কোনো ব্যবধান না করাকে _______ বলে।
  1. আইনগত সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. সামাজিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত সাম্য
ব্যাখ্যা
⇒জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ও মর্যাদা ইত্যাদি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে কোনো ব্যবধান না করাকে ব্যক্তিগত সাম্য বলে।

• সাম্যের প্রকারভেদ:
মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
-নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১) সামাজিক সাম্য
২) রাজনৈতিক সাম্য
৩) অর্থনৈতিক সাম্য
৪) আইনগত সাম্য
৫) স্বাভাবিক সাম্য
৬) ব্যক্তিগত সাম্য

১. সামাজিক সাম্য: জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।
২. রাজনৈতিক সাম্য: রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে। নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।
৩. অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে । বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।
৪. আইনগত সাম্য: জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।
৫. স্বাভাবিক সাম্য: এর অর্থ জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান। কিন্তু বাস্তবে জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে সমান হতে পারে না। এ জন্য বর্তমানে স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা প্রায় অচল।
৬. ব্যক্তিগত সাম্য: জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ও মর্যাদা ইত্যাদি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে কোনো ব্যবধান না করাকে ব্যক্তিগত সাম্য বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১.
নৈরাজ্য নিম্নের কোন তত্ত্বের মূল উপাদান?
  1. উদারতাবাদ
  2. ভাববাদ
  3. বাস্তববাদ
  4. শূন্যবাদ
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।
- মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

অন্যদিকে,
⇒ ভাববাদ (Idealism):
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।
- তাঁদের মতে, চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা প্রভৃতির যেমন মন-নিরপেক্ষ কোন সত্তা নেই, তেমনি বাইরের বস্তুরও কোন মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব নেই।
- ভাববাদীদের মতে, বাইরের বস্তু যখন জ্ঞানের জন্য জানা বিষয় বা বস্তু হয়, তখন এই বাইরের বস্তু হয় মানুষের উপর, না হয় স্রষ্টার উপর জ্ঞানের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ভর করে।
- তাই বস্তুর জ্ঞান-নিরপেক্ষ বা মন-নিরপেক্ষ কোন স্বতন্ত্র সত্তা নেই।

⇒ উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

⇒ শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৬২.
কে বিশ্বাস করতেন যে, উত্তম জীবন গড়ে তোলার জন্যই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব?
  1. প্লেটো
  2. ইবনে খালদুন
  3. এরিস্টটল
  4. সকলেই
সঠিক উত্তর:
সকলেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলেই
ব্যাখ্যা
- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র মানব সভ্যতার বিবর্তনের ফসল।
- যুগের পর যুগ ও বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদানের সমন্বয়ে এসবের উদ্ভব ঘটেছে।
- এসব সংগঠন গড়ে উঠেছে মানব জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য।
- এ সকল সংগঠনের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য একসময় শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
- আদিতে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসন প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- মনুসংহিতায় লক্ষ্য করা যায় যে, রাজা প্রজাদের নিকট থেকে উৎপন্ন ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ রাজস্ব আদায় করতো।
- এর বিনিময়ে রাজা প্রজাদের নিরাপত্ত বিধান করতো।
- প্লেটো, এরিস্টটল, ইবনে খালদুন প্রমুখ দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানিগণ বিশ্বাস করতেন যে, উত্তম জীবন গড়ে তোলার জন্যই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব (The State exists to Promote good life) I

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৩.
'আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. এ্যারিস্টটল
  2. জন অস্টিন
  3. হল্যান্ড
  4. হেনরি মেইন
সঠিক উত্তর:
এ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪.
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি কোনগুলো?
  1. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট টেকনোলজি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি
  2. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট টেকনোলজি
  3. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট টেকনোলজি ও স্মার্ট সোসাইটি
  4. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি
ব্যাখ্যা
স্মার্ট বাংলাদেশ:
- স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও শ্লোগান।
- এই প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে 'স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চারটি ভিত্তি:
- স্মার্ট সিটিজেন,
- স্মার্ট ইকোনমি,
- স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও,
- স্মার্ট সোসাইটি।

⇒ স্মার্ট নাগরিক:
- শতভাগ শিক্ষিত নাগরিকেরা নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদের এবং সমাজের সকলের জীবন ও জীবিকার মান বদলে দেবে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তারা সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে; সরকারি ও বেসরকারি খাত প্রদত্ত পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে; দেশ বিদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ঋদ্ধ করে তুলবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

⇒ স্মার্ট অর্থনীতি:
- স্মার্ট অর্থনীতি ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নারী-পুরুষ, শিক্ষা অথবা ভৌগোলিক দূরত্ব নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। রোবটিক্সের ব্যবহার হবে কৃষি, শিল্প, সেবা সকল খাতে; কমিয়ে ফেলা যাবে কায়িক শ্রম; সম্পদের হবে সুষ্ঠু ব্যবহার; কমবে অপচয়; বাড়বে উৎপাদনশীলতা; খরচ কমবে উৎপাদনের; উৎপাদন হয়ে উঠবে প্রতিযোগিতামূলক; প্রসারিত হবে আভ্যন্তরীণ ও রফতানি বাজার। তথ্য প্রযুক্তি সহযোগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নেয়া যাবে দ্রুত ও তথ্য নির্ভর সিদ্ধান্ত; সহজে করা যাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা; ব্যবস্থাপনা হয়ে উঠবে দক্ষ।

⇒ স্মার্ট সরকার:
- প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার পরিচালনা ব্যবস্থাকে দক্ষ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে, সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করবে। স্মার্ট সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তই হবে জ্ঞাননির্ভর। আইওটি, মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এবং স্মার্ট নাগরিকদের স্মার্ট প্রতিনিধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করবে। সরকার তথা রাষ্ট্র হয়ে উঠবে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

⇒ স্মার্ট সমাজ:
- স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তির সহযোগিতায় দূর করা যাবে সব রকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সমাজে নাগরিকেরা জ্ঞান চর্চা ও প্রয়োগের সুযোগ পাবেন অনেক বেশি। সঠিক তথ্য প্রবাহের ফলে কমে যাবে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অনৈতিক সুযোগ। প্রযুক্তি ব্যবহার সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদন ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের সময় ও সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

উৎস: smartbangladesh.gov.bd ওয়েবসাইট।
৬৫.
‘ন্যায়নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে যা অন্যায়, তা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক বা ন্যায় হতে পারে না’-উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. আইভর ব্রাউন
  3. ম্যাকাইভার
  4. সি জে ফকস
সঠিক উত্তর:
সি জে ফকস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সি জে ফকস
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক:
- পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্র নাগরিকের নৈতিকতা সম্বন্ধীয় বিষয়াবলি আলোচনা করে থাকে।
- উভয় শাস্ত্রের উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- সেক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পরের পরিপূরক।
- যেকোন নৈতিক আদর্শ নাগরিক দ্বারা স্বীকৃত হলে রাষ্ট্র সহজেই সেটাকে আইনে পরিণত করতে পারে।
- আবার রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত হলেও কোন আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
- এ প্রসঙ্গে সি জে ফক্স (C. J. Fox) বলেন, "ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।"

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, "নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৬.
‘খ্যাতি বা সম্মান অর্জনের অধিকার’ কোন শ্রেণির অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. আইনগত অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
i. জীবনের অধিকার,
ii. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
iii. চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
iv. সভা-সমিতির অধিকার, 
v. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

৬৭.
মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে কী গড়ে তোলে?
  1. সংস্কৃতি
  2. আইন
  3. শিক্ষা ও শাসনব্যবস্থা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
ছায়া মন্ত্রিসভার প্রধান কে হন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. বিরোধী দলের নেতা
  3. স্পিকার
  4. রাষ্ট্রপ্রধান
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দলের নেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দলের নেতা
ব্যাখ্যা

ছায়া সরকার:
- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ছায়া সরকার (Shadow government) গঠিত হয়।
- নির্বাচনে পরাজিত দল তাদের দলীয় নেতাদের নিয়ে অনেক সময় ছায়া সরকার গঠন করেন।
- এর উদ্দেশ্য হলাে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযােগ সৃষ্টি হলে দ্রুততম সময়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন করা যায়।
- কেননা সংসদীয় সরকার অস্থিতিশীল।
- যে কোন সময় আইনসভার ভােটাভােটিতে সরকার পতন হলে বিরােধী দল বিকল্প সরকার গঠন করে।

⇒ মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে সরকারের যে মন্ত্রিপরিষদ থাকে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমকে মনিটরিং করে বিরােধী দল।
- মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের ছায়া সরকার সরকারের বিভিন্ন দোষত্রুটি খুঁজে বের করে সরকারকে সংশােধনের সুযােগ করে দেয়। 

বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর -
  1. বিপরীত
  2. সম্পূরক
  3. নির্ভরশীল
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য সমাজের জন্য অতীব প্রয়োজন।
- সাম্য অর্থ সমান নয় বরং সমান করার ব্যবস্থাকে সাম্য বলে।
- নানা ধরনের সাম্য বিদ্যমান।
- একটি সভ্য সামাজে সাম্যের উপস্থিতি একান্তভাবে অপরিহার্য।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব নয়।
- আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল একে অপরের সম্পূরক।
- সমাজ ভেদে সাম্য চেতনা আলাদা হয়ে থাকে।
- তবে গণতন্ত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।
- তাই গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী উফ বলেন, "গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে বুঝায় মুক্ত, সমান, সক্রিয় ও সচেতন নাগরিকের এক সমাজ।"
- এরূপ সমাজ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করতে পারে।

• তদ্রূপ যে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট সেখানে জীবিকার্জন নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত হবে যে, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় ও সুযোগ পাবে না।
- আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সুযোগ থাকে বলে জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ করে।
- তাই দেখা যায় গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
জাতীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে ছিলেন?
  1. বেনিতো মুসোলিনি
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. অ্যাডলফ হিটলার
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince, Discourses on Livy, The Life of Castruccio Castracani of Lucca, Florentine Histories, Lettera to Francesco Vettori, The Portable Machiavelli, The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১.
অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত কোন স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. নাগরিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
-  যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭২.
ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি না থাকলে কী ঘটতে পারে?
  1. ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব হয় না
  2. স্বেচ্ছাচারিতার  বৃদ্ধি পায় না
  3. নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে
ব্যাখ্যা

ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ আছে।
- এগুলো হচ্ছে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- এই তিনটি বিভাগ যদি স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে নিজ-নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয় তাহলে আশা করা যায় যে রাষ্ট্রের নাগরিকেরা তাদের প্রাপ্য স্বাধীনতাগুলো ভোগে সক্ষম হবে।
- শাসন বিভাগ যদি বিচার বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করে তবে একজন নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
- এবং তার স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে,স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম দেবে।
- তাই রাষ্ট্রের তিন বিভাগ ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে পৃথকভাবে সক্রিয় থাকা একান্ত প্রয়োজন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
শ্বেতপত্র কী?
  1. সরকারের সাথে নির্দিষ্ঠ গোষ্ঠীর গোপন চুক্তিপত্র
  2. সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিগত নথি
  3. রাষ্ট্রের গোপনীয় দলিল
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিগত নথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিগত নথি
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

এছাড়াও,
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৪.
অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত কারণ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র -
  1. দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ
  2. রাজনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ
  3. গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ
  4. সুশিক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ
ব্যাখ্যা

অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত কারণ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৭৫.
সভ্য সমাজের মানদন্ড কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. নৈতিকতা
  3. বিচার ব্যবস্থা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
৭৬.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন'-উক্তিটি করেছেন -
  1. লর্ড এ্যাকটন
  2. জি, ডি, এইচ, কোল
  3. আর, এইচ টনী
  4. হার্বার্ট এ, ডীন
সঠিক উত্তর:
লর্ড এ্যাকটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড এ্যাকটন
ব্যাখ্যা
সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটো পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
ক. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী'.
খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক'.

ক. স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন। একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়।
- লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
- বলা বাহুল্য, লর্ড এ্যাকটেনের এ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাঁর মতানুসারে স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় নিয়ন্ত্রণবিহীন স্বাধীনতা যা প্রকৃত প্রস্তাবে স্বেচ্ছারিতারই নামান্তর। আর সাম্য বলতে বোঝায় সুযোগের সমতা: সকল মানুষ সমান তা নয়।

খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক। অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়। একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা। কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী। তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন। হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।" আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধানতম উৎস কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. আইনসভা
  3. প্রথা
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
ব্যাখ্যা

আইনসভা: 
- আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই হচ্ছে আইনের প্রধানতম উৎস।
- আইনসভা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে নতুন নতুন আইন তৈরি করে, আইনের রদবদল ও সংশোধন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ।
- তাই আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

অন্যদিকে,
• ন্যায়বিচার: যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রচলিত আইন যখন অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে কিংবা নতুন সমস্যার সমাধান প্রচলিত আইনের মধ্যে না পাওয়া যায়, তখন বিচারকগণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের বিচারবুদ্ধি ও ন্যায়বোধ প্রয়োগ করেন। এভাবে নতুন আইন সৃষ্টি হয় এবং আইন যুগোপযোগী হয়।

• প্রথা বা রীতিনীতি: প্রথা হল আইনের এক সুপ্রাচীন উৎস। প্রত্যেক সমাজেই সুপ্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন প্রকার প্রথা ও রীতিনীতি প্রচলিত। এ সমস্ত প্রথা ও রীতিনীতি সমাজ জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। সমাজ জীবনের প্রয়োজনীয়তা ও কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যখন এগুলোর প্রতি সমর্থন জানায় তখন এ সব প্রথা ও রীতিনীতি আইনে পরিণত হয়। অতএব এভাবেই সমাজ জীবনে প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি আইনের উৎস রূপে গণ্য হয়।

• ধর্ম: আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল ধর্ম। বিশ্বে প্রচলিত প্রত্যেক ধর্মের অনুশাসন মর্যাদা সহকারে পালিত হয়ে থাকে। ধর্মীয় এ সমস্ত অনুশাসনের যেগুলো সমাজ জীবনকে বিকশিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে থাকে সেগুলো পরবর্তিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের স্বীকৃতি পেয়ে আইনের মর্যাদা লাভ করে। মুসলিম, খ্রিষ্টীয় ও হিন্দু আইন এর উপযুক্ত উদাহরণ।

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮.
নেতৃত্বের জন্য কোন গুণাবলি প্রয়োজন?
  1. ব্যক্তিত্ব
  2. চারিত্রিক কঠোরতা
  3. বাগ্মিতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৯.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা? 
  1. মত প্রকাশের স্বাধীনতা 
  2. ভোটদানের স্বাধীনতা
  3. জীবন ধারণের স্বাধীনতা
  4. সম্পত্তি ভোগের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ভোটদানের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোটদানের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ:
• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা,
- ভোটদানের স্বাধীনতা,
- রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।

অন্যদিকে, 
• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- যেমন, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।

• পৌর স্বাধীনতা:
- জীবনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্ম সংক্রান্ত অধিকারগুলো পৌর স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ও সমাজে সখ-শান্তি নিশ্চিতকরণে এই সব স্বাধীনতা অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০.
আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৩১ নং
  2. ৩২ নং
  3. ৩৩ নং
  4. ৩৪ নং
সঠিক উত্তর:
৩১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, 'গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ'।
- সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৮১.
চার্লস মন্টেস্কু কোন গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন?
  1. The Social Contract
  2. The Spirit of Laws
  3. Politics
  4. Leviathan
সঠিক উত্তর:
The Spirit of Laws
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Spirit of Laws
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
"আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি" উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. জন অস্টিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল। -
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।
- "Law is the passionless reason" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৮৩.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র কী?
  1. স্বাধীনতা
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. সাম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪.
আধুনিক গণতন্ত্র হলো - 
  1. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
  2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  3. পরোক্ষ গণতন্ত্র
  4. ক ও গ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে। বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই দলীয় সরকার বলা হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৫.
তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- তথ্য প্রাপ্তি বর্তমানে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বাংলাদেশী নাগরিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার প্রণয়ন করেছে।
- এই আইনের মাধ্যমে তথ্য কমিশন গঠন ও প্রত্যেকটি সরকারি কার্যালয়ে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগদানের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

• তথ্য কমিশনের গঠন:
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ১১(১) উপ-ধারার বিধান মতে আইন জারির ৯০ দিনের মধ্যে ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন তথ্য কমিশনার, তন্মধ্যে একজন নারী সদস্য সমন্বয়ে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
- প্রথম প্রধান তথ্য কমিশনার ছিলেন এম আজিজুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬.
'An Introduction to Ethics' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. জি. ই. ম্যুর
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics.
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যাকে মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান বলা হয়।

উল্লেখ্য:
- নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক হলেন উইলিয়াম লিলি।
- এটি নীতিশাস্ত্রের (Ethics) একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়।
- এই গ্রন্থে লিলি নৈতিকতার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন নৈতিক তত্ত্ব এবং তাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

⇒ উইলিয়াম লিলি- তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
'নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।'

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
নিচের কোনটি অধিকারের বৈশিষ্ট্য?
  1. অধিকার স্থিতিশীল
  2. অধিকার নিরঙ্কুশ
  3. অধিকার অসীম
  4. অধিকার সার্বজনীন
সঠিক উত্তর:
অধিকার সার্বজনীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকার সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
• অধিকারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Right):
→ প্রথমতঃ অধিকারের ধারণা মানুষের সামাজিক চেতনাবোধ থেকে উদ্ভূত। সমাজেই এর সৃষ্টি এবং সমাজেই এর বিকাশ ঘটে থাকে।
→ দ্বিতীয়তঃ অধিকার সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত, স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।
→ তৃতীয়তঃ সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে অধিকারও পরিবর্তিত হয়। অধিকার গতিশীল।
→ চতুর্থতঃ অধিকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
→ পঞ্চমতঃ অধিকার ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়।
→ ষষ্ঠতঃ অধিকার নাগরিক ও নৈতিক গুণাবলিকে জাগ্রত করে।
→ সপ্তমতঃ অধিকার সর্বজনীন (universal)।
→ অষ্টমতঃ অধিকার হচ্ছে কতগুলো সুযোগ-সুবিধা।
→ নবমতঃ অধিকার অসীম বা অবাধ নয়। কর্তব্য সম্পাদন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা যায় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৮.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  2. সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী
  3. নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী
  4. স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
স্বার্থকামী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থকামী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
প্রথা কী?
  1. সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ আইন
  2. ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত আইন
  3. দীর্ঘকাল প্রচলিত কোন নিয়মকানুন
  4. সমাজের অভিজাত শ্রেণি কর্তৃক প্রবর্তিত আইন
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘকাল প্রচলিত কোন নিয়মকানুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘকাল প্রচলিত কোন নিয়মকানুন
ব্যাখ্যা
প্রথা:
- আইনের অন্যতম উৎস হল প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার ব্যবহার রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, সমর্থিত ও পালিত হচ্ছে তাই প্রথা।
- সমাজে অনেক ধরনের প্রথাই প্রচলিত থাকে।
- তার মধ্যে যেসব প্রথা যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- আবার যেসব প্রথা সমাজ ও জনগণের জন্য অকল্যাণকর তা আইন করে বন্ধ করা হয়।
- গ্রেট ব্রিটেনে অনেক প্রথা সাংবিধানিক আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- অন্যদিকে যৌতুক প্রথা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে।

⇒ আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে প্রথা।
- প্রাচীনকালে বিভিন্ন ধরনের প্রথার মাধ্যমেই দ্বন্দ্ব-বিরোধের মীমাংসা করা হত।
- আধুনিককালেও প্রচলিত প্রথাগুলো আইনের ভাঙা-গড়ার কাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আইন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থায় প্রথাগত বিধান এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- সেখানকার সাধারণ আইন (Common Law) মূলত প্রথা থেকে উৎসারিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো-
  1. রাষ্ট্র
  2. সমাজ
  3. সুশাসন
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

- সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।

• সভ্যতা(Civilization):

- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধার প্রথা সংস্কৃতির উন্নত
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মরে আমরা যাতা যনো সংস্কৃতি এবং আমরা য ব্যবহার করি তা ধনো সভ্যতা)
- স্কটের মতে সহাতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোর মতে সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টদেমূহের সমন্বয়।
- জেরি এবং জেরি বলেন, সভ্যতা হচ্ছে সাস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন।
- নীতি-নৈতিকতার সমচিত এগ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এব। বৃষএর সমাজ
- সব মিনিয়ে নরা ধায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধর। প্রথ্য সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমগ্রিলে যোগায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির প্রধিকতা অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রণয়িত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সলতার সম্পর্কে হারনা পাপ্রয়া যায়।

উৎসে সমাজবিজ্ঞান চম পর, এইচটি বালাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
নিচের কোনটির মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়?
  1. আইনসভা
  2. বিচারবিভাগ
  3. জনমত
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা

জনমত: 
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে বুঝায়।
- তবে প্রকৃত অর্থে জনমত হচ্ছে কল্যাণধর্মী বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুষ্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- জনমতের মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়।
- সভা-সমিতি, সংবাদপত্র, আইন পরিষদ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি জনমত গঠনের বাহন হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯২.
রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে কোন ধরনের স্বাধীনতা বলে?
  1. জাতীয় স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. আইনগত স্বাধীনতা
  4. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
আইনগত স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- এ স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যক্তির বাহ্যিক কিছু আচরণের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা।
- যেমন ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।

• প্রাকৃতিক স্বাধীনতা:
- সামাজিক চুক্তিবাদী দার্শনিক হবস, সক এবং রুশো বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র পূর্বাবস্থায় প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা বা স্বাধীনতা ভোগ করত।
- কিন্তু স্বাধীনতার এরকম ধারণা অলীক, অসার ও অবাস্তব বলেই প্রতিপন্ন হয়।
- দার্শনিক রুশো তাঁর বক্তব্যে তাই স্বাধীনতাকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্রই যে শৃঙ্খলাবদ্ধ” (“Man is born free but everywhere he is in chain.”)

• আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা বাছাই ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
- তাছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে শ্রেণি-বৈষম্য বেড়ে গিয়ে যেকোন শ্রেণি শোষণ-বঞ্চনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতাও খর্ব হয়।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বর্তমানে রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে জাতি রাষ্ট্র।
- অর্থাৎ তারা স্বাধীন জাতি হিসেবে রাষ্ট্র গঠন করেছে।
- একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার সক্ষমতাই হল জাতীয় স্বাধীনতা।
- জাতি হিসেবে স্বাধীন থাকা যেমন গর্বের, তেমনি তা অর্জন করাও কষ্টসাধ্য।
- স্বাধীনতা অর্জনের পথে অনেক জাতিকে বিপুল আত্মদান করতে হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৩.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলাে -
  1. সুশাসন
  2. রাষ্ট্র
  3. নৈতিকতা
  4. সমাজ
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।

• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

⇒ সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
ইমানুয়েল কান্টের মতে কর্মের নৈতিকতা কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
  1. কর্মের ফলাফলের উপর
  2. সামাজিক অনুমোদনের উপর
  3. কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
  4. সামাজিক সম্মতির উপর
সঠিক উত্তর:
কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উল্লেখ্য,
- ইমানুয়েল কান্ট-এর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৯৫.
ব্যক্তির ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার বলতে কী বোঝায়?
  1. সহনশীলতা
  2. কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা 
  3. ধর্মীয় অনুশীলন
  4. সামাজিক খ্যাতি
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচারের ধারণা
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। 
- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- এই দলিলটিতেও শুদ্ধাচারের এই অর্থকেই গ্রহণ করা হয়েছে।
- ব্যক্তির সমষ্টিতেই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয় এবং তাদের সম্মিলিত লক্ষ্যই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রতিফলিত হয়। 

- প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সমন্বিত রূপ হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার অনুশীলনও জরুরি।
- বাংলাদেশের সমাজ বিভিন্ন খাত, যথা রাষ্ট্র, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজে বিভিন্ন আইনকানুন, নিয়মনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পালন ও লালন করে শুদ্ধাচার অনুশীলন করে চলেছে এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তাতে সংস্কার ও উন্নয়ন সাধন করছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৬.
সংস্কৃতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ভাষা
  2. নৈতিকতা
  3. বিজ্ঞান
  4. আচার-অনুষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃতি:
- সাধারণত সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি মার্জিত রুচি বা অভ্যাসগত উৎকর্ষ।
- মানুষের বিশ্বাস ,আচার-আচরন এবং জ্ঞানের একটি সমন্বিত কাঠামোকে সংস্কৃতি বলা যায় ।

- সংস্কৃতির কিছু সাধারন কিছু উপাদান আছে যা হচ্ছে:
→ ভাষা,
→ প্রতীক,
→ আচরণবিধি,
→ নৈতিকতা,
→ মূল্যবোধ,
→ পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস,
→ আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

অন্যদিকে -
- বিজ্ঞান সংস্কৃতির উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
আদর্শ আমলাতন্ত্রের (Ideal Bureaucracy) উদ্ভাবক কে?
  1. জন ফিফনার
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. রবার্ট প্রেসথাস
  4. গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড 
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। এজন্য ম্যাক্স ওয়েবারকে আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৮.
'সম্পত্তি লাভের অধিকার' নিম্নের কোনটির সাথে সম্পৃক্ত? 
  1.  নৈতিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা

- 'সম্পত্তি লাভের অধিকার'  সামাজিক অধিকার।

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:

- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

১. নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

২. আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত -অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি। যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৯৯.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. প্ৰথা
  3. বিচারকের রায়
  4. সার্বভৌমের আদেশ
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমের আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমের আদেশ
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:

• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

অন্যদিকে,
• জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উল্লেখ্য,
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০০.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ’গণমাধ্যম’ কে চিহ্নিত করেন কে?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. ম্যাককরনি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জ্যা জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
এডমন্ড বার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডমন্ড বার্ক
ব্যাখ্যা

গণমাধ্যম: 
- গণমাধ্যমকে প্রায়শই রাষ্ট্রের "চতুর্থ স্তম্ভ" হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- গণমাধ্যম কোনো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা—এই তিনটি স্তম্ভের পাশাপাশি গণমাধ্যম সমাজে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এডমুন্ড বার্ক (Edmund Burke)-কে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
- ১৭৭১ সালে ব্রিটিশ সংসদে একটি বিতর্কের সময় বার্ক বলেছিলেন যে, সংসদের তিনটি ঐতিহ্যগত স্তম্ভ (লর্ডস, কমন্স এবং ক্লার্জি) ছাড়াও রিপোর্টারদের গ্যালারিতে বসে থাকা সাংবাদিকরাই "চতুর্থ স্তম্ভ" (Fourth Estate), যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই উক্তিটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নজরদারির ভূমিকাকে তুলে ধরে।

উৎস: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল। [লিঙ্ক]