বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৬৪ · ৬০১৭০০ / ৬,৪০৯

৬০১.
ক্ষমতার এস.আই একক কোনটি?
  1. ক্যালরি
  2. জুল
  3. ওয়াট
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতা বলতে কাজ সম্পাদনের হারকে বোঝায়। আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (S.I) অনুযায়ী ক্ষমতার একক হলো ওয়াট (Watt)। ১ সেকেন্ডে ১ জুল কাজ করার ক্ষমতাকে ১ ওয়াট বলা হয় (১ ওয়াট = ১ জুল/সেকেন্ড)। 

ক্ষমতা (Power):
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ (P = Fv)
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]. 

অন্যদিকে, 
- শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের এস.আই একক জুল। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০২.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে কী অবস্থায় থাকবে? 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৩.
হিগস বোসন কণা কী নামে পরিচিত?
  1. লিনিয়ার কণা
  2. অন্ধকার কণা
  3. আলোক কণা
  4. ঈশ্বর কণা
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন কণা ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত। 

• হিগস কণা:
- ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচ সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এই কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
- এই কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলে উল্লিখিত ১৭ টি মৌলিক কণার একটি।
- সুইজারল্যান্ডের  সার্ন (European Organization for Nuclear Research, CERN) এর লার্জ হ্যাডরন কোলাইডার (Large Hadron Collider) বা LHC যন্ত্রে ২০১৩ সালে এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
- এ বছরই পিটার হিগস (Peter Higgs) ও ফ্রানকোসিস এঙ্গলার্ট (Francosis Englert) এ কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান (Leon Lederman) ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা বা God particle নামে অভিহিত করেন। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
৬০৪.
প্রাকৃতিক পলিমার কোনটি?
  1. সিল্ক
  2. রেজিন
  3. মেলামাইন
  4. ব্যাকেলাইট
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer): 
- মেলামাইনের থালা-বাসন, বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড, কার্পেট, পিভিসি পাইপ, পলিথিনের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, সিল্কের কাপড়, উলের কাপড়, সুতি কাপড়, নাইলনের সুতা, রাবার- এসব জিনিস সবই হচ্ছে পলিমার। 
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Meros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। 
অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাকে পলিমার বলে। 
- যে ছোট অণু থেকে পলিমার তৈরি হয়, তাকে বলে মনোমার (Monomer)। 
- যে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা 'ইথিলিন' নামের মনোমার থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার। 
- একইভাবে, পিভিসি পাইপ (PVC) হলো ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে তৈরি পলিমার। 
- তবে সব সময় একটি মনোমার থেকেই পলিমার তৈরি হবে এমন নয়, একের অধিক মনোমার থেকেও পলিমার তৈরি হতে পারে। 
যেমন- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত বস্তু। বৈদ্যুতিক সুইচে বাকেলাইট নামের একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়। ব্যাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থাকে। 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার: 
- মেলামাইন, রেজিন, ব্যাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন প্রভৃতি হলো কৃত্রিম পলিমার। এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্পকারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৫.
হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 1
  2. 0
  3. 2
  4. 3
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা এক (১)। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৬.
ট্যাকোমিটার কী? 
  1. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  2. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র 
  3. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র 
  4. উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র 
ব্যাখ্যা

- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র

​অন্যদিকে, 
- ​অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ক্যালরিমিটার- তাপ পরিমাপক যন্ত্র। 
- ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৬০৭.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. PH3
  2. H2O
  3. CO2
  4. NH3
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৬০৮.
স্ক্রু-গেইজের ন্যূনাঙ্ক সাধারণত কত?
  1. 1.0 mm
  2. 0.01 mm
  3. 0.1 mm
  4. 0.001 mm
ব্যাখ্যা

স্ক্রু-গেইজ (Screw Gauge): 
- ভার্নিয়ার স্কেলের পরিবর্তে একটা স্ক্রুকে ঘুরিয়ে স্কেলকে সামনে-পেছনে নিয়েও স্ক্রু-গেইজ (Screw Gauge) নামে বিশেষ এক ধরনের স্কেলে দৈর্ঘ্য মাপা হয়। এখানে, স্ক্রুর ঘাট (thread) অত্যন্ত সূক্ষ্ম রাখা হয় এবং পুরো একবার ঘোরানোর পর স্কেল লাগানো স্ক্রুটি হয়তো 1 mm অগ্রসর হয়, স্ক্রুর এই সরণকে স্ক্রুর পিচ (pitch) বলে।
- যে বৃত্তাকার অংশটি ঘুরিয়ে স্কেলটিকে সামনে-পেছনে নেওয়া হয় সেটিকে সমান 100 ভাগে ভাগ করা হলে প্রতি এক ঘর ঘূর্ণনের জন্য স্কেলটি পিচের 1/100 ভাগের এক ভাগ অগ্রসর হয়। 
অর্থাৎ, এই স্কেলে 1/100 mm = 0.01 mm পর্যন্ত মাপা সম্ভব হতে পারে, এটাকে স্ক্রু গেইজের ন্যূনাঙ্ক বলে। 
- আজকাল ভার্নিয়ার স্কেলের পরিবর্তে ডায়াল লাগানো কিংবা ডিজিটাল স্লাইড ক্যালিপার্স বের হয়েছে, যা দিয়ে সরাসরি সূক্ষ্মভাবে দৈর্ঘ্য মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৯.
কোনটি তেজষ্ক্রিয় রশ্মি?
  1. ক) আলফা
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) অতিবেগুনি
  4. ঘ) অবলোহিত
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয় রশ্মি:
- তেজষ্ক্রিয় নিউক্লিয়াস এর ভাঙ্গনের ফলে যে রশ্মিগুলো নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বলে।

তিন ধরনের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। যথা -
- আলফা
- বিটা
- গামা

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই।
৬১০.
১ ডাইন সমান কত?
  1. ক) ০.০০০১ নিউটন
  2. খ) ০.০০০০১ নিউটন
  3. গ) ০.০০১ নিউটন
  4. ঘ) ০.০১ নিউটন
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন।
C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।
১ ডাইন = ০.০০০০১ নিউটন। 
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
৬১১.
তাপের এস আই একক কী? 
  1. ক্যালভিন
  2. জুল
  3. ক্যালরি
  4. কিলো-ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপের একক: 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস আই একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
- তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১২.
কসমিক-রে নামক রশ্মির আবিষ্কারক কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন 
  2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 
  3. কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসন 
  4. আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। 
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়। 
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

৬১৩.
আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি কোনটি?
  1. দৃড়তার গুণাঙ্ক
  2. সংনম্যতা
  3. ইয়ং গুণাঙ্ক
  4. পয়সনের অনুপাত
ব্যাখ্যা
আয়তন গুণাঙ্ক: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর আয়তন পীড়ন ও আয়তন বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। এ ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের আয়তন গুণাঙ্ক বলে। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে B দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, আয়তন গুণাঙ্ক, B = আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাস সবারই আয়তন থাকায় আয়তন গুণাঙ্ক পদার্থের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। 

সংনম্যতা: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাততে সংনম্যতা বলে। 
∴ সংনম্যতা =  আয়তন বিকৃতি/আয়তন পীড়ন = 1/(আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি) = 1/আয়তন গুণাঙ্ক = 1/B. 
অর্থাৎ, সংনম্যতা হচ্ছে আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে তাই কখনো কখনো অসংনম্যতা বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৬১৪.
নিচের কোনটি হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয়?
  1. ক) প্রোটিয়াম
  2. খ) ডিউটেরিয়াম
  3. গ) হাইড্রাইড
  4. ঘ) ট্রিটিয়াম
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৫.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ 
  2. বাইনারী আকারে পরিমাপযোগ্য
  3. সঞ্চালনের সময় বিকৃত হয় 
  4. শুধুমাত্র শব্দ তরঙ্গের প্রতিরূপ 
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়।
- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ।
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি, 
২. ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি এবং 
৩. মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি । 

মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলে। 
- শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 
- চাপ, তাপমাত্রা, রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, তরল পদার্থের স্তর ইত্যাদি ক্রম-পরিবর্তনশীল বিষয় সংগৃহীত উপাত্ত এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি গ্রহণ করে। এই উপাত্তগুলোকে ডিজিটাল ইলেট্রনিক পদ্ধতিতে যথাযোগ্য সংখ্যা ও সংকেতে রূপান্তর করে পাঠ নেয়া হয়। 
- এনালগ এবং ডিজিটাল সংকেতের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো- 
১. এনালগ সংকেত একটি অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ এবং ভৌত পরিমাপযোগ্য অপরদিকে ডিজিটাল সংকেত একটি বিচ্ছিন্ন তরঙ্গ এবং সংখ্যা (বাইনারী পদ্ধতি) দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
২. এনালগ সংকেতকে সাইন তরঙ্গ দিয়ে এবং ডিজিটাল সংকেতকে চৌকো তরঙ্গ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
৩. ডিজিটাল সংকেতের তুলনায় এনালগ সংকেত সঞ্চালন অনেক ব্যয়বহুল এবং বেশি শক্তি খরচ হয়। 
৪. এনালগ সংকেতের তুলনায় ডিজিটাল সংকেত সঞ্চালন পদ্ধতি অনেক সহজ। 
৫. এনালগ সংকেত তরঙ্গ আকারে এবং ডিজিটাল সংকেত 0 এবং 1 অর্থাৎ বাইনারী আকারে সংরক্ষণ করা হয়। 
৬. মোডেমের মাধ্যমে এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে এবং ডিজিটাল সংকেতকে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করা যায়। 
৭. কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদানের জন্য ডিজিটাল সংকেতে বাইনারী পদ্ধতি ব্যবহার করে। 
৮. ডিজিটাল সংকেত প্রেরণ করা তুলনামূলক সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রায় ত্রুটিমুক্ত। 
৯. এনালগ সংকেত হলো শব্দ তরঙ্গের প্রতিরূপএটি সঞ্চালনের সময় পথিমধ্যে বিকৃত হয়ে যায়, গুণগত মান ঠিক থাকে না এবং তীব্রতা হ্রাস পায়। 
১০. এনালগ সংকেতের তুলনায় ডিজিটাল সংকেত সঞ্চালন হার অনেক দ্রুত এবং সংকেতের গুণগত মান উন্নত। 
১১. রেডিও, টিভি, টেলিফোন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিতে এনালগ সংকেত ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে কম্পিউটার, সিডি, ডিভিডি, মোবাইল, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট কম্যুনিকেশন ইত্যাদিতে ডিজিটাল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
স্টেইনলেস স্টীল এ লোহার পরিমান -
  1. ৯৯%
  2. ৭৪%
  3. ৯২%
  4. ৭৮%
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টীল এ লোহা ৭৪%, ক্রোমিয়াম ১৮% ও নিকেল ৮% থাকে।
কাঁটা চামচ, রান্নাঘরের সিঙ্ক, ছুরি, অস্ত্রপাতির যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
স্টেইনলেস স্টীল কে মরিচাবিহীন ইস্পাত বলা হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
৬১৭.
ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে কোন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. ক) প্রশমন
  2. খ) অধ:ক্ষেপ
  3. গ) জারণ
  4. ঘ) বিজারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৮.
‘পিকো’ প্রিফিক্সের মান কী?
  1. 10-18
  2. 10-15
  3. 10-9
  4. 10-12
ব্যাখ্যা

• ‘পিকো’ (pico) একটি মেট্রিক প্রিফিক্স যা কোনো এককের খুব ছোট অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিমাপে ব্যবহৃত হয়, যেমন দৈর্ঘ্য, ভল্টেজ বা সময়। মেট্রিক সিস্টেমে ‘পিকো’ মানে 10-12 অর্থাৎ এক ইউনিটের এক ট্রিলিয়ন ভাগের একটি অংশ।

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১৯.
নিচের কোন মাধ্যম দিয়ে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত সঞ্চালিত হয়?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. ভ্যাকুয়াম
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- চারপাশে অসংখ্য শব্দের উৎস রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উৎস মানুষের কণ্ঠ; সেখানে যে ভোকাল কর্ড আছে তার ভেতর দিয়ে বাতাস বের হওয়ার সময় সেখানে যে কম্পন হয় সেটা দিয়ে শব্দ তৈরি হয়। কথা বলার সময় যদি গলায় স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেই কম্পন অনুভব করতে পারা যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২০.
একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. তড়িচ্চালক বলের সমান
  4. তুল্যরোধের সমান
ব্যাখ্যা

◉ একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের (Ideal Current Source) প্রতিরোধ অসীম (infinite) হয়।
আদর্শ কারেন্ট সোর্স হলো এমন একটি উৎস, যা যেকোনো ভোল্টেজের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কারেন্ট প্রদান করে।

একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্স সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করে, যেটি লোড বা ভোল্টেজের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হতে হবে, যাতে কোনো ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও কারেন্ট অপরিবর্তিত থাকে।

যদি রোধ শূন্য (zero) হতো, তাহলে ওহমের সূত্র (V = IR) অনুযায়ী, সামান্য ভোল্টেজ পরিবর্তনেও বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারত, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। ওহমের সূত্র অনুসারে, যদি অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হয়, তাহলে সোর্সের মধ্যে কোনো ভোল্টেজ ড্রপ হবে না যা কারেন্টকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই, একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের রোধ অসীম হতে হয়, যাতে এটি যেকোনো লোডের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে।

Source:
"Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
2. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.

৬২১.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি? 
  1. সেট্রিমাইড
  2. ক্লোরোজাইলিনল
  3. ক্লোরোহেক্সিডিন
  4. আইসোপ্রোপানল
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 


ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২২.
ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু কোন দিককে নির্দেশ করে? 
  1. পূর্ব দিক
  2. পশ্চিম দিক
  3. দক্ষিণ দিক
  4. উত্তর দিক
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে।
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়।
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান।
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে; এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে
- কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে। ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৬২৩.
শিখা পরীক্ষায় পটাশিয়াম কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) সোনালি হলুদ
  2. খ) হালকা বেগুনী
  3. গ) গাঢ় সবুজ 
  4. ঘ) ইটের মত লাল
ব্যাখ্যা
শিখা পরীক্ষা হল রসায়নের পরীক্ষায় ব্যবহার করা একটি বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি, এটি বিভিন্ন উপাদানের সনাক্তকরণের পরীক্ষা। শিক্ষা পরীক্ষার ধাতুসমূহ নিন্মোক্ত বর্ন ধারণ করে। 

ধাতু  --  শিখা পরীক্ষায় বর্ণ 
সোডিয়াম - সোনালি হলুদ 
পটাশিয়াম - হালকা বেগুনী 
তামা - গাঢ় সবুজ 
ক্যালসিয়াম - লাল বর্ণ (ইটের ন্যায়)

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৬২৪.
পানির অণু একটি - 
  1. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  2. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  3. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  4. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৫.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধান আধান বাহক কোনটি?
  1. নিউট্রন
  2. হোল 
  3. মুক্ত ইলেকট্রন 
  4. ধনাত্মক আয়ন
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়।
- আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৬.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত?
  1. 16
  2. 19
  3. 22
  4. 18
ব্যাখ্যা

• H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে ২ পরমাণু হাইড্রোজেন ও ১ পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = {(1 × 2) + (16 × 1)}
∴ H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৭.
Which of the following is a fundamental quantity?
  1. ক) Velocity
  2. খ) Acceleration
  3. গ) Temperature
  4. ঘ) Work
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশিঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। এই রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না।

লব্ধ রাশিঃ যে রাশিগুলো মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। যেমন- বেগ, কাজ, ত্বরণ ইত্যাদি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পর্কিত ভুল তথ্য কোনটি?
  1. এই শক্তির উৎস সীমিত
  2. এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়
  3. এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব
  4. এই শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• সৌর শক্তি, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস,
• কয়লা,  
• নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৯.
ঘড়ির কাটার গতি কোন ধরণের গতি?
  1. রৈখিক গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. পর্যায়বৃত্তগতি
  4. স্পন্দন গতি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:

- ঘড়ির কাটার গতি পর্যায়বৃত্তগতি

পর্যায়বৃত্তগতি:

- কোন গতিশীল বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে, এটি এর গতিপথের নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্তগতি বলে। যেমন: ঘড়ির কাটার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি ইত্যাদি

উপবৃত্তাকার গতি:

- উপবৃত্তাকার গতি এমন এক ধরণের গতি যেখানে কোন বস্তু একটি উপবৃত্তাকার পথ অনুসরণ করে ঘুরে , যা একটি আদর্শ বৃত্তের চেয়ে চ্যাপ্টা হয় এবং এটি মুলত পর্যায়বৃত্তগতির একটি উদাহরন।

রৈখিক গতি:

- সরলরেখা বরাবর একমাত্রিক গতিকে রৈখিক গতি বলে

স্পন্দন গতি:

- পর্যায়বৃত্ত গতিসম্পন্ন কোন বস্তু যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোন নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় একই পথে তার বিপরীত দিকে চলে তবে এর গতিকে স্পন্দন গতি বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি

৬৩০.
পরিবাহীতার একক কী? 
  1. ওহম
  2. ভোল্ট
  3. সিমেন্স
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, 
I ∝ V 
বা, I = GV 
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। 
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়। 
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। 
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
অক্সিজেন আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৭৭৪ সালে
  2. খ) ১৭৮২ সালে
  3. গ) ১৭৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৮০২ সালে
ব্যাখ্যা

ইংরেজ রসায়নবিদ জোসেফ প্রেস্টলি ১৭৭৪ সালে অক্সিজেন আবিষ্কার করেছিলেন।
সূত্র: ব্রিটানিকা

৬৩২.
হাইড্রোজনের পার অক্সাইড এর সংকেত কোনটি?
  1. ক) H2O
  2. খ) H3O2
  3. গ) H2O2
  4. ঘ) D2O
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজনের পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত H2O2। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় এটা বর্ণহীন তরল
- বিশেষজ্ঞরা হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে বর্ণনা করেন অক্সিডাইজিং এজেন্ট হিসেবে।
-সাধারণভাবে একে বলা যায় ব্লিচিং এজেন্ট।
- সরাসরি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার বিপজ্জনক। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে সবসময় এর জলীয় দ্রবণ পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।
- এটি নিজে দাহ্য পদার্থ না হলেও আগুন বা দাহ্য পদার্থের আশেপাশে রাখলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
 
উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট। 
৬৩৩.
থাইরয়েড ক্যান্সারের জন্য অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপিতে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়? 
  1. আয়োডিন 
  2. কার্বন 
  3. ফসফরাস 
  4. স্ট্রনশিয়াম 
ব্যাখ্যা

রেডিওথেরাপি: 
- রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজী 'Radiation Therapy' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। 
- এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগ যেমন- ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যাধির চিকিৎসা করা হয়। 
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। 
- এটি টিউমার কোষের অভ্যন্তরস্থ ডিএনএ (DNA)-কে ধ্বংসের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি করার ক্ষমতা বিনষ্ট করে ফেলে। 

- রেডিওথেরাপি দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) বাহ্যিক রেডিওথেরাপি: 
- বাহ্যিক রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে শরীরের বাহির থেকে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে, কোবাল্ট বিকিরণ, ইলেকট্রন বা প্রোটন বীম ব্যবহার করা হয়। 
- শরীরের যে স্থানে টিউমারটি অবস্থিত, সেই দিকে তাক করে বীমটি প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় অল্প সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
- তবুও এর মূল উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যত বেশি সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজে থেকে এই ক্ষতি মেরামত করে ফেলে। 

(২) অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপি: 
- অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে রোগীকে শরীরের ভেতর থেকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। 
- এ প্রক্রিয়ায় রোগী তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর দেহে তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। 
- রক্তের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এ তরল পদার্থে তেজস্ক্রিয় ফসফরাস, হাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৪.
উচ্চ তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য কোনটি ব্যাবহার করা হয়?
  1. ক্যালরিমিটার
  2. প্লাটিনাম রোধ থার্মোমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. গ্যাস থার্মোমিটার
ব্যাখ্যা
পাইরোমিটার: পাইরোমিটার একটি বিশেষ ধরনের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র, যা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা( 700°C - 3000°C পর্যন্ত))  নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণ থার্মোমিটার বা গ্যাস থার্মোমিটার এত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।

• পাইরোমিটার দুই ধরনের হতে পারে:

⇒  অপটিক্যাল পাইরোমিটার (Optical Pyrometer:-
→ আলো বা দীপ্তির তীব্রতা নির্ভর করে তাপমাত্রা মাপা হয়।

ইনফ্রারেড পাইরোমিটার (Infrared Pyrometer):-
→   বস্তু থেকে নির্গত ইনফ্রারেড বিকিরণ দ্বারা তাপমাত্রা নির্ধারণ করে।

অন্যদিকে, 
ক্যালরিমিটার: ক্যালরিমিটার তাপমাত্রা নয়,  বস্তুতে তাপ পরিবর্তন পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, উচ্চ তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নয়। 

প্লাটিনাম রোধ থার্মোমিটার: এটি নির্ভুল, কিন্তু মাঝারি তাপমাত্রা (≈ -200°C থেকে 650°C) পর্যন্ত পরিমাপ করতে পারে।

গ্যাস থার্মোমিটার: এটি খুব নিচু তাপমাত্রা বা গবেষণাগার তাপমাত্রা পরিমাপে ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
-  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
-  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান (২য় পত্র)।
-  "Fundamentals of Physics" by Halliday, Resnick & Walker
৬৩৫.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক কী? 
  1. ফুট
  2. মিটার
  3. সেন্টিমিটার 
  4. মিলিমিটার 
ব্যাখ্যা

সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই- 
দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m)
• ভরের একক কেজি (kg) বা কিলোগ্রাম এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।

৬৩৬.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে মিলিমিটার দৈর্ঘ্য সঠিকভাবে পরিমাপ সম্ভব?
  1. ক) সাধারণ স্কেল
  2. খ) ভার্নিয়ার স্কেল
  3. গ) স্পিডোমিটার
  4. ঘ) রেইনগেজ
ব্যাখ্যা
মূল বা প্রধান স্কেলের ক্ষুদ্রতম ভাগের ভগ্নাংশের নির্ভুল পরিমাপের জন্য মূল স্কেলের পাশে যে ছোট আর একটি স্কেল ব্যবহার করা হয় তার নাম ভার্নিয়ার স্কেল । ভার্নিয়ার স্কেলকে মিটার স্কেলের সাথে ব্যবহার করে মিলিমিটারের ভগ্নাংশ (যেমন-০.২ মি.মি., ০.৬ মি.মি ইত্যাদি) সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।

গণিত শাস্ত্রবিদ পিয়েরে ভার্নিয়ার এ স্কেল আবিষ্কার করেন। তাঁর নামানুসারে এ স্কেলের নাম ভার্নিয়ার স্কেল।

উৎসঃ ৯ম- দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৩৭.
নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশন বিক্রিয়ায় যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণের সাহায্যে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়? 
  1. ভর-বেগের সমীকরণ
  2. ভর-ওজনের সমীকরণ
  3. ওজন-শক্তির সমীকরণ
  4. ভর-শক্তির সমীকরণ
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass Energy Relation): 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। 
- এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

- E = mc2 এটিই আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৮.
নিচের কোন শ্রেণীর বস্তুর বাষ্পায়ন হার বেশি থাকে?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) উদ্বায়ী
  4. ঘ) মিশ্রণ
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব (Effects of various factors on evaporation):
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন।
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না।
- এটি একটি স্বতঃস্ফুর্ত ঘটনা।
- এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়।
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয় সেগুলো হলো- 
তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। 
- উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 
বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।
তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 
তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।
তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।
তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৩৯.
সাবান কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. এসিড
  2. এলডিহাইড
  3. লবণ
  4. এলকোহল
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- সোডিয়াম স্টিয়ারেট বা পটাসিয়াম স্টিয়ারেট হচ্ছে সাবানের রাসায়নিক নাম।
- সোডিয়াম স্টিয়ারেটের সংকেত C17H35COONa এবং পটাসিয়াম স্টিয়ারেটের সংকেতC17H35COOK।
- তেল বা চর্বির সঙ্গে NaOH বা KOH বিক্রিয়া করে সাবান তৈরি করা হয়।
-  সাবান তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন (saponification) বলে।
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি ও রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪০.
Which of these is not considered in a telephonic conversation?
  1. The tone of the speaker.
  2. The volume of the speaker
  3. Body language
  4. The emotional content of the communication
ব্যাখ্যা

Body language (দেহভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি, চোখের যোগাযোগ, হাতের ইশারা ইত্যাদি) দেখা যায় না, তাই এটি টেলিফোনিক যোগাযোগে বিবেচিত হয় না। 

• টেলিফোনে কথোপকথনে যা বিবেচনা করা হয়:
১. বক্তার সুর (Tone of the speaker):
- কেউ কীভাবে কথা বলছে (বন্ধুত্বপূর্ণ, রাগান্বিত, দুঃখিত ইত্যাদি),
- কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আবেগ ও মনোভাব প্রকাশ পায়।
২. বক্তার আওয়াজ (Volume of the speaker):
- কেউ কত জোরে বা আস্তে কথা বলছে,
- জোর দেওয়া, আবেগ বা জরুরি অবস্থা বোঝাতে সাহায্য করে।
৩. যোগাযোগের আবেগজনিত বিষয়বস্তু (Emotional content of the communication):
- কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে প্রকাশিত অনুভূতি,
- কণ্ঠস্বর, সুর এবং শব্দচয়নের মাধ্যমে বক্তার আবেগ (যেমন – খুশি, রাগ, হতাশা) প্রকাশ পায়।

• যা বিবেচনা করা হয় না:
• শারীরিক ভাষা (Body language):
- মুখের অভিব্যক্তি
- হাতের ইশারা
- দেহভঙ্গি বা বসার ভঙ্গি
- চোখের যোগাযোগ
- শারীরিক নড়াচড়া

উৎস: Library & Information Academy (link)

৬৪১.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব কে আবিষ্কার করেন?
  1. রাদারফোর্ড
  2. ফ্যারাডে
  3. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বিজ্ঞানীরা দেখতে লাগলেন প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন। 
- ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে।
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। 
- কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬৪২.
ঘর্ষণ, তাপ, রাসায়নিক ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় সহজেই পরমাণু থেকে নির্গত হয় -
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. নিউট্রন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- তাপ, ঘর্ষন ও রাসায়নিক প্রকিয়ার সহজেই নির্গত হয় ইলেকট্রন। 
- পরমাণুর বাইরের স্তর থেকে সহজেই ইলেকট্রন পৃথক হয়ে যেতে পারে। 
- প্রোটন ও নিউট্রন সহজে পৃথক হয় না কারণ এগুলো আবদ্ধ শক্তির কারণে পরমাণুর ভিতরে অবস্থান করে। 
৬৪৩.
পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে কে চালু করেন?
  1. জেমস ওয়াট
  2. ড. অটো
  3. কেলভিন
  4. কার্নো
ব্যাখ্যা
নিকোলাস অটো প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরী করেন।
জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কার করেন।
তাপ গতিবিদ্যার জনক লর্ড কেলভিন। তিনি 1850 সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন।
তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে।
কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান (দ্বিতীয় পত্র) একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৪৪.
K2Cr2O7 এখানে ক্রোমিয়ামের জারণ সংখ্যা কত?
  1. ক) + ২
  2. খ) + ৪
  3. গ) + ৬
  4. ঘ) + ৭
ব্যাখ্যা
ধরি, ক্রোমিয়ামের জারণ সংখ্যা = p 

এখন,
(1 x 2) + p x 2 + (-2) x 7 = 0
P = +6
৬৪৫.
কোন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান সর্বোচ্চ?
  1. ক) বিষুব রেখা
  2. খ) মেরু বিন্দু
  3. গ) এভারেষ্ট শৃঙ্গে
  4. ঘ) সমুদ্র সমতলে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ:

- অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2
- সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2

তথ্যসুত্র - পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
কোনটি ক্ষমতার একক?
  1. ক) N
  2. খ) Nm
  3. গ) J
  4. ঘ) HP
ব্যাখ্যা
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।
 
- কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে " বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3 |
 
 উৎস : পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৭.
ব্যাটারি সেলে বিদ্যুৎ প্রবাহ কোন দিকে হয়?
  1. ক) ক্যাথোড থেকে অ্যানোডে
  2. খ) অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে
  3. গ) অ্যানোড থেকে ইলেক্ট্রোলাইটে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে ক্যাথোডে জমা হয়। এতে অ্যানোড ও ক্যাথোড এ বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। এ অবস্থায়  অ্যানোড ও ক্যাথোড পরিবাহী তার দিয়ে সংযুক্ত করলে অ্যানোড ইলেকট্রন গুলো ক্যাথোডের দিকে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিক বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক ধরা হয়। তাই উত্তর হবে ক্যাথোড থেকে অ্যানোডে।

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
৬৪৮.
পৃথিবীর পুরো শক্তির কত ভাগ নবায়নযোগ্য শক্তি?
  1. ১/৩ ভাগ
  2. ১/৪ ভাগ
  3. ১/৫ ভাগ
  4. ১/৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৯.
অক্সিজেনের একটি অণুকে ভাঙলে কয়টি পরমাণু পাওয়া যাবে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

অক্সিজেন রাসায়নিক মৌল, এর প্রতীক O, পারমাণবিক সংখ্যা ৮ আর যোজ্যতা সাধারণত ২।
অক্সিজেনের সংকেত O2. এর একটি অণুকে ভাঙলে দুইটি অক্সিজেন পরমাণু পাওয়া যাবে। 
একটি অক্সিজেন পরমাণু ও দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সমযোজী বন্ধনে পানির (H2O) অণু গঠিত হয়।
অক্সিজেন নামটি ঠিক করেন বিজ্ঞানী অ্যান্টনি লাভোয়াজিয়ে (১৭৪৩-১৭৯৪)।

উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান , সপ্তম শ্রেণি 

৬৫০.
ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. কার্বন 
  2. সিলিকন 
  3. কপার
  4. গোল্ড
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p নিঃসারক ভূমি সংগ্রাহক ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়
- ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫১.
কোন তত্ত্বটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করে?
  1. কণা তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. তরঙ্গ তত্ত্ব
  4. হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি
ব্যাখ্যা

 • আলোক তড়িৎ ক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ধাতব পৃষ্ঠে আলো (বা উচ্চ কম্পাঙ্কের বিকিরণ) আপতিত হলে সেখান থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন ম্যাক্স প্লাঙ্কের 'কোয়ান্টাম তত্ত্ব' (Quantum Theory) ব্যবহার করে সফলভাবে এই ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে আলো শক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নয়, বরং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা 'কোয়ান্টা' (যাকে ফোটন বলা হয়) হিসেবে কাজ করে।

 • কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

 • কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

 • তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

উল্লেখ্য:
- হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি: এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি মূলনীতি যা কোনো কণার অবস্থান ও ভরবেগ একসাথে সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব বলে জানায়, কিন্তু এটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যাকারী তত্ত্ব নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫২.
কোনটি ব্যবহার করে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করা হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ইউরেনিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল সর্বপ্রথম লক্ষ করেন যে, ইউরেনিয়াম ও ইউরেনিয়ামের যৌগ হতে অবিরাম স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে এক প্রকার কণা এবং রশ্মি নির্গত হয়।
- পরবর্তীতে পিয়ারে কুরী এবং তাঁর স্ত্রী মাদাম কুরী থোরিয়ামের মধ্যে এই একই গুণ আবিষ্কার করেন।
- কোন পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরাম এরূপ কণা বা রশ্মি নির্গত হওয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে এবং যে পদার্থ হতে এরূপ কণা বা রশ্মি নির্গত হয় তাকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলে।
- ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করা হয়।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার একক বেকরেল।

• তেজস্ক্রিয় পদার্থসমূহ:
- রেডন (Rn)
- রেডিয়াম (Ra)
- থোরিয়াম (Th)
- ইউরেনিয়াম (U)

• তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা:
১. প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোন পদার্থ হতে স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে, তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার উদাহরণ:

- ইউরেনিয়াম,
- রেডিয়াম,
- থোরিয়াম প্রভৃতি।

২. কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোন মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে, তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে দ্রুত গতিসম্পন্ন চার্জিত কণা দিয়ে আঘাত করলে উহাকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৩.
পাকস্থলীতে হজমে সাহায্যকারী এসিড হলো- 
  1. এসিটিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৫৪.
পানির আপেক্ষিক তাপ কোনটি?
  1. 400 Jkg-1K-1
  2. 2000 Jkg-1K-1
  3. 2100 Jkg-1K-1
  4. 4200 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তাপ: 
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন- আধা লিটার (0.5 kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5 kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। 
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1 kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1 kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি s অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1 । 
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৫৫.
বৃষ্টির পানিতে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. Vit D
  2. Vit E
  3. Vit A
  4. Vit B12
ব্যাখ্যা
বৃষ্টির পানি:
- বৃষ্টির পানি খুব হালকা এবং অ্যালকালাইন পিএইচ সমৃদ্ধ।
- বৃষ্টির পানির মধ্যে কিছু অণুজীব থাকে যারা তাদের বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিটামিন বি-১২ তৈরি করে। 
- এই ভিটামিনটি মানুষের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: CABI Digital Library.
৬৫৬.
বরফের গলনাংক কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ২৫° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ০° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৭.
কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে? 
  1. ৩ গুণ কমবে
  2. ৩ গুণ বাড়বে
  3. ৯ গুণ বাড়বে
  4. ৯ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 
- দোলনকাল মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়। 
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে
৬৫৮.
কার্বন-১৪ তে কয়টি নিউট্রন রয়েছে?
ব্যাখ্যা
কার্বন(C)
- কার্বন একটি বহুরূপী মৌল।
- পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ৬।

- ভরসংখ্যা = পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- কার্বন-১৪ আইসোটোপে কার্বনের ভরসংখ্যা ১৪।
- কার্বন-১৪ আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা = ১৪-৬ টি = ৮টি।

- কার্বনের ৩টি আইসোটোপ রয়েছে।
১. কার্বন-১২,
২.কার্বন-১৩,
৩.কার্বন-১৪।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
৬৫৯.
শব্দের তীব্রতা কিসের সাথে সমানুপাতিক? 
  1. তরঙ্গের সংখ্যা
  2. তরঙ্গের বিস্তার
  3. তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  4. তরঙ্গের সময়কাল
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মত তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬০.
তড়িৎ পরিবাহিতার উপর ভিত্তি করে কঠিন পদার্থ কে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায় ?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
 তড়িৎ পরিবাহিতার উপর ভিত্তি করে কঠিন পদার্থ কে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায় - পরিবাহী,  অর্ধ পরিবাহী,  অপরিবাহী ।


উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
৬৬১.
আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় কোনটি ঘটে না?
  1. প্রতিফলন
  2. ব্যাতিচার
  3. শোষণ
  4. প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
আলো এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে প্রবেশ করলে সাধারণত প্রতিফলন (Reflection), প্রতিসরণ (Refraction) এবং কিছুটা শোষণ (Absorption) ঘটে।
কিন্তু ব্যাতিচার (Interference) এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে ঘটে না — এটি আলোর অন্য একটি প্রক্রিয়া যা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটে।

প্রতিফলন (Reflection):  আলো এক মাধ্যম থেকে অন্যমাধ্যমে যাবার সময় খানিকটা আলো আবার প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে এই ঘটনার নাম হচ্ছে প্রতিফলন। 
প্রতিসরণ (Refraction):   আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে তার গতি ও দিক পরিবর্তিত হয়।ফলে খানিকটা আলো দ্বিতীয় মাধ্যমে ঢুকে যেতে পারে। এই ঘটনাটি হচ্ছে প্রতিসরণ।
শোষণ (Absorption):      কোনো মাধ্যম আলোকে আংশিক বা সম্পূর্ণ শোষণ করতে পারে।


অন্যদিকে,
ব্যাতিচার (Diffraction): এটি ঘটে যখন আলো কোনো বাঁধা বা সূক্ষ্ম ফাঁক অতিক্রম করে। এটি মাধ্যম পরিবর্তনের কারণে ঘটে না, বরং আলো বাধা অতিক্রম করে যাওয়ার সময় ঘটে।

 - ব্যাতিচার হলো দুই বা ততোধিক আলোক তরঙ্গ একসাথে মিশে নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করা — কখনো তা শক্তিশালী হয় (গঠনমূলক), কখনো দুর্বল (বিধ্বংসী)।
- এটি ঘটে coherent আলোর উৎস থেকে নির্গত তরঙ্গ একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলে।
অর্থাৎ, ব্যাতিচার ঘটতে হলে দুটি তরঙ্গের উৎস থাকতে হয়, যা মাধ্যম পরিবর্তনের সময় ঘটে  না।


তাই ব্যাতিচার আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় ঘটে না।

তথ্যসূত্র: 

- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান, প্রথম পত্র।
৬৬২.
তাপগতিবিদ্যার সূত্র প্রদান করেন কে?
  1. লর্ড কেলভিন
  2. কাউন্ট রামফোর্ড
  3. বিজ্ঞানী বয়েল
  4. বিজ্ঞানী চার্লস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- 1798 সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান যে তাপ এক ধরণের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- অন্যান্য বিভিন্ন বিজ্ঞানীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লর্ড কেলভিন ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিদ্যার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন।
- বিজ্ঞানী বয়েল এবং চার্লস গ্যাসের উপর চাপ, আয়তন এবং তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে সূত্র প্রদান করেছিলেন।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬৬৩.
রেফ্রিজারেটরে প্রধানত কোন উদ্বায়ী পদার্থটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফ্রেয়ন
  2. কর্পূর
  3. হাইড্রোজেন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রেফ্রিজারেটর:
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে।
- এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন।
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে, ফলে শীতলীকরণ ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
ভেক্টর রাশির কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক?
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক নেই
  2. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়
  3. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি স্কেলার রাশি
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে
ব্যাখ্যা

• ভেক্টর রাশির একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিভাজন। একটি ভেক্টর রাশিকে দুই বা ততোধিক উপাংশে (Components) বিভক্ত করা যায়।

• ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি, 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

• স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 • ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

• ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
- ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৫.
​শব্দের তীব্রতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. তাপমাত্রার সঙ্গে সমানুপাতিক 
  2. তরঙ্গের প্রস্থের সঙ্গে সমানুপাতিক 
  3. তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সঙ্গে সমানুপাতিক
  4. তরঙ্গের দৈর্ঘ্যের সঙ্গে সমানুপাতিক 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি জাগায়। 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ। 
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৬.
বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ক্যাপিং
  2. ডোপিং
  3. ট্রান্সেন্ডিং
  4. মিক্সিং
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping): 
বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি। 
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৭.
কোনটি আড় তরঙ্গ নয়? 
  1. পানির তরঙ্গ 
  2. আলোক তরঙ্গ 
  3. বেতার তরঙ্গ 
  4. শব্দ তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়, সে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে।
- যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, সে তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে।
- দু'ধরণের কণার মাধ্যমে কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয়।
যথা- 
(১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও
(২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে, এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে।
- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
- স্প্রিং এর তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ ইত্যাদি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৮.
থার্মোমিটার কোন পদার্থ থাকে?
  1. ক) সীসা
  2. খ) পারদ
  3. গ) রুপা
  4. ঘ) দস্তা
ব্যাখ্যা
থার্মোমিটার তৈরিতে বিশেষ করে আমরা যে থার্মোমিটার দেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ে ব্যবহার করি তাতে পারদ (Hg) থাকে। অল্প তাপমাত্রার ব্যবধানে এই তরল ধাতুটির আয়তনের বেশ তারতম্য ঘটে। তাই পারদ থার্মোমিটারে এটি ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ এইচ এস সি প্রোগ্রামঃ পদার্থ ১ম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৬৯.
কোনটি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব? 
  1. NaNO3
  2. CaCO
  3.  PbCl2 
  4. AgBr 
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব, আবার চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭০.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় পার্থক্য কত হতে হবে? 
  1. ১.০ সেকেন্ড 
  2. ০.৫ সেকেন্ড 
  3. ০.১ সেকেন্ড 
  4. ০.০১ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড (১ সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগ) পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
অর্থাৎ, এই ০.১ সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭১.
কৃষিক্ষেত্রে সার হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ডায়াজিনন
  2. খ) ফুরাডান
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) এনড্রিন
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া  কৃষিক্ষেত্রে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়।
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়।
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: ৯ পৃষ্ঠা, রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭২.
আপনি বাসে চড়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম গেলেন। আপনার গতিটি কেমন হবে?
  1. সরল রৈখিক
  2. ঘূর্ণন গতি
  3. বক্র রৈখিক গতি
  4. কোন গতি নাই
ব্যাখ্যা
• গতির প্রকারভেদ (Types of motion):
- সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন হলো গতি।
- কিন্তু এই অবস্থান পরিবর্তনের ধরন সব ক্ষেত্রে এক নয়।
- বস্তু বা ব্যক্তি কখনও সোজা পথে, কখনও আঁকা বাঁকা পথে, কখনও ঘোরা পথে চলে।
- কখনও একই জায়গায় থেকে ঘুরতে বা দুলতে থাকে।
- এসব আলাদা আলাদা ধরন বা বৈশিষ্ট্যের জন্য গতিকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

• সরল রৈখিক গতি:
- মসৃণ মেঝের উপর গড়িয়ে দেওয়া মার্বেলের গতি, উপর থেকে ছেড়ে দেওয়া বস্তুর পৃথিবীর আকর্ষণে মাটিতে পড়ার গতি- রৈখিক গতি।
- অর্থাৎ যখন কোন বস্তু সরল রেখা বরাবর চলে তখন বস্তুর ঐ গতিকে সরল রৈখিক গতি বলে।

• বক্র রৈখিক গতি:
- আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে যাওয়া, সাইকেলের গতি, রিক্সার গতি, মোটর গাড়ির গতি ইত্যাদি বক্র রৈখিক গতি।
- অর্থাৎ কোন গতিশীল বস্তুর গতিপথ যদি বাঁকা হয়, বক্র রেখা বরাবর হয় তখন বস্তুটির গতিকে বক্র রৈখিক গতি বলে।
- তাহলে "আপনি বাসে চড়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম গেলেন" - এ গতিটি বক্র রৈখিক গতি।

ঘূর্ণন গতি:
- চলন্ত সাইকেল বা রিক্সার চাকার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি, পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের গতি, লাটিমের গতি ইত্যাদি ঘূর্ণন গতি।
- অর্থাৎ কোন বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে যখন কোন বস্তু ঘুরতে থাকে তাতে বস্তুটির যে গতি হয় তাকে ঘূর্ণন গতি বলে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৩.
যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে কী বলে? 
  1. বিচ্যুতি
  2. বিচ্ছুরণ
  3. বিবর্ধণ
  4. বিক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাত রঙ বিশিষ্ট হয়। 
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে। 
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। 
- ১৬৬৬ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন প্রথম একটি পরীক্ষার সাহায্যে আলোর বিচ্ছুরন আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৭৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন কে? 
  1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক 
  2. নিউটন 
  3. আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও 
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৫.
সবচেয়ে শক্ত বস্তু কোনটি?
  1. হীরা
  2. গ্রানাইট পাথর
  3. পিতল
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা
- হীরক হলো সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
- কার্বনের দুটি বিশেষ রূপ হলো হীরক ও গ্রাফাইট।
- দুটি পদার্থই খনিতে পাওয়া যায়।
- ভূগর্ভের অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপ ও চাপের প্রভাবে কোটি কোটি বছর ধরে রূপান্তরিত হয়ে কার্বন কেলাসিত হয়ে গ্রাফাইট ও হীরকে পরিণত হয়।


উৎস : ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৬.
স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব কত?
  1. ১.৫ ইঞ্চি
  2. ৯ ইঞ্চি
  3. ১০ ইঞ্চি
  4. ২.৫ ইঞ্চি
ব্যাখ্যা
- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব বলে। 
- স্বাভাবিক চোখের জন্য স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব ২৫ সেমি  বা ১০ ইঞ্চি। 
- চোখ থেকে ২৫ সেমি  বা ১০ ইঞ্চি দূরবর্তী বিন্দুকে চোখের নিকটতম বিন্দু বলে। 
- কোন বস্তু ২৫ সেমি এর কম দূরত্বে থাকলে সেটি দেখতে চোখের বেশ কষ্ট হয় এবং অনেকক্ষণ ধরে দেখলে চোখ ব্যথা করে। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৭৭.
নিম্নের কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য?
  1. ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থানের দিকে নির্দেশিত
  2. গতি সব সময় সমবেগে হয়
  3. কণার স্থানচ্যুতি শূন্য থাকে
  4. গতি কেবল বৃত্তাকার হয়
ব্যাখ্যা

• সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থানের দিকে নির্দেশিত থাকে।

• সরল ছন্দিত গতি:
- সরল ছন্দিত গতি একটি পর্যাবৃত্ত গতি।
- এটি একটি সরল স্পন্দন গতি।
- এটি সরলরেখীয় গতি।
- এই গতিতে কণার ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক।
- ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থানের দিকে নির্দেশিত থাকে।
- কণা সাম্য অবস্থানের একদিকে গিয়ে পুনরায় বিপরীত দিকে ফিরে আসে।
- কণার গতি নির্দিষ্ট সময় পর পর পুনরাবৃত্ত হয়।
- সাম্য অবস্থান থেকে কণার সরণ পরিবর্তিত হলে ত্বরণও পরিবর্তিত হয়।
- ত্বরণ ও সরণের দিক পরস্পর বিপরীতমুখী হয়।

• সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যাবৃত্ত গতি।
- এটি সরলরেখায় সংঘটিত হয়।
- ত্বরণ সাম্য অবস্থান অভিমুখী।
- ত্বরণ সরণের সমানুপাতিক।
- কণার অবস্থান, বেগ ও ত্বরণ নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবর্তিত হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৬৭৮.
শূন্যস্থানে আলোর বেগ কত?
  1. 3×106 m/s
  2. 3×108 m/s
  3. 3×1010 m/s
  4. 3×105 m/s
ব্যাখ্যা
• আলোর বেগ একটি সার্বজনীন ধ্রুবক।
- আলোর চেয়ে বেশি বেগে যে আর কোনো বস্তু চলতে পারে না, এটা প্রথম বলেছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

• শূন্যস্থানে (ভ্যাকুয়ামে) আলোর গতি একটি মৌলিক ধ্রুবক (Fundamental Constant) এবং এর মান প্রায় 3 × 108 মিটার প্রতি সেকেন্ড (m/s)।
• একে "c" দ্বারা প্রকাশ করা হয় (c = 3 × 108 m/s)

• শূন্যস্থানের মধ্যে কোনো বস্তুই আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলতে পারে না। 
- মাইলে আলোর গতি ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল/সেকেন্ড এবং কিলোমিটারে আলোর গতি ৩ লাখ কিলোমিটার/সেকেন্ড। 
• আলো এক সেকেন্ডে যায় ৩,০০,০০০ কিলোমিটার। আলো এই গতিতে চলে এক বছরে অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই হলো এক আলোক বর্ষ।
-  এক আলোক বর্ষ  হলো প্রায় 9.46×1015 মিটার বা 9.46×1012 কিলোমিটার।
• শূন্যস্থান ছাড়া অন্য মাধ্যমে (যেমন: পানি, কাচ) আলোর গতি কমে যায় (পানিতে ≈ 2.25 × 108 m/s, কাচে ≈ 2 × 108 m/s)।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৬৭৯.
মাটির পাত্রে পানি ঠান্ডা থাকে কেন?
  1. ক) মাটির পাত্র পানি হতে তাপ শোষণ করে
  2. খ) মাটির পাত্র ভাল তাপ পরিবাহী
  3. গ) মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. ঘ) মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মাটির পাত্রে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এসব ছিদ্র দিয়ে পানি কলসির উপরিতলে এসে পৌছে এবং বাষ্পীভূত হয়। বাষ্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ কলসির পানি থেকে গ্রহন করে। ফলে পানি ঠান্ডা থাকে।
৬৮০.
নিম্নের কোন খনিজ পদার্থ কাচ ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. কোয়ার্টজ
  3. ম্যাগনেটাইট 
  4. মাইকা 
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮১.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাই হচ্ছে ঐ মৌলের -
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. পজিট্রন সংখ্যা
  4. ইলেকট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11। 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17। 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৬৮২.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) তামা
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কপার/তামা, রূপা, সোনা, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ, দস্তা, টিন, সীসা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু।
- হাইড্রোজেন, ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, সালফার, কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অধাতু।
- অ্যামোনিয়াম, হাইড্রোক্সিল, নাইট্রাইট, নাইট্রেট, কার্বনেট, সালফেট, ফসফেট ইত্যাদি হলো যৌগমূলক।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি।
৬৮৩.
নিচের কোনটি গ্রিন ভিট্রিওল?
  1. ক) ZnSO4.7H2O
  2. খ) CuSO4.7H2O
  3. গ) FeSO4.7H2O
  4. ঘ) কোণটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাদা ভিট্রিওল - ZnSO4.7H2O
সবুজ ভিট্রিওল - FeSO4.7H2O
ব্লু ভিট্রিওল -CuSO4.7H2O

ব্লু ভিট্রিওলকে তুঁতে ও বলা হয়ে থাকে। তুঁত বিষাক্ত। এটি কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: LiveMCQ lecture
৬৮৪.
মাইকা খনিজ পদার্থ প্রধানত কোথায় ব্যবহার করা হয়? 
  1. ঘরবাড়ি নির্মাণে 
  2. বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে 
  3. কাচ তৈরিতে 
  4. লোহা উৎপাদনে 
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা ও রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা ও খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৫.
যদি একটি যন্ত্রের ক্ষমতা 100 ওয়াট এবং এটি 10 সেকেন্ডে কাজটি করে, তাহলে এতে মোট শক্তি কত ব্যয় হবে? 
  1. 10 জুল
  2. 1000 জুল
  3. 100 জুল
  4. 10000 জুল
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি একটি যন্ত্রের ক্ষমতা 100 ওয়াট এবং এটি 10 সেকেন্ডে কাজটি করে, তাহলে এতে মোট শক্তি কত ব্যয় হবে? 

সমাধান: 
এখানে, 
ক্ষমতা, P = 100  W 
সময়, t = 10  s

আমরা জানি, 
ক্ষমতা, P = W/t
বা, W = P × t
বা, W = 100 × 10
সুতরাং, W = 1000 J

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W কাজ করা হয়ে থাকলে ক্ষমতা P হচ্ছে, 
P = W/t 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। 
- শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। 
- তাই ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক: W (ওয়াট) । 
- ক্ষমতার মাত্রা: [P] = [ML2T-3 ]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৬.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই
  2. খ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন নেই
  3. গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন নেই
  4. ঘ) অ্যামোনিয়া গ্যাসীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
গ্যাসীয় পদার্থ :
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই।
- গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন নেই,
- তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে।
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার।
- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া - এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ।
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৮৭.
পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়া-
  1. ক) তেজস্ক্রিয়তা
  2. খ) ফিউশন বিক্রিয়া
  3. গ) ফিশন বিক্রিয়া
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার । যথা- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া বলে।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া। 
- নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পারমাণু ভেঙ্গে একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৮.
দৃশ্যমান আলোর মধ্যে কোন বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. লাল 
  2. কমলা 
  3. বেগুনি 
  4. সবুজ 
ব্যাখ্যা

- দৃশ্যমান আলোর বর্ণালীতে বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ার কারণে এই আলোর কম্পাঙ্ক এবং শক্তির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৯.
নিচের কোনটি আলোর প্রতিসরণের একটি উদাহরণ? 
  1. ছায়া সৃষ্টি হওয়া
  2. আয়নায় মুখ দেখা
  3. পানিতে বৈঠা বাঁকা দেখা
  4. চোখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়া
ব্যাখ্যা

আলোর প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয় তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে। 
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। 
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না। 
- আলোর প্রতিসরণের ফলে যা ঘটে- 
• পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়। 
• একটি সরল দণ্ডকে তীর্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়। 
• পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়। 
• খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়। 
পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়। 

অন্যদিকে, 
- ছায়া সৃষ্টি হওয়া → এটি আলোর প্রতিবন্ধকতা ও সরলরেখায় চলাচলের ফল, প্রতিসরণ নয়। 
- আয়নায় মুখ দেখা → এটি প্রতিফলনের উদাহরণ। 
- চোখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়া → এটি কোনো নির্দিষ্ট অপটিক্যাল ঘটনাকে বোঝায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯০.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রােটিন তৈরি হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে।

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
- প্রােটিন গঠনকারী অ্যামাইনাে অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এই ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলাে হলাে:
১. লাইসিন,
২. লিউসিন,
৩. আইসােলিউসিন,
৪. মিথিওনিন,
৫. ট্রিপটোফ্যান,
৬. ভ্যালিন,
৭. ফিনাইল অ্যালানিন,
৮. থ্রিওনিন।

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৬৯১.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, দুটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুণ হলে আকর্ষণ বল কত গুণ হবে?
  1. ২ গুণ
  2. ৪ গুণ
  3. ১/২ গুণ
  4. ১/৪ গুণ
ব্যাখ্যা

◉ দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল ১/৪ গুণ হবে। 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।


অর্থাৎ, মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়লে বল কমে যায়। দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে বল পূর্বের ১/৪ হবে।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।

৬৯২.
কার্বন ব্যতীত আর কোন মৌলে ক্যটেনেশন দেখা যায়?
  1. ক) Si
  2. খ) Ga
  3. গ) In
  4. ঘ) Al
ব্যাখ্যা
ক্যাটেনেশন
• একই মৌলের অনেকগুলো পরমাণুর পর পর যুক্ত হয়ে শিকল গঠনের প্রক্রিয়াকে ক্যাটিনেশন বলা হয়।
• কার্বনের ক্যাটেনেশন গুণ বেশ প্রবল। ক্যাটিনেশন প্রবণতা মৌলের দু'টি পরমাণুর মধ্যকার বন্ধন-শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত।
• কার্বন ক্যাটেনেশনের মাধ্যমে শিকল ও চক্রাকার বা বলয় উভয় ধরনের কাঠামো গঠন করতে পারে।

সিলিকনেও ক্যাটেনেশন দেখা যায়। সিলিকন অল্পসংখ্যক শিকল গঠন করে। অর্থাৎ সিলিকনে ক্যাটেনেশন ধর্ম সীমিত। 

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৯৩.
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থ সাধারণত কোন দিক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে?
  1. নিম্ন ঘনমাত্রার স্থান থেকে উচ্চ ঘনমাত্রার স্থানে
  2. উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
  3. সমান ঘনমাত্রার স্থান থেকে যেকোনো দিকে
  4. মহাকর্ষের দিক বরাবর
ব্যাখ্যা

ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থ সাধারণত উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।   

ব্যাপন (Diffusion)
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- উদাহরণ: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় বেশি লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- যে পদার্থের আণবিক ভর বেশি সে পদার্থের ব্যাপন হার কম।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৬৯৪.
সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে -
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।

- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।

 -জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি, নাসা ওয়েবসাইট।

৬৯৫.
একটি কাঁচের মধ্যে লাল, সবুজ, নীল ও বেগুনি রঙের আলো ফেললে কোনটির প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি হবে?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
• বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
• আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৬.
যেসকল পদার্থকে চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়কারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাকে বলে-
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
  3. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  4. এন্টিফেরোচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• ডায়াচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়নকারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ। 
 
• প্যারাচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
যেমন: অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

• ফেরোচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৭.
বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়-
  1. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
  2. স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  3. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  4. এডাপটারের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফর্মার:
- ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি সার্কিট থেকে অপর একটি সার্কিটে স্থানান্তর করে।
- ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার - অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে।
- এই ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয়।
- দূরদূরান্তে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।
- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার - অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে।
- স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৮.
কিসের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস পরিমাপ করা যায়?
  1. স্লাইড ক্যালিপার্স
  2. স্ক্রু গজ
  3. ভার্নিয়ার স্কেল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্লাইড ক্যালিপার্স: 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৬৯৯.
C-14 আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ৭টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
কার্বোনের আইসোটোপ এবং তাদের মৌলিক কণিকার সংখ্যা:

- C-12:  6টি প্রােটন এবং 6টি নিউট্রন,
- C-13:  6টি প্রােটন এবং 7টি নিউট্রন,
- C-14:  6টি প্রােটন এবং ৪টি নিউট্রন।

- এখানে, C14 বলতে আসলে ১৪ পারমানবিক ভর বিশিষ্ট কার্বনকে বুঝানো হয়েছে। আমরা জানি ভর হলো নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি। কার্বনের প্রোটন সংখ্যা ৬ তাই C14  এ নিউট্রনের সংখ্যা (১৪ - ৬) বা ৮টি।
- কার্বনের এই তিনটি আইসােটোপের মাঝে C14 অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান।
৭০০.
নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তি?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. নিউক্লিয়ার
  3. গ্যাস
  4. তেল
ব্যাখ্যা

• শক্তি: 
- শক্তি হচ্ছে কাজ করার সামর্থ্য। শুধু তা-ই না, যখন কোনো বস্তুর ওপর কোনো বল প্রয়োগ করে ধনাত্মক কাজ করা হয় তখন সেই বলটি আসলে বস্তুটির মাঝে একটা শক্তি সৃষ্টি করে। বস্তুটির মাঝে যতটুকু কাজ করা হয়েছে বস্তুটির মাঝে ততটুকু শক্তি সৃষ্টি হয় এবং যে বল প্রয়োগ করছে তাকে ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি দিতে হয়।
- শক্তির একক হচ্ছে জুল (J)।

• শক্তির উৎস:
ক) অনবায়নযোগ্য:
- তেল, 
- গ্যাস, 
- কয়লা, 
- নিউক্লিয়ার। 

খ) নবায়নযোগ্য:
- জলবিদ্যুৎ
- বায়োমাস, 
- সৌরশক্তি, 
- বায়ুশক্তি, 
- জিওথার্মাল। 

• অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় না, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এগুলোকে বলা হয় অনবায়নযোগ্য শক্তি। 
 - এই মুহূর্তে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল,গ্যাস এবং কয়লা।
- তেল, গ্যাস এবং কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে। মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয়, সেটি মূলত মিথেন (CH4) এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়।
- অনেক দেশ নিউক্লিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করছে, সেখানেও একধরনের জ্বালানির দরকার হয়, সেই জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম।
- তেল, গ্যাস, কয়লা বা ইউরেনিয়াম, এই শক্তিগুলোর মাঝে একটা মিল রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়। মাটির নিচে কতটুকু তেল, গ্যাস, কয়লা আছে কিংবা পৃথিবীতে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে তা বিভিন্ন উপায়ে মানুষ জানতে পেরেছে। 

• নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই এগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য (Renewable Energy)।
- নবায়নযোগ্য শক্তি আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে। তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।