বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১১ / ৬৪ · ১,০০১১,১০০ / ৬,৪০৯

১,০০১.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? 
  1. সুইমিংপুলে
  2. পুকুরে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা

⇒ সাগরে সাঁতার কাটা সহজ।

সাগরে সাঁতার কাটা সহজ:
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে।
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়।
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম।
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়।
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,০০২.
গভীর সমুদ্রের উচ্চ চাপে ডুবুরিদের সিলিন্ডারে অক্সিজেনের সাথে কোন গ্যাসটির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. হাইড্রোজেন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• গভীর সমুদ্রে পানির প্রচণ্ড চাপে সাধারণ বাতাসের নাইট্রোজেন রক্তে দ্রবীভূত হয়ে যায়, যা পরে 'বেন্ডস' বা 'নাইট্রোজেন নারকোসিস' নামক প্রাণঘাতী সমস্যা তৈরি করে। এই ঝুঁকি এড়াতে হিলিয়াম (He) ব্যবহার করা হয়।
- হিলিয়াম রক্তে অত্যন্ত কম দ্রবণীয় এবং এটি খুবই হালকা একটি গ্যাস, যা উচ্চ চাপে শ্বাসক্রিয়া সহজ রাখে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- নিয়ন (Ne): এটি হিলিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর তাপ পরিবাহিতা বেশি হওয়ায় ডুবুরির শরীর দ্রুত ঠান্ডা করে ফেলতে পারে।
- হাইড্রোজেন (H2): হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য এবং অক্সিজেনের সাথে মিলে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে, যা সিলিন্ডারের ভেতরে বিপজ্জনক।
- জেনন (Xe): এটি একটি শক্তিশালী অ্যানেস্থেটিক বা চেতনানাশক। উচ্চ চাপে এটি ডুবুরিকে অচেতন করে ফেলতে পারে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০৩.
পানির অণু একটি-
  1. প্যারাচৌম্বক
  2. ডায়াচৌম্বক
  3. ফেরােচৌম্বক
  4. অ্যান্টিফেরােচৌম্বক
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক
ব্যাখ্যা
- তামা, দস্তা, বিসমাথ, রূপা, সোনা, সীসা, পানি ইত্যাদি ডায়াচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১,০০৪.
পিপড়া কামড় দিলে কী ব্যবহার করতে হয়?
  1. ক) বেকিং সোডা
  2. খ) চুন
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

চুন এবং বেকিং সোডা দুইটাই সঠিক উত্তর হবে।

বোলতা ও বিচ্ছুর হুলে হিস্টামিন নামক ক্ষারক পদার্থ থাকে। এসবের কামড়ের ক্ষেত্রে যে মলম ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে বেকিং সোডা, ভিনেগার, যেগুলো এসিড জাতীয়। এগুলো ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। চুন ব্যবহার করা যাবে না, কারণ চুন ক্ষারক পদার্থ।

পিপড়া বা মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে জ্বালা করে কারণ এদের হুলে এসিড থাকে। তাই জ্বালা যন্ত্রণা কমানোর জন্য ক্ষারক জাতীয় পদার্থ যেমন চুন, বেকিং সোডা, ক্যালামাইন বা জিঙ্ক কার্বনেট ব্যবহার করতে হয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,০০৫.
কোন অবস্থায় পদার্থের কণিকাগুলো সর্বাধিক গতিশীল থাকে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়বীয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
ব্যাখ্যা
পদার্থের আণবিক গতিতত্ত্ব: 
- পদার্থ কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং প্লাজমা চারটি অবস্থায় থাকতে পারে। এই চার অবস্থায় থাকার কারণ পদার্থের মধ্যকার তাপমাত্রা বা শক্তির পার্থক্য। 
- পদার্থের আণবিক গতি তত্ত্ব পদার্থের অবস্থা রূপান্তরের একটি মডেল হতে পারে। এই তত্ত্বটি অতি সরল কিন্তু পদার্থের ভৌত ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। 
- এই তত্ত্বের মূল কথা হলো বস্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে গঠিত যা হলো মূলত পরমাণু। 
- কতগুলো পরমাণু মিলে গঠিত হয় একটি অণু, এই অণুগুলো নিয়ত গতিশীল। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৬.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
  2. খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া
  3. জ্বালানির দহন
  4. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
ব্যাখ্যা
ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না। 
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৭.
NASA কোন দেশের গবেষণা কেন্দ্র-
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• NASA:
- NASA এর পূর্ণরূপ হলো National Aeronautics and Space Administration.
- NASA হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- নাসা'র সদরদপ্তর ওয়াশিংটন ডিসি তে অবস্থিত।
- এটি ১৯৫৮ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল হলো এটির উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
১,০০৮.
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) লিউয়েন হুক
  4. ঘ) মাইকেল ফ্যারাডে
সঠিক উত্তর:
গ) লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
১৬৮৩ সালে ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন ।

- গ্যালিলিও টেলিস্কোপ ও থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো ও তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র আবিস্কার করেন।

সূত্র: ব্রিটানিকা
১,০০৯.
কোনটি থার্মোসেটিং পলিমার? 
  1. স্টার্চ 
  2. ফাইবার গ্লাস 
  3. সেলুলোজ 
  4. রাবার 
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- ১। থার্মোপ্লাস্টিক ও ২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক। 

থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক: 
- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়। 
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়। 
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে। 
যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাষ্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০১০.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ০.০১-০১ মেগাহার্জ
  2. ০১-১০ মেগাহার্জ
  3. ১০-২০ মেগাহার্জ
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ
সঠিক উত্তর:
০১-১০ মেগাহার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০১-১০ মেগাহার্জ
ব্যাখ্যা

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১,০১১.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. ক) পানি
  2. খ) চিনি
  3. গ) সেন্ট
  4. ঘ) দুধ
সঠিক উত্তর:
গ) সেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেন্ট
ব্যাখ্যা
বায়বীয় পদার্থ সবসময়ই যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রজুড়ে অবস্থান করে৷ অর্থাৎ, একই পরিমাণ গ্যাস যদি একটি বড় সিলিন্ডারে এবং আরেকটি ছোটো সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে সেই গ্যাস পুরোটা জুড়ে থাকবে৷
প্রশ্নের প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র সেন্টই এই শর্ত পূরণ করতে পারে যেহেতু এটা গ্যাসীয় পদার্থ৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১,০১২.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে কী বলে?
  1. নিম্ন স্থির বিন্দু
  2. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  3. ত্রৈধ বিন্দু
  4. বরফ বিন্দু
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে। 


তাপীয় সমতা:
যে অবস্থায় তাপীয়ভাবে সংযুক্ত বস্তুগুলোর মধ্যে তাপের আদান-প্রদান ঘটে না, তাকে তাপীয় সমতা বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে ।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৩.
শক্তি পরিমাপের একক কোনটি?
  1. ক) ওয়াট
  2. খ) জুল
  3. গ) হর্স পাওয়ার
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
খ) জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
শক্তি ও কাজের পরিমাপের একক একই। এটি হলো জুল। কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুত শক্তি পরিমাপের একক।
ওয়াট, হর্স পাওয়ার প্রভৃতি হলো ক্ষমতা পরিমাপের একক।
নিউটন হলো বল পরিমাপের একক।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,০১৪.
Which of the following indicates an acidic value on the pH scale?
  1. 8
  2. 7
  3. 4
  4. 9
  5. 10
সঠিক উত্তর:
4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4
ব্যাখ্যা
• pH স্কেলের প্রদত্ত মানগুলোর মধ্যে এসিডিক বা অম্লীয় মান হলো 4। 

• pH:

- pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 

• pH স্কেল ব্যবহার করে একটি দ্রবণের অম্লীয় (acidic) বা ক্ষারীয় (basic) প্রকৃতি বোঝা যায়।
- দ্রবণের pH এর মান 7 হলে বোঝায় দ্রবণটি নিরপেক্ষ। 
- pH এর মান 7 এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় হয়। 
- pH এর মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় হয়। 

• pH স্কেলে কোন দ্রবণের pH এর মান 0 থেকে 6 এর মধ্যবর্তী হলে দ্রবণটির প্রকৃতি হবে এসিডিক বা অম্লীয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,০১৫.
১ ক্যালরি =?
  1. ৪.২ জুল
  2. ৩.৮ জুল
  3. ১.২ জুল
  4. ০.২৪ জুল
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
ব্যাখ্যা
⇒ তাপ শক্তির একটি রূপ। তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের SI একক জুল (J)।
এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১°C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য।
তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল
∴ ১ জুল = (১/৪.২) ক্যালরি
= ০.২৪ ক্যালরি

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৬.
তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়।
১) পরিবহন,
২) পরিচলন,
৩) বিকিরণ।
পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে এভাবেই আসে।
তাই বলা যায় তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।
১,০১৭.
নিচের কোন মৌলটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. Au
  2. Ni
  3. Zn
  4. Cu
সঠিক উত্তর:
Ni
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ni
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা (Fe), ইস্পাত, নিকেল (Ni), কোবাল্ট (Co) ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা (Au), রূপা (Ag), তামা (Cu), পিতল, অ্যালুমিনিয়াম (Al), দস্তা (Zn), টিন (Sn), কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০১৮.
কোন ধরণের জৈব যৌগে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো
উত্তরপত্রের ইনপুট ও ব্যাখ্যা পরিবর্তন করা হয়েছে। 
-------------------- 

অ্যালকেন: 
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়। 
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণূ দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2। 

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়। 
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়। 

উল্লেখ্য, অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন তিনটি যৌগেই কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০১৯.
‘মিথাইল অরেঞ্জ’ নামক নির্দেশক এসিড দ্রবণে কি ধরনের বর্ণ নির্দেশ করে? 
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. কমলা
  4. নীল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
নির্দেশক:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ অম্ল–ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে নিজ বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রিয়ায় শেষবিন্দু নির্দেশ করে তাকে অম্ল ক্ষারক নির্দেশক বলে।



উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র। 
১,০২০.
পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ক) হেনরি বেকরেল 
  2. খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
  3. গ) জাবির ইবনে হাইয়ান
  4. ঘ) বেঞ্জামিন লিস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
ব্যাখ্যা
- 1896 খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী পিচব্লেণ্ড থেকে পোলোনিয়াম এবং আরও পরে অত্যাধিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।
- রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান। 

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
১,০২১.
চশমা, ক্যামেরা ও অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সাধারণত কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়? 
  1. সমতল আয়না 
  2. উত্তল লেন্স
  3. অবতল লেন্স
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তল লেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তল লেন্স
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা-
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 
উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 
অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২২.
যে শব্দের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20 kHz থেকে বেশি, তাকে কি বলে?
  1. ক) শব্দোত্তর তরঙ্গ
  2. খ) ইনফ্রাসাউন্ড
  3. গ) লো-লেভেল তরঙ্গ
  4. ঘ) শব্দেতর তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দোত্তর তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দোত্তর তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
20 Hz এর কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ তরঙ্গকে বলে - শব্দতর তরঙ্গ বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে। আবার 20000 Hz বা 20 kHz এর বেশি কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ শব্দকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বা আলট্রাসাউন্ড বলে। এই দুই ধরনের শব্দই মানুষ শুনতে পায় না। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।
১,০২৩.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত লবণ নিচের কোনটি? 
  1. CuSO4
  2. NH4NO3
  3. Na2CO3
  4. KNO3
সঠিক উত্তর:
CuSO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CuSO4
ব্যাখ্যা

- কপার সালফেট (CuSO4) যা তুঁতে নামে পরিচিত, এটি কৃষিতে ব্যাপকভাবে একটি ব্যাকটেরিয়ানাশক এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতার কারণে বহুল ব্যবহৃত হয়। 

লবণ: 

- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২৪.
নিচের কোনটি ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস?
  1. 2, 8, 2
  2. 2, 8, 8, 1
  3. 2, 8, 8, 2
  4. 2, 8, 10
সঠিক উত্তর:
2, 8, 8, 2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2, 8, 8, 2
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ২০। 

প্রথম শক্তিস্তর(K) এ ইলেকট্রন আছে ২ টি। 
২য় শক্তিস্তর(L) এ ইলেকট্রন আছে ৮ টি ।
৩য় শক্তিস্তর(M) এ ইলেকট্রন আছে ৮ টি । 
৪র্থ শক্তিস্তর(N) এ ইলেকট্রন আছে ২ টি । 

∴ ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 2

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৫.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. H2S
  2. O2
  3. HNO3
  4. H2SO4
সঠিক উত্তর:
H2S
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H2S
ব্যাখ্যা
বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: 
১. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।
১,০২৬.
কোন বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি?
  1. বেগুনি
  2. সবুজ
  3. লাল 
  4. নীল 
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
ব্যাখ্যা

- বেগুনি বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 

- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর হচ্ছে 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৭.
কোনটির গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. শব্দ
  2. আলো
  3. বুলেট
  4. জেট বিমান
সঠিক উত্তর:
আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো
ব্যাখ্যা
- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে কোনো বস্তুই আলোর গতির সমান বা অধিক গতিবেগ নিয়ে চলতে পারে না। 
- আলোর গতি শূন্য মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এবং তা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,০২৮.
বাতাসে শব্দের বেগ v, তাপমাত্রা T হলে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. v ∝ T 
  2. v ∝ 1/T 
  3. v ∝ T2 
  4. v ∝ √T 
সঠিক উত্তর:
v ∝ √T 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
v ∝ √T 
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T 
এখানে তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,০২৯.
শূন্যস্থানে ফোটনের বেগ কত?
  1. ক) 3×108 ms-1
  2. খ) 3×107 ms-1
  3. গ) 3×106 ms-1
  4. ঘ) 3×105 ms-1
সঠিক উত্তর:
ক) 3×108 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 3×108 ms-1
ব্যাখ্যা
ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়। আলোর বেগ ৩০০০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড অর্থাৎ ৩০০০০০০০০ মিটার/সেকেন্ড বা 3×108 ms-1
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- ড. আমির হোসেন
১,০৩০.
নিচের কোন মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা সবচেয়ে কম?
  1. N
  2. O
  3. Li
  4. F
সঠিক উত্তর:
Li
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ঋণাত্মকতার উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব: 
- সমযোজী বন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুদ্বয়ের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন একটি পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার তুলনামূলক ক্ষমতাকে ঐ পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। 
- মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা যেসব নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলো - 
(i) পরমাণুর আকার, 
(ii) উপস্তর এবং 
(iii) ইলেকট্রন বিন্যাস। 
- নিম্নে নিয়ামকসমূহের প্রভাব বর্ণনা করা হলো- 

পরমাণুর আকার (Size of Atom): 
- পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় তাই বন্ধনে অংশগ্রহণকারী শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড়ের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়। 
- গ্রুপ-17 এর মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান নিম্নে দেওয়া হলো: F = 4.0, Cl = 3.0, Br = 2.8, I = 2.5, At = 2.2  । 

নিউক্লিয়ার চার্জ (Nuclear Charge): 
- পরমাণুর নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধির সাথে মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি সম্পর্কিত। 
- নিউক্লিয়ার চার্জ যত বেশি হবে ঐ নিউক্লিয়ার কর্তৃক সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি প্রবল হয়। 
- দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলসমূহের Li(3) হতে F(7) পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নিউক্লিয়াসে একটি করে প্রোটন যুক্ত হয় এবং শেষ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয়। 
অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধিতে নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মানও বৃদ্ধি পেতে থাকে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩১.
বর্তনীতে কয় প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়? 
  1. দুই প্রকার 
  2. তিন প্রকার 
  3. চার প্রকার 
  4. পাঁচ প্রকার 
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার 
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। ​
যথা-
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে।

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে।
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩২.
pH স্কেলে নিরপেক্ষ দ্রবণ কী বর্ণ প্রদর্শন করে?
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. হলুদ
সঠিক উত্তর:
সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ
ব্যাখ্যা
pH স্কেলে তীব্র ক্ষার দ্রবণ বেগুনী এবং তীব্র এসিড দ্রবণ লাল বর্ণ ধারণ করে।
মৃদু ক্ষার নীলাভ বর্ণ এবং মৃদু এসিড হলুদাভ বর্ণের হয়।
আর নিরপেক্ষ দ্রবণ হলে pH স্কেল সবুজ বর্ণের হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,০৩৩.
মেন্ডেলিভের সারণি কোন ভিত্তিতে সাজানো ছিল?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ইলেক্ট্রন সংখ্যা
  4. রাসায়নিক ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
ব্যাখ্যা

• মেন্ডেলিভের সারণি মূলত পারমাণবিক ভরের ক্রমে সাজানো হয়েছিল।

• মেন্ডেলিভের অবদান:
- দিমিত্রি মেন্ডেলিভ (Dmitri Mendeleev) ১৮৬৯ সালে প্রথম পর্যায়িক সারণি তৈরি করেন।
- তিনি রসায়নের রাসায়নিক ধর্ম এবং পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে মৌলগুলো সাজান।
- মেন্ডেলিভ মৌলগুলোকে উর্ধ্বক্রমে পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে সাজান।
- একই ধরনের রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলো একই কলামে (গ্রুপ) রাখা হয়।
- সারণিতে কিছু খালি ঘর রাখার মাধ্যমে তিনি নতুন আবিষ্কৃত বা অজানা মৌলগুলো পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হন। যেমন: গ্যালিয়াম (Ga), জার্মেনিয়াম (Ge) ইত্যাদির পূর্বাভাস মেন্ডেলিভ করেছিলেন।

• সীমাবদ্ধতা:
- পারমাণবিক ভর ব্যবহার করার কারণে কিছু মৌল গ্রুপ ক্রমে পুরোপুরি সঠিক ছিল না।
- পরে হেনরি মোসলে (Henry Moseley) পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সারণি সাজিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১,০৩৪.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতু নয়?
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) কপার
  3. গ) সিলভার
  4. ঘ) গোল্ড
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

মুদ্রা ধাতু:
গ্রুপ-11 এর এটি মৌল হচ্ছে - কপার, সিলভার, গােল্ড এবং রন্টজেনিয়াম।
এই চারটি মৌলেরমধ্যে প্রথম 3টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়।
কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতাে এবং ব্যবসা। বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতাে।
উৎস: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান।

১,০৩৫.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পলিথিন তৈরি করা হয় নিচের কোন প্রভাবক ব্যবহার করে?
  1. ক) NO
  2. খ) N2
  3. গ) O2
  4. ঘ) V2O5
সঠিক উত্তর:
গ) O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) O2
ব্যাখ্যা
পলিমারকরণ:
- কৃত্রিম পলিমারগুলো  পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করা হয়।
- যে প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মনোমার যুক্ত হয়ে উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে পলিমারকরণ (Polymerisation) বলে। সাধারণত পলিমারকরণে উচ্চচাপ ও তাপের প্রয়োজন হয়।
- দুটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে ডাইমার তৈরি হয়, অনুরূপভাবে তিনটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে ট্রাইমার এবং অসংখ্য বা n সংখ্যক মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয়।
       ১টি মনোমার + ১টি মনোমার → মনোমার-মনোমার বা (মনোমার)
       ১টি মনোমার + ১টি মনোমার + ১টি মনোমার → মনোমার-মনোমার-মনোমার বা (মনোমার)
       n মনোমার → (মনোমার)n
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন উৎপন্ন হয়। তবে বিক্রিয়াটি দ্রুত করার জন্য অক্সিজেন গ্যাসকে প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উচ্চ চাপ পদ্ধতিটি জটিল হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয় না।
- এখন বায়ুমণ্ডলীয় চাপে টাইটেনিয়াম ট্রাইক্লোরাইড (TiCl3) প্রভাবক ব্যবহার করে পলিথিন তৈরি করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৬.
ধূমকেতু কী দিয়ে তৈরী?
  1. গ্যাস, ধূলিকণা ও শিলা
  2. গ্যাস, পাথর ও পানি
  3. পাথর, আগুন ও ধূলিকণা
  4. পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
সঠিক উত্তর:
পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:

- ধূমকেতু হলো পাথর, বরফ ও ধূলিকণা তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,১৫ জানুয়ারী ২০২২।
১,০৩৭.
নিচের কোনটি দিক রাশির উদাহরণ? 
  1. দ্রুতি
  2. ভর
  3. বেগ
  4. দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা
ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৮.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক কত?
  1. 0°C
  2. 100°C
  3. -10°C
  4. -4°C
সঠিক উত্তর:
0°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0°C
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C।  

গলন
- তাপ প্রয়োগে কোনো পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে গলন বলে।
- 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের একটি নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে।
- উদাহরণ: 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C।

স্ফুটন
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- উদাহরণ: 1.0 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।

ঘনীভবন
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্য তাপ দিতে হয়।
- ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১,০৩৯.
কোন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না? 
  1. বোসন কণা
  2. প্রোটন কণা
  3. ইলেকট্রন কণা
  4. নিউট্রন কণা
সঠিক উত্তর:
বোসন কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোসন কণা
ব্যাখ্যা
বোসন: 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা: 
১। গেজ বোসন ও 
২। হিগস বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪০.
'মেসন' কোন বলের বিনিময় কণা?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
- 'মেসন' সবল নিউক্লিয় বলের একটি বিনিময় কণা। 

মৌলিক বল: 

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force)। 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৪১.
যে বস্তু আলোর সকল রং প্রতিফলিত করে, তার রং -
  1. কালো
  2. সাদা
  3. লাল
  4. বেগুনি
সঠিক উত্তর:
সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদা
ব্যাখ্যা
রঙ: 
- কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। 
- তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়। 
- সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়। 

- যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। 
- কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। 
যেমন- আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
 
১,০৪২.
জৈব এসিডে কোন মূলক উপস্থিত থাকে?
  1. -COOH
  2. -SO4
  3. -OH
  4. -NH2
সঠিক উত্তর:
-COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-COOH
ব্যাখ্যা

জৈব এসিডে -COOH মূলক উপস্থিত থাকে। 

এসিডের শ্রেণিবিভাগ:
জৈব এসিড (Organic Acid):
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO₃H) উপস্থিত থাকে।
- এরা অম্লধর্ম প্রকাশ করে।
- কার্বনিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড ছাড়া উল্লেখিত সব এসিড জৈব এসিড।
- জৈব এসিড শুধুমাত্র ফলমূলের মধ্যেই থাকে না; এটি সব অবস্থাতেই উপস্থিত থাকতে পারে।
- বাজারে কাঁচের বোতলে পাওয়া ভিনেগার মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH₃-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ।

অজৈব এসিড (Inorganic Acid):
- অজৈব যৌগ হলেও এরা টক স্বাদযুক্ত, নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করলে হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে, 
- সালফেট (-SO4),
- হাইড্রোক্সিল (-OH),
- অ্যামিনো (-NH2) মূলক জৈব এসিডের প্রধান মূলক নয়, বরং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য থাকে।
 
 উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,০৪৩.
অভিকর্ষজ ত্বরণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম
  2. 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়
  3. বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ:

- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g-এর মান তত বাড়তে থাকে।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৪.
যদি একটি তরঙ্গের পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হয়, তাহলে তরঙ্গের বেগ v এর সূত্র কী?
  1. v = λ / f
  2. v = f / λ
  3. v = f × λ
  4. v = T / λ
সঠিক উত্তর:
v = f × λ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
v = f × λ
ব্যাখ্যা

- একটি তরঙ্গের পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে তরঙ্গের বেগ v হবে- v = f × λ

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (λ) ।
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল, এই পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
অর্থাৎ, T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ ।
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T ।

- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে।
অতএব, তরঙ্গের বেগ, v = λ/T
বা, v = (1/T) × λ
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T] ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪৫.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত? 
  1. ১-১০০ ডেসিবল
  2. ১-৯০ ডেসিবল
  3. ১-১২০ ডেসিবল
  4. ১-৭৫ ডেসিবল
সঠিক উত্তর:
১-৭৫ ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-৭৫ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৬.
আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় কত?
  1. ক) ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কিলোমিটার
  2. খ) ২ লক্ষ ৫০ হাজার কিলোমিটার
  3. গ) ৩ লক্ষ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৩ লক্ষ ২ হাজার কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ লক্ষ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ লক্ষ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

আলো:
- আলো একপ্রকার শক্তি।
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়।
- আলোর কণাকে ফোটন বলে।
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়।
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।

উৎস: মাধ্যমকের পদার্থবিজ্ঞান বই।

১,০৪৭.
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. স্টেরিলাইজেশন
  2. পাস্তুরাইজেশন
  3. রেফ্রিজারেশন
  4. ফারমেন্টেশন
সঠিক উত্তর:
স্টেরিলাইজেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেরিলাইজেশন
ব্যাখ্যা
স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ: 
- সিলিং এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়। 
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়। 
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়। 
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে। 

অন্যদিকে, 
- পাস্তুরাইজেশন হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় জীবাণু ধ্বংসের প্রক্রিয়া, তবে সব জীবাণু ধ্বংস হয় না। 
- রেফ্রিজারেশন হলো ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করে জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর করা হয়, ধ্বংস নয়। 
- ফারমেন্টেশন হচ্ছে ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে খাদ্যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো হয়, যা স্বাদ ও সংরক্ষণে সাহায্য করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৮.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. পুকুরের পানিতে
  2. লেকের পানিতে
  3. নদীর পানিতে
  4. সাগরের পানিতে
সঠিক উত্তর:
নদীর পানিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর পানিতে
ব্যাখ্যা
- নদীর পানিতে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
- কারণ নদীর পানি প্রবাহিত হয় এবং এতে ঢেউ ও স্রোতের কারণে বাতাসের সংস্পর্শে বেশি আসে। ফলে পানি বাতাস থেকে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে।
- স্থির জলাশয়ের (যেমন পুকুর বা লেক) তুলনায় প্রবাহমান পানিতে গ্যাসের আদান-প্রদান বেশি কার্যকরভাবে ঘটে।
- পুকুরের পানি ও লেকের পানি স্থির থাকে, ফলে সেখানে অক্সিজেন কম মিশতে পারে।
- সাগরের পানি গভীরতা এবং লবণাক্ততার কারণে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়।

উৎস: [usgs.gov]
১,০৪৯.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় না নিচের কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায়
  2. খ) ক্যান্সার রােগ নিরাময়ে
  3. গ) ঘড়ির কাঁটা ও নম্বর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করার কাজে
  4. ঘ) মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:-
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

- পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পােলােনিয়াম, থােরিয়াম, আক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকেরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।

** মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় না।

উৎস-  পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৫০.
Fathom কিসের একক?
  1. শব্দ
  2. গভীরতা
  3. দূরত্ব
  4. দীপন তীব্রতা
সঠিক উত্তর:
গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভীরতা
ব্যাখ্যা

ফ্যাদম হল দৈর্ঘ্য পরিমাপের একটি একক যা ৬ ফিট (১.৮২৮৮ মিটার) এর সমান, যা দীর্ঘদিন ধরে গভীরতার নটিক্যাল ইউনিট হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিক ভাবে ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোতে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি একক।

Source: Britannica.com

১,০৫১.
বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয় -
  1. গ্যালিলিও
  2. জর্জ লেমাইটার
  3. নিউটন
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার
ব্যাখ্যা
বিগ-ব্যাংগ:

- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব।
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুর' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ‍ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।
- বিগ-ব্যাংগ সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫২.
নিচের কোন খনিজটি ধাতব দ্যুতি প্রদর্শন করে?
  1. কোয়ার্টজ
  2. ট্যালক
  3. অ্যারাগনাইট
  4. পাইরাইটস
সঠিক উত্তর:
পাইরাইটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইরাইটস
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
- ধাতব খনিজ পদার্থের মাঝে অন্যতম হলো লোহা (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au) কিংবা রূপা (Ag)। 
- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ। 
- কয়লা, গ্যাস, পেট্রোল এগুলোও খনিজ পদার্থ, তবে এদেরকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

খনিজ পদার্থের ভৌত ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত দানাদার বা কেলাসাকার হয়। 
- অনেক খনিজ পদার্থ আছে, যাদের রাসায়নিক সংযুক্তি একই কিন্তু তাদের কেলাস গঠন ভিন্ন যে কারণে তাদের ভৌত ধর্মও ভিন্ন। 
যেমন- গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড। 
- যদিও দুটি পদার্থই কার্বন দিয়ে গঠিত, কিন্তু গঠনের ভিন্নতার কারণে গ্রাফাইট (যা পেন্সিলে ব্যবহার করা হয়) নরম হয় কিন্তু ডায়মন্ড বা হীরা এখন পর্যন্ত জানা খনিজের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ। 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম। 
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। 
- কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয় এবং সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। 
- খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে। 
- ধাতব খনিজ যেমন- পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে। 
- খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 
- কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যেগুলো খুব স্বচ্ছ এবং এর মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন-কোয়ার্টজ বা সিলিকা । 
- আবার কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যার মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশ করলেও এর মধ্য দিয়ে কোনো বস্তু দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যারাগনাইট। 
- অন্যদিকে এমন খনিজও আছে, যার মধ্য দিয়ে মোটেই আলো প্রবেশ করতে পারে না । 
যেমন- ক্যালসাইট (Calcite) বা চুনাপাথর। 

খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম নির্ভর করে এতে বিদ্যমান উপাদানের উপর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৫৩.
৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি কত ক্যালরি তাপের সমতুল্য? 
  1. ১ ক্যালরি
  2. ২ ক্যালরি
  3. ৩ ক্যালরি
  4. ৪ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৪.
নিঃসরণ প্রক্রিয়া কোন অবস্থায় ঘটে?
  1. শুধুমাত্র তরল পদার্থে 
  2. পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়ামে
  3. পাত্রের ভেতরে ও বাইরে সমান চাপের সময় 
  4. কোনো স্থির তাপমাত্রায় 
সঠিক উত্তর:
পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়ামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়ামে
ব্যাখ্যা

ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্তি ঘটানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- উদাহরণস্বরূপ, ফুলের সুগন্ধ বা H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- এই প্রক্রিয়া ঘটে পদার্থের কণা বা অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে। 
- ব্যাপন হলো সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত, মন্থর প্রক্রিয়া, যেখানে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একে অপরের সাথে সমান বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- একটি উদাহরণ হলো গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হয়ে যাওয়া। 
- নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে, যেখানে পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থায় থাকে। 
- নিঃসরণ হলো গ্যাসের দ্রুত প্রক্রিয়া যা অধিক চাপের প্রভাবে ঘটে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১,০৫৫.
লোহার উপর মরিচা পড়া কী ধরনের বিক্রিয়া?
  1. ভৌত
  2. রাসায়নিক
  3. তাপীয়
  4. যান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
• লোহার উপর মরিচা পড়া হলো রাসায়নিক পরিবর্তন (বিক্রিয়া)।

• পদার্থের পরিবর্তন:
- পদার্থের পরিবর্তন বলতে কোনো পদার্থের অবস্থার বা গঠন প্রকৃতির পরিবর্তনকে বোঝায়। 

•  পদার্থের পরিবর্তন দুই প্রকার হয়। যথা-
- ভৌত পরিবর্তন
- রাসায়নিক পরিবর্তন

• রাসায়নিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলো লোহায় মরিচা পড়া।
- আয়রন বা লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড বা মরিচা তৈরি করে।
- এতে ধাতুর পৃষ্ঠতল ক্ষয় হয়। মরিচা ঝাঁঝরা জাতীয় পদার্থ হওয়ায় এর ভিতর দিয়ে বাতাসের অক্সিজেন এবং জলীয় বাষ্প ঢুকে লোহার পৃষ্ঠকে ক্রমাগত ক্ষয় করতে থাকে।
- এভাবে লোহার তৈরি পুরো জিনিসটিই এক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
2Fe + 1.5O2 + 3H2O → 2Fe(OH)3
2Fe(OH)3 → Fe2O3 . nH2O (মরিচা)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,০৫৬.
ক্যাথোডকে কী বলে?
  1. ধনাত্মক তড়িৎদ্বার
  2. ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
  3. নিরপেক্ষ তড়িৎদ্বার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
ব্যাখ্যা
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন।
যথা-
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার।
• অ্যানোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়।

• ক্যাথোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৭.
কুরি তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব -
  1. সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
  2. অর্ধেক নষ্ট হয়
  3. আংশিক নষ্ট হয়
  4. এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,০৫৮.
হুইটস্টোন ব্রিজ কী পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. রোধ
  2. তড়িচ্চালক শক্তি
  3. বিভব পার্থক্য
  4. প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোধ
ব্যাখ্যা

• হুইটস্টোন ব্রিজ মূলত রোধ (resistance) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট যা চারটি রোধকে নির্দিষ্টভাবে সংযুক্ত করে গঠিত হয়, যাতে অজানা রোধের মান নির্ণয় করা যায়। যখন ব্রিজটি “সঠিকভাবে ভারসাম্য স্থিতিতে” থাকে, তখন কোন কারেন্ট বা বিভব পার্থক্য অনুভূত হয় না, এবং অজানা রোধকে সহজভাবে গণনা করা যায়। হুইটস্টোন ব্রিজের মূল ধারণা হলো, একটি পরিচিত রোধের সঙ্গে অজানা রোধকে তুলনা করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ব্রিজের গ্যাপ বা বিভব পার্থক্য শূন্য হয়। এটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পরীক্ষায়, সঠিক রোধ নির্ধারণে এবং গবেষণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, হুইটস্টোন ব্রিজ রোধ পরিমাপের উপকরণ।

- উত্তর: ক) রোধ।
 
• হুইটস্টোন ব্রিজ (Wheatstone Bridge):
- হুইটস্টোন ব্রিজ হলো একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট যা বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ (Resistance) নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- এটি মূলত অজানা রোধকে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে চারটি প্রতিরোধ একটি রোম্বাকৃতি (Diamond) আকারে সংযুক্ত থাকে।
- ব্রিজটি ভারসাম্য (Balance) হলে, কোন কারেন্ট ব্রাঞ্চে প্রবাহিত হয় না, এবং তখন অজানা রোধের মান সহজে নির্ণয় করা যায়।
- হুইটস্টোন ব্রিজ সরাসরি তড়িচ্চালক শক্তি, বিভব পার্থক্য বা প্রবাহ পরিমাপের জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র রোধ নির্ণয়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
- এটি বৈদ্যুতিক পরিমাপ এবং পরীক্ষাগারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।  

সুতরাং, হুইটস্টোন ব্রিজ ব্যবহার করা হয়: ক) রোধ।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১,০৫৯.
ETP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Emergency Transparent Plant
  2. Emergency Transparent Protocol
  3. Effluent Treatment Protocol
  4. Effluent Treatment Plant
সঠিক উত্তর:
Effluent Treatment Plant
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Effluent Treatment Plant
ব্যাখ্যা
ETP:
- ETP-এর পূর্ণরূপ: Effluent Treatment Plant.
- ইটিপি হলো শিল্প কারখানার বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা।
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যে বিভিন্ন প্রকার দূষক পদার্থ থাকে।
- এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- এ লক্ষ্যে প্রতিটি শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য বিশোধিত প্লান্ট (Effluent Treatnent Plant) বা ইটিপি স্থাপন করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য,
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যকে effluent বলে।
- এ সকল বর্জ্যে বিভিন্ন দূষক পদার্থ থাকে যা বাতাস, পানি ও মাটি তথা সমগ্র পরিবেশ দূষিত করে।
- তাই শিল্প কারখানার এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- শিল্পজাত তরল বর্জ্যের বিশোধনকল্পে প্রতিটি শিল্প কারখানায় তরল বর্জ্য বিশোধন প্লান্ট (Effluent Treatment Plant, ETP) স্থাপন করা আবশ্যক।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬০.
মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা সর্বোচ্চ কত হার্জ?
  1. ক) ২০০ হার্জ
  2. খ) ২,০০০ হার্জ
  3. গ) ২০,০০০ হার্জ
  4. ঘ) ২০,০০,০০০ হার্জ
সঠিক উত্তর:
গ) ২০,০০০ হার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০,০০০ হার্জ
ব্যাখ্যা

মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ থেকে ২০,০০০ হয়ে থাকে।

- এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে।
- কম্পাঙ্কের যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- যে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না তাকে অশ্রাব্য শব্দ বলে। অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের কম এবং ২০,০০০ হার্জের বেশি হয়। এ শব্দ কুকুর, বাদুড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণী শুনতে পায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 

১,০৬১.
সর্বাপেক্ষা ছোট একক কোনটি?
  1. মিলি মাইক্রোন
  2. অ্যাংস্ট্রম
  3. অ্যাটোমিটার
  4. এক্সামিটার
সঠিক উত্তর:
অ্যাটোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাটোমিটার
ব্যাখ্যা
• ১ মাইক্রোন =১০−৬ m
• ১ মিলি মাইক্রোন = ১০-৬ × ১০−৩ m = ১০-৯m

• ১ অ্যাংস্ট্রম = ১০−১০m

• ১ অ্যাটো মিটার = ১০−১৮m

• ১ এক্সামিটার = ১০১৮m

সুতরাং, সর্বাপেক্ষা ছোট একক - অ্যাটোমিটার।

সূত্র- ব্রিটানিকা।
১,০৬২.
নিম্নলিখিত কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন নেই?
  1. হিলিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. কার্বন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৬৩.
রাসায়নিক অগ্নি নির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে -
  1. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
  2. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
  3. অক্সিজেন সরবরাহ করে
  4. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ উপাদান হচ্ছে ড্রাই কার্বন- ডাই-অক্সাইড।
- যখন নির্বাপণ যন্ত্রের ভালব খোলা হয় তখন কার্বন-ডাই- অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়।
- যেহেতু কার্বন-ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়।
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না।
- রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

উৎস: National Emergency Service website এবং Britannica.
১,০৬৪.
লোহার উপর দস্তার আবরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. পেইন্টিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. ক্রিস্টালাইজেশন
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৬৫.
'হাইড্রোফোন' যন্ত্রটি কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) পানির গভীরতা নির্ণয়ে
  2. খ) পানির ঘনত্ব নির্ণয়ে
  3. গ) পানির লবণাক্ততা নির্ণয়ে
  4. ঘ) পানির নিচে শব্দ নিরূপনে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পানির নিচে শব্দ নিরূপনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পানির নিচে শব্দ নিরূপনে
ব্যাখ্যা
• পানির তলায় শব্দ নির্ধারণের যন্ত্র হাইড্রোফোন
- হাইড্রোফোন হল একটি পানির নিচের যন্ত্র যা সমস্ত দিক থেকে সমুদ্রের শব্দ সনাক্ত করে এবং রেকর্ড করে।
- অসংখ্য সামুদ্রিক জীব যোগাযোগ, প্রজনন এবং শিকার খোঁজার জন্য শব্দ ব্যবহার করে। যা হাইড্রোফোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র -
• সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার৷
• আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
• ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
• ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।
• বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
• পানির নিচে তেলের সঞ্চয় নির্ণায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।
• রক্তচাপ মাপার যন্ত্র - স্ফিগমোম্যানোমিটার।


উৎস: ব্রিটানিকা।
১,০৬৬.
কোনটি ধাতব খনিজের উদাহরণ?
  1. চুনাপাথর
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. লৌহ আকরিক
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
লৌহ আকরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ আকরিক
ব্যাখ্যা

◉ ধাতব খনিজ (Metallic Minerals) থেকে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। লৌহ আকরিক (Iron Ore) থেকে লোহা আহরণ করা হয়, যা ইস্পাত ও অন্যান্য ধাতব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• ধাতব-অধাতব খনিজ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। যথা:

১. ধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। যেমন:
- আয়রন (Fe),
- তামা (Cu),
- সোনা (Au),
- রূপা (Ag) ইত্যাদি।

২. অধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। যেমন:
- কোয়ার্টজ (Quartz),
- মাইকা (Mica),
- গ্রাফাইট,
- জিপসাম,
- কয়লা,
- খনিজ লবণ ইত্যাদি।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,০৬৭.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত কয়টি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি 
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
- তার আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। 
যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা- 
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৬৮.
কোনটি পেটের আলসার নির্ণয়ের অন্যতম একটি উপায়?
  1. ক) কোমোথেরাপি
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) এন্ডোসকপি
  4. ঘ) রেডিও থেরাপি
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোসকপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোসকপি
ব্যাখ্যা
এন্ডোসকপি যন্ত্র সাধারণত একটি বাঁকানো টেলিস্কোপ। এই যন্ত্রের দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্যদিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়।
আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহব্বরে প্রবেশ করে।
এই আলো ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত
আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে-তা দেখতে পারেন।

এন্ডোসকপির মাধ্যমে চিকিৎসকগন শরীরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পাকস্থলীতে যে কোনো ধরনের অস্বস্থিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন।  পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালী, স্ত্রী প্রজননতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এন্ডোসকপি ব্যবহার নির্ধারণ করেন। এছাড়া পেটের আলসার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,০৬৯.
যে তিনটি মূখ্য বর্ণের সমন্বয়ে নানা বর্ণ সৃষ্টি করা যায়, সেগুলো হলো-
  1. ক) লাল, হলুদ, নীল
  2. খ) লাল, কমলা, বেগুনি
  3. গ) হলুদ, সবুজ, নীল
  4. ঘ) লাল, নীল, সবুজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাল, নীল, সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাল, নীল, সবুজ
ব্যাখ্যা
• কেবল তিনটি রঙের মাধ্যমেই সাদাসহ যেকোনো রঙের সৃষ্টি সম্ভব। এই তিনটি রঙকে বলা হয় মৌলিক রং (Primary color)। রং তিনটি হলো: লাল, সবুজ আর নীল
যেমন: লাল ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে হলুদ রং সৃষ্টি হয়। 

• রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ। যথা- লাল, সবুজ এবং আসমানী বা নীল রং ব্যবহার করে সকল ধরনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়।

• সিআরটি মনিটর (CRT Monitor): 
- ক্যাথোড রে টিউবযুক্ত মনিটরকে সিআরটি মনিটর বলা হয়।
- এ ধরনের মনিটরের পিছন দিকের ইলেকট্রন গান থাকে নির্গত ইলেকট্রন ফসফরাসের উপর আঘাত আনতে থাকে। 
- রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ প্রদর্শনের জন্য তিন ধরনের ইলেকট্রন গান থাকে।
- রঙ তিনটি হলো- লাল, নীল ও সবুজ

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)- নবম-দশম শ্রেণি। 
১,০৭০.
সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোনটি?
  1. জার্মেনিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. সিলিকন
  4. বোরন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) সিলিকন।
কারণ: সিলিকন সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত, কারণ এটি সহজে পাওয়া যায়, তাপ সহনশীল এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য।
 
অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor): 
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর। 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭১.
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন-
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,০৭২.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য কয়টি? 
  1. একটি 
  2. দুইটি 
  3. তিনটি 
  4. চারটি 
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
ব্যাখ্যা

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 
 
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুইটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা - 
১। প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
 
২। দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৩.
নিচের কোনটি সংকর ধাতুর উদাহরণ?
  1. বিশুদ্ধ লোহা
  2. বিশুদ্ধ স্বর্ণ
  3. স্টেইনলেস স্টিল
  4. বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
স্টেইনলেস স্টিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেইনলেস স্টিল
ব্যাখ্যা

- স্টেইনলেস স্টিল হলো লোহা এবং অন্যান্য মৌলের একটি সংকর ধাতু। এটি প্রধানত লোহা (Iron), ক্রোমিয়াম (Chromium) এবং সামান্য পরিমাণে নিকেল ও কার্বন মিশিয়ে তৈরি করা হয়, ক্রোমিয়াম যোগ করার ফলে এতে সহজে মরিচা ধরে না। 

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
• বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো-


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৪.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। 
যথা- 
১। পরিবহন, 
২। পরিচলন ও 
৩। বিকিরণ। 

• বিকিরণ পদ্ধতি: 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

• পরিচলন পদ্ধতি: 
-কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়। 
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 

• পরিবহন পদ্ধতি: 
-যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়। 
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৫.
ফ্যানের পাখার ঘূর্ণন কী ধরনের পর্যায়বৃত্ত গতি? 
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক 
  4.  অনিয়মিত 
সঠিক উত্তর:
বৃত্তাকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্তাকার
ব্যাখ্যা

পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়।
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল।
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে।
- আমাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়।
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা), উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৭৬.
pH স্কেল ব্যবহার করে কোনটি নির্ণয় করা হয়?
  1. দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
  2. দ্রবণের ঘনত্ব
  3. দ্রবণের আর্দ্রতা 
  4. দ্রবণের তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৭.
এমআরআই যন্ত্রে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শরীরের অঙ্গের বিস্তারিত প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়?
  1. এক্স-রে
  2. রেডিও তরঙ্গ
  3. লেজার তরঙ্গ 
  4. আল্ট্রাসোনিক তরঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
রেডিও তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৮.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) ধাতু দেখতে চকচক করে
  2. খ) অক্সিজেন তাপ পরিবহন করে না
  3. গ) ধাতব পদার্থ বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
  4. ঘ) কার্বন বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
ধাতু দেখতে চকচক করে।
এরা তাপ এবং বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
যেমনঃ অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা সহজ এর তাপ সুপরিবাহীতার জন্য৷
অন্যদিকে অধাতু, ধাতুর মত চকচক করে না। এরা তাপ এবং বিদ্যুৎও পরিবহন করে না।
অধাতু (যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন) তাপ এবং বিদ্যুৎ কুপরিবাহী।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১,০৭৯.
তড়িৎ পরিবাহিতার একক কী?
  1. ও’ম 
  2. সিমেন্স 
  3. ভোল্ট 
  4. কুলম্ব 
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স 
ব্যাখ্যা

পরিবাহিতা (Conductance): 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে,
I ∝ V
বা, I = GV;  এখানে G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- তড়িৎ পরিবাহিতার একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়। 
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

অন্যদিকে, 
- ও’ম → এটি রোধের (Resistance) একক। 
- ভোল্ট → এটি ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য এর একক। 
- কুলম্ব → এটি আধানের (Charge) একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮০.
অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল কোনটি? 
  1. ক) HNO3 + 3HCl
  2. খ) 2NO3 + 3HCl
  3. গ) 3HNO3 + 3HCl
  4. ঘ) 3HNO3 + HCl
সঠিক উত্তর:
ক) HNO3 + 3HCl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) HNO3 + 3HCl
ব্যাখ্যা
অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল
- এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং তিন মোল গাঢ় হাইডোক্লোরিক এসিডের (HCl) মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল বলে।
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়।
১,০৮১.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি 
  2. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  3. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ শক্তি
  4. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এই বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,০৮২.
শুষ্ক বরফ কী?
  1. কঠিন নাইট্রোজেন
  2. কঠিন অক্সিজেন
  3. হিমায়িত পানি
  4. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ (Dry ice) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন ঘটে, অর্থাৎ এটি তার কঠিন অবস্থান থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা -78.5° C তাপমাত্রায় (বা -109.3° ফারেনহাইট) পরমানন্দ (sublimation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাসে পরিণত হয়। 
- এ কারণে এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,০৮৩.
400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোন স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 0.8 হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?
  1. 398 ms-1
  2. 360 ms-1
  3. 320 ms-1
  4. 380 ms-1
সঠিক উত্তর:
320 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
320 ms-1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোন স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 0.8 হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?

সমাধান: 
এখানে, 
কম্পাঙ্ক, f = 400 Hz = 400 s-1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 0.8 m
তরঙ্গ বেগ, v = ?

আমরা জানি,
v = fλ
= 400 s-1 × 0.8 m
= 320 ms-1
উত্তর: 320 ms-1 
১,০৮৪.
সর্বাপেক্ষা বৃহৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে -
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) আল্ট্রা ভায়োলেট
  3. গ) মাইক্রোওয়েভ
  4. ঘ) রেডিও ওয়েভ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেডিও ওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেডিও ওয়েভ
ব্যাখ্যা
- সর্বাপেক্ষা বৃহৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে - রেডিও ওয়েভ। 
- সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে - গামা রে। 
 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮৫.
পাথরের তেল বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) পেট্রোলিয়াম
  2. খ) কয়লা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) পেট্রোলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়ামকে পাথরের তেল বলা হয়। 

- পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায় নানা রকম কৃত্রিম বস্তু , এগুলো হলো টেরিলিন, পলিয়েস্টার, ক্যাশমিলন ইত্যাদি ।
- এছাড়া পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয় নানা রকম প্রসাধনী।
- এসব ব্যবহার থাকা সত্বেও এর মূল ব্যবহার জ্বালানি হিসেবে, পেট্রোলিয়াম জাত সামগ্রীর প্রধান ব্যবহার হলো বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক শক্তির উপাদান।
- পেট্রোলিয়াম একটি ল্যাটিন শব্দ। এটি তৈরি হয়েছে পেট্রো ও অলিয়াম মিলে।
- ল্যাটিন ভাষায় পেট্রো শব্দের অর্থ পাথর এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ তেল ।
- পেট্রোলিয়াম হলো পাথরের তেল অর্থাৎ পাথরের মধ্যে সঞ্চিত তেল
- টারশিয়ারি যুগে অর্থাৎ আজ থেকে পাঁচ ছয় কোটি বছর আগে সমুদ্রের তল দেশে পাললিক স্তরে গাছপালা ও সামুদ্রিক প্রাণী চাপা পড়ে যায়।
- বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে এরা রূপান্তরিত হয় খনিজ তেলে।
- আজকের স্থলভাগের অনেকাংশ প্রাগৈতিহাসিক যুগে সমুদ্রের তলদেশে ছিল।

সূত্র: ৭৮ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৬.
প্রকৃতিতে কয় ধরনের মৌলিক বল আছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতিতে ৪ ধরনের মৌলিক বল আছে।

• বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে। 

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৮৭.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ধাতু কোনটি?
  1. লোহা
  2. সিলিকন
  3. পারদ
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%), লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬% ইত্যাদি। 
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে যা অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
যেমন- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি। 

যেহেতু অ্যালুমিয়াম অপশনে নেই, তাই সঠিক উত্তর লোহা

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৮.
দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা কোন রাশি পাওয়া যায়?
  1. ক) স্কেলার রাশি
  2. খ) ভেক্টর রাশি
  3. গ) ক + খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) স্কেলার রাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্কেলার রাশি
ব্যাখ্যা
স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন- দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি। 

- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়। 
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির কোনোটির মান শূন্য না হলে এদের গুণফল শূন্য হয় না।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়

ভেক্টর রাশি
:
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন- সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।

- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির কোনো একটির মান শূন্য না হলেও এদের ভেক্টর গুণফল শূন্য হতে পারে।
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৯.
তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করার জন্য কোন একক ব্যবহৃত হয়?
  1. ওহম
  2. ভোল্ট
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. কুলম্ব
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ প্রবাহ বা বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত একক হলো অ্যাম্পিয়ার। এটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যমে ইলেকট্রনের প্রবাহের মাত্রা নির্দেশ করে। এক অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট মানে হলো প্রতি সেকেন্ডে এক কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ওহম হল প্রতিরোধের একক, ভোল্ট হল বৈদ্যুতিক চাপের একক, এবং কুলম্ব হল চার্জের পরিমাণের একক। তাই বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপের জন্য সঠিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হচ্ছে অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- যার প্রতীক হলো A
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করার জন্য অ্যামিটার নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৯০.
কোলেস্টেরল মূলত এক ধরনের-
  1. অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
  2. সম্পৃক্ত অ্যালকোহল
  3. জৈব এসিড
  4. এমিনো এসিড
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়।
- কোলেস্টেরলকে কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল বলা হয়।
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম-
- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein - HDL)। 
- নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein - LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯১.
প্লবতার মান পরিমাপের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. তরলের ঘনত্ব
  2. বস্তুর আয়তন
  3. তরল বা বায়বীয় পদার্থের উচ্চতা
  4. বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
ব্যাখ্যা
প্লবতা: 
- তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোন বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে ঊর্ধ্বমুখী বল বা চাপ প্রয়োগ করে, এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে বলা হয় প্লবতা। 
- পানির মধ্যে একটি ফুটবল ডুবিয়ে ছেড়ে দিলে দেখা যায়, বলটিকে পানি কীভাবে ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা দিচ্ছে। 
- প্লবতার মান বস্তুর নিমজ্জিত অংশ কর্তৃক অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান হয়। 

প্লবতার মান: 
- তরলের মধ্যে একটি কঠিন বস্তু নিমজ্জিত করলে বস্তুর প্রতিটি বিন্দুতে তরল সর্বমুখী চাপ প্রয়োগ করে। 
- নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বল বা প্লবতা বস্তু কর্তৃক অপসারিত প্রবাহীর ওজনের সমান। 
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলের কারণে নিমজ্জিত বস্তুর ওজন কমে যায় বা ওজন হারায় বলে প্রতীয়মান হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯২.
স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়ার নাম কী? 
  1.  গলন 
  2. বাষ্পায়ন 
  3. ঘনীভবন 
  4.  উত্তপ্তকরণ 
সঠিক উত্তর:
ঘনীভবন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনীভবন 
ব্যাখ্যা

গলন (Melting): 
- তাপ প্রয়োগে কোনো পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। 
1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। 
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের একটি নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে। 
যেমন: 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C । 

স্ফুটন (Boiling): 
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। 
1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। 
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে। 
যেমন: 1.0 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C । 
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন। 
- স্ফুটনের জন্য তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৯৩.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভিডিও কনফারেন্সিং একটি ___ প্রক্রিয়া। 
  1. বহুমুখী
  2. একমুখী
  3. উভমুখী
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উভমুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভমুখী
ব্যাখ্যা
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা: 
- ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকনফারেন্সিং। 
- বিভিন্ন ধরনের টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে। 
যেমন- পাবলিক কনফারেন্স, ক্লোজড কনফারেন্স এবং অনলি কনফারেন্স। 
- টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
১,০৯৪.
তীব্র ক্ষার নয় কোনটি?
  1. NaOH
  2. Al(OH)3
  3. КОН
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
Al(OH)3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Al(OH)3
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৫.
স্থায়ী চুম্বক কোথায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়?
  1. কলিং বেল
  2. ট্রান্সফরমারে
  3. কম্পাসে
  4. জেনারেটরে
সঠিক উত্তর:
কম্পাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাসে
ব্যাখ্যা

কম্পাসে দিক নির্ণয়ের জন্য ছোট ও হালকা স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়, যেটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।

​স্থায়ী চুম্বক: 
​- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
​- চৌম্বক কম্পাস, মাইক্রোফোন, স্পিকার ইত্যাদিতে ​স্থায়ী চুম্বক ব্যব অহার করা হয়। 

​অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

​তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে। 
​- কলিং বেলে ​তড়িৎ চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

​উৎস: 
​১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
​২। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৬.
কোন প্রক্রিয়াটি যান্ত্রিক তরঙ্গের ক্ষেত্রে ঘটে? 
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. ব্যতিচার
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- বিভিন্ন জড় পদার্থের কম্পন থেকে তা বিভিন্ন উপায়ে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. যান্ত্রিক ক্ষেত্রে তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ঘটে। 
২. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য সময় প্রয়োজন হয়। 
৩. মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের বা স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
৪. তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনের জন্য অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৫. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৬. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চারণের দিক এক নাও হতে পারে। 
৭. তরঙ্গের কণাগুলোর বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়, অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৮. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৭.
নাইলন 6 : 6 উৎপাদনে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়না?
  1. HOOC - (CH2)4 - COOH
  2. NH2 - (CH2)6 - NH2
  3. TiO2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH3
১,০৯৮.
কোনো মাধ্যমের ঘনত্ব ও স্থিতিস্থাপকতা বেশি হলে শব্দের বেগ কী হয়? 
  1. বেড়ে যায়
  2. কমে যায়
  3. ধীরগতি হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট, কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন - 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৯.
আলোর বর্ণ নির্ধারণ করে তার- 
  1. গতিবেগ
  2. বিস্তার 
  3. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
• আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১০০.
ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দুধের ঘনত্ব
  2. দুধের আর্দ্রতা
  3. দুধের pH মান
  4. দুধের শর্করা পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
দুধের ঘনত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধের ঘনত্ব
ব্যাখ্যা

ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) হলো একটি বিশেষ যন্ত্র, যা দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য দুধের ঘনত্ব (Density) পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।

ল্যাক্টোমিটারের কাজ:
- দুধে পানি মেশানো হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
- বিশুদ্ধ দুধের তুলনায় মিশ্রিত বা পাতলা দুধের ঘনত্ব কম হয়, যা ল্যাক্টোমিটারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- হাইড্রোমিটারের মতোই কাজ করে, তবে এটি বিশেষভাবে দুধের জন্য ডিজাইন করা।

আরো কিছু পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয় - ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় - ওডোমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।