উত্তর
ব্যাখ্যা
- আধানের একক কুলম্ব(C);
- তড়িৎ প্রবাহের একক এম্পিয়ার;
- বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট;
- রোধের একক ওহম
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫৭ / ৬৪ · ৫,৬০১–৫,৭০০ / ৬,৪০৯
চৌম্বক ক্ষেত্রের উপর চলন্ত চার্জ q-এর ওপর প্রয়োগিত লরেঞ্জ বলের সূত্র হলো:
F = qv × B
যেখানে,
q = চার্জের মান
v = কণিকার বেগ
B = চৌম্বক ক্ষেত্র
θ = v এবং B-এর মধ্যে কোণ
লরেঞ্জ বলের মান নির্ণয় হয়:
F = qv × B. sinθ
sinθ সর্বাধিক হয় যখন, θ = 90°
অর্থাৎ, বেগ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র পরস্পর লম্ব হলে sin90° = 1
তাই, Fmax = qvB হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে।
অন্যদিকে দুটি নিউক্লিয়াসের সংযােগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়া কে ফিউশন বিক্রিয়া বলে।
বস্তুর ওজন বস্তুটির ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফলের সমান। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যতই উপড়ে ওঠা হয় ততই g এর মান কমে।
কিন্তু বস্তুর ভর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি বাড়ে না বা কমে না।
সুতরাং একই বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর গুণফল তথা ওজন ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে কমে।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
- সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে জৈব যৌগ গঠিত হয়।
- জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু সাধারণত উপস্থিত থাকে। এছাড়া হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার ইত্যাদি মৌলও উপস্থিত থাকে।
- জৈব যৌগে সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শিত হয়।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হার অর্ধায়ু দ্বারা নির্ধারিত হয়।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay)
- তেজস্ক্রিয়তায়, কোনো পদার্থের ক্ষয় হলো সেই সময়, যার মধ্যে কোনো তেজস্ক্রিয় নমুনায় থাকা অর্ধেক সংখ্যক পরমাণুর নিউক্লিয়াস ক্ষয় হয়ে যায়।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের প্রকার
1. আলফা ক্ষয় (Alpha Decay):
- একটি হিলিয়াম আয়ন (আলফা কণা) নির্গত হয়।
- Daughter নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা parent নিউক্লিয়াসের থেকে ২ কম হয় এবং পারমাণবিক ভর সংখ্যা ৪ কম হয়।
2. বিটা ক্ষয় (Beta Decay):
- একটি বিটা কণা (ইলেকট্রন বা পজিট্রন) নির্গত হয়।
3. গামা রশ্মি (Gamma Ray):
- গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের disintegration এবং কিছু subatomic কণার ক্ষয়কালে উৎপন্ন হয়।
অর্ধায়ু (Half-life)
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হারকে অর্ধায়ু দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো আইসোটোপের অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয় হতে যে সময় লাগে, তাকে অর্ধায়ু বলে।
- বিভিন্ন unstable atomic nuclei এবং তাদের ক্ষয়ের ধরনের উপর নির্ভর করে অর্ধায়ুর সময়কাল ভিন্ন হয়।
উৎস: ব্রিটানিকা।
ব্যাখ্যা:
- জারক পদার্থ জারণ ঘটায়, এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে, নিজের বিজারণ ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা হ্রাস পায়।
- বিজারক পদার্থ বিজারণ ঘটায়, এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়, নিজের জারণ ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
• কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।
উৎস: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
• সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারকে মূলত ট্রাইগ্লিসারাইড বলা হয়। গ্লিসারিনের সঙ্গে উচ্চতর সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিড (যেমন স্টিয়ারিক বা পামিটিক এসিড) এস্টার গঠন করলে যে যৌগ সৃষ্টি হয়, সেটিই চর্বি। চর্বি কঠিন অবস্থায় থাকে এবং প্রাণিজ উৎসে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে তৈল সাধারণত অসম্পৃক্ত এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হওয়ায় তরল হয়। সাবান ও ডিটারজেন্ট গ্লিসারিন এস্টার নয়; এগুলো ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারের সঠিক উদাহরণ হলো খ) চর্বি।
তৈল ও চর্বি:
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে।
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার।
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
তৈল ও চর্বির পার্থক্য:
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল।
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়।
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়।
তৈল ও চর্বির গুরুত্ব:
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি।
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান]
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়।
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়।
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়।
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়।
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
• জৈব অম্ল বা কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের প্রধান কার্যকরী মূলক হলো কার্বক্সিল মূলক (-COOH)।
- এই মূলকটি একটি কার্বনিল গ্রুপ (C=O) এবং একটি হাইড্রক্সিল গ্রুপ (-OH) এর সমন্বয়ে গঠিত।
• জৈব অম্ল বা এসিড:
- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে।
- কার্বক্সিল মূলকের হাইড্রোজেন পরমাণুটি জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে H+ আয়ন দান করে, যার ফলে যৌগটি অম্লীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়।
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।
- উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বায়োগ্যাস একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস কারণ এটি জৈব পদার্থ (যেমন- কৃষি বর্জ্য, পশুর মলমূত্র ইত্যাদি) থেকে অবায়বীয় পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই জৈব পদার্থগুলো ক্রমাগত পুনরায় পূরণ করা যায়, তাই বায়োগ্যাসকে নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
জ্বালানি:
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়।
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস।
জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়।
বায়োমাস শক্তি:
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে।
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস।
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন।
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়।
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস।
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
• অভিকর্ষ:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়।
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।
• অভিকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- অভিকর্ষ বলের অপর নাম মাধ্যাকর্ষণ বল।
- অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের পরেও আমরা ছিটকে পড়ি না।
- অভিকর্ষের ফলেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।
• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ দূরবর্তী বাধায় প্রতিফলিত হয়ে উৎসের কাছে ফিরে এলে মূল ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।
- এককথায়, প্রতিফলিত শব্দই প্রতিধ্বনি।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমপক্ষে ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।
• প্রতিধ্বনির ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে।
- কুয়ার গভীরতা নির্ণয়ে।
- দূরত্ব পরিমাপে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন তা ঘূর্ণন শুরু করে।
- তবে এই বলগুলো একটি মোমেন্ট বা টর্ক সৃষ্টি করে।
- টর্কের কারণে বস্তু ঘূর্ণন (Rotation) শুরু করে।
- এই অবস্থাকে টর্ক বা ঘূর্ণন বলের প্রভাবে সৃষ্টি ঘূর্ণন বলা হয়।
উদাহরণ:
- ঘুর্ণিঝড়
- দরজা খোলার ক্ষেত্রে হিঞ্জের চারপাশে দুইটি বিপরীত দিকের বল প্রয়োগ হলে দরজা ঘূর্ণন করে।
- জিমন্যাস্টিক রিংয়ে হাত দিয়ে টর্ক প্রয়োগ করলে ঘূর্ণন দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।
- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা হচ্ছে ৩৩ ।
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না।
অন্যদিকে,
- জার্মেনিয়ামের (Ge) পারমাণবিক সংখ্যা ৩২।
- সেলেনিয়ামের (Se) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৪।
- ইট্রিয়ামের (Y) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৯।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ) এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
রেডক্স বিক্রিয়া:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত।
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ।
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে।
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- সংযোজন বিক্রিয়া, বিয়োজন বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
অন্যদিকে,
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার।
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
◉ গামা রশ্মি (γ-rays) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic Radiation), যা দৃশ্যমান আলোর মতোই প্রকৃতিতে কিন্তু অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি কোনো কণা নয়, বরং উচ্চ-শক্তির ফোটন (Photon) দিয়ে গঠিত। যেহেতু ফোটনের ভর নেই এবং কোনো বৈদ্যুতিক আধানও নেই, তাই গামা রশ্মি আধানহীন।
গামা রশ্মি (Gamma Ray):
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)।
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
আয়নিক বন্ধন:
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে।
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়।
- অন্যদিকে, তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়।
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে।
যেমন- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও CI- অ্যানায়ন।
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত (Optical signal) প্রেরণ করা হয়।
• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়।
- এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে।
• ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
অন্যান্য অপশন:
- Radio signal: ওয়্যারলেস যোগাযোগে (রেডিও, Wi-Fi, মোবাইল) ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Electrical signal: কপার তার (twisted pair, coaxial) দিয়ে প্রেরণ করা হয়।
- Microwaves: মাইক্রোওয়েভ লিঙ্ক, স্যাটেলাইট যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Ultrasonic waves: শব্দ তরঙ্গ (ultrasound), যা মেডিকেল ইমেজিং বা sonar-এ ব্যবহৃত হয়।
তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণি।
শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।
তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে।
কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি।
সুত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান এবং একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র)।
- উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা বোঝানো হয় 109 ।
উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix):
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়।
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়।
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়।
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals):
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে।
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে।
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়।
মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals):
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
• ল্যাবরেটরির কাজের সময় কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অপরিষ্কার হয়ে যায়। বিশেষ করে কখনও কখনও এগুলিতে তৈলাক্ত পদার্থ বা জৈব অমল পদার্থ লেগে থাকে, যা সাধারণ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার করা কঠিন। এই অবস্থায় ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ সবচেয়ে কার্যকর। এটি মূলত K2Cr2O7 এবং ঘন H2SO4-এর সংমিশ্রণ, যা শক্তিশালী অক্সিডাইজার হিসেবে কাজ করে। ক্রোমিক এসিড যন্ত্রপাতির জৈব ও তৈলাক্ত দাগ দ্রুত ধ্বংস করে, ফলে কাচ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয় এবং পরীক্ষার নির্ভুলতা বজায় থাকে। তাই ল্যাবরেটরিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিস্কারক হলো ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ।
• ল্যাবরেটরির সর্বোত্তম পরিস্কারক (Best Laboratory Cleaner):
- ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন- বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অপরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
- অনেক সময় এসব যন্ত্রপাতিতে তৈলাক্ত পদার্থ লেগে থাকে যা সাধারণভাবে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না।
- এই অবস্থায় সবচেয়ে কার্যকর পরিস্কারক হলো ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ।
- ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ হলো K2Cr2O7 + ঘন H2SO4 এর সংমিশ্রণ।
- এটি কাঁচের যন্ত্রপাতি থেকে কঠিন দাগ, তৈলাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দূষক দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সরাতে সক্ষম।
• ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ (Chromic Acid Mixture) এবং এর ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন- বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি পরিস্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- তৈলাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য জৈব দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
- কাচের উপরের লেবেল বা আঠালো দাগ পরিষ্কার করতে কার্যকর।
- ধাতব বা প্লাস্টিকের কোনো অংশে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র কাঁচের জন্য নিরাপদ।
- পরিস্কার করার পরে যন্ত্রপাতি ধুয়ে ভালোভাবে শুকাতে হয় যাতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক অবশিষ্ট না থাকে।
- এটি জৈব উপাদান অক্সিডাইজ করতে পারে, ফলে ক্ষতিকর জীবাণু বা ধ্বংসাবশেষও মুছে যায়।
সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ।
- ত্রিমাত্রিক (3D) সিসমিক সার্ভেতে মাটির নিচে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ বা কম্পন শনাক্ত করার জন্য প্রধানত জিওফোন (Geophone) ব্যবহার করা হয়। এটি যান্ত্রিক কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে।
শব্দের ব্যবহার:
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না।
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। শব্দ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিকভাবে নবজাতককে গর্ভের ভিতর থেকে দেখা সম্ভব; এই প্রক্রিয়াকে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়।
১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey):
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে।
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়।
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়।
২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার:
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• মৌলিক রাশি বা সাধারণ রাশি সেই ধরনের পরিমাণ যা অন্য কোনো রাশির সাহায্যে প্রকাশ করা যায় না। পদার্থবিজ্ঞানে রাশিগুলোকে মূলত দুই ধরনের হিসেবে দেখা হয়: মৌলিক (primary) এবং অনুমেয় (derived)। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে দীপন তীব্রতা, বল, কাজ এবং তাপ বিবেচনা করলে দেখা যায়, দীপন তীব্রতা (luminous intensity) অন্য কোনো মৌলিক রাশির সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। অন্যদিকে, বল, কাজ এবং তাপ সবগুলোই মৌলিক রাশির সমন্বয়ে তৈরি অনুমেয় রাশি। উদাহরণস্বরূপ, বলকে ভর ও ত্বরণের গুণফল হিসেবে লেখা যায়, কাজকে বল এবং স্থানচ্যুতি হিসেবে প্রকাশ করা যায়।
- উত্তর: ক) দীপন তীব্রতা।
- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি।
মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
লব্ধ বা যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
অর্থাৎ, যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলা হয়।
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১৮১৫ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস প্রস্তাব করেন যে, জৈব যৌগসমূহ কেবল সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এক রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। তাই একে পরীক্ষাগারে উৎপন্ন করা সম্ভব নয়। একে প্রাণশক্তি মতবাদ বলা হয়। তখন সব বিজ্ঞানী এ মতবাদ গ্রহণ করেন।
- ১৮২৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলার পরীক্ষাগারে অজৈব অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লেড সায়ানেট দ্রবণের বিক্রিয়া ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষাগারে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন।
- ইউরিয়া হলো প্রথম জৈব যৌগ যা পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এজন্য বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
• অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি হচ্ছে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে সংকট কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে (θc) আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোক রশ্মি সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
• অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fiber):
অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ বা প্লাস্টিকের তন্তু, যার মাধ্যমে আলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত করা যায়।
• বৈশিষ্ট্য:
- এটি খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ তন্তু দিয়ে তৈরি।
- এর মাধ্যমে আলো পরিবহন করা হয়।
- এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) ঘটে।
- এতে সাধারণত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত (Infrared) রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
• ব্যবহার:
- টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য।
- এন্ডোস্কোপি চিকিৎসায় রোগীর পাকস্থলীর ভিতরের অংশ দেখার জন্য।
- বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা যন্ত্রে আলো পরিবহনের কাজে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।