বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫৭ / ৬৪ · ৫,৬০১৫,৭০০ / ৬,৪০৯

৫,৬০১.
সিমেন্স কিসের একক?
  1. ক) রোধ
  2. খ) আপেক্ষিক রোধ
  3. গ) পরিবাহিতা
  4. ঘ) ধারকত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবাহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবাহিতা
ব্যাখ্যা
- SI(International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S);
- আধানের একক কুলম্ব(C); 
- তড়িৎ প্রবাহের একক এম্পিয়ার;
- বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট;
- রোধের একক ওহম 

[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৫,৬০২.
গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) কার্বন ও অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ও হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
ব্যাখ্যা
- গ্রাফিন কার্বনের একটি বিশেষ রূপ।
- এটা কার্বনের একটি ষড়ভুজাকৃতির স্ফটিক স্তর বা স্তর বিন্যাস যেখানে প্রতিটি স্তরের পুরুত্ব এক পরমাণুর সমান।
- এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬০৩.
প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়, কারণ- 
  1. রান্নার জন্য শুধু তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
  2. বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
  3. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
  4. সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নার সহায়ক
সঠিক উত্তর:
উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। 
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না। 
প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬০৪.
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? 
  1. গলনাংক
  2. স্ফুটনাংক
  3. বাষ্পীভবন
  4. ঘনীভবন
সঠিক উত্তর:
গলনাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলনাংক
ব্যাখ্যা
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬০৫.
এক কিলোওয়াট-ঘন্টা সমান কত জুল?
  1. 2.6 × 106 J
  2. 3.6 × 103 J
  3. 3.6 × 106 J
  4. 6.6 × 106 J
সঠিক উত্তর:
3.6 × 106 J
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3.6 × 106 J
ব্যাখ্যা
শক্তি (Energy): 
- কোনো কিছুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। 
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি, বস্তু, পদার্থ বা ব্যবস্থার কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। 
- বস্তু বা ব্যক্তি সর্ব মোট যতটুকু কাজ করতে পারে তা দিয়েই তার শক্তির পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। 
- কাজের মতো শক্তিও স্কেলার রাশি। 
- শক্তির মাত্রা ও কাজের মাত্রা অভিন্ন। 
- শক্তির একক ও কাজের একক একই অর্থাৎ জুল (J), কিন্তু বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব করা হয় কিলোওয়াট ঘন্টা এককে। 
- এক কিলো ওয়াট ক্ষমতার একটি যন্ত্র এক ঘন্টায় যতটা কাজ করে তাকে বলা হয় এক কিলোওয়াট-ঘন্টা (kWh)।
1 kWh = 1000 Wh
= 1000 Js-1 × 3600 s
1 kWh = 3.6 × 106
- কোনো বস্তুর মধ্যে গতি, বস্তুর অবস্থান বা ভৌত অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাজ করার সামর্থ্য সৃষ্টি হয়; এই ধরনের সামর্থ্যকে যান্ত্রিক শক্তি বলে অভিহিত করা হয়েছে। 
- যান্ত্রিক শক্তি দু ধরণের। যথা- গতি শক্তি ও বিভব শক্তি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬০৬.
কোনো চার্জযুক্ত কণিকা যদি চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে ৯০° কোণে চলে, তবে- 
  1. কোনো বল থাকে না
  2. সর্বাধিক বল কাজ করে
  3. বলের মান অর্ধেক হয়
  4. বলের মান শূন্য হয়
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক বল কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক বল কাজ করে
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্রের উপর চলন্ত চার্জ q-এর ওপর প্রয়োগিত লরেঞ্জ বলের সূত্র হলো:
F = qv × B
যেখানে,
q = চার্জের মান
v = কণিকার বেগ
B = চৌম্বক ক্ষেত্র
θ = v এবং B-এর মধ্যে কোণ

লরেঞ্জ বলের মান নির্ণয় হয়:
F = qv × B. sinθ
sinθ সর্বাধিক হয় যখন, θ = 90° 
অর্থাৎ, বেগ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র পরস্পর লম্ব হলে sin⁡90° = 1
তাই, Fmax​ = qvB হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৬০৭.
একটি পরমাণু ভেঙ্গে একাধিক পরমাণু তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে -
  1. ক) ফিউশন
  2. খ) ফিশন
  3. গ) এরোশন
  4. ঘ) বিযোজন
সঠিক উত্তর:
খ) ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফিশন
ব্যাখ্যা

যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে।
অন্যদিকে দুটি নিউক্লিয়াসের সংযােগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়া কে ফিউশন বিক্রিয়া বলে।

৫,৬০৮.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 7
  2. 8
  3. 9
  4. 17
সঠিক উত্তর:
9
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়- 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

অক্সিজেন (O) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- অক্সিজেনের প্রোটন সংখ্যা 8 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 17 
অতএব, অক্সিজেনের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 17 - 8 = 9 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬০৯.
অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. তৈল
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. ডিটারজেন্ট
সঠিক উত্তর:
তৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৈল
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী ও নাগ)।
৫,৬১০.
বিকীর্ণ তাপের সাথে নিচের কোন শক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? 
  1. গতি শক্তি
  2. শব্দ শক্তি
  3. আলোক শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ আসে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬১১.
তাপের একক কি?
  1. ক) ক্যালরি
  2. খ) ফারেনহাইট
  3. গ) কেলভিন
  4. ঘ) সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালরি
ব্যাখ্যা
এস আই এককে তাপের একক - জুল।
তাপমাত্রার একক - কেলভিন।
বল/ওজনের একক - নিউটন।
সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬১২.
____ পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে।
  1. ক) এক মোল
  2. খ) এক লিটার
  3. গ) এক গ্রাম
  4. ঘ) এক মৌল
সঠিক উত্তর:
ক) এক মোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক মোল
ব্যাখ্যা
এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। প্রমাণ অবস্থায় যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন 22.4 লিটার৷ এক মোল হাইড্রোজেনের আয়তন 22.4 লিটার৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৫,৬১৩.
অ্যাম্পিয়ারের সংজ্ঞা কী? 
  1. 1 কিলোগ্রামের ভর
  2. শূন্য মাধ্যমে 1 মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পরিবাহকের তড়িৎপ্রবাহ
  3. 1 পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার 1/273.16 ভাগ
  4. বায়ুশূন্য স্থানে আলো 1/299,792,458 সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে 1 মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পরিবাহকের তড়িৎপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে 1 মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পরিবাহকের তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
এস.আই. (SI) এর মৌলিক একক সমূহ: 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলোর জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ নিম্নে বর্ণনা করা হল- 
১। দৈর্ঘ্যের একক: মিটার 
- বায়ুশূন্য স্থানে আলো 1/299,792,458 সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সে দূরত্ব কে 1 মিটার (m) বলা হয়। 

২।  ভরের একক: কিলোগ্রাম 
- ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস্ এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে 1 কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়েই 3.9 cm  । 

৩। তড়িৎ প্রবাহের একক: অ্যাম্পিয়ার 
- শূন্য মাধ্যমে 1m দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে 2×10-7 N নিউটন বল উৎপন্ন হয় তাকে 1 ampere বলে। 

 ৪। সময়ের একক: সেকেন্ড 
- একটি সিজিয়াম পরমানুর (133Cs) 9,192,631,770 টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে 1 সেকেন্ড (s) বলে। 

৫। তাপমাত্রার একক: কেলভিন 
- 1 পানির ত্রৈধ বিন্দুর (triple point) তাপমাত্রার 1/273.16 ভাগকে 1 কেলভিন (K) বলে। 

৬ । দীপন তীব্রতার একক: ক্যান্ডেলা 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে 540×1012 হার্জ কম্পাঙ্কের এক 1 বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে 1/863 ওয়াট। 

৭। পদার্থের পরিমাণের একক: মোল 
- যে পরিমাণ পদার্থে 0.012 কিলোগ্রাম কার্বন-১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে তাকে 1 মোল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬১৪.
নিচের কোন ধরণের Circuit Breaker অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং রক্ষনাবেক্ষন কম?
  1. Vacuum circuit breaker
  2. Oil Circuit breaker
  3. SF6 circuit breaker 
  4. Air blast circuit breaker
সঠিক উত্তর:
SF6 circuit breaker 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SF6 circuit breaker 
ব্যাখ্যা
- SF6 (সালফার হেক্সাফ্লোরাইড) সার্কিট ব্রেকারগুলি তাদের উচ্চ অস্তরক শক্তি, চমৎকার আর্ক-নিভানোর ক্ষমতা এবং উচ্চ-ভোল্টেজ প্রবাহকে বাধা দেওয়ার নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত।
- এই সার্কিট ব্রেকারগুলি তাদের উচ্চতর নিরোধক এবং চাপ-নির্বাপক বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে সাধারণত উচ্চ-ভোল্টেজ অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
- এই Circuit Breaker অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং রক্ষনাবেক্ষণ কম।
৫,৬১৫.
বাজারে যে সকল সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় তা মূলত __________ এসিডের দ্রবণ।
  1. সাইট্রিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. কার্বনিক এসিড
  4. অক্সালিক এসিড
সঠিক উত্তর:
কার্বনিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বনিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। 
- লেবু, আমলকি, কাঁচা আমড়া, জলপাই ও করমচায় প্রয়োজনীয় সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড। 
- আপেল ও আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড। 
- আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয় যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- বাজারে যে সকল সফট ড্রিংকস পাওয়া যায়, এগুলো প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবণ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬১৬.
বস্তুর ভর ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে-
  1. ক) ৬ গুণ বৃদ্ধি পায়
  2. খ) পরিবর্তিত হয় না
  3. গ) হ্রাস পায়
  4. ঘ) পরিবর্তত হয়
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবর্তিত হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবর্তিত হয় না
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন বস্তুটির ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফলের সমান। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যতই উপড়ে ওঠা হয় ততই g এর মান কমে।
কিন্তু বস্তুর ভর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি বাড়ে না বা কমে না।
সুতরাং একই বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর গুণফল তথা ওজন ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে কমে।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।

৫,৬১৭.
হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে অক্সিজেন থাকে -
  1. ক) ৮৩%
  2. খ) ৯৩%
  3. গ) ৮৯%
  4. ঘ) ৯৯%
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৩%
ব্যাখ্যা
১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক। সকল প্রাণীর শ্বসনের জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যক।
হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ৯৩% অক্সিজেন থাকে।

জলজ প্রাণির জীবন ধারণের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় অক্সিজেনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা বেড়ে গেলে পানিতে অক্সিজেন কমে যায়। এজন্য সাগরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাদু পানি ( যেমন- নদী লেকের পানি) অপেক্ষা কম হয়। প্রবহমান পানিতে (যেমন- ঝর্ণা, নদীতে) আবদ্ধ জলাশ পুকুর, হ্রস) অপেক্ষা অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে।
৫,৬১৮.
হ্রস্ব দৃষ্টি বা মাইওপিয়ার ক্ষেত্রে যেটি হয়-
  1. ক) দূরের জিনিস দেখতে পায় কিন্তু কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পায় না
  2. খ) এই চোখের নিকট বিন্দু ২৫ সেন্টিমিটার এর চেয়ে অনেক বেশি
  3. গ) চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা কমে যাওয়ার জন্য এই ত্রুটি দেখা দেয়
  4. ঘ) সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি/মাইওপিয়াঃ
১. দূরের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পায় না কিন্তু কাছের জিনিস দেখতে পায়।
২. এই চোখের নিকট বিন্দু ২৫ সেন্টিমিটার এরও কম হতে পারে।
৩. চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতায় বেড়ে যাওয়ার জন্য এই ত্রুটি দেখা দেয়।
৪. অভিসারী ক্ষমতা কমানোর জন্য সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬১৯.
নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ?
  1. ক) কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) খাদ্য লবণ
  3. গ) তুঁতে
  4. ঘ) সোডা অ্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো ভরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4CI), 
- কর্পূর (C10H160), 
- ন্যাপথলিন (C10H8), 
- কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
- আয়োডিন (I2), 
- অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3
এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 
যেমন—কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি; রসায়ন বোর্ড বই। 
৫,৬২০.
সলিনয়েডে চুম্বকক্ষেত্রের শক্তি বাড়াতে কী করা যেতে পারে? 
  1. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ানো
  2. বিদ্যুৎ অপসারণ করা
  3. শক্ত লোহা স্থাপন করে প্রবাহ বন্ধ করা
  4. কুণ্ডলির পাক সংখ্যা কমানো
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ানো
ব্যাখ্যা
সলিনয়েড (Solenoid): 
- যদি কোনো তার সোজা থাকে এবং তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তাহলে তার চারপাশে চৌম্বক বলরেখা সৃষ্টি হয়। 
- ডান হাতের নিয়ম ব্যবহার করে চৌম্বক বলরেখার দিক নির্ধারণ করা যায়। বুড়ো আঙুল বিদ্যুৎপ্রবাহের দিক নির্দেশ করলে, হাতের বাকী আঙুলগুলো চৌম্বক বলরেখার দিক নির্দেশ করে। 
- যদি তারটি সোজা না হয়ে বৃত্তাকার হয়, তবে তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে বৃত্তাকার তারের ভেতরে চৌম্বক বলরেখাগুলো একত্রিত হয়। এ ক্ষেত্রেও ডান হাতের নিয়ম ব্যবহার করা যায়। যদি হাতের আঙুলগুলো বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক নির্দেশ করে, তাহলে বুড়ো আঙুলটি চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্দেশ করবে। 


- বিদ্যুৎপ্রবাহ যত বেশি হবে, তত বেশি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হবে। 
- তবে তারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎ একটি সীমা পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, কারণ বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তারটি I2R সূত্র অনুযায়ী উত্তপ্ত হয়ে যায়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহের সর্বোচ্চ সীমা নির্ভর করে বিদ্যুৎ উৎসের ক্ষমতার ওপর। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে কেবল একটি বৃত্তাকার লুপের ওপর নির্ভর না করে, অপরিবাহী আস্তরণ দিয়ে ঢাকা তার ব্যবহার করে একটি কুণ্ডলী বা কয়েল তৈরি করা হয়। এরকম কুণ্ডলীকে বলা হয় সলিনয়েড। 
- সলিনয়েড একটি দণ্ড চুম্বকের মতো কাজ করে। 
- ডান হাতের নিয়ম অনুযায়ী বুড়ো আঙুলের দিকটি সলিনয়েডের উত্তর মেরু নির্দেশ করে। 
- সলিনয়েডের প্রত্যেক লুপ বিদ্যুতের জন্য পৃথক চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে সম্মিলিত চৌম্বক ক্ষেত্র অনেক শক্তিশালী হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬২১.
শব্দ তরঙ্গের গতি কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি? 
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. বায়ুবীয় 
  4. শূন্যস্থান 
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- পুরুষের গলার স্বর মোটা এবং নারী ও শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ। যখন কোনো একটা শব্দ করা হয় তখন আমাদের ফুসফুস থেকে বাতাস গলা দিয়ে দিয়ে বের হয়ে আসে। আমাদের গলায় ও ফুসফুসে বাতাস ঢোকার জন্য এবং বের হওয়ার জন্য রয়েছে Wind pipe এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে স্বরযন্ত্র (Larynx)। সেখানে দুটো পর্দা ভালভের মতো কাজ করে, এই পর্দা দুটির নাম ভোকাল কর্ড (Vocal Cord)। বাতাস বের করার সময় এগুলো কাঁপতে পারে এবং শব্দ তৈরি করে। 
- বয়সের সাথে সাথে পুরুষের ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যায়, নারীদেরটি কোমল থাকে। সে জন্য পুরুষেরা কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে মেয়েরা বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে। সে কারণে পুরুষের গলার স্বর মোটা, নারীর স্বর তীক্ষ্ণ। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬২২.
জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি? 
  1. আলফা রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অন্যান্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৫,৬২৩.
সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে থাকে-
  1. ক) তামার দন্ড ও দস্তার দন্ড
  2. খ) তামার পাত ও দস্তার পাত
  3. গ) কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
  4. ঘ) তামার দন্ড ও দস্তার কৌটা
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
ব্যাখ্যা
সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা থাকে। এর কিছু বৈশিষ্ট্য- এতে তরল ইলেকট্রোডের পরিবর্তে পেষ্ট ব্যবহার করা হয়, এর পাত্রটি একটি ইলেকট্রোড নেগেটিভ হিসাবে কাজ করে, প্রয়োজনে ইলেকট্রোড ও পানি যোগ করে ব্যবহার করা যায় না।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - রসায়ন বিজ্ঞান বই।
৫,৬২৪.
নিচের কোনটি জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য?
  1. সাধারণত আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়
  2. সাধারণত কার্বন পরমাণু অনুপস্থিত থাকে
  3. সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শন করে না
  4. বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক বেশি সময় লাগে
সঠিক উত্তর:
বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক বেশি সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক বেশি সময় লাগে
ব্যাখ্যা

- সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে জৈব যৌগ গঠিত হয়।
- জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু সাধারণত উপস্থিত থাকে। এছাড়া হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার ইত্যাদি মৌলও উপস্থিত থাকে।
- জৈব যৌগে সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শিত হয়।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৫,৬২৫.
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হার কী দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. বিকিরণ শক্তি দ্বারা
  2. নিউক্লিয়ন সংখ্যা দ্বারা
  3. অর্ধায়ু দ্বারা
  4. নিউক্লিয়াসের আকার দ্বারা
সঠিক উত্তর:
অর্ধায়ু দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধায়ু দ্বারা
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হার  অর্ধায়ু দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay)
- তেজস্ক্রিয়তায়, কোনো পদার্থের ক্ষয় হলো সেই সময়, যার মধ্যে কোনো তেজস্ক্রিয় নমুনায় থাকা অর্ধেক সংখ্যক পরমাণুর নিউক্লিয়াস ক্ষয় হয়ে যায়।

তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের প্রকার
1. আলফা ক্ষয় (Alpha Decay):
 - একটি হিলিয়াম আয়ন (আলফা কণা) নির্গত হয়।
 - Daughter নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা parent নিউক্লিয়াসের থেকে ২ কম হয় এবং পারমাণবিক ভর সংখ্যা ৪ কম হয়।

2. বিটা ক্ষয় (Beta Decay):
 - একটি বিটা কণা (ইলেকট্রন বা পজিট্রন) নির্গত হয়।

3. গামা রশ্মি (Gamma Ray):
 - গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের disintegration এবং কিছু subatomic কণার ক্ষয়কালে উৎপন্ন হয়।

অর্ধায়ু (Half-life)
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হারকে অর্ধায়ু দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো আইসোটোপের অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয় হতে যে সময় লাগে, তাকে অর্ধায়ু বলে।
- বিভিন্ন unstable atomic nuclei এবং তাদের ক্ষয়ের ধরনের উপর নির্ভর করে অর্ধায়ুর সময়কাল ভিন্ন হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৫,৬২৬.
ব্যতিক্রমধর্মী নিষ্ক্রিয় গ্যাস কোনটি?
  1. নিয়ন
  2. রেডন
  3. জেনন
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। 
যেমন: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। 
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোন যৌগ গঠন করতে চায় না। 
- নিষ্ক্রিয় অন্য মৌলগুলো থেকে হিলিয়াম (He) মৌলটি ব্যতিক্রম। কারণ হিলিয়াম (He) এর বাইরের শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অন্য মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ৮টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে। 
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬২৭.
নিচের কোনটি জারক পদার্থের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) জারণ ঘটায়
  2. খ) এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়
  3. গ) নিজের বিজারণ ঘটে
  4. ঘ) সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
খ) এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- জারক পদার্থ জারণ ঘটায়, এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে, নিজের বিজারণ ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা হ্রাস পায়।
- বিজারক পদার্থ বিজারণ ঘটায়, এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়, নিজের জারণ ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

৫,৬২৮.
রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়-
  1. কয়লা পোড়ালে
  2. বাল্ব জ্বালালে
  3. পাখা ঘুরালে
  4. টারবাইন চালালে
সঠিক উত্তর:
কয়লা পোড়ালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা পোড়ালে
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
• কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।

৫,৬২৯.
সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারের উদাহরণ হচ্ছে -  
  1. ডিটারজেন্ট
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. তৈল
সঠিক উত্তর:
চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্বি
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারকে মূলত ট্রাইগ্লিসারাইড বলা হয়। গ্লিসারিনের সঙ্গে উচ্চতর সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিড (যেমন স্টিয়ারিক বা পামিটিক এসিড) এস্টার গঠন করলে যে যৌগ সৃষ্টি হয়, সেটিই চর্বি। চর্বি কঠিন অবস্থায় থাকে এবং প্রাণিজ উৎসে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে তৈল সাধারণত অসম্পৃক্ত এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হওয়ায় তরল হয়। সাবান ও ডিটারজেন্ট গ্লিসারিন এস্টার নয়; এগুলো ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারের সঠিক উদাহরণ হলো খ) চর্বি।

 
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।

৫,৬৩০.
The nucleus of an atom contains –
  1. ক) Electrons and protons
  2. খ) Proton and positron
  3. গ) Neutrons and electrons
  4. ঘ) Neutrons and Protons
সঠিক উত্তর:
ঘ) Neutrons and Protons
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Neutrons and Protons
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস।
- এই নিউক্লিয়াসে নিউট্রন ও প্রোটন  অবস্থান করে।
- সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে।‌
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৩১.
সাধারণত জৈব অম্লের কার্যকরী মূলক কোনটি?
  1. কার্বক্সিল মূলক (-COOH)
  2. হাইড্রক্সিল মূলক (-OH)
  3. কার্বনিল মূলক (>C=O)
  4. অ্যালডিহাইড মূলক (-CHO)
সঠিক উত্তর:
কার্বক্সিল মূলক (-COOH)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বক্সিল মূলক (-COOH)
ব্যাখ্যা

জৈব অম্ল বা কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের প্রধান কার্যকরী মূলক হলো কার্বক্সিল মূলক (-COOH)। 
- এই মূলকটি একটি কার্বনিল গ্রুপ (C=O) এবং একটি হাইড্রক্সিল গ্রুপ (-OH) এর সমন্বয়ে গঠিত।

• জৈব অম্ল বা এসিড:
- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে।
- কার্বক্সিল মূলকের হাইড্রোজেন পরমাণুটি জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে H+ আয়ন দান করে, যার ফলে যৌগটি অম্লীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়।
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।
- উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৩২.
কোন রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন একটি কণা?
  1. আলোক রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৩৩.
কলায় ব্যবহৃত এস্টার কোনটি? 
  1. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  2. মিথাইল বিউটাইরেট
  3. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  4. অকটাইল অ্যাসিটেট
সঠিক উত্তর:
আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
• মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস, 
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৩৪.
'সূর্য' থেকে প্রাপ্ত তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ কোনটি?
  1. এক্স-রে
  2. গামা রশ্মি
  3. মাইক্রোওয়েভ
  4. অতিবেগুনী রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনী রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা
- 'অতিবেগুণী রশ্মি' হচ্ছে 'সূর্য' থেকে প্রাপ্ত তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 

তাড়িতচৌম্বক বর্ণালী: 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত রশ্মি, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুণী রশ্মি, এক্সরে, গামা রশ্মি হলো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 
- তাড়িতচৌম্বক বর্ণালীর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্কের বিন্যাস দেখানো হয়েছে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৩৫.
মাঝখানে গোলাকার ছিদ্রবিশিষ্ট একটি প্লেটকে উত্তপ্ত করলে, ছিদ্রটির ব্যাস-
  1. কমবে
  2. বাড়বে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. প্রথমে বাড়বে, পরে কমবে
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
ব্যাখ্যা
- একটি গোলাকার ছিদ্রযুক্ত প্লেটের মাঝখানে যখন গরম করা হয়, তখন প্লেটের উপাদান অর্থাৎ চারপাশ সব দিকে সম্প্রসারিত হয়। 
- এই সম্প্রসারণ ছিদ্রের চারপাশের উপাদানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যার অর্থ প্লেট সম্প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে ছিদ্রের ব্যাসও বৃদ্ধি পায়। 
- প্রথম দৃষ্টিতে এটি হ্রাস বা কমবে মনে হতে পারে, কারণ কেউ হয়তো ভাববে, উপাদান সম্প্রসারিত হলে ছিদ্রটি সংকুচিত হবে, কিন্তু এটি বোঝার মূল কথা হলো ছিদ্রটিকে সেই উপাদানের একটি অংশ হিসাবে ধরা, যা নিজেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। 
- প্লেটের প্রতিটি অংশ, ছিদ্রের সীমানাকে সংজ্ঞায়িত করা প্রান্তগুলিও ছিদ্রের কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে চলে যায়। তাই, প্লেট গরম হওয়ার সাথে সাথে ছিদ্রটি বড় হয়ে যায়। 
অর্থাৎ, যখন মাঝখানে বৃত্তাকার ছিদ্র থাকা একটি প্লেটকে গরম করা হয়, তখন ছিদ্রটির ব্যাস বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বোস্টন ইউনিভার্সিটি এবং রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
৫,৬৩৬.
পেট্রোলিয়ামে শতকরা কত ভাগ গ্যাসোলিন থাকে?
  1. ১০
  2. ১৩
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়ামে
শতকরা ৫ ভাগ গ্যাসোলিন থাকে।
শতকরা ২ ভাগ পেট্রোলিয়াম গ্যাস থাকে।
শতকরা ১০ ভাগ ন্যাপথা থাকে।
শতকরা ১৩ ভাগ ক্যারোসিন থাকে।

সূত্র - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫,৬৩৭.
নিচের কোনটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎসের উদাহরণ?
  1. বায়োগ্যাস
  2. কয়লা 
  3. তরল পেট্রোলিয়াম
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস কারণ এটি জৈব পদার্থ (যেমন- কৃষি বর্জ্য, পশুর মলমূত্র ইত্যাদি) থেকে অবায়বীয় পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই জৈব পদার্থগুলো ক্রমাগত পুনরায় পূরণ করা যায়, তাই বায়োগ্যাসকে নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

জ্বালানি: 

- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়। 
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস। 

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়। 

বায়োমাস শক্তি: 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়। 
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস। 
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৩৮.
নিচের কোনটি অভিকর্ষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সঠিক?
  1. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বলের মতো বিকর্ষণ সৃষ্টি করে
  2. কেবল মহাকাশে কার্যকর, পৃথিবীর পৃষ্ঠে প্রযোজ্য নয়
  3. সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
  4. কেবল ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে, মহাকর্ষের অংশ নয়
সঠিক উত্তর:
সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
ব্যাখ্যা

• অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।

• অভিকর্ষ:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়।
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।

 • অভিকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- অভিকর্ষ বলের অপর নাম মাধ্যাকর্ষণ বল।
- অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের পরেও আমরা ছিটকে পড়ি না।
- অভিকর্ষের ফলেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৩৯.
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায়-
  1. ক) এক কিলোওয়াট-ঘন্টা
  2. খ) এক ওয়াট-ঘন্টা
  3. গ) এক ওয়াট
  4. ঘ) এক মেগাওয়াট
সঠিক উত্তর:
ক) এক কিলোওয়াট-ঘন্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক কিলোওয়াট-ঘন্টা
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘন্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট Χ ১ঘণ্টা
- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়।
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে।
- বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায় এক কিলোওয়াট-ঘন্টা। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৬৪০.
একটি হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন সরিয়ে নিলে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ক) নিউট্রন
  2. খ) পজিট্রন
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রোটন
ব্যাখ্যা
কণিকা:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়।
- মূল উপাদানরূপে যে সব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়।

স্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি।
যেমন: ইলেকট্রম, প্রোটন ও নিউট্রন। 

প্রোটন (Proton)
- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ‘ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সব পদার্থের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান'-এ তথ্য সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন।
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান সর্বাপেক্ষা হাল্‌কা ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট একটি স্থায়ী বস্তু কণিকা।
(i) প্রোটনের ভর 1.673 x 10-24 g যা হাইড্রোজেনের পরমাণুর ভরের প্রায় সমান। পারমাণবিক ভর স্কেলে এর পরিমাণ 1-007276 amu। 
(ii) প্রোটন হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে H+
- অর্থাৎ একটি হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন সরিয়ে নিলেই প্রোটন পাওয়া যায়। 
- প্রোটনের বৈদ্যুতিক চার্জের পরিমাণ ইলেকট্রনের সমান, কিন্তু তা ধনাত্মক। এর পরিমাণও +1.6 × 10-19 C যা ধনাত্মক চার্জের এক একক। 
(iii) প্রোটনের প্রতীক হচ্ছে p। 
(iv) প্রোটন নিউক্লিয়াসে থাকে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৫,৬৪১.
রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কোয়ার্টজ
  2. মাইকা
  3. ম্যাগনেটাইট
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা (Fe), তামা  (Cu), সোনা (Au), কিংবা রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর (CaCO3) খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪২.
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে আয়নিকরণ শক্তির পরিবর্তন কীভাবে হয়?
  1. অপরিবর্তিত থাকে
  2. কমে 
  3. বাড়ে
  4. প্রথমে বাড়ে পরে কমে 
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
ব্যাখ্যা
আয়নিকরণ শক্তি (Ionization Energy): 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণু থেকে এক মোল ইলেকট্রন অপসারণ করে এক মোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বলে। 
- আয়নিকরণ শক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে আয়নিকরণ শক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে আয়নিকরণ শক্তির মান কমে। 
উদাহরণ- 
• Na, Mg, Al, Si এর মধ্যে Si এর আয়নিকরণ শক্তির মান বেশি। কারণ এই মৌলগুলোর মধ্যে Si এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম। পক্ষান্তরে, এই মৌলগুলোর মধ্যে Na এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান বেশি বলে এদের মধ্যে সোডিয়ামের আয়নিকরণ শক্তির মান কম। 
• গ্রুপ-1 এর Li, Na, K, Rb, Cs, Fr ক্ষার ধাতুগুলোর মধ্যে Li এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এজন্য এদের মধ্যে Li এর আয়নিকরণ শক্তির মান সবচেয়ে বেশি। 
• আবার, গ্রুপ-17 এর F, Cl, Br, I এবং At মৌলগুলোর মধ্যে F এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, কাজেই এই মৌলগুলোর মধ্যে F এর আয়নিকরণ শক্তির মান সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪৩.
নিচের কোনটি পটাসিয়ামের আকরিক?
  1. ক) সল্টপিটার
  2. খ) লিমোনাইট
  3. গ) বক্সাইট
  4. ঘ) চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
ক) সল্টপিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সল্টপিটার
ব্যাখ্যা
যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা যায় সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)।
সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর রসায়ন বই৷
৫,৬৪৪.
মোবাইল চার্জ করার সময় তড়িৎশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. শব্দ শক্তি
  2. তাপ শক্তি
  3. আলোক শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ দিতে হলে সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির উদাহরণ দেওয়া হয়, তার কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- শুধু তা-ই নয়, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- তাই চারপাশে নানা ধরনের শক্তি থাকার পরও আমাদের বাসায় অন্য কোনো শক্তি সরবরাহ না করে সবার প্রথমে তড়িৎশক্তি বা ইলেকট্রিসিটি সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪৫.
শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে নিচের কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. বস্তুর ভর
  2. তাপমাত্রা
  3. বৈদ্যুতিক রোধ
  4. সমুদ্রের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ দূরবর্তী বাধায় প্রতিফলিত হয়ে উৎসের কাছে ফিরে এলে মূল ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।
- এককথায়, প্রতিফলিত শব্দই প্রতিধ্বনি।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমপক্ষে ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।

• প্রতিধ্বনির ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে।
- কুয়ার গভীরতা নির্ণয়ে।
- দূরত্ব পরিমাপে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৪৬.
দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন বস্তুতে কি সৃষ্টি হয়?
  1. ঘূর্ণন
  2. সমানুপাতিক পরিবর্তন
  3. স্থিতিশীল ভারসাম্য
  4. পরিপূর্ণ বিকলন
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণন
ব্যাখ্যা

- দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন তা ঘূর্ণন শুরু করে।
- তবে এই বলগুলো একটি মোমেন্ট বা টর্ক সৃষ্টি করে।
- টর্কের কারণে বস্তু ঘূর্ণন (Rotation) শুরু করে।
- এই অবস্থাকে টর্ক বা ঘূর্ণন বলের প্রভাবে সৃষ্টি ঘূর্ণন বলা হয়।

উদাহরণ:
- ঘুর্ণিঝড়
- দরজা খোলার ক্ষেত্রে হিঞ্জের চারপাশে দুইটি বিপরীত দিকের বল প্রয়োগ হলে দরজা ঘূর্ণন করে।
- জিমন্যাস্টিক রিংয়ে হাত দিয়ে টর্ক প্রয়োগ করলে ঘূর্ণন দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।

৫,৬৪৭.
আর্সেনিকের নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা কত?
  1. ৩৪
  2. ৩৩
  3. ৩২
  4. ৩৯
সঠিক উত্তর:
৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩
ব্যাখ্যা

- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা হচ্ছে ৩৩ । 
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- জার্মেনিয়ামের (Ge) পারমাণবিক সংখ্যা ৩২। 
- সেলেনিয়ামের (Se) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৪। 
- ইট্রিয়ামের (Y) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৯। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ) এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। 

৫,৬৪৮.
অধিক অম্ল মাটিতে বেঁচে থাকতে পারে কোন জীবাণু?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. নেমাটোড
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
- অম্ল pH (কম pH)–তে ছত্রাকের বৃদ্ধি বেশি হয়।
- অধিক অম্ল (কম pH ≤5) মাটিতে সবচেয়ে বেশি টিকে থাকতে সক্ষম হলো ছত্রাক।

উল্লেখ্য,
- ব্যাকটেরিয়া (Bacteria): অম্ল পরিবেশে তুলনামূলকভাবে কম টিকতে পারে।
- নেমাটোড (Nematode): অম্লতার সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে; ideal pH হওয়া জরুরি তাদের টেকসই থাকার জন্য।
- ভাইরাস (Virus): মাটিতে স্বাধীনভাবে টিকতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৫,৬৪৯.
ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়-
  1. লবণ
  2. পানি
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
◉ ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
 
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিডের অণুতে প্রতিস্থাপন যোগ্য হাইড্রোজেন বর্তমান থাকে। 
- এ হাইড্রোজেন ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। 

ধাতব কার্বোনেট ও হাইড্রোজেন কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিড ধাতব কার্বোনেট বা ধাতব হাইড্রোজেন কার্বোনেট এর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে থাকে। যেমন- 
• Na2CO3(s) + 2HCl(aq) → 2NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g)
• NaHCO3(s) + HCl(aq) → NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g)

ধাতুর অক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিড ধাতুর অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ধাতুর অক্সাইড সমূহ ক্ষার ধর্মী এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে। 

ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিড ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড ক্ষার বিধায় এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে। 
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫০.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. T1/2 = 0.693/λ
  2. T1/2 = 0.694/λ
  3. T1/2 = 0.695/λ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
T1/2 = 0.693/λ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
T1/2 = 0.693/λ
ব্যাখ্যা
অর্ধায়ু:
- যে সময়ে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ভেঙ্গে যায় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে। 
- যে সময় কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের 'N' সংখ্যক অণু ভেঙ্গে N/2 সংখ্যক হয়, সেই সময় হলো অর্ধায়ু।
- তেজস্ক্রিয়তা হচ্ছে তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ঘটনা।
- অর্ধায়ু কে T1/2 বা T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

 T1/2 = 0.693/λ
- এখানে, T1/2 = অর্ধায়ু বা Half life.
- এবং λ = ক্ষয়‌ ‌ধ্রুবক‌ ‌বা‌ ‌অবক্ষয়‌ ‌ধ্রুবক‌ ‌বা‌ ‌ভাঙন‌ ‌ধ্রুবক‌ ‌বা Decay‌ ‌constant.
- সমীকরণটি দ্বারা বুঝায়, তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধায়ু এর ক্ষয় ধ্রুবকের ব্যস্তানুপাতিক। 
………………
- একটি নির্দিষ্ট তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস ঠিক কোন মুহূর্তে বিকিরণ করবে তা বলা সম্ভব নয়, পদার্থবিজ্ঞান শুধু তার বিকিরণ করার সম্ভাবনাটি বলতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ বের করার জন্য “অর্ধায়ু” এর ধারণাটি ব্যবহার করা হয়। 
- যে পরিমাণ সময়ের ভেতর অর্ধেক সংখ্যক নিউক্লিয়াসের বিকিরণ ঘটে সেটি হচ্ছে ঐ নিউক্লিয়াসের অর্ধায়ু। 
- যে নিউক্লিয়াসের তেজস্ক্রিয়তা যত বেশি, সেই নিউক্লিয়াসের অর্ধায়ু তত কম। 
- স্থিতিশীল নিউক্লিয়াস যার কোনো তেজস্ক্রিয়তা নেই তার অর্ধায়ু অসীম বলে বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৫,৬৫১.
ধাতুর ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক? 
  1. ধাতু আঘাতে টুন টুন শব্দ তৈরি করে না।
  2. ধাতুর গলনাঙ্ক কম ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি।
  3. ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
  4. ধাতু তাপ সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
ব্যাখ্যা
ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫২.
তিনটি ৪ ভোল্টের ব্যাটারি  কে সমান্তরালে সংযুক্ত করলে কত ভোল্ট পাওয়া যাবে ?
  1. ক) ১২ ভোল্ট
  2. খ) ৪ ভোল্ট
  3. গ) ৮ ভোল্ট
  4. ঘ) ২৪ ভোল্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভোল্ট
ব্যাখ্যা
সমান্তরালে ব্যাটারি সংযুক্ত করলে বিভবের কোনো পরিবর্তন হয় না । ফলে তিনটি ৪ ভোল্টের ব্যাটারি  কে সমান্তরালে সংযুক্ত করলে  ৪ ভোল্ট ই থাকবে।

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই। 
৫,৬৫৩.
শক্তির একক-
  1. ক) F
  2. খ) W
  3. গ) J
  4. ঘ) A
সঠিক উত্তর:
গ) J
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) J
ব্যাখ্যা
কাজ করার ক্ষমতাকে বলে শক্তি। শক্তির একক জুল (J)। ক্ষমতার একক ওয়াট (W)।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫,৬৫৪.
নিকেল একটি -
  1. প্যারাচুম্বক
  2. ডায়াচুম্বক
  3. ফেরােচুম্বক
  4. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
সঠিক উত্তর:
ফেরােচুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরােচুম্বক
ব্যাখ্যা
- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- তামা, দস্তা, বিসমাথ, রূপা, সোনা, সীসা, পানি ইত্যাদি ডায়াচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৫,৬৫৫.
'লুমেন' কীসের একক?
  1. চৌম্বক ফ্লাক্স
  2. চৌম্বক প্রাবল্য
  3. দীপন তীব্রতা
  4. আলোর ফ্লাক্স
সঠিক উত্তর:
আলোর ফ্লাক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর ফ্লাক্স
ব্যাখ্যা
আলোর ফ্লাক্সঃ
কোনো আলোর উৎস থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে, যে পরিমাণ আলোক শক্তি নির্গত হয় বা প্রবেশ করে, তাকে দীপ্তি প্রবাহ বা আলোর প্রবাহ বা আলোর ফ্লাক্স বলে।
আলোর ফ্লাক্সকে গ্রীক অক্ষর φ (ফাই) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
আলোর ফ্লাক্স পরিমাপের একক লুমেন (lm)।
এক ক্যান্ডেলা দীপন তীব্রতার কোনো আলোক উৎস থেকে এক স্টেরেডিয়ান ঘনকোণে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ আলোক ফ্লাক্স নির্গত হয় তার পরিমাণ এক লুমেন (1 lm)।


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫৬.
জারণ এবং বিজারণ বিক্রিয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
  1. উভয়েই ইলেকট্রন গ্রহণ করে 
  2. উভয়েই ইলেকট্রন দান করে 
  3. জারণে ইলেকট্রন দান হয়, বিজারণে ইলেকট্রন গ্রহণ হয় 
  4. জারণে ইলেকট্রন গ্রহণ হয়, বিজারণে ইলেকট্রন দান হয়
সঠিক উত্তর:
জারণে ইলেকট্রন দান হয়, বিজারণে ইলেকট্রন গ্রহণ হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণে ইলেকট্রন দান হয়, বিজারণে ইলেকট্রন গ্রহণ হয় 
ব্যাখ্যা

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- সংযোজন বিক্রিয়া, বিয়োজন বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৫৭.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. অডিওমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৫,৬৫৮.
পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য কত সালে নোবেল পুরষ্কার পান?
  1. ১৯৬৪
  2. ১৯৯৩
  3. ২০১২
  4. ২০১৩
সঠিক উত্তর:
২০১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৩
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।
- এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
- হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান 'পিটার ডব্লিউ হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট'।
- হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'।
- বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৬৫৯.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে-
  1. গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  2. আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গতিশক্তির উপর
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
ব্যাখ্যা
• আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে। 
• তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

- কঠিন পদার্থ (Solid): 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

- তরল পদার্থ (Liquid): 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

- গ্যাস (Gas):  
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৬০.
গামা রশ্মি -
  1. আধানহীন
  2. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  3. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  4. চার্জ পরিবর্তনশীল 
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি (γ-rays) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic Radiation), যা দৃশ্যমান আলোর মতোই প্রকৃতিতে কিন্তু অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি কোনো কণা নয়, বরং উচ্চ-শক্তির ফোটন (Photon) দিয়ে গঠিত। যেহেতু ফোটনের ভর নেই এবং কোনো বৈদ্যুতিক আধানও নেই, তাই গামা রশ্মি আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৬১.
ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম কী?
  1. সোডিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
  2. সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট
  3. ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট
  4. ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
ব্যাখ্যা
• ব্লিচিং পাউডার:
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরাে হাইপােক্লোরাইট, Ca(OCl)Cl.
- বলপেন এর কালি বা অন্য কোনাে রং যেগুলাে সাবান এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে তােলা যায় না সেগুলােকে কাপড় থেকে উঠানাের জন্য তথা বর্ণহীন করার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া মেঝে, কমােড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজেও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি।
৫,৬৬২.
শিল্প কারখানায় অত্যন্ত শক্ত পদার্থ কাটার জন্য নিচের কোনটি ব্যবহৃ হয়? 
  1. ক) শক্তিশালী ছুরি 
  2. খ) সিলভার
  3. গ) সোডিয়াম  
  4. ঘ) ডায়মন্ড 
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডায়মন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডায়মন্ড 
ব্যাখ্যা
কার্বন একটি অধাতু এবং বিজারক। 
- কার্বনের বহুরূপতা ধর্ম দেখা যায়।
- এটির একটি রুপভেদ হলো হীরক বা ডায়মন্ড। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরক।
- হীরক কাচ কাটতে ব্যবহৃত হয়।
- শিল্প কারখানায় অত্যন্ত শক্ত পদার্থ কাটার জন্য ডায়মন্ড ব্যবহৃত হয়।
৫,৬৬৩.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়বীয়
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
• কঠিন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দ:
- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ (mechanical wave), যা কম্পনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং মাধ্যমের (বায়ু, পানি, কঠিন পদার্থ) কণাগুলোর অনুনাদ বা কম্পনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• শব্দ শোনার জন্য শর্ত:
- একটি উৎস (source of vibration),
- একটি মাধ্যম (বায়ু, পানি, ইত্যাদি),
- একটি গ্রাহক (যেমন: কান)।

• মাধ্যমের ঘনত্ব যত বেশি শব্দের গতি তত বেশি হয়।
- কঠিন পদার্থের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- লোহাতে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।
- তরল মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের থেকে কম,
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ তরল মাধ্যমের থেকে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয় কারণ শূন্য মাধ্যমে শব্দ পরিবহনের জন্য কোন কণা থাকে না।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,৬৬৪.
হীরক উজ্জ্বল দেখার কারণ-
  1. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
  2. প্রতিসরণের জন্য
  3. প্রতিফলনের জন্য
  4. অপবর্তনের জন্য
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
ব্যাখ্যা
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৫,৬৬৫.
কোন দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়? 
  1. সম্পৃক্ত দ্রবণে
  2. অসম্পৃক্ত দ্রবণে
  3. অতিপৃক্ত দ্রবণে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত দ্রবণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত দ্রবণে
ব্যাখ্যা
দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়। 

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন- 

১। সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

২। অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

৩। অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৬৬.
আয়নিক যৌগে ধনাত্মক আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. ক্যাটায়ন
  2. অ্যানায়ন 
  3. নিউট্রন
  4. কোভালেন্ট আয়ন
সঠিক উত্তর:
ক্যাটায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাটায়ন
ব্যাখ্যা

আয়নিক বন্ধন: 
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে, তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
যেমন- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও CI- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৬৭.
সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনেটাইট
  2. খ) মাইকা
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) ধাতব পাইরাইটস
সঠিক উত্তর:
গ) জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিপসাম
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) - লোহা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
মাইকা (Mica) - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়
জিপসাম(CaSO4.2H2O) - সিমেন্টপ্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামাল
ধাতব পাইরাইটস - সালফার এবং নানা রকমের ধাতু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৫,৬৬৮.
নিচের কোন মৌলটির আকৃতি সবচেয়ে বড়?
  1. ক) Na
  2. খ) Si
  3. গ) Mg
  4. ঘ) Al
সঠিক উত্তর:
ক) Na
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Na
ব্যাখ্যা
• কোনো পর্যায়ে যত বাম দিক থেকে ডান দিকে যাওয়া যায়, পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শক্তিস্তর সংখ্যা একই থাকে কিন্তু ইলেকট্রন সংখ্যা বাড়তে থাকে। - এর ফলে নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন সংখ্যা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিক ইলেকট্রন সংখ্যার মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলোর শক্তিস্তর নিউক্লিয়াসের কাছে চলে আসে। ফলে পরমাণুর আকার ছোট হয়ে যায়। 
তাহলে,
Na > Mg > Al > Si কারণ তারা সবাই পর্যায় সারণিতে ৩নং পর্যায়ে আছে এবং Na সবচেয়ে বামে আছে।

• কোন গ্রুপের  উপর থেকে যত নিচে নামা হয় পারমাণবিক সংখ্যা ততই বাড়তে থাকে। এর ফলে শক্তিস্তরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। 
- একই সাথে পরমাণুর আকারও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ এই গ্রুপের উপর থেকে নিচে যেতে থাকলে বাইরের দিকে একটি নতুন করে শক্তিস্তর যুক্ত হতে থাকবে এবং এর ফলে পরমাণুর আকারও বাড়তে থাকে।
৫,৬৬৯.
প্রমাণ দ্রবণ কোনটি?
  1. 1.0g H2SO4
  2. 1.0M Na2CO3
  3. 1.0mL H2SO4
  4. 1.0mol H2SO4
সঠিক উত্তর:
1.0M Na2CO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.0M Na2CO3
ব্যাখ্যা
প্রমাণ দ্রবণ: 
- কোনো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের নমুনা দিয়ে তৈরি করা দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানা থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ নমুনা দ্রবের প্রমাণ দ্রবণ বলে। 
যেমন- 1M Na2CO3 দ্রবণ, 0.5M Na2CO3 দ্রবণ, 0.1M Na2CO3 দ্রবণ হলো প্রত্যেকেই এক একটি প্রমাণ দ্রবণ। 
কারণ, Na2CO3 প্রথমত প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ এবং দ্বিতীয়ত প্রতিটি প্রস্তুত করা দ্রবণের বেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ Na2CO3 রাসায়নিক নিক্তিতে সঠিকভাবে ওজন করে দ্রবণটি তৈরি করা হয়। 

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ,
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫,৬৭০.
গ্যাল্ভানিক কোষে তড়িৎ প্রবাহ ঘটে -
  1. বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগে।
  2. স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
  3. তাপীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
  4. আলো শোষনের মাধ্যমে।
সঠিক উত্তর:
স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
ব্যাখ্যা
গ্যাল্ভানিক কোষ (Galvanic cell) এমন একটি যন্ত্র যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং এর মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।
- গ্যাল্ভানিক কোষে দুটি ভিন্ন ধাতু (অ্যানোড এবং ক্যাথোড) দ্রবণে ডুবানো থাকে।
- একে অপরের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং ইলেকট্রন  অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে চলে যায়। এই ইলেকট্রন চলাচলই তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।
- এটি স্বতঃস্ফূর্ত  কারণ তাতে বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগের দরকার নেই, শুধুমাত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। 


অন্যদিকে, 
বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগে: এটি ইলেকট্রোলাইসিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।

তাপীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে: তাপীয় বিক্রিয়া (thermoelectric effect) তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করতে পারে, তবে গ্যাল্ভানিক কোষে এটি প্রযোজ্য নয়।

আলো শোষণের মাধ্যমে: এটি সোলার কোষে প্রযোজ্য, যেখানে আলো থেকে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণী।  
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
-"Chemistry: Principles and Applications" by J. D. Lee — Galvanic Cells chapter.
৫,৬৭১.
স্টোরেজ ব্যাটারিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া সাম্যাবস্থায় পৌছালে কী ঘটে?
  1. ক) Charged
  2. খ) Decayed
  3. গ) Discharged
  4. ঘ) Fused
সঠিক উত্তর:
গ) Discharged
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Discharged
ব্যাখ্যা
- কিছু কিছু কোষ আছে যেগুলির বিভব কমে গেলে তাকে আবার বিদ্যুৎ গ্রস্থ (Charged) করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। এ ধরনের কোষকে সঞ্চয়ক কোষ (storage battery) বলে।
- সঞ্চয়ক কোষে ঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়া সাম্যাবস্থায় পৌছালে কোষ থেকে আর বিদ্যুৎ টানা যায় না। এ অবস্থাকে সাধারণত বলা হয় discharged হয়ে যাওয়া বা কোষ ডাউন (down) হয়ে যাওয়া। 
- কোষের তড়িৎদ্বারে বাইরে থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তড়িৎ বিভব প্রয়োগ করে তড়িৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। অর্থাৎ কোষটিকে বিদ্যুৎ গ্রস্থ (Charged) করা যায়। 
- যে বিক্রিয়ার সাহায্যে সঞ্চয়ক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা উভমূখী। কাজেই বিক্রিয়াকে তড়িৎ শক্তির সাহায্যে আবার বিপরীত দিকে চালিত করে কোষটিকে Charged বা বিদ্যুৎগ্রস্থ করা হয় এবং কোষটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
- বাজারে বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়ক কোষের মধ্যে সীসা বা লেড কোষ অতি পরিচিত। 
 
উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৬৭২.
রেকটিফায়ার ব্যবহৃত হয়-
  1. এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
  2. ডিসি ভোল্টেজকে এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
  3. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
ব্যাখ্যা
প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current- এসি) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৭৩.
রংধনু তৈরি হওয়ার কারণ কী?
  1. বিবর্ধন
  2. ব্যতিচার
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• রংধনু বা রামধনু (Rainbow): 
- রংধনু একটি আলোকীয় ঘটনা। এক পশলা বৃষ্টির পর আবার যখন সূর্য উঠে তখন কখনও কখনও সূর্যের বিপরীত দিকে আকাশে উজ্জ্বল রঙের অর্ধবৃত্ত দেখা যায়। একে বলা হয় রংধনু ।
- রংধনুতে বর্ণালির ৭টি রং থাকে। সূর্যের বিপরীতে গঠিত হয় বলে সকালে পশ্চিমাকাশে এবং বিকালে পূর্বাকাশে রংধনু দেখা যায়।
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে।  রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে।
- তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়।
- এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,৬৭৪.
বেকিং পাউডার নিচের কোনটি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আইস্ক্রিম প্রস্তুতিতে
  2. খ) কেক প্রস্তুতিতে
  3. গ) কাপড় পরিষ্কারে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) কেক প্রস্তুতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কেক প্রস্তুতিতে
ব্যাখ্যা
কেক প্রস্তুতিতে বেকিং পাউডার ব্যবহৃত হয়। 

- বেকিং সোডা ও ড্রাই অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি হয় বেকিং পাউডার। 
- সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের মতো খাবার তৈরি করতে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। 
- খাবার সোডার রাসয়নিক নাম হচ্ছে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বোনেট। 

সূত্র- ২৯১ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৬৭৫.
কোন মৌলটি জৈব যৌগ গঠনে অপরিহার্য?
  1. ক) সালফার
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:

- কার্বন শিকল দ্বারা গঠিত বিভিন্ন শ্রেণির যৌগের রসায়নকে জৈব রসায়ন বলে।
- প্রকৃতপক্ষে কার্বনের রসায়নই জৈব রসায়নের আলোচ্য বিষয়।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে প্রধানত হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস, হ্যালোজেন প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।
- সকল জৈব যৌগে কার্বন থাকবেই।
- কিন্তু সকল জৈব যৌগে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস, হ্যালোজেন প্রভৃতি নাও থাকতে পারে।
- জৈব যৌগে কার্বন থাকলেও সকল কার্বনযুক্ত যৌগ কিন্তু জৈব যৌগ নয়।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৬৭৬.
এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টরে ডোপায়ন করার ফলে কোনটি ঘটে?
  1. পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. পরিবাহিতা হ্রাস পায়
  3. মুক্ত ইলেকট্রনের পরিমাণ হ্রাস পায়
  4. হোলের পরিমাণ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টরে ডোপায়ন করার ফলে এর পরিবাহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

• সেমিকন্ডাক্টর: 

- যেসকল পদার্থের আপেক্ষিক রোধ অপরিবাহী ও পরিবাহীর মধ্যবর্তী তাদেরকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী বলা হয়।
• ডোপায়ন: 
- পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে অতিসামান্য অপদ্রব্য মেশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপায়ন বলা হয়। 

• সেমিকন্ডাক্টর প্রধানত দুই প্রকারঃ
→ ইনট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত (Intrinsic) সেমিকন্ডাক্টর:
-  যে সকল সেমিকন্ডাক্টরে কোনো অপদ্রব্য মেশানো হয় না তাদেরকে ইনট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- এটি খাঁটি বা বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টর।
- এতে কোনো ডোপেন্ট (dopant) মেশানো থাকে না।
- এতে ইলেকট্রন ও হোল (hole) এর সংখ্যা সমান থাকে।

→ এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত (Extrinsic) সেমিকন্ডাক্টর:
- অপদ্রব্য মেশানো সেমিকন্ডাক্টরকে এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টরে অতিসামান্য অপদ্রব্য নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে (প্রায় এক কোটি পরমাণুতে একটি পরমাণু) মেশালে এতে বিপুল পরিমাণে মুক্ত ইলেক্ট্রন বা হোল সৃষ্টি হয়।
- ডোপায়নের ফলে এর পরিবাহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
- বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা বাড়ানোর জন্য এতে সামান্য পরিমাণে অপদ্রব্য যোগ করা হয়।
- ডোপায়নের মাধ্যমে n-type এবং p-type এই ২ ধরনের এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টর তৈরি হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫,৬৭৭.
নিচের কোন পদার্থের ঘনত্ব বেশি?
  1. পানি
  2. পারদ
  3. কাচ
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত পদার্থগুলোর মধ্যে 'পারদ'-এর ঘনত্ব বেশি যা প্রায় 13.6 gm/cc

ঘনত্ব (Density): 
- তরল এবং বায়বীয় পদার্থের চাপ বোঝার আগে ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণাটি অনেক স্পষ্ট থাকা দরকার। 
- ঘনত্ব হচ্ছে একক আয়তনে ভরের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর ভর যদি m এবং আয়তন V হয় তাহলে তার ঘনত্ব, 
• ρ = m/V 
- ঘনত্বের একক = kg/m3 অথবা gm/cc.
- ঘনত্বের মাত্রা [P] = ML-3  । 
- তাপমাত্রা বাড়লে কিংবা কমলে পদার্থের আয়তন বাড়বে কিংবা কমতে পারে। যেহেতু ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না তাই পদার্থের ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তন হতে পারে। 
- সেজন্য পদার্থের ঘনত্বের কথা বলতে হলে সাধারণত সেটি কোন তাপমাত্রায় মাপা হয়েছে সেটিও বলে দিতে হয়। 
- নিচে কয়েকটি পদার্থের ঘনত্ব দেওয়া হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৭৮.
পিতলের প্রধান ধাতু কী? 
  1. টিন
  2. কপার
  3. কার্বন
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং এক বা একাধিক থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। 
যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%, এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%, এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিলে প্রধান ধাতু লোহা থাকে 99% এবং অপ্রধান অধাতু কার্বন থাকে 1%, এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৭৯.
What type of signal is transmitted through fiber optic cables?
  1. Radio signal
  2. Electrical signal
  3. Microwaves
  4. Optical signal
  5. Ultrasonic waves
সঠিক উত্তর:
Optical signal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Optical signal
ব্যাখ্যা

• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত (Optical signal) প্রেরণ করা হয়। 

• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়।
- এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে। 

• ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

অন্যান্য অপশন:
- Radio signal: ওয়্যারলেস যোগাযোগে (রেডিও, Wi-Fi, মোবাইল) ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Electrical signal: কপার তার (twisted pair, coaxial) দিয়ে প্রেরণ করা হয়।
- Microwaves: মাইক্রোওয়েভ লিঙ্ক, স্যাটেলাইট যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Ultrasonic waves: শব্দ তরঙ্গ (ultrasound), যা মেডিকেল ইমেজিং বা sonar-এ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণি।

৫,৬৮০.
নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশন বিক্রিয়ায় যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণের সাহায্যে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়?
  1. ভর-বেগের সমীকরণ
  2. ভর-শক্তির সমীকরণ
  3. ওজন-শক্তির সমীকরণ
  4. সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
ভর-শক্তির সমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর-শক্তির সমীকরণ
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়।

• ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass Energy Relation):

- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক।
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য।
- চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা।
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে।
- এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা।
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়।
- অর্থাৎ ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়।
- E = mc2 এটিই আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ।
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
- অর্থাৎ এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮১.
নিচের কোনটি চাপের মাত্রা?
  1. ML- 1T- 2
  2. ML 2T- 3
  3. ML- 2T- 2
  4. ML- 1T- 3
সঠিক উত্তর:
ML- 1T- 2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ML- 1T- 2
ব্যাখ্যা
• চাপ:
- চাপ হল একক ক্ষেত্রফলে কোন বস্তুর তলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত সমভাবে বিতরিত বল।
- পারিপার্শ্বিক চাপের সাপেক্ষে যে চাপ উৎপন্ন হয় তাকে বলা হয় গজ চাপ।
- চাপের একক হল প্যাসকেল এবং সংকেত Pa.
- চাপের মাত্রা হল: ML- 1T- 2.

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ক্ষমতার মাত্রা ML 2T- 3.
- কাজের মাত্রা ML 2T- 2.
৫,৬৮২.
এনট্রপি কোন ভৌত ধর্মের পরিমাপ করে?
  1. চাপ
  2. তাপ
  3. শৃঙ্খলা
  4. বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৫,৬৮৩.
তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে নিচের কোনটি?
  1. ডায়নামো
  2. কার্নো ইঞ্জিন
  3. বৈদ্যুতিক বাল্ব
  4. জেনারেটর
সঠিক উত্তর:
কার্নো ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্নো ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে।
কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি।

সুত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান এবং একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র)।

৫,৬৮৪.
উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা কোন মান বোঝানো হয়?
  1. 109
  2. 106
  3. 1012
  4. 1015
সঠিক উত্তর:
109
উত্তর
সঠিক উত্তর:
109
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা বোঝানো হয় 109 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৮৫.
Alkaline Earth Metals কোনটি? 
  1. সিজিয়াম 
  2. রেডিয়াম 
  3. লিথিয়াম 
  4. রুবিডিয়াম 
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৮৬.
ল্যাবরেটরির কাজে কোন পরিষ্কারকটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর?
  1. ডিটারজেন্ট
  2. সাবান
  3. ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ
  4. সোডা
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

• ল্যাবরেটরির কাজের সময় কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অপরিষ্কার হয়ে যায়। বিশেষ করে কখনও কখনও এগুলিতে তৈলাক্ত পদার্থ বা জৈব অমল পদার্থ লেগে থাকে, যা সাধারণ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার করা কঠিন। এই অবস্থায় ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ সবচেয়ে কার্যকর। এটি মূলত K2Cr2O7 এবং ঘন H2SO4-এর সংমিশ্রণ, যা শক্তিশালী অক্সিডাইজার হিসেবে কাজ করে। ক্রোমিক এসিড যন্ত্রপাতির জৈব ও তৈলাক্ত দাগ দ্রুত ধ্বংস করে, ফলে কাচ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয় এবং পরীক্ষার নির্ভুলতা বজায় থাকে। তাই ল্যাবরেটরিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিস্কারক হলো ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ।

• ল্যাবরেটরির সর্বোত্তম পরিস্কারক (Best Laboratory Cleaner):
- ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন- বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অপরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
- অনেক সময় এসব যন্ত্রপাতিতে তৈলাক্ত পদার্থ লেগে থাকে যা সাধারণভাবে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না।
- এই অবস্থায় সবচেয়ে কার্যকর পরিস্কারক হলো ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ।
- ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ হলো K2Cr2O7 + ঘন H2SO4 এর সংমিশ্রণ।
- এটি কাঁচের যন্ত্রপাতি থেকে কঠিন দাগ, তৈলাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দূষক দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সরাতে সক্ষম।  

• ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ (Chromic Acid Mixture) এবং এর ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন- বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি পরিস্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- তৈলাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য জৈব দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
- কাচের উপরের লেবেল বা আঠালো দাগ পরিষ্কার করতে কার্যকর।
- ধাতব বা প্লাস্টিকের কোনো অংশে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র কাঁচের জন্য নিরাপদ।
- পরিস্কার করার পরে যন্ত্রপাতি ধুয়ে ভালোভাবে শুকাতে হয় যাতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক অবশিষ্ট না থাকে।
- এটি জৈব উপাদান অক্সিডাইজ করতে পারে, ফলে ক্ষতিকর জীবাণু বা ধ্বংসাবশেষও মুছে যায়।  

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৫,৬৮৭.
কোনটি তাপ সুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. পশম
  3. কাঠ
  4. তুলা
সঠিক উত্তর:
তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা
ব্যাখ্যা
সুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
যেমন- লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পানি ইত্যাদি।

কুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, কাঁচ ইত্যাদি।

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৫,৬৮৮.
SI পদ্ধতিতে পদার্থের পরিমাণের একক -
  1. কিলোগ্রাম
  2. কেলভিন
  3. মোল
  4. ক্যান্ডেলা
সঠিক উত্তর:
মোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোল
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।
- কয়েকটি হলো- কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), মিটার (m), অ্যাম্পিয়ার (A), অ্যাম্পিয়ার (A), মোল (mol)।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম।
- মৌলিক ভৌত এককগুলো হলো—কিলোগ্রাম (kg, ভরের একক), সেকেন্ড (s, সময়ের একক), মিটার (m, দূরত্বের একক), অ্যাম্পিয়ার (A, বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক), কেলভিন (K, তাপমাত্রার একক), মোল (mol, পদার্থের পরিমাণের একক) এবং ক্যান্ডেলা (cd, দীপন তীব্রতার একক)।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮৯.
মহাজাগতিক রশ্মি বলতে কী বোঝায়? 
  1. চাঁদের আলোক
  2. সৌরশক্তির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
  3. মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
  4. বায়ুমণ্ডলে গঠিত গ্যাসীয় কণা
সঠিক উত্তর:
মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫,৬৯০.
নিচের কোন কাজে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়?
  1. চেতনানাশক হিসেবে
  2. পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে
  3. রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
 -ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 
 

ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯১.
ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভেতে ব্যবহার হওয়া রিসিভারের নাম কী?
  1. মাইক্রোফোন
  2. আলট্রাসাউন্ড ট্রান্সডিউসার
  3. জিওফোন 
  4. সিসমিক রিসিভার
সঠিক উত্তর:
জিওফোন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিওফোন 
ব্যাখ্যা

- ত্রিমাত্রিক (3D) সিসমিক সার্ভেতে মাটির নিচে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ বা কম্পন শনাক্ত করার জন্য প্রধানত জিওফোন (Geophone) ব্যবহার করা হয়। এটি যান্ত্রিক কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। 

শব্দের ব্যবহার: 
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না। 
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। শব্দ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিকভাবে নবজাতককে গর্ভের ভিতর থেকে দেখা সম্ভব; এই প্রক্রিয়াকে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়। 

১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey): 
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। 
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়। 
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়। 

২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার: 
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৯২.
Which is not a semiconductor?
  1. Germanium
  2. Aluminum
  3. Gallium
  4. Silicon
  5. None of Above
সঠিক উত্তর:
Aluminum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aluminum
ব্যাখ্যা
- অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয়।

অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায় ।
- এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য ১.১ eV বা এর চেয়ে কম ।
- কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে ।

অন্যদিকে:
- অ্যালুমিনিয়াম সুপরিবাহী।
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী বলে।যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, পণ্ঢাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯৩.
নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না? 
  1. meson
  2. neutron
  3. proton
  4. electron
সঠিক উত্তর:
electron
উত্তর
সঠিক উত্তর:
electron
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯৪.
নিম্নলিখিত কোনটি মৌলিক রাশি হিসেবে গণ্য হয়?
  1. দীপন তীব্রতা
  2. বল
  3. কাজ
  4. তাপ
সঠিক উত্তর:
দীপন তীব্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা

• মৌলিক রাশি বা সাধারণ রাশি সেই ধরনের পরিমাণ যা অন্য কোনো রাশির সাহায্যে প্রকাশ করা যায় না। পদার্থবিজ্ঞানে রাশিগুলোকে মূলত দুই ধরনের হিসেবে দেখা হয়: মৌলিক (primary) এবং অনুমেয় (derived)। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে দীপন তীব্রতা, বল, কাজ এবং তাপ বিবেচনা করলে দেখা যায়, দীপন তীব্রতা (luminous intensity) অন্য কোনো মৌলিক রাশির সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। অন্যদিকে, বল, কাজ এবং তাপ সবগুলোই মৌলিক রাশির সমন্বয়ে তৈরি অনুমেয় রাশি। উদাহরণস্বরূপ, বলকে ভর ও ত্বরণের গুণফল হিসেবে লেখা যায়, কাজকে বল এবং স্থানচ্যুতি হিসেবে প্রকাশ করা যায়। 

- উত্তর: ক) দীপন তীব্রতা।


- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।

লব্ধ বা যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
অর্থাৎ, যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলা হয়।
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৯৫.
ব্রোঞ্জ হলো -
  1. তামা ও লোহার সংকর
  2. টিন ও দস্তার সংকর
  3. তামা ও টিনের সংকর
  4. লোহা ও দস্তার সংকর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিনের সংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিনের সংকর
ব্যাখ্যা
- সংকর ধাতু ব্রোঞ্জের উপাদান হলাে তামা ও টিন। 
- ২৫-১০% টিন ও ৭৫-৯০% কপার এর সমন্বয়ে এই সংকর ধাতুটি তৈরি। 
- ব্রোঞ্জ ধাতু কাঁসা নামেও বহুল পরিচিত। 
- সংকর ধাতু হলো একাধিক ধাতু বা একটি ধাতুর সাথে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৯৬.
অক্সালিক এসিডের গলনাংক কত?
  1. ক) 0°C
  2. খ) 100°C
  3. গ) 121°C
  4. ঘ) 101°C
সঠিক উত্তর:
ঘ) 101°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 101°C
ব্যাখ্যা
- কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে উহার তরল অবস্থায় পরিণত করাকে গলন বলে ।
- যে তাপমাত্রায় কোন পদার্থের কঠিন ও তরল উভয় ভৌত অবস্থা একত্রে সহ-অবস্থান করে তাকে ঐ পদার্থের গলনাংক বলে ।
- বেনজয়িক এসিডের গলনাংক 121°C
- অক্সালিক এসিডের গলনাংক 101°C
প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (±10°C পার্থক্যে) হঠাৎ গলে যায়, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থ ধীরে ধীরে কয়েক ডিগ্রী তাপমাত্রা ধরে গলে । কাজেই কঠিন জৈব যৌগের সুনির্দিষ্ট গলনাংক উহার বিশুদ্ধতার নিশ্চিত পরীক্ষা বলে মনে করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৬৯৭.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে? 
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে, ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C । 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯৮.
কোনো পরমাণুর চতুর্থ কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা-
  1. ৮টি
  2. ১৬টি
  3. ৩২টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৩২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২টি
ব্যাখ্যা
- আমরা এখানে "চতুর্থ কক্ষ" বলতে বুঝি n = 4 শক্তিস্তর, অর্থাৎ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n = 4।

- একটি শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রনের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় এই সূত্রে:
- সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা=2n2  
- n = শক্তিস্তরের সংখ্যা (কক্ষ)।
- যখন n = 4, তখন:
- 2n2=2×42=2×16=32।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৬৯৯.
পরীক্ষাগারে উৎপাদিত প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) ইথানল
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) পাইরিন
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

- ১৮১৫ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস প্রস্তাব করেন যে, জৈব যৌগসমূহ কেবল সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এক রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। তাই একে পরীক্ষাগারে উৎপন্ন করা সম্ভব নয়। একে প্রাণশক্তি মতবাদ বলা হয়। তখন সব বিজ্ঞানী এ মতবাদ গ্রহণ করেন।
- ১৮২৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলার পরীক্ষাগারে অজৈব অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লেড সায়ানেট দ্রবণের বিক্রিয়া ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষাগারে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন।
- ইউরিয়া হলো প্রথম জৈব যৌগ যা পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এজন্য বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৭০০.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি কী?
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি হচ্ছে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে সংকট কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে (θc) আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোক রশ্মি সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fiber):
অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ বা প্লাস্টিকের তন্তু, যার মাধ্যমে আলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত করা যায়।

বৈশিষ্ট্য:
- এটি খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ তন্তু দিয়ে তৈরি।
- এর মাধ্যমে আলো পরিবহন করা হয়।
- এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) ঘটে।
- এতে সাধারণত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত (Infrared) রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

• ব্যবহার:
- টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য।
- এন্ডোস্কোপি চিকিৎসায় রোগীর পাকস্থলীর ভিতরের অংশ দেখার জন্য।
- বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা যন্ত্রে আলো পরিবহনের কাজে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।